somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোলেস্টেরল সম্পর্কে আপনার যা জানা দরকার (একটি প্রয়োজনীয় পোষ্ট)

০১ লা নভেম্বর, ২০১১ বিকাল ৩:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কোলেস্টেরল এক ধরনের চর্বিজাতীয় পদার্থ, যা মানবদেহের জন্য একটি প্রয়োজনীয় উপাদান। শরীরে নতুন কোষ তৈরিতে কোলেস্টেরল ভূমিকা রাখে। কেউ যদি প্রতিদিন বেশি কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার অথবা অতিরিক্ত পরিমাণ স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ করেন, তাহলে তার রক্তে স্বাভাবিকভাবেই কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। আর কোলেস্টেরল লেভেল বেড়ে গেলে ধমনীর প্রাচীর পুরু হয়ে অ্যাথেরোসকেরেসিস রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। শুধু তাই নয়, রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে করোনারি আর্টারি ডিজিজ, হার্টঅ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী রোগ হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। মানুষের শরীরে কোলেস্টেরলের চাহিদা মূলত দুটি উত্স থেকে পূরণ হয়—খাবারের মাধ্যমে এবং যকৃত্ থেকে। যকৃতে কোলেস্টেরল আগে থেকেই জমা থাকে। শরীর তার দরকারের সময় এই কোলেস্টেরল যকৃত্ থেকে নিয়ে নেয়।



কোলেস্টেরলের রকমফের

কোলেস্টেরল এক ধরনের প্রোটিনের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে রক্তের মাধ্যমে সারা শরীরে পরিভ্রমণ করে। এই প্রোটিন সংযুক্ত কোলেস্টেরলকে বলা হয় লিপোপ্রোটিন। লিপোপ্রোটিনগুলোয় বিভিন্ন ঘনত্বের প্রোটিন থাকে—উচ্চ ঘনত্ব, নিম্ন ঘনত্ব, নিম্নতর ঘনত্ব। এলডিএল বা লো-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিনকে বলা হয় খারাপ কোলেস্টেরল। কারণ এজাতীয় কোলেস্টেরল সহজেই মানবদেহের ধমনীগাত্রে জমা হতে পারে। এলডিএলে প্রোটিন কম থাকে, ফ্যাট বেশি থাকে। যার রক্তে এই ধরনের কোলেস্টেরল যত কম, অ্যাথেরোসকেরেসিস, হার্টঅ্যাটাক, স্ট্রোক ও অন্যান্য জটিলতা থেকে তিনি তত বেশি দূরে। এইচডিএল বা হাই-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিনকে কখনও কখনও বলা হয় ভালো কোলেস্টেরল। কারণ এজাতীয় কোলেস্টেরল ধমনীগাত্রে কোলেস্টেরলকে জমাট বাঁধতে দেয় না। এইচডিএলের বেশিরভাগ উপাদানই হলো প্রোটিন; যার সঙ্গে খুব অল্প পরিমাণ চর্বি মিশ্রিত থাকে। এইচডিএল রক্ত থেকে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলকে সরিয়ে দিতে সহায়তা করে। এটি রক্তের মধ্য থেকে খারাপ কোলেস্টেরলকে যকৃতে নিয়ে জড়ো করে এবং যকৃত্ এই কোলেস্টেরলকে শরীর থেকে বের করার কাজে সহযোগিতা করে। যদি আপনি হৃদরোগের ঝুঁকির মধ্যে থেকে থাকেন, তাহলে আপনার উচিত হবে রক্তের এইচডিএল কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধি করা। ট্রাই গ্লিসারাইড হলো এমন একটি কোলেস্টেরল, যাতে খুব অল্প পরিমাণ লিপোপ্রোটিন থাকে। সাধারণত রক্তে সামান্যই ট্রাইগ্লিসারাইড থাকে। বরং চর্বিকোষে ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি মাত্রায় জমা থাকে। রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে হার্টঅ্যাটাকের আশঙ্কা বেড়ে যায়।

কোলেস্টেরল বৃদ্ধির কারণ

রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার পেছনে কতগুলো ফ্যাক্টর কাজ করে। এই রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো দুই ধরনের হয়—নিয়ন্ত্রণযোগ্য ও অনিয়ন্ত্রণযোগ্য। নিয়ন্ত্রণযোগ্য রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো হলো ডায়াবেটিস, হাইপোথাইরয়ডিজম এবং খাবার। এছাড়া অতিরিক্ত ওজন, ব্যায়াম না করা, উচ্চমাত্রার স্যাচুরেটেড চর্বিজাতীয় খাবার আপনার রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। আর অনিয়ন্ত্রণযোগ্য রিস্ক ফ্যাক্টরের মধ্যে রয়েছে—বংশগত কারণে অনেকের শরীরে লিপিড ডিজঅর্ডার দেখা দিতে পারে। বয়স বৃদ্ধিজনিত কারণেও রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যেতে পারে। কুড়ি বছর বয়সের পর থেকে মানবদেহে কোলেস্টেরল লেভেল বাড়া শুরু করে। ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত পুরুষের দেহে কোলেস্টেরলের পরিমাণ মহিলাদের তুলনায় কম থাকে। তরুণ বয়সে মেয়েদের শরীরে ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ ছেলেদের তুলনায় বেশি থাকে।



