সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ কোঁতাকুঁতির খবর অন্য কারো জানা থাকলে আমাকে জানাবেন মেহেরবানি করে। কিন্তু আমার নিজেরই হয়তো দীর্ঘতম। প্রকৃতপ্রস্তাবে গতবছর জুলাই বা এরকম সময়ে নবলব্ধ বন্ধু এক ছোটকাগজের সম্পাদক তাঁর আগামী সংখ্যার জন্য একটা লেখা লিখতে বলেন। আমি অক্টোবরে ফাইল খুলি কম্প্যুমেশিনে, ইদানীং ফাইল খুলতে খুলতে হাত খুবই পাকা হয়ে গেছে। যাহোক, এর পরের মাসগুলো এক ইতিহাস। আমি কুঁতি, কেবলই কুঁতি ... আমার তামাম শব্দরাজ্য আর কাঙ্ক্ষারাজ্যের কাছে মলিন হয়ে গেছে। ফেব্রুয়ারিতে যে ফাইলটা শেষ করতে পারলাম সেটা দেবী সরস্বতীর অশেষ রহম। লেখাটার পয়লা অংশ আমার হালনাগাদ পাঠপ্রবণতা নিয়ে। এরকম:
"আমি পড়ি না। এই বচনটিকে অন্ততঃ তিনভাবে নথিভুক্ত করা যায়। এক, পাঠের নিয়মানুবর্তিতার অভাব থেকে যে ব্যক্তিত্ব গড়েছে আমার তাকে সামলাতে একটা আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা হিসেবে। দুই, পাঠের নিমিত্ত ও উৎসমুখ নিয়ে কোনোরকম বোঝাবুঝি আমার নেই, বা ছিল না। তিন, কিতাবসমূহকে একটা উৎপাদ-মাত্র হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি আমি, এমনকি এই দৃষ্টিভঙ্গির নৈরাজ্যবাদিতা উপলব্ধি সত্ত্বেও। এবং বহুকাল আমি পড়ি না। যা এবং যতটুকু পড়ি সেটা নেহায়েৎ এ ধরনের রচনা লিখবার স্বার্থে। ফলে পেশাদারিত্বের দিক থেকে আমি এমন একটা অবস্থার মধ্যে নিজের নিপতন ঘটাতে সমর্থ হয়েছি যেটা অবধারিতভাবেই আমার লেখক হিসেবে আমার সম্ভাব্য পাঠকবর্গের সঙ্গে একটা বিষমসঙ্গতিপূর্ণ যোগাযোগ তৈরি করে। এটা এমন একটা পরিস্থিতি যেখানে পাঠক গোড়াতেই আমাকে খারিজ করতে পারেন, এবং একেবারে নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে। পরিস্থিতিটা আমি উপভোগও করছি বটে।
নিয়মানুবর্তিতার অভাব থেকে যে ব্যক্তিত্ব আমার গড়ে উঠেছে তাতে নিজেকে খোদ আর চেনার উপায় নেই। একটা জেলা শহরের লাইব্রেরি থেকে সম্ভাব্য যত বই পারা যায় একদা আমি পড়ে ফেলেছিলাম। কেবল বাংলাতেই। কিন্তু পাঠের অনুশীলন একটা শ্রেণীগত প্রকরণ, এমনকি প্রায় গুষ্টিগত। আমার স্মৃতিতে বাবার মালিকানার তিনখানা বই আমি মনে করতে পারি যে তিনটাই আমি পেট ভরে পড়েছিলাম বার কয়েক -- পথের পাঁচালি, শ্রীমদ্ভাবগবৎ গীতা, এবং শিক্ষা-মনস্তত্ত্বের একটা বই। এই তিনখানার বাইরে আরও খানকয়েক বই তাঁর হয়তো থাকতে পারত, কিন্তু ৭১ পরবর্তীকালের বাবার স্মৃতিচারণে বই খুব দুর্লভ ছিল। তুলনায় মায়ের সংগ্রহে লঞ্চঘাট থেকে কেনা শরৎচন্দ্রের উপন্যাসের সুলভ ও জালিয়াতি সংস্করণ ছিল বিস্তর। সেগুলোর অন্যতম ক্রেতা বাবাও ছিলেন। এই ছিল আমার বই। উপশমহীনপ্রায় উদ্বাস্তু জীবনের মধ্যে পাড়াতুতো এমন কোনো পুস্তক সংগ্রাহক কাকা-চাচাও ছিলেন না যাঁর বই পড়ার অভ্যাস তামাম মুল্লুকে আলোচিত, কম্যুনিস্ট বন্ধুদের অনেকেরই শৈশবে যা সাধারণ প্রাপ্তি। ফলে পুস্তকপাঠের যে অভ্যাসটা আমি গড়ে তুলেছিলাম সেটাকে কঠিনই বলা চলে। কিন্তু সেই নিয়মানুবর্তিতা আমার গত হয়েছে। গত বহু বছর ধরে। এবং তা নিয়ে কোনোরকম আক্ষেপ করতে আমাকে দেখা যায় না।
