যুক্তিহীনতার মহামারীতে আক্রান্ত শিক্ষিত সমাজ --- মঈনুল আহসান
২৮ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:২৪
বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায়। শোকে অথবা দুঃখে এবং প্রতিবাদের সমাবেশে ইদানীং ব্যপক ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে ‘প্রদীপ প্রজ্বলন’ আর ‘আলোর উৎসব’। প্রদীপ জ্বালানো হচ্ছে অনুষ্ঠান এবং উৎসবের উদ্বোধনেও। একে বলা হচ্ছে ‘মঙ্গল প্রদীপ’। প্রজ্বলিত অগ্নি শিখার সামনে দাঁড়িয়ে নেয়া হচ্ছে ‘ব্জ্র কঠিন শপথ’। সেই শিখাকে আবার প্রায়সই মহিমান্বিত করা হচ্ছে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমেও। এসবের বেশীর ভাগই হচ্ছে সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। এতে অংশ নিচ্ছেন ভিসি, প্রভোষ্ট, অধ্যাপক, সেনানায়কসহ সব বিশিষ্ট জনেরা। তথা সমাজের সর্বোচ্চ শিক্ষিত শ্রেনী।
প্রদীপ, মোমবাতি আর অগ্নিশিখা কেন্দ্রিক এসব আয়োজন আমাদের দেশ ও সমাজে অনেকটা নতুন হলেও বিশ্বব্যাপী এর প্রসার এবং প্রয়োগের ইতিহাস সুদীর্ঘ। এক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বোধকরি ‘অলিম্পিক মশাল’। এই মশাল এতটাই সম্মানিত যে এটা রীতিমত প্রদক্ষিন করে সারা বিশ্ব। ঘুরে ফেরে দেশে দেশে। প্রতিটি দেশ একে দিয়ে থাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং অভ্যর্থনা। রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান, মন্ত্রী, শাস্ত্রী সবাইকে সব কাজ ফেলে ছুটতে হয় এই একখন্ড আগুনের পেছনে।
অগ্নিশিখার এই অভ্রভেদী মাহাত্মের কারণ বোধকরি আধাঁরের উপরে এর সুস্পষ্ট আধিপত্য। আলোর ধাওয়াতেই তো পালায় আধাঁর। শক্তি হিসেবেও এর গুরুত্ব সর্বস্বীকৃত। তাই আমাদের শৌর্য্য-বীর্য্য তথা ‘স্পিরিট’-এর তুল্য হতে পারে যেন একমাত্র এই আগুনই। বোধকরি সেজন্যেই অলিম্পিকসহ সব গেমসে এর সর্বোচ্চ আবস্থান ও মর্যাদা নিশ্চত করা হয়েছে শক্ত আইনের মাধ্যমে।
অথচ মজার ব্যপার হচ্ছে অলিম্পিক মশালের ক্ষমতা নেই নিজে থেকে জ্বলবার। মানুষ জ্বালালে তবেই জ্বলে। যে প্রদীপ বা মোমের আলোতে আধাঁর হয় দূ্র তার সাধ্য নাই সামান্যতম বাতাসের মুখে টিকে থাকার যদি না মানুষ দয়া করে সেটাকে রক্ষা করে নিজের তালুর আড়ালে। যে জ্যোতি ও শিখার জন্ম এবং স্থায়িত্ব মনুষের হাতের মুঠোয়, মানুষের করুণা নির্ভর, সেটা কিভাবে পেতে পারে মানুষের ভক্তি, সম্মান আর শ্রদ্ধা তা বুঝে আসেনা কিছুতেই। বুদ্ধিতে ধরেনা। বিবেকেও মানে না।
