ইনফুয়েঞ্জা
সকালে যখন রোদ্দুর উঠেছে কাঁসার মতন
আমি বেমালুম ভুলে গেছি সব, গত দুদিনের ধোঁয়াশায় ভরা সব ভাবনা।
গুলিস্তানের ফুটপাতে কেনা বিলাতি কম্বলের সব রোঁয়া এখনো উঠে যায়নি, তার ভেতরে শুয়ে শুয়ে কফালো গন্ধে আমি ছটফট করেছি। তখনই ভাবলাম কবে আবার সেই কাঁসা-রোদ উঠবে আর আমি ছাদের এধারে--
আমার কম্বলখানা রোদে দেব।
রোদ্দুর অন্তত শ্লেষ্মার গন্ধ থেকে আমায় ছুটি দেবে।
ইউরোপের সহকর্মী বাংলাদেশী রোদ্দুরের তারিফ করছিল। আর আমি
তখন পরম আনন্দে বহুদিন পরে জাতীয়তাবাদী হয়ে গেছিলাম। তারপর আবার যখন কম্বলের ভেতরে শুয়ে শুয়ে
শুকনা বিস্বাদ পাঁউরুটির দুঃস্বপ্ন দেখি--
আমার মনে ঘুমছোটা প্রশ্ন ঠেলা দেয়
রোদেরা কি কখনো জাতীয়তাবাদী হয়, কিংবা পাঁউরুটিরা?
আজকের রোদ্দুরে পয়লায় পাঁউরুটির কথা, তারপর এমনকি কম্বলের কথা ভুলিয়ে দিল। আর আমি চাদর মুড়ে কাঁসা-রোদে নেমে পড়ি। এপাড়া ওপাড়া আমার ঘোরাঘুরির নিমিত্ত শুধু রোদ--কিংবা অন্যকিছু আমার তা মনে পড়ে না। কোথাও কফালো গন্ধগুলো নেই।
চাবি ঘুরিয়ে দরজার পাল্লা খুলতেই আমার মনে পড়ে যায় কম্বলের কথা--
শ্লেষ্মার গন্ধের কথা। অথচ আবার কাঁপুনি উঠতেই আমি কম্বলের ভেতরে ঢুকে পড়ি আর আবার রোদ্দুরের কথা ভাবতে থাকি।
কম্বলটা রোদে দিতে হবে।
.....
শ্যামলী, ঢাকা।। ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

