somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... কবি ও কবিতারা...

.


আমি কবিতা লিখতে জানিনা, নিজের মনে খুব সাহস করে কিছু লিখে ফেললেও কোন মানুষ দূরের কথা নিজের খাতাকলমের কাছেই সংকোচ বোধ করি!



তবে, কবিতার সাথে সম্পর্ক শৈশব থেকে...
আমার মা'র কারনে খুব ছোটবেলা থেকে ছড়া কবিতা আবৃত্তি করা শুরু। আট বছর বয়সে সুকুমার রায়ের "গন্ধ বিচার" কবিতাটি স্কুলের এক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেছিলাম। মনে আছে সেদিন স্টেজে আমার বাবা মা নয়, স্কুলের অন্যান্য স্টূডৈন্টদের বাবা মা উঠে এসেছিলেন শুধু একথা বলতে, এমন ছোট্ট মেয়ে এতো বড় একটি কবিতা কিভাবে মনে রেখেছে, তাঁরা বিস্মীত!!! তাঁদের সেদিনের সেই মুগ্ধতা আমার কাছে অনেক বড় বড় পুরষ্কারের চেয়েও বেশি মূল্যবান সম্পদ হয়ে আছে। সেই তখন থেকে নিয়মিত আবৃত্তি করা, কবিতা পড়া...


ছেলেবেলায় যে হোস্টেলে থেকে পড়াশুনা করেছি, সেখানে সামান্য অপরাধে বিভিন্ন ধরনের শাস্তির প্রচলন ছিলো। একবার প্রায় পুরো প্রতিষ্ঠানের সকলের একটি কাজকে দোষ হিসেবে সাব্যস্ত করে শাস্তি দেবার ব্যবস্থা নেয়া হলো। শতশত স্টুডেন্টকে এমন শাস্তি দিতে হবে যেন তাদের যথেষ্ট শিক্ষা হয়! আমরা মনে মনে শংকিত! কঠিন কিছুর জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম, এমন সময় ঘোষনা এলো শাস্তি নির্ধারন করা হয়েছে। প্রতি ব্যাচের ছাত্রীরা একে একে কমনরুম যাবে, সেখানে তাদের রোল ডেকে একটি করে কবিতা দেয়া হবে, পর দিন সেই কবিতা মুখস্ত আবৃত্তি করতে হবে সকলের সামনে!!!!


এটা কোন শাস্তি হলো! আমি মহা আনন্দিত! কমন রুমে নির্দিষ্ট সময় হাজির হয়ে নিজের জন্য নির্ধারিত কবিতাটির নাম সংগ্রহ করি। অতি আনন্দ চিত্তে আবৃত্তি করতে করতে রুমে ফিরি "পৃথিবী কি আজ শেষে রিক্ত, ক্ষুধাতুর কাঁদে সারা বিশ্ব..." রুমে পৌঁছে আমার সিনিয়র রুমমেটদের অবস্থা দেখে অনুধাবন করি, আসলেই যে শাস্তি!!! একজনের রীতিমতো চোখে জল, "কবিতা আবৃত্তি করতে হবে, এটা কেমন কথা? তার চেয়ে রোদের মধ্যে দুঘন্টা দাঁড় করিয়ে রাখতো!!!" বুঝতে পারি, "আজকের দিন নয় কাব্যের, পরিনাম আর সম্ভাব্যের..."


মেডিকেল কলেজের প্রফেশনাল পরীক্ষার সময় প্রচন্ড মানসিক চাপ যায়, সেসময় একেকজন নিজের মতো রিল্যাক্স করে থাকে.. পড়ার ফাঁকে হাপিয়ে উঠলে আমি টেনে নিতাম হেলাল হাফিজের "যে জলে আগুন জলে"। কেন যেন খুব ভালো লাগতো তাঁর কিছু কবিতা।


কারো প্রতি অন্ধভক্তিতে বিশ্বাস করিনা বরং অন্ধভক্তদের দেখলে বিরক্তবোধ করি! বলা যায় আমার মধ্যে অন্ধভক্তি নামক অনুভূতিটি অনুপস্থিত। সে কবি সাহিত্যিক বা গায়ক গায়িকা, কিংবা নেতা নেত্রী, রাজনৈতিক বা কোন খেলার দল কারো প্রতিই নেই। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ইসলাম বা সুকান্তেরও সব কবিতা ভালো লাগেনা, সেখানে উঠতি বা সৌখিন কবিদের সব লেখা ভালো লাগার কোন কারন নেই।


একজন পাঠকের দৃষ্টিতে যখন মনে হয়, কবি নিতান্তই শোঅফ করার জন্য বা লোক দেখানোর বা শোনানোর জন্য কবিতাটি লিখেছেন তখন ভালো লাগেনা। যখন কবিতার প্রতিটি পংক্তিতে কবির আকুতি বা একান্ত অনুভূতি স্পষ্ট হয়ে উঠে, সেসব কবিতা মন ছুঁয়ে যায়। শালীনতা বজিয়ে রেখে লেখা কবিতায় যদি কবি তাঁর একান্ত ভাবনা প্রকাশ করতে পারেন, তা কাব্যগুনে সমৃদ্ধ না হলেও আপত্তিকর মনে হয়না।



কবিতা পাঠের জন্য কবি নিয়ে আমার কোন উন্নাসিকতা নেই। রবীন্দ্রনাথ নজরুল, সুকান্ত, জীবনানন্দের কবিতা ভালো লাগে, তেমনি ভালো লাগে হেলাল হাফিজ বা সুনীল গাঙ্গুলীর কবিতা। আবার, সমান আগ্রহ নিয়ে পড়ি নাম না জানা ব্লগারদের কিছু চমৎকার কবিতা!


কবিতা ভালো লাগার অন্যতম কারন বোধ হয়, খুব অল্প কথায় ব্যক্তি নিজের মনের গভীরবোধ প্রকাশ করেন কবিতার মাধ্যমেই। কম সময় ব্যয়ে সুন্দর কিছু অনুভূতির সাথে পরিচিত হওয়া যায়।




***আমি কোন লেখক নই, কোন বিজ্ঞ পাঠক বা বোদ্ধা সমালোচকও নই। সামহোয়্যারইন ব্লগে মাঝে মাঝে শুধুমাত্র কবিতা পড়তেই আসা হয়। কাজের অবসরে, দিন শেষে কখনও উঁকি দিয়ে যাই ভালো কবিতা আছে কিনা(ভালো লাগলে অবশ্যই তা জানিয়ে যাই)। সাধারনত বাংলাদেশে ভোর হলে ব্লগে একে একে সতেজ কিছু কবিতা পোস্ট হতে দেখা যায়; গত কিছুদিন ব্যতিক্রম মনে হলো! নিয়মিত কবিদের কবিতার অনুপস্থিতি লক্ষ্য করেছি বরং কেউ কেউ গদ্য বা অন্য কিছু লিখেছেন, আবার কেউ কিছুই লিখেননি। ব্লগের এই কবিতা শূণ্যতায় নিজের কবিতা প্রীতির কথা মনে পড়লো!***


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/28834226 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/28834226 2008-08-24 08:05:56
চলুন, নিজের স্বপ্নগুলো ছুঁয়ে বাঁচি...
সাদা মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকা স্বপ্নকে কি স্পর্শ করা যায়না!

.

আমাদের অনেক স্বপ্ন, বিশেষ করে পেশাগত স্বপ্ন অনেকের কাছেই "ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখা"র মতো! ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে দেখা স্বপ্ন সত্য তবে তা অসম্ভব কিছু নয়।

বিভিন্ন প্রতিকুলতা ও প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে শেষ অবধি নিজের স্বপ্নপূরন করেছেন এমন প্রচুর উদাহরন আছে। আমার পরিচিত অনেকে আছেন যাঁরা প্রযুক্তিবিদ হবার স্বপ্ন বুকে নিয়ে, পরিস্থিতির কারনে কেউ টেক্সটাইল ইন্জিনীয়রিং, কেউ এমবিএ, আবার কেউ গনিত অথবা পদার্থ বিদ্যায় পড়াশুনা করেছেন। তবে স্বপ্নটিকে হারাতে দেননি বলেই, আজ মাইক্রোসফ্ট,গুগল, সিঙ্গুলার, ভেরাইজন, টিমোবাইলের মতো বিশ্ববিখ্যাত সব কোম্পানির ডাকসাইটে প্রযুক্তিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন!

সম্প্রতি এক ভারতীয় বন্ধুর কাছ থেকে একটি মেইল এসেছে, মেইলটি তাঁর বন্ধু পাঠিয়েছেন ভারত থেকে। একজন অসাধারন মানবের সাক্ষাৎকার সম্বলিত এই মন ছুঁয়ে যাওয়া এই মেইলটির অংশ বিশেষ নিজের মতো অনুবাদ করে পোস্ট করছি....

*******************************

একজন নরেশের কথা...

নরেশ কারুতুরা, মাদ্রাজ আইআইটি থেকে কম্পিউটার সাইন্সে পাশ করে গুগলে তথ্যপ্রযুক্তিবিদ হিসেবে যোগদান করেছে। ভারতে শতশত ছাত্র বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করে মাইক্রোসফ্ট, গুগল সহ বিভিন্ন বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত যোগদান করছে, সুতরাং এটা তেমন আহামরি কোন খবর নয়।
২১ বছর বয়সী এই তরুণ যে কারণে "বিশেষ একজন: হয়ে উঠেছেন তাহলো, সম্পূর্ণ বাবা মার সন্তান নরেশের কোমরের কাছ থেকে দুটো পা নেই!





গোদাবরী নদীর তীরে অন্ধ্রপ্রদেশের তিপাররু নামের ছোট্ট একটি গ্রামে কেটেছে নরেশের দূরন্ত শৈশব। ট্রাক ড্রাইভার বাবা আর গৃহবধু মা সম্পূর্ণ অক্ষর জ্ঞানহীন হলেও নরেশ এবং তার বোনকে বরাবর লেখাপড়ায় উৎসাহিত করেছেন এবং এর গুরুত্ব তাঁদের মনে গেঁথে দিয়েছেন। ছেলেবেলায় নরেশের বাবা নরেশকে পাঠ্যবই থেকে প্রশ্ন করতেন এবং নরেশ তার জবাব দিতেন, তিনি তখনো জানতেন না তাঁর বাবা লিখতে পড়তে জানেননা, শুধুমাত্র ছেলেকে পড়াশুনায় উৎসাহ দেবার জন্য তিনি এই কাজটি করতেন- আজকের এই অবস্থানে এসেও নরেশকে ঘটনাটি সবচেয়ে বেশি বিস্মীত করে! শৈশবে দূরন্ত নরেশের বন্ধুদের সাথে ছুটোছুটি আর খেলে বেড়ানো, হৈচৈ দুষ্টামিতে অতীষ্ট বাড়ির বড়রা দুপুরে বিশ্রাম করতে পারতেননা। কেউ বকতে গেলেই দৌড়ে মাঠে চলে যাওয়া, বন্যার পানিতে গ্রাম ভেসে গেলে মহিশের পিঠে বসে চাচার সাথে ঘুরে বেড়ানো, কাটাভরা গাছে উঠে ফল পেরে খাওয়া- এসব নরেশের অন্যতম প্রিয় স্মৃতি।

