somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... প্রভাতফেরীর কিছু ছবি
পূর্ববর্তী পোস্টে আমি বলেছিলাম যে পেনড্রাইভ ভাইরাসাক্রান্ত হওয়ায় প্রভাতফেরীর ছবিগুলো পোস্ট করতে একটু সময় লাগবে এবং 'একুশের প্রভাতফেরীতে ঢাকাবাসী মনিপুরি' পোস্টের সাথে আপলোড করে আপডেট করা হবে। ছবিগুলো পেনড্রাইভ থেকে উদ্ধার হওয়ার পর এক নতুন চিন্তা মাথায় এলো- ছবিগুলো দিয়েই একটি পোস্ট করার। তাই ছবিগুলো নিয়ে এই পোস্ট সেই প্রয়াসমাত্র।

ঢাকায় অবস্থানরত মনিপুরিদের শ্রদ্ধাঞ্জলি

ঢাকাবাসী মনিপুরিদের ব্যানার

প্রভাতফেরীর দীর্ঘ লাইনে

শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং পুষ্পস্তবক শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংক্ষিপ্ত এক আলোচনা সভায়

একুশ আমারও অহংকার, আমারও গর্ব

তরুণ মনিপুরি কবি এবং ব্লগার মাইবম সাধন


আরও ছবি দেখুন এখানে --> Click This Link


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28915449 http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28915449 2009-02-23 22:42:24
একুশের প্রভাতফেরীতে ঢাকাবাসী মনিপুরি "আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান একুশে ফেব্রুয়ারী অমর হোক"


মাতৃভাষার স্বীকৃতি ও তাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবীতে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী মাতৃসন্তানদের রক্তদান ও আত্মাহুতির চূড়ান্ত স্বীকৃতি আজকের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কেবল 'বাংলা'ভাষাকে নয়, পৃথিবীর সমস্ত ভাষার অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে। একুশের চেতনা তাই মানুষের অস্তিত্ব ও অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণের মূলমন্ত্র। একুশের এই সংগ্রামে যারা রক্ত ও আত্মাহুতি দিয়েছেন তাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছি। ইউনেস্কো কর্তৃক নভেম্বর ১৭, ১৯৯৯ তারিখ ২১শে ফেব্রুয়ারীকে "আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস" হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর ২১শে ফেব্রুয়ারী ২০০০ সাল হতে অদ্যাবধি প্রতিবছর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমার গভীর গভীর শ্রদ্ধার সাথে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে এদিনটিকে পালন করে আসছি।

পৃথিবীর অপরাপর ভাষার ন্যায় মনিপুরি ভাষাও এক প্রাচীন ভাষা। যার প্রাচীন নাম 'মীতেইলোন' বা 'মেইতেই লোন' । এই ভাষার রয়েছে এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সাহিত্য। উৎস বিচারে এই ভাষা মঙ্গোলীয় মহাপরিবারের অন্তর্ভুক্ত এবং এর উৎপত্তি আজ থেকে প্রায় ৩৪০০ বছর আগে। প্রাচীনতার দিক থেকে মনিপুরি সাহিত্যের স্থান ভারতীয় প্রাচীন সাহিত্য কর্ম কৃষ্ণ যজুর্বেদের পরেই। মনিপুরি ভাষা সাহিত্যের সৃষ্টি সমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ যেমন: ওগ্রী, খম্বাথোইবী ইত্যাদি।

মনিপুরি জনগোষ্ঠী পৃথিবীর অন্যান্যস্থানে বসতিস্থাপন ছাড়াও ঢাকা শহরের তেজগাও অঞ্চলে বসতি স্থাপন শুরু করে সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথম দশকে। কিন্তু কালের ক্ষয়িঞ্চু ধারায় এই জনগোষ্ঠী ক্রমে ক্রমে বিলুপ্ত হয়ে আজ কেবল স্মৃতি হয়েই ইতিহাসের নীরব স্বাক্ষী হিসেবে রয়ে গেছে স্থানটুকু।

মনিপুরি ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা রয়েছে। ঐতিহাসিকদের মতে মনিপুরি লিপি প্রবর্তিত হয় মহারাজ পাখংবার শাসনামলে (৩৩-৩১৫ খৃ। তখন বর্ণ সংখ্যা ছিল ১৮টি। পরবর্তীতে মহারাজ খাগেম্বার শাসনামলে আরো ৯টি নতুন বর্ণ সংযোজিত হয়। বর্তমানে মোট বর্ণমালার সংখ্যা হচ্ছে ২৭টি। কিন্তু অষ্টাদশ শতাব্দীতে রাজা পামহৈবার শাসনামলে (১৭০৯-১৭৪৮ খৃ শ্রী শ্রী চৈতন্য প্রবর্তিত 'বৈষ্ণব' ধর্ম তৎকালীন মনিপুর রাজ্যের রাষ্ট্রীয় ধর্মরুপে গৃহীত হওয়ার পর বাংলালিপি দখল করে নেয় মনিপুরি লিপির স্থান। সেই থেকে মনিপুরি ভাষা বাংলা হরফেই লিখিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি বিলুপ্ত মনিপুরি লিপির পুন:ব্যবহার ও প্রচলন শুরু হয়েছে।


প্রভাতফেরীতে অংশগ্রহন:

ঘড়ির কাটা যখন ঠিক ৭:০০ ছুই ছুই তখন পূর্ব পরিকল্পনানুযায়ী পলাশীর মোড়-এ জড়ো হতে থাকে ঢাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মনিপুরিরা। হালকা হালকা শীত করছিল। জনলোকারণ্যে একে একে ছেয়ে যায় পলাশী মোড়। শিশু কিশোরদের কপালে, গালে বিভিন্ন লেখা শোভা পাচ্ছিল। কেউবা মাথায় অমর একুশের শহীদ মিনার সম্বলিত বেল্ট কেউবা জাতীয় পতাকা কেউবা স্টিকার লাগিয়ে দাড়িয়ে আছে। অন্যরকম অনুভূতি, অন্যরকম এক আনন্দ ছেয়ে যায় মন ও মননে।

তারপর একে একে যখন আমাদের পরিচিত সবাই এসে গেলো তখন আমরা মহান একুশে ফেব্রুয়ারীর সারিবদ্ধ প্রভাতফেরীর লাইনে। আমাদের উঁচু ঝান্ডায় লেখা বড় বড় করে লেখা 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান একুশে ফেব্রুয়ারী অমর হোক', সৌজন্যে 'ঢাকাবাসী মনিপুরি'। আর এই উঁচু ঝান্ডা বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল আমারই দুই সহপাঠী বন্ধু।

আমরা যখন শহীদ মিনারের খুব কাছে চলে এলাম তখন সত্যি অন্যরকম এক শীতলতা বিরাজ করছিল মনে। সামনেই স্তুপাকারে (নিবেদিত/অর্পিত)বিশাল ফুলের সমাহার। তারপর আমাদের দুই বন্ধু পুষ্পস্তবক অর্পন করল, আমাদের প্রত্যেকের হাতে এক একটি করে ফুলের তোড়া ছিল, কারো কারো দুটো.. একে একে আমরা সবাই শ্রদ্ধা নিবেদন করলাম..

তারপর সেখান থেকে বেরিয়ে আমরা সোহরাওর্য়াদি উদ্যানে মিলিত হয়ে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্বের আয়োজন করি। সেখানে অনেক অজানা তথ্যও বেরিয়ে আসে, জানা হয় সবার..




আমার পেনড্রাই ভাইরাসাক্রান্ত হওয়ায় প্রভাতফেরীর ছবিগুলো লেখাটির (এই লেখাটি লেখার সময় পর্যন্ত) সাথো পোস্ট করতে পারলাম না। সমস্যার সমাধান হওয়ামাত্র লেখাটির সাথে ছবিগুলো পোস্ট করে আপডেট করা হবে। আশা করি খুব শীঘ্রই সমাধান হয়ে যাবে..

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28914363 http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28914363 2009-02-21 19:47:47
বাংলাদেশের মনিপুরি কবিতা # হাফিজ রশিদ খান
বাংলাদেশে মনিপুরিরা বসতি স্থাপন করে প্রায় ২০০ বছর আগে। ১৮১৯-১৮২৬ সাল পর্যন্ত স্থায়ী মনিপুর-বার্মা যুদ্ধের সময় বর্মীদের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়ে মনিপুরিদের একটা অংশ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথানত সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জে এদের বসবাস রয়েছে।

বৈষ্ণব ধর্ম গ্রহণের আগে মনিপুরিদের সাধারণ পরিচিতি ছিল 'মেইতেই' এবং আদিভূমির (বর্তমান ভারতের মনিপুর রাজ্য) নাম ছিল 'মেইতেই লেইপাক'। আঠারো শতকে মনিপুররাজ পামহৈবার (দরিদ্রদরদি বলে যার আরেক নাম গরিবে নেওয়াজ) সময় মহাভারতের একটি কাহিনীর সূত্রে এর নতুন নাম হয় 'মনিপুর' আর আদিবাসীরা 'মনিপুরি'।

গত শতাব্দির সত্তর দশকের মধ্যপর্বে বাংলাদেশে মনিপুরি সাহিত্যের চর্চা শুরু। দীপান্বিতা, মৈরা, শজিবু, ইপোম, ওগ্রি প্রভৃতি সাহিত্যপত্র ও ছোট কাগজের প্রকাশনায় এ চর্চার ধারা এখন অনেক বেগবান, সংহত। মনিপুরি তরুণদের অনেকেই মাতৃভাষার পাশাপাশি বাংলায়ও সাহিত্যচর্চা করছেন।




এ কে শেরাম

অন্ধকার

অন্ধকারে ভয় খুব -
হৃদয়হীন জল্লাদ ও প্রেতাত্মাকেও অতো নয় ;
দৃষ্টিভঙ্গির পেচানো অন্ধকার
কৌশলের অন্ধকার
চেতনা ও মননের অন্ধকার -

সহজ চলাচলেও ব্যাপ্ত হয়ে আছে আজ !

এ মিলিত তিমির ঘনীভূতরুপে
ভয়ানক বিভীষিকা আনে চারপাশে ;
তুচ্ছ কচুরিপানাও এই অন্ধকারে
ফোস করে-ওঠা যেনো ভীতির দেবতাঃ 'লাই' !




শেরাম নিরঞ্জন

আত্মপ্রতিকৃতি


নতুন-নতুন পথে ছুটছে আমার
চেতনার দূর্বার স্কুটার -
আর বাস্তবে মানুষ আমি এক গ্লানিময়
নত হয়ে
চলি ভয়ার্ত, বিবশ !

