somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... এক মুঠো অন্নের হাহাকার নিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন- আসুন অন্তঃত একটি প্রাণকে বাঁচতে সাহায্য করি.... শুধু কথার কথা নয়, আক্ষরিক অর্থেই এক মুঠো অন্ন আর দুফোঁটা বিশুদ্ধ পানির জন্য এই হাহাকার।

গত ৬০ বছরের মধ্যে ভয়াবহতম দূর্ভিক্ষের শিকার পূর্ব আফ্রিকার কয়েকটি দেশ।

যদিও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের রিলিফ পৌঁছে যায় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে, তারপরও এই মঙ্গা, এই দূর্ভিক্ষের কারন গুটি কয়েক স্বার্থান্বেষী মহলের কূটকৌশল আর অমানবিকতা। তীব্র খরা, খাদ্যদ্রব্য মূল্যের অস্বাভাবিক উর্দ্ধগতি সেই সাথে বিভ্নি গ্রুপের সশস্ত্র সহিংস লড়াইকে প্রধানত দায়ী করা হচ্ছে..... এই ভয়াবহ আকালের অন্তর্নিহিত কারন যেমনটি হোক... বাস্তবতা হলো ভয়াবহ হাহাকারের রাহুগ্রাসে কোটি কোটি মানুষ, আর অসহায় শিশু আজ আর্তনাদ করা শক্তিটিও হারিয়ে ফেলেছে।

আমাদের দেশে হত দরিদ্রের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়। খাদ্যাভাব, শীতবস্ত্রের কষ্ট, কর্মসংস্থানের অভাব আবার কোথাও বিশুদ্ধ পানির অভাবে নিত্য হাহাকার দেশ জুড়ে। আমাদের জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ বিলাস বসন, প্রাচুর্য আর অপব্যয়ের উৎসবে মত্ত ঠিক তখন- দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষুধার্ত হতদরিদ্র মানুষের হাহাকার। আমরা এসবে অভ্যস্থ হয়ে পড়েছি, সবচেয়ে বেশী অভ্যস্থ এসব হতদরিদ্র মানুষের অন্নের নিশহচয়ট দেয়ার দায়িত্ব যাদের সেই শাসক গোষ্ঠী!! তারা নিয়মিত নিজের বিলাসবহূল অফিস বা আবাসে, পাঁচতারা হোটেলে ইফতার বা ডিনার পার্ট করে এসব হতভাগ্য মানুষের ভাগ্য পরবির্তনের জন্য গালভরা বুলি আুউড়ে দেশোদ্ধার করে চলেছে।

এই চিত্রের বাইরে আরো একটি চিত্র আছে... আমাদের দেশের হতদারিদ্র মানুষের চেয়েও দুর্ভাগা পূর্বআফ্রিকার মঙ্গাগ্রস্থ মানুষ, শুধু বেঁচে থাকার জন্য প্রতিমুহুর্তে সংগ্রাম করে চলেছে....



নাহ্! তাঁরা তিন বেলা আহার, বস্ত্র বা বাসস্থানের নিশ্চয়তা চাইছেননা.... শুধু ধরে প্রাণটা টিকিয়ে রাখার জন্য নুন্যতম খাদ্য আর পানীয়ের সন্ধানে প্রচন্ড উত্তাপ, গ্রীস্মের প্রখর রৌদ্র উপেক্ষা করে শত শত মাইল পায়ে হেঁটে রিলিফ ক্যাম্পের দিকে ছুটে চলেছেন। তাঁদের মাঝের গুটি কয়েক পরম সৌভাগ্যবান গন্তব্যে পৌঁছতে পারছেন, আরেকটি অংশ পথিমধ্যে ভাগ্যের কাছে আত্মসমর্পন করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে!! মা বাবা কে সন্তানদের মাঝ থেকে একজনকে বেছে নিতে হচ্ছে, দরিদ্রক্লিষ্ট শরীর যে এই দীর্ঘ পথে শুধু একজনের ভারই বহন করতে পারে.... অন্য সন্তানদের পথে ফেলে রেখে যেতে হচ্ছে নিশ্চিত মৃত্যুর অপেক্ষায়...



বিশ্বের একদল শিশুর চিত্ত বনিোদনের জন্য যখন হাজার, লক্ষ কোটি টাকাও যথেষ্ট মনে হচ্ছে না, সে সময় পূর্ব আফ্রিকার একদল কঙ্কালসার শরীরের শিশু একফোটা পানি, এক ঢোক খাবারের জন্য তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষায় আছে, যাদের অথিকাংশজনের অ্পেক্ষার সমাধান হয় মৃত্যুর মাঝে!!



আমাদের পরিবারের শিশুর শরীরের ফুলের টোকায় যখন পিতামাতার অণ্তরাত্মা কেঁপে উঠে, সেখানে পূর্ব আফ্রিকার অগুনিত পিতামাতা নিজ সন্তানকে শুধু দুফোটা পানী আর একমুঠো খাবারের অভাবে চোখের সামনে ধুঁকে ধুঁকে মরতে দেখছে প্রতিদিন!! খাদ্যাভাব আর অপুষ্টির এই সুযোগে আঘাত হানছে বিভিন্ন মরনব্যাধি.. ম্যালারিয়া, হাম- অক্টোবরে বর্ষা মৌসুম শুরু পর যা আরো ভয়াবহ আকার ধারন করবে বলে আশংকা করছে ইউনিসেফ।

এই শিশুদের স্থানে একটি বার নিজের আদরের সন্তানের মুখটি ভেবে দেখুন, তাদের অসহায় পিতামাতার স্থানে নিজেদের অথবা নিজের মা বাবা'র মুখ......

গত ৬০ বছরের মাঝে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কবলে পূর্ব আফ্রিকার সোমালিয়া, কেনিয়া, ইথিওপিয়া আর জিবোটির কোটি মানুষ। যাঁদের মাঝে প্রায় ২০ লক্ষাধিক শিশু আক্রান্ত যাদের বয়স এখনও পাঁচ বছরের প্রান্তটি ছুঁতে পারেনি।

তাঁদের এই নীভু নীভু প্রাণ প্রদীপকে জীবনে আলোয় প্রজ্জলিত করতে নুন্যতম মনুষত্ববোধ সম্পন্ন যেকোন মানুষের এগিয়ে আসা প্রয়োজন এবং অবশ্য কর্তব্য।

আমরা নিজেদের সভ্য মনে করলে, নিজের মাঝে মনুষত্বের ছিঁটেফোঁটা আছে বিশ্বাস করলে এমন দৃশ্য দেখার পর নির্লিপ্ত হয়ে বসে থাকা সম্ভব নয়।

বিশ্বে মুসলমিদের পবিত্র রমজান মাস এখন, সামন্য একটি ভালো কাজের জন্য অনেক অনেক গুন বেশী প্রতিদানের আশা স্রষ্টার কাছে... পবিত্র লাইলাতুল ক্কদরের মহিমান্বিত রাতের সময়ক কাল শুরু হয়েছে.. আর এমন একটি মাসে এই হত দরিদ্র ক্ষুধার্ত মানুষ, শিশুদের মুখে খাবার পৌঁছে দেবার সৌভাগ্য হলে তা অবহেলা করে হারানো অনুচিত।


আমরা প্রতিদিন মানবতার জয়গান গেয়ে হাজার হাজার শব্দরাশি সাজিয়ে পরিবেশন করছি বিভিন্ন মাধ্যমে, আজ আমাদের সুযোগ এই শব্দরাশিকে বাস্তবের রূপ দেবার। নিজ নিজ সাধ্যমতো হাত বাড়িয়ে দেই এই হতদরিদ্র দূর্ভিক্ষপিড়ীত মানুষের দিকে...

আমাদের জাতি, ধর্ম পরিচয় যেমনই হোক.. শুধু মানবতার খাতিরে হলেও অন্তঃত একবেলার আহার পৌঁছে দিতে চেষ্টা করি পূর্ব আফ্রিকায়...

বিশ্বের আর দশটি দুর্যোগের সাথে পূর্ব আফ্রিকার দূর্ভিক্ষে সাহায্য পৌঁছানোর মাঝে কিছু পার্থক্য আছে... সেখানে একপাল মানষরূপপী হায়না প্রতিনিয়ত লুট করছে সাহায্যের মালবাহী ট্রাক, হত্যা করছে ট্রাক চালককে.. অভাব গ্রস্থদের কাছে পৌঁছতে দিচ্ছেনা দুমুঠোো অন্ন বা জীবন রক্ষাকারী ঔষধ সামগ্রী...

এসব প্রতিকূলতা কাটিয়ে দূর্ভিক্ষ পীড়িতের কাছে সাহায্য পৌঁছে দিতে পারে এমন যে কয়েকটি সংস্থা সম্পর্কে

ঘরে বসেই একমুঠো খাবার পৌঁছে দেয়া যায় আফ্রিকার ভয়াবহ দূর্ভিক্ষ পিড়ীত মানুষের দ্বারে, বেশ কিছুদিন ধরেই সংস্থাটি দূর্ভিক্ষ পীড়িতদের কাছে খাবার ও চিকিৎসা পৌঁছে দিতে সফল ভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশের হতদরিদ্র মানুষের সাহায্যার্থে বিভিন্ন সময় কাজ করছে সংস্থাটি...

জাতিসংঘের ইউনিসেফ খাদ্যাভাব আর অপুষ্টি রোধে আক্রান্ত শিশুদের মুখে বিশেষ ধরনের পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্যের বিশেষ পেস্ট পৌঁছে দেবার উদ্যোগ নিয়েছে, ইউনিসেফের ডোনেশন লিংক

-আজ আমাদের আদরের সন্তান মুখে তুলে ধন্য করবে ভেবে কতো টাকার খাবার নষ্ট করেছি?
-আমরা যারা প্রবাসী, ডেট এক্সপায়ার হয়ে যাওয়া কতো হাজার টাকার খাবার নিয়মিত ভাবে ফেলে দেই ট্র্যাশক্যানে?
-আজ আয়েশ করে কতো টাকা তামাকে মুড়ে ভস্ম করেছি?
-বিলাসী রেস্তোঁরার বাফের অফুরন্ত খাবারের হাতছানীতে কতো টাকা বাজেট ভেবে রেখেছি সেখানে যাবার জন্য?
ঘরের ছট্টি শিশুর মুখে একটু হাসি ফুটবে ভেবে, কতো হাজার লক্ষ্য টাকার খেলনা কিনে ভরে রেখেছি আমাদের ঘর?
-এই ঈদে কতো সেট কাপড় হলে মনে হবে, আমার সন্তানের ঈদটা পূর্ণ হলো?
-এবারের ঈদে ঠিক কয়টা পোশাক হলে মনে হবে যথেষ্ট হয়েছে?

উপরের সকল প্রশ্নই জীবনের খুব সাধারন কিছু চিত্রের, যা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের স্বাভাবিক বাস্তবতা! দৈনন্দিন জীবনের তুচ্ছ নির্দিোষ অভ্যাস অথবা যে কোন পিতা মাতার স্বভাবগত স্বাভাবিক বাৎসল্য!!
আজ এই অতি সাধরান নিরীহ বিষয়ে প্রশ্ন সামনে চলে আসছে... আমাদের যেকোন দুর্যোগ- বন্যা, খরা, সাইক্লোন, ঘূর্নিঝড়ের ছোবলের পর আমরা তাকিয়ে থাকি ধনাঢ্য দেশেগুলোর দিকে। নিজেরা দরিদ্র দেশ হলেও.. পূর্ব আফ্রিকার এসবহত ভাগ্য মানুষের তুলনায় অনেক অবস্থাপন্ন, অনেক ভালো আছি আমরা...

এক প্যাকেট সিগারেটের খরচ, একবেলার স্ন্যাক, প্রতিদিনের উচ্ছিষ্ট খাবারের সম অর্থ- যেকোন এ্যামাউন্টের জন্য আজ চাতকের মতো অপেক্ষা করে আছে লক্ষ লক্ষ শিশু নারী, পুরুষ।
এই ঈদে আমরা একাধিক পোশাক না কিনে একটি নতুন পোশাক কিনলে ঈদের আনন্দ এতোটুকু মলিন হবেনা, বরং একাধিক পোশাক না কিনে সেই অর্থে এসব হতভাগ্য মানুষের অন্ন তুলে দিতে সক্ষম হলে, ঈদের আনন্দ বহুগুনে বৃদ্ধি পাবে।
শাড়ী জামার সাথে চূড়ি, মালা, গহনা, অনেকেরই আছে,- ঈদে নতুন করে না কিনলেও খুব ক্ষতি হবেনা। আমাদের শিশুদের জন্য একটি নতুন পোশাক বরাদ্দ করে, বাকি অর্থ সোমালিয়ার খাদ্যাভাব গ্রস্থ শিশুদেরজন্য দান করলে, আমাদের সন্তানরাই অধিক লাভবান হবে।

প্রবাসীদের জন্য দান কাজটি সহজ, একটি ক্লিক বা একটি ফোনের মাধ্যমেই তা করা যায়... ধনাঢ্য, যথেষ্ট আর্থিক সঙ্গতি সম্পন্ন থেকে শুরু করে সংগ্রামী সাধারন ছাত্র সকলেই এগিয়ে আসতে পারেন। আপনার সাধ্যমতো এ্যামাউন্ট দিয়ে এসব হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে...

১০০০ ডলারে, ইসলামিক রিলিফ ৭টি পরিবারের একমাসের অন্ন, আশ্রয় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারে... ৫০০ ডলারে যোগান দিতে পারে
এমনকি আপনার দেয়া ১০টি ডলার দিয়ে ইউনিসেফ “মাল্টিপল মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পাউডারে” ৩২১টি প্যাকেট সরবরাহ করতে পারে , যা ছোট্ট শিশুদের অপুষ্টিজনিত রোগ ও মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।

আমরা যারা পৃথিবীরর যে প্রান্তেই বাস করছি, আসুন হাত বাড়িয়ে দেই এই হতভাগ্য মানুষের দিকে.
ইসলামিক রিলিফের ডোনেশন লিংক

ইউনিসেফের ডোনেশন লিংক

বাংলাদেশ থেকে সাহায্য প্রেরণের জন্য-
মুসলিমি এইড এর শাখা অফিস পূর্ব আফ্রিকার রদূর্ভিক্ষ পীড়িতদের সাহায্যার্থে নগদ অর্থ গ্রহনে সন্মত হয়েছে।
অর্থ গ্রহনের সময় রিসিট প্রদান এবং তা যথাস্থানে পৌঁছে দেবার পর সাহায্য কিভাবে দেয়া হলো তাও জানাবেন।

মুসলিম এইড এর ঠিকানা: -
বাড়ি- ১৩ সড়ক- ২৭ ব্লক- জে(j) বনানী, ঢাকা।
ফোন: ০১৮৪- ১২৪৬৩০২


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29436368 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29436368 2011-08-22 01:23:01
ফেলানীদের হত্যার লক্ষ্যে চাঁদা তোলা হচ্ছে, আমরা যারা চাঁদা দিবো...!!!

তারপর......?

ফেলানীদের হত্যা করতে বিএসএফ এর মূল্যবান বুলেট খরচ হয়, অতি হিসেবী ভারতীয় সরকার কি তা এতো সহজে মেনে নিবে! বহন করবে এমন মূল্যহীন সব প্রাণ নিধনের জন্য একটি অধিকতর মূল্যবান বুলেটের ব্যয়ভার!!
বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের মাঝে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে যে ভারত, জাতিগত ভাবেই যারা হিসেবী বলে পরিচিত তাদের সরকার তো এই হিসেবের বাইরে যেতে পারেনা...

এই সমস্যার সমাধান আছে... ফেলানীদের হত্যার মূল্যবান বুলেট, আগ্নেয়াস্ত্রের খরচটা না হয় ঐ মুখপোড়া বাংলাদেশীদের কাছ থেকেই আদায় করে আনা হোক!! আর এই বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগতিার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের সামনে নতজানু হয়েই আছে অভাগা বাংলাদেশের বিশ্বাস ঘাতক কৃতঘ্ন সরকার!!

সারা বছর জুড়ে বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্যের ব্যবহার এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে যেখান থেকে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব মনে হয়ে। খাদ্য দ্রব্যের মাঝে আলু, পেঁয়াজ, চাল, ডাল, মশলা থেকে শুরু করে মাছ, গোশত এমনকি ফলমূল সর্ব ক্ষেত্রে ভারতীয় পণ্যের প্রতি তাদের নির্ভরশীলতা সাফল্যের সাথে নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি সেদেশে কৃষকরা চাষ করতে চাইলেও চাষাবাদে ব্যবহৃত সার থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরন্জ্ঞামাদি ভারতীয়.....

বাংলাদেশের শিল্প সংস্কৃতি আজ দেশের নাগরিকের কাছে দ্বিতীয় অপশন, কালে ভদ্রে বা বিশেষ দিবসে চ্যানেল পরিবর্তন করে দেশী টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠান গলধঃকরন করা হয়- আর সারা বছরের নিয়মিত নির্মল বিনোদনের জন্য বরাদ্দ ভারতীয় সব চ্যানেল।

পোশাক, বা পরিধেয় বস্ত্রের ক্ষেত্রে ভারত নির্ভরশীলতার কথা নতুন করে কিছুই বলার নেই। একপাল স্থূল রুচীর নারী পুরুষের কাছে ভারতীয় পোশাক বেঁচে থাকার জন্য অত্যাবশ্যক।।
ইদানীং বাংলাদেশী পত্রিকায় ঘটা করে ভারতীয় জুতার বিজ্ঞাপণ প্রচার হয় বলে শুনেছি!!
মেয়েদের গহনা, পোশাক আর আনুসঙ্গিক সরান্জ্ঞামাদির সাথে জুতো যোগ হয়ে যেনো ষোলকলা পূর্ণ হলো!!
ঈদপার্বন এলে তো কথাই নেই... ভারতীয় ছায়াছবি বা তাদের বিভিন্ন চরিত্র এমনকি সঙ্গীতের নামানুসারে প্রবর্তিত পোশাক কেনাটা সমাজে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য!


আর এই নির্লজ্জ আচরনের মাধ্যমে ভারতীয় সাজ পোশাকে নিজেদের সাজিয়ে তোলার সাথে সাথে সেই দেশের প্রতি পরোক্ষ আনুগত্য এবং নিয়মিত ভাবে ফেলানীদের হত্যা করায় প্রত্যক্ষ মদদ দেয়া হচ্ছে।।

বছরের ৩৬৫ দিন যেখানে ভারতীয় পণ্যের প্রতি নির্ভরশীলতা সেখানে হঠাৎ চাঁদা তোলার প্রশ্ন এলো কেনো???

কারণ...

৩৬৫ দিনে খাদ্য দ্রব্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের প্রতি সুক্ষভাবে যে নির্ভরশীলতা সৃষ্টি করা হয়েছে তা থেকে হঠাৎ বেড়িয়ে আসা সম্ভব নয়। তবে এই যে ঈদ উপলক্ষ্যে দেশের ১৬ কোটি না হলেও ১২ কোটির অধিক মানুষ যে পোশাক বা পরিধেয় বস্ত্র ক্রয় করবে, সেক্ষেত্রে ভারতীয় পোশাক বর্জন সম্ভব।
কেউ ভারতীয় পোশাক কেনার ইচ্ছে পোষন করলেই ফেলানীর ঝুলন্ত লাশের ছবিটি সামনে তুলে ধরে জানবেন,

আপনি এই মেয়েটিকে হত্যার জন্য দায়ী। বিএসএফ কর্তৃক নিরীহ বাংলদেশী হত্যায় যারা প্রতিবাদ মূখর, তাঁরা নিশ্চিত করতে পারেন নিজে ও পরিবার পরিজনের মাঝে কেউ যেনো ভারতীয় পোশাক ক্রয় না করেন।

অন্তঃত আমার কাছে বাংলদেশী পোশাকের মান ভারতীয় পোশাকের চেয়ে ঢের বেশি ভালো। আমাদের দেশের বিভিন্ন বুটিক ও দেশজ তাঁত শিল্পের কাপড় ভীনদেশি এমনকি পশ্চিমাদের কাছে সমাদৃত। আর দেশী পোশাকে নিতান্ত অরুচী হলে(যদিও তা একজন বাংলাদেশীর জন্য শুধু লজ্জাকর নয় হীনমণ্যতাবোধের পরিচায়ক) চায়না, জাপানের বা অন্য কোন দেশের কাপড় কিনে পোশাক বানিয়ে নেয়া যায়। শিশুদের জন্য দেশী পণ্যের বাইরে কিছু কিনতে চাইলে চায়না, হংকং, থাইল্যান্ড সহ বিভিন্ন দেশের পোশাকও আমাদের দেশে সহজলভ্য।

আর যদি এতো কিছুর পরও ভারতীয় পোশাকটিই কারো পছন্দের হয়, তাহলে নিজেকে ফেলানী ও তাঁর মতো বিএসএফের গুলিতে নিহত অগুনিত বাংলাদেশী নারী পুরুষের হত্যাকারী হিসেবে মেনে নিয়ে, মনের আনন্দে ভারতকে ফেলানীদের হত্যার চাঁদা প্রদান করা যায়।।।।

সারা বছর প্রাত্যহিক জীবনের হাজারো জিনিস কেনা হয়, সেখান শুধু ঈদে ভারতীয় পোশাক বর্জন করে কি হবে, এমন ভাবনা অনেকের মনে জন্ম নিতে পারে....!
- শুরুটা কোথাও থেকে হতে হবে, আর এমন উৎসবের পোশাক, জুতা, সাজের সরন্জ্ঞাম দিয়ে সেই শুরুটা অনেক বেশি সহজ... কারন এর বিকল্প প্রচুর!!


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29427038 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29427038 2011-08-07 08:12:11
এই গ্রীষ্মে- কিছু কথা, কিছু ছবি...!

“মুছে যাক গ্লানি. মুছে যাক জরা
অগ্নি স্নানে শূচি হোক ধরা..”
সুস্থ, সুন্দর নির্মল নতুন জীবনের আহ্বান জানিয়ে নতুন বছর তথা গ্রীষ্মের আগমন ঘটে আমাদের দেশে, পহেলা বৈশাখের উৎসবের আমেজ শেষ হতে না হতেই (কখনও তার কিছু দিন আগে থেকেই) সাধারণ জনজীবন অতীষ্ট হয়ে উঠে দাবদাহে.... সূর্যের প্রখর তেজে ঘর্মাক্ত, পিপাসার্ত মানুষের মনে রবি বাবুর বৈশাখ সঙ্গীত নয়, এক পশলা বৃষ্টি অথবা হীম শীতল রাত্রির আকুতি আচ্ছন্ন করে রাখে....

গোলার্ধের প্রায় উল্টো দিকে প্রতিবছর কাঙ্খিত গ্রীষ্মকালটি প্রকৃতপক্ষেই আনন্দবার্তা বয়ে আনে। সামার বা গ্রীষ্ম মানেই এখানে আনন্দ আর উৎসব.. পরিবার পরিজন সহ দল বেঁধে কোথাও বেরিয়ে পরা, কখনও দূরে কোথাও, কখনও ঘরের কাছেই. .. যে যার সামর্থ মতো দুহাতে লুটে নেয় রৌদ্রজ্জ্যল সময়টার সবটুকু আনন্দ।

এই বছর আমেরিকার অধিকাংশ স্থানে গ্রীষ্মের আগমন ঘটেছে বেশ রুদ্র রূপে... সূয্যিমামার রক্ত চক্ষু প্রায় ভস্মীভূত করে দিতে চাইছে মাঠ, ঘাট, পথ প্রান্তর। এমন উন্নত একটি দেশেও গ্রীষ্মের দাবদাহে প্রাণহানী ঘটেছে বেশ কিছু মানুষের! ছোট্ট ফ্যান যুক্ত ঠান্ডা পানির স্প্রে বোতল বিক্রী হঠাৎ বেড়ে গেছে, গরমে অতীষ্ট মানুষ অনেক সময় স্থান কাল ভুলে নেমে পড়ছে সামনের জলাশয়ে কিছুটা স্বস্তি কিছুটা প্রশান্তির আশায়- হোক তা ক্ষণিকের!

আমেরিকার বড় অংশ জুড়ে তিন অংকের তাপমাত্রার কছে ঘরের এয়ার কন্ডিশনার যখন প্রায় হার মেনে বসে আছে, তখন কিছু কিছু অংশে শীত নিবারনের জন্য রুম হিটারটিকে সচল রাখতে হচ্ছে দিনের প্রায় অধিকাংশ সময়!!! মহাদেশ বলে কথা- এখানেই একটি দেশ আর মহাদেশের পার্থক্য প্রকট হয়ে উঠে!!

মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আর তাপমাত্রা তিন অংক দূরের কথা অর্ধ শতকের নীচে বিরাজ করলেও “সামার” কে তো আর এমনি এমনি চলে যেতে দেয়া যায়না..... রৌদ্রজ্জ্যল একটি দিন পেলেই মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে পরে আনন্দের খোঁজে।

আমাদের দেশে গ্রীস্মকালের দাবদাহের সাথে সাথে কাঙ্খিত কিছুর আগমন ঘটে- তা হলো আম, জাম, লিচু কাঠালের মতো রসে ভরপুর সুমধুর ফলের সমারোহ!!! তেমনি এই দেশেও গ্রীষ্মের আনন্দ উৎসবে সামিল হয় হরেক রকম সতেজ ফলের বর্ণিল উপস্থিতি।

দাবদাহ খরতাপ নয়, আমার পছন্দ মেঘলা আকাশ, রিমঝিম বৃষ্টি আর তার পরে মিষ্টি হিমেল হাওয়ার শীতকাল তাই বন্ধুবান্ধবদের হরেক রকম পরিকল্পণা এড়িয়ে গ্রীস্ম উৎসব থেকে যথাসাধ্য দূরে সরে থাকি। এবার গ্রীষ্মের ভিন্ন রূপ দেখে মনে হলো, তাপমাত্রা আর আকাশের মেজাজ যেমনই হোক সকলে মিলে একটু ঘুরে আসা যায়...

রৌদ্রের গ্যারান্টি আছে এমন স্থানই বেছে নেয়া হলো, আর এসময় বেড়ানো মানেই সৈকত- হোক তা সমুদ্র অথবা লেকের পাশে... জলের একদম কোল ঘেঁষে...

গন্তব্যে পৌঁছতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে, তাই লেকের পানিতে চাঁদের আলোর



ঝলমলে হাসি দেখেই রাত্রির সৌন্দর্য অবগাহনে সন্তোষ্ট হতে হলো।


সকালে ঘুম ভেঙে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ হলাম এই গ্রীষ্মেও কুয়াশাচ্ছন্ন মেঘলা ভোরের স্নিগ্ধ পবিত্র আমেজে!


সময়ের সাথে সাথে শুরু হলো সূর্য আর মেঘের লুকোচুরি খেলা।

বৃষ্টি ছাড়া ভ্রমন অসম্পূর্ণ এই আমার প্রতি সৃষ্টি কর্তার কৃপা হলো, আবহাওয়া পূর্বাভাসে ঝলমলে রৌদ্রজ্জ্যল দিন সম্পর্কে নিশ্চিত করা হলেও সবকিছু উপেক্ষা করে চারপাশ আঁধার করে বৃষ্টি নামে!!!!

রৌদ্রপ্রেমী যে ভীনদেশী বন্ধুটি আবহাওয়া দেখে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে স্থান নির্বাচন করেছিলো, তাঁর মুখ আকাশের চেয়ে ঘনকালো মেঘ গ্রাস করেছে মরিয়া হয়ে বললো, “দেখো তোমার জন্য এমন অসময়ে বৃষ্টি এসেছে, তোমার সাথে সাথে বৃষ্টি চলে এসেছে। তুমি দয়া করে মেঘকে একটু বলো রৌদ্রকে নিয়ে আসতে”। সামনের লেকের ঘভীর জলে বৃষ্টির টাপুর টুপুর দৌড়ঝাপের আনন্দ থেকে বন্চিত হবো জেনেও বন্ধুটিকে স্বান্ত্বনা দিয়ে বললাম; “আমার সাথে বৃষ্টি এলেও তোমার সাথে রৌদ্র আসার কথা। মন খারাপ করোনা, মেঘকে বলেছি তোমার মতো রৌদ্রপ্রেমিকার জন্য রৌদ্রকে একটু পাঠিয়ে দিবে :-)”


কিছুক্ষণ পর চারপাশের সাথে সাথে আমার বন্ধুর মুখটিও আলো ঝলমলে করে রৌদ্রের আগমন।




ব্যস্ত শহরের কোলাহল থেকে বেশ দূরে পর্যটনের চমৎকার স্থানটি জুড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমারোহ-





পাহাড়, লেক আর ঘনসবুজ চারপাশের সাথে এক হয়ে মিশে আছে বিভিন্ন ফলের বাগান।









কোথাও পরিপূর্ণ বর্ণিল ফল,




আবার কোথাও সদ্য ফুল থেকে উঁকি দিয়ে ফলের সবুজ কচি মুখ..


বিভিন্ন বর্ণের ফলের পাশে মাঝে মাঝে নিজের অস্তিত্ব জাহির করছে গর্বিতা পুষ্পরানী



একবার মুগ্ধতা গ্রাস করলে প্রায় সবকিছুই সুন্দর হয়ে উঠে..

তাই ফেরার সময় পথের পাশে নিতান্ত অবহেলা অযত্নে ফুটে থাকা প্রায় মৃত ফুলের গুচ্ছ,


লেকের অসামান্য সৌন্দর্য,

পহাড়া চূড়া থেকে ওপারের পৃথিবীটা- সবকিছুই হয়ে উঠেছিলো মনোমুগ্ধকর!!

নিজ শহরের কাছাকাছি পৌঁছতেই ঝুম বৃষ্টি বরণ করে নিলো যেনো...

পথে বৃষ্টির ছটা আর মেঘের নাচনে ভিজিবিলিটি প্রায় শূণ্যের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলো কখনও কখনও....


সমুদ্রের নেশার মতো, সব জলরাশির নেশা আছে মনে হয়!



তাই ঘরে ফেরার পরও ছুটে যাই অদূরের লেকে...






এদিকে ঘরের বাগানে কে যেনো অভিমান করেই বললো, দূর দূরান্তে ছুটে চলেছো অথচ এই আমরা এখানেই আছি....

মুগ্ধ হলাম একটি ছোট ডালে সাতজনের সহাবস্থান দেখে।

মনযোগ পেয়েই কিনা জানিনা দুদিন পর যেনো আরো নতুন করে সাজালো নিজেকে...



সাতটির স্থানে আজ দশটি পূর্ণ ও দুটি কুঁড়ির অপরূপ ছটায় মুগ্ধ ও আপ্লুত হলাম!!

শুরুতেই যে অমলিন অম্লান মূহুর্তের কথা উল্লেখ করেছি......এই গ্র্রীস্মের পাগলাটে রূপে বড় বেশি মনে পড়ছে, গতবছর এমন এক সময় দেখা অপার্থিব প্রায় অলৌকিক সন্মোহনী দৃশ্যের কথা!!!

একবছরের পরও যা আচ্ছন্ন করে রেখেছে, যে দৃশ্য অবলোকনের সুযোগ পেয়ে সৃষ্টি কর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে যাই আজও...


অপরূপা প্রকৃতির বাস্তবের সৌন্দর্য পুরোপুরি ধারন করার মতো ক্ষমতা বিশ্বের কোন ক্যামেরার নেই বলে বিশ্বাস করি, তারপিও স্মৃতিটুকু ধরে রাখার এক ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র আমাদের!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29421334 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29421334 2011-07-28 09:04:16
একটু নিরাপত্তার সন্ধানে আজ আমরা কোথায় যাবো...??
হানাদার পাকিস্তানি সেনা আর তাদের দোসর আলবদর আলশামস নামের একপাল বিশ্বাসঘাতকের থাবা থেকে নিজের সম্ভ্রম বাঁচিয়ে অস্তিত্ব রক্ষার এক মরনপণ লড়াই। রাতের আঁধারে কখনও ঘন অরন্য, কখনও হাড়কাঁপানো প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে কোন পুকুর বা জলাশয়ে ডুবে নিজেকে এসব নরখাদকদের নজর থেকে রক্ষা করার সংগ্রাম। ভয়াবহ দুঃসময় আর আতংকের মাঝে একটি আশার আলো টিম টিম করেও সেসময় তাঁদের কিছুটা আলোর পথ দেখাতো, এসব ধর্ষক আর তাদের দালালদের সন্ধান পেলে বাংলা মায়ের বীর সেনা মুক্তিযোদ্ধারা সাধ্যমতো এই নরপশুদের ছিন্ন ভিন্ন করে দিবে। অবর্ণনীব দুর্ভোগ আর নিরাপত্তাহীণতার মাঝেও তাঁরা স্বপ্ন দেখতেন, এই দেশের মাটি স্বাধীন হলে পরবর্তী প্রজন্মকে অন্তঃত এমনিভাবে সম্ভ্রম বাঁচাতে বিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করে ফিরতে হবনো!


আজ আমাদের স্বাধীন দেশ, মুক্তিযুদ্ধের সে রক্তক্ষয়ী সময়টা পেরিয়ে এসেছে চল্লিশ বছর আগে.... দুর্ভাগ্যবশঃত এই দেশের নারী সমাজ আজও নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় একই রকম সংগ্রাম করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। পার্থক্য শুধু একটিই, আজ তাঁদের আশার আলো দেখাবার নেই কোন বীর, বাংলামায়ের সেই দামাল ছেলেদের আজ বড় অভাব।।

একটা সময় ছিলো যখন কোথাও নারী নির্যাতন, নিগ্রহ বা সম্ভ্রমনহানী ঘটলে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হতো, ধর্ষক অপরাধী মুখ লুকাবার স্থান খুঁজে পেতোনা। পরবর্তীতে পথেঘাটে নারী নির্যাতনের প্রকোপ তেমন না হলেও গৃহবধু নির্যাতন একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। কখনও যৌতুকের লোভে, কখনও বা মনমালিন্য আবার কখনও পুরুষ সন্তান জন্মদিতে না পারার দায়ে নিয়মিত শারিরিক নির্যাতন এবং এক পর্যায়ে হত্যা করাও একটি নৈমিত্তিক ব্যাপার -হয়ে দাঁড়ায় শুরুতেই অপরাধীর কঠিন শাস্তি নিশ্চিত করার ব্যর্থতার কারনে।

গত কয়েক দশক ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, পথেঘাটে ইভটিজিং একটি মারাত্মক ব্যাধির রূপ ধারন করে। এই ব্যাধি নিরাময়ের অভাবে সম্প্রতি ভয়ংকর ক্যান্সারের পরিনত হয়। বখাটেদের শাস্তি প্রদানে আইন আদালতের ব্যর্থতার সাথে সাথে সমাজে একশ্রেনীর নর্দমার কীটের আস্ফালন ও সমর্থন এই ঘৃন্য অপরাধের বীজকে মহীরুহে পরিনত করে।

সমাজ, রাষ্ট্র, আইন আদালত ইভটিজিং এর মতো একটি ঘৃন্য অপরাধ দমনে ব্যর্থ হলে পরিবারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা থাকে নিজ ঘরের কিশোরী তরুনীদের রক্ষায়। স্কুল কলেজ, কর্মক্ষেত্র যাবার পথে এই কুলাঙ্গার পালের ছোবল থেকে ঘরের মেয়েটিকে বাঁচাতে কখনও অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে, কখনও দল বেঁধে তরুনী কিশোরীর দল বিদ্যাপীঠের নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে বাবা, মা পরিবার- ঝুঁকপিূর্ণ পথ পেড়িয়ে অন্তঃত বিদ্যাপীঠের (!)নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছেছে সন্তান!!