১৯৯৩ সালের ১১ জানুয়ারি, মা ও বোনের সাথে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান থেকে বাবার বন্ধু ট্রাক ড্রাইভারের ট্রাকে করে তাঁরা বাড়ি ফিরছিলেন। ট্রাকটিতে মানুষের ভীড় থাকায় ড্রাইভার নরেশকে নিজের কাছে দরজা ঘেঁষে বসায়, আর তাই হয়ে যায় নরেশের জীবনের কাল। নরেশ দুষ্টুমি করে দরজার লকটি পুরোপুরি বন্ধ না করে বসায় একসময় দরজা দিয়ে ছিটকে পরে বাইরে, ট্রাকের রডে তাঁর পা কেটে যায়। পায়ে সামান্য কাটা ক্ষত ছাড়া তেমন কোন ব্যাথা অনুভব করেননা তিনি।। একটি নামকরা বেসরকারী হাসপাতালের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটলেও সে হাসপাতাল নরেশের চিকিৎসা করতে অস্বীকৃতি জানায় "দুর্ঘটনা" বলে। সে পথে যাওয়া এক পুলিশ কন্সটেবল তাঁদের পৌঁছে দেন এক সরকারি হাসপাতালে।

নরেশের নাড়ি পেঁচিয়ে যাওয়ায় তার পেটে একটি আস্ত্রপোচার হয় সেখানে, পায়ের ক্ষতটিও ব্যান্ডেজ করে দেয়া হয়, সেখানে সাতদিন কাটে নরেশের। পরবর্তীতে চিকিৎসকরা যখন নরেশের পায়ে হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া পচন লক্ষ্য করেন, তাঁরা তাকে জেলা হাসপাতালে নেবার পরামর্শ দেন। সেখানে অল্প সময়ের মধ্যেই কোমরের নীচ থেকে নরেশের পা দুটিকে অস্ত্রপোচারের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়! জ্ঞান ফেরার পর নরেশ তাঁর মা'র কাছে প্রশ্ন করে,, "মা আমার পা দুটো কোথায়?" এমন প্রশ্নের জবাবে মা শুধুই কেঁদে যেতেন!

পা হারাবার পর নরেশের জীবনে খুব বড় কোন পরিবর্তন হয়নি কারন তিনি নিজেকে কখনো করুণার পাত্র মনে করেননি। বরং, বাড়িতে যে বাড়তি ভালোবাসা ও মনোযোগ পেয়েছেন তাই তিনি উপভোগ করেন। সবার আদর এবং ভালোবেসে দেয়া প্রচুর ফল ও বিস্কিট পেয়েই নরেশ মহাআনন্দিত :-)

ঈশ্বরে বিশ্বাসী নরেশ মনে করেন তাঁর জীবন ঈশ্বর বরাবর পরিকল্পনা করে চলেছেন। দুর্ঘটনায় পা দুটো না হারালে তাঁর বাবা হয়তো কখনো তিপাররু গ্রাম ছেড়ে তানুকু নামের শহরে বসবাস শুরু করতেননা। তানুকুতে একটি মিশনারী স্কুলে দু'ভাইবোন কে ভর্তি করে দেয়া হয়। নরেশের বোন সিরিশা তাঁর চেয়ে দু বছরের বড় হলেও ছোট ভাইকে দেখাশোনার জন্য তাঁকে নরেশের ক্লাসেই ভর্তি করা হয়। এতে সিরিশা এতো টুকু আপত্তি করেননি বরং প্রতি মুহুর্তে বুকে করে আগলে রাখতেন ভাইকে।এমন মমতাময়ী স্নেহশিল বোনের জন্য স্কুলের সবাই নরেশকে মহা ভাগ্যবান মনে করতো।
নরেশের জীবন আর দশজন ছেলের মতো স্বাভাবিক ছিলো, তিনি নিজেকে কখনো করুণা করেননি বলেই আর সবাই তাঁকে অন্যদের মতোই মনে করতো। একজন সুখি প্রাণোচ্ছল প্রতিযোগি মনোভাবাপন্ন নরেশের লক্ষ্য ছিলো শীর্ষ অবস্থান, ফলে অন্যরাও তাঁকে একজন প্রতিযোগিই মনে করতেন।


স্কুলের একজন সিনিয়র ছাত্র চৌধুরীকে দেখে নরেশ আইআইটির প্রস্তুতি নেবার উদ্দেশে "গৌতম জুনিয়র কলেজে" ভর্তি হবার পণ করেন। প্রাদেশিক পরীক্ষায় প্রধম স্থান অধিকার করায়, এবং স্কুলের অংকের শিক্ষকের সুপারিশে গৌতম কলেজ তাঁকে অবৈতনিক ছাত্র হিসেবে গ্রহন করে। কলেজের বেতন ছিলো বছরে ৫০,০০০ রুপী যা ছিলো নরেশের বাবা মা'র সাধ্যাতীত।



বাড়ি ছেড়ে প্রথমবারের জন্য হোস্টেলে গিয়ে নরেশ জীবনের একটি বড় পরিবর্তন অনুভব করেন, বাড়িতে তাঁর প্রতি সকলের সর্বদা নজর ও যত্নের অভাবটি হোস্টেলে অনুভব করেন! নরেশের বাবা মা তাঁকে সব সময় সব বিষয়ে উৎসাহিত করেছেন, তাঁর স্বপ্নগুলো হারিয়ে যেতে দেননি। এমনকি নরেশ কখনো খারাপ রেজাল্ট করলেও তার মাঝে তাঁরা ভালো কিছু খুঁজে বের করেছেন, আর ভালো রেজাল্ট করলে উচ্ছসিত প্রশংসায় মেতে উঠতেন।।


আইআইটি মাদ্রাজে পড়ার সুযোগ পেয়ে, সেখানে মেধাবী সব ছাত্র ছাত্রীদের সংস্পর্শে এসে নরেশ নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করতেন। একজন ছাত্র এবং মানুষ হিসেবে সেখানেই তিনি তাঁর ব্যক্তি সত্ত্বা গড়ে তুলেন।
ইন্টার্ণশিপের জন্য আরো চারজন ছাত্র সহ নরেশ বোস্টনে গিয়েছিলেন, আর সেকারনে তিনি তাঁর শিক্ষক সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞ। মেধাবী ছাত্র নরেশ ইচ্ছে করেই উচ্চ শিক্ষা(পিএইচডি) গ্রহনে আগ্রহী না হয়ে জীবিকা অজর্নের প্রতি মনযোগী হোন, কারন তিনি তাঁর বাবা মাকে আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল দেখতে চাইছিলেন।
বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানী মরগ্যান স্ট্যানলি নরেশকে চাকরির অফার দিলেও তিনি গুগলেরটি গ্রহন করেন।


পাড়াগাঁয়ের হতদরিদ্র অবস্থান থেকে আজকের এই অবস্থানে আসার পিছনে সম্পূর্ণ অজানা অচেনা মানুষের অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা আর সহযোগিতা এবং অবদান স্বীকার করেন তিনি। বন্ধুদের সাথে ট্রেনে করে যাবার পথে, এক সম্পূর্ণ অচেনা সহযাত্রী যখন জানতে পারেন নরেশ আইআইটিতে পড়ছেন, তিনি তখন তাঁর হোস্টেলের খরচটি দিতে শুরু করেন।

ক্লাস থ্রীতে পড়ার সময় হাঁটাচলার জন্য হাসপাতালে কৃত্রিম জয়পুর পা সংযোজন করা হলেও প্রচন্ড গতিতে ছুটতে চাওয়া নরেশ এই পা'য়ে তেমন স্বচ্ছন্দ বোধ করেননি। এই হাসপাতালে ভালো দিন হলো, শুধু চিকিৎসা দিয়েই তারা দায়িত্ব শেষ করেনা, পরবর্তীতে যখন খোঁজ করে নরেশ আরকোন সহযোগিতা চান কিনা! নরেশ যখন জানান, তিনি আইআইটিতে ভর্তি হয়েছেন, তাঁর আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। সেই মুহুর্ত থেকে হাসপাতালটি তাঁর পড়াশুনার সকল ব্যয়ভার গ্রহন করে! আইআইটির জন্য কোন খরচ দিতে না হওয়ায় নরেশের বাবা মা তাঁদের মেয়েকে নার্সিং পড়ানোর সুযোগ পান।


শুধু তাই নয়, প্রধমবর্ষ শেষে ছুটিতে বাড়ি যাবার পর আইআইটি নরেশের জন্য দু দুটো সারপ্রাইজের ব্যবস্থা করে তাঁকে না জানিয়ে। ছুটি শেষের আগে তাঁকে খবর পাঠানো হয়, তাঁর চলাফেরার সুবিধার জন্য নরেশের ডিপার্টমেন্টে লিফ্ট ও র‌্যাম্পের ব্যবস্থা করা হয়েছে, তিনি যদি একটু আগে আগে এসে জানান যে সুবিধাগুলো যথাযথ হলো কিনা তাহলে ভালো হয়। সেখানে ফিরে যাবার পর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যন্ত্রচালিত হুইলচেয়ার কেনার জন্য ৫৫,০০০ রুপী দেয়া হয়, কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করেই চেয়ারটি তাঁকে কিনে দেয়নি, যাতে তা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তিতে পরিনত না হয়।


সত্যিকারের নিষ্ঠা, অধ্যাবসায় ও উদ্যোগ নিয়ে কেউ কিছু করতে চাইলে অনেকেই সাহায্যে এগিয়ে আসে বলে নরেশ বিশ্বাস করেন। তাঁর মতে, এই পৃথিবীতে মন্দ লোকের চেয়ে ভালো মানুষের সংখ্যা অনেক অনেক বেশি।নিজের জীবনীর পাঠক পাঠিকাদের প্রতি তিনি বলেন, "I want all those who read this to feel that if Naresh can achieve something in life, you can too."


*************************************************

আমরা যেন আমাদের স্বপ্নগুলো হারিয়ে যেতে না দেই। শত প্রতিকুলতা আর প্রতিবন্ধকতার মাঝে স্বপ্নগুলো ছুয়ে বাঁচতে চেষ্টা করি যেন একদিন তা হাতের মুঠোয় চলে আসে...!


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/28826718 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/28826718 2008-08-03 00:21:37
নিজে কানা পথ চিনেনা, পরকে ডাকে বারংবার..!!!


এই দুর্মূল্যের বাজারে দ্রব্যমূল্যের ভয়াবহ উর্দ্ধগতির সাথে তাল মিলিয়ে যেন মূল্যহীন হয়ে পড়ছে মানুষের জীবন, তার চেয়েও দ্রুত বেগে ঘটছে আমাদের মূল্যবোধের অধ:পতন আর অবক্ষয়। এসব কিছুর কারনেই হয়তো আমরা আজ শুধু বলার জন্য কথা বলি, কতোখানি মন থেকে বলি, কতোখানি সততা আর সত্য মেনে বলি তা নিতান্তই গৌণ এখানে।



আমাদের দেশের নেতা নেত্রী, শাসক গোষ্ঠি এই হঠকারিতায় সবচেয়ে এগিয়ে। আদর্শহীণতাই যেন তাঁদের আদর্শ!! মূল্যবোধহীন ব্যক্তিত্ত্বই তাঁদের সবচেয়ে বড় যোগ্যতা!