পৃথিবীটা পুতিগন্ধময় -
চিনেছি ভালোই ঘৃণিত সমাজ
এই হৃদয়হীন স্বজনদেরও ;

আর নিজের বলয়ে
ওতপ্রোতভাবে জড়িত এ আমাকে তো
চিনেছি সকলের আগেই !




সনাতন হামোম

তুমি


তুমি সুন্দর ঝরিনি তাই বৃষ্টি হয়ে
ঝড়ো বাতাসের মতো বইনি তোমার পাশ ঘেসে
পুজোর সময় তোমার হাতের আলোকিত বর্তিকায়
নাচের বিনম্র তালে
টেনেছ ভাটির স্রোতের মতন -
পাশে বৃষ্টিভেজা কাকের দুর্দশা দেখে
মন কেদেছিল, তবু
চাহনির মর্তবা বুঝবো বলে ফিরেও চাইনি
ওই বেচারার দিকে ;

রাসপূর্ণিমার মেলায় অমন অভিমানী চোখ
হলুদাভ ফনেকে আবৃত অধোদেশ
উত্কন্ঠিত এলোচুল
গলায় সোনার হার -

অজান্তে দিয়েছে কন্ঠে বুনোস্বভাবের এই গান !




কন্থৌজম সুরঞ্জিত

জোনাক চোখের ভোর

দাদিমার
স্মৃতিগল্পের ভেতর আকাঁবাঁকা পথে
ধীরে-ধীরে প্রসারিত
এইসব খুব দরদিয়া অক্টোপাস;

সময়ের বেপোয়ারা গতি
যখন গোগ্রাসে খেয়ে নিচ্ছে ওদের শরীর নিরাই-নিভৃতে,
জোনাকের নম্র আলো সান্ত্বনার বকুল ঝরানো সম্ভাষণ আনে
সে-সময়
আরো একটু সটান হয়ে
ঘুমোবার চেষ্টা করতেই
কে আমাকে জাগায় রাতের রিকশায়
ঝুলে থাকা
অতন্দ্র হারিকেনের মতো!

ভোরের প্রভায় তা তা থৈ থৈ করা
লতায় জড়ানো কুঁড়িটির মতো
ওড়িশি নৃত্যরত রাত_

চোখে যার সকালের মলিন কাজল!





থোঙাম সনজয়

বাজার দেবী

যুদ্ধে-যুদ্ধে ভরা এ জীবনে অবশেষে জানলামঃ
অবিশ্বাসের এ ঘোর লড়াইয়ে তুমিও আমার শত্রু -
বুকের বা-পাশে মনে হয়
পেন্ডুলামের মতোই দুলছে বেদনা ;

এভাবে বাচবো কতদিন খাচাবন্দি পশুর সমান !

তপ্ত কড়াইয়ে খৈ-এর আর কীবা পরিণতি
জ্বলন্ত চুলোয় কিছুক্ষণ লাল হওয়া ছাড়া ?

যখন সে কিনেছে আমাকে - করেছে মুক্তির পথও রুদ্ধ
তখন কী আর করণীয়
বাজার দেবীর নিজস্ব গোলাম হয়ে যাওয়া ছাড়া !






পারী চিংথাম

কুকুর


আজকের দিনটা দেখছি খুব বেদনামথিত
কেমন নির্বাক হয়ে গেছি, অন্ধ হয়ে যাচ্ছি..

তবু চিটে-যাওয়া স্বপ্ননারীর কাহিনী
দেখতে পাচ্ছি এ দীর্ঘশ্বাসেও !

কথা দিয়েছি যদিও গতকালই শেষ
তবু আজকেও আবার খুব দেখতে ইচ্ছে করছে ;

ভাবিঃ চোখটাকে তুষ্ট করি একবার
পরক্ষণে নিবৃত্তির কঠিন জ্বলুনি দিয়ে
নেড়েছি ওদের..

এখন আমার আর ফাস ছাড়া গতি নেই কোনো..





হাফিজ রশিদ খান সম্পাদিত 'অরণ্যের সুবাসিত ফুলঃ আদিবাসী কবিতার নির্বাচিত সংকলন' গ্রন্থ থেকে। প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারী ২০০৯, প্রকাশকঃ পাঠসূত্র, ঢাকা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28913724 http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28913724 2009-02-20 10:31:19
পাঁচটি মনিপুরি কবিতা 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাংলা ভাষার ন্যায় পৃথিবীর সকল ভাষা যেন পায় শ্রদ্ধা ও সম্মান' - এই স্লোগানকে সামনে রেখেই ফেব্রুয়ারী ২০০১ এ প্রকাশিত হয়েছিল এক বসন্তের ভালোবাসা। একটি দ্বি-মাত্রিক (বাংলা-মনিপুরি) কাব্যগ্রন্থ। মুতুম অপু সম্পাদিত দ্বিমাত্রিক কবিতার গ্রন্থ এক বসন্তের ভালোবাসা কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত কিছু কবিতা এখানে দেয়া হলো। কবিতাগুলো মনিপুরি ভাষা অর্থাত্ মীতৈ লোন বা মৈতৈ লোন থেকে বাংলায় অনূদিত। আর এ অনুবাদের কঠিনতম কাজটি করেছেন কবিরা নিজে, তবে কবি হামোম প্রমোদ এর কবিতাটি শেরাম নিরঞ্জন কর্তৃক অনূদিত। - মাইবম সাধন


এ. কে. শেরাম

এক এক করে ভেঙ্গে পড়ে সবকিছু

আমার বাড়ীর কাছেই
সেই কোন প্রাচীন কালের একটা সেতু ছিলো।
একদিন রাত্রির পৌঢ় প্রহরে
সকলের অজ্ঞাতসারে ভেঙ্গে পড়লো সেই সেতু।
আমাদের বাড়ীর বাম পাশেই
আমাদের কোন প্রপিতামহের বানানো
পরিত্যক্ত একটি প্রাচীন ইমারতও ছিলো,
শৈশবের লুকোচুরি খেলার স্থান
পুরনো সেই ইমারতের ক্ষয়িত শরীর থেকে
এখন কেবলি লাবন্য খসে পড়ে,
এখানে ওখানে উত্কন্ঠ ভেসে ওঠে
শ্যাওলা ধরা তার নীল নীল শিরা উপশিরা ;
জরাজীর্ণ সেই ঘর এখন পোকা মাকড়ের বসত বাড়ী
কুকুর বেড়ালও সেখানে যায়না সহজে।
একদিন সকলের বিস্মিত দৃষ্টির সামনে
সশব্দ হুংকারে ভেঙ্গে পড়লো সেই জীর্ণ ইমারত।
আমাদের গ্রামের পাশে বহমান
রাত্রির মতো রহস্যময়ী যে নদী
ভরা পেটেই হয়তোবা সে ক্ষুধার্ত হয় বেশী,
তাইতো সে বর্ষার ভরা প্লাবনেই
ক্ষুধার বিশাল ব্যদিত মুখে
গ্রাস করে দুপারের খন্ড খন্ড মাটি।
ভাঙ্গনের এই ভয়াল শব্দে
সচকিত হয়ে চমকে চমকে ওঠে
রাত্রির বুকে বিশ্রামরত নির্বিরোধ গ্রাম।

কেনো জানিনা
এক এক করে সবকিছু ভেঙ্গে পড়ে
ভেঙ্গে পড়ে প্রকৃতি, চাঁদ ও নক্ষত্ররাজি
টুকরো টুকরো হয়ে যায় পৃথিবী, আকাশ, জল ও বায়ু
বৃদ্ধ-যুবা, নারী-পুরুষ, সাদা-কালো
কেউ বাদ যায়না ভাঙ্গনের এই সর্বভুক ক্ষুধার গ্রাস থেকে।
এক এক করে ভেঙ্গে পড়ে সবকিছু
মানুষের হৃদয়ের সেতু
বিশ্বাসের ঘর
জীবনের নদী

কিন্ত তারপরও
গোপনে গোপনে একাকী পালিয়ে
হয়তোবা এখনও নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে ভালোবাসা,
হয়তোবা ভাঙ্গনের এই করাল গ্রাসে
এখনও পড়েনি ভালোবাসার ঘর।
এক এক করে ভেঙ্গে পড়ার এই সর্বগ্রাসী সময়ে
এটুকুইতো আমার প্রাণদ ভরসা
আমি বাচিয়ে রাখতে চাইও শুধু এটুকুই
আমার বেঁচে থাকার ভিত্তিভূমি হিসেবে।



হামোম প্রমোদ

বিপ্রতীপ

'বলেছিলে ভুলবোনা এ জীবনে আমরা আমাদের
প্রতিজ্ঞা করেছিলে ভালোবাসার সুতোয় বাঁধব দুজন'
শুয়ে শুয়ে ভাবি আমি সেই অচল শপথের কথা
হৃদয়ের গভীর খচখচে করে ওঠে এক অচেনা ব্যথা

একদিন আমি বলেছিলাম লক্ষী-সরস্বতী
চন্ডী-বেহুলার ধারা তুমি-তুমিও বলেছিলে
রাধা-কৃষ্ণ, খম্বা-থোইবীর অমর কাহিনী
কিন্ত আজ রাধা-কৃষ্ণে, খম্বা-থোইবীতে দুরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে ক্রমশঃ
চেতনার চারিদিকে এক রহস্যময়ী পাপেটের ওড়াওড়ি
সামনে দাঁড়িয়ে আছে দুরন্ত এক মহিষ
হিংস্র কুকুরের গর্জন ভেসে আসে ইথারে ইথারে
পলায়নপর মা কালীর ভুলের মাশুল দিচ্ছে রক্তাক্ত জিহ্বা
অর্থাত্ কোথা থেকে যেনো পালিয়ে এলো সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে
সীতা, দ্রোপদী, মাইনু, পেমচা, এই উন্মুক্ত ময়দানে
আর অন্ধ গহ্বরে আত্মধিক্কারে হাতড়াতে থাকে
দেবরাজ ইন্দ্র, জিউস, পাখংবা, মহাদেব
রাবন, দূর্যোধন আর নোংবানের দু'চোখ অশ্রুসিক্ত আজ
ক্লীওপেট্রা, মোনালিসা, শন্দ্রেম্বীর হাসিতে প্রশান্তি খুঁজতে গিয়ে দেখি
ছোপ ছোপ রক্তের রঞ্জিত হয়ে আছে স্তনাগ্র থেকে নাভিমূল

কে তুমি বসে আছো পুষ্পরথে ?
হৃদয়ের স্পন্দনে তুমি কি বিচলিত নও ?
একবার তাকিয়ে দেখো চেতনার শার্সিতে
বলে যাও একবার কে ?

