somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... প্রতিটি মানুষই তার চোখের গভীরে শ্রাবন ধরে রাখে। আমি এই রাস্তা দিয়ে সর্বমোট পায়চারী দিয়েছি চৌত্রিশ বার। এখান থেকে বের হওয়ার পথ আমি চৌত্রিশ বার হাঁটার পরও পাইনি। আমার পথবিভ্রম হলো কিংবা গোলকধাঁধাঁ আমাকে আটকে ফেললো। আমি মুক্ত ছিলাম অথচ ছিলাম বন্দী। সর্বশেষে আমি ক্লান্ত হলাম এবং পথ চলার সেখানেই ইতি টেনে বসে পড়লাম। তখন আমি বন্দী ছিলাম না কিন্তু বহমানের কাছে হেরে যাওয়া স্তদ্ধ এক নদী ছিলাম।
**
আমি রেশমার কাছে এক কাপ চা চাইলাম। চায়ের কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে পিঁড়ি পেতে বসে সে আমায় জোনাকবালার গল্প শুনাতে বসল। তার কন্ঠ ছিলো কাঁপা কাঁপা কিন্তু দীর্ঘশ্বাস বের হলো না। আমি গল্প শুনা থামিয়ে তার অলক্ষ্যে তারই চোখের মনিতে ডুবসাঁতার দিলাম। আজলা ভরে নিয়ে আসলাম দুমড়ে মোচড়ে থাকা দীর্ঘশ্বাসগুলো।

আমি তাকে বললাম হাত পাতো। সে দুহাত পাতলো। তার হাতের তালুতে আমি সব গুছানো দীর্ঘশ্বাসগুলো রাখলাম। তার চোখের পাতা নড়ল অথচ সে আর গল্প বললো না।
রেশমা আমাকে ক্ষানিক বসতে বলে ভিতর বাড়িতে চলে গেলো আমার জন্য চা আনতে।

**
আমি বলছি, প্রতিটি মানুষের কাছে একটা নদী থাকে। আমারো একটা ভাঙাচুরা নদী আছে।
...
..
.
আমি মেঘের চোখে শ্রাবন খোঁজতাম। আর তুমুল বর্ষায় আমি ছুরি দিয়ে নিজের চোখকে ক্ষত-বিক্ষত করতাম। কেননা আমি জেনে গিয়েছিলাম প্রতিটি মানুষই তার চোখের গভীরে শ্রাবন ধরে রাখে।
**
সে আমার হাত ধরে বললো-চলো বৃষ্টি স্নানে যাই। আমি তার চোখের দিকে চাইলাম আর তীব্র দৃষ্টি দিয়ে তাকে পুড়িয়ে দিলাম।
সে আমার চোখে চোখ রেখেই বললো-ভালবাসি।
অথচ আমি নিশ্চুপ এক নিরবতা! আমি দক্ষিন বারান্দার ঝুলন্ত দুলনায় দুলে দুলে সারা বিকেল তাকে অবিরাম ভিজতে দেখলাম অথচ সে বৃষ্টি স্নানে সিক্ত হলো না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29246294 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29246294 2010-09-28 00:42:43
ক্ষয়ে যাওয়া আকাশের ক্রন্দন বিষাদ কিংবা মেঘমালা
১.
আমাকে এক হাজার একদিন ঘরে বন্দী করে রাখা হয়েছিল। এক
মাঘী-পূর্নিমার রাতে আমি ঘরছাড়া হলাম। আমার সারা অঙ্গে তখন অস্থিরতা। ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আমি ছুটতে লাগলাম। ছুটতে ছুটতে আমার পায়ের আঙ্গুল ঘষে পড়ল তবুও আমার পথ চলা থামে না। ছুটতে ছুটতে সকাল হল.....এক সময় মায়া দীঘির পাড়ে এসে থামল আমার গতি। তখন আমার কাজলটানা নয়নভরে ঘুম। আমি আছড়ে পড়লাম.....আঁকড়ে ধরলাম এক আজলা জল।
এরপর গুনে গুনে এক হাজার একটা পূর্নিমার রাত শেষ হবার পর লোকেমুখে শুনা যায়--আমি দীঘির বুকে পদ্মফুল হয়েছিলাম।

২.
চন্দ্রনাথ, আমার বাড়িতে আসার কথা ছিল তুর। তোকে দেব বলে সেগুন কাঠের সিন্দুকে ভরে রেখেছি ২০৫ টি বকুলের শুকনো মালা। দেয়াশলাইয়ের ছোট্ট বাক্সে তুলে রেখেছি একটা ডানাভাঙ্গা জোনাক।
চন্দ্রনাথ, তুর কাছে আমার লুকানোর তো কিছু নেই। তোকে সঁপে দিলাম আমার আমিত্বকে। আমার শরীরের প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে যেই ফাগুনের দোলা তা তুই ছাড়া আর কে ছুঁয়ে দিবে বল! তুর সাথে যে বিধাতা আমায় বেঁধে দিয়েছেন। মনে মনে তোকে আমি পতি মান্য করে পূজো দিয়েছি কতশত!
.
.
.
তুর শব দাহের পর আমি ঠিক ঠিক আগুনে ঝাপ দিব আজ সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে। তুই নিজেকে একটুখানির জন্যও একা ভাবিস না।

৩.
বাতাস আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি যতই ছেড়ে দিতে বলছিলাম ততই প্রবলবেগে আমাকে আমার চেনা জগৎ ছেড়ে আরো গভীরে নিয়ে যাচ্ছিল। অবশেষে এক মুক্তবনে এসে বাতাস তার বাহুডোর থেকে আমাকে চিরমুক্তি দিল।
এক হরিনীর সাথে আমার প্রথম দেখা হয়। সে আমাকে দেখে পালিয়ে গেল না! তার ঢুলু ঢুলু চোখের মনিতে বিষাদের ছায়া। তার চোখের গভীরে চোখ রাখার পর জানতে পারলাম - আমি মৃত ছিলাম।

প্রেম কিংবা ছন্দপতন

১. রাখালকে আমি রেখে দিয়েছিলাম আমার নিপুণ খোঁপার ভাজে। তাকে কেউ কোনদিন দেখেনি। শুধু আমি তার গল্প বলে যাই। রাখাল থেকে যায় রূপকথার রাজ্যে। আমিই সেই ভাঙ্গাচুরা রূপকথা।

২.
আমি স্বর্নলতার সাথে বাতচিত করছিলাম।
স্বর্নলতা: তুমি কি?
আমি - আমি কাশবন।
: আমাকে সাজাও
- আমার রঙতুলি নেই যে
: আমাকে উড়াও
- আমি ডানাহীন
: আমাকে ভাসাও
- মেঘহীন আমি
: আমাকে পুড়াও
- অভিশপ্ত দীপ্ত শিখা নই
: তবে কি দিতে পার আমায়?
- প্রেম
অবশেষে এক ধুতরা ফুলগুচ্ছ দিয়ে সে আমাকে গ্রহণ করল। অতঃপর আমার হল অবসান। আর তার হল শুরু এক প্রেমপূর্ন রুমালের বুকে মাথা রেখে।

