আমার প্রিয় পোস্ট
- যেভাবে যাবেন বগা লেক ও কিওক্রাডাং - কাঊসার রুশো
- ইতিহাসের নিরেট বাস্তবতায় নভেম্বর ১৯৭৫: একজন জিয়ার লিডারশীপ কোয়ালিটি এবং গত হয়ে যাওয়া কুটকৌশল ও বিশ্বাসঘাতকতায় পরিপূর্ণ সেই সব দিনগুলি (২য় পর্ব) - মিনহাজ আল হেলাল
- ইতিহাসের নিরেট বাস্তবতায় নভেম্বর ১৯৭৫: একজন জিয়ার লিডাশীপ কোয়ালিটি এবং গত হয়ে যাওয়া কুটকৌশল ও বিশ্বাসঘাতকতায় পরিপূর্ণ সেই সব দিনগুলি (১ম পর্ব) - মিনহাজ আল হেলাল
- ‘আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর’: পল্লীকবি জসীমউদ্দীন-এর একটি কবিতা - ইমন জুবায়ের
- ছবিতে যত দাগই থাকুক মুহূর্তেই করে ফেলুন ধবধবে পরিস্কার!!

- হাসান জোবায়ের
- একজন ক্রাচের কর্নেল, রাষ্ট্রকর্তৃক সংঘটিত অপরাধ আর মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলৎসের হলফনামা: জাতিগত লজ্জার আরও একটি অধ্যায়,সংশোধন হউক এখনই! - মাসুদুল হক
- মুক্তিযুদ্ধের সেই কিংবদন্তী গুলো : ইয়াহিয়া খানের সেক্স অর্গি , বোরকা পরা গেরিলা আর রাজাকারদের দ্বিচরিত্র - দাসত্ব
- আমার কাঁচা হাতে তোলা কিছু চিত্র... - রুজ
- চারিদিকে প্রচুর ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে - আবু শরীফ মাহমুদ খান
- পুরোনো কিছু বিজ্ঞাপন - সংবাদপত্রে প্রকাশিত ( ২য় পর্ব ) - বল্টু মিয়া
- জুতার ফিতা বাধার কৌশল ও স্যারের ফিতার গল্প... - গুরু তুমি মহান, তোমারে করি প্রনাম
- পারমানবিক বিদ্যুৎ শক্তি নিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর - নুভান
- প্রধানমন্ত্রী আসুন ব্লগে কথা বলি, আসুন কৃচ্ছতা সাধন করি - আশীফ এন্তাজ রবি
- ৭ই মার্চের ভাষণ। ও একটু সামান্য বিশ্লেষেণ। - ফুয়াদ০দিনহীন
- ঊনসত্তুর থেকে পচাঁত্তুর-'৭১এ যাদের বয়স তিনের কম ছিল তাদের থেকে সামুর কনিষ্ঠতম ব্লগারটিকে উৎসর্গীকৃত-পর্ব১৫ - ত্রিশোনকু
- বিদেশী পত্র-পত্রিকায় বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান। - চিন্তিত দার্শনিক
- টুকরো টুকরো মুক্তিযুদ্ধ - টাইম ম্যাগাজিনে ১৯৭১ - রাগিব
- ১৫ ফেব্রুয়ারিতে আসছে সবুজ অঙ্গন ব্লগীয় কবিতাসংকলন-২০১০ - সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই
- উইন্ডোজ এক্সপির কাস্টমাইজ সিডি তৈরী করুন - মাহমুদ সিএসই
- সবুজ অঙ্গন ব্লগীয় কবিতাসংকলন-২০১০ - সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই
- মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর ও ফোর্স অধিনায়ক জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে গৃহীত সরকার/ সিইনসি ওসমানীর তিনটি পদক্ষেপ ও আমার জিজ্ঞাসা - নুরুজ্জামান মানিক
- বাংলাদেশের টেলিভিশন মিডিয়ার অবাধ তথ্য প্রবাহের নামে স্বেচ্ছাচারিতা - শেখার বাকি এখনো অনেক - নাফিস ইফতেখার
- "GMail Drive"- আপনার Gmail account -কে হার্ডডিস্ক হিসেবে ব্যাবহার করুন!!! (খুব দারুন একটা ফ্রীওয়্যার) - পৃথীবি
- স্ক্রীপ্ট রাইটিং পর্ব-দুই : ফরম্যাট, হেডিং, ডিরেকশন, ক্যামেরা শট - রন্টি চৌধুরী
