সংবাদ শিরোনাম, "একজন নির্যাতিত বাড়ি ফিরেছে"!
নিঃসন্দেহে ভালো খবর। যে কারো বাড়ি ফেরার সংবাদটি সুখের আর নির্যাতিত কেউ ফিরেছে জানলে মনে হয়, একজন নিপীড়িত দুঃসহ কিছু অভিজ্ঞতার পর শান্তির ছায়ায় ফিরেছে। তবে এই শিরোনামটি পড়ে চমকে উঠেছি!
শিরোনাম ছিলো....
"ক্যালিফোর্নিয়ার নির্যাতিত টরটয়েজের বাড়ি ফেরা"!
এদেশের মানুষের বিচিত্র নাম রাখার অভ্যাস আছে, পশু পাখির নামে মানুষের নাম রাখা, আর মানুষের নামে পশু পাখির। আমার পরিচিত এক আমেরিকান পরিবারের কুকুরের নাম "রাধা"! মনে হলো তেমনই কেউ হয়তো শখ করে সন্তানের নাম রেখেছে "টরটয়েজ"।
বিস্তারির পড়ে ভুল ভেঙ্গেছে। ৪২ পাউন্ড ওজনের ২৫ বছর বয়সী "বব" আরভীন শহরে এক পরিবারের (?)পোষা কচ্ছপ। কোন এক দুষ্টু লোক তাদের বাড়ির উঠোন থেকে তাকে চুরি করে নিয়ে যায়। গোপন সুত্রে খবর পেয়ে পুলিশ একটি এপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের পিছন থেকে নির্যাতিত, ক্ষত বিক্ষত 'বব' কে উদ্ধার করে। প্রায় একমাসের বেশি সময় নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা গ্রহনের পর কচ্ছপটি বাড়ি ফিরেছে! সে এখন সুস্থ এবং ফিডিং টিউব ছাড়া খাদ্য গ্রহন করছে। আর তাই এই শিরোনাম!!
এই সংবাদের একটি মানবিক দিক হলো, 'বব' এর মালিকের ছয় বছর বয়সী অটিস্টিক পুত্র আছে, যে মানুষের সাথে কথা বলেনা তবে পশুপাখির সাথে আলাপ করে। বব যে ক'দিন নিখোঁজ এবং নিরাময় কেন্দ্রে ছিলো ততদিন এই শিশুটির সময় খুব খারাপ কেটেছে। চারপাশের পরিবেশ থেকে সে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলো, কচ্ছপটি ঘরে ফেরায় এখন সে তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছে।
'বব' কে অপহরন এবং নির্যাতনের সন্দেহে পুলিশ ১৮ বছরের এক তরুনকে গ্রেফ্তার করেছে, দোষী সাব্যস্ত হলে তার ৩ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।
আমাদের দেশে কয়েক বছর আগে এক হতভাগ্য নারী জঙ্গলে পচে গলে যাওয়া শরীর নিয়ে আর্তনাদ করছিলেন, কোন সহৃদয় ব্যক্তি তাঁর আকুতি শুনতে পেলে পুলিশ উদ্ধার করে সেই নির্যাতিতাকে। পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রভাবশালীর বখাটে সন্তান তার বন্ধুদের নিয়ে এই ঘৃণ্য অপকর্মটি করেছে! সেই ধর্ষক নরপশুরা শুধু তাঁকে ধর্ষন করে ক্ষ্যন্ত দেয়নি, তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করতে শরীর জালিয়ে দিয়েছিলো।
ভাগ্যে এমন বিভৎস নির্যাতন আছে বলেই বিধাতা ভদ্রমহিলাকে অপরিসীম সহ্য শক্তি দিয়েছিলেন মনে হয়, তিনি এসব সয়েও তিন চার দিন পর পর্যন্ত গলে পচে যাওয়া শরীর নিয়ে সেই ঝোপে জীবিত অবস্থায় ছিলেন!!! হাসপাতালে কিছুদিন চিকিৎসা গ্রহনের পর তিনি হার মানেন এবং পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।
খুব স্বাভাবিক ভাবেই আর দশ জনের মতো ওনার নাম ভুলে গিয়েছি। এমনকি ঘটনাটি সাভারে না অন্য কোথাও ঘটেছিলো মনে নেই! এই কচ্ছপের নির্যাতনের অপরাধে গ্রেফ্তার দেখে তাঁর কথা খুব মনে পড়ছে(নাম মনে রাখতে না পারলেও মাঝে মাঝেই মনে পড়ে)। পুলিশ শেষ পর্যন্ত এলাকার প্রভাবশালীর কুলাঙ্গার সন্তানটিকে এ্যারেস্ট করেছে কিনা জানিনা। এমন আরো কতো হাজার নির্যাতিত, নির্যাতিতারা আমাদের দেশে আছেন যাঁদের আর কখনও ঘরে ফেরা হয়নি, আর ফিরলেও তাঁদের নির্যাতনকারী থেকে গেছে সকল আইন কানুন, বিচারের ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
আমার দেশে কতো অগুনিত নির্যাতিতের আর কোন দিন বাড়ি ফেরা হয়না, কখনও তাঁরা সংবাদেও আসেননা! আবার অনেকে বাড়ি ফিরে মোকাবেলা করেন নতুন নির্যাতনের, নির্যাতিতা হবার অপরাধে সমাজের নির্যাতন সইতে হয় আজীবন....।
ছবি:- ফিডিং টিউব সহ 'বব'

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

