ঈশ্বর কোন মন্দিরে থাকেন আমি জানি না। মানুষের হৃদয় কিংবা ইট-বালি-পাথরের তৈরি মন্দিরে...।
আমি কখনও ঈশ্বরের খোঁজে মন্দিরে যাইনি, যেতে চাইও না।মানুষের মাঝে ,পথের মাঝে ঈশ্বরের খোঁজে মাঝে মাঝেই বের হই। আমার পথের গল্প গুলোর আজ তৃতীয় পর্ব। বেশি সময় নষ্ট করবো না আপনাদের।।
আমাদের হলের (বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল) সামনের রাস্তায় এক বৃদ্ধা মহিলা প্রতিদিন বসে থাকেন, সারাদিন। কেউ পাশ দিয়ে গেলে তার দিকে একটা থালার মতো পাত্র বাড়িয়ে দেন। কেউ কেউ দেয়, কেউ দেয় না। আমি মাঝে মাঝে খুচরা পয়সা থাকলে কোন কোন দিন দিই। আমি আমার প্রশংসা করতে লিখতে বসিনি। আজ দুপুরে যখন ক্লাস থেকে হলে ফিরছিলাম তখন খেয়াল করলাম সেই বৃদ্ধাকে ঘিরে কিছু ছোট ছোট মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি একটু আগ্রহ নিয়ে লক্ষ্য করলাম। ওরা মনে হয় প্রাইমারী স্কুলে পরে। স্কুল শেষে বাড়ি ফিরছে। যে জন্য লেখা তা হচ্ছে, ৩/৪ জনের ভেতর একজন তার টিফিন থেকে কয়েকটা রুটি ঐ বৃদ্ধা মহিলাকে দিয়ে বলছে দাদী এখনি খেয়ে ফেল, এখনি খান......... দাদী যাই....... ।।
বিকালে অনেক পথ হাঁটাহাঁটির পর পলাশী বাজার হয়ে হলে ফিরছিলাম। এক মুড়িওয়ালার কাছে ঝাল মুড়ি খাব বলে দাঁড়ালাম। মুড়িওয়ালা মুড়ি বানাতে বানাতে বললো একটা ছেলে একটু আগে মুড়ি নিল কিন্তু টাকা না দিয়ে ঝারি দিয়ে চলে গেল। তার আগে সে একটা রিক্সায় করে ঐখানে নেমেছে কিন্তু রিক্সাওয়ালাকে টাকা দেয় নাই। বলছে মাপ করো........।।
হুমম ঈশ্বরের দেখা রাস্তায় মেলে সত্যি। কখনও তিনি হাসি মুখে ভিখারী বৃদ্ধা মহিলাকে রুটি দিয়ে যান, আবার কখনও রিক্সাওয়ালা, মুড়িওয়ালার টাকা ফাঁকি দেন। তাঁকে বোঝা এতো সহজ কি?তবে এটুকু বুঝি যে ঈশ্বরের খোঁজে বের হলে শয়তানের দেখাও মিলে যায় মনে হয়।
আমার পথের গল্প আজ এইটুকুই।।
বিঃদ্রঃ এখানে আমি আমার কল্পনার ঈশ্বরের কথা বলেছি

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