৩.
সে এসেছিল-তাকে আমি দেখিনি। আমি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলাম। সে ফিরে গেল। আমি চিরতরে নিদ্রাকে বিদায় দিলাম।
সে ফিরল না আর-----আমি তার আসার পথ চেয়ে বসে রইলাম। যুগ যুগ ধরে যেচোখে চেয়ে রইলাম সেই চোখে ছানি পড়ল একসময়--আমি অন্ধ হলাম।
সে ফিরে আসল। আমি তখনও তাকে দেখিনি। আমি অন্ধ ছিলাম। সে ফিরে গেল---আমার উদাসীনতা দেখে।
অবশেষে তাকে পাব বলে ঘরছাড়া হলাম। অন্ধ আমি তাকে হাতড়ে হাতড়ে খুঁজতে লাগলাম।
সে ফিরে আসল ঠিকই। আমার ঘর ছিল শূন্য। আমি তার জন্য পথে নেমেছিলাম। সে তার কিছুই জানত না।
সে ফিরে গেল চিরতরে। আমি নিঃস্ব, শূন্য তার জন্য পথে পথেই নিজেকে হারালাম। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29192549 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29192549 2010-07-04 22:27:44
আমি নেই আর আছি'র মাঝে মহাকাল ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এক অশ্বথ বৃক্ষ! স্নিগ্ধ সকাল ফুরালো...
খাঁখাঁ দুপুর গড়ালো...
বিকেল গোধুলি ছুঁই ছুঁই করলো...
আর আমি বহুদিন ধরে খুঁজে পাওয়া সম্পদের মত বকুলফুল গুলোকে বুকের মাঝে গেঁথে ফেললাম।
শান্ত বাতাস ছড়িয়ে দিলো ছায়ার সব বালুকনা। সেই থেকে আমি অন্ধ। পৃথিবীর সব রূপ-রস আর সুন্দরের ধরা ছোঁয়ার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এক অন্ধ দাঁড়কাক।
* * * * * * * *
আমি চেয়েছিলাম এক ঝাঁক জোনাকির দল মেলা বসাক আমার শোবার ঘরে। আমি বহুকাল ধরে অন্ধকারাচ্ছন্নতায় জমে আছি।
--"তুমি অন্ধ, তুমি পাপাচ্ছন্ন, তুমি অভিশপ্ত। আমরা তোমাকে ঘৃনা করি। আমরা আলো জ্বালবো না তোমার ঘরে।"
উফ!! কি নির্দয়ভাবে কথা বলে জোনাকিরা। আমাকে বুঝো না তোমরা! কিংবা বুঝো তবে বড্ড বেশি ভুল বুঝো।
*
আমি অনন্তকাল ধরে স্বচ্ছ ঝাড়বাতিটাকে আগলে ধরে বেঁচে আছি।
আমার হাতদুটো বড্ড ক্লান্ত হয়ে আছে।
আমি সিদ্ধান্ত নিলাম সবকিছুর সমাপ্তি ঘটিয়ে আজ ঠিক ঠিক ঝরে পড়বো।
* * * * * * * * *
সেই পরিচিত বাতাসটা আমাকে ধরে ফেললো- শুধু আমি জানতাম না, আমি অন্ধ ছিলাম বলে।
আমি যেহেতু পৃথিবীর সব সুন্দরের ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিলাম তাই আমার কোন পিছুটান কিংবা দুঃখবোধ ছিলো না।
আমি বাতাসকে বললাম-"তুমি আমাকে গলা টিপে মেরে ফেলো।"
* * * * * * * * * *
আমি মৃত ছিলাম কিংবা মরা টিকটিকির মত বেঁচে রইলাম
আমি শ্যাওলা ছিলাম কিংবা দিঘীর বুকে নেমে যাওয়া ষোলটি সিঁড়ি
আমি ঘুমন্ত দুটো চোখ ছিলাম কিংবা
চোখের কোনে পাথর হয়ে পড়ে থাকা এক আকাশ কান্না ছিলাম।
আমি তোমাকে ধরে ছিলাম অথচ তোমার মাঝে ছিলাম না
আমি বিষাদ জমে থাকা গাঢ় কোন নীল ছিলাম কিংবা
ঘুনে খাওয়া নামহীনা এক আকাশ
আমি "আমি" ছিলাম তবে নেই এর মাঝে ভেসে
আমি নেই আর আছি'র মাঝে
মহাকাল ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এক অশ্বথ বৃক্ষ!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29174574 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29174574 2010-06-11 02:05:05
শূন্যতা আর এক শালিকের গল্প

১.
নীলবাবু ছিলেন আমাদের ইসকুলের বাংলা টিচার। ক্লাসের বাইরের সময়ও উনার বুক পকেটে একটা ফাউন্টেন কলম থাকত।
স্যার বলতেন: "গঠন-গাঠনে আর লম্বায় সব মানুষই বড় হয়। শুধু মাত্র মনুষত্যে সবাই বড় হয় না।"
বুক পকেটে একটা ফাউন্টেন পেন নিয়ে আমি স্যারের মত হতে চাইতাম। আমি আকাশ ছোঁয়ার মত বড় হয়েছিলাম। শুধু আমার বুক পকেটে ভরদুপুরে একটা ব্যাঙাচি ঘুমায় আজকাল। ঘুমের ঘুরে মাঝে মাঝে লাঠিতে ভর দিয়ে চলা স্যারের খট খট খট শব্দ শুনে আমি জেগে উঠি। আমার কপালে জমতে থাকে বিন্দু বিন্দু ঘাম।

২.
আমার জন্য সে এক হাজার একটা কবিতা লিখবে বলেছিলো। কবিতার মাঝ পথে আমি তাকে ফেলে এসেছিলাম। আমি সবসময় একজন প্রেয়সী হতে চাইতাম, শুধুমাত্র কারোর প্রেরণা নয়। সে আজো এচোখ থেকে ওচোখ কবিতা খোঁজে বেড়ায়।
আর আমি কবিতাকে ঘৃনা করি। শাড়ির আচলে বেঁধে রেখেছি নিঝুম এক কোয়া।

৩.
মল্লিকাদের বাড়ির উঠোনে পরে কাতরাচ্ছিলো শালিকটা। আমি শালিকটাকে ঠিক ঠিক চিনতে পারছি। হ্যাঁ তাকেই তো আমি অভিশাপ দিয়েছিলাম। আমার মেয়ের গালে কি নির্মম নখের দাগ বসিয়ে দিয়েছিলো! আমি লাথি দিয়ে দূরে সরিয়ে দিলাম শালিকটাকে। আমার মেয়েকে শক্ত করে বুকের মাঝে আগলে ধরে চুমো খাই আমি। পৃথিবীর সব সুন্দরের প্রতি মায়া জন্মাতে নেই।

একটা ডানা, একটা লাল ফ্রক, আর একটা নোলক পাশাপাশি শুয়ে থাকে কবরে।

৪.
ঈশ্বর আর আমি
মুখোমুখি...
আমি: আমাকে স্বপ্ন গড়ার ক্ষমতা দাও নয়ত মৃত্যুর।
তাহলে একজন পিতা, একটা লালচুড়ি, আর একটা স্বপ্নকে আমি মারবো।
.
.
.
অবশেষে আমি ঈশ্বরকে খুন করেছিলাম। I had forgotten that miracle does happen. আমি পরী থেকে একটা ছারপোকা হয়ে গেলাম! ঈশ্বরের সর্বশেষ অভিশাপের ফলশ্রুতিতে, আমি আর বৃষ্টি ছুঁতে পারিনা।

৫.
আমি তুকে একটা শুভ্র সকাল, একটা স্বর্ণালী সন্ধ্যা, আর একটা বেলী ফুলের মালা গুঁজা খোঁপা দিবো। শুধু বিষন্ন দুপুরটাকে দিবো না। পড়ন্ত দুপুরটা ভাসিয়ে দিবো মায়াদীঘির জলে। সারাবেলা আমার ঘরে যেই মাছরাঙা পাখিটা উড়ে চলে সে যদি দুপুরটাকে ঠোঁটে করে ফিরে আসে তবে সে হবে একটা নাকফুল। আর যদি অভিমানে ফিরে যায় তবে সে হবে একটা নাটাইবিহীন ঘুড়ি।

বাস্তবপক্ষে, মাছরাঙা পাখিটা হয়েছিলো একটা কাকতাড়ুয়া!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29163923 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29163923 2010-05-27 22:27:23
আমি আর বৃষ্টির প্রতীক্ষা করি না! হ্যাঁ ঠিক এই জায়গাটাতেই নদীটা ছিলো। অনেক অনেক বছর আগের কথা। টলমল ঝলমল পানিতে বৃষ্টির ফোঁটা নৃত্য করতো। আজ নদী নেই, শুধু আকাশের ছায়া ওখানে আজো পরে।
আমি আকাশ ছুঁয়ে দিতে পারি আমার ইচ্ছেমতন। কে বলে ইচ্ছেগুলো ধরা ছুঁয়ার বাইরে থাকে!! আমি ঠিক ঠিক আকাশটার নিচে গাঢ় সবুজ এক মুঠো ঘাস হতে চেয়েছিলাম।

২.
যার চোখে প্রজাপতি ভীষন সুন্দর তার চোখে প্রজাপতির ডানা ভাঙা দৃশ্য অসহ্য রকম অসুন্দর হবারই কথা।
তবে মাঝে মাঝে সবকিছু নিয়মের বাইরে চলে যেতেও পারে। স্বপ্নগুলো নিজ থেকে মরে যাবার আগেই তাকে নিজ হাতেই খুন করা কি ভালো না?
আমি প্রজাপতির ডানাদুটো শক্ত হাতে ভেঙে দিলাম।
আর পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ হয়ে গেলাম!!!

