"ভালবাসি" থেকে "ভাল্বাসি" -- বানান বিকৃতিতে টাইপিং সফটওয়্যারের ভুমিকা।
০৫ ই মে, ২০১০ রাত ৯:০৩
লিখতে চাচ্ছেন "উপরে" হয়ে গেল "উপ্রে"। আবার লিখতে চাচ্ছেন আমরা হয়ে গেল "আম্রা"। "মন চায়" লিখতে হয়ে গেল "মন্চায়"। "ভালবাসি" হয়ে গেল "ভাল্বাসি"। ব্লগ যখন পড়তে বসি অনেক সময়ই এই রকম নতুন নতুন শব্দ আমাদের চোখে পড়ে। এই সব শব্দ তখন আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমি এখন বাংলা ব্লগে আছি, যেটা সারা দুনিয়ার মধ্যে একটা আলাদা দুনিয়া। আমরা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলি।
কিছু কাল আগেও কোথায় যেন একটা লেখা দেখেছিলাম, সম্ভবত ব্লগেই হবে, "আমার ভাষা আমি লিখব যেভাবে ইচ্ছা সে ভাবে লিখব" এই রকম একটা ধারণা নিয়ে। ইচ্ছামত লেখা বা বানান তৈরী করার স্বাধীনতা আমাদের অাছে বৈকি। সে নিয়ে জোরালো দ্বিমত নেই। ভাষার বৈচিত্র্য, নতুন শব্দের উদ্ভব ইত্যাদি এরকম বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্যে দিয়েই ঘটে। কিন্তু এসব পরীক্ষা নিরীক্ষার কতটুকু স্বতঃস্ফুর্ত, কতটা বাধ্য হয়ে করা, আর কতটা প্রলুব্ধ হয়ে করা এ সবের মধ্যে একটা স্থুল বিভাজন বোধ হয় করা যেতে পারে। অন্তত যারা ভাষার একটি প্রমিত রূপ বজায় থাকুক বলে মনে করেন তাদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা সঠিক প্রযুক্তির অভাবে একসময় রোমান অক্ষরে বাংলা শব্দ লিখতে শুরু করেছিলাম। উর্দু অক্ষরে বাংলা লেখার একই ধরনের একটি প্রচেষ্টা তৎকালীন পাকিস্তানী সরকার গ্রহন করে যা আমাদের ভাষা প্রেমের কাছে সম্পূর্ণ উড়ে যায়। যদিও একই ধরণের রোমান অক্ষরে লেখার প্রচেষ্টা মালয়েশিয়াতে সফল হয়েছে। যা হোক রোমান অক্ষরে বাংলা লিখার বিষয়টি আমরা সম্ভবত কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা হিসাবে ধরে নেই না। আমরা এটি প্রযুক্তির অভাবে নিতান্ত বাধ্য হয়ে মেনে নেয়া একটা বিকৃতি হিসাবেই ধরে নেই।
তবে এখনও অনেকে বাংলা লেখার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও হয়ত রোমান হরফে বাংলা লিখে থাকেন। সে ক্ষেত্রে আলস্য ও দ্রুত টাইপ করার ইচ্ছা একটা নিয়ামক ভুমিকা পালন করে থাকে। আমাদের ফোনেটিক টাইপিং এই বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েই শুধু রোমান অক্ষরের জায়গায় প্রতীকটি বদলে দিয়ে বাংলা প্রতীক বসিয়ে দিচ্ছে। বর্তমান অবস্থায় বাংলার ভাষার নিজস্ব টাইপিংয়ে অভ্যস্ত হওয়া একটু জটিল আর সে রকম অক্ষর যুক্ত কী-বোর্ড পাওয়া মুশকিল হওয়ায় আমরা বলতে গেলে প্রযুক্তির অভাবেই ইংলিশ কী-বোর্ডে বাংলা লেখার এই খানিকটা বিকৃত কৌশল ব্যবহার করছি।
এ বার আসি বানান বিকৃতি প্রসংগে। আপনি বিকৃতি বলবেন না পরীক্ষা নিরীক্ষা বলবেন সেটা অবশ্য নির্ভর করছে আপনি একটা প্রমিত ভাষা বজায় রাখায় কতটা উৎসাহী তার উপরে। শুদ্ধ বানান লেখার সবটুকু দায়িত্ব একজন লেখকের এটা মেনে নিয়েও আমরা এখানে টাইপিং সফটওয়্যারগুলোর দায় দায়িত্ব কিছুটা নিরূপন করতে পারি। ধরুন আপনি হালকা চালে একটা লিখা লিখছেন। আপনার টাইপিং সফটওয়্যার বিভিন্ন সময়ে অনাকাঙ্খিত ভাবে পাশাপাশি দুটো অক্ষর জোড়া দিয়ে অদ্ভুত অদ্ভুত সব শব্দ তৈরী করছে। আপনিও মজা পেতে শুরু করেছেন। বাহ "আমরা" থেকে "আম্রা"। "ভালবাসি" থেকে "ভাল্বাসি"। এই যে বিকৃতি (নাকি সৃষ্টিশীলতা!) এটা কিন্তু আপনি আপনার সৃষ্টিশীলতা বা স্বাভাবিক জীবনাচরন দিয়ে তৈরী করেন নি। এটি আপনাকে তৈরীতে প্রলুব্ধ করছে আপনার টাইপিং সফটওয়্যার। আপনি যদি অন্য একটি টাইপিং সফটওয়্যার ব্যবহার করেন যেটি এরূপ করে না, তখন আপনি আর ঐরকম বিকৃতির সামনেও পড়বেন না আর ঐসব অদ্ভুত শব্দও প্রকাশ করবেন না। ভাষার প্রযুক্তি উন্মুক্ত হওয়ার সাথে সাথে এই যে ভাষা বিকৃতির বিষয়টি অবারিত হচ্ছে সে বিষয়ে আমাদের যত্নবান হওয়া দরকার।
লেখাটি উপসংহারধর্মী নয় বরং পর্যবেক্ষনধর্মী। কাজেই এ বিষয়ে উন্মুক্ত আলোচনা ও মন্তব্য সাদরে গৃহিত হবে। তবে এখানে আমরা কোন বিশেষ টাইপিং সফটওয়্যার নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমরা কথা বলতে চাই আমাদের টাইপিং সফটওয়্যার গুলোর বৈশিষ্ট্য কেমন হওয়া উচিৎ সেটা নিয়ে।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০১০ রাত ৯:০৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: হমম, ভাষাবিদ, প্রযুক্তিবিদ, ভাষাপ্রেমিক, প্রযুক্তিপ্রেমিক সবাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অনুধাবন করা দরকার। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন:
আমি সব কী বোর্ড লে-আউট চেষ্টা করে দেখি নাই। আমি যে লে-আউট ব্যবহার করছি তাতে এই রকম বিষয় নেই। যা হোক লেখাটি ব্লগের বিভিন্ন লেখা ও মন্তব্যে এই রকম বানান দেখার প্রেক্ষিতে লেখা।
আপনাকে ধন্যবাদ।
সালাহ উদ্দিন০০৭ বলেছেন:
নাজমুস বলেছেন: আপনি কোন কিবোর্ডে লিখছেন, জানতে মন্চায়! ফোনেটিক নাতো!! ..................
