somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ছবি ব্লগঃ Toward the Sea
Living on Sea


Aimless Life


Behind the Sun


Bridges


Calm


Enough for Now


Flashes


I Want to Play


If I Could Go There


I'm With You


In a Break


Into the Wave


Into the Wave-2


Into the Wave-3


Into the Wave-4


Lights and Shadows


Lineup


Living on Sea-2


Living on Sea-3


Maneuver


Need for Speed


Playtime


Stay Close


Sunset


Too Little to Play


Tourist on Rest


Toward the Sea


Toward the Sea-2


Toward the Sea-3


Toward the Sea-4


Toward the Shore
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29351358 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29351358 2011-03-26 11:59:16
ছবি ব্লগঃ Into The Wild








































]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29301678 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29301678 2011-01-04 11:43:57
এই মৃত শহরে
একটা সময় রাত-বিরেতে রিক্সা করে ঘুরে বেরিয়েছি। কেনাকাটা করেছি। ফুটপাথের টঙ ঘরে চা খেয়েছি। আড্ডা দিয়েছি। গলা ছেড়ে গান গেয়েছি। সবই করেছি নির্ভয়ে। মনের মধ্যে একটা ফুরফুরা ভাব ছিল। স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক। কিন্তু সেই উচ্ছ্বলতা আজ নেই।

১. খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, সংসদ ভবনের সামনের ও পাশের মাঠ ছিল উন্মুক্ত। প্রতিদিন বিকেলে হাজার হাজার মানুষের পদচারনায় মুখরিত ছিল এলাকাটা। ছোট বাচ্চারা ছোটাছুটি করছে, লাফালাফি করছে আর বড়রা ঘাসে পা ছড়িয়ে দিয়ে বসে জুড়ে দিয়েছে আড্ডা। একপাশে কিছু ছেলে পেলে আবার স্কেটিং করছে। উৎসুক জনতা সেটা মন ভরে উপভোগ করছে। বাদামওয়ালা বাদাম বিক্রি করছে, চানাচুড়ওয়ালা চানাচুড় বিক্রি করছে, বাঁশিওয়ালা বাঁশি বিক্রি করছে আর চাওয়ালা ফ্লাস্কে করে বিক্রি করছে চা আর কফি। কেউ কেউ গিটার বাজিয়ে গান করছে, কেউ বা মনের আনন্দে নেচে চলেছে। এ এক অনাবিল আনন্দময় জীবন। কিন্তু গনমানুষের এ উচ্ছ্বল আনন্দ কারও চোখে কাটার মত বিধল। মাঠে সর্বসাধারনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হল। যান্ত্রিক জীবনে এক মুঠো নির্মল আনন্দের মৃত্যু হল।

২. এটাও বেশিদিন আগের কথা নয়, এ শহরে প্রায় মাঝরাত পর্যন্ত দোকানপাট খোলা ছিল। মানুষ অনেক রাত পর্যন্ত এ মার্কেট সে মার্কেট ঘুরে পছন্দের জিনিসটা কিনত। শুধু যে কেনাকাটার জন্যই ঘোরা হত তা নয়। এমনি ঘোরাঘোরিও হত খাওয়া দাওয়াও হত। কিন্তু সেও আর হবার নয়। বিদ্যুৎ বাঁচাও, বিদ্যুৎ বাঁচাও বলে সন্ধ্যা হতে না হতেই সব বন্ধ করে দেওয়া হল। সারাদিন পরিশ্রম করে মানুষ একটু রিলাক্সড হতে চায়। এবং সেক্ষেত্রে মার্কেটে ঘোরা কিংবা কেনাকাটা করা যথেষ্ট কাজে দেয়। শুধু তাই নয় সংসারের প্রয়োজনীয় কেনাকাটাও তো করতে হবে। কিন্তু অফিস থেকে বের হয়ে সারাক্ষন থাকতে হয় একটা চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে, জ্যাম ঠেলে যেতে যেতে মার্কেট খোলা থাকবে তো? মার্কেট খোলা পেলেও দু-একটা মার্কেট ঘুরে পছন্দের জিনিস কেনা প্রায়শই অসম্ভব একটা কর্ম হয়ে দাড়ায়। সাড়া দুনিয়া জুড়ে নাইট লাইফ বলে একটা ব্যাপার আছে কিন্তু আমাদের ঢাকা সন্ধ্যা হতে না হতেই একটা মৃত শহরে পরিনত হয়।

৩. বিভিন্ন জাতীয় দিবস গুলোতে কিংবা আন্তর্জাতিক দিবসগুলোতে মানুষ একটু হৈ হুল্লোর করে। বহুবছর ধরে এটাই হয়ে আসছে। ছোটবেলায় দেখেছি শবেবরাতের রাতে ছোটরা বাজি ফোটাতো। আমরাও করেছি। যদিও পরিবার থেকে কিঞ্চৎ ধমক-ধামক আসত কিন্তু সেটা কখনোই আমাদের নির্মল আনন্দে বাধা হয়ে দাড়াতনা। ঈদের আগের রাতে (চাঁদ রাত) একটা বয়স পর্যন্ত সবসময়ই আমরা আতশবাজি পুড়িয়েছি এবং আমাদের সাথে বড়রাও সামিল হত। বিয়েতে, জন্মদিনে, খৎনার অনুষ্ঠানে এমনি নানা উপলক্ষে আমরা হৈ-হুলোর করেছি, আনন্দ মিছিল করেছি, বাজি ফুটিয়েছি। কিন্তু এখন আর এসব করা যায়না। নানা দিক থেকে নিষেধাজ্ঞা আসে। ইদানিং দেখি এ ধরনের উপলক্ষ্ এলে মাইকিং করা হয়, রেডিও-টিভিতে ঘোষণা দেয়া হয়, পত্রিকাতে বিজ্ঞপ্তি ছাপা হয় যেন এসব থেকে বিরত থাকে সবাই। কি অদ্ভুৎ দেশ আমাদের।
গতকাল থেকে টিভিতে খবরে এ ধরনের একটা ঘোষণা দিচ্ছে যে, আগামীকাল থার্টি ফার্স্ট নাইটে রাত ন'টার পর রাস্তায় দল বেধে ঘোরাঘোরি করা যাবেনা, জটলা পাকানো যাবেনা, আতশবাজি পোড়ানো যাবেনা, টিএসসিতে যাওয়া যাবেনা ইত্যাদি ইত্যাদি। এসবের মানে কি? নিরাপত্তার নামে এ কেমন অসভ্যতা? একটা স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়ে আমরা নববর্ষের আনন্দ করতে পারবনা? রাস্তায় ঘুরতে পারবনা? আতশবাজি পোড়াতে পারবনা? কেন?
জনগনের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য পুলিশ বাহিনী রয়েছে। মানুষ আনন্দ করবে, নাচবে, গাইবে এটা তাদের অধিকার। কেউ সমস্যা করলে তার বিরূদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা পুলিশই গ্রহন করবে। তাদের কাজইতো তাই। এভাবে ঘোষণা দিয়ে মানুষকে ঘরে বন্দি করে রাখা কোন সভ্যতার পর্যায়ে পড়ে আমার জানা নেই।

একটা শহরের মানুষের মনে যখন কোন আনন্দ থাকেনা তখন সে শহর আপনা আপনি মরে যায়। কিন্তু আমরা যারা ঢাকায় থাকি তাদের মনের আনন্দ এখনও শেষ হয়ে যায়নি। আমরা এখনও হাসতে জানি। আমাদের হাসি থামানোর জন্য চেষ্টা চলছে। কিন্তু তা সফল হবেনা যদি আমরা সবাই মিলে জেগে উঠি। আমরা একটা মৃত শহরের বাসিন্দা হয়ে বাঁচতে চাইনা। আসুন আমরা সবাই মিলে আবার প্রাণ খুলে হাসি, আসুন আবার সবাই মিলে রাস্তায় নেমে আসি, গলা ছেড়ে গান গাই, হাতে হাত ধরে মৃতপ্রায় ঢাকাকে আবার বাঁচিয়ে তুলি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29299311 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29299311 2010-12-31 09:42:01
উত্তরবঙ্গ দর্শনঃ ছবি ব্লগ

তেলের ঘানি






তিস্তা ব্যারেজ


প্রমত্তা তিস্তার বুকে আজ শুধু হাহাকার








নীলসাগর


নীলসাগর


ভোরের প্রথম রোদ কাঞ্চনজঙ্ঘার গায়ে


কাঞ্চনজঙ্ঘা




নো-ম্যানস ল্যান্ডে মৎস শিকার







]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29294955 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29294955 2010-12-23 21:46:00
পতাকা সমাচার

বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে না হতেই পত্রিকা, টকশো, ব্লগ সব জায়গায় আরেক আলোচনা বেশ জোড়েশোরে চলচে এবং তা হচ্ছে পতাকা উড়ানো নিয়ে। ফুটবল বিশ্বকাপের মৌসুমে সারাদেশে বাড়ির ছাদে, গাছের আগায়, রাস্তায়, দোকানে, গাড়িতে সর্বত্র শোভা পায় নানা দেশের রং-বেরঙের পতাকা।যুগ যুগ ধরে এই রেওয়াজ চলে আসছে। প্রতিবারই এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়।

কয়েকদিন আগে প্রথম আলোতে অভিমত ভিন্নমত বিভাগে ড. সাইফুদ্দীন চৌধুরীর ‘ঘটনা ক্ষুদ্র কিন্তু তুচ্ছ নয়’ শিরোনামে একটা লেখা ছাপা হয়েছে। সেখানে লেখক তার একজন বিদেশী বন্ধুর উদ্ধৃতি দিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন এভাবে পতাকা উড়ানো নিয়মসিদ্ধ নয়। এবং তারই রেশ ধরে আজ আরেকজন পাঠকের প্রথম আলোর চিঠিপত্র বিভাগে একটা চিঠি ছাপা হয়েছে যেখানে তিনিও বোঝাতে চেয়েছেন পতাকা উড়ানোর নিয়ম-নীতি। আমি সেই লেখকের লেখার অংশ বিশেষ এখানে তুলে ধরছি-

"জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং নামানোর নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম আছে। বিশেষ কোনো উপলক্ষ বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় সূর্যোদয়ের সময় এবং অবশ্যই তা সূর্যাস্তের আগে নামিয়ে নিতে হয়। সন্ধ্যার পর কিংবা রাত্রিকালে জাতীয় পতাকা টাঙিয়ে রাখা অপরাধ। উন্মুক্ত স্থানে পতাকা উত্তোলন কিংবা নামানোর সময় দাঁড়িয়ে সম্মান দেখানো অবশ্য কর্তব্য। অন্যদিকে, যে কেউ ইচ্ছা করলেই তাঁর বাড়ি-গাড়ি, দোকান কিংবা মোটরবাইকের হ্যান্ডেলে জাতীয় পতাকা টাঙাতে পারেন না। কেবল নির্দিষ্ট কয়েকটি জাতীয় দিবসেই বেসরকারি ভবন বা প্রতিষ্ঠানে নিয়ম মেনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা যায় এবং সেই পতাকাও অবশ্যই সূর্যাস্তের আগে নামিয়ে নিতে হয়। একই সঙ্গে জাতীয় পতাকার আকার এবং রংও সঠিক হওয়া প্রয়োজন। রং জ্বলা, ছেঁড়া কিংবা বেঢপ আকৃতির পতাকা উত্তোলন অপরাধ বলে গণ্য হয়ে থাকে। পতাকা টাঙানোর দণ্ডটি অবশ্যই সোজা হতে হবে।"

তাই কি? তাহলে জনগনের পতাকা উড়ানোর কোন অধিকার নেই? ব্যাপারটা তা না। লেখক একটা জায়গায় ভুল করছেন। যেসকল প্রতিষ্ঠানে কিংবা অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উড়ানো হয় সেখানে একটা নিয়ম মেনে চলার জন্য এসব নির্দেশনা। আমাদের সংবিধান কখনোই জনগনকে পতাকা উড়াতে নিষেধ করতে পারেনা।

লেখক এরপর বিদেশী পতাকা উড়ানোর ব্যাপরে বলেছেন-

"রবীন্দ্রনাথ সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা জানিয়েছিলেন, ‘তোমার পতাকা যারে দাও তারে বহিবারে দাও শকতি’। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বহু ত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে আমরা একটি পতাকা অর্জন করেছি বটে, কিন্তু সেটি যথাযোগ্যভাবে বহন করার মতো শক্তি আমাদের থাক বা না থাক, আবেগ আর উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। সেই আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে দেখলাম বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হওয়ার পর। প্রিয় দলের প্রতি সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে দেশের সর্বত্র মাঠঘাট, দোকানপাট এমনকি উঁচু গাছের মগডালেও নানা দেশের নানা রঙের আর নানা আকারের পতাকা। সেই সঙ্গে কেউ আবার দেশপ্রেমের নমুনা দেখিয়ে ছোট্ট একটি লালসূর্যের পতাকাও টাঙিয়েছেন। আমার বিশ্বাস, বিশ্বের আর কোনো দেশে এমন অদ্ভূত আর উৎকট আবেগের বহিঃপ্রকাশ লক্ষ্য করা যাবে না।"

ভুল কথা। বিদেশী পতাকা উড়ালেই দেশের মান-সন্মান ধূলিস্বাৎ হয়ে যায়না। কিংবা দেশপ্রেমের ঘাটতি প্রকাশ পায়না। একটা ছোট উদাহরন দিই- কয়েক বছর আগে পত্রপত্রিকায় একটা খবর বেশ জোড়েসোরে প্রকাশিত হয়েছে, আফ্রিকার একটা যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশে জাতীসংঘের মিশনে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী কাজ করেছে। সেখানকার জনগন বাংলাদেশের
সেনাবাহিনীর কাজে এতটাই মুগ্ধ হয়েছে যে তারা বাংলায় কথা বলা শিখেছে। শুধু তাই নয় তাদের ঘরে ঘরে শোভা পাচ্ছে বাংলাদেশের পতাকা। তাই বলে কি তাদের জাত চলে গেছে? তাদের দেশপ্রেমে ঘাটতি পরেছে?

ফুটবল এদেশে খুবই জনপ্রিয় একটা খেলা। হাঠে-মাঠে-ঘাটে সর্বত্র ফুটবলের বিস্তার। সেই ফুটবলের সবচেয়ে বড় আয়োজন বিশ্বকাপে প্রত্যেকেরই কোন না কোন দলের খেলা ভাল লাগে। সেই ভাললাগা থেকেই মানুষ একটু আনন্দ পাবার আশায় নানা রকম কীর্তি করে থাকে। বাড়ির ছাদে, গাড়িতে কিংবা গাছের আগায় পতাকা টাঙায়। দেখা যায় এক বন্ধু হয়তো ব্রাজিলের সাপোর্টার আর অন্য বন্ধু আর্জেন্টিনার। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিতর্কের শেষ নেই। হয়তো কখনো কখনো
মারামারিও লেগে যায়, কিন্তু তার স্থায়িত্বকাল কেবল বিশ্বকাপ চলাকালীনই। এরপর আবার সব আগের মতন।



কিন্তু এই পতাকা উড়ানোতে দোষের কিছু আমার চোখে পড়েনা। কারন আসলে এগুলো পতাকাই না। প্রত্যেক দেশের পতাকার নির্দিষ্ট মাপ ও রঙের ব্যাপার আছে। আমাদের এখানে যে সব পতাকা উড়ে সেগুলো নির্ধারিত মাপ মেনে তৈরি করা হয় না। তারওপর পতাকার ভেতর থাকে সেই দলের কোন তারকার নাম এমনকি যার সৌজন্যে পতাকা তৈরি হয়েছে তার নামও থাকে। এটাকে আর যাই বলা হোক না কেন অন্ততঃ পতাকা বলার কোন কারন নেই। কাজেই এ নিয়ে অযথা দুঃশ্চিন্তা করে খেলা দেখার মজা থেকে বঞ্চিত হওয়ারও কোন কারন নেই।

ছবি সূত্রঃ বিবিসি, গুগল]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29187822 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29187822 2010-06-29 14:05:33
কান্নার দাগ না শুকাতেই কান্নার দাগ না শুকাতেই



কান্নার দাগ না শুকাতেই অনেকটা জোর করেই বিয়ের পিড়িতে বসিয়ে দেয়া হলো রুনা ও রত্নাকে। এক সপ্তাহও হয়নি স্মরনকালের ভয়াবহ অগ্নিকান্ড কেড়ে নিয়েছে নিমতলীর রত্না-রুনার পরিবারের স্বজনদের। অথচ দুই দিন না যেতেই তাদের বসিয়ে দেয়া হচ্ছে বিয়ের পিড়িতে। কিন্তু কেন? এত তাড়া কিসের? রুনার স্বামী জামিল বলেছে সে রুনাকে উঠিয়ে নিবে ৪০ দিন পার হওয়ার পর। তাহলে সরকারের এত তাড়া কিসের? কেন তাদেরকে স্বাভাবিক হওয়ার সময়টুকু দিতে পারছেনা? কারন সরকার জানে “তাওয়া গরম থাকতে থাকতেই রুটি সেকতে হবে”। মায়াকান্না দেখানোর এমন মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া করবে কেন?