৩.
আমার এক হাতে একটা সাগর আর অন্য হাতে একটা প্রজাপতি। আমি প্রজাপতিকে হাতের মুঠোয় বন্দী করতে পারবো, কিন্তু সাগরকে হাতের মুঠোয় বাঁধা যায় না। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম প্রজাপতিকে আকড়ে ধরবো। ঠিক তক্ষনি ঝিরিঝিরি বাতাসে প্রজাপতি উড়ে গেলো সাগরের ধার ঘেষে!
আমার এক হাতে ছিলো এক সাগর আর অন্য হাত শুন্য।
পড়ন্ত বিকেলের আলোতে আমি অগভীর সাগরের বুকে ঝাপ দিলাম।
আমি কি প্রজাপতি হতে পেরেছিলাম?

৪.
মাঝে মাঝে রাখালের বাঁশিতে সুর বাজে না। আমিও জানি না কিভাবে রাখালের মনে সুর জাগাতে হয়।
আমি আগেও বলেছিলাম ভালবাসার আরেক নাম নদী, যেখানে জোয়ার ভাটা মানায় না। কিন্তু নদীতে জোয়ার ভাটার খেলা ঘুরে ফিরে আসে এটাই নিয়ম। তবে মাঝে মাঝে নিয়মের বাইরে যেতে ইচ্ছে করে।
আমার হাতে জাদুর কাঠি থাকলে নদীটাকে একটা বাঁশি বানিয়ে দিতাম।
বাঁশির বুকে সারাবেলাই সুর বাজে। আমাদের মাঝে ছন্দ পতন হতো না।
আমি রাখালের রাঁধা হয়ে যেতাম!

৫.
উহুঁ আমি আর বৃষ্টির প্রতীক্ষা করি না। আমি আজ আকাশকে এক ঝুড়ি বৃষ্টি দিলাম। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29155737 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29155737 2010-05-15 23:36:47
চন্দ্রনাথ আমার বন্ধু ছিলো চন্দ্রনাথ ছিলো আমার খুব কাছের বন্ধু। ছোটবেলায় আমাদের সারাটা দুপুর প্রজাপতির পিছু ছুটে কাটত। চন্দ্রনাথের ঝাকড়া চুল বেয়ে গোধুলী নামত। রাতের বেলায় দূরে কোথাও শিয়াল ডাকলে ভয়ে কুকড়ে যেত সে। চন্দ্রনাথ ছিল আমার বন্ধু; যে কিনা বৃষ্টি শেষে হেসে উঠা রংধনু দেখতে চেয়েছিল। মেঘে মেঘে যে কত বেলা গড়াল! শুধু মেঘে মেঘে বৃষ্টি ঝরে নি।

২.
এক গোধুলী লগনে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নেমেছিল। আমি আলতা রাঙা পায়ে ছুটতে ছুটতে চন্দ্রনাথের ঘরে এসে পৌঁছলাম....
"চন্দ্র, ও চন্দ্র! মায়া দীঘির পাড় ঘেষে রংধনু ভাসছে! জলদি আয়। জলদি"
চন্দ্রনাথ ঠায় বসে থাকে এক পায়া ভাঙা কাঠের চেয়ারে। আমি সেদিন জেনেছিলাম চন্দ্রনাথের চোখের খোলসে ডাহুক ঘুমিয়ে।

৩.
চন্দ্রনাথ আমার খুব কাছের এক বন্ধু ছিলো। সারা রাত বসে বসে যে তারা গুনতো। একটা, দুটি, তিনটি, চারটি....
আমাদের বৈঠক ঘরের জানালার ধারে বসে এক শালিক তাকে বলতো "উহুঁ, এভাবে গুনতে হয় না। গুনতে হয় এভাবে দুই দু গুনা চার, তিন দু গুনা ছয়..."
আমি বিষন্ন হয়ে সব শুনতাম। শালিক জানত না, আমাদের চন্দ্রনাথের চোখে জোনাকের আলো জ্বলতো না। শালিকটা চন্দ্রনাথের গালে আচড় বসিয়ে দিয়েছিলো।
অনেক রাত হলে সেই দাগ তারাদের মত জ্বলতো।

৪.
চন্দ্রনাথ আমার বন্ধু ছিলো, যে কিনা বড় হলে আমার জন্য এক গোঁছা কলাপাতা রঙা চুড়ি আনবে বলেছিলো। আমি সেদিন ভীষন খুশি হয়ে আমার সদ্য গাঁথা বকুল ফুলের মালাটা পরিয়ে দিয়েছিলাম।
চন্দ্র বলেছিলো "তুই দেখিস, আমি একদিন অনেক বড় হবো। যেখানে সূর্য এসে মিলিয়ে যায় আমি ততদূর যাবো রংধনু ধরতে। উহুঁ মন খারাপ করিস না। আমি ততদূর গেলেও আমার দেয়া কাচের চুড়ি তুর হাতে রিনিঝিনি সুর বাজবে....সেই সুর বাতাস নিয়ে যাবে আমার কাছে।"
"আর এই বকুল ফুলের মালা আমি কোনদিন হারাতে দিবো না"

৫.
বকুলফুলের মালা হারায় নি, শুধু শুকিয়ে ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। শুধু চন্দ্র আমাকে আর তার গল্প শুনায় না। আমার চন্দ্র আজ সে নিজেই রংধনু হয়ে ঝুলে গেছে আকাশের বুকে।

