somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... নির্মোহ মতামত: ও রকম ফেসবুক স্ট্যাটাসে কি রাষ্ট্রদ্রোহ হতে পারে? বিডি নিউজ২৪ এ ফাহাম আব্দুস সালামের লেখা

অন্তত ওরকম ফেসবুক স্ট্যাটাসে সেডিশন চার্জ হওয়া উচিৎ নয়। একমত।বড় জোর খানিকটা তিরস্কার হতে পারে, একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বলেছে সেই গুরুত্বটুকু মেনে নিলেও।তাইবলে ফেসবুক ঘরের আড্ডা এটা বলা সম্ভব নয়। লেখক এ বিষয়ে সঠিক ধারণা রাখেন বলে ধরে নেয়া কঠিন। অাপনার স্ট্যাটাস মুহুর্তে ফেন্ড্র নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে, আর ফিজিক্যাল নেট ওয়ার্কের অসংখ্য সার্ভারে ও রাউটারেও কপি তৈরী হচ্ছে।

এ সম্পর্কে আগে কিছু ড্রাফট করেছিলাম।

ফেসবুকে হাসিনা কেন মরেনা বলে এখন রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার সম্মুখীন একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। মশা মারতে কামান দাগানো হল কী? হয়তো বা হয়তোবা না। প্রথমেই বলে রাখি এখানে যদি রাজনীতি কোন ফ্যাক্টর হয়ে থাকে তাহলে ভাল মন্দ বিচার ছাড়াই একজন অাওয়ামী এটা সমর্থন করে যাবে, আর একজন বিএনপি এসেই টিকা টিপ্পনি সহ বিরোধীতা করে যাবে। কাজেই ওদের কাছে থেকে যুক্তিপূর্ণ কিছু পাওয়া মুশকিলই। দলীয় প্রধান যাই বলবে সেটাকে যুক্তিপুর্ণ বলার পুরা কসরত দলীয় সমর্থকরা করেই যাবে।

প্রকাশ্যে ধুমপান করলে তার শাস্তি হবে, এরকম কিছু অাইন বোধ হয় আমাদের দেশেও আছে। কিন্তু এরকম আইন সাধারণত প্রয়োগ করা হয় না। এই রকম অাইন করা হয় মুলত সচেতনতা বাড়ানোর জন্য, যথাযথ প্রয়োগের জন্য নয়। তাই বলে কেউ প্রকাশ্যে ধুমপান করেছেন বলে যদি অফিসিয়ালী প্রমান হয়, তাহলে আদালতকে ক্ষেত্রবিশেষে শাস্তি দিতেই হতে পারে।

এখানে আর একটি উদাহরণ মাথায় আসল। ভিন্ন প্রেক্ষাপটের হলেও উল্লেখ করি। কয়েকবছর আগে বুয়েটে একজন ছাত্র আরেক ছাত্রের ক্লাস টেস্ট দিয়ে দিয়েছিল। ক্লাস টেস্টের নম্বর মুল পরীক্ষায় জমা হয়। তাই এটি উপেক্ষা করার যো নাই। তাই সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বহিস্কার করেছিলেন ওই ছাত্রকে। কিন্তু ক্লাসটেস্ট নেয়ার সময় সাধারণত হালকা চালেই নেয়া হয়ে থাকে। সেখানে ছাত্রছাত্রীরা এদিক সেদিক তাকায় বা দেখাদেখিও করে। এইসব বলে তৎকালীন ঐ ছাত্রের বন্ধুরা বুয়েট জুড়ে তান্ডব তৈরী করেছিল। ফলে বুয়েট মাস দুয়েকের জন্য বন্ধ হয়েছিল আর ঐ বহিস্কৃত ছাত্র বিদেশে পাড়ি জমায়। যার জন্য এত কিছু সে পগারপাড়।

আমাদের দেশের ইন্টারনেটের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। প্রত্যন্ত গ্রামেও মাত্র কয়েকশ টাকায় আনলিমিটেড ইন্টারনেট পাওয়া যায়। ফলে ইন্টারনেট ব্যবহার কারী ও সাথে অাড্ডাবাজ চরিত্রের সাথে মিল খাইয়ে ব্লগিং ও ফেসবুকিং বাড়ছে। তারা সবাই ইন্টারনেটকে চায়ের দোকানের অাড্ডা হিসাবেই দেখতে চায়। বাস্তবে সারা দুনিয়ায় ইন্টারনেটকে অফিসিয়াল মাধ্যম হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আমাদের দেশের মোটামুটি শিক্ষিত ব্যক্তি বর্গ এটা জেনেও গায়ের জোরে উপেক্ষা করার চেষ্টা করছেন। দীর্ঘমেয়াদে কোন রকমটি টিকে যাবে দেখার বিষয় অন্তত বাংলাদেশের ক্ষেত্রে।

ফেসবুকে হাসিনা মরেনা কেন এরকম বলার কারণে প্রথমত ঐ স্ট্যাটাসকে উপেক্ষা করাই যুক্তি সংগত। তারপরও যদি নজরে আসে তবে কেবল তিরস্কার করেই ছেড়ে দেয়া উচিৎ। কিন্তু রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা? এ যে মশা মারতে কামান দাগানো। তবে এখানে কিছু বিষয় বিবেচনায় নেয়া দরকার, যদিও সেগুলো বিবেচনা করেও আমি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দেয়ার কারণ দেখি না। সংশ্লিষ্ট ভদ্রলোক একজন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষক। স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হলেও তিনি সরকারী বেতন নেন। শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে তাকে সরকার বা সরকার প্রধানের প্রতি নুন্যতম সম্মান বোধ রাখতে হয়। বলা বাহুল্য এর মানে কোন ভাবেই সমালোচনা করা যাবে না, তা না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29520197 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29520197 2012-01-11 00:28:48
"বাংলাদেশ গ্রামীন ব্যাংক দল" সম্ভবত একটি রাজনৈতিক দল। অামাদের সময়ের রিপোর্ট অনুযায়ী "কর্মসুচী পালন করতে গিয়ে কোথাও কোন মারামারি হলে ছবি তুলে রাখতে হবে, যাতে সেগুলো বিদেশে প্রচারণার কাজে লাগানো যায়। ডঃ ইউনুস মনে করেন এই খেলা অনেক লম্বা হবে, অনেক দিন চলতে থাকবে।"

এনজিও গুলো একদিন ক্ষমতার জন্য লড়বে| ১৯৮৫ সালে অামার গ্রামে গ্রামীন ব্যাংক যাওয়া থেকে শুনছি এই কথা। এখন দেখতে পাচ্ছি তারা কি ভাবে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে যাচ্ছে। এনজিওগুলো একধারে গরীবদের মাঝে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ঠেকাতে সফল, চড়া সুদে ঋণ প্রদান ও কার্যকর ভাবে অাদায় করতে সক্ষম, ঋণ পরিশোধের চাপে গরীব মানুষকে বাধ্যতামুলক ভাবে কর্মমুখী করতে সফল, এখন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দীতায় অাসতে শুরু করেছে। প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল বলে তো অার পরবর্তীগুলোও ব্যর্থ হবে তা ধরে নেয়া যায় না। গ্রামীনের ৮০ লক্ষ গ্রাহকের ১কোটি ৬০ লাখ ভোটার, প্রত্যেকেই একএকজন সক্রিয় কর্মী। এ দলের সাফল্য অবশ্যম্ভাবী।

দলের সদস্যদের অর্থনৈতিক দেখভাল যদি দল করতে পারে, তাহলে দলের প্রতি কর্মীদের নিবেদিত প্রাণ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। অর্থনৈতিক দেখভাল দিয়ে শুরু করে রাজনীতিতে যাওয়া গ্রামীনের পথ। অন্যদিকে এর ঠিক উল্টোটা করে থাকে জামায়াতে ইসলামী। তারা ধর্মের মাধ্যমে রাজনীতিতে এনে কর্মীদের রুটি রুজির ব্যবস্থা করার জন্য তাদেরকে নিজেদের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজে লাগায়। দুটো ভিন্ন দিক থেকে এগুলেও মুলত লক্ষ্য একটিই -- সেটি হল কর্মীদের জীবিকার দায়িত্ব নিয়ে তাদেরকে নিবেদিতপ্রান কর্মী বানিয়ে ফেলা।

রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক কর্মকান্ড করতে পারবে কিনা, বা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক কর্মকান্ড করতে পারবে কিনা-- এটা একটা ভাবার বিষয়। হাজার বছর ধরে গড়ে উঠা সভ্যতায় সাধারণত এইরকম মিশ্রন গৃহীত হয় নাই। বিচার বিভাগ, শাসন বিভাগ, ও অাইন বিভাগ তিনটি যেমন মোটা দাগে অালাদা হয়েছে, রাজনীতিক প্রতিষ্ঠান ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান গুলোও এরকম অালাদা হবে। নীতি বা অাইন প্রণেতা এবং তার চর্চাকারী, প্রয়োগকারী, তদারককারী, ও যাদের উপর প্রযোজ্য হবে তারা অালাদা হতে হবে। এ বিষয়টি মোটামুটি ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মিশ্রন একসময় ছিল, এবং মিশ্রন ঘটানোর বিভিন্ন প্রচেষ্টা এখনও জারি অাছে। গ্রামীন ব্যাংক দল ও জামায়াতে ইসলামী এই মিশ্রন ঘটানোর প্রচেষ্টার দুটো উদাহরণ।

এই লেখার প্রসংগ মুলত এনজিওদের রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যবসা বানিজ্য এসবের সুদুরপ্রসারী প্রভাব বিশ্লেষণ। আলোচনা ও সমালোচনা সেই দিকে এগুলেই ভাল লাগবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29352988 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29352988 2011-03-29 03:24:50
বাঙালী বা বাংলাদেশী নয়, চাই নতুন কোন পরিচয়!
ভুখন্ডের নামে ভাষার নামকরণ হয়েছে নাকি ভাষার নামে ভুখন্ডের নামকরণ হয়েছে এ বিষয়ে অামি পরিস্কার জানিনা। কোন ইতিহাসবিদ সাহায্য করতে পারবেন। প্রথমে অামরা ধরে নিই যে ভুখন্ড থেকে ভাষার নাম করণ হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলার বা বাংলাদেশের যেখানে যে ভাষা ভাষীই থাকুক, তাদের নৃতাত্ত্বিক পরিচয় যাই হোক সবাই বাংলাদেশী কথাটি গ্রহণ করতে পারে। এটি অামাদের বাংলাদেশী পরিচয়ের পিছনের ভাল যুক্তি। কিন্তু মুশকিল হল, মানে ইদানিং অামি পশ্চিম বংগের বেশ কিছু সাহিত্য রচনা ও চলচিত্র দেখার সুবাদে বলছি, অামি দেখছি পশ্চিম বংগের লোকজনও বিভিন্ন সময়ে চেতনে অবচেতনে বাংলাদেশের মানুষ বা সারা বাংলাদেশে নাই, ইত্যাদি বলেছে, বলছে। এরা কোন ভাবেই অাজকের রাজনৈতিক ভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের কথা বুঝায় না। অাইনত তারা কি নামে নিজেদের পরিচিত করবে সেটার চেয়ে যদি অামরা দেখি স্বতঃস্ফুর্তভাবে তারা কি নামে অন্তত নিজেদের ভিতরে নিজেদের পরিচয় দেয়, সেক্ষেত্রে তাদের নিজেদের বাংলাদেশের অধিবাসী বলা অামরা অাটকাতে পারিনা। অাসলে বাংলাদেশ নামটি অাগে পুরো বঙ্গ বুঝাতেই ব্যবহৃত হতো। অামরা সেটাকে এখন অার্ধেক বাংলা বুঝাতে ব্যবহার করছি, এটা ঠিক বাঙালী বলে যেমন শুধু এই পাশের বাঙালী বুঝায় তেমনই। যদিও স্বতন্ত্র রাষ্ট্র বাংলাদেশ হওয়ার কারণে পশ্চিম বঙ্গীয়দের বাংলাদেশী বলার প্রচলন অতি ধীর লয়ে হলেও কমে যাবে, তথাপি তাত্ত্বিক বিচারে অামরা এটাকে উড়িয়ে দিতে পারি না। কাজেই দেখা গেল বাংলাদেশী বলে অামাদের পরিচয় দেয়ার বিষয়টিও পুরোপুরি গোলমাল মুক্ত নয়।

এবার ধরে নেই, ভাষার নামে ভুখন্ডের নামকরণ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে বাংলা ভাষা কথাটি থেকে বাংলাদেশ কথাটি এসেছে। তাহলে সরাসরি মানে দাঁড়ায় বাংলা ভাষীদের দেশ বাংলাদেশ। কাজেই কোন ভাবেই এখানে চাকমা, মারমা এরা অন্তর্ভুক্ত হয় না। বাঙালী কথাটি যেমন বাংলা থেকে এসেছে, বাংলাদেশ কথাটিও এসেছে ওই বাংলা থেকেই। সুতরাং বাঙালী বলতে যদি চাকমারা, মারমারা অন্তুর্ভুক্ত না হয় তাহলে একই হিসাবে বাংলাদেশী বলতেও চাকমাদেশী, মারমাদেশীরা অন্তর্ভুক্ত হয় না। অামরা যদি এমন একটি শব্দ খুঁজে বের করতে চাই যাতে অধুনা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সকল ভাষাভাষী, জাতি-উপজাতী, ধর্মাবলম্বীরা অন্তর্ভুক্ত হবেন, তাহলে বাঙালী বা বাংলাদেশী এই দুটো একই দাগের পক্ষপাতমুলক শব্দ বাদ দিয়ে অামাদের নতুন কোন শব্দ খুঁজতে হবে।

ইহা একটি ব্লগীয় নোট, মুলত নিজের জন্য, যাতে ভবিষ্যতে এটাকে সীড হিসাবে ব্যবহার করে বড় পরিসরে ভাবা যায়। তবে অালোচনা সমালোচনা চলতেই পারে, সেক্ষেত্রে কোন সমস্যা নেই। এখানে বাস্তবায়নের কথা না ভেবে পুরোপুরি বিশ্লেষণের নিমিত্তে বিশ্লেষণ হিসাবে দেখতে হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29345186 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29345186 2011-03-16 01:33:10
ব্লগ ও ব্লগার রেটিং নিয়ে গঠনমুলক অালোচনা: চাই ই-বে ধরনের পদ্ধতি।
কেউ প্লাস বা মাইনাস দিলে সংশ্লিষ্ট কাউন্ট বাড়ার সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটা করে মন্তব্য প্লাস বা মাইনাস কথাটি যোগ হবে সংশ্লিষ্ট পাঠকের নামে। এতে রেটিং কে দিল দেখা যাবে, অার এর বিপরীতে লেখক চাইলে সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীকে একটা প্লাস বা মাইনাস দিতে পারবেন। উদাহরণ স্বরূপ ধরা যাক একটা লেখায় ১০ টি প্লাস ও ৮ টি মাইনাস পড়েছে। কিন্তু ১০ টি প্লাসের ৩ টিতে লেখক পাঠককে মাইনাস দিয়েছেন, একইভাবে ৮টি মাইনাসের ৬ টিতে লেখক পাঠককে মাইনাস দিয়েছেন। লেখক কর্তৃক পাঠককে প্লাস দেয়া বা কোন রেটিং না দেয়া কে পাঠকের রেটিং মেনে নেয়া বলে ধরে নেয়া যায়। কাজেই ঐ লেখার সম্মতিমুলক স্কোর হল প্লাস ১০-৩ = ৭টি এবং মাইনাস ৮-৬ = ২টি। অামরা লেখার পুরো স্কোরটি পেতে পারি চারটি সংখ্যার মাধ্যমে ৭-৩-২-৬।

ব্লগারদেরও একটা রেটিং থাকা দরকার। একজন ব্লগারের রেটিংও হবে চারটি সংখ্যায়। এটি তার প্রফাইলে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। একজন ব্লগারের রেটিং হবে তার লেখা সমস্ত পোস্টের স্কোর গুলোর (চারটি সংখ্যারই অালাদা অালাদা করে) যোগ ফল ও প্রতিটি পোস্টে তার দেয়া বা প্রাপ্ত রেটিং সমুহের যোগফল থেকে মোট নিজের লেখা পোস্ট ও পাঠক হিসাবে রেটিং দেয়া পোস্টের বিপরীতে গড় বের করে। একজন ব্লগারের নিজের ব্লগগুলোর স্কোর সমুহের যোগফল অামরা সহজেই বের করতে পারি। এখন দেখা যাক অন্যের লেখায় করা মন্তব্যের রেটিং কি ভাবে অাসবে। অাপনি যদি কোন পোস্টে প্লাস দিয়ে থাকেন অার লেখক যদি তার বিপরীতে মাইনাস দিয়ে থাকেন তাহলে অাপনার পাঠক হিসাবে স্কোর হবে ০-১-০-০ অার লেখক যদি অাপনাকে প্লাস দিয়ে থাকেন বা কিছু না বলে থাকেন তাহলে পাঠক হিসাবে অাপনার স্কোর হবে ১-০-০-০। অাপনি যদি কোন পোস্টে মাইনাস দিয়ে থাকেন অার লেখক যদি তার বিপরীতে মাইনাস দিয়ে থাকেন তাহলে অাপনার পাঠক হিসাবে স্কোর হবে ০-০-০-১ অার লেখক যদি অাপনাকে প্লাস দিয়ে থাকেন বা কিছু না বলে থাকেন তাহলে পাঠক হিসাবে অাপনার স্কোর হবে ০-০-১-০। ধরা যাক অাপনি ৬ টি পোস্ট দিয়েছেন যার মোট স্কোর হল ১২-১১-১০-৯ অার অাপনি ৮ টি পোস্টে মন্তব্য করেছেন যার মোট স্কোর হল ৩-২-২-১। তাহলে অাপনার মোট স্কোর হল যোগ করে ১৫-১৩-১২-১০ অার গড় হল এগুলোর প্রত্যেকটিকে ৮ + ৬ = ১৪ দিয়ে ভাগ করুন ও হাইফেন দিয়ে লিখুন।

কোন নির্দিষ্ট লেখা কতবার পঠিত বা একজন ব্লগারের ব্লগসমুহ সর্বমোট কতবার পঠিত এগুলো তো থাকছেই। পাশাপাশি উপরের চারটি সংখ্যা ব্যবহার করলে লেখক - পাঠক দায়বদ্ধতা অারো বেড়ে যাবে। প্লাস পেলে তার বিপরীতে কোন লেখক মাইনাস দিবেননা এরকম ধরে নিলে অামরা ঐ চারটি সংখ্যার ২য় টি বাদ দিয়ে দিতে পারি। যা হোক অাশা করা যায় এ রকম স্কোর খুব বেশী দুর্বোধ্যও নয় অাবার মেইনটেইন করলে খুব বেশী ওভারহেডও পড়বে না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29315608 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29315608 2011-01-27 18:41:03
নতুন বছরে সবার অপার্থিবত্ব বাড়ুক, দুনিয়াদারীত্ব কমুক। দেশের জ্বালানী সংকট কমুক, মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ুক। ক্রিকেট উচ্ছাস লাগামের ভিতরে থাকুক।
দেশের সর্বপ্রধান সংকট হচ্ছে জ্বালানী সংকট। বিদ্যুত, গ্যাস, ও তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা বর্তমানে দেশের উন্নতির মুল চাবিকাঠি। বহুবিধ গ্রাহক সেবা বৃদ্ধির মাধ্যমে মোবাইলের সর্বাত্নক ব্যবহার আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে।

আসছে বছরে বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষে অতিরিক্ত উচ্ছাসের কারণে আমাদের অনেক কর্ম ঘন্টা নষ্ট হবে। পরিমিত ক্রিকেট চর্চা বজায় থাকুক, আনন্দ উপভোগ ও কর্তব্য পালনের সাম্য বজায় থাকুক।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29299921 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29299921 2011-01-01 04:50:09
"৫ জনের কম হলে কার চালানো যাবেনা" এতে যারা ক্ষিপ্ত তারা সবাই কি কারের মালিক? " style="border:0;" />]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29294582 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29294582 2010-12-23 09:14:21 বয়োজৈষ্ঠ্যতা কি কোন গ্রহনযোগ্য যোগ্যতা হতে পারে?
আপনি অন্য একজনের একদিন আগে যোগদান করেছেন, তাই সর্বক্ষেত্রে সেই অন্য একজনের নিয়োগের সব সম্ভাবনা আপনি খেয়ে ফেলবেন, এটি কোন গ্রহনযোগ্য বিষয় হতে পারেনা। বরং এক্ষেত্রে পারিপার্শিকতা সাপেক্ষে যিনি অধিকতর সাফল্য দেখিয়েছেন তাকে অথবা কোন পদোন্নতি পরীক্ষার মাধ্যমে যিনি ভাল করবেন তাকে নিয়োগ দেয়া শ্রেয়তর।

আমরা এখানে কোন বিশেষ নিয়োগ (যেমন জিয়া-সফিউল্লাহ বিতর্ক, মইন উ আহমেদের নিয়োগ) নিয়ে কথা বলছি না। কথা বলছি পলিসি নিয়ে। আমাদের দেশে রাজনৈতিক পক্ষপাত দুষ্টতা অনেক ভাল পলিসিকে মন্দ বানিয়ে ফেলে।

শেষ করব শিক্ষাক্ষেত্রে বয়োজৈষ্ঠতার দু-একটা বাজে উদাহরণ দিয়ে। জানতে পারলাম, গণহারে মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকে এ প্লাস পাওয়ায় আজকাল জন্ম তারিখ দিয়ে ভাল ভাল প্রতিষ্ঠানে ভর্তি নির্ধারিত হচ্ছে। মেধার মান আরও সুক্ষ্ণতর ভাবে নির্ণয় না করে জন্মতারিখের এই ব্যবহার আমাদেরকে টেনে নামাবে নিশ্চিত। একই অবস্থা শিক্ষক দের ক্ষেত্রেও। শিক্ষক বা গবেষক হিসাবে সাফল্য ব্যতিরেকে আমাদের দেশে শুধু চাকরীর বয়স দিয়ে অধ্যাপক হওয়া যায়।

বয়োজৈষ্ঠ্যতা কে যোগ্যতা হিসাবে দেখার এই অপসংস্কৃতিগুলো থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29247860 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29247860 2010-10-01 02:35:12
বাংলাদেশের সহস্রাধিক স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব : ব্যবসার প্রসার না সত্যিই প্রযুক্তির প্রসার! বাংলাদেশের সহস্রাধিক স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব

অামাদের প্রযুক্তিবিদরা দেশের উন্নয়নের জন্য পরামর্শ দেন না ব্যবসার জন্য! ভাবছি। কারো কোন বিশ্লেষন থাকলে জানাতে পারেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29192741 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29192741 2010-07-05 06:05:21
স্মার্ট তথ্য প্রযুক্তিবিদ হওয়ার অব্যর্থ উপায়।
২। প্রযুক্তি বিষয়ে লোকে কত কিছু জানে। আমরা কেউ কিছু তেমন জানিনা। তো এক স্যার বললেন, তোমরা নিয়মিত কম্পিউটার বিচিত্রা, পিসিওয়ার্লড ইত্যাদি পড়বে। এগুলো পড়লে প্রযুক্তির বাজারে কখন কি হচ্ছে সে বিষয়ে তোমাদের সাধারণ জ্ঞান বেড়ে যাবে। লোকের সামনে যখন এসববিষয়ে কথা বলবে তারা মনে করবে তুমি খুব স্মার্ট।

বিঃদ্রঃ এই লেখাটি নিছক ব্যক্তিগত সত্যঘটনাবলী/অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ। এগুলোকে কোন ভাবেই সার্বজনীন হিসাবে ধরা যাবে না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29171459 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29171459 2010-06-06 14:07:49
প্রযুক্তির মুক্তি বনাম বিকেন্দ্রিকৃত বিজ্ঞাপন
স্বাধীনতার আন্দোলনে একজন রাজনৈতিক নেতা পুরো জাতির সমার্থক হয়ে উঠতে পারেন। তাই বলে কোন ব্যবসায়িক পণ্য তা যত সেবাধর্মীই হোক না কেন তা কি প্রযুক্তির মুক্তিকে বা ভাষার মুক্তি বা চিন্তার মুক্তি বা বাক স্বাধীনতার মুক্তি বা তথ্যের অবাধ প্রবাহকে ধারণ করে একক প্রতিনিধি হয়ে উঠতে পারে? আমি জানিনা এটি আমাদের বুঝার অক্ষমতা নাকি প্রকাশের অক্ষমতা। আমরা ঈশ্বরকে স্মরণ করতে গিয়ে মুর্তি বানাই, তারপর মুর্তিকে ঈশ্বর ভাবি। ঈশ্বর কেন্দ্রিক সব কথাবার্তা তখন মূর্তি কেন্দ্রিক হয়ে যায়। মূর্তি পূজারীরা মাতম শুরু করেন, ভোগ লাভের উদ্দেশ্যে থাকে কি, বলা মুশকিল? যা হোক আসল ঈশ্বর আড়ালে চলে যায়।

আমাদের আবেগ আন্দোলন প্রযুক্তি কুক্ষিগতকরন বা প্রযুক্তির মুক্তির দিকে যায় নি, যাচ্ছে বা গিয়েছে বিশেষ কাউকে উদ্ধার করতে। অথচ আমরা আন্দোলনকে সঠিক দিকে নিতে পারলে আগত অনাগত সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে উদ্ধার করতে পারি। একটা সমস্যা সামনে এলে শুধু সেটাকে সমাধান করতে পারলেই মোহগ্রস্ত আমরা মহা খুশী, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সমস্যা একবারে সমাধান আমাদের চিন্তায়ও স্থান পায় না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29167259 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29167259 2010-06-01 06:24:54
“বাংলা” কী-বোর্ড লে-আউট — অপেশাদারদের জন্য ওপেন সোর্স ফ্রিওয়্যার কী-বোর্ড। আপনিও সক্রিয়ভাবে ডিজাইনে অংশ নিন।
পর্যবেক্ষন ২ -- অপেশাদার ব্যবহারকারীরা আসলে হাতের দশ আংগুল ব্যবহার করে না। তারা মোটামুটি এক আঙুল (ডান হাতের তর্জনী) অথবা দুই হাতের দুই অাংগুল (দুই হাতের তর্জনী) অথবা তিন আংগুল (ডানহাতের তর্জনী ও মধ্যমা এবং বাম হাতের তর্জনী) অথবা চার আংগুল (উভয় হাতের তর্জনী ও মধ্যমা) ব্যবহার করে। অন্যান্য আংগুল অনেকে ব্যবহার করলেও সেগুলো মোটামুটি অনিয়মিত।

পর্যবেক্ষন ৩ -- অপেশাদার ব্যবহারকারীরা ডান হাতের অক্ষরের জন্য বাম হাতের শিফট বা বাম হাতের অক্ষরের জন্য ডান হাতের শিফট ব্যবহার করে না। তারা মুলত বাম হাতে শিফট চেপে ডান হাতে অক্ষর চাপে, অক্ষরটি যেখানেই হোক। অথবা ডানহাতের অক্ষরের জন্য ডানহাতের কনিষ্ঠ বা বৃদ্ধাংগুল ব্যবহার করে শিফট চেপে তর্জনী বা মধ্যমা দিয়ে অক্ষর চাপে।

পর্যবেক্ষন ৪ -- বিভিন্ন কন্ট্রোল কী (যেমন ব্যাক স্পেস, ডিলিট, ডানে বা বামের অ্যারো) চাপতে অপেশাদার ব্যবহারকারীদের মনোযোগ ও হাত সাধারন অবস্থান থেকে সরে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কন্ট্রোক কী এর প্রতি চলে যায়। এ গুলোকে অর্থাৎ মনোযোগ ও হাতকে পুর্বের অবস্থায় আনতে যথেষ্ট সময় ব্যয় হয়ে যায়। অনেকে কী-বোর্ড ছেড়ে দিয়ে মাউস ব্যবহার করে এই কাজ গুলো সম্পাদন করে থাকে। যেটি আরো সময় নষ্ট করে ফেলে।

অনুসিদ্ধান্ত ১ -- অপেশাদার ব্যবহারকারীদের জন্য একই কী একাধিক বার চাপা সহজ। কারন একবার কী বের করে ফেললে এটা পরের বার চাপা আসলেই সহজ। আর একটা কী কিছুক্ষন চেপে ধরে রাখলে এটা একাধিক বার আসতে থাকে। শিফট চেপে সাথে একটা কী চাপার থেকে তাই একই কী একাধিক বার চাপা সহজ। কাজেই সহজ হওয়ার ক্রমানুসারে একটা কী চাপা, একটা কী দুইবার চাপা, একটা কী শিফট সহ চাপা, একটা কী শিফট সহ দুইবার চাপা/বা পরের বার শিফট না চাপা -- এই ভাবে ধরতে হবে। একই কী তে একাধিক স্বরবর্নের জন্য হ্রস্ব থেকে দীর্ঘ ও আকার থেকে পূর্ণ মাত্রা জন্য এটি প্রযোজ্য।

