আমার প্রিয় পোস্ট
- পার্বত্য জনগনঃ উদ্বাস্তু হতে হতে ক্রমশঃ আলাদা হয়ে যাওয়া... জেগে ওঠা বিচ্ছিন্নতার বোধ... - মুনশিয়ানা
- প্রভাতফেরীর কিছু ছবি - মাইবম সাধন
- ঔপনিবেশিক ডিসকোর্স-বিরোধী তৎপরতা 'রিভাইভেলিজম' নয় - কন্থৌজম সুরঞ্জিত
- একুশের প্রভাতফেরীতে ঢাকাবাসী মনিপুরি - মাইবম সাধন
- বাংলাদেশের মনিপুরি কবিতা # হাফিজ রশিদ খান - মাইবম সাধন
- রাংলাই এর সাক্ষাৎকার - সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র
- পাঁচটি মনিপুরি কবিতা - মাইবম সাধন
- চোখ : বির্বতিত পাঠরেখা # মাইবম সাধন - মাইবম সাধন
- নুপী লান বা নারী বিদ্রোহ-এর অন্তর্নিহিত বক্তব্য # দ্বিতীয় কিস্তি - মাইবম সাধন
- নুপী লান বা নারী বিদ্রোহ-এর অন্তর্নিহিত বক্তব্য - মাইবম সাধন
- ### মনিপুরি খুন্নায় অমসুং লেইঙাকলোন্দা নুপী লান ### [শুধুমাত্র মনিপুরি ভাষাভাষীদের জন্য] - মাইবম সাধন
- মণিপুরী ভাষা ও সাহিত্য_০২ - মাইবম সাধন
- মণিপুরী ভাষা ও সাহিত্য - মাইবম সাধন
- আদিবাসীদের ভাষা কেও সমান মর্যাদা দেওয়া... - হমপগ্র
- ঐতিহ্যবাহী মণিপুরী সংস্কৃতির নিত্য ব্যবহার্য বিভিন্ন জিনিসপত্র - মাইবম সাধন
বাংলাদেশের মনিপুরি কবিতা # হাফিজ রশিদ খান
২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:৩১
মনিপুরি ভাষায় 'ওগ্রি হাংগেল' আর বাংলায় গীতিকবিতা একই অর্থময়তার দ্যোতক। পৃথিবীর আদি মানবগোষ্ঠিগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্যের মতো মনিপুরিদের কাছেও গীতিকবিতা ছিল হৃদয় ও চেতনাবৃত্তি প্রকাশের প্রাথমিক বাহন। মনিপুরি রাজারা সিংহাসন আরোহণের সময় ওগ্রি হাংগেল পরিবেশনের মাধ্যমে সূর্যের পুজো দিতেন। সূর্য ছিল তাদের আরাধ্য দেবতা। রাজপুরুষরা চাইতেন সূর্যের মতোই চিরসমুজ্জ্বল আর প্রভাময় থাকতে। 'ওগ্রি হাংগেল' লিখিত নয়, মুখে-মুখে রচিত সাহিত্য। কথা ও সুরের মায়াজালে মনিপুরি লোকায়ত সমাজে এখনো এর জের আছে।
বাংলাদেশে মনিপুরিরা বসতি স্থাপন করে প্রায় ২০০ বছর আগে। ১৮১৯-১৮২৬ সাল পর্যন্ত স্থায়ী মনিপুর-বার্মা যুদ্ধের সময় বর্মীদের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়ে মনিপুরিদের একটা অংশ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথানত সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জে এদের বসবাস রয়েছে।
বৈষ্ণব ধর্ম গ্রহণের আগে মনিপুরিদের সাধারণ পরিচিতি ছিল 'মেইতেই' এবং আদিভূমির (বর্তমান ভারতের মনিপুর রাজ্য) নাম ছিল 'মেইতেই লেইপাক'। আঠারো শতকে মনিপুররাজ পামহৈবার (দরিদ্রদরদি বলে যার আরেক নাম গরিবে নেওয়াজ) সময় মহাভারতের একটি কাহিনীর সূত্রে এর নতুন নাম হয় 'মনিপুর' আর আদিবাসীরা 'মনিপুরি'।
গত শতাব্দির সত্তর দশকের মধ্যপর্বে বাংলাদেশে মনিপুরি সাহিত্যের চর্চা শুরু। দীপান্বিতা, মৈরা, শজিবু, ইপোম, ওগ্রি প্রভৃতি সাহিত্যপত্র ও ছোট কাগজের প্রকাশনায় এ চর্চার ধারা এখন অনেক বেগবান, সংহত। মনিপুরি তরুণদের অনেকেই মাতৃভাষার পাশাপাশি বাংলায়ও সাহিত্যচর্চা করছেন।
এ কে শেরাম
অন্ধকার
অন্ধকারে ভয় খুব -
হৃদয়হীন জল্লাদ ও প্রেতাত্মাকেও অতো নয় ;
দৃষ্টিভঙ্গির পেচানো অন্ধকার
কৌশলের অন্ধকার
চেতনা ও মননের অন্ধকার -
সহজ চলাচলেও ব্যাপ্ত হয়ে আছে আজ !