চন্দ্রনাথ আমার খুব কাছের এক বন্ধু ছিলো। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29153914 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29153914 2010-05-13 01:04:14
ছাইরা দে মা, কাইন্দা বাঁচি (একটা ফান/সিরিয়াস টাইপ পোষ্ট)
সব মানুষের জীবনেই এমন কিছু ঘটনা ঘটে কিংবা মানুষ ছোট খাটো এমন কিছু করে থাকে যেটা পরবর্তী সময়ে সেটা মনে পড়লে মানুষ লজ্জা পায়, আর সেটা নিয়ে অনেক অনেক দিন পরও হাসাহাসি চলতে থাকে।
আজ তাহলে এই রকম পুরনো কিছু গল্পই না হয় বলি।
১.
সবেমাত্র টুয়েলভ গ্রেডে উঠেছি তখন। ক্লাসের প্রথম দিন। আমার প্রথম ক্লাসটাই ছিলো "আমেরিকান হিস্টোরি"। তো আমি স্কেজুয়েল থেকে রুম নাম্বার জেনে রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। আমার আমেরিকান হিস্টোরি ক্লাসের টিচারের নাম লেখা ছিলো Rose. এখানকার হাই স্কুলের টিচাররা ক্লাসের দরজা খুলে দাঁড়িয়ে থাকে, টুকটাক হাই হ্যাল্লো বলে। আর স্টুডেন্টরা যদি প্রথম প্রথম ক্লাস খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ে তাহলে টিচারদের প্রশ্ন করলেই ওনারা সাহায্য করে। তো যাইহোক, আমি আমার ক্লাসের সামনে একজন লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। তো উনাকে গিয়ে বললাম যে, "Is it Miss Rose’s class?" (গোলাপ ফুলের নাম দেখে আমি ভেবেই নিয়েছি যে আমার টিচার হবেন একজন মহিলা <img src=" style="border:0;" /> )
আমার প্রশ্ন শুনে লোকটা আমাকে গুড মর্নিং বলে যা বললো সেটা শুনে আমি আকাশ থেকে পড়লাম।
লোকটা: Yes my dear, I am Mr. Rose। <img src=" style="border:0;" />
লজ্জায় আমার ইচ্ছা করছিলো যে মরেই যাই। <img src=(" style="border:0;" />
২.
আমার ক্লাস তখন সকাল বেলায় ছিলো। আমার যেহেতু গাড়ি ছিলো না, ভাইয়াই আমাকে গাড়ি দিয়ে নামিয়ে দিয়ে আসতো। একদিন ভাইয়ার জরুরী একটা কাজ ছিলো। আমার কলেজ যেহেতু বাসার খুব কাছেই ছিলো তো আমার সিদ্ধান্ত নিলাম যে হেঁটেই চলে যাবো। যেই ভাবা সেই কাজ। দিলাম হাঁটা....
কলেজের একবারে কাছে পৌছে যাওয়ার একটু আগে ঘটলো ঘটনাটা। কোথা থেকে যেনো একটা কুকুর দৌড়ে আসলো। আগেই বলে রাখি আই এ্যাম নট এ বিগ ফ্যান অফ ডগিস <img src=" style="border:0;" />
কুকুর দেখলেই কলিজায় পানি থাকে না, চউক্ষে দেখি আন্ধা, ঠ্যাং কয়-দে দৌড় <img src=(" style="border:0;" /> কিন্তু ভয়ে দৌড়ও দিতে পারতেছিলাম না। আমি আস্তে হাঁটলে দেখি কুকুরও আস্তে হাঁটে, আমি তাড়াতাড়ি হাঁটলে দেখি কুকুরও! ডরের চুটে দোয়া দুরুদও মুখে আসতেছিলো না। কিন্তু কুকুর থাইকা তো বাঁচা লাগবে।
ডাইনে বামে তাকায়া দেখি ঘাসের উপর এই সাইজের একটা সাইন বোর্ড পুতা।

কুকুর থেকে বাঁচার জন্য সেই সাইন বোর্ডটাকে মাটি থেকে তুলে ফেললাম। এরপর কুকুর ডান দিকে গেলে আমিও সাইন বোর্ডটা দিয়ে আমার পা থেকে ঢেকে ডান পাশে সরি। কুকুর বাম দিকে সরে আসলে আমিও সাইন বোর্ড বাম দিকে ঘুরাই। রাস্তা দিয়ে দুনিয়ার মানুষ যাওয়া আসা করে সবাই ভাবছে আমি মনে হয় কোন কিছুর এডভারটাইজমেন্ট দিচ্ছি। কেউ আমাকে বাঁচাইতে আসলো না। <img src=(" style="border:0;" /> সবগুলো মানুষের উপর তখন খুবই মেজাজ খারাপ হইছিলো। সবাই শুধু গাড়ি দিয়ে যাওয়া আসা করে কেন! দুই একজন রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসলে তো আমি কারোর হেল্প চাইতে পারতাম। <img src=(" style="border:0;" />
বাসার আসার পর ঐদিন প্রথম যেই কথাটা আম্মুকে বলছিলাম সেইটা হলো: এই দেশে থাকমু না, এই দেশ পচা। তুমি আমাকে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করো। <img src=" style="border:0;" />
অবশ্য বাসার সবাই আসল ঘটনা শুনে ব্যাপক হাসছিলো। মানুষের মনে দয়া মায়া সব উইঠা গেছে <img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29150010 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29150010 2010-05-06 21:16:04
আজ এই আকাশ (গান) কালো হয়ে
বৃষ্টি ঝরে
তোকেই ধরে
ছন্দছাড়া হয়ে আমি
খুঁজি তোরে আপনমনে।

মাঝে মাঝে মনে পড়ে-
সেইসব দিনগুলো
তুই ছিলিনা যখন
মাঝে মাঝে কড়া নাড়ে
সেই দিনগুলো
তুই ছিলি না যখন
তুই রবি আমারই
তুই ছবি আমারই
তোরে ছাড়া বাঁচি আমি কেমনে?

বড় একা আমি নিজের ছায়ার মতো শূণ্যতার মতো দীর্ঘশ্বাসের মতো নিঃসঙ্গ বৃক্ষের মতো নির্জন নদীর মতো বিষন্ন দ্বীপের মতো মৌন পাহাড়ের মতো আজীবন সাজাপ্রাপ্ত দন্ডপ্রাপ্ত আসামীর মতো বড় একা আমি...বড় একা আমি...

মেঘে মেঘে কতো বেলা
কেটে যায় শুধু বিষাদের ভেলায়
তুই ছাড়া একা একা
দিন কাটেনা স্মৃতিরও ছায়ায়
তুই রবি আমারই
তুই ছবি আমারই
তোরে ছাড়া বাঁচি আমি কেমনে