অনুসিদ্ধান্ত ২ -- ব্যঞ্জন বর্ণের জন্য জোড়ায় জোড়ায় বর্ণ এবং হ যুক্ত গুরু বর্ণসমুহের (যেমন খ, ঝ) জন্য শিফট ও এইচ যুক্ত করতে হবে। তবে এ গুলো মনে রাখা মাঝে মাঝে কঠিন হওয়ায় লোকে সাধারণত বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে দেখে। তাতে মুছা ও আবার টাইপিং দরকার হয়। কাজেই মোবাইলের কী-প্যাডের স্টাইলে এইচ কী চেপে যেতে থাকলে একটা নির্দিষ্ট ক্রমে এগুলো যদি আসতে থাকে তাহলে মুছার সমস্যা দুর হবে। আর মুছার জন্য ব্যাকস্পেস বা ডিলিট অনেক দুরে হওয়ায় হাতের কাছে একটা ব্যাকস্পেস ও ডিলিট দরকার দরকার। কাজেই কিউ কী -- এসক্যাপের একই দিকে হাতের নাগালে হওয়ায় ও সাধারণত তেমন ব্যবহার না হওয়ার এই কাজে লাগানো দরকার। এতে হাতের নড়াচড়া সামগ্রিক ভাবে কমে যাবে। যা হোক এইচ কী একেবারে ডানহাতের তর্জনীর নাগালে থাকায় উপরে উল্লেখিত ধরনের রূপান্তরের জন্য সবচেয়ে কম কষ্ট সাধ্য হবে।

অনুসিদ্ধান্ত ৩ -- যুক্ত বর্ণ মোটামুটি দেখা যাচ্ছে প্রায় ১৭-১৮% শব্দেই থাকে। এখানে মোট অক্ষরের কত % এ যুক্তাক্ষরের জন্য যে হসন্ত দরকার তা আমরা এখনও জানিনা -- উপাত্ত সংগ্রহ করা দরকার। কাজেই যুক্ত বর্ণের জন্য হসন্তটি একটা সহজ পজিশনে থাকা দরকার। সবচেয়ে সহজ পজিশন হল জে। তবে এ জন্য জ ও ঝ জন্য চিন্তা করা দরকার। আসলে ছোট হাতের জে উচ্চারন অনুযায়ী জ না বুঝিয়ে য কে বুঝানোর কথা। কিন্তু আমরা উল্টো ব্যবহার করি।

অনুসিদ্ধান্ত ৪ -- এক্স একটি অতিরিক্ত মডিফায়ার হিসাবে ব্যবহৃত হবে। এটার বহুমুখি ব্যবহার করা যেতে পারে। নুকতা যোগ করার জন্য, ত থেকে ৎ হওয়ার জন্য, র ও পরে য ফলা নাকি রেফ ও য -- এটা নিয়ে সমস্যা দুর করতে সর্ব পরি একই অক্ষরের দুটি যুক্তাক্ষরের সর্টকার্ট হিসাবে যেমন ক্ক। তবে বড় হাতর এক্স হবে বাংলা থেকে ইংলিশে যাওয়া আসার জন্য। আর বড় হাতের এক্সের ও তার পরে ছোট হাতের এক্স হবে বাংলায় যাওয়ার জন্য -- উল্লেখ্য ইংলিশে Xx এই রকম শব্দ আছে বলে জানা নেই।

অনুসিদ্ধান্ত ৫ -- টাইপিং এ ভুল হওয়া স্বাভাবিক। আর তাই প্রায়ই আমাদের ডানে বামে কার্সর নিয়ে যেতে হয়। কাজেই লিনাক্সের এডিটর গুলোর স্টাইলে আমাদের বাম ও ডানের এরো কী দরকার। অব্যবহৃত বড় হাতের এফ ও বড় হাতের এল এই কাজে সহজেই ব্যবহার করা যায়।

এবার দেখি প্রস্তাবিত "বাংলা" কী বোর্ড লে-আউটের প্রথম ইনটুইটিভ ভার্সনের বিস্তারিত। কন্ট্রোল কী গুলো বাস্তবায়নে কোন সমস্যা আছে কিনা, মানে যদি কেউ কোন এডিটর ব্যবহার করে তার সাথে সমস্যা করবে কিনা এটা আরো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখতে হবে। এ ছাড়া কোন অ্যামবিগুয়াস সিকোয়েন্স আছে কিনা এটাও আর সতর্কতার সাথে পরীক্ষা করে দেখা দরকার। আর তা ছাড়া ডাটা সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। এগুলো ডাটা সাপেক্ষে যে কোন মাত্রায় পরিমার্জিত হতে পারে।

প্রথম কলামে স্টার্টিং কী গুলো, পরের কলামগুলোতে বাংলা প্রতীক প্রথমে ও তার পরে নির্ধারিত কী সিকোয়েন্সগুলো।

a/A া a আ A অ Aa
b/B ব b ভ B bh র bx
b/C ছ c চ C ch

d/D দ d ধ dh ড D ঢ Dh ড় dx ঢ় Dx

e/E ে e ৈ ee ei এ E ঐ Ee Ei
f/F ফ f রাইটএ্যারো F
g/G গ g ঘ G gh
h/H পরবর্তি চিহ্ন h হ H
i/I ি i ী ii ই I ঈ Ii
j/J যুক্তবর্ণ j জ J ঝ Jh
k/K ক k খ K kh
l/L ল l রাইটএ্যারো L
m/M ম m ং M ঙ mh
n/N ন n ণ N nh

o/O ো o ৌ oo ou ও O ঔ Oo Ou ৈ oi ঐ Oi

p/P প p ফ P ph
q/Q ব্যাকস্পেস q ডিলিট Q

r/R র r ড় rh ঢ় R র (রেফ এড়াতে) rx

s/S স s শ sh ছ S ষ Sh sx

t/T ত t থ th ট T ঠ Th ৎ tx

u/U ু u ূ uu উ U ঊ Uu
v/V ভ v ঃ V দাঁড়ি Vv
w/W ৃ w ঋ W হোম ww এন্ড Ww
x/X মডিফায়ার x টু-ইংলিশ X টু-বাংলা Xx
y/Y য় y ঁ yh ঞ Y
z/Z য z জ zh Z ঝ Zh য় zx

আপনার কোন মন্তব্য ও বিশ্লেষন থাকলে যোগ করুন। কনভিন্সিং আরগুমেন্ট ও ফলশ্রুতিতে পরিবর্তন আসলে আপনার নামও লে-আউটের ডিজাইনার হিসাবে যুক্ত করে দিব। আগেই বলা হয়েছে এটা হবে সবার অংশ গ্রহনে সবার জন্য উন্মুক্ত ওপেন সোর্স বিনা পয়সার লে-আউট। তবে এটা শুধু অপেশাদার ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে করা হচ্ছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29160472 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29160472 2010-05-22 18:18:00
ওপেন সোর্স ফ্রিওয়্যার বাংলা টেকনোলজিঃ "বাংলা" ও "বাংলাদেশ" কী-বোর্ড -- ছোট একটা জাভা স্ক্রিপ্ট প্রোগ্রাম দরকার।
যা হোক কাজের কথায় আসি। আমি সিরিয়াসলি কাজ শুরু করলাম। আশা করছি অনেকের সাহায্য পাব। ইতিমধ্যে অনেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। লেভেল১-টার্ম-২ তে থাকার সময় ১৯৯৪-৯৫ সালে টার্ম প্রজেক্ট হিসাবে একটা বাংলা টেক্সট এডিটর বানিয়েছিলাম ডস-এ টারবো সি তে, নাম ছিল অক্ষর। এটি অবশ্য ২০০৪ এ আসা আমরা যে অক্ষরের নাম জানি তা থেকে ভিন্ন। ঐ প্রোগ্রামটি যদিও নেই তবে সেখানে লে-আউট, ফন্ট, এডিটর সব কিছুই বানিয়েছিলাম। চেষ্টা করছি সেই সব কিছু স্মরনে আনতে। সাথে বর্তমান সময়ে পাওয়া অভিজ্ঞতা।

আপাতত মুল মনোযোগ হচ্ছে কী-বোর্ড লে-আউট ডিজাইন। যেখানে অনেক বিশ্লেষন ও গবেষনা দরকার। সফটওয়্যার বানানোর কাজ অবশ্য আমরা একই সাথে শুরু করতে পারি। কী-বোর্ড ম্যাপিং টা যাতে একটা ফাইলে এক্সএমএল বা ঐরকম কিছুতে দেয়া যায়। আর একটা প্রোগ্রাম যেটা ম্যাপিং পড়ে সে অনুযায়ী একটা টেক্সট বক্সে টাইপিং সাপোর্ট দিবে।
আমি জাভায় নিয়মিত নই, জানিও মাঝারি মানের। জাভা স্ক্রিপটও সেরকমই। জাভাই উন্নতি করতে অল্প কিছু সময় লাগবে। কাজেই এটি বানাতে আমার একদিন পর্যন্ত লেগে যেতে পারে (মুলত সঠিক ক্লাস ফাংশন এগুলো খুঁজতে)। কিন্তু আপনি যদি জাভা জেনে থাকেন আপনার দরকার হবে মাত্র ১-২ ঘন্টা। আপাতত প্রোগ্রাম শুধু কাজ করলেই হবে। এরকম প্রোগ্রাম অবশ্য সার্চ করলেও পাওয়া যাবে। যাহোক কেউ এ রকম একটা সহজ প্রোগ্রাম লিখে বা যোগাড় করে পাঠালে ধন্য হই। তাতে লে-আউট বিশ্লেষন বিষয়ক কাজে অধিকতর মনোযোগ দেয়া সম্ভব হবে। প্রোগ্রামের সাথে আপনার নাম ও ইমেইল এড্ড্রেস যোগ করে দিন। আপনার নামটি আমাদের সফটওয়্যারে সবসময় থেকে যাবে। আমি উইকএন্ডে একটা ইমেইল গ্রুপ খুলব। ব্লগ আপডেটও থাকবে। গবেষনা সহ সবকিছু হবে উন্মুক্ত। একের পর এক কি কি কাজ করা দরকার এগুলো লিস্ট করার চেস্টা করব। প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার। সকল প্লাটফরম (অপারেটিং সিস্টেম ও বিভিন্ন রকম হার্ডওয়্যার যেমন মোবাইল সহ) ও সবার জানা এই রকম চিন্তা করে জাভা ও জাভা স্ক্রিপ্ট বিবেচনা করা যেতে বলে মনে হচ্ছে।

আমার ইমেইল এড্ড্রেসঃ mahnewton@ইয়াহু ডট কম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29159448 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29159448 2010-05-21 10:48:36
ফ্রী অব কস্ট এবং ওপেন সোর্স বাংলা প্রযুক্তির জন্য একসাথে কাজ করার আহবান!! আমি মোটামুটি আসাদুজ্জামানের প্রস্তাব থেকেই বলছি। যা হোক এ দুটো লে-আউট হবে সবার জন্য উন্মুক্ত। এই লে-আউট গুলো ফলপ্রসুভাবে পাবার জন্য আমাদের একটা টাইপিং সফটওয়্যারও দরকার আছে যেটা হবে বিনা পয়সার ও ওপেন সোর্স। আগ্রহী যে কেউ যাতে এটাকে উন্নত করতে পারে। আর এই সফটওয়্যারের ওয়েব ভিত্তিক ও নন-ওয়েব ভিত্তিক অংশ থাকবে। প্রথমে একটা ভিত্তিতে দাঁড় করাতে পারলে আমরা এটাকে পরিবর্ধিত করতে পারব।

আমি এ সব বিষয়ে সিরিয়াসলি কাজ করার কথা ভাবছি। এই রকম একটি সমন্বিত বিষয়ে কাজ করার জন্য আগ্রহী লোকজন খোলা মন নিয়ে এগিয়ে আসুন। গবেষণা বা টেকনিক্যাল বিষয়, প্রোগ্রামিং, টেস্টিং ইত্যাদি সকল বিষয়ে লোক দরকার হবে। বিএসসি কম্পিউটার সাইন্সের ছাত্রছাত্রীরা প্রোজেক্টের অধীনে কাজ করতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে আনুষ্ঠানিক গ্রেড প্রাপ্তি বিষয়ে আমরা (বা এমনকি আমি ব্যক্তিগত ভাবেও কথা বলতে পারি) ব্যবস্থা করতে পারি। যারা ইতিমধ্যে এ সব বিষয়ে কাজ করেছেন তারা বিনাপয়সার ও ওপেন সোর্স ধারণায় বিশ্বাসী হলে (যেমন সিউলের রোকেয়া কী-বোর্ড, মনিরুজ্জামানের কাজ) তাদের কাজকে আমরা অামাদের প্রজেক্টে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করতে পারি। এ রকম প্রজেক্ট ইতিমধ্যে কেউ গ্রহন করে থাকলে আমরা তাতেও যুক্ত হতে পারি।

আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ও পেশাগত ব্যস্ততা রয়েছে। কাজেই কোন একজনের পক্ষে এরকম উদ্যেগ চালিয়ে যাওয়া কঠিন। আমরা সবাই এগিয়ে এলে এটি কে চালিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলি আমি আশাবাদী। আর ব্যক্তিগত ভাবে যে কোন পর্যায়ে আমার কমিটমেন্টের পূর্ণ নিশ্চয়তা থাকবে। চলুন হাতে হাত ধরে এগিয়ে যাওয়া শুরু করি। বিশেষ করে যারা সক্রিয় অংশগ্রহন করতে চান এগিয়ে আসুন।

কেউ ব্যক্তিগত ভাবে কথা বলতে চাইলে আমাকে ইমেইল বা চ্যাট করতে পারেন। mahnewton@ইয়াহু ডট কম অথবা ফেসবুকে কথা বলতে পারেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29158642 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29158642 2010-05-20 08:06:30
"ভালবাসি" থেকে "ভাল্বাসি" -- বানান বিকৃতিতে টাইপিং সফটওয়্যারের ভুমিকা।
কিছু কাল আগেও কোথায় যেন একটা লেখা দেখেছিলাম, সম্ভবত ব্লগেই হবে, "আমার ভাষা আমি লিখব যেভাবে ইচ্ছা সে ভাবে লিখব" এই রকম একটা ধারণা নিয়ে। ইচ্ছামত লেখা বা বানান তৈরী করার স্বাধীনতা আমাদের অাছে বৈকি। সে নিয়ে জোরালো দ্বিমত নেই। ভাষার বৈচিত্র্য, নতুন শব্দের উদ্ভব ইত্যাদি এরকম বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্যে দিয়েই ঘটে। কিন্তু এসব পরীক্ষা নিরীক্ষার কতটুকু স্বতঃস্ফুর্ত, কতটা বাধ্য হয়ে করা, আর কতটা প্রলুব্ধ হয়ে করা এ সবের মধ্যে একটা স্থুল বিভাজন বোধ হয় করা যেতে পারে। অন্তত যারা ভাষার একটি প্রমিত রূপ বজায় থাকুক বলে মনে করেন তাদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা সঠিক প্রযুক্তির অভাবে একসময় রোমান অক্ষরে বাংলা শব্দ লিখতে শুরু করেছিলাম। উর্দু অক্ষরে বাংলা লেখার একই ধরনের একটি প্রচেষ্টা তৎকালীন পাকিস্তানী সরকার গ্রহন করে যা আমাদের ভাষা প্রেমের কাছে সম্পূর্ণ উড়ে যায়। যদিও একই ধরণের রোমান অক্ষরে লেখার প্রচেষ্টা মালয়েশিয়াতে সফল হয়েছে। যা হোক রোমান অক্ষরে বাংলা লিখার বিষয়টি আমরা সম্ভবত কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা হিসাবে ধরে নেই না। আমরা এটি প্রযুক্তির অভাবে নিতান্ত বাধ্য হয়ে মেনে নেয়া একটা বিকৃতি হিসাবেই ধরে নেই।

তবে এখনও অনেকে বাংলা লেখার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও হয়ত রোমান হরফে বাংলা লিখে থাকেন। সে ক্ষেত্রে আলস্য ও দ্রুত টাইপ করার ইচ্ছা একটা নিয়ামক ভুমিকা পালন করে থাকে। আমাদের ফোনেটিক টাইপিং এই বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েই শুধু রোমান অক্ষরের জায়গায় প্রতীকটি বদলে দিয়ে বাংলা প্রতীক বসিয়ে দিচ্ছে। বর্তমান অবস্থায় বাংলার ভাষার নিজস্ব টাইপিংয়ে অভ্যস্ত হওয়া একটু জটিল আর সে রকম অক্ষর যুক্ত কী-বোর্ড পাওয়া মুশকিল হওয়ায় আমরা বলতে গেলে প্রযুক্তির অভাবেই ইংলিশ কী-বোর্ডে বাংলা লেখার এই খানিকটা বিকৃত কৌশল ব্যবহার করছি।

এ বার আসি বানান বিকৃতি প্রসংগে। আপনি বিকৃতি বলবেন না পরীক্ষা নিরীক্ষা বলবেন সেটা অবশ্য নির্ভর করছে আপনি একটা প্রমিত ভাষা বজায় রাখায় কতটা উৎসাহী তার উপরে। শুদ্ধ বানান লেখার সবটুকু দায়িত্ব একজন লেখকের এটা মেনে নিয়েও আমরা এখানে টাইপিং সফটওয়্যারগুলোর দায় দায়িত্ব কিছুটা নিরূপন করতে পারি। ধরুন আপনি হালকা চালে একটা লিখা লিখছেন। আপনার টাইপিং সফটওয়্যার বিভিন্ন সময়ে অনাকাঙ্খিত ভাবে পাশাপাশি দুটো অক্ষর জোড়া দিয়ে অদ্ভুত অদ্ভুত সব শব্দ তৈরী করছে। আপনিও মজা পেতে শুরু করেছেন। বাহ "আমরা" থেকে "আম্রা"। "ভালবাসি" থেকে "ভাল্বাসি"। এই যে বিকৃতি (নাকি সৃষ্টিশীলতা!) এটা কিন্তু আপনি আপনার সৃষ্টিশীলতা বা স্বাভাবিক জীবনাচরন দিয়ে তৈরী করেন নি। এটি আপনাকে তৈরীতে প্রলুব্ধ করছে আপনার টাইপিং সফটওয়্যার। আপনি যদি অন্য একটি টাইপিং সফটওয়্যার ব্যবহার করেন যেটি এরূপ করে না, তখন আপনি আর ঐরকম বিকৃতির সামনেও পড়বেন না আর ঐসব অদ্ভুত শব্দও প্রকাশ করবেন না। ভাষার প্রযুক্তি উন্মুক্ত হওয়ার সাথে সাথে এই যে ভাষা বিকৃতির বিষয়টি অবারিত হচ্ছে সে বিষয়ে আমাদের যত্নবান হওয়া দরকার।

লেখাটি উপসংহারধর্মী নয় বরং পর্যবেক্ষনধর্মী। কাজেই এ বিষয়ে উন্মুক্ত আলোচনা ও মন্তব্য সাদরে গৃহিত হবে। তবে এখানে আমরা কোন বিশেষ টাইপিং সফটওয়্যার নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমরা কথা বলতে চাই আমাদের টাইপিং সফটওয়্যার গুলোর বৈশিষ্ট্য কেমন হওয়া উচিৎ সেটা নিয়ে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29149324 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29149324 2010-05-05 21:03:17
বিতর্কিত বিষয়গুলিতে নীতিনিষ্ঠা ও আইননিষ্ঠা।
আমি মুক্ত কোড ও বিনা মুল্যের সফটওয়্যারে উৎসাহী। যদিও পেশাজীবি হিসাবে কোডার যারা তাদের পেট কিভাবে চলবে সেটা নিয়ে আমি ভাবিত তবুও আমি বিনা পয়সায় মুক্ত সফটওয়্যার পেতেই আগ্রহী। আমি নিজে ব্যবহার করি বিনা পয়সার মুক্ত সফটওয়্যার -- লিনাক্স সহ অন্যসব, উৎসাহিত করি আমার ছাত্রদের। আমার এই সব বিচারে আমি বিজয়কে পছন্দ করি না। পছন্দ করি না অভ্রকে, পছন্দ করিনা শাব্দিককেও। এই সবের নির্মানকারীরা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। তারা তাদের কিছু কিছু পন্য সাময়িক বা চিরস্থায়ী ভাবে বিনা পয়সায় দিলেও তাদের ব্যবসার "চুড়ান্ত হিসাবে" ব্যবসায়িক "সুনাম" শিরোনামে একটা বড় টাকার অংক লিখবে। এইটা স্পর্শনীয় সম্পদ না হলেও একটা স্বীকৃত অস্পর্শনীয় সম্পদ। আমি বুঝতে পারি আজকাল লোকজন বিনা পয়সায় সহজে পাওয়া যায় এমন সফটওয়্যার ব্যবহারে আগ্রহী হয়েছে, যদিও অবৈধভাবে উইন্ডোজ বা ইত্যাদি সফটওয়্যার ব্যবহার এখনও চলছে।

শিক্ষক বা গবেষক হিসাবে আমি কখনও একটা সামান্য পরিবর্তনের কোন কিছু আইনগতভাবে আলাদা বলে গৃহীত হলেও সেটাকে উৎসাহিত করতে পারি না। এমন কোন কিছু আমার ক্লাশে কেউ নম্বর পাওয়ার জন্য জমা দিলে আমি তাকে নাম্বার দিব না। আমার কাছে এমন কোন গবেষনা প্রবন্ধ জমা হলে আমি রিভিউ করতে গিয়ে তাকে গ্রহন করব না। পরিশেষে আমাকে কোথাও কারিগরী মতামতের জন্য ডাকা হলেও আমি তাকে গ্রহন করব না। এইটি আমার নীতিবোধ। আমাকে বুঝতে হবে যে পরিবর্তন গুলো করা হয়েছে সেগুলোর পিছনে সুনির্দিষ্ট কারিগরী কারণ রয়েছে আর এর ফলে সত্যিকার অর্থে কোন কারিগরী সুবিধা পাওয়া গেছে। কারিগরী বিষয়ের বিতর্ক জনমত দিয়ে যাচাই হয় না। জনমত দিয়ে নির্ধারিত হয় রাজনৈতিক সত্যতা। আইনগত বিষয়ও জনমত দিয়ে নির্ধারিত হয় না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29146045 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29146045 2010-05-01 09:51:09
বাংলা ভাষার প্রযুক্তিঃ ইননোভেশন কে হ্যাঁ বলুন, নকল কে না বলুন। ওহে কম্পিউটার কৌশলের ছাত্র জেনে দেখুন আপনি এখন কাকে...
বাংলা কম্পিউটিং এর পুনর্জন্ম এবং এর খল নায়কেরা

আমি একটু চিন্তিত হয়েছিলাম বাংলা ভাষার প্রযুক্তিতে আমাদের কম্পিউটার কৌশলের ছেলেদের অবদান সামনে আসছে না কেন। আজ ভাল লাগছে পাপানা বলুন, ফয়জুর বলুন, বা জিয়া বলুন -- বাংলা ভাষার প্রযুক্তির উন্নয়নের পিছনের কাজে এদের অবদান অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তবে কিছুটা অন্যরকমও লাগছে যে প্রচার যন্ত্রগুলো সবসময় তবু এই সব পিছনের কারিগরদের কাছে পর্যন্ত যাচ্ছে না।

আরেকটি বিষয় না বলে পারছি না আমাদের কম্পিউটার কৌশলের বেশ কিছু লোকজন ধরে বসে আছে যে বাংলা কম্পিউটিং এর সবচেয়ে ভাল জিনিসটি চলে এসেছে। নতুন করে আর কিছু করবার নাই, শুধু ইতিউতি অল্প স্বল্প পরিবর্তন দরকার। এই দৃষ্টিভঙ্গীতে আমার মন যথেষ্ট খারাপ। আমরা তাদের শিখানোর চেষ্টা করেছিলাম কি করে লীড করতে হবে। আজ দেখছি তারা ফলোয়ার হয়ে বসে আছে। ইয়াহু এর মধ্য গগনে গুগল এসে কি তোলপাড় করে দেয় নি। ওহে কম্পিউটার কৌশলের মেধাবী ছেলেরা তোমাদের ভিতরটাকে জাগ্রত কর। নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাও বাংলা ভাষার প্রযুক্তিকে।

ইননোভেশন কে হ্যাঁ বলুন, নকল কে না বলুন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29141498 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29141498 2010-04-25 00:13:34
বাংলা কম্পিউটিং এর পুনর্জন্ম এবং এর খল নায়কেরা। কিছু বিষয়ে জবাব সংযুক্ত।
লিখেছেন জিয়াউর রহমান (শাব্দিকের একজন উদ্ভাবক)

মুল লেখা ফেস বুকেও পড়তে পারেন

রবীন্দ্রনাথ অনেক আগেই একটা কথা বলে গিয়েছিলেন “সহজ কথা যায় না বলা সহজে” । আজকে আমরা যত উদ্ভাবনই দেখি তা এক পর্যায়ে আমাদের কাছে মনে হবে নিতান্তই বালখিল্য ব্যাপার যদিও শুরুর দিকে কোন সামান্য ব্যাপারই খুব সামান্য থাকে না ।আমাদের বাংলায় প্রচলিত ভাবে একটা গল্প আমরা সবাই জানি - জুতা আবিষ্কারের গল্প - এটি আমাদের নিতান্তই হাসির খোরাক জুটালেও একটা বাস্তবতাও ফুটিয়ে তুলে । পা ঢাকতে হবে চামড়া দিয়ে, এই সহজ বিষয় নিয়ে কত তুলকালাম । এই উদাহরণটি যদি অনেকের কাছে মনে হয় বাস্তবতাবর্জিত তাহলে আসুন কিছু আধুনিক উদাহরণ দিই । বিদ্যুৎ আবিষ্কারের পরপর কোন পদ্ধতিতে তা সঞ্চালন করা হবে DC না AC তা নিয়ে তুলকালাম হয় । বিজ্ঞানী এডিসনও ছিলেন DC পদ্ধতিতে সঞ্চালনের পক্ষে । কিন্তু প্রয়োগিক বিবেচনায় অবশেষে ACই বিবেচিত হয় । এক্ষেত্রে অবশ্যই আমরা এডিসনের উপর ক্ষিপ্ত হতে পারি এই সহজ ব্যাপারটার বিরোধিতা করার দরুণ তাইনা? উনি বাংগালী হলে হয়ত আজকে ওনার বাসায় আমরা ককটেল ছুড়ে আসতাম ।<img src=" style="border:0;" />

একটা আবিষ্কার বা উদ্ভাবন হঠাৎ করে আসেনা বা হঠাৎ করেই মিলিয়েও যায়না । যে উদ্ভাবক তারই মাথায় থাকে আরো কোন কোন ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হতে পারে । যারা প্রকৃত উদ্ভাবক নন তারা শুধুই কপি করেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের স্বাতন্ত্র্য জাহির করার জন্য হয়ত প্রকৃত উদ্ভাবনের একটা অপভ্রংশ তৈরি করেন যা কিনা উদ্ভাবনের মূল সৌন্দর্য কেই ব্যাহত করে ।

বাংলা ফোনেটিক লে আউট প্রথম জনপ্রিয় করার প্রয়াস নেয় “অক্ষর” বাংলা সফটওয়্যার । উল্লেখ্য অক্ষর ২০০৪ সালে বুয়েটের সিএসই ডে তে অংশগ্রহন করে বিশেষ পুরস্কার পায় । তবে ফোনেটিকের যে মূল সমস্যা তা থেকে সহজ সমাধান অক্ষর দিতে পারেনি । ফোনেটিক নিয়ে মূল সমস্যা হচেছ একই শব্দের অনেকগুলো ফোনেটিক রূপ থাকতে পারে তাই এটি কখনই একটি টাচ টাইপ লে আউটের বিকল্প হতে পারে না । এই প্রতিপাদ্যের যথার্থতা নিষ্প্রমাণ করতে অক্ষর ব্যর্থ হয় । প্রকৃতপক্ষে অক্ষর-সফটওয়্যার-এ কোনও সাজেশনই দেখানোর সুবিধা ছিল না । তাই বাংলা ফোনেটিক এর জগতে অক্ষর প্রথমে এসেও প্রয়োগিকভাবে খুব সফল হতে পারে নি ।

মুনিরুল আবেদিন (বিজয় এর কোন একটি সংস্করনের ডেভেলপার, ও বর্তমানে মাইক্রোসফটে কর্মরত) Information Engineers and Consultants Bangladesh (iecb) তে কাজ করার সময়ই (২০০১ - ২০০২) আমাদের জন্য একটি ফোনেটিক সমাধান তৈরি করে । সেখানে সাজেশন দেখানোর ব্যাপারটি ছিল । কিন্তু ওটা ছিল অক্ষর ভিত্তিক । এক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে এক অক্ষরের সাথে আরেক অক্ষর যুক্ত হবে না আলাদা হবে সেটা নিশ্চিত হওয়া যায় না । অভ্রতে এখনো এই সমস্যা আছে । কাজেই সবসময় সঠিক সাজেশন পাওয়া সম্ভব না । এরপর অনেকদিন iecb আর বাংলা নিয়ে কাজ করেনি । এর একটি কারণ অবশ্যই এর অর্থনৈতিক যথার্থতা । আমাদের বাংলা নিয়ে কাজ করার প্রতিজ্ঞা থাকলেও প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকে থাকাটাই প্রথমতঃ দেখতে হয় । এরপর ২০০৫ সালে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)জাতীয় বাংলা ডেভলপ করার উদ্যোগ নেয় এবং iecb কাজটি করার জন্য মনোনীত হয় । iecb এর তখনকার CTO ফয়জুর রহমান (যিনি বর্তমানে UCDavis এ PhD অধ্যয়নরত - বুয়েট৯৭সিএসই) তার নিজের আগ্রহে বিসিসির বাংলা তো করে দেয়ই আরও গবেষণা করে ইনটেলিজেন্ট শব্দ ভিত্তিক সাজেশনসহ শাব্দিক তৈরি করে । তার নিরলস গবেষণা এবং ট্রায়াল এন্ড এরর পদ্ধতিতে প্রতিপন্ন করেন যে disambiguous ফোনেটিক ইনপুট মেথড সম্ভব যদি যথাযথ সাজেশন প্রদর্শন করা যায় । এভাবেই জন্ম হল শাব্দিক বাংলা সফটওয়্যার এর । এটি সফট এক্সপো ২০০৫ এ প্রদর্শিত হয় এবং বিপুল সাড়া পায় ।