রত্না-রুনার স্বামীর চাকরিও সরকার দিয়ে দিবে। এটাকে রুনাদের সৌভাগ্য বলবেন না দুর্ভাগ্য? যে সরকার আজ তাদের জন্য এত মায়া দেখাচ্ছে দুদিন আগে তারা কোথায় ছিল? সরকারের যে যে দপ্তর/প্রতিষ্ঠান জনগনের জান-মালের নিরাপত্তা তদারকির জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত ছিল তারা যদি তাদের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করত তাহলে রুনাদের হয়ত এভাবে স্বজনহারা হতে হতনা। কিন্তু কই আমরা তো দেখলামনা কোন বিভাগীয় মন্ত্রী বা উচ্চপদস্ত কেউ দায় স্বীকার করেছেন, কিংবা পদত্যাগ করেছেন, কিংবা দায়িত্বে অবহেলার জন্য কেউ শাস্তি পেয়েছেন। কারন কার কি দায়িত্ব তারা নিজেরাই জানেননা। এবং জনগনের প্রতি তাদের কোন দায়বদ্ধতাও নেই। এমন ঘটনা বার বার ঘটছে এবং ঘটতে থাকবে এবং প্রতিবারই কোন না কোনা রুনা-রত্নার জন্য সরকার মায়াকান্না দেখাবে তারপর সব ভুলে যাবে। আর আমরা জনগনও চোখ মুছতে মুছতে আবার যার যার কাজে ব্যস্ত হব।

সরকার আজ খুব ব্যস্ত রুনা-রত্নার বিয়ে দেয়ার জন্য। অথচ মাত্রই বেগুনবাড়ীতে ঘটে গেছে আরেক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সেখানেও ২৫ জনের মত নিরপরাধ মানুষ জীবন দিল। কিন্তু কই সরকার তাদের জন্য কি করেছে? সেখানে কি সরকার রুনা-রত্নাকে দেখতে পায়না? প্রতিবছর লঞ্চ ডুবছে আর শত শত পরিবার হারাচ্ছে তাদের প্রিয় স্বজন, প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে, আজও আইলায় সর্বস্ব হারানো হাজার হাজার মানুষ একটু সাহায্যের আশায় পথ চেয়ে বসে আছে; সরকার তাদের মাঝে রুনা-রত্নাকে দেখতে পায়না। তাদের সেই চোখ নেই।

সরকারী সুযোগ সুবিধা পাওয়ার জন্য তাহলে আমাদের প্রত্যেককেই কোন না কোন প্রিয়জনকে হারাতে হবে, কি বলেন?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29174018 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29174018 2010-06-10 10:42:18
বেশ, আমরা তাহলে মৌলবাদী
কিছুদিন আগে পাকিস্তান ফেসবুক নিষিদ্ধ করেছিল। তখন আমরাই এর সমালোচনা করেছি মৌলবাদী সিদ্ধান্ত বলে। কিন্তু সরকার আজ ফেসবুক বন্ধ করে আমাদের পরিচয় মৌলবাদী হিসেবে নিশ্চিত করল।

যারা সেকুলারের কথা বলে তারাই আবার মৌলবাদী সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হয়না। কি নির্লজ্জ আমরা!!!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29167449 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29167449 2010-06-01 13:42:37
জীবনের চেয়ে মূল্যবান একটি ফ্রেম!!!

সকাল বেলা প্রথম আলোর প্রথম পাতার একটি খবর (খবর ঠিক না একটা ছবি) নজর কাড়ল। নজর না কাড়ার কোন কারনও নেই। একজন ভন্ড পীর দুটি দুধের বাচ্চাকে পা ধরে চরকির মত ঘুরাচ্ছে, মাটিতে ফেলে লাথি দিচ্ছে, বাচ্চাদুটির পেটের উপর দাড়াচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি।

এমন একটা খবর বিবেকবান প্রতিটা মানুষের অন্তরকে নাড়া দেবে সন্দেহ নাই। আমরা যারা প্রতিদিন খবরের কাগজ পড়ি তারা প্রতিদিনই এমন হাজারো মন খারাপ করা খবর দেখে থাকি। এতে আমাদের মন খারাপ হয়, আমরা নিজের জায়গায় থেকে হয়ত এর প্রতিবাদ করি। সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাই। ব্যস এটুকুই। কিন্তু আমরা কি পারব নিজের শক্তিতে এমন একটা বর্বরতা রুখে দাঁড়াতে যদি এমন ঘটনা আমাদের চোখের সামনে ঘটে? কিংবা পারবকি অন্ততঃ সামনা সামনি প্রতিবাদ করতে যে এটা ঠিক না?

এই প্রশ্নটা আমাদের বিবেকবান সমাজের প্রত্যেকের কাছে।
এমন প্রশ্ন করতে বাধ্য হচ্ছি কারন যে বর্বর ঘটনার উল্লেখ করা হচ্ছে, সে বর্বরতার ছবি তোলার জন্য সেখানে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন আমাদেরই এই বিবেকবান সমাজের একজন প্রতিনিধি, যিনি নিজেকে সাংবাদিক দাবী করেন। সাংবাদিকতা ওনার পেশা তাই হয়ত পেশাগত দায়িত্ব তখন মানবতাকে ছাপিয়ে গিয়েছিল। একটা ছবি, একটা ফ্রেম হয়ত তাকে পৌঁছে দিতে পারে খ্যাতি, সফলতার শীর্ষে কিংবা এনে দিতে পারে আন্তর্জাতিক পুরষ্কার। এগুলোর চেয়ে দুটি জীবনের মূল্য কি খুব বেশী?

একজন সাংবাদিক হয়ে তিনি প্রতিবাদ করতে পারেননি চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এক অমানষিক বর্বরতার। জানাতে পারেননি প্রশাসনকে। কিংবা জানাতে পারেননি ক্রসফায়ারখ্যাত র‌্যাবকে। একজন সাধারন জনতা যা করতে পারেননা তা ওনার জন্য করা কোন ব্যাপারইনা। কিন্তু কেন তিনি প্রতিবাদ করলেন না? কেন অপেক্ষা করলেন পরদিন পত্রিকায় শিরোনাম করার জন্য? শুধু কি একটা ফ্রেমের জন্য? জীবনের চেয়ে মূল্যবান একটা ফ্রেমের জন্য?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29133394 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29133394 2010-04-12 12:20:04
স্বাধীনতা দিবসে সামহোয়ারের কর্মসূচী কি? http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29123316 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29123316 2010-03-25 20:55:25 আশরাফুলের মুর্তি বানাইয়া পূঁজা করতে চাই

আশরাফুলের মুর্তি বানাইয়া পূঁজা করতে চাই


যার ব্যাটিং দেখে বাঘা বাঘা বোলাররা উহ-আহ করেন, যার প্রশংসায় পঞ্চমুখ সারা বিশ্বের ক্রিকেট বোদ্ধা তিনি আর কেউ নন আমাদের সবেধন নীলমনি “মোহাম্মদ আশরাফুল”। উনি যখন ব্যাট করেন তখন ওনার ব্যাট থেকে স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছোটে। হাজারো দর্শক গ্যালারী মাতায়। উট-পাল শূভ্র পাতার পর পাতা স্তুতি বন্দনায় বিভোর হয়। আর সেই আনন্দে আমাদের আশার ফুল আশরাফুল বেমালুম ভুলে যান উনি ক্রিকেটার। একের পর এক ম্যাচ যায় আর উনি নির্বোধের মত শট খেলে আউট হয়ে যান সেই সময় যখন দল চরম বিপর্যয়ে। দল সহ ১৬ কোটি মানুষ চেয়ে থাকে তার দিকে এই আশায় যে যাক ক্রিজে আশরাফুল আছেন কিছু একটা হবে। কিন্তু সেই কিছু একটা আর হয়না। ম্যাচের পর ম্যাচ যায় কিন্তু ওনার অভিজ্ঞতা আর সমৃদ্ধ হয় না। দলকে বিপদে রেখে উনি মাথা নত করে প্যাভেলিয়নে ফেরেন। এবং এই কাজটা ওনি দিনের পর দিন খুব নিষ্ঠার সাথেই করে যাচ্ছেন। এমন নিষ্ঠাবান একজন খেলোয়াড় পেয়ে আমরা ধন্য। তাই আমি ওনার মুর্তি বানিয়ে পূঁজা করতে চাই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29086598 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29086598 2010-01-27 13:15:41
সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাই

সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাই

ঢাকার মোট জনসংখ্যা ১ কোটি ৩০ লক্ষের উপর। এই বিশাল জনগোষ্ঠির একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ ছাড়া বাকি সবার চলাচলের প্রধান পরিবহন বাস। অথচ এই বিশাল জনগোষ্ঠির চলাচলের বাধা সৃষ্টি করছে যে জ্যাম নামের ভূত তার স্রষ্ঠা হচ্ছে সেই অতি ক্ষূদ্র অংশ। কিভাবে? এই দেখুনঃ

ঢাকার মোট যানবাহনের সংখ্যাঃ ৫ লক্ষ ৮২ হাজার (অটোরিকশা, হিউম্যান হলার, টেম্পো এই হিসাবের বাইরে)

এর মধ্যে প্রাইভেট কার, জিপ, ট্যাক্সিক্যাব ও মাইক্রোবাসের সংখ্যাঃ দুই লাখ ১১ হাজার যা মোট যানবাহনের ৩৬.২৫ ভাগ

আর সাধারন জনগনের ব্যবহারের বাস ও মিনিবাসঃ ১০ হাজারের কিছু ওপর যা কিনা মোট যানবাহনের মাত্র ১.৭ ভাগ

প্রাইভেট কার, জিপ, মাইক্রোবাস ব্যবহারকারী ঢাকার মোট জনসংখ্যার মাত্র ৪.৮ ভাগ। এই ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠি বাকি ৯৫.২ ভাগ জনগনের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। কিন্তু ওদের দোষ দিয়ে কি লাভ? রাস্তায় ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থেকে যখন বাসের দেখা পাওয়া যায়না আর দেখা পেলেও সেটাতে উঠতে পারা যায়না তখন সামর্থবান যে কেউ চাইবে একটা গাড়ি কিনে নিতে। অন্তত প্রতিদিন গাড়িতে উঠার জন্য যুদ্ধ তো করতে হবে না। এবং ঠিক এই ভাবনা থেকেই ঢাকায় গাড়ির সংখ্যা বেড়ে চলেছে জ্যামিতিক হারে। শুনে অবাক হবেন জুন ২০০৮ থেকে জুন ২০০৯ পর্যন্ত এক বছরে ৩৭৭০৫ টি প্রাইভেট কার ঢাকার রাস্তায় নেমেছে। এবং প্রতিদিন রাস্তায় নামছে শত শত নতুন গাড়ি। অথচ বাড়ছেনা বাসের সংখ্যা।

একটা ব্যাপার চিন্তা করে দেখুন ছুটির দিন গুলোতে কিন্তু রাস্তায় জ্যাম থাকে না। সময় মত পৌছা যায় গন্তব্যে। কিভাবে? বাস তো অন্যান্য দিন যা চলে সেদিনও তাই চলে। তাহলে? তাহলে জ্যাম সেদিন যায় কোথায়? সেদিন তো রাস্তাও লম্বা হয়ে যায়না। কারন হচ্ছে সেদিন রাস্তায় প্রাইভেট কার থাকে কম। এটা স্পষ্ট।

যদি রাস্তায় পর্যাপ্ত পরিমান বাস থাকত তাহলে চলাচল করা যেত খুব সহজে। ফলে মানুষ প্রাইভেট কার কেনার দিকে ঝুকতনা। হাজার হলেও গাড়ী পোষা আর হাতি পোষা এক। এবং সবাই চায় পয়সা বাচাতে। একটা সময় ঢাকার প্রায় সব রুটে বিআরটিসির বাস চলত। এবং বেশির ভাগ বাস ছিল দ্বিতল। ফলে প্রচুর যাত্রী বহন করতে পারত এবং সহজেই বাসে উঠা যেত। কিন্তু কোন এক অজানা কারনে বিআরটিসির বাস এখন প্রায় কোন রাস্তায়ই চোখে পড়েনা (হাতে গোনা একটি দুটি ব্যতিক্রম ছাড়া)। সরকার যদি বিআরটিসির কলেবর সময়ের সাথে বৃদ্ধি করত এবং সেই সাথে প্রাইভেট বাস কোম্পানীগুলোকেও দ্বিতল বাস নামানোর কথা বলত তাহলে অবস্থা এত চরমে পৌছতনা।

প্রতিদিন বাসস্ট্যান্ড গুলোতে দেখা যায় হাজার হাজার মানুষ বাসের জন্য অপেক্ষা করে আছে। আধাঘন্টা একঘন্টা পর পর একটা বাস আসে অথচ সেই বাসে উঠার কোন উপায় থাকে না। যাদের শরীরে একটু বল আছে তারা ধস্তাধস্তি করে উঠতে সক্ষম হয়, থেকে যায় নারী আর বয়ষ্ক লোক। আর কাউন্টার সার্ভিস নামে যা চলছে তা তো রীতিমত ডাকাতি। টিকেটর বাসে ভাড়া নেওয়া হয় অনেক বেশি কিন্তু সার্ভিস লোকাল বাসের চেয়েও খারাপ। যেভাবে মানুষ এই বাসগুলোতে চড়ে দেখে মনে হবে কিছু জন্তু-জানোয়ার বুঝি খোয়াড়ে নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের প্রিজন বাসেও আসামীরা এরচেয়ে অনেক আরামে চলাচল করে।

যারা খুব ভাগ্যবান তারা বাসে উঠতে পারেন এবং একসময় ঘরে পৌছেন। কিন্তু যারা উঠতে পারেন না তাদের কথা কি আমার এবার ভেবেছি? রাস্তায় যে ১০ হাজার বাস চলে সেগুলো কত যাত্রী বহন করতে পারবে? ৫,৬ কিংবা ৭ লাখ! আর বাকীরা কি করবে?