এখানেও বিকৃতি। আমি বিকৃতিই বলব...............মজা করতে করতে প্রমিত বাংলার বারটা বাজাচ্ছি...............
লেখক বলেছেন: ![]()
পারভেজ বলেছেন:
অভ্র আর সামু ফোনেটিকে কিছু পার্থক্য থাকায় টাইপিং এ মাঝে মাঝেই এমন ভুল হয়। তবে আমার মনে হয় টাইপিং সফটওয়্যারকে উন্নত করার পাশাপাশি বানান সম্পর্কে আমাদের ধারণাটা বেশী স্বচ্ছ রাখা প্রয়োজন। তা না হলে যতোই বানান পরীক্ষক কিংবা উন্নত টাইপিং ভার্সান ব্যবহার করিনা কেন, বানান পাল্টে যেতে থাকবে সময়ের সাথে সাথে।
লেখক বলেছেন: বানান সম্পর্কে সতর্ক থাকতে চেয়েও তো পারি না। ধরুন ণ ও ন এর সমস্যা একটা ভালো সমস্যা। তাই টাইপিং সফটওয়্যার বা স্পেলচেকার ইত্যাদি প্রযুক্তির উপরে নির্ভরতা তো একসময় স্বভাবজাত হয়ে যাবে।
হাসান মাহবুব বলেছেন:
আমি কোন টাইপিং সফ্টওয়্যার দিয়া প্রভাবিত না। ব্লগে আইসা এই বানান দেক্সি। ভাল্লাগসে।
লেখক বলেছেন: ![]()
লেখক বলেছেন: মন্তব্য ভালা পাইছি। ![]()
শ্রাবনের ফুল বলেছেন:
অপ্রাসঙ্গিক কথা দিয়ে শুরু করি, ডিনামাইট আবিস্কার হয়েছিল পাহাড় ধ্বংসের জন্য পরবর্তীতে সেটি মানব ধ্বংসের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অস্ত্র আপনার হাতে সেটি দিয়ে আপনি নিরাপত্তা বিধান করবেন নাকি ধ্বংস বিধান করবেন সেটা আপনার উপর অনেকাংশে নির্ভর করে। এবার প্রসঙ্গে, মানুষ সব সময়ই গতি ও সহজলভ্য প্রিয়, তার কাজের প্রয়োজনেই সে নিজের চাহিদার যোগান দিয়ে থাকে, এবং একারনেই হয়ত ফোনেটিকের মত একটি সহজ প্রক্রিয়ার উদ্ভব ঘটেছে, যেটা দিয়ে অতি সহজেই দ্রুততার সাথে আমরা লিখতে পারি। ফোনেটিকের যুক্তাক্ষর করে নেয়াটা একটা অটোমেটেড প্রক্রিয়া, সে যেখানে যুক্তাক্ষর এপ্রোপ্রিয়েট সেখানে যুক্তাক্ষর করে নিতে পারে এর মানে এই নয় ইউজার সেটিকে পরিবর্তন করতে পারবে না, বরং ইউজারই প্রয়োজনমাফিক যুক্তাক্ষর ব্যাবহার করবে। একটি সফটওয়্যার ডেভলপের পিছনে অনেক দিক বিবেচনা করতে হয়, কিভাবে ইউজারকে বেনিফিটেড করা যায়, এই অটোমেটেড যুক্তাক্ষর তেমনই একটি প্রক্রিয়া।
আপনার কথা মতে, সেক্ষেত্রে কিবোর্ড সফটওয়্যার আমরা বলতে গেলে প্রযুক্তির অভাবেই ইংলিশ কী-বোর্ডে বাংলা লেখার এই খানিকটা বিকৃত কৌশল ব্যবহার করছি। দেখুন, ইংরেজী কিবোর্ডে আমরা সবাই অভ্যস্ত তাই সহজে বাংলা লেখার জন্য এটির ব্যবহার কেন বিকৃত হবে সেটা আমার কাছে ঠিক পরিস্কার নয়।
আমি আপনার পর্যবেক্ষনকে এপ্রিসিয়েট করছি, কিছু কিছু বিকৃতি ঘটছে যেটা কি বোর্ডের দায়ে দুষ্ট নয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইউজারই স্বপ্রনোদিত হয়ে কাজটি করে থাকেন, সেক্ষেত্রে ইউজারই বিকৃতির দায়ে দুষ্ট। কারন ব্যাপারটি এমন নয় যে কিবোর্ডে আপনাকে আমরা লিখতে গেলে 'আম্রা' লিখতেই হচ্ছে। যেমন এখানে আম্রা টি গ্রহন যোগ্য নয়, ধরুন আপনি 'নম্র' লিখবেন সেক্ষেত্রে অটোমেটিক 'নম্র' হয়ে যাওয়া আপনাকে বেনিফিট দিচ্ছে।
অবশ্যই সফটওয়্যার ডেভলপের ক্ষেত্রে এ ব্যাপার গুলো একটু নজর পেতে পারে, তবে ইউজারতো অটোমেটেড নয় ইউজারকে সে সুবিধাও দেয়া হচ্ছে যেন তিনি ঠিক জায়গায় ঠিক কথাটি লিখতে পারেন।
আমরা সহজ কিছু পেলে সেটিতে অভ্যস্ত হয়ে যাই, যেমনটি হয়েছি ফোনেটিকে। তবে নতুন যদি কিছু আসে তবে ফোনেটিকের চেয়ে সহজ কিছুই চাইবো এবং সচেতন যুক্তাক্ষর ব্যাবহার করা যায় এমন ফিচার সহ। তবে প্রোগামারের পার্সপেক্টিভে সেটা একটু কঠিনই বৈকি।
আমি শুধু এটুকু বলতে চাই, সচেতন ব্যাবহৃত এর নয় ব্যবহারকারীর হওয়া উচিত।