কেউ মুক্তিযুদ্ধ কে পূঁজি করে দেশবাসীর সাথে হঠকারিতা করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বোল তুলে মুখে ফেনা তুলে অথচ দেশপ্রেমের রেশ মাত্র নেই! ক্ষমতা আরোহনের ব্যর্থতা সইতে না পেরে নিমেষেই দেশের মর্যাদা ভূলিন্ঠিত করতে, দেশের অস্তিত্বকে ঝুঁকিপূর্ণ করতে এতোটুকু দ্বিধা করেনা- দেশ বিদেশে ছুটে গিয়ে নিজের দেশকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে!! এমনই এদের মুক্তি যুদ্ধের চেতনা আর দেশ প্রেম!! শুধু তাই নয়, দলের নেত্রীকে দেশে ফিরতে দেয়া হবেনা শুনে মরিয়া হয়ে উঠে সকল সমর্থক। ছুটোছুটি শুরু হয় আমেরিকা, ইংল্যান্ডের ছোট বড় নেতানেত্রীদের কাছে করুণা ভিক্ষার জন্য! আবেগঘন কন্ঠে নেত্রী জানান, "জেল হবে, ফাঁসী হবে.. যা কিছুই হোক আমি মাথা পেতে নিবো। তবু দেশেই থাকবো, দেশের বাইরে নয়"। তাঁকে যখন দেশে ফিরতে দেয়া হলো, কারাগারে নেবার সাথে সাথেই অস্থিরতা শুরু হলো দেশ ত্যাগের, শেষ পর্যন্ত দেশ ত্যাগ করে শান্তি। শোনা যায় এখন আত্মীয় সজনদের বিয়ে সহ বিভিন্ন আনন্দ উৎসব উদযাপনে নেত্রীর ইউরোপ আমেরিকায় ঘুরে বেড়ানোর কথা। মিথ্যা বলায় পারদর্শীতা আর এই নির্লজ্জতাই হয়তো তাঁদের সবচেয়ে বড় শক্তি!!!



আরেকটি প্রধান দল ও নেতা কর্মীদের অবস্থা তথৈবচ! "জিয়ার আদর্শ" আর স্বপ্নের কথা বলে মুখে ফেনা তোলা দলটির নেতা কর্মীদের মাঝে দূর্নীতির নজিরবিহীন চর্চা! দেশের মানুষ সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজি থেকে মুক্তির লক্ষ্যে অনেক আশা নিয়ে দ্বিতীয়বার দলটিকে নির্বাচিত করে নেত্রীর সুকঠিন সংকল্প ও দৃঢ় প্রতিশ্রুতির প্রতি আস্থা রেখে! দেশের মানুষের আশা নর্দমায় ছুঁড়ে ফেলে শুরু হয় দূর্নীতি আর চাঁদাবাজির তান্ডব। বাবার সততার আদর্শকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে পুত্রের অসততার নজিরবিহীন প্রতিযোগিতা! দেশের সম্পদ পাচার আর দেশে ব্যবসায়ীরা জিন্মী হয়ে পড়েন এক আদর্শ পিতার কুপুত্রের লোভলালসার কাছে! (!)স্বল্পভাষী নেত্রী অক্টোপাস মাতার মতো চারপাশে হাতপা ছড়িয়ে মেতে উঠেন পুত্র দ্বয়ের কুকর্ম ও স্বার্থ রক্ষায়! সামরিক জান্তার প্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও যে মানুষ তাঁর নৈতিকতা আর সততা দিয়ে দেশের মানুষের মন জয় করেছিলেন, তাঁর পরিবারে যেন শুরু হয় নৈতিক স্খলনের এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা। ক্ষমতার অবসান ঘটে, মসনদ থেকে সরা দাঁড়াতে হয়... ধর পাকড় শুরু হয় ক্ষমতার অপব্যবহারকারী ও দূর্নীতিবাজদের। গণতান্ত্রিক দেশে শাসক মহলে পারিবারিকধারার কুফলের কারণে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। দেশের মানুষ সরাসরি নেতৃদ্বয়ের বিদায় সমর্থন না করলেও পারিবারিক ধারার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহন করেন। এসময় আবার দেশবাসী এবং আইন প্রয়োগকারীদের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে, দলের জেষ্ঠ নেতৃবৃন্দকে অগ্রাহ্য করে (?)অতি বুদ্ধিমতি নেত্রী নিজের অযোগ্য ভাইকে দলীয় উচ্চপদে আসীন করেন! এধরনের নির্বুদ্ধিতা আর গোয়র্তুমীই যেন তাঁদের ক্ষমতা গ্রহণের সবচেয়ে বড় পূঁজি!!



আর যেসব ছোট খাট দল আছে সেসবের চিত্রও ভিন্ন নয়। ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষের আবেগ ও বিশ্বাস নিয়ে খেলা করে এদের কারো কারো মূল লক্ষ্য। একটি দলকে দেখা যায় ইসলামকে ঢাল বানিয়ে এগিয়ে চলা, তবে সত্যিকারের ইসলাম তাদের কথাবার্তা কর্মকান্ডে কখনো পরিলক্ষিত হয়না। বরং তাদের ভন্ডামীর বিরোধীতা করা মানেই যেন ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলা, এধরনের চোখ রাঙানী দেবার ধৃষ্টতা করতে এরা দ্বিধাবোধ করেনা। লাম্পট্য আর নারীঘটিত একেকটি নোংরামীর শীর্ষে এসব ছোট খাট দলের কোন কোন শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। ইসলাম বা কোন ধর্মের আদর্শই এদের মূলমন্ত্র নয়, ছলেবলে কৌশলে ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছানোই মূল লক্ষ্য! আরেকটি দল কে দেখা যায় সমাজতন্ত্রের মন্ত্র পড়ে যুবসমাজকে বিভ্রান্ত করতে। সমাজতম্ত্রের আদর্শের বুলি আউড়ানো শীর্ষ নেতাদের দেখা যায় বিলাসী আর ব্যয়বহুল জীবন যাপনে অভ্যস্ত!


এসব ছোট দলের না আছে কোন আদর্শ না আছে নৈতিকতা, এরা একান্তই সুবিধাবাদী। প্রধান দল দুটি যেসময় ক্ষমতায় যাবে, এরা সেসব সুযোগের সদ্বব্যবহার করে ফায়দা লুটবে, এটাই তাদের মূল মন্ত্র!



এসব নেতা নেত্রীদের পেটে পীড়া হলেই বাংলাদেশের বাতাস, পানি, মাটি অসহনীয় হয়ে পড়ে। দেশে চিকিৎসার প্রশ্নই আসেনা।
প্রতিটি দল গত পঁচিশ বছরে কোননা কোন ভাবে ক্ষমতায় ছিলো, দেশবাসীর জন্য না হোক অন্তত নিজের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করার নূন্যতম যোগ্যতা কারো হয়নি!

কি বিচিত্র অক্ষম আর অযোগ্য আমাদের নেতৃবৃন্দ!!!!!!




রাজনৈতিক দল সমূহের এহেন চরম আদর্শহীনতা আর নৈতিক স্খলনের মাঝে (!)ত্রাতা রূপে আবির্ভুত হয় অন্তবর্তীকালীন সরকার!
দেশবাসীকে স্বপ্ন দেখানো হয় স্বল্প সময়ের মধ্যেই দূর্নীতি আর অনাচার মুক্ত একটি সুন্দর দেশের, আর তারপর সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক নির্বাচন। আশা এবং আশংকা নিয়ে আমরা তাকিয়ে থাকি। দুর্নীতিবাজদের প্রাথমিক ধরপাকড়ে আর কারাগারে নিক্ষেপে অনেকের মাঝেই সেই আশার আলো কিছুটা উজ্জল হয়ে উঠে। তারপর...... সময়ের সাথে সাথে আশংকাটি প্রকট রূপ ধারন করে।

যে দুর্নীতি নাশের আশা নিয়ে মানুষ দিনগুনছিলো, হঠাৎ শোনা যায় নতুন নতুন ব্যংক আর তার বিশেষ মালিকদের গল্প। শোনা যায় আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ (!)বিশেষ পারিবারের সদস্যদের কথা!
দেশবাসী চরম অর্থনৈতিক ও ভয়াবহ খাদ্য সংকটের মাঝে শোনা যায়, বিশেষ একটি ক্ষমতাধর মহলের কর্তাব্যক্তিদের ঘনঘন সপরিবারে বিদেশযাত্রার কথা!!!
মামলার সাক্ষীর সাথে আলাপ না করেই লেখা হয়ে যায় তাঁর বয়ান, সে বিষয়ে পুলিশকে স্বাক্ষী প্রশ্ন করলে তাঁকে চোখ রাঙ্গিয়ে বলা হয়, "এখন দিন পাল্টেছে, আমরা যা বলবো তাই মানতে হবে!!"
উচ্ছৃংখল ছাত্র দমনের নামে নিরাপরাধ অছাত্র, সাধারন মানুষকে শারীরিক ভাবে হেনস্থার অভিযোগ শোনা যায়!
গ্রেফ্তারকৃত রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের অমানুষিক পঙ্গুত্বের খবর জেলের সুউচ্চ প্রাচীরের বাইরে এসে পৌঁছে।



*সরকারি খরচে এরশাদ, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া পরিবারের বিদেশযাত্রা যেমন ঘৃণ্য ও নিন্দনীয়- (!)দুর্নীতি দমনকারী সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের স্ত্রী পরিবারের বিদেশযাত্রাও তেমনি ঘৃণ্য ও নিন্দনীয়!!!


*আমরা বিগতদিনের দুর্নীতিবাজদের শাস্তি চাই, নতুন নতুন দুর্নীতিবাজের আবির্ভাব চাইনা।

*আমরা সুবিচার আর ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা দেখতে চাই, অমানবিক নির্যাতন আর বিভৎস অত্যাচারের নিদর্শন চাইনা।

*আমরা দুর্নীতির অবসান চাই, প্রশাসনের অন্যায় চোখ রাঙ্গানি দেখতে চাইনা।



কানার হাট বাজার থেকে মুক্তি চাই। একবার অন্তত চক্ষুষ্মান কারো নেতৃত্বে আমরা পথ চলতে চাই.....



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/28821184 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/28821184 2008-07-17 07:16:11
প্রতিধ্বনি শুনি, আমি পদধ্বনি শুনি.....!!!

বিশেষ করে যে সুর লক্ষ লক্ষ মানুষের মনে গভীর ভাবে দাগ কেটে যায়!
যে সুর, যে গান গভীর ভাবে ছুঁয়ে যায় অগুনিত মানুষের প্রাণ তা কখনও কালের গর্ভে বা আধুনিকতার ভীড়ে বিলীন হতে পারে বলে মনে হয়না!!


নিজের ভালোলাগার মাঝে গান একটি বড় স্থান দখল করে আছে। দেশ বিদেশের বিভিন্ন ধরনের গানের আমেজ ভিন্ন ভিন্ন হলেও মন ছুঁয়ে যাওয়া সেসব সঙ্গীত আমাদের হৃদয়ের গভীরে ঠাঁই করে নেয়!


গান ভালোবাসি এবং অবাক হয়ে লক্ষ্য করি সেই ভালোবাসার মাঝে বড় একটি অংশ জুড়ে আছে পল্লীগীতি!
আমি গাঁয়ে বড় হয়েছি, অথবা জীবনের উল্লেখযোগ্য একটি সময় কাটিয়েছি গ্রামান্চলে-এমন দাবী সত্যের অপলাপ হবে মাত্র। সশরীরে গ্রামে উপস্থিত না থেকেও খুব অদ্ভুত ভাবে গাঁয়ের সাথে এক আত্মিক যোগাযোগ গড়ে উঠেছে!