আজ, অতি সম্প্রতি দেশজুড়ে সৃষ্ট নজিরবিহীন অরাজকতা পরিবার আর সমাজের এই স্বস্তিটুকু ছিনিয়ে নিয়েছে!! নষ্ট রাজনীতির দুষ্ট ছোবলের কারনে মেয়েদের প্রাইমারী বিদ্যালয়, উচ্চবিদ্যালয় থেকে শুরু করে দেশের স্বানামধন্য কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেনো বেশ্যালয় হয়ে উঠার এক অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

গত বছর রাজধানীর স্বনামধন্য ইডেন কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের বিভিন্ন অন্চল থেকে উজ্জল ভবিষ্যতের স্বপ্ন চোখে আশা শিক্ষার্থীদের অসহায়ত্বের খবর ফাঁস হয়ে যায়। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছাত্রীনেতৃরা(যদিও তাদের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে অনেক বছর পূর্বে) একেক জন মক্ষীরানী হয়ে নিয়ন্ত্রণ করে সহজ সরল নীরিহ ছাত্রীদের ভাগ্য!! নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় দলীয় নেতাদের কাছে উপঢৌকন হিসেবে পাঠানো হয় নতুন পড়তে আসা ছাত্রীদের সম্ভ্রম, কেউ আপত্তি জানালে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের হল ছাড়া কখনও কলেজ ছাড়া করার মতো ধৃষ্টতা দেখাতে তারা পিছপা হয়ন। রাজনৈতিক প্রভাবের কারনে এসব মক্ষীরাণীদের স্পর্ধা এতোটাই যে কলেজ প্রশাসনও এদের কাছে অসহায়। দেশ জুড়ে আলোড়ন, নিন্দা প্রতিবাদের পরও এসব ঘৃন্য মক্ষীরানী ও তাদের মদদদাতা নেতাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়না বরং এসকল নোংরামীর শিকার অসহায় নিরীহ ছাত্রীদের তিরস্কার করে ব্যাপারটি ধামাচাপা দেয়া হয়, ক্ষমতার রক্তচক্ষুর সামনে ঝিমিয়ে পরে মিডিয়া... জাতি একসময় বিস্মৃত হয় এই কলংকজনক ঘটনা, দেশের প্রত্যন্ত অন্চল থেকে উচ্চ শিক্ষার্থে এসে দেহপসারিনী হতে বাধ্য হওয়া এসকল অসহায় ছাত্রীদের আর্তনাদ আর গুমড়ে কান্না চাপা পড়ে যায় ইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চার দেয়ালের মাঝে।

কয়েক বছরর ধরে আরেকটি অসুস্থ ধারা প্রচলিত হয়েছে... নব বর্ষের উৎসব উদযাপন অনুষ্ঠানে হাজার হাজার ছাত্র, জনতা এমন কি শিক্ষক শিক্ষিকা ও স্থানীয় প্রশাসনের সামনে মেয়েদের নগ্ন করে তাঁদের সম্ভ্রমনহানী করা যেন এক নিয়মিত চর্চা। ক্ষমতাসীনরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এসব কুলাঙ্গারের পালের হাতে যেন স্বেচ্ছাচারিতার লাইসেন্স তুলে দিয়েছে। সরকারের সমর্থনে এরা এতোটাই বেপরোয়া ও আত্মবিশ্বাসী যে হাজার হাজার মানুষ এমনকি মিডিয়ার ক্যামেরাকেও তারা তোয়াক্কা করেনা নিজেদের বিকৃত লালসা মিটাতে। প্রশাসন আর সরকারের সরাসরি মদদে নির্ভীক আর লাগামহীন হয়ে উঠেছে এসক ঘৃন্য ধর্ষক হায়নার পাল। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ, স্বনামধন্য ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও এই তান্ডব মুক্ত হতে পারেনি!!


গত কয়েক সপ্তাহে ঘটেছে সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক ঘটনা। গ্রামের প্রাইমারী বিদ্যালয় থেকে শুরু করে ঢাকার স্বানামধন্য উচ্চবিদ্যালয়ে ছাত্রীরা আজ শিক্ষকদের ভোগ্যপণ্যে পরিনত হয়েছে! নিজ গৃহের পরই যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমাদের সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয় তা আজ হয়ে উঠেছে সম্ভ্রমনহানীর পাঠশালা। পিতামাতার সমকক্ষ শিক্ষক শিক্ষিকা, সেই শিক্ষক পিতার স্থান থেকে অধঃপতিত হয়ে পরিনত হয়েছে এক কামার্ত ক্ষুধার্ত জন্তুতে, আর এদের প্রশ্রয় দিয়ে মাতৃস্থানীয় কিছু শিক্ষিকা নামের কলংক আজ মক্ষীরাণীর স্থান গ্রহন করেছে।

রাজশাহী জেলার তানোর থানার চান্দুড়িয়া ইউনিয়নের জোড়ানপুর গ্রামের ডা. আবু বকর উচ্চবিদ্যালয়ের হতদরিদ্র ঘরের মেধাবী ছাত্রী সনজিতা স্কুলের প্রধান শিক্ষকরূপী এক হায়নার বিকৃত কামনার শিকার হয়ে নিজ কুড়ে ঘরে ফিরে অপমান আর যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে বেছে নেয় আত্মহননের পথ। সনজিতার ঘৃন্য ধর্ষক আজও গ্রেফ্তার হয়নি, আমরা দেখিনি এই (?)পলাতক আসামীর কোন ছবি!! ছবি--- সেও এখানে পররে কথা, খবরের কাগজে হতভাগী সনজিতার পারিবারিক বৃত্তান্ত ছাপা হলেও নরপশু ধর্ষকটির নাম পর্যন্ত প্রকাশ পায়নি।
কোমলমতি কিশোরী সনজিতা, দারিদ্রক্লিষ্ট জীবনে কঠিন বাস্তবতাকে জানতে পেরেছিলো সময়ের অনেক আগেই, তাই হয়তো বিচার না চেয়ে কেনো আত্মহননের পথকে শ্রেয়তর মনে করেছিলো তা আজ অবাক করেনা! যে ঘৃন্য পশুকে গ্রেফ্তার দূরের কথা, তার নামটি পর্যন্ত পত্রিকার পাতায় আসে না তার সাথে এই হতদরিদ্র অসহায় কিশোরী লড়াইয়ে নামবে কিভাবে?
প্রধান শিক্ষকরূপী নরপশু ধর্ষক হায়নাটার নাম, মোখলেসুর রহমান। নাম পরিচয় প্রকাশ না হওয়া এই কুলাঙ্গার এখনও গ্রেফ্তার হয়নি।


এই বছর মার্চ মাসে চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শৈলবালা উচ্চবালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী স্কুল শিক্ষক আশীষ বরণ সাহার কাছে প্রাইভেট পড়তে গেলে তাকে জড়িয়ে ধরে যৌণহয়রানী করা হয়। ছাত্রীটি আত্মরক্ষায় আকুতি মিনতি এবং শেষ পর্যন্ত চিৎকার করায় যৌণবিকারগ্রস্থ আশীষ বরন তাকে ছেড়ে দিত বাধ্য হয়। হয়রানীর শিকার ছাত্রীটি অভিযোগ করার পর সাহস করে আরো অনেক ছাত্রী এগিয়ে এসে ঘৃণ্য আশীষের দ্বারা বিভিন্ন সময় যৌণহয়রানীর তথ্য প্রকাশ করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানায়। নিপীড়নের শিকার ছাত্রীর পক্ষ থেকে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলেও ক্ষমতাসনদলের সাথে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকার কারনে কুলাঙ্গার আশীষ বরণের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।
শুধু তাই নয় ধর্ষক আশীষে ছবি প্রকাশ দূরের কথা, তার যৌণবিকারগ্রস্থতার কাহিনী মিডিয়া থেকেও এক প্রকার আড়াল করে রাখা হয়।

আমাদের দেশে মেয়েরা মুখ বুঁজে সকল নির্যাতন সহ্য করে যায়, কারন তাঁরা জানেন বিচার চাইতে গেলে নির্যাতনকারী অস্পৃশ্য থেকে যাবে উল্টো তিনিই আবার নির্যাতিতা ধর্ষিতা হবেন সমাজের হাতে।
ঠিক যেমন ক্ষমতার দুর্গন্ধের আচ্ছাদনে যৌণনিপীড়ক আশীষ বরণ সা্হার নিরাপদ আয়েষী জীবন অব্যহত থাকলেও অনেক ছাত্রীর পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যায়।

রাজধানীর সুপরিচিত ভিখারুন্নেসা স্কুলে ছাত্রী ধর্ষনের কেলেংকারী ফাঁস হলে, ঘৃণ্য ধর্ষকক পরিমল সহ সম্প্রতি রহস্যজনক ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ছয় শিক্ষকের আচরন জেনে মনে হয়, এরা শিক্ষকতার উদ্দেশে কোন স্কুলে নয়, বরং সম্ভোগ আর কুরিপুর তাড়না মিটাতে কোন গণিকালয়ে প্রবেশ করেছে। গার্লস স্কুলটি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এই ঘৃন্য জন্তুদের কাছে নিজস্ব হারেম যেনো!! শুধুই কি ধর্ষক পরিমল বা তার সাথে নিয়োগপ্রাপ্ত যৌণবিকারগ্রস্থ সহকর্মীবৃন্দ!!! বরং স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার পদাধিকারী হোসনে আরা বেগম এসব ধর্ষকেদের রক্ষার্থে অবতীর্ণ হয়েছে গনিকালয়ের মক্ষীরানী রূপে!! ধর্ষক নয়, বরং তার যতো আক্রোশ নির্যাতিতা ছাত্রীর বিরুদ্ধে তাই যৌণবিকারগ্রস্থ শিক্ষক নয় বরং ধর্ষিতা ছাত্রীটিকে স্কুল থেকে বহিস্কার করার ধৃষ্টতা দেখায়। শিক্ষক নামের কলংক যৌণ আসক্ত ঘৃণ্য পরিমল জয়ধরের অন্যতম শিকার ছাত্রটিকে আমি স্যালুট জানাই, লোকলজ্জার ভয়ে আত্মহননের পথ বেছে না নিয়ে যিনি প্রতিবাদী হয়ে উঠেছেন, পরিমল নামরে জন্তুটির মুখোশ উন্মোচন করেছেন। স্যালুট জানাই তাঁর সহপাঠীদের যাঁরা কটাক্ষ বিদ্রুপ এবং সকল প্রকার সংকীর্ণতাকে এড়িয়ে অন্যায়ের শিকার সহপাঠীর পাশে দাঁড়িবে প্রতিবাদী হয়েছেন, স্যালুট সেসব মায়েদের যাঁরা একজন নির্যাতিতাকে নিজেদের কন্যা মনে করে রাজপথে নেমে পরিমল জোয়ার্দার নামের ঘৃন্যকীটের শাস্তির দাবীতে সোচ্চার হয়ে দেশবাসীকে সচেতন করেছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের হাতে যৌণহয়রানীর স্ক্যান্ডাল শুরু হয়েছিলো প্রায় তিন বছর পূর্বে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।দেশ জুড়ে আলোড়ন আর তীব্র প্রতিবাদ সত্ত্বেও এসব যৌনবিকারগ্রস্থ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তেমন কঠোর কোন ব্যবস্থা যে গ্রহন করা হয়নি তা প্রমানিত হয় ইডেন, ভিকারুন্নেসা সহ রাজশাহীর আবু বকর বিদ্যালয় আর চট্রগ্রামের শৈলবালা বিদ্যালয়ের ঘটনা থেকে।

ক্ষমতাসীনের ছত্রছায়ায় দেশ আজ পরিনত হয়েছে ধর্ষক নরখাদকের অভয়ারণ্যে। সময়ের সাথে সাথে এই মহামারীর ছড়িয়ে পড়ার আশংকাজনক প্যাটার্ণটি লক্ষ্যনীয়...
বিশ্ববিদ্যালয়- কলেজ- উচ্চবালিকা বিদ্যালয়- প্রাথমিক বিদ্যালয়--?(অবধারিত ভাবে পরবর্তী লক্ষ্য কোমলমতি শিশুদের কিন্ডারগার্টেন)
কোন বিচার ব্যবস্থা দূরের কথা, এসব ধর্ষকের ছবি এমনকি নাম পরিচয়টি মিডিয়া থেকে আড়াল করে রাখা হয়। যৌণবিকারগ্রস্থের লালসার শিকার কোমলমতি প্রাণ বিচার চাইতে গিয়ে শিকার হয় সামাজিক ধর্ষনের, অপবাদের বোঝা মাথায় নিয়ে কাটিয়ে দিতে হয় বাকি জীবন।

হঠাৎ করে দেশ জুড়ে পিতৃস্থানীয় শিক্ষকেরা যৌণবিকারগ্রস্থ হয়ে কন্যাসম ছাত্রীদের উপর হামলে পড়েছে, ঘটনাটি এমন কাকতালীয় ভাবাতে দ্বিধা হয়!! অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, আমাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ চূড়ান্ত পরিকল্পিত ভাবে ধ্বংসের মুখে নিয়ে যাবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে... এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এখনই রুখে না দাঁড়ালে অচিরেই হয়তো আর ফেরার পথ খোলা থাকবেনা। আমাদের দেশের ভাগ্য বিধাতা নেতৃবৃন্দের অধিকাংশ তাদের সন্তানদের শিক্ষা গ্রহনে ভীনদেশের বিদ্যাপীঠে প্রেরণ করে থাকে, তাই রাজনীতি অথবা যৌনহয়রানীর কলুষতি থাবা দেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়কে গ্রাস করলেও তারা ব্যক্তিগত ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়না।

এই নষ্টধারা অব্যহত থাকলে সেই দিন দূরে নয় যখন আর ছাত্রছাত্রীদের নারী পুরুষ বিচার না করে শুধুমাত্র সম্ভোগের বস্তুতে পরিনত করবে একপাল যৌণবিকারগ্রস্থ নরপশু।
আজ যদি দলমত নির্বিশেষে আমরা এই ভয়ংকর সমস্যার সমাধানে সচেষ্ট না হই, ভেবে দেখুন কি ভয়ংকর পৃথিবী রেখে যাচ্ছি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। কোন দল বা সরকার চিরস্থায়ী ভাবে ক্ষমতাসীন থাকেনা... আজ নিজ সমর্থিত দলের পক্ষ নিয়ে ধর্ষকের পক্ষে দাঁড়ালে কাল আরেকটি দল ক্ষমতায় এসে আপনার সন্তানকে ধর্ষন করে খুবলে খাবে.... এ এক অবধারিত সত্য।।

[শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌণনিপীড়নের যে সংবাদ আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে তা হয়তো এসংক্রান্ত সংবাদের দশ ভাগের একভাগও নয়। আর, সংবাদ পত্রে যৌণহয়রানীর যে সংবাদ পৌঁছেছে তা বর্তমান বাংলাদেশের সামগ্রিক বাস্তব চিত্রের তুলনায় “টিপ ওফ দ্যা আইসবার্গ” বললেও বাড়িয়ে বলা হয়

২০০৮ সালে বিসিআইসি কলেজের শিক্ষকের যৌণনিপীড়নকারী শিক্ষককের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় এক ভুক্তভোগীর লেখা.. প্রথম পাতায় একসেস না পাওয়ায় তাঁর পোস্টের লিংকটি এখানে শেয়ার করছি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29410895 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29410895 2011-07-11 09:03:11
রুমানা, এই যুদ্ধ আপনার একার নয়.. আমাদের সকলের..!! ১৫ই জুন দুপুর ২:৪২ আপডেট
নর পিশাচ হাসান সাঈদ গ্রেফতার হয়েছে

২১শেজুন দুপুর ১:২০ আপডেট
আনুষ্ঠানিক সংবাদ সন্মেলনে রুমানা পাষন্ড হাসান সাঈদের বিচার দাবী করেন। বিয়ের পর থেকে নির্যাতন করলেও প্রতিবার হাসান সাঈদ তার কাছে ক্ষমা চাইতো, রুমানা তাকে বিশ্বাস করতেন ও প্রচন্ড ভালোবাসতেন বলে সব সহ্য করে সংসার করেছেন।
নরপশু হাসান সাঈদের দেয়া পরকীয়ার অভিযোগ সম্পর্কে রুমানা জানান, হাসান সাঈদের মুখের কথার বাইরে এর কোন অস্তিত্ব নেই
শোকে মূহ্যমান রুমানা ও তাঁর পিতা রুমানার দৃষ্টি শক্তি ফিরে আসার জন্য সকলের দোয়া প্রার্থী।

১৭ই জুন দুপুর ১: ৪৬ আপডেট
"নরপিশাচ হাসান সাঈদ রিমান্ডে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে যে সে পরিকল্পিত ভাবে রুমানাকে হত্যা করতে চেষ্টা করেছিলো। পরিকল্পণার অংশ হিসেবে নৃশংসতার দিন শাশুড়ি সহ বাড়ির অন্যদের কৌশলে বাইরে পাঠিয়ে রুমানাকে বাসায় রেখেছিলো।
বিয়ের পর থেকে রুমানার প্রতি করা শারিরিক ও মানসিক নির্যাতনের কথাও সে স্বীকার করে।
নিজের পাপিষ্ঠ ও কলুষিত জীবনের ঘানি টেনে জেলে পচতে চায়না বলেও সে জানায়, এবং তাকে তার পাপের শাস্তি স্বরুপ ক্রসফায়ারে গুলি করে হত্যা করার অনুরোধ জানায়।"

(যারা এই নরপশুর বানানো “ফেসবুকে প্রেমিকের নাম মুছে দেবার গলপ” বিশ্বাস করে আস্ফালন করছিলো, বিভিন্ন ভাবে বিষয়টি নিয়ে রুমানাকে এবং নরপপশু সাঈদের বিচার চাওয়া মানুষদের কটাক্ষ, বিদ্রুপ, দোষারোপ ও ব্যঙ্গ করে এবং কুলাঙ্গার সাঈদের পক্ষে মন্তব্য ও পোস্ট দিয়েছে তাদেরকে কিছুই বলার নেই)



পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ ও শান্তির আশ্রয় মায়ের কোল ঘেঁষে পাঁচ বছরের ছোট্ট শিশু আনুশা যখন আঁকাআঁকি শিখছিলো, হঠাৎ এক হিংস্র জন্তূ পিছন থেকে চুলের মুঠি ধরে উপরে ফেলে মায়ের দুচোখ। অবোধ শিশুর সামনে তার মায়ের নাক কামড়ে চিবিয়ে খেয়ে ফেলে ক্ষুধার্ত নেকড়ের মতো। এখানেই তার নারকীয় উল্লাসের শেষ নয়, আতংকিত হতভম্ব নিষ্পাপ শিশুটি দেখে কি ভীষণ নির্মমভাবে প্রহরিত হচ্ছে তার রক্তাক্ত ক্ষত বিক্ষত মা, এক বুনো বরাহ কামড়ে কামড়ে দগদগে করে তুলছে তার স্নেহময়ী মা কে, তার নিরাপত্তা আর চিরশান্তির আশ্রয় স্থান মায়ের শরীর। অবোধ আনুশা দেখে তাদের রক্ষক পিতা হঠাৎ কেমন পশুর মতো খুবলে খুবলে খেতে চাইছে তার মার শরীর।

পাশবিক নির্যাতনের শিকার এই মায়ের অপরাধ তিনি তাঁর পেশার সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জন করতে চেয়েছিলেন এবং তার যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন।

আমাদের দেশের আনাচে কানাচে প্রতিনিয়ত শত শত নারী নির্যাতিতা হচ্ছেন, নররূপী একপাল হিংস্র হায়নার থাবায় রক্তাক্ত হচ্ছেন, কেউ বা অকালে হারায় প্রাণ। তাঁদের সকলের কথা আমরা জানিনা... তারপরও যখন এমন নির্যাতন, নারী নিগ্রহের খবর আমাদের কানে এসে পৌঁছে, অনেকে বলেন- “নারীর স্বনির্ভরতার অভাব, অশিক্ষার কারনে নরপশুদের এমন স্পর্ধা!”

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ স্বনামধন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সন্মানিতা শিক্ষিকা যখন শুধু স্বনির্ভর হবার অপরাধে, উচ্চ্তর শিক্ষা লাভ করার যোগ্য হবার অপরাধে এমন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন.. তখন নারী নির্যাতনের কারন আর অশিক্ষা বা পরনির্ভশীলতার দোহাই দেয়া যায়না।

সদা হাস্যময়ী এই প্রাণোচ্ছল মুখের পিছে লুকিয়ে আছে কি ভীষণ কান্না আর এক নির্যাতিতার দীর্ঘদিনের আর্তনাদ।

একজন রুমানা মনজুরের উপর এই নারকীয় নির্যাতনের প্রতিবাদে মুখর অধিকাংশ পুরুষ, অথচ এর মাঝেও দেখা যাবে এমন একটি বিষয়ে প্রশ্ন তোলার মতো, রুমানাকে দায়ী করতে চাইবার মতো দু চারজন মানুষ রূপী অদ্ভুত জীবের অস্তিত্ব! আমাদের সমাজে ভালো মানুষের সংখ্যা বেশি তারপরও মানুষরূপী এসব অদ্ভুত জীবের রক্তচক্ষু নিয়ে দাঁত খিঁচিয়ে হুংকারের ঘৃন্য শব্দটি এতো বেশি প্রকট যে একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান, একটি উচ্চশিক্ষিতা স্বনর্ভির নারী রুমানা মনজুরকেও এসব হুংকারের ভয়ে দিনের দিনের পর সয়ে যেতে হয় নপুংসক স্বামীর শারিরিক নির্যাতন! এই নির্যাতন থেকে মুক্তি পেলে সামাজিক অবমাননা আর নির্যাতনের শিকার হতে হবে, শিশু কন্যা আনুশার ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পরবে এই শংকায় নরপশু স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ না ঘটিয়ে সয়ে যান দিনের পর দিন।


আজ রুমানার এই পরিনতির জন্য ঘৃন্য নরপশুটি সহ তার আশ্রয়দাতা এবং আমাদের সমাজের সেসব রক্তচক্ষুধারী সকলেই দায়ী।

দেশের আইন, আমাদের ধর্ম যেখানে স্বামীর সাথে বনিবনা না হলে স্ত্রীকে তালাক দেবার অধিকার দেয়, সেখানে একপাল অদ্ভুত জীবের ভয়ে কতো নারীর জীবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, কতো শত কোমলমতি শিশুর নির্মল শৈশব কলুষিত হচ্ছে হিংস্রতা আর পারিবারিক জীবনের কুৎসিত একটি রূপের মাঝে।

কি অদ্ভুত আমাদের দেশ!
কি অদ্ভুত আমাদের আইন, নিয়ম কানুন!

এই কিছুদিন পূর্বে রাজপথে রক্তপাত, মারামারি হলো.... “নারী পুরুষের সম অধিকার” আইনপেশের পক্ষে সরকারের কঠোর অবস্থানের জন্য! এই অবস্থান যে কতোখানি অন্তঃস্বারশূণ্য লোকদেখানো প্রহসন মাত্র তা রুমানা মনজুরের মতো ঘটনগুলো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

রুমানার প্রতি এমন নারকীয় তান্ডবের পরও তাঁর পাশন্ড ঘাতককে গ্রেফ্তার করা হয়নি, ৫ই জুন ঘটনা ঘটলেও তা ১৩ই জুন একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকায়(ধন্যবাদ সেই “মানব জমিন” পত্রিকাকে, যাদের কারনে আজ সারা দেশে ও মিডিয়ায় এমন নৃশংস নির্যাতনের কথা প্রচার পেয়েছে) ঠাঁই পায় মাত্র!! শুধু তাই নয়, বুয়েট থেকে পাশ করা “হাসান সাঈদ” নাম- এই পরিচয় ছাড়া এই নরপশু সম্পর্কে আর কোন তথ্য প্রচারিত হয়নি। এই সুযোগে রুমানার পরিবার ঘটনাটি আড়াল করতে চাইছে এমন বলা হচ্ছে, ঘটনায় রুমানার দায় এড়াতে আড়াল করা হচ্ছে এমন ঈঙ্গিত দিতেও কোন কোন কুলাঙ্গার পিছপা হয়নি।

কেউ ভেবে দেখেছেন শিক্ষিত একটি পরিবারের উচ্চশিক্ষিত একটি মেয়ের উপর এমন নির্যাতনের পরও ঘাতক সম্পর্কে সকল তথ্য এমন ধোঁয়াটে কেনো?
আমাদের দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা দিবালোকের মতোই স্পষ্ট হবার কথা।।
জ্বী.. নষ্ট রাজনীতির বিষবাস্পের কালো ছোবল!!!

একসময় ট্যাক্সি/ ক্যাব সংশ্লিষ্ট ব্যবসাকারী বর্তমানে বেকার এই কুলাঙ্গারের ছবি ১৪ ই জুনের পূর্বে প্রকাশিত হয়নি। প্রকাশ পায়নি হাজার হাজার মানুষের জীবনে দুর্ভোগ ডেকে আনা সাম্প্রতিক শেয়ার কেলেঙ্কারীতে রুমানার স্বামী নামের কুলাঙ্গারটির বড় অংকের মুনাফা লাভের কথা.. যেমন ভাবে প্রকাশ পায়নি কাকাতালীয় ভাবে “হাসান সাঈদ” নামের বন্য জন্তুটি বন ও পরিবেশ মন্ত্রী হাসান মাহমুদের ভাতিজা।।
আর এই পরিচয়ের সুবাদে পুলিশের খাতায় “নিখোঁজ” বা লাপাত্তা আসামী হয়ে সে প্রকাশ্যে হুমকী দিচ্ছে নির্যাতিতা রুমানা ও তাঁর পরিবারকে। নিজে যে দাঁতাল শূকর সে সম্পর্কে হাসান সাঈদের আত্মবিশ্বাস ছিলো বিধায় এই নপুংসক ভেবেছিলো কামড়ে কামড়ে হত্যা করবে স্ত্রী রুমানাকে, অন্ধ করতে সক্ষম হলেও হত্যায় ব্যর্থ জন্তুটি এখন ক্ষমতাসীনের নিরাপত্তা হেফাজতে বসে গুলী করে অথবা এসিডে ঝলসে হত্যা করার হুমকী দিয়ে যাচ্ছে!!


এদেশে নির্যাতিতা ধর্ষিতাদের ছবি সহ তাদের নির্যাতনের কাহিনী রসালো ভাবে প্রকাশ পেলেও নির্যাতনকারী, ধর্ষক বা হত্যাকারীদের ছবি এক অলৌকিক উপায়ে লোক চক্ষুর অন্তরালে থেকে যায়।২০০৪ সালে একপাল নরপশুর লালসা ও পৈশাচিকতার শিকার নিহত রাহেলার সুবিচারের জন্য আমরা ২০০৭ সালে সোচ্চার হতে শুরু করি, তৃণমূল পর্যায়ের হলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারনে রাহেলার ধর্ষকেও হত্যাকারী লিটন আজও গ্রেফ্তার হয়নি, শুধু তাই নয় সাত বছর পরও সেই কুলাঙ্গারের ছবি প্রকাশ পায়নি।


মৃত্যু শয্যায় শায়িত অবস্থায় রাহেলার সাক্ষাৎকারটির সাথে রুমানার সাক্ষাৎকারটির বড় বেশি মিল!!!


তবে রুমানার পরিনতি যেনো হতভাগী রাহেলার মতো না হয়...

আসুন, বছরের পর বছর অপেক্ষা করে নয়.. দলমত নির্বিশেষ আমরা সকলে রুমানা মনজুরের জন্য সুবিচারের দাবীতে সোচ্চার হয়ে উঠি।




ক্ষমতার দুর্গন্ধযুক্ত আড়ালে লুকিয়ে থাকা নর পিশাচ হাসান সাঈদকে চিনে রাখুন.. এই পশুটি যেকোন সময় আপনার কন্যার উপর হামলে পড়তে পারে.. এই নরপশুর পিতামাতা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী, সুতরাং ক্ষমতার কর্দমাক্ত আসনে চড়ে কুলাঙ্গারটি সেখানেও পৌঁছে যেতে পারে... সকলে সাধ্যমতো যে যেই দেশে আছেন স্থানীয় আইনশৃংলারক্ষাকারী বাহিনীকে এই পিশাচ সম্পর্কে অবগত করুন।

রুমানার প্রাণনাশের প্রচেষ্টাকারী এই বন্য জন্তুটিকে অবিলম্বে গ্রেফ্তার করা না হলে আমরা ভুলে যাবো, হাসান মাহমুদ আমাদের দেশের মন্ত্রী, আমরা ভুলে যাবো ক্ষমতার যে নোংরা থাবা এই নরপিশাচকে রক্ষা করতে চাইছে, তারা আমার দেশের মানুষ।।

মিডিয়াতে রুমানা সংবাদ:

প্রথম আলো

বহির্বিশ্বের বিভিন্ন মিডিয়ার লিংক]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29396528 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29396528 2011-06-14 09:23:51
পৃথিবীর দশ(পনেরো)টি বিলুপ্ত শহর বা সভ্যতা- একটি বিস্ময় ও একটি প্রশ্ন!!
প্রায় শত বছর ধরে বেশ দাপটের সাথে ফোরবস‌্ ম্যাগাজিন তার খ্যাতি ধরে রেখেছে, ফোরবস্ নামটির সাথে এক ধরনের আস্থা জড়িয়ে আছে, তাদের দেয়া যেকোন পরিসংখ্যান বা তালিকা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়, ফোরবস্ প্রদত্ত সেরা দশের গ্রহনযোগ্যতা সবসময়ই বেশি...

ফোরবস্ মাগাজিনে পৃথিবীর বুকে বিলুপ্ত দশ(পনেরো) শহরের তালিকা আগ্রহ নিয়ে পড়তে শুরু করি, কিছু পরিচিত নিদর্শনের পাশাপাশি অজানা দেশের না জানা শহরের নাম হয়তো জানবো... দেখবো স্থাপত্যকলার কিছু বিস্ময়কর নিদর্শন- যেখানে একসময় ছিলো জীবনের জয়গান, সদ্যজাত শিশুর কান্নার সাথে সাথে হেসে উঠতো চারপাশের জগৎ, যে শহরের সবুজ মাঠ কিশোর কিশোরীর চন্চল পদচারনায় মুখরিত ছিলো, যেখানে এক সময় মানুষ যেতো আনন্দভ্রমন বা অবকাশ যাপনে, যে শহরে এক সময় প্রাণের জোয়ার বয়ে চলতো... আজ তা নিস্তব্ধ, নিস্তেজ, নিঃশব্দ এক মৃতপুরী...

এসব এলোমেলো ভাবনার সাথে আগাম শিহরন নিয়ে তালিকায় চোখ বুলিয়ে যাই.... ঘুনাক্ষরেও যে চমক বা শিহরনের জন্য প্রস্তুত ছিলামনা তাই যখন সামনে এসে দাঁড়ায় থমে যাই.. আনন্দ, শিহরন আর উচ্ছাসের সাথে সাথে বিস্ময়... আবার কিছুটা দ্বিধা বা কনফিউশন...

তালিকাটা এমন...

১. পেট্রা- জর্ডান
দেশ- জর্ডান
সভ্যতা- দি নেবাটিয়ান বা আল আনবাত(আরবী ভাষায়)
সময়কাল- খ্রীস্টপূর্ব ষষ্ট শতাব্দী


খাড়া পাহাড়ের পাথর খোদাই করে সুনিপুন ভাবে নির্মীত গোলাপবর্ণের এই শহর, আশির দশকের“ইন্ডিয়ানা জোন্স এন্ড লাস্ট ক্রুসেড” নামের সাড়া জাগানো চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বর্তমান বিশ্বে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।

২.চিচেন ইজা (চিচেন ইটজা), মেক্সিকো
দেশ- মেক্সিকো
সভ্যতা- মায়া সভ্যতা
সময়কাল- ৬০০-১০০০ খ্রীস্টাব্দ।


মেসোআমেরিকার(আমাদের কাছে যা দক্ষিন আমেরিকা নামে অধিক পরিচিত) সবচেয়ে বড় বলকোর্টটির অবস্থান এই মৃত নগরে। চিচেন ইজার ঠিক পাশেই এক অতিকায় সিনোট বা সিন্কহোল যেখানে তৎকালীন বিশ্বাস অনুসারে ঈশ্বরের সন্তোষ্টির জন্য জীবিত মানুষের(মূলত কুমারী এবং যুদ্ধে আটককৃত শত্রুপক্ষ) দেহ বিসর্জন দেয়া হতো এমন।

৩.ভূ-গর্ভস্থ ডেরিংকুয়ো শহর, তুরস্ক
দেশ-তুরস্ক
সভ্যতা- সম্ভবতঃ ফ্রিজিয়ান
সময়কাল- আনুমানিক খ্রীস্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দী থেকে খ্রীস্টাব্দ দশম শতাব্দী।


দশের অধিক লেভেল বা তল বিশিষ্ট ভূ-গর্ভস্থ এই স্থাপনাটিতে ৫০,০০০ মানুষের আবাস এবং গবাদীপশু ধারনের স্থান রয়েছে। ধারনা করা হয়, রোমানদের সাম্প্রদায়িকতা ও নির্যাতন থেকে আত্মরক্ষার জন্য তৎকালীন অধুনা খ্রীস্টধর্মের অনুসারীরা এখানে আত্মগোপন করতেন।

৪.মাচুপিচু, পেরু
দেশ- পেরু
সভ্যতা- ইনকা
সময়কাল- পন্চদশ শতাব্দী ও ষষ্টদশ শতাব্দী (খ্রীস্টাব্দ)।


স্প্যানীশ ও পর্তুগীজ আগ্রাসন বাহীনির বয়ে আনা স্মল পক্স বা গুটি বসন্তের মহামারী পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত রাজকীয় দূর্গের নগরের জনপদ সম্পূর্ণ রূপে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। যদিও পরবর্তীতে অসাধারন সুন্দর এই বিলুপ্ত শহরটি কোন স্প্যানিশ আবিস্কার করতে পারেনি, ১৯১১ সাল পর্যন্ত শহরটির অস্তিত্ব সকলের কাছে অজানা ছিলো।


৫. এ্যাংকর, কম্বোডিয়া
দেশ- কম্বোডিয়া
সভ্যতা- খেমের রাজত্ব
সময়কাল- নবম শতাব্দী থেকে পন্চদশ শতাব্দী(খ্রীস্টাব্দ)


এ্যাংকর ওয়াট সহ সহস্রাধিক মন্দিরের এই শহরটি দীর্ঘদিন খেমের রাজ্ব্যের রাজধানী ছিলো। বর্তমান থাইল্যান্ডের আগ্রাসীবাহিনীর আক্রমণের পর শহরটির ধীরে বিলুপ্তি ঘটে।

৬. প্রাক- রোমান কার্থেজ, তিউনিশিয়া
দেশ- তিউনিশিয়া
সভ্যতা- ফিনিশিয়ান
সময়কাল- ৬৫০-১৪৫ খ্রীস্টপূর্ব


রোমান সাম্রাজ্যের ঘোর শত্রু হ্যানিবালের নগর ছিলো কার্থেজ। তৃতীয় তথা সর্বশেষ পিউনিক যুদ্ধে নগরটি সম্পূর্ণ রূপে ভস্মীভূত হয় এবং শহরের মাটি জুড়ে লবন ছিটিয়ে এর ধ্বংস নিশ্চিত ও স্থায়ী করা হয়।

৭.পম্পেই- ইটালী
দেশ- ইটালী
সভ্যতা- রোমান সাম্রাজ্য
সময়কাল- সপ্তম/ষষ্ট শতাব্দী(খ্রীস্টপূর্ব) থেকে উনআশি খ্রীস্টাব্দ।


উনআশি শতাব্দীর ভিসুভিয়াস পর্বতের অগ্নুৎপাতে ধ্বংস হয়ে যাবার পূর্ব পর্যন্ত পম্পেই নগরী শিল্প সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র এবং রোমান উচ্চবিত্তের অবকাশ যাপনের গন্তব্য ছিলো। আগ্নেয়গিরি ধ্বংসলীলার পর সেখানে শুধু প্রাকৃতিক ভস্মে মোড়া শহরের মামীটা পড়ে আছে।

৮.মেম্ফিস, মিশর
দেশ- মিশর
সভ্যতা- প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা
সময়কাল- খ্রীস্টপূর্ব তৃতীয় মিলেনিয়াম থেকে ২৫০ খ্রীস্টাব্দ।


নীলনদের মোহনায় অবস্থিত মেম্ফিস শত শত বছর ধরে ব্যবসা, বাণিজ্য, ধর্ম এবং রাজকীয়তার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিলো। আলেকজেন্ডার দ্যা গ্রেট সহ বিভিন্ন পরাশক্তির আগ্রাসন নগরটিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

৯. টিওটিহুয়াকান (টোটিহুয়াকান), মেক্সিকো
দেশ- মেক্সিকো
সভ্যতা- সম্ভবত টোটোন্যাক জনগোষ্ঠী
সময়কাল- ১০০তম খ্রীস্টপূর্ব অব্দ থেকে ২৫০ খ্রীস্টাব্দ।


এই শহরের স্থপতিরা আজও অজানা রহস্য। প্রাক-কলাম্বিয়ান আমেরিকার বেশ কিছু বৃ্হত্তম পিরামিড এখানে অবস্থিত। টিওটিহুয়াকান য্যাপোটেক ও মায়া সহ বিভিন্ন সাম্রাজ্যের প্রেরণা হয়েছিলো।

১০. বাগের হাটের মসজিদের শহর, বাংলাদেশ
দেশ- বাংলাদেশ
সভ্যতা- খানজাহান আলীর শাসনামল
সময়কাল- পন্চদশ শতাব্দী(খৃস্টাব্দ)


পূর্বে খলীফাবাদ নামে পরিচিত এই শহরটি একজন তুর্কী জেনারেল স্থাপনা করেন।পন্চাশের অধিক ইসলামিক নিদর্শন এবং ষা্ট গম্বুজ মসজিদ (যা ষাটটি স্তম্ভ এবং আশিটি গম্বুজ সমন্বয়ে নির্মিত) সমৃদ্ধ এই শহর।


(বাগেরহাট শহরটি খানজাহান আলীর সময় থেকে আজ অবধি কখনও মৃত ছিলো বলে জানা নেই.. বিখ্যাত ষাট গম্বুজ মসজিদটিও খুব সম্ভবত একদিনের জন্যও অব্যবহৃত ছিলোনা। নিজের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারনে বুঝতে পারছিনা, মৃত শহরের তালিকায় “বাগের হাটের” নাম থাকাটা কতোখানি যৌক্তিক, তবে ফোরবস্ এর তালিকাটি যদি ঐতিহাসিক নিদর্শনের দৃষ্টিকোন থেকে বিচার করা হয়, সেক্ষেত্রে বিশ্ববিখ্যাত প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন এসকল শহরের মাঝে নিজ দেশের এই অপরূপ স্থাপত্যকলার নামটি খুঁজে পাওয়া আনন্দের নিঃসন্দেহে)।


১১. বুনো পশ্চিমের ভুতুড়ে নগর সমূহ, যুক্তরাষ্ট্র
দেশ: যুক্তরাষ্ট্র



১২. ট্রয় নগর, তুরস্ক
দেশ- তুরস্ক



১৩. প্রাচীন কগুরিও রাজ্যের রাজধানী ও সমাধিস্তম্ভ সমূহ, চীন
দেশ- চীন



১৪. থেবেস, মিশর
দেশ- মিশর



১৫. ব্যাবিলন, ইরাক
দেশ- ইরাক






তথ্য ও ছবি সুত্র- ফোরবস্ ম্যাগাজিন।।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29373105 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29373105 2011-05-01 14:27:57
শিশুর অব্যক্ত আর্তনাদ, করুণ আকুতি- আমার অসহায় আত্মসমর্পন!!!!
এইতো কয়েক সপ্তাহ আগের একটি ঘটনা.. ক্ষুধার্ত দুজন শিশুর খাবার চুরির অভিযোগে গণপিটুণির শিকার এবং তা একজন ফটোগ্রাফারের ক্যামেরাবন্দী হতে সক্ষম হয় .... আমাদের অন্তরাত্মা কেঁপে উঠে সেই ছবি দেখে.. ব্যক্তিগত ভাবে বা সাংগঠনিক ভাবে অনেকে খোঁজ নিতে চেষ্টা করি তাদের, অন্ততঃ দুবেলা দুমুঠো ভাতের নিশ্চয়তা দেবার আশায়। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে শিশুদের সন্ধান মিলেনি, তারপরও অনেকেই থেমে নেই.. একের পর এক পোস্ট আসছে তাদের সন্ধান চেয়ে বা ঘৃনা প্রকাশ করে। এটা আশার কথা যে আমাদের বিবেক এখনও জাগ্রত, আমরা এখনও নির্মমতা দেখে শিউরে উঠতে জানি, প্রতিবাদী হতে জানি।।

ক্ষুধার্ত দুজন শিশুকে নিষ্ঠুরভাবে যারা প্রহার করেছিলো তাদের চেহারা ছবিতে স্পষ্ট.. তাই আমরা সেখানে নিজেদের অনুপস্থিতি মিলিয়ে নিতে পারি, খুঁজে পাই ঘটনায় নিজের নির্দোষ হবার প্রমান!! আমরা বিপুল বিক্রমে আক্রমণাত্বক হয় উঠি নিষ্পাপ শিশুদের সাথে এ্মন হীন নির্মম আচরনকারীদের প্রতি.........

