আমার প্রিয় পোস্ট
- ইউটিউবের ভিডিও ডাউনলোড করুন
- মুয়ীয মাহফুজ
- গল্পঃ মুখোমুখি, বেড়ালের পাশে বসে - মোস্তাফিজ রিপন
- কেউ নই শূন্য মাতাল - রেটিং
- সান্ধ্য-মৌনতা ও ছায়া-অন্ধকার জটিলতা - সুতরাং
- পাবেলা নেরুদা: জীবন ও বাস্তবতা পেরিয়ে ১০৪.... - রহমান মাসুদ
- জল প্রিজমের গান - মৃদুল মাহবুব
- চার পাঁচ হাজার পিঁপড়ার দুঃখ - সরকার আমিন ১৯৬৭
- কঙ্কাল - মাজুল হাসান এর তাগাদায় পোষ্টাইলাম - সারওয়ার জামান চন্দন
- অচেনা বন্দরের প্রতি প্রেম হলো আবিষ্কারেচ্ছার জনয়িত্রী - মুজিব মেহদী
- বিবাহিত প্রেমের কবিতা - সরকার আমিন ১৯৬৭
- বাংলা বই এর সাইট - মাহবুব জামান আশরাফী
- সবার জন্য দরকারী কিছু ওয়েবসাইট এর ঠিকানা - রন্টি চৌধুরী
- মির্জা গালিব : : গালিবের একটি চিঠি - ইমরুলকায়েস
সবুজায়ী ডিমের স্বপ্ন/গল্প
২৬ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:২১
রাজা বলিল, আমি স্বপ্নে দেখিলাম—সাতটি স্থূলকায় গাভী; উহাদগিকে সাতটি শীর্ণকায় গাভী ভণ করিতেছে। এবং দেখিলাম সাতটি সবুজ শিষ ও সাতটি শুষ্ক। ... বন্দী কারাসঙ্গীদ্বয়ের একজন বলিল—“আমি স্বপ্নে দেখিলাম আঙুর নিংড়াইয়া রস বাহির করিতেছি”। এবং অপর জন বলিল, “আমি স্বপ্নে দেখিলাম, মস্তকে রুটি বহন করিতেছি এবং পাখি উহা হইতে আহার করিতেছে”। ইউসুফ, আমাদিগকে তুমি ইহার তাৎপর্য জানাইয়া দাও।
জংগলবাড়িয়ার শীতার্ত রাত্রির শরীরে কাঁপণ... থরকম্পণ; নোলকী ঘাসে কেউ নয়নসুখ কিম্বা শবনম মসলিন পেতে দিয়েছিল। আব-ই-রওয়ান অর্থাৎ প্রবাহিত পানি থেমে থাকে না, ধেয়ে আসে মেঘ-বালিকা। আব-ই-রওয়ানের সাত-সাতটি জামা পরেও তখন আওরঙ্গজেব-দুলারীর শরীর ফুঁড়ে স্পষ্টতই জেগে ওঠা চাঁদ লজ্জায় সরে যায় দূর আকাশে। চন্দ্রাভিমূখী তাকিয়ে ঝরছিল বুনো-শেয়ালের লোভাতুর লালা-বিষ। সিদ্ধান্ত হয়েছিল শেয়াল শিকার করতে হবে। শেয়াল শিকার, শেয়াল শিকার... বুনো কচুর ফুতিসমেত বংসবত নিপাত! নিপাত! শিকার! শিকার! কেরানীগঞ্জের কৃষক, জিঞ্জিরার ডান্ডা-বেড়ি শ্রমিক, গ্রেগরী রোডের পাঠশালাফেরত ছাত্র, সব্বাই যোগ দিয়েছিল এই মহৎ ষড়যন্ত্রে। ঈদের দিনে, মুহিতটোলার ঈদগাহ’র মেম্বরে দাঁড়ানো শেয়াল নেতার দিকে অস্ত্রখানা তাক করার পরেই না দেখা গেল—“আরে ওটা তো শেয়াল নয়; শুকোর... রাতে মুরগী চুরি করাও যার স্বভাব”। তারপর ছাত্ররা দেয়ালে সেঁটে দিয়েছিল সেই অমোঘ লিফলেট—“পঞ্চায়েত একটা শুয়োরে খোয়াড়”। সেবারই তো তিন টুকরো হলো ইকরাম মেম্বার। গুম-লাশ হলো জহর মাতবর। তারপর সব ময়না, টিয়া, বুলবুলি, বৌ-কথা-কওদের করা হলো খাঁচাবন্দী। কেউ পালালো, কেউ ভুলে গেল ওড়া। পাখিশূণ্য গাছেরা শীত-গ্রীষ্ম-রোদ্দুর মার্সিয়া গাইতে লাগল। মহরমের চাঁদ থেকে নেমে আসা জ্যোৎস্না-সরবত গাঁজন খেতে খেতে হোসনী-দালানের ইমামবাড়ীর উদাম সামিয়ানার নীচে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল ভাগাভাগি দই মহল্লা’কে। তখন করুণ মার্সিয়া-ভাটিয়ালি সুরে শোনা গেল প্রশ্নোত্তর আকারে কবিতা আবৃত্তি। করুণ ফেনায় টইটম্বুর পুরান-ঢাকার বিবি-রওজা কিম্বা অন্য কোনো ইমামবারা’র কুলিঙ্গিসমূহ মোমবাতি দিয়ে আলোক সজ্জায়িত করা হলে, হোসেনের লহু হঠাৎ উড়ে আসে বৃষ্টির মতো। গাছেরা মাতম জুড়ে দেয়—“হায় হাসান! হায় হোসেন! হায়..”।
হায় পাখি! হায় বৌ-কথা-কও! ...