শৈশবে বাসার বড়দের গান শুনতে দেখেছি তবে সেসব গানের মাঝে পল্লীগীতি ছিলো বলে মনে পড়েনা। শুধু মাত্র আমার মা পছন্দ করতেন ফরিদা পারভীনের কন্ঠে লালনগীতি; সেও ঘটা করে ক্যাসেট, এলপি, সিডি কিনে শোনা নয়.. টিভিতে প্রচারিত হলে আগ্রহ ভরে শোনা! অথচ আমার মাঝে কিভাবে যেন পল্লীগীতি বিশাল এক আসন করে নিয়েছে সেই ছেলেবেলা থেকেই!
ছোটবেলায় যে হোস্টেলে পড়েছি তার গা ঘেঁষে ছিলো একটি গ্রাম, সেখানেই হয়তো পল্লীগীতির প্রতি এই ভালোবাসার বীজ বপিত হয়। খাঁ খাঁ উদাস দুপুরে গ্রামের মেঠোপথে নাম না জানা কারো বাঁশীর সুর শুনেছি বহুবার! আর তাই হয়তো বহু বিলাসী আয়োজন করে বাজানো চৌরাসিয়ার বাঁশীর সুর আমায় সেভাবে ছুঁতে পারেনা, যেভাবে ছুঁয়ে যায় নিতান্তিই আপন মনে মেলায় বাজিয়ে যাওয়া অথবা পথে হেঁটে যাওয়া কোন বাঁশীওয়ালার সুর...


অনেকেই মনে করেন, পল্লীগীতি শুধুমাত্র গাঁয়ের মানুষ বা আমাদের পূর্বপ্রজন্মের মানুষের প্রাণে ঠাঁই পেয়েছে, বর্তমান প্রজন্ম ভেসে গেছে চটুল গানের স্রোতে! শুধু নিজেকে দিয়ে নয়, চারপাশে ভালো করে লক্ষ্য করলে বুঝতে পারি এই ধারনা সঠিক নয়।
ব্যক্তিগত ভাবে আমি দেশ বিদেশের বিভিন্ন স্বাদের সঙ্গীত পছন্দ করি। একজন সেলিন ডিওনের "বিকজ ইউ লাভড্ মি..." আমায় যেভাবে ছুঁয়ে যায় সেভাবেই আপ্লুত করে ফরিদা পারভীনের কন্ঠে "আমি অপার হয়ে বসে আছি..." অথবা "মিলন হবে কতোদিনে..."। আমি একজন এন্ড্রুকিশোরের গানের চেয়ে একজন রথিন্দ্রনাথ রায়েরর গান শুনতে বেশি আগ্রহী হবো। একজন হাবিবের বিপুল জনপ্রিয়তার পিছে লুকিয়ে থাকে অজপাড়াগাঁয়ের "আব্দুল করিম" নামের কোন এক বাউল!


পল্লীগানের মাঝে এমন কিছু আছে যা শতশত বছর ধরে সমান ভাবে আপ্লুত করে আসছে বাঙালীদের। দেশ বিদেশের আধুনিক সঙ্গীত, পাশ্চাত্য সঙ্গীত কোন কিছুই এতোটুকু ম্লান করতে পারেনি পল্লীগীতির আবেদন। সেকারনেই হয়তো আজও কোন সঙ্গীত প্রতিযোগিতা হলে দেখা যায় অর্ধেকের বেশি প্রতিযোগী গাইছে পল্লীগীতি, শ্রোতারাও বেশি ভালোবাসছেন গাঁয়ের সারল্যে ভরা এই সুরকে..
অত্যাধুনিক তরুন-তরুনী, কিশোর কিশোরী আবেগ ভরা কন্ঠে গেয়ে চলেছে লালনের গান, আব্বাস উদ্দীন, আব্দুল আলীম, আব্দুল করিম শাহের গান। আজন্ম রাজধানীর কোলাহলে লালিত কন্ঠে ভেসে আসছে দূর পাহাড়ের কোন আদিবাসীর পাগল করা সুর! আধুনিক সঙ্গীতের কারিগরেরা ছুটে যায় পল্লীগীতির কাছে, গীটার আর কিবোর্ডে ঝংকার তুলে গেয়ে চলে গাঁয়ের মেঠো পথের কোন বাউলের কন্ঠের গান। শত আধুনিকতা, ভীনদেশির সংস্কৃতির আগ্রাসনের মাঝেও অতি সন্তপর্নে পল্লীর গান ঠাঁই করে নেয় আমাদের প্রাণে।


আমাদের অনেকের হয়তো ঘটা করে ক্যাসেট সিডি কিনে পল্লীগীতি শোনা হয়না, তবে হঠাৎ কানে সেই সুর পৌঁছুলে মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন হই! শহুরে কিশোর কিশোরীদের সৌখিন কন্ঠে বেজে উঠা সুর শুনেও হারিয়ে যাই- কখনো গাঁয়ের মেঠোপথে, কখনও সিলেটের চা বাগান আবার কখনোও বা রাঙ্গামাটির পাহাড়ে। নিজের অজান্তেই এসব গান আমাদের চোখে নদীতে ছুটে চলা জেলে মাঝিদের গলা ছেড়ে গেয়ে উঠা সঙ্গীতের দৃশ্যকল্প তৈরী করে!


কোন সিনেমা বা নাটকের সিকোয়েন্স ডিমান্ড নয়, নয় কোন নতুন এ্যালবামের জন্য উপযোগী গানের তাড়না.. মানুষের একান্ত সুখ দুঃখের কথা, পল্লীজীবনের হাসি কান্না, আনন্দ উৎসব আর প্রাণের কথা নিয়ে আমাদের জারি, সারি, ভাটিয়ালী, মুর্শিদী, ভাওয়াইয়া, লালনগীতি, আদিবাসী সঙ্গীত সহ পল্লীগানের আর সকল শাখার জন্ম বলেই হয়তো হাজার বছরেও এর আবদেন এতোটুকু কমেনি।
সততা আর শুদ্ধতা দিয়ে গড়া- তাই হয়তো আধুনিকতার হাজারো বাদ্যের মাঝে পল্লীগীতি আজও দোর্দন্ড্য প্রতাপের সাথে বেঁচে আছে।


গাঁয়ের জীবন আর মানুষের কথা বুকে নিয়ে পল্লীগীতি নামের সুরের নদীটি আপণ মনে ছুটে চলে নিরবধি। তৃষ্ণার্ত আমরা সে নদীর সুরধারা আঁজলা ভরে তুলে নিজেদের সুরের পিপাসা মিটিয়ে চলেছি যুগ যুগ ধরে...
শত প্রতিকুলতার মাঝেও পল্লীগীতি ধ্বনিত হয়ে যাবে আগামী সহস্র বছর... অনুরিত হবে মানুষের প্রাণে, নতুন প্রজন্মের কন্ঠে...






*** (!)ঝড়ের বেগে রচিত এই লেখাটি ব্লগার রেটিং এবং ফয়সল নোইয়ের(যাঁরা আমার অতি সাধারন এলেবেলে ব্লগে নতুন লেখা খুঁজতে এসে হতাশ হয়েছেন) সন্মানে পোস্ট করছি :-) *** ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/28816310 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/28816310 2008-07-03 08:16:34
অমন করে আকুল হয়ে আমায় তুমি ডাকো...!!
.


এদেশের হাসপাতালের সাথে ডেন্টিস্টদের কোন যোগাযোগ নেই, প্রায় সকলের স্বাধীন চর্চা। সেকারনেই, হঠাৎ দাঁত ব্যাথায় কাতর হলে চব্বিশ ঘন্টার যে কোন সময় ইমারজেন্সীতে গিয়ে প্রতিকারের উপায় নেই।


আগের এ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া দেখবে এমন একটি ডেন্টাল ক্লিনিকে সাতপাঁচ হিসেব না করে গিয়ে জানতে পারি, উপস্থিত ডেন্টিস্ট যিনি আছেন তিনি শুধু মাত্র সাধারন দাঁত তুলতে সক্ষম। কিছুটা কম্প্লিকেটেড অবস্থা হলে বিশেষজ্ঞ তলব করতে হয়! শেতাঙ্গ আমেরিকান, চাইনিজ, কোরিয়ান, লেবানীজ এবং দক্ষিন আমেরিকার ডেন্টিস্ট, নার্স আর টেকনিশিয়ানের সমন্বয় চোখে পড়ে। তাঁরা জানালেন একজন চমৎকার ডেন্টিস্ট আছেন যিনি এই যাতনাময় দাঁতটির ব্যবস্থা করতে পারেন, ড: রেদোয়ান! নাম শুনে মনে হলো হয়তো ভারতীয় বা পাকিস্তানি কিংবা বাংলাদেশি হবার সম্ভাবনা বেশি।




তাঁকে খবর দেয়া হয়েছে, এর মাঝে আমায় কিছুটা সময় ধৈর্য ধরা কষ্ট সহ্য করতে হবে।
ব্যাথায় কাতর হয়ে অপেক্ষা করছি, এর মাঝে সেখানে কর্মরত প্রায় সকলেই উচ্ছসিত প্রশংসা করছেন ড:রেদোয়ানের। খুব অবাক হলাম! একজন কলিগের প্রতি ছোট বড় নির্বিশেষে সকল সহকর্মীর এমন শ্রদ্ধাবোধ সহসা চোখে পড়েনা!



একজন নার্স দাঁতততোলার প্রস্তুতি হিসেবে আমাকে রুটিন ব্রফিং করছেন কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে। এমন সময় লক্ষ্য করি, আমার ফাইল হাতে একজন মাঝারি গড়নের অমায়িক চেহারার মানুষ হাসছেন। চল্লিশ/পয়তল্লিশ বছরের এই ভদ্রলোককে দেখে বাংলাদেশি মনে হলো।



পরিচয় পর্ব শেষে তিনি বাংলাদেশি কিনা জানতে চাওয়ায় বললেন তিনি পাকিস্তানি। তবে নাগরিকত্ব জানতে চাইবার সাথে সাথে তাঁর যে প্রতিক্রিয়া হলো তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।

আমি বাংলাদেশী জানার সাথে সাথে ভদ্রলোকের দুচোখ আনন্দে ঝলমল করে উঠে! আনন্দে উদ্ভাসিত দুচোখে কয়েক বিন্দু অশ্রুর ঝিলিক ছিলো কিনা মনে নেই, তবে তিনি গভীর ভালোলাগা নিয়ে জানালেন "বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি"। উপস্থিত সকলের উদ্দেশে উচ্ছসিত কন্ঠে জানালেন যে আমি তাঁর জন্মস্থানের মানুষ! ঢাকায় পড়াশুনা করেছি জেনে গর্ব ভরে বললেন, "তুমি কি জানো, তোমার জন্মের আগেই এটা আমার শহর ছিলো?"


পরবর্তী পুরোটা সময় দাঁত নিয়ে কাজের মাঝে কিছুক্ষন পর পর চলছিলো তাঁর স্মৃতিচারন! তাঁর বাবা পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ঢাকা থেকে সপরিবারে ফিরে যান পাকিস্তান। সেসময় তাঁর বয়স ছয় বছর, শহর ছেড়ে গেলেও বুকের মাঝে ধারন করে নিয়ে গেছেন জন্মভূমির প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা! ছয়বছর বয়সে যিনি চলে গেছেন, বাংলাদেশের মাছ তাঁর অতি প্রিয় খাবার জেনে অবাক হলাম!