সরকার জানজট নিরসনে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নিচ্ছে। কিন্তু কোনটা কি মানুষের কাজে এসেছে? না, আসেনি। এবং আসবেও না। কারন মাথা ব্যাথা হলে যদি গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খাওয়ানো হয় তাহলে সে মাথা ব্যথা কখনো কমবে না। জানজট এমন কোন সমস্যা না যে কেবল ঢাকা-ই প্রথম এই সমস্যায় পড়েছে। পৃথিবীর আরও অনেক শহরে এমন সমস্যা ছিল এবং তারা তার সমাধানও করেছে।

সরকার বলছে পাতাল রেলের কথা। কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছে সেই পাতাল রেল হতে হতে ঢাকার অবস্থা কোথায় গিয়ে দাড়াবে? সরকারের হাতে আলাদিনের চেরাগ নেই যে রাতারাতি পাতাল রেল তৈরি করে ফেলবে। আর এদেশে যে আঠার মাসে বছর হয় সে খবর আমাদের নতুন করে দিতে হবে না।

ঢাকার মোট রাস্তার দৈর্ঘ হচ্ছে ২৩০০ কিলোমিটার। যার বেশির ভাগ হচ্ছে অলি গলি। যদি ধরি এর অর্ধেক পরিমান রাস্তা মূল সড়ক তাহলে দাড়ায় ১১৫০০ কিলোমিটার। আর ঢাকার সব গাড়ী যদি পর পর সাজানো যায় তাহলে তার দৈর্ঘ দাড়ায় প্রায় ৯০০ কিলোমিটার। অথচ তারপরও প্রতিদিন কিকরে সরকার শত শত নতুন গাড়ী রাস্তায় নামানোর অনুমতি দেয়? তার অর্থ হচ্ছে সরকার আসলে এই সমস্যা সমাধান করতে চায় না। এবং সরকারের এহেন অবহেলার কারনে প্রতিদিন ৩ ঘন্টা, মাসে ৯০ ঘন্টা এবং বছরে ১০৮০ ঘন্টা আমার জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। যা নিশ্চিত ভাবে আমার মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। তাই আমি সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29084642 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29084642 2010-01-24 11:18:34
একটি বিভীষিকাময় রাত অতঃপর সেন্টমার্টিন

২৪ শে ডিসেম্বর। পরদিন ক্রিসমাস। আমরা দুইজন (আমি আর আমার এক বন্ধু) ঠিক করলাম সেন্টমার্টিন যাব। কিন্তু এমন একটা ব্যস্ত সময় টিকেট ম্যানেজ করা যাবে কিনা সন্দেহে পরে গেলাম। যাই হোক বিকেল বেলা খবর পেলাম যে মেহেদি ভাই কক্সবাজারের দুটি টিকেট ম্যানেজ করে ফেলেছেন। হাতে সময় খুব অল্প। অফিস থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে চলে গেলাম এ্যালিফেন্ট রোড। ওখানে একজনের সাথে ছোট একটা কাজ ছিল। ওটা শেষ করে গেলাম নিউমার্কেট। প্রচন্ড শীত পড়েছে কাজেই বাড়তি কিছু ব্যবস্থা তো নিতেই হবে। বেশ মোটা কাপড়ের একটা সোয়েটার কিনলাম। মেহেদি ভাইও কিনতে চাচ্ছেন কিন্তু পছন্দমত পাচ্ছেন না, তাই সময় কম দেখে কেনার ইচ্ছা বাদ দিলেন। তাড়াতাড়ি বাসে উঠে পড়লাম বাসার উদ্দেশ্যে।

বাসায় যখন পৌঁছলাম তখন রাত আটটা বাজে বাজে। তাড়াহুড়া করে গোসল, খাওয়া দাওয়া এবং গোছগাছ সারলাম। বাস ছাড়বে এগারটায় কিন্তু রাস্তাঘাটের যা অবস্থা একটু সময় হাতে না নিয়ে বের হলে সমস্যা হয়ে যেতে পারে, তাই একটু আগে ভাগেই বের হওয়ার প্রচেষ্টা। নয়টায় বের হয়ে পড়লাম। কপাল ভাল ছিল সাথে সাথে সিএনজি পেয়ে গেলাম। তাছাড়া রাস্তায়ও তেমন জ্যাম ছিলনা, তাই ঘন্টাখানেকের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম সায়দাবাদ।

রাত সাড়ে এগারটায় বাস ছাড়ল। কাঁচপুর পার হয়ে চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে বাস এগিয়ে যাচ্ছে। বাইরে প্রচন্ড ঠান্ডা। পায়ে মোজা পড়ে নিলাম এবং ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু প্রথম থেকেই ড্রাইভারটাকে তেমন সুবিধার মনে হচ্ছিলনা। যাত্রিরা খুবই বিরক্ত ড্রাইভারের উপর। কারন কিছুক্ষণ পর পর সে হার্ড ব্রেক করছিল এতে ঘুমের খুব ডিসটার্ব হচ্ছিল। আমিও মনে মনে মহা বিরক্ত।
কিন্তু কে জানত সামনে আরও ভয়াবহ সময় অপেক্ষা করে আছে?

তখন রাত প্রায় ৩টা বাজে। বেশির ভাগ যাত্রির মত আমিও ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ মহিলা যাত্রিদের চিৎকারে ঘুম ভাঙল। চেয়ে দেখি বাস ডান থেকে বায়ে খুব শার্প টার্ণ নিচ্ছে এবং ঠিক পরক্ষনেই আবার ডানদিকে আর একটা শার্প টার্ণ নিল। আর সাথে সাথে বাস বা দিকে কাত হয়ে গেল। আমি সামনের সিট খুব শক্ত করে ধরলাম। মুহুর্তের মধ্যে বিকট একটা আওয়াজ করে বাস বা দিকে উল্টে পড়ে গেল। আমি আর আমার বন্ধু ছিলাম ডানদিকের সিটে। আমরা ছিটকে গিয়ে পড়লাম বা পাশের যাত্রিদের উপর। ঘটনার পর কয়েক মুহুর্ত আমি ঠিক মনে করতে পারছিনা কি ঘটেছিল। যখন থেকে আমার মনে আছে তখন আমি ও আমার বন্ধু দাঁড়িয়ে আছি। মহিলারা, বাচ্চারা কান্নাকাটি করছে। আমি অসম্ভব রকম ভয় পাচ্ছিলাম। চারদিক ভাল করে দেখছিলাম এবং বোঝার চেষ্টা করছিলাম বাসটি কোথায় পড়েছে। পানিতে পড়েনি তো? পানিতে পড়লে বের হওয়া কঠিন হয়ে যাবে। কিছুক্ষণ পর দেখলাম বাইরে থেকে কেউ একজন পেছনের গ্লাস ভাঙার চেষ্টা করছে। মনে মনে সাহস পেলাম, যাক তাহলে পানিতে পড়েনি এবং উদ্ধার করার মত লোকজন আছে। বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টা করে গ্লাস ভাঙতে না পেরে লোকটি চলে গেল। ব্যাপার বুঝলাম না। একটু পর লোকটি আবার ফিরে এল। এবার ভাঙতে সক্ষম হচ্ছে। বুঝতে পারলাম আগের বার কাঠ বা এ জাতীয় কিছু দিয়ে ভাঙার চেষ্টা করে বিফল হয়ে ফিরে গিয়ে হাতুরি নিয়ে এসেছে। গ্লাস বেশ খানিকটা ভাঙার পর আমার বন্ধুও ভেতর থেকে লাথি দিয়ে ভাঙার চেষ্টা চালাল এবং ভেঙ্গে ফেলল। একে একে আমরা কয়েকজন বের হয়ে এলাম।
বের হয়ে দেখলাম বাসটা রাস্তার উপরই উল্টে পড়ে আছে। আর আমাদের উদ্ধারকারী আর কেউ না টহল পুলিশ। ওদের কাছ থেকে জানতে পারলাম আমরা ফেনীতে আছি। কাছেই সদর হাসপাতাল। আমার বন্ধুর নাক দিয়ে দেখলাম রক্ত পরছে। আমার চশমা ভেঙ্গে গেছে, ওটা ফেলে দিলাম। তখনও বেশির ভাগ লোক ভেতরে আটকা পড়ে আছে। আমি আবার ভেতরে ঢুকলাম। একজন পুরুষ বের হতে পারছেনা। পায়ে খুব বেশি আঘাত পেয়েছে। তার ওপর পা আটকে গেছে সিটের সাথে। পা বের করতে পারছেনা। লোকটার সাথে মহিলা আর বাচ্চা আছে। ওরা কান্নাকাটি করছে এবং ওনাকে ওঠানোর চেষ্টা করছে কিন্তু পারছেনা। আমি গিয়ে লোকটার পা ছাড়ালাম এবং বের করে আনতে সাহায্য করলাম। আরো কয়েকজন নারী-পুরুষকে বের করে এনে যারা খুব বেশি আঘাত প্রাপ্ত তাদের নিয়ে পুলিশের টেম্পোতে উঠলাম। সদর হাসপালে যাওয়া দরকার। কারন সবারই কম বেশি চিকিৎসা দরকার, তাছাড়া এত রাতে অন্য কোথাও যাওয়া ঠিক হবেনা। যে লোকটার পা সিট থেকে বের করেছিলাম সেই লোকটা একটু পর পর জিজ্ঞেস করছে “আমার স্যান্ডেল কই?” আর তার স্ত্রী প্রতিবারই তাকে তিরষ্কার করছে। হাসপাতাল পৌঁছতে প্রায় পনের মিনিট লাগল। লোকজন ভালই ইনজুরড হয়েছে। একটা মহিলা পায়ে খুব আঘাত পেয়েছে। টেম্পো থেকে নেমে হাটতে পারছিলনা। ওনাকে ধরে হাসপাতালের ভেতর নিয়ে গেলাম। দু-তিনটা বাচ্চাও আঘাত পেয়েছে। কিন্তু ওরা একটুও কান্নাকাটি করছেনা। ডাক্তারও সময়মত পাওয়া গেল। অন্যদের চিকিৎসা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে করতে নিজের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। বা কাধে কিছু একটার সাথে বাড়ি খেয়েছি, ব্যথা করছে। কিন্তু সোয়েটার খুলে দেখতে ইচ্ছে করছেনা, কারন মনে হচ্ছে তেমন কিছু হয়নি। তবে কোমরে একটু চোট পেয়েছি, সেটা বুঝতে পেরেছি টেম্পো থেকে নামার সময়। তাই ডাক্তারের কাছ থেকে পরামর্শ নিলাম। ডাক্তার দুটো পেইন কিলার লিখে দিল। আর রাত কাটানোর জন্য ভর্তি করে নিল। ভালই হল অন্ততঃ ঘুমানোর জন্য বিছানা তো পাওয়া যাবে। আমরা দোতলার একটা ওয়ার্ডে চলে গেলাম। বিছনা করে দিল আর সাথে সাথে আমরা ঘুমিয়ে পড়লাম।

খুব সকালে ঘুম ভাঙল। আমরা তাড়াতাড়ি উঠে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আসলাম। এমন একটা দুর্ঘটনার পর ঢাকা ফিরে আসাটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু আমরা চিন্তা করে দেখলাম কষ্ট যখন করেছিই আর যেহেতু বড় ধরনের কোন ইনজুরি হয়নি কাজেই ফিরে গেলে এ কষ্টটাই বৃথা যাবে। তাই আমরা ঠিক করলাম সেন্টমার্টিন আমরা যাবই। যেমন ভাবা তেমন কাজ। ফেনী থেকে কক্সবাজারের সরাসরি কোন বাস নেই। তাই আমরা চট্টগ্রামের বাসে উঠলাম। চট্টগ্রাম পৌঁছতে পৌঁছতে সকাল দশটা বেজে গেল। চট্টগ্রাম নেমে আমরা নাস্তা সেরে নিলাম। তারপর আবার কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। কক্সবাজার যখন পৌছলাম তখন বিকেল পাঁচটা বাজে। কক্সবাজার এসে আরেক বিপত্তি হল হোটেল পাওয়া নিয়ে। কোন হোটেলে রুম নেই। খুজে খুজে টায়ার্ড হয়ে শেষমেষ লালদিঘির পারে খুব সস্তা একটা হোটেলে উঠলাম। গোসল সেরে খাওয়া দাওয়া করে যখন বীচে গেলাম তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে। অন্ধকার বীচে কিছুক্ষণ কাটিয়ে আমরা সেন্টমার্টিন যাওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য ছুটলাম। কয়েকটা টুরিস্ট এজেন্টে ঘুরে পরের দিনের কোন টিকেট পেলামনা। ব্যর্থ হয়ে যখন হোটেলে ফিরলাম তখন হোটেলের ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করলাম কিভাবে যাওয়া যায় সেন্টমার্টিন। সে একটা দারুন খবর দিল। ২৭ জনের একটা দল আগামীকাল সেন্টমার্টিন যাবে এবং ওরা এই হোটেলেই উঠেছে। ওদের ২জন শর্ট। কাজেই আমরা দুজন অনায়াসেই ওদের সাথে যেতে পারব। ওদের সাথে যাওয়া কনফার্ম করে আমরা বেরিয়ে পড়লাম বার্মিজ মার্কেটে কিছু কেনাকাটা করার জন্য। কেনাকাটা সেরে মনে হল ঢাকা ফেরার টিকেটও এখনই করে ফেলা ভাল। কারন সেন্টমার্টিন থেকে ফিরে যদি টিকেট না পাই। গাড়ীর টিকেট করতে গিয়ে দেখলাম এখানেও বিপত্তি। এসি কোন গাড়ীর টিকেট নেই। শেষে বাধ্য হয়ে নন-এসিরই টিকেট করে ফেললাম, পাছে এটাও হারাই।

পরদিন খুব ভোরে আমরা ওই টিমের সাথে রওয়ানা হলাম। ওদের সাথে আমরা কেবল টেকনাফ পর্যন্ত যাব। তারপর যে যার পথে যাবে, ওরা ওদের মত আর আমরা আলাদা হয়ে যাব। টেকনাফ পৌছে প্রথমেই আমরা গেট পাশ নিয়ে নিলাম। তারপর হালকা নাস্তা সেরে উঠে পড়লাম আমাদের নির্ধারিত শিপে (কুতুবদিয়া)। সকাল সাড়ে দশটায় শিপ টেকনাফ ত্যাগ করল এবং নাফ নদী ধরে এগিয়ে চলল আমাদের স্বপ্নের গন্তব্য সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে। আমি সেন্টমার্টিন এবারই প্রথম যাচ্ছি। তাই উত্তেজনাটা খুব বেশিই ছিল। কেবলই মুগ্ধ হচ্ছিলাম যতই এগিয়ে যাচ্ছি। নাফ নদী পেরিয়ে শিপ যখন সাগরে পড়ল তখন ঢেউ গুলো বড় হতে লাগল আর তাতে শিপ এদিক ওদিক দুলছিল। খানিকটা ভয়ও পাচ্ছিলাম। শুরু থেকেই আমাদের পিছু নেয় একঝাঁক গাঙচিল। প্রায় তিনঘন্টা সমূদ্রযাত্রার পর আমরা পৌছলাম আমাদের গন্তব্যে। প্রথম দেখাতেই আমি সেন্টমার্টিনের প্রেমে পড়ে গেছি। সেন্টমার্টিন আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে সুন্দর জায়গা। সেন্টমার্টিন পৌছে কি করলাম সেটা এখন বলব না। ক্যামেরায় ধরে রেখেছি সেখানকার অসাধারন সব মুহুর্তকে। সেটা বলতে নয় আপনাদের দেখাতে চাই। কাজেই চলুন ছবিতে ছবিতে আপানাদের ঘুরিয়ে আনি সেন্টমার্টিন থেকে।





































































































]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29078578 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29078578 2010-01-14 21:38:37
সুনীল দা-র আবৃত্তি: র‌্যালী শেষে ছোট্র আয়োজন


আশা করব আগামীতেও সুনীল দা-র আবৃত্তি শুনতে পাব।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29061859 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29061859 2009-12-19 20:42:00
বিজয় দিবসের র‌্যালী : আরও কিছু ছবি বিজয় দিবসের র‌্যালী

গতকালের বিজয় দিবসের র‌্যালীর বর্ণনা ও ছবি নিয়ে ইতোমধ্যে পোস্ট এসেছে। তাই একই ঘটনা আবার বর্ণনা করার প্রয়োজন মনে করছিনা। শুধু আরও কিছু ছবি শেয়ার করার জন্য এ পোস্ট।

তবে একটি কথা না বলে পারছিনা। সামহোয়ারের যেকোন আয়োজনে এটাই আমার প্রথম উপস্থিতি। অন্য সময় হয়তো জানার অভাবে কিংবা কাজের ঝামেলায় উপস্থিত থাকা সম্ভব হয়নি। তাই এমন চমৎকার একটা মিলন মেলায় থাকতে পেরে এবং তা এমন তাৎপর্যময় একটা দিনের কারনে স্মরনীয় হয়ে থাকবে আমার কাছে। খুব ভাল লেগেছে গতকালের আয়োজন।

















































]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29060772 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29060772 2009-12-17 22:19:07
বিচার বনাম রাজনীতি

বিচার বনাম রাজনীতি

গত এক দশকে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়েছে। কিছু কিছু সুপারিশের সঙ্গে অনেক শুভবুদ্ধিসম্পন্ন রাজনীতিক একমত হয়েছেন। এসব বিষয়ে সমাজের কোনো অংশ থেকেই আসলে কখনো আপত্তি ওঠেনি। এমন একটি বিষয় হচ্ছে সংসদে স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নিরপেক্ষতা সংসদীয় গণতন্ত্রের সাফল্যের একটি বড় শর্ত। বৃটেনে শত বছরের সাংবিধানিক রীতিই গড়ে উঠেছে যে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজ দল থেকে পদত্যাগ করেন। এই পদত্যাগ তাঁর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে এবং এই নিরপেক্ষতাকে গোটা জাতি সম্মান জানান পরবর্তী নির্বাচনে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থী না দিয়ে। আমাদের প্রতিবেশী ভারতে ১৯৮৫ সালে সংবিধান সংশোধন করে দল থেকে স্পিকারের পদত্যাগকে উত্সাহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশেও এমন একটি আকাঙ্ক্ষা গড়ে উঠেছিল যে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার তাঁদের পরিপূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখবেন। বড় দল দুটোর নির্বাচনী ইশতেহারে এই অঙ্গীকার ছিল।
এমন একটি পটভূমিতে বর্তমান সংসদের ডেপুটি স্পিকার মারাত্মক একটি মন্তব্য করেছেন সেদিন। পত্র-পত্রিকা যদি সঠিক লিখে থাকে তাহলে তিনি বলেছেন: ‘জিয়াই মুজিবের হত্যাকারী’। এটি মারাত্মক কারণ জাতীয় সংসদের অভিভাবক হিসেবে এই উত্তপ্ত বিতর্ক উসকে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই তাঁর। এটি তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্যের সঙ্গেও বেমানান। তিনি জাতীয় সংসদের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক, যে প্রতিষ্ঠানের অভিভাবককে অবশ্যই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে, দলীয় রাজনীতির বাগিবতণ্ডা থেকে দূরে থাকতে হবে।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের চূড়ান্ত পর্ব যখন চলছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে, তখন এ ধরনের মন্তব্য আমরা আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন নেতার মুখে শুনেছি। যে বিষয়ের নিষ্পত্তি আদালতে হতে চলেছে, সেটি নিয়ে কোনো দায়িত্বশীল রাজনীতিকের মন্তব্য করা শোভনীয় নয়, কাঙ্ক্ষিতও নয়। সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে ইতিমধ্যে গণমাধ্যম এমনকি সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সতর্ক করেছেন। রাজনীতিবিদদের সৌভাগ্য বলতে হবে, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো সতর্কবাণী তাঁদের শোনানো হয়নি আদালত থেকে।

