প্রসঙ্গসূত্র জা.বি.: প্রতিরোধ প্রায়শই এনার্কিক; প্রায়শই লাইফস্টাইলে পরিসীমিত; কিন্তু অনেক অপশনও তো খোলা নেই ...
১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৩৪
পাদটীকা শিরোধার্য
অনুরোধের আসরে গান গাইবার অভ্যাস আমার ছিল। কিন্তু অনেক ভেবেচিন্তে ঠিক করেছিলাম লেখালেখির জগতে কিছুতেই অনুরোধে ঢেঁকি গেলা অভ্যাস গড়ে উঠতে দেব না। শক্ত একটা মনের মালিকানার কারণে এবং মুখ্য দৈনিকসমূহের প্রিয়পাত্র না-হবার কারণে আমার পক্ষে এই ফয়সালা অনুযায়ী আমার চলতে সমস্যা হয় না। তারপরও মাঝেমধ্যে হঠাৎ আবিষ্কার করে ফেলি যখন আমার গড়িয়ে গড়িয়ে আলসেমি উপভোগ করার কথা তখন আসলে কোনো একটা তারিখসীমা খচখচ করছে। এবং উপরোধটা না রাখলেও চলত। ততক্ষণে একটা প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়ে গেছে। নিতান্ত সাধারণ কাজ হয়তো। আমার মুকুটে তেমন কোনো পালক সংযোগও তা ঘটাবে না। এমনকি অনুরোধে রাজি হবার কারণে ও ধরনে সম্পাদক বড়জোর আমাকে আরও ছোট লেখক মনে করলেন যতটা মনে করে যোগাযোগ করলেন তার থেকেও। তারপরও সেটার তারিখসীমার কামড়ানি আমি খেয়ে চলেছি। আমার এই নিতান্ত আহাম্মুকিজনিত কাজবৃদ্ধিকে আমি 'কচু লাগিয়ে চুলকানি' হিসেবে দেখি। কিন্তু হয়। নৃপ অনুপের অনুরোধে এ দফা আমি লিখতে বসিনি। কিন্তু তিনি যে অনুরোধ করেছেন সেটা স্বীকার না-করা অস্বস্তির কারণ হবে।
মূলপ্রসঙ্গ পাদদেশে
জা.বি. শিক্ষক সমিতি বেশ কয়েকটা মীটিং করেছে। সবগুলোর তারিখ ঠিকঠাক মতো দিতে গেলে আমার আবার অহেতু কিছু লিপিমালা এদিক সেদিক থেকে যোগাড় করতে হবে। কিছু অধ্যাপক ছানোয়ার হোসেন-কে কথিত সেই মারধরের ঘটনার রাত্রিতেই সিন্ডিকেট তড়িঘড়ি ৬ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করার পর শিক্ষক সমিতির নেতৃবর্গের (একাংশের) মূল লক্ষ্য ছিল শাস্তিটাকে পাকাপোক্ত করার। আবছা আমার মনে পড়ে ২১শে অক্টোবর ঘটেছে কথিত পিটাপিটির ঘটনা। ওই রাত্রেই সিন্ডিকেটের বহিষ্কার এবং পরদিন শিক্ষক সমিতির জরুরি সভায় ২৯ তারিখের সীমারেখা বেঁধে দেয়া হয়েছিল। মূল দাবি ওই ৬জনের সবধরনের সদনবাতিল সমেত বহিষ্কার। কোনো এক কারণে, যদ্দুর মনে পড়ে, ২৯তারিখের সময়সীমার পর শিক্ষক সমিতির সভা বসতে বসতে ০৬ই নভেম্বর হয়। এবং সম্ভবত ওই তারিখ থেকেই শিক্ষক সমিতি অনির্দিষ্ট কালের জন্য দিনে এক ঘণ্টা অন্ততঃ কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কর্মবণ্টনে এই ঘণ্টা গুরুতর কোনো আছর ফেলার সম্ভাবনা নেই কিন্তু সিদ্ধান্তটির তাৎপর্য অন্যত্র। নিশ্চয়ই সেটা বোধগম্য। এখানে উল্লেখ করার মতো আরেকটি বিষয় হচ্ছে এই যে শিক্ষক সমিতির সভায়/সভাগুলোতে কিছু শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে এবং না-করে ব্যাপক নিন্দামন্দ করা হয়েছে। আল্লাহ সাক্ষী যে এই নিন্দামন্দের টার্গেটদের একজন আমার না হয়ে উপায় নেই। আমাদের অপরাধ মূলত এই যে একজন সহকর্মীর প্রহৃত হওয়ার ঘটনাকে আমরা 'পরিকল্পিত'ভাবে অন্য দিকে প্রবাহিত করতে চেষ্টা করছি। এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের 'যোগসাজশ' আছে।
বটেই তো! আমাদের সম্পর্ক আছে তো! আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আছে। আন্দোলন থামানোর জন্য যে পেটোয়া বাহিনী নামানো হয়েছে তাদেরও আমরা শিক্ষক। শিক্ষক সমিতিরও আমরা এখনো অবহিষ্কৃত-থাকার-সুবাদে সদস্য, ফলে সহকর্মীদের সঙ্গেও আমরা সম্পর্কিত। এমনকি যে বেচারা ছানোয়ার হোসেন প্রহৃত হয়েছেন বলে জানা যায় তাঁরও আমরা দুর্ভাগা সহকর্মী।
আমাদের এই 'আমরা' ঐতিহাসিকভাবেই ঘন একটা বস্তুপিণ্ড নয়। অন্ততঃ জনাব ছানোয়ার হোসেন-এর এই 'দুর্দিনে' যাঁরা এগিয়ে এসেছেন সেই পেশাজীবী শিক্ষকদের মতো ঠাসাঠাসি করে পরস্পর একত্র-থাকা মাস্টার আমরা নই। আমাদের দরকার পড়ে না। যে যার ক্লাস আর গার্হস্থ্য অর্থনীতি সামলে সুমলে চলি। প্রতি সন্ধ্যায় পানি-পড়া আনতে কারো দরবারে যাওয়া লাগে না। কারো চোখের দিকে তাকিয়ে হাসতে আমাদের সমস্যা হয় না। আবার কখন কী কর্তব্য তা ঠিক করার জন্য ক্যাম্পাসে বা বাইরে কারো বাসায় দমবন্ধ উত্তেজনায় বসে থাকতে হয় না। কিংবা ক্যাম্পাসের ঠিকাদার মাস্তান দলের (বা দলদ্বয়ের) সঙ্গে বৈঠক করার দরকার পড়ে না। তারপরও 'নেতৃবর্গীয়' শিক্ষকদের কাছে আমরা হচ্ছি 'আমরা'।