মউরী, বুলবুলি... হায় হাসান! হায় হোসেন!
মাতম ছাড়া কোনো গতি নেই কাছেম মির্জারও। কারণ, সে স্বপ্ন দেখেছে ভোর রাতে।
ভোর রাতের স্বপ্ন নাকি সত্যি হয়? স্বপ্ন নয় সত্যি নয়, একে তবে কি বলা চলে; ফরমান?!
পাকুড়ের পাঞ্জায় ধরাশায়ী চাঁদ
ঘুমের সাথে টুকি-ঝাঁৎ খেলতে খেলতে কান্তি যখন তলিয়ে গিয়েছিল চোরাবালিতে আটক বাগডাসের মতো, তখন কেনো এই নিদ্রাভঙ্গতা? এমন তো নয়, আহসান মঞ্জিল, সাধনার পোষা বানর, বাংলাবাজারের চকচকে বইয়ের ঘ্রাণ বদলে গেছে... “ না, সবই তো আছে একই রকম”। পিতামহের মুখে শোনা বড় মিয়ার কাওয়ালী দলও একটা ময়লা লন্ঠন আর কুকুর-তাড়ানি লাটি হাতে হাঁক ছাড়েনি...“ উঠিয়ে সেহরিকা ওয়াক্ত্ হো গেয়া... উঠ্যেন সেহরির ছময় হইছ্যে”
এতো সকালে উঠেছে জেমী! জেমী। জেমীই তো এখনো চিলেকোঠাটাকে “বাড়ী” বানিয়ে রেখেছে। চারিদিকের পাকুড়-বটের করায়ত্তে জীর্ণ গুহা, সামনে ছুরির মতো এক ফালি বারান্দা। বারান্দর চায়না-বট, কৃষ্ণচূড়া, পাইনের বনসাইগুলো জুবুথুবু; ওগুলোর টানেই আসে জেমী। চোখে বিষ্ময়ের লাট্টু ঝুরিয়ে সে নিগুন্তি প্রশ্ন তাক করে—“দাদাজান, এই গাছগুলান্ এত্ত ছুট্টো ক্যালা? ছুটো গাছটাতে ভি কাডাল ধরবো নাকি? শিকর কাটো ক্যালা? পাত্তা ভি... ”। কাছেম মির্জা নাতির সব প্রশ্নের জবাব দেয়। মাঝে মাঝে যখন সে বলে— “ বুঝবার পারতাছো? ঐ পাইন গ্যাছটা ছমুদ্দুরের ছব্দ টাইনা আনবার পারে”... জেমী মন্ত্রমুগ্ধ শোনে। কিন্তু মির্জা যখন বলে—“ এই বাইট্টা গ্যাছটা হইতাছি আমি”... জেমী একই সাথে উদ্বেলিত ও আতঙ্কিত হয়। পরে চালাকি ধরতে পারোর মতো মুখ করে কুইকুই হাসতে থাকে। কিন্তু সত্যি কথা হলো, কাছেম মির্জার নাতি জেমী, অর্থাৎ সৈয়দ জামিল জেমী তেমন আসে না চিলেকোঠায়।
রাতে, বুনো-বট, চায়না বট, কৃষ্ণচূড়া, পাইন, সব বামুন-মানবের দল পাতলা মাটির ট্রেতে গুটিশুটি; শরীরে হিসেবহীন হিম-পেরেক। গাছ-পাথারহীন সময় ধরে বয়ে চলা খাড়ি ঝর্ণা; মৃতবৎ স্বপ্ন। ঐ যে ছোট্ট বুনো-বটÑ নগণ্য হলেও বাদুর, বোষ্টমি, হাড়িচাচা দম্পতিদের আশ্রয় দেয়ার ইচ্ছে তো তার ছিল। এমন কতক সত্ত্বাকে ছেটেবেটে রেখেছে মির্জা। ব্যতিক্রম কেবল গ্রিলে গুটিগুটি লতিয়ে চলা মানিপ্লান্ট গাছটা—তার জীবনের একমাত্র ব্যক্তিগত গাছ। পৃথিবীর কোনো শেষ বিন্দুতে দাঁড়িয়ে, সামনে এগুনো ছাড়া যার কোনো মুক্তি নেই। সুযোগ পেলে মির্জা প্রায় জেমীকে একটা গল্প শোনায়—সোনার ডিমের গল্প নয়; সবুজায়ী ডিমের গল্প।
—এক দ্যেছে আছিলো গিয়া একজোন ছেনাপতি। দুছমনরা হেরে দ্যেছ থেইক্কা বহিছ্কার করলো। দিলে বহুৎ জখম নিয়া....