কোন জ্যোতি বা আলোকে যদি জ্ঞান, বিজ্ঞান আর সক্ষমতার প্রতীক ধরতেই হয় তবে তার আনিবার্য দাবীদার হলো ‘সূর্য্য’। বাতি বা প্রদীপের মত সূর্য্য দাবী করে না মানুষের কোন করুণা বা সহায়তা। বরং মানুষকেই তার নিত্যদিনের জীবনের স্বার্থে নির্ভর করতে হয় সূর্য্যের উপর। এই সূর্য্যের দাপট এতটাই সর্বব্যাপী যে পৃথিবীর নিভৃততম গুহাকোণও বাধ্য তার আলোকে প্রবেশাধিকার দিতে। এহেন ক্ষমতাধর সূর্য্যও আসহায় রাতের কালো আধাঁরের কাছে। চাঁদকে সাথে নিয়ে যদিও সে চেষ্টা করে রাতের সাথে লড়তে কিন্তু তাতেও নিয়মিত বাঁধ সাধে পৃথিবী। তাই আধাঁরকে জয় করা তার হয়ে ওঠে না কখনই। এসব তথ্য আজ বৈজ্ঞানিক সত্য। বিশ্বের তাবৎ শিক্ষিত জনগোষ্ঠী এসব সত্য সম্বন্ধে সর্বজ্ঞ। তারপরও তারা প্রদীপ আর মোমবাতির মত ঠুনকো আলোর ধারার মাঝে দেখতে পায় মানুষের ‘মঙ্গল’। নিজ হাতে জ্বালায় আর নিভায় যে শিখা তাকে বলে ‘অণির্বান’, ‘চিরন্তন’। কী ভয়ানক মূর্খতা। এহেন আগুনের শিখাতেই যখন পেশ করা হয় ‘পুষ্পার্ঘ্য’। তাকে সাক্ষী রেখে যখন নেয়া হয় ‘বজ্রকঠিন’ শপথ। তখন তাকে কি বলা যায়? বহুমাত্রিক মূর্খতা নাকি জ্ঞানের দুর্ভিক্ষ?
এই যে পুষ্পার্ঘ্য, এটা অগ্নিশিখা ছাড়াও অর্পণ করা হয় শহীদের কবরে এবং স্মৃতির মিনার সমূহে। কিন্তু আমরা কেউ জানি না আমাদের এই অর্ঘ্য বিদেহী আত্মারা দেখে কিনা। গ্রহন করে কি। কিম্বা এগুলো আদৌ তাদের কোন কাজে আসে কিনা। কোন সুনির্দ্দিষ্ট প্রমাণপঞ্জী ছাড়াই আমরা জীবিতরা এটাকে বানিয়ে নিয়েছি মৃতকে সম্মান জানানোর উপায়। জীবদ্দশায় আমরা অন্যের কাছ থেকে ফুল পেতে ভালবাসি। ফুল পেলে খুশী হই। ফুলের প্রতি সার্বজনীন এই ভাল লাগাই সম্ভবতঃ মৃতকে পুষ্পার্ঘ্য দেয়ার পেছনে প্রধান যুক্তি। কিন্তু ফুল দিয়ে কিচ্ছুক্ষণ পর সেটা ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলতে হলে সেই অর্ঘ্যের মর্যাদা বা মূল্য থাকলো কোথায়? এটা কি সম্মানের নামে মৃতকে অসম্মান করা নয়? অথচ দেহত্যাগী মানবাত্মাকে লাভবান করতে পারে এমন সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানোর প্রমাণিত পদ্ধতিই রয়ে গেছে আমাদের হাতে। সেসবের প্রায়োগিক নমুনা রেখে গেছেন সত্যবাদী হিসেবে বিশ্ব স্বীকৃত হযরত মহম্মদ (সাঃ)। সেগুলো ছেড়ে আমাদের অতি প্রিয় সর্বজন সম্মানিত আত্মত্যাগীদের জন্য সাক্ষ্য-প্রামাণহীন মনগড়া পদ্ধতির প্রয়োগ কি যুক্তিগ্রাহ্য?