আজ এই আকাশ
কালো হয়ে
বৃষ্টি ঝরে
তোকে ধরে
ছন্দছাড়া হয়ে আমি
খুজি তোরে
আপনমনে

Click This Link ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29149339 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29149339 2010-05-05 21:25:00
মেঘে ঢাকা তারা (আমার মা) I always needed time on my own I never thought I'd need you there when I cried and the days feel like years when I'm alone"
Vicky: Hey girl! Tomorrow is Saturday; hang out with me. Your mom is not here, so let’s have a party, let’s get drunk.
"I've never felt this way before Everything that I do, reminds me of you"
হ্যা, উনি আমার মা। যার জন্য আমার জীবনে অনেক মজাই করা হয়নি। (According to my co-worker, my life is bored.)
আরো অনেক মায়ের মত আমার মাও আমাকে(আমাদের) সব সময় প্রটেক্ট করতে চান। না মা, আমি কোন অভিযোগ নিয়ে লিখছি না। আমার মা, যার নাম বকুল। আম্মু বকুল ফুলের মতই শুভ্র সুন্দর।
মা দেশে গিয়েছেন মাত্র দু মাসের জন্য, নয় দিন চলে গেছে, মনে হচ্ছে যুগ যুগান্তর ধরে মাকে দেখছি না। ঘুমিয়ে থাকলে সকাল বেলা মা এসে আদর করে দিয়ে চলে যেতো। টের পেতাম তাও ঘুম ভেঙে যাওয়ার ভরে চিতল মাছের মত পড়ে থাকতাম। খুব সকালে আম্মুর ঘুম ভাঙার অভ্যাস, উঠে বিভিন্ন ধরনের নামায-কালাম করবেন, সকাল সকাল নাস্তা তৈরি করে আমাদের ডেকে তুলতো। তখন খুব রাগারাগি করতাম, এত আরামের ঘুমটা নষ্ট করার জন্য। আজকাল সকাল সকালই নিজ থেকে ঘুম ভেঙে যায়, শুধু মা আর জড়িয়ে ধরে আদর করে না। খুব সকালে নাস্তা করতে ভালো লাগতো না। আম্মু আমার পিছু পিছু নাস্তার প্লেট নিয়ে ঘুরতো, "লক্ষি মা, ঠান্ডা হয়ে গেলে মজা লাগবে নাতো। নাস্তাটা করে ফেল। সেই কোন বেলাতে খেয়েছিস!" তখন বিরক্তি লাগতো-"আম্মু! ক্ষিদে লাগলে তো আমি এমনিতেই খাবো!" তোমার মত এত আদর করে কেউ খাইয়ে দিতে পারে না আম্মু। মা ফোন করেই জানতে চায় খেয়েছি কিনা, কি খেয়েছি।
মামনির সাথে দিনে দুই তিন বার করে কথা হয়, তাও মন ভরে না। একটা সময় মা এতো কাছে ছিলো, তখন তো সারাক্ষনই শুধু ব্যস্তই ছিলাম।
ঐদিন বাংলাদেশের সময় রাত সাড়ে তিনটায় ফোন দিলো! ফোন ধরেই দিলাম ঝাড়ি "এতো রাত হইছে, ঘুমাও না কেন?" আম্মু উত্তর দিলো-" আজকে সকালেও তো ফোন দেয়া হয়নি। ভাবলাম এখন তো ক্লাস থেকে আসার কথা, ঠিকমত আসছে কিনা এই জন্য ফোন দিলাম। আর আম্মুর ঘুম হঠাৎ করে ভেঙে গেছে।" ফোন রেখে দেয়ার আগে বললো " I love you mom" কি যে গভীর ভালবাসা আর বেদনা থেকে কথাগুলো বললো আম্মু! হ্যা, আমি জানি, সাগরের মত কি গভীর আর স্বচ্ছ ভালোবাসা আমাদের জন্য আম্মুর!
Click This Link
আমাদেরকে ছেড়ে মা শান্তিতে ঘুমাতেও পারে না। ওখানে গিয়েও আমাদেরকে নিয়ে চিন্তার শেষ নেই আম্মুর, আমরা ঠিকমত খেয়েছি কিনা, ক্লাস থেকে আসলাম কিনা, কি করছি এখন, জবে খাবার নিয়ে গেলাম কিনা, আমাদের পরীক্ষার রেজাল্ট দিলো কিনা, আম্মুর যে কত্ত চিন্তা!
ছোট বেলা থেকেই মাকে শুধু কষ্ট পেতেই দেখেছি। কিন্তু কি এক গভীর মমতায় মা আমাদের সব দুঃখ কষ্ট থেকে আগলে রাখতেন! মা ছাড়া আসলে এত বড় এই পৃথিবীতে আপন আর কেউ নেই আমাদের। মামনি আমাদের বন্ধু, বাবা, মা সব...সব কিছু...মা ই আমাদের সমস্ত পৃথিবী। বাস্তব দুনিয়াটা যে কি পরিমান কঠিন আর কষ্টের আম্মু জানতো শুধু, আমরা কোনদিন বুঝতে পারি নি। আমার যখন জ্বর আসতো, আম্মু সারা রাত ঘুমাতো না। আম্মু কাঁদতো আর আল্লাহকে বলতো, "তুমি আমার মেয়েকে এত কষ্ট দিও না। আমার মেয়ের জ্বরটা আমাকে দিয়ে দাও।" আমি জানি সব মানুষ সবচেয়ে বেশি নিজেকেই ভালবাসে। শুধু আমার মা ভিন্ন। আম্মুর কাছে আমরা চার ভাই বোন হলাম অমুল্য সম্পদ আর নিজের জীবন তুচ্ছ!
http://www.youtube.com/watch?v=O6iBzQXOjPw
আমি হলাম আম্মুর ছোট্ট পাখি চন্দনা। আম্মু চলে যাওয়ার পর মনে হচ্ছে, আসলে আমি অনেক বড় হয়ে গেছি। কত্ত কত্ত দায়িত্ব! নিজে নিজে ঘুম থেকে উঠা, নাস্তা করা, ঠিকমত হোম ওয়ার্ক করেছি কিনা দেখা, ওয়াশিং মেশিনে কাপড় দেয়া, ওখান থেকে ড্রায়ারে দেয়া, খাবার তৈরি করা, কিচেন পরিষ্কার করা, ঘর গুছানো, বাথরুম পরিষ্কার, বাগানে পানি দেয়া, ঠিকমত বিল দেয়া, টাকা হিসাব নিকাশ ঠিক মত রাখা!!!!! উফ! এতকিছু আম্মু একাই সামলাতো! I am sorry mom. কোনদিন তোমাকে বুঝার চেষ্টা করি নি। কোনদিন তোমার কষ্টকে মুল্য দেই নি। এখন জব থেকে বাসায় এসে নিজের হাতে ঘরের তালা খুলতে হয়। মা যখন ছিলো তখন চাবি সাথে থাকলেও তালা খুলতে হতো না। মা দশটা বাজুক, এগারোটা বাজুক, আমরা না আসা পর্যন্ত ঘুমাতো না। বাসা থেকে বের হবার সময় আম্মু দোয়া পড়ে ফু দিয়ে দিতো, আদর করে দিতো, কত সাবধানতার বানী শুনাতো, যতক্ষন দেখা যেতো আমাদের ততক্ষন দরজা ধরে দাড়িয়ে থাকতো। দরজার মধ্যে নিজ হাতে বাইরে বের হবার দোয়া লিখে রেখেছেন আর এর নিজে আম্মুর গুটি গুটি হাতে লেখা "নাস্তা, সেলফোন, চাবি, এসাইনমেন্ট নিয়েছো কিনা চেক করো"।
এই হলো আমাদের মা। যার পৃথিবীতে আমরা ছাড়া আর কেউ নেই, আর কোন চিন্তা নেই। যার কাছে সুখ বলতে বুঝায় উনার ছেলেমেয়ের সুখ। ছোটবেলায় সব আশেপাশের সব আন্টিরা একসাথে গল্প করতে বের হতেন। মা যেতেন না, আমরা স্কুল থেকে এসে যাতে আম্মু কে দেখতে পারি এই জন্য বাসায় বসে থাকতেন একা। একদিকে আমার আম্মু যেমন অনেক সুইট, অন্যদিকে আমার আম্মু অনেক মজার মানুষ। আম্মু রান্না করতে করতে সব সময় গুন গুন করে গান করে। আবার মাঝে মাঝে নিজে নিজেই গান বানায়, গানের কথা, সুর সবই আম্মু নিজে করে। এই যেমন আম্মু আমাদেরকে খেতে ডাকবেন, সেটাও নিজের রচিত গানের সুরে সুরে। <img src=" style="border:0;" />
একদিন আম্মুকে বললাম, "আম্মু তোমার পেট দিনে দিনে ফুলতেছে, এটা কমাও" তখন আম্মু কি করলো? পেটের মধ্যে হাত বুলাতে বুলাতে বলে "আমার পেটটা উঁচা, আমার নাকটা বুঁচা"
হ্যা, এটা আমার মামনি। she is the sunshine in our life.
"I never tell you, But I am frightened by the darkness, mother Usually I, don't show, But I do care about you, mother You know it all, isn't it mother? You know it all, my mother."
Click This Link
আমরা তোমার অপেক্ষায় আছি মা। তুমি এসে এক পশলা শান্তির বৃষ্টি ঝরিয়ে যাও মা। আমার একা একা ভীষন ভয় লাগে মা, ভয়াবহ রকম বিষন্ন লাগে মা, তুমি এসে আদর করে তোমার বুকের মাঝে আগলে রাখো মা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29147935 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29147935 2010-05-03 23:20:43
হিমুর বুক পকেটে এক অন্ধ শাদা বক হিমু আর কাকের মধ্যে অদ্ভুত একটা মিল আছে, ওরা দুজনই ভীষন একা। আর নীল জোছনায় ওদের দুজনের মধ্যেই অদ্ভুত একটা অস্থিরতা কাজ করে।
হিমুর হলুদ পান্জাবীতে একটা পকেট থাকলে আমি হিমুকে বলতাম আমার জন্য পকেট ভর্তি নীল জোছনা নিয়ে আসতে।
আমি জোছনার আলোবিহীন এক অন্ধ দাঁড়কাক যার দুচোখে বাস করে দুটো জোনাক।

২.
ফুল যেমন সৌরভ ছড়িয়ে দেয়, মানুষ ছড়িয়ে দেয় ভালবাসা। আর আমি ছড়িয়ে দেই কালো মেঘ। আমার আঙুলের ডগায় সারাবেলা চলে মেঘেদের উড়াউড়ি। মেঘেরা জানে না কিভাবে স্নিগ্ধ বৃষ্টি শেষে রংধনু হতে হয়। আমি মেঘের কোলে ঘুমানো শাদা বক।