- বিজ্ঞাপনের রকমফের.........আজিব সব আইডিয়া - সারওয়ার ইবনে কায়সার
- প্রথম আলোর ক্রীড়া সাম্বাদিক উট-পাল শুভ্রের দিনলিপি - ফারহান দাউদ
- রাপিডশেয়ার এর প্রিমিয়াম একাউন্ট বিনা পয়সায় - ডট কম ০০৯
- জানা অজানা যত গুগল সার্ভিস: গুগল সার্ভিস গাইড পর্ব ২ - ইন্ঞ্জিনিয়ার
- আমরা ৭২ এর সংবিধানে ফেরত যাবো নাকি যাবো না? - যারা ৭২ এর সংবিধান ও বর্তমান সংবিধান এর মধ্যে বিরোধ কি তা ভালো ভাবে বোঝেন না, তাদের জন্য এই পোস্ট। - নাহিদ মাহমুদ
- ক্যামেরা কিনবেন কে কে ? - নক্ষত্রের কান্না
- ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ - কে.এম. মাহ্বুব শরীফ (রাতুল)
- ঐতিহাসিক কিছু ঘটনার পত্রিকা শিরোনাম - চাররঙা রঙিন-কষ্ট
- ই-বুক ১ব্যাগ কবিতা'র জন্য লেখা আহবান - সবাক
- জনগণের সংযুক্তি: ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রাধিকার - মুনির হাসান
- কিশোরদের জন্য হৌক সাধারণ মোবাইল, নেট ব্যাবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বা অভিভাবক নিয়ন্ত্রিতঃ পর্ণগ্রাফির কুপ্রভাব প্রসঙ্গে - বাংলাদেশ জিন্দাবাদ
- জেলাসমূহের নামকরণ (পর্ব-৩) - িনরুপমা.কম
- ৭২’র সংবিধানে ফিরে যাওয়ার সরকারী উদ্যোগ : কে,কী বলেন - নিউজকাস্টার
- মশকরা আর কাকে বলে? - জিয়াউল হক
- বর্তমান পদার্থবিদ্যার এক বিতর্কিত বিস্ময় LHC - সালাহউদ্দীন আহমদ
- ওই ছোটোলোকের পোলাটা কিন্তু বীরপ্রতীক ছিল - অমি রহমান পিয়াল
- গ্যাস উৎপাদন কে করবে? - দিনমজুর
- সোয়াইন ফ্লু সম্পর্কে নানা তথ্য ---দেখুন - নাম বলা যাবে না
- জুমলা টিউটোরিয়াল ৮: সাইট মেন্যু - গৌতম রায়
- জুমলা টিউটোরিয়াল ৭: জুমলার বিভিন্ন মেন্যু বা অপশন পরিচিতি - গৌতম রায়
- জুমলা টিউটোরিয়াল ৬: configuration.php ফাইল ঠিকঠাক করা - গৌতম রায়
- ফ্রি হোস্টিং এবং ডোমেইনসহ মাত্র এক ঘণ্টায় তৈরি করুন নিজের একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ সাইট - পান্থ বিহোস
-
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের জন্য
- নিরব হাসি
- গ্যাস ব্লক ইজারা: এবার সাগর লুটের লাগলো ধুম - দিনমজুর
- ইসরাইলের গর্বিত এক বাংলাদেশী বন্ধুকে দেখুন,চিনুন,জানুন। - চিলে কোঠার সেপাই
- এ্যান্টিভাইরাস! - ঘোর
- টিপাই মুখে বাঁধ: কালের কাছে এক বাঙালির স্বীকারোক্তি - বিবর্তনবাদী
- ৩৪ টি ফটো পোষ্ট............. - অতৃপ্ত আত্মা
- সিকিম সিনড্রোম? - েমাহাম্মদ িমজানুর রহমান
- জুমলা টিউটোরিয়াল ৫: জুমলা ইনস্টল - গৌতম রায়
- টিপাইমুখ বাধ প্রসংগে: চাই সংগ্রামের আন্ত:সংযোগ - দিনমজুর
- যুক্তরাষ্ট্রে ফান্ডিং নিয়ে পড়তে আসুন -২ (GRE)। - কুম্ভকর্ণ
- যুক্তরাষ্ট্রে ফান্ডিং নিয়ে পড়তে আসুন -১(GMAT)। - কুম্ভকর্ণ
- Windows সফটওয়্যার এর লিনাক্স একুইভালেন্ট/অল্টারনেটিভ (১ম কিস্তি) - টেকনো
- আঙ্গুলের ছাপ সনাক্তকরন (ফিনগার প্রিন্ট রিকগনিশন) - আজম
- আপনি পঁচা PHP প্রোগ্রামার?