এ পর্যন্ত বলার পরে অথবা খানিক আগে, জেমী দাদাজানকে থামায়—“ দাদাজান ছেনাপতির নাম কি? দুশমনরা হেরে খেদায় দিলো ক্যালা?”। মির্জা বলে
—ধরো গিয়া, ছেনাপতির নাম কাছেম মির্জা। আর তারে খেদাইছে ধরো গিয়া, তার নাকডা আমার মুতোন পিলেন্ , মানে থ্যাবরা বইলা...
দাদার সাথে সাথে জেমীও ঘাস-ফড়িংয়ের মতো তিড়বিড় করে ওঠে। হাসি আর হসি; ফুলঝরি।
—তারপর...
—তারপর দিলে জখম নিয়া ছেনাপতি পাহারে ছেলটার লইলো। দিন যায়, রাইত্ যায়—ছেনাপতি ঘুমাইবার পারে না; কুনো খোয়াব ভি দেখবার পারে না। ছেনাপতি চিন্তা করে, কেমতে যুদ্ধ কইরা পুরাণ দ্যেশে ফিইরা যাইবো। পাহারে তার খচখচ লাগে। নদী বুলায়—দেহো, আমি নাচতাছি! বান্দর কয়, দেহো আমি ফাল দিবার লাগছ্যি; এক-দুই-পনে তিন। একদিন, বিহান বেলা ওইলো কি, ঘুমে ছেনাপতির চোউখ মুইঞ্জা আইতাছে; তহোনি দ্যাখে কি—আরেশ্ শালা, ছামনের মানিপেলান্টের গাছটাতে না, এক আজব কিছিমের পক্ষী; যেই ধরবার গ্যেছে, ওমনতি ফুর-ফুরুৎ।
মাগার ছুন্দর পক্ষীটা একটা ছবুজ ডিম রাইখ্যা গেছে মানিপেলান্টের মাথায়। ছাপের মনির মুতোন জ্বলজ্বইল্লা ডিম। এইবার ছেনাপতি খোয়াব দ্যাখে-- ছবুজ ডিম থ্যেইক্কা বহুতৎ পক্ষী হইতাছে। ছেনাপতি খোয়াব দ্যাখে... দেখতে থাকে...
জেমী জিজ্ঞেস করে... তারপর
—তারপর ছেনাপতি খোয়াব দ্যাখে
—তারপর
—তারপর ছেনাপতি খোয়াব দ্যাখে...
কিছুটা রিরক্ত আর কিছুটা কৌতুহল নিয়ে জেমী বিড়ালের মতো জ্বলজ্বল চোখে মানিপ্লান্ট গাছটার দিকে তাকায়। আবদার করে তারও একটা মানিপ্লান্ট চাই-ই-চাই। তবে সে মাত্র খানিক ণের জন্য। জেমী বরং ভালবাসে ঐ বনসাইগুলোকে। কেমন হাট্টা-গাট্টা, কিন্তু খেলনার মতো। তবু একটা সবুজায়ী ডিম, পেন্টের পকেটে পুরে বন্ধুদের তাক লাগিয়ে দেবার ইচ্ছেও তার প্রবল। জেমী স্বপ্ন দেখে, তার পকেটে মার্বেল নয়; সবুজায়ী ডিম, কিলবিল ডিম... ডিম আর ডিম। স্বপ্ন দেখে কাছেম মির্জাও। কাছেম মির্জা স্বপ্নেই জেমীকে গল্প শোনায় কিনা তা এখনো ঘোরতর রহস্যাবৃত। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় খটকাটা হলো, জেমী তো দাদার মতো কুট্টি ভাষায় বাৎচিৎ করে না। মির্জা নিজেও বিষয়টা নিয়ে খানিক ভেবেছিল, তবে ঘাটায় নি, শেষ পর্যন্ত তাগাদা অনুভব করেনি বলে। কিন্তু আজ ভোর রাতে দেখা স্বপ্নটা!
ভোর রাতের স্বপ্ন নাকি সত্যি হয়? স্বপ্ন নয় সত্যি নয়, একে তবে কি বলা চলে; ফরমান?!