সামহোয়্যার এর আরিল্ড এটা দেখেই ব্লগ/ওয়েব ভার্সন এর ব্যাপারে আমাদের সাথে কথা বলেন । যদিও আরিল্ড আমাদের কাছ থেকেই ফোনেটিক বাংলার পপুলারিটি উপলব্ধি করেন দুঃখজনক হল তার ব্লগ এই শাব্দিক এর ফোনেটিক টি দেয়া হয়নি । আরিল্ড অবশ্য নীতিগতভাবে দিতে রাজি হয়েছিল আমার সাথে কথোপকথনে, সম্ভবতঃ এটি ডেভলপারদের অহমে ভাল লাগেনি । যেহেতু iecb একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং এর আয় থেকেই ব্যয় নির্বাহ করতে হবে তাই আমরা এটিকে ন্যূনতম মূল্যে মানুষকে দিতে থাকি । বর্তমানে এটি পুরোপুরি ফ্রি এবং আমরা ইনপুট মেথড হিসেবে শাব্দিক সবসময় ফ্রি রাখতেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ।

আবার আমরা মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি - ফয়জুর এর উদ্ভাবন এর পর আমরা আরও লক্ষ্য করি অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীরা ফোনেটিক এর একটি ধারায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে । যেমন যে ভ লিখতে bh লিখছে সে সবসময় সেটাই করছে v হয়ত খুব সামান্যই ব্যবহার করছে । এ প্রেক্ষিতে আমরা চিন্তা করি ফোনেটিক টাচ টাইপ কি সম্ভব কিনা এবং তাহলে সেটা অপটিমাম কিবোর্ড এর বিকল্প হতে পারে কিনা । এক্ষেত্রে আমরা একটু আশ্চর্য হয়েই লক্ষ্য করি যে ইংরেজি এবং বাংলা/সংস্কৃত আসলে একই শ্রেণীভুক্ত ভাষা (Indo-European) অর্থাৎ আপনি বলতে পারেন ইংরেজি আর বাংলা হচ্ছে মাসতুত ভাই । তাই আমাদের আরেকটি প্রতিপাদ্য দাঁড়ায় যে ইংরেজি লেটার ফ্রিকোয়েন্সি বাংলার সাথে ফোনেটিকালি মিল থাকবে । এর উপর ভিত্তি করে আমরা একটি ফোনেটিক টাচ টাইপ তৈরি করি যাতে যুক্ত বর্ণের জন্য আলাদা কি চাপার দরকার হয়না এবং যা কিনা এক লেয়ার বিশিষ্ট অর্থাৎ এতে A/a আসলে একই বর্ণকেই নির্দেশ করবে যেমন A/a আসলে ইংরেজি একটি হরফ - শিফট এর ব্যবহার শুধু এর যুক্ত ফর্ম অথবা স্বরবর্ণ এর জন্য মূল ফর্ম অথবা কিছু মূর্ধন্য বর্ণ মূল ফর্ম থেকে আলাদা করার জন্য ব্যবহৃত হয় । আমরা ইংরেজি ২৬টি হরফ ব্যবহার করেই তাই বাংলার ৪৯টি বর্ণ টাইপ করতে পারি । যেমন র চাপতে আপনি r চাপুন আর ড় চাপতে আপনি rr চাপুন ।

এখন এই খুব সাধারণ ব্যাপার গুলোর ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করুন । একদিনেই আজকের এই ফোনেটিক বাংলাতে কিন্তু আমরা আসতে পারিনি । এবং এখনও শাব্দিক এর যে আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে তা বলতে গেলে কোনও সফটওয়্যার এই নেই । অনেক এপ্লিকেশন এই কসমেটিক মেক আপ হয়ত আছে কিন্তু কোর ফিচার যদি দেখেন তাহলে শাব্দিক কেই এগিয়ে রাখতে হবে । যেমন - ইনটেলিজেন্ট সাজেশন - এটা অভ্র তে কেবল একটি সাজেশন থাকে এবং তাও একটি মেটা কোড ভিত্তিক - মানে আপনাকে আগে থেকেই মেটাটি সেট করে রাখতে হবে । লার্নিং - সাজেশন লিস্ট আপনার ব্যবহার অনুযায়ী অনুক্রমে সাজানো হবে । এক-লেয়ার কিবোর্ড এর কথা আগেই বলেছি - আরও আছে লে আউট চেঞ্জ না করেই ইংরেজি টাইপ করা - আপনি 0 চাপ দিলেই ইংরেজি টাইপ হবে আর শিফট কি ডাবল চাপ দিয়েও আপনি বাংলা থেকে ইংরেজি তে যেতে পারবেন, ইনটেলিজেন্ট মোড এই লেটার মোড এর টাইপ অপশন ইত্যাদি ।

অতঃপর এই আবিষ্কার গুলো দেখে বাংলা কম্পিউটিং এর মহিরথিরা একটু নড়েচড়ে বসেন এবং এত সহজ আবিষ্কার থেকে নিজেদের বঞ্চিত করতে খুবই কুণ্ঠিত হন । অথচ লক্ষ্য করুন এই সহজ সমাধানের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হল প্রায় দুই যুগের বেশি - ব্যাপারটি আসলে জুতো আবিষ্কারের মতই সহজ তাই নয় কি? আমাদের আজ খুব দুঃখ লাগে যখন দেখি জনপ্রিয়তার জোরে একেকজন পেশিপ্রদর্শণ করেন । বিজয় তার পাবলিশিং এর জনপ্রিয়তা এবং অভ্র তার অনলাইন জনপ্রিয়তা কে তাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের বাংলা কম্পিউটিং এর জনক হিসেবে প্রতিপন্ন করতে চাচ্ছে । মজার ব্যাপার হচেছ এই দু দলের কাছেই শাব্দিক একটি নিষিদ্ধ শব্দ । আপনি খুব কমই দেখবেন লোকেরা শাব্দিক এর নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করছে । অভ্র এর ফোরামে নতুন দুই একজন মাঝেসাঝে শাব্দিক এর প্রসঙ্গ টানলে তাকে বুঝিয়ে দেয়া হয় যে শাব্দিক এর নাম সেখানে নেয়া ঠিক না । আরো মজার আপনি অভ্র ফোরামে shabdik লিখে সার্চ দিতে পারবেন না । ওটি একটি নিষিদ্ধ শব্দ <img src=" style="border:0;" /> । এখন স্বাভাবিক ভাবেই জিজ্ঞেস করতে পারেন এতো নির্দোষ একটি শব্দ কি করে নিষিদ্ধ হল - কারণ অনুমান করা খুব কঠিন কিছু নয় । শাব্দিক প্রথম আসে ২০০৫ সালে এবং এর প্রথম ভার্সন এই যে সুবিধা দেয় তা আজও অভ্র দিতে পারেনি, অভ্র ফোনেটিক প্রথম আসে ২০০৬ সালে ফেব্রুয়ারিতে । অভ্র ২০০১ সালে প্রথম এলেও এটি খুব জনপ্রিয়তা পায়নি । এসময় পর্যন্ত অভ্র তাদের সাইটএ সবসময় ফোনেটিক এর বিপক্ষে বক্তব্য দিয়ে আসছিল । এর পরপরই শাব্দিক এর পপুলারিটি দেখে তারা ফোনেটিক করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং সাজেশন সহ শাব্দিক কে কপি করার চেষ্টা করে । এখনো অবশ্য তারা শাব্দিক এর সকল ফিচার কপি করতে পারেনি । আগ্রহী পাঠক চাইলে শাব্দিক ইন্সটল করে দেখতে পারেন এখান থেকে। তদুপরি তারা নিজেদেরকে শাব্দিক থেকে আলাদা করার জন্য এর ফোনেটিক এ তারা অহেতুক কিছু ওভারহেড যুক্ত করে । যেমন ওখানে ডিফল্ট যুক্তাক্ষর হয়ে যায় - তাই যখনই আলাদা ভাবে স্বতন্ত্র ব্যঞ্জনবর্ণ গুলো পাশাপাশি বসে সেপারাটোর হিসেবে o চাপা লাগে - এগুলো সবই পুরো লে আউট কেই যথেষ্ট কষ্ট সাধ্য করে তুলেছে । অভ্র ফোরামে গেলেও কিছু ইউজার এর কাছে এগুলোর দাবি দেখতে পাবেন। শাব্দিক এর উৎকৃষ্টতার পিছনে শুধুমাত্র পপুলারিটিই একমাত্র পরিমাপ না । এর পিছনের গবেষণা লব্ধ প্রকাশনা। [এখানে পাবেন
এখানে ৪ মিলিয়ন শব্দের করপাস উপাত্ত থেকে এটা প্রতিপন্ন হয়েছে যে ফোনেটিক লে আউট এর মধ্যে শাব্দিক এর প্রস্তাবিত লে আউট টি সর্বোৎকৃষ্ট (এখানে সাজেশন বাদ দিয়ে শুধু ফোনেটিক টাচ টাইপ গণ্য করা হয়েছে, সাজেশন আসলে শাব্দিক আরও যোজন এগিয়ে যাবে এটা সুনিশ্চিত) ।


তাই স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে যারা ফোনেটিককে একদমই অযৌক্তিক মনে করত তারা কেন ফোনেটিক এ আসল । তাহলে কি অভ্র সবসময় পপুলার আইডিয়া কপি করতেই অভ্যস্ত নাকি তারা নিজেরা কোনো আইডিয়া নতুন উপহার দিয়েছে ? না দিলে কেনই বা তারা এখন বাংলা কম্পিউটিং এর সর্বেসর্বা হিসেবে নিজেদের দেখতে চাচেছ ?

আসলে আমাদের দেশে কোনটি উদ্ভাবন আর কোনটি নকল এর মাঝে লাইন টানা খুব কঠিন । এজন্যেই আমাদের দেশ থেকে মেধাবীরা সবাই আমেরিকা পাড়ি জমায় যেখানে তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন হবে । দুঃখজনক হচেছ এই মূল্যায়নের পুরোটাই তারা পুষিয়ে নেয় বিশ্ব বাণিজ্যে তাদের আধিপত্যবাদি প্রভাবের মাধ্যমে । কাজেই আজকে যে বাংলাদেশে বসে বাংলাকে ফ্রি করার জন্য নিরলস কাজ করছে কাল হয়ত সেই মাইক্রোসফট এর কমল সম্ভারে একটি অবদান রাখতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করবে - যদিও এতে তার আজীবন অর্জিত জ্ঞান বুদ্ধি মাইক্রোসফট এর সম্পত্তি হয়ে যায় । iecb একটি স্বপ্ন থেকে শুরু - আমরা (Intellectual Property)IP তৈরি করব এবং বাংলাদেশে বসেই - এই আমাদের প্রতিজ্ঞা । এতে আমরা জানি যে সঠিক মূল্যায়ন হয়ত হবে না তবে বিশ্ব বেনিয়ার জন্য খুব বিশাল অবদান রাখার চেয়ে আমাদের দরিদ্র দেশের মেহনতি মানুষের - যাদের ঘাম ঝরানো পয়সায় আজ আমরা ইঞ্জিনিয়ার/ডাক্তার/পেশাদার তাদের জন্য খুব সামান্য করলেও নিজের জীবনকে সার্থক মনে করব ।

মেহেদি যে প্রতিবাদি আবেগে বিজয় থেকে বাংলাকে মুক্ত করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে অভ্র তৈরি করে তা আইনি ভাবে হয়ত যথাযথ নয় । বিজয় এবং ইউনিজয় আসলে তফাৎ খুব সামান্যই যেমন লাইফবয় এবং লাইফজয় খুব অল্প তফাৎ । এবং আইনি লড়াইয়ে আসলে ইউনিজয় বিজয় এর নকলই প্রতিপন্ন হবে যদি মোস্তফা জব্বার যথাযথ আইনজ্ঞ নিয়োগ করতে পারেন আর প্রযুক্তিবিদদের কাছেও অভ্র নকল হিসেবেই গণ্য হবে । কিন্তু যেটি সত্য তা হচ্ছে দেশের মানুষের জন্য একটি উন্মুক্ত টাইপ অবশ্যই থাকা জরুরী । এবং তাই আইনের চেয়ে আমাদের আবেগ অবশ্যই মেহেদি এর সাথে আছে । কিন্তু ফোনেটিক লে আউট এ মেহেদি এবং অভ্র আজ যে ক্রেডিট এর দাবি করছে তা আসলেই মেহেদিকে আর মোস্তফা জব্বারকে একই কাতারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে । যে মুক্তির স্লোগান নিয়ে মেহেদির যাত্রা আজকে সে সেই মুক্তিরই মুখবন্ধ করে বসে আছে । যদি ভাষা উন্মুক্ত হতেই হয় তাহলে আমাদেরে প্রত্যেককেই তার প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে এবং যেটি আসলেই ভাষাকে সহজ করে তাকে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে । কোন আবেগ এখানে কেবল আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কেই আরও পিছনে ঠেলে দিবে ঠিক যেমনটি মোস্তফা জব্বার করেছেন তার বিজয় এর মাধ্যমে । বাংলা কম্পিউটিং কেবল আসলে যাত্রা শুরু করেছে - টাইপিং হচ্ছে শুধু শুরু । যদি যথাযথ উদ্ভাবকদের পৃষ্ঠপোষকতা করা যায় তাহলে আমরা খুব শীঘ্রই আরো অনেক সুবিধা পেতে পারব - যেমন স্পেল চেকার, অভিধান, ফন্ট, গ্রামার, স্পীচ রিকগনিশন ইত্যাদি । আর অন্যথায় হয়ত আমাদের আবারও তাকিয়ে থাকতে হবে সাম্রাজ্যবাদি কম্পানিগুলোর দিকেই ।

পুনশ্চঃ আমি এখানে খল নায়ক বলছি এই কারণেই যে আজকে আমরা মোস্তফা জব্বারকে ধিক্কার দিলেও বাংলা কম্পিউটিং এর জগতে তার অবদান অনস্বীকার্য, অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় অচিরেই যেই বাংলাদেশের জন্য কাজ করবে তাকেই হয়ত একই পরিণতি বরণ করতে হবে <img src=" style="border:0;" />. তবু আসুন আমরা কাজ করে যাই এই বাস্তবতা টুকু স্বীকার করেই

সাম্প্রতিক কিছু প্রশ্নের প্রেক্ষিতে জিয়াউর রহমানে জবাবঃ

“তাহলে কি অভ্র সবসময় পপুলার আইডিয়া কপি করতেই অভ্যস্ত নাকি তারা নিজেরা কোনো আইডিয়া নতুন উপহার দিয়েছে ?”

শুরু থেকেই অভ্র একটা অনৈতিক অবস্থান এর উপর দাঁড়িয়ে কাজ করেছে যা হচেছ একজন উদ্ভাবককে তার উদ্ভাবনের সাফল্য থেকে বঞ্চিত করা । এক্ষেত্রে আমার ধারনা মেহেদির আসলে Intellectual Property (IP) এর উপযুক্ত ধারণাই নাই - তাই সে একটা কথা বিশ্বাস করে কাজ শুরু করে যে একটু আলাদা হলেই একটা লে আউট আলাদা হয়ে যায় ।

পেটেন্ট এর মূল উদ্দেশ্য উদ্ভাবক কে সুবিধা দেয়া । এখন লাইফযয় যদি লাইফবয় এর বাজার ধবংস করার জন্য নামে তখনই তা অবৈধ - কারণ লাইফবয় এর সাথে লাইফযয় এর মিলকে পুঁজি করে সে মূল প্রোডাক্টকে বঞ্চিত করতে চাচেছ । এর মানে এই নয় যে লাইফযয় নামে আর কিছুই হতে পারে না। যদি তারা লাইফযয় নামে সাবান না বানিয়ে আইসক্রিম বানায় তাহলে এটা হয়ত পেটেন্ট ভায়োলেশন হবে না । এগুলো সবই আইন এবং তার প্রয়োগের ব্যাপার । মূল উদ্দেশ্য একটিই - মূল উদ্ভাবক কে তার আবিষ্কারের মূল্য দেয়া ।

যেহেতু ইউনিবিজয় বিজয় কে তার পেটেন্ট উদ্ভাবন থেকে বঞ্চিত করার জন্য সামান্য কিছু পরিবর্তন করে করা তাই এটা আসলে পেটেন্ট infringement. এখন মেহেদি হয়ত qwerty এবং qwertz লে আউট থেকে ধারনা করেছেন যে একটি কি আলাদা হলেই লে আউট আলাদা হয়ে যায় - এটা ঠিক না । সম্ভবত qwertz এসেছে qwerty এর অনেক পরে (আমি নেট এ qwertz এর সঠিক সময়কাল পাইনি - তবে qwerty এর সমসাময়িক লিস্ট এ এটি নেই ) যখন qwerty এর পেটেন্ট প্রটেকশন পিরিয়ড পার হয়ে গেছে । এখন qwerty কে বেজ করে একটি দুটি কি চেঞ্জ করে আপনিও একটি নতুন লে আউট তৈরি করতে পারেন - কারণ এতে মূল উদ্ভাবককে বঞ্চিত করার কোনও স্বভাবনা নাই । অন্যথায় এটি কখনই গ্রহণযোগ্য হত না । অভ্র সমর্থন করে অনেক বোদ্ধাই নিজেদের বক্তব্য দিয়েছেন - তারা মেহেদিকে এটুকু বুঝিয়ে বললে ব্যাপারটি সুখকর হত ।

এরই ধারাবাহিকতায় তারা আরেকটি পপুলার ধারনাকে নিজেরা কপি করে - যেটি শাব্দিক প্রথমে শুরু করে । তারা নিজেরা এটিকে কষ্ট করে গবেষণা করে তৈরি করলে এবং জনপ্রিয় করলে কোনো আপত্তির কারণ ছিলনা । আপত্তির কারণ এটাই যে আগে এটার জনপ্রিয়তা প্রমাণিত হবার পরই তারা এই সাপোর্ট প্রদান করে । এতে তাদের গবেষণা বাবদ সময় এবং অর্থ দুটোই সাশ্রয় হয় - যেটা আসলে যেকোন নকল জিনিষের জন্যই প্রযোজ্য । এখানেও অভ্র টিম এর মূল উদ্দেশ্য একটি প্রতিষ্ঠিত উদ্ভাবনকে তাদের উদ্ভাবনার সাফল্য থেকে বঞ্চিত করা এটিই প্রমাণিত হয় - অন্যথায় তাদের কাছেই ফোনেটিক এর দাবি অক্ষর-এর সময়েই করা হয় কিন্তু তারা তখন এটি কোন কিবোর্ড হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে সাপোর্ট দিতে অস্বীকার করে ।

“কাজেই সেটা কেবল বাংলাতে আনা কি আদৌ কোনো নতুন novel কাজ? ”

আমাদের এখানে সাজেশন ছাড়াও আরও অনেকগুলো বিষয় এসেছে - এর মধ্যে ইন্টেলিজেন্স, এক মাত্রার লে আউট এবং যুক্তবর্ণের জন্য আলাদা কি না ব্যবহার করা - এগুলো অবশ্যি নভেল হিসেবে গণ্য হতে পারে । আমি pinyin এর ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ না তাই পুরোপুরি তুলনা করতে পারছি না বা শাব্দিক pinyin কে দেখেও শুরু করা হয়নি ।

২) বিতর্কের অন্য দিকে রয়েছে ইউনিজয় লেআউট

আমি মনে হয় আগেই এগুলো যে প্রকারান্তরে বিজয়কে তার উদ্ভাবনি রাইট থেকে বঞ্চিত করার জন্য তা পরিষ্কার করতে পেরেছি - ইউনিবিজয় বা ইউনিজয় দুটোই এক্ষেত্রে একই দাগে অবস্থিত ।

৩) শেষ প্রশ্নটি হলো, জিয়া ভাইয়ের লেখাটিতে দাবী করা হচ্ছে, মেহদী নিজেকে বাংলা কম্পিউটিং এর সর্বেসর্বা বলে দাবী করছে।

আমি বিস্ময়ে লক্ষ্য করলাম একজন উদ্ভাবককে তার উদ্ভাবনা থেকে বঞ্চিত করতে পেরে বাঙালী কীভাবে ফ্যানাটিক আচরণ করছে । যেখানে অভ্র নিজেরা রিসার্চ ও ডেভেলপমেন্ট এর ন্যূনতম পেইনও নেয়নি তাকে সবাই দেবতার আসনে বসিয়েছেন এবং অভ্র ডেভলপাররা তা উপভোগ করছেন । প্রথমত মেহেদির IP বিষয়ক পরিষ্কার জ্ঞান রাখা উচিত ছিল এরকম ঢালাওভাবে মোস্তফা জব্বার এর কিবোর্ড কপি করার আগে - দ্বিতীয়তঃ শুধু জনপ্রিয়তার বিচারে যে নোংরা শব্দ চয়ন হচিছল মোস্তফা জব্বার এর বিরুদ্ধে তার বিরুদ্ধাচরণ করা উচিত ছিল । তিনি তা থেকে পুরো নির্লিপ্ত থেকে এবং ইউনিবিজয় কে আলাদা লে আউট বলে প্রকারান্তরে অপরকে মোস্তফা জব্বারকে গালি দিতেই উৎসাহিত করেছেন এবং পুরো ব্যাপারটিই তিনি অসুস্থভাবে উপভোগ করে চলেছেন । এই প্রেক্ষিতেই আমার এই অনুধাবন ।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29141369 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29141369 2010-04-24 20:11:52
কি বোর্ড লে-আউটের কি প্যাটেন্ট হয়? হ্যাঁ হয়। যদিও আমি বাংলাদেশে তা চাইনা।
http://en.wikipedia.org/wiki/File:QWERTY_1878.png

http://en.wikipedia.org/wiki/QWERTY

উপরের লিংকে পড়ুন নীচের কথাগুলো যেখানে আছে।

Differences from modern layout

The QWERTY layout depicted in Sholes' 1878 patent includes a few differences from the modern layout


http://www.powertyping.com/dvorak/keyboard.html

উপরের লিংকে নীচের অংশ পড়ুন। এক্ষেত্রে সনবিষয়ক কিছু গড়মিল দেখা যাচ্ছে। যাহোক প্যাটেন্ট আছে বলা হয়েছে।

Qwerty was designed and patented in 1896 by Christopher Latham Sholes, the inventor of typewriter. Originally keys were laid out in alphabetical order which caused frequent jams of moving parts. Sholes rearranged the keys so that most frequently typed letters were spread apart to minimize the jamming. He obtained a patent for this keyboard layout which became known as QWERTY and became US standard 101 keyboard.

আর একটি লে-আউটের প্যাটেন্ট দেখুন নীচের লিংকে।

http://www.docstoc.com/docs/32418387/Typewriter-Keyboard-Layout---Patent-4519721/

উপরের উদাহরণ থেকে পরিস্কার কি-বোর্ড লে-আউটের প্যাটেন্ট হয়।

কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন QWERTY লে-আউটের জন্য কি কাউকে টাকা দিতে হয়। উত্তর হল প্যাটেন্টের সময়সীমা থাকে ২০ বছর মত। অনেক ক্ষেত্রে ৭০-১২০ বছর আবিস্কারকের মৃত্যুর পরেও। তবে আইনবিদরা এগুলো আরো নিঃখুত ভাবে বলতে পারবেন। যাহোক উক্ত সময়ের মধ্যে কেউ ব্যবহার করলে টাকা দিতে হবে অবশ্যই। QWERTY লে-আউট সহ টাইপরাইটার বিক্রি করে দেয়া হয়েছিল প্রস্ততকারক কোম্পানির কাছে। কাজেই ব্যবসা হয়েছিল।

পরিশেষেঃ সরকার প্যাটেন্ট দিয়ে অন্যায় করেছেন বলা যায় না। তবে আমার ব্যক্তিগত অভিমত হল বাংলাদেশের মত দেশে প্রযুক্তির বিকাশে এই বিষয়ে প্যাটেন্ট করা না করা পুনর্বিবেচনা করা উচিৎ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29140624 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29140624 2010-04-23 17:42:37
কম্পিউটার কৌশলের ছাত্রছাত্রীরা কোথায়? একটা ভালো টাইপিং সফটওয়্যার কি বানাতে পারে না? তাদের অহম জাগা জরুরী।
আমার জানামতে বাংলা টাইপ রাইটিং-এ মুনির লে আউট কিছুটা বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে তৈরী। তবে কম্পিউটারের জন্য এরকম কিছু আছে বলে জানিনা। কাজেই বিজয় বা অভ্র সহ আমরা যে সব সফটওয়্যার দেখতে পাচ্ছি সেগুলি পরীক্ষন ও গবেষনা নয় শুধু মাত্র ধারনা ও ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে তৈরী। সত্যিকারের একটা লে আউট তৈরীতে গবেষনাও দরকার হবে আবার প্রোগ্রামিংএর দক্ষতাও দরকার। হবে। বর্তমানে কম্পিউটার কৌশলের ছাত্র সারাদেশে বুয়েট সহ অন্যান্যা বিশ্ববিদ্যালয় মিলে অনেক। আমি আশা করি তাদের কেউ উৎসাহী হয়ে সত্যিকারের গুনগতমান সম্পন্ন একটি সফটওয়্যার তৈরী করে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেবেন। আমাদের কম্পিউটার কৌশলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য দেশের জন্য এ বিষয়ে কিছু করা জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সময় হিসাবে এটা অতীব উপযোগী সময়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29139281 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29139281 2010-04-21 17:57:20
বিজয়ের বিরুদ্ধে কিন্তু অভ্রেরও বিরুদ্ধে যায় এমন নির্মোহ আলোচনা বর্তমান সময়ে কি সম্ভব?
আমাদের অান্দোলনটি হওয়া দরকার বিজয়ের মনোপলি ভাঙার কিন্তু অভ্রের মনোপলি সৃষ্টির জন্য নয়। এনিয়ে আরও বিস্তারিত নির্মোহ আলোচনার ইচ্ছা আছে। আপাতত দেখা যাক অভ্রের কট্টোর ভক্তবৃন্দ বর্তমান সময়ে এটুকুই কি ভাবে নেয়। পেশাদারীত্ব বাদ দিয়ে আবেগ মিশিয়ে হুজুগে মেতে কারো কট্টোর বিরোধীতা করা বা কারো কট্টোর সমর্থন মোটামুটি ভাবে আমাদের জাতিগত বৈশিষ্ট্য। আমরা তখন চিন্তাও করিনা সার্বিক ভাবে কোনটা ভাল হবে।

ফেসবুকে করা কয়েকটি মন্তব্য নিম্নরূপঃ
১।যাই হোক বিষয়টি হবে মোস্তফা জব্বারের মন্তব্যের বিরোধীতা ও ভাষা বিষয়ক প্রযুক্তির মুক্তি। কিন্তু অভ্র এর নাম উচ্চারিত হয়েছে বলে এর সাথে পুর্ণ মাত্রায় অভ্রকে জুড়ে দিয়ে তাকে বিনা পরীক্ষায় শুধু জনপ্রিয়তার নামে প্রতিষ্ঠিত করা কিছুতেই কাম্য নয়। অভ্র এখানে মুখ্য বিষয় নয়, অথচ মাতামাতি হচ্ছে মুলত অভ্রকে নিয়ে, মুল বিষয় "প্রযুক্তিকে কুক্ষিগত করার বিষয়টি" মোটামুটি এড়িয়ে। যেটি কোন ভাবেই কাম্য নয়।