লেখক বলেছেন: আপনি বেশ কিছু সম্পুরক আলোচনা তুলে এনেছেন যা অন্যান্য পাঠকের জন্য সুবিধাজনক হবে। আপনার বক্তব্যের বেশির ভাগ অংশের সাথে আমি একমত।
সালাহ উদ্দিন০০৭ বলেছেন:
মঞ্চায়, জুক্স, .....................ইত্যাদি..................।
লেখক বলেছেন: ![]()
![]()
শ্রাবনের ফুল বলেছেন:
একটা ভালো সমাধান হতে পারে, কিবোর্ডের সাথে স্পেলচেকিং যুক্ত করে দেয়া, যাতে সে সঠিক শব্দটিই সিলেক্ট করে দিতে পারে। ফোনেটিকের ব্যপারে আমার কোন অভিযোগ নেই। লেখক বলেছেন: যা করা সুবিধাজনক আর যা পাওয়া যায় তা নিয়েই তো আমাদের চলতে হবে। অভিযোগ আমারও নেই তেমন তবে কিছু মাইনর অনুযোগ আছে। ![]()
রবিনহুড বলেছেন:
ভাষা হলো পর্বতের প্রস্তর খন্ডের মতো যত শক্ত হোক না কেনো, যুগে যুগে তার আকৃতি ও প্রকৃতি সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়; ভাষাও সেই রকম পরিবর্তিত হতে থাকবে। এটা কেউ রোধ করতে পারবে না।
লেখক বলেছেন: একমত।
আকাশনীল বলেছেন:
আপনার অনেক নাম শুঞ্ছি, কিন্তু সামুর মত জায়গায় আপনার দেখা পাবো, চিন্তাইতেও পারতেসি না লেখক বলেছেন: কেন ভাই এরকম মনে করার কারণ কি?
প্লাস_মাইনাস বলেছেন:
ভালো একটা কথা বলছেন।তবে দোষ পুরোটা সফটওয়ারের না। যে লিখছে তারই বরং বিষয়টা মাথায় রাখা উচিৎ।
লেখক বলেছেন: হমম, দিনের শেষে দোষ তো সব যে লেখে তারই। একমত।
বাবুল হোসেইন বলেছেন:
কিন্তু আমি যেটা জানি তা হল আপনি যখন আমরা লিখেন তখন আপনাকে লিখতে হবে amora. তখন আপনি পাবেন আমরা বাট আপনি যদি amra লিখেন তবে এটা হয়ে যাবে আম্রা। So be careful about it. প্রত্যেকটা অ কে রিপ্লেস করা হয় o দিয়ে। ভুল হলে মাফ চাই.........।
লেখক বলেছেন: মাফ চাইছেন কেন ভাই। নির্দ্বিধায় মতামত প্রকাশ করুন।
সমাধানটি কি হবে এটি আমার বলার উদ্দেশ্য নয়। আমার উদ্দেশ্য এই ইস্যুটি বিবেচনার জন্য সবার কাছে তা তুলে ধরা।
এস বাসার বলেছেন:
হ্যা, আপনার বক্তব্যের সাথে অনেকটা একমত। তবে ভাষা কিন্তু ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। আমাদের কাছে সাধু ভাষা যেমন লাগে,
আগামী দু-এক দশক পরে বর্তমান চলতি ভাষাটাই ঐ প্রজন্মের কাছে সাধু ভাষার মতো লাগতে পারে।
তবে ইচ্ছেকৃত বিকৃত কখনোই গ্রহনযোগ্য নয়।
লেখক বলেছেন: সাধু চলিত বিষয়ে আপনি ভাল একটা পয়েন্ট বলেছেন।
বিকৃতি বা পরিবর্তন যে নামেই বলি সেগুলি কি স্বাভাবিক ভাবে হচ্ছে কি না এটাই বিবেচনা করা দরকার। স্বাভাবিক হলে কোন ক্ষতি নেই। ভাষা তার প্রাণ পাবে।
সবুজ অঙ্গন বলেছেন:
চমৎকার মনোভাবের জন্য ধন্যবাদ। শুধু বানান বিকৃতিতে আমার ঘোর অপছন্দ, ইচ্ছে করে অনেকে ভুল বানানে লিখে থাকেন, সেটাও অপছন্দ করি। সময় পেলে দেখবেন> বাংলা একাডেমী প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম
শুদ্ধ বাংলা চর্চা
লেখক বলেছেন: আপনার পোস্টটি বুক মার্ক করলাম। খুব দরকারী।
আপনাকে ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: মুন্তব্য চ্রম হৈচে। ![]()
![]()
রাজসোহান বলেছেন:
পুস্টভাল্লাগছে
লেখক বলেছেন: মুন্তব্যভাল্লাগ্ছে।
শাহ্ আসাদুজ্জামান বলেছেন:
নিউটন, আমার মনে হয়, খ্রাপ, মঞ্চায়, উপ্রে, কর্তেসি, এইসব বানান ব্লগ বা চ্যাট ফোরামের চলিত স্ল্যাঙ, এর সাথে কী-বোর্ডের কোন সম্পর্ক নাই।যেমন সামহোয়ার কী-বোর্ডে "মঞ্চায়" লিখতে "মনচায়" লেখার চেয়ে কষ্ট বেশি, কিন্তু মঞ্চায় বানান সেই সামহোয়ার আসার শুরু থেকেই আছে।
সচরাচর টেক-প্রজন্ম সংক্ষেপে বানান সারতে পছন্দ করে। ইংরেজী চ্যাট এর ভাষাতেও এরকম শব্দ অহরহ পাবে। যেমন, u(your), da(the), c u (see you) etc.