জনাব ছানোয়ার হোসেন-এর মওকুফপ্রাপ্তি এবং ৬জন শিক্ষার্থীর শাস্তি (মওকা পেলে আরও শিক্ষার্থী এই তালিকায় চলে আসতে পারেন কিন্তু) গভীরভাবে সম্পর্কিত বিষয়। এটা ক্যাম্পাসের ইতিহাস সম্পর্কে ক্রিটিক্যাল একটা দৃষ্টিভঙ্গি থাকলেই কেবল বোঝা সম্ভব। যাঁরা জনাব ছানোয়ার হোসেন-কে পিটিয়েছেন তাঁরা কাজটা ভাল করেননি। খুবই খারাপ কাজ করেছেন। উপরন্তু, এটা করার মাধ্যমে নির্জীব এবং গতিমুখহীন শিক্ষক রাজনীতি (পড়ুন কোস্তাকুস্তি, দলবাজি, গদি দখলের ছ্যাঁচড়া লড়াই) চাঙ্গা করে দিয়েছেন। জনাব ছানোয়ার হোসেন-এর মার খাবার অছিলায় ময়দানে নেমেছেন এমন একদল শিক্ষক যাঁরা সদ্যগদিবিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যের গদিবিযুক্তিকে বেদনার সঙ্গে নিয়েছেন। যাঁরা সেই ভদ্রলোককে আবার চালক-আসনে দেখতে চান (এবং ভদ্রলোক নিজেও তাই চান; বা অন্তত ক্যাম্পাসের ক্ষমতা-ক্রীড়ায় মুখ্য চালিকাশক্তি থাকতে)। পক্ষান্তরে যেসব শিক্ষক 'নেতা' এই অংশের লোক নন তাঁরা নিজেদের জড়ো করে পুষ্ট হয়ে উঠতে চাইছেন। লক্ষ্য রাখা দরকার, অধ্যাপক ছানোয়ার প্রপঞ্চ তাঁদেরকে আর কিছু না হলেও গোলাম মোস্তফার কেইসটা আবার চাঙ্গা করে দেবার সুযোগ দিচ্ছে যে মোস্তফা আবার সেই অংশের লোক। 'হতভাগ্য' শিক্ষক ছানোয়ার হোসেন এখানে একটা উছিলা মাত্র।
এটাও এখানে মনে রাখা দরকার যে ক্যাম্পাসের প্রশাসন ও অপ্রশাসনিক ক্ষমতা বলয়ের মানুষজনের সবচাইতে সমস্যা হয় ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের বাইরে-থাকা অপরাপর রাজনৈতিক দলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এবং 'সাধারণ' শিক্ষার্থীদের নিয়ে। স্ট্যাটাস-ক্যুও বজায় রাখার জন্য রাজনৈতিক 'শৃঙ্খলা' বজায় রাখা যে জরুরি সেটা তাঁরা অভিজ্ঞতা (ও মুৎসুদ্দিপনা) দিয়ে জানেন। ফলে সাধারণভাবে 'আন্দোলন'পন্থী শিক্ষার্থীদের সুযোগ পেলেই দু' ঘা লাগিয়ে দেয়া একটা বহুকালের-চর্চা। এই জায়গাতে গদিপন্থী সকল শিক্ষকনেতাই মিত্রপক্ষ তা তাঁদের নিজেদের মধ্যে যতই না কেন কোন্দল থাকুক। জনাব ছানোয়ার হোসেন-কে আঘাত করে এই জাতীয়তাবাদী কিসিমের জোস উস্কে দিয়েছেন ওই শিক্ষার্থীরা (এক ইয়ে লোকান্তরে, লক্ষ ইয়ে ঘরে ঘরে ... এরকম আরকি!)। সেটা বিচক্ষণ কাজ হয়নি।
"ক্যাচ মী ইফ য়্যু ক্যান"
এরকম একটা পরিস্থিতিতে আপনার তৎপরতা যদি এই চরদখলের রাজনীতিতে সামিল করতে না চান পেশাজীবী হিসেবে তাহলে আপনি কী করবেন? অনেক রাস্তা খোলা নেই। থাকে না। প্রাতিষ্ঠানিক আমলাতন্ত্রের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় এবং রাষ্টোর্ধ্ব কারকপক্ষের যে জটিল যোগাযোগ সেগুলো হিসেব কষে দেখার বিষয় আছে। এটা একটা ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ যে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় আজকের জায়গায় এসেছে এবং কেন এই জায়গায় চাইলেই আপনি প্রতিরোধের জন্য একগাদা লোক সঙ্গে পেয়ে যান না। এই অবস্থায় গুরুতর আলাপ না করেই আপনি কিছু কাজ করতে পারেন। অবশ্যই আপনার চালচলনে, কথায়-বলনে একটা স্পর্ধা বয়ে বেড়ানোর কাজ। এটা সম্ভবত লাইফস্টাইল এনার্কিজমের মধ্যে পড়ে। এটা অনেকটা এই কথা অব্যক্তভাবে বলার মতো: "আপনাদের পারস্পরিক মাসল দেখানোর এই ঘোষণা আমি থোড়াই কেয়ার করি। আমি আমার মতো করে এখানে আছি। কাজ করছি। পারলে আমাকে ধরেন।"
দীর্ঘকালীন কোনো ফয়সালা এটা নয়। তা কোন আন্দোলনই বা ফয়সালা?! ফয়সালা হয় না বলেই তো আন্দোলন!
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
ঠিক আছে।
লেখক বলেছেন: বাহ্। ধন্যবাদ। আপনি বেঠিক বললে তো আমার লেখালেখি বন্ধ করে রোজা রাখতে শুরু করতে হতো। ভাগ্যিস...