২। এখানে ভাষা অান্দোলন কি ভাবে অাসে অামি জানিনা। বিষয়টিকে কি বোর্ড লে অাউটে সীমাবদ্ধ রাখা উচিৎ। মোস্তফা জব্বারের অগ্রহনযোগ্য অাচরনের বিপরীতে অভ্র ফ্যানদের প্রতিক্রিয়াও সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে অামার মনে হয়। এই রকম ফ্যানাটিকদের কারনে গবেষনার ভিত্তিতে অারও নতুন কিছু অাসা কঠিন হয়ে পড়বে। অামাদের জিয়া অনেক গবেষনা করে একটি টাইপিং সফটওয়্যার বানিয়েছ অার বিনা মুল্যেই ছেড়েছে -- যেটা অামার দৃষ্টিতে অনেক স্মার্ট। এইসব ফ্যানাটিকরাই নতুন কিছুর জন্য বাধা। বাংলাদেশে ব্যবহৃত কোন লে অাউটই বৈজ্ঞানিক গবেষনার ভিত্তিতে তৈরী নয়, মুনির কি বোর্ড ছাড়া তবে সেটাও টাইপরাইটারের জন্য। যতক্ষন পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক গবেষনার ভিত্তিতে কম্পিউটারের জন্য একটা লে-অাউট না অাসছে ততক্ষন অামি কোন ফ্যানাটিসিজমের পক্ষে নই। বর্তমানের প্রতিবাদ হওয়া উচিত মোস্তফা জব্বারের কথার প্রতিবাদ, কিন্তু তা কোন ভাবেই যেন অভ্রকে প্রতিষ্ঠিত না করে ফেলে। অভ্র যদি বৈজ্ঞানিক গবেষনায় সর্বোৎকৃষ্ট হয়ে থাকে তবে কথা ভিন্ন।

৩। বৈজ্ঞানিক গবেষনার ভিত্তিতে তৈরী লে আউট সম্পর্কে আপনি যদি সত্যি না জেনে থাকেন তাহলে বলি যে কি বোর্ড দিয়ে লিখলে বাংলাভাষায় অনেক দ্রুত টাইপ করা সম্ভব হবে সেই রকম একটি লে আউট। সেটি অবশ্যই বাংলাভাষার বর্ণসমুহ ও বাংলাভাষার অধিরকতর ব্যবহৃত শব্দসমুহে বর্নসমুহের ব্যবহার হার বিবেচনা করে সাথে হাতের আংগুল ও তার বিভিন্ন নাড়ানোর ভঙ্গী বিবেচনা করে তৈরী হবে।

৪। আমি মোস্তফা জব্বারের সেই বিতর্কিত মন্তব্যের সবরকম প্রতিবাদ করতে চাই -- যেমন মুক্ত ও বিনামুল্যের সফটওয়্যার, পাইরেসী ইত্যাদি বিষয়ে তার বক্তব্যকে তুলোধুনো করা দরকার। আর সে যে ভাবে তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে ফায়দা লুটে তারও একটা বিহিত হওয়া দরকার। তবে অভ্র সম্পর্কে সত্যিকার পরীক্ষন ভিত্তিক ফলাফল না দেখে সেটা নিয়ে আমি এত মেতে উঠতে চাই না। ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করি আমাকে কেউ একজন একটা বৈজ্ঞানিক গবেষনার ভিত্তিতে নির্মিত বাংলাদেশের জন্য আদর্শায়ন করা সম্ভব এরকম একটি সফটওয়্যার দিবে। নিজে ডিজাইন করে নিতে পারব অথবা অনেকগুলো আগে থেকে বিদ্যমান লে আউট দিবে এমন কোন সফটওয়্যার আমার বর্তমানের হ-য-ব-র-ল অবস্থায় কিছু সুবিধা দিবে সত্যি কিন্তু তা আসলে সার্বিক ভাবে তেমন কাজের হবে বলে আমি মনে করি না। আর এইরকম আরবিট্রারি কি বোর্ড ম্যাপিং এর প্রোগ্রাম বানানো তেমন কঠিন বিষয় না। আমার কাছে গুরুত্ব পূর্ন বিষয় হল সফটওয়্যারটি নির্দিষ্ট একটা লে আউট সাজেস্ট করে কি না আর তার গুনাগুন বৈজ্ঞানিক ভাবে পরীক্ষিত কিনা। অভ্র সম্পর্কে এরকম কিছু আমি জানিনা। কেউ যদি জেনে থাকেন তার ভিত্তিতে বাংলাটাইপিংয়ে অভ্র নিয়ে মেতে উঠতে পারেন। এখানে পরিস্কার করে বলতে চাই আমি বিজয়ের পক্ষে ওকালতি করছি না। অভ্র যেভাবে সনদ যোগাড় করছে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তাতে ভবিষ্যতে তারাও ব্যবসায়িক চিন্তা করবে না সেটা আমি পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে পারি না।

৪। অামি পরিস্কার করে জানিনা কি বোর্ড লে অাউট ডিজাইন নাকি তার জন্য প্রোগ্রাম লেখা -- পাপানার সাথে কি নিয়ে বিরোধ। পাপানা প্রোগ্রাম লিখেছিল তা জানি, কিন্তু সে কি লে অাউট ও ডিজাইন করেছিল? কেউ কি এ বিষয়ে জান? জানালে খুশি হব।....পাপানা যদি মাইক্রোসফটের কোডে ঐরকম করে কেমন হবে -- কোন ট্রোজান হর্স বসাইয়া দিল! পাপানার প্রোগামিংয়ে দক্ষতা অসাধারন, কিন্তু বেতন দেয়া প্রোগ্রামার হিসাবে তার পেশাদারীত্ব ও নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছ। পাবলিকলি এটা প্রকাশ করা ঠিক কিনা অামি নিশ্চিত নই।


নির্মোহ আলোচনার আহবান থাকল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29139124 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29139124 2010-04-21 13:26:51
গণনাভিত্তিক বুদ্ধিবিজ্ঞানের দর্শন (৪) -- গান ও শব্দকলঃ যে গান বাজাতে গেলে যন্ত্রই ভেঙে যায়।

কম্পিউটার বিজ্ঞানের লোকায়ত, ফলিত ও কারিগরী বিষয়ের চেয়ে বরাবরই আমার আগ্রহ বেশী এর চিরায়ত বুদ্ধিবৃত্তিক ও দার্শনিক বিষয়ে। জীবিত কোন প্রানীকে তার স্বাভাবিক বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মের একটা নুন্যতম পর্যায় সাপেক্ষে কোন কৃত্রিম যন্ত্রদিয়ে প্রতিস্থাপনের কথা চিন্তা করলে, মানব উদ্ভাবিত অন্য সকল যন্ত্রের বিফলতার মাঝে একমাত্র কম্পিউটারই কিছুটা সফলতার আশা জাগায়। আমার ভাষায় তাই জড় জগতের মধ্যে একমাত্র জীবিত বিষয় হল কম্পিউটার!

উপরোক্ত দৃষ্টিভঙ্গীর প্রেক্ষিতে জনসাধারণের পর্যায়ে আমি একটি ধারাবাহিক নিবন্ধ লিখব বলে ভাবছি। এই ধারাবাহিকের পর্বগুলিতে আমার নিজস্ব চিন্তা ভাবনা যেমন আসবে, তেমনি আসবে এ বিষয়ে বিভিন্ন গুনীজনের লেখা বই বা প্রবন্ধের ভাষান্তর। গণনাবিদ্যা (কম্পিউটার বিজ্ঞান), কৃত্রিম বুদ্ধিবিজ্ঞান (আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স), দর্শন, মনোবিজ্ঞান, যুক্তি বা বিশ্বাসভিত্তিক জীবনাচরন সম্পর্কে আগ্রহী পাঠক/পাঠিকাদের মন্তব্য আমাদের আলোচনাকে সমৃদ্ধ করবে বলে আমার ধারনা। আমাদের আলোচনার গন্ডী হবে বিশেষজ্ঞদের আর জনসাধারনের জানার পরিধির মিলনরেখায়

পর্ব ৩ -- ছবি ও পটঃ নিঃসঙ্গ আখিলিসের বাজনা সঙ্গীত।

পর্ব ১.০ -- ভেল্কি, বুদ্ধি ও যন্ত্রঃ মজার খেলা "ভবয"

পর্ব ২ -- দ্বিখন্ড উদ্ভাবনঃ আখিলিস ও কচ্ছপের যুক্তিতর্কের গল্প।

পর্ব ১ -- ত্রিখন্ড উদ্ভাবনঃ জেনো, আখিলিস ও কচ্ছপের গল্প।

গণনাভিত্তিক বুদ্ধিবিদ্যার দর্শন (Philosophy of Computing-Based Intelligence) পর্ব ৪ -- গান ও শব্দকলঃ যে গান বাজাতে গেলে যন্ত্রই ভেঙে যায়।

হফস্ট্যাডটার প্রণীত পুলিৎজার পুরস্কার প্রাপ্ত জিইবিঃইজিবি অবলম্বনে।

আখিলিস এসেছে তার বন্ধু ও দৌড়ব্যায়ামের সাথী কচ্ছপের বাসায়।

আখিলিসঃ ওয়াও! তোমার বুমেরাং সংগ্রহ তো চমৎকার!

কচ্ছপঃ আর বলোনা! তবু এটা অন্য কোন কচ্ছপের থেকে মোটেও ভাল নয়। এখন কি তুমি একটু বসবার ঘরে আসবে?

আখিলিসঃ আসছি। (বসবার ঘরে গেল) তোমারতো দেখছি শব্দধারকের সংখ্যাও কম নয়। কোন ধরনের সংগীত তুমি পছন্দ কর?

কচ্ছপঃ আমার কাছে সেবাস্টিয়ান ব্যাক এর সংগীত মন্দ লাগে না! তবে ইদানিং এক বিশেষ ধরনের সংগীতের প্রতি আমার আকর্ষন বাড়ছে।

আখিলিসঃ কী ধরনের সংগীত? আমাকে বলতে পার?

কচ্ছপঃ এক ধরনের সংগীত যা খুব সম্ভবত তুমি শোননি। আমি এটাকে বলি "শব্দকল ভাঙ্গার গান"।

আখিলিসঃ শব্দকল ভেঙ্গে ফেলার কথা বলছ? তাহলে তো অামার উৎসুক্যভাব বেড়ে যাচ্ছে। আমি কল্পনা করতে পারি তুমি একটা হাতুড়ি হাতে একটার পর একটা শব্দকল ভেঙে টুকরো টুকরো করে চলেছ!

কচ্ছপঃ সংগীতগুলো ঠিক সেই বিষয়ে নয়। যাইহোক, এগুলোর সত্যিকারের প্রকৃতি বেশ মজাদার। আমি তোমাকে একটা সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিতে পারি।

আখিলিসঃ সেটাই ভাল হয়, আমিও সেরকম ভাবছিলাম।

কচ্ছপঃ খুব কম লোকই এ ধরনের সংগীতের সাথে পরিচিত। অামার অাকর্ষন শুরু হয়েছিল যখন আমার বন্ধু কাঁকড়া বেড়াতে এসেছিল। তুমি কি কাঁকড়াকে দেখেছ আগে?

আখিলিসঃ যদিও অনেককিছু শুনেছি, আমি এখনও তাকে দেখিনি। তার সাথে সাক্ষাৎ হওয়া নিশ্চয়ই আনন্দের হবে।

কচ্ছপঃ আগেই হোক আর পরেই হোক, আমি তোমাদের দুজনকে পরিচয় করিয়ে দেব। তুমি সেটা ভালো ভাবেই উৎড়ে যাবে। হয়ত হঠাৎ কোন একদিন উদ্যানেও দেখা হয়ে যেতে পারে।

আখিলিসঃ ভালই বলেছ। আমি সেই অপেক্ষায় রইলাম। কিন্তু তোমারতো আমাকে কি সব শব্দকল ভাঙার গান সম্পর্কে বলার কথা।

কচ্ছপঃ ও, তাইতো! শোন, একদিন কাঁকড়া এখানে বেড়াতে এসেছিল। তুমি বোধ হয় জান, তার সব রকম সৌখিন জিনিসপত্রের প্রতি বিশেষ আকর্ষন ছিল, আর সব কিছুর উপরে শব্দকলের প্রতি খানিকটা বেশীই। সে কেবলই তার প্রথম শব্দকলটা কিনেছিল, আর কিছুটা সহজ সরল হওয়ায়, বিক্রেতা তাকে যা যা বলেছিল সবই বিশ্বাস করেছিল, বিশেষ করে এই রকম একটা কথা যে শব্দকলটা যে কোন ধরনের শব্দ বাজাতে পারে। অল্প কথায় সে আশস্ত হয়েছিল যে সেটা পুরোপুরি যুৎসই একটা শব্দকল।

আখিলিসঃ স্বভাবতই তুমি সেটাতে একমত ছিলে না।

কচ্ছপঃ সত্যি তাই, কিন্তু সে আমার কোন কথাই শুনবে না। সে বলেই যাচ্ছিল শব্দকলটা যে কোন শব্দ বাজাতে পারে। তাকে বুঝাতে না পেরে আমি চলে যাই। তার বেশ কিছু দিন পরে, আমি যখন আবার সেখানে যাই, সাথে নিয়ে যাই আমার নিজের তৈরী একটা সংগীতের শব্দধারক। সংগীতটি ছিল "আমাকে কোন শব্দকলে বাজানো যাবে না"

আখিলিসঃ অস্বাভাবিক! সেটা কি কাঁকড়ার জন্য কোন উপহার ছিল?

কচ্ছপঃ হ্যাঁ। আমি বললাম চল তোমার নতুন শব্দকলে আমরা এটা বাজাই। সে সানন্দে রাজী হল। তারপর শব্দকলটি চালু করে ধারকটি তাতে লাগিয়ে দিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত মাত্র কিছুটা বাজার পরেই কলটি খুব জোরে কাঁপতে শুরু করল আর তারপর একটা উচ্চ শব্দ করে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে কক্ষের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। ধারকটিও ধ্বংস হয়ে গেল, সে কথা নিশ্চয় বলার প্রয়োজন নেই।

আখিলিসঃ মনে হচ্ছে বেচারার জন্য এটা ছিল একটা দুর্বিপাকের ঝাপটা। শব্দকলটির ব্যাপারটি কি ছিল?

কচ্ছপঃ বাস্তবিকই, তেমন কোন বিষয় ছিল না। শুধু এইযে, শব্দকলটি আমার আনা ধারকটি থেকে শব্দগুলো বাজাতে পারে নি। কারন শব্দগুলো ছিল সেই রকম যা কম্পন সৃষ্টি করবে আর কলটিকে ভেঙে ফেলবে।

আখিলিসঃ অদ্ভুত, তাই না। আমি ভেবেছিলাম সেটা একটা যুৎসই শব্দকল। বিক্রেতা তো তাই তাকে বলেছিল।

কচ্ছপঃ নিশ্চয়। বিক্রেতা যা বলে তার সব কিছু তুমি নিশ্চয় বিশ্বাস কর না, আখিলিস। তুমি কি কাঁকড়ার মতই বোকা?

আখিলিসঃ মনে হচ্ছে, কাঁকড়া অনেক বেশী বোকা! আমি জানি যে বিক্রেতারা জাত মিথ্যুক। আমি তো অার মাত্র সেদিন জন্মাইনি!

কচ্ছপঃ সেই ক্ষেত্রে তুমি ধরে নিতে পার যে, এই বিক্রেতা শব্দকলটি সম্পর্কে বেশ বাড়িয়ে বলেছিল ... হয়তো এটা আসলেই তেমন একটা ভালো ছিল না, মানে এটা যে কোন শব্দই বাজাতে পারে সেরকমটা ছিল না।

আখিলিসঃ সেটা একটা ব্যাখ্যা হতে পারে। কিন্তু তোমার ধারকটিতে একেবারে সেই শব্দগুলিই ছিল, এই দৈবঘটনার কোন ব্যাখ্যা নেই!

কচ্ছপঃ যদি না সেগুলি ইচ্ছা করেই ধারন করা হয়ে থাকে! দেখ কাঁকড়ার বাসায় যাওয়ার পুর্বে আমি সেই দোকানটিতে গিয়েছিলাম যেখানে কাঁকড়া শব্দকলটি কিনেছিল আর জিজ্ঞেস করেছিলাম সেটি কোথায় তৈরী হয়েছে। তারপর আমি প্রস্ততকারকদের কাছে শব্দকলটির বর্ণনা দিয়ে একটা চিঠি লিখেছিলাম। আর ফিরতি চিঠি পাওয়ার পরে, আমি শব্দকলটির প্রস্ততপ্রণালী বিশ্লেষণ করে দেখলাম যে এক ধরনের বিশেষ শব্দ অাছে যা যদি কাছে কোথাও বাজে তাহলে শব্দকলটিকে কাঁপাবে আর ভেঙে ফেলবে।

আখিলিসঃ তুমি একটা ভয়ংকর মানুষ। আর বলার দরকার নাই -- তুমি নিজেই শব্দগুলো ধারন করেছিলে আর তা উপহার হিসাবে দিয়েছিলে...

কচ্ছপঃ ভারী চালাক হয়েছ তো! গল্পের শেষটাতে লাফ দিয়ে চলে গেলে! কিন্তু যাইহোক সেটাই রোমাঞ্চের শেষ নয়। কারন কাঁকড়া কোনভাবেই বিশ্বাস করেনি যে শব্দকলটিতে ত্রুটি ছিল। পুরোটাই একগুঁয়েমি করছিল সে। তাই সে আরেকটা নতুন শব্দকল কিনে আনল। এটা অাগেরটার চেয়ে আরও দামী ছিল। আর বিক্রেতা এবার কথা দিল কাঁকড়া যদি এমন কোন শব্দ বের করতে পারে যেটা শব্দকলটি বাজাতে পারবে না, তাহলে সে দুইগুন টাকা ফেরৎ দিবে। সুতরাং কাঁকড়া বেশ উচ্ছাসভরেই আমাকে এসব জানাল। আর আমি তাকে কথা দিলাম সেটি অাবারও পরীক্ষা করে দেখার জন্য।

আখিলিসঃ আমি ভুল কিনা বল -- তুমি বাজি ধরার আগেই আমি ধরলাম -- তুমি আবার প্রস্ততকারকের কাছে লিখেছিল, আর সেটার প্রস্তুতপ্রণালীর উপরে ভিত্তি করে একটা নতুন গান ধারন করেছিলে যা ছিল "আমাকে শব্দধারক-২ বাজাতে পারবে না"।

কচ্ছপঃ চমকপ্রদ যুক্তিভিত্তিক অনুসিদ্ধান্ত! আখিলিস, তুমি ঠিকমতই ধরতে পেরেছ।

আখিলিসঃ কি ঘটেছিল এইবার, বল?

কচ্ছপঃ তুমি যা ধারণা করেছিলে, ঠিক ঠিক তাই। শব্দকলটি অসংখ্য টুকরোতে পরিণত হল, আর ধারকটিও নষ্ট হয়ে গেল।

আখিলিসঃ তারফলে কাঁকড়া শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারল যে একদম যুৎসই শব্দকল বলে কিছু নেই।

কচ্ছপঃ বরং আশ্চর্যজনকভাবে সে রকম কিছু ঘটে নি। সে নিশ্চিত ছিল যে আরেকটা নতুন শব্দকল ঠিকই শব্দগুলো বাজাতে পারবে। আর দ্বিগুন টাকা দিয়ে সে...

আখিলিসঃ আচ্ছা, আমার মাথায় একটা ধারনা এসেছে। সে তোমাকে সহজেই ঠকাতে পারে। একটা কম শক্তির শব্দকল যেটা ঐ বিশেষ শব্দগুলোকে না বাজিয়ে বরং খেয়ে ফেলবে। এইভাবে সে তোমার কুটকৌশল এড়িয়ে যেতে পারে।

কচ্ছপঃ নিশ্চয়ই। কিন্তু সেটা তো আসল উদ্দেশ্যকে পন্ড করে -- একটা শব্দকল যা যে কোন শব্দ বাজাতে পারে এমনকি সেই শব্দও যা তাকে ভেঙে ফেলবে!

আখিলিসঃ হমম এটা সত্যি। আমি বিপদটা দেখতে পাচ্ছি। ধরা যাক একটা শব্দকল 'ক' যা যথেষ্ট উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন। কিন্তু যখন এটা "আমাকে শব্দকল ক তে বাজানো যাবে না" এই গান বাজাতে শুরু করবে তখনই এটা এমন কম্পন শুরু করবে যে নিজেই ভেঙে যাবে। সুতরাং এটা কখনই পুরোপুরি যুৎসই হবে না। আর এটা থেকে বাঁচার উপায় হল শব্দকলটিকে, বিশেষ করে শব্দকল 'ক' কে যথেষ্ট কমক্ষমতা সম্পন্ন হতে হবে বা একদমই যুৎসই হওয়া যাবে না। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে প্রত্যেক শব্দকলই এই দুটোর যে কোন একটি বিচ্যুতির মুখাপেক্ষি। আর তাই যে কোন শব্দকলই ত্রুটিযুক্ত।

কচ্ছপঃ আমি বুঝতে পারছিনা তুমি কেন ত্রুটিযুক্ত বলছ। এটা শব্দকল সম্পর্কে একটা অন্তর্নিহিত বিষয় যে তুমি যা কিছু বাজাতে চাইবে তার সবকিছু তারা বাজাতে পারবে না। যদি কোন ত্রুটি সত্যিই থেকে থাকে তা মোটেও কলগুলোতে নেই, আছে আসলে তোমার এইরকম চাওয়ায় যে ওগুলো যে কোন শব্দ বাজাতে পারবে। আর কচ্ছপ এই রকম অবাস্তব চাওয়াই চাচ্ছিল।

আখিলিসঃ কাঁকড়ার প্রতি সমবেদনা আমাকে তাড়িত করছে। উচ্চ শক্তির শব্দ কলই হোক, আর নিম্নশক্তি শব্দ কলই হোক, উভয় ক্ষেত্রে সে হেরে যাচ্ছে।

কচ্ছপঃ আমাদের খেলাটি আরো বেশ কয়েকবার এইভাবে চলেছিল। তবে শেষদিকে কাঁকড়া বেশ চালাক হয়ে যাচ্ছিল। আমি যে প্রক্রিয়ায় ধারকগুলো তৈরী করছিলাম, সেও সেই প্রক্রিয়া অনুসরন করতে শুরু করে দিল, যাতে সে আমাকে হারিয়ে দিতে পারে। সে নিজের আবিস্কার করার একটা যন্ত্রের সবরকম বর্ণনা দিয়ে শব্দকল প্রস্তুতকারকদের লিখল। আর তারাও সেরকম একটি যন্ত্র তৈরী করে ফেলল। কাঁকড়া যন্ত্রটার নাম দিল "সর্বশেষ শব্দকল"। এটা যে কোন সাধারণ শব্দকল থেকে যথেষ্ট উন্নতমানের ছিল।

আখিলিসঃ আমি কি অনুমান করতে পারি, এটার কোন চলমান অংশ ছিল না? অথবা, এটা কি তুলা দিয়ে তৈরী? অথবা ---

কচ্ছপঃ ঠিক আছে, আমিই বলছি। তাতে সময় কিছুটা বাঁচবে। সর্বশেষ শব্দকলে একটা চিত্রগ্রাহক লাগানো ছিল। এই চিত্রগ্রাহকটির কাজ ছিল কোন শব্দধারক থেকে কিছু বাজানোর আগে ধারকটির পুঙ্খানুপুঙ্খ ছবি তোলা। চিত্রগ্রাহকটি লাগানো ছিল একটি ছোট্ট যন্ত্রগণকের সাথে। যন্ত্রগণকটি ছবিগুলো থেকে শব্দধারকে ধারনকৃত শব্দগুলোর খোদাই পরীক্ষা করে বের করত সেগুলো থেকে ঠিক কি ধরনের শব্দ হবে।

আখিলিসঃ এ পর্যন্ত ভালোই মনে হচ্ছে। কিন্তু তা দিয়ে সর্বশেষ শব্দকল কি করত?

কচ্ছপঃ খুঁটিনাটি হিসাব করে যন্ত্রগণকটি বের করে ফেলত বাজানোর সময় শব্দগুলো কলটির উপরে কি প্রভাব ফেলবে। যদি দেখা যেত যে শব্দগুলো কলটির বর্তমান অবস্থায় এটাকে ভেঙে ফেলবে, তাহলে এটা আরো অধিকতর চাতুরীপুর্ণ কিছু করত। শব্দকলটিতে এমন একটা যন্ত্র লাগানো ছিল যে সেটা যন্ত্রগণকের সাহায্য নিয়ে কলটির অন্য বড় অংশুগুলোকে খুলে ফেলে সেগুলো থেকে আবার নতুন করে আর একটি শব্দকল তৈরী করতে পারত। যদি ঐ শব্দগুলো কলটির জন্য বিপদজনক হয়ে থাকে তাহলে এমন একটা নতুন কল তৈরী করত যেটি ঐ শব্দগুলো বাজাতে গিয়ে আর বিপদে পড়ত না। আর কেবল তার পরেই সর্বশেষ শব্দকলটি ধারক থেকে শব্দ বাজাত।

আখিলিসঃ আহ, তাহলে এতেই তোমার জারিজারি খতম হয়েছিল। আমি নিশ্চিত তুমি খুব আশাহত হয়েছিলে।

কচ্ছপঃ তুমি এরকম করে ভাবছ দেখে কেমন যেন লাগছে। আমি মনে করি না যে তুমি গডেলের অসম্পূর্ণতার সুত্রটি সামনে ও পিছনে উভয়দিক থেকে জান। নাকি জান?

আখিলিসঃ কার সুত্র সামনের দিকে আর পিছনের দিকে? আমি কখনই এই রকম কিছু শুনি নাই। এটা নিশ্চয় মজার। কিন্তু আমি বরং শব্দকল ভাঙার সংগীত সম্পর্কে জানতেই বেশী আগ্রহী। এটা একটা ছোট্ট কিন্তু মজার গল্প। আমি আশাকরি আমি নিজেই এটার শেষটা বলতে পারব। আর চালিয়ে যাওয়ার কোন অর্থ ছিল না। তাই তুমি হার স্বীকার করেছিলে। ঠিক তাই না?

কচ্ছপঃ কি? প্রায় মধ্যরাত হয়ে গিয়েছে। আমি দুঃখিত আমার শোয়ার সময় হয়ে গিয়েছে। আরো কথা বলতে পারলে ভালই লাগত, কিন্তু আমার বেশ ঘুম পাচ্ছে।

আখিলিসঃ আমারও ঘুম পাচ্ছে। ঠিক আছে আমি চলে যাচ্ছি। (দরজার কাছে পৌঁছে আবার ফিরে দাঁড়ালো। দেখ, কি ভুলোমন আমার! প্রায় ভুলেই গেছি। আমি তোমার জন্য একটা ছোট্ট উপহার এনেছিলাম। নাও। (কচ্ছপকে একটা কাগজে মোড়ানো বস্তু দিল।)

কচ্ছপঃ তাই নাকি, তাহলেতো তোমার এই রকম ভুলে যাওয়া উচিৎ নয়! অনেক ধন্যবাদ, কিন্তু উপহার কি জন্য? আমার এটা খোলা উচিৎ এখন। (আগ্রহের সাথে খুলে ফেলল আর একটা কাঁচের তৈরী পানপাত্র বেরিয়ে এল)। আহ কি সুন্দর পানপাত্র। তুমি কি জান আমি সকল জিনিসের মধ্যে পানপাত্রের প্রতি বিশেষ ভাবে আকৃষ্ট?

আখিলসঃ নাএই রকম কোন ধারণা ছিল না। যাই হোক কি চমৎকার মিল।

কচ্ছপঃ তুমি যদি গোপন রাখতে পার, আমি তোমাকে একটা কথা বলতে পারিঃ আমি একটা নিঃখুত পানপাত্র খুঁজছি, যেটাতে কোন ধরনের খুঁতই নেই। আর এটাই যদি সেই পানপাত্র হয়ে তা হলে কি মজাই না হয়। আচ্ছা ধর এই পান পাত্রটির নাম "প"। তুমি এই পানপাত্রটি কোথায় পেলে?

আখিলিসঃ দুঃখিত সেটা আমার গোপন ব্যাপার। কিন্তু তুমি হয়ত জানতে চাইবে এটার প্রস্তুতকারক কে?

কচ্ছপঃ আশাকরছি বলবে, কে সে?

আখিলিসঃ তুমি কি কখনও বিখ্যাত পানপাত্র প্রস্তুতকারক জোহান সেবাস্টিয়ান ব্যাক এর নাম শুনেছ। সে আসলে একজন পানপাত্র প্রস্তুতকারক নয়, সে শুধু শখ হিসাবে এটা করত। যদিও খুব কম লোকই সেটা জানত। আর এই পানপাত্র হচ্ছে তার তৈরী সর্বশেষ পানপাত্র।

কচ্ছপঃ সত্যি কি তাই? এটা যদি সত্যি ব্যাক এর তৈরী হয় তবে এর মুল্য অননুমেয়। কিন্তু তুমি কি ভাবে এটা নিশ্চিত হলে?