বাংলা ব্লগে ঠিক সেরকমই একটা স্ল্যাঙ চালু হয়েছে বলেই মনে হয়, এটা কী-বোর্ডের জন্য না।
এরকম মিনিমালিস্ট ফিলসফি তুমি লিনাক্সের কমান্ডেও পাবে, যেমন - cp (copy), mv(move) এইসব।
লেখক বলেছেন: "এটা কী-বোর্ডের জন্য না।" আমরা যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি সেটা একটা বিষয় আর যদি না নিয়ে থাকি তাহলে একটা "সম্ভবত" লাগালে ভাল হত।
একটা জরিপ চালানো যেতে পারে যারা এইসব শব্দ ব্যবহার করছেন তারা শব্দটি কি ভাবে পেয়েছেন। অনেকেই বলবে ব্লগে এসে পেয়েছেন। আর সাথে টাইপ করতে গিয়ে হয়ত দেখেছেন বাহ শোনা বা দেখা সেই শব্দগুলোই তো কত সহজে চলে আসছে চোখের সামনে। ব্যস হয়ে গেল। পিছনে তাকানোর আর সুযোগ নেই।
তবে সুতা ধরে এগোলে ভাগ্য ভালো হলে কাউকে পাওয়াও যেতে পারে যে বলতে পারবেন প্রথম তিনি এটি কিভাবে পেয়েছেন। যা হোক প্রযুক্তির কল্যানে ভাষার বিবর্তন নিয়ে একটা গবেষণা হতে পারে ![]()
ইংরেজী হোক আর বাংলা হোক এই সব সংক্ষিপ্ত ও জড়ানো রূপ আসছে ইনপুট টেকনোলজী গুলোর কারনে, এগুলো আমাদের বলার বা চিন্তা করার গতি থেকে অনেক শ্লথ বলে। ধরা যাক স্পীচ রিকগনিশন টেকনলজী একেবারে নিখুত অবস্থায় পৌছাল তাহলে কি আর এই রকম সংক্ষিপ্ত করার নেশায় কেউ পড়বে? যত দুর মনে হয় পড়বে না। তবে সাধু হতে চলিত রূপান্তরের ক্ষেত্রে *অনাবশ্যক* (বিতর্কসাপেক্ষ) অংশগুলো ঝেড়ে ফেলা ঠিক এই ধাঁচে পড়ে কিনা কে জানে।
আর কম্পিউটারের ব্যবহৃত আর্টিফিসিয়াল ল্যাংগুয়েজ আমি এখানে আনতে চাই না। কারন ওগুলো পুরোমাত্রায় ফরমাল ল্যাংগুয়েজ। এগুলোতে একটা সুনির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের প্রদত্ত শব্দ বা বাক্য সেই ভাষার কিনা সেটা সহজে বলে দেয়া যায়। ন্যাচারাল ল্যাংগুয়েজ হল ইনফরমাল, অনেক বেশী কন্টেক্সট সেনসিটিভ। এখানে শব্দ বা বাক্য সংশ্লিষ্ট ভাষার কিনা বলা মুশকিল। এ ছাড়া ন্যাচারাল ল্যাংগুয়েজে নান্দনিকতা ও মজা পাওয়ার একটা বিষয় থাকে, আর্টিফিসিয়াল ল্যাংগুয়েজে সেটার তেমন দরকার হয় না। কাজেই দুটোকে ও ভাবে এককাতারে ফেলতে চাই না। তবে মিনিমালিস্ট ফিলোসফি একটা ভুমিকা রেখে যাচ্ছে একথা অনস্বীকার্য।
ফাহরুখ খান বলেছেন:
ভাষা নিয়ে আলোচনা সমালোচনা আমার একদম পছন্দ না।ভাষা চলমান নদীর মত, সময়ের সাথে এর পরিবর্তন পরিবর্ধন।টাইপিং সফটওয়্যার নিয়ে আপনি খুবই যৌক্তিক কথা বলেছেন।
লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ।
রাগিব বলেছেন:
আসাদ ভাইয়ের মতো আমিও বলবো, আপনার মূল অ্যাসাম্পশনেই ভুল। (ডিস্ক্রিট ম্যাথের প্রথম দিককার শিক্ষা ছিলো, ভুল অ্যাসাম্পশন নিয়ে যেকোনো কিছু প্রমাণ করে ফেলা যায়, অর্থাৎ P->Q এর P ভুল/অসত্য হলে Q যেকোনো কিছুই হতে পারে।)এখানে আসাদ ভাই যেমনটা বলেছেন, মঞ্চায় এর চাইতে অনেক সহজে মন চায় লেখা যায়।
বাংলা ব্লগের গত চার বছরের বিকাশ গোড়া থেকে যদি দেখতেন, তাহলে এটা হয়তোবা দেখতে পেতেন, এই বানানের বৈচিত্র্যগুলো কীবোর্ডের থেকে আসা নয় (কারণ সামহয়ারের ইউজারেরা কেবলই অ-আদ্যক্ষরের কীবোর্ডটি ব্যবহার করে না)। সামহয়ারের শুরুর দিক থেকে অর্থাৎ ২০০৬ সাল থেকেই আস্তে আস্তে এরকম বানান ব্যবহার মজা করে শুরু হয়েছে। সেটা কীবোর্ড নির্বিশেষেই ... সামহয়ারের পুরানো ব্লগারদের অনেকেই বিজয়ে লিখতেন, মঞ্চায় লিখতে তারাও কেউ পিছপা হননি। বিজয় সম্পর্কে আমার ধারণা কম, তবে আন্দাজ করছি সেখানে মঞ্চায় লিখতে অনেক বেশিই কষ্ট করতে হবে। সামহয়ার ফোনেটিকেও একই অবস্থা।
আরেকটা উদাহরণ দেই -- হাহাপগে এই সংক্ষিপ্তায়ণটি ব্লগে প্রচুর দেখবেন, এটাও অনেকে কথাপ্রসঙ্গে ব্যবহার করে, এর সাথে কিন্তু কীবোর্ডের সফটওয়ারের সম্পর্ক নেই। আপনার উদাহরণগুলো এই কারণেই বাস্তবসম্মত নয় যে, যারা মঞ্চায় লিখছেন তারা কিন্তু সেটা ভুল করে লিখছেন না, জায়গামতো মন চায়ও ঠিকই লিখছেন। মঞ্চায় লিখতে হলে শা** দিয়েও তারা তা-ই লিখবেন, অ* দিয়েও, বিজয় দিয়েও। সেটা আপনি ঠেকাতে পারবেন না।