আমরা কি জানি, আমাদের চারপাশে প্রতিদিন এমন অনেক ছবির সৃষ্টি হচ্ছে যে সব ছবির অদৃশ্য আক্রমণকারী, প্রহারকারীদের মাঝে আপনার, আমার, আমাদের সকলের ছবি বড় বেশি স্পষ্ট??

পহেলা বৈশাখে উৎসব আমেজের মাঝে তোলা এই ছবিটি প্রহৃত শিশুদের ছবিটির চেয়ে হাজার গুন বেশি শক্তিশালী ও নির্মম মনে হয়েছে!!



পরিবারের শিশুরা বোধহয় সবচেয়ে মূল্যবান সদস্য। মা বাবা হয়তো নিজের সখের বা প্রয়োজনের জিনিসের জন্য খরচ করবেন কিনা তা নিয়ে দীর্ঘদিন ভাবেন, অথচ শিশুর জন্য যেনো কোন কিছুই অতিরিক্ত মূল্যবান নয়... সন্তানের মুখের হাসির কাছে সবকিছু ম্লান হয়ে যায়।

উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত.. সমাজের যে কোন শ্রেনীর পরিবার নিজের সাধ্যমতো সন্তানকে আগলে রাখে। একজন বস্তিবাসী দিনমজুরও তাঁর মাথার ঘামা পায়ে ফেলা উপার্জন দিয়ে কন্যার জন্য মালা, দুলের মতো সৌখিন সামগ্রী কিনে আনেন, গৃহপরিচারিকা গৃহকর্ত্রীর কাছ থেকে কখনও পেয়ে কখনও চেয়ে ছেলের জন্য একটা সুন্দর জামা বা খেলনা নিয়ে এসে অপার আনন্দ লাভ করেন।
এটাই বাবা মা'র ভালোবাসা, এমনটা যেকোন শিশুর মৌলিক অধিকার...

অথচ, এই শিশু এমনই হতভাগ্য যে এই সামান্য নিরাপত্তা, স্নেহভালোবাসা দিয়ে মুড়িয়ে রাখার কেউ নেই তার পাশে..

আপাতঃ দৃষ্টিতে একজন মানসিক ভারসাম্যহীণ মা, রুটির টুকরো তুলে দিতে চাইছে সামনে উপবিষ্ঠ অবোধ শিশুর মুখে.. আর সেই শিশু এক অসহায়, করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আপনার, আমার দিকে।
ভালো করে লক্ষ্য করলে বুঝতে কষ্ট হয়না এই একজোড়া নিষ্পাপ চোখের করুণ দৃষ্টিতে কি ভীষণ অসহায়ত্ব আর মিনতি জড়িয়ে আছে। অবোধ শিশু মুখ ফুটে বলতে না পারলেও যেনো দৃষ্টি দিয়ে ভিক্ষে চাইছে একটি সুস্থ সুন্দর জীবন.. যেনো বলতে চাইছে; “মা আমার নিজেই বড় অসহায়, এক অন্ধকারাচ্ছন্ন অনিশ্চিত অবধারিত জীবনের শংকায় আমি ভীষণ ভীত. তোমরা আমাকে একটু বাঁচার অধিকার দাও, একটি আলোকিত জীবনের পথ করে দাও””।

যে শিশুদের আমরা খুঁজে পাইনা তাদের নিয়ে আজ আমরা বড় বেশি বিচলিত, অথচ আমদের সামনে পথে ঘাটে এর চেয়েও করুন, আর বাস্তবতার নিষ্ঠুর কষাঘাতে জর্জরিত শিশুরা আমাদের দিকে তাকিয়ে সাহায্য চাইছে.. আমরা তা দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে যাই। যেনো এই এড়িয়ে যাবার মাঝেই আমাদের দায়িত্বপালন আর দায়বদ্ধতার পরম মুক্তি।

ছবির এই শিশুটির ভবিষ্যত সহজে অনুমেয়.. শিশুটি ব্যবহৃত হবে ভিক্ষার অস্ত্র হিসেবে, অধিক আয়ের আশায় হয়তো তাকে বিকলাঙ্গও করে দেয়া হবে। আর ভাগ্যগুনে শারিরিক বিকলাঙ্গতা থেকে বেঁচে গেলেও নয়/দশ বছর বয়স(হয়তো তার চেয়েও কম) থেকেই সে হবে একপাল নরপশুর নারকীয় লালসা আর জৈবিক চাহিদা মিটানোর শিকার.. এক সময় সেও হয়তো মায়ের মতো মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলবে অথবা বেঁচে থাকার জন্য আপন করে নিবে অন্ধকাচ্ছন্ন এক অভিশপ্ত পথ!!
উপরের যে কোন একটি যে তার জীবনের পরিনতি তা জানতে কোন জ্যোতিষ শাস্ত্রের প্রয়োজন হয়না।

আমার উদ্বেগ দেখে ঘনিষ্ঠবন্ধু বলেই বসলেন যে তাঁকে যেহেতু বাংলাদেশে প্রতিদিন এমন দৃশ্য দেখতে হয়, এই ছবি তাঁকে আলোড়িত করছেনা।

তাঁর বক্তব্য রূঢ় হলেও বাস্তবতা এ কথা মানি, শুধু আমরা এটা ভুলে যাই যে এই বাস্তবতাটা আমদেরই সৃষ্টি!
এমন দৃশ্য বাংলাদেশের পথে ঘাটে খুব বিরল নয়। সমস্যা হলো আমরা এসব দৃশ্য স্বাভাবিক ভাবে নিতে এতোটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি যে কেউ এসব নিয়ে ভাবতে গেলে তা নিতান্তই আদিখ্যেতা মনে হয়। আমাদের এই ভাবনাটা, এই মানসিকতা আমাদের সমাজ, রাষ্ট্রতন্ত্রকে ইগনোরন্টে করে রেখেছে.. তারা এসব বিষয়ে নিজেদের কোন দায়িত্ববোধ করেননা, এসব তাদের মাথা ব্যাথা নয়... এমনটা থাকবেই তাই এটা সমাধানের মতো কোন সমস্যা নয়।

এধরনের দৃশ্য মেনে নিতে অ্ভ্যস্ত হয়ে পড়েছি, আজ বাংলাদেশে এটাই স্বাভাবিক.. আজ দেশজুড়ে ধর্ষন আর হত্যার যে নারকীয় উৎসব তাও আমরা স্বাভাবিক ভাবে মেনে নেবার প্রক্রিয়ায় আছি, সেদিন হয়তো দুরে নয় যখন আমাদের চোখের সামনে, হয়তো উৎসব মুখর পহেলাবৈশাখেই সকলের সামনে ধর্ষনের ঘটনা ঘটবে, আমরা স্বাভাবিক ঘটনা ভেবে দৃষ্টি সরিয়ে নিবো। খুব বেশি হলে হয়তো ধর্ষিতার আর্তচিৎকারে বিরক্ত হবো!!!

আমি জানিনা এই ছবি এভাবে আলোড়িত করেছে কেনো!!
ছবিটি দেখে ভয়ংকর মানসিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে হয়... শিশুটিকে সহজে নিয়ে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা যায়, এতীমখানা, অথবা হয়তো কোন ধানাঢ্য পরিবারে(দেশে অথবা বিদেশে) দত্তক...তবে তাকে মাতৃস্নেহ'র মতো অমূল্যসম্পদ থেকে বন্চিত করতে ইচ্ছে করছিলোনা। শুধু তাই নয়, ভদ্রমহিলা এভাবে পথে পরে থাকলে আজ এই শিশুর ব্যবস্থা করলেও আগামীতে এমন আরেকজনের জন্ম দিবেন তা প্রায় নিশ্চিত ভাবে বলা যায়! খোঁজ নিতে চেষ্টা করি এমন কোন প্রতিষ্ঠানে ভদ্রমহিলার পূণর্বাসন সম্ভব কিনা... দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে এমনকোন প্রতিষ্ঠানের সন্ধান এখনও পাইনি!

এখন মনে হয় সিস্টেমের দায়িত্বহীনতা আর ব্যর্থতার কাছে আমার অসহায় নতি স্বীকারের পালা!!!!!



ছবি সুত্র]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29365361 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29365361 2011-04-19 08:15:35
আমি সুন্দর হাসি হাসতে পারিনা...!!!

আমি জানিনা- পরশ্রীকাতরতা আমার অংশ না আমি পরশ্রীকাতরতার!

বিখ্যাত সাহিত্যিক উইলিয়াম শেক্সপীয়ারের ক্ষমতালো্ভী ম্যাকবেথ চরিত্রটি নৃশংস হত্যাকান্ডে মেতে উঠার পর হাজারবার ধুয়েও হাতের রক্তের দাগ মুছতে পারেনা, অগুনিত বার ধোয়ার পরও মনে হয় তার হাত থেকে রাজার রক্তের দাগ কখনও মুছবেনা! আমার অতৃপ্তি, আমার অন্যায় তৃষ্ণা আর লোভ ও যেন তেমন- --- আমার বাবার নামের কথাটাই বিবেচনা করে দেখি..

হাজার ইমারত, রাস্তা ঘাট, খেলার মাঠ, প্রতিষ্ঠানের নাম করণ করেও তৃপ্তি নেই, শুধু মনে হয়- এই বুঝি তার নাম মুছে গেলো.. এই বুঝি নামখানা বিস্মৃত হলো। এই নামকে পাহারা দিতেই যেনো চারপাশ ঘিরে পরিবারের আতপাতি সকলের নামে অন্যায় ভাবে জাতীয় প্রতিষ্ঠানের নামকরণের মতো ঘৃণ্য কাজ করি, তারপরও যেন ম্যাকবেথের হাতের রক্তের দাগের সেই হ্যালুসিনেশনের মতো মনে হয়.. নামকরণ যথেষ্ট হলোনা।

শেষে আমার উদ্ভ্রান্ত মন জানালো, সমস্যার মূল ভীষণ জনপ্রিয় কারো নাম সকলের মনযোগ কেড়ে নিয়েছে, তার ঈর্ষনীয় জনপ্রিয়তা বাবার নামটি মুছে দেবার মূল কারন। নাহ্! তাঁর নামে হাজার শত প্রতিষ্ঠান নয়, দু একটি আছে... সেই দুই একটিই আমার নামারকনকৃত শতাধিক প্রতষ্ঠিানের চেয়ে অনেক অনেক শক্তিধর যেন! আমি সেই নামটিও মুছে দিতে চেষ্টা করি... আমার আশেপাশের মানুষেরা অনহারে, অর্থাভাবে দিনাতিপাত করছে, আমি তাদের তোয়াক্কা না করে রাজকোষ থেকে হাজার কোটি অর্থ লুট করে নিজের উদভ্রান্ত মনের স্বান্তনা খুঁজি। আমি পুরোপুরি ম্যাকবেথে পরিনত হই, যখন দেখি এভাব সব নাম মুছে ফেলার পরও মানুষের হৃদয়ে তাঁর নাম কি ভীষণ প্রগাঢ়ভাবে লেখা!!

আমার উন্মাদনা, ঈষাকাতর অন্ধ মন আমায় অনুধাবনে অক্ষম করে, বাবার নামটিই এমনি ভাবে মানুষের মনে আঁকা তাঁর নাম প্রতীষ্ঠায় পথ, ঘাট মাঠে তাঁর নামফলক ঝুলাবার প্রয়োজন নেই।

নিজের এই বিকৃত মানসিকতা আমায় প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন প্যারানয়ায় ব্যস্ত করে রাখে।
আমি প্রতিহিংসার নেশায় অস্থির হয়ে থাকি। কখনও ঈর্ষাকাতর আমি প্রতিপক্ষকে চুলের মুঠি ধরে ভিটে ছাড়া করে নিজের বিজয়ে ভেবে অট্ট হাসিতে ফেটে পরি, মুহুর্তের জন্য অনুধাবন করিনা এ আমার নৈতিকতা ও মানসিকতার কি করুণ পরাজয়।

আমার পরিবার যখন বিপদগ্রস্থ হয়েছিলো সেসময় এদেশের মানুষ আরামে নিদ্রা গেছে, এই ভাবনা প্রতিনিয়ত আমায় এক অন্ধকার কূপে নিমজ্জিত করে রাখে। প্রতিশোধের নেশায় পশুর চেয়ে হিংস্র হয়ে উঠি আমি। আমার রক্তপিপাসু প্রতিবন্ধি মন মেতে উঠে রক্তের হোলি খেলায়.. একদল নিবোর্ধ নপুংসককে কিছু অন্যায় ক্ষমতা, কিছু অবৈধ অর্থ দিয়ে নিজের পালিত কুকুর বানিয়ে ছেড়ে দেই এদেশের মানুষের মাঝে। পাগল কুকুরের মতো তারা ঝাঁপিয়ে পরে নিরীহ জনতার উপর- ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, মারামারি, লুন্ঠন, সম্পদ দখল এমনকি নির্বিচারে হত্যাকান্ড চালিয়ে যায় তারা। মগজধোলাইকৃত আমার ক্রীতদাসের এই পাল বুঝতে অক্ষম আমি তাদের কলম কেড়ে হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে কি ভয়ংকর সর্বনাশ করেছি! আমি শুধু এদের বিচার হতে দেইনা, এদের লাইসেন্স দিয়ে রাখি অনাচার আর সন্ত্রাসের বিনিময়ে এই নির্বোধের পাল আমায়, আমার পুরো পরিবারকে অন্ধ ভক্তি দিয়ে উপাসনা করে, আমার বিরুদ্ধে কেউ “টুঁ” শব্দটি করলে এরা তাকে ছিঁড়ে খেতে পিছপা হয়না, আমি আবারও এক বিকৃত আনন্দ লাভ করি.. তবু সুন্দর একটি হাসি ফুটেনা।

আমার আরেকটি মজার স্ট্র্যাটেজি, আমি মুক্তিযুদ্ধ কে মনের খেয়ালে এপাশ ওপাশ করে গড়ে পিটে নেই। এ শুধুই আমার ব্যক্তিগত সম্পদ.. আমি যাকে মুক্তিযোদ্ধা বলবো সেই শুধু মুক্তিযোদ্ধা.. হোকনা সে ৩০ অথবা ৪০ বছরের কোন কুলাঙ্গার সন্ত্রাসী, আর আমার পছন্দের ৪৫ বছরের উপরের সকলকে সম্ভব হলে বীর প্রতিক ঘোষণা দিতাম.. সময়এ হয়তো এমনও সম্ভব হবে। শুধু কি মুক্তিযোদ্ধা? অতিঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধীও আমার কাছের মানুষ হয়ে উঠলে তার সাত খুন মাফ, তিনি তখন দেশের মহান নাগরিক, আর আমার দলে যোগ দিলে সে মুক্তিযোদ্ধা..প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা তা দেখে যতোই অভিযোগ আর কান্নাকাটি করুক... আমার আত্মীয় হলে, দলীয় লোক হলে তার যুদ্ধাপরাধের সকল পাপ স্খলিত হয়ে যায়...!!
কারো সাধ্য নেই আমার এই খেলার প্রতিবাদ জানাবে, প্রতিবাদ করলেই আমার ক্রীতদাস বাহিনী চেঁচিয়ে বলবে “তুই রাজাকার”!

আমার এক মনিব দেশ আছে, সেই দেশের স্বার্থে সবকিছু করতে পারি আমি। প্রয়োজনে ১৯৭১ এ হানাদার পাকবাহীনির চেয়ে নৃশংস হয়ে উঠতে পারি, একটু ভুলে বলেছি.. হয়ে উঠতে পারিনা, হয়ে উঠে দেখিয়েছি। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যা সম্ভব হয়নি, আমার প্রভুদেশক তুষ্ট করতে আমি তেমন করে দেখিয়েছি। কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে এদেশের ৫৬জন বীর সেনানীকে নির্মমভাবে হত্যা করতে দিয়েছি, আমার প্রভূদেশের জন্য এরা বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। .... আমার শহরেই শুধু না ঘরের প্রায় পাশেই.. একেকটি গুলির শব্দ আমার হৃদয়ে যে বিকৃত আনন্দের, অর্জনের ঢেউ তুলেছে সেসময় তা বর্ণনাতীত.. তারপরও.... একটু তৃপ্তির হাসি হাসতে পারিনা!

আমার মানসিক দৈন্যতা আমায় শান্তি পেতে দেয়না। হতদরিদ্র জনগণের টাকা চুরি করে একটু শান্তির অন্বেষণে আমি ডক্টরেট ডিগ্রী কেনার এক বিকৃত নেশায় মেতে উঠি। আমার পালিত কুকুরের দল ছুটাছুটি করে একের পর এক ডিগ্রীর মালা এনে আমার গলায় পরিয়ে দেয়, তবু এতোটুকু সন্মান বৃদ্ধি পায়না... আমার তৃপ্তি মেলেনা!

আমার মনের ভারসাম্যহীণতা বেড়েই চলে, হঠাৎ মোসাহেবের পাল পরামর্শ দেয় নোবেল পুরুস্কার কেনার!! আমার জ্ঞান বিজ্ঞানের কোন শাখায় অবদান দূরের কথা এতোটুকু ধারনাও নেই। এই গুনবর্জিত হলেও নোবেলের একমাত্র আশা “শান্তি পুরুস্কার”! এমনই দুর্ভাগ্য.. হত্যা, ধর্ষন, ষড়যন্ত্রের কোন পুরস্কারের ব্যবস্থা নেই, ব্যবস্থা নেই “অশান্তি পুরুস্কারের”!! আমি হতাশ হয়ে পড়ি, আমার বিকৃতমন আরো লাগামছাড়া, ভারসাম্যহীণ হয়ে পড়ে... আমি নোবেল না পেলে এই দেশে কেউ একারণে সন্মানিত হতে পারেনা। আমার বাবা নয়, আমার এত্তো ডক্টরেট নয়, ভীনদেশীরা আমায় চেনে নোবেল বিজয়ীর দেশী হিসেবে!!! আমার বাবার নামটি পর্যন্ত তারা শুনেনি, আর এই সুদখোরমহাজনের বৃত্তান্ত জানে!! পথঘাট, দোকান পাট, অফিস আদালত এমনকি সবচেয়ে বড় স্টেডিয়ামে বাবার নামের ফলক লাগানোর পরে ভীনদেশীরা তার নাম জানেনা, জানে এই সুদখোর মহাজনের নাম! কি ভীষণ ধৃষ্টতা!
এমনটি সহ্য করতে আমার উদভ্রান্ত মন অক্ষম .. নোবেল ছিনিয়ে নেবার ক্ষমতা নেই তবে তাকে হেনস্থা করার ক্ষমতা আমার আছে!!!!!!!

আমি সেই ক্ষমতার প্রয়োগ করি। আমার অন্য সকল অন্যায়ের মতো এই অন্যায়ের সমর্থক জুটানো কঠিন নয়, নির্বোধের এই দেশে। আমার অতি কাছের কেউ কেউ ক্ষুদ্রৃঋণের নামে ঘৃন্য সুদের মহাজনি চালিয়ে গেলেও, এই অজুহাতে নোবেলজয়ীকে ঘায়েলের সমর্থক পেতে সমস্যা হয়না আমার। ঠিক যেমন, নিজের ঘরে যুদ্ধাপরাধীও লালন করেও আজ আমি নিজেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধ শক্তি হিসেবে একদল বোধশক্তিহীনের মনে প্রতীষ্ঠা পেয়েছি। আমার যেকোন সদ্ধিান্তের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললেই, একান্ত অনুগত এই নির্বোধের পাল “তুই রাজাকার” ধ্বনিতে তাদের কোনঠাসা করে রাখবে.. হোকনা তিনি কোন দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা অথব সত্যিকারের ঘৃণ্য রাজাকার!
মুক্তিযোদ্ধা আর রাজাকারের সার্টিফিকেট আজ শ্বাপদের থাবায়! আমার পদলেহী এই কুকুরের পাল সদা তৎপর!


এমন বিশ্বস্ত শ্বাপদ বাহীনি নিয়েও স্বস্তি নেই, পরিতৃপ্তি নেই আমার!
তৃপ্তির হাসি হাসার চেষ্টায় অট্ট হাসিতে ফেটে পড়ি আমি, বরাবরের মতোই তা হায়নার হাসির মতো শোনায়!!

নিজের বিকারগ্রস্থতা আর অন্ধকারাচ্ছন্ন মানসিক বিকলাঙ্গতার কারনে আমি স্বাভাবিক ভাবে হাসতে পারিনা, তৃপ্তিভরা সুন্দর হাসি হাসতে পারিনা।

তাই আমি হাসি না।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29338468 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29338468 2011-03-05 09:06:54
কিসের স্বাধীনতা? কিসের বিজয় দিবস!!!!!!!
আজ যদি আমরা স্বাধীন দেশের মাটিতে নিঃশ্বাসের অধিকার পেয়ে থাকি, মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় তা পেয়েছি খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের কারণে, দেশের নির্ভীক সৈনিক যাঁরা এসেছিলেন নিতান্ত সাধারণ ঘর থেকে, তাঁদের অসীম সাহসিকতা আর প্রাণের বিনিময়ে।

মহান মুক্তিযুদ্ধে কোন লক্ষ প্রাণের বিসর্জন হয়েছিলো?

তাঁরা কি ক্ষমতার মসনদে আসীন কোন রাজনৈতিকা নেতা ছিলো? অথবা কোন দুর্নীতিবাজ নেতার অকালকুষ্মান্ড সন্তান? বিলাসীতার মাঝে গা এলিয়ে আয়েশী জীবনে অভ্যস্ত ক'জন শিল্পপতি শহীদ হয়েছিলো মহান মুক্তিযুদ্ধে?

অথচ আজ তারাই বিজয়ী.. সত্যিকারের স্বাধীনতা স্বাদ আস্বাদনের অধিকার শুধু তাদের।

স্বাধীনতার ৩৯ বছর পর, আমরা মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা দিবস আর বিজয় দিবসের চেতনার গান গেয়ে যাই। পাতার পর পাতা ভরে উঠে পাতাআগুন ঝরা লেখায়, রাজনৈতিক দলের ক্রীতদাসের পাল সমর্থিত দলের নেতারূপী প্রভূদের বন্দনা সঙ্গীত আর মুক্তি যুদ্ধে তাদের অবদানের ঢাক পিটিয়ে আত্মতৃপ্তি লাভ করে!!

আর যাঁরা নিজের রক্তের বিনিময়ে, প্রাণের বিনিময়ে হায়নার পালের কাছ থেকে লাল সবুজে আঁকা পতাকা ছিনিয়ে এনেছিলেন, তাঁরা.. সেই সাধারণ মানুষ কেমন আছেন? স্বাধীন দেশের স্বপ্ন চোখে আত্মাহুতি দেয়া সেসব বীর সেনানীর স্বপ্ন আজ দুঃস্বপ্নে পরিনত হয়েছে যেন...

সেদিনের হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর আর তাদের দোসর রাজাকার আলবদররূপী শকুনেরা আজ ফিরে এসেছে নতুন রূপে, এরা দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতা, দেশের সকল আয়েশ, বিলাসবসন সকল কিছুর একচ্ছত্র অধিপতি। কখনও রাজনৈতিক নেতার রূপে, আবার কখনও শিল্পপতি- কারখানার মালিক। কখনওবা পথে ওঁৎপেতে থাকা নারী সম্ভ্রমহানীকারী শিকারী হায়না রূপে... এরা ফিরে আসে বার বার।।
দেশের সর্বত্র বিচরণ এদের।

কোন ভীনদেশী ভাঁড় এসে আসর জমিয়ে বসলে, সেখানেও ক্ষমতার দুর্গন্ধ পৌঁছে যায়। ভাঁড়ামোতে শরিক হতে চলে যায় রাজপরিবারের বিশেষ দূত! শুধু তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়না শ্রমিকের লাশের ভীড়ে, খুঁজে পাওয়া যায়না রাজপথে পড়ে থাকা কোন বিপ্লবী বা মিছিলের বুলেটবিদ্ধ যুবকের মাঝে!!

দেশের প্রধানমন্ত্রী বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ গ্রহনে ব্যস্ত.. আজ যে স্বাধীনতা দিবস।
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী আর তোষামোদকারীর পাল ভাবগাম্ভীর্যের সাথে তাকে ঘিরে যখন নিজের জীবন স্বার্থক করার অসুস্থ প্রতিযোগিতায় মত্ত!
-ওদিকে, তালাবদ্ধ ঘরে অসহায় শ্রমিকেরা দ্বিধাদ্বন্দে সময় কাটায়, জীবনের শেষ কয়কেটি মুহূর্তে তাঁরা ভীষণ বিচলিত.... “আগুনে পুড়ে মরার চেয়ে জানালা দিয়ে লাফিয়ে পরা মৃত্যু শ্রেয়তর হবে কিনা” সেই সিদ্ধান্ত গ্রহনে ব্যস্ত!!!
বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজে আর তপোধ্বনির শব্দে চাপা পড়ে যায় তাঁদের মৃত্যুর প্রহর গণনার গুন্জ্ঞন, বেঁচে থাকার শেষ আর্তনাদ!!

কিসের স্বাধীনতা? কিসের মুক্তিযুদ্ধ?

মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশের অর্থনীতিকে বলীয়ান করা এসব শ্রমিকের ঘর থেকে বাইরে যাবার নুন্যতম স্বাধীনতা নেই।। জীবনের শেষ মুহুর্তে মুক্ত বাতাসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের অধিকার নেই তাঁদের!!


খাঁচায় বন্দী এক পাল অসহায় পতঙ্গের মতো প্রতি বছর তাঁরা নিয়ম করে পুড়ে মরে।
জীবিত অবস্থায়ও যে তাঁরা “বেঁচে” থাকেন, এমন নয়!!! কর্মক্ষেত্রে, পথে ঘাটে প্রতিনিয়ত অপমান, অবহেলা আর সম্ভ্রমহানী তাঁদের নিত্যসঙ্গী।

এই অসহায় পতঙ্গদের রক্ত পানি করা অর্থে বিত্তের পাহাড় গড়ে শিল্পপতির দল। বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই এসব শ্রমিকদের, জীবনের নিরাপত্তা, নিশ্চয়তা এসব শুধুই অলীক স্বপ্ন তাঁদের জন্য- অথচ প্রতি পদে পদে অপমান, অবহেলা আর জীবন সংকটের মাঝে বেঁচে থাকা এসব শ্রমিকের প্রাণের বিনিময়ে নিজের প্রবাসী সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দেশের মহামান্যরা...


এমন স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়েছিলো লক্ষ লক্ষ শহীদ!!!!
দেশের সাধারণ মানুষের এই অসহায়ত্ব, লান্ছনা আর অবমাননার জীবনের স্বপ্ন নিয়ে মুক্তি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন আমাদের পূর্বপুরুষ?


বদ্ধ ঘরের ধোঁয়ায় ভারী হয়ে আসা বাতাসে জীবনের শেষ মুহুর্তের জন্য আপেক্ষমান এসব শ্রমিকদের কাছে, কিসের স্বাধীনতা? কিসের বিজয় দিবস?

যুগ যুগ ধরে তাঁরা পরাজিত.. জীবনে এবং মরনেও..


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29291355 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29291355 2010-12-17 16:13:20
উৎসর্গ হেলাল হাফিজ.....!!!
আটপৌঢ়ে জীবনের অংশ হয়ে উঠা এমন কিছু ব্যাপার যা আসলে জীবনের পরম সম্পদ! এই সম্পদের অস্তিত্ব সম্পর্কে আমরা অনেকে উদাসীন, কেউ বা অবগত নই আবার কেউ স্বীকার করতে চাইনা। অবহেলায় এড়িয়ে যায়...

প্রাত্যহিক জীবনের একান্ত সঙ্গী হয়ে ওঠা এমন কিছু আমার জীবনেও আছে। পাঠ্য বইয়ের বাইরে অন্যান্য বই পড়া, গান শোনা। খুব সহজ ভাষায় বলা সাধারণ একটি কথা, যার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অনুধাবনে আমিও হয়তো খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অপরাগ ছিলাম।

আমার দৈনন্দিন জীবনে মিশে থাকা এমন একটি বই “যে জলে আগুন জ্বলে”।
নামের মাঝেই রহস্য, অন্যরকম মাধুর্য আর মাদকতা।
নামটা শুনলে গভীরবোধ সম্পন্ন কারো অস্তিত্ব অনুভূত হয়!

সাধারন বই পাঠ যতো আনন্দময় হোক, পড়াশুনার ব্যাপারটা আমার মতো অনেকের জন্যই ক্লান্তিকর হয়ে উঠে সময়ে সময়ে। সারাবছর পড়াশুনায় অবহেলা যারা করে, পরীক্ষার আগে তাদের আরো কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয়.... প্রস্তুতি গ্রহনের পরীক্ষা।

প্রফেশনাল পরীক্ষা এগিয়ে এলে মোটা মোটা সব বইয়ের খুঁটিনাটগিুলোও খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতো.. একটি শব্দ, একট দাঁড়ি-কমা, সেমকিোলনও যে কোন কিছুর অর্থ ও গুরত্ব বদলে দিতে পারে, সেসময় তা বড় সুক্ষভাবে অনুভূত হয়... এই অনুভূতি, মনযোগ আর ব্যস্ততার সাথে বোনাস হিসেবে পাওয়া যেতো এক কালো মেঘ, যার নাম “স্ট্রেস”!!!

ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক এই স্ট্রেস.... এর কাছ থেকে অব্যহতি পেতে একেক জনেক একেক প্রচেষ্টা.. কেউ বাইরে হাঁটতে যায়, কেউ টিভি দেখে, গান শুনে, কেউ ইয়োগা বা যোগব্যায়ামের চিরন্তন ফর্মূলা চেষ্টা করে দেখে আর কেউ বা ঘুমের দেশে স্বপ্ন রাজ্যে বিচরণ করতে যেয়ে পরীক্ষাসংক্রান্ত দুঃস্বপ্ন দেখে চমকে জেগে উঠে...

মেডিকেল কলেজের ভয়াবহ সব পড়াশুনায় চোখ মুখ ডুবিয়ে পড়াকালীন সেসময় আমার স্ট্রেস রিলিভার ছিলো প্রিয় কাব্যগ্রন্থ “যে জলে আগুন জ্বলে”।
খুব দুর্বোধ্য কোন চ্যাপ্টার, কোন দুর্বোথ্য কম্পোজিশন, প্যাথোফিজিওলজি, প্রসেডিউর আয়ত্ত্বে আনার পর সেলিব্রেশন হতো শেল্ফ থেকে আনমনে হাতে নেয়া বইটির পাতা উল্টে.. একেক কবিতা একেকটি ম্যাজিক!!!!
কবি হেলাল হাফিজ সেই ম্যাজিকের ম্যাজিশিয়ান! তাঁর শব্দের যাদু স্পর্শে নিমেষে উবে যেতো যতো ক্লান্তি। ঝরঝরে মন নিয়ে আবার ফিরে যেতাম পরবর্তী যুদ্ধে, অর্থাৎ আরো দুর্বোধ্য কোন পড়া মগজে গেঁথে নিতে।

“কবির জীবন খেয়ে জীবন ধারণ করে কবিতা এমন এক পিতৃঘাতী শব্দের শরীর, কবি তবু সযত্নে কবিতাকে লালন করেন, যেমন যত্নে রাখে তীর জেনে-শুনে সব জল ভয়াল নদীর। সর্বভূক এ কবিতা কবির প্রভাত খায় দুপুর সন্ধ্যা খায়, অবশেষে নিশীথে তাকায় যেন বয়ঃসন্ধিকালের কিশোরী, কবিকে মাতাল করে শুরু হয় চারু তোলপাড়, যেন এক নির্জন বনের কোনো হরিণের লন্ডভন্ড খেলা নিজেরই ভিতরে নিয়ে সুবাসের শুদ্ধ কস্তুরী। কবির কষ্ট দিয়ে কবিতা পুষ্ট হয় উজ্জ্বলতা বাড়ায় বিবেক, মানুষের নামে বাড়ে কবিতার পরমায়ু অমরতা উভয়ের অনুগত হয়।”

হেলাল হাফিজ আমার কাছে জলের আগুনে মিশে থাকা একজন.. কখনও মনে হয়নি কষ্টের এই ফেরিওয়ালা দেখতে কেমন! তিনি আমার কাছে দুপংক্তির শব্দাক্ষরের মাঝে বন্দী এক অদ্ভুত ভালোলাগা.
মনে হয়নি যৌবনদীপ্ত তারুণ্যকে তাদের সময়ে শ্রেষ্ঠ.ব্যবহার মনে করিয়ে দেয়া কবির বয়স কতো হতে পারে!!

কবিতার পংক্তিমালার সাথে মিশে আছেন হেলাল হাফিজ। কবিকে কখনও আলাদা করে মনে পড়েনি, মনে হয়েছে তাঁর কবিতাই হয়তো মূখ্য.. এই ভীষণ বড় ভ্রান্তি দূর হয়, বলা যায় এই ভ্রান্ত ধারনা সম্পর্কে অবগত হই যেদিন এই সাইটে হঠাৎ তাঁর নাম চোখে পড়ে!! বেশ কয়েক বছরর আগ কেউ একজন পোস্ট দিয়েছিলনে যার শিরোনাম ছিলো, হেলাল হাফিজের কবিতা অথবা যে জলে আগুন জ্বলে উল্লেখ করে। চোখে পড়তেই চমকে উঠি!!! এতো আমার একান্ত কবিতার বই, আমার অতি আপন কেউ... মন ভালো হয়ে যায় শিরোনামে তাঁর নাম দেখে...

বুঝতে পারি হৃদয়ছোঁয়া অথচ আটপৌঢ়ে পংক্তিমালার মতো কবিতার সাথে একাকার হয়ে খুব সন্তপর্নে কবি আমাদের মগজে ও ভাবনায় স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন!!
কখনও না দেখা এই কবি সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারনাও মনে গেঁথে আছে, যা তাঁর কবিতার মতোই সহজ সুন্দর. কোমল অথচ দৃঢ়। বুঝতে পারি জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে প্রচারে তাঁর বড্ড অনীহা! ঘনঘন মিডিয়ায় চেহারা দেখিয়ে খ্যাতি ও আধিপত্য বিস্তারে তাঁর আগ্রহ নেই। তিনি কাউকে গভীর ভাবে ভালোবেসেছিলেন, যে ভালোবাসা থেকে জন্ম হয়েছিলো লাল নীল হরেক রকমের কষ্টের, সেই কষ্ট আর ভালোবাসাকে পুঁজি করে বেঁচে আছেন তিনি। সস্তা প্রচার আর ঢাক ঢোল পিটিয়ে কাব্যগ্রন্থের কাটতির প্রয়োজন নেই তাঁর! আত্মপ্রচার বিমূখ, নির্লোভ একজন সুন্দর মনের মানুষ তিনি।

যিনি হাতগুটিয়ে বসে থেকেও নিজের অজান্তেই ছুঁয়েছেন আকাশ.....