আখিলিসঃ তুমি কি এটার ভিতরের খোদাই দেখতে পাচ্ছ? ঐতো ওখানে তার নামের চারটি অক্ষর 'B', 'A', 'C', 'H' রয়েছে।

কচ্ছপঃ যথেষ্ট প্রমান! কি অসাধারণ। (সযত্নে একটা তাকের উপরে পানপাত্র 'প' রাখল।) তুমি কি জান ব্যাক এর নামে চারটি অক্ষরই সংগীতের এক একটা স্বর।

আখিলিসঃ সেটা কি ভাবে সম্ভব? সংগীতের স্বরগুলিতো 'A' থেকে 'G' পর্যন্ত।

কচ্ছপঃ অধিকাংশ দেশে তাই ই। কিন্তু ব্যাক এর দেশ জার্মানীতে তারা 'B' Minor কে 'H' বলে।

আখিলিসঃ ...হমম...তাইতো মনে হচ্ছে যদিও এটা কিছুটা বিভ্রান্তিকর। যাইহোক সেই ক্ষেত্রে তার নাম থেকে একটা সুর তৈরী হয় নিশ্চয়।

কচ্ছপঃ অদ্ভুত হলেও সত্যি। বাস্তবিক সে-ই সেটা তৈরী করেছিল তার একটা বিখ্যাত সংগীতে। আর এটা ছিল তার জীবনের শেষ সংগীত The Art of Fugue এ। আমি যখন প্রথম এটা শুনেছিলাম আমার কোন ধারনা ছিল না এটা কিভাবে শেষ হবে। কিন্তু হঠাৎই এটা বন্ধ হয়ে গেল আর তারপর মৃত্যুর নীরবতা। আমি তৎক্ষনাৎ বুঝেছিলাম সেটাই ছিল ব্যাক এর মৃতুক্ষণ আর এটা প্রচন্ড ভাবে আমাকে প্রভাবিত করেছিল। যাইহোক ঐ সংগীতটার শেষ সুরটাও ছিল 'B', 'A', 'C', 'H'। এটা ঐ সংগীতটাতে লুকায়িত আছে, ব্যাক এটা স্পষ্ট করে বলে নাই কিন্তু তোমার যদি আগে থেকে ধারণা থাকে তাহলে তুমি এটা তেমন কষ্ট ছাড়াই বুঝতে পারবে। আহ কত কিছুই না কত ভাবে সংগীতের ভিতরে লুকিয়ে রাখা যায়!

আখিলিসঃ আর কবিতায়ও...তুমি জান কবিরাও একই ধরনের কাজ করে (যদিও এটা এখন কিছুটা সেকেলে)। উদাহরন স্বরূপ, লুই ক্যারোল প্রায়ই তার কবিতার পরপর সারিতে বিভিন্ন শব্দ ও নাম লুকিয়ে রাখত। এই ধরনের কবিতা যেগুলি এইভাবে কোন কিছু লুকিয়ে রাখে তাদেরকে বলা হয় "ছন্দবদ্ধ হেঁয়ালী"।

কচ্ছপঃ ব্যাকও মাঝে মাঝে এরকম ছন্দবদ্ধ হেঁয়ালী লিখেছেন। এটা মোটেও অবাক বিষয় নয়। যাই হোক বিভিন্নমাত্রার অর্থদ্যোতনা সহ সুরের মিশ্রন ও ছন্দবদ্ধ হেঁয়ালী মোটামুটি বহুল ব্যবহৃত। যদিও বেশীর ভাগ ছন্দবদ্ধ হেঁয়ালীতে শুধু একস্তরের হেঁয়ালী থাকে, তবে দুইস্তরের হেঁয়ালী থাকাও বিচিত্র কিছু নয় -- এক স্তরের হেঁয়ালীর উপরে আর এক স্তরের হেঁয়ালী। অথবা বিপরীত হেঁয়ালী যেখানে প্রত্যেক সারির আদ্যাক্ষর নিয়ে উল্টোদিক থেকে একটা বার্তা তৈরী হয়। এই ভাবে তো লুকায়িত বার্তা রাখার সম্ভাবনা অসীম। সর্বপরি এটা তো শুধু কবিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, যে কেউ এটা ব্যবহার করতে পারে -- এমন কি কথোপকথন লেখকরাও।

আখিলিসঃ কথোপকথন লেখক! বিষয়টা আমার কাছে নতুন।

কচ্ছপঃ আমি বুঝেয়েছি যারা দুজন লোকের কথোপকথন লিখে থাকে। যাইহোক, যদি কেউ কোনভাবে ব্যাক এর উপরে একটা বিপরীত ধরনের ছন্দোবদ্ধ হেঁয়ালী লিখে তাহলে তোমার কি ধারণা এটা কি বেশী যুক্তিযুক্ত হবে সে তাতে নিজের নামই ব্যবহার করবে, নাকি ব্যাক এর নাম? এটা নিয়ে অবশ্য চিন্তিত হওয়ার তেমন কিছু নেই। যে এই রকম কিছু লিখতে চায় সে যে কোন কিছুই ভেবে নিতে পারে। ব্যাক এর সেই সংগীতে ফিরে আসি। তুমি কি জান যে 'B', 'A', 'C', 'H' দিয়ে সৃষ্ট সুর উপর থেকে নীচে বা উল্টোদিকে বাজালেঔ মুল সুরটিই অাবার তৈরী হয়?

আখিলিসঃ কিভাবে একটা কিছু উপর থেকে নীচে বাজানো সম্ভব? আমি অবশ্য দেখতে পাচ্ছি সেটা হবে 'H', 'C', 'A', 'B'। তুমি নিশ্চয় আমার সাথে ঠাট্টা করছ!

কচ্ছপঃ মনে হচ্ছে তুমি এখনও সন্দেহ করছ। তাই না? তাহলে তোমাকে একটু দেখিয়ে দেয়া দরকার। ঠিক আছে আমি ভিতরে গিয়ে আমার বেহালাটা নিয়ে আসি আর সামনে পিছনে সব দিকথেকে বাজিয়ে দেখাই। (ভিতরে গিয়ে একটা পুরনো ধরনের বেহালা নিয়ে আসল।)। চল দেখি... (সংগীতের বই থেকে ব্যাক এর সেই শেষ সংগীত বের করল।) এই হচ্ছে সেই বিশেষ সংগীত...

(কচ্ছপ বাজানো শুরু করল। 'B', 'A', 'C', আর তারপর যেই 'H' বাজিয়েছে, হঠাৎ কোন আগাম সতর্কতা ছাড়াই একটা কিছু ভাঙার শব্দ। বাজনা থেমে গেল। আখিলিস ও সে দুজনেই দেখতে পেল পানপাত্রটি খানিক আগেই যেখানে ছিল, আর নেই, ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে মেঝেতে পড়ে আছে। আর তারপর চারিদিকে মৃত্যুর নীরবতা।)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29124831 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29124831 2010-03-28 13:48:01
ডিজিটাল সময় বিশ্লেষন ও অধ্যাপক জাফর ইকবালের কিছু দুর্বল যুক্তি।
যাইহোক, ভোরে উঠে দিনের কাজ শুরু করার একটা প্রভাব সারাদিনের কাজের উপরে পড়ে। যারা সকালে উঠে দিনের কাজ শুরু করেন (যেমন আমি প্রায়শঃই ভোর তিন-চারটায় দিন শুরু করি) তারা বুঝতে পারেন, এর ফলে দিনের কর্মঘন্টা কত বেড়ে যায়। আর আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে আমরা স্কুল অফিস সকালের দিকের একঘন্টা আগে শুরু করে, দোকানপাট বিকালের দিকে একঘন্টা বেশী খুলে রাখতে পারি। উন্নত দেশে দোকানপাট স্কুল অফিস সবই সকাল ৮-৯টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৫-৬টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। কাজেই আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের কেন রাত ৮-১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে হবে আমি তা বুঝতে পারি না।

যাইহোক বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান বা লাঘবের জন্য প্রগতিশীল মনের যে কোন লোক অন্য যে কোন সমাধানের সাথে দিনের আলো বেশী করে কাজে লাগানোর বিষয়টিও চেষ্টা করে দেখতে চাইবেন, সেটিই স্বাভাবিক। সেদিক থেকে বর্তমান সরকার ঠিক কাজটি করেছেন। আমার দৃষ্টিতে এটি কোন ভাবেই সঠিক বা ভুলের নয়। আসল বিষয় হল আমাদের দেশের জন্য এই ধরনের এক ঘন্টা সময় পরিবর্তন করা সমস্যার। আর সমস্যাটি হল মুলত "প্রয়োগের" যার কারন নিহিত রয়েছে দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সচেতনতায়। তদুপরি, বর্তমান সরকার এটি কখন শুরু বা শেষ করতে হবে তা নিয়ে একটা এলোমেলো অবস্থার সৃষ্টি করেছেন।

সার্বিকভাবে সরকার বা রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত নিয়মাবলী মেনে চলার ব্যাপারে যদি আমরা নিষ্ঠাবান হই, তাহলে সময় পরিবর্তন নিয়ে আমাদের তেমন অসুবিধা হওয়ার কথা না। আর নিয়ম মেনে চলার জন্য জাতিগত ভাবে যেমন অভ্যাসের দরকার তেমন দরকার সুশিক্ষা ও যুক্তিবোধের বিচারে মেনে নেয়ার প্রবণতা। লক্ষ করে দেখবেন সময় পরিবর্তন বিষয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষালাভ কারী লোকজনও যে ধরনের মন্তব্য করে থাকেন -- যেমন সরকার সূর্যটাকেই বরং একঘন্টা আগে উঠতে বলতে পারে -- তাতে এ বিষয়ে আমাদের দৈনতাই ফুটে উঠে। তাছাড়া জাতি হিসাবে আমাদের সময় জ্ঞানেরও সমস্যা রয়েছে। আরও সমস্যা রয়েছে নিয়ম নিষ্ঠ হওয়ার ক্ষেত্রেও। এই সব অবস্থার পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়। কাজেই বাস্তবতার নিরীখে আমাদের এই রকম সময় পরিবর্তন করা উচিৎ নয়।

আমাদের দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ততটা সুদৃঢ় নয়। এ বলতে আমি বুঝাচ্ছি আপনি খুব ভোরে উঠে বাইরে বের হলে উন্নত দেশে যেমন
নিরাপদ বোধ করেন, আমাদের দেশে সেটি বোধ করবেন না। কাজেই সময় পরিবর্তনের জন্য আমাদের খুব সকালে স্বল্প আলোতে বের হওয়াটা ঝুঁকিপূর্ন। সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহনযোগ্য মাত্রায় উন্নীত করে কেবল এ সব বিষয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা দরকার।

অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থেকে দেরীতে ঘুম থেকে উঠা আমাদের সমাজের অনেক লোকের অনেক দিনের গড়ে উঠা অভ্যাস। এর জন্য অবশ্য বিদ্যুৎ সমস্যাও খানিকটা দায়ী বলে অনেকে অভিযোগ করেন -- যেমন গভীর রাতে বিদ্যুৎ থাকে বলে অনেকে রাত জেগে কাজ করেন। তবে একটা বিশাল অংশ আসলে রাতে টিভি দেখে বা বিনোদনের জন্য ব্যয় করেন। উন্নত দেশে বাচ্চাদের টিভি গুলো সন্ধ্যা ৭টা তে বন্ধ হয়ে যায়; তাদের সকল পড়াশোনা স্কুলেই হয়ে যায়। আমাদের দেশে তা করা হয় না। তাছাড়া আমাদের দেশে বিনোদন ব্যবস্থার অপ্রতুলতার জন্য এ বিষয়ে কিছু করা আসলেই সম্ভব নয়। কাজেই জনগনকে অনেক রাত জেগে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়ে আবার ভোরে উঠতে বলা একটা বিশাল সামাজিক সমস্যা।

আমাদের দেশের ধর্মীয় বিষয়ে স্পর্শকাতরতা যথেষ্ট। এর বেশীর ভাগ কারন অবশ্য রাজনৈতিক ও সচেতনতার অভাবের কারনে। আর এ বিষয়ক রাজনীতি মারাত্নক রকমের মেরুকরনের স্বীকার। কাজেই সময় পরিবর্তন কে ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে আল্লাহ উপরে হাত, বা সূর্যকে নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা ইত্যাদি হিসাবে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা যথেষ্ট। সাধারণ মানুষও সচেতনতার অভাবে এই সব বিষয়ে যথেষ্ট সংবেদনশীল। একটা সময় নামাজে মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার নিয়ে গন্ডগোল হত (আমাদের ঈদগাহে মারামারি হয়েছিল) কিন্তু এখন তা ছাড়া চলে না। যদিও সময় পরিবর্তনে জাতীয় পর্যায়ে আমরা ধর্মীয় নেতাদের কাছে থেকে ইতিবাচক মনোভাব পেয়েছি, কিন্তু গ্রাম পর্যায়ে এই ধরনের বিরোধী মনোভাব পরিস্কার ভাবে বিদ্যমান ছিল। আমার ধারনা এই সব বিষয়ে যথেষ্ট রাজনৈতিক মুল্যও সংশ্লিষ্ট পক্ষসমুহকে পরের নির্বাচনে দিতে হতে পারে।

সর্বোপরি, ঘড়ির কাঁটা একঘন্টা না এগিয়ে বা পিছিয়ে অফিস আদালত দোকান পাটের সময়সূচী একঘন্টা আগু পিছু করেই অর্জিতব্য বিষয়সমুহের অনেকগুলোই অর্জন করা সম্ভব। কাজেই আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি সময় পরিবর্তন আমাদের দেশের সামাজিক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বাস্তবতায় একটি অকার্যকর উপায়। এটি করার কোন দরকার নেই।

ডিজিটাল টাইম সম্পর্কে অধ্যাপক জাফর ইকবাল সাহেব সম্প্রতি একটি লেখা লিখেছেন। তিনিও সময় পরিবর্তনের বিরুদ্ধেই বলেছেন। তার মুল বক্তব্যে আমি একমত হলেও তিনি দুটি বিষয়ে সঠিক যুক্তি তুলে ধরেন নি বলে অামি মনে করি। আসলে এই দুটি বিষয়ে তিনি এমন মনোভাব ব্যক্ত করেছেন যা আমাকে ভালো রকম হতাশ করেছে। তিনি অবশ্য অন্য কিছু যুক্তি খুব অস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যেমন লোকজন আসল সময় ঠিক রেখে ডিজিটাল সময়কে তামাশার সময় হিসাবে নিয়েছে। আর আসন্ন এইচ এস সি পরীক্ষার সময়সূচী নিয়ে সমস্যার কথাও বলেছেন। এসব বিষয় পুরোপুরি যৌক্তিক যদিও সময়ের বিচারে স্বল্প কালের জন্য। তবে তার বক্তব্যে কেন ডিজিটাল সময় বাংলাদেশের জন্য সুবিধাজনক নয় তার কারন বিশ্লেষনের বিষয়টি মোটামুটি অনুপস্থিত (অামি এ বিষয়ে তার অাগের কোন লেখা দেখিনি)। যাইহোক তার এই লেখায় উপরে উল্লিখিত ও নিম্নে বর্ণিত দুটি প্রকট কিন্তু দুর্বল যুক্তির কারনে একটি যৌক্তিক দাবী হলেও তা যথেষ্ট অযৌক্তিক ভিত্তির উপরে দাঁড়িয়েছে।

"ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তন বা বিদেশিদের ভাষায় ‘ডে লাইট সেভিংস’ আসলে বড়লোক দেশের এক ধরনের বিলাসিতা—গ্রীষ্মে দীর্ঘ একটা দিনে বিকেলে দিনের আলোয় তারা বেশি সময় ফুর্তি-ফার্তা করে, সে জন্য ঘড়ির কাঁটা ঘুরিয়ে দেয়। শীতকালে সেটাকে আবার পরিবর্তন করতে হয়—বছরে দুবার এই কর্তন-কুর্দন তাদের দেশে মানিয়ে যায়, কিন্তু আমাদের এই দেশে?"

"অন্য অনেকের থেকে আমার দুঃখ অনেক বেশি, কারণ ৯০ ডিগ্রি দ্রাঘিমা রেখাটি ঠিক বাংলাদেশের মাঝখান দিয়ে গিয়েছে, আমি কিছুতেই এটা ভুলতে পারি না। কাজেই আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে আমাদের যে ঘড়িটা চলছে, তার মধ্যে এক ধরনের সৌন্দর্য আছে, সেটাও আমি ভুলতে পারি না। দুঃখ হচ্ছে, যাঁরা কলমের এক খোঁচায় ঘড়ির কাঁটা সামনে-পিছে নিয়ে যান, তাঁদের কাছে আমার এই সৌন্দর্যবোধের কোনো মূল্য নেই।"

উপরের দুটি মন্তব্য বিশ্লেষন করলেই দেখব এই দুটি মন্তব্যে তিনি শুধু তার মনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তেমন কোন যুক্তি প্রদর্শন ব্যতিরেকেই। বিদেশের অনেক জায়গায় ঘড়ির পরিবর্তন ছাড়াই সূর্য ডোবে রাত ৮-৯টায় বা অারও পরে (পরিবর্তন ধরলে ৯-১০টায়)। ৫টায় অফিস শেষ করে তার ভাষায় ফুর্তিফার্তা করার জন্য তাদের হাতে তবুও ৩-৪ ঘন্টা থাকে। কাজেই এই মন্তব্য একেবারে স্থুল। তিনি এটি কি কারনে করেছেন তা বুঝা মুশকিল, হয়ত তাঁর নিজের ব্যক্তিগত কোন তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকতে পারে, তবে সেটি যুক্তিসংগত পরিবেশনা দরকার। তারপর তিনি আর একটি বিষয় বলেছেন ৯০ ডিগ্রী দ্রাঘিমার সৌন্দর্য। এটিও একটি হাস্যকর ধরনের যুক্তি। প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে ০ ডিগ্রী দ্রাঘিমার অধিকতর সৌন্দর্য বিসর্জন দিয়ে ব্রিটেন ১ ঘন্টা সময় আগু পিছু করে। ১৮০ ডিগ্রী দ্রাঘিমার সৌন্দর্য বিসর্জন দিয়ে প্রয়োজনের খাতিরে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাকে এদিক সেদিক নিয়ে যাওয়া হয়। তাছাড়া ১ ঘন্টা সমান ১৫ ডিগ্রী দ্রাঘিমা ধরলে ১৫ এর সৌন্দর্য বিচারে ১০৫ ও সুন্দর যা আবার সৌভাগ্যের প্রতীক ৭ এর ১৫ গুনিতক। কাজেই ১০৫ সংখ্যাটির সৌন্দর্য ৯০ এর সৌন্দর্য থেকে কোন দিক দিয়ে কম বা বেশী আমার বোধগম্য নয়। পরিশেষে বলব, অধ্যাপক জাফর ইকবালের মত ব্যক্তির কাছে থেকে আমরা যৌক্তিক ভিত্তির উপরে প্রতিষ্ঠিত যৌক্তির দাবীর কথা শুনতে চাই, যদিও অামি তার এই বক্তব্যের অবশিষ্ট অংশের যুক্তি ও অাবেগ উভয়ের সাথে একমত।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29120846 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29120846 2010-03-21 16:50:58
গণনাভিত্তিক বুদ্ধিবিজ্ঞানের দর্শন (৩) -- ছবি ও পটঃ নিঃসঙ্গ আখিলিসের বাজনা সঙ্গীত।

কম্পিউটার বিজ্ঞানের লোকায়ত, ফলিত ও কারিগরী বিষয়ের চেয়ে বরাবরই আমার আগ্রহ বেশী এর চিরায়ত বুদ্ধিবৃত্তিক ও দার্শনিক বিষয়ে। জীবিত কোন প্রানীকে তার স্বাভাবিক বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মের একটা নুন্যতম পর্যায় সাপেক্ষে কোন কৃত্রিম যন্ত্রদিয়ে প্রতিস্থাপনের কথা চিন্তা করলে, মানব উদ্ভাবিত অন্য সকল যন্ত্রের বিফলতার মাঝে একমাত্র কম্পিউটারই কিছুটা সফলতার আশা জাগায়। আমার ভাষায় তাই জড় জগতের মধ্যে একমাত্র জীবিত বিষয় হল কম্পিউটার!

উপরোক্ত দৃষ্টিভঙ্গীর প্রেক্ষিতে জনসাধারণের পর্যায়ে আমি একটি ধারাবাহিক নিবন্ধ লিখব বলে ভাবছি। এই ধারাবাহিকের পর্বগুলিতে আমার নিজস্ব চিন্তা ভাবনা যেমন আসবে, তেমনি আসবে এ বিষয়ে বিভিন্ন গুনীজনের লেখা বই বা প্রবন্ধের ভাষান্তর। গণনাবিদ্যা (কম্পিউটার বিজ্ঞান), কৃত্রিম বুদ্ধিবিজ্ঞান (আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স), দর্শন, মনোবিজ্ঞান, যুক্তি বা বিশ্বাসভিত্তিক জীবনাচরন সম্পর্কে আগ্রহী পাঠক/পাঠিকাদের মন্তব্য আমাদের আলোচনাকে সমৃদ্ধ করবে বলে আমার ধারনা। আমাদের আলোচনার গন্ডী হবে বিশেষজ্ঞদের আর জনসাধারনের জানার পরিধির মিলনরেখায়

পর্ব ১.০ -- ভেল্কি, বুদ্ধি ও যন্ত্রঃ মজার খেলা "ভবয"

পর্ব ২ -- দ্বিখন্ড উদ্ভাবনঃ আখিলিস ও কচ্ছপের যুক্তিতর্কের গল্প।

পর্ব ১ -- ত্রিখন্ড উদ্ভাবনঃ জেনো, আখিলিস ও কচ্ছপের গল্প।


গণনাভিত্তিক বুদ্ধিবিদ্যার দর্শন (Philosophy of Computing-Based Intelligence) পর্ব ৩ -- ছবি ও পটঃ নিঃসঙ্গ আখিলিসের বাজনা সঙ্গীত।

হফস্ট্যাডটার প্রণীত পুলিৎজার পুরস্কার প্রাপ্ত জিইবিঃইজিবি অবলম্বনে।

টেলিফোন বাজছে; আখিলিস ফোনটা তুলল।

আখিলিসঃ আখিলিস বলছি!

আখিলিসঃ ওহ, জনাব কচ্ছপ, কেমন আছ?

আখিলিসঃ কি বলছ! গলার পেশীগুলোতে টান পড়ে মাথাটা একদিকে হেলে গেছে? শুনে আমার খুব খারাপ লাগছে। কেন এটা হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু ধারনা করতে পেরেছ?

আখিলিসঃ কতক্ষন ধরে এইভাবে আছ?

আখিলিসঃ তাহলে অবশ্যই, ঐখানটায় জমে গেছে। এই ধরাধামে এমন কী আছে যেটা তোমাকে মাথাটা ঐভাবে কাত করে রাখতে বাধ্য করছে?

আখিলিসঃ কী বললে, অনেক কিছু? কী ধরনের, কোন উদাহরণ?

আখিলিসঃ কী বুঝাতে চাচ্ছ? আবাস্তবজাতীয় কিছু জন্তুজানোয়ারের একসাথে আঁকা কিছু ছবি?

আখিলিসঃ এগুলোর অনেক গুলোকে একসাথে দেখা নিশ্চয় খুব ভয়ংকর?

আখিলিসঃ একটা গিটার! এই সব অদ্ভুত জন্তু জানোয়ারের মধ্যে আবার এসব কি? বলছ, তুমি গিটারটা বাজাতে পারছ না?

আখিলিসঃ আমার কাছে এগুলি সব সমান।

আখিলিসঃ তুমি ঠিকই বলেছ; আমি জানিনা কেন এতদিন একটা গিটার ও একটা ভায়োলিনের মধ্যে তফাৎ আমার নজরে পড়ে নি। ভায়োলিনের কথা যেহেতু বলছ, আমার এখানে চলে আসবে নাকি, আমার কাছে তোমার পছন্দের গীতিকবি ব্যাকের একটি বাদ্যসংগীত আছে, যা একাকী শোনার জন্য চমৎকার? আমি নতুন একটা সংগ্রহ কিনেছি। আমি বুঝতে পারি না কি করে ব্যাক মাত্র একটা ভায়োলিন ব্যবহার করে এত মজার সংগীত তৈরী করে।

আখিলিসঃ কী বলছ, তোমার মাথাব্যথাও শুরু হয়েছে? এ তো দেখছি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। তোমার বোধ হয় বিছানায় যাওয়া উচিৎ।

আখিলিসঃ তুমি কি কখনও নীচের দিকে গনণা করার চেষ্টা করে দেখেছ?

আখিলিসঃ আবার কী হল? হমম, কী বলছ বুঝতে পারছি। সেটা কি তোমাকে খুব ভাবাচ্ছে, হয়ত তুমি সেটা আমাকেও বলতে পার, আমিও একই সাথে চেষ্টা করে দেখি।

আখিলিসঃ একটা শব্দ যার ভিতরে ব আর থ অক্ষর দুটো উল্টাদিকে পরপর আছে? 'ব্যর্থতা' শব্দটা তো তাই?

আখিলিসঃ হমম ঠিকই বলেছ, 'ব্যর্থতা' শব্দটাতে ব ও থ উল্টোদিকে নাই, সামনের দিকে।

আখিলিসঃ ঘন্টার পর ঘন্টা! মনে হচ্ছেও আমিও এই কঠিন ধাঁধাঁয় আটকে গেলাম। তা তুমি এই বিরক্তিকর ধাঁধাঁ পেলে কোথায়?

আখিলিসঃ তুমি বলতে চাচ্ছ, তাকে দেখে মনে হচ্ছিল সে শুধু গুটিকয়েক লোকের জানা বৌদ্ধ কোন একটা বিষয়ের উপর ধ্যান করছিল, কিন্তু আসলে সে এই রকম জটিল শব্দের ধাঁধাঁ বিষয়ে ভাবছিল?

আখিলিসঃ আহা! শামুকটা জানত লোকটা কি করছে! কিন্তু তুমি কি করে শামুকের সাথে কথা বললে?

আখিলিসঃ আমিও কোন একসময় এই রকম একটা ধাঁধাঁর কথা শুনেছিলাম। তুমি কি সেটা শুনতে চাও। নাকি সেটা তোমাকে আরো বেশী বিরক্ত করবে।

আখিলিসঃ সেটা তোমার কোন ক্ষতি করবে না, স্বীকার করছি। আচ্ছা এমন একটা শব্দ বল, যার প্রথম দুই অক্ষরও যা যা আবার প্রথম ও শেষ অক্ষর ও তা তা?

আখিলিসঃ চমৎকার। কিন্তু, এটা তো প্রতারনা হয়ে গেল। আমি যেটা ভেবেছি, এটা অবশ্যই সেটা নয়!

আখিলিসঃ হমম, ঠিকই বলেছ, এটা শর্তগুলোতো পুরন করে ঠিকই, কিন্তু এটা সবচেয়ে খারাপ সমাধান গুলোর একটি। আর একটা সমাধান আছে, যার কথা আমি ভেবেছিলাম।

আখিলিসঃ হমম, এটা ঠিক সেটাই। কি ভাবে এত তাড়াতাড়ি এটা বলতে পারলে।

আখিলিসঃ সুতরাং, দেখ কষ্ট দেয়ার বদলে, "মাথাব্যথা" বরং এখানে তোমাকে সাহায্য করছে। কিন্তু আমি এখনও তোমার ধাঁধাঁটির বিষয়ে অন্ধকারে আছি।

আখিলিসঃ অভিনন্দন, এখন তাহলে তুমি ঘুমাতে যেতে পারবে। তবে তার আগে তোমার ধাঁধাঁটির সমাধান আমাকে বলে যাও।

আখিলিসঃ দেখ, আমি আকার ইংগিত পছন্দ করি না। আচ্ছা ঠিক আছে, বল তোমার ইংগিতটা কি?

আখিলিসঃ আমি বুঝতে পারছি না তুমি "ছবি" আর "পট" দিয়ে এখানে কি বুঝাতে চাচ্ছ।

আখিলিসঃ আমি অবশ্যই এশারের আঁকা মোজাইক-২ এর কথা জানি। আমি এশারের আঁকা সব ছবিই দেখেছি। সে হচ্ছে আমার প্রিয় চিত্রশিল্পী। যাইহোক, আমার ঘরের দেয়ালে মোজাইক২ এর একটা ছাপা টানানো আছে, আর আমি সেটা এখনও স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি।

আখিলিসঃ হমম, আমি সব কালো প্রাণীগুলো দেখতে পাচ্ছি।

আখিলিসঃ হমম, আমি তাদের বিপরীত ছবি গুলোও দেখতে পাচ্ছি। মাঝখানের খালি অংশগুলো মিলে হয়েছে সাদা প্রাণীগুলো।

আখিলিসঃ তাহলে এই হচ্ছে তোমার "ছবি" ও "পট"। কিন্তু এটার সাথে তোমার ধাঁধাঁটির কি সম্পর্ক?

আখিলিসঃ নাহ, এটা আমার জন্য খুব বেশী জটিল। আমার মনে হয়, আমারও মাথাব্যথা শুরু হতে যাচ্ছে।

আখিলিসঃ তুমি এখন আমার এখানে আসতে চাইছ! কিন্তু আমি ভেবেছিলাম...

আখিলিসঃ ঠিক আছে, আমি এর মধ্যে তোমার ধাঁধাঁটির সঠিক উত্তর বের করে ফেলব। আর আমার ধাঁধাঁর উত্তর এবং তোমার "ছবি" ও "পট" সব মিলিয়েই বের করে ফেলব।

আখিলিসঃ ওগুলো বাজাতে আমার খুব মজাই লাগবে!

আখিলিসঃ তুমি এগুলো নিয়ে একটা তত্ত্বও দাঁড় করিয়ে ফেলেছ?