২.
বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের নৃশংস হত্যাকাণ্ড আমাদের জাতির ইতিহাসে চরম কলঙ্কিত অধ্যায়। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে শুধু তাঁকে নয়, বাংলাদেশে প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক ধারার রাজনীতিকেও নির্মূল করার চিন্তা ছিল কারও কারও মধ্যে। তা না হলে ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের পর জেলখানায় ভেতরে তাঁর অনুসারী চার নেতাকেও হত্যা করা হতো না। বঙ্গবন্ধুর আমলে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, বিরোধী দলকে নির্মমভাবে দমনের চেষ্টাও করা হয়েছে। কিন্তু ১৫ আগস্টে তাঁর হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে তিক্ত বিভাজনের সূত্রপাত করেছে তা তুলনাহীন; তার মাশুল আজও দিতে হচ্ছে দেশকে। আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে অবশ্যই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হওয়া জরুরি। এই বিচারকে অন্তত বিচার চলাকালীন রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার চেষ্টা করাও সমপরিমাণ জরুরি।
বিচারকার্য শেষ হলে আপিল ডিভিশনের পূর্ণাঙ্গ রায় অবশ্যই পাব আমরা। শুধু অভিযুক্ত ও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে নয়, হয়তো অন্য বহু রাজনীতিক এবং সেনানায়ক সম্পর্কে আমরা প্রাসঙ্গিক মন্তব্য পেতে পারি সেখানে। গবেষণা ও বিশ্লেষণের ক্ষমতা জোরদার হলে ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে দেশি-বিদেশি কিছু মহলের ইন্ধন সম্পর্কেও নতুন প্রামাণ্য তথ্য আমাদের সাংবাদিক বা গবেষকেরা একসময় উদ্ধার করতে পারবেন। ততদিন পর্যন্ত আমাদের সবার অপেক্ষা করে থাকাটাই শ্রেয়। তা না করে সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কখনো সফিউল্লাহ, কখনো জিয়াউর রহমান, কখনো এমনকি খালেদ মোশাররফকে দায়ী করে গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিকেরা বিবৃতি দেওয়া অব্যাহত রাখলে এই বিচারের আবেদন লঘু হয়ে পড়তে পারে। স্বাভাবিকভাবে মানুষের মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে উল্লিখিত ব্যক্তিরা দায়ী হলে এই মামলার অভিযোগপত্রে তা বলা হয়নি কেন?
কোনো ঘটনার সুবিধাভোগী বহু মানুষ থাকতে পারেন। ১৫ আগস্ট বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হওয়ার সুযোগ কর্নেল তাহের বা খালেদ মোশাররফের ছিল। দুর্ভাগ্য হোক, কৌশলগত ভুল হোক, তাঁরা সেই সুযোগ গ্রহণ করতে পারেননি, পেরেছেন জিয়াউর রহমান। তাঁর আগে এবং তাঁর সঙ্গে রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদার হয়েছেন আওয়ামী লীগেরও কিছু নেতা। ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে তাঁদের কার কী ভূমিকা ছিল তা তাই শুধু কে কে সুবিধাভোগী হয়েছেন সেই বিচারে করা সম্ভব না। এ নিয়ে অবশ্যই যৌক্তিক গবেষণা এমনকি রাজনৈতিক বাগিবতণ্ডাও হতে পারে। তবে বিচার চলাকালীন এসব বিষয়ে ধারণাপ্রসূত মন্তব্য করা থেকে আমাদের সবার বিরত থাকাই শ্রেয়।

৩.
ভুল সময়ে অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করা থেকে বিরত নেই বিএনপিরও একশ্রেণীর নেতা। ইতিপূর্বে বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা বিচার চলাকালীন ১৫ আগস্টকে ১/১১-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। এই নিষ্ঠুর মন্তব্য শুধু আওয়ামী লীগের সমর্থকদের নয়, যেকোনো বিবেকসম্পন্ন মানুষকে আহত করেছিল। এর পরও বিভিন্ন সময়ে বিএনপির কিছু নেতা আকার-ইঙ্গিতে এমন ধারণা দিয়েছেন, যাতে বঙ্গবন্ধু হতাকাণ্ডের বিচারে তাঁদের সমর্থন নেই বলে মনে হতে পারে।
আমাদের সবার বোঝা প্রয়োজন, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার রাজনৈতিক ইচ্ছা-অনিচ্ছার বিষয় নয় আর। এই বিচারকে কেন্দ্র করে কোনো রকম রাজনৈতিক ফায়দা লাভের চেষ্টা করাও ঠিক হবে না কারও জন্য। এটি সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন। রাজনৈতিক বিতণ্ডা থেকে দূরে থেকে এই বিচার প্রক্রিয়াকে শ্রদ্ধা জানানো যেকোনো সুনাগরিকের কর্তব্য।

৪.
১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি দেশে বর্তমানে বিরাজমান সংঘাতের রাজনীতির একটি চিত্র মাত্র। বিরোধী দল কর্তৃক এখনো সংসদ বর্জন অব্যাহত রয়েছে, সরকার পতনের অপরিণত হুংকারও তারা দিয়েছে। অন্যদিকে সরকারি দলের কেউ কেউ সংসদকে বিরোধী দল সম্পর্কে কুত্সা রটনার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করছেন। স্বয়ং দুই প্রধান নেত্রী হঠাত্ হঠাত্ তাঁদের সংযম হারিয়ে ফেলে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছেন। ১/১১ পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে এ ধরনের আচরণ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গঠনমূলক কাজ ও চিন্তার মধ্য দিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিযোগিতার যে প্রত্যাশা আমরা নির্বাচনের পর পোষণ করতে শুরু করছিলাম তা ইতিমধ্যে হোঁচট খেতে শুরু করেছে।
আমার ধারণা, আমাদের দুই নেত্রীর এখনই খুব সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। আমাদের সবার চেয়ে তাঁদেরই বেশি জানার কথা, সংঘাতের রাজনীতি দেশে গণতন্ত্র পুনর্নির্মাণের জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এই ঝুঁকি আরও বেশি। চীন ও ভারতের মতো দুই উদীয়মান মহাশক্তিধর দেশের স্বার্থ রয়েছে বাংলাদেশকে ঘিরে। ৯/১১ ঘটনার পর একদিকে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্ব, অন্যদিকে পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলোর কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। জ্বালানি শক্তির সম্ভাবনার কারণে বাংলাদেশ-পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার অভিলাষ রয়েছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর। এদের কেউ কেউ বাংলাদেশের মতো দেশে ক্ষমতার পালাবদল ত্বরান্বিত করার বা তা ঠেকিয়ে রাখার মতো শক্তিশালী। এসব মহলের স্বার্থ রক্ষা করে চলেন বা এদের দ্বারা ব্যবহূত হন এমন মানুষও কম নয় এ দেশে। দুই নেত্রী তথা দুই বড় দলের সংঘাত এদের শক্তিকে আরও সুসংহত করবে। কখনো কখনো তা কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে তা ১/১১ সময়ের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আরও নিবিড়ভাবে উপলব্ধি করা প্রয়োজন আমাদের।
দুই দলের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক বিতর্কের কিছু সনাতনী বিষয় আদালত, কিছু বিষয় ঐতিহাসিক আর কিছু বিষয় জনগণের রায়ের ওপর ছেড়ে দিন। আওয়ামী লীগের চেষ্টা থাক বিগত বিএনপি সরকারের তুলনায় অনেক বেশি জনকল্যাণমুখী সুশাসন দেশকে প্রদান করার জন্য। বিএনপির চেষ্টা থাকুক আওয়ামী লীগের চেয়ে অনেক শ্রেয় দল হিসেবে আগামী নির্বাচনের জন্য নিজেকে উপস্থাপনের।
যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি আমরা, তা কেবল এভাবেই সম্ভব।

আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রকাশ: প্রথম আলো, ৮/১১/২০০৯ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29039779 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29039779 2009-11-08 12:02:37
ভাড়া ৬ টাকা

ভাড়া ৬ টাকা

ভার্সিটির প্রথম সেমিস্টারের কথা। আমাদের ক্যাম্পাস ছিল ঝিগাতলা।
সেদিন ক্লাশ শেষে তেমন কোন কাজ ছিলনা। অন্যান্যদিন ক্লাশ শেষ করে লাইব্রেরীতে কয়েকজন মিলে এক্সারসাইজগুলো করি। সেদিন তাই বাসায় চলে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হলাম। গেটে কণার সাথে দেখা। কণা আমাদের ক্লাসে পড়ে। সেও বাসায় চলে যাবে। তবে আগে নিলক্ষেত যাবে কিছু বই কিনতে। কণাকে ঝিগাতলা থেকে বিদায় দিয়ে বাসায় চলে যাওয়ার মনস্থ করলাম।

ঝিগাতলা পৌছে এক রিক্সাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলাম নিলক্ষেত যাবে কিনা। সে ১০ টাকা ভাড়া চাইল। কিন্তু কণা বলল ৬ টাকা। রিক্সাওয়ালা রাজী হলনা। আমি আরেকটা রিক্সা ডাকলাম। এবারও একই ঘটনা। কণা ৬ টাকা দিতে চায় আর রিক্সা চলে যায়। কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থেকে আরও দুইটা রিক্সা বিদায় দিতে হল। আমার ধৈর্যের বাধ ভেঙ্গে গেল। আমি কিছু একটা কাজের কথা বলে বাসার দিকে রওয়ানা হলাম।

আমার বাসাও কাছাকাছি ছিল। হাক্কানী মসজিদের গলিতে। আমি বাসায় এসে কাপড় বদল করে মিনিট দশেক পর আবার বের হলাম, ফ্লপি ডিস্ক আর কাগজ কেনার জন্য। ঝিগাতলা এসে আমার তো চক্ষু চড়কগাছ। দেখি কণা এখনও দাড়িয়ে আছে। ঘটনা কি? মেয়েটা এতক্ষন দাড়িয়ে করছেটা কি?

-কি ব্যাপার কণা এখনও যাওনি?
-না, রিক্সা পাচ্ছিনা।

কিভাবে পাবে এমন গো ধরে বসে থাকলে, আমি মনে মনে ভাবলাম। আরও কিছুক্ষন আমি ওকে সঙ্গ দিলাম তবে রিক্সা খোঁজার ব্যাপারে আমার কোন অংশগ্রহন রইলনা।

কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে কিছুক্ষণ পর ঠিকই সে একটা রিক্সা পেয়ে গেল এবং বলাবাহুল্য ৬ টাকাতেই রিক্সাটা রাজী হল। আমি হতবাক হয়ে শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম।
সেইসাথে একটা শিক্ষাও গ্রহন করলাম। ভাড়া ঠিক করে কখনোই আমি রিক্সায় উঠতাম না, তাও আবার এভাবে? কিন্তু কণা যা করে দেখাল তা সত্যিই অবাক করার মত। আমি কখনোই এভাবে ভেবে দেখিনি। হাতে একটু সময় থাকলে ইচ্ছে করলেই আমরা দুটো পয়সা বাচাঁতে পারি।

সেই ঘটনার পর থেকে মাঝে মধ্যেই আমি রিক্সায় চড়তে গেলে কণার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করি, যদিও কণার মত এত এক্সট্রীম হতে পারিনা <img src=" style="border:0;" />), তবে কাজে দেয়।

বিঃদ্রঃ কণা ব্লগ পড়ে কিনা জানিনা। তবে এই পোস্ট ওকে হেয় করার জন্য নয়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29039210 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29039210 2009-11-07 12:58:48
একদা বিআরটিসি বাসে চড়িতামঃ যানজট নিয়ে কিছু কথা

একদা বিআরটিসি বাসে চড়িতামঃ যানজট নিয়ে কিছু কথা

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। ঢাকার প্রায় সব রুটেই বিআরটিসির বাস চলত। এবং পর্যাপ্ত পরিমানেই চলত। ফলে কোথাও যেতে হলে অন্ততঃ ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় দাড়িয়ে থাকতে হত না। সবসময় বাস পাওয়া যেত। তাছাড়া বাসগুলো দোতলা হওয়ার ফলে এক একটি বাস প্রচুর পরিমানে যাত্রী বহন করত। অথচ প্রাইভেট বাস কোম্পানীগুলোকে সুবিধা করে দিতে এই স্বল্প খরচের ও অত্যন্ত কার্যকরী একটা পরিবহন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হল। বর্তমানে ঢাকার রাস্তায় বিআরটিসির সার্ভিস নেই বললেই চলে। কিছুদিন আগেও উত্তরা-মতিঝিল এবং উত্তরা-মিরপুর রুটে ভলভো সার্ভিস ছিল। অথচ এখন তাও নেই। কি কারনে এই সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেল তা আমাদের বুঝতে বাকি নেই।

সরকার বেসরকারী খাতে বাস নামানোর অনুমতি দিল অথচ কাউকে বললনা দ্বিতল বাস নামানোর কথা। ঢাকায় যেখানে রাস্তার স্বল্পতা এবং প্রাইভেট কারের জন্য রাস্তায় তিল পরিমান যায়গাও পাওয়া যায় না সেখানে ছোট ছোট মিনিবাস না নামিয়ে দ্বিতল বাস নামানোটা হত সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। কারন এতে বেশ কয়েকটা সুবিধা পাওয়া যেতঃ
ক) দুইটি মিনিবাসের চেয়ে একটি দ্বিতল বাস অনেক বেশি যাত্রী বহন করতে পারে।
খ) দুইটি মিনিবাস যে পরিমান জায়গা দখল করে একটি দ্বিতল বাস তার চেয়ে কম জায়গা দখল করে।
গ) দুইটি মিনিবাস যে পরিমান জ্বালানী খরচ করে তার চেয়ে একটি দ্বিতল বাস অনেক কম জ্বালানী খরচ করে।

ঢাকায় যে পরিমান মিনিবাস চলাচল করে তার অর্ধেক পরিমানও যদি দ্বিতল বাস নামানো হত তাহলে বর্তমানের এই অসহনীয় যানজট কিছুটা হলেও কমত। সবচেয়ে উপকার হত যাত্রীদের, তাদের অন্ততঃ ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় দাড়িয়ে থাকতে হত না।

কিন্তু এতসব কথা বলার তো কোন প্রয়োজন হতনা যদি সরকার বিআরটিসিকে ধ্বংস না করে এর কলেবর আরও বৃদ্ধি করত। সরকার পরিবহন ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে তাদের সুবিধা করে দিল অথচ ঢাকার দুই কোটি জনগনের কথা একবারও চিন্তা করলনা।

যানজট নিরসনের জন্য সরকার ক'দিন পর পর এক একটা নতুন নিয়ম করে আর জনগনের জীবনে নেমে আসে অসহনীয় দুর্ভোগ। তাই মনে প্রশ্ন জাগে সরকার কি আদৌ জনগনের সমস্যা সমাধান করতে চায়?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29029496 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29029496 2009-10-21 13:26:09
অব্যবহৃত ট্রাফিক সিগনাল লাইটের বিদ্যুৎ আসে কোথা থেকে?

অব্যবহৃত ট্রাফিক সিগনাল লাইটের বিদ্যুৎ আসে কোথা থেকে?