আজও কোথাও কখনও খুব হৃদয়ছোঁয়া পংক্তিমালা চোখে পড়লে, হঠাৎ কোন কবিতার লাইন গভীর ভালোলাগায় ভরিয়ে দিলে নিমেষেই ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠে.. কারণ কবিতার নাম উল্লেখ না থাকলেও বুঝতে পারি এটা হেলাল হাফিজের কবিতা.. জ্বলন্ত আগুনে ভরা জল কেউ আঁজলা ভরে তুলে এনেছেন!

“ইচ্ছে ছিলো তোমাকে সম্রাজ্ঞী করে সাম্রাজ্য বাড়াবো ইচ্ছে ছিলো তোমাকেই সুখের পতাকা করে শান্তির কপোত করে হৃদয়ে উড়াবো। ........ ইচ্ছে ছিল রাজা হবো তোমাকে সাম্রাজ্ঞী করে সাম্রাজ্য বাড়াবো, আজ দেখি রাজ্য আছে রাজা আছে ইচ্ছে আছে, শুধু তুমি অন্য ঘরে।”

ছোট্ট ছোট্ট কিছু শব্দমালা, অল্পকিছু কথায় এভাবে হৃদয়ের কোমল দ্বার কড়া নাড়তে পারে কেবল এই একজন কবির কবিতা। স্নিগ্ধতা, নিমর্লতা আর গভীর ভালোলাগার আবেশে মন ছুঁয়ে যেতে পারে কেবল কবি হেলাল হাফিজের পংক্তিমালা!

"এখন তুমি কোথায় আছো কেমন আছো, পত্র দিয়ো৷ এক বিকেলে মেলায় কেনা খামখেয়ালী তাল পাখাটা খুব নিশীথে তোমার হাতে কেমন আছে, পত্র দিয়ো৷ ক্যালেন্ডারের কোন পাতাটা আমার মতো খুব ব্যথিত ডাগর চোখে তাকিয়ে থাকে তোমার দিকে, পত্র দিয়ো৷ কোন কথাটা অষ্টপ্রহর কেবল বাজে মনের কানে কোন স্মৃতিটা উস্কানি দেয় ভাসতে বলে প্রেমের বানে পত্র দিয়ো, পত্র দিয়ো৷ আর না হলে যত্ন করে ভুলেই যেয়ো, আপত্তি নেই৷ গিয়ে থাকলে আমার গেছে, কার কী তাতে? আমি না হয় ভালোবেসেই ভুল করেছি ভুল করেছি, নষ্ট ফুলের পরাগ মেখে পাঁচ দুপুরের নির্জনতা খুন করেছি, কী আসে যায়? এক জীবনে কতোটা আর নষ্ট হবে, এক মানবী কতোটা আর কষ্ট দেবে!"

আপনি কেমন আছেন প্রিয় কবি?
মহান সৃষ্টি কর্তা যেন আপনাকে সুস্থ, সুন্দর, সুখি ও শান্তিপূর্ণ দীর্ঘ জীবন দান করেন এই প্রার্থনা।

***প্রায় তিনমাস আগে ব্লগে প্রিয়কবিকে নিয়ে লেখা একটি পোস্ট পড়ে এটা লিখেছিলাম। তারপর খোঁজ পেলাম এই জীবিত কিংবদন্তীরর। সৌভাগ্যক্রমে অসাধারণ ক্ষমতার অধিকারী বন্ধুর মাধ্যমে সম্প্রতি ভীষণ প্রচারবিমূখ, নিভৃতচারী প্রিয়কবির খোঁজ জানতে পারি। মহান স্রষ্টার কৃপায় কবি হেলাল হাফিজ ভালো আছেন, আর.. আজ তাঁর জন্মদিন!!!!!***

শুভ জন্মদিন প্রিয় কবি। :-)

যাঁর জন্মদিন তাঁকে উপহার দেবার নিয়ম, আমি আপনার জন্মদিনে আপনার ভক্তকূলকে উপহার দিতে চাই একটি সংবাদ.. “কবি হেলাল হাফিজ” এর নতুন বই শীঘ্রই প্রকাশ পাবে :-)প্রার্থনা করি , নতুন বইটির জনপ্রিয়তা যেনো “যে জলে আগুন জলে”র আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাকেও ছাড়িয়ে যায়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29250640 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29250640 2010-10-07 00:28:54
জাতিসংঘে আহমেদিনিযাদের বক্তব্য ও আমাদের কথা! সম্প্রতি জাতি সংঘের সাধারণ সভায় ইরানের রাষ্ট্রপতি আহমেদিনিযাদের বক্তব্যটি বিপুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আমেরিকাকে ৯/১১এর জন্য দায়ী বলে ইঙ্গিত করে তাঁর বক্তব্যের অংশটি অনেকে লুফে নিয়েছে এবং তা নিয়ে উচ্ছাস সমালোচনা অব্যহত।


মজার ব্যাপার হলো, আহমেদিনিযাদের প্রায় ৩৩ মিনিটের বক্তব্যের মাঝে মাত্র তিন চার মিনিট মতো সময় ছিলো এই বিষয়টি.. বাকি ৩০ মিনিট তিনি যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবতারণা করেন আমাদের উল্লাস ধ্বনির মাঝে তা চাপা পড়ে যায়।

তাঁর বক্তব্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশটি ছিলো জাতিসংঘের রিফরমেশন সম্পর্কিত প্রাস্তাবনা। বিশেষ কয়েকটি দেশের ভেটো দেবার অধিকার রোধ করার দাবী জানিয়ে তিনি বলেন বিশ্বের সকল দেশের অধিকার হবে সমান। সাধারণ সভা হবে সকল সিদ্ধান্ত গ্রহনের স্থান এবং মহাসচিব হবেন একক ক্ষমতার অধিকারী। কোন শক্তি এমনকি যে দেশে তাঁদের সদর দপ্তর, সেসব দেশের দ্বারা কোন ভাবে যেন তিনি প্রভাবান্বিত না হন।

আহমেদিনিযাদের বক্তব্যের বড় একটি অংশ জুড়ে ছিলো সৃষ্টি কর্তার একাত্ববাদের বন্দনা, ইসলাম এবং ধমর্মত নির্বিশেষে সকলের প্রতি শান্তির আহ্বান।

তিনি ইরাক এবং আফগানিস্থানের যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ও লক্ষাধিক মানুষের আহত হবার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। ফিলিস্তিন দখল করে তাঁদেরকেই সন্ত্রাসী নামে অভিহিত করার প্রতিবাদ। হতভাগ্য ফিলিস্তিনীদের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তাঁদের মাটিতে ফিরিয়ে দেবার দাবী জানান।

আহমেদিনিযাদ পুঁজিবাদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আজকের বিশ্বজুড়ে যে অর্থনৈতিক মন্দা তা পুঁজিবাদের কুফল এবং এক ভয়ংকর পরাজয়। এক সময় বিশ্ব জুড়ে ভীষণ প্রতাপশালী কলোনিয়ালিজমেরপতন ঘটেছে, সাম্রাজ্যবাদ আর পুঁজিবাদের পতন ঘটবে অচিরেই।

যে অংশটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে তা হলো আনবিক শক্তি ও পারমানবকি অস্ত্র সম্পর্কিত দাবী। তিনি বলেন আনবিক শক্তি বিশ্বের জন্য আশির্বাদ স্বরূপ আর পারমানবিক অস্ত্র ভয়ংকর অভিশাপ। তিনি পারমানবিক চুক্তির(নন প্রলিফারেশন ট্রিটির) কঠোর সমালোচনা করে বলেন, পৃথিবীর নির্দিষ্ট কিছু দেশ তাদের ইচ্ছে মতো যখন খুশি, যতো খুশী এই ভয়ংকর মরণাস্ত্র উৎপাদনের অধিকার কুক্ষিগত করে রাখে, যা সমগ্র বিশ্বের জন্য হুমকী স্বরূপ! বিশেষ করে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর অব্যহত ভাবে পারমানবিক অস্ত্রের পরিমান বৃদ্ধি করার ব্যাপারে আশংকা করেন। জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্য যারা এসব পারমানবিক অস্ত্র এবং আনবিক শক্তি কে অভিন্ন বিবেচনা করে বিশ্বের অন্যান্য দেশে নিষেধাজ্ঞা জারীর সমালোচনা করেন। সারা বিশ্বে আনবিক শক্তির প্রসার ঘটানোর সাথে সাথে ২০১১ সালের মধ্যে পৃথিবী থেকে পারমানবিক অস্ত্র সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার দাবী জানান।

সাম্রাজ্যবাদ এবং আগ্রাসনবাদ তীব্র সমালোচনা করে এর অবসানের দাবী জানান।

জাতি সংঘে ৯/১১ সংক্রান্ত তাঁর বক্তব্য.. যে বল্তব্য শুনে আমাদের মাঝে অনেকেই বাহাবা দিয়ে উচ্ছসিত হয়ে বলেছেন; “বাঘের বাচ্চা। আমেরিকার মাটিতে বসে তাদের মুখের উপর এমন কথা বলে এসেছে”। এর শিহরন আর উচ্ছাস নিয়ে এখন আর্শিতে নিজেদের দেখে নেই একবার... ভীনদেশে গিয়ে নয় নিজ দেশের মাটিতে বসে আমরা কি আমাদের বাকস্বাধীনতা পেয়েছি? আমাদের দেশে সংসদে বিরোধী দল কিছু বললে মাইক বন্ধ করে দেয়া হয়! শুধু তাই নয়, এই কিছুকাল পূর্বেও বিরোধী এক সাংসদের বক্তব্য শুনে মারমুখী হয়ে ছুটে এসেছিলো সরকার দলীয় সাংসদরা। মজার কথা হলো, তিনি কোন কন্সপিরসেসী থিওরী বা অনুমান নির্ভর বক্তব্য প্রদান করে আক্রমণের মুখে পড়েননি, বরং ইতিহাস থেকে ছোট্ট একটি উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন মাত্র.. আমাদের গণধন্ত্রের ধারক বাহক তাঁর সেই অধিকার রোধ করে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ঝান্ডাধারীরা একজন সাংসগের বাক স্বাধীনতা হরণ করে অত্যন্ত নির্লজ্জ ও ন্যাক্কারজনক ভাবে। গণমাধ্যমে বিরুদ্ধমত প্রকাশিত হলে, নিজেদের কুকর্মের সমালোচনা হলে আমাদের সরকার নিমেষেই বন্ধ করে দেয় সেসব টিভি চ্যানেল বা সংবাদ পত্র, শুধু তাই নয় অন্যায় ভাবে গ্রেফ্তার ও নির্যাতন করা হয় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের।
অথচ, এই বাঘের বাচ্চার বক্তৃতার সময় ক্ষমতাধর অভিযুক্ত রাষ্ট্রটি তাঁর মাইক বন্ধ করে দেয়নি, মারমুখী হয় আক্রমণদ্যত হয়নি। তারা শান্তপিূর্ণ ভাবে ওয়াক আউট করে নিজেদের প্রতিবাদ জানিয়েছে।

আমাদের প্রতিনিধি শতশত অকাল কুষ্মান্ডের বহর নিয়ে তা অবলোকন করেছে, শিক্ষা গ্রহন করেনি কিছুই এটা হলফ করেই বলা যায়। জনগণের কষ্টার্জিত অর্থে আত্মীয় বন্ধু পরিজনদের প্রমোদ ভ্রমনে লজ্জা বা আত্মগ্লানি নেই আমাদের রাষ্ট্রপ্রধানদের, নিজের দেশের মানুষকে বন্চিত করে তাদেরই অর্থে অন্যায় বিনোদন যেন এসব স্বৈরাচারদের নিয়মিত ব্যাপার।
এদেরকে আমরা গণতান্ত্রিক সরকার বলার মূর্খতা করি। আমরা এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে জানিনা, নিজের ক্ষমতা আর আয়ত্বে থাকা সত্ত্বেও এদের সংশোধনের দাবীতে এগিয়ে যাইনা.....

একজন আহমেদিনজিাদের পরাশক্তির বিরুদ্ধে সাহসী বক্তব্যে আমরা আমোদিত হতে পারি তবে নিজের ঘরের বিভীষণের বিরুদ্ধে আমরা নিরব, ক্ষেত্র বিশেষে তাদের নির্লজ্জ তোষামোদীতে আমরা মেতে উঠি।

বাঘের বাচ্চা আমাদের দেশে আমাদের মাঝেও আছেন। আমরা তাঁদের খাঁচা বন্দী করে নখ, দাঁত ভেঙ্গে দেই। তাঁদের হাত পা বেঁধে রাখি।

পরিশেষে আহমেদিযাদের ভাষাতেই বলতে হয়, “ সত্যকে ধ্বংস করা যায়না। সৃষ্টি কর্তা এবং সত্য অবিনশ্বর”।।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29245823 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29245823 2010-09-27 00:58:48
স্বামী ঘরে দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে এসেছেন..!!
বেশ কিছুদিন ধরেই আয়োজন চলছিলো আমার অগোচরে!

আমার ভীষণ ব্যস্ততার সুযোগে দেখাও করেছে বহুবার.. অফিস থেকে ঘরে ফেরার পথে, কখনও ছুটির দিন আমায় না জানিয়েই! ইন্টারনেটেও তাদের যোগাযোগ ছিলো শুনেছি।

বউটা ভালোই দেখতে.. আসলেই 'ভালোই' এর চেয়ে ঢের বেশি কিছু। পাঁচফুটের পাতলা গড়ন। আপাদমস্তক আকর্যনীয় তার প্রতিটি অংশ, অধিকাংশ পুরুষের মাথা ঘুরিয়ে দেবার মতো!

আমার স্বামীতো রীতিমতো ঘোরের মাঝে আছেন মনে হয়!
তাকে দেখলেই মুখে হাসি ফুটে উঠে! কি মায়াময় আর প্রগাঢ় ভালোবাসা ভরা দৃষ্টিতে তাকে দেখে। নতুন স্ত্রীও কম যায়না.. অত্যাধুনিকের চেয়েও আধুনিক সাজ তার.. এই পাতলা গড়নেই স্বামী ভদ্রলোকটির মনের মতো করে নিজেকে সাজিয়ে রাখে। কোন ক্লান্তি নেই তার দৃষ্টি আকর্ষন আর তাকে বশীভূত করে রাখার প্রচেষ্টায়!!

কি আবেশে এমন মোহগ্রস্থ হয়ে আছে কে জানে! কান্ডজ্ঞানও মাঝে মাঝে লোপ পায় মনে হয়.. চোখেচোখ, বাঁকাচাহনী, ঘোরগ্রস্থ দৃষ্টি সব ছাপিয়ে যা বেশী চোখে পড়ে তা ঘরে বসেই কালো চশমা চোখে ঘন্টার পর ঘন্টা তার দিকে তাকিয়ে থাকা.. কি ভীষণ অস্বস্তিকর! কি অদ্ভুত!!!

এমনিতেই এই বিদেশ বিভুঁইয়েও ঘর সংসারের কাজে সাহায্য করার তার মন নেই, আর এই নতুন বউ আসার পর এখন কি হবে বুঝতে পারছিনা! ছেলেমেয়েরা তাদের বাবার কাছে যে সামান্য সময়টুকু পেতো এখন কপালে তাও জুটবে কিনা বুঝতে পারছিনা!!

বাড়ির অন্য কোন ঘরের প্রতি তেমন আগ্রহ নেই, কোন ঘরের আসবাবের দিকে দৃষ্টি নেই। হঠাৎ এই ঘরটির প্রতি তার গত কিছুদিনের অতিরিক্ত মনযোগের রহস্য এখন বুঝতে পারছি। দাম যেমনই হোক খুব আরামদায়ক হতে হবে শোবার স্থানটি, চারপাশের পরিবেশটা হওয়া চাই নিখুঁত ও মনমুগ্ধকর!! ঘরে প্রবেশের পর যেন মন ভালো হয়ে যায়.. শান্তি শান্তি ভাব আসে..
এই শান্তির পায়রা হয়ে যে আরেক পাখি আসছে.. তা কি আর বলেছে!!

নতুন বউয়ের প্রতি যত্নের শেষ নেই...!! তার গায়ে ধুলোর আঁচড়টিও যেন না পড়ে সে বিষয়ে সদা ব্যস্ত।কিভাবে সাজাবে তাকে, কোন আসবাবে তার আরাম হবে, কোনটা ভালো লাগবে কোনটা মন্দ.. এই নিয়ে তার যতো উদ্বেগ ভাবনা আমি ভগ্ন হৃদয়ে অবাক হয়ে দেখি!!
এমন যত্নের দশ ভাগের এক ভাগও এই হতচ্ছারি আসার আগে দেখা যায়নি!

ও যে এমন কেয়ারিং হতে পারে সেসম্পর্কে কোন ধারণা ছিলোনা!!
সবরকম ঝুঁকি আর প্রতিকূলতা থেকে সর্বস্ব দিয়ে যেন তাকে আগলে রাখে এই নতুন বউকে!
শুধু একটিই ব্যাপার.. বউকে স্পর্শ করেনা। ছোট্ট একটি ধাতব দন্ড দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ, নিয়ন্ত্রণও বলা যায়!!!!!!!!!!!!!

কেনোই বা নয়.. সনির ষাট ইন্চি এলইডি থ্রী-ডি টিভিটা তো রিমোট ছেড়ে হাত দিয়ে চালাতে পারেনা :-)



*** ব্যক্তিগত ঘটনা নয়, কল্প কাহিনী।।। দেশ জাতি নির্বিশেষে বিভিন্ন নারীর কাছে শোনা তাঁদের স্বামীর টিভি প্রীতি ও টিভির প্রতি মাত্রাতিরিক্ত নেশার বিড়ম্বনা নিয়ে আক্ষেপ অবলম্বনে লেখা***

:-)




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29241396 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29241396 2010-09-18 12:46:11
রমজান মাসের সংযম ও আত্মশুদ্ধি বনাম আমাদের সীমাবদ্ধতা মুসলিমদের পবিত্রতম মাসটির বিদায় ধ্বনি শোনা যায়... এখন একটু হিসেব মিলিয়ে দেখা যায় পুরোমাসের লাভ ক্ষতির.. আমাদের প্রচেষ্টা কতোখান সৎ ও সত্য ছিলো!
রমজান মাসের সংযম আর আত্মশুদ্ধির প্রচেষ্টায় আমরা কতোখানি সৎ আর সফল..!

পবিত্র রমজান মাসে সূর্যদোয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অনাহারে থেকে আমরা সিয়াম সাধনা করি। মুসলিম মাত্রেই এই মাসে সকল খারাপ কাজ পরিহার করে মহান আল্লাহ্' এবাদতে মনোনিবেশ করা একান্ত কাম্য। সংযমের মাস.. এই সংযম শুধু রসনার নয়, আমাদের সকল অন্যায় চর্চা, স্বভাব, আগ্রহ এবং কৌতুহলেরও। কতোজন মুসলিম এই রমজানের হাজার কৌতুহল সত্ত্বেও নিজের কুরিপু দমন করতে সক্ষম হয়েছেন!

রমজান মাসে সিয়াম সাধনার সাথে সাথে জাকাত আদায় করে এবং ঘরে অথবা মসজিদে তারাবীর নামাজ পড়ে আল্লাহ্'র সন্তোষ্টি ও নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে থাকি।

শুধু এর মাঝেই কি রমজান মাসের তাৎপর্য নিহিত থাকে?
এই সারাদিন অনাহারের মাঝে আমাদের যে আত্মশুদ্ধি হবার কথা তা কতোখানি ঘটে? সিয়াম সাধনার মাধ্যমে কিছু সময়ের জন্য হলেও আমরা হতদরিদ্র অনাহারী মানুষের কষ্ট অনুভব করি, তারপর... এই অনুভব কি আমাদের আত্মা, আমাদের আমলকে পরিশুদ্ধ করে? রমজান শেষে বছরের বাকী সময় আমরা অনাহারী মানুষের কাছে খাবার নিয়ে ছুটে যাই? অথবা নিজেদের অপব্যয় কমিয়ে ক্ষুধার্তদের আহারের জোগান দেই? আমরা কতোজন পবিত্র এই মাসের শিক্ষা সত্যিই লাভ করি? আমরা পথে ঘাটে হত দরিদ্র ক্ষুধার্ত মানুষের সামনে বসে নির্দ্বিধায় হাতের আইসক্রীম সাবাড় করি, অথবা বিলাসী রেস্টুরেন্টের জানালা দিয়ে তাঁদের চোখের সামনে আস্বাদ করি মজার ফ্রাইড চিকেন, বার্গার অথবা পিজ্জার স্বাদ!

আমরা যাঁরা নিজেদের ধার্মিক মনে করি তাঁরা ক'জন সত্যিকার ভাবে ইসলাম সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করি, অন্তত নিজের ইবাদতের ভুলভ্রান্তি শুধরে সঠিক পথে চলতে জানি? যুগ যুগ ধরে বংশপরম্পরায় পালন করে আসা বিদা'ত আমরা ত্যাগ করতে পারিনা, ছলে বলে কৌশলে তার বৈধতা দিতে চেষ্টা করি। অথচ একবারও নিজের বিবেক বুদ্ধি দিয়ে অনুধাবনের চেষ্টা করিনা.. আপাতঃ দৃষ্টিতে ধর্মের নামে করে আসা কাজটি দিয়ে মহান আল্লাহ'র সন্তোষ্টি নয় বরং অসন্তোষ্টি লাভ করছি।

শবেবরাতঃ
বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশে মহামারীর মতো যে বিদা'তের চর্চা!!! অনেকে যুক্তি দিতে চেষ্টা করেন, “এসময় হালুয়া রুটি, আতশবাজি নিষেধ তবে সারারাত জেগে ইবাদত করা জরুরী, কারন এই রাতে ভাগ্য নির্ধারন হয়!!!”
এটা কি ভীষণ হাস্যকর ও ভুল কথা তা একটু ভেবে দেখলেই স্পষ্ট হয়।
যে রাতে ভাগ্য নির্ধারন করা হবে তা নিশ্চয় অত্যন্ত মহিমান্বিত ও গুরুত্বপূর্ণ। অথচ, একটি দুর্বল হাদীস ছাড়া আর কোথাও এর উল্লেখ পর্যন্ত নেই!
নাহ্! এই হাদীস মতের বিরুদ্ধে যাবার কারণে “দুর্বল” নয়, এর দুর্বলতা এখানেই যে আর কোন সহীহ হাদীসে এর উল্লেখ নেই। অথচ এমন একটি রাত সম্পর্কে মহা নবী হযরত মুহম্মদ (সঃ) এর একবার চুপিসারে একজনকে নয়, বরং অনেক অনেক বার সকলকে সচেতন করে বলার কথা। ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ সময়, দিন, রাত সম্পর্কে তিনি এমনটিই করেছেন।
আর সবচেয়ে বড় কথা, মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে এ সম্পর্কে ম্পষ্ট ভাবে গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করতেন যদি তা যদি সত্য হতো।
বিশ্বের বড়বড় আলেমগণ যে দিবসের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানেননা, মহানবী(সঃ) যে দিবস সম্পর্কে কোন নির্দেশ দিয়ে যাননি, যে দিবস সম্পর্কে স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা কোন আদেশ করেননি.. তেমন কাল্পনিক একটি দিবস অতি (?)পবিত্রতার সাথে আমাদের উপমহাদেশে পালিত হয়, আর আমাদের দেশে তো রীতিমতো সরকারী ছুটি!!!
শবেবরাত সম্পর্কে একজন স্কলারের সুন্দর একটি আলোচনা।

মিলাদ মাহফিলঃ
এই মিলাদকে ব্যাধী বলার কারণে হয়তো অনেকে আমার প্রতি প্রচন্ড ক্ষুণ্ন হবেন! অথচ এই ব্যাধী আমাদের সমাজে ক্যান্সারের মতো ছেয়ে গেছে। যে কোন শুভ কাজ, শোক, আনন্দ, হতাশায় যেন মিলাদ বাংলাদেশের সমাজে এক অপরিহার্য অনুষ্ঠান!!
আমরা একবারও ভেবে দেখিনা উপমহাদেশের বাইরে বিশ্বের আর কোন দেশের মুসলিমরা এই জিনিসের নামও কখনও শুনেননি!!

পবিত্র নগরী মক্কা মদীনায় এর কোন অস্তিত্ব নেই!
অনেকে বলেন মূ্হম্মদ (সঃ) এর প্রতি সন্মান দেখাতেই এই রেয়াজ, তাঁর সন্মানেই উঠে দাঁড়ানো.. কি ভয়ংকর কথা!!
আমরা যারা নিতান্ত বাধ্য হয়ে কর্তব্য পালনের মতো নিয়মিত অথবা অথবা অনিয়মিত ভাবে নামাজটা আদায় করি, দিবসের অন্য সময় আল্লাহ্'র এবাদত হতে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থেকে ভালো মন্দ পার্থিব কাজে মগ্ন থাকি, এই আমদের নবী প্রেম তাঁর সাহাবা, তাবেঈন, তাবেতাবেঈনদের চেয়ে বেশী?? যাঁদের জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে আল্লাহ্'র ইবাদতে, মহানবীর আদেশ নিষেধ সঠিক ভাবে পালনের সাধনায়!

মিলাদ আমাদের মুষ্টিমেয় হুজুরদের ইহলৌকিক লাভের একটি ব্যবসা মাত্র.. এতে পারলৌকিক কোন মঙ্গল আছে বলে হাদীস কুরআনে উল্লেখ নেই, বিশ্বের বড় বড় আলেম উলামাদের জানা নেই.. যদি পারলৌকিক কিছু থাকে তা হয়তো বিদা'ত পালনের কারনে কিছু অমঙ্গল ও গুনাহ্।

কুলখানি ও চল্লিশাঃ
এসম্পর্কে বলাটা জরুরী.. এই ব্যাপারটিই দুঃখজনক, পীড়াদায়ক!
ইসলামধর্ম অত্যন্ত শান্ত সৌম্য। এখানে জন্ম ও মৃত্যুকে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভাবে গ্রহন করতে বলা হয়েছে। আমাদের উপমহাদেশ দৈনন্দিন জীবনে মুসলিমদের সাথে হিন্দুদের জীবন ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। হিন্দু ধর্ম অত্যন্ত উৎসব মুখর, বলা হয় তাঁদের “বারো মাসে তেরো পূজা।” এটা তাঁদের ধর্ম তাঁদের আচার.. কিছু মুসলিম হয়তো এমন বর্ণাঢ্য আচারের প্রতি তীব্র আকর্ষণবোধ করায়, বাঙালী মুসলিমদের মাঝেও হিন্দুদের শ্রাদ্ধের মতো কুলখানী, চল্লিশার প্রথা শুরু করেছে।
এমনকি মৃত্যু দিবস পালনও ইসলাম সমর্থন করেনা। আর আমরা, মৃত্যু দিবসে সরকারী ছুটি ঘোষনা করেই নয়, বরং মাসব্যাপী মৃত্যু মাস পালনের বিকৃত উৎসবে মেতে উঠি।


পা ছুঁয়ে সালামঃ
বাংলাদেশের মুসলিম ছাড়া পৃথিবীর আর কোন দেশের মুসলিমদের এই অদ্ভুত উপায়ে সন্মান প্রদর্শন করতে দেখা যায়না। এর কারণ হিসেবে কিছু আগে উল্লেখ করা কারনটিই প্রধান মনে হয়.... প্রণাম দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে পা ছুঁয়ে সালামের প্রচলন।

এমন আরো অনেক অনেক বিদা'ত আর ভ্রান্তিতে আমাদের বাস, যা আমরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালন করলেও আদতে আল্লাহ'র অসন্তোষ্টির কারণ হচ্ছি মাত্র!
আর এসব বিদা'ত জিইয়ে রেখে লাভবান হচ্ছে একশ্রেনীর স্বার্থান্বেষী মহল, যারা হুজুরের বেশে নসীহত করলেও হয়তো ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে কোন জ্ঞান রাখেনা অথবা জেনে শুনে অন্যায় করে।

শবে বরাত সম্পর্কে অনেকে দুর্বল কন্ঠে যুক্তি দেন..”সারারার নামায পড়ার মাঝে তো খারাপ কিছু নেই”
আমরা কি যে কোন একটি দিনে সারা রাত নামায পড়ার মতো করে পড়ি, না আমাদের মনের গহীনে শবেবরাতের এই কাল্পনিক বিশেষত্ব বিরাজ করে? অন্য দিন এভাবে রাত জেগে নামাজ না পড়ে, শুধু এই রাতে কেনো? - মানুষকে যেমন তেমন বলা গেলেও আমরা ভুলে যাই মহান আল্লাহ্ অন্তর্যামী, তিনি আমাদের মনের উদ্দেশ্য ও নিয়ত সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল।
আর নিজের মতো করে বছরের নির্দিষ্ট রাতে বেশী বেশী ইবাদত করা জায়েজ মনে হলে, সপ্তাহে শুক্রবারের মতো সোমবার অথবা বুধবার অথবা যেকোন আরেকটি দিন নির্দিষ্ট করে জুম্মার মতো নিয়মিত বড় জামাতে নামাজ পড়া যায়!!!

আসলে কি তা ঠিক? বিদায় হজ্জের সময় কি বলা হয়নি যে মহান আল্লাহ আমাদের দ্বীন ইসলামকে পূর্ণ করেছেন? তাহলে আমরা কেনো এতে নিত্যনতুন সংযোজনের ধৃষ্টতা দেখাই?
কুরআন আর সহীহ হাদীসের বাইরে যে সব আচার, বা কুসংস্কার আমরা ইসলাম ধর্মের অঙ্গ বলে বিশ্বাস করি তা বিদা'ত যা অত্যন্ত গুনাহ্'র কাজ!

আমরা কি পারি এই পবিত্র মাসে বংশপরম্পরায় মেনে আসা বিদা'ত থেকে মুক্ত হয়ে আত্মশুদ্ধি করতে?
খুব সহজ নয় জানি, তবু চেষ্টা করতে পারি....
মনে রাখতে হবে, প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সঃ) বংশপরম্পরায় চলে আসা তাঁর পূর্বপুরুষের ধর্মবিশ্বাস ত্যাগ করেই সত্যের পথে এসেছিলেন.. প্রচন্ড প্রতিকূলতার মাঝে সৃষ্টিকর্তার একাত্ববাদ প্রচার করেছিলেন।

***আমরা বিভিন্ন সময় ইসলাম ধর্ম অবমাননার দায়ে অন্যের প্রতি আক্রমণাত্বক হয়ে উঠি, একজন মুসলিম হিসেবে কুরআন ও সহীহ্ হাদীস মেনে নিজে কতোখানি সঠিক ভাবে পালন করছি, নিজের অজান্তে ইসলাম ধর্মের অবমাননা করছি কিনা তা ভেবে দেখা জরুরী।।***

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29235545 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29235545 2010-09-05 15:37:49
নুরজাহান আর পাথর ছুঁড়ে মারা ভন্ড ফতোয়াবাজের দল যুগে যুগে...! সিলেট অন্চলের চটকছাড়া গ্রামের ২১ বছর বয়সী সেই হতভাগ্য তরুনী, যাঁকে ফতোয়াবাজরা মাটিতে পুতে পাথর ছুঁড়ে মেরেছিলো... নাহ্.. হাজার বছর আগের কোন ঘটনা নয়। মধ্যযুগীয় ববর্রোচিত ঘটনাটি ঘটেছিলো ১৯৯৩ সালের ১০ই জানুয়ারি!!

নুরজাহানের অপরাধ ছিলো, তিনি প্রথম স্বামী তালাক দেবার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলনে। কি ভীষণ স্পর্ধা! তালাক প্রাপ্তা গ্রাম্য নারী(সুন্দরী তরুনী), সে স্থানীয় হায়নাদের লালসার খোরাক না হয়ে পূণরায় ঘর বাঁধবে, সংসার করবে.. এ কেমন কথা!!
তাই, গ্রামের কাঠ মোল্লারা ছলা বলে তার দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ ঘোষণা করে তাঁর বিরুদ্ধে “বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের” অভিযোগ এনে এই শাস্তির বিধান দেয়।

নুরজাহানের মৃত্যু হলেও বিনাশ ঘটেনি, সময়ের সাথে সাথে আমাদের দেশে নুরজাহানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র। অজপাড়াগাঁয়ের গন্ডী ছেড়ে তারা চলে এসেছে, শহরে, রাজধানী ঢাকায়.. কখনও সাধারণ দোকানীর স্ত্রী, কখনও অবস্থাপন্ন ব্যবসায়ীর আর সম্প্রতি তার বিচরন তারকা জগতেও।

আমাদের সমাজে পুরুষ আর নারীর যে বৈষম্য তা বোধ হয় সবচেয়ে প্রকট হয়ে উঠে যখন কোন অনৈতিক আচরণ, বিশেষ করে ব্যাভীচারের ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশের রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থায় ধর্ম, শ্রেনী নির্বিশেষে বিবাহপূর্ব শারীরিক সম্পর্ককে অত্যন্ত ঘৃন্য দৃষ্টিতে দেখা হয়, আর বিবাহবহির্ভূত এধরনের সম্পর্ক বা পরকীয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। মজার ব্যাপার হলো এই ঘৃনা ও নিন্দার পরিমান তারতম্য ঘটে শুধুমাত্র জেন্ডার বা লিঙ্গপরিচয় ভেদে!!
অপরাধ নারী করলে তা শুধু অমাযর্জনীয় নয়, হাতের কাছে না পেলে মুখের কথায় বা ভার্চুয়ালী তাঁকে পতিতালয়ে পাঠিয়ে ক্ষ্যান্ত হইনা আমরা, দোররা বা পাথর নিক্ষেপ করে জীবন্ত পুঁতে বা পুড়িয়ে ফেলার উপক্রম করি। আর একই অপরাধ, এমন কি নারীর চেয়েও নৃশংস ও হাজারগুন বেশী ঘৃন্য অপরাধ পুরুষ করলে আমরা কিভাবে যেনো তা এড়িয়ে যাই। দু'একজন বিবেকবান মানুষ প্রতিবাদী হয়ে এগিয়ে এলে কেউ কেউ তাঁদের দুকথা শোনাতেও কুন্ঠাবোধ করেনা!

একজন প্রভা, একজন আয়শা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কারণে আমাদের রোষানলে পড়ে। শুধুমাত্র পরকীয়া সম্পর্কের অপরাধে আয়শার মাতৃস্নেহকে অস্বীকার করে তাকে পুত্র হন্তারক হিসেবে প্রমানে আমরা মরিয়া হয়ে উঠি। একজন প্রভা বাগদানের পর সেই পুরুষকে ছেড়ে অন্য কাউকে বিয়ে করলে আমরা তাকে পাথর ছুঁড়ে হত্যায় উদ্যত হয়ে উঠি.... কেনো?

২০-৩০ বছর সংসার করার পরও স্বামী স্ত্রী পৃথক হয়ে যায়, সেখানে এনগেজমেন্ট বা বাগদান অত্যন্ত ঠুনকো জিনিষ। সামাজিক বা ধর্মীয় কোন কমিটমেন্ট নেই, বিশ্বাস ও ভালোবাসার ভিত্তিতে যতোখানি বিশ্বস্ততা থাকতে পারে... আর সেক্ষেত্রে ভালোবাসাটি হারিয়ে গেলে অর্থহীন হয়ে পড়ে এই সম্পর্ক।
তারপরও আমরা ক্ষেপে উঠি... কারন প্রভা প্রত্যাখাত প্রেমিকের মাঝে অনেকেই খুঁজে পান নিজের প্রতিচ্ছবি। তাই মনে মনে মেয়েটিকে নিজের (?)প্রতারক প্রেমিকা ভেবে শাস্তি প্রদানের বিকৃত উল্লাসে মেতে উঠি।

প্রভার নাম প্রথম শুনি এই স্ক্যান্ডালের পর, ঠিক যেমনটি শুনি আয়শা, ফারজানা এবং বিলাসীর নাম।আয়শা অথবা প্রভা, তাদের সবচেয়ে বড় অপরাধ মূল্যবোধের অবক্ষয়, অসামাজিক কাজ করা, যেখানে সমান ভাবে অপরাধী তাদের সঙ্গী পুরুষও। আমর ক'জন সেই অপরাধের সমালোচনা করছি? ক'জন সেই পুরুষটির প্রতি সমান ভাবে ঘৃনা প্রকাশ করছি?
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, কেউ কেউ সেই অসামাজিক কাজকে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিয়ে নিজেকে বিরাট মুক্তমনা প্রমানে সচেষ্ট, এমনকি সেসব অবৈধ আচরন ভিডিও করাটাকেও স্বাভাবিক ও যুগের হাওয়া হিসেবে প্রচারে মরীয়া.. তবে সেই তথাকথিত মুক্তমনাদের মুক্তমণ অন্ধকার কুয়োর ক্ষুদ্র গন্ডীতে আছড়ে পড়ে যখন.. “প্রভা অপরাধ করেছে তার ৭ বছরের প্রেমিককে ছেড়ে গিয়ে” বলে!!