৩.
ললিতাদের কাঠের সিন্দুকে একটা সাদা ফ্রক পড়া এক পুতুল ঘুমাতো। পুতুলটাকে আমি ভীষনভাবে চাইতাম। প্রায়ই সে আমার ঘুম ঘরে পরী হয়ে ঘুরে বেড়ায়।
সে আমাকে তার রূপার কাঠির পরশ বুলিয়ে পুতুল বানিয়ে দিলো। আমি মেহগনি কাঠের সিন্দুকে রেশমি কাপড়ে জড়ানো ঘুমন্ত এক পুতুল এখন।

৪.
আমি তাকে মুক্তাহীনা একটা ঝিনুক দিয়েছিলাম। সে জলতরঙ্গ এক ঢেউয়ের বুকে ঝিনুক ফেলে দিলো। জলের মাঝেই ঝিনুক মানায়!
সে জানবেনা কোনদিন ঝিনুকের বুকে আমার মন লুকানো ছিলো।

৫.
আমার দক্ষিন বারান্দার হলদে আর নীল ফুলগুলো শুধু বললো-বহুদিন বৃষ্টি হয় না!
অথচ গতকাল রাতে আমার শোবার ঘরে অঝর ধারায় বৃষ্টি নেমেছিলো। সে কথা কেউই জানলো না! অন্ধকারের বুকে জড়িয়ে থাকা আমার ছায়াটাও না!

৬.
আমার চোখ দুটো যাকে খুলে দিয়েছিলাম, সে চোখদুটো হাতের মুঠোয় নিয়ে হারিয়ে গেলো! পৃথিবীর সব রং, রূপ, আলো তার হাতের রেখার সাথে মিশে গেলো।
কাঠঠোকরা পাখি ভর দুপুরে আমার চোখের খোলসে ঠুক ঠুক শব্দ করে চলে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29113958 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29113958 2010-03-11 00:26:39
তুলো তুলো মেঘের আকাশ খাবো(এলেবেলে) কার ছবি নেই, কেউ কি ছিলো!
বেলা গড়ালে মাথার উপর যখন সূর্যটা চলে আসতো, আমাদের বাড়ির উঠোন জুড়ে এক কৃষ্ণচূড়া গাছ তার মায়া মায়া ছায়া ছড়িয়ে রাখতো। লোকে বলে, কৃষ্ণচূড়া গাছ বাড়ির উঠোনে লাগাতে নেই। আর আমি ছিলাম প্রচন্ড জেদী আর আদুরে তাই কৃষ্ণচূড়া গাছ আমার ঘরের জানালা বেয়ে বেয়ে রক্তরাঙা বিকেল নিয়ে আসতো।
আমার দেবতাসম পতি যেই সন্ধ্যায় মারা গেলো...কৃষ্ণচূড়া সেদিন তার রক্তরাঙা বিকেল থেকে আমাকে সিঁদূর পড়িয়ে দিয়েছিলো!

মেঘবালিকা, কত স্বপ্ন কথা ছিলো তোমার সাথে
স্বপ্ন সুন্দর নাকি গোধূলী?
স্বপ্নে আমি ইচ্ছে করলে যে কারোর হাত ধরে ভরা পূর্নিমা দেখতে পারবো। টলমল ঝলমল রূপার আলোতে আমি ইচ্ছেমতন স্নান করতে পারবো! স্বপ্নে সবকিছু সম্ভব....সবকিছু সুন্দর। জীবনের সব গ্লানি, ব্যাথা কিছু সময়ের জন্য একটা দিয়াশলাইয়ের বাক্সে ভরে আমরা অসম্ভবের এক জগতে পাড়ি দিয়ে বেড়ায়....যেখানে ভেসে যেতে কোন নৌকো লাগে না। তবুও স্বপ্ন সুন্দর না। ঘুম ভাঙ্গার পর পরই স্বপ্ন হয়ে যায় এক নীল আকাশ আর চোখ দুটো জেগে থাকে কুয়াশা হয়ে।

গোধূলি আর স্বপ্ন দুটোই এক.....দুটোই থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে...দুটোই এক সময় ফুরিয়ে যায়, মিলিয়ে যায়। আর আমার বিছানার পাশে পড়ে থাকে ভালোবাসার কাটা হাত। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29098733 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29098733 2010-02-16 03:05:22
চোখে আমার তৃষ্ণা

"মনে পড়ে, ধূসর কোন দুপুরের জানালার হাত ধরে মনে পড়ে, চিক চিক তারাদের মেলাতেও মনে পড়ে, এমনো দিনে বৃষ্টির রিনিঝিনি নৃত্যে মনে পড়ে...মনে পড়ে...মনে পড়ে...."
কাকে মনে পড়ে? জেগে থাকে...জেগে থাকে শুধু দুটো চোখ।
মনের জানালা ধরে উকিঁ দিয়ে গেছে যার চোখ তাকে আর মনে পড়ে না চেয়ে চেয়ে কত রাত, দিন কেটে গেছে আর কোন চোখ তবু মনে ধরে না
Click This Link
তার চোখ দুটো ছিলো আমার কপালের নিঝুম টিপ। বহুকাল টিপ বুলানো হয়না।
জাগে না, জাগে না তার চোখ...
**********************
যারা শাড়ির আচলে একটা অচল পয়সা বেঁধে রাখে, তারা জানে না তাদের স্বপ্ন দেখা মানা। সেই পয়সাটাই ওদের কাছে এক স্বপ্ন....আদরে জড়িয়ে থাকা!
*********************
চোখে আমার তৃষ্ণা ওগো তৃষ্ণা আমার বক্ষ জুড়ে আমিদৃষ্টিবিহীন,বৈশাখেরদিন

Click This Link
যারা বৃষ্টি ভালোবাসে না তাদের চোখে সারা বছরই বর্ষা নামে। এটা মেঘের দেয়া অভিশাপ।
তাকে হারিয়ে ফেলছি....ক্রমশ। আমার আর বৃষ্টি ছোঁয়া হলো না। তাই দলাপাকা মেঘ আমার খোঁপার ভাজে ফুল হয়ে জড়িয়ে থাকে!

মেঘ পিয়নের ব্যাগের ভিতর মন খারাপের দিস্তা মন খারাপ হলে কুয়াশা হয়, ব্যাকুল হলে তিস্তা!
http://www.youtube.com/watch?v=yyvUWpqev5g
*************
বাইরে প্রচুর ঠান্ডা হিম হিম বৃষ্টি ঝরেই যাচ্ছে...ঝরেই যাচ্ছে। সবার জন্য এক মুঠো বৃষ্টি
Click This Link
আর হ্যা, শুভ ভালবাসা-বাসি <img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29096361 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29096361 2010-02-13 00:54:44
অন্ধকারের গান! গুহার মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে থাকলে সূর্যের দেখা পাওয়া সম্ভব না। ক্ষুদ্র জোনাক পোকাকে দেখো- আধাঁরকে সে আলিঙ্গন করে না। নিজের মাঝে সে আলো সৃষ্টি করে নেয়। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, ক্ষুদ্র জোনাক পোকার চেয়েও তার কর্ম দক্ষতা/বুদ্ধি আরো উচুঁ। মানুষ জানে কিভাবে কৃত্রিম আলো সৃষ্টি করতে হয়।
তোমার চোখের মণিতে সূর্যকে বেঁধে রেখো আর গলায় জড়িয়ে রেখো নিয়ন আলোর হার।

২.
একজন ব্যার্থ মানুষের তিনটা হাত থাকে: ডান হাত, বাম হাত, এবং অজুহাত। কোন অজুহাত বানানোর পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়াই ভালো।
লতানো পেচানো কোন স্বর্নলতার মত হলো অজুহাত, যার জন্য বার বার হোঁচট খেতে হয়।
শিশুরা হোঁচট খেতে খেতেই হাঁটা শিখে, কিন্তু যারা হাঁটতে জানে তাদের জন্য হোঁচট খাওয়া উচিত না(তাদের জন্য হোঁচটা জিনিসটা কোন সফল বয়ে আনে না)।