আমি ভঙ্গি পরিবর্তন করে শুয়ে থাকি পুনরায়।



শেরাম নিরঞ্জন

অদাহ্য হৃদয় পোড়ে
দু'হাতে স্বপ্ন সরাতে সরাতে এগিয়ে যায় সে
তার পায়ে লুটিয়ে পড়ে জ্যোত্স্নার অন্ধকার
লাবন্য উপচে পড়ে জ্যোত্স্নার দীপ্তিতে
সরলরেখা হয়ে যায় জীবনের জটিল কম্পোজিশন

সে,
সন্ধ্যামালতীর মালা গাঁথে
তার চোখের পল্লবে নাচে নীল তারার বুটিদার আকাশ

এবং হঠাত্
পূর্ণ চাঁদ ভেঙ্গে ভেঙ্গে
দ্বি-খন্ড
ত্রি-খন্ড
চর্তুখন্ড

অতঃপর চৈত্রের পাতা ঝরার শব্দ
তার চোখে ভাসে গান্ধারীর শত স্নানের মৃত্যুশোক
স্মৃতিদীর্ণ ট্রয় তার কাঁধে রাখে হাত

অদাহ্য হৃদয় পোড়ে-পোড়েনা ভালোবাসা তবু..



এন. যোগেশ্বর অপু

জল পর্দার চোখ

হিম কুয়াশার চাদর জড়ালে প্রকৃতি
তোমার উষ্ণ উপস্থিতির জন্য তৃষ্ণার্ত হয়ে যাই
আদিগন্ত আলোয় উদ্ভাসিত হলে বিশ্বলোক
শিশিরের মতো ঝরে যায় জীবনের দিনগুলো
কালের গর্ভ হতে পূনর্জন্মের অস্থির প্রহরে
আমি একা, শুধু একা। নিঃসঙ্গ।

কেমন আছো অনিতা, আনন্দের সত্সঙ্গ হারা এদিনে
সময় এখন এ ঘরে স্থির, তবু শুনি
ঘড়ির কাঁটার মতো পথিকের পদধ্বনি
আসা-যাওয়ার ক্লান্তিহীন সময়ের সঙ্গীতে
কে যেনো জেগে ওঠে হৃদয়ে।
পর্দা ওড়ানো বসন্ত বাতাস চুপি চুপি
বলে যায় পথিক জীবনের গল্প।

অনিতা, কোলাহল এ সময়ে ভালো আছো ?
ঘুমহীন রাত্রির পোড়া চোখে
বন্দি সময়ের শয্যার এপাশ ওপাশ
খুলে বসি হৃদয়ের জানালা একা, নিশ্চুপ।
কল্পনার রঙের মতো দেয়ালের ছবিগুলো
ঝাপসা হয়ে আসে চোখে জল পর্দায়
এ জীবন যাত্রায়-
তোমার সেই জল পর্দার চোখের মতো।



নামব্রম শংকর

কুয়াশাচ্ছন্ন ভালোবাসার গল্প

কুয়াশার চাদর জড়িয়ে
আবছা অন্ধকারেই রয়ে গেলে তুমি।

তোমাকে কি নামে ডাকি ?
আফ্রোদিতি, নুমিতলৈ নাকি সুস্মিতা।
ভেবে পাইনা কি করে জাগাই তোমাকে
সুখ স্বপ্নের অতল থেকে।
জানিনা কি করে বুঝাই তোমাকে
তৃষিতের এক চুমুক জল তুমি,
হৃদয়ের প্রান্তরে বুনো হাওয়া
রুগ্ন আকাশে একাদশীর চাঁদ।

ভালোবাসার অনুর্বর ক্ষেত্রে উদ্যমী চাষী আমি
শুষে নিতে চাই ভালোবাসার মাংশ-হৃতপিন্ড।

আমি সেই ক্ষণের অপেক্ষায়
একদিন সূর্যের প্রখর আলোয় কুয়াশা কেটে যাবে
আবছা অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসবে তুমি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28908792 http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28908792 2009-02-09 16:35:56
চোখ : বির্বতিত পাঠরেখা # মাইবম সাধন চোখ : বির্বতিত পাঠরেখা
মাইবম সাধন

যে পথ চলে গেছে নদীজলে, তার-
সকাল পর্যন্ত পৌছে দেখি গৃহত্যাগী জোছনা

প্লাবনের ভাষায়
কিছু উর্বর পলিমাটি রেখে গেলে
চাষাবাদে ঝুকে পড়ে
নাগরিক নিসর্গে ভাসমান আদিচোখ


২.
চোখের চারপাশ ঘিরে হিউমাস
কখনো নদীর মতোন
পাড় ভেঙে ভেঙে স্রোতস্বিনী

একদিন এইরকম জলোচ্ছাস
জলাবর্তে মাটিগাছ, জেনেছিলো-
জলের জাতকে জাতপত্র

সেই থেকে -
প্রতিটি বৃষ্টিরাতের পাড়ভাঙা গল্প
প্রাগৈতিহাসিক মেঘের বিবরণে
অনাদিতিহাস খুড়ে চলে মুখভাষা


৩.
ভাষার উপকন্ঠে কতিপয় শীতপোকা
নিদ্রাতুর আমাকে বেঁধে রাখে
প্রত্নগীতির উৎসরেখায়
লতায়পাতায়

ভাবছি এবার -
মাঁচানের গায়ে এলিয়ে দেবো এ মুখভাষা
যেনো চকচকে ঝকঝকে হয় রোদের পৌরষ্ঠে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28893305 http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28893305 2009-01-05 16:51:05
নুপী লান বা নারী বিদ্রোহ-এর অন্তর্নিহিত বক্তব্য # দ্বিতীয় কিস্তি ## নুপী লান বা নারী বিদ্রোহ-এর অন্তর্নিহিত বক্তব্য ##
দ্বিতীয় কিস্তি


প্রথম নুপী লান বা নারী বিদ্রোহ মনিপুরি নারীদের মধ্যে ধৈর্য্য ও সাহসিকতার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। আর এর ফলে বৃটিশ শাসনামলে নানা অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে মনিপুরি নারীরাই বারে বারে গড়ে তুলেছে প্রতিরোধ আন্দোলন। মনিপুরে 'ফ্রি ট্রেড পলিসি' চালু হওয়ার পর থেকেই চালের দাম বেড়ে যায়। কারণ এই কর্মসূচীর অধীনে মনিপুর থেকে প্রচুর চাল বাইরে পাঠানো হয়। ১৮৯৭-৯৮ সালে ২৫,২৩০ মণ চাল রপ্তানী করা হয়। পরবর্তী বছর ১৮৯৮-৯৯ সালে এই রপ্তানীর পরিমাণ ছিল ৩৬,৪৩৬ মণ। ১৯২২-২৩ সালে চাল রপ্তানী হয় ৮০,০০০ মণ।১৯২৫-২৬ সালে এই পরিমাণ হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১,৫৫,০১৪ মণ। এভাবে প্রতি বছরে রপ্তানীর এই পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৩১-৩২ সালে ২,৭৭,৩৮৯ মণ এবং ১৯৩৭-৩৮ সালে ৩,৭২,১৭৪ মণে দাঁড়ায়। কিন্তু জমির পরিমাণ সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি। ১৯২৫-২৬ সালে জমির পরিমাণ যেখানে ছিল ১,৭৫,৫৩৭ একর সেখানে ১৯৩৭-৩৮ সালে তা মাত্র ১০,৩২২ একর বেড়ে ১,৮৫,২১৩ একরে দাঁড়ায়। একারণেই উৎপাদন বৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশী পরিমাণ চাল বাইরে রপ্তানী করা হতো বলে দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং মনিপুরি জনগণের সার্বিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে।

এসময় মনিপুরি নারীরা মনিপুর থেকে চাল রপ্তানী বন্ধ করার জন্য আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৩৯ সালে দীর্ঘমেয়াদী খরা এবং ফসলতোলার আগে প্রচন্ড শিলাপাতের কারণে ফসলহানি ঘটে। তারপরও মারোয়ারী/মারওয়ারী ব্যবসায়ীরা কমদামে ধান ক্রয় করে মেশিনে ভাঙিয়ে চাল রপ্তানী করা অব্যাহত রাখে। আগে যেখানে চালের দাম ছিল মণ প্রতি চার আনা সেখানে তা বৃদ্ধি পেয়ে দু'টাকায় দাঁড়ায়। কেবল দাম আকস্মিক বৃদ্ধিই নয়, চাল প্রায় দুষ্প্রাপ‌্য হয়ে ওঠে। একধরনের দূর্ভিক্ষাবস্থা বিরাজ করে। এমনি অবস্থায় 'তেরা কৈথেল' (তেরা বাজার) এর অরিবম চাওবীতোন দেবীর নেতৃত্বে প্রথম একদল মনিপুরি নারী রপ্তানীর জন্য আনা ধান-চাল আটক করে এবং চালের কল বন্ধ করার জন্যে সরকারের কাছে আবেদন জানায়। পরে প্রায় এক হাজার নারী খ্বাইরম্বন্দ বাজারে সমবেত হয়ে পলিটিক্যাল এজেন্ট মি. গিমসনের অফিস ঘেরাও করে এবং চাল রপ্তানীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। তারা 'মনিপুর ষ্টেট দরবার' এর প্রসিডেন্ট মি. টি এ শার্প'কে ঘেরাও করে রাখে এবং চালের কল ও রপ্তানী বন্ধ করার জন্য চাপ দেয়।

আন্দোলনকারী নারীদের সংখ্যা ক্রমশ: বাড়তে থাকে এবং দ্রুত ৪,০০০ ছাড়িয়ে যায়। তারা টি এ শার্প'কে টেলিগ্রাম অফিসে নিয়ে যায় নবদ্বীপে অবস্থানরত মহারাজের কাছে জরুরী টেলিগ্রাম বার্তা পাঠিয়ে রপ্তানী বন্ধের জন্য। টেলিগ্রাম বার্তায় তারা আরও জানায় যে তাদের দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত টি এ শার্প, মেজর কামিন্স, মেজর বুলফিল্ড সহ টেলিফোন অফিসের কর্মচারীদেরকে ঘেরাও করে রাখবে। আন্দোলনকারী নারীদেরকে ছত্রভঙ্গ করার জন্যে দ্রুত সেখানে পৌছে য়ায় 'আসাম রাইফেল' এর এক প্লাটুন সৈন্য। কিন্তু নারীরা পিছপা হয়নি। বরং আন্দোলনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এক পর্যায়ে মুখোমুখি সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সৈন্যরা বেয়নেট এবং বন্দুকের বাট দিয়ে আঘাত করতে থাকে এবং এর ফলে প্রায় ৩০জন আন্দোলনকারী আহত হয়। এদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা ছিল গুরুতর এবং তাদেরকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