হায়রে নির্বোধ (?)মুক্তমনার দল... হিপোক্রেসীর সীমাও এদের কাছে লজ্জিতবোধ করবে।
অপরের ব্যাভীচার বৈধতা দিতে এদের বাঁধেনা, প্রশ্ন জাগে, এদের স্ত্রীর বা ভাইয়য়ের স্ত্রীর যদি এমন কোন ভিডিও প্রকাশ পায়, এরা কি তখন তাঁকে হাসি মুখে মেনে নিবে।
আগামী কাল, এদের বোন বা কন্যা যদি তাদের দীর্ঘদিনের প্রেমিককে ত্যাগ করায় সেই কুলাঙ্গার এমনি করে ভিডিওটি ছেড়ে দেয়, সেদিনও কি তারা লাইনে দাঁড়িয়ে তার লিংক সংগ্রহ করে উপভোগ করবে? প্রত্যাখ্যাত প্রেমিকের প্রত সহানুভূতিশীল হবে?

শুধু তাই নয়, এই হিপোক্রেটের দল একজন প্রভা বা একজন আয়শার উপর যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে, একজন নরপশু রাশেদের উপর তেমন ভাবে আক্রমণাত্বক হয়ে উঠেনা। অথচ, এই দুজনের সন্মিলীত অপরাধের চেয়ে রাশেদের অপরাধের মাত্রা অনেক অনেক বেশী। আয়শার পরকীয়ার কারনে তার একজন পুত্রের মৃত্যু ঘটেছে, আর কুলাঙ্গার রাশেদের কারনে দুজন নিষ্পাপ শিশু মৃত্যুকে আলীঙ্গন করে। একজন প্রভা তার সাত বছরের প্রেমিককে ছেড়ে আরেকজন পুরুষকে বিয়ে করেছে, আর রাশেদ তার দীর্ঘদিনের বিবাহিতা স্ত্রী, সন্তানের মা'র সাথে প্রতারণা করে পরকিয়া ও ব্যভীচারে লিপ্ত হয় এবং পরবর্তীতে বিয়ে করে। প্রভার প্রাক্তন প্রেমিকের কষ্টে সমব্যথী হয়ে আমরা জ্বলে উঠি, যদিও সেই প্রেমিক নিজেকে এক ঘৃন্য কুলাঙ্গার হিসেবে প্রমান করে। অথচ, যে মেয়েটি প্রতারক স্বামীর নির্মমতা সইতে না পেরে আত্মহনন করে আমরা সেই নরপশু স্বামীর বিরুদ্ধে টু শব্দটি করিনা।
একজন স্মৃতির বিশ্বাসঘাতকতা, কৃতঘ্নতা, ব্যাভীচারীতা আয়শা অথবা প্রভাদের চেয়ে কোন অংশে কম নয়, আমরা তাকে আক্রমণ করিনা, এড়িয়ে যাই তার অপরাধ কারণ তাহলে কুলাঙ্গার রাশেদকেও আক্রান্ত হতে হয়।

একজন ফারজানা, একজন বিলাসী আমাদের হিপোক্রেসীর প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়েই প্রাণপ্রিয় সন্তান সহ আত্মহননের পথ বেছে নেন। একজন প্রভা, একজন আয়শার দিকে আমরা প্রস্তরখন্ড হাতে ছুটে যাই বলেই মহিমারা আত্মহত্যা করে। একজন আরিফ, একজ রাজীব অথবা রাশেদের ব্যাপারে আমরা নির্লিপ্ত, ক্ষেত্র বিশেষে নির্লজ্জের মতো এসব কুলাঙ্গারের পক্ষ সমর্থনেও দ্বিধাবোধ করিনা, তাই এদের সংখ্যা প্রতিদিন বেড়ে চলেছে... এরা নির্ভীক আর আরো বেশী নৃশংস হয়ে উঠছে।

আজ যারা, এসব নরপশুর পক্ষ নিয়ে আয়শা, প্রভাদের দিকে পাথর ছুঁড়তে উদ্যত, আজ যারা একজন ফারজানার মৃত্যুতে নিরব, অপেক্ষা করুন.. আগামীতে আপনার পরিবারের মেয়েটির এমন পরিনতির জন্য। কোন অভিসম্পাত নয়, আপনার কর্মফলের কারনেই এমনটি অবধারিত, অনিবার্য।

আজ ফতোয়াবাজদের দলে ভীড়ে আর কারো কন্যা, কারো বোনের দিকে প্রস্তরাঘাত করছেন, সেদিন অন্য কেউ আপনার কন্যা আপনার বোনকে এমনটি করবে। কারণ, নারীদের জন্য প্রতিকূল এই সমাজ আপনারই সৃষ্টি।

সমাজ থেকে ব্যাভীচার দূর করা জরুরী। এসব অসুস্থ চর্চার পরিনাম কখনও শুভ নয়।
আর এই অসুস্থ, বিকৃত চর্চার জন্য সংশ্লিষ্ট নারী পুরুষ সমানভাবে দায়ী, এই কথাটি জানতে বা বুঝতে অতি বড় বিদ্বান হবার প্রয়োজন নেই। নুন্যতম সাধারন বিবেকবোধ যথেষ্ট।

ব্যক্তিগত ভাবে আমি রক্ষণশীল জীবন আচারের পক্ষে। তবে যে সমাজ ব্যাভীচার, বিবাহপূর্ব অনৈতিক সম্পর্ককে আধুনিকতার খোলস পড়িয়ে স্বীকৃতি দিচ্ছে, সেই সমাজ যখন শুধুমাত্র পুরুষ সঙ্গীকে প্রত্যাখ্যান করার অপরাধে নারীটির দিকে পাথর হাতে ছুটে আসছে, তাদের ভন্ডামী আর হিপোক্রেসীকে ধিক্কার জানাই। নোংরামী, অনৈতিক আচরন ততোক্ষণ পর্যন্ত বৈধ যতোক্ষণ তা পুরুষের পক্ষে যাবে, আর পুরুষের বিরুদ্ধে গেলেই তা ব্যাভীচার, মেয়েটি ভ্রষ্টা! মেয়েটি তখন হয়ে উঠে চটকদার রসালো আলাপ আর ব্যঙ্গবিদ্রুপের প্রিয় বিষয়, তাকে সমস্ত শক্তি দিয়ে কষাঘাত করার অসুস্থ প্রতিযোগীতা যেনো...

এমনি ভাবে প্রতিনিয়ত নিজের অজান্তে আমরা চটকছড়া গ্রামের কুখ্যাত মওলানা মান্নানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে পাথর ছুড়ে হত্যায় উদ্যত হই নুরজাহানদের.....


***অত্যন্ত দুঃখজনক যে, এই লেখাটরি অংশ বিশেষ আজ থেকে প্রায় দুমাস আগে লেখা যখন আয়শা আর ফারজানার ঘটনার সময় আমাদের হিপোক্রেসী অত্যন্ত নগ্নভাবে প্রকাশ পায়। সেসময় প্রকাশ করা হয়নি, তাতে কি.. আমাদের সমাজে নুরজাহানদের অভাব নেই.. প্রতিনিয়ত আমরা কোন না কোন নুরজাহানকে ভার্চুয়্যালী দোররা অথবা পাথর মেরে শাস্তি দিতে উদ্যত হচ্ছি!!! দুমাস আগে অথবা পরে, এমন পোস্টের প্রাসঙ্গিকতার অভাব নেই- এটা অত্যন্ত দুঃখজনক!!!!***

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29231606 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29231606 2010-08-29 06:54:51
আরো কিছু টিপস্ এবং সহজ শর্টকাট রেসিপি... এবার হাল্কা টাইপের আরেকটি পোস্ট...

পিঁয়াজ, রসুন, শুটকির তীব্র গন্ধ থেকে রেহাই পেতে, পায়ের দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে, গ্রীস্মের প্রচন্ড দাবদাহে কিছুটা স্বস্তি, স্ক্র্যাচড সিডি পূণুরুদ্ধার অথবা ইনসমনিয়ার সমাধানের চেষ্টা..ইত্যাদি বিষয়ে কিছু ঘরোয়া টিপস্ এবং কয়েকটি সহজ রেসিপি।

১. রসুন ও পিঁয়াজের ঝাঁঝ খাদ্যের মান বৃদ্ধি করলেও তা ধরায় হাতের উটকো গন্ধ খুব মনোহর নয় এবং তা প্রায় নাছোড়বান্দার মতো। একাধিকবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়াতেও দূর হয়না! এই সমস্যার সামাধান খুব সহজ, যদি জানা থাকে। রসুন পিঁয়াজ ব্যবহার শেষে স্টেইনলেস স্টিলের চামচ অথবা কাটাচামচ পানির নিচে ধরে হাত দুটো সাবান দিয়ে চামচের সাথে ঘষে ধুয়ে নিন।(আমেরিকায় এই গন্ধ দূর করতে আলাদা ভাবে স্টেইনলেস স্টীলের টুকরো বিক্রী হয়, মানুষ আবার সেটা পয়সা দিয়ে কিনে :-* )

২.পিঁয়াজ কাটার সময় মূল বা শিকড়ের অংশ অক্ষত রেখে কাটলে সহজ হয়, কোয়াগুলো কাটার সময় খুলে যায়না।

৩. স্টেইনলেস স্টীলের ছুড়ি চাকু, পানিতে দীর্ঘ সময় ভিজিয়ে রাখলে ধার কমে যায়। একই ধাতুর চামচ, কাঁটা চামচ ইত্যাদি পানিতে দীর্ঘক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে জৌলুস বা চকচকে ভাব নষ্ট হয়ে যায়।

৪.প্রবাসে বিশেষ করে পাশ্চাত্যের দেশে শুঁটকি মাছ রান্না একটি বিব্রতকর ব্যাপার, সবচেয়ে বেশি সমস্যা যদি এপার্টমেন্টে এই প্রচেষ্টা হয়। এসব ক্ষেত্রে লেবু বড় বন্ধু। রান্নার পূর্বে চুলোর চারপাশে লেবুর রস ছিটিয়ে নিলে ঘরে গন্ধের তীব্রতা কমে। জানালা খুললে বাতাস চালাচল সহজের সাথে সাথে গন্ধটি সহজে ছড়িয়ে যায়, তাই খোলা জানালায় ঈষদুষ্ণ পানিতে কয়েকটুকরো লেবু অথবা লেবুর রস রেখে দিলে বিব্রতকর অবস্থাটি থেকে কিছুটা রেহাই পাওয়া যায়।

৫.পান করার জন্য গরম চা বা কফি যাঁরা পছন্দ করেন, চা বানানোর পর চামচটি যেন তাতে থেকে না যায় তা লক্ষ্য রাখা জরুরী। চিনি বা দুধ মিশিয়ে চামচ সাথে সাথে সরিয়ে না রাখলে তা তাপ শোষন করে পানীয়টি ঠান্ডা করতে সাহায্য করে।

৬.কেক বিশেষ করে ক্রিম কেক যেমন সুস্বাদু তা শুধু মানুষ নয় জীবানুরও বিশেষ প্রিয়.. খুব দ্রুত এতে পচন ধরে। কেক সংরক্ষণের সময় তাতে কয়েক টুকরো পাউরুটি রেখে দিলে কোন এক অদ্ভুত কারণে তা কিছু বেশি দিন ভালো থাকে।

৭.ডাইরিয়া জাতীয় পেটের পীড়ায় অনেকে ফল ও টক জাতীয় খাবার সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলেন। এসময় ভিটামিল সি জাতীয় খাবার যেমন লেবু, কমলা, আমলকি পরিমিত মাত্রায় গ্রহন করলে তা আরোগ্য ত্বরাণ্বিত করে।

৮. শীতকালে অথবা অন্যান্য শুষ্ক আবহাওয়ার অন্চলে ঘরে হিউমিডিফায়ার না থাকলে একবাটি উষ্ণ পানি হিটারের উপর রেখে দিলে সহজে ত্বক শুকিয়ে ফেটে যায়না এবং রাতের বিরক্তিকর শুষ্ক কাশি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

৯.গ্রীস্মের দাবদাহে
i)কিছুটা আরাম পেতে প্রতিবার পোশাক পরিবর্তনের সময় তোয়ালে বা গামছা ভিজিয়ে ভালোভেবে গা মুছে নতুন পোশাক পড়লে কিছুটা স্বস্তিবোধ হয়।
ii)ময়লা বা অপরিস্কার কাপড় গরমে অস্বস্তি বৃদ্ধি করে, তাই সম্ভব হলে প্রতিদিন ধোয়া পোশাক পড়া ভালো।
iii)ট্যালকাম পাউডার গরমে প্রশান্তির চেয়ে অস্বস্তি বেশী বৃদ্ধি করেঘামের দুর্গন্ধ থেকে আত্মরক্ষার জন্য ট্যালকাম পাউডারের চেয়ে ডিওডোরান্ট ব্যবহার অনেক বেশী কার্যকর
iv)ডিওডোরান্টের বিকল্প হিসেবে দুর্গন্ধ থেকে রক্ষা পেতে বেকিং সোডা ব্যবহার করা যেতে পারে।

১০. জুতা বা মোজার কারণে পায়ের দুর্গন্ধ অনেকের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর ও বড় সমস্যা, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো গরম এবং আর্দ্রতা প্রধান অন্চলে। এই ক্ষেত্রে নিরাময়ের চেয়ে প্রিকশন বা সতর্কতা বেশি কার্যকর পদক্ষেপ:
i)কখনও ভেজা পায়ে মোজা বা জুতা পরা যাবেনা। প্রয়োজনে একটি শুকনো কাপড় দিয়ে পা, আঙ্গুলের ফাঁকের অংশ ভালো করে মুছে জুতো, মোজা পড়ুন।
ii)প্রতিদিন ধোয়া মোজা পরা জরুরী। প্রয়োজনে প্রতি রাতে মোজা হাতে হাতে ধুয়ে শুকিয়ে নিন iii)সুযোগ পেলে জুতো খুলে রোদে শুকিয়ে নিন, বিশেষ করে জুতোর ভিতরের অংশে যেন রোদ প্রবেশ করে।
iv)কাপড় শুকনোর ড্রায়ারের ব্যবহারের “ড্রায়ার শিট” পাওয়া যায়। যাঁরা পায়ের দুর্গন্ধের অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতায় অতীষ্ট, ড্রায়ার শিট তাঁদের জন্য স্বর্গ থেকে প্রাপ্ত সমাধান স্বরূপ- জুতোর ভিতর একটি করে শিট ঢুকিয়ে শুকনো পায়ে জুতো পড়ার পর দুর্গন্ধের কোন সম্ভাবনা নেই।
v).ড্রায়ার শিট সহজ লভ্য না হলে “বেকিং সোডা” ব্যবহার করা যায়। অব্যবহারের সময় জুতোর ভিতর বেকিং সোডা ছিটিয়ে রেখে পরিধানের পূর্বে তা ঝেড়ে ফেলতে হবে।

১১. ইনসমনিয়ায় আক্রান্তদের জন্য একটি গবেষণা লদ্ধ সমাধান:
i)রাতে ঘুমুত যাবার কয়েক ঘন্টা পূর্বে পরিমিত কায়িক পরিশ্রম/হাঁটাহাটি ঘুমে সহায়ক। সবচেয়ে ভালো হয় পরিশ্রম শেষে হটশাওয়ার বা ঈষদোষ্ণ গোসল করে নিলে।
ii)ইনসমনিয়াকদের শুধুমাত্র রাতে ঘুমের সময় ছাড়া বিছানায় না শোয়া ভালো।
iii)গবেষণায় দেখা গেছে ঘুমানোর সময় নরম কাপড়ে(ওড়না, স্কার্ফ) কান ঢাকা হলে ঘুমোনো সহজ হয়।
iv)সন্ধার পর চা, কফি এবং কোক জাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলা জরুরী।
v)ঘুমনোর ঘরে তীব্র আলো, টেলিভিশন বা অন্যান্য শব্দ বন্ধ রাখতে হবে।

১২. বিভিন্ন ধরনের খাবার সংরক্ষণ করার ফলে অনেক সময় ফ্রীজে গন্ধ হয়ে যায়- সোডি বাই কার্ব বা খাবার সোডার একটি প্যাকেটের মুখ খুলে রেফ্রিজারেটরের ভিতরে এক কোনে রেখে দিলে এই ঝামেকা থে মুক্ত হওয়া যায়।

১৩. এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ বেকিং সোডা গুলয়ে তা মাউথ ওয়াশ হিসেবে ব্যবহার করা যায়

১৪.এক বাটি ঈষদোষ্ণ পানিতে দুই চা চামচ বেকিং সোডা গুলিয়ে তাতে ব্যবহার করা টুথ ব্রাশ ভিজিয়ে রাখলে ব্রাশে আটকে থাকা ময়লা পরিস্কার হয়।

১৫.নষ্ট বা স্ক্র্যাচ পড়া সিডি পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সফ্টও্য়্যার পাওয়া গেলেও কারো ক্ষেত্রে তা কাজ করেছে এমন শুনিনি। সম্প্রতি কয়েকটি অদ্ভুত পদ্ধতি পড়েছি..

*মেটাল পলিশ- ব্র্যাসো বা মেটাল পলিশ স্ক্র্যাচড সিডিতে হাল্কা ভাবে বৃত্তাকারে রাব করলে তা ভালো হয়(এই পদ্ধতির জন্য ব্র্যাসো কিনেছি, এখনও প্রয়োগ করা হয়ে উঠেনি.. তবে শীঘ্রই করবো)।
*কলার খোসা :-* - স্ক্র্যাচ পড়া সিডিতে চক্রাকারে না ঘুড়িয়ে মাঝের কেন্দ্র থেকে লম্ব ভাবে কলার খোসা ঘষে নিলে তা আবার আগের মতো হয়। (এই অদ্ভুত পদ্ধতি প্রয়োগের কোন আগ্রহ আমার নেই – কৌতুহলী কেউ চাইলে নিজ দায়িত্বে করতে পারেন)।


রেসিপিঃ

বাংলাদেশে কখনও পানিটা পর্যন্ত ফুটাতে হয়নি এমন সব ছেলে মেয়েরা প্রবাসে এসে যখন দেখেন ঘরের সব কাজ থেকে শুরু করে রান্নাটাও নিজের করে খেতে হয় তখন অনেকেই বেশ অসহায় বোধ করেন! সামান্য একটি পিঁয়াজ কাটা যে কতো বড় শিল্প, প্রতিদিনের খাদ্য ভাত, ভাজি, মাছ গোশত রান্না যে কতো জটীল ব্যাপার তা হাড়ে হাড়ে অনুভব করেন।
তাঁদের মতো নিতান্ত আনাড়ি ও অতিব্যস্ত যাঁরা শর্টকাটে ঝামেলাহীন দ্রুত রান্নার উপায় খুঁজেন তাঁদের জন্য রেসিপি। গৃহকর্ম ও রান্নার কাজে সুনিপুন/সুনিপুনাদের জন্য নয় :-)

মুরগীর ঝাল কারীঃ-

উপকরন-টুকরো মুরগী- ১-২ কেজি
পিঁয়াজ কুচি/টুকরো- ১- ১ ১/২কাপ
আদা বাটা
রসুন বাটা } ২ টেবিল চামচ
জিরা বাটা/গুড়ো
হলুদ- ১-২ চা চামচ
লবন-(স্বাদ মতো)
গরম মশলার গুড়া/দারচিনি, এলাচ, লবঙ্গ
তেজপাতা - দুটো
তেল- ৩ টেবিল চামচ
মরিচ(মরিচ বাটা/ গোলমরিচ গুড়া/কাঁচা মরিচ) – স্বাদ মতো
পানি- দেড় কাপ

প্রনালী:১.একটি হাড়িতে মুরগী সকল উপকরণ নিয়ে হাই হিটে চুলোয় দিন।
২ রান্নার চামচ দিয়ে মুরগীর সাথে মশলা ভালো ভাবে মাখিয়ে নিন।
৩. তেল গরম হলে মিশ্রনটি কছিুক্ষণ পর পর ভালোভাবে নাড়তে থাকুন – ১০ মিনিট
৪. মুরগী ভাজা ভাজা বা হাল্কা বাদামী হলে পানি দিন।
৫. পানি ফুটে এলে মুরগী ভালোভাবে নেড়ে পাত্রের ঢাকনা বন্ধ করে চুলোর আঁচ কমিয়ে দিন।
৬. ২০ মিনিট পর ঢাকনা খুলে ভালোভাবে নেড়ে দিন(লবনের পরিমান ও সিদ্ধ হয়েছে কিনা দেখুন)
৭.মুরগী প্রায় সিদ্ধ হয়ে এলে আঁচ বাড়িয়ে ফুটে ঠলে ঢাকনা বন্ধ করে কম আঁচে আরো ১০-১৫ মিনিট রেখে চুলো বন্ধ করে দিন।

টিপস্:
*কাঁচা মরিচ ব্যবহার করলে ৬নং স্টেপে দেয়া ভালো দেয়া ভালো।
*৬ নং স্টেপে টমেটোর টুকরো, ধনেপাতা দিলে ভিন্ন স্বাদের মজাদার রান্না হয়।
*রান্নায় স্বাদ বৃদ্ধি বা মুরগী দ্রুত সিদ্ধ করতে শুরুতে দু টেবিল চামচ টক দৈ ব্যবহার করা যেতে পারে।

পিঁয়াজুঃ-রমজান মাসে বাংলাদেশী মাত্র প্রায় সকলের ইফতারের অপরিহার্য আইটেম পিঁয়াজু।
আমার মতো যাঁরা মুচমুচে পিঁয়াজু প্রেমী প্রবাসী অথবা দেশে অবস্থানকারী অপক্ক রাঁধুনী- তাঁদের জন্য...

উপকরন:
মুসুরের ডাল – ইচ্ছে মতো :-) (প্রথম প্রচেষ্টা হলে ১ কাপ নেয়া ভালো)
পিঁয়াজ কুচি- মুসুরের ডালের পেস্টের পরিমানের ১/৩ সমান।
কাঁচা মরিচ/হ্যালাপিনো কুচি- পরিমান মতো(ঝাল কেমন পছন্দ তার উপর নির্ভর করে)
ধনেপাতা কুচি- পিঁয়াজ কুচির পরিমানের ১/৩ পরিমান।
লবন-পরিমান মতো।
তেল: আধ কাপ

প্রনালী: ১.মসুরের ডাল ভালো করে ধুয়ে ৫/৬ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখার পর বাড়তি পানি ফেলে ব্লেন্ডারে/শীল পাটায় আধা বাটা করে নিন।
২.একটি বাটিতে ডালের পেস্টটি নিয়ে তাতে পিঁয়াজ,মরিচ, ধনেপাতা কুচি ও লবন মিশিয়ে নিন।
৩.একটি ফ্রাইং প্যান(আমি ডুবো তেলে ভাজতে পারিনা, ডাল ছড়িয়ে পিঁয়াজু ভেঙ্গে যায়) কড়াই গরম করে চারপাশটা মেখে সামান্য বাড়তি থাকে সে পরিমান তেল দিন। মিডিয়াম হাই হিটে তেল গরম করুন।
৪. গরম তেলে চায়ের চামচ বা হাতের সাহায্যে অল্প পরিমানে(পিঁয়াজুর কাঙ্খিত সাইজে) ডালের মিশনটি দিন। (ফ্রাইং প্যানের সাইজ ও পিঁয়াজুর সাইজের উপর নির্ভর করে এক বারে ৪/৫ টি থেকে ১০/১২ টি পর্যন্ত ভাজা যায়)
৫.একমিনিট পর পিঁয়াজুগুলো উল্টে উনুনের আঁচ লো মিডিয়ামে কমিয়ে ৩/৪ মিনিট ভাজতে হবে। ৩/৪ মিনিট পর পিঁয়াজু গুলো উল্টে আবার ২/৩ মিনিট ভাজতে হবে।
৬.ভাজা শেষে বাড়তি তেল সাধ্যমতো ছেঁকে কিচেন টাওয়েল বা পরিস্কার খবরের কাগজের উপর রাখতে হবে তেল শুষে নেবার জন্য।

টিপস্ঃ১.পিঁয়াজু মচমচে বা ক্রিস্পি করতে ডালের পেস্টে আধ ভাঙ্গা ও গোটা ডালের পরিমান১/৩ বা ১/২ হলে ভালো।
২. বেশী আঁচে পুরো সময় ভাজলে বাইরের অংশ ভাজা হলেও ভিতরে কাঁচা থেকে যাবে।
৩.তেল গরম হয়েছে কিনা জানতে, একফোঁটা পেস্ট এতে দিয়ে দেখতে হবে, যদি দেবার সাথে সাথে তেল ফুটে ভাজা হয়ে যায় তাহলে তেল যথেষ্ট গরম।
৪.স্লটেড স্পুন বা ছিদ্র চামচে ভাজা হলে তেল ছাঁকা সহজ হয়।
৫. তেল দেবার পূর্ব পাত্র ও তেল দেবার পর তেল যথেষ্ট গরম না করে ডাল দিলে তা নীচে পাত্রের সাথে স্টিক করে যাবে।
৬.প্রতিদিন পিঁয়াজু বানানোর পদ্ধতি আরো সংক্ষিপ্ত করতে এক সাথে বেশী ডাল পেস্ট করে মুখ বন্ধ কন্টেইনারে রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করা যায়। ৪-৫ দিন(কোন কোন ক্ষেত্রে হয়তো বেশী) প্রায় ফ্রেশ থাকে।
৭. পিঁয়াজুর জন্য পিঁয়াজকুচি ও কাচামরিচ কুচি করে ফ্রীজে রেখে দিলে, কাজ বা ক্লাস শেষে ঘরে ফিরে নিমেষেই বানিয়ে নেয়া যায় মুচমুচে পিঁয়াজু!!! পিঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ কুচি ২-৩ দিনের বেশী পুরনো না হওয়া ভালো।

নীচের রেসিপি দুটি ব্লগার রাশেদের জন্য প্রায় তিন বছর আগে লেখা, এখানে শেয়ার করছি :-)
পালং শাক

উপকরন: ফ্রোজেন স্পিনাশ - ১ প্যাকেট
পিঁয়াজ কুচি - ২ টেবিল চামচ
কাঁচা মরিচ - ২/৩ টি
লবন- পরিমান মতো
তেল- ২ টে: চা:

প্রনালী: ফ্রাইং প্যান/ রান্নার পাত্র গরম করে তাতে তেল দিন। তেল গরম হলে পিঁয়াজ কুচি ছেড়ে বাদামি করে ভেজে নিন। স্পিনাশ দিয়ে কিছুক্ষন পর নেড়ে দিন (যেন ফ্রঝেন অংশ গুলো সব Thaw হয়ে যায়) । লবন ও কাঁচা মরিচ যোগ করে লো-মিডিয়াম আঁচে রেখে দিন ১৫ মিনিট। শাক সিদ্ধ হলে নামিয়ে নিন। :-)
(একই পদ্ধতিতে ফ্রোজেন ঢেড়শ রন্না করা যায়)

বেগুন ভাজি:
বেগুন কুচি করে কেটে নিন। পাত্রে তেল গরম করে পিয়াজ কুচি বাদামী করে ভেজে নিন। জিরা, ধনে, হলুদ গুড়া যোগ করে কিছুক্ষণ ভেজে নিন (প্রয়োজনে সামান্য পানি যোগ করতে পারেন)। ভাজা মশলায় বেগুন দিয়ে মশলার সাথে মিশিয়ে নাড়ুন ২-৩ মিনিট। ২/৩ টি কাঁচা মরিচ দিন। স্বাদ মতো লবন দিবে ভালো করে নেড়ে আঁচ মডিয়াম লো তে রেখে পাত্রটি ঢেকে দিন।

বি: দ্র: আমি বেগুন খাইনা, সুতরাং খেতে কেমন হয় জানিনা, অন্যদের জন্য রান্না করা :-)



সুত্রঃ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ম্যাগাজিন।

আরো কিছু টিপস্ সহ আগের একটি পোস্ট]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29226657 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29226657 2010-08-20 22:39:59
নাম না জানা তোমাকে......! ডাইরীর পাতা থেকে...

গভীর রাতের এলোমেলো ভাবনা অথবা তীব্র কষ্ট...

'
এখানে এখন অনেকে রাত.. প্রায় ঘন্টা খানেক আগে ঘুমুতে যাবার আগে জরুরী কিছু কাজ শেষে মনে হলো, ব্লগের পাতাটা উল্টে দেখা যায়.. আজকের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কি জানতে।

সেই তখন থেকে স্তম্ভিত হয়ে বসে আছি...সময় স্থির হয়ে আছে..

চোখ ভিজে কপোলের পানি শুকিয়ে গেছে.. ব্লগের পাতা অনেক বার বন্ধ করেও আবার কিভাবে মনের অজান্তে এই সাইটের প্রথম পাতায় ফিরে যাচ্ছি... বিবশ বোধ করছি, কোথাও ভীষণ গুমড়ে কেঁদে উঠতে চাইছে জমাটবাঁধা অবোধ কষ্ট!!

এই পৃথিবীতে মায়ের স্থান কেউ কখনও নিতে পারে? কখনও সম্ভব নয় বোধ হয়.. বিশেষ করে সদ্যজাত শিশুর জীবনে...

মা ছাড়া আর কে এমনি ভাবে আগলে রাখবে ছোট্ট তুলতুলে শরীরের নাজুক প্রাণ? কে রাতের পর রাত বিনীদ্র সময় কাটাবে ছোট্টমনিটা ঘুমুতে পারছেনা বলে? গরমে ঘেমে উুঠেছে কিনা অথবা শীতে হাত পা ঠান্ডা হলো কিনা ভেবে, হাজার বার ঘুম ভেঙ্গে কে দেখবে বাবুটাকে?

কর্মমুখর ব্যস্ত একটি দিন শেষে ক্লান্ত দেহে সবাই যখন ঘুমে বিভোর, সেসময় কয়েক সপ্তাহ বয়সের সোনামনিটাকে বুকে করে কে বসে থাকবে, পেটে গ্যাস হয়ে ব্যাথায় কষ্ট পেতে দেখে?

চারপাশের অপরিচিত জগতের মাঝে এতোটুকু একটা মানুষের একমাত্র পরম নির্ভরতা মায়ের কোল কোথায় পাবে সে?

ভয় পেয়ে কেঁদে উঠলে কে এঁকে দিবে তার কপালে গভীর মমতামাখা চুমু?

ছোট্টমনিটা কোথায় পাবে ঘুম পাড়ানী গান শুনিয়ে ঘুম পাড়ানোর মা'কে?

প্রথম যখন টলমল পায়ে দাঁড়াতে বা হাঁটতে শিখবে, ধুপ করে পড়ে যাবার সময় কে এসে হাসি মুখে জড়িয়ে ধরবে তাকে?

কিছু বুঝতে শিখার আগে যে মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে প্রথম হাসি হাসবে, কোথায় পাবে সেই মাকে?

কে নিজের আরাম, আয়েশ, ক্লান্তি, অসুস্থতা উপেক্ষা করে শুধুই ছোট্ট এই শিশুর মঙ্গল কামনায়, তার এতোটুকু আরাম এতোটুকু হাসির জন্য আত্মত্যাগ করবে?

ঈদের দিন পরম যত্নে কে তাকে পরিয়ে দিবে নতুন জামা?

সময় অসময় কোলে তুলে নিয়ে আদরে আদরে ভরিয়ে দেয়া মাকে কোথায় পাবে বাচ্চাটা?

এই পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় বন্ধু, বড় আশ্রয়.. মা কে কোন দিন দেখবেনা বাচ্চাটা!!

মহান আল্লাহ্ যেন এমন হতভাগ্য সকল শিশুকে সব রকম ভাবে আগলে রাখেন, স্নেহ ভালোবাসায় ভরিয়ে দেন তাদের জীবন।

তিনি তাঁর ক্ষমতা আর মহানুভবতা দিয়ে যেন এমন শিশুদের শৈশব, কৈশোর আনন্দ, ভালোবাসা আর সুখে ভরিয়ে দেন..........................



উৎসর্গঃ

এই পোস্টে উল্লেখিত সদ্যজাত শিশু, তোমাকে , তোমার মতো হতভাগ্য আর সকল শিশুদের
এবং জন্মের সময় মাতৃহারা আর এক শিশুকে, যিনি জীবনের অনেকগুলো দশক পাড়ি দিয়েও সেই না দেখা মা'কে স্মরণ করে আজও অভিমানে গুমড়ে কাঁদেন.....]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29217786 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29217786 2010-08-08 16:17:45
বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহঃ মাতৃদুগ্ধ হোক প্রতিটি নবজাত শিশুর একমাত্র খাদ্য
পৃথিবীতে সম্ভব সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়- মাতৃগর্ভ। এরচেয়ে নিরাপদ, জীবাণুমুক্ত ও আরামদায়ক স্থান সম্ভব নয়। সেখান থেকে একজন নতজাতক যখন ধুলোবালি মাখা জীবাণু সংকুল পৃথিবীতে আসে, তার নাজুক শরীর ও দুর্বল রোগপ্রতিরোধক ক্ষমতার কারনে জীবন হয় ঝুঁকিপূর্ণ! এই পরিবেশে একটি নিরাপত্তাবেষ্টনীর মতো তাকে সকল প্রতিকূলতা থেকে রক্ষা করে মমতাময়ী মায়ের কোল ও শিশুর রোগপ্রতিরোধক ক্ষমতার অসাধারণ গুনাবলী সমৃদ্ধ মাতৃদুগ্ধ!