৩.
বেঁচে থেকেও মৃত মানুষের মত বসবাস করার কোন মানে হয় কি? গাছেরও যে প্রাণ আছে তা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই। গাছের সবুজ পাতাকে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস নিতে নিতে ফুলে ফেঁপে উঠতে দেখি না আমরা। তোমার ভারী নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস আমাদের কানে ঝংকার তুলুক। তোমার অস্তিত্ব যেনো হাতের তালুর রেখা হয়ে থাকে।

৪.
পেঙ্গুইন, এক ধরনের পাখি। তাদের পাখা থাকার পরও তারা উড়তে পারে না।
আমার ডানা নেই, তবুও আমি পাখি। কারণ আমি উড়তে জানি। আকাশ ছোঁয়ার অদম্য ইচ্ছা আমার আছে আর আছে জয় ছিনিয়ে আনার বাসনা।
সব মানুষের বুকেই একটা পাখি ঘুমিয়ে থাকে। তাকে আদর করে ঘুম পাড়ানীয়া গান শুনালে পাখি একদিন নৌকো হয়ে যায়। নৌকো উড়ে না, সে ভেসে বেড়ায়। সেই নৌকো নিজে নিজে ভাসতেও জানে না, সে জলের স্রোতের কারণেই ভেসে যায়।
আমি বেছে নেই পাখিকে। ডানাহীন পাখির উড়তে পারার কথাও না। তবে উড়তে চাওয়ার ইচ্ছাটাতে পানি দিতে হয়। একদিন এই ইচ্ছাটাই পাখির মত উড়তে পারে।
http://www.youtube.com/watch?v=c71-VVrbB4w

৫.
মুগ্ধ করা অন্ধকারের গান তোমার খোলা জানালা দিয়ে কখনো ভেসে আসতে পারে। সেই গান বুকের পাজরে আটকে ফেলো না। সে ক্রমশ তোমার হাতে পায়ে সোনার শিকল পড়িয়ে দিবে। চোখ বেঁধে দিবে নরম মখমলের ওড়নাতে।
এত সহজে অন্ধকারের গানকে তোমার নিজের উপর কর্তৃত্ব করতে দিও না।
ভাবো না। সূর্য তোমার জানালার পর্দা চুঁয়ে চুঁয়ে নেমে আসবে এক সকালে।

উৎসর্গ: সাইফ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29090330 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29090330 2010-02-02 22:50:07
জাগে না জাগে না তার চোখ... ভয় পাওয়াও যে একটা রোগ এটা সবাই জানে না। আমি জানি। প্রতিরাতে আমি ভয় পেয়ে জেগে উঠি। না, আমাকে কেউ ঘুমের মধ্যে ভয় দেখায় না।
শুধু আমি ছোটবেলায় দেখা ভয়ংকর একটা চেহারা দেখতে পাই।
রক্তের স্রোতে কৃষ্ণচূড়া গাঢ় লাল হতে থাকে।
স্মৃতি মুছে ফেলার জন্য কোন ইরেজার থাকলে ভালো হতো।
*********************
আমি পালাতে চাই। দুঃস্বপ্ন থেকে পালানোর কি কোন পথ আছে?!
আমি নিদ্রাহীন সময় কাটিয়ে দেই। একটা দুটা... তারা গুনা শেষ করার আগেই তারাগুলো সব মিলিয়ে যায়।

২.
শিশুরা এত মায়াময় হয় কিভাবে! আমার ছোটবেলার ছবি দেখে আমি নিজেই মুগ্ধ হয়েছিলাম, মনে হচ্ছিলো আমাকেই আমি আদর করি বসে বসে।
আমার আশেপাশে, কোন শিশুর প্রতি বাবা মার আদর মুগ্ধ চোখে দেখি আমি। ব্লগার স্বপ্নজয়ের কিছু পোষ্ট (উনার সন্তানকে নিয়ে) পড়ে আমার ইচ্ছে করছিলো উনার পা ছুঁয়ে সালাম করি। আমার বাবার প্রতি এই রকম অনুভূতি কখনো জন্মায়নি।
******************
ভালোবাসা সুন্দর-সবাই এই সত্যটা বুঝার সুযোগ পায় না। বুঝে গেলে হয়ত আমি তুমি আমাদের শাড়ির আঁচলে একটা প্রজাপতি যতন করে বেঁধে রাখতাম।

৩. এলোমেলো থাকার আলাদা একটা মজা আছে। ঘরে এসে, গলার স্কার্ফ দরজার নবে ঝুলিয়ে দেয়া যায়।
কিংবা মাঝে মাঝে আকাশের বুকে হাত রেখে মেঘগুলোকে উলোট পালট করা যায়!
******************
হিমুর পান্জাবীতে একটা পকেট থাকলে ভালো হতো। আমি তার পকেটে চুপটি করে ঢুকে যেতাম।
আমি এক হলদে প্রজাপতি হতে চেয়েছিলাম।
Click This Link

৪.
তুমি আমাকে ফুল দিও না। ফুল শুকিয়ে যাবার সাথে সাথে ভালোবাসাও শুকিয়ে যেতে পারে। তোমার মুক্তোর মত চোখের জল দিও আমায়। আমি তা শঙ্খ-দিঘীর বুকে জমা রাখবো।
http://www.youtube.com/watch?v=c7Pm_5xyNWc
******************
তোকে আমি আমার চোখের পালক দিলাম। চোখের পলক ফেলা মানে তোকে একটু খানির জন্য হারিয়ে ফেলা, চোখের আড়াল করে ফেলা।
আমার চোখের পালক তুই তোর নখের তলায় লুকিয়ে রাখ।

ভালোবাসা সুন্দর-এই বিশ্বাসটা আমাদের মাঝে গড়তে চাই।
জীবন দিতে পারার মত সাহসটুকু এখন শুধু চাচ্ছি। তোর রুমালের ভাজে ফুলের বনে আমার প্রানটা রেখে দিস।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29086287 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29086287 2010-01-26 22:01:16
আমাদের ভালোবাসার নাম নদী ঘুড়ি ঘুড়ি
উড়ো উড়ো
আমার মন দুরু দুরু

(ঘুড়ি বুঝি হেসেই দিলো!!) আমি জানি রে তুই আকাশ ছুঁতে পারিস না। আমিও পারি না, কারণ আমি বৃষ্টি। বৃষ্টির নিয়মই হলো ঝরে যাওয়া।
এক ফোঁটা
দু ফোঁটা
গুড়ি গুড়ি
ঝিরিঝিরি
ঝমঝম
ছমছম
আমি মেঘ হয়ে আকাশকে জড়িয়ে ধরতে চাইরে।
****************
সে আমার না, কিন্তু আমি তারই ছিলাম। অর্থ কি এটার!?
*****************
আজ আমার মন ভালো নেই। কাউকে বলা হয় না এই কথা। এখানে রঙের বড্ড অভাব। আমার মনটা রঙিন করে দিবে কে?!
Click This Link
************

