এতদিন তবুও একটা দায়িত্ব ছিল কাধে, অধিনায়কত্বের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে উনি ভুলেই গিয়েছিলেন যে উনি একজন ক্রিকেটার। সবার আগে পারফর্মেন্স চাই। আর সেই পারফর্মেন্স কি জিনিস তা তার ব্যাটিং দেখে এদেশের ক্রিকেট অনুরাগী দর্শক ভুলেই গেছে।
একজন অধিনায়ক একজন নেতা। যিনি থাকবেন সবার আগে। যিনি সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেবেন। দলের বিপদের সময় যিনি হাল ধরবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে এগুলোর সমন্বয় তার মাঝে খুব কমই দেখা গেছে। বরং দলের চরম বিপর্যয় মুহুর্তে খুব বাজে ভাবে আউট হয়ে মাথা নত করে প্যাভিলিয়নে ফিরতে দেখেছি অসংখ্যবার।
দল যখন ভাল পারফর্ম করে তখন ভাল রেজাল্ট আসে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেখানে অধিনায়ক হিসেবে তার অবদান কতটুকু সেটা ভাবার বিষয়। দলের সাথে নিজের পারফর্মেন্স যদি ভাল হত তাহলে তিনি সগৌরবে বলতে পারতেন যে তিনি অধিনায়কত্ব উপভোগ করছেন। অথচ প্রতি ম্যাচে যিনি নতজানু হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি কিকরে বলেন তিনি অধিনায়কত্ব উপভোগ করছেন?
আজ শুনলাম তিনি নাকি নিজেই বুঝতে পারছেন না কি কারনে তিনি পারছেন না। একজন খেলোয়াড়ের খারাপ সময় আসতেই পারে। কেউ একাধারে ভাল পারফর্ম করতে পারে না। কিন্তু তারও একটা সীমা আছে। যখন কারও ফর্ম থাকেনা তখন তাকে বিশ্রাম দেয়া হয় তার পারফর্মেন্স আবার ফিরিয়ে আনার জন্য। নেটে আর ঘরোয়া ম্যাচে খেলে সে তার পারফর্মেন্স ফিরে পেলে আবার দলে জায়গা করে নেয়। এটাই নিয়ম। কারন কারও জন্য দল থেমে থাকতে পারেনা। দেশে আরও খেলোয়াড় আছে, তারাও তাদের যোগ্যতা প্রমানের জন্য সুযোগ চায়। কিন্তু কোন একজন খেলোয়াড় পারফর্ম না করে দিনের পর দিন একটা পজিশন আটকে রেখে তিনি অন্য খেলোয়াড়দের সুযোগের পথে বাধা হয়ে থাকতে পারেন না। এটা যেমন সিলেক্টরদের বোঝা উচিৎ তেমনি সেই খেলোয়াড়কেও বুঝতে হবে। সিলেক্টররা হয়ত তাকে বার বার সুযোগ দিচ্ছেন এই আশায় হয়ত এবার সে ফিরে আসবে। কিন্তু আর কত? ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট এক্সপেরিমেন্ট করার জায়গা নয়। যে পারফর্ম করবে সে দলে থাকবে। সোজা হিসাব।
সাকিব কিভাবে টেস্ট সিরিজটা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিল তা দেখে শেখার আছে আশরাফুলের।
বিগত ১৫ ইনিংসে(ওয়ান ডে ম্যাচ) আশরাফুলের পারফর্মেন্স-এর একটা চিত্র এখানে তুলে ধরলাম:
১৪,৫,৩,৩,৬০*,৪০,৮,৭৩,৫,১৮,২৬,১৩,৪,৫,৩
মোট রান: ২৮০
১০০ X ০
৫০ X ২
গড় রান: ২০
অপরদিকে বিগত ১৫ ইনিংসে(ওয়ান ডে ম্যাচ) সাকিব-এর পারফর্মেন্স হল:
৫,৭,১৯,২৭,৫*,১০,১,৫১,১৭,৫২,৯২*,৯,১৫,২২,৩৩*
মোট রান: ৩৬৫
১০০ X ০
৫০ X ৩
গড় রান: ৩০.৪১
আর টেস্টে শেষ ৫ ইনিংসে আশরাফুলের রান ৭,৬,৩,১২,৩
মোট রান: ৩১
১০০ X ০
৫০ X ০
গড় রান: ৬.২
আর টেস্টে শেষ ৫ ইনিংসে সাকিবের রান ৪৬,১৭,৩০,১৬,৯৬*
মোট রান: ২০৫
১০০ X ০
৫০ X ১
গড় রান: ৫১.২৫
অধিনায়কত্ব উপভোগ করার কথা যদি বলতে হয় তাহলে তা সাকিবের মুখেই মানায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