যুক্তির বলে ‘মঙ্গল প্রদীপ’ আর ‘পুষ্পার্ঘ্য’কে প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে চতুর শিক্ষিতজনেরা এর দায় চাপিয়ে থাকেন আমাদের পূর্ব পুরুষদের উপর। বলা হয় এগুলোই আমাদের ভূখন্ডের সহস্র বছরের পুরোনো আচার। এগুলোই আমাদের মূল সংস্কৃতি এবং কালচার। এসবে পুণঃ প্রত্যাবর্তন এবং এসবের পুণরুজ্জীবনই নাকি চেপে বসা সব আপসংস্কৃতিকে দূ্র করে নিজস্ব সংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়ার একমাত্র উপায়। তাহলে কি আমরা আবার পাঠ্য পুস্তকে লিখবো যে ‘পৃথিবী স্থির, সূর্য ঘুরছে তার চারদিকে’? জ্বর হলে এখন রোগীর গায়ে পানি ঢালা হয় অথচ কিছুদিন আগেও এসব রোগীকে কাঁথা-কাপড় দিয়ে মুড়ে রাখা হতো। পূর্ব পুরুষদের অণুসরনের দাবীদারদের আবদার আণুযায়ী আমরা কি এখন থেকে জ্বরের রোগীদেরকে আবার কাঁথা-কাপড় দিয়ে মুড়ে রাখা শুরু করবো? শিক্ষা-দীক্ষার বর্তমান বই-পত্র, উপায়-পদ্ধতি ছেড়ে আমরা কি আবার ফিরে যাবো পুঁথি পাঠে? পূর্ব পুরুষদের আচার-কালচার রক্ষাই যদি হয় মানব জন্মের উদ্দেশ্য তা হলে আমাদের তাই করা উচিত নয় কি?
একটা সময় ছিল যখন সমাজের মাতাব্বর এবং মোড়লেরা নতুন যে কোন তত্ত্ব-তথ্যের কথা শুনলেই ভয় পেতেন। ক্ষেপে যেতেন। মানুষকে ছলে-বলে-কৌশলে হলেও বিরূপ করে রাখতেন ঐসব নতুনত্বের প্রতি। নতুন সত্যের উদ্ভাবন ও আগমনে সমাজের উপর তাদের একচ্ছত্য আধিপত্য হারানোর ভয়ই ছিল সেই পিছুটানের মূল কারণ। বর্তমান সমাজের কথিত শিক্ষিত অধিপতিরাও কি সেই একই শংকায় আতংকিত? তা না হলে কেন তারা সমাজ ও সভ্যতাকে পেছনে নিতে চাইছেন বৈজ্ঞানিক সত্যসমূহ প্রমাণসহ প্রকাশিত হওয়ার পরও? বিশুদ্ধ জ্ঞানের চর্চায় রত বিশ্ব পন্ডিতরা যখন কোরআনিক সত্যের অদলে মানব সভ্যতাকে ছড়িয়ে দিতে ব্যগ্র পৃথিবীর সীমার বাহিরে তখন তাকে মোমবাতির আলো আর প্রদীপের পেছনে দাঁড় করানোর চেষ্টা অর্বাচিনের মূঢ়তা ছাড়া আর কি হতে পারে।
মানুষের শক্তি, সামর্থ, মর্যাদা, সম্মান যে কত ব্যপক বিস্তৃত তা উপলব্ধি করার জন্য এইসব ‘মূঢ় শিক্ষিত’দের বেশী করে কোরআন পড়া উচিত। কারণ একমাত্র এই কোরআনেই ঐতিহাসিক সব প্রমাণপঞ্জী আর নিদর্শনসহ পরম মমতায় তুলে ধরা হয়েছে মানুষের শক্তি, সামর্থ্য ও সম্মানের সুনির্দিষ্ট
ব্যাপ্তি। এই কোরআন থেকেই আমরা জানতে পারি যে, মানুষের এক আঙ্গুলের ইশারায় দ্বিখন্ডিত হতে পারে চাঁদ (সূরা ক্বামারঃ ১ এবং সহী বুখারী)। উন্মাতাল সাগরও বাধ্য হয় নিজের বুক চিরে মানুষকে চলার পথ করে দিতে [মুসা (আঃ)-এর ঘটনা]। মানুষের পক্ষেই পরম স্রষ্ঠার সেই সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ সম্ভব যেখানে যেতে পারেন না স্বয়ং জীব্রাইল ফেরেশতাও (সূরা নাজমঃ ১০ এবং মেরাজের ঘটনাবলীঃ সহী বুখারী)। মানুষের এইসব অনন্য গুনাবলীর কারণেই সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ নিজে তাঁর এই বিশেষ সৃষ্টির সাথে প্রভূত্ব নয়, করেছেন বন্ধুত্ব। সেজন্যেই তিনি রসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলেছেন ‘হাবিব’। ইব্রাহীম (আঃ)-কে বলেছেন ‘খলিল’। আর মানুষকে করেছেন তাঁর ‘খলিফা’ তথা ‘প্রতিনিধি’।