- 'লেনিন'
- আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠার ইসলামি পদ্ধতি (পর্ব -২) [রিপোস্ট] - ন্যায় পথিক
- ব্লগার বন্ধুদের জন্মদিনঃ ডাটা ব্যাংক - মিলটন
- জাহাজ নির্মান শিল্প,স্বাপ্নিক ডঃবারির ৭০ হাজার কোটি টাকা - বাঙ্গাল
- ইন্টেল পিসিতে ম্যাক ওএস এক্স ১০.৫ ইন্সটল করুন - মাকসুদুল আলম
- Crack or hack Cisco Router password ( নবীন নেটওয়ার্ক এডমিন যারা সিসকো এনভায়রনমেন্টে কাজ করেন তাদের টিপসটি কাজে লাগবে যে কোন সময়। - বিপ্লব কান্তি
- সহজ কোডিংয়ের জন্য কিছু গূরুত্বপূর্ন চীট শীট - সামিউল জাহান
- ব্যানানা বাংলাদেশ-৩ (গডফাদারের স্টিমুলাস মূলা)রিপোষ্ট - বাঙ্গাল
- একাত্তরের চিঠি সংকলনের টেক্স্ট কন্টেন্ট প্রকল্পের আপডেট -১ - তর্পন
- ছবি ব্লগ : মাইলস ব্যান্ডের ভক্তদের জন্য - শ।মসীর
- যে কোন ঘূর্ণিঝড়কে ট্র্যাক করুন আপনার Google Earth থেকে - নাফিস ইফতেখার
- সব ভাইরাস যায় না সহজে
- নাফিস ইফতেখার
- ॥নিরপরাধ বিডিআরদের প্রতি সুবিচার আশা করি॥ - ফালতু মিয়া
উবুন্তুতে মোবাইল / এজ মোডেম দিয়ে ইন্টারনেট খুবই সোজা!
- 'লেনিন'
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনার ইতিহাস - সেলটিক সাগর
- বারবার windows install করার ঝামেলা থেকে মুক্তি চান?
- সপ্নচারী_
- ব্যানানা বাংলাদেশ-১ (ইকোনমিক হিটম্যান)মডিফাইড - বাঙ্গাল
- ২৬শে মার্চ ১৯৭১ এ স্বাধীনতা ঘোষণার জন্যই জিয়া কে স্বাধীন বাংলাদেশের সরাসরি সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান করা হয় - বাংলাদেশ জিন্দাবাদ
- মুক্তিযুদ্ধের সময়কার কিছু ছবি|| একেকটি প্রামাণ্য দলিল - ইউনুস খান
ইমোটিকন ব্যবহার করুন পোস্টের মাঝে - নোটিশবোর্ড
- ইউটিউবের দুটো পুরনো ট্রিক্স - তর্পন
- ইউটিউব থেকে ভিডিও ডাউনলোড - দুঃখবিলাস
- সবুজ অঙ্গন আন্তর্জালিক কবিতাগুচ্ছ কাব্যগ্রন্থ এবং... - পান্থ বিহোস
- বিডিআর বিদ্রোহের তদন্ত রিপোর্ট - বিবর্তনবাদী
- লিনাক্স :: একটি বিশ্বস্ত, শক্তিশালী এবং স্বপ্নের অপারেটিং সিস্টেম (ইতিহাস, ইন্সটল, ব্যবহার) - পাপী
- এসেছে Google Earth 5 - ঘুরে আসুন সাগর তলদেশ, মঙ্গল গ্রহ আর অতীত থেকে - নাফিস ইফতেখার
- লেখার মাঝে ছবি যোগ করতে সমস্যা হচ্ছে সমাধান কাম্য - আশিক হাসান
- কয়েক মিনিটে উইন্ডোজ ইনষ্টল করুন - এস. এম. মেহেদী আকরাম
- Google এর আরো কিছু রসময় গুপ্ত (Easter Egg)
- নাফিস ইফতেখার
- নবীন লেখকলেখিকাদের জন্য :: কীভাবে বই বের করবেন - সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই
- আসেন ক্যাতা করি
- নাফিস ইফতেখার
- শপথ নেওয়া মন্ত্রীদের দপ্তর - হুমায়ুন
- পরিনত মোহ কিংবা অপরিনত ভালোবাসা (সপ্তম পর্ব) - একরামুল হক শামীম
- জনস্বার্থ পরিপন্থী পরিকল্পনার মাধ্যমে ঢাকায় যানজট (৩) - সৈয়দ সাইফুল আলম শোভন