অন্য দুটো লক্ষণকেও সহজে আলাপ করা যায়। যতই আমার বয়স বাড়ছে ‘কেন পড়ি’ ‘কেন পড়ব’ প্রশ্নগুলো বিস্তর বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। যতই অবাক লাগুক না কেন, এই প্রশ্নের একটাও সদুত্তর আমার নেই আর। তেমনি পুস্তককে আমি দেখতে শুরু করেছি প্রায় আর পাঁচটা টুথপেস্ট, টেলিভিশন, টফি বা টেলিফোন-সিমের মতোই একটা উৎপাদ হিসেবে। এই দেখায় অন্তঃসারশূন্যতার সুগভীর নৈর্লিপ্তি যেমন আমাকে তৃপ্তি দেয়, তেমনি এই দেখায় উপলব্ধির নিশ্চিত তীব্রতা আমাকে এই দেখনপ্রণালীতে আরও আরও লিপ্ত করে তোলে। ভাবনার এই বিশেষ রকমটি নিজের লেখক সত্তাকেও গুরুতরভাবে বিপর্যস্ত করে। করবারই কথা।
তথাপি এই রচনা। একটা দীর্ঘ সময় ধরে আমি নিজেই উপলব্ধির চেষ্টা করেছি এই রচনাটিতে আমি ব্রতী কেন। সম্পাদক তরফে আগ্রহ দেখানো মোটেই যথেষ্ট কারণ নয়, বিশেষতঃ জিজ্ঞাসাটিকে যদি এযাবৎ-কথিত পাটাতনের উপর ফেলা হয়। সুগভীর নৈর্লিপ্তি এবং নিশ্চিত তীব্রতা আমার লেখকত্বকে ম্লান করছে কেবল তাই নয়, তা এর যতই ঐতিহাসিক লঘুত্ব থাকুক না কেন, এই নৈর্লিপ্তি ও তীব্রতা তামাম চারপাশের লেখকত্বকেও চূড়ান্ত বিচারে অর্থসংকটে ফেলেছে। এরকম আলাপ জনসমে হাজির করা বিপজ্জনক, অন্ততঃ যদি আমি নিহিলিজমের দায় নিতে না চাই। কিন্তু এই আলাপ ছাড়াই বা আমার উপায় কী?! যে গ্রন্থের উছিলায় আমার লিখতে বসা, সেই গ্রন্থ কই?! হ্যাঁ, সম্পাদক আমাকে একটা ফোটোকপি পৌঁছে দিয়েছেন বহু আগে, একান্ত আন্তরিকতায়। কিন্তু গ্রন্থটা পাঠে আমার মন ছিল না। অনেক কসরৎ করতে হয়েছে। কীসে আমার মন ছিল? কিন্তু অন্যদেরও কি এই গ্রন্থপাঠে আর মন আছে? তাহলে এটা আর খোলাবাজারে তেমন পাওয়া যায় না কেন? জাদুঘরে চলে যাওয়া সাহিত্যকর্ম নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কী হওয়া দরকার? অন্ততঃ হালের এই উল্লম্ফিত কালে? এসকল প্রশ্ন আমাকে আচ্ছন্ন করে। আমি জবাব খুঁজি। পরিশেষে আমি নিশ্চিত হই না যে এই রচনা উছিলা গ্রন্থখানার সাথে আদৌ কতটা সম্পৃক্ত। কিন্তু এই কালে বসে রচনার পক্ষে আর কীইবা হওয়া সম্ভব ভাবনার খণ্ডবিশেষ হওয়া ছাড়া -- ঠিক ওই মুহূর্তে চিন্তার ফ্রাগমেন্টস। আবার রচনার মুহূর্তগুলির নিরন্তর একটা প্রবহমানতা নেই। একটা আধাকৃত রচনায় পুনর্বার ঢুকে কীভাবে কাক্সিত প্রবাহে ফিরি আমরা?! কিংবা যেখানে যাই সেটা কি আর একটা টুকরা হয়ে দাঁড়ায় না -- অনুভূতিমালার? এইসব বিস্রস্ত ভাবনারাজির মধ্যে আমার [অ]পাঠ। ..."