এ মিলিত তিমির ঘনীভূতরুপে
ভয়ানক বিভীষিকা আনে চারপাশে ;
তুচ্ছ কচুরিপানাও এই অন্ধকারে
ফোস করে-ওঠা যেনো ভীতির দেবতাঃ 'লাই' !
শেরাম নিরঞ্জন
আত্মপ্রতিকৃতি
নতুন-নতুন পথে ছুটছে আমার
চেতনার দূর্বার স্কুটার -
আর বাস্তবে মানুষ আমি এক গ্লানিময়
নত হয়ে
চলি ভয়ার্ত, বিবশ !
পৃথিবীটা পুতিগন্ধময় -
চিনেছি ভালোই ঘৃণিত সমাজ
এই হৃদয়হীন স্বজনদেরও ;
আর নিজের বলয়ে
ওতপ্রোতভাবে জড়িত এ আমাকে তো
চিনেছি সকলের আগেই !
সনাতন হামোম
তুমি
তুমি সুন্দর ঝরিনি তাই বৃষ্টি হয়ে
ঝড়ো বাতাসের মতো বইনি তোমার পাশ ঘেসে
পুজোর সময় তোমার হাতের আলোকিত বর্তিকায়
নাচের বিনম্র তালে
টেনেছ ভাটির স্রোতের মতন -
পাশে বৃষ্টিভেজা কাকের দুর্দশা দেখে
মন কেদেছিল, তবু
চাহনির মর্তবা বুঝবো বলে ফিরেও চাইনি
ওই বেচারার দিকে ;
রাসপূর্ণিমার মেলায় অমন অভিমানী চোখ
হলুদাভ ফনেকে আবৃত অধোদেশ
উত্কন্ঠিত এলোচুল
গলায় সোনার হার -
অজান্তে দিয়েছে কন্ঠে বুনোস্বভাবের এই গান !
কন্থৌজম সুরঞ্জিত
জোনাক চোখের ভোর
দাদিমার
স্মৃতিগল্পের ভেতর আকাঁবাঁকা পথে
ধীরে-ধীরে প্রসারিত
এইসব খুব দরদিয়া অক্টোপাস;
সময়ের বেপোয়ারা গতি
যখন গোগ্রাসে খেয়ে নিচ্ছে ওদের শরীর নিরাই-নিভৃতে,
জোনাকের নম্র আলো সান্ত্বনার বকুল ঝরানো সম্ভাষণ আনে
সে-সময়
আরো একটু সটান হয়ে
ঘুমোবার চেষ্টা করতেই
কে আমাকে জাগায় রাতের রিকশায়
ঝুলে থাকা
অতন্দ্র হারিকেনের মতো!
ভোরের প্রভায় তা তা থৈ থৈ করা
লতায় জড়ানো কুঁড়িটির মতো
ওড়িশি নৃত্যরত রাত_
চোখে যার সকালের মলিন কাজল!
থোঙাম সনজয়
বাজার দেবী
যুদ্ধে-যুদ্ধে ভরা এ জীবনে অবশেষে জানলামঃ
অবিশ্বাসের এ ঘোর লড়াইয়ে তুমিও আমার শত্রু -
বুকের বা-পাশে মনে হয়
পেন্ডুলামের মতোই দুলছে বেদনা ;
এভাবে বাচবো কতদিন খাচাবন্দি পশুর সমান !
তপ্ত কড়াইয়ে খৈ-এর আর কীবা পরিণতি
জ্বলন্ত চুলোয় কিছুক্ষণ লাল হওয়া ছাড়া ?
যখন সে কিনেছে আমাকে - করেছে মুক্তির পথও রুদ্ধ
তখন কী আর করণীয়
বাজার দেবীর নিজস্ব গোলাম হয়ে যাওয়া ছাড়া !
পারী চিংথাম
কুকুর
আজকের দিনটা দেখছি খুব বেদনামথিত
কেমন নির্বাক হয়ে গেছি, অন্ধ হয়ে যাচ্ছি..