১৪ই ডিসেম্বর তারিখে হৈরোক এবং ওয়াংজিং থেকে ১৮জন নারী নেত্রীকে গ্রেফতার করা হয়। এখবর ছড়িয়ে পড়লে পরদিন ১৫ই ডিসেম্বর মনিপুরি নারীরা এক প্রতিবাদ সভা করে এবং গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দাবী করে মিছিল নিয়ে রওয়ানা হয় জেল অভিমুখে। সেখানে জেল গেটে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে আন্দোলনকারী নারীরাও লাঠি হাতে প্রতিরোধ করে।

ডিসেম্বরের ১৬ তারিখে বিচারালয়ের সামনে এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেই সমাবেশ থেকে পুলিশের ইন্সপেক্টর কর্তৃক একজন নারী নেত্রীর লাঞ্ছিত হওয়া, ১৫ তারিখের মিছিলে লাঠিচার্জ এবং একজন চাল ব্যবসায়ী কস্তুরীর ছেলে কর্তৃক নারী নেত্রীদের বিরুদ্ধে অশোভন উক্তির প্রতিবাদে বিচার দাবী করা হয়। ডিসেম্বরের ২৫ তারিখে আটককৃত নেত্রীবৃন্দকে বিচারের জন্য কোর্টে নিয়ে আসা হলে আন্দোলনকারীরা সেখানে আক্রমন করে বিচার সভা বানচাল করে দেয়। তারপর একজন বৃটিশ কর্মকর্তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে টেলিগ্রাম অফিস থেকে নবদ্বীপে অবস্থানরত মহারাজের কাছে টেলিগ্রাম প্রেরণ করানো হয়। খবর পেয়ে আসাম রাইফেলস এর একদল সৈন্য এসে আন্দোলনকারীদেরকে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সরকারী বাহিনীর সাথে মুখোমুখি যুদ্ধের সময় কাংজম সনাজাওবী লৈমা সহ বেশ ক'জন নেত্রী আহত হন।

শুধু তাই নয়, আন্দোলনকারী নারীরা রোড ট্যাক্স, যানবাহনের ট্যাক্স সহ বিভিন্ন ট্যাক্স বন্ধ করা, বহিরাগত ব্যবসায়ীদের বিক্রি করা কাপড় না কেনা, দালালদের কাছে কোন ধরনের জিনিসপত্র বিক্রি না করাসহ বিভিন্ন দিক দিয়ে সরকারের প্রতি বিদ্রোহ শুরু করে।



[আগামী সংখ্যায় সমাপ‌্য....]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28889965 http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28889965 2008-12-29 21:33:58
নুপী লান বা নারী বিদ্রোহ-এর অন্তর্নিহিত বক্তব্য ## নুপী লান বা নারী বিদ্রোহ-এর অন্তর্নিহিত বক্তব্য ## পয়লা কিস্তি


১৮৯১ সালের ২৫ এপ্রিল খোংজোম তীরে ইঙ্গ-মনিপুরি যে যুদ্ধ হয় তাতে পরাজিত হয় মনিপুর বাহিনী এবং এর তৃতীয় দিনেই অর্থাৎ ২৭ শে এপ্রিল তারিখে মনিপুর রাজ্য পুরোপুরিভাবে বৃটিশ শাসনের অন্তর্গত হয়। মহারাজ কুলচন্দ্র সিংহ ২০০ অনুচরসহ চীনদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্ট করেন। কিন্তু কতিপয় সহযোগীর বিশ্বাসঘাতকতায় বন্দী হন বৃটিশদের হাতে। অচিরেই ধরা পড়েন বীর টিকেন্দ্রজিৎ এবং থাঙ্গাল জেনারেলকে বৃটেনের মহারানীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অপরাধে বিচার করে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয় যা ১৮৯১ সালের ১৩ই আগষ্ট তারিখে প্রকাশ্য জনসমক্ষে পোলো গ্রাউন্ডে কার্যকর করা হয়। এর আগে ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগে এন. সুবেদার, কাজাও সিংহ এবং জেনারেল থাঙ্গালকেও ফাঁসি দেয়া হয়। আবার অনেককে দেয়া হয় নির্বাসন। এভাবেই স্বাধীন মনিপুরের একচ্ছত্র শাসনক্ষমতা দখল করে নেয় বৃটিশ সরকার।

মনিপুর বৃটিশ শাসনের অধীন হলেও বৃটিশ শাসিত ভারতের সাথে একীভূত হয়নি বরং স্বতন্ত্র মর্যাদা নিয়ে তার অবস্থান অক্ষুন্ন রাখে। কিন্তু মনিপুরের শাসনব্যবস্থা বৃটিশ সরকারের প্রত্যক্ষ নির্দেশ-আদেশের মাধ্যমে পরিচালিত হতে থাকে। মাত্র ৫ বছর বয়সী রাজপুত্র চূড়াচান্দ'কে রাজসিংহাসনে বসানো হয়। মনিপুরি প্রজাবৃন্দ এসময় নানা সমস্যাদির মুখোমুখি হতে থাকে।

১৮৯১ সালের ২১ আগষ্ট, বৃটিশ সরকার মনিপুর শাসনের ক্ষেত্রে কিছু নীতিমালা ঘোষণা করে কিন্তু মনিপুরি প্রজাবৃন্দ তা প্রত্যাখ্যান করে। ফলে বৃটিশরা মনিপুরি সৈন্যদের উপযুক্ত অস্ত্র-শস্ত্র না দিয়ে আলাদা করে রাখে এবং বৃটিশ সৈন্যদের আজ্ঞাবাহী করে রাখে। মনিপুরি সৈন্যদের 'খুজুমা' থেকে 'কোহিমা' পর্যন্ত দীর্ঘ ৭২ মাইল রাস্তায় বিনা পারিশ্রমিকে বৃটিশ সৈন্যদের রেশন বহন করার কাজে নিয়োজিত করে। শুধু তাই নয়, নানাবিধ কায়িক শ্রমে মনিপুরিদের নিয়োজিত করে। যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে মনিপুরিদের কাছ থেকে ২,৫০,০০০ টাকা আদায় করে। এমনকি মনিপুরি প্রজাদের উপর মাথাপিছু সমতলে ২ টাকা এবং পাহাড়ে ৩ টাকা করে ট্যাক্স ধার্য করে। আর এর ফলে মনিপুরী প্রজাবৃন্দ নিজেদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক বলে ভাবতে শুরু করে এবং একটা ক্ষোভ ক্রমশ: দানা বেঁধে উঠতে থাকে।

মনিপুরি প্রজাবৃন্দ সবচেয়ে বেশী সমস্যার সম্মুখীন হন যখন বৃটিশ সরকার মনিপুরে 'ফ্রি ট্রেড পলিসি' চালু করে। এর আওতায় মনিপুর থেকে বছরে ৩৫,০০০ মণ চাল রপ্তানী করা হয়। ফলে মনিপুরে চালের মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। ক্ষুব্ধ মনিপুরিরা ১৯০৪ সালের ৬ই জুলাই তারিখে খাইরম্বন্দ বাজারের ২৮টি দোকানঘর পুড়িয়ে দেয়। ঐ মাসেরই ১৫ তারিখে Captain Nattal এবং Dulop এর বাংলো বাড়ী রাতের অন্ধকারে পুড়িয়ে দেয়। ৪ঠা আগষ্টে আবার আরেকটি বাংলোতে আগুন লাগানো হয়। এভাবেই বৃটিশ শাসনে বিক্ষুব্ধ মনিপুরি প্রজাবৃন্দ হিংসাত্মক প্রতিরোধের পথ বেছে নেয়। আর বৃটিশ সরকারও আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদেরকে বন্দী করার উদ্যোগ নেয়।

তাছাড়া আগুনে ভস্মীভূত বাংলোগুলো নিজ খরচে নির্মাণ করে দেয়ার জন্যে ইম্ফাল শহরের মনিপুরী প্রজাদের উপর মি. ম্যাক্সওয়েল হুকুমনামা জারি করেন ৩০শে সেপ্টেম্বর। এই আদেশে মনিপুরিদের ক্ষোভ আরো বেড়ে যায়। শগোলবন্দ এলাকার জনৈক চীংচাবা নাতেক সিংহ ম্যাক্সওয়েল সাহেবের এই অন্যায় আদেশ রহিত করার জন্য আবেদন জানান। কিন্তু ম্যাক্সওয়েল তার আবেদনে সাড়া নি দিলে তাৎক্ষণিক মূহুর্তে প্রায় ৫০০০ লোকের এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ 'বিচারালয়' প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয় এবং ঐ সমাবেশে বৃটিশ সরকারের ঐ আদেশ নাকচ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৃটিশ সৈনরা সমাবেশ ভেঙ্গে দেয় এবং নেতৃস্থানীয় ৬ জনকে বন্দী করে। তারা হলেন-
১. মেঘজিৎ সিংহ (৫৬)
২. থাংকোকপা সিংহ (৫০)
৩. মুতুম সিংহ (৬১)
৪. কালা সিংহ (৫৬)
৫. সেনাচাওবা সিংহ (৩৭) ও
৬. দেবেন্দ্র সিংহ (৩১)।
তারা সবাই ছিলেন রাজপরিবারের সদস্য এবং তাদেরকে বিচারের পর মনিপুরের বাইরে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেয়া হয়। বৃটিশ সরকারের এই দমন পীড়নে ক্ষুব্ধ সাধারণ মনিপুরিরা শেষ পর্যন্ত বাধ্যতামূলক বিনা পারিশ্রমিকে অগ্নিদগ্ধ বাংলোগুলো পুননির্মাণ করে দিতে বাধ্য হয়।