আমাদের দেশে এই ব্যাপারটি অত্যন্ত অবহেলিত- কারণ ধরেই নেয়া হয় যিনি জন্ম দিলেন তিনি তো স্তন্যদান করবেনই, এটা তাঁর একার দায়িত্ব এবং অবধারিত ব্যাপার। বিষয়টি এতো সহজ নয়, আর সে কারনেই দেখা যায় শেষ পর্যন্ত অনেক সদ্য প্রসূতীর সন্তান মার্তৃদুগ্ধ থেকে বন্চিত হচ্ছে!! মাতৃদুগ্ধ বন্চিত শিশুরা বিভিন্ন রোগে সহজে আক্রান্ত হয় এবং কখনও অকালে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে।
ইউনিসেফের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিশ্বের সকল নবজাত শিশু ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মাত্র মায়ের দুধ পান করলে প্রতিবছর প্রায় ১৫লক্ষ শিশুর মৃত্যুরোধ হয়তো সম্ভব হতো।

মাতৃদুগ্ধের উপকারিতা সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই!! মায়ের দুধ শিশুর জন্য শুধুমাত্র শ্রেষ্ঠতম পুষ্টিকর ও সঠিক খাদ্য নয় বরং তা যে কোন রোগপ্রতিরোধক টিকার চেয়ে অধিক শক্তিশালী ও কার্যকর। ডায়রিয়া, ইনফ্লুয়েন্জ্ঞা, অটাইটিস মিডিয়া, হারপিস ইনফেকশন, শ্বাসতন্ত্রের ইনফেকশন, নেক্রোটাইজিং এন্টারোপ্যাথি ইত্যাদি রোগের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়া ছাড়াও কৃত্রিম ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।

ফর্মূলা বা কৃত্রিম শিশু খাদ্যে লালিত শিশুদের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি মার্তৃদুগ্ধে লালিত শিশুর চেয়ে অনেক অনেক বেশি। এসকল রোগ শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে ব্যহত করে এবং শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকগুন বৃদ্ধি করে।

মায়ের দুধ যে শুধু মাত্র শ্রেষ্ঠতম পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা সম্পন্ন তাই নয় বরং তা শিশুর জীবন রক্ষার সাথে সাথে সাশ্রয়ীও- শিশুখাদ্য হিসেবে মাতৃদুগ্ধ পরিবারের খরচ ও সময় দুটোর সাশ্রয় করে থাকে

বিশ্বের সকল নবজাতকের পুষ্টি, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিষ্চিত করতে WHO এবং UNICEF এর যৌথ প্রচেষ্টায় BFHI বা Baby Friendly Hospital Initiative এর উদ্যোগ গ্রহন করা হয়।
হাসপাতাল বা মাতৃসদনকে স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য একটি শক্তিশালী ও যথাযথ দৃষ্টান্ত এবং সাহায্যকারী অনুকুল স্থান হিসেবে উপস্থাপন করা এর মূল লক্ষ্য।

উন্নতবিশ্বের অধিকাংশ মাতৃসদন ও হাসপাতালে ল্যাকটেশন সেন্টার আছে। মায়েদের স্তন্যদানের সুবিধার্থে সেখানে মানসিক সহায়তা সহ স্তন্যাদানের যথাযথ পজিশন ও টাইমিং শিখানো হয়, এসব সেন্টারে স্তন্যদানে সহায়ক প্রয়োজনীয় সকল সামগ্রী পাওয়া যায়।

শিশুর জন্মের পর অধকিাংশ মা সন্তানকে স্তন্যদান শুরু করলেও অনেক ক্ষেত্রে তা ছয়মাস পর্যন্তও সম্ভব হয়না। এ নিয়ে আমাদের দেশে মায়েদের উদ্দেশ্যে কটাক্ষ করার লোকের অভাব না হলেও, এর প্রকৃত কারণ উদ্ধার ও তার সমাধানে এগিয়ে আসার উদ্যোগের অভাব পরিলক্ষিত হয়।

নবকজাত শিশু যেন প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ এবং দুবছর বয়স পর্যন্ত অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি মায়ের দুধের পুষ্টিতে লালিত হতে পারে তা নিশ্চিত করতে মায়ের পাশাপাশি পরিবারের সকলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আর এই কাজটিকে সহজ ও বাস্তবায়িত করতে গুরত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করা অত্যন্ত জরুরী: -

*মায়ের যত্ন:
১. ব্রেস্টফিডিং বা স্তন্যদানে সবচেয়ে প্রথম এবং প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মায়ের সুস্বাস্থ্য(শারিরিক ও মানসিক দুটোই)। গর্ভবতী মায়ের দেহে বিভিন্ন হরমোনের আধিক্য দেখা যায়, বলা যায় গর্ভবতীর শরীরে চলে হরমোনের উৎসব। যার ফলে তিনি শারিরিক ও মানসিকভাবে ভীষণ প্রভাবিত হন।
শিশুর জন্মের পর এই প্রভাব কিছুটা কমে এলেও তিনি শারিরিক ভাবে দুর্বল এবং অনেক ক্ষেত্রে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন।
শিশুর লালন পালনে আর সব কিছুর মতো মাতৃদুগ্ধ দানে মায়ের পাশাপাশি পিতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশের সমাজ ব্যবস্থায় ব্যাপারটি অনেককে অবাক করলেও এটাই বাস্তবতা। শিশুকে স্তন্যদান করবেন মা আর সেই মায়ের যত্ন, তাঁর পুষ্টি, বিশ্রাম নিশ্চিত করবেন পিতা।
২.এসময় মায়ের যথাযথ খাদ্যগ্রহন ও পুষ্টি জরুরী। মায়ের পুষ্টিহীনতা মতৃদুগ্ধ উৎপাদনে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। এসময় সাধ্য অনুযায়ী দুধ, ডিম, সব্জিসহ পুষ্টিকর খাবার গ্রহন করা জরুরী।
৩. স্তন্যাদানকারী মায়েদের হাইড্রেশন বা পর্যাপ্ত পানি পান অত্যন্ত জরুরী।
৪.মানসিক এবং শারীরিক সুস্থতার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং ঘুম(প্রতিদিন নুন্যতম ৮ ঘন্টা) জরুরী।

*বিশেষ খাবার:
বিভিন্ন দেশের নিজ নিজ বিশ্বাস ও ঐতিহ্যনুসারে এসময় শিশুখাদ্যের পরিমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে মায়েদের ভিন্ন ভিন্ন ফল, সব্জি, ভেষজ ও খাদ্য গ্রহনে উৎসাহিত করে।
এর মাঝে উল্লেখযোগ্য:
১.দুধ
২.কালোজিরা
৩.লাউ
৪.সাগুদানার পায়েস
৫.পেঁপে
৬.মেথী-আমাদের দেশে কালোজিরার মতো জাপান এবং বর্তমানে আমেরকিায়ও মেথী গ্রহনে উৎসাহিত করা হয়। ল্যাক্টেশন সেন্টারে ক্যাপসুলাকারে মেথী, মেথীর চা বিপুল পরিমানে বিক্রী হয়ে থাকে।

*পজিশন:
স্তন্যদানের যথাযথ পজিশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন-
১. ক্র্যডেল:-</u> সাধারন কোলে নেবার ভঙ্গীতে যে প্রচলিত পজিশনে স্তন্যদান করা হয়, তা সব চেয়ে জনপ্রিয় ও কার্যকর।
২.বল হোল্ডিং:-</u> সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেবার পর প্রচলিত পদ্ধতি বা ক্র্যাডেল পজিশনে স্তন্যদান অনেক ক্ষেত্রে মায়ের জন্য কষ্টকর, মাঝে মাঝে প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠে। এক্ষেত্রে “বল হোল্ডিং” অত্যন্ত কার্যকর।
একটি বলকে পাশে একহাতে ধরার মতো করে শিশুকে স্তন্যদান করায় মায়ের তলপেট বা সিজিরয়িান সেকশনের ক্ষতস্থানে শিশুর ভার পড়েনা, ফল স্তন্যদান মা ও শিশু উভয়ের জন্য সহজ হয়।
৩.ক্রস ক্র্যাডেল:-</u> প্রিম্যাচিউর শিশুর ক্ষেত্রে অধিক সহায়ক।
৪.লাইং বা শায়িত:-</u> মায়েদের জন্য কিছুটা রিল্যাক্সিং হলেও শিশুর জন্য অনেক ক্ষেত্রেই বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

*কর্মজীবি মায়েদের জন্য:
আন্তরিক ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফেরার পর অনেক মায়ের সন্তানকে কৃত্রিম খাবার বা বেবিফুড, গরুর দুধ বা পাউডার দুধের আশ্রয় নিতে হয়, যা মোটেও কাম্য নয়। এ সমস্যা সমাধানে কর্মজীবি মায়েদের জন্য প্রায় বন্ধু সম একটি যন্ত্র “ব্রেস্ট পাম্প"”। কাজের সময় শিশুকে স্তন্য দান সম্ভব না হলে তাঁরা এই পাম্পের সাহায্যে মতৃদুগ্ধ সংগ্রহ করে তা যথাযথ উপায়ে সংরক্ষণ করতে পারেন। যা তাঁদের অনুপস্থিতিতে পরিবারের অন্য কেউ বোতলের মাধ্যমে শিশুকে খাওয়াতে পারেন। ফলে মায়ের অনুপস্থিতিতেও শিশুটি মাতৃদুগ্ধের উপকারিতা থেকে বন্চিত হয়না।

নতুন মায়েদের ক্ষেত্রে স্তন্যদানের শুরুতেও ব্রেস্টপাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ব্রেস্ট পাম্প বিভিন্ন দামের আছে তবে ইলেক্ট্রিক পাম্প সবচেয়ে কার্যকর ও কিছুটা ব্যয়বহুল। ল্যাক্টেশন সেন্টার থেকে এই পাম্প ভাড়া করা যায়।

*পোশাক:
স্তন্যদানের উপযোগী আরামদায়ক ও স্বস্তিকর পোশাক মায়েদের জন্য জরুরী। এবিষয়েও ল্যাক্টেশন সেন্টার সহায়তা করে থাকে।

*প্রস্তুতি:
একজন পুরুষের কাছে স্তন্যদান যতোখানি অপরিচিত ব্যাপার, প্রথমবার সন্তানলাভ করা মায়ের কাছেও অনেকটা তেমনি।
তই, গর্ভবতী অবস্থা থেকে এব্যাপারে মানসিক প্রস্তুতি জরুরী। পরিবারের মুরুব্বী এবং স্বামী উৎসাহ দান করে এই প্রস্তুতিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারেন।

*আধুনিকতা ও স্তন্যদান:
সময়ের সাথে সাথে মানুষ যতো আধুনিক ও শিক্ষিত হচ্ছে উন্নত বিশ্বের মায়েরা ফিরে যাচ্ছেন ব্রেস্ট ফিডিং বা স্তন্যদানে। শিক্ষা, মাতৃদুগ্ধের উপকারিতা এবং শিশুর জন্য এর গুরুত্ব অনুধাবন তাঁদের এবিষয়ে উৎসাহিত করছে। হাজারও ব্যস্ততার মাঝে শিশু সন্তানকে মাতদুগ্ধের আশির্বাদ থেকে বন্চিত করছেননা।

স্তন্যদানে অন্যতম সুন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মা ও শিশুর মানসিক নৈকট্য বা বন্ধন দৃঢ় করায় এর কোন বিকল্প নেই।

মা এইচ আইভি ইনফেকশন বা এইডস আক্রান্ত না হলে আর যেকোন অবস্থায় শিশুকে স্তন্যদানে কোন বাঁধা নেই।

সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে নারী পুরুষ নির্বিশেষে আমরা সকলেই আমাদের পরিবার ও পরিচিতজনদের শিশুদের মাতৃদুগ্ধের আশির্বাদপুষ্ট হতে সহায়তা করতে পারি।

জন্মের পর থেকে ছয়মাস বয়স পর্যন্ত মার্তদুগ্ধ হোক শিশুর একমাত্র খাদ্য।।
বিশ্বের প্রতিটি শিশু বেড়ে উঠুক মাতৃদুগ্ধের আশির্বাদ ও নিরাপদ ছায়াতলে।


*ব্রেস্টফিডিং এর সিম্বল “গোল্ডেন বো” “সোনালী বো” যা শুধু মাত্র একটি চিহ্ন নয় বরং গুরত্ব ও কার্যকারিতার অর্থ বহন করে। “গোল্ডেন বো”র চমকপ্রদ ব্যাখ্যা।।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29212476 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29212476 2010-08-01 09:05:23
আমাদের পাঁচ শিশু কিশোর আর ওরা...
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা থেকে বেশ কিছু বিষয় স্পষ্ট হলো...
প্রথমতঃ অপহৃত(এটাকে অপহরন ছাড়া আর কোন কিছু বলা যাচ্ছেনা) শিশু কিশোররা জানতেননা যে তাঁরা বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে নোম্যানস ল্যান্ডে চলে গেছেন। অর্থাৎ আমাদের সীমান্তবর্তী অন্চলের মানুষরা তাঁদের অবস্থানের নাজুকতা ও ঝুঁকি সম্পর্কে পুরোপুরি অন্ধকারে বাস করছেন।

দ্বিতীয়তঃ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এব্যাপারে নিশ্চুপ কারনে শনিবার ছুটির দিন!!
আজ যদি সজীব ওয়াজেদ, পুতুল বা তারেক জিয়ার প্রতি এধরনের অন্যায় বা হামলা হতো, তখনও কি তাঁরা সাপ্তাহিক ছুটির ধুয়ো তুলে নিরবতা পালন করতেন?


গত কয়েক বছরে নির্যাতিতদের সম্পর্কে খবর জানার আগ্রহ থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে.... যখন খুব বড় কোন অনাচার বা অন্যায় ঘটে দেখা যায় অধিকাংশ সময় তা ঘটেছে কোন দীর্ঘ ছুটির(যেমন ঈদের ছুটি, পৌজোর ছুটি) ঠিক আাগে.. যেন প্রশাসনের খুব বেশি কিছু করার না থাকে!
দু*খজনক হলেও সত্য কিছু কিছূ ক্ষেত্রে প্রমানিত হয়েছে, অপরাধী পরিকল্পতি অপরাধ সংঘটনের আগে প্রশাসনকে খুশি করে বশে এনেছে ফলে ছুটি শেষেও অপরাধীকে গ্রেফ্তারে তাদের কোন তৎপরতা নেই।
আজকের ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের উদাসীনতা দেখে সেকথা আবারও মনে পড়ছে।
আমাদের দেশের মৃতপ্রায় বিডিআর আপ্রাণ চেষ্টা করছে অপহৃত শিশু কিশোরদের ছাড়িয়ে আনতে...

হতভাগ্য পাঁচ শিশু কিশোর- খবর পেলাম আজ দিনের মধ্যে ছাড়া পাবে, ফিরে আসবে মায়ের কোলে।

তাঁরা সুস্থ সুন্দর নিরাপদ ভাবে ফিরে আসুক তারপর.............



আপডেট: - ২৫শে জুলাই রাত ১২:৩৩

বিএসএফ ২৪শে জুলাই অপহৃত শিশুদের ফেরত দিবে এমন প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনও দেয়নি বলেই জানি!!!
কি প্রক্রিয়ায় ফেরত দিবে তা তারা বুঝে উঠতে পারছেননা!!!

টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাবার সময় প্রক্রিয়ার কথা মনে পড়েনি, আর এখন তাঁদের ফিরিয়ে দেবার সময় যতো জটীলতা!!

অত্যন্ত শংকিতবোধ করছি।
অজানা অচেনা মানুষদের জন্য আমাদের এমন উদ্বেগ, সেই পাঁচজনের বাবা, মা পরিবারের কি করূন অবস্থা তা অনুমেয়।
অপহৃত শিশু কিশোরদের কি প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে... ছোট্ট শিশুরা মায়ের বুকে ফিরে আশার আকুতি নিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠছে নিশ্চয়!!

মহান আল্লাহ্ যেন তাঁদের সহায় হন, তাঁদের সুস্থ সুন্দর নিরাপদ ভাবে অচিরে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেন।


আপডেট :- ২৬শে জুলাই রাত ১০:২৮

পাঁচ শিশু কিশোরকে অন্যায় ভাবে অপহরণ করে বিব্রতকর অবস্থায় বিএসএফ!
ঝামেলাহীন ভাবে ফেরত দিলে তাদের সে অন্যায় আরো প্রকট হয়ে উঠে, এই দায় থেকে বাঁচার জন্য ১৫ বছর এবং তার চেয়ে কম বয়সের শিশুদের
"কাঁটা তারের বেড়া চুরির" দায়ে অভিযুক্ত করেছে!!!
বিডিআরের সাথে পতাকা বৈঠক শেষে তিন শিশুকে ২৭শে জুলাই ফিরিয়ে দেবার (!)প্রতিশ্রুতি দিলেও ১৫ বছর বয়সের দুজন কিশোরকে কিছুদিন আটক রেখে ছাড়বে বলেছে।
এমন প্রতিশ্রুতি প্রায় প্রতিদিন দিচ্ছে, কবে এরা নিজেদের "সত্যবাদী" প্রমান করবে তা দেখার বিষয়!

কি অদ্ভুত!!

একটি দেশের প্রতি রক্ষাবাহীনি পাড়ার মাস্তানের মতো আচরণ করছে অথচ ভুক্তভোগী দেশের মেরুদন্ডহীন সরকার নিরব!! কোন প্রতিবাদ নেই! কূটনৈতিক উদ্যোগ নেই দেশের পাঁচজন নীরিহ শিশু কিশোরকে মুক্ত করে আনতে! তারা নিজেদের ক্ষমতার নিরাপত্তার খাতিরে মাস্তান বাহীনির পদলেহনে ব্যস্ত!!!

শত ধিক এদের প্রতি!!


বিডিআরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও যেসব মিডিয়ে হতভাগ্য এই পাঁচজনের খবর প্রতিদিন প্রচার করছেন, তাঁদের স্যালুট!

পাঁচ শিশু কিশোরের অবিলম্বে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রার্থণা!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29206306 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29206306 2010-07-24 12:49:18
রেজাল্ট- বৃত্তের পূর্ণতা.....!!!! চোখ ঝাপসা হয়ে এসেছে কখন বুঝতে পারেনি....


দুর্গম এলাকার অজপাড়াগাঁ থেকে যে স্বপ্ন নিয়ে ইটপাথরের এই ঢাকা শহরে পারি জমিয়েছিলো.. আজ যেন তা পূর্ণ হবার পথে!! এই রেজাল্ট জায়েদের জন্য অনেক অনেক বড় কিছু।

আজ বিলাসী জীবন, গাড়ি, বাড়ী, সন্মানজনক পদে চাকুরী এসব খুব স্বাভাবিক মনে হলেও পথটা তেমন মসৃণ ছিলোনা!


কি ভীষণ কষ্টকর সময় গেছে - অচেনা শহর, অচেনা পরিবেশ অজানা মানুষের ভীড়ে গ্রাম থেকে আসা এক তরুণের! হাতের আঙ্গুলে গুনে শেষ করা যায় এমন অংকের অর্থ সম্বল করে এভাবে ঢাকা শহরে আসার দুঃসাহস কেউ করেনা বোধহয়..!



গালভরা ডিগ্রী না হলেও ভালো পরিবারের শিক্ষিত ছেলে, তাই অসহায়ত্বটা আরো বেশী। লেখালেখি করার শখ অথবা ক্ষমতাকে পুঁজি করে এতো বড় চ্যালেন্জ নেয়াটা ঠিক হয়েছিলো কিনা বুঝতে পারছিলোনা!! তবে চলেই যখন এসেছে, ঠিক বেঠিকের হিসেব নিকেশ পিছে ফেলে জীবন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরাটাই মূখ্য ছিলো। কোন অন্যায় অথবা অপরাধকে প্রশ্রয় দিবেনা, বাবা মা'র কাছে মাথা নত হয় এমন কাজ করবেনা.. শুধু এই দৃঢ়তাটুকু ছাড়া যেকোন কিছু করার জন্য প্রস্তুত ছিলো সে...


প্রথম যেদিন পত্রিকার সম্পাদকের কাছে দুরু দুরু বক্ষে কাঁপা হাতে লেখা নিয়ে গিয়েছিলো, আজ খুব মনে পড়ছে সেদিনের কথা! একটি লেখা প্রকাশের সুযোগ, সৎ ভাবে কিছু উপার্জনের সুযোগের জন্য তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা ছিলো তাঁর।

কতোদিন অনাহারে থেকেছে.. এক গ্লাস পানি আর ক্ষুধা নিবারনের জন্য একমুঠো বাদামের হুমায়ুন আহমেদের সেই ফর্মুলা যে প্রয়োগ করবে সেই উপায়ও ছিলোনা- বাদাম কেনার সামান্য টাকাকে তখন বিশাল অংক মনে হতো। প্রতি দিনের পরিধেয় কাপড় রাতে ধুয়ে আবার সকালের পরে বের হয়েছে। লোকলজ্জা, পারিবারিক অবস্থান ভুলে ঢাকা শহরের বস্তিতে থেকেছে; রিক্সাওয়ালা, কুলি মজুর আর গার্মেন্টস কর্মীদের পাশাপাশি, আজকের স্বনামধন্য জায়েদুর রহমান।

রিক্সা দূরের কথা, বাস ভাড়ার টাকা ছিলোনা অনেক সময়, দু পায়ে হেঁটে ছুটে বেরিয়েছে ব্যস্ত শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। ক্লান্তি এসে গ্রাস করতে চাইলেও গাঁয়ে ফেলে আসা বাবা মা আর ছোট ভাইবোনদের মুখ মনে পড়ায় আবার উঠে দাঁড়িয়েছে। কাঠ ফাটা রোদ আর ঝড় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে জীবিকা আর জীবনের পিছনে ছুটেছে জায়েদ.. আজ তার গাড়ি আছে তবু সেই দিনের ক্ষয়ে যাওয়া স্যান্ডেল পায়ে ছুটে চলার স্মৃতি এতোটুকু ম্লান হয়নি।

পরিবেশ পরিস্থিতির কারনে নিজের পড়াশুনা দায়সারা গোছের হলেও স্বপ্ন ছিলো ছোটভাইবোনদের পড়াশুনাটা ভালোভাবে করাবে.. তাঁরা যেন সমাজে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে, তার মতো কষ্ট করে শুরুটা না হয়, এই চেষ্টাটা সবসময় তাড়া করে ফিরেছে।
সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিলো বাবা মা'কে নিয়ে। তাঁদের একটু আরাম, কিছুটা বিলাসীতায় যেন শেষ জীবনটা আয়েসে কেটে যায়, তার জীবনের লক্ষ্যই ছিলো এটা। তাই পিংকী যখন বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে, জায়েদে এক মুহুর্ত দেরী করেনি নিজের বাস্তবতা আর লক্ষ্য জানাতে, বিয়ের জন্য প্রস্তুত নয় সেকথা জানাতে। পিংকী ছিলো নাছোড়বান্দা, হয়তো সে জায়েদের সততা, একনিষ্ঠতা আর কর্মক্ষেত্রে সুনাম দেখে বুঝতে পেরেছিলো জায়েদের দিন ফিরতে সময় নিবেনা। ঘটেছেও তেমন...

কর্মক্ষেত্রে সততা আর বিশ্বস্ততা দিয়ে খুব দ্রুত জয় করে সকলকে। কঠোর শ্রম ও কর্মদক্ষতার পাশাপাশি কাজকে ভালোবাসে সে, কাজের ব্যস্ততার মাঝেই যেন খুঁজে পায় আনন্দ, সদ্য ফেলে আসা অতীতের দুঃসহ স্মৃতি থেকে মুক্তি.... ফলশ্রুতিতে আজ সে দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ও সন্মানজনক পদে আসীন।

এই অবস্থানেও খুব নিশ্চিন্ত ছিলোনা কখনো!! তাই এতো বড় পদে আসীন হয়েও কর্তব্যে হেলাফেলা করেনি কখনও... নিজের এতোটুকু অসুস্থতায় গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে.. পরিবারের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য তার সুস্থতা যে বড় জরুরী। বাবা মা ভাইবোনদের কথা ভেবে বেঁচে থাকাটাই বড় গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, তাই হয়তো নিজের সুখ দুঃখ নিয়ে ভাববার সময় হয়নি কখনও...

তার অক্লান্ত পরিশ্রম আর নিষ্ঠার ফল সৃষ্টিকর্তা তাঁকে দিয়েছে। ভাইবোনরা এক এক করে পাড়শুনার পাঠ চুকিয়ে আজ নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।

ছোট্ট এই বোনটা শুধু বাবা মা'র কোল ঘেঁষে বড় হয়েছে। প্রায় এক হাতে সামলে রেখেছে গাঁয়ের সংসার আর বুড়ো বাবা মা'কে। সেই বোনটার এইচ এস সি পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে... খুব ভালো ভাবে পাশ করেছে সে। এ প্লাস পেয়েছে।

দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ভিজে যাওয়া গালে হাত রাখে জায়েদ.. মিনুটা যেন সুখি হয় জীবনে.. অনেক অনেক বড় হয়। অনাহার আর অনিশ্চয়তার কষ্ট যেন তাকে কখনও স্পর্শ না করে...

আজ বোনটাকে ভালো কোন উপহার দিতে ইচ্ছে করছে। বাসায় ছোট্ট বুড়িটার পছন্দের খাবার রান্না করবে নিশ্চয়। আইসক্রীম খুব পছন্দ করে বোনটা- বাসায় আজ মিষ্টি উৎসব হবে, সাথে আইসক্রীম..



ফোনের দিকে হাত বাড়ায় জায়েদ.. মা'কে ফোন করে রেজাল্টের খবরটা জানাতে হবে।





উৎসর্গ: জায়েদের মতো বড় ভাইবোনদের, যাঁরা নিজের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে নিঃস্বার্থ ভাবে বাবা মা ভাইবোনদের জীবন গড়ে তোলার সংগ্রামের যুদ্ধ করেছেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29200822 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29200822 2010-07-16 05:33:22
মন্টানার মাউন্টেনে গাঢ় সবুজ ভালোবাসা!!!

জীবনের এতোটা সময় পেরিয়ে এভাবে প্রেম হবে, ভাবতে পারিনি।


কারো মন মানসিকতা সম্পর্কে জানতে প্রায়ই বেশ কমন একটি প্রশ্ন করা হয়, “আপনার ভালোলাগা সমুদ্র না পাহাড়? “আমার প্র্রিয়'র তালিকায় পাহাড় বা পার্বত্য অন্চলের নাম সেভাবে ছিলোনা কখনও! তাই জবাবটা বরাবর এসেছে ঘোর লাগা ভালোবাসা সমুদ্রের পক্ষে!!

পাহাড়ে আমার বাস হলেও এর মাঝে যে কি গভীর সৌন্দর্য আর মাদকতা লুকিয়ে আছে তা আগে অনুধাবন করিনি!! মাউন্টেনের রাজ্য মন্টানা যেন পাহাড়ের মিউজিয়াম। মাউন্টেন বা পাহাড়ের রূপ রস গন্ধ কতো প্রকার হতে পারে তার চলমান প্রদর্শনী ..

মহান সৃষ্টি কর্তা তাঁর অসীম ক্ষমতাবলে মাটি দিয়ে কি ভীষণ সুন্দর সব ভাস্কর্য গড়েছেন, তার সামান্য নিদর্শন দেখে বাকহারা হতে হয়। এক পাহাড়ের কতো হাজার বৈচিত্র তা নিজে না দেখে হয়তো কখনও বিশ্বাস হতোনা!

মু্গ্ধতার শুরু “মিজৌলা” নামের এক ছোট্ট শহর দিয়ে... মধ্য রাতের গাঢ় আঁধারে ঘন জঙ্গলের নির্জন পথে ড্রাইভ করে গভীর রাতে মিজৌলায় পৌঁছি, ঘন জঙ্গল আর গাঢ় আঁধারের কারনে পথে কিছু দেখা যায়নি। ভোরের আলো ফুটতেই হোটেল কক্ষের জানালার পর্দা টেনে হতভম্ব হয়ে যাই, মুগ্ধতায় স্তব্ধ, বাকহারা!


দুপাশে সারি সারি পাহাড় মাঝের ভ্যালী বা উপত্যকায় ছিমছাম একটি শহর। প্রভাতের স্নিগ্ধ নরম আলোয় শহরের কোমল সৌন্দর্য ক্যামেরায় বন্দী অসম্ভব তবু মুহূর্তটিকে ধরে রাখার লক্ষ্যে ছবি তোলা।

হোটেল থেকে বেড়িয়ে লং ড্রাইভের সময় কিভাবে কেটে গেছে বুঝতে পারিনি.. পাহাড়ের বৈচিত্রময় সৌন্দর্য এতোটুকু ক্লান্ত হতে দেয়নি!! হঠাৎ অনুধাবন করি, এতোদিন খুব সন্তপর্নে যে পাহাড় এড়িয়ে চলেছি আজ নতুন করে তার প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা জন্মেছে!! অদ্ভুত মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন করে রেখেছে...


মহান সৃষ্টি কর্তার ভাস্কর্যর সৌন্দর্য পুরোপুরি ক্যামেরা বন্দী করা অসম্ভব, তরাপরও স্মৃতিটুকু যেন হারিয়ে না যায় তাই হরেক রকম পাহাড়ের মিউজিয়াম থেকে আঁজলা ভরে ক্যামেরায় তুলে আনা...


মনছুঁয়ে যায় পাহাড়ের সবুজ, সুন্দর শান্ত রূপ।


কখনও পাহাড়টা বাদামী রঙের আভা মেখে আছে।





পাহাড়টা কখনও তৃণভূমি


কখনও যেন মরুদ্যান.. এখানে ওখানে গুচ্ছ গুচ্ছ ছোট ছোট ঝোপ!


কোথাও আবার ঘন সবুজ বন!

[img|
মাঝে মাঝে ঝাঁকড়া সবুজ গাছের নির্দষ্টি দূরত্বের কারনে পাহাড়টা মখমলের চাদর মনে হয়েছে!


কোথাও সে পড়ে আছে সাদা বরফের টুপি


আবার কোথাও শুধু সাদা টুপি নয়, পুরো পাহাড়টা শুভ্রতার সাদা চাদর জড়িয়ে স্ফটিক স্বচ্ছ রূপ ধারন করেছে।


সবচেয়ে আশ্চর্য হতে হয়, গাঢ় সবুজের পাশেই রুক্ষ পাথর ঢাকা পাহাড় দেখে!!


আবার কোথাও যেন মহাপ্রলয় ঘটে সব কেমন লন্ডভন্ড হয়ে গেছে



অথচ কিছু দূরে খরস্রোতা নদীর কোল ঘেঁষে কেমন শান্ত হয়ে আছে..


পথ চলতে চলতে চমকে উঠেছি.. সামনে এটা কি? রঙ্গীন জলপ্রপাত? নাহ্.. এটা মৃন্ময় প্রপাত :-)


কোথাও আকাশ আর পাহাড়ের মিতালী চোখ জুড়িয়ে দেয়



কোথাও কোথাও দুষ্টু ছেলের মতো মেতে উঠেছে রৌদ্র ছায়ার খেলায়!


এতো বড় পাহাড়টায় কে এমন ঘাষের গালিচা বিছিয়ে দিয়েছে ভেবে অবাক হতে হয়...


পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বাসাটা কেমন গা ছমছমে অনুভূতির জন্ম দেয়..!.


মেঘের আঁচল ঘেষে সবুজ পাহাড়ের আলাপচারিতা কান পেতে শুনতে ইচ্ছে করে!


হাজার পাহাড়ের বৈচিত্রময় রূপের এমন সমারোহ অতীতে চোখে পড়েনি.. পড়লেও হয়তো তা এভাবে অনুভব করিনি.. পাহাড় এখানে হাতছানি দিয়ে ডাকে.. অদ্ভুত ভাবে মোহগ্রস্থ করে..

নিজের অজান্তে খুব হঠাৎ গভীর ভালোবাসা জন্ম নিয়েছে বুঝতে পারছি..
মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন আমি বুভূক্ষের মতো পাহাড়ের সৌন্দর্যে অবগাহন করি,
একের পর এক পাহাড়ের সারি পেরিয়ে যাই..
কানে সুর ভেসে আসে...

“যতো দেখছি আরো লাগছে ভালো
যতো দেখছি আরো লাগছে ভালো.......”
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29196525 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29196525 2010-07-10 15:10:43
ভস্মীভূত স্বজনের ধ্বংসস্তুপ আর মায়ের লাশের উপর শকুনের নৃত্য!!
ছোট বড় সকলের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অস্তিত্ব, অনুভূতি আর ভালোবাসার নাম মা। যে মায়ের কাছ থেকে শুধু বছর নয়, বরং সপ্তাহ বা মাস কালের বিচ্ছেদও দুঃসহ কষ্টের মনে হয়, তাঁর মৃত্যু কতোখানি যন্ত্রণার হতে পারে তা মানুষ মাত্রই বুঝতে পারে।

যে মেয়েটি বধুর সাজ নিয়ে ফিরে দেখে হাতের মেহেদীর রং কে ম্লান করে জ্বাজল্যমান অগ্নিকুন্ড গ্রাস করেছে তার পরিবার, সজন এমনকি জন্মদাত্রী মাকেও.. সেই বধুর সাজ তার জন্য কতোখানি কষ্টের তা অনুধাবনের জন্য কোন অসাধারণ বা সুক্ষবোধের প্রয়োজন পড়েনা। যে ছেলেটির ঘর সাজাবার স্বপ্ন চোখে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে তার মা অঙ্গার হয়ে ফিরে, সেই ছেলেটির কি তখন বিয়ের সাজে সাজার মতো মানসিকতা থাকে? ভাগ্নের বিয়ের আয়োজনে প্রথম অনুষ্ঠানে গিয়ে ভস্ম হয়ে ফিরে খালা, ফুপু আর তাঁদের ছোট শিশু সন্তান! সজন হারানোর কষ্ট, মাকে হারানোর কষ্টের কাছে ম্লান হয়ে যায় পৃথিবীর আর যতো উৎসব, আয়োজন।

ঘৃনা প্রকাশের যে সীমা থাকে তা আজ যেভাবে বুঝতে পারছি, এমন করে আর কখনও হয়নি..


মানুষ লোভ, নোংরামী আর স্বস্তা প্রচারের কারনে কতো নীচে নামতে পারে, এক ভয়াল রাতের অগ্নিকুন্ড ১২২ টি নীরিহ প্রাণ কেড়ে আর ৩৭ জনকে অগ্নিদগ্ধের তীব্রযন্ত্রণায় আক্রান্ত করে আমাদের জানিয়ে দিয়েছে। সেই অগ্নিকুন্ড আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেছে সে যতো না পোড়ায় তার চেয়ে ঢের বেশি দগ্ধ করে, ছারখার করে আমাদের নর্দমার কীট রাজনীতিবিদেরা...


হতদরিদ্র দেশে এক আবেগ কে সম্বল করেই আমাদের অধিকাংশের বেঁচে থাকা, আমরা নিজেদের দায়িত্ব কর্তব্য ও সচেতনতা থেকে পলায়নপর মনোভাবের কারণেই যেন বোধবুদ্ধি বিসর্জন দিয়ে এই আবেগে ডুবিয়ে চোখ বুজে থাকি! সাধারণ মনুষত্ববোধও যে আমরা হারিয়ে ফেলছি তা অনুধাবনের বোধটুকু আজ আমাদের নেই।



বিয়ে মানে নতুন জীবনের শুরু, চোখ ভরা স্বপ্ন আর বুক ভরা আশা নিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনার আনন্দময় উদযাপন...বিয়ে তথা, নতুন জীবন গড়ার সময়টি মানুষ শুধু আনন্দ আর সুন্দর স্বপ্ন দিয়ে উপভোগ করতে চায়, দুঃস্বপ্নের চেয়ে ভয়াল বাস্তবতা আর শোকের মাতমের মাঝে নয়।দীর্ঘদিন পূর্বে কারো বিয়ের দিনধার্য থাকা সত্ত্বেও সেই সময়ের কিছু আাগে কারো বাবা মা, এমনকি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের মৃত্যু হলেও সেই শোকেরে মাঝে উদযাপন না করে পূর্বনির্ধারিত দিনটি পিছিয়ে দেয়া হয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে।

যেখানে সজনের লাশের পোড়া গন্ধে এখনও বাতাসে ভেসে বেড়ায়, ঘড়ের দেয়ালে আজও চক চক করে এঁটে আছে মৃত মায়ের বিচ্ছিন্ন মাংশপিন্ড, বাঁচার আকুতি নিয়ে অসহায় ভাবে গগনবিদারী আর্তনাদ করেছিলো কিছু আগেও আনন্দে মুখর এক ঝাঁক মানুষ, একটু কান পেতে শুনলে তার প্রতিধ্বনিটি হয়তো এখনও কানে বাজে- এমন সময় উৎসবের ভাবনা শুধু মানসিক বিকারগ্রস্থ উন্মাদের পক্ষেই সম্ভব। সজনহারা পরিজন বিশেষ করে মাতৃহারা সন্তানের জন্য এসময়টা বিভীষিকাময়। পৃথিবীর কোন সুন্দর এসময় দৃষ্টিনন্দন নয়, কোন আনন্দ এসময় হাসি ফোটাতে পারেনা, উৎসবের আয়োজন এসময় নরক যন্ত্রণার মতো মনে হয়...

অথচ.. এমন দূর্ভাগ্য আমাদের!
সদ্য সজনহারা দুটি এতীম মেয়ে নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনীতির নোংরা খেলা! এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা!
নিজেকে মহৎ বা মহতী প্রমাণের এই মোক্ষম সুযোগটি হাত ছাড়া করত চাইছেনা নষ্ট নেতৃবৃন্দ, দেশের ভাগ্য চাকা হাতে নিয়ে জনগনকে বানিয়েছে ক্রীড়ানক বানিয়ে খেলছে এরা! এই সুযোগ লাভের আনন্দে এরা এতোটাই আত্মহারা যে এটা কতোখানি বিভৎস ভাবনা ও বিকৃত রুচীর প্রকাশ তা অনুধাবনের বোধটুকু এদের নেই।
আর বিবেকবুদ্ধি হারিয়ে দিনে দিনে মানসিক ভাবে শিখন্ডী হয়ে উঠা আমরা এই উৎসব দেখে যাই বোবা জড় পদার্থের মতো!

অগ্নকিান্ডে এতীম হয়ে যাওয়া ছোট্ট শিশুদের মাথার উপর আশ্রয়ের ছায়া নয়, অগ্বিদগ্ধ হয়ে স্ত্রী, সন্তান, ভাতৃবধু আর ভাইয়ের সন্তান হারা, আবাস আর জীবিকা হারানো অসহায় মানুষটির পাশে নয়, শরীরে অঙ্গার ধারন করে মরণযন্ত্রণায় ছটফট করা রুগীটির পাশে নয়.... ভয়াবহ এক অগ্নিকান্ডে সদ্য মাতৃহারা, সজন হারানো ছেলেমেয়েদের বিয়ের বাদ্য বাজিয়ে সেই তালে বোধশক্তিহীন জাতিকে নাচানোর এক বিকৃত খেলায় মত্ত তারা। শোকাতুর পুত্র কন্যাদের কাছে এই মুহুর্তে বিয়ের সানাই যে মৃত্যুর ডংকার মতোই ভয়ংকর, তা বোঝার মতো বোধটুকু এদের নেই!
শ্যাওলাপড়া বিবেকের অধিকারী এসব ক্রীড়াবিদদের ঘিরে থাকে জেলীফিশের পাল, এসব মেরুদন্ডহীনেরা তাদের তোষামোদের গান গেয়ে প্রচার করছে এ কতো মহতী উদ্যোগ, এসব বিকৃত খেলার দুর্গন্ধকে মহত্ত্বের সুবাতাস হিসেবে প্রমাণ করতে চাইছে এই নরাধমের দল।

ক্ষমতা আর প্রভাবের নগ্ন প্রকাশের কাছে শোকাতুর তিনটি প্রাণের অসহায় আত্মসমর্পন।
আমার জানা নেই আজ তাঁরা তাঁদের এই বেঁচে যাওয়াকে অভিসম্পাৎ করছেন কিনা! এভাবে ক্ষমতার হাতের পুতুল হয়ে সজন হারানোর শোক পালনের অধিকারটুকু তাঁদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে, এর চেয়ে হয়তো পরিবার পরিজনদের সাথে ভস্মীভূত হলেও কষ্ট কম হতো.. এমন ভাবনা তাঁদের কাতর করে কিনা তা কখনও জানা হবেনা!!
অক্ষম মেরুদন্ডহীন নপুংসক জাতির হয়ে এই তিনটি প্রাণের কাছে করজোড়ে ক্ষমা চাই.... তাঁদের এমন দূর্ভাগ্য, অসহায়ত্বের জন্য নীরব দর্শক আমরা দায়ী।

এই অমানবিকতা আর বিভৎস ভাবনার প্রচারলোভী মানুষ রূপী হায়নাদের প্রতি ঘৃনা জানাতেও কুন্ঠা হয় কারণ ঘৃণা প্রকাশেরও সীমা আছে! এদের এধরনের নির্মমতা ও বিকৃত আনন্দের প্রতি ঘৃনা জানাবার ভাষা জানা নেই.. শুধু অভিসম্পাৎ করতে ইচ্ছে করে এই কুলাঙ্গারদের যারা মানুষের শোকের মাতম, মানুষের সর্বনাশ নিয়ে রাজনীতির হোলী খেলা খেলে!!