সাদা কাগজ বলেছেন:
দীর্ঘকালীন কোনো ফয়সালা এটা নয়। তা কোন আন্দোলনই বা ফয়সালা?! ফয়সালা হয় না বলেই তো আন্দোলন!
সরপ বলেছেন:
সুন্দর পষ্ট।
কৌশিক বলেছেন:
"আপনাদের পারস্পরিক মাসল দেখানোর এই ঘোষণা আমি থোড়াই কেয়ার করি। আমি আমার মতো করে এখানে আছি। কাজ করছি। পারলে আমাকে ধরেন।" - প্রতিরোধের চমৎকার একটা অবস্থান বটে।
রাজর্ষী বলেছেন:
দুই দলের বিষয়াদি সবারই জানা, সারা দেশে এইরকম খারাপই, যার কোন ভালো দিক নাই মনে হয়। আর আন্দোলন কারীরা সবসময়ই মনে হয় ১০০% ভালো যার কোন খারাপ দিক নাই। ব্যাপারটা কল্পনা করতে ভাল লাগে কিন্তু এটা কি বাস্তব সম্মত?
লেখক বলেছেন: আমার মনে হয় আমি যে আন্দোলনকারীদের উকিল হয়ে লিখতে বসি নাই সেটা লেখাতে স্পষ্ট। দুই দল মানে কি আপনার কাছে লীগ আর দল? উহুঁ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দলাদলি এর থেকে অনেক জটিল; জাহাঙ্গীরনগরে তো বটেই।
মনির হাসান বলেছেন:
... একটা সুস্থ্য জাতির জন্য কিছু বেয়াদপ ছেলে দরকার ... চরম বেয়াদপ ।... বোধ সম্পন্ন বেয়াদ্যপ ছেলে ।
লেখক বলেছেন: জাতির জন্য জাতীয়তাবাদীরাই ভাবুক মনির। সুস্থতার জন্য ডাক্তাররা ভাবুন। তবে বেয়াদপি নিয়ে ভাবা যায়...
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
''আপনাদের পারস্পরিক মাসল দেখানোর এই ঘোষণা আমি থোড়াই কেয়ার করি। আমি আমার মতো করে এখানে আছি। কাজ করছি। পারলে আমাকে ধরেন।''একদমে পড়া যায় এমনতর এই বাক্যের মধ্যে আপনার অবস্থানটা যে লাইফস্টাইল এনার্কিস্ট, তা বোঝা যায়। এটা সেই ব্যক্তি নিতে পারে যার সেই সামর্থ্য রয়েছে। বাংলাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা সবচেয়ে বেশি করে এমন তাকদ রাখেন। কিন্তু যার সেটা নেই, সেই প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীরা কিংবা সেই নির্যাতিত মেয়েরা, তাদের পক্ষে কি বলা সম্ভব: পারলে আমাকে ধরেন? সম্ভব না, কারণ তারা ঐটুকু ব্যক্তিগত অবস্থানগত ক্ষমতার অধিকারি নয়।
তাই তাদের থাকতে হয় সম্মিলিত ভাবে, সংগঠন করতে হয়, দলবদ্ধ আন্দোলন করতে হয়। আবার দল-লীগের ছাত্রদের বেশিরভাগেরও ওটাই করা লাগে। কারণ, সিট, বুক ফুলিয়ে চলা, পকেট খরচ জোটানোসহ যাবতীয় অভাব ও বাসনা মেটানোর একমাত্র পথ হচ্ছে দলবদ্ধ থাকা, দল-লীগ করা, ক্ষমতাবানদের চামচামি করা। তাদের জন্যও লাইফস্টাইল এনার্কিজম একটা বিলাসিতা।
তৃতীয়ত, লাইফস্টাইল এনার্কিজম কি আসলেই কিছু পাল্টায়? এ নিয়ে কথা বলবার ফুরসত রয়েছে। আপনার অপেক্ষায় রইলাম।
লেখক বলেছেন: কিন্তু ওয়াসিফ, আমি তো "সামর্থ্য"ওয়ালা পেশাজীবী হিসেবেই আছি, এবং লিখেছি। "নির্যাতিত" মেয়েদের হয়ে লিখতে বসি নাই। দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে আপনি যা লিখেছেন তাতে আমি বুঝতে পারলাম দল-লীগের বেশিরভাগই [লাইফস্টাইল] এনার্কিস্ট, ফলতঃ আমার মিত্রস্থানীয়। তাঁরাও যদি সেটা বোঝেন আমার সুবিধাই হবে, আশা রাখি।
আপনি, পরিশেষে, প্রশ্ন রেখেছেন: "লাইফস্টাইল এনার্কিজম কি আসলেই কিছু পাল্টায়?" আমার মনে হয় এখানে আপনার প্রয়োগকৃত "কিছু"টাই আসলে মূল জায়গা। কোন কিছু কোন সময়ে কোন পদ্ধতিতে দেখছি তার প্রশ্ন বোধহয়। তবে এই প্রশ্ন নিয়ে আলাপের জন্য আমি যথার্থ লোক না। কিন্তু সাধারণভাবে অনুভব করি যে চারপাশে এত লিবেরেল নর্মশাসিত লাইফস্টাইল-ওয়ালা লোক/আন্দোলনকারী যখন তখন আসলে "কিছু" হয় কি না হয় বোঝার সুযোগও কম।
তৈমুর রেজা বলেছেন:
লেখাটি আরম্ভিক পর্যায়ে, শিরোনামের কারণে, খুব স্ফূর্তির হবে মনে হচ্ছিলো। শেষতক কিছু ফূর্তি হইলো, খানিকটা অব্যক্ত রয়ে গেলো।লেখার সাহসের তড়পানি সুস্থ হাওয়া ধরে আনে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের মনে রাখতে হবে, রেহনুমা আহমেদ নৃবিজ্ঞান বিভাগে থাকতে পারলেন না। এই কারণে আমার মতো করে থাকা'র ভেতরে বিপদ আছে।
লেখক বলেছেন: "কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের মনে রাখতে হবে, রেহনুমা আহমেদ নৃবিজ্ঞান বিভাগে থাকতে পারলেন না। এই কারণে আমার মতো করে থাকা'র ভেতরে বিপদ আছে।"