- জনস্বার্থ পরিপন্থী পরিকল্পনার মাধ্যমে ঢাকায় যানজট (২) - সৈয়দ সাইফুল আলম শোভন
- জনস্বার্থ পরিপন্থী পরিকল্পনার মাধ্যমে ঢাকায় যানজট বৃদ্ধি (১) - সৈয়দ সাইফুল আলম শোভন
সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রামাণ্য দলিল
১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৪
![]()
সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রামাণ্য দলিল
১৯৭২ সালের সংবিধানের প্রশংসায় যাঁরা অহেতুক-অকারণে পঞ্চমুখ হন, তাঁদের জন্য এই লেখাটি দুঃসংবাদ মনে হতে পারে। কারণ এটা দালিলিকভাবে প্রমাণ করা সম্ভব যে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশে সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এবং তা করা হয় সুপরিকল্পিতভাবে, ভেবে-চিন্তে। এধরণের তথ্য এত দিন ছিল অকথিত, অনালোচিত ও অনুচ্চারিত। চাপা পড়া এই ইতিহাস সম্পর্কে সম্ভবত এই প্রথম আমরা জানতে পারছি। বাংলাদেশের সংবিধানবিষয়ক রায়, বইপত্র ও আলোচনার পর্যবেক্ষক হিসেবে এই তথ্য এর আগে কখনো নজরে পড়েনি।
বাহাত্তরের সংবিধান প্রণেতারা প্রশংসনীয়ভাবে স্বল্প সময়ে নিশ্চয় একটি সংবিধান উপহার দিতে পেরেছিলেন। দু-একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিষয় বাদে ওই সংবিধান যে যথেষ্ট অগ্রসর ছিল তাতেও সন্দেহ নেই। এর অসামপ্রদায়িক দিকটি ছিল নিশ্চয় অসাধারণ। কিন্তু তাকে খুব বড়গলায় গণতান্ত্রিক বলতে আমরা অপারগ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে প্রজাতন্ত্রের সর্বময় নির্বাহী ক্ষমতা সুপরিকল্পিতভাবে কুক্ষিগত করার সিদ্ধান্ত আর যাই হোক গণতন্ত্রের সঙ্গে সঙ্গতির্পূর্ণ হতে পারে না। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত লেখকের ‘সংবিধান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিতর্ক’ নামের একটি প্রকাশনায় (বই না বলে তারুণ্যের স্পর্ধা বলাই সংগত) দেখিয়েছিলাম যে সংসদীয় গণতন্ত্র অনুসরণকারী বিশ্বের লিখিত সংবিধানগুলোতে এভাবে এক ব্যক্তির হাতে নির্বাহী ক্ষমতা আরোপ করা হয়নি।
কিন্তু আমাদের সংবিধান প্রণেতারা তা যে সুপরিকল্পিতভাবে করেছিলেন তা জানা ছিল না। আমার কাছে এতকাল এটা ছিল এক বিরাট ধাঁধা। তাঁরা এ রকম একটি অস্বাভাবিক, অদ্ভুত ও অভিনব অনুচ্ছেদ কোথা থেকে ধার করলেন সে নিয়ে প্রশ্ন জেগেছিল। ৫০টির বেশি দেশের সংবিধানের নির্বাহী ক্ষমতার বণ্টন মডেল পরখ করে দেখেছিলাম। আশা ছিল, কোনো অনুন্নত দেশের সংবিধানে হয়তো এ রকম একটি বিধান বা তার কাছাকাছি কোনো বিধান পেয়ে যাব। কিন্তু তা পাইনি। অবশেষে এর উত্স ও বিবর্তনের হদিস পেলাম আমাদের দলিলপত্রে। এসব দলিল দুষপ্রাপ্য। জাতীয় সংসদ কিংবা জাতীয় আর্কাইভে নেই।
