somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই সরকার কেন চাই

০৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৯:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে যাবো, অথচ গাড়ি চলে না। ধর্মঘট। এদিকে মাথামোটা হাসিনা পরীক্ষা নেবেই। বিশেষ ব্যবস্থায় কিছুলোক(ছাত্র) উপস্থিত হলো পরীক্ষা হলে। আমি গিয়ে পৌঁছলাম আধাঘণ্টাপর। তখন এমসিকিউ ছিল না। সব লিখতে হবে। নট অনলি পাশ, টিকে থাকবে হবে অন মেরিট।
আগের রাতে পরীক্ষা হবে না, এই আশায় ঢিলা দিছিলাম। প্রশ্নটাকে ইচ্ছেহলো চানাচুর বানিয়ে খেয়ে ফেলি। সময়ের টানাটানি, একটুযে ভবে লিখবো তাও পারছি না।
সময় জিজ্ঞাসা করছি আর লিখছি। রাস্তায় বেরিয়েছিলাম গাড়ি চলে কি না দেখতে, অ্যাডমিটটা আগে থেকেই পকেটে ছিল, ঘড়ি নেওয়া হয়নি। বারবার পেছনে তাকিয়ে সময় জানতে চাচ্ছি বলে এক স্যার এসে আমার খাতা নিয়ে আটকে রাখলেন ১০মিনিট। এই স্যারটাই একটু আগে আমার খাতা দেখে এক ছেলেকে কী যেন একটা বলে দিয়ে এলেন। আমরা বুঝলাম এবং সেটা নিয়ে একটু ফিনফাসও করলাম।
একটুপর রাজনীতির ছাত্ররা এসে গালভরা বক্তব্যে শুভেচ্ছা জানালেন। গেলো আরও পাঁচ মিনিট।

সেবার আর চান্স হলো না।
পরেরবার পরীক্ষা দিলাম আরামে। হলে দুদিন আগে থেকে উঠেছিলাম। চান্স হলো। সময় এলো ভর্তি হবার। চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাতকার। দশ জনের সাক্ষাতকার নিয়ে স্যার চলে গেলেন বাঙলার মুখ নামে বাঙলার মেয়েদের বুক প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে। পরদিন আবার এলাম। জিজ্ঞেস করলেন, মন্ত্রিটন্ত্রি আত্মীয় আছে কি না? মাইগ্রেশন করতে চাইলে কোনও কাজ হবে না। মতলব থাকলে এখনি বলতে হবে। ভর্তি না হতেই উৎসাহ দিলেন। চাকরির বাজার নাই।

তবু নিজের নেশায় ভর্তি হলাম।
পরীক্ষার সময়গুলো এলেই হাসিনা জলিলের আন্দোলন শুরু হয়। আওয়ামীলীগের কর্মসূচিতে জাতি আর অ্যাটেন্ড করে না। কিন্তু ইয়াসিনমার্কা স্যাররা কালোব্যাজ বুকে নিয়ে ঘুরে বেড়ান বক্তৃতা দেন ক্লাস করেন না। আমাদের দলীয় বন্ধুরা ক্লাসে এসে আমাদের হুমকি দেয় ক্লাস করলে ঠ্যাং....
জড়িয়ে পড়ি সেশনজটে। নানান ব্যঙ্গ পদ্য লিখি। লিটল ম্যাগাজিন বের করি। ভিসি হটাও আন্দোলন করি। ৫জন ভিসির বিদায় বাণী আমরা এক ব্যাচের স্টুডেন্টরা শুনতে পাই!
আসে মাস্টার্সের শেষ সময়। ঈদে বাড়ি যাই । আটকে পড়ি জলিলের বাণীতে। স্যারকে ফোনে বলি, তার কথা পরীক্ষা হবে। যেদিন হরতাল শেষ সেদিনই পরীক্ষা। স্যার আমরা আসবো কী করে? বাসায় তেমন বইও আনিনি। শুধু প্রথম পরীক্ষারটা এনছি। সেটাতে হরতালে ডুবে হয়ত দ্বিতীয়টা হবে। তার নোট নেই। ফ্যাক্স করে আনালাম। কিছু নোট। খরচ কত গেলো? প্রতি পৃষ্ঠা ১৫টাকায়।

প্রতিদিনের টিভিস্ক্রিনে তাকিয়ে থাকি। জলিল কী বলে।
জলিল তুই এখন কোথায়? হারামজাদা! অসহায় মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করেছিস! দ্যাখ কেমন লাগে?(আল্লাহ তুমি হাসিনা জলিলের মৃত্যূ দাও, এবং যারা মানুষের জীবন নিয়ে রাজনীতি করে)
হরতাল উঠুক না উঠুক ১৫ তারিখ রওনা দিলাম। পরীক্ষা যদি হয়েই যায়?
নদী পাড় হলাম ৮শটাকা ভাড়া দিয়ে স্পিডবোটে। তারপর গাড়িতে যায়গা না পেয়ে পণ্যবাহী ট্রাকে উঠলাম। তিনশটাকায়। এসে শুনি পরীক্ষা হবে না। সব ছেলে মেয়েই এসেছে, আসেনি শুধু ছাত্রলীগের সেলিম। স্যাররা সিদ্ধান্ত নিদেত পারছিলেন না, কী করবেন। বিএনপির স্যার, ভয় পেলেন , যদি সেলিম তার ক্ষতি করে! নেতা যেহেতু!
পরীক্ষা হলো না।

এভাবে একবার নয় বারবার প্রতি ইয়ারে পরীক্ষা পিছাতে পিছাতে... এদিকে জুনিয়ররা ফাঁকদিয়ে পাড় হয়ে সিনিয়র হয়ে গেছে।

সেই যন্ত্রণাকি ভুলেগেছি?
বেসরকারি এবং জাতীয়ভার্সিটিথেকে বেরুনো ছোটভাইরা কর্মস্থলে আমার সিনিয়র। এই কষ্ট কোথায় রাখি?

তবুওকি বলবো জলিলদেরকে ছেড়ে দেওয়া হোক।

এদের অসহায় াবস্থার কথা যখন শুনি মিডিয়ার কাছে তখন আনন্দে আহ্লাদিত হই আর প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ তুমি বাঁচাও এ জাতিকে এই রাজনৈতিক সন্ত্রাসীদের হাতে থেকে।

এই সরকার এদের ধরেছে। আমি না খেয়ে এই সরকারের কোষাগারে টাকা জমা দিতেও প্রস্তুত। তবু হাসিনাদের বিচার এই মাটিতেই হোক।
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×