টুপি, বাকরখানি... দোলাইয়ের বাহুর মতো বুড়িগঙ্গা
প্রায়শঃ স্বপ্নে কাছেম মির্জা সংকরিত আলো-অন্ধকার রামধনুতে চড়ে চলে যায় অন্য একটা সময়ে। তখনও মলিন মুখের লোকটা গ্যাসবাতিতে সন্ধ্যার ঘোষণা লিখে যায়নি, তখনো বাবুবাজার কিংবা আরো কিছু দূর পর সাহেববাজারে সিন্দুক ব্যবসায়ীদের ততোটা জমে বসতে দেখা যায়নি, সেই সময়। সেই আদি ও আসল সময়। রাসময়টা সাফ-সুতরার। নতুন ঘড়া, মাটির নতুন হুক্কা, নতুন সুরাহি সুগন্ধি ধোঁওয়ায় স্নান করিয়ে শুদ্ধ করে নিচ্ছে লোকেরা। সময়টা ছিল অন্য রকম মোরগ কিংবা ডিম লড়াইয়ের। মা, খালা, রড় চাচী, ফুপু বা বড় বোনেরা বচ্চা ছেলে-মেয়েদের সাজি মাটি, খৈল আর বেসন মাখিয়ে গোসল দিচ্ছে। হোসনী দালান, ছোট কাটরার সুউচ্চ দালানগুলোর ছাদে গিজগিজ মানুষ; মাথায় টুপি। সময়টা ছিল টুপি, পাগড়ি কিংবা ইংরেজী নাইট-ক্যাপের। পথে টুপি, ঘাটে টুপি; সুয়ারী ঘাটে, ওয়াইজ ঘাটে; টুপি। উত্তর ভারত থেকে আসা হিন্দুরা, যারা স্থায়ী বসতি গেঁড়েছে বুড়িগঙ্গার পাড়ে ; তাদের মাথায়ও টুপি। গ্রীষ্মে দোপাল্লা টুপি, শীতে শালের কিস্তি টুপি। তখনো মহরম কি সবেবরাত, কি মাঘী-পূর্ণিমা, আষাঢ়ে পূণির্মা অথবা দুম্বা ঈদের চাঁদ ঝুলে থাকে দোলাইয়ের বাহুর মতো বুড়িগঙ্গায়। মাঝ নদীতে নৌকাচড়ে চলে যায় উৎসাহীরা। বুড়োরাও যায়, তবে নিজেদের ক্ষয়িষ্ণু দৃষ্টি পরীক্ষা করতে... “কিন্তু চাঁন কুন খানে? ”।
তারপর মির্জার পিতামহের সূত্র ধরে একদিন আব্বাজানের মাথায় চেপে বসে ইরানী টুপি, আরো পরে কিস্তি টুপি। আলীগড়ের সাথে সর্ম্পক স্থাপিত হলে কুট্টিদের মাথায় সওয়ার হয় তুর্কি টুপি; টাট্টু ঘোড়া। তখনো দোলাইয়ের বাহুর মতো বুড়িগঙ্গায় ঝুলে থাকতো চাঁদ। জ্যোৎস্নার আটা গুলানো চাঁদ। তখনো সবার মনে মহৎ উদ্দেশ্য—আমিই প্রথম চাঁদ দেখবো। কান্তিকর স্বপ্নযাত্রায় সেই বেনো জলে ভেসে যাওয়া চাঁদটাকেই দেখতে বড় সাধ জাগে মির্জার। বাকরখানি... তন্দুরে চাপানো—বাকরখানির গায়ে দুধের ছিটা দেয়া চাঁদ।
আরো পরে এক আধো অচেনা কিশোর টাঙ্গা গাড়িতে উপবিস্ট; চলে যায়। সাথে পিতামহ।
গাজীপুর, বড়বাড়ি, ধেউর, জয়দেবপুর, ফরিদপুর, সুন্দরবন থেকে মথি’রা এলে কাকলীমূখর হয় পুরাণ ঢাকার রৌদ্রজ্জ্বল অথচ শোকার্ত আকাশ, শারেঙ্গী-শোকগীতির ফোয়ারা বয়ে যায় বাহদুরশাহ পার্কের খালি বেঞ্চিগুলোতে। বাতাসের রং ক্রমশ লাল থেকে কালো হতে থাকে, কালো থেকে গনগলে সূর্যের মতো লাল; আগুনে লাল; মিছিল।
সার-সার নিশানাওলা মিছিলের সম্মুখে কারুকার্যখচিত আস্তরণে ঢাকা মস্ত-হাতি, পশ্চাতে বাদিকা-ঢোলা। সর্পমস্তকের মতো সরদার টেনে নেয় মিছিল, সাথে ভিস্তির সবুজ বরকন্দাজ। হোসেনের শোক শেষে ঘুরন্টি পথ, কাতারে-কাতারে। ফিরতী পথে ঠাঠরি বাজার, শ্যামপুর, ওয়ারির মাংসহাটিতে লটকে থাকে মুন্ডুকাটা নিথর, নিস্তরঙ্গ ছাগল-পাঠা-বৃহৎ বৃষ। দূর্গা বিসর্জণের মতো বাদিয়া-ঢোলার ঢাক বাজতে থাকে বাতাসে গরাদের মতো; একটানা একনাগারে।