শৈশবে বড়দের কেউ মজা করে আকাশে ছুটে যাওয়া রকেট বা চাঁদের বুড়ি দেখানোর ছলে বলতেন, “দেখো ‌ঐইই..........ই যে দূরে দেখা যায়!!” কেউ যেন বোকা মনে না করে তাই খেলার সাথীদের কেউ কেউ তাতে সন্মতি দিয়ে বিজ্ঞের মতো মাথা নেড়ে সায় দিতো; “ ঐ যে.. দেখছি” তাদের কেউ শুধু চাঁদের বুড়ি নয়, তার হাতের চড়কা এমনকি ফোকলা দাঁতের হাসিটিও স্পষ্ট দেখতে পেতো.. আমি শুধু বোকা মেয়েটির মতো অসহায় ভাবে প্রশ্ন করে যেতাম; “কোথায় রকেট? কোথায় চাঁদের বুড়ি?”
কয়েক দশক পেড়িয়ে আজও নিজেকে সেই অসহায় বোকা মেয়েটির স্থানে খুঁজে পাই! এই আয়োজনে মানবতাকে খুঁজে ফিরি, তন্ন তন্ন করে খুঁজেও তার সন্ধান মিলেনা! আজও কেউ কেউ বলে উঠে; "ঐ যে দেখা যায় মানবতা!"
আমি দেখি, শুধু মায়ের পোড়া লাশ, সজনের ভস্মীভূত ধ্বংশ স্তুপে শকুনের নৃত্য, সেখানে শোনা যায় হায়নার পালের বিকৃত উল্লাস!!

ধিক!! শত সহস্র ধিক এই হায়নার পালের প্রতি!!

ইতিহাস একদিন এই বিভৎস উৎসবের প্রতিশোধ নিবে!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29173412 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29173412 2010-06-09 10:57:45
(??)কাকতালীয় বর্তমান.!!!!!!!!!!!!!!!
একটি কাকতালীয় ঘটনা বা কোইন্সিডেন্সের জন্য মনে মনে প্রস্তুত ছিলাম!!


কো-ইন্সিডেন্স প্রাত্যহিক ব্যাপার নয়. কদাচিৎ এমন ঘটে।
ব্যক্তিগত জীবনে দু একবার পর পর এমনটা ঘটলে চমকে উঠ ভাবতে হয়, “কোথাও কোন সমস্যা হলো কিনা!”


সাম্প্রতিক সময়ের কিছু কো-ইন্সিডন্সে বা কাকতালীয় ঘটনা কৌতুহলের জন্ম দিচ্ছেনা মোটেও, ঘৃণা ও আশংকায় শিউরে উঠতে হয়।


ঘটনা ১:
২৫শে ফেব্রুয়ারী ২০০৯, বাংলাদেশের স্মরণকালের ইতিহাসের সবচেয়ে রোমহর্ষক হত্যাযজ্ঞ ঘটে ঢাকার পিলখানায়। ঘটনার শুরুতে তাৎক্ষণিক ভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরাসরি সাহায চাওয়া ও জবাবে তার দেয়া আশ্বাস সত্ত্বেও এই দুহাত দূরের পিলখানার হত্যাকান্ডরোধে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলস্বরূপ এই দেশ হারিয়েছে ৫৬জন বীর সেনানী সহ আরো অনেক বীর সীমান্তরক্ষী। ১৯৭১ মুক্তযিুদ্ধে হানাদার বাহিনীও পারেনি একসাথে এতো জন বীর বাঙ্গালি সোননীকে হত্যা করতে! রাজধানীর সুরক্ষিত এলাকায় এই হত্যাযজ্ঞ রোধের ব্যর্থতা, বিডিআর ম্যাসাকারের এই দায়ভার কার তা আর বলার অপক্ষো রাখেনা। মানুষের মনে ক্ষোভ আর ঘৃনা স্পষ্ট হয়ে উঠে।
২০১০ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি, দেশের ইতিহাসের কলংকময় অধ্যায়ের প্রথম বার্ষীকিত খুব হঠাৎ করে আগুন জ্বলে উঠে পার্বত্য এলাকায়!!!! ফলাফল- নীরিহ নিরাপরাধ বাঙালী ও পাহাড়িদের অসহায় মৃত্যু!!
আরো বড় ফলাফল- পিলখানা ম্যাসাকারের সেই কৃষ্ণ অধ্যায় থেকে দেশের মানুষের দৃষ্টি ঘুরে যায় পার্বত্য অন্চলে।


ঘটনা-২
৩০শে মে- জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যু দিবস। নাহ্, এটাই তাঁর মৃত্যুর পর প্রথম বছর নয়--বরং বলা যায় ভীষণ রকম সস্তা খেলা ও নোংরামী ও বিকৃত উৎসবের মাধ্যমে আরেকজন জনপ্রিয় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমানের মৃত্যুবার্ষীকি পালনের নামে যে দলীয় তান্ডব চলে তারপর এটা ছিলো জিয়াউর রহমানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী।
৩০শে মে কখনও কোন বাড়াবাড়ি করা হয়না বিধায় দুদলের কর্ম ও মানসিকতার পার্থক্যটি এবার বড় প্রকট হয়ে উঠতো... হঠাৎ নিষদ্ধি হয়ে যায় “ফেস বুক” নামের জনপ্রিয় সাইটটি। সেই সাথে ঘোষণাও আসে, “সাময়িক ভাবে নিষিদ্ধের”। অর্থাৎ- উদ্দেশ্য হাসিল হলেও আবার উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।
ফলাফল: শুরু হলো তোলপাড়, সমালোচনা ও গণ প্রতিবাদ।
আরো বড় ফলাফল- জিয়াউর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী থেকে জনমানুষের দৃষ্টি ফিরে গেলো বাকস্বাধীনতার অধিকারের লড়াইয়ে।

ঘটনা -৩

শত নিপীড়ন ও হুমকীর মুখেও সরকার ও শেখ হাসিনা পরিবারের অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার পত্রিকাটি বন্ধ করে ভীষণ রকম জনরোষের স্বীকার হয় সরকার!! গুটি কয়েক মগজধোলাইকৃত দলীয় ক্রীতদাস ব্যতীত দলমত নির্বিশেষে প্রতবিাদী হয়ে উঠে বিশ্বের বিভিন্ন কোন থেকে সকল বাংলাদেশী। মানুষের বাকস্বাধীনতা, লেখার স্বাধীনতার প্রতি এমন সরাসরি আঘাতে তীব্র ঘৃণার সন্চার হয় জনগনের মনে। একটি ভীষণ অনিশ্চিত পরিনতির আশংকা হয় অনেকের মনে। “আমার দেশ” পত্রিকাটি যাঁরা কখনও পড়েননি তাঁরাও প্রতিবাদী হয়ে উঠেন এই ফ্যাসীবাদী মনোভাবের বিরুদ্ধে
ক্ষমতাসীন দলের গুটিকয়েক নির্লজ্জ পদলেহী ছাড়া আর সকলে সংবাদ পত্র, ইন্টারনেট সর্বত্র শুধু এই ঘৃনার প্রকাশ জানান। বিরুদ্ধ মত প্রকাশের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেয়ায় ফুঁসে উঠেছে সারা দেশ!!

তাই মনে মনে প্রস্তুতি ও কৌতুহল-আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করে দেয়ায় দলমত নির্বিশেষ সারা দেশে মানুষের মনে যে ঘৃনা ও ক্ষোভের সণ্চার হয়েছে, এই ক্ষোভ ও ঘৃনা থেকে বাঁচতে সাধারন মানুষের দৃষ্টি অন্য দিকে ফেরাতে (!)কাকতালীয় ভাবে কি ঘটবে এবার??।

এমন সময় আবারও (??)হঠাৎ আগুন জ্বলে উঠে... নাহ! এবার পার্বত্য চট্রগ্রামে নয়। খোড ঢাকার নিমতলী এলাকায় ভয়াবহ অগ্নকিান্ড!! অসহায় মানুষের আর্তনাদ আর পোড়া শরীরের গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এসব ভয়ংকর দৃশ্যের অসুস্থ প্রচারে মানসিক ভাবে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে দেশবাসী। অগ্নিকান্ডের কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে (?)শর্টসার্কিট। পর পর কিছু কাকতালীয় ঘটনার পর মন সন্দেহপরায়ণ হয়ে উঠে, কতোখানি শর্টসার্কিট অথবা প্ল্যান্ড সার্কিট বুঝতে পারছিনা।

এই অগ্নিকান্ডের ফলাফল, ঝলসে যাওয়া রক্ত, মাংশ হাড় আর চামড়ার ঝাঁঝালো গন্ধের সাথে সজন হারাদের গগনবিদারী আহাজারী...এই নির্মমতায় শিউরে উঠেছে পুরো জাতি। নিমতলীর হাহাকার ছড়িয়ে পড়েছে পুরনো ঢাকার সীমানা পেরিয়ে সমগ্র দেশে।

আরো বড় ফলাফল: সংবাদ পত্র ইন্টার নেটের মতো মাধ্যম সহ জনমনে এখন “আমার দেশ” বন্ধের প্রতিবাদ বা ঘৃনা প্রধান আলোচ্য বিষয় নয় বরং খুব হঠাৎ করে ঝলসে যাওয়া এক ঝাঁক নীরিহ প্রাণের জন্য বেদনার অশ্রু আজ আলোচিত বিষয়!!

নিমতলীর এই মর্মান্তিক অগ্নকিান্ড হয়তো নিতান্ত একটি দুর্ঘটনা; তবে সাম্প্রতিক কালে বিভিন্ন আলোচিত ও সমালোচিত ঘটনা যখনই সরকারের ভাবমূর্তি ও অবস্থান দুর্বল করে তুলে সাথে সাথে কাকতালীয়ভাবে ভিন্ন একটি জাতীয় সংকটের সৃষ্টির একাধিক উদাহরনের পর এখন আপাতঃ দৃষ্টিতে দুর্ঘটনা মনে হওয়া এই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের পছিনে কোন দূরভিসন্ধির উপস্থিতি অসম্ভব মনে হচ্ছেনা!!

এমন ভয়াবহ নির্মমতা একের পর ঘটেই যাচ্ছে, হোমরা চোমরা ব্যক্তবির্গ সাময়িক শোক প্রকাশ, স্বান্তনা বাক্য, আশ্বাস ও দুফোটা চোখের জল ফেলে দায়িত্ব পালন করছেন। আর আমরা বোকা জনতা অস্থিরতার মাঝে কাকতালীয়ভাবে ঘটে যাওয়া সংকট নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি.. নিজের অবচেতনে আবারও অপক্ষো করি আরেকটি কাকতালীয় বর্তমানের!!


এ এক কেমন কাকতালে বসবাস আমাদের!!!!

এ কেমন কাকতালীয় বর্তমান!!!!!


* আমাদের দেশের রাজনৈতিক কূটচালের নোংরামী ও নৃশংসতায় অতীষ্ট মন এখন এদের ঘৃনারও যোগ্য মনে করেনা। ভীষণ রকম হতাশা ও ক্ষোভ থেকেই হয়তো এমন লেখা এমন ভাবনার জন্ম”


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29169933 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29169933 2010-06-04 12:57:58
অতঃপর গণতন্ত্র.....!!!
"Democracy is a government of the people, by the people and for the people”

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা জনগনের বাকস্বাধীনতা সহ সকল প্রকার নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে।
রাষ্ট্র তথা সরকার তার সিদ্ধান্ত ও সকল প্রকার পদক্ষেপের জবাবদিহীতা জনগনের সামনে উপস্থিত করবে, গণতন্ত্র এমনই একটি শাসন ব্যবস্থা!



এইতো গত বছর জানুয়ারির কিছু আগেও বড় এক শিকলে আবদ্ধ ছিলো গণতন্ত্র!!

পথে ঘাটে সন্ত্রাস কমে গিয়েছিলো, মানুষ নিশ্চিন্তে সন্ধ্যার পর একা পথে চলতো, চাঁদাবাজরা হঠাৎ কোথায় সরে পরায় দোকানী আর ব্যবসায়ীরা কেমন আয়েশ করে ব্যবসায় মেতে ছিলো.. ঐ যে দেশের শেষ সীমানাটা যেখানে.. একদল শোসক সেখানে এমন এক বেয়ারা পাহারা বসিয়ে দেয় যে চোরাচালানীরা অতীষ্ট হয়ে সেই পাহারাদারদের উপর ক্ষেপে উঠে.... ঢাকার পথে ঘাটে মাস্তানের সংখ্যা প্রায় আশংকাজনক ভাবে হ্রাস পায়...

আর এসবের সাথে যোগ হয় একদলের দীর্ঘশ্বাস আর হা্হাকার.. “হায় গণতন্ত্র! কোথায় গণতন্ত্র!!!”

সত্য কথা.. সন্ত্রাস হ্রাস পেতে পারে, দেশের মানুষ নিশ্চিন্তে কটা দিন ঘুমোতে পারে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা অস্ত্র ছেড়ে হঠাৎ খাতা কলম নিয়ে মেতে উঠতে পারে, অভিভাভবকরা নিশ্চিন্তে আবার সোনালী দিনের স্বপ্নে বিভোর হতে পারেন... কিন্ত গণতন্ত্র তো শৃংখলাবদ্ধ!!! কুচক্রী সরকার গণতন্ত্রের সকল মানস কন্যা ও পুত্রদের শ্রীঘরে পাঠিয়ে তাদের অঢেল সম্পদের হিসেব চাইবার মতো ধৃষ্টতা পর্যন্ত দেখিয়েছে...


অবশেষে.. অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে. টিন চুরির অপবাদে দুষ্ট গণতান্ত্রিকদের বাদ দিয়ে দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে গণতন্ত্রকে মুক্ত করে আনে...

আনন্দের সাথে শুরু হয় হোলি খেলা.. এই খেলায় রং এর মতো তুচ্ছ জিনিস নয়.. বরং টাটকা রক্তের আবীর মেখে রাঙ্গানো হয় সময়...

এই মুক্তির কয়েক সপ্তাহ পর কুলাঙ্গার সেসব পাহারাদারদের হত্যা করে, ভাতৃপ্রতীম বন্ধু রাষ্ট্রের সাথে সীমানা প্রায় মিটিয়ে আমরা বন্ধুত্ব জোরদার করি। গণতন্ত্র আমাদের সে সৌভাগ্য এনে দেয়!

গণতন্ত্রের অসীম শক্তি বলে শিক্ষা প্রতষ্ঠিানগুলোতে কলম মতো ঠুনক জিনিস ছেড়ে শুরু হয়ে যায় পেশী শক্তির লড়াই...

প্রিয় গণতন্ত্র আমাদের হল দখলের যুদ্ধ দেখার আনন্দ এনে দেয়।

গণতন্ত্র বলে এদেশের মানুষের নিরাপত্তা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হলেও বিশেষ পরিবারের আজীবনের আর বিশেষ দলের ৫ বছরের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়!!


কাংক্ষিত গণতন্ত্র এনে দেয় শোকের নামে বিকৃত চর্চা..

প্রিয় গণতন্ত্র বলে শুরু হয় প্রতিহিংসা আর ক্ষমতার দাপটে যাকে তাকে হেনস্থা...
প্রিয় গণতান্ত্রিকের হাতে বাংলাদেশের মানুষ হারায় বাক স্বাধীনতা!

গণতন্ত্র বলে কথা.. ক্ষমতাসীনের কুলাঙ্গার সন্তানরা লুটে নেয় মানুষের ঘর, জমি, ব্যবসা আর মেরুদন্ডের জোর!



অনেক স্বপ্ন নিয়ে কষ্টার্জিত অর্থে দরিদ্র বাবা মা কলম হাতে যে সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পাঠিয়েছিলেন, গণতন্ত্রের উপহার স্বরূপ পেয়ে যান পুত্রের লাশ!
তাতে কি.. এমন তো হতেই পারে, এটা কোন ব্যাপার না!!
জনসংখ্যার ভারে নুয়ে পড়া দেশে এমন দু চারজন মারা গেলে মন্দ নয়, কোন এক পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আছে!!


আহা গণতন্ত্র!

"Of the People, By the People, For the People...”
সংজ্ঞা আজ পাল্টেছে সোনার বাংলায়.. হয়েছে..
“Of the Party, By the Party, For the Party!!!”
নতুন যুগ, নতুন সময়... সংজ্ঞাটি আরেকটু ঘষামাজা করে বর্তমানে নতুন রূপ ধারন করেছে..

“Of the Family, By The Family, For the Family”



গণতন্ত্র মানে আত্মজার ক্ষমতায় আরোহন
গণতন্ত্র মানে স্ত্রী পুত্রের গদি দখল
গণতন্ত্র মানে ক্ষমতাসীনের সন্ত্রাস আর লুটপাট
গণতন্ত্র মানে রাষ্ট্র প্রধানের পরিবারের চোটপাট
গণতন্ত্র মানে স্বৈরাচারের মুখে বিজয়ের হাসি
গণতন্ত্র মানে নিরীহ জনতার স্বাধীনতায় ফাঁসী
গণতন্ত্র মানে হল দখল, সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজী
গণতন্ত্র মানে ছাত্রদের কলম ছেড়ে বন্দুক আর বারুদবাজী
গণতন্ত্র মানে হারিয়ে ফেলা বাক স্বাধীনতা
গণতন্ত্র মানে ক্ষমতাসীনের শুধুই পদলেহিতা।

আমার পূর্বপুরুষের রক্তের বিনিময়ে, প্রাণের বিসর্জনে অর্জিত স্বাধীনতা আর মুক্তিযুদ্ধ আজ শুধু ক্ষমতালোভীর ফেরি করে ফেরা পণ্য মাত্র।

ক্ষমতালোভী ক্ষুধার্ত শকুনীর পাল আজ খামচে ধরেছে দেশের মানচিত্র, কুলুপ এঁটে দিয়েছে মানুষের মুখে। তাদের নোংরা নখরে ক্ষত বিক্ষত ধর্ষিতা মাতৃভূমি।

সরকারের তোষামোদ না করলে গুড়িয়ে দেয়া হয় সংবাদিকের কলম, ছিনিয়ে নেয়া হয় বাকস্বাধীনতা! তাই, বন্ধ হয়ে যায় চ্যানেল ওয়ান!
বন্ধ হয়ে যায় ফেসবুক।
বন্ধ হয়ে যায় “আমার দেশ” দৈনিক সংবাদপত্র।

অতঃপর.. বর্তমান বাংলাদেশে এই আমাদের গণতন্ত্র!!!!!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29169678 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29169678 2010-06-04 00:54:13
তবু, শুধু তোমাকে চাই...!!!


দীর্ঘদিন ভোর হতে দেখিনা!


চোখের সামনে সূর্যদয় হয়ে অস্তে চলে গেছে, অথচ যেন দেখা হয়ে উঠেনি!

ভীষণ লোভ হয় একটি শিউলী ঝরা ভোরের জন্য...

পায়ের নীচে শিশির ভেজা সবুজ ঘাস, আকাশ জুড়ে শরৎ এর মেঘ আর বাতাসে শিউলীর সুবাস... এই একতু দূরে সাদা আর জাফরানের চাদর বিছিয়ে ঝরা শিউলীর হাসি..

এমন একটি ভোর........

এখন স্নিগ্ধ সকাল.. একে সকাল বলা যায়না হয়তো, কিছুক্ষণ আগে ফজরের সময় হয়েছে, এখন ভোর! বাইরে নাম না জানা পাখি ডেকে যাচ্ছে.. এই পাখিরা প্রতিটি ভোরে এমন করে ডেকে যায়, ঠিক এই সময়। কোন এ্যলার্ম ক্লকের প্রয়োজন নেই ওদের!

শরৎ পারি দিয়ে হেমন্ত ,শীত শেষে বসন্তের আগমন.. এখনও শিউলী ঝরা শিশির ভেজা ভোরের স্বপ্ন চোখে মাখা। শেষ কবে দেখেছি এমন.. মনে নেই। ঢাকার যান্ত্রিকতার মাঝে শিউলী বা শেফালী ফুলের কমনীয়তার ঠাঁই নেই!

শুধু নেই নেই আহাজারী করে সময় কাটালে এ জীবনে শুধু একটি সুরই বেজে যাবে...হতাশার সুর। যেভাবে যেমন আছি, সেখানেই খুঁজে নিতে হবে শিউলীর অস্তিত্ব, পরিতৃপ্তি!

মহান আল্লাহ্'র কৃপায় সেই ভাগ্য হয়েছে... শুভ্রতার কোমল পরশের শেষে জাফরানে আভার মাদকতায় ভরা শিউলী না হলেও শ্বেত স্নিগ্ধতায় ভরা চেরী ঝরা ভোর দেখছি এখন। ভোরের আকাশটা প্রায় আড়াল করে যেন শুভ্রতার ছাতা মেলে আছে চেরীগুচ্ছ!!


...দেশটা আমেরিকা বলেই এই বসন্তেও শিশিরের ছোঁয়াও আছে।

নগ্ন পায়ে সবুজ ঘাসে ভেজা শিশিরের র্স্পর্শের সতেজ অনুভূতির সাথে কোন কিছুর তুলনা নেই। কি এক অজানা যাদু বলে প্রচন্ড ক্লান্তি ধুয়ে মুছে দেয় এই বিন্দু কণার ছোঁয়া!


সবুজ ঘাসের উপর ঝরে পরা চেরী ব্লসমের সাদা চাদর!! অদ্ভুত সুন্দর!
এও এক মোহনীয় দৃশ্য.....

মানুষ কি কখনও তার বর্তমান নিয়ে সুখি নয়, তাই হারানো অতীতে খুঁজে ফিরে আনন্দ আর সুখ নামের এক অসম্ভব আগন্তুকের অস্তিত্ত্ব? না, এ আমার সীমাবদ্ধতা অথবা সংকীর্ণতা...

অথচ এমন নয় যে আমি নতুন পরিবেশ আপন করে নিতে জানিনা বা সহজে অভিভূত হতে পারিনা! … সবুজ ঘাসের মাঝ দিয়ে উঁকি দেয়া ছোট্ট নীল ঘাসফুল আমায় অভিভূত করে সহজে...ঝরাপাতা অথবা শুকনো ডালপালা ছড়িয়ে খুব আনমনে দাঁড়িয়ে থাকা বৃক্ষটি দেখে মনে হয় পৃথিবী বড় সুন্দর!

গাছের ডাল আর পাতার মাঝ দিয়ে ঐ দূরের আকাশের প্রাত্যহিক দৃশ্যটিই মুগ্ধ করে!!!

আর... আজ...


মাথার উপর পবিত্র শুভ্রতার পেখম ছড়িয়ে রাখা চেরী ব্লসমের সাথে তাল মিলিয়েই যেন ঐ যে দূরের নীল পাহাড় মাথায় পরেছে বরফের সাদা টুপি!

তারপরও.....

এমন অপার্থিব সৌন্দর্যের মাঝে বসেও কোথায় কাঁটার মতো বিঁধছে। যান্ত্রিকতা কোলাহল বর্জিত কোন গ্রামের, মাটির সোঁদা গন্ধ আর পাখির কুজনের মাঝে সবুজ ঘাসের উপর সাদা কমলায় রাঙানো শিউলী ফুল.... তার জন্য এমন হাহাকার কেনো?

এর নামই কি লোভ? অথবা এমন অতৃপ্তি থেকে হয়তো জন্ম নেয় লোভ..!
এও হয়তো এক ধরনের উচ্চাশা অথবা অন্য কিছু.. যার নাম আমার জানা নেই...


“হাহাকার লেখার রূপ পেলে হয়তো কিছুটা কমবে এমন আশায় গুড়েবালি দিয়ে, শিউলী ঝরা ভোরের তৃষ্ণা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, এখন মনে হচ্ছে বাস্তবে না হলেও ছবিতেও যদি দেখা সম্ভব হতো!!!”


***ডাইরীরর পাতা থেকে এলোমেলো ভাবনা***]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29159307 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29159307 2010-05-21 00:27:45
স্বার্থপর ভালোবাসা...!!!


জন্মদাত্রী, যিনি তিল তিল করে বেড়ে উঠা এই আত্মা, জীবন শুধু নিজের শরীরেই ধারন করেননি বরং পৃথিবীর আলো দেখবার পর সকল প্রতিকূলতা থেকে বুক দিয়ে আগলে রেখেছেন। বলা হয়, সৃষ্টিকর্তার ভালোবাসার কোন রূপ দেখতে চাইলে তার ছটা শুধু 'মায়ের ভালোবাসা”র মাঝেই সন্ধান মিলে।।

আমাদের খুব অজান্তে মায়ের প্রতি এই তীব্রভালোবাসা আর আবেগের পিছনে লুকিয়ে থাকে স্বার্থপরতার আঁধার, সময় ও অবস্থানভেদে তার প্রকাশ ঘটলেও তা যে স্বার্থপরতা, এটা অনেকেই বুঝতে বা মানতে জানেননা।


-আমার পরিচিতা একজন ভদ্রমহিলা... আমি যখন বেশ ছোট সেসময় তাঁর স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ ঘটে। খুব অল্প বয়সে ক্লাসমেটের সাথে প্রেম ও পরিনয়, মাতৃত্ব আর তেমন তারুণ্যেই বিচ্ছেদ।

প্রাণপ্রিয় সন্তানকে(মনে করি ছেলেটির নাম শুভ) আগলে ধরে জীবন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন। স্বচ্ছল ঘরের মেয়ে আর তিনি নিজে একজন পেশাজীবি বিধায় সন্মানের সাথে একাকী বেঁচে থাকা তার জন্য খুব সমস্যার হয়নি। শিক্ষিতা মার্জিত পেশাজীবি এবং তরুনী, তাঁর সাথে ঘর বাঁধার প্রস্তাব নিয়ে আসেন অনেক সুপ্রতিষ্ঠিত পরিচিত জন। প্রথম কয়েক বছর অতীতের বিভীষিকা আর কোলের সন্তানের কথা ভেবে তিনি নিজেই এড়িয়ে যান। একসময় পারিবারিক চাপ, আত্মীয় শুভাকাঙ্খীদের পরামর্শের সাথে সাথে একাকীত্বের ছায়া হঠাৎ হঠাৎ দেখা দিয়ে যায়, আবারো ঘর বাঁধার কথা ভাবতে শুরু করেন।

সমস্যা হয়ে দাড়ায় শুভ। সে তখন কথা বলতে জানে, আহ্লাদ আব্দারের সাথে সাথে প্রতিবাদ করতেও জানে। মা'র ঘর বাঁধার আলোচনা সে মেনে নিতে অপরাগ; ভদ্রমহিলা পিছু হটেন। সকলকে বুঝিয়ে বলেন, সন্তান আরেকটু বড় হোক, সে যতোদিন কাছে আছে খুব তো আর একা নন তিনি। পরে একা হলে না হয় ভেবে দেখা যাবে!!

ছেলেটি আর কিছুদিন পর ইন্জীনীয়র হয়ে মায়ের স্বপ্নপূরণের পথে...... ঘর ছেড়ে বিশ্ব জয়ের পথে বের হবে অচিরেই...

আজও কোন শুভাকাঙ্খী, কোন আত্মীয় তাঁর জন্য যোগ্য কারো প্রস্তাব নিয়ে হাজির হলে রুখে দাঁড়ায় ছেলেটি!!!!!!!! মায়ের পাশে কাউকে মেনে নিতে প্রস্তুত নয় সে। যদিও বলার অপেক্ষা রাখেনা যে আর কিছুদিন পর সে নিজেই খুঁজে নিবে তার সঙ্গীনিকে.. তখন নতুন যুক্তি খাঁড়া হবে, মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে তার জন্য আরো বেশি (!)অসন্মানের হয়ে দাঁড়াবে।।।

স্নেহময়ী মায়ের জীবনে একজন সঙ্গী, একজন পরম বন্ধুর পথে অন্তরায়, পুত্রের স্বার্থপর ভালোবাসা।

উপরের ঘটনার শুভ শুধু নয়, আমাদের মাঝের অধিকাংশ জন এমন মানসিকতা ধারন করি। নিজেদের স্বার্থে অন্ধ আমরা একটিবার ও ভেবে দেখিনা, আমাদের মা বাবা বার্ধক্যে উপনীত হলে তাঁদের হাত ধরে পাশে বসার, তাঁদের কথা শোনার মানুষ কেউ নেই।
নিজেদের ভীষণ ব্যস্ত জীবনের এক চিলতে সময় তাঁদের দিয়ে, “দায়িত্ব পালন করেছি” এমন ভেবে আত্মতৃপ্তি লাভ করলেও, আদতে তা তাঁদের একাকীত্বের কষ্টকে আরো উস্কে দেয় মাত্র।


আমাদের দেশের বিধবা অথবা বিপত্নিকের, বিশেষ করে তাঁরা যদি পৌঢ়ত্ব উপনীত হন তখন তাঁর দ্বিতীয় বিবাহ খুব স্বাভাবিক ভাবে গ্রহন করা হয়না। পরিবার সমাজ যদিও কিছুটা মেনে নেয়, সন্তান হয়ে দাঁড়ায় অন্তরায়!! বিপত্নিক বাবা যদি স্বাবলম্বী হন, সেক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দিতে বাধ্য হলেও মায়ের ক্ষেত্রে এক অন্ধ স্বার্ধপরতা, নিষ্ঠুরতা কাজ করে! হিন্দু ধর্মের সতীদাহ প্রথা অনেক অনেক আগে বিলুপ্ত হলেও, ধর্ম নির্বিশেষে আমরা তা জিইয়ে রাখি জনকের মৃত্যু বা বিদায়ের পর নিজ গর্ভধারিনীকে জীবন্মৃত করে বাঁচিয়ে রাখার মাধ্যমে...

স্বার্থপর সন্তান ভেবে দেখেনা কর্মচন্চল তারুণ্য বা যৌবনে জীবনসঙ্গী তেমন জরুরী নয়, যতোখানি জরুরী বার্ধক্যে। উচ্ছল তারুণ্য কর্মব্যস্ততা, সামাজিকতা আর বন্ধুবান্ধব আত্মীয়সজনের সাথে আড্ডায় কেটে যায়। দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এলে, নিঃসঙ্গ দুপুরে কাঁপা আঙ্গুল যখন অস্পষ্ট স্মৃতি হাতড়ে ফিরে ঠিক তখন পাশে একজন সহধর্মী, একজন বন্ধু, একজন সঙ্গী'র প্রয়োজন বড় বেশী!!

ইসলাম ধর্মে এ বিষয়ে কোন বাঁধা নেই, অন্য কোন ধর্মে নিষেধাজ্ঞা আছে বলে জানা নেই...সমাজ অথবা সংস্কার যে কোন কারনেই হোক, সন্তান সন্ততী একটি বিশেষ বয়সে পৌঁছে গেলে, বিশেষ করে নাতি নাতনীর জন্ম হলে আমাদের দেশের অধিকাংশ বিধবা মা এমনকি বাবারাও বিয়ের পিড়িতে বসতে অস্বীকার করেন। তবু যদি আমরা নিজেদের স্বার্থপরতা পরিহার করে, তাঁদের সামনে ঝুঁকে আন্তরিক ভাবে একজন সঙ্গীর কথা পূণরায় ভাবার কথা বলার ঔদার্য্য দেখাতে পারি, শুধু মাত্র এই ছোট্ট সহমর্মিতা তাঁদের কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি, অনেক বড় সান্ত্বনা হয়ে দেখা দিবে। সন্তানের এই আন্তরিকতাটাই তাঁর নিঃসঙ্গতার ভার অনেক খানি কমিয়ে আনে বলেই বিশ্বাস।


আধুনিকতা মানে পাশ্চাত্যের অনুকরনে পোশাক আর গান শোনা নয়, আধুনিকতা মানে পারিবারিক ঐতিহ্য ধর্মকর্ম বা শালীনতা বিসজর্ন দিয়ে অশ্লীতা গ্রহন নয়, আধুনিকতা মানে মদ সিগারেট আর মাদকের বিষাক্ত ধোঁয়ায় মেতে উঠা নয়; আধুনিকতা মানে ক্ষতিকর সংস্কার পরিত্যাগ করা, অন্ধকার সরিয়ে নিজের এবং পরিবার সহ আশেপাশের সকলের জীবন আলোয় উদ্ভাসিত করা।


মা' এর মতো আর কে আছে? সকল স্বার্থপরতা বিসর্জন দিয়ে নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় তাঁর জীবন আলোকিত আর আনন্দময় করার মাধ্যমেই শুরু হোক আধুনিকতার পথে আমাদের যাত্রা!!!




[উৎসর্গঃ সকল মায়েদের যাঁরা বৈধব্য অথবা বিবাহ বিচ্ছেদের পর জীবন সায়াহ্নে আজ একা দাঁড়িয়ে]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29152313 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29152313 2010-05-10 10:50:13
তোমার বাড়িই আমার বাড়ি, আমার বাড়ি নেই.....!!
ঠিক কেমন হলে একটি দালান কাঠামো কে বাসা বা গৃহ বলা যায়, নিজের বাড়ি বলা যায়!!!


আমার খুব প্রিয় একজন মানুষের বিশাল হৃদয়ের তুলনায় অতি ক্ষুদ্র হলেও সাধারনের তুলনায় সুবিশাল তাঁর বাসা...

বাসা না বলে ৬৬,০০০ বর্গফুটের এই স্থাপনাকে প্রাসাদও বলা যেতে পারে।
পাহাড়ের পাদদেশের স্বচ্ছ লেক ঘেঁষে বিলাসবহুল এই বাড়িটি শুধু আয়তনে বড় নয় বরং স্থাপত্যকলা, প্রযুক্তি ও আধুনিকতায় বিশ্বসেরা, এক অদ্ভুত বিস্ময়!!



ছবি: বাড়িটির রিসেপশন বা প্রবেশদ্বার!

প্রাসাদোপম বাড়িটির বিস্ময়কর আধুনিকতা বা প্রযুক্তির সামান্য কিছু উদাহরন; এই বাড়িটির যেকোন কক্ষে প্রবেশ করলে সে কক্ষের তাপমাত্রা, আলো এমনকি ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজে চলা লো ভলিউমের মিউজিক প্রবেশকারীর রুচী অনুযায়ী এডজাস্ট হয়ে যাবে। বাড়ির সদস্যদের সব কিছু প্রোগ্রাম করা যা সেন্সরের মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় ডিটেক্ট করে সে অনুযায়ী এডজাস্ট করে নেয়। মজার ব্যাপার হলো, অতিথিরাও এই সুবিধা থেকে বন্চিত নন। তাঁদের প্রত্যেকের কাছে একটি পিন দেয়া হয়, যার সেন্সরের মাধ্যমে অতিথির প্রেফারেন্স ডিটেক্ট করে তাঁর পছন্দ মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এই বিস্ময়কর বাড়িটির আরেকটি মজার ব্যাপার হলো, কোন কক্ষ শুণ্য করে কেউ অন্য কক্ষে প্রবেশ করা মাত্র ছেড়ে যাওয়া কক্ষের বাতি নিভে নতুন কক্ষের বাতি জ্বলে উঠে!!!
সবচেয়ে মজার এই বাসার রন্ধনশালা, কিচেন বা রান্নাঘর। বেশ কয়েক বছর আগে টিভিতে এই কিচেনের একটি রেপ্লিকা দেখিয়েছিলো...যেকোন সৌখিন পাচক, পাকা রাঁধুনি এমনকি রান্নায় অপটু ব্যক্তির জন্য স্বর্গসম। এই রান্নাঘরটিতেও প্রবেশকারীর রুচীভেদে আলো, মিউজিক ও তাপমাত্রা এডজাস্ট হয়ে যায়.. এবং কিচেন কাউন্টার বা তাকের উপর বাজার বা রান্নার উপকরন রাখা মাত্র কাউন্টার তা ডিটেক্ট করে জানিয়ে দেয় কোন উপকরন, কতো ওজনের রাখা হলো, শুধু তাই নয় – সে উপকরন বা খাবারের পুষ্টিগুন ও জানাতে ভুলে না। চুলোর সামনের বড় স্ক্রীনে এই উপকরন দিয়ে রাধা যায় এমন সব খাবারের রেসিপি ও পুষ্টিগুন ভেসে উঠে!!! রান্নাচলাকালীন সময় নির্দিষ্ট উপকরন কি পরিমানে দেয়া হলো তা জানিয়ে দেয়!!! লবন চিনি তেল মশলার পরিমানে ভুল হবার সম্ভাবনা কম!!



এই বিস্ময়কর বাড়ির বিশাল হৃদয়ের মালিকের নাম উইলিয়াম হেনরী গেটস্, যিনি বিল গেটস্ নামে অধিক পরিচিত!