এই পর্যন্ত এদ্দিন আমার ব্লগে ছিল। কয়েকজন পড়েছিলেন। মূল লেখাটি আমি আবার পড়লাম। সেটা একটা উপন্যাস নিয়ে লেখা। আমি একটা পদ্ধতিগত প্রশ্ন দিয়ে উপন্যাস বিষয়ক আলাপ শুরু করেছিলাম। সেটা এবারে সংযোজিত করি।
মধ্যবিত্ত মননে নদী, এবং নাব্যতার ইতিহাস
.... এটা কি কাকতালীয় যে বাংলা সাহিত্যে মুখ্য বলে বিবেচিত সকল সাহিত্যিকেরই গড়পরতায় নদী-আশ্রয়ী প্রধান দু' একটা উপন্যাস আছে? এক হিসেবে প্রশ্নটি কূটাভাসপূর্ণ। আকাশ-পাতালের মধ্যে নদী, গাছ, পাখি কিংবা প্রেম -- খুঁজলে তো সব বিষয়েরই একাধিক উপন্যাসকার পাওয়া যাবে। তাহলে আলাদা করে নদীর কথা তুলে অহেতু-গুরুত্ব আমি দিচ্ছি কিনা সেই প্রশ্ন আসতে পারে। আমার ধারণা, কিছু অবধারিতকে ঠাহর করে নেয়াই কাজের। এবং সেখান থেকেই আমার প্রস্তাবনাটাকে দেখা সম্ভব; প্রস্তাবনাটি বিশেষ চমকপ্রদ কিছুও নয়। সেটি হচ্ছে, উপন্যাসে নদীর কেন্দ্রিকতা গড়ে উঠেছে একটা অনড় নদীরূপ অনুধাবন করার মধ্য দিয়ে, এমন এক নদী যা অনৈতিহাসিক বা এ-হিস্টরিক্যাল এবং যা পূর্বতন কাহিনীমালার বয়ানের শরীর থেকেই কেবল উৎসারিত।
বাংলা অঞ্চলে নদীময়তা সুপ্রাচীন। জনপদের ধারণা এখানে নদীর উপস্থিতি বাদ দিয়ে অসম্ভবপ্রায়। অন্যভাবে বললে, জনপদ নিয়ে দৃশ্যকল্প নদীর উচ্চকিত উপস্থিতি সমেতই গড়ে ওঠে। বিস্ময়কর নয় যে, নগরের যে শিশু কদাচিৎ গ্রামে গেছে সেও ছবি আঁকার কালে এমন এক গ্রামের ছবি আঁকে যার মুখ্য উপাদানগুলোর একটা নদী। জল এবং জলজতার মায়াবী সত্তা নদীকে গ্রাহ্য করে তুলেছে দৃশ্যকল্পতার নির্মাণে -- ছবিতে কিংবা শব্দে। কিন্তু একটা প্রকরণ হিসেবে এটা ভাবার মতো যে নদীরূপের আবর্তন সাহিত্যের চিত্রকল্পে অপরিবর্তনীয় এক আভাস গ্রহণ করেছে। ভাঙন ছাড়া নদীকে এখানে চেনা যায় না, ত্রেবিশেষে ভাঙন ছাড়া আর কিছু এখানে নেই। নদীর অস্তিত্ব এর ধ্বংস সামর্থ্যরে মধ্য দিয়েই চিত্রিত। বিপরীতে, চরের উন্মেষও রূপকল্পমালায় মৌলিক। সেই হিসেবে ভাঙন এবং সৃজনের এই জোড় নদীসত্তা গঠনে বাংলা সাহিত্যে কেন্দ্রীয়। প্রশ্নটা এটার নয় যে এই জোড় প্রাসঙ্গিক কিনা, প্রশ্নটা বরং এখানে প্রোথিত যে কীভাবে এই ভাঙন-সৃজনের এই জোড় বাংলা সাহিত্যে নদীকে একটা অবধারিত পরিচয়ে অবরুদ্ধ করে ফেলেছে। প্রবণতাটি খোদ নদীটির চেয়েও নদী সম্পর্কিত মীথকে আশ্রয় করে থাকে।
চূড়ান্ত বিচারে আমার প্রস্তাবনাটি হলো, নদীর নাব্যতা উপেতি প্রপঞ্চ। এমন নয় যে নৌকাযোগে মানুষ এখানে ওখানে যাচ্ছে সেই দৃশ্যকল্প পাওয়া যাচ্ছে না। বরং উল্টোটাই। কিন্তু নদীর নির্ধারক যে বৈশিষ্ট্য কাহিনীমালার মুখ্য যোগসূত্র সরবরাহ করে তা নদীর নাব্যতাগুণকে আশ্রয় করে ঘটে না। ঘটে এর ভাঙন-সৃজনের ওই জোড়টাকে ঘিরে, যেটাকে সাহিত্য-মীথ হিসেবে দেখার প্রস্তাব আমার। খতিয়ে দেখলে, বাংলা অঞ্চলের গান নদীর