এসব কোন মৌলবাদি বা মধ্যযুগীয় কথা নয়। এগুলো হচ্ছে চির সত্য, সরল, পরিপূর্ণ সেই দর্শনের কথা যা আজ পর্যন্ত কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারে নি। ভবিষ্যতেও পারার কোন সম্ভবনা নাই। এই দর্শনে বস্তুতঃ এ কথাটাই স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই মহাবিশ্বে সর্বশক্তিমান আল্লাহর পরই মানুষের স্থান। আল্লাহ আর মনুষের মাঝামাঝি আর কিছু নেই। কোন মাধ্যম নেই। কোন আবলম্বনও নেই। আর সেই মানুষই কিনা প্রদীপ জ্বালায় মঙ্গলের আশায়। অগ্নিপিন্ড মাথায় তুলে দৌড়ায় বিশ্বব্যাপী। ফুল দেয় আগুনের শিখায়। কী ভয়ানক অবিচার। নিজের সাথে কি নিদারুন প্রতারণা।
লস এঞ্জেলেস, ইউএসএ
ডিসেম্বর, ২৪, ২০০৯
Email:
==========================
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
অচন্দ্রচেতন বলেছেন:
এইসব যুক্তিহীন মানুষগুলো কিন্তু মানুষ খুন করতে চায় না। শান্তি চায়। মানবজাতির মংগল চায়। কারো ঘাড়ে নিজের বিশ্বাস চাপিয়ে দেয় না। মুক্তচিন্তা লালন করে।
দ্বীপবালক বলেছেন:
এ সরল সহজ কথাগুলোকে মহান পণ্ডিতেরা সহজে বুঝেননা।
ইশতে আশিক বলেছেন:
আমরা যা পালন করি তা আমাদের সংস্কৃতি। এতে ধর্মের কোণ আধিপত্য নেই। সব ধর্মের মানুষ ই এই সংস্কৃতি পালন করতে পারে। কিন্তু যদি আমরা ধর্মকে প্রাধান্য দেই এখানে তাহলে এক এক ধর্মের মানুষ এক এক ভাবে একে উতজাপন করতে যাবে । ফলে এক ই দেশে থেকেউ কেন জানি নিজেদের আলাদা মনে হবে।তাই জাতিয় দিবস গুলতে ধর্মকে টেনে না আনাই ভাল।
লেখক বলেছেন: ভালভাবে লক্ষকরে দেখুন, লিখাটাতে আমি কোন দেশ, জাতি বা ধর্মের কথা বলিনি বা বলতেও চাই নি। আমি বলেছি মানুষের অমিত ক্ষমতার কথা এবং যেই বিশ্ব দর্শন সেই ক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহারে মানুষকে সক্ষম করতে পারে তার কথা।
ধন্যবাদ আপনাদের সময়ের জন্য।
অনুসন্ধিৎসু বলেছেন:
অসাধারন, পরবর্তী লেখার অপেক্ষায় রইলাম
আসিফ রেজা রাজ বলেছেন:
ভালো লাগলো।
কৌশিক বলেছেন:
গত পড়শু এক মাওলানার ওয়াজ শুনছিলাম। তিনি বলছিলেন যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তি আল্লাহ-রাসুলের প্রতি ভালোবাসা না হটিয়ে দেয় ততটুকু পর্যন্ত যুক্তি ঠিকাছে..এরবেশী হলে সে যুক্তি, যুক্তি না, সেই জ্ঞান জ্ঞান না, সেই সত্য সত্য না। আপনার বক্তব্যের মধ্যে যে যুক্তি দেখলাম তা ঐ মাওলানার যুক্তির মতই বেশ কৌতুকপূর্ণ।যুক্তি নিয়ে কথা বলার আগে একটু এবিসিডি ভালো করে শিখে নিলে ভালো হতো না? আপনার মত ড. কিভাবে ডিগ্রী পায়? আল্লাহকে বিশ্বাস না করে কোনো উপায় নাই দেখছি।
লেখক বলেছেন: যুক্তির পথে চলতে যদি সর্বশক্তিমাকে মানতেই হয় তাহলে আল্লাহকে মানতে লজ্জা কোথায়?
