মিশরীয় পৌরাণিক কাহিনীর পাখি "ফিনিক্স" এর মতো জীবন মানুষের নয়। ফিনিক্স জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়, তার পর নিজের ভস্ম থেকে জন্ম নেয় নতুন প্রান, শুরু হয় নতুন ফিনিক্স এর জীবন।
মানুষের জীবন এমন নয়। মৃত্যুতেই আমাদের সমাপ্তি। কেউ কেউ হয়তো খুব ভালো কিছু কাজ করেন অথবা খুব খারাপ কিছু, তার কথা বেঁচে থাকে যুগের পর যুগ। তবে শারিরিক পূর্নজন্ম ঘটে না ফিনিক্সের মতো।
গতকাল আমার বন্ধুর মৃত দেহকে ভস্মীভূত করা হয়, এক নিমেষেই মিলিয়ে যায় প্রানোচ্ছল একজন মানুযের অস্তিত্ব। আসলেই কি তাই হয়েছে! যে মানুষ জীবনকে এতো ভালো বাসতো, সে কি ভাবে সহজেই ছেড়ে যাবে এই পৃথিবী।
অসাধারন মানুষ এই বন্ধুটি তার শরীরের প্রতিটি অরগ্যান ডোনেট করে গেছে। তার নিথর শরীর থেকে একটি একটি করে খুলে নেয়া হয়েছে অরগ্যানগুলো। ও ছিলো নিরামিষভোজি, তার উপর জিবনে কখনও মদ, সিগারেট, মাদক ছুঁয়ে দেখেনি। নিঃসন্দেহে এক জন আর্দশ ডোনার।
আমার বন্ধুর হাসি মুখ আমরা আর কখনও দেখবো না, কখনও শুনবোনা ওর ছেলেমানুষি কথাগুলো। তবে এই পৃথিবীতে কারো শরীরে স্পন্দিত হচ্ছে ওর হৃৎপিন্ড, ওর ফুস্ ফুস্ নিঃশ্বাস নিচ্ছে কারো বুক ভরে, ওর অক্ষত র্কনিয়া টি কারো চোখের আলো ফিরিয়ে দিয়েছে। ওর কিডনী, লিভার অন্যকারো শরীরে সন্চালিত করছে নতুন প্রানের স্পন্দন। মিথ আছে কাল্পনিক পাখি ফিনিক্সের অশ্রু নিরাময়কারি। ওর মতো মানুষের জন্য মৃত্যু একরকম কান্না, ওর অশ্রু মৃত্যুর রূপ নিয়ে নিরাময়ে সাহায্য করেছে কতো অজানা অচেনা মানুষকে।
নিজের ভস্ম থেকে বেঁচে না উঠলেও, ভস্মীভূত হবার আগে ফিনিক্সের জিবনের মতো কিছু ঘটেছে আমার বন্ধুর জীবনে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