আচ্ছা ট্রফিক পুলিশের কাজ কি?
আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে যা বুঝি তা হচ্ছেঃ ট্রফিক পুলিশের কাজ হচ্ছে রাস্তায় চলাচলরত যানবাহনগুলোকে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে সহায়তা করা। সবাই যাতে ট্রাফিক সিগনাল মেনে চলে সেদিকে খেয়াল রাখা ও সিগনাল মানতে সাহায্য করা। তাছাড়া কেউ যদি সিগনাল অমান্য করে তাহলে তার বিরূদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়াও ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব।

কিন্তু আমরা ঢাকার রাস্তায় কি দেখি? অন্যকে ট্রাফিক সিগনাল মানানো যাদের দায়িত্ব তারা নিজেরাই সিগনালকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নিজের খেয়াল-খুশি মত রাস্তা আটকাচ্ছে ও ছাড়ছে। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোর প্রধান প্রধান সিগনালগুলোতে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে একদিকে নির্দিষ্ট সময় পর পর সিগনালের বাতি জ্বলছে আর অন্যদিকে ট্রাফিক পুলিশ তার ইচ্ছেমত রাস্তা বন্ধ করছে ও ছাড়ছে। সিগনাল মেনে চললে একটা রাস্তা যেখানে সর্বোচ্চ ৫ মিনিট বন্ধ থাকার কথা সেখানে ট্রাফিক পুলিশের মহান ইচ্ছায় ১০-১৫ মিনিট এমনকি কখনো ২০ মিনিটও বন্ধ থাকতে দেখা যায়। গত ক'দিন আগে কুড়িল বিশ্বরোডে ৩৫ মিনিট এক জায়গায় আটকে থাকার অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। রাস্তা জ্যাম ছিল এমন না। ট্রাফিক পুলিশ এপাশ বন্ধ করে যেন বেমালুম ভুলে গেছে। বিপরীত দিক থেকে গাড়ি আসছে তো আসছেই। কিন্তু এপাশ ছাড়ার কোন নাম নেই। ঢাকার রাস্তার অসহনীয় যানজটের অনেক কারনের মাঝে এটাও যে একটা কারন তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।



যানজট যেখানে কমানো যাচ্ছে না, সেখানে রাস্তার সমস্ত যানবাহন ধীর গতিতে হলেও চলমান রাখাটাই একমাত্র সমাধান। আর সেক্ষেত্রে সিগনালের বিকল্প নেই। কারন এতে করে নির্দিষ্ট ও সমান সময় পরপর প্রতিটি রাস্তা খুলবে এবং যানগুলো এগুবে। কেউ সিগনালে আটকা পড়লেও সে আর কয়টি সিগনাল পরে সেখান থেকে ছুটবে তা হিসাব করতে পারবে।



কিন্তু বর্তমানে সেটা সম্ভব হচ্ছেনা কারন এর পুরোটাই এখন নির্ভর করছে ট্রাফিক পুলিশের মর্জির উপর। যদি উনি সদয় হয়ে রাস্তা ছাড়েন তবেই কেবল ছাড়া পাওয়া যাবে।

এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছেঃ
যদি ট্রাফিক পুলিশই নিজের মনমত সব নিয়ণ্ত্রণ করবে তবে কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাস্তায় ট্রাফিক সিগনাল বসানোর প্রয়োজন কি?

আর সরকার যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের দোহাই দিয়ে সাধারণ জনগনের জীবন অতীষ্ট করে তুলেছে সেখানে এই অব্যবহৃত ট্রাফিক সিগনালের লাইট দিন-রাত ২৪ ঘন্টা, সপ্তাহের ৭ দিন জ্বালাতে যে বিদ্যুৎ লাগছে তার পরিমানটা কত এবং তা কোথা থেকে আসছে, মাননীয় বিদ্যুৎ মণ্ত্রী বলবেন কি?

চিত্র সূত্রঃ গুগল ইমেজ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29028931 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29028931 2009-10-20 12:38:16
ডে-লাইট সেভিং টাইম এবং আমাদের মহাজ্ঞানী মণ্ত্রী
ডে-লাইট সেভিং টাইম এবং আমাদের মহাজ্ঞানী মণ্ত্রী

ইতিহাস থেকে জানা যায় আধুনিক ডে-লাইট সেভিং টাইম প্রথম প্রস্তাব করেন জর্জ ভারনন হাডসন ১৮৯৫ সালে। এর উদ্দেশ্য ছিল অপরাহ্নে বেশিক্ষণ দিনের আলো ব্যবহার করা।
গ্রীষ্মকালে দিনের দৈর্ঘ বেশি (গড়ে ১৩ ঘন্টা) আর শীতকালে দিনের দৈর্ঘ কম (গড়ে ১০ ঘন্টা)। প্রচলিত সময় ব্যবস্থায় গ্রীষ্মকালে পূর্বাহ্নে অনেক সময় অপচয় হয়। তাই ঘড়ির কাটা এগিয়ে দিয়ে সেই অপচয়টা কমানো যায় এবং অপরাহ্নে বেশিক্ষণ সূর্যের আলো পাওয়া যায়। এতে করে বাজার-সদাই, ঘোরাঘুরি, খেলাধূলা ও অন্যান্য কাজের জন্য একটু বেশি সময় পাওয়া যায় অফিস সময়ের শেষে। তাছাড়া দেড়িতে সন্ধ্যা হয় বলে ঘর-বাড়ী, দোকান-পাট, রাস্তা-ঘাট ইত্যাদিতে বাতি, পাখা, শীতাতপ যন্ত্র এগুলোও চালাতে হয় দেরি করে। ফলে বেশ খানিকটা বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যায়।
এ উদ্দেশ্যে বিশ্বের অনেক দেশেই এটা প্রচলিত আছে। যদিও অনেক দেশে বিতর্কের কারনে এ পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে। তারপরও যারাই এ পদ্ধতি অনুসরন করছে তারা সবাই প্রায় একই ধরনের সময় মেনে চলেছে। যেমনঃ
=> যুক্তরাষ্ট্রে এপ্রিলের প্রথম রোববার থেকে অক্টোবরের শেষ রোববার পর্যন্ত ডে-লাইট সেভিং টাইম
=> কানাডায় মার্চের দ্বিতীয় রোববার থেকে নভেম্বরের প্রথম রোববার পর্যন্ত
=> ইউরোপের প্রায় সব দেশে মার্চের শেষ রোববার থেকে অক্টোবরের শেষ রোববার পর্যন্ত
=> মিশরে এপ্রিলের শেষ শুক্রবার থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ বৃহষ্পতিবার পর্যন্ত
=> পাকিস্তানে ১৫ই এপ্রিল থেকে ১লা নভেম্বর পর্যন্ত
=> অস্ট্রেলিয়ায় অক্টোবরের প্রথম রোববার থেকে এপ্রিলের প্রথম রোবার পর্যন্ত
=> নিউজিল্যান্ডে সেপ্টেম্বরের শেষ রোববার থেকে এপ্রিলের প্রথম রোবার পর্যন্ত

খুশির কথা হচ্ছে আমাদের দেশেও এ পদ্ধতি চালু হয়েছে। প্রথম দিকে নতুন সময়ের সাথে মানিয়ে নিতে লোকজনকে একটু সমস্যায় পড়তে হলেও এখন সবাই মানিয়ে নিয়েছে। এটা নিঃসন্দেহে ভাল উদ্দোগ। বিদ্যুৎ কতটা সাশ্রয় হয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান না পাওয়া গেলেও কিছুটা যে সাশ্রয় হয়েছে তা সবাই মানবেন। সবচেয়ে ভাল যেটা হয়েছে তা হচ্ছে অফিস ছুটির পরও বেশ খানিকটা সময় পাওয়া গেছে যা উপভোগ্য হয়েছে।
কিন্তু এতসব ভালর পরও কিছু ব্যাপার আমাদের হতাশ করেছে। তার মধ্যে একটা হচ্ছে এই সময় ব্যবস্থা কবে তুলে নেয়া হবে এবং আবার আগের সময় চালু করা হবে তার নির্দিষ্ট কোন ঘোষণা আমরা সরকারের কাছ থেকে পাই নি। বরং কিছুদিন আগে এমনই এক প্রশ্নের জবাবে এক মাননীয় মণ্ত্রী বিষ্ময় প্রকাশ করলেন এই বলে যে, আগের সময় আবার কি? এবং এও বললেন এই সময় পরিবর্তন করার কোন পরিকল্পনা সরকারের নেই। যদি তাই হয় তাহলে ভয়ের কথা!
কারন যখন ডে-লাইট সেভিং টাইম চালু করা হল ( ১৯শে জুন) তখন সূর্যোদয় হত ভোর ৫ টা ১২ মিনিটে এবং সূর্য অস্ত যেত সন্ধ্যা ৬টা ৪৮ মিনিটে। অর্থাৎ দিনের দৈর্ঘ ছিল ১৩ ঘন্টা ৩৬ মিনিট। পরিবর্তিত সময় অনুযায়ী যা দাঁড়ায় সুর্যোদয় ৬ টা ১২ মিনিট এবং সূর্যাস্ত ৭ টা ৪৮ মিনিট। সকালের জ্যামের কথা মাথায় রেখে সবাই একটু আগেভাগেই ঘর থেকে বের হয়। আমি বের হই সকাল ৮ টায়। তাতেও সাড়ে নয়টার আগে অফিসে পৌছা যায়না। যদি এই সময় চালু থাকে তাহলে ডিসেম্বর মাসে কি অবস্থা হবে তা কি সরকার ভেবে দেখেছে?
১০ই ডিসেম্বর বর্তমান সময় অনুযায়ী সুর্যোদয় ৭ টা ৩০ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত ৬ টা ১৩ মিনিটে। তাহলে একবার ভেবে দেখুন সাড়ে ৭ টায় যেখানে সূর্য উঠবে সেখানে একজন লোক কিভাবে ৮ টায় ঘর থেকে বের হবে অফিসে যাওয়ার জন্য? ৮টায় বের হতে হলে তাকে প্রাতঃক্রিয়া, গোসল ও নাস্তা সারার জন্য ঘুম থেকে উঠতে হবে অন্ততঃ ৬ টায়, যার মানে ফজরের আযানেরও আগে। যা জানুয়ারী মাসে আরও প্রকট আকার ধারন করবে, কারন ১০ই জানুয়ারী সুর্যোদয় ৭ টা ৪৩ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত ৬ টা ৩০ মিনিটে।
অনেক স্কুল, কলেজ ও ইউনিভার্সিটিতে সকাল ৮ টায় ক্লাশ শুরু হয়। তাদের অবস্থা কি হবে একবার ভেবে দেখুন।

এসব পরিস্থিতির কথা কি সরকার একবারও ভেবেছে? যদি ভেবে থাকে তাহলে কিকরে সরকারের একজন মণ্ত্রী বলতে পারেন সময় পরিবর্তন করার কোন পরিকল্পনা সরকারের নেই?
সেক্ষেত্রে আমার কথা হল এমন মহাজ্ঞানী মণ্ত্রী আমাদের দরকার নেই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29027373 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29027373 2009-10-17 16:50:58
সিকিউরিটি এলার্ম কোথায় পাওয়া যায়? (সাহায্য চাহিয়া পোস্ট)

এক মাসের মধ্যে বাসায় দুই দুইবার চুরি হয়েছে। এতদিন ভাবতাম ছয় তলার উপর চুরির ভয় নেই। কিন্তু সেই ধারনা ভুল প্রমাণীত হয়েছে। তাই চোর ধরার জন্য প্ল্যান করছি। এজন্য দরকার বার্গলার এলার্ম অথবা এজাতীয় কোন যন্ত্র। কিন্তু ঢাকায় কোথায় এগুলো পাব তা জানিনা। গতকাল স্টেডিয়াম ও বায়তুল মোকাররম ঘুরে পাইনি। এজন্য আপনাদের সাহয্য কামনা করছি।

ঢাকায় কোথায় এসব সিকিউরিটি ডিভাইস পাওয়া যায় তা যদি কেউ জানেন প্লীজ আওয়াজ দেবেন। চোর আমাকে ধরতেই হবে।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29024921 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29024921 2009-10-13 11:00:33
সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রামাণ্য দলিল
সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রামাণ্য দলিল

