*******************
আমার মাটির পুতুলটা দেখেছিস? গতবছরের বর্ষায় সে মরে গেলো। আমি তাকে কবর দিয়েছিলাম আমার শঙ্খ, নাকের নোলক, আর খোঁপার কাঁটার সাথে।
*******************
মেহেদির রঙ হাতে গতকাল আমার বিয়ের দিন ছিলো। বাসর রাতে আমি মেহেদি পাতা বিছিয়ে দিলাম আমার সারা বিছানায়। সারা রাত আমাকে পাহারা দিলো এক আরশোলা। আমার সাথে যার বিয়ে হয়েছিলো তার মুখ আমি ছুঁয়ে দিতে পারি নি কোনদিন। ছায়ার নিজস্ব কোন অবয়ব থাকে না। আমি এক শিমুলের গাছ শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলি "তোকে আমি পূজো করবো সারাটা জীবন"।
**********************
নন্দিনী ভেসে উঠেছিলো নিঝুম দীঘির পাড়ে। তাকে আমরা বলতাম অপয়া। তার কেশ বেয়ে বেয়ে উই পোকা উঠে যেতো। তার চোখের কাজলে পুরুষ লেপ্টে যেতো। নন্দিনী এক পুরুষকে তার নাকের নোলক দিয়েছিলো আর তার চুলের দুটো বেনী খুলে দিয়েছিলো। নন্দিনীকে আমরা অপয়া উপাধী দিয়ে শাস্তি দিলাম। নন্দিনী যেদিন মরে ভেসে উঠলো তার কোন কেশ ছিলো না। তার চোখেও সেদিন কোন কাজল ছিলো না-দীঘির জল তা মুছে নিয়েছিলো। আমি জানি, নন্দিনী সেদিন তার ভালোবাসাকে জলের গভীরে পুঁতে আসতে গিয়েছিলো।
*******************
আমাদের মাটির ঘরের কাঠের আলমারীর পাশে একটা জোনাক পোকাকে আমরা পুঁতে ফেলেছিলাম। আমাদের ঘর আলোময় হয়ে থাকার কথা ছিলো। গভীর রাতে সিলিং ফ্যানের ঘটাং ঘটাং শব্দের মাঝে আমি ডানা ঝাপটানোর শব্দ শুনি। আমরা সুখকে বন্দী করেও সুখী হই নি, কারন জোনাক পোকা আমাদের অভিশাপ দিয়েছে। আমাদের শরীর থেকে অভিশপ্ত হাড় দেখা যায়, তবুও আত্না থেকে জোনাকের ছায়া মুছে নি।
********************
আমি খালি পায়ে হাঁটতে পারি না। তবুও আমার ভীষন ইচ্ছে হিমুর হাত ধরে বহুদূর হেঁটে যেতে। মাঝে মাঝে হিমু কমলা রঙের সূর্যের মাঝে ডুব দিয়ে হারিয়ে যায় আমার কাছ থেকে। হিমু জানে না, আমি তাকে কতটা ভালোবাসি। আমি একদিন কমলা রঙের সূর্যটাকে গিলে ফেলবো। সেদিন হিমু শুধু আমার মাঝেই হারাবে।
**********************
আমি তোমাকে ঘৃণা করি, যেমন ঘৃনা করি ঈশ্বরকে। আমাকে একটা জোনাক দেয়ার কথা ছিলো তোমার। তুমি, ঈশ্বর, তোমরা কেউ কথা রাখ নি/(রাখো না)। আমি তোমাকে খুন করবো।
আকাশ আমার কানে কানে বলেছে, সে তার মেঘের ভাজে আমাকে লুকিয়ে রাখবে। আমার কোন শাস্তি হবে না।
********************
আত্নহত্যা মহা পাপ-তা আমি জানি। আমার শোবার ঘরের দেয়ালের প্রতিটি ইট জানে আমি সাহসী না। বাতাস, তুই আমাকে গলা টিপে মেরে ফেল। আমি মায়াপুরীর পরী হবো।
********************
আমি রাখালকে দেখেছিলাম কর্ণফুলীর নদীর পাশে। তার হাতে কোন বাঁশি ছিলো না, তবুও আমি পাগল হয়ে ঘরছাড়া হলাম। সেই নদীর বুকে আমি ফুল ফুটাতে চেয়েছিলাম। আজ আমি কর্ণফুলীর বুকে ঝাঁপ দিয়ে ফুল হয়ে যাবো। আমাকে কেউ আর খুঁজে পাবে না। আমি শুধু রাখালের ঘুমন্ত ফুলকন্যা হয়ে থাকবো।
উৎসর্গ: নির্ঝর নৈঃশব্দ্য- যার মুক্তগদ্যগুলো আমাকে অনেক টানে। যার লেখাগুলো ছিলো আমার এই হাবিজাবি লেখাটার অনুপ্রেরনা
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ৮:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