- আপনার লেখা পড়ে নিশ্চিত হওয়া কঠিন যে আপনি আমাকে সতর্ক করলেন নাকি অন্যদের সতর্ক করলেন আমার ব্যাপারে। যেটাই করেন রেহনুমা আহমেদ-এর অবসর গ্রহণকে "থাকতে পারলেন না" বলার যথেষ্ট কারণ নেই। যাঁরা তাঁকে খানিক চেনেন, এমনকি তাঁর লেখালেখির মাধ্যমেও, তাঁদের এটা জানার কথা।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন বলেছেন:
ভাগ্যিস! এই লেখা দলের পোলাপাইন দেখতাছে না হয়তো। প্রতিবাদ প্রতিরোধ করতে গিয়া নিজের ভেতরেই তো আমরা টালমাটাল। হুমকি, গালাগলি, ফাপর। '' দেখমু, তু্ই কেমনে হলে থাকস'', কিংবা ''থিয়েটার চোদাস, তো থিয়েটার চোদাবি, মাগীগো লাইগ্যা আন্দোলন করস ক্যা" ''তোরে যেন বটতলায় না দেখি!'', ''কবি হওন মারাইছো তো কবিতা লেখ্, গলাবাজি চোদাস ক্যা''- বাস্তবতা কয়জনই বা দেখে! ''তাই তাদের থাকতে হয় সম্মিলিত ভাবে, সংগঠন করতে হয়, দলবদ্ধ আন্দোলন করতে হয়। আবার দল-লীগের ছাত্রদের বেশিরভাগেরও ওটাই করা লাগে। কারণ, সিট, বুক ফুলিয়ে চলা, পকেট খরচ জোটানোসহ যাবতীয় অভাব ও বাসনা মেটানোর একমাত্র পথ হচ্ছে দলবদ্ধ থাকা, দল-লীগ করা, ক্ষমতাবানদের চামচামি করা। তাদের জন্যও লাইফস্টাইল এনার্কিজম একটা বিলাসিতা।'' অ্যানার্কিজম বুঝি না! বুঝতে চাইও না, জানি, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হইলে সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্লাটফর্মগুলারে টিকাইয়া রাখতেই হইব। মাইর খাইয়া হইলেও। ফাঁপর খাইয়া হইলেও। বিভাগের কোন মাস্টারের "গতবার তো অ্যাটেনডেন্স এর লাইগ্যা পরীক্ষা আটকাইনাই, এইবারও আন্দোলন করতাছ!, পরীক্ষা দিবা না?'' জাতীয় শ্রদ্ধেয় নিপীড়কদের হুমকী খাইয়া হইলেও।
নিজের সত্ত্বারে বিপন্ন বোধ হইলে তারে টাইনা টাইনা গলার উপরে উঠাইয়া হইলেও।
খুব মনে হচ্ছে কি করি আমি কি করি? আমি জানি আমরা যারা ভদ্রলোক হইয়া ক্যাম্পাসে থাকতে চাই না, একটুসখানি মনুষ্যত্ব বুকের ভিতরে লালন করি, তাগো পাশে ক্যাম্পাসে এহন খাঁড়ানোর মতোন মানুষ নাইক্যা। দলের পোলাপানই যে এহন রাজা। উনাদের তো সমঝে চলতে হইবেক!
এই অবস্থানে থাইক্যা কি কইতে পারা যায় "ক্যাচ মি, ইফ ইউ ক্যান?"
ল্যাখক, মন্তব্যদাতা হগ্গলরে কই "অনুগ্রহ পূর্বক মাঠের বাহিরে থাইক্যা না, ভিতরে থাইক্যা খ্যালেন''।
তৈমুর রেজার একটা উদাহরণ এর পাশে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজারটা উদাহরন রহিয়াছে, যেইখান বিবেকবুদ্ধি নিয়া শিক্ষক কিংবা ছাত্র অনেককেই পিঠটান দিতে হইয়াছে। বাস্তবতা বড়ই করুণ।
আইজ শুনলাম বহিষ্কারের তালিকা নাকি বাড়তাছে। বিবেকগণ, "ক্যাচ মি, ইফ ইউ ক্যান?-রা কুতায়? আসেন ক্যাম্পাসে একদিন আমাগো লগে ঘুইরা দেখেন, ফাপর কত প্রকার ও কি কি?
লেখক বলেছেন: শিমুল, আপনার জিহাদী মন্তব্য নিয়ে আমার সমস্যা নেই, সমস্যা হচ্ছে এর মধ্যে মামাবাড়ির আব্দার আছে বলে। দলের পোলাপানের সঙ্গে আপনার সমস্যা হচ্ছে সেটা জানলাম। কিন্তু সেখানে আপনার সঙ্গে মাস্টারদের সঙ্গ দিতে হবে একটু বেশি আব্দার হয়ে যাচ্ছে না?
"বিবেকগণ, "ক্যাচ মি, ইফ ইউ ক্যান?-রা কুতায়? আসেন ক্যাম্পাসে একদিন আমাগো লগে ঘুইরা দেখেন, ফাপর কত প্রকার ও কি কি?" -- এই অংশটা স্রেফ ফালতু এবং বাহাদুরিসর্বস্ব। আমার লেখার স্পৃহা/স্পিরিট বুঝতে আপনার সমস্যা হয়েছে তা আমি মনে করি না (যেহেতু আপনাকে আমি চিনি) কিন্তু আপনার লক্ষ্য হলো ব্লগের পাঠকরা যাতে কিছুতেই আমাকে যথেষ্ট "বিপ্লবী" না ভেবে বসে কিংবা আপনাকে অন্তত আমার থেকে বেশি ভাবতে উদ্বুদ্ধ হন সেই রকম একটা টেক্সট পয়দা করা। সেটা বোধহয় করতে পেরেছেন। অথবা হতে পারে আপনি আসলে একজন টোকেন প্রতিপক্ষ খুঁজছেন। ঠিক আছে না হয় আমি-ই হলাম। :-)
হাসিব বলেছেন:
মানস্দারে দেইখা ভাল্লাগতেছে । কয়েগ্দিন আগে কার পুস্টে যানি দেক্লাম আপনি মধুতে গেছিলেন বা এইরকম কিছু একটা কৈতেছিলেন । কযমো দেইখা মধুর কথা ভুইল্লা যান্নাই এই চিন্তাটাও আরাম দিলো ।
যাউগ্গা, ব্লগের লাইফস্টাইল এ্যানার্কিস্টগো নিয়া আপ্নের মত কি ?