ডিগ্রীর কথা বলচ্ছেন, আমার অভিজ্ঞতা বলে যৌতিক চিন্তাবিদরাই সাধারনত ডক্টরেটের জন্য যোগ্য বিবেচিত হয়। আপনি যদি পেতে চান তবে আপনাকেও এ পথেই তা পেতে হবে। আমার যুক্তির জবাবে আপনার ব্যক্তিগত আক্রমনের ধরন দেখে আপনাকে শিক্ষিত মনে করতে পারছি না।
যুক্তি এবং শুদ্ধ জ্ঞানের বাণী কোন মওলানা বা ব্যক্তির মুখাপেক্ষি নয়। কারো কথায় বিশ্বাস করতে না চাইলে নিজের বিবেককে জিজ্ঞেস করুন ঠিক জবাবটা ঠিক ঠিক পেয়ে যাবেন.
ধন্যবাদ আপনাদের সময়ের জন্য।
লালপ্রভাত বলেছেন:
আপনি উত্তর আমেরিকায় '' মুসলিম উম্মাহ'' ( প্রকারান্তরে জামাতি রাজাকার ) দের পারপাস সার্ভ করেন , তা আপনার লেখা পড়েই বুঝা গেল।
আপনি যা বলছেন তা একসময় মালানা সাঈদী ও বাংলার আনাচে কানাচে
বলে বেড়াত।
তা নয়া কিছু নয়।
আপনার মতো এরকম কয়েকশ বাঙালি ডক্টর আমেরিকায় জামাতের
তল্পিবাহক, তা আমাদের অজানা নয়।
বাঙালী সংস্কৃতি কখনওই ধর্মকে খারিজ করেনি।
তাই অতিতাত্ত্বিক সেজে ঘোলা জলে মাছ শিকার করার চেষ্টা না করাই
উত্তম।
সোজা সাপ্টা কথা বলুন। রাজাকার হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন।
আমাদের কিছুই বলার থাকবে না ।
বাঙালী জাতিকে বিভ্রান্ত করবেন না , প্লিজ ।
লেখক বলেছেন: আমাকে যদি কোন ভাবে জামাতের সাথে যুক্ত করতে পারেন তা হলে আমার ডিগ্রী-চাকরি সবই আপনাকে দিয়ে দেব। বলি কি, যুক্তির জবাব যুক্তিতে দিন। যা জানেন না, যার সম্বন্ধে কোন ধারনা নাই
সেসব বলে খামখা মিথ্যুক হচ্ছেন কেন?
ধন্যবাদ আপনাদের সময়ের জন্য।
বন্ধু-কথন বলেছেন:
স্যার আপনাকে সালাম।আপনার চিন্তার প্রকাশের জন্য শ্রদ্ধা থাকলো।
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি - প্রতীকী আগুণ জ্বালিয়ে কোন লাভ নেই। অন্তরের অন্ধকার দূর করা লাগবে। আমাদের দুই ম্যাডাম কত ফুল দিয়েছেন, কত আগুন জ্বালিয়েছেন - অথচ অন্তরটাকে পরিষ্কার করতে পারেন নি। ফলাফলঃ দেশের গরীব গরীবই রয়ে গেছে।
অফ টপিকঃ আপনাকে গুগল করবার পরে লিঙ্কড ইন-এ মঈনুল আহসান USC নামে দুইটা প্রোফাইল দেখলাম। আপনার নামে কি অন্য কেউ আছেন? নাকি আপনারি পুরানো প্রোফাইল?