১৯৭২ সালের সংবিধানের প্রশংসায় যাঁরা অহেতুক-অকারণে পঞ্চমুখ হন, তাঁদের জন্য এই লেখাটি দুঃসংবাদ মনে হতে পারে। কারণ এটা দালিলিকভাবে প্রমাণ করা সম্ভব যে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশে সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এবং তা করা হয় সুপরিকল্পিতভাবে, ভেবে-চিন্তে। এধরণের তথ্য এত দিন ছিল অকথিত, অনালোচিত ও অনুচ্চারিত। চাপা পড়া এই ইতিহাস সম্পর্কে সম্ভবত এই প্রথম আমরা জানতে পারছি। বাংলাদেশের সংবিধানবিষয়ক রায়, বইপত্র ও আলোচনার পর্যবেক্ষক হিসেবে এই তথ্য এর আগে কখনো নজরে পড়েনি।
বাহাত্তরের সংবিধান প্রণেতারা প্রশংসনীয়ভাবে স্বল্প সময়ে নিশ্চয় একটি সংবিধান উপহার দিতে পেরেছিলেন। দু-একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিষয় বাদে ওই সংবিধান যে যথেষ্ট অগ্রসর ছিল তাতেও সন্দেহ নেই। এর অসামপ্রদায়িক দিকটি ছিল নিশ্চয় অসাধারণ। কিন্তু তাকে খুব বড়গলায় গণতান্ত্রিক বলতে আমরা অপারগ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে প্রজাতন্ত্রের সর্বময় নির্বাহী ক্ষমতা সুপরিকল্পিতভাবে কুক্ষিগত করার সিদ্ধান্ত আর যাই হোক গণতন্ত্রের সঙ্গে সঙ্গতির্পূর্ণ হতে পারে না। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত লেখকের ‘সংবিধান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিতর্ক’ নামের একটি প্রকাশনায় (বই না বলে তারুণ্যের স্পর্ধা বলাই সংগত) দেখিয়েছিলাম যে সংসদীয় গণতন্ত্র অনুসরণকারী বিশ্বের লিখিত সংবিধানগুলোতে এভাবে এক ব্যক্তির হাতে নির্বাহী ক্ষমতা আরোপ করা হয়নি।
কিন্তু আমাদের সংবিধান প্রণেতারা তা যে সুপরিকল্পিতভাবে করেছিলেন তা জানা ছিল না। আমার কাছে এতকাল এটা ছিল এক বিরাট ধাঁধা। তাঁরা এ রকম একটি অস্বাভাবিক, অদ্ভুত ও অভিনব অনুচ্ছেদ কোথা থেকে ধার করলেন সে নিয়ে প্রশ্ন জেগেছিল। ৫০টির বেশি দেশের সংবিধানের নির্বাহী ক্ষমতার বণ্টন মডেল পরখ করে দেখেছিলাম। আশা ছিল, কোনো অনুন্নত দেশের সংবিধানে হয়তো এ রকম একটি বিধান বা তার কাছাকাছি কোনো বিধান পেয়ে যাব। কিন্তু তা পাইনি। অবশেষে এর উত্স ও বিবর্তনের হদিস পেলাম আমাদের দলিলপত্রে। এসব দলিল দুষপ্রাপ্য। জাতীয় সংসদ কিংবা জাতীয় আর্কাইভে নেই।
১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম বৈঠক বসে। ৪ নভেম্বর ১৯৭২ চূড়ান্তভাবে সংবিধান অনুমোদিত ও প্রণীত হয়। সংবিধানের বাংলা পাঠ রচনাকারী পণ্ডিত ড. আনিসুজ্জামানের কাছ থেকে দালিলিকভাবে জানতে পারি যে ‘সংবিধান প্রণয়ন কমিটি ১৯৭২ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে ১০ জুনের মধ্যে ৩০টির অধিক সুদীর্ঘ বৈঠকে মিলিত হয়ে খসড়া সংবিধানের সার রচনা ও অনুমোদন করে।’ এর অর্থ দাঁড়ায়, ব্যক্তি শেখ মুজিবের হাতে রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা কুক্ষিগত করার সিদ্ধান্ত ওই ৩০টির বেশি দীর্ঘ বৈঠকে হয়নি। অনুমান করি, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া হয়তো ছিল নাটকীয়তায় পূর্ণ। চাপিয়ে দেওয়া।
গণপরিষদে সংবিধান নিয়ে ‘আলোচনার জন্য প্রস্তুত খসড়া’য় (সম্ভবত প্রথম) মন্ত্রিসভাকে সরকার গণ্য করা হয়েছিল। সে কারণে এর উপশিরোনাম দেওয়া হয় সরকার। ৬৪(১) অনুচ্ছেদে লেখা হয়: “প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত একটি মন্ত্রিসভাকে লইয়া হইবে সরকার। (২) এই সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী কর্তৃত্ব সরকারের দ্বারা বা সরকারের কর্তৃত্বে লইয়া সংবিধান ও আইনের অনুসারিতায় প্রত্যক্ষভাবে বা সরকারের অধীনে কর্মরত অফিসারদিগের মাধ্যমে পালিত হইবে।”
এরপর মুদ্রিত হয় ‘আলোচনার জন্য প্রস্তুত দ্বিতীয় খসড়া’। এই কপির গায়ে লেখা আছে, বাংলাদেশ গণপরিষদের খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির ১৭ই এপ্রিল হইতে ২৫শে মে ১৯৭২ তারিখের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকসমূহের আলোচনার ভিত্তিতে প্রণীত। এর ১৬ নম্বর পৃষ্ঠায় প্রথম দেখা মেলে গণতান্ত্রিক ও শুদ্ধ বিধানটির। “৬০(১) প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভাকে লইয়া গঠিত সরকারে ন্যস্ত থাকিবে। (২) এই সংবিধানের বিধানাবলি-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী কর্তৃত্ব সংবিধান ও আইন অনুযায়ী সরকার কর্তৃক বা সরকারের কর্তৃত্বে প্রত্যক্ষভাবে কিংবা সরকারের অধীন অফিসারদিগের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হইবে।” (পৃষ্ঠা-১৬)
‘বাংলাদেশের গণপরিষদের খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির ১৭ই এপ্রিল হইতে ১০ই জুন ১৯৭২ তারিখের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকসমূহের আলোচনার ভিত্তিতে প্রণীত খসড়া সংবিধান’ এই শিরোনামে বেশ কয়েক কপি সংবিধানের খসড়া মুদ্রিত হয়।
এর দুটি কপিতেও নির্বাহী ক্ষমতাবিষয়ক ওই আদর্শ বিধানটি লক্ষ করি। একটি কপিতে ওই বিধান ছাপা হয় ১৬ নম্বর পৃষ্ঠায়। বিধানটি এর পরের খসড়ায়ও টিকে ছিল। বরং লক্ষ করুন যে আগের বিধানের ত্রুটি দূর করা হয়েছে। ‘সরকারে ন্যস্ত’ কথাটির পরিবর্তে ‘সরকারের উপর ন্যস্ত’ কথাটি এসেছে। “৬০(১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভাকে লইয়া গঠিত সরকারের ওপর প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা ন্যস্ত থাকিবে। (২) এই সংবিধানের বিধানাবলি-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী কর্তৃত্ব সংবিধান ও আইন অনুযায়ী সরকার কর্তৃক বা সরকারের কর্তৃত্বে প্রত্যক্ষভাবে কিংবা সরকারের অধীন অফিসারদিগের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হইবে।” (পৃষ্ঠা-১৮) এ থেকে স্পষ্ট ধারণা মেলে যে ব্যক্তি শেখ মুজিবের হাতে রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা তুলে দেওয়ার মতো চিন্তা ১৯৭২ সালের ১০ জুন পর্যন্ত সংবিধান প্রণেতাদের বাস্তব পরিকল্পনায় ছিল না। এরপর কোনো একসময় শেখ মুজিবের ক্ষমতায়ন চিন্তায় সংবিধান প্রণেতাদের পেয়ে বসেছিল কিংবা তাঁদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তা গলাধঃকরণ করতে হয়েছিল। তবে এটা কেন, কখন, কোন প্রেক্ষাপটে, কিসের বাধ্যবাধকতা থেকে হয়েছিল তা অনুসন্ধান ও গবেষণার দাবি রাখে। সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতিসহ বেশ কয়েকজন বিজ্ঞ সদস্য নিয়মিত টিভি টক শোতে অংশ নেন। সভা-সেমিনারে বক্তব্য দেন। তাঁরা এখন এ বিষয়ে জাতিকে আলোকিত করতে পারেন। ঐতিহাসিক অজ্ঞানতার অভিশাপ থেকে জাতি মুক্তি পেতে পারে।
২২ সেপ্টেম্বর ১৯৭২ মুদ্রিত ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের খসড়া সংবিধান’-এর ৬০ অনুচ্ছেদে বলা হয়, “(১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীকে লইয়া এবং তিনি সময়ে সময়ে যেরূপ স্থির করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রীকে লইয়া বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকিবে। (২) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে কিংবা প্রধানমন্ত্রীর যেকোনো নির্দেশ-সাপেক্ষে অন্য যেকোনো মন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগযোগ্য হইবে।” এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৭২ সালে মুদ্রিত একটি ইংরেজি খসড়া সংবিধানের ২১ পৃষ্ঠায় ৬০(২) অনুচ্ছেদে ওই বিধানটির ইংরেজি তরজমা লক্ষ করি।
এবার লক্ষ করুন শেখ মুজিবকে কীভাবে মন্ত্রিসভা ও মন্ত্রীদের থেকে আলাদা সত্তা প্রদানের চিন্তা করা হয়েছিল। ৬০(৩) অনুচ্ছেদটি নিম্নরূপ: “মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ সরকারের সহিত সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহে প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তা করিবেন এবং যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকিবেন।” ১১ সেপ্টেম্বর মুদ্রিত ওই ইংরেজি খসড়ায়ও এই ৬০(৩) অনুচ্ছেদটির দেখা পাই। “দি ফাংশনস অব দ্য কেবিনেট শ্যাল বি টু অ্যাডভাইজ দি প্রাইম মিনিস্টার ইন ম্যাটারস অ্যাফেক্টিং দি গভর্নমেন্ট অব বাংলাদেশ।...”
১১ অক্টোবর ১৯৭২ মুদ্রিত হয়, ‘খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটিতে স্থিরীকৃত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের জন্য বিল।’ এর ১৭ নম্বর পৃষ্ঠায় ৫৫(১) অনুচ্ছেদে লেখা হয়: “১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকিবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী লইয়া এই মন্ত্রিসভা গঠিত হইবে। (২) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে কিংবা প্রধামন্ত্রীর যেকোনো নির্দেশ-সাপেক্ষে অন্য যেকোনো মন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে।”
১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বরে ঈষত্ পরিবর্তিত হয়ে ছাপা হলো। ৫৫(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: “প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে।” সেই থেকে আমরা এই সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র বয়ে চলেছি। দুটি বড় দলের সমর্থক বিশেষজ্ঞরা সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে সাধারণত প্রলাপ বকতে পছন্দ করেন। বিএনপির জাঁদরেল সমর্থক কাম সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বাহাত্তরের সংবিধানের বিরোধিতা করতে গিয়ে ধর্ম ব্যবসার উন্মাদনা চেপে রাখতে পারেন না। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের অবস্থাও তথৈবচ। ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালিত্বের মতো বিষয় ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেই তাঁদের যত জোশ।
দুই দলের বড় বড় নেতা ও সমর্থকদের (তথাকথিত সংস্কারপন্থীসহ) মধ্যে একটি বড় মিল। তাঁরা কখনো মূল খসড়া সংবিধান থেকে ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভাকে লইয়া গঠিত সরকারের উপর প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা ন্যস্ত থাকিবে।’ এই কথাটির বদলে ‘প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে’ এই কথাটি কীভাবে এল এবং এর ফলে দেশ যে চিরস্থায়ীভাবে সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্রের খপ্পরে খাবি খেয়ে চলেছে, সে বিষয়ে তারা নীরব। সংবিধান সংশোধনের সামপ্রতিক উদ্যোগের পটভূমিতেও লক্ষ করুন, এই সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র নিয়ে কোনো আলাপ কিংবা বিলাপ নেই। এরা গণতন্ত্রের জন্য মায়াকান্না করেন। বিএনপি যদি শেখ মুজিবর রহমানকে সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য গালাগালি করে, তাহলে তাদের কাঁধে দায় চাপে। জবাবদিহি করতে হয়। বলতে হয়, তাঁদের এত সাধের পঞ্চম সংশোধনী তাহলো কী ত্রুটি সারালো। আসলে রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির যুগেও মুজিবই নমস্য ছিলেন। ৫৫ অনুচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রী মুছে রাষ্ট্রপতি শব্দ বসে। ১৯৯০ সালে রাষ্ট্রপতি মুছে প্রধানমন্ত্রী বসে। আওয়ামী লীগ তো ৫৫ অনুচ্ছেদ মুখেই নেবে না। কারণ, বাহাত্তরের সংবিধান বলতেই আবেগে তাদের গলা বুজে আসে। এখন এটাকে ত্রুটি হিসেবে মানলে সংশোধনের দায় চাপবে। অতএব উট পাখি হও। বালিতে মুখ গুঁজে থাকো।
এই হলো আমাদের সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও তা ৩৭ বছর ধরে দুধ-কলা দিয়ে পোষার সংক্ষিপ্ত কাহিনী। বাংলাদেশের সামরিক শাসক ও সাংবিধানিক স্বৈরশাসকের মধ্যে আমি কেবল একটি বড় পার্থক্য দেখি। সিএমএলএ চোখের পলকে সংবিধান পাল্টাতে পারেন, প্রধানমন্ত্রী তা পারেন না। অবশ্য এত বড় মৌলিক ফারাক যে আছে, তা তো সংবিধানসম্মত স্বৈরতন্ত্র টিকে আছে বলেই। এটা কম কিসে!

প্রকাশ: প্রথম আলো
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29024447 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29024447 2009-10-12 12:44:29
নতুন সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়ীত হচ্ছে ট্রাফিক সিগনাল
এতদিন জানতাম গ্রীন সিগনাল মানে নিরাপদ। রাস্তায় ট্রাফিক সিগনাল গ্রীন হলে গাড়ী চলে। পথচারী পারাপারের সিগনাল গ্রীন হলে মানুষ জেব্রা ক্রসিংএ রাস্তা পার হয়।

আবার সিগনাল রেড হলে গাড়ী থামে। পথচারী পারাপারের সিগনাল রেড হলে মানুষ জেব্রা ক্রসিংএ থামে, রাস্তা পার হয়না।
কিন্তু চিরাচরিত এই নিয়ম বোধহয় আর বেশিদিন ভাত পাবে না। খুব শীঘ্রই সিগনাল পাল্টে যাবে। অর্থাৎ পুরো উল্টো হয়ে যাবে এই নিয়ম। মানে হচ্ছে, সিগনাল রেড হলে গাড়ি চলবে এবং সিগনাল গ্রীন হলে গাড়ী থামবে।
এবং এই কৃতিত্বের একমাত্র দাবিদার বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের রাস্তায় (ঢাকার রাস্তায়) পরীক্ষামূলক ভাবে এই নতুন সিগনালিং চালু হয়েছে (বিভিন্ন ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ সিগনাল ঘুরে এ তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে)। নতুন পদ্ধতির ফিজিবিলিটি স্টাডি হচ্ছে। বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্পের নানা টেকনিক্যাল দিক নিয়ে গবেষণা করছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া (স্বপ্নে প্রাপ্ত) তথ্যে জানা গেছে আগামী বছর বাংলাদেশ জাতীসংঘে এই নতুন সিগনাল পদ্ধতি বিশ্বব্যাপী চালু করার আহ্বান জানাবে এবং এটি সফল ভাবে প্রচলন করার জন্য যাবতীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করবে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ট্রাফিক পুলিশের একটি বিশেষজ্ঞ দল বিশ্বব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

যদি এটি সফল ভাবে করা যায় তাহলে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ইমেজ (JPG/BMP/GIF) অনেক বেড়ে যাবে। তাই আসুন আমরা সবাই মিলে এই মহান প্রকল্প সফল করার জন্য এগিয়ে যাই।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: বাংলাদেশ ট্রফিক পুলিশের সকল সার্জন ও পুলিশকে]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29022337 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29022337 2009-10-08 13:11:14
আপনি মানুষ না

আপনি যদি উত্তরা-আজিমপুর রুটের যাত্রী হয়ে থাকেন এবং সেটা সাতরাস্তা হয়ে, তাহলে নিশ্চিৎ জেনে রাখুন আপনি মানুষ না। আপনার নিজের কাছে আপনার সময়ের অনেক মূল্য থাকতে পারে, কিন্তু এ দেশ ও জাতীর কাছে তার কোনই মূল্য নেই।

ভাবছেন এ আবার কোন পাগল? দাড়াঁন তাহলে খুলে বলি।

উত্তরা থেকে আগত অনিক পরিবহনে উঠলাম খিলক্ষেত থেকে। উদ্দেশ্য পান্থপথ (অফিস)। ফার্মগেট হয়ে আসাটা ঝামেলা কারন সেক্ষেত্রে বাহন পরিবর্তন করতে হয়। তারচেয়ে এই পথে আসলে সরাসরি অফিসের সামনে নামা যায়। রাস্তায় জ্যাম তেমন ছিলনা বলে খুব দ্রুতই সাতরাস্তা পার হয়ে কাওরান বাজার পৌঁছে গেলাম। যখন সোনারগাঁও হোটেলের সামনে পৌছলাম তখন ঘড়িতে ৯:১৮ বাজে। কাজেই মনে মনে খুশি হচ্ছিলাম এই ভেবে যে, যাক অন্তত ৯:৩০ এর মধ্যে অফিসে পৌছতে পারব। কিন্তু কিসের কি?

বাস যখন সোনারগাঁও হোটেলের সামনে থামল তার আগে থেকেই সিগনালে লাল বাতি জ্বলে ছিল। এক মিনিট দুই মিনিট করে সময় পার হয় কিন্তু বাতি তো সবুজ হয়না, আর ট্রাফিক পুলিশও রাস্তা ছাড়ে না। বসে থাকতে থাকতে মনে হচ্ছিল শীকড় গজিয়ে যাবে। যখন ট্রাফিক পুলিশ রাস্তা ছাড়ল তখন ঘড়িতে ৯:৩৬। পুরো ১৮ মিনিট একটা সিগনালে আটকে রাখা পৃথিবীর আর কোথাও নজির আছে কিনা আমার জানা নেই। মজার ব্যাপার হল ট্রাফিক পুলিশ যখন রাস্তা ছাড়ল তখনও লাল বাতি জ্বলছিল। আমার মনে প্রশ্ন জ্বাগল এই বাতি কি কখনো সবুজ হবে? আর যদি হয় তবে কখন?

এখন বলুন, যারা কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ-এ চলাচল করেন তারা সবাই কি ভিআইপি? তাদের সময়ের অনেক মূল্য? যেকোন উপায়ে তাদের রাস্তা পরিষ্কার রাখতে হবে? আর যারা সোনারগাঁও-পান্থপথ-এ চলাচল করেন তারা কি? তাদের সময়ের কোন মূল্য নাই?
এ থেকে আসলে একটা প্রশ্নেরই উদয় হয়, তারা কি আসলে মানুষ?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29007368 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29007368 2009-09-09 11:59:31
মুড়াপাড়া কলেজঃ একটি ঐতিহ্যের অপমৃত্যু
সেখানে গিয়ে প্রথম দর্শন হল মুড়াপাড়া কলেজ। সহকর্মী সাঈদ ভাই যখন কলেজ দেখতে যাওয়ার কথা বললেন তখন খুব মেজাজ খারাপ হল। কলেজ আবার দেখার কি আছে? আর দশটা ডিগ্রী কলেজের মত নিশ্চই হবে। মনে মনে রাগ হলেও কিছু বললামনা।

তখন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টিতে ভিজেই উপস্থিত হলাম কলেজে। সেখানে পৌছে মনে হল না দেখলে অবশ্যই পরে আফসোস করতে হত।
পুরনো জমিদার বাড়ী। বিশাল জায়গা নিয়ে। ১৯৬৬ সাল থেকে এই ভবন কলেজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অসাধারান তার নির্মানশৈলি। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ইচ্ছেমত ছবি নিলাম।































কিন্তু দৃষ্টিনন্দন এসব স্থাপনার পরও আরও কিছু দেখার বাকি ছিল। এবং যথারীতি তা দেখলামও। তবে না দেখলেই বোধহয় ভাল ছিল। তাহলে অন্ততঃ সৌন্দর্য দেখার মুগ্ধতাটুকু থেকে যেত।
কলেজ ভবনের মাঝের গেট পার হয়ে যখন ভেতরের ভবনে প্রবেশ করলাম তখন নিজের অজান্তেই যেন একটা কথা বের হয়ে এল: একী দেখছি?
পরিচর্যা আর সংস্কারের অভাবে জীর্ণ শীর্ণ কয়েকটা ভবন। দেখে ভূতের বাড়ী মনে না হওয়ার কোন কারন নেই। এক এক করে ভবনগুলো ঘুরে দেখলাম আর ছবি তুললাম। যেন বুক ফেটে কান্না আসছিল। কত অসচেতন আমরা! কি একটা সৃষ্টি কি দশা করে রেখেছি!































এসব দেখে মনে শুধু একটা প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছিল- আমাদের সচেতনতা কি কখনো জাগ্রত হবে?