বৃটিশ বাহিনীর এই ক্রমাগত অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে মনিপুরি নারীরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। এই আন্দোলন সেপ্টেম্বরের ৩ তারিখ থেকে শুরু হয়ে বেশ কয়েকদিন চলে। আন্দোলনের তীব্রতা বেড়ে গেলে বৃটিশরা মনিপুরের বাইরে থেকে সৈন্য আমদানী করে মনিপুরে সেনাসংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। এই নারী জাগরণে মূখ্য ভূমিকা পালন করে-
১. ইরেংবম সনাজাওবী দেবী
২. লৈশাংথেম খাথবী
৩. লৈমাপোকপম থবলি এবং
৪. লাইশ্রম জুবতি দেবী।

বৃটিশ সরকার নির্যাতনের পথ বেছে নেয়, অনেক নারী নেত্রীই সরকারী বাহিনীর নিষ্ঠুর নির্যাতনে আহত হয়। তবু মনিপুরি নারীদের গড়ে ওঠা আন্দোলন ক্রমশ: তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে ওঠার পর সরকারী শাসন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অবশেষে বাধ্য হয়ে বৃটিশ সরকার তাদের আদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। আর এভাবেই মনিপুরি নারীদের আন্দোলন প্রাথমিক বিজয় অর্জন করে। মনিপুরি ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব সৃষ্টিকারী এই আন্দোলন প্রথম 'নুপী লান' বা মনিপুরি নারী বিদ্রোহ নামে পরিচিতি লাভ করে।

(চলবে ক্রমশ:...)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28889283 http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28889283 2008-12-28 18:32:01
### মনিপুরি খুন্নায় অমসুং লেইঙাকলোন্দা নুপী লান ### [শুধুমাত্র মনিপুরি ভাষাভাষীদের জন্য] মনিপুরি খুন্নায় অমসুং লেইঙাকলোন্দা নুপী লান মাইবম সাধন


['মনিপুরি চাওখৎ খোঙথাং নুপী লুপ'না শিনলাংবা ১২ডিসেম্বর ২০০৮, নুপী লান নিংশিং থৌরমগা মরি লৈননা ইখিবা অমসুং রামনগরদা পাংথোকখ্রবা সেমিনার'দা পাথোকখ্রবা চেরোল অসিবু ব্লগকী রিডারশিংগী মফমদা অমুক থমজরি। নুপী লুপ'কী মায়কৈদগী হায়জরকপদি 'মনিপুরি খুন্নায়রোল অমসুং লেইঙাকলোন্দা নুপী লান'না মতমদুদা পিখিবা অমসুং হৌজিক হৌজিক পিরিবা অহোংবশিং' অদুবু হেডলাইন অসি পা'বদা লেইতোন লুমথরকখিবনা খজিক্তং লংলা-লংজিন শেমদোক্তুনা 'মনিপুরি খুন্নায় অমসুং লেইঙাকলোন্দা নুপী লান' হায়না লাথুপ চনজরে। তৌববুদি খুন্নায় অমসুং লেইঙাকলোন্দা নুপী লান'না মতমদুদা অমসুং হৌজিক হৌজিক পিরিবা অহোংবশিং'বু লীসাংশিৎনা চেমায়সিদা লাথুপ চনজগে খনজবনি। চমম্নবা নত্রগা ওমচাক্নবা ওয়াহৈ কয়াবু খোর্জ্জৈ ময়েক লান্নসি, অসিদা- ]

থৌদোক ওয়াথোক খুদিংমক্কি হৌফম'মা লেই। লেই মহাক্কী ইশিং-নুংশিৎ ফিভম-মতম অকোয়বগী ইনিনসু। ইনিনদগী মেইরিক, মেইরিক্তগী মেই, মেইদগী মেইশা। নুপী লান'সু অদুম্মকনি হায়জনিংই। চেইথেংদগী মেইরিক, মেইরিক্তগী লান। মতম খেন্নবগী মিৎয়েংদা 'নুপী লান' অসিবু অহুম থোক্না য়েংবা য়াই। অহানবা নুপী লান (খৃস্টগী চহিরোন ১৯০৪), অনিশুবা নুপী লান (খৃস্টগী চহিরোন ১৯৩৯) অমসুং অহুমশুবা নুপী লান (খৃস্টগী চহিরোন ১৯৭৯-৮০ দগী হৌরগা ঙসিফাওবা লীসাং সিৎনা চত্থরক্লিবা..)। অসিদা অহান্বা অমসুং অনিশুবা নুপী লানগী মথক্তা মিৎয়েং থম্লগা মনিপুরি খুন্নায় অমসুং লেইঙাকলোন্দা নুপী লান'গী থৌদাংবু খুৎনমজগে হোৎনজবনি।

১.
খোঙজোম'গী অকনবা চেইথেংনা নেইহৎলম্লবা মনিপুর'গী নিংতম্বা'গা লোয়ননা লোয়লম চনখ্রবা মীচমশিংনা বৃটিশশিংবু চিকনিংলবসু চিকঙমদনা খাঙনা লেইরিঙৈ মতমদা মেজর এইচ সেন্ট পি ম্যাক্সওয়েলনা মনিপুরগী 'পলিটিক্যাল এজেন্ট' ওইনা লাকখি। হায়রিবা ম্যাক্সওয়েল অসিবু মতমদুগী মনিপুরিশিংনা 'বড় সাহেব' অমসুং মহাক্কী হেক ঙমথংদা লেইরিবা অফিসারশিংবু 'ছোট সাহেব' হায়না খঙনরম্মী।

খুদুম তাশিনখিবগী হরাও-খোয়রাওনবগা লোয়ননা অঙৌবা উন-শা'গী 'কোলোনিয়াল ইগো'দগী ম্যাক্সওয়েল মশামক 'সুপারিন্টেন্ডেট অব দি স্টেট' অমসুং বৃটিশ লান্মী-অফিসার খূদিংমক্না 'লেইপাক অসিগী মপু মখোয়নি, অতৈ ময়ামসিনা মখোয়গী মীনায় ওইনা লেইগদবনি' হায়বগী অকন্বা ওয়াখল্লোন অমা চেনখি। অদুনা বৃটিশ অফিসারশিংনা তৌনিংবতা তৌখি। খুদম ওইনা- ম্যাক্সওয়েলনা মহারাজ সুরচন্দ্রগী মজাইবেম্মা মপুরোইবা লেইরিবা সনাতোম্বী'বু 'পামি' হায়দুনা লৌখিবগী মতুংদা সনাতোম্বীগী মপুরোইবা মনিচান্দ'না য়ানিংদবা ফোংদোকনা চিঠি ইরবসু করিমতা কান্নবা ফংখিদে'। অদুবু বৃটিশ অফিসারশিংগী অচেংবাবুদি মনিপুরিশিংনা মতম খূদিংমক্তা ঙাইদুনা লেইরকখি।

অসুম্না লেইরিঙৈ চৈরক্তুদা, নোংমা বড় সাহেবকী বাঙ্গলাগী শুমাঙদা মান্ডপ চাওনা খল্লগা সনাতোম্বীনা মকোক চিংলগা নিত্যরাস শান্নরম্মী। বড় সাহেব, ছোট সাহেবকা লোয়ননা অতৈ বৃটিশ অফিসারশিংসু য়েংখি। 'জগোই রাস শান্নখ্রবা মতুংদা নুমিৎ ৮নি লৈরগা মাচ্র্চ ১৫, ১৯০৪ গী অহিংদা শুতো সাহেবকী বাঙ্গলাবু মৈ থারমদুনা তুম্না চাকখি'। থৌদোক অসিবু ম্যাক্সওয়েলনা মনিপুরি মচাশিংনা উশিৎত্তবনি খন্না 'মৈনা চাকখ্রবা বাঙ্গলা অদু অমুক হন্না শানবগীদমক মৈতৈ মচাশিংনা উ-ওয়া য়াল্লুরগা পুখৎলক্কদনি হায়বা হুকুম অমা সেপ্টেম্বর ১২, ১৯০৪দা থোরকখি। মদু য়ানিংদে ককথৎপিয়ু হায়দুনা বোর সাহেবতা হায়জরুবদা য়াবীরকখিদবদগী লৈবাক ওয়াথোক ওইরক্তুনা বোর সাহেবকী মায়োক্তা আন্দোলন হৌখি। মদুদা নুপাশিংবু ঙম্না ফাজিনখিবদগী নুপীশিং পুল্লপ হৌরক্তুনা ফাজিনখিবা নুপাশিংবু থাদোকউ হায়বগী অকনবা খোঙজং অমা ১৯০৪গী অক্টোবর থা'দা চংশিনখি'। খোঙজং অসিবু এইখোয়না মনিপুরি ইতিহাসকী লামায়দা 'অহানবা নুপী লান' হায়না খঙনরিবসিনি।

মথংদা অনিশুবা নুপী লানসু সুদত্তুনা থম্বিরম্লবা মীয়ামগী খাঙঙম্লক্তবা ইথিন্দগী পোক্লকখিবা অচুম্বগী থৌনা অদুনা ইনোৎ হাপ্তুনা চঙসিলকখিবা শেনমিৎলোনগী লানফমদতা নত্তনা লেইঙাকলোনগী মাইওন অমা শেঙদোক্লম্মী। মরমদি '১৯৩৯গী লৌরোক থা মক্তদা মীয়াম্না কৈথেলদগী ফৌ ওয়ানবা ফংনখিদে, চেং-চাক তাঙলকপদগী ডিসেম্বর তাং ১২দা নুপীশিংনা ইম্ফাল ময়োলদা থোরক্তুনা চেঙ থাবা থিংখিবগা লোয়ননা বৃটিশকি পলিসি অদুগী মায়োক্তা খোল্লাও কয়া লাওখি। ময়ামগী ঈহৌ অসিবু হোৎনবদা বৃটিশনা সিফাইশিং সিজিন্নদুনা ফুবা চৈবা বেয়োনেট থিনবানচিংবা কয়া তৌখি। অদুবু নুপী শিংগী ঈহৌ অদু হনখিদে'। অসিগুম্বা মথোঙ হুক্তবা লেইঙাক ওয়ায়েলগী মায়োক্তা নুপীশিংনা লৌখিবা থৌদাংবু নিংশিংদুনা ঙসিসু মনিপুরি ইতিহাসকী লামায়দা 'অনিশুবা নুপী লান' হায়না মীয়াম্না খঙনরিবসিনি।

২.
মনিপুরি খুন্নায়দা শেনমিৎলোনগী শোত্থরবা 'থোঙ্গাল মমি'বু নুপী লান'না য়াম্না ময়েক শেংনা উহল্লম্মি লোয়ননা শেনমিৎলোনগা পলিটিক্স য়াম্না নক্ননা মরি লেইনেই হায়বদুসু খূদোম্বি থিন্না তাকলম্মি। শম্না হায়রবদা, মী অমগী খুৎ য়েৎ'না শেনমিৎলোন অদুগা পলিটিক্সনা খুৎ ওই নত্রগা খুৎ য়েৎনা পলিটিক্স, শেনমিৎলোননা খুৎ ওই'নি হায়না খল্লবদি ওয়াফমসি কদায় য়ৌরে..? (ওয়াফমসি অদুঙৈ মনিপুর খক্তা নত্তনা ঙসিগী মনিপুর অমসুং বাংলাদেশকী মনিপুরিশিংগী ফিভমগসু চাংদম্নবা মথৌ তায়। বাংলাদেশকী মনিপুরিশিংগী মতাংদা অতোপ্পা খূৎই অমদা ময়ামগা থেংনজগে..)