আখিলিসঃ সাথে কোন যন্ত্রটা বাজাতে চাইছ।

আখিলিসঃ দেখ, তাই যদি হয়, তবে অবাক বিষয় হল সে তাহলে পিয়ানোর অংশটুকু রাখত না।

আখিলিসঃ বলছ, এটা একটা ঐচ্ছিক ধরনের বিষয় হবে। লোকে চাইলে সেটা এর সাথে শুনতে পারে, আবার চাইলে নাও শুনতে পারে। কিন্তু লোকে কি করে জানবে সাথের এই ঐচ্ছিক বিষয়টুকু কেমন শুনাবে?

আখিলিসঃ ওহ, শ্রোতার কল্পনার উপরে ছেড়ে দেয়ায় সবচেয়ে ভাল হবে। আর সম্ভবত ব্যাকের মনে এই সাথের ঐচ্ছিক অংশটুকুর কথা একদমই ছিল না। কিন্তু তার ঐ বাজনা গুলো ভালই কাজ করে দেখছি।

আখিলিসঃ ঠিক আছে, শীঘ্রই দেখা হচ্ছে।

আখিলিসঃ খোদা হাফেজ, কচ্ছপ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29119918 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29119918 2010-03-20 01:49:32
গণনাভিত্তিক বুদ্ধিবিজ্ঞানের দর্শন (১.০) -- ভেল্কি, বুদ্ধি ও যন্ত্রঃ মজার খেলা

কম্পিউটার বিজ্ঞানের লোকায়ত, ফলিত ও কারিগরী বিষয়ের চেয়ে বরাবরই আমার আগ্রহ বেশী এর চিরায়ত বুদ্ধিবৃত্তিক ও দার্শনিক বিষয়ে। জীবিত কোন প্রানীকে তার স্বাভাবিক বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মের একটা নুন্যতম পর্যায় সাপেক্ষে কোন কৃত্রিম যন্ত্রদিয়ে প্রতিস্থাপনের কথা চিন্তা করলে, মানব উদ্ভাবিত অন্য সকল যন্ত্রের বিফলতার মাঝে একমাত্র কম্পিউটারই কিছুটা সফলতার আশা জাগায়। আমার ভাষায় তাই জড় জগতের মধ্যে একমাত্র জীবিত বিষয় হল কম্পিউটার

উপরোক্ত দৃষ্টিভঙ্গীর প্রেক্ষিতে জনসাধারণের পর্যায়ে আমি একটি ধারাবাহিক নিবন্ধ লিখব বলে ভাবছি। এই ধারাবাহিকের পর্বগুলিতে আমার নিজস্ব চিন্তা ভাবনা যেমন আসবে, তেমনি আসবে এ বিষয়ে বিভিন্ন গুনীজনের লেখা বই বা প্রবন্ধের ভাষান্তর। গণনাবিদ্যা (কম্পিউটার বিজ্ঞান), কৃত্রিম বুদ্ধিবিজ্ঞান (আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স), দর্শন, মনোবিজ্ঞান, যুক্তি বা বিশ্বাসভিত্তিক জীবনাচরন সম্পর্কে আগ্রহী পাঠক/পাঠিকাদের মন্তব্য আমাদের আলোচনাকে সমৃদ্ধ করবে বলে আমার ধারনা। আমাদের আলোচনার গন্ডী হবে বিশেষজ্ঞদের আর জনসাধারনের জানার পরিধির মিলনরেখায়।

পর্ব ২ -- দ্বিখন্ড উদ্ভাবনঃ আখিলিস ও কচ্ছপের যুক্তিতর্কের গল্প।

পর্ব ১ -- ত্রিখন্ড উদ্ভাবনঃ জেনো, আখিলিস ও কচ্ছপের গল্প।

গণনাভিত্তিক বুদ্ধিবিদ্যার দর্শন (Philosophy of Computing-Based Intelligence) পর্ব ১.০ -- ভেল্কি, বুদ্ধি ও যন্ত্রঃ মজার খেলা "ভবয"

হফস্ট্যাডটার প্রণীত পুলিৎজার পুরস্কার প্রাপ্ত জিইবিঃইজিবি অবলম্বনে।

বিধিবদ্ধ বিশ্ব

আলোচ্য ধারাবাহিকের একটি কেন্দ্রীয় বিষয় হল বিধিবদ্ধ বিশ্ব। এই পর্বে আমরা তাই বিধিবদ্ধ বিশ্ব সম্পর্কে জানব। এই ধারাবাহিকে ব্যবহৃত বিধিবদ্ধ বিশ্বগুলো যুক্তি গবেষক এমিল পোস্টের আবিস্কৃত বিশেষ একধরনের উৎপাদন পদ্ধতির কাছাকাছি। আমার আশা পাঠকবৃন্দ নিজ নিজ অনুসন্ধিৎসা বাড়ানোর জন্য বিধিবদ্ধ বিশ্ব নিয়ে কিছুটা অনুশীলন করবেন। আর সেই অনুশীলনের সুবিধার্থে আমরা এখানে একটা ছোট মজার খেলার সাথে পরিচিত হব।

"আপনি কি "যভ" উৎপাদন করতে পারেন? -- এইটিই হল মজার খেলা। শুরুতে আপনাকে একটা চিহ্নরশ্মি (কয়েকটা চিহ্ন, যেমন বর্ণ বা অংক, পরপর বসালে যা পাওয়া যায়) দেয়া হবে। কষ্ট করে ধৈর্য ধরার দরকার নেই, চিহ্নরশ্মিটি হবে "যব"। তারপর আপনাকে কিছু বিধি বা নিয়ম বলে দেয়া হবে, যে নিয়মগুলো দিয়ে আপনি একটা চিহ্নরশ্মিকে পরিবর্তন করে আরেকটা চিহ্নরশ্মিতে পরিণত করতে পারবেন। নিয়মগুলোর কোন একটি যদি প্রয়োগযোগ্য হয়, আর আপনি যদি সেটা প্রয়োগ করতে চান, আপনি সেটা করতে পারেন। কিন্তু-- একসাথে একাধিক নিয়ম যদি প্রয়োগযোগ্য হয়, তাহলে ঠিক কোনটা প্রয়োগ করতে হবে সেই বিষয়ে কোন কিছুই বলা নেই। তাই এর পুরোটাই আপনার উপরে নির্ভর করে--বাস্তবিক এখানেই বিধিবদ্ধ বিশ্বের খেলাগুলো এত মজার আর এইসব খেলায় দক্ষতা অর্জনের বিষয়টি শিল্পের পর্যায়েও পড়ে। সবচেয়ে বড় উল্লেখযোগ্য বিষয় যেটি, তা অবশ্য না বললেও চলে, সেটি হল আপনি এমন কোন কিছুই করতে পারবেন না যা নিয়মগুলোতে পড়ে না। আমরা এই বিধিনিষেধকে বলতে পারি "বিধিবিধানের বাধ্যবাধকতা"। বিধিবদ্ধ বিশ্বের খেলা মজার ও সহজ মনে হলেও পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলে আপনি বার বার "বিধিবিধানের বাধ্যবাধকতা" বিষয়ে ভুল করবেন, আর এটিই স্বাভাবিক, যদিও একই সাথে এটি অদ্ভুত।

আমাদের বিধিবদ্ধ বিশ্ব "ভবয" (যার নামটি ভেল্কি, বুদ্ধি ও যন্ত্র এর আদ্যাক্ষর নিয়ে গঠিত) মাত্র তিনটি চিহ্ন 'ভ', 'ব', ও 'য' নিয়ে গঠিত। এর মানে হচ্ছে আমরা "ভবয" বিশ্ব থেকে শুধু মাত্র সেই চিহ্নরশ্মিগুলোই তৈরী করতে পারব যেগুলি কেবল ঐ তিনটি চিহ্নদিয়ে গঠিত। নীচে "ভবয" জগতের কিছু চিহ্নরশ্মির উদাহরণ দেয়া হলঃ

যভ
ভবয
যভভযভভ
ভবববভযবভভবয

যদিও উপরের সবগুলোই নিয়মসিদ্ধ চিহ্নরশ্মি, খেলা শুরু করার জন্য কিন্তু আপনাকে এর সবগুলো দেয়া হবে না। আপনাকে দেয়া হল শুধু "যব"। তারপর শুধু নীচের দেয়া বিধিগুলো ব্যবহার করে আপনি আপনার চিহ্নরশ্মির নিজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে পারেন। বিধিগুলোর প্রথমটি হলঃ

বিধি ক) আপনার কাছে যদি এমন একটা চিহ্নরশ্মি থাকে যার শেষ চিহ্ন 'ব', আপনি তাহলে সেই চিহ্নরশ্মির শেষে একটা "ভ" বসিয়ে নিতে পারেন। সেটি হবে আপনার সংগ্রহের আর একটি চিহ্নরশ্মি।

চিহ্নরশ্মির বিষয়টি যদি এখনও বুঝতে অসুবিধা হয়, তবে জেনে রাখুন "যব" আর "বয" কিন্তু আলাদা আলাদা চিহ্নরশ্মি, চিহ্নগুলোর অবস্থানের ক্রম এখানে গুরুত্বপূর্ণ। চিহ্নরশ্মি কোন চিহ্নসংগ্রহ নয়, কাজেই তাতে ক্রম বদলালে তা অার এক থাকে না।

উপরের বিধির কিছু উদাহরণ নিম্নরূপঃ

'যব' থেকে অাপনি পেতে পারেন 'যবভ' (শেষে 'ব' থাকায় অতিরিক্ত 'ভ' বসিয়ে)
'যভব' থেকে পেতে পারেন 'যভবভ' (শেষে 'ব' থাকায় অতিরিক্ত 'ভ' বসিয়ে)

বিধিগুলোর দ্বিতীয়টি হলঃ

বিধি খ) ধরুন আপনার কাছে "যচ" আছে। আপনি তাহলে আপনার সংগ্রহে আর একটি চিহ্নরশ্মি যোগ করতে পারেন সেটি হল "যচচ"।

উপরের বিধিতে 'চ' যেকোন চিহ্নরশ্মিকে বুঝায় ('চলক' এর অাদ্যাক্ষর 'চ'), কিন্তু আপনি যদি বিধি প্রয়োগের সময় একবার ঠিক করে ফেলেন, 'চ' দিয়ে কোন একটি নির্দিষ্ট চিহ্নরশ্মিকে বুঝাবেন, তারপর আপনাকে এই বিধির পূর্ণ প্রয়োগ হওয়া পর্যন্ত 'চ' দিয়ে কেবল সেই চিহ্নরশ্মিকেই বুঝাতে হবে। তবে পরে আবার কোন বার যদি এই বিধি প্রয়োগ করতে চান, তখন আপনি 'চ' দিয়ে নতুন কোন চিহ্নরশ্মিকে বুঝাতে পারবেন। আর একটা কথা উল্লেখ করা উচিৎ তা হচ্ছে 'চ' কিন্তু 'ভ', 'ব' বা 'য' এর মত আমাদের 'ভবয' জগতের অন্তর্ভুক্ত নয়। এখানে 'চ' শুধু আমাদের এই বিষয়ে সাহায্য করে যে 'চ' দিয়ে আমরা যে কোন নিয়মসিদ্ধ 'ভবয' জগতের চিহ্নরশ্মিকে বুঝাতে পারি। আপনি যদি কোনভাবে আক্ষরিক 'চ' কে ('চ' দিয়ে যেটিকে বুঝিয়েছেন সেটাকে নয়) আপনার চিহ্নরশ্মির সংগ্রহে ঢুকিয়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চিতভাবেই আপনি একটা বড় ভুল করেছেন। মনে করে দেখুন, "ভবয" জগতে কোন চিহ্নরশ্মিতেই 'চ' থাকতে পারবেনা।

যাইহোক, নীচের উদাহরণ গুলো বিধি খ অনুযায়ী পাওয়া যায়।

'যবভ' থেকে আপনি পেতে পারেন 'যবভবভ' (এখানে 'চ' হল 'বভ')
'যভয' থেকে আপনি পেতে পারেন 'যভযভয' (এখানে 'চ' হল 'ভয')
'যভ' থেকে আপনি পেতে পারেন 'যভভ' (এখানে 'চ' হল 'ভ')

এবার দেখা যাক তৃতীয় বিধিটিঃ

গ) যদি 'ববব' আপনার সংগ্রহের কোন চিহ্নরশ্মিতে থাকে, তাহলে আপনি নতুন একটা চিহ্নরশ্মি পেতে পারেন যেখান 'ববব' এর জায়গায় থাকবে 'ভ'।

এই বিধি প্রয়োগের কিছু উদাহরণঃ

'যববব' থেকে আপনি পাবেন 'যভ'
'ভযবববযভ' থেকে পাবেন 'ভযভযভ' ('ববব' এর বদলে 'ভ')
'যবববব' থেকে আপনি পাবেন 'যভব' বা 'যবভ' (প্রথম বা শেষ দিক থেকে 'ববব' এর বদলে 'ভ' বসিয়ে।)
'ববযবব' থেকে আপনি কিছুই পাবেন না কারন এখানে তিনটি 'ব' পরপর নেই।

আপনি কোনভাবেই কোন বিধি বিপরীত দিকে প্রয়োগ করতে পারবেন না। যেমন 'যভ' থেকে আপনি বিধি গ বিপরীত দিকে প্রয়োগ করে 'যববব' পাবেন না। মনে রাখতে হবে সকল বিধির প্রয়োগ একমুখী।

এবার অামরা সর্বশেষ বিধিটি দেখিঃ

বিধি ঘ) যদি কোন চিহ্নরশ্মিতে 'ভভ' থাকে, তাহলে আপনি 'ভভ' কে বাদ দিয়ে অন্য চিহ্নগুলো নিয়ে নতুন একটি চিহ্নরশ্মি পেতে পারেন।

বিধি ঘ এর উধাহরণ নিম্নরূপঃ

'ভভভ' থেকে আপনি পেতে পারেন 'ভ'।
'যভভভববব' থেকে আপনি পেতে পারেন 'যভববব'।

আপনাকে পুরো 'ভবয' বিশ্ব দেয়া হয়েছে। আপনি 'যব' থেকে শুরু করে বিধিগুলো প্রয়োগ করে 'যভ' উৎপাদনের চেষ্টা করে পারেন। না পারলে খুব বেশী উদ্বিগ্ন হওয়ার দরকার নেই। শুধু অল্প একটু চেষ্টা করুন -- আসল বিষয় হল 'ভবয' জগতের মজার খেলার একটু খানি স্বাদ পাওয়া। আমরা পরবর্তীতে এই খেলার সমাধান আর ভেল্কী, বুদ্ধি, ও যন্ত্র এর বিষয়গুলো সম্পর্কে জানব।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29117706 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29117706 2010-03-16 20:27:11
গণনাভিত্তিক বুদ্ধিবিজ্ঞানের দর্শন (২) -- দ্বিখন্ড উদ্ভাবনঃ আখিলিস ও কচ্ছপের যুক্তিতর্কের গল্প।

কম্পিউটার বিজ্ঞানের লোকায়ত, ফলিত ও কারিগরী বিষয়ের চেয়ে বরাবরই আমার আগ্রহ বেশী এর চিরায়ত বুদ্ধিবৃত্তিক ও দার্শনিক বিষয়ে। জীবিত কোন প্রানীকে তার স্বাভাবিক বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মের একটা নুন্যতম পর্যায় সাপেক্ষে কোন কৃত্রিম যন্ত্রদিয়ে প্রতিস্থাপনের কথা চিন্তা করলে, মানব উদ্ভাবিত অন্য সকল যন্ত্রের বিফলতার মাঝে একমাত্র কম্পিউটারই কিছুটা সফলতার আশা জাগায়। আমার ভাষায় তাই জড় জগতের মধ্যে একমাত্র জীবিত বিষয় হল কম্পিউটার!

উপরোক্ত দৃষ্টিভঙ্গীর প্রেক্ষিতে জনসাধারণের পর্যায়ে আমি একটি ধারাবাহিক নিবন্ধ লিখব বলে ভাবছি। এই ধারাবাহিকের পর্বগুলিতে আমার নিজস্ব চিন্তা ভাবনা যেমন আসবে, তেমনি আসবে এ বিষয়ে বিভিন্ন গুনীজনের লেখা বই বা প্রবন্ধের ভাষান্তর। গণনাবিদ্যা (কম্পিউটার বিজ্ঞান), কৃত্রিম বুদ্ধিবিজ্ঞান (আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স), দর্শন, মনোবিজ্ঞান, যুক্তি বা বিশ্বাসভিত্তিক জীবনাচরন সম্পর্কে আগ্রহী পাঠক/পাঠিকাদের মন্তব্য আমাদের আলোচনাকে সমৃদ্ধ করবে বলে আমার ধারনা। আমাদের আলোচনার গন্ডী হবে বিশেষজ্ঞদের আর জনসাধারনের জানার পরিধির মিলনরেখায়।

পর্ব ১ -- ত্রিখন্ড উদ্ভাবনঃ জেনো, আখিলিস ও কচ্ছপের গল্প।

গণনাভিত্তিক বুদ্ধিবিদ্যার দর্শন (Philosophy of Computing-Based Intelligence) পর্ব ২ -- দ্বিখন্ড উদ্ভাবন।

হফস্ট্যাডটার প্রণীত পুলিৎজার পুরস্কার প্রাপ্ত জিইবিঃইজিবি অবলম্বনে। কচ্ছপ আখিলিসকে যাহা বলেছিল -- লুই ক্যারোল।

কচ্ছপকে অতিক্রম করে গিয়ে আখিলিস তার উপরে বসে পড়ল।

"তুমি তাহলে অামাকে ধরে ফেললে, যদিও অামাদের মধ্যের ব্যবধানটি ছিল অসীম সংখ্যক দুরত্বের যোগফল?" কচ্ছপ বলল। "আমি ভেবেছিলাম কোন সবজান্তা বা অন্যকেউ প্রমাণ করেছে যে তুমি অামাকে ধরতে পারবে না।"

"তোমাকে ধরা সম্ভব ছিল, দেখতে পাচ্ছ ইতিমধ্যে অামি তোমাকে ধরে ফেলেছি।" আখিলিস বলল। "লক্ষ করেছ, দুরত্বগুলো ক্রমশ কমে আসছিল। সুতরাং..."

"কিন্তু দুরত্ব গুলো যদি ক্রমশ বাড়তে থাকত!" কচ্ছপ বলল। "তাহলে কি হত?"

"তাহলে আমি তোমাকে ধরতে পারতাম না," আখিলিস বিনয়ের সাথে জবাব দিল। "তবে তুমি অবশ্য এই সময়ে গোটা পৃথিবীটা কয়েক বার ঘুরে আসতে পারতে!"

"টিপ্পনি কাটছ! অবশ্য তুমি যেরকম কেউকেটা, তোমার কথা তো ভুল হতে পারে না!" কচ্ছপ বলল। "আচ্ছা এখন বল তুমি কি এমন একটা রাস্তার কথা শুনতে চাও যা এক বা দুই ধাপে অতিক্রম করার জন্য অধিকাংশ লোকই মুখিয়ে থাকে, যদিও রাস্তাটি অসীম সংখ্যক দুরত্বের যোগফল আর সেগুলির পরেরটি সবসময় পূর্বেরটি থেকে বেশী।

"অতি অবশ্যই!" গ্রীক যোদ্ধা আখিলিস বলল। তারপর তার মাথার হেলমেটের ভিতর (সেকালে গ্রীক যোদ্ধাদের পোষাকে কোন পকেট থাকত না) থেকে একটা বড় নোটবই আর একটা পেন্সিল বের করল। "ঠিক আছে বলে যাও, তবে আস্তে, ধীরে! মনে রেখ, সাঁটলিপিতো এখনও আবিস্কার হয় নি।"

স্বপ্নাবিষ্টের মত কচ্ছপ বলল, "ইউক্লিডের সেই প্রথম উপপাদ্যের কথা শুনেছ? অার তুমি কি কোনভাবে ইউক্লিডকে পছন্দ কর?"

"হমম, অনেক পছন্দ করি! অন্তত বিশাল প্রবন্ধ যেমন লোকে পছন্দ করে কিছুটা সেই রকম, সেই প্রবন্ধ অবশ্য অারো কয়েক শতাব্দি পরে প্রকাশিত হবে।"

"আচ্ছা চল আমরা সেই উপপাদ্য বিষয়ে কিছুটা আলোচনা করি -- শুধু মাত্র দুইটা ধাপ আর তার উপর ভিত্তি করে পাওয়া উপসংহারটি। তুমি তোমার নোটবইতে টুকে নিতে পার। আর বলার সুবিধার্থে ধরা যাক সেগুলি ক, খ, আর ম --

ক) যে জিনিসগুলি একই জিনিসের সমান তারা নিজেরাও পরস্পরের সমান।
খ) এই ত্রিভুজের দুইটি বাহু একই জিনিসের সমান।
ম) ত্রিভুজের বাহুদুটি পরস্পরের সমান।

আমার ধারনা ইউক্লিডের পাঠকেরা মেনে নিবেন যে ক ও খ থেকে যৌক্তিকভাবেই ম পাওয়া যায়। তাই কেউ যদি ক ও খ কে সত্য বলে মেনে নেয় তাহলে সে অবশ্যই ম কে সত্য বলে মেনে নেবে।"

"সন্দেহাতীত ভাবে! বিদ্যালয়ের সবচেয়ে কম বয়সী শিশুটিও এগুলি মেনে নেবে। অবশ্য বিদ্যালয় এখনও অাবিস্কার হয়নি, আনুমানিক অারো দুইহাজার বছর পরে অাবিস্কার হবে।"

"আর কেউ যদি ক ও খ এর সত্যতা মেনে নাও নিয়ে থাকে, আমার ধারনা, তবুও সে এগুলির পরম্পরা মেনে নিতে পারে।"

"কোন সন্দেহ নেই এই রকম কেউ থাকতেও পারে। সে বলতে পারে, 'যদি ক ও খ সত্য হয় তাহলে অবশ্যি ম সত্য' আমি এই উপপাদ্যটি সত্য বলে মেনে নিচ্ছি কিন্তু ক ও খ সত্য আমি তা মানি না।' এই রকম ব্যক্তি, বেশ কিছু জ্ঞানীদের মতই ইউক্লিডকে বর্জন করে, বরং ক্রিকেট খেলা শুরু করতে পারে।"

"আর এমন লোকও থাকতে পারে যে বলতে পারে 'আমি ক ও খ সত্য বলে ধরে নিচ্ছি কিন্তু আমি উপপাদ্যটিকে সত্য বলে মানি না'?"

"অবশ্যই সেরকমও থাকতে পারে। সেও বরং ক্রিকেট খেলা শুরু করতে পারে।"

"আর এই দুই ধরনের লোকদের কেউই ম কে সত্যি বলে মেনে নেয়ার মত যৌক্তিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে না।"

"হমম, সে রকমই মনে হচ্ছে" আখিলিস সম্মতি দিল।

"যাকগে আমি চাই অাপাতত আমাকে তুমি উপরের দ্বিতীয় দলের লোক মনে কর আর যুক্তি দিয়ে বাধ্য কর যাতে আমি ম কে সত্য বলে মেনে নেই।"

"একটা কচ্ছপ ক্রিকেট খেলছে, এটি--" আখিলিস শুরু করল।

"এটি অবশ্যই একটি বিচ্যুতি" কচ্ছপ তাড়াতাড়ি জবাব দিল। "তবে মুল বিষয় থেকে সরে যেও না।" আস আগে আমরা ম নিয়ে কথা বলি, ক্রিকেটের কথা পরে হবে।"

"আমি তোমাকে ম মেনে নিতে বাধ্য করব, তাই তো?" কৌতুক সহকারে আখিলিস বলল। "আর তোমার অবস্থা হচ্ছে তুমি ক ও খ মেনে নিয়েছ, কিন্তু তুমি উপপাদ্যটি মানছ না--"

"আচ্ছা আমরা এটিকে গ বলে ধরে নিতে পারি", কচ্ছপ বলল।

"গ) যদি ক ও খ সত্য হয় তবে ম অবশ্যই সত্য।

তবে তুমি তা মানছ না"

"হ্যাঁ এটিই হচ্ছে আমার বর্তমান অবস্থান।" কচ্ছপ বলল।

"তাহলে আমার অবশ্যই তোমাকে গ মেনে নিতে বলা উচিৎ।"

কচ্ছপ বলল, "আমি তা মেনে নেব যদি তুমি এটি তোমার নোটবইয়ে টুকে নাও। তোমার নোটবইটিতে আর কী কী আছে?"

"শুধু অল্প কিছু স্মর্তব্য বিষয়, যেমন কোন্ কোন্ যুদ্ধে আমি নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরতে পেরেছিলাম, সেগুলি", আখিলিস দূর্বল ভাবে জানাল।

"দেখতে পাচ্ছি, অনেক খালি পাতা আছে নোটবইটিতে। আমাদের ঐসব গুলোই দরকার হবে", কচ্ছপ হাসতে হাসতে বলল। "এখন আমি যা বলি তুমি তা লিখ--

ক) যে জিনিসগুলি একই জিনিসের সমান তারা নিজেরাও পরস্পরের সমান।
খ) এই ত্রিভুজের দুইটি বাহু একই জিনিসের সমান।
গ) যদি ক ও খ সত্যি হয় তবে ম অবশ্যই সত্যি।
ম) ত্রিভুজের বাহুদুটি পরস্পরের সমান।"

"তুমি শেষেরটিকে ঘ বলতে পার, ম নয়। এটা অন্য তিনটার ঠিক পরেই আসে। যাইহোক তুমি যদি ক, খ, ও গ মেনে নাও তাহলে তোমাকে অবশ্যই ম মেনে নিতে হবে।"

"কেন আমাকে অবশ্যই সেটা মানতে হবে?"

"কারন এটা অন্যগুলি থেকে যুক্তির মাধ্যমেই আসে। যদি ক, খ, ও গ সত্য হয় তাহলে ম অবশ্যই সত্য। আমার ধারনা, তুমি অবশ্যই তার বিরোধীতা করতে পারনা"

"যদি ক, খ, ও গ সত্য হয় তাহলে ম অবশ্যই সত্য।" কচ্ছপ কয়েক বার উচ্চারন করল। আরে, এটি তো আরেকটি উপপাদ্য, তাই না? আর আমি যদি এটার সত্যতা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হই তাহলে আমি ক, খ, ও গ এর সত্যতা মেনে নেয়া সত্বেও ম মেনে না নিতে পারি। তাই না"

"হমম, তুমি তা মেনে নিতে না পার" আখিলিস বলল। "তবে এই রকম মুর্খতা নিশ্চিতভাবেই অচিন্তনীয় হবে। যাইহোক তারপরও এটি সম্ভব। তাই তোমাকে আমার আর একটি উপপাদ্য মেনে নিতে বলা উচিৎ।"

"ঠিক আছে, আমি সেটা করতে প্রস্তুত। তুমি এটা নোটবুকে লিখে ফেল। আমরা এটা কে বলতে পারি

ঘ) যদি ক, খ, ও গ সত্য হয় তবে ম অবশ্যই সত্য।"

"ঠিক আছে লিখেছি।" আখিলিস উৎফুল্ল হয়ে বলল। পেন্সিলের ধারালো মাথা এর মধ্যে ভোঁতা হয়ে এল। "যাক, আমরা তাহলে এই খেলার শেষ প্রান্তে পৌঁছালাম। যেহেতু তুমি ক, খ, গ, ও ঘ মেনেছ, তুমি অবশ্যই ম মানবে।"

"মেনেছি নাকি?" নির্বোধের মত বলল কচ্ছপ। "আচ্ছা পরিস্কার করেই বলি। আমি ক, খ, গ, ও ঘ মেনে নিলাম। ধরে নাও আমি এখনও ম মেনে নিচ্ছি না।"

"তাহলে যুক্তি তোমাকে গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে দেবে, আর তোমাকে মেনে নিতে বাধ্য করবে।" বিজয়ীর সুরে আখিলিস বলল। "যুক্তি তোমাকে শুধু বলতে পারে, 'তুমি নিজে নিজেকে বুঝাতে পার না। তুমি যেহেতু ক, খ, গ, ও ঘ মেনে নিয়েছ, তোমাকে অবশ্যই ম মেনে নিতে হবে।' সুতরাং দেখ, তোমার আর কিছু করার নেই।"

"আমাকে বলার মত যুক্তি সে যেটাই হোক তুমি তা লিখে ফেলতে পার।" কচ্ছপ বলল। "তুমি দয়া করে এটা লিখে ফেল। আমরা এটাকে বলব

ঙ) যদি ক, খ, গ, ও ঘ সত্য হয় তাহলে অবশ্যই ম সত্য।

আমি এটা মেনে না নেয়া পর্যন্ত তো ম মেনে নিতে হবে না! তাই এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

"তাই তো দেখছি," বিষাদ মাখা কন্ঠে আখিলিস বলল।

গল্পের বর্ণনাকারী এই পর্যায়ে হাল ছেড়ে দিয়ে তার নিজের কাজে চলে গেল। তারপর আবার সে যখন এমুখো হয়েছে, ইতিমধ্যে কয়েক মাস চলে গিয়েছে। কিন্তু আখিলিস তখনও বসে বসে মহা ধৈর্যের সাথে কচ্ছপকে সহ্য করে তার নোটবইয়ে লিখে চলছে। আর নোটবইটা ইতিমধ্যে প্রায় ভরে গিয়েছে। কচ্ছপ বলছে, "তুমি কি শেষ ধাপটি লিখেছ? আমি যদি গুনতে ভুল না করে থাকি তাহলে এটা হবে এক হাজার এক নম্বর ধাপ। আরও কয়েক লাখ এখনও বাঁকী।"

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29117208 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29117208 2010-03-16 02:29:05
গণনাভিত্তিক বুদ্ধিবিজ্ঞানের দর্শন (১) -- ত্রিখন্ড উদ্ভাবনঃ জেনো, আখিলিস ও কচ্ছপের গল্প।

কম্পিউটার বিজ্ঞানের লোকায়ত, ফলিত ও কারিগরী বিষয়ের চেয়ে বরাবরই আমার আগ্রহ বেশী এর চিরায়ত বুদ্ধিবৃত্তিক ও দার্শনিক বিষয়ে। জীবিত কোন প্রানীকে তার স্বাভাবিক বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মের একটা নুন্যতম পর্যায় সাপেক্ষে কোন কৃত্রিম যন্ত্রদিয়ে প্রতিস্থাপনের কথা চিন্তা করলে, মানব উদ্ভাবিত অন্য সকল যন্ত্রের বিফলতার মাঝে একমাত্র কম্পিউটারই কিছুটা সফলতার আশা জাগায়। আমার ভাষায় তাই জড় জগতের মধ্যে একমাত্র জীবিত বিষয় হল কম্পিউটার!