জীবনে হরেক কিছিমের স্বপ্ন দেখেছে মির্জা। ছেলেবেলায় দেখা মহরমের উৎসব, মাতম, শোভাযাত্রার স্মৃতি, কৈশরে দেখা টুপি-পাগড়ীতে হানাহানি, ঢাকায়া কুট্টিদের আলীগড় আন্দোলনে জড়িয়ে “সাচ্চা মুসলমান” হওয়ার প্রচেষ্টা... এসব পেরিয়ে মির্জা একদিন জড়িয়ে পড়ে কমিউনিস্ট আন্দোলনে; আরো পরে চল্লিশে-- নকশাল আন্দোলনে। মির্জা দৌড়ায় রেসের ঘোড়ার মতো... কী উত্তেজনা! সেই চল্লিশ বছর বয়সেও! পেছন-পেছন তাড়া করে পাগলা ঘোড়া... মির্জা দৌড়ায়। সেই সব সোনা মোড়ানো উত্তরাধিকার তাড়া করে তাকে। মির্জার বড় ইচ্ছে করে জেমীকে সাথে নিয়ে যায় তার শেকড়ের কাছে। ও তো সবুজ লুঙ্গী, শার্ট পরা ভিসতি’দের দেখে নি। স্বপ্নে কোনো কোনো দিন জেমীকে সাথেও নিয়ে যায় সে। মহরমের ষষ্ঠ দিনে মহিলাদের “দোপহারিয়া মাতম” দেখে মুসড়ে যায় জেমী। তার বিমর্ষতা কাটে পরদিন “তুগ্ গাসত্” মিছিল দেখে। নিশানাওড়ানো মিছিল, নিশানায় লেখা—“ইয়া ফাতাহ্; ইয়া আলী”। মিছিল শেষে শুরু হয়—“গাওহার-ই-গাশত্” দৌড়। একদিন সকল আনুষ্ঠানিক দুঃখ প্রকাশের বাইরে দুঃখ মোচন কিংবা কলঙ্ক মোচনের জন্য বেরিয়ে পড়েছিল মির্জা; স্ববান্ধব। “গাওহার-ই-গাসত্” দৌড়ের মাঝপথেই ফিরে এসেছে সে। কিন্তু অনেকেই ফেরেনি। পলায়ন কিংবা পরাজয় বরববরাই কটাপূর্ণ। আর এ কারণেই হয়তো মির্জা আশাভঙ্গের স্বপ্নে দেখে, দেখেÑ মহরমের জলুস; কিংবা নপুংষতার প্রতীক হিসেবে দেখে কাটা মুন্ডের ছাগল-পাঠা-বৃহৎ বৃষ। মির্জা এভাবেই স্বপ্নের ব্যাখ্যা করে। কিন্তু আজ ভোর রাতে দেখা স্বপ্নটা? স্বপ্ন তো অবদমিত চেতনার বহিঃপ্রকাশ। এর বাইরে স্বপ্নের কোনো মানে কি আছে?
ভোর রাতের স্বপ্ন নাকি সত্যি হয়? স্বপ্ন নয় সত্যি নয়, একে তবে কি বলা চলে; ফরমান?!
মোরগ-লড়াই, ডিম-লড়াই, বুলবুলির চোপা
দ্বিতীয়বারের মতো কামার্ত মোরগের হাঁকডাক শেষ হলে শুরু হয় বুলবুলির-লড়াই। হঠাৎ করে প্রোপটের পরিবর্তন...এবার ডিম-লড়াই। মুখোমুখি দুজনের তালুতে ডিম। ডিম ঠোকাঠুকি। চেকলুঙ্গিওলা লোকটার ডিমটা কি লোহার? ডিমপট্টির সব ডিম ভেঙে গেলেও ওর ডিমটা যে ভাংছে না কিছুতেই! হারু-পাট্টিরা কারচুপির অভিযোগ করলেও চেকলুঙ্গি বলছে, আদর্শ আর জনগনের ভালবাসার কারণেই তার এই নিরঙ্কুশ বিজয়। তারপর তুড়ির শব্দে বুলবুলির চোপা লেগে গেলে, দেখা যায় সেই আর্মেনীয় যুবতীকে। আর্মানীটোলা মাঠের পাশে আড়াই-তলা বাড়ির ছাদে। তারো পরে তারই মতো এক নারীকে দেখা যায় দোলাইয়ের বাহুর মতো বড়িগঙ্গায়। মুখ নয়, সবুজায়ী ডিমের মতো পায়ের গোলক—সেখানে বিন্দু-বিন্দু সিদ্ধির ঘাম।
বুলবুলি লড়াইয়ের উত্তেজনা হট্টোগলে পর্যবসিত হলে মির্জা চলে যায় ১৮, বসাক লেনে। সেখানে একটা মস্ত বটগাছকে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকে অনেক অনেক উদ্ভিদ বিজ্ঞানী। তারা দ্বিধা বিভক্ত। কারণ কেউ বলতে পারছে না কোনটা আসলে বটের মূল কান্ড? ঝুরিগুলোও দাঁড়িয়ে গেছে গুঁড়ির মতো!