নাব্যতা নিয়ে অনেক মনোযোগী, অনেক উৎসুক। প্রবলধারার সাহিত্য নয়। আবু ইসহাক-এর এই উপন্যাসখানাও এর থেকে ব্যতিক্রম নয়। এক হিসেবে আবু ইসহাকের পদ্মা মাণিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মার আশু উত্তরাধিকার, কিছু আগে যে বিষয়ে আমি বলছিলাম। আবার গাঢ় বিচারে মাণিকের পদ্মা আরও নাব্যতাময়। সেটা, আশ্চর্যের নয় যে, উপন্যাস দুটোর নামের মধ্যেই উদ্ভাসিত। এমনকি বিভূতির নদী ইছামতীও এর থেকে নাব্যতাময়। নদীর নাব্যতাগুণ উপন্যাসের মুখ্য প্রেরণা না হলে আমার হাঁসফাঁস লাগে।
একটা কূটাভাস বা ফ্যালাসি এখানেও আছে। নদীর নাব্যতা তো ক্রমহ্রাসমান এক প্রপঞ্চ বাংলা মুল্লুকে। ফলে বাহ্যগ্রাহ্যে এমন ভাবা অসঙ্গত না যে হ্রাসমান একটা গুণকে ফিকে করে দেখার অধিকার লেখকদের রয়েছে, তেমনি নদীর ভাঙন-সৃজন জোড়কেই মুখ্য গুরুত্ব দিয়ে কিতাব-রচনার। কিন্তু সেখানেই বরং মধ্যবিত্ত সাহিত্যিকের দায়িত্ববোধ আরও গুরুত্বপূর্ণ। জানা মতে, এমনকি মুঘল শাসকেরা পর্যন্ত বাংলা মুল্লুকের নদীর নাব্যতাহ্রাস নিয়ে ভাবিত ছিলেন। সেইমতো কিছু সংস্কার কাজও তাঁরা হাতে নিয়েছিলেন। তাতে জনহিতকর উদ্দেশ্য থাকুক কিংবা নাই থাকুক সম্পূর্ণ এক ভিন্ন জিজ্ঞাসা সেটা। নদী এবং বন্যা বিশ্বব্যাঙ্ক এবং বিশেষজ্ঞদের নজরে পড়ার আগে পর্যন্ত এই বাস্তবতার চেহারা ছিল স্বতন্ত্র। আর, একথা এখন চিন্তক মাত্রই খোঁজ রাখেন যে, বিশ্বব্যাঙ্কের হিতকর দৃষ্টি পড়বার পর নদীকেন্দ্রিক সংকটটি একটি চিরস্থায়ী মাত্রা লাভ করতে বসেছে। এই প্রপঞ্চগুলোর সাহিত্যানুগ অধিগ্রহণ কীভাবে হতে পারে সেটা একটা নিরন্তর ভাবনা হিসেবে আমার মাথায় ক্রিয়া করে। এমন নয় সহজ কোনো ফয়সালা আমার রয়েছে। বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য এই উপন্যাসটির প্রোপটেও। প্রাথমিকভাবে, উপন্যাসটি রচিত হয় এমন এক কালিক প্রোপটে যেটা নদীকেন্দ্রিক উন্নয়নচর্চার যথেষ্ট মোচ্ছবকে ধারণ বা অনুধাবন করে না। ৪০-এর দশক। কিন্তু আবার উপন্যাসটি রচিত হতে শুরু হয় এমন কালে যখন, ৬০-এর দশক, যখন নাব্যতার সামাজিক-রাজনৈতিক দিক একটা জ্ঞাত প্রপঞ্চ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং লেখকের সে বিষয়ে অবহিত থাকার কথা। এই আলাপের মধ্য দিয়ে আমি লেখককে বাড়তি কোনো দায়গ্রহণে পীড়াপীড়ি করছি না। এমনকি সাহিত্যপাঠের উছিলায় একটা সামাজিক অনুযোগ পেশ করতেও বসিনি। আমার এখানে বক্তব্য সামান্য। নদীকে অনুধাবনের গড়পড়তা চর্চা খোদ সাহিত্যেরই যোগান-দেয়া রূপকল্পগুলোকে আশ্রয় করে -- সাহিত্যিক মেটাফরের শরিকি উপযোগবাদ। এই নদীর উৎপত্তি, কুলুজি খোদ সাহিত্য-আর্কাইভ এবং কল্পজগতের কাছেই ঋণী।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৩:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