উপরোক্ত দৃষ্টিভঙ্গীর প্রেক্ষিতে জনসাধারণের পর্যায়ে আমি একটি ধারাবাহিক নিবন্ধ লিখব বলে ভাবছি। এই ধারাবাহিকের পর্বগুলিতে আমার নিজস্ব চিন্তা ভাবনা যেমন আসবে, তেমনি আসবে এ বিষয়ে বিভিন্ন গুনীজনের লেখা বই বা প্রবন্ধের ভাষান্তর। গণনাবিদ্যা (কম্পিউটার বিজ্ঞান), কৃত্রিম বুদ্ধিবিজ্ঞান (আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স), দর্শন, মনোবিজ্ঞান, যুক্তি বা বিশ্বাসভিত্তিক জীবনাচরন সম্পর্কে আগ্রহী পাঠক/পাঠিকাদের মন্তব্য আমাদের আলোচনাকে সমৃদ্ধ করবে বলে আমার ধারনা। আমাদের আলোচনার গন্ডী হবে বিশেষজ্ঞদের আর জনসাধারনের জানার পরিধির মিলনরেখায়।

গণনাভিত্তিক বুদ্ধিবিদ্যার দর্শন (Philosophy of Computing-Based Intelligence) পর্ব ১ -- ত্রিখন্ড উদ্ভাবন।

হফস্ট্যাডটার প্রণীত পুলিৎজার পুরস্কার প্রাপ্ত জিইবিঃইজিবি অবলম্বনে।

আখিলিস (একজন গ্রীক বীর, মরণশীলদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগামী) ও একটা কচ্ছপ কড়া রোদে নোংরা একটা রাস্তায় একসাথে দাঁড়িয়ে। অনেক দুরে রাস্তায় উচুঁ খুঁটির উপরে একটা আয়তাকার পতাকা ঝুলানো। পতাকাটির পুরোটাই লাল, শুধু মাঝখানে একটা বৃত্তাকার ছিদ্র, যার মধ্যে দিয়ে ও পাশের আকাশ দেখা যায়।

আখিলিসঃ রাস্তার অপর প্রান্তের ঐ অদ্ভুত পতাকাটি কি? এটা আমাকে আমার প্রিয় চিত্রশিল্পী এশারের একটি চিত্রের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

কচ্ছপঃ ঐটা হচ্ছে জেনোর পতাকা।

আখিলিসঃ ঐ ছিদ্রটা কি কোনভাবে এশারের আঁকা সেই মঁবিয়াসের ফিতার ছিদ্রটির মত? আমি বলতে পারি, কি যেন একটা গোলমাল রয়েছে ঐ পতাকাটিতে।

কচ্ছপঃ পতাকাটি কেটে বানানো ঐ ছিদ্রটার অাকৃতি জেনোর প্রিয় সংখ্যা শুন্যের প্রতীকের মত।

আখিলিসঃ কিন্তু শুন্য তো এখনও আবিস্কারই হয়নি! এটাতো আবিস্কার করবে একজন হিন্দু গণিতবিদ প্রায় লক্ষ বছর পরে। আর তাই, জনাব কচ্ছপ, আমার যুক্তি অনুযায়ী এই রকম একটা পতাকা অসম্ভব!

কচ্ছপঃ তোমার যুক্তি বোধগম্য, আখিলিস, আর আমি অবশ্যই একমত যে এই রকম একটা পতাকা বাস্তবিক অসম্ভব। কিন্তু যাইহোক এটি বেশ সুন্দর, তাই না।

আখিলিসঃ ও হ্যাঁ, এটার সৌন্দর্য নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

কচ্ছপঃ পতাকাটার সৌন্দর্য কি এটার অসম্ভাব্যতার সাথে সম্পর্কিত? সৌন্দর্য বিশ্লেষন করার মত সময় কখনই আমার ছিল না। এটা হল একটা গুঢ় বিষয়; আর আমার মনে হয় গুঢ় বিষয়াদি নিয়ে ভাবার সময় কখনই আমার নেই।

আখিলিসঃ গুঢ় বিষয়াদির কথা যখন বলছ, জনাব কচ্ছপ, তুমি কি কখনও জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে জানতে চেয়েছে?

কচ্ছপঃ ওহ, খোদা, না।

আখিলিসঃ তুমি কি কখনই জানতে চাওনি আমরা কেন এখানে এসেছি, অথবা কে আমাদের তৈরী করেছেন?

কচ্ছপঃ ওহ, ঐটা পুরোটাই ভিন্ন ব্যাপার। আমরা জেনোর তৈরী (তুমি শীঘ্রই তা দেখতে পাবে); আর আমরা এখানে কারন হল আমাদের মধ্যে একটা দৌড়ের লড়াই হবে।

আখিলিসঃ একটা দৌড়ের লড়াই? কি বিরক্তিকর! আমি, মরণশীলদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগামী, আর তার বিপরীতে তুমি, সকল ধীরগামীদের মধ্যে ধীরতম! এই রকম দৌড়ের লড়াইয়ের কোন অর্থ নেই।

কচ্ছপঃ তাতে কি, তুমি আমাকে কিছুটা এগিয়ে শুরু করতে দিতে পারো।

আখিলিসঃ সেটা তো তাহলে অনেক বড় দুরত্ব হতে হবে।

কচ্ছপঃ হোক না, আমি আপত্তি করছি না।

আখিলিসঃ কিন্তু আমি তোমাকে ধরে ফেলব, আগেই হোক আর পরেই হোক -- তবে আগেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশী।

কচ্ছপঃ না, যদি সব কিছু জেনোর ধাঁধাঁর মত হয়, তুমি আমাকে ধরতে পারবে না। দেখো, জেনো আশা করছে আমাদের দৌড়ের লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে সে প্রমান করবে যে গতির বিষয়টি অসম্ভব। জেনোর মতে গতির ধারনাটি কেবল মনের মধ্যেই সম্ভব। সত্যি হচ্ছে, গতি তার অন্তর্নিহিত কারনেই অসম্ভব। এটা সে বেশ ভাল ভাবেই প্রমান করতে পারে।

আখিলিসঃ ও, হ্যাঁ, এটা এখন আমার কাছে মনে হচ্ছে বৌদ্ধ যাজক জেনোর সম্পর্কে প্রচলিত সেই বিখ্যাত বৌদ্ধ শ্লোকের মত। তুমি যেমনটি বললে, এটি সত্যি সহজ।

কচ্ছপঃ বৌদ্ধ শ্লোক? বৌদ্ধ যাজক জেনো? তুমি আসলে কি বলতে চাইছ?

আখিলিসঃ শ্লোকটা এই রকমঃ দুই সন্ন্যাসী একটা পতাকা নিয়ে বিতর্ক করছিল। একজন বলল, "পতাকাটি উড়ছে।" অন্যজন বলল, "বাতাস উড়ছে।" ষষ্ঠ পুরোহিত, জেনো, সেই সময় পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। সে বলল, "পতাকাটি নয়, বাতাস নয়, উড়ছে তোমাদের মন।"

কচ্ছপঃ আমার ধারণা তোমার কিঞ্চিত ভুল হয়েছে, আখিলিস। জেনো কোন বৌদ্ধ যাজক নয়, এ থেকে অন্য কিছু। সে আসলে এলেয়া শহরের (যেটা ক ও খ দুটি বিন্দুর মাঝখানে অবস্থিত) একজন গ্রীক দার্শনিক। অনেক শতাব্দি পরে, সে তার গতির ধাঁধাঁগুলির জন্য বিখ্যাত হবে। তার একটা ধাঁধাঁয় আমাদের দুজনের মধ্যের এই দৌড়ের লড়াইয়ের একটা মুখ্য ভুমিকা থাকবে।

আখিলিসঃ আমি সকল প্রকারে বিভ্রান্ত। স্পষ্ট মনে করতে পারি আমি যতবার বৌদ্ধদের ষষ্ঠ পুরোহিতের কথা বলেছি, ততবারই আমি বলেছি, "ষষ্ঠ পুরোহিত হচ্ছে জেনো, ষষ্ঠ পুরোহিত হচ্ছে জেনো...।" (হঠাৎ মৃদু উষ্ণ বাতাস বয়ে গেল।) ওহ, ঐ দেখ, জনাব কচ্ছপ--ঐ পতাকাটি উড়ছে দেখ! নরম কাপড়ে ঐ ঢেউ খেলানো ঝিকিমিকি আমার বেশ পছন্দ। আর সেই গোলাকার ছিদ্রটিও উড়ছে!

কচ্ছপঃ বোকামি করোনা। পতাকাটি অসম্ভব, আর তাই এটি উড়তে পারে না। বাতাস উড়ছে।

(সেই মূহুর্তে, জেনোর আগমন)

জেনোঃ এই যে, এই যে, কি হচ্ছে? কি খবর?

আখিলিসঃ পতাকাটি উড়ছে।

কচ্ছপঃ বাতাস উড়ছে।

জেনোঃ বন্ধুরা ঠিক আছে, তোমাদের বিতর্ক থামাও! আমি এখনই তোমাদের এই বিষয়ের একটা সুরাহা করে দিব। উফ্, এত সুন্দর একটা দিনে, এত গোলমাল!

আখিলিসঃ এই ভদ্রলোক বোধ হয় আমাদের বোকা বানাতে চাইছে।

কচ্ছপঃ না, আখিলিস। চল শোনা যাক তার কি বলার আছে। অজানা মহাশয়, ঠিক আছে এই বিষয়ে আপনার ভাবনা আমরা জানতে চাইছি।

জেনোঃ (অনেক খুশী হয়ে) বাতাস নয়, পতাকা নয় -- দুটোর কোনটাই উড়ছে না, কোন কিছুই আসলে উড়ছে না। কারন আমি একটা গুরুত্বপূর্ণ সুত্র আবিস্কার করেছি যেটা হল "অন্তর্নিহিত কারনে গতি অসম্ভব।" আর এই সূত্র থেকে আরো গুরুত্বপূর্ণ একটা সূত্র বের হয়ে আসে তা হল জেনোর সূত্রঃ "গতির অস্তিত্ব নেই"।

আখিলিসঃ "জেনোর সূত্র"? জনাব, কোন ভাবে কি আপনি এলেয়ার সেই দার্শনিক জেনো?

জেনোঃ বাস্তবিকই আমি সেই দার্শনিক, আখিলিস।

আখিলিসঃ (ধাঁধাঁয় পড়ে মাথা চুলকিয়ে স্বগত সুরে) এখানে কি করে সে আমার নাম জানল?

জেনোঃ যাইহোক আমি কি তোমাদের আমার সেই সুত্র ও তার যুক্তিগুলো শুনতে রাজী করাতে পারি? আজ বিকালে আমি সারা পথ পাড়ি দিয়ে ক বিন্দু থেকে এলেয়াতে এসেছি শুধু কেউ একজন কে খুঁজে বের করতে যে আমার ধারালো যুক্তিগুলো শুনবে। কিন্তু সবাই এদিক সেদিক নিয়ে ব্যস্ত, আর তাদের মোটেও সময় নেই। তোমাদের ধারনা নেই একজনের পর একজনের কাছ থেকে ফিরে আসা কি রকম ধরনের হতাশার। কিন্তু, আমি দুঃখিত তোমাদের উপরে আমার সমস্যার বোঝা চাপিয়ে দেয়ার জন্য। আমি শুধু একটি বিষয় জিজ্ঞেস করতে চাইঃ তোমরা দুজন কি একজন বেচারা বৃদ্ধ দার্শনিকের সাথে তার ওৎকেন্দ্রীক সূত্রসমুহ নিয়ে কয়েক মূহুর্ত মজা করতে পার--শুধুই কয়েক মূহুর্ত, আমি কথা দিচ্ছি।

আখিলিসঃ আমরা শুনব, দয়া করে আমাদের আলোকিত কর। আমি জানি আমি দুজনের পক্ষ থেকেই বলছি, কারন আমার সঙ্গী, জনাব কচ্ছপ, মাত্র কয়েক মূহুর্ত আগে তোমার সম্পর্কে বেশ উচ্ছাস প্রকাশ করছিল--আর বিশেষভাবে সে তোমার ধাঁধাঁর কথা উল্লেখ করেছে।

জেনোঃ ধন্যবাদ। দেখ, আমার গুরু, পঞ্চম পুরোহিত আমাকে শিখিয়েছেন যে বাস্তবতা একক, অপরিবর্তনযোগ্য, এবং অপরিবর্তনশীল; সকল বহুসত্ত্বা, পরিবর্তন, আর গতি কেবল মাত্র অনুভুতির ভ্রম। সে সবের কিছু কিছু আমার সেই গুরুর দৃষ্টিভঙ্গিকেও বিভ্রান্ত করেছিল; কিন্তু আমি এই বিভ্রান্তিসমুহের অযৌক্তিকতা দেখাব। আমার যুক্তিগুলো খুব সহজ। আমি আমার নিজের আবিস্কার করা দুটি চরিত্রের মাধ্যমে তা দেখাবঃ আখিলিস (একজন গ্রীক যোদ্ধা, মরণশীলদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগামী), আর একটা কচ্ছপ। আমার গল্পে, তারা একজন পথিকের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে দূরে রাস্তায় মৃদু মন্দ বাতাসে উড়ন্ত একটা পতাকা পর্যন্ত দৌড়ায়। কচ্ছপটা যেহেতু অনেক ধীর গতির, চল ধরে নিই সে কিছুটা এগিয়ে থেকে শুরু করবে, ধর, দশ গজ। দৌড় শুরু হল। কয়েক মূহুর্তে আখিলিস পৌঁছে গেল কচ্ছপ যেখান থেকে দৌড় শুরু করেছিল সেখানে।

আখিলিসঃ হাহ!

জেনোঃ আর ততক্ষনে কচ্ছপ আর এক গজ এগিয়ে গেল। কিন্তু পরের মূহুর্তে, আখিলিস সেই খানেও পৌঁছে গেল।

আখিলিসঃ হো হো!

জেনোঃ তবে, সেই অল্প সময়েও, কচ্ছপ আর অল্প একটু এগিয়ে গেল। পরের লহমায়, আখিলিস সেই দুরত্বও পার হয়ে গেল।

আখিলিসঃ হি হি হি!

জেনোঃ কিন্তু সেই এক লহমায়, কচ্ছপ খুব অল্প, মাত্র এক ইঞ্চি হলেও এগিয়ে যেতে পারল, আর তাই আখিলিস এখনও তার পিছনে। এখন লক্ষ কর, আখিলিস যদি কচ্ছপকে ধরতে চায়, এই "পারলে ধর আমায়" খেলাটি অসীম সংখ্যকবার খেলতে হবে--আর তাই আখিলিস কখনই কচ্ছপকে ধরতে পারবে না!

কচ্ছপঃ হে হে হে হে!

আখিলিসঃ হমম...হমম...হমম...হমম...হমম...এই যুক্তি আমার কাছে ভুল মনে হচ্ছে। তবে এখনও আমি বুঝতে পারছিনা ভুলটা আসলে কোথায়।

জেনোঃ এটা কি কৌতুহলোদ্দীপক নয়? এটা আমার প্রিয় ধাঁধাঁ।

কচ্ছপঃ মাফ কর, জেনো, আমার বিশ্বাস তোমার সুত্রটি ভুল। তুমি মাত্রই আমাদের বলছিলে জেনোর "আখিলিসের ধাঁধাঁ" যা প্রমান করে যে আখিলিস কখনই কচ্ছপকে ধরতে পারবে না তা জানা যাবে আজ থেকে কয়েক শতাব্দি পরে। আর গতি যে অন্তর্নিহিত কারনে অসম্ভব (সে কারনে অস্তিত্বহীনও) তা হল তোমার অন্য একটি ধাঁধাঁ -- দুই মেরুর ধাঁধাঁ।

জেনোঃ ওহ, কি বোকা আমি। ঠিকই বলেছ তুমি। সেই ধাঁধাঁটি হল একটি বিন্দু ক থেকে আর একটি বিন্দু খ তে যেতে চাইলে, তোমাকে প্রথমে অর্ধেক দুরত্ব যেতে হবে--তারপর তার অর্ধেক, তারপর তারও অর্ধেক, আর এই ভাবে। কিন্তু দেখ, উভয় ধাঁধাঁর মর্মার্থ আসলে একই। খুলে বললে, আমার শুধু একটাই ভাল ভাবনা আছে--আমি শুধু বিভিন্নভাবে সেটার ব্যবহার করি।

আখিলিসঃ খোদার কসম, এই সব যুক্তিতে একটা ভুল আছে। আমি জানিনা ঠিক কোথায়, কিন্তু এগুলি সঠিক হতে পারে না।

জেনোঃ তুমি আমার ধাঁধাঁর যৌক্তিকতা নিয়ে সন্দেহ করছ? কেন এটা পরীক্ষা করে দেখো না। ঐখানে ঐ লাল পতাকা দেখতে পাচ্ছ, রাস্তার একেবারে দুর সীমায়?

আখিলিসঃ এশারের আঁকা ছবির মত অসম্ভব সেই পতাকাটি?

জেনোঃ ঠিক তাই। কি বল, তুমি আর কচ্ছপ দৌড়াবে? কচ্ছপ কিছুটা এগিয়ে থেকে শুরু করবে, তবে, আমি জানি না--

কচ্ছপঃ দশ গজ, কি বল?

জেনোঃ খুব ভাল--দশ গজ।

আখিলিসঃ কোন সমস্যা নেই।

জেনোঃ কি মজার! নিখুত ভাবে প্রমান করা আমার সূত্রটির বাস্তব একটা পরীক্ষা! জনাব কচ্ছপ, তুমি কি দশ গজ সামনে গিয়ে দাঁড়াবে?

(কচ্ছপ পতাকার দিকে দশ গজ সামনে এগিয়ে গেল।)

তোমরা দুজনেই কি প্রস্তুত?

কচ্ছপ ও আখিলিসঃ প্রস্তুত!

জেনোঃ যার যার অবস্থানে তৈরী! এক, দুই, তিন!


কম্পিউটার বিজ্ঞানের লোকায়ত, ফলিত ও কারিগরী বিষয়ের চেয়ে বরাবরই আমার আগ্রহ বেশী এর চিরায়ত বুদ্ধিবৃত্তিক ও দার্শনিক বিষয়ে। জীবিত কোন প্রানীকে তার স্বাভাবিক বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মের একটা নুন্যতম পর্যায় সাপেক্ষে কোন কৃত্রিম যন্ত্রদিয়ে প্রতিস্থাপনের কথা চিন্তা করলে, মানব উদ্ভাবিত অন্য সকল যন্ত্রের বিফলতার মাঝে একমাত্র কম্পিউটারই কিছুটা সফলতার আশা জাগায়। আমার ভাষায় তাই জড় জগতের মধ্যে একমাত্র জীবিত বিষয় হল কম্পিউটার!

উপরোক্ত দৃষ্টিভঙ্গীর প্রেক্ষিতে জনসাধারণের পর্যায়ে আমি একটি ধারাবাহিক নিবন্ধ লিখব বলে ভাবছি। এই ধারাবাহিকের পর্বগুলিতে আমার নিজস্ব চিন্তা ভাবনা যেমন আসবে, তেমনি আসবে এ বিষয়ে বিভিন্ন গুনীজনের লেখা বই বা প্রবন্ধের ভাষান্তর। গণনাবিদ্যা (কম্পিউটার বিজ্ঞান), কৃত্রিম বুদ্ধিবিজ্ঞান (আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স), দর্শন, মনোবিজ্ঞান, যুক্তি বা বিশ্বাসভিত্তিক জীবনাচরন সম্পর্কে আগ্রহী পাঠক/পাঠিকাদের মন্তব্য আমাদের আলোচনাকে সমৃদ্ধ করবে বলে আমার ধারনা। আমাদের আলোচনার গন্ডী হবে বিশেষজ্ঞদের আর জনসাধারনের জানার পরিধির মিলনরেখায়।

গণনাভিত্তিক বুদ্ধিবিদ্যার দর্শন (Philosophy of Computing-Based Intelligence) ১ম পর্ব -- ত্রিখন্ড উদ্ভাবন।

হফস্ট্যাডটার প্রণীত পুলিৎজার পুরস্কার প্রাপ্ত জিইবিঃইজিবি অবলম্বনে।

আখিলিস (একজন গ্রীক বীর, মরণশীলদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগামী) ও একটা কচ্ছপ কড়া রোদে নোংরা একটা রাস্তায় একসাথে দাঁড়িয়ে। অনেক দুরে রাস্তায় উচুঁ খুঁটির উপরে একটা আয়তাকার পতাকা ঝুলানো। পতাকাটির পুরোটাই লাল, শুধু মাঝখানে একটা বৃত্তাকার ছিদ্র, যার মধ্যে দিয়ে ও পাশের আকাশ দেখা যায়।

আখিলিসঃ রাস্তার অপর প্রান্তের ঐ অদ্ভুত পতাকাটি কি? এটা আমাকে আমার প্রিয় চিত্রশিল্পী এশারের একটি চিত্রের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

কচ্ছপঃ ঐটা হচ্ছে জেনোর পতাকা।

আখিলিসঃ ঐ ছিদ্রটা কি কোনভাবে এশারের আঁকা সেই মঁবিয়াসের ফিতার ছিদ্রটির মত? আমি বলতে পারি, কি যেন একটা গোলমাল রয়েছে ঐ পতাকাটিতে।

কচ্ছপঃ পতাকাটি কেটে বানানো ঐ ছিদ্রটার অাকৃতি জেনোর প্রিয় সংখ্যা শুন্যের প্রতীকের মত।

আখিলিসঃ কিন্তু শুন্য তো এখনও আবিস্কারই হয়নি! এটাতো আবিস্কার করবে একজন হিন্দু গণিতবিদ প্রায় লক্ষ বছর পরে। আর তাই, জনাব কচ্ছপ, আমার যুক্তি অনুযায়ী এই রকম একটা পতাকা অসম্ভব!

কচ্ছপঃ তোমার যুক্তি বোধগম্য, আখিলিস, আর আমি অবশ্যই একমত যে এই রকম একটা পতাকা বাস্তবিক অসম্ভব। কিন্তু যাইহোক এটি বেশ সুন্দর, তাই না।

আখিলিসঃ ও হ্যাঁ, এটার সৌন্দর্য নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

কচ্ছপঃ পতাকাটার সৌন্দর্য কি এটার অসম্ভাব্যতার সাথে সম্পর্কিত? সৌন্দর্য বিশ্লেষন করার মত সময় কখনই আমার ছিল না। এটা হল একটা গুঢ় বিষয়; আর আমার মনে হয় গুঢ় বিষয়াদি নিয়ে ভাবার সময় কখনই আমার নেই।

আখিলিসঃ গুঢ় বিষয়াদির কথা যখন বলছ, জনাব কচ্ছপ, তুমি কি কখনও জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে জানতে চেয়েছে?

কচ্ছপঃ ওহ, খোদা, না।

আখিলিসঃ তুমি কি কখনই জানতে চাওনি আমরা কেন এখানে এসেছি, অথবা কে আমাদের তৈরী করেছেন?

কচ্ছপঃ ওহ, ঐটা পুরোটাই ভিন্ন ব্যাপার। আমরা জেনোর তৈরী (তুমি শীঘ্রই তা দেখতে পাবে); আর আমরা এখানে কারন হল আমাদের মধ্যে একটা দৌড়ের লড়াই হবে।

আখিলিসঃ একটা দৌড়ের লড়াই? কি বিরক্তিকর! আমি, মরণশীলদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগামী, আর তার বিপরীতে তুমি, সকল ধীরগামীদের মধ্যে ধীরতম! এই রকম দৌড়ের লড়াইয়ের কোন অর্থ নেই।

কচ্ছপঃ তাতে কি, তুমি আমাকে কিছুটা এগিয়ে শুরু করতে দিতে পারো।

আখিলিসঃ সেটা তো তাহলে অনেক বড় দুরত্ব হতে হবে।

কচ্ছপঃ হোক না, আমি আপত্তি করছি না।

আখিলিসঃ কিন্তু আমি তোমাকে ধরে ফেলব, আগেই হোক আর পরেই হোক -- তবে আগেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশী।

কচ্ছপঃ না, যদি সব কিছু জেনোর ধাঁধাঁর মত হয়, তুমি আমাকে ধরতে পারবে না। দেখো, জেনো আশা করছে আমাদের দৌড়ের লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে সে প্রমান করবে যে গতির বিষয়টি অসম্ভব। জেনোর মতে গতির ধারনাটি কেবল মনের মধ্যেই সম্ভব। সত্যি হচ্ছে, গতি তার অন্তর্নিহিত কারনেই অসম্ভব। এটা সে বেশ ভাল ভাবেই প্রমান করতে পারে।

আখিলিসঃ ও, হ্যাঁ, এটা এখন আমার কাছে মনে হচ্ছে বৌদ্ধ যাজক জেনোর সম্পর্কে প্রচলিত সেই বিখ্যাত বৌদ্ধ শ্লোকের মত। তুমি যেমনটি বললে, এটি সত্যি সহজ।

কচ্ছপঃ বৌদ্ধ শ্লোক? বৌদ্ধ যাজক জেনো? তুমি আসলে কি বলতে চাইছ?

আখিলিসঃ শ্লোকটা এই রকমঃ দুই সন্ন্যাসী একটা পতাকা নিয়ে বিতর্ক করছিল। একজন বলল, "পতাকাটি উড়ছে।" অন্যজন বলল, "বাতাস উড়ছে।" ষষ্ঠ পুরোহিত, জেনো, সেই সময় পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। সে বলল, "পতাকাটি নয়, বাতাস নয়, উড়ছে তোমাদের মন।"

কচ্ছপঃ আমার ধারণা তোমার কিঞ্চিত ভুল হয়েছে, আখিলিস। জেনো কোন বৌদ্ধ যাজক নয়, এ থেকে অন্য কিছু। সে আসলে এলেয়া শহরের (যেটা ক ও খ দুটি বিন্দুর মাঝখানে অবস্থিত) একজন গ্রীক দার্শনিক। অনেক শতাব্দি পরে, সে তার গতির ধাঁধাঁগুলির জন্য বিখ্যাত হবে। তার একটা ধাঁধাঁয় আমাদের দুজনের মধ্যের এই দৌড়ের লড়াইয়ের একটা মুখ্য ভুমিকা থাকবে।

আখিলিসঃ আমি সকল প্রকারে বিভ্রান্ত। স্পষ্ট মনে করতে পারি আমি যতবার বৌদ্ধদের ষষ্ঠ পুরোহিতের কথা বলেছি, ততবারই আমি বলেছি, "ষষ্ঠ পুরোহিত হচ্ছে জেনো, ষষ্ঠ পুরোহিত হচ্ছে জেনো...।" (হঠাৎ মৃদু উষ্ণ বাতাস বয়ে গেল।) ওহ, ঐ দেখ, জনাব কচ্ছপ--ঐ পতাকাটি উড়ছে দেখ! নরম কাপড়ে ঐ ঢেউ খেলানো ঝিকিমিকি আমার বেশ পছন্দ। আর সেই গোলাকার ছিদ্রটিও উড়ছে!

কচ্ছপঃ বোকামি করোনা। পতাকাটি অসম্ভব, আর তাই এটি উড়তে পারে না। বাতাস উড়ছে।

(সেই মূহুর্তে, জেনোর আগমন)

জেনোঃ এই যে, এই যে, কি হচ্ছে? কি খবর?

আখিলিসঃ পতাকাটি উড়ছে।

কচ্ছপঃ বাতাস উড়ছে।

জেনোঃ বন্ধুরা ঠিক আছে, তোমাদের বিতর্ক থামাও! আমি এখনই তোমাদের এই বিষয়ের একটা সুরাহা করে দিব। উফ্, এত সুন্দর একটা দিনে, এত গোলমাল!