কোলেস্টেরলজনিত উপসর্গ

কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট উপসর্গ নেই, যার ফলে রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে এটি সহজে বোঝা যায় না। কিন্তু উচ্চ কোলেস্টেরলের খারাপ প্রভাবজনিত কারণে অ্যাথেক্সেকেরেসিস, করোনারি আর্টারি ডিজিজ, স্ট্রোক, পেরিফেরাল আর্টারিয়াল ডিজিজ, অগ্নাশয়ের প্রদাহ প্রভৃতি কঠিন ও ভয়াবহ রোগ আপনার শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। এসব রোগের উপসর্গ দেখা দেয়ার আগেই সতর্ক হতে হবে। এর জন্য রক্ত পরীক্ষা করে দেখতে হবে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা। তা না হলে এমনও হতে পারে হার্টঅ্যাটাক বা স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর আপনি বুঝতে পারলেন রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ অতিরিক্ত পরিমাণে বেড়ে যাওয়ার কারণেই এমনটি ঘটেছে; যা জানলে আপনি আগে থেকেই প্রতিরোধ করতে পারতেন।



কোলেস্টেরলের পরিমাণ-নির্ণয়

রক্তের কোলেস্টেরল নির্ণয় করার জন্য চিকিত্সকরা দুই ধরনের পরীক্ষা করার জন্য রোগীকে পরামর্শ দেন। ফাস্টিং কোলেস্টেরল টেস্ট বা খালি পেটে কোলেস্টেরল টেস্ট ও নন-ফাস্টিং কোলেস্টেরল টেস্ট। ফাস্টিং কোলেস্টেরল টেস্টের আরেক নাম লিপিড প্রোফাইল। এই টেস্টে এইচডিএল, এলডিএল, ট্রাইগ্লিসারাইড ও টোটাল কোলেস্টেরল দেখা হয়। আর নন-ফাস্টিং কোলেস্টেরল টেস্টে দেখা হয় সামগ্রিক কোলেস্টেরল লেভেল ও এইচডিএল লেভেল বা ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ। চিকিত্সক প্রথমে নন-ফাস্টিং টেস্ট করতে দেবেন। এটির ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে তিনি লিপিড প্রোফাইল করতে বলতে পারেন।



কোলেস্টেরল কমানোর উপায়

কোলেস্টেরল কমানোর পদ্ধতি মূলত দুটি। প্রথমটি হলো—জীবন-যাপন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা; আর দ্বিতীয়টি হলো ওষুধের মাধ্যমে কোলেস্টেরল কমানো। জীবন-যাপন পদ্ধতির পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে চর্বিজাতীয় খাবার পরিহার, ধূমপান ছেড়ে দেয়া, অতিরিক্ত ওজন কমানো এবং ব্যায়াম করা। লাইফ স্টাইল পরিবর্তনে কাজ না হলে চিকিত্সক কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন। একই সঙ্গে কোলেস্টেরল কমানোর মতো খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও নিয়মিত ব্যায়াম করার জন্যও উপদেশ দেন। কোলেস্টেরল কমানোর দুটি পদ্ধতিরই মূল উদ্দেশ্য হলো—এলডিএল (খারাপ কোলেস্টেরল) কমানো এবং এইচডিএল (ভালো কোলেস্টেরল) বাড়ানো। অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ছাড়াও যাদের মধ্যে করোনারি আর্টারি ডিজিজের অন্যান্য রিস্ক ফ্যাক্টর বিদ্যমান রয়েছে কিংবা যারা এরই মধ্যে করোনারি আর্টারি রোগে ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে ওষুধের মাধ্যমে কোলেস্টেরল কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। করোনারি আর্টারি ডিজিজের প্রধান রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো হলো—উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, ডায়াবেটিস, রক্তে এইচডিএল কোলেস্টেরল কম থাকা, পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস, পুরুষের ক্ষেত্রে বয়স ৪৫-এর চেয়ে বেশি, মহিলাদের ক্ষেত্রে বয়স ৫৫-এর বেশি।



জীবন-যাপনে পরিবর্তন আনুন

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও নিয়মিত ব্যায়াম এ দুটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। অতিরিক্ত ওজন থাকলে কমাতে হবে। আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা থেকে চর্বিযুক্ত খাবার একেবারে বাদ দিতে হবে। খাদ্যতালিকা কী হওয়া উচিত, তা চিকিত্সক এবং ডায়াটেশিয়ানের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করলে ও অতিরিক্ত ওজন কমালে এইচডিএল (ভালো) কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং এলডিএল (খারাপ) কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞের মতে, প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ব্যায়াম করা উচিত। জীবন-যাপন পদ্ধতি পরিবর্তনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধূমপান ছেড়ে দেয়া, যদি আপনি ধূমপায়ী হয়ে থাকেন। ধূমপান এইচডিএল (ভালো) কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়, করোনারি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়



উৎস: দৈনিক আমার দেশ
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×