আমার প্রিয় পোস্ট

সৃষ্টিকর্তার সকল অপূর্ব সৃষ্টির মাঝে একমাত্র খুঁত সম্ভবত তাঁর সেরা সৃষ্টি ...

প্রকৃতির খেলা ২ - ধরিত্রীর বুকে অন্য বিশ্বের ছোঁয়া

১১ ই মে, ২০০৯ রাত ৮:০৯

শেয়ারঃ
0 7 0

সাই ফাই ছবি দেখি আর ডিরেক্টরদের কারুকাজ দেখে অবাক হই। কিভাবে তারা এরকম দৃশ্যপট কল্পনা করেন? অন্যগ্রহের এতো বিশ্বাসযোগ্য ছবি কিভাবে ফুটিয়ে তোলেন তাঁরা ? কিন্তু এখন দেখলাম যে খুব বেশি দূরে নয়, এই পৃথিবীর বুকেই এমন জায়গা আছে যার ছবি দেখলে আপনি এক বাক্যে বলবেন এটা এ ধরার ছবি নয়, এটা অন্য জগতের ছবি বা ফটোশপের কারসাজি। কিন্তু বিশ্বাস করুন এটা সত্যি, খুব সত্যি ... আর এরকম ছবি কয়েকটি নিয়ে আজকের আয়োজন।


সকোটরা দ্বীপ:



ভারতীয় মহাসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপটি চিরতরে "স্বাভাবিক" শব্দটির অর্থটিই পাল্টে দিয়েছে। এই দ্বীপ সহ আরো তিনটি দ্বীপ আফ্রিকার মেইনল্যান্ড থেকে প্রায় ৭ মিলিয়ন বছর ধরে বিচ্ছিন্ন ছিল, ঠিক ডারউইনের গালাপাগোস দ্বীপের মতোই। সোমালিয়া আর ইয়েমেনের কাছাকাছি অবস্থিত এই দ্বীপটি এই বিচ্ছিন্নতার কারণে প্রায় ৭০০ অতি দুর্লভ প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী সংরক্ষণ করতে পেরেছে। যার মাঝে ১০টি এন্ডেমিক প্রজাতিও রয়েছে।


ক্লিলুকের স্পটেড লেক:



ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় অবস্থিত ক্লিলুকের স্পটেড লেকের পানি গ্রীষ্মের প্রচন্ড লোকে শুকিয়ে যায় এবং পানিতে অবস্থিত খনিজ পদার্থগুলোকে ক্রিস্টালাইজ করে ফেলে। ঐ লেকের পানিতে বিভিন্ন খনিজের পরিমাণ ঘনত্বের হারে বিশ্বের সর্বোচ্চ, এরমাঝে আছে - ইপসম লবণ, ক্যালসিয়াম আর সোডিয়াম সালফেট, আটটা আরো খনিজ লবণ যার মাঝে রূপা এবং টাইটানিয়ামও রয়েছে। কাজেই ক্রিস্টালাইজ হওয়ার পর খনিজগুলো নিজস্ব ধাতবের রং ধারণ করে। কেউ সবুজ, কেউ নীলাভ আবার কেউ বেগুণী - আর সৃষ্টি হয় এক অন্য ভুবনের দৃশ্য।


রিশাত বলয়



সাহারা মরুভূমির দক্ষিণ পশ্চিমে মৌরিতানিয়ায় অবস্থিত রিশাত বলয় বিজ্ঞানীদের জন্য একটা বিস্ময়। বলয়গুলোর ব্যাস প্রায় ৩০ মাইলের মতো যা কিনা মহাশূণ্য থেকেও দৃশ্যমান। অনেকে মনে করেন বলয়গুলো উল্কাপাতের ফলে সৃষ্টি, তবে এতো বড় উল্কাপাতের কথা কেউ প্রমাণ করতে পারেন নি। এবং ভূতত্ত্ববিদদদের ধারণা ভূমিধ্বস এবং টেকটোনিক প্লেটের ক্রমশ ঘূর্ণনই রিশাত বলয় সৃষ্টির কারণ। তবে এটি বৃত্তাকার হলো কেন সেটা আজো বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্যই থেকে গেছে।


শুকনো উপত্যকা




অ্যান্টার্কটিকার ড্রাই ভ্যালী বা শূকনো উপত্যকাকে বলা হয় পৃথিবীতে মঙ্গল গ্রহের সাথে সবচেয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ স্থান। সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো আস্টার্কটিকায় অবস্থিত হওয়ার পরও এই অংশটা একেবারে শূষ্ক এমনকি এখানে বরফও পড়ে না। আর যাইহোক জায়গাটাকে কোনমতেই এ বিশ্বের বলা যায় না। অনেকসময় উপত্যকার ছোট লেকটির পানি জমে চার থেকে পাঁচ ইঞ্চি পুরু বরফের আস্তরণ সৃষ্টি করে এবং সেই জমাট বরফের নিচে ঘুরে বেড়ায় অদ্ভুত ধরনের কিছু জীব। এ জায়গা নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।