তবু চিটে-যাওয়া স্বপ্ননারীর কাহিনী
দেখতে পাচ্ছি এ দীর্ঘশ্বাসেও !
কথা দিয়েছি যদিও গতকালই শেষ
তবু আজকেও আবার খুব দেখতে ইচ্ছে করছে ;
ভাবিঃ চোখটাকে তুষ্ট করি একবার
পরক্ষণে নিবৃত্তির কঠিন জ্বলুনি দিয়ে
নেড়েছি ওদের..
এখন আমার আর ফাস ছাড়া গতি নেই কোনো..
হাফিজ রশিদ খান সম্পাদিত 'অরণ্যের সুবাসিত ফুলঃ আদিবাসী কবিতার নির্বাচিত সংকলন' গ্রন্থ থেকে। প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারী ২০০৯, প্রকাশকঃ পাঠসূত্র, ঢাকা।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বাংলাদেশের মণিপুরী কবিতা, মণিপুরী সাহিত্য, মনিপুরী কবিতা, মনিপুরি কবিতা, মণিপুরী, মণিপুরী, মণিপুরী কবি ও কবিতা, মনিপুরি কবি ও কবিতা, বাংলাদেশের মনিপুরী সাহিত্য, বাংলাদেশের মণিপুরী সাহিত্য, মণিপুরী সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র, বাংলাদেশের মণিপুরী কবিতা, মণিপুরী সাহিত্য, মনিপুরী কবিতা, মনিপুরি কবিতা, মণিপুরী, মণিপুরী, মণিপুরী কবি ও কবিতা, মনিপুরি কবি ও কবিতা, বাংলাদেশের মনিপুরী সাহিত্য, বাংলাদেশের মণিপুরী সাহিত্য, মণিপুরী সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র ;
প্রকাশ করা হয়েছে: মণিপুরী কবিতা বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:০১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: ইমন ভাই, আপনাকে সাতসকালে পেয়ে সত্যিই ভালো লাগছে। এখানে মানে এই পোস্টে কয়েকজন লেখকের কবিতা বাদ পড়েছে.. আসলে কম্পোজ করতে করতে...
আবার দেখা হবে। ভালো থাকবেন..
দস্যু বনহুর বলেছেন:
বই থেকে কপি পেস্ট করে পোস্ট দিলেন, আর এখন স্টিকি করার আহবান জানাচ্ছেন? কি কি কারণে এই পোস্ট স্টিকি করতে হবে দয়া করে জানালে কৃতার্থ হই। পোস্ট ভাল লাগসিল কিন্তু কমেন্টের জন্য মাইনাস!
লেখক বলেছেন: হুম!!! কোন ভালো লেখা যদি কাট-পেস্ট করে তার তথ্যসূত্রসহ উল্লেখ করা হয় তাহলে সেটি কি স্টিকি করার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে..?? [!]
এরকম মাইনাস আসলে আপনার মনোবৃত্তিই প্রকাশ করে, শুধু নামেই নয় আপনি কাজেও.... !!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
ভালো থাকবেন, আবার দেখা হবে।
আপনার লগে আরও একজন দস্যু মাইনাস দিসে, তারেও ধন্যবাদ।
অন্তত এই লেখাটি কষ্ট করে পড়ার জন্য। আবারও ধন্যবাদ দিতেছি কারণ পড়ার পর হৃদযন্ত্র ভাইঙ্গা 'পরলোকগমন' করেন নি..!!!
মাইন্ড কইরেন না..
লেখক বলেছেন: মাইনাস এর পাল্লায় একজন 'জ্ঞানজ্বালানিয়া হোমোসেপিয়েন্স' আছেন। ইনার আর্শীবাদ উপচেপড়া জ্ঞান আমার চলার পথের পাথেয়....!!!
ভালো থাকবেন আর আড়ালে আড়ালে মাইনাস দিয়ে যাবেন..
কন্থৌজম সুরঞ্জিত বলেছেন:
শুভেচ্ছা রইল।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
চারবাক বলেছেন:
বাংলাদেশের মনিপুরি সাহিত্যচর্চা অব্যাহত থাকুক..
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
শেরাম চীংখৈ বলেছেন:
বইটি সংগ্রহ করেছি। শুভেচ্ছা রইল।
লেখক বলেছেন: হুম। ভালো থেকো..
লেখক বলেছেন: এইগী অতোপ্পা সাইট অমা >> Click This Link
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















