একদা বিআরটিসি বাসে চড়িতামঃ যানজট নিয়ে কিছু কথা
খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। ঢাকার প্রায় সব রুটেই বিআরটিসির বাস চলত। এবং পর্যাপ্ত পরিমানেই চলত। ফলে কোথাও যেতে হলে অন্ততঃ ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় দাড়িয়ে থাকতে হত না। সবসময় বাস পাওয়া যেত। তাছাড়া বাসগুলো দোতলা হওয়ার ফলে এক একটি বাস প্রচুর পরিমানে যাত্রী বহন করত। অথচ প্রাইভেট বাস কোম্পানীগুলোকে সুবিধা করে দিতে এই স্বল্প খরচের ও অত্যন্ত কার্যকরী একটা পরিবহন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হল। বর্তমানে ঢাকার রাস্তায় বিআরটিসির সার্ভিস নেই বললেই চলে। কিছুদিন আগেও উত্তরা-মতিঝিল এবং উত্তরা-মিরপুর রুটে ভলভো সার্ভিস ছিল। অথচ এখন তাও নেই। কি কারনে এই সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেল তা আমাদের বুঝতে বাকি নেই।
সরকার বেসরকারী খাতে বাস নামানোর অনুমতি দিল অথচ কাউকে বললনা দ্বিতল বাস নামানোর কথা। ঢাকায় যেখানে রাস্তার স্বল্পতা এবং প্রাইভেট কারের জন্য রাস্তায় তিল পরিমান যায়গাও পাওয়া যায় না সেখানে ছোট ছোট মিনিবাস না নামিয়ে দ্বিতল বাস নামানোটা হত সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। কারন এতে বেশ কয়েকটা সুবিধা পাওয়া যেতঃ
ক) দুইটি মিনিবাসের চেয়ে একটি দ্বিতল বাস অনেক বেশি যাত্রী বহন করতে পারে।
খ) দুইটি মিনিবাস যে পরিমান জায়গা দখল করে একটি দ্বিতল বাস তার চেয়ে কম জায়গা দখল করে।
গ) দুইটি মিনিবাস যে পরিমান জ্বালানী খরচ করে তার চেয়ে একটি দ্বিতল বাস অনেক কম জ্বালানী খরচ করে।
ঢাকায় যে পরিমান মিনিবাস চলাচল করে তার অর্ধেক পরিমানও যদি দ্বিতল বাস নামানো হত তাহলে বর্তমানের এই অসহনীয় যানজট কিছুটা হলেও কমত। সবচেয়ে উপকার হত যাত্রীদের, তাদের অন্ততঃ ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় দাড়িয়ে থাকতে হত না।
কিন্তু এতসব কথা বলার তো কোন প্রয়োজন হতনা যদি সরকার বিআরটিসিকে ধ্বংস না করে এর কলেবর আরও বৃদ্ধি করত। সরকার পরিবহন ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে তাদের সুবিধা করে দিল অথচ ঢাকার দুই কোটি জনগনের কথা একবারও চিন্তা করলনা।
যানজট নিরসনের জন্য সরকার ক'দিন পর পর এক একটা নতুন নিয়ম করে আর জনগনের জীবনে নেমে আসে অসহনীয় দুর্ভোগ। তাই মনে প্রশ্ন জাগে সরকার কি আদৌ জনগনের সমস্যা সমাধান করতে চায়?
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