লেখক বলেছেন: ভাই হাসিব, আপনাকে এখানে দেখে আমার ভাল বা খারাপ কিছু লাগে না। কিন্তু কার ব্লগে দেখেছেন যদি একটু মেহেরবানি করে বলতেন ... প্রমাণ হিসেবে রেখে দিতাম। যা দিনকাল পড়েছে পরে যদি "রাজনৈতিক" মানুষদের কাছে দেখাতাম তাঁরা হয়তো বুঝতেন যে আমি প্রকৃত "সচেতন" মানুষ। মধুর ক্যান্টিনে যাওয়া বলে কথা! আমার জীবনে প্রাক-কযমো ও কযমোত্তর কালে মোট সাকুল্যে ৬ বার খানেক যাওয়া হয়েছে মধুর ক্যান্টিনে। এতে কি হবে ভাই? (অবশ্য ৫বারই রুটি-মাখন সস্তা ওই লাঞ্চটা খেতে...)
শঙ্খচীল বলেছেন:
শিবির ছাড়া আর কেউ জাবির মাস্তান আর ধর্ষক গুলারের সাইজ করতে পারবো না। একটু ধৈর্য্য ধরেন।
লেখক বলেছেন: জ্বি, মনে হয় ঠিকই বলেছেন। তবে কিনা প্রতিপক্ষের "মাস্তান" আর "ধর্ষক"। স্বপক্ষীয় মাস্তান আর ধর্ষকদের সাইজ করার দরকার খুব কম পড়বে। ওদের আবার 'চেইন অব কমান্ড' খুব শক্ত কিনা! :-)
তৈমুর রেজা বলেছেন:
'- আপনার লেখা পড়ে নিশ্চিত হওয়া কঠিন যে আপনি আমাকে সতর্ক করলেন নাকি অন্যদের সতর্ক করলেন আমার ব্যাপারে।'মানস চৌধুরীকে নিশ্চিত করতে বিনয়ের সাথে (তর্ক বেঁধে যাবার ভয়ে) জানাচ্ছি যে, তার ব্যপারে অন্যদের সতর্ক করতে আমি চাইনি, সে বিষয়ে আমার আগ্রহ বিন্দুমাত্র নাই। সন্দেহভাজনতা নিয়ে তিনি আমার মন্তব্য গ্রহণ করেছেন। মানস চৌধুরীকে আমি সতর্ক করতে চাই নি, কেননা সেটার প্রয়োজন নেই।
রেহনুমা প্রসঙ্গে নানামুণির নানামত; বাহাস পাশ কাটিয়ে এইটুকু দাবি করি, রেহনুমা যে ক্যাম্পাসে নাই- এইটা আমি অনুভব করি, দুঃখবোধ করি।
রাজনীতি প্রেম থেকে যৌনতা থেকে ভিন্ন, তাই কমিউন ছাড়া রাজনীতি হয় না; অ্যানার্কিজম প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ, তাই ব্যক্তিমাত্রই অ্যানর্কিস্ট হইতে পারে না, তাকে প্রতিষ্ঠান হইতে হয়।
মানস চৌধুরী প্রতিষ্ঠান হতে পেরেছেন; এইরকম তাগদ ইতিপূর্বে হুমায়ুন আজাদের ভেতর দেখা গেছে। কিন্তু সকলেই প্রতিষ্ঠান নয়।
লেখক বলেছেন: অবসরগ্রহণের পত্রে রেহনুমা আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের "চলমান বুদ্ধিবৃত্তিক স্থবিরতা"র কথা উল্লেখ করেছিলেন বলে আমি স্মরণ করতে পারি। এটা যেহেতু গৃহীত পত্র, সেই অর্থে নথিও বটে। সেই নথির পাবলিক-আকসেস নেই বলেই আমি জানি। আমি যা বললাম স্মৃতি থেকে।
প্রতিষ্ঠান যদি সততই কব্জাকার হয়ে থাকে তাহলে আমার পক্ষে প্রতিষ্ঠান না-হওয়াই শিখতে হবে। তবে মনে হয় না যে আমার পক্ষে অনেক দুশ্চিন্তা করবার মতো কিছু ঘটেছে আমার ক্ষেত্রে।
তবে, স্বতন্ত্রভাবে, হুমায়ুন আজাদ-এর সঙ্গে তুল্য হতে অন্তত দুটো কারণে আমার আপত্তি আছে:
এক।। আমার বয়সে তিনি যতজন সম্মত প্রকাশক পেয়েছিলেন তার থেকে দ্বিগুণ প্রকাশক ইতোমধ্যেই নিরবে আমাকে (মানে আমার রচনা) প্রত্যাখ্যান করেছেন।
দুই।। হুমায়ুন আজাদ বেগম রোকেয়াকে যৌন-অসুখী (এবং যদ্দুর মনে পড়ে লালনকে উন্মাদ) বলে তত্ত্ব দিয়েছিলেন।
হাসিব বলেছেন:
মানস চৌধুরী বলেছেন: সেদিন ঘটনাচক্রে মধুর ক্যান্টিন গেছিলাম। বিজ্ঞাপনটা দেখলাম। আপনার নাম ছিল বলে আলাদা করে চোখে পড়ল।
আমি অনেকদিন এই মুল্লুকে আর আসি না। তাই বলে আপনার সকল উৎসাহ যে ভাটা পড়বে তাও তো ঠিক বোধগম্য না।
কেমন আছেন?