লেইবাক ওয়ায়েল্লিবা মীওই/ফুরুপশিংগা লোয়ননা খেনফমদুদা পলিটিক্স অমসুং শেনমিৎলোনগী লানফমদা য়ুম্বী ওইরিবা ললোনবশিংনা খোঙজং অমত্তদা লেপখ্রবদি শত্রং শগোন মায়োক্নবদা য়াম্না নুংশা থিনিঙাই ওই। নুপী লান'না অদুগী শেংলবা শক্তমনি। মরমদি মচানা 'ইমা চাক চারগে, চাক পীরো' হায়বা মতমদা করি পাওখুম খুমলগদবগে খনবদা চরম খ্রক খ্রক কংলিবী ইমা-ইবেলশিংনা চা'দা থক্তনা মতমদুদা লেইবাক ওয়ায়েলগা লোয়ননা লেইঙাকলোনবু চ্যালেঞ্জ তৌখিবসি খুন্নায় অমসুং লেইঙাকলোন্দা অনৌবা চৈফু'মা পীরম্বনি।

অমরোমদা মথৌদাং পাংথোকপা ঙমলুদ্রবা খুন্নায়গী থৌবুরেলশিংবু মিৎ পাংথোকহনলম্বতা নত্তনা মতম শাংনা মথৌ মাংলুরবা থাংগুম্না পংশন্ন লেইরুরবা মনিপুরি নুপী খুন্নায়বু নৌহৌনা শকতম লাকহনখি, তুংগী মীরোল ওইরিবা খুন্নায়বু মতিং হাপলম্মী। খুদম ওইনা- ঙসিগী মৈরা পাইবীদগী হৌনা অতৈ অতৈ অর্গানাইজেশনশিংসু 'নুপী লান'না থৌনা লিংজেল হাপলমবনি হায়বদা হায়মনবা ওইরোয় হায়না খঞ্জৈ।

৩.
মনিপুরি ইতিহাসকী লামায়দা ময়েক লা'না লেইরিবা 'নুপী লান'বু মিংচৎ মিংথোন নিঙমাং তুংশিনজনিংবা অইবা খরনা 'নুপী লান' হায়বসি করিনো, করিদগী হৌরকপনো, করিমাইনা খোঙজং অসি খুমাঙ চংশিনখিবগে হায়বসি চপচানা থিজিন হুমজিনদনা নিঙক নিঙকপদা অমুক নুপীগী লান, অমুক মনিপুর নিংতম্বা লান, অমুক চা ফংদবগী লান'নি হায়না 'চয়েৎনবা পোকহন্বা' খুৎই য়াম্না ইরি। মখোয় খক্তসু নত্তনা 'বিষ্ণুপ্রিয়া' কৌবা ফুরুপ অসিগীসু 'ঙম্লিবমখৈ লান্না শন্দোক্লো' হায়বগী ওয়াফম্মসু লৈরে।

অদুবু ওয়াফম অমতংদি মীয়াম অমসুং মথক্তা পঞ্জখিবা 'চয়েৎনবা পোকহন্বা অইবা'শিংগী মফমদা ময়েকশেংনা হায়জনিংঙি- 'নুপী লান' নুপী খক্তনা লান্থেংনখিবা নত্তে, 'নুপী লান' নুপীগী হক/অধিকার তান্বা লান নত্তে, 'নুপী লান' মনিপুর নিংতম্বা তানখিবা লান নত্তে, 'নুপী লান' চা ফংলক্তবখক্তগীসু লান নত্তে।

নুপী লান মতমদুগী মথোং হুক্তবা লেইবাক ওয়ায়েল-লেইঙাকলোনগী মায়োক্তা হৌখিবা লান'নি। ফ্রি ট্রেড পলিসিগী মিংদা মপান লমদমদা ফৌ-চেং থাদোকপা, হুমাং মমল পিদনা থবক শুহনবা, পোর্টার ওইনা শিজিন্নবা, মরম চা'দনা ট্যাক্স খায়গৎপগী মায়োক্তা হৌখিবা লান'নি। নুপী লান অপুন্বগী লাননি, মীয়ামগী লাননি।

নুপী লান হৌরিঙৈ চৈরক্তুদা, ১৯৪০ গী আগস্ট থা'দা নুপী লান লুচিংবাশিংনা,লেইঙাক্লোইশিংগী মায়োক্তা কেস অমা ফাইল তৌখি। ফাইল তৌখিবা কেস অদুদা কুমারী, রজনি, মাইপাকপী, সনাতোম্বী অমসুং ঙাংবীনা খুৎয়েক পীখি। কেস অদুগী ওয়াফমশিং মখাদা থমজরি -
০১. The unfitness of the Durbar Members,
০২. The unfitness of the Police Members,
০৩. The illegal action of the Inspector of Police,
০৪. The illegal action of conviction of four women,
০৫. The unexpected police assault on the Public on Jan 14, 1940 and
০৬. The illegal action of Dulap Singh, Amin..

ইমা-ইবেলশিংনা হন্বা লেইতনা চত্থরক্লিবা খোঙজং অসি মালেমগী অনিশুবা লাঞ্জাও মনিপুরদা লাক্কদবগী ফিভম অমদগী লেইবাক মীয়াম্না মাগী মাগী মফম চাবা মফমশিংদা হিংনবা চেন্নবা হৌরকপদগী তপ তপ্না শোত্থরকখি হায়বা য়াই। অদুবু মনিপুরি নুপীশিংগী থৌনা লিংজেল মালেমগী ইতিহাসতা মুৎনায়দনা লেইহৌরগদবা থৌদোক্নি।

অসুম্না চেন্থরক্লিবা মনিপুরি ইতিহাসকী ঈচেলদা, মনিপুরি জাতিগী থৌদোক কয়াদা, মনিপুরি খুন্নায়গী পাক্ল লেইমায়দা মনিপুরি নুপীশিংনা লেপ্তনা থৌদাং কয়া য়াদুনা লাকলি লোয়ননা গ্লোবালাইজেশনগী তাঙ্কক অসিদা, ঙসিসু নাৎকী শক্তম ঙাকপদা খায়দগী চাউনা শরুক য়ারিবাশিসু নুপী খুন্নায়নি। অদুনা মতম খূদিংমক্তা মনিপুরী খুন্নায়দা থৌনা লিংজেলগী সিম্বোল'মা ওইনা 'নুপী লান' মুৎনায়দনা লেইরগনি।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28889205 http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28889205 2008-12-28 15:36:42
মণিপুরী ভাষা ও সাহিত্য_০২ গতসংখ্যার পর-

মণিপুরী ভাষা ও সাহিত্য

মণিপুরী সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হলো 'ওগ্রী'- যা রচনারীতি্বা আঙ্গিক বৈশিষ্ট্য এবং প্রায়োগিক দিক থেকে একমাত্র বৈদিক স্ত্রোতের সাথেই তুলনীয়। কথিত আছে ৩৩ খৃস্টাব্দে মহারাজ পাখংবার সিংহাসনারোহন কালে সূর্য্য দেবতার উদ্দেশ্যে এই গীতিকবিতাগুলি পঠিত হয়েছিল।(৪০) তবে প্রথম লিখিত সাহিত্যের সন্ধান মেলে অষ্টম শতাব্দীতে মহারাজ খোঙতেকচার শাসনামলে একটি তাম্রফলকে। প্রাচীন ও মধ্যযুগের আবিষ্কৃত পান্ডুলিপির সংখ্যা সহস্রাধিক।(৪১) এগুলোর মধ্যে পোইরৈতোন খুনথোকপা, নুমিৎ কাপ্পা, খোংজোংনূবী নোংগারোন, পোম্বী লুওয়াউবা, হিজন হিরাও, নিংথৌরোল শৈরেং, পান্থোইবী খোঙ্গুল, চায়নারোল, চৈথাবা কুম্বাবা, নাউথিংখোং ফম্বান কাবা, লোইয়ুম্বা শিনয়েন, নেংথৌরোল লম্বুবা, খাহি ঙম্বা, সমসোক ঙম্বা ইত্যাদি উল্লেখের দাবী রাখে। এছাড়া ৩৯০০০ পদ সম্বলিত খাম্বা-থোইবী'র চিরন্তন প্রেমের মহাকাব্য হিজম অঙাংহল এর 'খাম্বা-থোইবী শৈরেং' মণিপুরী সাহিত্যের এক গর্বিত ঐতিহ্য। আধুনিক মণিপুরী সাহিত্যের অনেক গ্রন্থ ভারতের সাহিত্য একাডেমী পুরস্কারে বৃত হয়েছে। পাচা মীতৈ এর উপন্যাস- ইম্ফাল অমসুং মাগী ইশিং নুংশিৎকী ফি বম, নোংথোম্বম কুঞ্জমোহন এর ছোট গল্প সংকলন- ইলিশা অমগী মহাও, লাইশ্রম সমরেন্দ্র, অশাংবম মীনকেতন, ও এলাংবম নীলকান্ত এর কাব্যগ্রন্থ- মমাঙ লৈকায় থাম্বাল শাৎলে, অশৈবগী নিতাই পোদ ও তীর্থযাত্রা এর কথা উদাহরণ স্বরুপ উল্লেখ করা যেতে পাবে। মণিপুরী ভাষায় প্রথম ছাপানো বই প্রকাশিত হয় ১৮৩৭ খৃস্টাব্দের পরবর্তী সময়ে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ১৮৯১ খৃস্টাব্দ থেকে অদ্যাবধি প্রকাশিত মণিপুরী গ্রন্থের সংখ্যা দুই সহস্রাধিক। স্বকীয় সাহিত্য ছাড়া ও মণিপুরী ভাষঅয় অসুদিত হয়েছে রামায়ণ, মহাভারত এর মতো কালজয়ী সাহিত্য কর্ম; মেঘদূত, ইলিয়াড, ওডেসীর মোতা ক্লাসিক সাহিত্য; শ্রী মদ্ভগবদগীতা, বাইবেলসহ বিভিন্ন ধর্মের বিখ্যাত গ্রন্থাবলী; রবীন্দ্রনাথ, শেক্সপীয়র, টলস্তয়, হোমার, বার্নাড'শ, সোফোক্লিস বঙ্কিম, শরৎ সহ বিশ্বসাহিত্যের মহৎ রুপকারদের অনন্য সব সাহিত্যকর্ম।