যাহোক, আপনার পোস্টটির সূচনা হয়েছিলো এই ভুল হাইপোথিসিস দিয়ে যে ব্লগারেরা সংক্ষিপ্ত বানান লিখছেন টাইপিং সফটওয়ারের দোষে। সামহয়ারের চার বছরের ইতিহাস কিন্তু তা বলে না। কাজেই হাইপোথিসিসটি গোড়ায় গলদের দোষে দুষ্ট - এটাই দাঁড়াচ্ছে ঘটনা।
লেখক বলেছেন: বর্তমান পরিস্থিতিতে একাডেমিক কথা বার্তাও কারো পক্ষে বা বিপক্ষে গেলে সংশ্লিষ্ট সমর্থকদের প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভবনা প্রবল। তথাপিও আমরা মোটামুটি ভাবে একাডেমিক পর্যায়ে (যেমন "গলদের দোষে দুষ্ট" এ রকম কথাবার্তা এড়িয়ে) বিতর্ক চালিয়ে যেতে পারি।
নীচের আরো কয়েকটি মন্তব্য বিবেচনায় নিলে ধরা যায় আলোচনা অনেকদুর এগিয়েছে -- আমি শুধু কিছু বিষয় যোগ করছি।
১। ব্লগ না হয়ে একাডেমিক পেপার হলে (শিরনাম সহ) "বিকৃতি" শব্দটিকে "বিবর্তন" দিয়ে প্রতিস্থাপিত করা যায়। তবে বিবর্তন হিসাবে স্বীকৃতি পেতে গেলে নতুন রূপের (এক্ষেত্রে বানান) ব্যবহারকারীর সংখ্যা বর্তমানের গ্রহনযোগ্য রূপের ব্যবহারকারীদের তুলনায় তাৎপর্যপূর্ণ হতে হবে। আর তা শুধু ব্লগের ক্ষেত্রে সীমিত করলে চলবে না। বিবেচনা করতে হবে বাংলা ভাষার অন্য সকল অনুষঙ্গ, অন্তত লেখার ক্ষেত্রগুলো। সাধু হতে চলিত রূপের বিবর্তন বা আঞ্চলিক ভাষার বিবর্তন বাংলা জীবনের অধিকাংশ অলিতে গলিতে বিদ্যমান। ব্লগের এসব বানান সময়ের পরিক্রমায় বিবর্তন হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হবে কিনা তা বলার সময় এখনও আসে নি। আপাতত এগুলো বিকৃত হিসাবেই গন্য হবে।
২। আমার হাইপোথেসিসটি যদিও সুনির্দিষ্ট ভাবে প্রকাশ করি নাই। তবে আসাদের (নীচের মন্তব্য দ্রষ্টব্য) "ব্লগীয় বানান বিবর্তনের জন্য কী-বোর্ড লেআউট দায়ী" কথাটিও "দায়ী" শব্দ থাকায় সাধারণ পাঠকের কাছে একই ধরনের বিভ্রান্তির হবে। আমরা যদি হাইপোথেসিসটিকে আরো একাডেমিক করতে চাই তাহলে এভাবে বলা যেতে পারে "ব্লগীয় বানান বিবর্তনের জন্য কী-বোর্ড লেআউটের ভুমিকা রয়েছে"। এটাকে আরো সুস্পষ্ট করতে চাইলে "ব্লগীয় বানান বিবর্তনের সুচনার জন্য কী-বোর্ড লেআউটের ভুমিকা রয়েছে" বলা যেতে পারে। সুচনা বলছি একারনে যে একবার বিকৃতির (?) মজা পেয়ে গেলে লোকে পরে ইচ্ছে করেই সেটা করবে।
৩। খানিকটা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও এক্ষেত্রে একটা উদাহরণ দিতে ইচ্ছে করছে -- কিছু কিছু ঔষধের বিকৃতি হচ্ছে নেশার দ্রব্য। শুরুটা কাকতালীয় ভাবে (বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে ইত্যাদি) হয়ে যায়। তারপর যে একটা স্বপ্নের জগৎ শুরু হয় সেখানে যাওয়ার অমোঘ টানে এরপর ইচ্ছা করেই পরিকল্পনা করে টাকা জোগাড় হতে মাদক গ্রহন পর্যন্ত বিষয়গুলো পুনঃপৌনিক ঘটতে থাকে। এখানে অসামঞ্জস্যতাটা হল যে ভাষার বিকৃতিটা জীবনের জন্য শেষ বিচারে ক্ষতিকর নাও হতে পারে, কিন্তু মাদকের জন্য হয়। তবে ভাষার দ্রুত বিকৃতিটা প্রজন্মান্তরে জ্ঞান সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি করে। বলা হয়ে থাকে অন্য প্রানীরা বংশ টিকিয়ে রাখে শুধু "জীন" (বায়োলজিক্যাল gene) এর মাধ্যমে আর মানুষ টিকিয়ে রাখে "জীন" ও মীম (meme -- এক প্রজন্ম পরের প্রজন্মের জন্য উত্তরাধিকার হিসাবে যে টুকরো টুকরো জ্ঞান রেখে যায়) উভয়ের মাধ্যমে। এই মীমের অন্যতম বাহন হল ভাষা। এ প্রসংগে আর একটা অধিকতর প্রাকৃতিক উদাহরণ শুধু উল্লেখ করেই ছেড়ে দিব -- যৌণতার বিকৃতিগুলোও (সামাজিক স্বীকৃতির বিষয়গুলো নয়) নিশ্চয় হঠাৎ হঠাৎ কোন না কোন ভাবে শুরু হয়েছে অধুনা এগুলোকে প্রাকৃতিক বিবর্তন হিসাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা হচ্ছে, তবে এখনও সেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় নি।
৪। আমি একটা হাইপোথেসিস ফরমুলেট করার চেষ্টা করেছি মাত্র। হাইপোথেসিসের টেক্সটও বলতে গেলে সুস্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয় নি। আপাতত আমরা " ব্লগীয় বানান বিবর্তনের জন্য কী-বোর্ড লেআউটের ভুমিকা রয়েছে" এটাকে হাইপোথেসিসের টেক্সট বা স্টেটমেন্ট হিসাবে ধরে নিতে পারি। আমি শুধু বলেছি এই হাইপোথেসিসের পিছনে কিছু পর্যবেক্ষন রয়েছে, উপসংহার বা এর যথার্থতা (সঠিকতা এখানে প্রযোজ্য নয় বলে মনে করি -- পরে ব্যাখ্যা করছি) এখনও নিরূপন করা হয় নাই, কাজেই সিদ্ধান্তের অনুপস্থিতিতে অনুসিদ্ধান্ত আসার প্রশ্ন নেই। তবে কার্যকারন সুত্রানুযায়ী আমার "পর্যবেক্ষনের ফলাফল হিসাবে উক্ত হাইপোথেসিস" এইভাবে হাইপোথেসিসটাকে এর যথার্থতা নিরূপন হওয়া ছাড়াই *শুধুমাত্র চিন্তা প্রক্রিয়ার* একটা অনুসিদ্ধান্ত বললে আমার কোন সমস্যা নেই।