লিংক - Click This Link
আমি কিন্তুক কৈ নাই যে আপ্নের মধুতে যাওয়া নিয়া কিছু হবে । আম্রা অচেতন জনগণ শুধু আপ্নার কযমোর লেকচার নিয়া একটু আতঙ্কে আছিলাম । ভাবতেছিলাম আমাগো প্রিয় মানস্দা কি শেষ পন্ত বড়লোকগো কাতারে ভিড়া যাইবো নাকি! সেই আশঙ্কা পুরাপুরি সত্য হয় নাই দেইখা কৈলাম যে ভাল্লাগতেছে ।
যাউগ্গা, এক্টা প্রশ্ন জিগাইছিলাম,
যাউগ্গা, ব্লগের লাইফস্টাইল এ্যানার্কিস্টগো নিয়া আপ্নের মত কি ?
লেখক বলেছেন: আমি এত বোকা না হাসিব যে বড়লোক না হয়ে "বড়লোকগো কাতারে ভিড়া যাইবো"। কিন্তু আপনার যে এত বড়লোক অপ্রীতি সেটার প্রমাণ কি এই ব্লগের বাইরে আছে? মানে আপনাকে বাইরে চিনি না বলে জিজ্ঞেস করলাম।
ম্যাকলাভিং বলেছেন:
হাসিবরে ব্যান করেন, আপনারে শরমের কথা জিগায় কেন?
লেখক বলেছেন: "সামহোয়ের"-এর দেয়া মাগনা জায়গা পেয়ে নিজেকে জমিদার মনে করা শুরু করিনি আমি। ফলে হাসিবকে ব্যান করব না। আপনাকেও না। তবে নিকাবধারীদের সঙ্গে আলাপে আমার অসুবিধা হয়। এটুকুই।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন বলেছেন:
স্যার"কিন্তু সেখানে আপনার সঙ্গে মাস্টারদের সঙ্গ দিতে হবে একটু বেশি আব্দার হয়ে যাচ্ছে না?" -আমার পূনর্বার মনে হইল এই আবদার আমি করিনাই। মাস্টারদের সঙ্গত যে কহনো চাইনাই এই ব্যাপার অন্তত আপনে আমারে চিনেন বইলাই জানেন।
"যথেষ্ট "বিপ্লবী" না ভেবে বসে কিংবা আপনাকে অন্তত আমার থেকে বেশি ভাবতে উদ্বুদ্ধ হন সেই রকম একটা টেক্সট পয়দা করা। সেটা বোধহয় করতে পেরেছেন। অথবা হতে পারে আপনি আসলে একজন টোকেন প্রতিপক্ষ খুঁজছেন। ঠিক আছে না হয় আমি-ই হলাম। :-)" -এই অংশটুকু আমাকে কষ্ট দিয়েছে। প্রথমত বেশি বিপ্লবী কম বিপ্লবী কিংবা জিহাদ লইয়া আমার মাথাব্যথা নাই, সেইটা করতেও চাই নাই। লেখাটা পইড়া তাৎক্ষণিক যে আবেগ বোধ করছি আমার মন্তব্য তারই গলগলে প্রকাশ। সাথে আমাদের অবস্থানেরও। স্যার, আমাকে দোষও দিয়েছেন। শিক্ষকদের প্রতি প্রথাগত শ্রদ্ধা নয়, মানস চৌধূরী, যিনি আমার কবিতা নিয়ে মন্তব্য করা, চিঠি লেখা প্রথম ব্যাক্তি, হৃদয়ের অন্তস্থলের ভালোবাসা সমেত তাহাকে জানাই, তাহার সাথে কোন বিষয়েই কখনোই আমার কোন রেস নাই। রেসের সামর্থও যে আমার নাই সে ব্যপারেও আমি নিশ্চিত। স্যারের মন্তব্যে এবং অনুবাদে আমি ব্যথিত। আমি আহত।
হয় আমি এইটা বুইঝা করি নাই, নয় কেউ আমার লেখাটার ইন্টারপ্রেট করতে ভুল করলো।
আর স্যার, আমি কোন টোকেন প্রতিপক্ষ খুঁজছি না। এটি ক্যাম্পাসে আমার কর্মকাণ্ডেই পষ্ট। আওভানটা সকলের জন্যেই ছিল। যাহারা, এই আমার সতীর্থরা, আন্দোলন থেকে পিঠটান দিয়েছে কিংবা কারো কারো সাথে লিয়াজো করেছে তাদের জন্যেও।
নিজগুণে আবেগ ও প্রগলভতাজনিত প্রমাদসমূহ ক্ষমা করবেন জানি।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন বলেছেন:
হযরত মানস চৌধূরী,মামা বাড়ির আব্দার যদি মনে করেন, শিক্ষকদের ভূমিকা আমার কিংবা আমাদের পাশে দেখতে চাওয়া তবে সেটা যে অনভিপ্রেত এবং নিতান্তই সূর্য পশ্চিমে ওঠার মত সেটা আপনি যেমন জানেন, জাবির ছাত্ররাও জানে।
তবে ঝামেলা কিন্তু এখন চলছে তাঁহাদের (শিক্ষকদের) ভূমিকা নিয়েই। ফারুক ভাইয়ের মন্তব্যর বরাত দিয়ে আমিও আপনাকে নৃপ অনুপের মত অনুরোধ করি, আমাদের মহান শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়েই আপনি একটা লেখা লেখেন না, যদি অনুভব করে থাকেন। আমি জানি, আমি কি বলতে চাইছি তা আপনি খুব ভালো করেই হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন।
লেখক বলেছেন: শিমুল, খুব ঠেকায় না পড়লে মাগনা পরামর্শ দিতে আমি অপছন্দ করি। এখানে ঠেকায় পড়ে গেছি। আপনাকে এই মুহূর্তে আমার তিনটা পরামর্শ দেবার আছে:
১। আপনার মন্তব্যগুলো পাশাপাশি রেখে পড়েন। তাতে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার "শ্রদ্ধাভক্তি" (আমার প্রতি) কপট দেখায়। আমার শ্রদ্ধায় আসক্তি নাই। কিন্তু আপনাকে কপট দেখালে (তা সে অনিচ্ছাকৃত হলেও) আপনার আর্গুমেন্ট (যদি আদৌ থাকে) এগিয়ে নেয়া কঠিন হবে।
২। আপনার নিজেরই বর্ণিত "আবেগ" ও "প্রগলভতা" যতটা সম্ভব, তর্কমূলক আলাপে, পরিহার করবেন।
৩। শিক্ষার্থীদের যেমন মিঠাই দোকানোর সন্দেশ-এর মতো এক সাইজের ভাবেন না, "শিক্ষক" বা যে কোনো পেশাজীবীদেরকেও একটা "অখণ্ড অনুভূতির পিণ্ড" হিসেবে না-দেখে রাজনৈতিক প্রাণী হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত হোন। তাতে আলাপের সুবিধা হবে।