মণিপুরী ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা রয়েছে। মণিপুরী বর্ণমালার অনুপম বৈশিষ্ট্র হলো এগুলোর নামকরণ করা হয়েছে মানব দেহের এক একটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গের নামানুসারে এবং এগুলোর আঙ্গিক বৈশিষ্ট্য ও দেহের ঐ প্রত্যঙ্গের আঙ্গিক বৈশিষ্ট্যেরই অনুরুপ। মণিপুরী লিপি ব্রাক্ষী লিপি থেকে উদ্ভুত এবং তিব্বতী লিপির সাথে এর সাদৃশ্য স্পষ্ট লক্ষ্যযোগ্য।(৪২) তবে কার ও কারো মতে এই লিপি বাংলা লিপি থেকে উদ্ভুত এবং এর সূত্রপাত ১৭০০ খৃস্টাব্দের দিকে। 'This script probably a descendant of the Bengali character, was adopted aboud A.D. 1700 in the regin of charairongba to Manipuri or Meithei, a kuki-chin speech, which belongs to the tibeto Burman group of Languages.(4৩)' G.H. Damant ও এই যুক্তি সমর্থন করেছেন। আবার T.C. Hodson মনে করেন, মণিপুরী লিপি উদ্ভুত হয়েছে চীন থেকে।(৪৪) কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে মণিপুরী লিপি প্রবর্তন করেন মহারাজ পাখংবা (৩৩-১৫৪)। তখন এর সংখ্যা ছিল ১৯টি। পরবর্তীতে মহারাজ খাগেম্বার শাসনামলে (১৫৯৬-১৬৫১) আর ও কয়েকটি বর্ণ সংযোজিত হয়।(৪৫) মণিপুরী লিপির উদ্ভবকাল নিয়ে বিতর্কের অবকাশ থাকলেও এটা সন্দেহাতীতভাবে সত্য যে, কমপক্ষে অষ্টম শতাব্দীতে, (যদি তার আগে না ও হয়ে থাকে) মণিপুরী লিপি উদ্ভুত হয়েছে। কারণ আমরা সম্প্রতি আবিষ্কৃত অষ্টম শতাব্দীতে রাজত্বকারী মহারাজ খোঙতেকচার শাসনামলের একটি তাম্রফলকের কথা জানি যেখানে মণিপুরী লিপিতে বিভিন্ন বর্ণনা লিখা রয়েছ।


মণিপুরী তথা মৈতৈ ভাষা শতাব্দীর পর শতাব্দীকাল ধরে মণিপুরী রাজ্যের রাজ্যভাষা এবং বিদ্যালয়ের ভাষা হিসেবে প্রচলিত হয়ে এসেছে। এছাড়া ও এ ভাষা বর্তমানে মণিপুর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, নয়াদিল্লীর সাহিত্য একাডেমী এবং মণিপুর,আসাম, দিল্লী পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত। আকাশবাণী ইম্ফাল সহ আকাশবাণীর বিভিন্ন কেন্দ্রের মণিপুরী অনুষ্ঠানের প্রচার মাধ্যম ও এই মনিপুরী তথা মৈতৈ ভাষা।

অধিকন্তু, গত ২০/০৮/১৯৯২ তারিখে ভারতীয় পার্লামেন্ট এক বিল পাশ করে মণিপুরী ভাষাকে ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তপশীলে অন্তর্ভূক্তির মাধ্যমে ভারতের অন্যতম জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।



[সমাপ্ত]



:: 'মণিদীপ্ত মণিপুরী ও বিষ্ণুপ্রিয়া বিতর্ক- ইতিহাসের দর্পণে দেখা' - এ.কে.শেরাম এর গ্রন্থ থেকে, পৃষ্ঠা ১৩-১৬। প্রকাশকাল: ২৯ নভেম্বর, ১৯৯৩ ::

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28773292 http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28773292 2008-02-23 11:13:59
মণিপুরী ভাষা ও সাহিত্য মণিপুরী ভাষা ও সাহিত্য


উৎস বিচারে মণিপুরী ভাষা মঙ্গোলীয় মহাপরিবারের তিব্বত-ব্রক্ষ শাখার কুকি-চীন গোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্ত।(৩১) মণিপুরী ভাষা ও সাহিত্য অত্যন্ত প্রাচীন। এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য সুদীর্ঘ এবং সমৃদ্ধ। পন্ডিতরাজ আতোম্বাপু শর্মা, যাকে ড: সুনীতি কুমার চট্রোপাধ্যায় প্রাচ্যের ঋষি অগস্ত্য বলে অভিহিত করেছেন, তার মতে মৈতৈ বা মণিপুরী ভাষার বয়স অন্যুন ৩,৪০০ বৎসর এবং প্রাচীনতার দিক থেকে মণিপুরী সাহিত্যের স্থান ভারতের প্রাচীনতম সাহিত্য কৃষ্ণ-যজুর্বেদের পরেই।(৩২) মণিপুরী সাহিত্য বর্তমানে দ্রুত বিকাশমান এবং পূর্ব ভারতে এর স্থান তৃতীয়, বাংলা এবং অসমীয়ের পরেই।(৩৩)

মণিপুরী ভাষাভাষীর সংখ্যা প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ যার অধিকাংশেরই বসবাস ভারতের মণিপুর রাজ্যে। অবশ্য মণিপুরের বাইরে ও ভারতের আসামও ত্রিপুরা রাজ্যে, বাংলাদেশ এবং বার্মায় ও বিপুল সংখ্যক মণিপুরী ভাষাভাষীর বাস। যেহেতু মণিপুরই মণিপুরী জনগণের আদি বাসস্থান এবং মূল মণিপুরী জনগোষ্ঠীর বসবাস ও সেখানেই সুতরাং মণিপুরী ভাষা ও সাহিত্যের ঐতিহাসিক আলোচনা করতে গেলে অবশ্যই মণিপুর রাজ্যের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে হবে।

প্রাগৈতিহাসিক কালে বর্তমান মণিপুর রাজ্য অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যে বিভক্ত ছিল। ইতিহাসের ধারা অনুযায়ীই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যগুলির মধ্যে প্রভুত্ব বিস্তারের প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। এমনি প্রেক্ষাপটে একটি ক্ষুদ্র রাজ্যের শাসনকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন শক্তিমান রাজা পাখংবা। তার সিংহাসনারোহনকাল ৩৩ খৃস্টাব্দ বলে অনুমিত। সে সময় মণিপুর রাজ্য ৭টি ক্ষুদ্র রাজ্যে বিভক্ত ছিল। প্রত্যেক রাজ্যের ভাষা ও সংস্কৃতি ছিল ভিন্ন ভিন্ন। পাখংবার নেতৃত্বে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যগুলোর একীভূতকরণ এবং ভিন্ন ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির একক ও সমন্বিত রুপ দেয়অর কাজ শুরু হয়ে যায়। অষ্টম শতাব্দীর দিকে এসে মণিপুর রাজ্য প্রায় তার বর্তমান রুপ পরিগ্রহ করে এবং ভিন্ন ভিন্ন গোত্র বা গোষ্ঠী এবং তাদের বিচিত্র ভাষা ও সংস্কৃতি সমন্বিত হয় জন্ম নেয় মৈতৈ জাতির এবং গড়ে উঠে মৈতৈ ভাষা ও সংস্কৃতি। আর তাই আমরা অষ্টম শতাব্দী থেকেই লিখিত মণিপুরী সাহিত্যের অস্তিত্ব খুঁজে পাই। তবে ইতিহাসের গভীর পর্যালোচনা প্রমাণ করে সপ্তম শতাব্দী থেকেই মৈতৈ ভাষা সংহত রুপ লাভ করে। সপ্তম শতাব্দীতে রাজত্বকারী রাজা উরা কোন্থৌবার শাসনামলে চালু করা ব্রোঞ্জ মুদ্রায় খোদাই করা বিভিন্ন বর্ণমালাই তার প্রমাণ। মৈতৈ ভাষার লিখিত রুপের অস্তিত্ব সপ্তম শতাব্দী থেকে হলেও কথ্য ভাষার বয়স অনেক প্রাচীন।


এখানে একটি প্রসঙ্গ উল্লেখযোগ্য যে, বর্তমানে যারা মণিপুরী জাতি বলে পরিচিত বা মণিপুরী ভাষা সাহিত্য ও সাহিত্য ও সংস্কৃতি বলতে বর্তমানে যে ভাষা, সাহিত্য বা সংস্কৃতিকে বুঝানো হয় উনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ পর্যন্ত তা মৈতৈ জাতি, মৈতৈ ভাষা, সাহিত্য বা সংস্কৃতি নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু অষ্টাদশ শতাব্দীতে হিন্দু ধর্ম প্রচারক কর্তৃক 'মণিপুর' নামকরণের প্রেক্ষিতে বৃটিশদের সংস্পর্শে এসে মৈতৈ শব্দের পরিবর্তে 'মণিপুর' শব্দের নামকরণ ব্যবহার শুরু হয়। এবং সম্ভবত: ১৮৩৭ সালে প্রকাশিত Capt. George Fordon এর 'A Dictionary in English, Bengali and Manipuri' গ্রন্থই প্রথম মুদ্রিত মণিপুরী গ্রন্থ যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে 'মৈতৈ' শব্দের পরিবর্তে 'মণিপুরী' শব্দ ব্যবহৃত হয়।(৩৪) পরবর্তীতে ১৮৯১ সালে স্বাধীন মণিপুর রাজ্য বৃটিশদের করতলগত হলে 'মণিপুরী' শব্দটি পুরোপুরিভাবেই 'মৈতৈ' শব্দের স্থান গ্রহণ করে। তবে এখানে উল্লেখ্য যে, 'মণিপুরী' শব্দটি ব্যবহৃত হয় 'মৈতৈ' শব্দের সমার্থক হিসেবে। মৈতৈ জাতির নৃতাত্ত্বিক পরিচিতি হিসেবে- কোন রাজনৈতিক জাতীয়তা অর্থে নয়। ফলে মণিপুরে বসবাসকারী অন্যান্য নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় 'মণিপুরী' পরিচয় গ্রহণ করেনি- বরং তারা তাদের নিজ নিজ জাতিগত বা সম্প্রদায়গত পরিচিতিই বহাল রাখে। যেমন: মণিপুরে বসবাসকারী নাগা, তাঙখুল, কুকি প্রভৃতি জনগোষ্ঠী তাদের নিজ নিজ পরিচয়েই পরিচিত হয়ে থাকেন- 'মণিপুরী' নামে নয়। 'মণিপুরী' ও 'মৈতৈ' যে সমার্থক শব্দ এবং মণিপুরী ভাষা ও সাহিত্য বলতে যে মৈতৈ ভাষা ও সাহিত্যকেই বুঝানো হয়ে থাকে তা নিম্নোক্ত উদ্ধৃতিগুলো থেকে সপ্রমাণিত হবে।