স্বপ্ন ব্যাখ্যার্থে র্মিজা আবারো স্মৃতির স্মরণাপন্ন হয়। মনে পড়ে ডিম লড়াইয়ের কারচুপি। সবুজায়ী মুরগীর ডিম দিয়েই লড়াই হবে এটাই ছিল নিয়ম। কিন্তু কিছু লোক তিতির ডিমের রঙিন দাগগুলো ঘষে তুলে ফেলতো। তারপর ঝুলিয়ে রাখতো চুলার আঁচে। এতে করে সেগুলোকে দেখাতো সবুজায়ী ডিমের মতোই। কিন্তু আদতে ওগুলো তখন লোহার চেয়েও শক্ত। বরাবর স্বপ্নের ব্যাখ্যা দাঁড় করানো মির্জার বহুদিনের অভ্যেস। কারন, স্বপ্ন ব্যাখ্যা সম্ভব। যা মানুষ দেখে নি, ভাবে নি, তা সে স্বপ্নেও দেখতে পারে না। স্বপ্ন হতে পারে অবদমিত ইচ্ছে। স্বপ্ন কি তবে অতীতাশ্রয়ী? স্বপ্ন্ কি ভবিষ্যতের ইঙ্গিত হতে পারে? আজকের স্বপ্নটা কি সেই রকমের?
ভোর রাতের স্বপ্ন নাকি সত্যি হয়? স্বপ্ন নয় সত্যি নয়, একে তবে কি বলা চলে; ফরমান?!
ঝুল বারান্দায় ঝুলে ছিল কাঠখোট্টা স্বপ্ন
হে কারাসঙ্গীদ্বয়! তোমাদিগের একজন সম্বন্ধে অভিমত এই যে, তোমারা একজন মুনিবকে মদ্যপান করাইবে এবং অপরজন সম্বন্ধে কথা এই যে, সে শূলবিদ্ধ হইবে। অতঃপর তাহার মস্তক হইতে পি ( মগজ ) আহার করিবে।
স্বপ্নটা দেখার পর মির্জা ততটা বিচলিত হয়নি প্রথমে। কিন্তু বারান্দায় লতানো মানিপ্লান্ট গাছটায় সকালে হাত বুলানোর সাথে সাথে তোষা পাটের মতো সেটা শুকিয়ে যেতে লাগল। সত্যিই তো গাছটা মরতে বসেছে। তখনই টনক নড়ে মির্জার। তাহলে কি স্বপ্ন সত্য হতে চলেছে? ঘন ঘন মানিপ্লান্টের টবে পানি ঢালে মির্জা। এক দিন, দুই দিন। গাছে কোন স্পন্দন দেখা যায় না। বরং পাতায় কেমন হলদে বিষাদের ছোপ। ওটা যেন মরবে বলে পণ করেছে। সেই সাথে মির্জার শরীর আকষ্মিক ভাবে খারাপ হতে থাকে। প্রথম দিন সামান্য কাশিতেই মুখ দিয়ে গলগল উঠে আসল রক্ত। তারপর ক্রমশঃ লোপ পেতে থাকল পায়ের বল-শক্তি। একটা ঘোরের মধ্যে মির্জা বারান্দার গ্রিল ধরে কাশির দমক থামায়। ঠিক তখনই পরিত্যাক্ত ঘোষবাড়ির মেয়ে মালতি ঘোষজায়াকে দেখতে পায় সে। তিন তলার ঝুলবারান্দায় অনেকটা ঝুঁকে মালতি তখন উঠোনের কলাগাছটাকে দেখছে। লগ্নভ্রষ্ঠা হবার ভয়ে ঘোষবাবু ঐ কলাগাছের সাথেই বিয়ে দিয়েছিলেন মালতির। কলাগাছটাও দিনদিন পুরুষ হয়ে উঠেছিল, কদাচিৎ তাতে কলা ধরেনি। একদিন কলাগাছটা বাতাসে মিশে গেলে ওটাকে খুঁজতে মালতি ঝুলবারান্দা থেকে আরো ঝুঁকে পড়ে। তখনই বাতাসে চন্দন কাঠের গন্ধ পায় মির্জা। সুঘ্রাণের কি আঁচ! সেই আঁচ গিয়ে লাগে আফ্রিকার কোনো অজ্ঞাত শহরে। একখানা ফুলের টব জানালার কাছে রেখে দিয়ে শহরবাসী জানান দেন—এই শহরেও একটা বিবাহযোগ্যা মালতি আছে, স্বত্তর যোগাযোগ করো। না মালতির কথা ভাববে না মির্জা। তার সব চিন্তা এখন মানিপ্লান্ট