বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে যাবো, অথচ গাড়ি চলে না। ধর্মঘট। এদিকে মাথামোটা হাসিনা পরীক্ষা নেবেই। বিশেষ ব্যবস্থায় কিছুলোক(ছাত্র) উপস্থিত হলো পরীক্ষা হলে। আমি গিয়ে পৌঁছলাম আধাঘণ্টাপর। তখন এমসিকিউ ছিল না। সব লিখতে হবে। নট অনলি পাশ, টিকে থাকবে হবে অন মেরিট।
আগের রাতে পরীক্ষা হবে না, এই আশায় ঢিলা দিছিলাম। প্রশ্নটাকে ইচ্ছেহলো চানাচুর বানিয়ে খেয়ে ফেলি। সময়ের টানাটানি, একটুযে ভবে লিখবো তাও পারছি না।
সময় জিজ্ঞাসা করছি আর লিখছি। রাস্তায় বেরিয়েছিলাম গাড়ি চলে কি না দেখতে, অ্যাডমিটটা আগে থেকেই পকেটে ছিল, ঘড়ি নেওয়া হয়নি। বারবার পেছনে তাকিয়ে সময় জানতে চাচ্ছি বলে এক স্যার এসে আমার খাতা নিয়ে আটকে রাখলেন ১০মিনিট। এই স্যারটাই একটু আগে আমার খাতা দেখে এক ছেলেকে কী যেন একটা বলে দিয়ে এলেন। আমরা বুঝলাম এবং সেটা নিয়ে একটু ফিনফাসও করলাম।
একটুপর রাজনীতির ছাত্ররা এসে গালভরা বক্তব্যে শুভেচ্ছা জানালেন। গেলো আরও পাঁচ মিনিট।
সেবার আর চান্স হলো না।
পরেরবার পরীক্ষা দিলাম আরামে। হলে দুদিন আগে থেকে উঠেছিলাম। চান্স হলো। সময় এলো ভর্তি হবার। চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাতকার। দশ জনের সাক্ষাতকার নিয়ে স্যার চলে গেলেন বাঙলার মুখ নামে বাঙলার মেয়েদের বুক প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে। পরদিন আবার এলাম। জিজ্ঞেস করলেন, মন্ত্রিটন্ত্রি আত্মীয় আছে কি না? মাইগ্রেশন করতে চাইলে কোনও কাজ হবে না। মতলব থাকলে এখনি বলতে হবে। ভর্তি না হতেই উৎসাহ দিলেন। চাকরির বাজার নাই।
তবু নিজের নেশায় ভর্তি হলাম।
পরীক্ষার সময়গুলো এলেই হাসিনা জলিলের আন্দোলন শুরু হয়। আওয়ামীলীগের কর্মসূচিতে জাতি আর অ্যাটেন্ড করে না। কিন্তু ইয়াসিনমার্কা স্যাররা কালোব্যাজ বুকে নিয়ে ঘুরে বেড়ান বক্তৃতা দেন ক্লাস করেন না। আমাদের দলীয় বন্ধুরা ক্লাসে এসে আমাদের হুমকি দেয় ক্লাস করলে ঠ্যাং....
জড়িয়ে পড়ি সেশনজটে। নানান ব্যঙ্গ পদ্য লিখি। লিটল ম্যাগাজিন বের করি। ভিসি হটাও আন্দোলন করি। ৫জন ভিসির বিদায় বাণী আমরা এক ব্যাচের স্টুডেন্টরা শুনতে পাই!
আসে মাস্টার্সের শেষ সময়। ঈদে বাড়ি যাই । আটকে পড়ি জলিলের বাণীতে। স্যারকে ফোনে বলি, তার কথা পরীক্ষা হবে। যেদিন হরতাল শেষ সেদিনই পরীক্ষা। স্যার আমরা আসবো কী করে? বাসায় তেমন বইও আনিনি। শুধু প্রথম পরীক্ষারটা এনছি। সেটাতে হরতালে ডুবে হয়ত দ্বিতীয়টা হবে। তার নোট নেই। ফ্যাক্স করে আনালাম। কিছু নোট। খরচ কত গেলো? প্রতি পৃষ্ঠা ১৫টাকায়।
প্রতিদিনের টিভিস্ক্রিনে তাকিয়ে থাকি। জলিল কী বলে।
জলিল তুই এখন কোথায়? হারামজাদা! অসহায় মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করেছিস! দ্যাখ কেমন লাগে?(আল্লাহ তুমি হাসিনা জলিলের মৃত্যূ দাও, এবং যারা মানুষের জীবন নিয়ে রাজনীতি করে)
হরতাল উঠুক না উঠুক ১৫ তারিখ রওনা দিলাম। পরীক্ষা যদি হয়েই যায়?
নদী পাড় হলাম ৮শটাকা ভাড়া দিয়ে স্পিডবোটে। তারপর গাড়িতে যায়গা না পেয়ে পণ্যবাহী ট্রাকে উঠলাম। তিনশটাকায়। এসে শুনি পরীক্ষা হবে না। সব ছেলে মেয়েই এসেছে, আসেনি শুধু ছাত্রলীগের সেলিম। স্যাররা সিদ্ধান্ত নিদেত পারছিলেন না, কী করবেন। বিএনপির স্যার, ভয় পেলেন , যদি সেলিম তার ক্ষতি করে! নেতা যেহেতু!
পরীক্ষা হলো না।
এভাবে একবার নয় বারবার প্রতি ইয়ারে পরীক্ষা পিছাতে পিছাতে... এদিকে জুনিয়ররা ফাঁকদিয়ে পাড় হয়ে সিনিয়র হয়ে গেছে।
সেই যন্ত্রণাকি ভুলেগেছি?
বেসরকারি এবং জাতীয়ভার্সিটিথেকে বেরুনো ছোটভাইরা কর্মস্থলে আমার সিনিয়র। এই কষ্ট কোথায় রাখি?
তবুওকি বলবো জলিলদেরকে ছেড়ে দেওয়া হোক।
এদের অসহায় াবস্থার কথা যখন শুনি মিডিয়ার কাছে তখন আনন্দে আহ্লাদিত হই আর প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ তুমি বাঁচাও এ জাতিকে এই রাজনৈতিক সন্ত্রাসীদের হাতে থেকে।
এই সরকার এদের ধরেছে। আমি না খেয়ে এই সরকারের কোষাগারে টাকা জমা দিতেও প্রস্তুত। তবু হাসিনাদের বিচার এই মাটিতেই হোক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