৫। আমার পর্যবেক্ষনকে এই পোস্টের কিছু মন্তব্য থেকে আরো কিছু বিষয়ের সমর্থন নিয়ে এর প্লজিবিলিটি বাড়াতে চাই। আমি শুধু বলেছি কিছু টাইপিং সফটওয়্যার অনাকাঙ্খিত ভাবে পরপর আসা অক্ষরগুলোকে যুক্ত করে দিয়ে নতুন নতুন বানান আমাদের চোখের সামনে আনছে আর আমরা সে গুলো তে একধরনের (বিকৃতির নাকি সৃজনশীলতার!) মজা পেয়ে সে গুলো ব্যবহার শুরু করেছি। "মন চায়" বা "হাহাপগে" এর মত একাধিক শব্দের সংক্ষিপ্তকরণ আমি এখানে বাদ দিলাম যদিও "মন চায়" টি আমিও আমার লেখায় উল্লেখ করেছি বলা যায় কিছুটা অসতর্ক হয়ে, এখানে একই শব্দের ভিতরে বানান পরিবর্তন অধিকতর প্রাসংগিক। শব্দগুলোর উপস্থিতি যদি আমরা ২০০৬ এর দিক থেকেই টের পেতে শুরু করে থাকি তাহলে ব্লগ গুলোর জন্মসময় ও সংশ্লিষ্ট টাইপিং সফটওয়্যার গুলোর জন্ম সময় প্রায় কাছাকাছি হওয়ায় এসবের মধ্যে একটা যোগসুত্র থাকার কথা প্রাথমিক ভাবে উড়িয়ে দেয়ার অবকাশ নেই। আমরা যদি দেখি এই জাতীয় শব্দগুলো বেশী ব্যবহার করছে যারা ব্লগের সাথে পরিচিত (আমার কাছে পরিসংখ্যান নেই) তারা তাহলে বিষয়টি আরো ভিত্তি পায়। এক্ষেত্রে আমরা ব্লগ ব্যবহারকারী লোকজন কে কোন লে-আউট ব্যবহার করছে তার একটা জরিপ করতে পারি। সাম্প্রতিক বিতর্কের সময় আমরা মোটামুটি ভাবে (একাধিক ব্লগ বিবেচনায় নিয়ে) ব্লগ ব্যবহারকারীদের মধ্যে জনপ্রিয় লে-আউট গুলোর সম্পর্কে ধারণা পেয়েছি। এখানে ব্যবহারকারী আর সমর্থনকারী আলাদা করলে হিসাবে কিছু হেরফের থাকতে পারে, তবে বড় ধরনের তফাৎ রয়েছে বলে আমি ব্যক্তিগত ভাবে (সমর্থনের মাত্রাগত তফাৎ বিবেচনায় নিয়ে -- ব্যবহারকারীদের সমর্থনের মাত্রা বেশী হবে ধরে নিয়ে) মনে করি না।
৬। তাহলে মোটামুটি ভাবে হাইপোথেসিসের ভিত্তি দাঁড়াচ্ছে এই শব্দগুলো বেশী ব্যবহৃত হয় ব্লগে (অনলাইন ব্যবহারকারী ধরে নিয়ে চ্যাটেও বলতে পারি আমরা), ব্লগে বেশ কিছু জনপ্রিয় লে-আউট আছে যাদের বেশ কিছু (মিনিমালিস্ট ফিলসফি অনুযায়ী) কমসংখ্যক কী চেপে শব্দ লেখার সময় প্রচলিত নয় এমন বানানই প্রথমে নিয়ে আসে। এখন এ সাপেক্ষে আমরা বিবেচনা করতে পারি আমাদের হাইপোথেসিসটা প্রাথমিক ভাবে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষার দাবী রাখে কিনা? এই প্রশ্নটির উত্তর জানা জরুরী বেশ কয়েকটি কারনে। জনপ্রিয় টাইপিং সফটওয়্যার গুলো প্রমিত বানানকে প্রোমোট করবে (টাইপ করার সময় প্রথম সাজেশন হিসাবে আসবে) নাকি অপ্রচলিত বা স্ল্যাংগ কে প্রোমোট করবে? এটা একটা নীতিগত প্রশ্ন। এই সম্পর্কে ঐক্যমত হলে আমরা জনপ্রিয় সফটওয়্যারগুলোকে সেই আলোকে উন্নত করতে পারি। আমাদের পরীক্ষা নিরীক্ষা যদি এই সিদ্ধান্ত দেয় যে পরিবর্তিত বানান সমুহ টাইপিং লে-আউট থেকে এসেছে এই রকম হাইপোথেসিস যথার্থ নয় তাহলে ভবিষ্যৎ লে-আউট ডিজাইনে আমরা আরো ব্যাপক মাত্রায় এদিক সেদিক চিন্তাভাবনা করতে পারি যাতে কি ভাবে গতি বাড়ানো যায় ও প্রশিক্ষনের সময় কমানো যায়। আর যদি হাইপোথেসিস যথার্থ বলে বেরিয়ে আসে তাহলে বিদ্যমান ও অনাগত লে-আউট গুলো সম্পর্কে আমাদের সতর্ক হতে হবে। আর সতর্ক হওয়ার জন্য এটা উপযুক্ত সময়।
৭। এখন আমাদের হাইপোথেসিসের যথার্থতা নেই এটা আমরা কেউ কেউ আরও গবেষণা ছাড়াই ব্যক্তিগত ধারনার ভিত্তিতে এখনই বলে দিতে পারি। দুঃখজনক ভাবে বলতেই হয় পর্যবেক্ষন ও উপরে বর্নিত বিষয়াদির প্রেক্ষিতে আমি আপাতত সে দলে নেই। আমার কাছে হাইপোথেসিসটি এখনও উন্মুক্ত, এ বিষয়ে একেবারে সিদ্ধান্ত টানা প্রি-ম্যাচিউর বলে মনে করছি। পরীক্ষান্তে এটি যথার্থ হতে পারে, মোটামুটি যথার্থ হতে পারে, তাৎপর্যপূর্ণভাবে যথার্থ নয় হতে পারে, অথবা যথার্থ নয় হতে পারে বা এই রকম বিভিন্নমাত্রা থাকতে পারে। ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করি কেউ বিএসসি চতুর্থ বর্ষের প্রজেক্ট হিসাবে এই প্রশ্নের সন্তোষজনক নিস্পত্তি যদি করে দেয় আমি তাকে ভালভাবে মুল্যায়ন করব।