কোন এক অদ্ভুত কারনে ভয়াবহ যুদ্ধ, নির্মমতা, লক্ষলক্ষ মানুষের প্রাণহানী, নিজ দেশের পরাজয়... কোন কিছুই সেই ভালোবাসা এতোটুকু কমাতে পারেনি! আর তাই, যখন নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন, ছুটে গিয়েছিলেন প্রিয় জন্মভূমিতে। কিছুদিন কাটিয়েছেন প্রিয় শহরে, পুরনো বাড়ি, পুরনো এলাকায় ঘুরে ঘুরে স্মৃতি হাতড়ে ফিরেছেন এই অদ্ভুত মানুষটি।

এদেশে পাকিস্তানি এবং ভারতীয়দের অহরহ সাথে দেখা হয়। কেউ খুব বন্ধুসুলভ, কেউ আর দশজনের মতো আবার কেউবা হয়তো তেমন মন মতো নন। বাংলাদেশ নামটি শোনার সাথে সাথে এমন গভীর আবেগমাখা কন্ঠে উচ্ছাস প্রকাশ করতে কখনও কাউকে দেখিনি!! দাঁতের প্রচন্ড ব্যাথার মাঝেও আমার দেশের প্রতি এই ভালোবাসা ছুঁয়ে গেছে। বাংলাদেশের প্রতি তাঁর মুগ্ধতার বর্ণনা শুনে উপস্থিত আমেরিকান নার্স বলেন; "বাংলদেশে যেতে ইচ্ছে করছে। কি চমৎকার দেশ তোমার!"



ফেরার পথে মনে হচ্ছিলো, ২৫শে মার্চের সেই ভয়াল রাতে, আমার দেশের নিরীহ মানুষের উপর হানাদার বাহিনী যে কালো নির্দেশে নৃশংস হামলা চালায়, কে জানে হয়তো সেই নির্দেশনামায় রেদোয়ানের বাবা'র স্বাক্ষর ছিলো! সেসময় হয়তো আমারই কোন পূর্বপুরুষ অস্ত্র হাতে হন্যে হয়ে খুঁজে বেরিয়ে তাঁর বাবাকে! অথচ, এসব কিছু সেদিনের ছয় বছরের শিশুকে এতোটুকু স্পর্শ করেনি। এমন প্রতিকুলতার মাঝে কোন এক বিচিত্র কারনে হাজার হাজার মাইল দূরে বসেও শিশুটি বেড়ে উঠেছে জন্মভূমির প্রতি গভীর মমতা আর ভালোবাসা নিয়ে!!!



পাকিস্তানের নাগরিক রেদোয়ানের বর্তমান আবাস আমেরিকা হলেও তাঁর সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তে গভীর ভালোবাসার তুলিতে আঁকা, বাংলাদেশের সবুজ সুন্দর ছবি!!!



*বাস্তব ঘটনার বর্ণনায় কিছু ব্যক্তিগত কথা এসেছিলো! লেখা কিছুটা এডিট করা হলো*
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/28813101 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/28813101 2008-06-24 09:59:55
হাম তো হ্যায় পরদেস্ মে, দেস্ মে নিকলা....


"আজ আকাশ জুড়ে উঠবে এক বিশাল চাঁদ"

মহাবিজ্ঞপ্তি সর্বত্র: ১৮ ই জুন ২০০৮, বুধবার সাঁঝে আকাশ জুড়ে অস্বাভাবিক বিশাল চাঁদ দেখা যাবে! বিশালত্ব বিভ্রম হলেও, সাধারন মানুষের কাছে তা বাস্তবের মতোই মনে হবে। কি রহস্য, কি কারন চাঁদের এই অপরূপ খেয়ালের পিছনে তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা! বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে লেখকদের গবেষনামূলকা লেখা ভরে গেছে জার্নাল, ইন্টারনেট, NASA'র বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন তাঁদের মহামূল্যবান অভিমত, কোন শহরে কটার সময় দেখা যাবে তার তালিকা।


চাঁদের এই বিশালত্বের পিছনে কি রহস্য তা নিয়ে আমার বিন্দু মাত্র আগ্রহ নেই। যে কারনেই হোক, পূর্ণিমায় চাঁদের মায়াময় উথালপাথাল আলোর বন্যায় ভেসে যাওয়া পৃথিবীকে অনেক বেশি রহস্যময় মনে হয়!!

শৈশবে যে হোস্টেলে পড়াশুনা করেছিলাম, বিল্ডিং এর সামনেই ছিলো এক ইউক্যালিপ্টাস গাছ! সেই গাছের ডালের ভিতর দিয়ে চাঁদের মায়াবী আলো যে অদ্ভূত সুন্দর পরিবেশের সৃষ্টি করতো, তা দেখে মুগ্ধ আর বিস্মীত হয়েছি বারংবার! তখন, মনে হতো; "চাঁদ এতো সুন্দর ডিসিপ্লিন মেনে চলে কিভাবে, ঠিক এই ইউক্যালিপ্টাসের পিছনে হেসে উঠে প্রতিবার"!!!


আমার একটি মুন ভিউ পয়েন্ট বা চাঁদ দেখার স্থান আছে। বাসা থেকে, পথে চলতে, হাইওয়েতে দ্রুতবেগে ছুটে চলা গাড়িতে বসে.. সবস্থান থেকে চাঁদের অপরূপ মায়া গভীর ভাবে ছুঁয়ে যায়। তবে সব চেয়ে ভালো লাগে লেক, নদী বা সমুদ্রের পারে বসে জোৎস্না উপভোগ। দুদিন আগে সেখানে গিয়ে চাঁদের সাথে সময় কাটিয়ে এসেছি। গতকাল চারিদিকের হৈচৈ দেখে গিয়েছিলাম আবার! মানুষের কথায় গিয়েছি বলে অভিমান করে কিনা জানিনা, প্রায় ঘন্টা খানেক বসে থাকার পরও চাঁদের দর্শন মিলেনি! কোথায় কোন মেঘের পিছনে লুকিয়ে ছিলো, অথচ আকাশ বেশ মেঘমুক্ত মনে হয়েছিলো।

বিফল মনে ফিরে এসে বাড়ির সামনে দেখি, গাছের ফাঁকে বিশাল চাঁদের হাসি :-)
কিছুটা মেঘে ঝাপসা, তবু পরিপূর্ণ!




বসে আছি দূর প্রবাসে;
দেশের আকাশ জুড়ে আজ হয়তো উঠেছে এক বিশাল চাঁদ!
নিজের রাতের বুকে কি ভীষণ নিঃসঙ্গ সে।

যে চোখের কাজল সেজে পারি দিয়েছি সারা রাত,
সেই চোখের অশ্রু বিন্দু হয়েছে আজ চাঁদ।

আঁধারের কূটচালে ছুটে গেছে হাতের বন্ধন
সে সুযোগে এলাকাবাসী বেঁধে ফেলেছে চাঁদকে!

দেশের আকাশ জুড়ে উঠেছে এক বিশাল চাঁদ,
আর আমি বসে আছি দূর প্রবাসে।

চাঁদ বিহনে এক একটি দিন যেন হাজার বছর;
আমায় ছাড়া কেমন আছে, কিভাবে আছে সে!

দূর প্রবাসে বসে আছি;
আজ হয়তো দেশের আকাশ জুড়ে উঠেছে এক বিশাল চাঁদ।
নিজের রাতের বুকে কি ভীষণ একা সে।


হাম তো হ্যায় পরদেস মে, দেস মে নিকলা


ছবি: চন্দ্রিমা দর্শন স্থান :-)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/28811566 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/28811566 2008-06-20 03:14:13
ভ্যানক্যুভার!! ভ্যানক্যুভার!! দিস্ ইজ ইট্!!!!!
উত্তেজনা, আকুতি, আনন্দ, কষ্ট, অসহায়ত্ব আর বিস্ময় ভরা কন্ঠে উচ্চারিত আর্তচিৎকার!




শান্ত সৌম্য ধূসর পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে, চমৎকার দৃশ্য!
সে ধূসর পাহাড়টি আজ সাদা বরফে ঢাকা! শীতের শেষে এখন বরফ গলার সময়, জায়গায় জায়গায় তুষারের পুরু আস্তর গলে কেমন সাদা কালো ডোরার মতো, মনে হচ্ছে পাহাড়টি যেন জেব্রার ডোরাকাটা চামড়ায় আবৃত!


এই যে পাহাড়, কখনও ধূসর, কখনও শুভ্র তুষার ঢাকা আবার কখনো জেব্রার মতো সাদা কালো.. এখানেই তার বৈশিষ্টের শেষ নয়!!!

আমার সামনে অটল দৃঢ় ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা এই পাহাড়টি একটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি!ফ্রাইড আইসক্রীমের বিপরিত, হীম শীতল বরফে ঢাকা এক জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ড! মাত্র আঠাশ বছর আগে অন্তঃদহন সইতে না পেরে প্রচন্ড ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলো এই অনিন্দ্য সুন্দর পর্বত! ধ্বংস করেছিলো আশে পাশের সকল প্রান, তা মানুষ, পোকামাকড় থেকে গাছ পালা, ঘাস লতা গুল্ম পর্যন্ত সব কিছুই! সেই ধ্বংসে সীমাবদ্ধ থাকেনি তার আক্রোশ, চিরতরে পরিবর্তন করে সংলগ্ন এলাকার ভৌগলিক চিত্র!!

পাহাড়টির উত্তর দিকে বিভিন্ন স্থানে ছিন্ন মস্তকে পরে থাকা ভস্মীভূত গাছের ধ্বংসাবশেষ সেই ভয়ংকর অগ্নুৎপাতের স্মৃতি চিহ্ন আজও বয়ে বেড়ায় ! তার সাথে এখানে ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সমূলে উৎপাটিত বিশাল বিশাল গাছের গুড়ি, মনে করিয়ে দেয় আঠাশ বছর আগের এই শান্ত পাহাড়ের উদ্দাম তান্ডবের কথা।

ঐ দূরে দেখা যায় স্পিরিট লেক, যাকে ঘিরে তখন গড়ে উঠেছিলো এক স্বর্গীয় ভূবন!! অনিন্দ্য সুন্দর পাহাড়ের পাদদেশে টলটলে জলের এই লেকটির চার পাশে নিরিবিলিতে গড়েছিলো কিছু মানুষের সেন্কচুয়ারী। যান্ত্রিক জীবনের অস্থিরতা, জনকোলাহল আর গতি থেকে কিছুটা দূরে শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশে শান্তিময় আবাসস্থল! ১৯৮০ সালের ১৮ই মে, সেন্ট হেলেন পর্বত উদরের জ্বলন্ত লাভা উদগীরন করে চারিদিকে ছড়িয়ে দেয় নিজের যন্ত্রণা, সেদিন সেই অগ্নুৎপাতের প্রচন্ড গতি আর ভূমির কম্পনে স্পিরিট লেকের পানি ৮০০ ফুট উপরে উঠে যায়, যখন সে পূর্বস্থানে ফিরে আসে ততক্ষনে তার নীচে জমেছে লাভা আর ভস্মীভূত গাছের ২০০ ফুট পুরু স্তর! আশেপাশে গড়ে উঠা অবকাশ যাপনের চমৎকার বাড়িগুলো তলিয়ে গেছে শতশত ফুট উত্তপ্ত প্রস্তর, ম্যাগমা আর ভস্মীভুত গাছের নীচে।

সেদিনের বিস্ফোরন আকাশ জুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো যে ধোঁয়ার কুন্ডলী তৈরী করেছিলো, তা দিনের বেলা নামিয়েছিলো রাতের আঁধার। বেলা এগারো বারটায় আশে পাশের বিস্তীর্ণ অন্চল ঢেকেছিলো গাঢ় অন্ধকারে!