১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম বৈঠক বসে। ৪ নভেম্বর ১৯৭২ চূড়ান্তভাবে সংবিধান অনুমোদিত ও প্রণীত হয়। সংবিধানের বাংলা পাঠ রচনাকারী পণ্ডিত ড. আনিসুজ্জামানের কাছ থেকে দালিলিকভাবে জানতে পারি যে ‘সংবিধান প্রণয়ন কমিটি ১৯৭২ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে ১০ জুনের মধ্যে ৩০টির অধিক সুদীর্ঘ বৈঠকে মিলিত হয়ে খসড়া সংবিধানের সার রচনা ও অনুমোদন করে।’ এর অর্থ দাঁড়ায়, ব্যক্তি শেখ মুজিবের হাতে রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা কুক্ষিগত করার সিদ্ধান্ত ওই ৩০টির বেশি দীর্ঘ বৈঠকে হয়নি। অনুমান করি, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া হয়তো ছিল নাটকীয়তায় পূর্ণ। চাপিয়ে দেওয়া।
গণপরিষদে সংবিধান নিয়ে ‘আলোচনার জন্য প্রস্তুত খসড়া’য় (সম্ভবত প্রথম) মন্ত্রিসভাকে সরকার গণ্য করা হয়েছিল। সে কারণে এর উপশিরোনাম দেওয়া হয় সরকার। ৬৪(১) অনুচ্ছেদে লেখা হয়: “প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত একটি মন্ত্রিসভাকে লইয়া হইবে সরকার। (২) এই সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী কর্তৃত্ব সরকারের দ্বারা বা সরকারের কর্তৃত্বে লইয়া সংবিধান ও আইনের অনুসারিতায় প্রত্যক্ষভাবে বা সরকারের অধীনে কর্মরত অফিসারদিগের মাধ্যমে পালিত হইবে।”
এরপর মুদ্রিত হয় ‘আলোচনার জন্য প্রস্তুত দ্বিতীয় খসড়া’। এই কপির গায়ে লেখা আছে, বাংলাদেশ গণপরিষদের খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির ১৭ই এপ্রিল হইতে ২৫শে মে ১৯৭২ তারিখের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকসমূহের আলোচনার ভিত্তিতে প্রণীত। এর ১৬ নম্বর পৃষ্ঠায় প্রথম দেখা মেলে গণতান্ত্রিক ও শুদ্ধ বিধানটির। “৬০(১) প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভাকে লইয়া গঠিত সরকারে ন্যস্ত থাকিবে। (২) এই সংবিধানের বিধানাবলি-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী কর্তৃত্ব সংবিধান ও আইন অনুযায়ী সরকার কর্তৃক বা সরকারের কর্তৃত্বে প্রত্যক্ষভাবে কিংবা সরকারের অধীন অফিসারদিগের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হইবে।” (পৃষ্ঠা-১৬)
‘বাংলাদেশের গণপরিষদের খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির ১৭ই এপ্রিল হইতে ১০ই জুন ১৯৭২ তারিখের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকসমূহের আলোচনার ভিত্তিতে প্রণীত খসড়া সংবিধান’ এই শিরোনামে বেশ কয়েক কপি সংবিধানের খসড়া মুদ্রিত হয়।