সেদিন কলেজ বন্ধ ছিল।

কিন্তু আমার মনে হয়েছে খুব শীঘ্রই এমন সময় আসবে যখন

এই প্রণীটিও এই ভবনে আসার ইচ্ছে ত্যাগ করবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29005273 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/29005273 2009-09-05 21:36:50
জামদানী'র কারিগর

সেদিন জন্মাষ্টমীর ছুটিতে ঘুরতে বেরিয়েছিলাম। যাওয়ার কথা ছিল শ্রীমঙ্গল, কিন্তু সহযাত্রীর অভাব এবং আবহাওয়া এ দুই মিলে শেষমেষ সে যাত্রা বাতিল করতে হল। কিন্তু তাই বলে ঘরে বসে থাকব? হতেই পারেনা। আমি আর আমার এক সহকর্মী এ দুজন মিলে ঠিক করলাম রূপগঞ্জ যাব। ব্যস যেই কথা সেই কাজ। দুজন মিলে বেরিয়ে পড়লাম।

আমরা খিলক্ষেত থেকে পূর্বাচলের রাস্তা ধরে গেলাম। কিছুটা টেম্পোতে, কিছুটা পায়ে হেটে, কিছুটা স্কুটার (বেবী টেক্সী) আবার সাথে নৌকায়ও চড়তে হল।

রূপগঞ্জ যখন পৌছলাম তখন বৃষ্টি শুরু হল। খানিকটা ভিজলামও। বৃষ্টিতে ভিজেই দেখলাম মুড়াপাড়া কলেজ। পুরনো জমীদার বাড়ীকে ১৯৬৬ সালে কলেজ হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়। অসাধারন সুন্দর। কিন্তু সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ। দেখে খুব কষ্ট হল। কলেজ ভবন নিয়ে একটা পোস্ট দেয়ার আশা রাখি।

কলেজ দেখে আমরা ছুটলাম জামদানী পল্লীর খোঁজে। শুনেছি ওখানে বেশ ক'টা জামদানী কারখানা আছে। তাই দেখতে ছুটে গেলাম। ওখানে মজার একটা অভিজ্ঞতা হল। ওদের ধারনা হল আমরা নিশ্চই সাংবাদিক। আমরাও সেই মজাটা উপভোগ করলাম <img src=" style="border:0;" />। সাংবাদিক নই এটা শুনলে হয়ত ওদের ছবি তোলার আগ্রহটা থাকতনা। তাই আমরা ওটা প্রকাশ করলামনা। কারখানার মালিকের সাথে অনেক কথা হল। নানা খুঁটিনাটি বিষয়ে প্রশ্ন করলাম। ওনারাও বেশ আগ্রহের সাথেই উত্তর দিলেন।

কারখানা ঘুরে আরও অবাক হওয়ার মত একটা অভিজ্ঞতা হল। কিছু কারখানায় দেখলাম বেশকিছু শিশু শ্রমিক কাজ করছে। কারও কারও বয়স ৭-৮ বছর হবে। এই বয়সের একটা বাচ্চা কিভাবে জামদানীর মত এত জটিল একটা কাজ করছে তা না দেখলে বিশ্বাস করা যাবেনা। সবমিলিয়ে খুবই মজার একটা সময় কাটালাম।
































































]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/28995711 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/28995711 2009-08-18 10:11:49
আর কতগুলো ম্যাচ-এ ফ্লপ করলে বাদ পড়বে আশরাফুল??
এতদিন তবুও একটা দায়িত্ব ছিল কাধে, অধিনায়কত্বের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে উনি ভুলেই গিয়েছিলেন যে উনি একজন ক্রিকেটার। সবার আগে পারফর্মেন্স চাই। আর সেই পারফর্মেন্স কি জিনিস তা তার ব্যাটিং দেখে এদেশের ক্রিকেট অনুরাগী দর্শক ভুলেই গেছে।
একজন অধিনায়ক একজন নেতা। যিনি থাকবেন সবার আগে। যিনি সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেবেন। দলের বিপদের সময় যিনি হাল ধরবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে এগুলোর সমন্বয় তার মাঝে খুব কমই দেখা গেছে। বরং দলের চরম বিপর্যয় মুহুর্তে খুব বাজে ভাবে আউট হয়ে মাথা নত করে প্যাভিলিয়নে ফিরতে দেখেছি অসংখ্যবার।

দল যখন ভাল পারফর্ম করে তখন ভাল রেজাল্ট আসে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেখানে অধিনায়ক হিসেবে তার অবদান কতটুকু সেটা ভাবার বিষয়। দলের সাথে নিজের পারফর্মেন্স যদি ভাল হত তাহলে তিনি সগৌরবে বলতে পারতেন যে তিনি অধিনায়কত্ব উপভোগ করছেন। অথচ প্রতি ম্যাচে যিনি নতজানু হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি কিকরে বলেন তিনি অধিনায়কত্ব উপভোগ করছেন?

আজ শুনলাম তিনি নাকি নিজেই বুঝতে পারছেন না কি কারনে তিনি পারছেন না। একজন খেলোয়াড়ের খারাপ সময় আসতেই পারে। কেউ একাধারে ভাল পারফর্ম করতে পারে না। কিন্তু তারও একটা সীমা আছে। যখন কারও ফর্ম থাকেনা তখন তাকে বিশ্রাম দেয়া হয় তার পারফর্মেন্স আবার ফিরিয়ে আনার জন্য। নেটে আর ঘরোয়া ম্যাচে খেলে সে তার পারফর্মেন্স ফিরে পেলে আবার দলে জায়গা করে নেয়। এটাই নিয়ম। কারন কারও জন্য দল থেমে থাকতে পারেনা। দেশে আরও খেলোয়াড় আছে, তারাও তাদের যোগ্যতা প্রমানের জন্য সুযোগ চায়। কিন্তু কোন একজন খেলোয়াড় পারফর্ম না করে দিনের পর দিন একটা পজিশন আটকে রেখে তিনি অন্য খেলোয়াড়দের সুযোগের পথে বাধা হয়ে থাকতে পারেন না। এটা যেমন সিলেক্টরদের বোঝা উচিৎ তেমনি সেই খেলোয়াড়কেও বুঝতে হবে। সিলেক্টররা হয়ত তাকে বার বার সুযোগ দিচ্ছেন এই আশায় হয়ত এবার সে ফিরে আসবে। কিন্তু আর কত? ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট এক্সপেরিমেন্ট করার জায়গা নয়। যে পারফর্ম করবে সে দলে থাকবে। সোজা হিসাব।

সাকিব কিভাবে টেস্ট সিরিজটা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিল তা দেখে শেখার আছে আশরাফুলের।

বিগত ১৫ ইনিংসে(ওয়ান ডে ম্যাচ) আশরাফুলের পারফর্মেন্স-এর একটা চিত্র এখানে তুলে ধরলাম:
১৪,৫,৩,৩,৬০*,৪০,৮,৭৩,৫,১৮,২৬,১৩,৪,৫,৩
মোট রান: ২৮০
১০০ X ০
৫০ X ২
গড় রান: ২০

অপরদিকে বিগত ১৫ ইনিংসে(ওয়ান ডে ম্যাচ) সাকিব-এর পারফর্মেন্স হল:
৫,৭,১৯,২৭,৫*,১০,১,৫১,১৭,৫২,৯২*,৯,১৫,২২,৩৩*
মোট রান: ৩৬৫
১০০ X ০
৫০ X ৩
গড় রান: ৩০.৪১

আর টেস্টে শেষ ৫ ইনিংসে আশরাফুলের রান ৭,৬,৩,১২,৩
মোট রান: ৩১
১০০ X ০
৫০ X ০
গড় রান: ৬.২

আর টেস্টে শেষ ৫ ইনিংসে সাকিবের রান ৪৬,১৭,৩০,১৬,৯৬*
মোট রান: ২০৫
১০০ X ০
৫০ X ১
গড় রান: ৫১.২৫

অধিনায়কত্ব উপভোগ করার কথা যদি বলতে হয় তাহলে তা সাকিবের মুখেই মানায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/28983928 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/28983928 2009-07-26 11:36:07
এত স্পর্ধা আশরাফুল পায় কোথায়?

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স ও অধিনায়কত্ব নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পরিচালক গাজী আশরাফ হোসেন প্রকাশ্যে সমালোচনা করায় জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা এক ধরনের বিদ্রোহের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ক্রিকেটারদের ক্ষোভ প্রশমনে বোর্ডের পক্ষ থেকে আজই তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা সহসভাপতি আহমেদ সাজ্জাদুল আলমের। তার আগে গতকাল নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন গাজী আশরাফ হোসেন।

গাজী আশরাফ প্রথমেই আবারও পরিষ্ককার করেছেন, তাঁর কথাগুলো একান্তই নিজস্ব মতামত, বোর্ডের নয়। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, অপারেশনস কমিটিতে না থাকলেও সাবেক অধিনায়ক হিসেবে জাতীয় দল নিয়ে কথা বলার অধিকার তাঁর আছে, ‘আমি খেলোয়াড়দের বক্তব্য পত্রিকায় পড়ে বিস্মিত হয়েছি। আমি মনে করি না যে ক্রিকেট অপারেশনস কমিটিই শুধু জাতীয় দল নিয়ে কথা বলার অধিকার রাখে। জাতীয় দলের একজন সাবেক ক্রিকেটার ও সাবেক অধিনায়ক হিসেবে লাল-সবুজের দল নিয়ে কথা বলার অধিকার আমারও আছে। আমি সে হিসেবেই কথা বলেছি, বোর্ডের মুখপাত্র হিসেবে নয়।’

গাজী আশরাফের বিপক্ষে ক্রিকেটারদের আরেকটি অভিযোগ, তিনি সরাসরি ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলাপ না করে সংবাদমাধ্যমে কথা বলেছেন। এ ব্যাপারে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও ম্যানেজারের ব্যাখ্যা, ‘বিশ্বকাপের আগে আমি জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলাপ করেছি। বিশ্বকাপের পর তাদের মধ্যে সেই আলাপ-আলোচনার কোনো প্রতিফলন দেখিনি। আমার মনে হয়েছে তাদের সঙ্গে আবার আলোচনার মতো বাকি কিছু নেই। তাই সংবাদমাধ্যমে কথা বলেছি।’
একই সঙ্গে গাজী আশরাফ আবারও জাতীয় দল ও অধিনায়কত্ব নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত মতকেই ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন, ‘আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পরও দেশে ফিরে অধিনায়ক বলেছেন, তিনি অধিনায়কত্ব উপভোগ করছেন এবং দলের পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এটা প্রমাণ করে, তিনি সঠিক চিন্তা করছেন না।’

ক্রিকেটারদের ভাষ্য হলো, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগ পর্যন্ত তাঁরা ভালো করেছিলেন। গাজী আশরাফের কাছে সেই ‘ভালো’ অর্থহীন, ‘অগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভালো করে কেউ তৃপ্তিতে ভুগলে তিনি এই গ্রহের মানুষ বলে মানা কঠিন।’ ক্রিকেটাররা আরও বলছেন, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একটিমাত্র ম্যাচ হারায় এত কথা ওঠা বাঞ্ছনীয় নয়। গাজী আশরাফ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিকে সাধারণ একটি ম্যাচ হিসেবে দেখতে রাজি নন, ‘তাদের বুঝতে হবে, ওই একটি মাত্র ম্যাচে হারের জন্য বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। ওই ম্যাচটির গুরুত্ব তাঁরা এতেই অনুমান করতে পারেন নিশ্চয়ই। ওই ম্যাচে জিতলে বাংলাদেশ দল সুপার এইট খেলত। ফলে এটিকে সাধারণ একটি ম্যাচের মতো করে দেখা যাবে না। এটি একটি সাধারণ পরাজয়ের চেয়ে বেশি কিছু।’

খবরঃ প্রথম আলো

আশরাফুল দেশে এসে বিমান বন্দরে বলেছেন-"ক্রিকেটে এমন হতেই পারে।" আমরাও জানি এমন হতেই পারে। কিন্তু সেটা বারবার নয়। গত বিশ্বকাপে এই আয়ারল্যান্ডের কাছে না হারলে বাংলাদেশ হয়তো সেমিফাইনালও খেলতে পারত। কিন্তু বাংলাদেশ সেটা পারেনি। তখন আমরা সেটাকে আপসেট হিসেবেই নিয়েছিলাম। কিন্তু এবার? আপসেট তো বারবার হতে পারেনা।
মাঠে অধিনায়কের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং এবং এরপর বোলার ব্যবহারে কান্ডজ্ঞানহীনতার পরিচয়- এরপরও কিকরে বলেন উনি অধিনায়কত্ব উপভোগ করছেন? অধিনায়কত্ব উপভোগ করার জিনিষ না, এটা একটা দায়িত্ব। দলে থাকতে হলে পারফরম করেই থাকতে হবে। যেকারনে হাবিবুল বাশার বাদ পড়েছেন সেই একই কারনে আশরাফুলও বাদ পড়াদের দলে পড়েন। তাকে এটা উপলদ্ধি করতে হবে।

আমাদের এক্সট্রাঅর্ডিনারী টেলেন্ট মোহাম্মদ আশরাফুল আর তিলকারত্নে দিলশান এর মধ্যকার পারফর্মেন্স এর একটা তুলনামূলক স্ট্যাটিস্টিকস
এখানে তুলে দিলাম

সবচে' অবাক হয়ে যাই আশরাফুলের স্পর্ধা দেখে। খারাপ পারফর্ম করার পর কেউ সমালোচনা করতে পারবে না? গাজী আশরাফ হোসেন যথার্থই বলেছেন অথচ আশরাফুল তার জবাব যেভাবে দিয়েছেন এবং গাজী আশরাফ হোসেন-কে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলেছেন তাতে তার মধ্যে সিনিয়রদের প্রতি কতটা শ্রদ্ধাবোধ আছে তা সহজেই অনুমান করা যায়। এমন বেয়াদবের হাতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বলে কিছু নেই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/28966983 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/28966983 2009-06-20 10:20:09
অগ্নি ও অগ্নি নির্বাপনঃ যা জানা জরুরী

বছর দুই আগে চোখের সামনে এনটিভি, আরটিভি পুড়তে দেখেছি। কিছুদিন আগে দেখলাম বসুন্ধরা জ্বলতে। এভাবে কিছুদিন পর পরই কোথাও না কোথাও আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে। কিন্ত আমাদের সচেতনতা এখনও সেই আগের পর্যায়ে।

এই ঢাকা শহরের অধিকাংশ বহুতল ভবন, মার্কেট-এ অগ্নি নির্বাপনের কোন ব্যবস্থা নেই। সবচে' আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে সরকারের নীতি নির্ধারকরা যেখানে বসেন সেই সচিবালয়ে পর্যন্ত অগ্নিনির্বাপনের সুব্যবস্থা নেই। নেই কোন ফায়ার ড্রিল-এর ব্যবস্থা। অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা থাকা সত্বেও বসুন্ধরা পুড়েছে কেবল ফায়ার ড্রিল না হওয়ায়। কোন যন্ত্র কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তা না জানা থাকলে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা থাকলেও তা কাজে আসেনা।

বসুন্ধরা পুড়ে যাওয়ার পর পত্রিকায় অনেক লেখালেখি হওয়ায় কিছুদিন আগে সচিবালয়ে ফায়ার ড্রিল হয়েছে। অনেক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতেও এমন ড্রিল হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু এটা কি যথেষ্ঠ? এ বিষয়ে সবার পরিষ্কার জ্ঞান থাকা জরুরী, বিশেষ করে আগুন কোন কোন কারনে লাগতে পারে, আগুন যদি লেগেই যায় তাহলে কি করতে হবে এবং সবচে গুরুত্বপূর্ন যে বিষয়টা তা হল আগুনের প্রকার ভেদে ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া, তানাহলে আগুন নেভাতে গিয়ে আগুন আরও বাড়িয়ে তোলার সম্ভাবনা থাকে যার পরিনাম ভয়াবহ হতে পারে। এসব নানা বিষয় নিয়ে এখানে কিছু আলোচনা করা হয়েছে।

সবার আগে জানতে হবে আগুন কি? আগুন কিভাবে জ্বলে?

আগুন কি?

আগুন হচ্ছে রাসায়নিক দহন বিক্রিয়ার ফলাফল। বিক্রিয়াটা সাধারনতঃ বায়ুমন্ডলের অক্সিজেন এবং কোন জ্বালানী (যেমনঃ কাঠ, বাঁশ, তেল, গ্যাস ইত্যাদি)-এর মধ্যকার। তেল, কাঠ ইত্যাদি যদিও সারাক্ষন অক্সিজেন দ্বারা বেষ্টিত তার পরও কিন্তু আগুন জ্বলেনা। কারণ দহন বিক্রিয়া সংঘটিত হওয়ার জন্য জ্বালানীকে তার প্রজ্বলন তাপমাত্রায় পৌছতে হয়।

আগুন কিভাবে জ্বলে?