গাছটাকে ঘিরে। পোষা বিড়ালটাও আজকাল কেমন হিংস্র হয়ে উঠেছে। দু’দুবার তাড়িয়ে দিলেও রাতে বিড়ালটার নিঃুশব্দ চলাফেরা বুঝতে পারে সে। ভয় করে। ওটা বিড়াল নয় Ñবাঘ। সত্যিই কি তবে মরতে বসেছে মির্জা? কোন গন্ধবণিক কেওড়া আতরের নির্যাসে ওই মানিপ্লান্টের গাছের সাথে তার জীবনের আয়ুরেখা বেঁধে দিয়ে গেল? কে সে? সে মরলেই তো চোয়ালের মাংস খুবলে খাবে দীর্ঘদিনের পোষা মিনি। আহ! মানিপ্লান্ট বুঝলো না। পারছে না মির্জাও তাকে বাচাঁতে। দিনদিন সবুজ য়, হলদে সন্দেহ, এরপর কালো হয়ে ঝরে পড়া পাতাড়ি স্বপ্ন। না এভাবে নিয়তির হাতে মৃত্যু নয়, তিলতিল করে য় নয়, একা হতে হতে নিজের ছায়ার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সমাপ্তির অপো নয়। মির্জা ঠিক করে মৃত্যুকে মারতে হবে মৃত্যু দিয়ে। আর যেহেতু দুঃস্বপ্ন তাকে নাকাল করেছে, সেহেতু সুদিনের আশাবাদ না হোক; বৈরী সময়কে অবজ্ঞা করতে করতেই সে চলে যাবে নিদ্রাপুরে।
চিলেকোঠা উড়তে লাগল আকাশে
এক ঝলমলে আলোর দুপুরে, একগাদা ঘুমের ঔষধ হোক আর মৃত্যুপোড়া ঘ্রাণেই হোক মির্জার চিলেকোঠা ভরে ওঠে ধুম্রজালে। সেই তরঙ্গে শাইশাই ওড়ে হুটিট্টি পাখির দল, বুড়িগঙ্গায় ভরা বর্ষার মতো চলে নৌকাবাইচ। বেলুনের মতো উড়তে থাকে শূককীট-মূককীট... ওরা কি আর প্রজাপতি হবে না? কান্তি পায় মির্জার, মুখ কুঁচকে যায় জলতেষ্টায়। সাধনার বানরগুলো বানরই থাকল। মির্জার দিকে এখনো তাকায় টিটকারির চোখে, দেয় হাত তালি। মির্জা চেচায়—বান্দরের পুত তালি বন্ধ কর, চুদিরভাই তালি বন্ধ কর। তবু তালি দেয় কে? কে? তালির শব্দের বাইরে একটা কান্নার আওয়াজ আসে। কে কাঁদে? জেমী?! জেমীই তো! মায়ের চোখ বাঁচিয়ে সে উঠে এসেছে চিলেকোঠায়। হাতে একটা মানিপ্লান্টের চারা। তাতে বসে আছে একটা অদ্ভুত সবুজ পাখি। কিন্তু ওসবে মির্জার কোনো তাড়া নেই। তবু কলাগাছের সাথে বিয়ে হওয়া মালতি কিংবা মিশর-ব্যবিলনে ঝুলন্ত উদ্যানে দোল খাওয়া ইউসুফ পয়গম্বরকে শেষবারে মতো ডাক দেয় সে। কোনো সাড়া না পেয়ে মির্জা পুনঃপুনঃ স্বপ্নটা দেখতে থাকে--
মানিপ্লান্টের গাছটা শুকিয়ে তোষাপাটের দড়ির মতো বারান্দায় পড়ে আছে—বিবর্র্ণ। তার চারপাশে চাপচাপ কালচে রক্ত পাপড়ি খাজার মতো ঘুমিয়ে আছে পুরু পরতে। আর সাধের পোষা বিড়ালটাই খুবলে নিয়ে যাচ্ছে চোয়ালের মাংস। ওদিকে ফানু খলিফা মানজা-ঘুড়িতে উড়িয়ে দিয়েছে মৃত্যুর নিশান।
মির্জা দূঃস্বপ্নকে শাসায়। কুয়াশা কিংবা কুঁচবরণ মেঘ আরো ঘন হয়। দোলাইয়ের বাহুর মতো বুড়িগঙ্গার মাঝ থেকে শোনা যায় মাঝির কন্ঠ
—দাদাজান তুমার মুখে ফেনা কেলা? কি ওইছে? দাদাজান!