পাহাড়ের গা ঘেঁষে ছুটেচলা নদীর পাশে আরেকজন বিশাল হৃদয়ের মানুষের বসতি.. তাঁকে বিশাল হৃদয়ের অধিকারী বলার কারন কিছুটা ভিন্ন....

এজীবনে মানুষের চাওয়ার শেষ কোথায়!!! আমদের উচ্চাশার কোন সীমা নেই যেনো, আরো কিছু পাবার আশায় নিরন্তর আমাদের ছুটে চলা। যাঁর ঘর আছে তিনি আরো ভালো ঘরের আশা করেন, যাঁর গাড়ি নেই তিনি একটি গাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখেন, আর যাঁর গাড়ি আছে তিনি আরো ভালো একটি গাড়ির কথা ভেবে দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন!!! তাই কখনও আমরা এই ছুটেচলায় ইতি টেনে খুব আয়েশে গা এলিয়ে বলতে পারিনা, “আমার প্রচুর আছে, আর কোন কিছুর প্রয়োজন নেই”। এই বলাটার মাঝে শুধুই পূর্ণতা ও পরিতৃপ্তি নয় বরং একধরনের মাহাত্ম কাজ করে, আমাদের উচ্চাশা ও মানসিক দৈন্যতা, ক্ষুদ্রতার কারনে যা আমরা অধিকাংশ অর্জনে অক্ষম!!!

রিচার্ড জিমারম্যান নামক এই বিস্ময়করা মানুষটি এসব ক্ষুদ্রতা, এমনকি খ্যাতির লোভ অতিক্রম করে একথা বলতে পেরেছেন!!!!!!!!!!
এমন কি ছিলো তাঁর?? জিমারম্যানের ছিলো মানসিক শান্তি ও পরিতৃপ্তি। পাহাড়ের গা ঘেঁষে গড়েতোলা তাঁর আবাসটিও বিস্ময়কর!! পাহাড়ের গা কেটে স্বহস্তে বানানো গুহার মতো আবাস জিমারম্যানের- যিনি স্থানীয়দের কাছে ডাগআউট ডিক নামে অধিক পরিচিত ছিলেন! শুধু তাই নয়, পাহাড়ের গায়ে পরিত্যক্ত গাড়ির জানালা, লোহার দরজা, পুরনো টায়ার আর কিছু কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস দিয়ে তিনি নিজ আবাসের মতো আরো কয়েকটি গুহা গৃহ বানান, যার কোন কোনটির গুহা ৬০ফুট পর্যন্ত গভীর!!! অর্থের তেমন প্রয়োজন না থাকলেও কৌতুহলি, অতিথি বা এ্যাডভেন্চরাস মানুষদের তিনি এসব গৃহে রাত প্রতি মাত্র ২ ডলার অথবা মাস প্রতি ২৫ ডলার ভাড়ায় থাকতে দিতেন।



“এখানে আমার সব কিছু আছে। আমার কাছে পাথর, রাবারের টায়ার আছে। প্রচুর পরিমান খড়, ফল আর সব্জি আছে। আমার কুকুর, বিড়াল সেই সাথে আমার গিটার আছে। রান্নার জন্য ওয়াইন আমি নিজেই বানাই। আমার আর কোন কিছুর প্রয়োজন বা অভাব নেই।” একথা অদ্ভুত শোনালেও, এ যে উচ্চাশা, নিয়ত সোনার হরিনের পিছে ছুটে চলা আর লোভের হাতছানি অতিক্রম করা এক বিজয়ীর উক্তি তা অনুধাবন করা যায়।।।



ছবি: নিজগৃহে জিমারম্যান


প্রযুক্তি কে সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে আদিকালের গুহামানবের জীবন আপন করে নেয়া এই বিজয়ী ৯৪ বছর বয়সে পৃথিবীকে বিদায় জানান ২৩ শে এপ্রিল ২০১০। বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁকে শুশ্রুষা কেন্দ্রে নিয়ে যান, যেখানে টেলিভিশন, বিঙ্গো গেমের মতো বিনোদনের ব্যবস্থা থাকলেও জিমারম্যানের কাছে এসবের কোন মূল্য ছিলোনা- তাই সদর্পে বেড়িয়ে আসেন বিলাসবহুল শুশ্রুষাকেন্দ্র থেকে, নিজ হাতে গড়া গুহায় জীবনের বাকি কিছু মুহুর্ত কাটিয়ে সেখানেই শেষ নিঃশ্বস ত্যাগ করেন।।

রিচার্ড জিমারম্যানের মৃত্যুর সাথে সাথে একটি অধ্যায়, একটি যুগ, একটি কালের অবসান ঘটে।।


*তথ্যসুত্র: আইড্যাহো স্টেটসম্যান, এই জি টিভি, ইন্টারনেট
*ছবি সুত্র, আইড্যাহো স্টেটসম্যান ও ইন্টারনেট

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29141969 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29141969 2010-04-25 16:37:21
আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস: আমরা কেমন আছি?
১৯০৯ সালে এ দিবসের সূচনা হলেও প্রকৃতপক্ষে দিবসটি ব্যাপকতা লাভ করে ১৯১১ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির এক পোশাক শিল্প বা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর অগ্নিকান্ডে প্রায় ১৪০ জন কর্মীর(যাঁদের অধিকাংশ ছিলেন নারী) প্রাণহানী ঘটার পর। মনে করা হয়, সেদিন প্রতিষ্ঠানটির নিয়মানুযায়ী পোশাকশ্রমিকদের তালাবদ্ধ কারখানায় কাজ করতে না হলে হয়তো অনেক কর্মীই সেদিন এই দুর্ঘটনা থেকে পালাবার সুযোগ পেতেন।
সেই থেকে এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা সহ যুক্তরাষ্ট্রে বিভন্নি ভাবে দিবসটি পালন করা হয়।



আমাদের ছোট্ট বাংলাদেশেও প্রায় প্রতি বছর ঘটা করে উদযাপন করা হয় এদিবস, আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপ, মিছিল , মিটিং, ব্যানার আর রঙীন ফেস্টুনের আড়ম্বরে ঘেরা চারপাশ.. এতো সব আয়োজনের ভীড়ে আমাদের কথা শোনা যায়না, আড়াল হয়ে যায় আমাদের অস্তিত্ব! ...নারীদের অস্তিত্ব!!


পত্রিকার পাতায় যে সংবাদ অপ্রকাশিত, প্রচার নেই কোন মিডিয়ায়.. দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা গৃহবধুদের দৈনন্দিন নির্যাতনের চিত্র! সারাটি জীবন উৎসর্গ করে যে সংসার তাঁদের হাতে গড়া, সেখানেই মিলেনা কোন সন্মান, কোন স্বীকৃতি। প্রতিনিয়ত মানসিক আর শারিরিক লান্ছনার শিকার তাঁরা। বিষয়টি এমন অহরহ ঘটে যে এটিকে আর নির্যাতন হিসেবে অনেকে মনেই করেননা, এ যেনো খুব স্বাভাবিক ঘটনা।
এই নারীদের কান্না কারো কাছে পৌঁছেনা, চার দেয়ালে বন্দী এই নারীরা জীবিত লাশ হয়ে বেঁচে থাকেন, সমাজকর্মী বা এই নারী দিবস তাঁদের কোন উপকারে আসেনা!!

নারী আজ স্বাধীন, আত্মনির্ভরশীল। তাঁদের এই স্বাধীনতা আর অজর্নের আত্মবিশ্বাস প্রতিদিন পথে ঘাটে নির্মমভাবে হত্যা করে কিছু নোংরা কুৎসিত হাত। নিজের যোগ্যতায় সন্মানের সাথে কাজ করার অধিকারও যেনো এদেশে তাঁদের নেই!! পথ চলতে, কর্মক্ষেত্রে, পাবলিক পরিবহনে তাঁরা অপমান আর লান্ছনার শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। শিক্ষিত, অশিক্ষিত, স্কুল শিক্ষিকা, ছাত্রী, গার্মেন্টস কর্মী, গৃহবধু- দিন মজুর... রেহাই পাচ্ছেননা কেউ। এই অন্যায়, এই অনাচারের কোন বিচার নেই, নেই কোন প্রতিকার!!! নারী দিবসে মানবাধিকার কর্মী বা নারী অধিকার সংস্থার হর্তা কর্তারা কি এগিয়ে আসবেন এই অসহনীয় সমস্যার সমাধানে?


বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদন্ডটি প্রায় একা হাতে ধরে আছে যে শিল্প, তা লক্ষ লক্ষ নারীর প্রতিদিনের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা পরিশ্রমের বিনিময়ে। অমানুষিক পরিশ্রম করে এই কর্মীরা সংসারে দুমুঠো অন্ন যোগান। তাঁরা কেমন আছেন? কর্ম ক্ষেত্রে সুপারভাইজার, ম্যানেজার, পরিচালক মহাপরিচালকরা কি শুধু তাঁদের এই শ্রমেই সন্তোষ্ট থাকছেন! বেঁচে থাকার তাগিদে সন্মানজনক একটি কাজের আশায় এসে অবর্ণনীয়, অনাকাঙ্খিত ও অপমানকর অভিজ্ঞতা হয় তাঁদের অনেকের, বিশেষত সেই অসহায় শ্রমজীবি নারী যদি হন রূপবতী। শুধু কর্মক্ষেত্রেই তাঁদের এই দুর্ভোগের শেষ নয়, দুটো অতিরক্তি অর্থের জন্য, কখনও কারখানার অস্তিত্বের প্রয়োজনে অভারটাইম শেষে গভীর রাতে ঘরে ফেরার পথে রক্তাক্ত হন একদল হায়নার কালো থাবায়, এই হায়নারা কখনও বাসের হেল্পার কন্ডাক্টারের রূপে আর্বিভূত হয়, আবার কখনওবা আইনশৃংখলা রক্ষাকারীর বেশে। তাঁদের যেনো সম্ভ্রম থাকতে নেই, শ্রমজীবি হলেও তাঁরা যেনো ভোগ্যপণ্য মাত্র!! আজ নারী দিবস, কি দেবে এই শ্রমজীবি হতভাগ্য নারীদের!!! অথচ, বিশ্ব নারী দিবসটির ব্যাপকতা এই শিল্পের শ্রমজীবি নারীদের হাত ধরে!!!!!



প্রতিদিন ধর্ষিতা হচ্ছে নারী, আজ ধর্ষিতার কোন শ্রেনী নেই... নির্দিষ্ট সামাজিক অবস্থানে হবার প্রয়োজন নেই.. শিক্ষিতা, অশিক্ষিতা, কর্মজীবি-গৃহবধু, বালিকা-পৌঢ়া, বিবাহিতা-অবিবাহিতা, ধনী-দরিদ্র.....সকলেই এই নির্মমতার শিকার! ধর্ষনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সাথে যোগ হয় সামাজিক অত্যাচার, শুধু নারীর সম্ভ্রম নয়, যেনো হত্যা করা হয় তাঁর পুরো অস্তিত্বকে! তিনি সমাজে অগ্রহনযোগ্য হয়ে উঠেন, ধর্ষিতা হয়ে তিনিই যেনো অপরাধী! আর কুলাঙ্গার ধর্ষকেরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বীরদর্পে স্বাধীন ও সুখী জীবন যাপন করছে!! সময়ে তারাই চোখ পাকিয়ে এই ধর্ষতিাদের নষ্টা মেয়ে অপবাদ দেবার ধৃষ্টতা দেখায়! ইদানীং কিছু নর্দমার কীট রাজনৈতিক কর্মীদের কাছে ধর্ষন করা যেনো ফ্যাশন আর ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ হয়ে দাঁড়িয়েছে!!!... এদের স্পর্শ করবে এমন আইন, এমন সমাজ এ দেশে নেই!! এই তো সেদিন এক নপুংসক কুলাঙ্গার কন্যার সামনে মা'কে ধর্ষন করায় কন্যাটি আত্মহত্যা করেন!! এমনই দুর্ভাগ্য এ জাতির, এই নরাধম আর তার দাপটে নত আইন রক্ষাকারী কাঁধ ঝাঁকিয়ে জানিয়ে দেয়, “ধর্ষকের সাথে ধর্ষিতার পরকীয়া সম্পর্ক ছিলো”- সুতরাং ধর্ষক (??)বেচারা নিরাপরাধ!!! এই পরকীয়ার মিথ্যা অপবাদটি যেনো ধর্ষণ কর্মটিকে যৌক্তিক ও ন্যায় সঙ্গত করে তুলে!! এ্মন মিথ্যা পরকীয়ার অপবাদে প্রতিদিন বৈধতা দেয়া হয় অনেক ধর্ষন এমনকি নারী হত্যাকে!!! পথ ঘাট, অফিস আদালত শুধু নয়, আজ নিজ গৃহ এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্ষন এক নৈমিত্তিক ব্যাপার!! কোন এক অজানা কারনে প্রশাসন, আইন রক্ষাকারী সংস্থা এ ব্যাপারে কেমন গা ছাড়া!!!!
আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে কি পাবে এই হতভাগী ধর্ষিতারা? সামাজিক স্বীকৃতি? তাঁদের নিপীড়ন নির্যাতনের সুবিচার?





আমাদের দেশে গণতন্ত্রের অপর নাম নারী, আপোষহীনতার আরেক নাম নারী, নেতৃত্বের নাম নারী, শাসকের নাম নারী!!!!!তার পরও........
প্রতিদিন আমরা ধর্ষিতা হই, অভাবের তাড়নায় প্রতিদিন আমরা বেছে নেই অন্ধকার গলি, সংসারে সয়ে যাই গন্জনা আর নির্যাতন, ঘর থেকে বের হলে মাথা হেঁট করে মেনে নিতে হয় লান্ছনা আর অপমান, দুমুঠো খাবারের অভাবে শরীরে এঁকে দেয় গরম খুন্তির ছ্যাঁকা কখনও বা গৃহকর্তার নখের আঁচড়, কর্মক্ষেত্রে পথে ঘাটে একপাল হায়নার কাছে নিত্য হারাই সম্ভ্রম, অপমানের জ্বালা সইতে না পেরে প্রতিদিন আমাকেই বেছে নিতে হয় আত্মহননের পথ!!!
এই দেশে... এই বাংলাদেশেই....


বাংলাদেশে নারীর প্রতি অন্যায় করা সহজ, তাঁদের নির্যাতন, নিপীড়ন সহজ কারন- খুব সহজে তাঁদের চরিত্রে কালিমা লেপন করা যায়!!! খুব সহজেই আঙ্গুল তুলে তাঁকে দুশ্চরিত্রা ডাকা যায়। বাংলাদেশে বারবণিতা থেকে প্রধানমন্ত্রী, কেউ রেহাই পাননা এমন ঘৃন্য অপবাদ থেকে! ধর্ষিতা হয়েছে কারন সে নষ্টা, মেয়েটি দুশ্চরিত্রা বলেই ইভটিজিং এর শিকার, মেয়েটির পরকীয়া সম্পর্ক ছিলো তাই তাকে হত্যা করা বৈধ!!!
এই যেনো আজকের বাংলাদেশের সামাজিক চিত্র।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা নিজেরা, নিজ পরিবারের কেউ, কোন প্রিয়জন এসব ঘৃন্য অন্যায়ের শিকার না হলে, এবিষয়ে আমাদের সমাজ ভীষণ রকম উদাসীন!!
আমরা ভুলে যাই, আজ না হোক কাল-- আমার কন্যা, আমার পরিবারের ছোট্ট মেয়েটি এই নোংরামী, এই অপরাধ, এই অন্যায়ের শিকার হবে যদি না এক্ষুনি এর প্রতিকারে আমি এগিয়ে আসি।



নারী... একজন মানবী নয়, নারী কোন বিশেষ লেখিকা, কলামিস্ট বা সেলিব্রিটি নয়। নারী আপনার মা, আপনার বোন, স্ত্রী, ভাগ্নী, আত্মীয়া.. নারী আপনার কোলে খেলে বেড়ানো ছোট্ট কন্যা, পরিবারের আদুরে ছোট্ট মেয়েটি।
সরকার বা কোন সংস্থা নয়.. আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব শুধুমাত্র আপনি সচেতন হলে.. শুধুমাত্র আপনিই পারেন আপনার পরিবারের,আপনার পরিচিতা নারীকে রক্ষা করতে এসব হায়েনাদের থাবা থেকে। কোন সংস্থা বা সরকার নয়, শুধুমাত্র আপনার, আমার সচেতনতা এর প্রতিকার এনে দিতে পারে- কারন আমাদের সচেতনতা এদের বাধ্য করবে নারীর প্রতি অন্যায় রোধে, তাঁদের নির্যাতনের সুবিচার এনে দিতে ।



এবারের বিশ্ব নারী দিবসে কিছু কিছু দেশের শ্লোগান, “নারীর সম অধিকার”!!! আমাদের দেশে যেখানে সন্মানজনক ভাবে বেঁচে থাকার নুন্যতম অধিকারটি নেই, সেখানে সম অধিকারের শ্লোগান কেমন প্রহসনের মতো শোনায়!!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29112289 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29112289 2010-03-08 10:01:06
পুড়ছে পার্বত্য চট্রগ্রাম, জ্বলছে বাংলাদেশ- হাসছে সাজানো খেলার খেলোয়াড়!! দেশের দক্ষিন অন্চল পুড়ছে, ভস্মীভূত ঘরবাড়ি, ছাই হয়ে যাচ্ছে মানুষের জীবন। ধোঁয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে কতো মানুষের স্বপ্ন, ভবিষ্যত; অসহায় জনগোষ্ঠী...

দেশের মানুষ আজ দু ভাগে বিভক্ত, কেউ সহানুভূতিশীল আদিবাসীদের প্রতি কেউ বা সেখানে বসতি গড়ে তোলা বাঙালীর পক্ষে!

না, আদিবাসী বা সেটলার তাঁদের পরিচয় নয়, তাঁরা সবাই বাংলাদেশী।
তাঁরা সবাই আমার দেশের মানুষ, জ্বলছে এক সর্বনাশা আগুনে। যে আগুন প্রজ্জলিত করেছে "রাজনীতি" নামের এক বিষবাস্প! এই আগুন জিইয়ে রেখেছে বছরের পর বছর.. সময় ও সুযোগ মতো উস্কে দেয়া।

এখনই সময় কেনো?

বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কলংকময়, নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ঘটে গত বছর পিলখানায়। নির্বাচনে ভূমিধ্বস জয় লাভ করে যে সরকার, ভয়ংকর এক ব্যর্থতা দিয়ে শুরু তাদের শাসন আমল। যে ব্যর্থতা দায় তারা কোন দিন কোন ভাবে এড়িয়ে যেতে পারবেনা, যে কলংক হয়তো এদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার একটি অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
বছর ঘুরে ফিরে এসেছে সে কলংকের দিন.....

"বিচারের বানী নিভৃতে কাঁদে" - এমন প্রচলিত কথাটিও যেনো এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়!! এখানে নিভৃতে কান্নার কন্ঠটিও রোধ করা। ঘৃন্য ও নারকীয় এই হত্যাকান্ডের তদন্ত ও বিচার কার্য গুজবের ধুম্রজালে আড়াল হয়ে আছে। স্বচ্ছতা নেই তদন্তে, স্বচ্ছতা নেই বিচার কার্যে!

আজকের এই দিনে, বাংলাদেশের মানুষ আবারও স্মরন করবে সেই দুঃসময়। প্রশ্ন জাগবে বিচার কার্য, সরকারের দায়ভার আর স্বচ্ছতা নিয়ে।
সেই মানুষদের দৃষ্টি আজ অন্য দিকে...

তাঁরা তাকিয়ে আছেন প্রজ্জলিত পার্বত্য চট্রগ্রামের দিকে। কালিমালিপ্ত, নৃশংস অভিশপ্ত অতীত নয়, জ্বলন্ত বর্তমান আজ আমাদের আলোচিত বিষয়....

এমনটিই হবার কথা ছিলো...

এমনটিই হয়ে আসছে...

এমনটিই হবে..

এভাবেই আমাদের অগোচরে.. বার বার আমাদের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেয়া হয় ভিন্ন দিকে..

শুধু মাঝখানে বলির পাঠা হয় এক দল নিরীহ মানুষ। তাঁরা বাঙালী অথবা আদিবাসী যে নামেই পরিচিত হোক... এই অসহায় ক্ষতিগ্রস্থ সাদামাটা মানুষরা বাংলাদেশী... আমার দেশের মানুষ।




*** আমার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত। ভালো লাগছেনা নিজের দেশের মানুষের এমন দ্বিধাবিভক্ত হয়ে কাঁদা ছুড়াছুড়ি দেখতে।
আমরা বরাবর নষ্ট রাজনীতিবিদদের নোংরা চালের শিকার! তাদের অসৎ পাশার গুটি হয়ে কখনও এই পক্ষ কখনও সেই পক্ষ নিয়ে নিজেদের মাঝে কলহ, মারামারি করে মরি.. আর বিজয়ের হাসি হাসে পর্দার আড়ালের খেলোয়ারের দল......****



আজ জাতির জন্য একটি শোকাবহ দিন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী ইতিহাসের সবচেয়ে জঘণ্য নারকীয় হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছিলো এক বছর আগে ঠিক এই দিনে। আর কিছু না হলেও শান্ত সৌম্য ভাবে সেদিনের বর্বরোচিত হামলায় প্রাণ হারানো সেই বীর সেনানিদের স্মরন করে তাঁদের জন্য প্রার্থনা করতে পারি। সেদিনের নারকীয়তার শিকার জীবিতদের মঙ্গল কামনা করতে পারি।

প্রতি বছর ঠিক এ সময় নতুন নতুন কালিমাযুক্ত অধ্যায় দেখতে চাইনা।।।

শুনতে চাইনা হায়নার হাসি.....!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29105217 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29105217 2010-02-25 12:52:22
মেঘ চোখ মুছে দ্রুত উড়ে যায় বই মেলায়....!!!! মেঘ কিভাবে চোখ মুছে? মেঘের অশ্রু তো বৃষ্টি হয়ে ঝরে, তাহলে যে মেঘ চোখ মুছে তার বৃষ্টি ঝরে গেছে... !! বৃষ্টির ফোঁটা আর অবশিষ্ট নেই বলেই এভাবে দ্রুত উুড়ে যাওয়া! নিজের কষ্ট অথবা দীনতা আড়াল করে........

-অনেকটা এভাবে এক রকম বিশ্লেষনের মাধ্যমে লেখা বা কবিতার অর্থ উদ্ধার করা....!!!


কবিতা পড়তে ভালো লাগে তা আগেও কিছু পোস্টে বলেছি, এই ব্লগে এসে চমৎকার কিছু কবিতা পড়ার সুযোগ হয়েছে, লেখায় জানিয়েছি ব্লগে প্রিয় কবিদের নাম। অত্যন্ত আগ্রহ ও কৌতুহল নিয়ে অপেক্ষা করি তাঁদের চমৎকার সব কবিতা ছাপার অক্ষরে দেখার, তাঁদের কবিতা সংকলন বইটি পড়ার জন্য!

প্রতি বছর বই মেলার সময় ঘনিয়ে এলে মনে হয় এবার হয়তো তাঁদের কারো বই প্রকাশিত হবে!


অবশেষে প্রিয় কবিদের একজনের কবিতার ব্‌ই প্রকাশিত হলো। এমন কবি যাঁর কবি সত্ত্বা সম্পর্কে অবগত হবার আগে আমি এবং আমার মতো অনেক ব্লগার পরিচিত হয়েছি তাঁর মানবতাবাদি গুনটির সাথে। তিনি যতোখানি আন্তরিকতা নিয়ে বিপদগ্রস্থ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান ততোখানি আন্তরিকতা নিয়েই কাব্য চর্চা করেন বলে মনে হয়, তবে কবিতা ভালো লাগলেও ভাষাজ্ঞান আর ভাবনার সীমাবদ্ধতার কারনে আমি তাঁর কবিতা পুরোপুরি বুঝতে অক্ষম।...

অথবা বলা যায়, “খুব সহজ কিছু শব্দে দুর্বোধ্য বাক্য গঠন” এটাই কবির কবিতার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট।

..... এতোক্ষণ কবি ফয়সল নোইয়ের কবিতার কথা বলছিলাম। তাঁর কবিতায় ভাবনার গভীরতা মুগ্ধ করার মতো। আমার মতো অনেক সাধারন পাঠকের কাছে দুর্বোধ্য মনে হলেও নিয়মিত পড়ে যাই কবিতাগুলোর আবেদন ছুঁয়ে যায় বলে।কবি কখনও প্রকৃতি, কখনও কঠিন বাস্তবতা, জীবন সংগ্রাম আবার কখনও ব্যক্তিগত আবেগ চমৎকার ভাষায় ফুটিয়ে তুলেন তাঁর কাব্যে।

প্রথম দিকে ফয়সল নোইয়ের কবিতা পড়ার সময় স্কুলের ভাবসম্প্রসারনের কথা মনে হতো! শুরুতে যেভাবে বলেছি... এক একটি লাইন পড়ে তার অর্থ দাঁড় করানো, তারপর পরবর্তী লাইনের সাথে পূর্বের লাইনের সম্পর্ক স্থাপন... কঠিন এক কাজ!! তবে মজার কাজ...সময়ের সাথে সাথে এখন সেসব কবিতা কিছুটা বুঝতে পারি, তেমন দুর্বোধ্য মনে হয়না।


মজার ব্যাপার হলো কবিতাগুলো কম্পিউটারের স্ক্রীন থেকে মুক্ত হবার পর বইয়ের পাতায় ঠাঁই পেয়ে কেমন জীবন্ত হয়ে উঠেছে.... ভীষণ দুর্বোধ্য কবিতাগুলো এখন কিছুটা বুঝতে পারছি!




চমৎকার সংকলনটির প্রতিটি কবিতা ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের.. প্রতিটির আছে নিজস্ব বিষয় ও স্বতন্ত্র স্টাইল! একেকটি কবিতা একেক ধরনের আবেগ ধারন করেছে। সূর্য রমনী কবিতাটিতে প্রতিফলন ঘটেছে এক কঠিন বাস্তবতার, নালিশ কবিতাটিতে ঝরে পড়ে অভিমান, পরবাসকবিতাটিতে ফুটে উঠেছে দীর্ঘশ্বাস আর হাহাকার!!

নতুন পুরনো মিলিয়ে প্রায় প্রতিটি কবিতা ভালোলাগার মতো। মনছুঁয়ে যায় গ্রন্থটির নাম আর এই শিরোনামের কবিতাখানি ঈষানকোণের মেঘ চোখ মুছে দ্রুত উড়ে যায়

বইটির প্রচ্ছদ কাব্যগ্রন্থের নামের মতোই চমকপ্রদ ও রহস্যময়!

ঈষানকোণের মেঘ চোখ মুছে দ্রুত উড়ে যায় এর কবিতার বিষয়, মেজাজ, বর্ণনা আর আবেগে বৈচিত্র থাকায় বইটি পড়ায় একঘেঁয়েমী স্পর্শ করেনা, যা পাঠকের আগ্রহ ও ভালোলাগা ধরে রাখে।

হৃদয়ছোঁয়া বইটির উৎসর্গ !!


কাব্যগ্রন্থ:- ঈষানকোণের মেঘ চোখ মুছে দ্রুত উড়ে যায়
প্রচ্ছদ:- অতনু তিয়াস প্রকাশক:- পাঠসূত্র প্রকাশনী

বইটির পাঠক প্রিয়তা ও সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।




অনেক অনেক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ ফয়সল নোই ।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29095146 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29095146 2010-02-11 08:38:15
- হৃদয়ের কথা-নির্মম বাস্তবতা আর রূপকথা
যাঁদের জন্য এতো সব আয়োজন, যাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এতো আড়ম্বর, দিবস শেষে হিসেবের খাতা খুলে দেখা যায়- সব কিছুই আগের মতো, কোন পরবির্তন নেই তাঁদের দুর্ভাগ্যের! বিন্দুমাত্র উন্নতি হয়নি দূরাবস্থার, নুন্যতম প্রশমন হয়নি তাঁদের দুর্ভোগের!!!!

এটাই বাস্তবতা...!!!


আর এই কঠিন বাস্তবতার শিকার একজন জয়নাল.....
সুজলা সুফলা গ্রামের সংসার সর্বশান্ত হয় একমাত্র কিশোরী কন্যাকে পাত্রস্থ করতে যেয়ে.. অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে যেটুকুও অবশিষ্ট ছিলো তাও কেড়ে নেয় সর্বগ্রাসী নদীর ভাঙ্গন। সর্বস্ব হারিয়ে কপর্দকশূণ্য জয়নাল ভাগ্যের অন্বেষনে গ্রাম ছেড়ে পাড়ি জমায় শহরে। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে রিকশা টেনে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ আসে, সংসারে দুমুঠো অন্নের ব্যবস্থা হয়। নির্মম বাস্তবতা জয়নালদের দু'বেলা দু'মুঠো ভাতের (!)বিলাসিতা বেশিদিন সইতে পারেনা, রিকশার সাথে সিএনজির সংঘর্ষের ছোট দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় জয়নাল! পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি অক্ষম হয়ে পড়ায় শুধু দুমুঠো ভাত বন্ধ নয়, মাথার উপরের ছাদ সরে যায় জয়নাল পরিবারের.. খোলা আকাশের নীচে পথের ধারে ফুটপাথ হয়ে উঠে তাঁদের ঠিকানা... জীবন বাঁচাতে বাড়াতে হয় ভিক্ষার হাত!!!

জয়নালদের মতো জীবন যুদ্ধে পরাজিত সৈনিকদের বিপদ শুধু এক দুদিক থেকে আসেনা... তাই সদ্যজাত সন্তান সহ জয়নালের কিশোরী কন্যা আইরিনকে ত্যাগ করে তার অপদার্থ কুলাঙ্গার স্বামী। হতভাগ্য কিশোরী আইরিন অসহায় সন্তান সহ আশ্রয় নেয় ভিখেরী বাবা মা'র রাজপথের ভাসমান সংসারে!!
অবুঝ শিশু হৃদয়, যার থাকার কথা ছিলো দুধ ভাতে, বাবা মা'র মমতায় বড় হবার কথা... আজ অসহায়, আশ্রয়হীন- খোলা আকাশ ছাদ হয়ে তাকে আগলে রাখে। ভীষণ অসুস্থ নানা পাশে শুয়ে চটে জড়ানো ছোট্ট শরীরে পরম মমতায় হাত বুলিয়ে দেয়... নিঃস্ব, অসুস্থ অক্ষম জয়নাল আর কিইবা করতে পারে এই দেবশিশুর জন্য! ছোট্ট দুগ্ধপোষ্য শিশুকে বাঁচিয়ে রাখার কঠিন সংগ্রাম আইরিনের, আর সেই সাথে নিজেকে মানুষের মতো দেখতে কিছু জীবের কাছ থেকে বাঁচাবার, যারা রাতের আঁধারে হায়নার রূপধারন করে!!! ফুটপাথবাসী নারীদের জন্য এসব হায়নাদের কালোথাবা দিনের আলোয়ও কম লোভী নয়, এদের পাপাচার আর পাপদৃষ্টি নিয়ত বিব্রত, উত্তক্ত, অপমানিত করে গৃহহীন আইরিনদের....

জয়নালদের জীবন এমনই.. শুধু ক্ষুধা তৃষ্ণার জ্বালা আর বাসস্থানের অভাব নয়.. জয়নালদের কিশোরী কন্যারা নিজেদের রক্ষা করতে পারেনা হায়নাদের কালোথাবা থেকে, একসময় বাধ্য হয়ে বেছে নেয় অন্ধকার জীবন.. পথের পরে থাকা দেবশিশুটিকে বিকলাঙ্গ করে আরেকদল নরপশু বানিজ্য করে ভিক্ষাবৃত্তির, অথবা তাকে লালন করে একজন ভবিষ্যত সন্ত্রাসীর গড়ার লক্ষ্যে.. ধুঁকে ধুঁকে শেষ হয় এদের জীবন... এটাই বাস্তবতা।

অসহায় অক্ষম জয়নাল, আইরিনরা সাধ্যমতো জুঝে একসময় মেনে নেয় এই নির্মম পরিনতি, স্বীকরা করে নেয় এই তাঁদের নিয়তি..!

রূপকথায় জয়নালদের পরিনতি অন্যরকম...... রূপকথার রাজ্যে পথের ধারে চটে জড়ানো শিশুটি চোখে পড়ে ছোট্ট কোন পরীর, স্বর্গের দুয়ার থেকে ছোট ছোট মুঠো ভরে সেই অপ্সরী খাবার নিয়ে আসে জয়নাল পরিবারের জন্য, কখনও খাবার কখনও পথ্য..... ছোট্ট পরীর সাধ্যমতো চেষ্টা ছোট্ট হৃদয়কে ভালো রাখার..! খবর পৌঁছে যায় স্বর্গরাজ্যে, জয়নাল পরিবারের দূঃখ দুর্দশায় মর্মাহত স্বয়ং দেবদূত মর্ত্যে নেমে আসে রাজপথের পাশে তাদের ভাসমান সংসারে! চিকিৎসা হয় জয়নালের, ডাস্টবিনের ধারের দুর্গন্ধময় ফুটপাথের বিছানো চট ছেড়ে ছোট্ট দেবশিশু হৃদয়ের ভাগ্যে জুটে নরম সুন্দর বিছানা, বারবণিতার অবধারিত জীবনকে পাশ কাটিয়ে কিশোরী আইরিন খুঁজে পায় নিরাপদ আশ্রয়...তিনবেলা আহারের সংস্থান হয় জয়নাল পরিবারের, খুঁজে পায় নিজ ঘর! অচিরেই স্বাবলম্বী হবার স্বপ্নটি ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হতে থাকে... অবসান ঘটে তাদের সকল কষ্টের! রূপকথায় রাজপথের ধারে দুর্গন্ধময় ডাস্টবিন থেকে জয়নালদের আশ্রয় মিলে স্বপ্নীল সুন্দর স্বচ্ছল সুখী জীবনে!

বাস্তবতাটা রূপকথার মতো নয়; আইরিন, হৃদয়, জয়নালদের বাস্তবতা বড় বেশী নির্মম!! এখানে জয়নালরা পরাজিত হয় বারবার...

তবে, এবার একটি অঘটন ঘটেছে...



এই জয়নাল পরিবারের জীবনে রূপকথার ঘটনাটি বাস্তবেই ঘটেছে!!!!!!!


এই ছোট্ট অপ্সরী, এই দেবদূত আমাদের সকলের পরিচিত.. আমাদের সকলের কাছের মানুষ!!

ছোট্ট অপ্সরীটি আর কেউ নন, তিনি আমাদের প্রিয় সহব্লগার সোহায়লা রিদওয়ান
আর দেবদূতকে হয়তো অনেকেই চিনতে পেরেছেন.. কারন এই প্রথম নয়, অতীতে অনেকবার তিনি অসহায় দুঃস্থ মানুষের পাশে দেবদূত রূপে দেখা দিয়েছেন, ব্লগারদের সাহায্যের আবেদনে সাধ্যমতো সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন শ্রদ্ধেয় প্রিয় ব্লগার ফয়সল নোই

বলা হয়, এক হাতে দান করলে অন্য হাতটি যেনো না জানে। তবু আমি এই দুই মহৎ মানুষের কথা প্রকাশ করছি, তুলে ধরছি জয়নাল পরিবারের জীবন কথা.... শুধু একথা মনে করিয়ে দিতে, মহান সৃষ্টি কর্তার কৃপায় আমাদের সীমিত সামর্থের ছোট ছোট প্রচেষ্টা দিয়ে আমরা একেক জন ইতিবাচক ভাবে পাল্টে দিতে পারি জয়নালদের জীবন! তাঁদের ভয়ংকর নির্মম বাস্তবতাকে রূপকথায় রূপান্তরিত করতে পারি যদি আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বদিচ্ছা থাকে।



এই ছবিটি আমাদের অনেকের প্রাণ কাঁদিয়েছে... বাস্তবে প্রতিদিন এমন ছবি আমাদের চোখে পড়ে। “আমি আর কিইবা করতে পারি! হায় নির্মম বাস্তবতা!!” এমন ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে আমরা তাঁদের পাশ কাটিয়ে যাই নিজেদের অক্ষমতা স্বীকার করে, অথচ একটু উদ্যোগী হলেই জানতে পারবো নিজেকে যতোখানি অসহায় অক্ষম ভেবেছিলাম হয়তো ততোখানি নই, হয়তো কিছু করা সম্ভব তাঁদের জন্য!!!!
হয়তো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব জয়নালদের জীবনে, জয়নাল কন্যার জীবনে, ছোট্ট হৃদয়ের জীবনে.....


চলুন, আমরা আমাদের ছোট ছোট প্রচেষ্টা দিয়ে রূপকথাকে ঠাকুরমা'র ঝুলি থেকে বের করে হৃদয়ের জীবনে, আইরিন, জয়নালদের জীবনে নিয়ে আসি!




ছবির জন্য কৃতজ্ঞতা:- কৃতজ্ঞতা ফয়সল নোই ও সোহায়লা রিদওয়ান।।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29040365 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/29040365 2009-11-09 11:08:17