রিও টিন্টো




স্পেনের রিও টিন্টো খনিকে এক নজর দেখলে যে কেউ এক চাঁদ বলে ভুল করবে। রিও টিন্টো খনির বলয়টার ব্যাস দিনে দিনে বাড়ছে এবং একটা বিশাল এলাকা দখল করে নিচ্ছে। এখান থেকে যে লাভার মতো নদী বের হতে দেখা যাচ্ছে সেটার পানির পিএইচ প্রায় ১.৭, খুবই আম্লিক এবং ভারী ধাতুতে পূর্ণ।


রক্ত পুকুর





জাপানের বেপুতে অবস্থিত রক্তপুকুরকে এলাকাবাসীরা জিগোকু(নরককুন্ড) বলে। কাছাকাছি হট স্প্রিংস বা উষ্ণ প্রস্রবণের পানি আয়রনের অতি আধিক্যের কারণে জন্ম দিয়েছে এই অপূর্ব নৈসর্গিক দৃশ্য।

সালার ডি উয়ুনি




বলিভিয়ার সালার ডি উয়ুনির ল্যান্ডস্কেপকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে হতবিহবলকর দৃশ্য। এটি হল বিশ্বের সবচেয়ে বড় লবণ মরুভূমি, আর সেই সঙ্গে আছে অনেকগুলো সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, উষ্ণ প্রস্রবণ এবং ক্যকটাস দ্বীপ - সবমিলিয়ে জায়গাটাকে ভিনগ্রহের মনে হতে বাধ্য।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১১ ই মে, ২০০৯ রাত ৮:২০

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আগেরটাও পড়ে দেখতে পারেন না পড়লে ...
Click This Link

১১ ই মে, ২০০৯ রাত ৮:২৪

লেখক বলেছেন: আপনারটাও মানে হাবল

৩. ১১ ই মে, ২০০৯ রাত ৮:২৩
অদ্রোহ বলেছেন: পৃথিবীর বুকে আরেক ছবি,দেখুন

Click This Link
১১ ই মে, ২০০৯ রাত ৮:২৯

লেখক বলেছেন: হ্যা, এটাও ভিনগ্রহের ছবিই মনে হয়। তবে পৃথিবী তে থাকি বলেই আমি জানি এরকম জায়গার সংখ্যাই বেশি।

১১ ই মে, ২০০৯ রাত ৮:৪২

লেখক বলেছেন: অবশ্যই, অবশ্যই

৫. ১১ ই মে, ২০০৯ রাত ৮:৩৮
ট্র্যানজিস্টার বলেছেন: অনেক কিছু জানালেন, লেখক। প্রশংসনীয় উদ্যোগ। প্রিয়তে, প্লাস, এবং নতুন কিছু চমৎকার জিনিষ দেখানোর জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
১১ ই মে, ২০০৯ রাত ৮:৪২

লেখক বলেছেন: সবই অন্তর্জালের কৃপায়

৬. ১১ ই মে, ২০০৯ রাত ৮:৪৮
রাত্রী বলেছেন: এককথায়, অসাধারণ!!!!! +++++++++++++++++++++++

প্রিয়তে সরাসরি। :)
১১ ই মে, ২০০৯ রাত ৮:৫২

লেখক বলেছেন: সরাসরি ধন্যবাদ

৮. ১১ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:০৫
শূন্য আরণ্যক বলেছেন: আগেরটার মতো প্রিয়তে ~


ড্রাই ভ্যালী এ্যান্টার্টিকাতে ??
১১ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:০৭

লেখক বলেছেন: হ তাই তো দেখলাম।

৯. ১১ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:৩৪
আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: চমৎকার... মন ভালো করে দিলেন ভাই, অনেক ধন্যবাদ।
১১ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:৫৪

লেখক বলেছেন: আপনাকেও

১০. ১১ ই মে, ২০০৯ রাত ১০:১৮
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: আরো আছে নাকি? দেখতে দেখতে তো অবাক হওয়ার ক্ষমতাও শেষ হইয়া যাইতাছে!!
১১. ১৮ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৪
ফারহান দাউদ বলেছেন: হালার এইগুলারে আজব কইতেও আজব লাগে, কি জায়গারে বাবা একেকটা।:|
১২. ১১ ই জুন, ২০০৯ ভোর ৪:৪৪
ভাইটামিন বদি বলেছেন: কতাবার্তা ছাড়াই পিরিয়তে.....বড়ই সৌন্দইজ্য..
১৩. ১১ ই জুন, ২০০৯ সকাল ৭:২৩
শয়তান বলেছেন:
সকোটরা দ্বীপটির অস্বাভাবিকত্ব প্রথমবার দেখতে পেয়ে আমিও অবাক হয়েছিলাম ।

Click This Link

এই পোস্টে দ্বীপটির আরও কিছু বৈচিত্রপুর্ন ছবি রয়েছে ।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০০২৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
অলস কাকতাড়ুয়া ... কারো সাথে কথা বলি না ... কোথাও যাই না ... এমনকি জোর হাওয়াতেও নট্ নড়ন-চড়ন
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