এর দুটি কপিতেও নির্বাহী ক্ষমতাবিষয়ক ওই আদর্শ বিধানটি লক্ষ করি। একটি কপিতে ওই বিধান ছাপা হয় ১৬ নম্বর পৃষ্ঠায়। বিধানটি এর পরের খসড়ায়ও টিকে ছিল। বরং লক্ষ করুন যে আগের বিধানের ত্রুটি দূর করা হয়েছে। ‘সরকারে ন্যস্ত’ কথাটির পরিবর্তে ‘সরকারের উপর ন্যস্ত’ কথাটি এসেছে। “৬০(১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভাকে লইয়া গঠিত সরকারের ওপর প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা ন্যস্ত থাকিবে। (২) এই সংবিধানের বিধানাবলি-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী কর্তৃত্ব সংবিধান ও আইন অনুযায়ী সরকার কর্তৃক বা সরকারের কর্তৃত্বে প্রত্যক্ষভাবে কিংবা সরকারের অধীন অফিসারদিগের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হইবে।” (পৃষ্ঠা-১৮) এ থেকে স্পষ্ট ধারণা মেলে যে ব্যক্তি শেখ মুজিবের হাতে রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা তুলে দেওয়ার মতো চিন্তা ১৯৭২ সালের ১০ জুন পর্যন্ত সংবিধান প্রণেতাদের বাস্তব পরিকল্পনায় ছিল না। এরপর কোনো একসময় শেখ মুজিবের ক্ষমতায়ন চিন্তায় সংবিধান প্রণেতাদের পেয়ে বসেছিল কিংবা তাঁদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তা গলাধঃকরণ করতে হয়েছিল। তবে এটা কেন, কখন, কোন প্রেক্ষাপটে, কিসের বাধ্যবাধকতা থেকে হয়েছিল তা অনুসন্ধান ও গবেষণার দাবি রাখে। সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতিসহ বেশ কয়েকজন বিজ্ঞ সদস্য নিয়মিত টিভি টক শোতে অংশ নেন। সভা-সেমিনারে বক্তব্য দেন। তাঁরা এখন এ বিষয়ে জাতিকে আলোকিত করতে পারেন। ঐতিহাসিক অজ্ঞানতার অভিশাপ থেকে জাতি মুক্তি পেতে পারে।
২২ সেপ্টেম্বর ১৯৭২ মুদ্রিত ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের খসড়া সংবিধান’-এর ৬০ অনুচ্ছেদে বলা হয়, “(১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীকে লইয়া এবং তিনি সময়ে সময়ে যেরূপ স্থির করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রীকে লইয়া বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকিবে। (২) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে কিংবা প্রধানমন্ত্রীর যেকোনো নির্দেশ-সাপেক্ষে অন্য যেকোনো মন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগযোগ্য হইবে।” এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৭২ সালে মুদ্রিত একটি ইংরেজি খসড়া সংবিধানের ২১ পৃষ্ঠায় ৬০(২) অনুচ্ছেদে ওই বিধানটির ইংরেজি তরজমা লক্ষ করি।
এবার লক্ষ করুন শেখ মুজিবকে কীভাবে মন্ত্রিসভা ও মন্ত্রীদের থেকে আলাদা সত্তা প্রদানের চিন্তা করা হয়েছিল। ৬০(৩) অনুচ্ছেদটি নিম্নরূপ: “মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ সরকারের সহিত সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহে প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তা করিবেন এবং যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকিবেন।” ১১ সেপ্টেম্বর মুদ্রিত ওই ইংরেজি খসড়ায়ও এই ৬০(৩) অনুচ্ছেদটির দেখা পাই। “দি ফাংশনস অব দ্য কেবিনেট শ্যাল বি টু অ্যাডভাইজ দি প্রাইম মিনিস্টার ইন ম্যাটারস অ্যাফেক্টিং দি গভর্নমেন্ট অব বাংলাদেশ।...”