৮। ডিস্ক্রিট ম্যাথ নিয়ে শুধু এটুকু বলব ইম্প্লিকেশনের ঐ সুত্রে P, Q, P=>Q এ গুলো সব বুলিয়ান। সত্য নয় মিথ্যা এর বাইরে এগুলো প্রযোজ্য নয়। আর P, Q অানরিলেটেড না রিলেটেড বিষয় মানে কার্যকারন সম্পর্ক থাকার মত কিনা সেটাও বিবেচ্য। আমাদের হাইপোথেসিস বুলিয়ান ধর্মী নয়। এখানে সত্য মিথ্যার বিষয় নেই। আছে যথার্থ হওয়া না হওয়ার তাও বিভিন্ন মাত্রায়। প্রিমিটিভ বুলিয়ান লজিক না ব্যবহার করে তাই এখানে পরিসংখ্যান ভিত্তিক প্রোবাবিলিস্টিক রিজনিং বা (এখনও বিতর্কিত থেকে যাওয়া ফাজি লজিক) ব্যবহার করতে হবে। কাজেই ডিস্ক্রিট ম্যাথ সংশ্লিষ্ট মন্তব্য মোটামুটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় উপেক্ষনীয়।
৯। প্রযুক্তির জন্য মুক্ত আলোচনায় আমরা নিরাবেগ থাকতে চাই। এটা কারো ব্যবসায়িক স্বার্থের পক্ষে বা বিপক্ষে গেল এই প্রশ্নটি পিছনে ফেলে আমরা পেশাদারী মনোভাব নিয়ে এগোতে চাই। আমাদের এক একজনের ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষেনে ভুল ত্রুটি থাকতে পারে, সামগ্রিকভাবে তাই কমিউনিটিতে একএক জনের পর্যবেক্ষনকে বৈজ্ঞানিক ভাবে রিভিউ করে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যেতে হবে। স্টেট অব দ্যা আর্ট হিসাবে যেগুলো জনসমুখে আসছে সেগুলো কষ্টিপাথরে যাচাই করা কোন অনুচিৎ কাজ নয়। ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে অনাগতরা যাতে সেগুলো সমাধান করতে পারে সেইটাই আমাদের উন্নতির পথ।
তাজুল ইসলাম মুন্না বলেছেন:
আম্রা এইগুলা মজা করে লেখি ভাই। আমিতো বিজয় ইউজ করি। কিন্তু লেখার সময় ঠিকই এভাবে করে লেখি। এগুলো জাস্ট ফান করা। আর কিছুই না।।।
লেখক বলেছেন: জানলাম।
লেখক বলেছেন: আপনার জন্য আমার সমবেদনা রইল ![]()
লেখক বলেছেন: ![]()
শাহ্ আসাদুজ্জামান বলেছেন:
রাগিব এর মন্তব্যের সুরে একটু প্রশ্নবিমুখতার প্রকাশ দেখছি। ব্লগীয় মিনিমালিস্ট বানান গুলোর সাথে আমরা সবাই মোটামুটি পরিচিত। কিন্তু ঐ বানান গুলোর, বা এই মিনিমালিস্ট ফিলসফির উৎস কোথায়, সেটা নিয়ে প্রশ্ন করেছি ক'জন?
এখানে প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে নিউটন যে অনুসিদ্ধান্ত দিয়েছে, সেটা সঠিক নয়, সে প্রমাণ হল আগের মন্তব্যে কিছু উদাহরণ দিয়ে।
এই ভুল প্রমাণ কিন্তু প্রশ্নের গুরুত্ব মোটেও হ্রাস করেনা, বরং, প্রশ্নের উত্তর কঠিন সেকথাই নির্দেশ করে। এবং পাল্টা অনুসিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর খুজতে আমাদের উৎসাহিত করে।
আর অনুসিদ্ধান্তের বিশেষায়িত অংশ, মানে "ব্লগীয় বানান বিবর্তনের জন্য কী-বোর্ড লেআউট দায়ী", এটা ভুল প্রমাণিত হলেও, অপেক্ষাকৃত জেনারালাইজড আরেকটা অংশ, মানে "প্রযুক্তি মানুষের সামাজিকায়ন এবং ভাব প্রকাশের রীতিকে প্রভাবিত করে" সেটা কিন্তু ঠিক আছে।
তাহলে, এই বানান বিবর্তনের জন্য কোন একটা প্রযুক্তি বা প্রযুক্তির বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট দায়ী একথা অনুমান করা যায়, কিন্তু সেটা ঠিক কি, তা বলা কঠিন।
সে অর্থে লেখাটি উপসংহারধর্মী নয় বরং পর্যবেক্ষনধর্মী। এবং পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পাল্টা অনুসিদ্ধান্ত আসা উচিত।
তবে লেখার প্রকাশভঙ্গীতে, এমনকি লেখার শিরোনামেও, নিজের অনুসিদ্ধান্তের প্রতি লেখকের বায়াস প্রকাশ পাওয়াতে পাঠক কিছুটা বিভ্রান্ত হতে পারে।
লেখক বলেছেন: ২০ নং মন্তব্যের জবাব দ্রষ্টব্য।
রাগিব বলেছেন:
ধন্যবাদ আসাদ ভাই, আপনার কথার সাথে পুরোই একমত।ব্লগ বা অন্য ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে ভাষার পরিবর্তনের সামাজিক ব্যাখ্যা কী, তা জানা দরকার বটে। ছাপার মাধ্যমের প্রথম দিকের কী রকম অবস্থা ছিলো, সেটাও এখানে দেখতে পারি। উনবিংশ শতকে বঙ্গে ছাপাখানার আদি লগ্নে প্রকাশ পাওয়া "হুতোম প্যাঁচার নকশা" পড়েছিলাম, সেখানে কিন্তু কালীপ্রসন্ন সিংহ খাস কলকাতার কথ্য ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। অবশ্য বাংলা ভাষার প্রমিত করণ তখনো হয়নি। হয়েছে সেই শতকের পরের দিকে। গণমাধ্যমের শুরুর দিকে এরকম পরীক্ষামূলক কিছু করার চেষ্টাটা কি আগে ছিলো? সেটাই দেখাটা দরকার।