একবার গর্জে উঠে থেমে থাকেনি সেন্ট হেলেন, পরবর্তিতে কয়েকবার এবং এখনও মাঝে মাঝে গর্জে উঠে! নড়াচড়া করে জানিয়ে দেয় নিজের ভিতরের জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ডের অস্তিত্ব।

সেন্ট হেলেনের এতো কিছু, এতো ঘটনা, ভাঙ্গা গড়া, এসব কিছু ছাপিয়ে আমার কাছে সব চেয়ে বেশি গুরুত্ববহন করে ডেভিড জন্সটন নামের ত্রিশ বছরের একজন মানুষ! প্রচন্ড মেধাবী হাস্যোজ্জল চেহারার এই মানুষটির কথা গভীর ভাবে ছুঁয়ে যায় মন।

জনস্টন প্রথম ধারনা করেন, সেসময় ওয়াশিংটন স্টেটে যে অস্বাভাবিক ভস্মের অস্তিত্ব ভূ-তত্ত্ববিদরা খুঁজে পান, তা মোটেও রেইনিয়ার পর্বতের নয়, বরং আপাতঃ দৃষ্টিতে মৃত মনে করা সেন্ট হেলেনের। তিনি সবাইকে সজাগ করেন সেন্ট হেলেনের জেগে উঠা সম্পর্কে। ক্ষুদ্ধ হেলেনের চাপা ক্ষোভের প্রকাশ যখন ধীরে ধীরে তার দেয়ালে ফুটে উঠতে শুরু করে; তখন এই জনস্টন সকলকে সতর্ক করেন, "আর দশটি আগ্নেয়গিরি'র মতো, সেন্ট হেলেনের জ্বালামুখ কেন্দ্রে অবস্থান করবেনা বরং জ্বালামুখ হবে পাশের দেয়ালে"। শুধু তাই নয়, কর্তৃপক্ষকে বার বার তাগদা দিয়ে আসন্ন অগ্নুৎপাত সম্পর্কে সচেতন করে এলাকায় জনসাধারনের যাতায়াতের প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বাধ্য করেন।বেশ কিছুদিন ধরে সেন্ট হেলেনের শরীরের অস্থিরতা অনুধাবন করায় অধিকাংশ মানুষকে সরিয়ে ফেলা হয়েছিলো নিরাপদ স্থানে, সেখানে সাধারনের যাতায়াত সীমিত করা হয়। তাই যে দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ করেছিলো সহস্র জীবন, তা ৭০-৭২ প্রাণনাশে সীমাবদ্ধ থেকেছে।

সেসময় বিজ্ঞান প্রযুক্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থা আজকের মতো এতোখানি উন্নত ছিলোনা। ভুতত্ত্ববিদরা একটি অতিসাধারন ছোট ট্ট্রেলার নিয়ে পালা করে রাত কাটাতেন সেন্ট হেলেনের পাশে, তার গতিবিধি পর্যবেক্ষনের জন্য।

১৭ই মে রাতে ছিলো আরকজনের দায়িত্ব, তিনি নতুন কাজে একটি ইন্টারভিউ দিতে যাবেন বলে জনস্টনকে অনুরোধ করেন তাঁর হয়ে সে রাতে পর্যবেক্ষণ করার জন্য। ডেভিড কিছুটা মন খারাপ করেই রাজী হয়ে যান আরেকজনের স্বার্থে। সন্ধ্যায় সহকর্মীরা তাঁকে রাতের পর্যবেক্ষনের দায়িত্বে রেখে বিদায় নেবার সময় ছবি তুলে হাস্যজ্জল জনস্টনের, পর্যবেক্ষন পোস্টের সামনে চেয়ারে বসে হাসছেন। পরদিন ভোরে গর্জে করে উঠে সেন্ট হেলেন, উদগীরনের ভয়াবহতা অনুধাবন করেন তিনি, বুঝতে পারেন প্রচন্ড গতি সম্পন্ন উত্তপ্ত এই অগ্নুৎপাত দেখার সৌভাগ্য হলেও তা ক্ষণস্থায়ী, আর এই বিরল অভিজ্ঞতা কারো সাথে শেয়ার করার ভাগ্য তাঁর হবেনা।

সময় খুব কম, কয়েক মুহুর্ত মাত্র! নিজের দায়িত্ব ভুলেননা সেসময়ও, ছুটে যান মাইক্রোফোনের কাছে! সেন্টহেলেনের উদগীরন সম্পর্কে অবগত করতে হবে সকলকে.. মূল কন্ট্রোল টাওয়ারের উদ্দেশে শুধু একটি কথা বলার সুযোগ পান তিনি

"ভ্যানক্যুভার!! ভ্যানক্যুভার!! দিস্ ইজ ইট্!!!!!"

আগ্নেয়গিরির ভয়ংকর শক্তিধর অগ্নুৎপাত উড়িয়ে নিয়ে যায় তাঁকে, নিমেষেই নীভে যায় এই নির্ভীক মেধাবী বিজ্ঞানীর জীবন প্রদীপ! চিরতরে হারিয়ে যান, তলিয়ে যান তিনি এই আগ্নেগিরির বিস্ফোরনের মাঝে। উত্তপ্ত লাভায় ঢাকা পড়ে যায় সব কিছু, নিশ্চিহ্ন হন ডেভিড জনস্টন নামের এই কর্মপাগল মেধাবী মানুষটি। তিনি যেখানে বসে সেদিন হেলেনের গতিবিধি পর্যবেক্ষন করেছিলেন, সেখানে এখন ট্যুরিস্টদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টাওয়ারটি নির্মিত, তাঁর সন্মানে নামকরন করা হয়েছে "জনস্টন রিজ অবজারভেটরি টাওয়ার"।

সেখানে দাঁড়ালে সেন্ট হেলেনের অপার সৌন্দর্য আর অসীম রহস্য যেভাবে আপ্লুত করে, তার চেয়ে বেশি গভীর ভাবে স্পর্শ করে বিজ্ঞান প্রযুক্তির জন্য, ভবিষ্যত পৃথিবীর জন্য আত্মাহুতি দেয়া ডেভিড জনস্টন নামের অসীম সাহসী অসাধারন মানুষটি।

মৃত্যুর পর তাঁর দেহাবশেষ বা চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি! ধারনা করা হয়, শত শত ফুট ম্যাগমার নীচে চাপা পরে গেছে। অবজারভেশন ডেকে দাঁড়িয়ে হঠাৎ চমকে সরে যাই, যখন মনে হয়.. যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, ঠিক তার নীচেই হয়তো শুয়ে আছেন জনস্টন নামের সেই অকুতোভয় বীর!! যাঁর একটি আর্তচিৎকার ইতিহাসের সাক্ষ্য হয়ে বেজে চলেছে যুগ যুগ ধরে...


"ভ্যানক্যুভার!! ভ্যানক্যুভার!! দিস্ ইজ ইট্!!!!!"



ডেভিড জনস্টনের ছবি সুত্রঃ ইন্টারনেট
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/28806656 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/28806656 2008-06-05 23:43:33
মৃত্যুর মুখে দাঁড়ায় জানিবো, তুমি আছো আমি আছি!!



কাকতালীয় বলে একটি ব্যপার আছে তবে তা দু'চারবার ঘটতে পারে; বছরের পর বছর যখন ঘটতে থাকে তখন তাকে হয়তো কাকতালীয় বলা যায়না।


আমি বৃষ্টি ভালোবাসি। এই ভালোলাগার শুরু কবে মনে নেই! অনেক বছর আগে এক চন্দ্রালোকিত সন্ধ্যায় সমুদ্রে হাঁটু জলে দাঁড়িয়ে থাকার সময়; না দীঘর্দিন আগে খুব মন খারাপের এক দুপুরে যখন আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে মুষল ধারায় বৃষ্টি শুরু তখন! আবার হয়তো, আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর দিনটিতে আমি যখন অসাড়, বোধহীন হয়ে নির্লিপ্তভাবে ঘুরছিলাম তখন চারদিক কাঁপিয়ে বৃষ্টি এসে জানিয়ে দেয়, "মেয়ে তুমি কাঁদো, আজ তোমার তীব্র কষ্টের দিন"..সেসময়।

এই ভালোলাগা, ভালোবাসার সম্পর্ক খুব অজান্তে শুরু হলেও, এখন অনেক কিছুই গোপন নেই। যেমন, কোথাও বেড়াতে গেলে আমি কোন দিন এয়ারপোর্টে লাগেজ রিজার্ভেশনের সময় বলিনি, "আমার সাথে এক মুঠো মেঘ আর এক পশলা বৃষ্টি যাবে"! অথচ আমি জানি, বৃষ্টি আমার সাথে যাচ্ছে।

আমার এই জীবনে সৃষ্টি কর্তা বেশ কিছু দেশ, শহর, দর্শনীয় স্থানে বেড়ানোর সুযোগ দিয়েছেন। খুব আশ্চর্যজনক ভাবে লক্ষ্য করি, আজ অবধি বছরের এমন কোথাও যাইনি যেখানে আমি যাবার পর বৃষ্টি নামেনি!!!! বছরের যে কোন সময়, যেকোন স্থানে। দেশে আত্মীয় সজন, বন্ধু বান্ধবরা মজা করে বলতেন, "অনাবৃষ্টির সময় তোমাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া উচিত!" বৃষ্টি কখনো কোন দেশে আমার সঙ্গ ছাড়েনি। অনেক বছর আগে খুব শীতে নেদারল্যান্ডে গিয়েছিলাম, আমাদের পরিচিত পরিবারটি তখন ১২ বছর ধরে সেখানে বসবাস করছেন। তাঁরা জানালেন বছরের এসময় এখানে বৃষ্টি, গত বারো বছরে দেখেননি!

আমি যেখানে যাবো, বৃষ্টি আমার সঙ্গী- এটা এখন অবধারিত। তবে, মে মাসের এই কড়া রৌদ্রে উত্তরগোলার্ধের পৃথিবী যখন উত্তপ্ত; নেভাদার শুষ্ক মরুঅন্চলের তাপমাত্রা ১০৩ ডিগ্রী ফারেনহাইট, এমন সময় যেতে হলো সেখানে! আমি পৌছে তাপমাত্রা পেলাম ৬৮ ডিগ্রী ফারেনহাইট, আর কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি এসে যেন জানিয়ে দিলো, "আমি সাথে আছি" :-)। সেই ফোঁটা ছিলো, তাৎক্ষনিক হাল্কা পরশের মতো। আমার জানা ছিলোনা, আমার মা মরুভূমিতে গিয়ে রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছেন দেখার জন্য, "তাঁর শ্রাবন কন্যার আগমনে কখন বৃষ্টি নামে"!! পর দিন শুরু হলো বৃষ্টি, প্রথমে ঝিরিঝিরি, তার পর বর্ষন। আমার মা'র মুখে তৃপ্তির হাসি :-)। সেখানে উপস্থিত জনেরা অবাক হলেন, বছরের এসময় বৃষ্টি খুব অস্বাভাবিক!