১১ অক্টোবর ১৯৭২ মুদ্রিত হয়, ‘খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটিতে স্থিরীকৃত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের জন্য বিল।’ এর ১৭ নম্বর পৃষ্ঠায় ৫৫(১) অনুচ্ছেদে লেখা হয়: “১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকিবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী লইয়া এই মন্ত্রিসভা গঠিত হইবে। (২) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে কিংবা প্রধামন্ত্রীর যেকোনো নির্দেশ-সাপেক্ষে অন্য যেকোনো মন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে।”
১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বরে ঈষত্ পরিবর্তিত হয়ে ছাপা হলো। ৫৫(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: “প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে।” সেই থেকে আমরা এই সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র বয়ে চলেছি। দুটি বড় দলের সমর্থক বিশেষজ্ঞরা সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে সাধারণত প্রলাপ বকতে পছন্দ করেন। বিএনপির জাঁদরেল সমর্থক কাম সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বাহাত্তরের সংবিধানের বিরোধিতা করতে গিয়ে ধর্ম ব্যবসার উন্মাদনা চেপে রাখতে পারেন না। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের অবস্থাও তথৈবচ। ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালিত্বের মতো বিষয় ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেই তাঁদের যত জোশ।
দুই দলের বড় বড় নেতা ও সমর্থকদের (তথাকথিত সংস্কারপন্থীসহ) মধ্যে একটি বড় মিল। তাঁরা কখনো মূল খসড়া সংবিধান থেকে ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভাকে লইয়া গঠিত সরকারের উপর প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা ন্যস্ত থাকিবে।’ এই কথাটির বদলে ‘প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে’ এই কথাটি কীভাবে এল এবং এর ফলে দেশ যে চিরস্থায়ীভাবে সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্রের খপ্পরে খাবি খেয়ে চলেছে, সে বিষয়ে তারা নীরব। সংবিধান সংশোধনের সামপ্রতিক উদ্যোগের পটভূমিতেও লক্ষ করুন, এই সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র নিয়ে কোনো আলাপ কিংবা বিলাপ নেই। এরা গণতন্ত্রের জন্য মায়াকান্না করেন। বিএনপি যদি শেখ মুজিবর রহমানকে সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য গালাগালি করে, তাহলে তাদের কাঁধে দায় চাপে। জবাবদিহি করতে হয়। বলতে হয়, তাঁদের এত সাধের পঞ্চম সংশোধনী তাহলো কী ত্রুটি সারালো। আসলে রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির যুগেও মুজিবই নমস্য ছিলেন। ৫৫ অনুচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রী মুছে রাষ্ট্রপতি শব্দ বসে। ১৯৯০ সালে রাষ্ট্রপতি মুছে প্রধানমন্ত্রী বসে। আওয়ামী লীগ তো ৫৫ অনুচ্ছেদ মুখেই নেবে না। কারণ, বাহাত্তরের সংবিধান বলতেই আবেগে তাদের গলা বুজে আসে। এখন এটাকে ত্রুটি হিসেবে মানলে সংশোধনের দায় চাপবে। অতএব উট পাখি হও। বালিতে মুখ গুঁজে থাকো।
এই হলো আমাদের সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও তা ৩৭ বছর ধরে দুধ-কলা দিয়ে পোষার সংক্ষিপ্ত কাহিনী। বাংলাদেশের সামরিক শাসক ও সাংবিধানিক স্বৈরশাসকের মধ্যে আমি কেবল একটি বড় পার্থক্য দেখি। সিএমএলএ চোখের পলকে সংবিধান পাল্টাতে পারেন, প্রধানমন্ত্রী তা পারেন না। অবশ্য এত বড় মৌলিক ফারাক যে আছে, তা তো সংবিধানসম্মত স্বৈরতন্ত্র টিকে আছে বলেই। এটা কম কিসে!
প্রকাশ: প্রথম আলো
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
কামাল উদ্দিন ফারুকী জুয়েল বলেছেন:
উট পাখি হও। বালিতে মুখ গুঁজে থাকো।
লেখক বলেছেন: এই হলো আমাদের সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও তা ৩৭ বছর ধরে দুধ-কলা দিয়ে পোষার সংক্ষিপ্ত কাহিনী
ধন্যবাদ আপনাকে
মুখ ও মুখোশ বলেছেন:
আপনার লেখা খুবই তাৎপর্য পূর্ণ কিন্তু দু:খের বিষয় এসব কথা কেউ মুখেও আনে না এমন কি বিরোধী দলও এ বিষয়ে কথা বলে না। যা হোক আপনার এই লেখার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করি আরও লিখবেন।
লেখক বলেছেন: প্রথমেই ভুল সংশোধন করে নিচ্ছি, এই লেখা আমার নিজের নয় মিজানুর রহমান খান (সাংবাদিক) এর। প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়েছে। আমি শুধু সবার সামনে তুলে ধরলাম। কারন আমার কাছে লেখার বক্তব্য যথার্ত মনে হয়েছে।
ধন্যবাদ আপনাকে পড়ার জন্য।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