১. 'During the Burmese invasion and the internal troubles which preceeded the advent of the British, many Manipuris settled in cachar and sylhet.. .. in Dacca, they call themselves Maitai or Mitai' (35)

2. 'The Meitheis or Manipuris are the most advanced section of the Kuki-chin people' (36)

3. 'Manipuri/Meitheis both the names referred to one and the same language' (37)

4. 'Manipuri Language means \'Meitei lon\' written in Bengali script and spoken by the majority of Manipur population' (38)

5. 'The Meitheis call their language 'Meitai' or 'Manipuri'. This language being the state language of Manipur, is now called simply Manipuri' (39)


সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, মণিপুর রাজ্যের রাষ্ট্রীয় ভাষা ও স্বীকৃত মণিপুরী ভাষা বলতে 'মৈতৈ লোন' বা মৈতৈ ভাষাকেই বুঝানো হয়ে থাকে- যা বর্তমানে মণিপুরী ভাষা নামেই সর্ব সাধারণ্যে পরিচিত।


বাকি অংশ আগামী সংখ্যায় সমাপ‌্য



:: 'মণিদীপ্ত মণিপুরী ও বিষ্ণুপ্রিয়া বিতর্ক- ইতিহাসের দর্পণে দেখা' - এ.কে.শেরাম এর গ্রন্থ থেকে, পৃষ্ঠা ১৩-১৬। প্রকাশকাল: ২৯ নভেম্বর, ১৯৯৩ ::]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28773024 http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28773024 2008-02-22 14:22:30
একুশ উদযাপনে ঢাকাবাসী মণিপুরী_০২ "আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান একুশে ফেব্রুয়ারী অমর হোক"


মাতৃভাষার স্বীকৃতি ও তাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবীতে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী মাতৃসন্তানদের রক্তদান ও আত্মাহুতির চূড়ান্ত স্বীকৃতি আজকের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কেবল 'বাংলা'ভাষাকে নয়, পৃথিবীর সমস্ত ভাষার অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে। একুশের চেতনা তাই মানুষের অস্তিত্ব ও অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণের মূলমন্ত্র। একুশের এই সংগ্রামে যারা রক্ত ও আত্মাহুতি দিয়েছেন তাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছি। ইউনেস্কো কর্তৃক নভেম্বর ১৭, ১৯৯৯ তারিখ ২১শে ফেব্রুয়ারীকে "আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস" হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর ২১শে ফেব্রুয়ারী ২০০০ সাল হতে অদ্যাবধি প্রতিবছর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমার গভীর গভীর শ্রদ্ধার সাথে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে এদিনটিকে পালন করে আসছি।

পৃথিবীর অপরাপর ভাষার ন্যায় মণিপুরী ভাষাও এক প্রাচীন ভাষা। যার প্রাচীন নাম 'মীতৈলোন' । এই ভাষার রয়েছে এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সাহিত্য। উৎস বিচারে এই ভাষা মঙ্গোলীয় মহাপরিবারের অন্তর্ভুক্ত এবং এর উৎপত্তি আজ থেকে প্রায় ৩৪০০ বছর আগে। প্রাচীনতার দিক থেকে মণিপুরী সাহিত্যের স্থান ভারতীয় প্রাচীন সাহিত্য কর্ম কৃষ্ণ যজুর্বেদের পরেই। মণিপুরী ভাষা সাহিত্যের সৃষ্টি সমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ যেমন: ওগ্রী, খম্বাথোইবী ইত্যাদি।

মণিপুরী জনগোষ্ঠী পৃথিবীর অন্যান্যস্থানে বসতিস্থাপন ছাড়াও ঢাকা শহরের তেজগাও অঞ্চলে বসতি স্থাপন শুরু করে সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথম দশকে। কিন্তু কালের ক্ষয়িঞ্চু ধারায় এই জনগোষ্ঠী ক্রমে ক্রমে বিলুপ্ত হয়ে আজ কেবল স্মৃতি হয়েই ইতিহাসের নীরব স্বাক্ষী হিসেবে রয়ে গেছে স্থানটুকু।

মণিপুরী ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা রয়েছে। ঐতিহাসিকদের মতে মণিপুরী লিপি প্রবর্তিত হয় মহারাজ পাখংবার শাসনামলে (৩৩-৩১৫ খৃ<img src=" style="border:0;" />। তখন বর্ণ সংখ্যা ছিল ১৮টি। পরবর্তীতে মহারাজ খাগেম্বার শাসনামলে আরো ৯টি নতুন বর্ণ সংযোজিত হয়। বর্তমানে মোট বর্ণমালার সংখ্যা হচ্ছে ২৭টি। কিন্তু অষ্টাদশ শতাব্দীতে রাজা পামহৈবার শাসনামলে (১৭০৯-১৭৪৮ খৃ<img src=" style="border:0;" /> শ্রী শ্রী চৈতন্য প্রবর্তিত 'বৈষ্ণব' ধর্ম তৎকালীন মণিপুর রাজ্যের রাষ্ট্রীয় ধর্মরুপে গৃহীত হওয়ার পর বাংলালিপি দখল করে নেয় মণিপুরী লিপির স্থান। সেই থেকে মণিপুরী ভাষা বাংলা হরফেই লিখিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি বিলুপ্ত মণিপুরী লিপির পুন:ব্যবহার ও প্রচলন শুরু হয়েছে।






:: 'ঢাকাবাসী মণিপুরী'র আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং মহান একুশে ফেব্রুয়ারী'র প্রভাতফেরী সংবলিত নিবেদনপত্র [লিফলেট] এর "নিবেদন অমর একুশ-এ" থেকে ::
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28772733 http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28772733 2008-02-21 15:11:16
মণিপুরী কবিতা: রঘু লৈশাংথেম এর "হনুবীগী ঈশিং পুন" রঘু লৈশাংথেম

হনুবীগী ঈশিং পুন

শিখ্রবা মতুংদতা খঙলকই
খূন অসিগী হনুবী;
মহাক্না থম্বিরম্বা পুন অসি ঈশিংনা থন্না য়াওরম্বা
চাককিবা লম্মৈশিং মূত্থৎনবা।
কংখরে ঙসিদি
পুন্দগী ঈশিংদো।

খঙলকই
হনুবী অদুনা কোকথক্তা
ওয়ানা পুরকখিবনি ঈশিংনা নীক নীক থল্লবা
ঈশিং পুন্দু
থকচবা ফংদনা মশামক ফাওবা।

হনুবীদি খঙখি
মানা হেক থকুবদা ঈশিং খূজোক অমা
খুঞ্জাশিংনা কপ্না লাউরক্কনি;
অদুনা
হনুবীদুনা মীকপ মীরাওখোল অদু তানীংখিদে।

ঈশিং পুন
পুরকখিবী হনুবী অদু
উবিখিদে কনা অমত্তনা মশা মশাগী খল্লিঙৈ
খৌরাংবনা শিগদৌরে হায়বা।

হৈথবিখিদে
চীনবান্দা ঈশিং খূজোক য়াদুনা ঙাইজরবসু;
পুজরকখিবনি
মহাক্নদি অঙম্বা চীংগী লম্বীদা
লীক্লম কয়া ফাওদুনা
কনানসু খঙদ্রবা লুরবা লোকচপ্তগী
ঈংলবা লাইজসি
খুঞ্জাশিংগীদমক।

লম্মৈ চাক্লক্লে
হৌজিক অমুক অনৌবা ঈশিং
কনানা পুবিরক্কনি ?






[ রঘু লৈশাংথেম'গী 'হনুবীগী ঈশিং পুন' শৈরৈং লাইরিক্তগী ]


Raghu Leishangthem

Born 1March, 1959 at Thoubal, is a science graduate of Guwahati University; Ex-General Secretary, Naharo Sahitya Premee Samiti, Imphal; Life Member, Writers Forum, Imphal; Ex-Joint Editor, Sahityagee Pao(a quarterly Manipuri literary journal); regular newspaper columnist, writing on a wide range of topics covering art and culture, social problems and literature; programme contributor, AIR and DDk, Imphal; Member, North East Writers Forum, Guwahati and Co-Convenor, Literary and Cultural Organisation Commitee (LICOC), Manipur. At present, he is working as an Inspector of Excise, Government of Manipur. There are already three books of Manipuri poems, 1. Punshi telanga (1991) 2. Lanbu lei oina shannariba (1998) 3. Nung asi laini Lei asi Ee-ni (1999) to his credit. Mfany of his poems had already been translated in English and appeared in a number of poetry books and journals including Indian Literature and Blossoms (and anthology of poetry from all over the world). 'Hanubigee Eshing Pun' (an anthology of 76 Manipuri poems) is his fourth and latest book. [কাব্যগ্রন্থের ফ্ল্যাপ হতে]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28769332 http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28769332 2008-02-11 18:14:36
ঐতিহ্যবাহী মণিপুরী সংস্কৃতির নিত্য ব্যবহার্য বিভিন্ন জিনিসপত্র

ছবিগুলো "চাউবা মেমোরিয়্যাল মণিপুরী ইন্টেলেকচুয়্যাল প্রপার্টি মিউজিয়াম" থেকে তোলা হয়েছে। এ মিউজিয়ামে আরো অনেক জিনিস রয়েছে যা না দেখলে বলে বা লিখে বুঝানোর মতো না..।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28764709 http://www.somewhereinblog.net/blog/maibamsadhonblog/28764709 2008-01-27 16:13:11