আমার পরিচিত জনদের কাছে শুনে মজা করে বললেন, "যদি জানতে পারে, নেভাদা সরকার তোমাকে বিশেষ আমন্ত্রন জানিয়ে ঘন ঘন নিয়ে আসবে মরুভূমিতে বৃষ্টি নামাতে।"


মাঝে মাঝে মনে হয়, জীবন নিয়ে আমার কোন অভিযোগ থাকা হয়তো অনুচিত! অনেক পাওয়া না পাওয়ার ভীড়ে, সর্বত্র সার্বক্ষনিক ভাবে বৃষ্টির সঙ্গ তো এক পরম পাওয়া! এভাবে ভালোলাগা বা পছন্দের সঙ্গতো সকলের ভাগ্যে ঘটেনা।


মানুষ তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে জানেনা। হয়তো চল্লিশকে ছোঁয়া সম্ভব হবেনা, আবার হয়তো নব্বুইয়ে কেটে যাবে দূরন্ত সময়! আমার মৃত্যু সম্পর্কে কিছুই জানিনা। তবে মনে হয়, সেদিন খুব বৃষ্টি নামবে। আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে বৃষ্টি এসে সঙ্গী হবে আমার অন্য ভুবনে যাত্রার।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/28802826 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/28802826 2008-05-26 06:44:55
খোকা, তুই কবে ফিরবি? কবে ছুটি?


এই সামান্য ঘটনায় তিনি এভাবে কেন আপ্লুত হয়েছেন তা তখন বোধগম্য হয়নি। আন্টির সেই আনন্দ উদ্ভাসিত চোখ, উচ্ছাস দেখে অবাক হয়েছিলাম! পরে বুঝেছি, তাঁর ছেলে বড় হয়েছে, স্বাধীন হয়েছে তবে মা'কে ছাড়েননি। বন্ধুদের মাঝে মাকে অবান্ছিত মনে করেনি, বন্ধুদের দেয়া সময়ের মাঝেও মায়ের গুরুত্ব এতোটুকু কমেনি, এই অনুভূতি, এই ভালোলাগা তাঁকে ছুঁয়ে গেছে গভীর ভাবে।


বিভিন্ন আবেগঘন আর মূল্যবোধের দোহাই তুলে পালিত দিবসগুলোর মূল উদ্দেশ্য যে বাণিজ্যিক তা এদেশের মানুষও জানে। ভ্যালেন্টাইন্স ডে, মাদার্স ডে, ফাদার্স ডে ইত্যাদি দিবসগুলোর মাঝে অনেক বছর ধরে যে দিবসটি খুব আগ্রহ করে সযত্নে পালন করি তা "মাদার্স ডে"।


পাশ্চাত্যের অনেক কিছু নিয়ে আমরা সমালোচনা করতে ভালোবাসি, অনেক কিছুই হয়তো সমালোচনার যোগ্যও। তবে, কোন এক বিচিত্র কারনে আমাদের অনেকের মাঝেই যে ধারনা এদেশের মানুষ মা বাবা কে অবজ্ঞা করে, বয়স হলে খোঁজ করেনা, একলা একটি বাড়িতে নির্বাসিত করে অথবা ওল্ডহোমে রেখে আসে তা সর্বাংশে সত্য নয়। অনেক মা বাবা আত্মমর্যাদাবোধ ও স্বাধীনচেতা সত্ত্বার কারনে ছেলে মেয়েদের সাথে বসবাস না করে নিজের মতো একা থাকা পছন্দ করেন। আবার ওল্ডহোম বা সিনিয়র লিভিং এর অনেক সুবিধা থাকে, সেখানে বয়স্কদের উপযোগী করে সব কিছু করা হয়, সার্বক্ষনিক সেবার ব্যবস্থাও থাকে। অনেকে নিজের সামর্থ অনুযায়ী সেসব হোমে থাকা পছন্দ করেন, অনেকে হয়তো বাধ্য হয়েই থাকেন।


মা দিবস উপলক্ষ্যে অনেকেই মনে করেন, এসব দেশে বছরে এই একটি দিন মা'র খোঁজ করে; একথা মনে হয় পুরোপুরি সত্য নয়। যদি ভেবে দেখি, দেশে আমরা যারা বাবা মা'র সাথে বসবাস করছি, আমরা ক'জন মা'কে নিয়ে একটি দিন বেড়াতে বের হয়েছি। বছরে ক'দিন শুধু মা'র ভালো লাগে এমন কিছু করেছি, মা'কে তাঁর পছন্দের খাবার খাইয়েছি, সব কিছু ভুলে একটি দিন মা'র মন মতো স্থানে তাকে নিয়ে গেছি। তাঁকে তাঁর প্রিয় জিনিসটি উপহার দিয়েছি।


কন্যা সন্তানরা সাধারনত বাবা মা'র সাথে পুত্রদের চেয়ে অনেক বেশি এটাচড হয়ে থাকেন, জীবনের প্রায় সকল ক্ষেত্রেই তাঁরা সাধ্যমতো বাবা মা'র জন্য করেন। এই চর্চা শুধু বাংলাদেশে নয়, মনে হয় পুরো পৃথিবী জুড়েই। সময়ের সাথে কিভাবে যেন দূরে সরে যায় পুত্ররা। অনেক ক্ষেত্রে শুধু কিছু টাকা পাঠিয়ে বা হাতে গুঁজে দিয়েই কর্তব্য শেষ, কোন কোন ক্ষেত্রে ইচ্ছে থাকলেও অদৃশ্য দেয়াল টপকে বাবা মা'র খুব কাছে গিয়ে বসতে পারেননা, ভালোবেসে তাঁদের হাতে হাত রেখে বলতে পারেননা, চলো তোমাদের নিয়ে কোথাও বেড়িয়ে আসি।


মা- দিবস, বাবা দিবস তেমন একটি সুযোগ এনে দেয়।সংকোচ, দ্বিধা পাশে সরিয়ে খুব সহজ ভাবে বলা যায়, "মা চলো আজ তোমায় নিয়ে সারাদিন ঘুরবো"। সামর্থ অনুযয়ী ছোট্ট একটি উপহারের প্যাকেট হাতে তুলে দিয়ে মাকে চমকে দেয়া যায়, শুধু তাঁকে নিয়ে একান্তে বসে তাঁর পছন্দের খাবারের কোন রেস্টুরেন্টে বসে গল্প করা যায়। প্রবাসী হলেও ছোট্ট কোন উপহার পাঠিয়ে, তাঁর পছন্দের মিষ্টি অথবা অন্যকোন খাবার পাঠানো যায় নিজের সামর্থানুযায়ী। কতোরকম সাইটতো আছে এসবের আয়োজনের জন্য। আর সেসব কিছু সম্ভব না হলেও, অন্তত ফোন করে দীর্ঘ সময় শুধু মা'র সাথে আলাপ করা যায়।


অনেকেই আছেন যাঁরা বাবা মা'র জন্য প্রাণ দিয়ে করেন, অনেকে আছেন জীবনের সব কিছুর উর্দ্ধে তাঁদের আসীন করে অনেক সময় স্ত্রী সংসারকেও বন্চিত করেন! সেসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা। খুব সাধারন ভাবে বলতে গেলে দেখা যায় অধিকাংশই বাবা মাকে ঠিক সেভাবে সময় দিতে পারিনা।

আমাদের কারো মা কর্মজীবি, কেউ হয়তো পরিবারের প্রধান, কেউবা পরিবারের সবচেয়ে প্রভাবশালী, কেউ শুধু মুখবুঁজে সব কিছু সয়ে যাওয়া সর্বংসহা, কেউ জীবন সংগ্রামে ক্লান্ত, কেউ হয়তো অজপাড়া গাঁয়ে কঠিন সংগ্রামে লিপ্ত। তিনি যেমনই হোন যেখানেই থাকুন, তিনি মা। তাঁর সন্তান তাঁকে মনে করে বিশেষভাবে তাঁকে খুশি করতে চাইছে, এই অনুভূতি তাঁকে ছুঁয়ে যাবে, আনন্দিত করবে। খুব সামান্য চেষ্টায় এই আনন্দটুকু যদি তাঁকে আমরা দিতে পারি, তাহলে ক্ষতি কি।

তাঁর খোকা যতো বড় হোক, যতো দূরে যাক, সে যে সব অবস্থায়, সব সময়ই মা'র খুব কাছে এই অনুভব তাঁকে অন্তত এই একটি দিনে দিতে চেষ্টা করি!!!




*** আমার বাবা দিবস পালনের সুযোগ নেই। যাঁদের আছে, সেই দিবসের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য***]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/28794349 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/28794349 2008-05-05 09:29:59
তেরে য্যায়সে লাখো আয়ে...


যে বিপদ মোকাবেলার কথা লিখতে বসেছি তা ঠিক সেই অর্থে বিপদ বা দুঃসময় না হলেও খারাপ সময় বা সংকট অবশ্যই।

প্রচন্ড জ্বর বা ব্যাথা আমায় সেভাবে কাবু করতে পারেনা কারন নিজের ক্ষেত্রে এসব কষ্টের চিকিৎসা "অগ্রাহ্য" শব্দটি দিয়ে। যেহেতু কোন ঔষধ দিয়ে উপশমের উপায় নেই তাই সৃষ্টিকর্তার নাম জপে ব্যাথাকে "অগ্রাহ্য" করাই মহৌষধ। সমস্যা হয় যখন শারীরিক কষ্টের সাথে মন খারাপ নামক ঘাতকের সমন্বয় ঘটে। সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায়! অসহায়ত্ব আর বিষন্নতা গ্রাস করে!


সম্প্রতি এমন সংকটে যখন প্রায় নিস্তেজ, সমুদ্রতীরের হিম শীতল বাতাসে চুপচাপ বসে থাকার তীব্র ইচ্ছে জাগে। সেসময় সমুদ্রসৈকতের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস, এমন ইচ্ছেপূরনে পরিবারের কারো সন্মতি বা উৎসাহ না মেলাটাই স্বাভাবিক, বিশেষ করে ১০৩ ডিগ্রী জ্বর নিয়ে!


কি করা যায়! সংকটের সমাধান প্রয়োজন!
সমুদ্রে যেতে চাই! খুব খুব যেতে চাই!
শীতল জলরাশির আটলান্টিক অথবা প্রশান্ত যদি সম্ভব না হয় তাহলে আরেকটি বিকল্প খুঁজে পাই! ছুটে যাই প্রকৃতির রঙের মহা সমুদ্রে!!!


হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ র্বণীল প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রকৃতি যে রঙের সমুদ্র সাজিয়ে বসেছে, ছুটে যাই সেখানে!
রঙের এই বর্ণাঢ্য মেলায় পৌঁছে প্রতিটি পর্যটকের হয়তো প্রথমেই মনে হয় কোন রূপকথার রাজ্যে চলে এসেছি! আর আমার মতো বুভূক্ষ মন নিয়ে যাঁরা গেছেন তাঁরা হয়তো নিঃশ্বাস নেবার সময়ও অতি সাবধান হন, স্বপ্ন ভঙ্গ হতে পারে ভেবে!