রিয়াজুল ইস্লাম বলেছেন:
কে ডক্টরেট ডিগ্রী পাবে বা না পাবে সেটাও মনে হয় এই ব্লগ থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে যেতে হবে!লেখা ভালো লাগলো।
মনের নোংরামী দূর করা না পর্যন্ত ঐ সব আগুন নিয়ে লাফালাফি করে যে কিছু হবে না তা এতদিনে পরিষ্কার।
আরাধ্য বলেছেন:
ধর্ম ও বিজ্ঞানের পার্থক্য হল ধর্ম এর মূল বিষয় গুলো নিয়ে কোন আলোচনা বরদাশত করে না;অন্যদিকে বিজ্ঞান এ বিষয়ে সম্পুর্ণ উদার।একজন মুসল্মান হিসেবে আমি জানি সকল কাজের ফলাফল নিয়্যাতের উপর নির্ভরশীল।তাই আমি যদি আমার ভালোবাসা প্রকাশের জন্য কারও সমাধীতে পুষ্পার্পণ করি তাতে শির্ক কেন হবে এই ব্যাপারটি আমার কাছে এখনো বোধগম্য নয়। নাকি এতে স্রষ্টার প্রতি ভালোবাসায় ঘাটতি হতে পারে?যে তাকে চিনেছে সে কি এ বিষয়ে সচেতন নয়? আর যে সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করে না তার তো তার প্রতি ভালোবাসা বিষয়ে গ্রাহ্য করার প্রয়োজন নেই। তবে কেন একজঙ্কে জোড় করে নিজের পথে আনার চেষ্টা করা? এই কাজতাই বিজ্ঞান কখনো করে না।কে কন সূত্র মানল আর কে মানল না এতে বিজ্ঞানের কিছু আসে যায় না।
মানুষ আসলে কখন কোন কিছু মেনে নিতে চায়না। এ কারণেই রাতের আঁধারকেউ মানে নি।মানুষ জানে মহাবিশ্বের নিয়ম অনুযায়ী পৃথিবীর এক অংশ ২৪ ঘন্টার অর্ধেক সময় সূর্যালোক পাবে, বাকী অর্ধেক সময় পাবে অন্য অংশ। তাই রাতের আঁধারকে জয় করার সব ব্যবস্থাই মানুষ করেছে।যদি বৈষম্যের কথা বলেন তবে বলতে হয় ধর্মগুরুরাই তা টিকিয়ে রেখেছে যুগ যুগ ধরে- বলতে গেলে খ্রীস্টের পর থেকে বা খোলাফায়ে রাশেদীনের পর থেকে।
প্রত্যেক জাতির নিজস্ব পরিচয় হল তার ভাষা , তার সংস্কৃতি।তাই এটা বিসর্জন দিলে জাতি হিসেবে পরিচয় দেওয়ার মত কিছু থাকবে না।মূল কিছু আচার্য্ কে কখনই বাদ দেয়া যায়না। সেরকম হলে সকল মুসল্মানের মাতৃভাষা আরবী বা সকল খ্রীস্টানের জন্য তা বাইবেলের ভাষা হওয়া উচিত।সে ক্ষেত্রেই সে তার ধর্মগ্রন্থ ভালোভাবে বুঝতে পারবে।সেতা হওয়া কি কখনো সম্ভব?পহেলা বৈশাখ,নবান্ন উতসব মাঘ সংক্রান্তি চৈত্র সংক্রান্তি এগুলো আমাদের চিরায়ত সংস্কৃতি।তেমনি আমাদের ভাষা , আমাদের স্বাধীনতার জন্য যারা লড়াই করেছেন তাদের জন্য আমাদের ভালোবাসা প্রকআশের জন্যঅই আম্রা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করি। এখানে অন্য কিছু ভাববার অবকাশ আছে বলে আমি মনে করি না।ধর্ম সবার নিজস্ব ব্যাপার হওয়া উচিত।
আর আমাদের দেশে কারা আমাদের সংস্কৃতির বিরোধীতা করে তা একদম চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া সম্ভব। এরা হচ্ছে তারা যারা আমাদের স্বাধীন রাষ্ট্রের বিরোধীতা করেছিলো ধর্মকে বর্ম হিসেবে ব্যবহার করে।
কৌশিক বলেছেন:
"যুক্তির পথে চলতে যদি সর্বশক্তিমাকে মানতেই হয় তাহলে আল্লাহকে মানতে লজ্জা কোথায়?"আপনার ডক্টরেট ডিগ্রী জাত এই বাক্যে যে যুক্তি আছে সেটা কেবল একমাত্র মাইকেল মেহদীর পক্ষেই বোঝা সম্ভব।
আমার ব্যক্তিগত আক্রমনে গায়ে ঠোসকা পড়ে গেলো ভাইডু? অশিক্ষিতের সাথে নবীয়ে করিম কি এইভাবে কথা বলতে বলেছে?
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