যাহোক, আমার এই রচনা কিংবা এর আগেরটি মুখ্যত শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়েই লেখা, শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে নয়। সেটা আপনি লক্ষ্য না করে থাকলে প্রগলভতার কারণেই করেননি বলে আমার মনে হয়।
হাসিব বলেছেন:
আমিও বোকা না । সেইজন্যই তো আপ্নেরে গুরু মানি । আমার কাছে কযমো প্লাস মধু জিনিসটা আমার জটিল ও উত্তরআধুনিক কম্বিনেশন মনে হৈছে । একুলও থাকলো ওকুলো থাকলো ।
আর আপনার আমারে চিনার কথা না । আপনি যখন জাবিতে মিছিল করতেন তখন আমি ঐ মিছিলেরই দুইএকটাতে পিছের দিকে আছিলাম ।
আমি ঢাবির ছাত্র আছিলাম । সেইখানে পিকেটিঙে যাইতাম । উপ্রে যারা মন্তব্য করছেন তাগো মধ্যে দুইজন আমারে চিনেন ।
আপনি কিন্তু এখনো আপনার মূল্যবান মন্তব্য দেন নাই । আমি একটু জানতে চাই ব্লগের লাইফস্টাইল এ্যানার্কিস্টদের বিষয়ে আপনার চিন্তা ভাবনা কি সেইটা জানতে পারলে ভালো হৈতো ।
অফটপিক -
রেহনুমা ম্যাডামের কথা উঠলো দেইখা একটা পুরান কানকথা মনে পড়লো । আপনার একটা বৈ আছে উনার সাথে । বৈটা ফিন্যান্স করছিলো ফোর্ড ফাউন্ডেশন এইরকমই শুনলাম সেদিন কার কাছে যেন । বইটা যোগাড় কৈরা দেখুম সেই উপায়ও নাই । ঘটনা কি সত্য ? সত্য হৈলে একটু কি বলবেন কিভাবে এইসব ফাউন্ডেশনের সাথে যোগাযোগ কর্তে হয় ? জানা থাকলে সুবিধা । এইখানে জার্মানীতে অনেক গাড়ী কুম্পানী আছে । কোনদিন বৈ লিখলে সেইযাগাগুলাতে আপনার উপদেশ মাইনা এ্যাপ্রোচ কর্তে পার্তাম ।
লেখক বলেছেন: জার্মানি পর্যন্ত যেতে যখন আমার উপদেশ লাগেনি তখন আপনার বইয়ের স্পন্সর যোগাড় করতেও আমার উপদেশ লাগবে না হাসিব।
ঘটনাচক্রে আমার নিজেরই তিনটা পাণ্ডুলিপি অপ্রকাশিত আছে। আপনাকে উপদেশ দিয়ে নিজের বিপদ ডাকি কেন?!
রেহনুমা আহমেদ-এর সঙ্গে আমার বইটি ফিন্যান্স করেছেন প্রকাশক। আপনার কান নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। কানকথা সামলানোর দায়িত্বও আপনার। ব্লগের লাইফস্টাইল এনার্কিস্ট নিয়ে আমার ভাবনা ভাবি নাই, ভাবলেও লিখতে ইচ্ছা না করতে পারত। আবার করতেও পারত। কিন্তু আমি ভাবি নাই। ...তো জার্মানিতে কযমো নেই জানি, মার্ক্সবাদী রেস্টুরেন্ট আছে তা তো জানতাম না। আপনি কফি টফি খান কই?
হাসিব বলেছেন:
আমি ছোট শহরে থাকি । এইখানে মধ্য-ডানপন্থীগো দাপট । মিউনিখ টিউনিখে ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুলের চর্চা হয় শুঞ্চি । তয় তাগো সাথে মিশার সুযোগ কৈরা উঠতে পারি নাই । কফি খাইতে হাউশ হয় যাগো সাথে তারা এইখানে আনটিফা (antifa) নামে একটা পার্টি করে । হেগো সাথে আমারে কফি খাইতে দেখলে জার্মান পুলিশ আমারে দেখামাত্র দেশে পাঠায়া দেবে । সেইজন্য দুরে থাকি ।
বিগব্যাং বলেছেন:
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: তৃতীয়ত, লাইফস্টাইল এনার্কিজম কি আসলেই কিছু পাল্টায়? এ নিয়ে কথা বলবার ফুরসত রয়েছে। আপনার অপেক্ষায় রইলাম।
হাসিব বলেছেন:
যাউগ্গা, এক্টা প্রশ্ন জিগাইছিলাম,
যাউগ্গা, ব্লগের লাইফস্টাইল এ্যানার্কিস্টগো নিয়া আপ্নের মত কি ?
জিগ্যাসাদুটোর ব্যাপারে মানসদার মন্তব্য জানতে চাচ্ছি...
বিগব্যাং বলেছেন:
৪/৫ বছর আগে কোনো এক জায়গায় আপনি একটা প্রবন্ধ লিখেছিলেন "বাণিজ্য নিয়ে আদর্শবাদী অবস্থান আমাদের রাজনৈতিকভাবে বৈরী শিবিরে শামিল করতে পারে" এই শিরোনামে... এরপর যখন ফোর্ড ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ওই স্ব্যাস্থবান বইটা দেখি তখন স্বাভাবিক মনে হয়েছিলো...ভেবেছিলাম ফোর্ড ফাউন্ডেশন নিয়ে আদর্শবাদী অবস্থান আমাদের রাজনৈতিকভাবে বৈরী শিবিরে শামিল করতে পারে, এমন ভাবনা থেকেই হয়ত এটা করা হয়েছে...অথবা হয়ত ভাবা হয়েছে যে, ফোর্ড ফাউন্ডেশনের টাকায় যদি একটা "ভাল" কাজ করে ফ্যালা যায় তাহলে মন্দ কি...কিন্তু উপরের কমেন্ট দেখে সব আউলায়া গ্যালো...মনে হচ্ছে ফোর্ড ফাউন্ডেশনের টাকা নেয়াটাকে আপনি খুব একটা প্রীতিকর মনে করেন না, এবং ঐ ঘটনাটার মূল কৃতিত্ত্ব প্রকাশকের... ন্যূনতম কোনো মেধাবী মানুষের (একাডেমিক অর্থে) সক্রিয়তা ছাড়া বাংলাদেশের একজন প্রকাশক ফোর্ড ফাউন্ডেশনের ফান্ড যোগাড় করতে পারে, এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? ওই প্রকাশক এরপর কি আর কোনো বই ফোর্ড ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বের করতে পেরেছে?