হাজার রঙের রাশির দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে হয়। চোখ ঝলসে যাওয়া সৌন্দর্য বললেও ভুল হবেনা। বেড়াতে আসা প্রতিটি মানুষের চোখে মুখে মুগ্ধতা, ভালোলাগা! অপরূপ সাজের নির্মল নিষ্পাপ টিউলিপের রাশি তাদের ঔজ্জল্য আর কিরণ ছড়িয়ে চারপাশের পরিবেশকে যেন উদার করে তুলেছে! সম্পূর্ণঅজানা অচেনারাও আলাপ পরিচয়ে মেতে উঠে যেন কতো দিনের চেনা! একসময় অবাক হয়ে লক্ষ্য করি উপস্থিত অধিকাংশ পর্যটকের সাথেই বন্ধুর মতো আলাপ হয়েছে। কোন বাগানটি বেশি সুন্দর, কোথায় কিভাবে যেতে হয়, কোন পথে গেলে সুইজারল্যান্ডের অপার্থিব রূপের কিছু ছটা নজরে কাড়ে, সবাই অতি পরিচিতের মতো এসব আলাপ করে গেছেন!


টিউলিপের অপরূপ সৌন্দর্য বরাবর মনে করিয়ে দেয় "দেখা এক খোয়াব তো ইয়ে সিলসিলে হুয়ে, দূর তাক নিগাহো মে গুল খিলে হুয়ে..."। সত্যিই তাই, যতোবার দেখি, প্রতিবার স্বপ্নপূরনের আনন্দ হয়, যতোদূর দৃষ্টি যায় শুধুই ফুলের শোভা যেন! বিমোহিত হয়ে যখন মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে আছি সেই সৌন্দর্যের দিকে, হঠাৎ একরাশ সবুজের দিকে নজর যায়! ভালো করে লক্ষ্য করে দেখি, ফুলগুলো সব কেটে নিয়ে গেছে, শুধু সবুজ গাছ রয়ে গেছে! কেটে নেয়া ফুলের ডাঁটার ক্ষতস্থানটি যেন বিষন্ন ভঙ্গীতে তাকিয়ে আছে! টিউলিপ সিজনের প্রায় শেষ সময়, শীঘ্রই সব ফুল কাটা হয়ে যাবে, এই রঙের সমুদ্রের মৃত্যু সন্নিকট!!!


মন খারাপ হলো। চোখ ফিরিয়ে নিলাম রঙের মেলার দিকে, যেখানে বিভিন্ন বর্ণের অগুনিত তারা হয়ে ফুটে আছে লক্ষ লক্ষ টিউলিপ। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের সমুদ্রে বিভিন্ন বর্ণের টিউলিপের উথালপাথাল ঢেউ! ... নিজের কথা, নিজের অস্তিত্বের কথা মনে হলো! মানুষের সাথে কি অদ্ভুত মিল! অপরূপা সেই ফুলগুলোর জন্য, ফুলের মতো মানুষের জীবনের জন্যই যেন বলা...

"তেরে য্যাসে লাখো আয়ে
লাখো ইস মাটি নে খায়ে
রাহা না নাম নিশান রে বান্দে
মাত কার তু আভিমান...."


কতো মিথ্যা মানব জীবনের অহমিকা!
কতো ভুল আর অর্থহীন ক্ষণস্থায়ী পার্থিব অর্জনের দম্ভ আর দাপট!!




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/28793400 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/28793400 2008-05-02 01:05:48
প্রথম আলোয় রাহেলা হত্যা মামলার সুবিচারের দাবী
সুবিচারের দাবীতে মানব বন্ধনের আয়োজনের অনুরোধ জানান অনেকে, সেই অনুরোধ সাড়া দিয়ে সবচেয়ে প্রথম এগিয়ে আসেন প্রথম আলোর বন্ধু সভা। দেশবরেণ্য লেখক, সাংবাদিক, জনপ্রিয় নাট্যকার আনিসুল হকের কাছে এই মানববন্ধনের উদ্যোগের জন্য আমাদের সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা।

রাহেলা হত্যামামলার সুবিচারের দাবীতে প্রথম আলোর বন্ধু সভা শনিবার একটি মানববন্ধনের আয়োজন করে।



মানববন্ধনের এই উদ্যোগের জন্য জনপ্রিয় নাট্যকার, সাংবাদিক আনিসুল হকের প্রতি আমাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা! পেশাগত কাজ, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নাট্যকারের ব্যস্ততা এবং সাম্প্রতিক দুর্ঘটনায় আহত হবার পরও, সময় করে রাহেলার মতো হতদরিদ্র বিস্মৃত এক নির্যাতিতার প্রতি অন্যায়ের সুবিচারের দাবীতে তাঁর এই মানবিক প্রচেষ্টার জন্য জানাই সশ্রদ্ধ সালাম।
উদ্যোগটি সফল ভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রথম আলোর বন্ধুসভার সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

আজকের প্রথম আলো

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্বাবিদ্যালয়
রাহেলার ঘাতকদের শাস্তির দাবীতে বন্ধুসভার মানব বন্ধন, স্মারকলিপি


আশা করছি এধরনের আয়োজন মামলাটির অভিযুক্ত প্রধান আসামী লিটনের গ্রেফ্তার ও অবিলম্বে মামলাটির সুবিচারে অনেকখানি সাহায্য করবে।

তাঁদের সকলকে আবারো আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

মানববন্ধনের তাৎক্ষনিক সংবাদ

মানববন্ধনের ভিডিও]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/28783783 http://www.somewhereinblog.net/blog/manobiblog/28783783 2008-03-30 13:54:57
আপনার একটি স্বাক্ষর আর মানববন্ধনে হাতে হাত রাখার অনুরোধ...

ব্লগার ফয়সল নোই অক্লান্ত পরিশ্রম করে মামলাটির বর্তমান দূরাবস্থার বিশদবিবরন নিয়মিতভাবে আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। দেশবরেণ্য সাহিত্যিক, সন্মানিত শিক্ষক, কিংবদন্তীতুল্য জনপ্রিয় ডঃ মুহম্মদ জাফর ইকবাল তাঁর অতি ব্যস্ত সময়ের মাঝে এই হতদরিদ্র মেয়েটির বিচারের দাবীতে তাঁর শক্তিশালী কলম ধরেছেন। তাঁর লেখনী বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কিছুটা হলেও টনক নড়েছে, মামলাটির হারিয়ে যাওয়া কিছু নথিপত্র যথাস্থানে ফিরেছে।

তবে, এখনো প্রধান আসামী লিটন গ্রেফ্তার হয়নি। রাহেলা মেজিস্ট্রেটের কাছে মৃত্যুর পূর্বে তাঁর জবানবন্দী দিয়ে গেছেন, সেই রেকর্ডটিও সম্ভবত নিখোঁজ। ঘটনার সময় পুলিশ কর্তৃক তালিকাকৃত আলামত সমূহ এখনও উদ্ধার হয়নি। ফলে এই নৃশংস হত্যাকান্ডের সুবিচার এখনও নিশ্চিত নয়।

জনপ্রীয় টিভি চ্যানেল "চ্যানেল আই" আজ মামলাটি সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রচার শুরু করেছে, ব্লগার ফয়সল নোইয়ের কাছে আবারো কৃতজ্ঞতা।




মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত, প্রধান আসামী লিটনকে অবিলম্বে গ্রেফ্তার এবং আলামত সমূহ ফিরিয়ে এনে এই নারকীয় হত্যাকান্ডের সুবিচারের অনুরোধ জানিয়ে করা পিটিশনটি অতিশিঘ্রই প্রধান উপদেষ্টার অধিদপ্তরে জমা দেয়া হবে। যাঁরা রাহেলার নির্মম হত্যার বিচার চান, তাঁদের প্রতি অনুরোধ আপনার মূল্যবান স্বাক্ষরটি যুক্ত করে এহেন নারকীয় হত্যাকান্ডের সুবিচার ত্বরান্বিত করুন। পিটিশনটিতে নিজে স্বাক্ষর করুন, ইমেইলের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিন আপনার পরিচিত বন্ধু, আত্মীয় সজনদের মাঝে, বিভিন্ন ফোরাম ও গ্রুপ মেইলে।


দেশবরেন্য সাংবাদিক, এসময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় নাট্যকার, লেখক শ্রদ্ধেয় আনিসুল হকের উদ্যোগে প্রথমআলোর বন্ধু সভা একটি মানব বন্ধনের আয়োজন করেছে। রাহেলাকে যেখানে পাশবিক ভাবে ধর্ষন করে হত্যার উদ্দেশে নির্যাতন করা হয়, আগামী ২৯শে মার্চ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অন্চলের ব্লগার, যাঁরা এই অমানবিক হত্যা কান্ডের বিচারের দাবীতে সোচ্চার, তাঁদের প্রতি অনুরোধ, সম্ভব হলে মানব বন্ধনে হাতে হাত রেখে এই নির্মম হত্যাকান্ডের সুবিচার নিশ্চিত করতে সহায়তা করুন।। একটি হিন্দি ছবি অথবা একটি নাটক দেখতে যে সময় ব্যয় হয়, হয়তো তার চেয়ে অনেক কম সময় ব্যয় করে এমন ঘৃণ্য অন্যায়ের প্রতিবাদ করে বিচার কার্য ত্বরান্বিত করতে পারেন।

ব্লগার ভাস্কর চৌধুরী অচিরেই সিলেট অন্চলে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত করার উদ্দ্যোগ নিয়েছেন, তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আরো কয়েকজন ব্লগার জানিয়েছেন তাঁদের পরিকল্পনার কথা, তাঁদের উদ্দ্যোগের সর্বপ্রকার সাফল্য কামনা করছি।

যাঁরা ঢাকার বাইরে আছেন, সম্ভব হলে নিজ নিজ এলাকায় মানব বন্ধন কর্মসূচী গ্রহন করুন। যেমন পরিসরেই হোক, মানব বন্ধনের আয়োজন করে আমাদের জানিয়ে দিতে পারেন। বিভিন্ন সংবাদপত্রের স্থানীয় প্রতিনিধিদের মানব বন্ধন সম্পর্কে আগে থেকে অবগত করে, বিষয়টি মিডিয়াতে প্রচারের চেষ্টা করুন। এসব ক্ষেত্রে কোন প্রকার সাহায্যের প্রয়োজন হলে, কোন প্রতিবন্ধকতার সন্মূখীন হলে এ যোগাযোগ করে আমাদের অবগত করার অনুরোধ রইলো।

ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন তাঁরা ব্যক্তিগত উদ্দোগে বিভিন্ন পোস্টের প্রিন্ট আউট লিফলেট হিসেবে বিলি করেছেন। কেউ কেউ ডঃ মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা অসাধারন কলামটির প্রিন্ট আউট মানববন্ধনে লিফলেট হিসেবে বিলি করার পরিল্পনা নিয়েছেন। প্রয়োজনে আমাদের মডেল লিফলেটটি ব্যবহার করা যেতে পারে। মানববন্ধনের উদ্দ্যোগ সম্ভব না হলে নিজ নিজ মহলে লিফলেট বিলির মাধ্যমে সকলকে সচেতন করে তোলার অনুরোধ রইলো।


ডঃ মুহম্মদ জাফর ইকবালের কাছে আবারো অশেষ কৃতজ্ঞতা। ব্লগার ফয়সল নোইয়ের নিষ্ঠা ও একান্ত প্রচেষ্টার জন্য তাঁ