আজ পুরো সমুদ্রটাকেই গিলে ফেলেছে মির্জা। মুখ দিয়ে উঠছে নোনতা ফেনা। ঢেউগুলোকে ভেতরে ভেতরে ধরে রাখার চেষ্টা করে সে। অধৈয্য বিড়াল চোয়ালে আঁচড় কাটেÑদাদাজান! দাদু! মেও-মেও
—দাদাজান দেখো তোমার মানিপ্লান্টের গাছে নতুন পাতা— সবুজ ডিম”—এবার জেমীর স্পষ্ট কণ্ঠ। ঠোট কাঁপে মির্জার। একটা সবুজ দরজায় দাঁড়িয়ে মির্জা কেবল ডাকে—কাকে ঠিক বোঝা যায় না।
তারপর বনসাইগুলোকে নিয়ে বারান্দা, ঐ রুগ্ন চিলেকোঠাটা উড়তে লাগল বাতাসে.. উড়তেই
বি, দ্র: গল্পটা ছাপা হয়েছে বাংলাদেশ সময় ঢাকা ৪০০ বছর পূর্তি সংখ্যায়।
লেখক বলেছেন: একটি বেশিই বড়!?
কি খবর কবি?
ইমরান খান ইমু বলেছেন:
বড় পোস্ট...পরে সময় নিয়ে পড়ব...মাজুল ভাই কেমন আছেন?
লেখক বলেছেন: ভাল, তবে তাড়ার উপর...
আপনি?
রেটিং বলেছেন:
ক্ষমতা থাকলে ১০০ টা প্লাস দিতাম। আপনার ব্লগ অনেক চেক করেছি। কিন্তু না। মনে করলাম হারিয়ে গেছেন। অনেক ভালল াগছে আপনাকে দেখে। লেখাটা এখনই পড়ি।
লেখক বলেছেন: রেটিং কি খবর আপনার?
আমার সামনে জলা-জংলা,
পেচনে ক্ষেপা ষাড়...
আজ উঠতে হচ্ছে। সামনের দিন আপনার ব্লগে ঢুকবো।
ভাল থাকবেন।
রেটিং বলেছেন:
ব্যপার না, আমার ব্লগে না আসলেও কোন অসুবিধা নাই। তবে আমি আপনার ব্লগে রেগুলারই আসব। কোন বিনিময় প্রথায় আমি বিশ্বাসী নই। আপনারে ভালা পাই, আপনার লেখআরে ভালা পাই তাই আসি।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, ভাইটি।
আপনাদের লাইগাই আনবাড়ি আইসা নেটে বসলাম।
কেমন আছেন আপনেরা?
সুতরাং বলেছেন:
দোস্ত, সময় করে তোমার লেখাটি পড়বো। আজ শুধু দেখে গেলাম।
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন:
মাজুল হাসান, অনেকদিন পরে আপনার লেখা পড়লাম। গতকাল শুরু করেছিলাম আপনার এই গল্প পাঠ, কেমন যেন ধৈর্য রাখতে পারিনি। আজ শেষ করলাম। শুরুতে গল্পে ঢোকাটাই ছিল আমার জন্য কষ্টকর। এত মীড়, আর এত উপমার ভীড়ে খেই পাচ্ছিলাম না। কিন্তু গল্পের সূতোটা হাতে এলেই মজা পেলাম। ভাল লেগেছে।
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
আরে মাজুল যে!কত্তদিন পর........আশাকরি ভালো ছিলেন ।ভালো আছেন।
লেখা পড়ে পড়ছি.......।
অনেক অনেক শুভকামনা......।
আপনার লেখা মিস করছি।
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
দারুন লাগলো..........৪০০ বছরের ঢাকার জন্মপূর্তিতে দারুণ লেখা.......।
পুরান ঢাকার অনেক ব্যাপার এত সুন্দর করে লিখবার ধন্যবাদ......।
আচ্ছা পাইন গাছ কি সত্যিই সমুদ্রের শব্দ টেনে আনতে পারে........
কেমন যেনো লাগলো....অদ্ভুত।
গল্প ভালো লেগেছে। ভোরবেলার স্বপ্ন কি সত্যি পূরণ হয় ?.........
আগে ভাবতাম হয়......
আসলে কোন বেলার স্বপ্ন পূরণ হতে নাই......
স্বপ্ন তো অবচেতন মনের ইচ্ছা.... যা ভেবেছি কিংবা যা অনেক সময় ভাবিনি.......।
শুভকামনা মাজুল।
শুভেচ্ছা।
লেখক বলেছেন: স্বপ্ন পূরণ হোক না হোক, স্বপ্ন থাক।
ধন্যবাদ সাজি।
বাচ্চাকাচ্চারা কেমন আছে?
যীনাত বলেছেন:
বড় পোস্ট, এখন পড়ার সময় নেই। আর একদিন পড়ব।একটা কথা অনেকদিন গ্রুপে কোন লেখা দেননা। এটা কেমন হল আপনাদের উৎসাহেই তো গ্রুপ খুললাম।
মাজুল হাসান বলেছেন:
সবাইকে ধন্যবাদ।

















1.jpg)