আখিলিসঃ এই ভদ্রলোক বোধ হয় আমাদের বোকা বানাতে চাইছে।

কচ্ছপঃ না, আখিলিস। চল শোনা যাক তার কি বলার আছে। অজানা মহাশয়, ঠিক আছে এই বিষয়ে আপনার ভাবনা আমরা জানতে চাইছি।

জেনোঃ (অনেক খুশী হয়ে) বাতাস নয়, পতাকা নয় -- দুটোর কোনটাই উড়ছে না, কোন কিছুই আসলে উড়ছে না। কারন আমি একটা গুরুত্বপূর্ণ সুত্র আবিস্কার করেছি যেটা হল "অন্তর্নিহিত কারনে গতি অসম্ভব।" আর এই সূত্র থেকে আরো গুরুত্বপূর্ণ একটা সূত্র বের হয়ে আসে তা হল জেনোর সূত্রঃ "গতির অস্তিত্ব নেই"।

আখিলিসঃ "জেনোর সূত্র"? জনাব, কোন ভাবে কি আপনি এলেয়ার সেই দার্শনিক জেনো?

জেনোঃ বাস্তবিকই আমি সেই দার্শনিক, আখিলিস।

আখিলিসঃ (ধাঁধাঁয় পড়ে মাথা চুলকিয়ে স্বগত সুরে) এখানে কি করে সে আমার নাম জানল?

জেনোঃ যাইহোক আমি কি তোমাদের আমার সেই সুত্র ও তার যুক্তিগুলো শুনতে রাজী করাতে পারি? আজ বিকালে আমি সারা পথ পাড়ি দিয়ে ক বিন্দু থেকে এলেয়াতে এসেছি শুধু কেউ একজন কে খুঁজে বের করতে যে আমার ধারালো যুক্তিগুলো শুনবে। কিন্তু সবাই এদিক সেদিক নিয়ে ব্যস্ত, আর তাদের মোটেও সময় নেই। তোমাদের ধারনা নেই একজনের পর একজনের কাছ থেকে ফিরে আসা কি রকম ধরনের হতাশার। কিন্তু, আমি দুঃখিত তোমাদের উপরে আমার সমস্যার বোঝা চাপিয়ে দেয়ার জন্য। আমি শুধু একটি বিষয় জিজ্ঞেস করতে চাইঃ তোমরা দুজন কি একজন বেচারা বৃদ্ধ দার্শনিকের সাথে তার ওৎকেন্দ্রীক সূত্রসমুহ নিয়ে কয়েক মূহুর্ত মজা করতে পার--শুধুই কয়েক মূহুর্ত, আমি কথা দিচ্ছি।

আখিলিসঃ আমরা শুনব, দয়া করে আমাদের আলোকিত কর। আমি জানি আমি দুজনের পক্ষ থেকেই বলছি, কারন আমার সঙ্গী, জনাব কচ্ছপ, মাত্র কয়েক মূহুর্ত আগে তোমার সম্পর্কে বেশ উচ্ছাস প্রকাশ করছিল--আর বিশেষভাবে সে তোমার ধাঁধাঁর কথা উল্লেখ করেছে।

জেনোঃ ধন্যবাদ। দেখ, আমার গুরু, পঞ্চম পুরোহিত আমাকে শিখিয়েছেন যে বাস্তবতা একক, অপরিবর্তনযোগ্য, এবং অপরিবর্তনশীল; সকল বহুসত্ত্বা, পরিবর্তন, আর গতি কেবল মাত্র অনুভুতির ভ্রম। সে সবের কিছু কিছু আমার সেই গুরুর দৃষ্টিভঙ্গিকেও বিভ্রান্ত করেছিল; কিন্তু আমি এই বিভ্রান্তিসমুহের অযৌক্তিকতা দেখাব। আমার যুক্তিগুলো খুব সহজ। আমি আমার নিজের আবিস্কার করা দুটি চরিত্রের মাধ্যমে তা দেখাবঃ আখিলিস (একজন গ্রীক যোদ্ধা, মরণশীলদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগামী), আর একটা কচ্ছপ। আমার গল্পে, তারা একজন পথিকের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে দূরে রাস্তায় মৃদু মন্দ বাতাসে উড়ন্ত একটা পতাকা পর্যন্ত দৌড়ায়। কচ্ছপটা যেহেতু অনেক ধীর গতির, চল ধরে নিই সে কিছুটা এগিয়ে থেকে শুরু করবে, ধর, দশ গজ। দৌড় শুরু হল। কয়েক মূহুর্তে আখিলিস পৌঁছে গেল কচ্ছপ যেখান থেকে দৌড় শুরু করেছিল সেখানে।

আখিলিসঃ হাহ!

জেনোঃ আর ততক্ষনে কচ্ছপ আর এক গজ এগিয়ে গেল। কিন্তু পরের মূহুর্তে, আখিলিস সেই খানেও পৌঁছে গেল।

আখিলিসঃ হো হো!

জেনোঃ তবে, সেই অল্প সময়েও, কচ্ছপ আর অল্প একটু এগিয়ে গেল। পরের লহমায়, আখিলিস সেই দুরত্বও পার হয়ে গেল।

আখিলিসঃ হি হি হি!

জেনোঃ কিন্তু সেই এক লহমায়, কচ্ছপ খুব অল্প, মাত্র এক ইঞ্চি হলেও এগিয়ে যেতে পারল, আর তাই আখিলিস এখনও তার পিছনে। এখন লক্ষ কর, আখিলিস যদি কচ্ছপকে ধরতে চায়, এই "পারলে ধর আমায়" খেলাটি অসীম সংখ্যকবার খেলতে হবে--আর তাই আখিলিস কখনই কচ্ছপকে ধরতে পারবে না!

কচ্ছপঃ হে হে হে হে!

আখিলিসঃ হমম...হমম...হমম...হমম...হমম...এই যুক্তি আমার কাছে ভুল মনে হচ্ছে। তবে এখনও আমি বুঝতে পারছিনা ভুলটা আসলে কোথায়।

জেনোঃ এটা কি কৌতুহলোদ্দীপক নয়? এটা আমার প্রিয় ধাঁধাঁ।

কচ্ছপঃ মাফ কর, জেনো, আমার বিশ্বাস তোমার সুত্রটি ভুল। তুমি মাত্রই আমাদের বলছিলে জেনোর "আখিলিসের ধাঁধাঁ" যা প্রমান করে যে আখিলিস কখনই কচ্ছপকে ধরতে পারবে না তা জানা যাবে আজ থেকে কয়েক শতাব্দি পরে। আর গতি যে অন্তর্নিহিত কারনে অসম্ভব (সে কারনে অস্তিত্বহীনও) তা হল তোমার অন্য একটি ধাঁধাঁ -- দুই মেরুর ধাঁধাঁ।

জেনোঃ ওহ, কি বোকা আমি। ঠিকই বলেছ তুমি। সেই ধাঁধাঁটি হল একটি বিন্দু ক থেকে আর একটি বিন্দু খ তে যেতে চাইলে, তোমাকে প্রথমে অর্ধেক দুরত্ব যেতে হবে--তারপর তার অর্ধেক, তারপর তারও অর্ধেক, আর এই ভাবে। কিন্তু দেখ, উভয় ধাঁধাঁর মর্মার্থ আসলে একই। খুলে বললে, আমার শুধু একটাই ভাল ভাবনা আছে--আমি শুধু বিভিন্নভাবে সেটার ব্যবহার করি।

আখিলিসঃ খোদার কসম, এই সব যুক্তিতে একটা ভুল আছে। আমি জানিনা ঠিক কোথায়, কিন্তু এগুলি সঠিক হতে পারে না।

জেনোঃ তুমি আমার ধাঁধাঁর যৌক্তিকতা নিয়ে সন্দেহ করছ? কেন এটা পরীক্ষা করে দেখো না। ঐখানে ঐ লাল পতাকা দেখতে পাচ্ছ, রাস্তার একেবারে দুর সীমায়?

আখিলিসঃ এশারের আঁকা ছবির মত অসম্ভব সেই পতাকাটি?

জেনোঃ ঠিক তাই। কি বল, তুমি আর কচ্ছপ দৌড়াবে? কচ্ছপ কিছুটা এগিয়ে থেকে শুরু করবে, তবে, আমি জানি না--

কচ্ছপঃ দশ গজ, কি বল?

জেনোঃ খুব ভাল--দশ গজ।

আখিলিসঃ কোন সমস্যা নেই।

জেনোঃ কি মজার! নিখুত ভাবে প্রমান করা আমার সূত্রটির বাস্তব একটা পরীক্ষা! জনাব কচ্ছপ, তুমি কি দশ গজ সামনে গিয়ে দাঁড়াবে?

(কচ্ছপ পতাকার দিকে দশ গজ সামনে এগিয়ে গেল।)

তোমরা দুজনেই কি প্রস্তুত?

কচ্ছপ ও আখিলিসঃ প্রস্তুত!



জেনোঃ যার যার অবস্থানে তৈরী! এক, দুই, তিন!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29115514 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29115514 2010-03-13 15:27:29
বাংলাদেশে অন্তঃ- ও অান্তঃদলীয় গনতন্ত্র নিশ্চিত করার একটি বাস্তবায়নযোগ্য উপায়। বর্তমান পদ্ধতিঃ

আমরা জানি বর্তমানে রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে অংশগ্রহন করা যায় এইরকম প্রতিটি নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দল বা জোট হতে একটি নির্বাচনী আসনে শুধু একজন করে প্রার্থী নির্বাচন করতে পারে। বিগত সাধারণ নির্বাচনের আগে প্রবর্তিত নিয়ম অনুযায়ী একটি দল বা জোট হতে একাধিক প্রার্থী প্রথমে মনোনয়ন দাখিল করতে পারলেও দল বা জোট যাকে লিখিত ভাবে সমর্থন দেয় তার মনোনয়ন বিবেচিত হয় আর অন্যদের মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। বিগত সাধারণ নির্বাচনের আগে আরো বলা হয়েছে যে, দল বা জোটের মনোনয়ন আসতে হবে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা কর্মী সমর্থকদের মতামতে ভিত্তিতে। এই ব্যবস্থাগুলি প্রবর্তন করার কারন হল একটি দল বা জোট যাতে আস্থার সাথে মোটামুটি গনতান্ত্রিকভাবে, ভোটে মাধ্যমে না হলেও মতামতের ভিত্তিতে, একজন প্রার্থী নির্বাচন করতে পারে। আর কোন প্রার্থী যাতে এটি মেনে না নিয়ে সেই দল বা জোটের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে না আসতে পারে। এরপরেও না ভোটের বিধান রাখা হয়েছে যাতে ভোটাররা সর্বশেষ বিকল্প হিসাবে কোন প্রার্থীর উপরেই আস্থা না রাখার বিষয়টি অানুষ্ঠানিক ভাবে জানাতে পারেন।

নতুন পদ্ধতিঃ

একটি রাজনৈতিক দল বা জোট হতে একটি নির্বাচনী আসনে একজনের পরিবর্তে একের অধিক প্রার্থী নির্বাচন করতে পারবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী অবশ্যই থাকবে এবং তারা এক একটি আলাদা দল বা জোটের প্রার্থীর মত গন্য হবেন। এখনকার মতই ভোটাররা প্রত্যেকে ভোট দিবেন একজন প্রার্থীকে। ফলাফল নির্ধারনে প্রত্যেক প্রার্থীর ভোট প্রথমে আলাদা করে গণনা করা হবে, তারপর একই দল বা জোটের প্রার্থীদের ভোট যোগ করে প্রতিটি দল বা জোটের মোট ভোট বের করা হবে। যে দল বা জোট সবচেয়ে বেশি ভোট পাবে সেই দল বিজয়ী হবে। তারপর বিজয়ী দলের মধ্যে যে প্রার্থী বেশী ভোট পাবে সেই প্রার্থী বিজয়ী হবে। এখানে উল্লেখ্য, কোন প্রার্থী ব্যক্তিগত ভাবে সবচেয়ে বেশী ভোট পেলেও সে বা তার দল বিজয়ী নাও হতে পারে কারন তার দল বা জোটের মোট ভোট অন্য কোন দল বা জোটের মোট ভোটের চেয়ে কম হতে পারে।

একই দল বা জোট থেকে অধিক সংখ্যক প্রার্থী হওয়াকে নিরুৎসাহী করার জন্য প্রতিটি দল বা জোটের মোট ভোট গণনা করার সময় ঐ দল বা জোটের প্রার্থী সমুহের মধ্যে শুধু সবচেয়ে বেশী ভোট পাওয়া দুই জনের ভোট যোগ করা হবে। ব্যালট পেপারে অধিক প্রার্থী নিরুৎসাহীত করার জন্য প্রতিটি দল বা জোট থেকে সর্বোচ্চ তিন জন প্রার্থী রাখা যেতে পারে। মনে রাখা দরকার প্রার্থী হওয়ার যোগ্য এইরকম যে কেউ তত্ত্বীয় ভাবে প্রার্থী হতে পারে। কাজেই এই ভাবে প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশী হবে এটি মনে করার খুব বেশী ভিত্তি নেই। যাই হোক প্রতিটি নির্বাচন কক্ষে প্রতিটি দল বা জোটের বিপরীতে একজন করে এজেন্ট থাকবে, প্রার্থীর বিপরীতে নয়। নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনী কার্যালয় স্থাপনও দল বা জোট ভিত্তিতে করা হবে, প্রার্থী ভিত্তিতে নয়।

কোন ব্যক্তি কোন দল বা জোটে যোগ দিলে সে ঠিক পরের নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে পারবে না। তাকে একবার অপেক্ষা করে তার পরের বার নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে হবে। বর্তমানের তিন বছর অপেক্ষা করার নিয়মটিতে সমস্যা রয়েছে। সরকারী চাকুরীজীবীরা যাতে সরকারী দলে যোগ দিয়ে ঠিক পরের নির্বাচন করার মানসে অসদাচরন করতে না পারে, এই জন্য সময় নির্ধারন করে দেয়ার সাথে সাথে ঠিক পরবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহনে অযোগ্য করে দেয়া দরকার। না হলে বিগত সময়ে যে ভাবে সচিব বা জজ সাহেবরা চাকুরীতে থাকা অবস্থায় সরকার দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহন করেছেন তা ঠেকানো যাবে না।

রাসায়নিক অবস্থাঃ

নতুন পদ্ধতিতে অন্তঃ ও আন্তঃ দলীয় উভয় প্রকারের গনতন্ত্র চর্চার ব্যবস্থা রয়েছে। ইহা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবর্তিত অন্তঃদলীয় প্রাথমিক ও আন্তঃদলীয় চুড়ান্ত পর্যায়ের নির্বাচনের একটি মিশ্রন, যাহা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সাথে মানানসই। আমাদের দেশে অন্তঃদলীয় গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কঠিন। দলগুলি নিজেদের ভিতরে গনতন্ত্র চর্চা করতে চায় না। নিয়ম হিসাবে চাপিয়ে দিলেও আলাদা করে এর চর্চা না করতে পারার বাস্তবভিত্তিক কারনও রয়েছে। কারন এই ধরনের সবার কাছে গ্রহনযোগ্য অন্তঃদলীয় নির্বাচনের অায়োজন আলাদা ভাবে কে করবে সেটি একটি প্রশ্ন। আবার এর অর্থ সংকুলান কিভাবে হবে সেই প্রশ্নটিও গরিব দেশের জন্য বিবেচ্য। তাছাড়া বর্তমান সময়ে নির্বাচনের পূর্বে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়া সংক্রান্ত জটিলতা, রাতারাতি দলবদলের মত নৈতিক স্খলন, বা এই সমস্তের সাথে জড়িত অবৈধ অার্থিক লেনদেন পরিস্থিতি ঘোলাটে করে ফেলে। প্রত্যেক দল বা জোটই চায় এমন একজন প্রার্থী দিতে যে যেন কোন প্রকারে বিজয় নিশ্চিত করবে। নতুন পদ্ধতিতে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নের মাধ্যমে দলগুলির স্বার্থ সংরক্ষিত হবে। মনোনয়নের জন্য কাউকে দল বদল করতে হবে না। কোন প্রার্থী নিজ দলের অন্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করতে পারবে না -- তাতে তার নিজেরও ক্ষতি হওয়ার সমান সম্ভাবনা থাকবে কারন প্রথমে দল বা জোটের মোট ভোট গণনা করা হবে। ফলে প্রত্যেক প্রার্থী চাইবে আগে দলের ভোট বাড়ুক, সেটি নিশ্চিত হলে তাহলে তার পক্ষে পড়ুক, একই দলের অন্য প্রার্থীর বদলে। কোন দলের ভোটাররা নিজে দলের ভোট ঠিক রেখেই দলের ভিতরে যে কোন প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। কাজেই পুরা নির্বাচনী রসায়ন পরিবর্তিত হয়ে যাবে। কেউ যদি যুক্তি দেন নতুন পদ্ধতিতে বেশী সংখ্যক অর্থশালী প্রার্থী দেয়ার মাধ্যমে ভোট দুর্নীতি আর বেড়ে যাবে। সেটি একটি সম্ভাবনা অবশ্যই। কিন্তু এই ধরনের বিষয় যে এখনও ঘটছে না তা তো নয়। একজন প্রার্থীর পক্ষে তো এখনও অনেকেই টাকা খরচ করেন। আর এগুলি ঠেকানোর জন্য তো নির্বাচনী ব্যয় সীমা বা এই জাতীয় নিয়ম সমুহ বাস্তবায়ন করতে হবে -- সেটি যে কোন পদ্ধতিতেই করতে হবে।

উপসংহারঃ

দল সমুহ কে নির্দেশনা দেওয়ার পরিবর্তে রাষ্ট্র আলোচ্য পদ্ধতিতে অন্তঃ ও অান্তঃ দলীয় গনতন্ত্র চর্চার বিকল্প ব্যবস্থা বর্তমান নির্বাচনী কাঠামো প্রায় অক্ষত রেখেই করতে পারে। বর্তমান নির্বাচনী ভৌত বিষয়াদিতে তেমন পরিবর্তন দরকার হবে না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29098347 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29098347 2010-02-15 16:17:10
সন্ত্রাস নির্ভর ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা দরকার। সুসময় এখনই।
শিক্ষাঙ্গন হয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্ব উঠে আসতে হবে, আমি তা খুব বেশী সমর্থন করিনা। রাজনৈতিক নেতৃত্ব উঠে আসতে হবে রাজনীতির সিঁড়ি বেয়ে।

আমাদের দেশে ছাত্র রাজনীতি দরকার ছিল একসময়, কারন দেশে শিক্ষিত, সচেতন, ও নেতৃত্ব দেওয়ার লোকের সংখ্যা কম ছিল। আর দেশের ভাষা রক্ষা, স্বাধীনতা, মুক্তি, গনতন্ত্র, এই রকম গুরুত্বপূর্ন বিষয় অমীমাংসিত ছিল।

স্বাধীনতার পর সন্ত্রাস নির্ভর তথাকথিত বিপ্লবী ধারার ছাত্ররাজনীতি, ৭৪ এর দিকে ছাত্রলীগের দুই উপদলের আধিপত্য বিস্তারের প্রতিদন্দ্বীতায় সাত খুন, তারপরে সামরিক সরকারদের হাতে ছাত্ররাজনীতিতে অর্থ ও অস্ত্রের ব্যাপক প্রসার -- এইভাবে ছাত্ররাজনীতি নীচে নেমে গেছে। সর্বশেষ বিশ বছর আগে নব্বই এ ছাত্ররাজনীতি কিছু ইতিবাচক ভুমিকা রেখেছিল। কিন্তু সেই ইতিবাচক ভুমিকা দীর্ঘ মেয়াদে অারো খারাপ ফল নিয়ে এসেছে বলেই আমার মনে হয়।

আমার দৃষ্টিতে নব্বই এ মুল আওয়ামী লীগের চেয়ে যেখানে ছাত্রলীগের ভুমিকা ছিল যৎসামান্য সেখানে মুল বিএনপি এর চেয়ে বেশী কার্যকর ভুমিকা ছিল ছাত্রদলের। এর ফলশ্রুতিতে নির্বাচনে মনোনয়নে ও ক্ষমতায় আসার পরে ক্ষমতার অংশীদারিত্বে তৎকালীন ছাত্রদলের নেতারা আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হন। বয়সে একই রকম হওয়ায় ছাত্রদলের নেতাদের ধীরে ধীরে ক্ষমতার কেন্দ্রে উদীয়মান তারেকজিয়ার সংস্পর্শে আসাও খুব সহজ হয়। আমার তারেক জিয়া কেন্দ্রিক এই বক্তব্যের সাথে অনেকে একমত নাও হতে পারেন, কিন্তু বগুড়ায় বাড়ি হওয়ায় এবং বগুড়ার কলেজে পড়াশুনা করায়, আমি এ বিষয়ে প্রত্যেক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। কাজেই ক্ষমতার আস্বাদন ও অর্থসংশ্লিষ্ট বিষয় (যেমন টেন্ডার ইত্যাদি) ছাত্ররাজনীতির প্রতি উঠতি বয়সের তরুনদের ব্যাপক ভাবে প্রলুব্ধ করে।

জীবনে অতিদ্রুত আর্থিক প্রতিপত্তি ও দাপট অর্জনের একটি উল্লেখযোগ্য কিন্তু সহজ রাস্তা হয়ে যায় ছাত্ররাজনীতি। আর নব্বইয়ের সেই নেতারা তাদের অবদানের ইতিবাচক স্বীকৃতিকে অপব্যবহার করে দীর্ঘসময় সময় ধরে ছাত্র সেজে ছাত্ররাজনীতিকে পুরাপুরি অছাত্রদের হাতে তুলে দেয়। বর্তমানে ছাত্ররাজনীতি পুরাপুরি অছাত্রদের হাতে। আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে নব্বই পরবর্তী ছাত্রলীগ নেতারা তেমন প্রভাব বিস্তার না করতে পারলেও, ছাত্রদলের পথ ধরে তারা অতিদ্রুত অর্থ প্রতিপত্তি অর্জনের কৌশল শিখে ফেলে। আমরা দেখতে পাচ্ছি তারা বেশ ভালো ভাবেই সবকিছু রপ্ত করেছেন। আজকের ছাত্ররাজনীতির এই অধপতন নব্বইয়ে ছাত্রদের সেই ইতিবাচক ভুমিকার ফলাফল হিসাবেই।

নব্বই পরবর্তী সময়ে ৯৬ বা ২০০৮ এ বিএনপি সরকারকে রক্ষায় বা আওয়ামী লীগের আন্দোলনকে বেগবান করায় যথাক্রমে ছাত্রদল বা ছাত্রলীগের তেমন কোন অবদান নেই। ২০০৬ এ সেনা সমর্থিত ভিন্নমাত্রার একটি সরকার আসা, ওয়াদা মাফিক নির্বাচন দিয়ে চলে যাওয়া, এবং বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন তৎপরতায় আমাদের সেনাবাহিনীর অংশগ্রহন জনিত কারনে সেনাবাহিনীর উপরে বৈশ্বিক চাপ, সারাবিশ্বে সামরিক সরকারদের সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব, ইত্যাদি কারনে পুরামাত্রার সামরিক চলে আসার সম্ভাবনা খুব কম। আর পুনরায় ক্ষমতায় আসার চেষ্টা অবৈধ ভাবে যদি কোন দল করে তার ফল কি হতে পারে ইতিমধ্যে আমরা তা দেখেছি। আমাদের দেশের লোকজন এখন অনেক সচেতন হয়ে গেছে। গ্রামাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড শুরু হওয়ার মানুষের বুঝার ক্ষমতা বেড়ে গেছে।
কাজেই আমি ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন নিকটভবিষ্যতে দেখছি না। আর যৎসামান্য কোন ভুমিকা রাখার থাকলেও তার কারনে আমাদেরকে আরো বেশি খেসারত দিতে হতে পারে -- নব্বইয়ের কারনে যেমন দিতে হচ্ছে।

ছাত্ররাজনীতির কারনে এরশাদকে সরে যেতে হয় বলে অনেকে মনে করেন। সেটি হয়ত সত্যি। কিন্তু ছাত্ররাজনীতি বিহীন হয়েও জাতীয়পার্টির মোটামুটি টিকে থাকা এবং সবচেয়ে বেশী সক্রিয় ছাত্রশিবির নিয়েও জামাতের কোনরকম টিকে থাকা মুলদলের রাজনীতিতে ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজনীয়তা না থাকার পক্ষেই কথা বলে। আর আওয়ামী রাজনীতি তো ততটা ছাত্ররাজনীতি নির্ভর নয়ই। কাজেই বিএনপি যদি তৃণমুল পর্যায়ে দল গড়ার দিকে নজর দেয় তাহলে ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন আপাতত আর থাকেনা বললেই চলে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29074851 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29074851 2010-01-09 04:35:07
বাঙ্গালী বা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ
এই দুই জাতীয়তাবাদের মৌলিক যে বিরোধ, সেটা আমরা প্রতিনিয়ত উপলব্ধি করলেও উচ্চারন করিনা কিছু স্পর্শকাতর বিষয় ও ভোটের রাজনীতি এর সাথে জড়িত বলে। যাইহোক উপলব্ধি অারও জোরালো করতে কোন দোষ নাই। অার সেটির জন্য অামরা নিজেদের জিজ্ঞাসা করতে পারি -- ১৯৭৭ সালে অাজকের "শী" রা কোন বিকল্প শব্দ ব্যবহার করতেন? তাদের হাতে খুব সম্ভবত একমাত্র বিকল্প ছিল "মুসলিম" শব্দটি বেছে নেয়ার এবং সেটিই ছিল স্বাভাবিক। শুধু জাতীয়তাবাদের ক্ষেত্রে ছাড়া অার সবক্ষেত্রেই তারা সেটি করেছেন। লক্ষনীয়, "লী" রা ১৯৫৪ বা ৫৭এর দিকে "মুসলিম" শব্দটি পরিহার করেছিলেন সবধর্মকেএক ছাতার নীচে অানার জন্য, এ জন্যে অবশ্য তারা এখনও মূল্য দিয়ে যাচ্ছেন।

"লী" জাতীয়তাবাদের মুলকথা হচ্ছে হাজার বছর ধরে বাংলা জনপদে যে জীবনযাত্রা গড়ে উঠেছে তা অনুসরন করা। এই জনপদের রয়েছে একটি সহনশীল রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয়, ও সাংস্কৃতিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে ধর্মের ক্ষেত্রে, উগ্রবাদীতার এই খানে কোন স্থান নেই। বাউল করিমের গানে -- গ্রামের নওজোওয়ান হিন্দু মুসলমান, অাগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম। বাংলা জনপদে মুসলিম রা এসেছে অনেক পরে। একটু বিতর্কিত ভাবে বলতে গেলে এটি অামাদের কাছে বিদেশী বিষয়। খিলজি বা শাহজালাল রা কখনও যুদ্ধ করে কখনও সূফী হয়ে অামাদেরকে পরাভুত, পরাজিত, বাধ্য, মুগ্ধ, মোহিত, ও হেদায়েত করে মুসলিম বানিয়েছে। অামরা সময়ের সাথে এক সময় মানিয়ে নিয়েছি। তাই বলে কি অাগে থেকে চলে অাসা অামাদের নিজেদের নিজস্ব যে জীবনযাত্রা তা কি বিসর্জন দিতে হবে। অামরা প্রথমে তাই বাংলা জনপদের বাসিন্দা (বাঙ্গালী), তার পরে মুসলিম। অামরা অামাদের উভয় পরিচয়ের মধ্যে সম্প্রীতি বোধ লালন করতে চাই। "শী" জাতীয়তাবাদের মূল কথা হচ্ছে অামরা মুসলিম। দুর্ভাগ্য ক্রমে মুসলিম লীগ ও পাকিস্তানের মুলকথাও এটি। যাইহোক, এর মর্ম বাণী হল মুসলিম সংস্কৃতির সাথে বিরোধপূর্ন যা কিছু অামাদের বাংলা জনপদের জীবনযাত্রায় (যেমন বিভিন্ন উৎসব পালন) অাছে তা বর্জন করতে হবে। অামরা প্রথমে মুসলিম পরে অন্য কিছু। খিলজির বাংলা জয় তাই অামরা মাঝে মাঝে মুসলিমদের স্বাধীনতা দিবস হিসাবে পালন করি। বাস্তব ক্ষেত্রে, অামরা অবশ্য "শী" দেরও সম্প্রীতি বোধ লালন করতে দেখি। অাদিবাসিরা নাগরিকত্ব হিসাবে "শী" দের সাথে থাকতে পারে, কিন্তু গূঢ়ার্থে "লী" দের সাথে থাকার বিকল্প নেই। গূঢ়ার্থটি হচ্ছে -- ২১ শে ফেব্রুয়ারী যেমন বাংলা ভাষার অান্দোলন হয়েও সারা বিশ্বের মাতৃভাষা দিবস।

সম্পুরক আলোচনা ও মন্তব্য সমালোচনাকে অবশ্যই অভিনন্দন। রাজনীতি ঢুকে যাবে হয়ত, তবে ঝগড়া পর্যায়ে না গিয়ে বিতর্ক পর্যায়ে থাকবে অাশা করছি। বাস্তবে কারা কেমন এটি নিয়ে কথা বললে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি হতে পারে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29053736 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29053736 2009-12-05 08:19:11
কেমন বিচার চাই? ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29047322 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahnewton/29047322 2009-11-21 16:36:12