তবে ব্লগের অনেক শব্দাবলীর ব্যাখ্যা পাবেন না ... অনেকটা কাকতালীয়ভাবে বা কারণ ছাড়াই অনেক কিছু চালু। যে ব্লগার "খ্রাপ" লিখছেন, তিনিই কিন্তু আবার দেখা যাবে কাউকে "উত্তম জাঝা" দিচ্ছেন, কিংবা কারো কমেন্টে "বিপ্লব" দিচ্ছেন। এগুলো অনেক গুলোই সামহয়ার থেকে চালু হলেও এখন বাংলা ব্লগোস্ফিয়ারে বহুল প্রচলিত শব্দ।
আমি সমাজবিজ্ঞানী নই, গণক মিস্তিরি হিসাবে সামাজিক ব্যাখ্যা দিতে গেলে বেশি আগাতে পারি না। ব্লগ নিয়ে এক সময়ে অনেক গবেষণা হবে, এটাই আন্দাজ করতে পারছি। অন্তত ব্লগের সামাজিক আচার আচরণের বিবর্তন নিয়ে।
লেখক বলেছেন: ২০ নং মন্তব্যের জবাব দ্রষ্টব্য।
লেখক বলেছেন: ![]()
নষ্ট ছেলে বলেছেন:
"লিখতে চাচ্ছেন "উপরে" হয়ে গেল "উপ্রে"। আবার লিখতে চাচ্ছেন আমরা হয়ে গেল "আম্রা"। "মন চায়" লিখতে হয়ে গেল "মন্চায়"। "ভালবাসি" হয়ে গেল "ভাল্বাসি"। "
upre=উপ্রে upore=উপরে [বিকল্প up`re ]
এখানে উপরে লেখার জন্য upre থেকে upore বেশি মানানসই।
amra=আম্রা amora=আমরা [বিকল্প am`ra]
এখানে অবশ্য amra বেশি মানানসই কিছু amora ও কাছাকাছি মনে রাখাও খুব একটা কষ্টকর না। তাছাড়া বিকল্প am`ra তো আছেই।
valbasi=ভাল্বাসি valobasi=ভালবাসি [বিকল্পval`basi]
এখানেও valobasi বেশি মানানসই।
"এটা লিখতে গিয়ে ওটা হয়ে যায়" আপনার এই মতবাদের সাথে একমত হয়ে পারলাম না। ইচ্ছা করে না লিখলে কখনোই একটা লিখতে গিয়ে আরেকটা হয়ে যায় না।
লেখক বলেছেন: আমার মতের সাথে দ্বিমত পোষন করার সব রকম স্বাধীনতা আপনার আছে।
একই ভাবে আপনার "ইচ্ছা করে না লিখলে কখনোই একটা লিখতে গিয়ে আরেকটা হয়ে যায় না।" এটার সাথে আমি মোটামুটি দ্বিমত পোষন করলাম। একটা করতে গিয়ে কোন কারনে আরেকটা হয়ে যাওয়া বিচিত্র কিছু নয়। আর আমরা সেই নতুন কিছু নিয়েই এগিয়ে যাওয়াও বিচিত্র কিছু নয়।
একটা চটুল উদাহরণ দেই দয়া করে বেশি সিরিয়াসলি নিবেন না -- বড় বোনকে বিয়ের জন্য দেখতে গিয়ে ছোটবোনকে পছন্দ করে আসার ঘটনা কিন্তু নেহায়েৎ কম নয়। ![]()
যাহোক খুঁটিনাটি পর্যায়ে গিয়ে কথা বলার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
কানুপা বলেছেন:
রাগিব কাহিল হয়ে গেল, কিন্তু আপনেই বা কি কইতে চান? ফোনেটিক ? জিয়া মিয়া ফোনেটিক বানাইলে কি কইতেন ? আহা.
লেখক বলেছেন: বিজ্ঞানীরা বা নিদেন পক্ষে বিজ্ঞানের ছাত্ররা কাহিল হয় না একের পরে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে যেতে থাকে নিরন্তর। কাহিল হয়ে পড়ে তারা যারা সাধারণত কোন কিছুর (কট্টোর) সমর্থক হয়। আপনি কি বলতে চাইছেন রাগিব বিজ্ঞানের ছাত্র থেকে (অন্তত সাময়িক ভাবে) সমর্থক হয়ে গিয়েছে। আমি অবশ্য আপাতত তা মনে করছি না। আর জিয়া মিয়াও তো ফোনেটিক লাইনেই আছে। এই পোস্টে আমার মাথা ব্যথা তো ফোনেটিক বা ফিক্সড লে-আউট নিয়ে নয়। বিকৃত বানান সুচনায় (যে কোন) কী-বোর্ডের ভুমিকা নিয়ে।
কোর আই সেভেন বলেছেন:
আপনার লেখা পড়ে মনে হল আপনি বলতে চাইছেন বানানের অপভ্রংশগুলো ব্যবহারকারীদের সৃষ্টি করা আর সরাসরিভাবে না বললেও আপনি একটি সফটওয়্যারকে দায়ী করতে চাইছেন।
লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্য পড়ে মনে হচ্ছে আপনি একটি বিশেষ সফটওয়্যার সমর্থন কারী ![]()
এই রকম দুর মনে হওয়া নিয়ে থাকলে আরো অনেক কিছু মনে করা যায়। আমরা সেটা করতে চাইছি না।
আমাদের বুঝা দরকার প্রযুক্তি ভাষাকে প্রভাবিত করছে কিনা, করলে কতটুকু। এটা নৈর্ব্যক্তিকভাবেই দেখতে চাই।
হুপফূলফরইভার বলেছেন:
গ্রামার দিয়া আমি চলি! না! আমার চালচলনকে গ্রামার ব্যাক্ষা করে! ছু খ্রাপ তু কিছু দেখি না! বক্তার বক্তইব্য শ্রোতার বোধগইম্য অইলেই ইনাফ!
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...





















পোস্টে প্লাস।