লেখক বলেছেন: আমার নগণ্য লেখাটি যে আপনার এতবছর বাদে মনে পড়েছে তাতে আমার দুটো লাভ হলো। এক, লেখক হিসেবে পেখম তুলে নাচার একটা মন তৈরি হলো। দুই, ঢাকার মানচিত্রে আপনার অবস্থান সম্বন্ধে ন্যূনতম একটা ধারণা তৈরি হলো (নইলে নাম দেখে আমি তো প্রায় মহাকাশচারী কাউকেই অনুমান করছিলাম)। ধন্যবাদ আপনাকে।
কিন্তু আপনার/আপনাদের এই উরাধুরা কথার কী উত্তর করা যাবে! আপনার ওই স্বাস্থ্যবান বইটাতো প্রকাশক ফোর্ড ফাউন্ডেশনের টাকা নিয়ে করেননি, তো সেটা নিয়ে প্রশ্নের কী উত্তর করা যাবে?! আর যদি প্রকাশক সেটা করতেনও ... মানে টাকার ব্র্যান্ডিং নিয়ে কোনো সিরিয়াস আলাপ কি সম্ভব?
তাছাড়া প্রকাশকদের দক্ষতা-যোগ্যতা সম্বন্ধে আপনার/আপনাদের ধারণাও বিশেষ পোক্ত বলে মনে হয় না। শাহবাগের প্রকাশকদের মধ্যেই অন্ততঃ তিনজন আছেন যাঁরা সম্ভাব্য কোনো ফান্ড-সূত্র মিস করেন না। অন্যরাও যদি এই রাস্তায় শামিল হন তাতেই বা বাতিকগ্রস্ত হয়ে পড়ার কারণ কী? বহির্জাগতিক ফান্ড নেয়া আর বিভিন্ন জায়গায় তদ্বির করে বে-আনুপাতিক সংখ্যক বই সরকারকে দিয়ে কেনানো -- এ দুয়ের মধ্যে নিকৃষ্ট-উৎকৃষ্ট বোধটাই বা কী পদ্ধতিতে কাজ করা দরকার? ...আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতনই বা কোত্থেকে আসছে?!! টেলিভিশনের "ইন্টেলেকচুয়্যাল" "পলিটিক্যাল" "আলোচনা"/টক শো গুলোর স্পন্সরই বা কারা?! আপনি বা আপনারা যাঁরা প্রাইভেট/কর্পোরেট সেক্টরে চাকরি করেন (আমার মাথায় অত বুদ্ধি ৯২-৯৩ তে আসেনি; তাহলে আমিও সেরকম চাকরিই খুঁজে নিতাম) তাঁদের বেতনের ব্র্যান্ডই বা কী?!! ...আজব বিষয়ে কথা হচ্ছে কিন্তু এখানে!!!!
কোনো বিশেষ বিষয়ে, বিশেষ সূত্রে কোনো কৌতূহল থাকলে এবং সেই কৌতূহলের বিষয়টা আমার সঙ্গে সম্পর্কিত হলে সেটার উত্তর করা যেতে পারে। কিন্তু আপনার বা আপনাদের উরাধুরা বিচারমনস্ক প্রশ্নমালার উত্তর দেবার চাপ আমার কাজ করে না। এখানে যেটা করলাম বাংলা অঞ্চলে সেটাকে সৌজন্য বলে।
ফারুক ওয়াসিফ এবং হাসিবের প্রশ্ন নিয়ে আমি বলেছি। একবাক্যে বলেছি হয়তো। কিন্তু সেটাই বলার আছে আমার।
শুভেচ্ছা জানবেন।
পুনশ্চ: মধ্যখানে আড়াই বছর আমি ও আমার গুষ্টি জাপান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের টাকায় জীবনধারণ করেছি। আবার টয়োটা ফাউন্ডেশনের একটা প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা ফান্ড আমি খেয়েছিলাম, আই মীন পেয়েছিলাম। উপরন্তু, ফোর্ড, জেনারেল, নিউটন, নিক্সন ... যা আছে ... সেসব ফান্ড পেতে আমি লোলা পেতে বসে আছি। অনেক সুবিধা। একটা পেলে সারাবছরের বেতনাতিরিক্ত প্রয়োজনীয় টাকার এককালীন বন্দোবস্ত হয়। এবং সেটা কম্প্যুটারে বসেই করা যায়। মা-বাপের বাড়িতে বসে ল্যাজ দোলানেওয়ালা কিংবা আন্তর্জাতিক সংস্থার প্ল্যাস্টিকের অফিসে বসে মজা দেখনেওয়ালাদের সঙ্গে ইন্টারপার্সোনাল "মাখামাখি" করতে হয় না। আমার বাসনা বিষয়ে এসব তথ্য আপনাদের দেয়ার মাধ্যমে আশা করছি যে আমাকে ত্যাজ্যপুত্র করবেন। কিছু ঝামেলা তাতে কমে আমার।
বিগব্যাং বলেছেন:
ভালো থাকবেন...শুভেচ্ছা জানবেন...
সাঈফ শেরিফ বলেছেন:
বরাবরের মতই অসাধারণ। আপনার প্রতিটা বক্তব্য, মন্তব্য মনে ধরে রাখার মত ভাবাবেগ জাগায়।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