ধরি একখন্ড কাঠকে খুব উঁচু তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করা হচ্ছে (সেটা হতে পারে কোন ফোকাসড লাইটের মাধ্যমে, ঘর্ষণ-এর মাধ্যমে কিংবা এমন কোন বস্তুর সংস্পর্ষে এনে যা নিজেই জ্বলছে)। যখন এই কাঠ খন্ডের তাপমাত্রা ৫০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট (২৬০ ডিগ্রী সেলসিয়াস)-এ পৌছে তখন কিছু সেলুলোজ জাতীয় পদার্থ ভেঙ্গে যায় যা দ্বারা কাঠ গঠিত। এই ভেঙ্গে যাওয়া সেলুলোজ গ্যাসের আকারে নির্গত হয় সাধারনতঃ হাইড্রোজেন, কার্বন ও অক্সিজেনের যৌগ হিসেবে। যখন এই গ্যাস অনেক বেশি উত্তপ্ত হয়ে যায় তখন এর যৌগের অনুগুলো ভেঙ্গে যায়। এবং এই মুক্ত অনুগুলো বাতাসের অক্সিজেনের সাথে নতুন করে মিলিত হয়ে পানি, কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য যৌগ গঠন করে। বাতাসে উর্ধ্বগামী গ্যাস শিখা তৈরি করে। কার্বন অনুগুলো এই শিখায় উত্তপ্ত হয়ে আলো বিচ্ছ্বুরন করে। শিখার তাপ কাঠের তাপমাত্রা প্রজ্বলন তাপমাত্রায় স্থির রাখে, কাজেই এটা ততক্ষন জ্বলতেই থাকে যতক্ষন পর্যন্ত জ্বালানী ও অক্সিজেন পাওয়া যায়।

তাহলে দেখা যাচ্ছে আগুন জ্বলার জন্য তিনটা জিনিস দরকারঃ
১. প্রচুর তাপ
২. অক্সিজেন
৩. জ্বালানী

এজন্য অগ্নিনির্বাপন যন্ত্রের কাজই হল এখান থেকে অন্ততঃ একটা উপাদান সরিয়ে দেয়া যাতে করে আগুন জ্বলতে না পারে।

নির্বাপনঃ

আগুনের থেকে এর অত্যাবশ্যকীয় তিন উপাদানের যে কোন একটা উপাদান সরিয়ে দিতে পারলেই আগুন নিভে যাবে। আর এ কাজ করার জন্য বিভিন্ন উপায় আছে।

ক) তাপ অপসারনঃ
তাপ অপসারনের সবচে’ ভাল পদ্ধতি হচ্ছে আগুনে পানি ঢেলে দেয়া। এতে করে জ্বালানীর তাপমাত্রা প্রজ্বলন তাপমাত্রার অনেক নিচে নেমে আসে। ফলে তা জ্বলন প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দেয়।

খ) অক্সিজেন অপসারনঃ
আগুন থেকে অক্সিজেন অপসারন করতে হলে আগুনকে আবদ্ধ করে ফেলতে হবে যাতে এটা মুক্ত বাতাসের সংস্পর্ষ না পায়। এতে করে আগুনের আশপাশের অক্সিজেন জ্বলে শেষ হয়ে যাবে এবং অক্সিজেনের অভাবে আগুনের মৃত্যু ঘটবে। আর এটা করার উপায় হচ্ছে মোটা কম্বল দিয়ে আগুনকে ঢেকে দেয়া। তাছাড়া অদাহ্য পদার্থ যেমনঃ বালি বা বেকিং সোডা ইত্যাদি আগুনের উপর ঢেলে দেয়া।

গ) জ্বালানী অপসারনঃ
অগ্নিনির্বাপনের সবচেয়ে কঠিন কাজ এটি। উদাহরন স্বরূপ কোন কাঠের তৈরি ঘরে লাগা আগুনের ক্ষেত্রে পুরো ঘরটাই জ্বালানী এবং এটা অপসারিত হবে কেবল তখন যখন সবটা পুড়ে যাবে।

অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র ও তার ব্যবহারঃ

অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র একটি মজবুত মেটাল সিলিন্ডার যার ভেতর পানি বা অদাহ্য অন্য কোন পদার্থ (তরল কার্বন-ডাই-অক্সাইড উদাহরন স্বরূপ) উচ্চ চাপে সংরক্ষিত থাকে। যখন লিভার চেপে সিলিন্ডারের ভালব খোলা হয় তখন ভিতরে রক্ষিত তরল সজোড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে যেমনটা হয় এ্যারোসলের ক্ষেত্রে।







অগ্নিনির্বাপন যন্ত্রের মুখে একটি সেফটি পিন দিয়ে আটকানো থাকে। যন্ত্র ব্যবহার করার সময় এই সেফটি পিন টান দিয়ে খুলে নিতে হয়। তারপর অপারেটিং লিভার নিচের দিকে চাপ দিলেই নজল দিয়ে বেরিয়ে আসে গ্যাস অথবা ফোম। নির্গত গ্যাস আগুনের শিখা লক্ষ করে ছাড়লে তা কাজে আসবেনা। সবচেয়ে ভাল ফল পেতে হলে জ্বালানী (যা জ্বলছে) লক্ষ করে গ্যাস ছাড়তে হবে। এবং অবশ্যই গ্যাস নির্গমন পাইপ ডানে-বায়ে নাড়াতে হবে (ঝাড়ু দেয়ার মত) যাতে করে চারপাশ থেকে বাষ্প উড়ে চলে যায়। আর এই কাজটা করতে হবে নিরাপদ দূরত্বে থেকে এবং আস্তে আস্তে সামনে এগিয়ে যেতে হবে যখন আগুন নিভতে শুরু করবে।

কোন কোন নির্বাপন যন্ত্রের মুখে চাপ নির্দেশক মিটার থাকে।



অগ্নিনির্বাপন যন্ত্রের গায়ে ব্যবহার নির্দেশিকা দেয়া থাকে। এই নির্দেশিকা দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভালভাবে পড়ে নেয়া উচিত। কারন কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তা জানা না থাকলে প্রয়োজনের সময় সেটা ব্যবহার করা হয়ত সম্ভব নাও হতে পারে।
বিভিন্ন রকমের নির্বাপন যন্ত্র থাকলেও তাদের ব্যবহার প্রক্রিয়া প্রায় একই রকম। এবং এটাকে একটা সুত্রের আকারে লেখা যায়ঃ

PASS

Pull the Pin at the top of the extinguisher. The pin releases a locking mechanism and will allow you to discharge the extinguisher.

Aim at the base of the fire, not the flames. This is important - in order to put out the fire, you must extinguish the fuel.

Squeeze the lever slowly. This will release the extinguishing agent in the extinguisher. If the handle is released, the discharge will stop.

Sweep from side to side. Using a sweeping motion, move the fire extinguisher back and forth until the fire is completely out. Operate the extinguisher from a safe distance, several feet away, and then move towards the fire once it starts to diminish. Be sure to read the instructions on your fire extinguisher - different fire extinguishers recommend operating them from different distances. Remember: Aim at the base of the fire, not at the flames!!!!

প্রয়োজনে এই নির্দেশিকা প্রিন্ট করে অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র যেখানে ঝুলানো থাকে তার পাশে টাঙ্গিয়ে রাখা যেতে পারে।

অগ্নি নির্বাপন যন্ত্রের প্রকারভেদঃ

আগুনের ধরনের উপর নির্ভর করে কোথায় কোন নির্বাপন যন্ত্র ব্যবহৃত হবে।
খুব ভাল, কার্যকর ও জনপ্রিয় অগ্নিনির্বাপন উপাদান হচ্ছে পানি। কিন্তু ভুল জায়গায় এর ব্যবহার মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে। পানি সাধারনতঃ জ্বলন্ত কাঠ, বাঁশ, কাগজ, কার্ডবোর্ড এজাতীয় পদার্থের আগুন নেভাতে পারে। কিন্তু পানি কখনোই বৈদ্যুতিক কিংবা দাহ্য তরলের আগুন নেভাতে পারেনা। বৈদ্যুতিক আগুনে পানি ঢাললে তা আপনাকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ করতে পারে। আর দাহ্য তরলের আগুনে পানি ঢাললে তা আগুনকে আরও ছরিয়ে দিতে পারে যা ক্ষতির পরিমান বাড়াবে বৈ কমাবে না।

একটি নিরাপদ অগ্নিনির্বাপন উপাদান হচ্ছে ড্রাই কার্বন-ডাই-অক্সাইড। যখন নির্বাপন যন্ত্রের ভালব খোলা হয় তখন কার্বন-ডাই-অক্সাইড সম্প্রসারিত হয়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাসে পরিণত হয়। যেহেতু কার্বন-ডাই-অক্সাইড অক্সিজেনের চেয়ে ভারী তাই এটি জ্বালানীর চারপাশ থেকে অক্সিজেনকে সরিয়ে দেয়। তার ফলে আগুনের তিন উপাদানের একটি অপসারিত হয়ে আগুন নিভে যায়।

সবচেয়ে জনপ্রিয় অগ্নিনির্বাপন উপাদান হচ্ছে ড্রাই ক্যামিকাল ফোম বা পাউডার যা সোডিয়াম বাইকার্বনেট (সাধারন বেকিং সোডা), পটাশিয়াম বাইকার্বনেট অথবা মনো এ্যামোনিয়াম ফসফেট দ্বারা তৈরি। বেকিং সোডা যখন উত্তপ্ত হয় তখন তা অল্প তাপেই (৭০ ডিগ্রী সেলসিয়াস) ভেঙ্গে যায়। এবং সোডা ভেঙ্গে কার্বন-ডাই-অক্সাইড-এ পরিণত হয়। সাথে থাকে ইনসুলেটিং ফোম যা একত্রে আগুনকে আবদ্ধ করে ফেলে এবং অক্সিজেন অপসারন করে। ফলে খুব দ্রুত আগুন নিভে যায়।

আগুনের ধরন ভেদে চার ধরনের নির্বাপন যন্ত্র পাওয়া যায়।



ক্লাস এ :
এ ধরনের নির্বাপন যন্ত্র কাঠ, বাঁশ, কাগজ, প্লাস্টিক ইত্যাদি পদার্থের আগুন নেভাতে পারে এবং এধরনের যন্ত্রে নির্বাপন উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয় পানি। সিলিন্ডারের গায়ে পানি ধারন ক্ষমতা ও কতটুকু আগুন নেভাতে সক্ষম তা উল্লেখ থাকে।

ক্লাস বি :
এ ধরনের নির্বাপন যন্ত্র পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, গ্রীজ ইত্যাদি পদার্থের আগুন নেভাতে পারে। সিলিন্ডারের গায়ে কত বর্গফুট আগুন নেভাতে সক্ষম তা উল্লেখ থাকে।

ক্লাস সি :
এ ধরনের নির্বাপন যন্ত্র বৈদ্যুতিক আগুন নেভাতে ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের যন্ত্রের গায়ে কোন রেটিং থাকেনা।

ক্লাস ডি :
এ ধরনের নির্বাপন যন্ত্র রাসায়নিক পরীক্ষাগারে দাহ্য ধাতুর (যেমনঃ ম্যাগনেসিয়াম, টাইটানিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম) আগুন নেভাতে ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের যন্ত্রের গায়েও কোন রেটিং থাকেনা। এবং এ ধরনের যন্ত্র কেবল মাত্র কাস ডি আগুনের জন্যই তৈরি, অন্য কোন আগুনে এ যন্ত্র ব্যবহার করা যায়না।



যে ধরনের নির্বাপন যন্ত্রই ব্যবহার করুন না কেন একটা কথা মনে রাখতে হবে এসব যন্ত্র অল্প কিছুক্ষন হয়তোবা ১০/১২ সেকেন্ড ব্যবহার করা যায়। তাই ব্যবহার করার সময় যাতে পুরোটা কাজে লাগে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। তানাহলে দামী এ জিনিস অপচয় হওয়ার আশঙ্কা আছে।

সবশেষেঃ

আগুন আমাদের নিত্যনৈমিত্তিক জীবনের সাথে ওতোপ্রতো ভাবে জড়িত। আগুন ছাড়া আমাদের চলেনা। আবার এক মুহুর্তের অসতর্কতা নষ্ট করতে পারে মূল্যবান সম্পদ ও কেড়ে নিতে পারে অনেক অমূল্য প্রাণ। তাই আগুন ব্যবহারে যেমন সতর্ক হতে হবে তেমনি আগুন যদি লেগেই যায় তাহলে কি করতে হবে তাও আমাদের ভাল ভাবে জানতে হবে।

আরটিভিতে আগুন লাগার পর সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার দিয়ে মানুষ উদ্ধার করতে গিয়েছিল কিন্তু হেলিকপ্টারের বাতাস সেই আগুনকে আরও বাড়াতে সাহায্য করেছিল।
এখনও উঁচু ভবনে আগুন লাগলে আমরা ফায়ার সার্ভিসকে দেখি জানালার গ্লাস ভাঙ্গতে। এতে করে আগুন আর আবদ্ধ থাকে না, প্রচুর অক্সিজেন সরবরাহ আগুনকে আরও বহু গুনে বাড়িয়ে তোলে। কাজেই এধরনের সচেতনতা প্রফেশনালদের ক্ষেত্রেও জরুরী।

আগুন বিষয়ে গনমাধ্যমের উচিত ব্যাপক জনসচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেয়া। আর আমাদেরও ব্যক্তি উদ্যোগে কিছু পদক্ষেপ নেয়া দরকার। আমরা যারা এ বিষয়ে জানি তারা আমাদের আশপাশের জনগনকে সচেতন করে তুলতে পারি। আর প্রত্যেকের বাড়ি, দোকান বা অফিসে অন্ততঃ একটা অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র রাখা উচিত। প্রাথমিক খরচটা হয়ত একটু বেশি এবং হয়তবা কখনোই এটা ব্যবহার হবেনা, কিন্তু বিপদের সময় এই যন্ত্রটিই আপনার অনেক মূল্যবান সম্পদ বাচিঁয়ে দেবে এবং রক্ষা করবে অমূল্য জীবন। তাই আসুন আগুন ব্যবহারে নিজে সতর্ক হই এবং অন্যকেও সচেতন করে তুলি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/28957577 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/28957577 2009-05-29 22:43:32
পেন্ডুলাম হয়ে যায়। আর স্পর্শের
বাইরে চলে যায় ক্রমশ।
নাগাল পাওয়া যায়না এখন
হাত বাড়ালেই আর।

ঘড়ির কাটা টিক-টিক করে
ছুটে চলে; কিন্তু শব্দ হয়না।
দেয়ালে টাঙানো বিরাটকায়
দেয়াল ঘড়ির ঘন্টা বেজে উঠে
ঢং ঢং করে, অসময়ে।
সেকেন্ডের কাটা
দ্রুত, আরও দ্রুত চলতে থাকে;
কিন্তু মিনিটের কাটা অগ্রসর
হয়না এক মাইক্রনও।

পরিপূর্ণ অনিশ্চয়তার মাঝে
দোল খেতে থাকে মূহুর্তগুলো।
এপাশ-ওপাশ করতে
থাকে অনবরত।
দু'পাশের দৃঢ় বাহুকে
অবলম্বন করে একই দিকে অগ্রসর
হওয়া সম্ভব হয় না আর।
কেবল দুলতে থাকে,
আর দুলতেই থাকে।
-যেন জীবনটা
পরিপূর্ণ পেন্ডুলাম এক।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/28957343 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/28957343 2009-05-29 10:42:08
অনুকাব্য-২ ১. কষ্ট

হৃদয় চিরে যার নাম লিখি,
সে বড় সযতনে ছুরি চালায় এ বুকে।

২. যেভাবেই হোক, যেখানেই হোক

পলকে পলকে ভাবিছি তোমায়,
স্বপনেতে হয় দেখা।
বলতে হবে কথাগুলো তোমায়
কাছে-দুরে এথা-সেথা।

৩. একটি স্বপ্নের তৈলচিত্র

হৃদয়ের শত বেদনা মম হৃদয়ে করিছে বাস,
যতই গড়িছে কাল ততই করিছে আমায় গ্রাস।
মনের কষ্ট কহিবারে আজি নাই কেহ মোর পাশে,
আসিবে একদা সেই রমনী দিন গুনি এই আশে।

৪. পকেট

জগতের যাবতীয় আনন্দ-হাসি
গর্ভে করে ধারণ, প্রসব করছ
যত্রতত্র; এমনি লীলা তব।
শুন্য, অসার যখন
নিঃশেষিত কাগুজে প্রাণ।

৫. আলপিন

আলপিন, সূচাগ্র আলপিন!
ক্ষুদ্র অতি শীর তব,
কী অসহ্য যন্ত্রণা-
মলিন চুম্বন
স্পর্শে ত্বক ক্ষণিক যবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/28957241 http://www.somewhereinblog.net/blog/mamun_r2001blog/28957241 2009-05-29 01:10:42