রাখালকে খুব খুঁজছি। রাখাল কোথায় থাকে?! কর্নফুলী নদীর তীরে আমাকে কি সে নিয়ে যাবে?
***************
নদী!
আমাদের ভালোবাসার নাম আমি নদী দিলাম। জোয়ার ভাটার খেলা এখানে মানায় না। নদী আমি তোকে আমার চুলের বেনী দিলাম, তুই ছলছল বয়ে চল।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29082086 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29082086 2010-01-20 00:34:18
চন্দ্রাহত! মাঝে মাঝে কোন এক তারা ঝরে যায়
ঝরে যায় কপালের নীল টিপ হতে
আমি রূপালী মেয়ে হয়ে পথে হেঁটে যেতে যেতে দেখি
জোনাকের ডানা পড়ে থাকে ধূলোতে!
আমাকে জ্যোৎস্নামাখা রাতে,
সোনার কাঠি-রূপার কাঠি তার জাদুর মাঝে বেঁধে ফেলে
সারা শহর ঘুমিয়ে পড়লে বনের মাঝে শঙ্খ কান্নার ঢেউ উঠে
কেউ ডেকে যায়......ডেকে যায় আমায়
আমি তখন জাদুর মায়ায় ঝিনুকের বুকে বন্দী!
*************
আমাদের প্রথম দেখা, শেষ দেখা বলে কিছুই নেই। তাকে দেখার অদম্য ইচ্ছা প্রায়ই কষ্ট দেয়। তার কাছে আমি যেতে চাই---যতটা কাছে গেলে তার নিঃশ্বাস প্রশ্বাস টের পাবো। যতটা কাছে গেলে তার বুকের মাঝের ডাহুকের বিলাপ আমি শুনতে পারবো।

বাস্তবতা কঠিন তবে মায়া তার চেয়েও গভীর আর প্রকট।
Click This Link
**************
আমি জানি সে আছে, সে থাকবে। আমার চার দেয়ালের সাদা আর হালকা গোলাপীর সবটা জুড়েই সে মিশে আছে। শুধু হাত বাড়ালে আমার হাতের উপর তার হাতের ছুঁয়া পরে না।
*************
ইচ্ছাপূরনের দেবতা কোথায় থাকে তা আমার জানা নেই। জানা থাকলে ইচ্ছাপূরণের দেবতার কাছে দুটো ডানা চাইতাম।
পাখি উড়ে অজানায় মিলায় না। পাখি তার প্রিয় আকাশের বুকেই ফিরে এসে ঘুরে ঘুরে উড়ে বেড়ায়।
আমি পাখি হয়ে চাঁদের দেশে চলে যেতাম তাহলে....ঝুলন্ত চাঁদের পাশে তারা হয়ে যেতাম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29077290 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29077290 2010-01-12 22:25:00
আমি যতবার উড়াল মেঘেদের চোখে চাই
মানুষ সুন্দরের পূজারী। শুধু আমি সুন্দরকে ঘৃনা করি। সুন্দরতা মানুষের মনের তৃপ্তি বাড়ায় আর আমার চোখের জ্বালা বাড়ায়।
পৃথিবীর সব সৌন্দর্য্য সবাই সহ্য করতে পারে না।
**************

ঢাকার ব্যস্ত পথে যেই বালিকাটি ফুল কিংবা ফুলের মালা হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়-সে আমাকে দুচোখে দেখতেই পারে না। কারণ সেই ফুলগুলো কারোরই কিনার নিয়ম নেই। কিংবা বলা যায়, আমার জন্যই মেয়েটি তার ফুল বেঁচতে পারে না। ফুলের প্রতিটি পাঁপড়ি ধীরে ধীরে শুকিয়ে ঝরে পড়ে, তাতে বালিকাটির মত আমার মোটেও দুঃখ হয়না।

আমি জানি, এক পাগল একদিন আমার জন্যই বালিকার সব ফুল কিনে নিবে।
আমি ছাড়া কেউ কোনদিন ফুলপরী হতে পারবে না।

***************
মেঘকে বলো তার বুকের বোতাম খুলে দিতে। আমি মেঘের শরীর। আমি বৃষ্টিকন্যা হবো। তার উঠোনে রিনিঝিনি ছন্দ বাজে না বহুদিন।

উহুঁ, আজ আমি কোথাও যাবো না। আমি তোমাকে ধূসর নীল রং উপহার দিলাম।
****************
আমার আঙুলের ভাজে একটা বকুল ফুলের গাছ ছিলো। একটা বকুলের মালা আমি গেঁথে ছিলাম। রাখাল জানে না।
আমার হাতের তালুতে একটা বট গাছ তার ডালপালা মেলে বেড়ে উঠছে।

বকুল গাছের কথা বলছো?!
সেতো মরে গেছে সেই কবে! তখন ভোর হতো না। শুধু তুষার জমতো বকুল গাছের শিকড়ের নিচে।
আর আমার আঙুলের ডগায় মেঘেদের উড়াউড়ি!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29072622 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29072622 2010-01-05 23:38:07
এবং লাল টিপ অভিমান কিংবা বিষাদ
রাখাল চলে গেছে চন্দ্রমাখা মেঠো পথে। তার পায়ের ছাপ আমি খুঁজে পাইনি। সে বাঁশি ফেলে গেছে আমার রূপার পালন্কে(!?)। রাখাল, আমি বাঁশিতে সুর তুলতে জানি না।
***********
আমি আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছি। যেখানে ভালবাসা ফুরিয়ে গেছে(নেই) সেখানে ভালবাসার অস্তিত্বকে বাঁচিয়ে রাখার কোন মানে হয় না। আমি চাই আমাদের একটা মেয়ে হোক-আমাদের ভালবাসার বীজ থেকে।
আমি মেয়েকে রূপার নুপুর বানিয়ে দিবো।
***********
আমাকে খুন করা হয়েছিলো! যদিও তার কোন প্রমান কেউ পায়নি। আকাশকে আমি সব কিছু বলেছিলাম, আকাশ জানতো আমার গোপন সব দীর্ঘশ্বাস। তবুও আকাশের বুকে কখনো রক্তক্ষরন হয় নি। আকাশের বুক থেকে আমি বৃষ্টি হয়ে ঝরে গেলাম!

প্রেম!

জানালার ওপাশেই ছিলো রাতের আকাশটা
হাজার হাজার তারাদের মেলায় শুধু চাঁদটাই ছিলো না
কি করে থাকবে!
চাঁদটা ঢাকা ছিলো আমার বুকের পরে ওড়নার ভাজে।
*********************
ও সমুদ্র! সে আসবে তোমার কাছে
তাকি জানিয়ে দিও তোমার গভীরতার কথা
আমি তোমার বুকে ডুব সাঁতার দেই, হে সমুদ্র!
সেকি জানবে তোমার গভীরে ঝিনুকের মাঝে আমার মন রাখা আছে?
**************
তুই বুঝি মেলাতে যাচ্ছিস? আমি ডাঙর মেয়ে। আমার আলতা পায়ে ঘরের বাহির হওয়া মানা। আমার শাড়ির আচঁলে দু'পয়সা রাখা আছে। আমাকে একটা ঝুনঝুনি কিনে দিবি? আমি সারাবেলা তার মনের ঘরে ঝুনঝুনি বাজিয়ে যাবো।
***********
তুই আমার সাথে লুকোচুরি খেলিস নাতো। মেঘের ফাঁকে ফাঁকে চাঁদের লুকোচুরি খেলা আমার ভালো লাগে না। ও চাঁদ, তুই আমার কপালের রাঙা টিপ হয়ে থাক চুপটি করে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29068054 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29068054 2009-12-30 01:12:57
আমি এই ছোট্ট ঘরের রানী
******
আমি এসেছিলাম ভীষন নিঃশব্দেই
আমার আগমনে কোথাও পটকা ফুটেনি
মেঘেরা ভাসতে ভাসতে অবাক চোখে থমকেও দাঁড়ায় নি
ধবল হাঁসের বুকে আমার পায়ের নুপুর বাজেনি
তবুও আমি এসেছিলাম
বিস্তর স্বচ্ছ জলের বুকে এক পদ্মকুমারী হয়ে।
***********
কত অদ্ভুত অদ্ভুত জিনিসে ভরা ছিলো আমার চারপাশটা! আমি কাঁদতেই যেনো ভুলে গিয়েছিলাম একেবারে। আমি মায়ের কোলে চুপটি করে শুয়ে কিন্তু বিষ্ময়ে চোখ বড় করে তাকিয়ে ছিলাম। এটাই যে আমার মা আমি কি তখন জানতাম? আমি কি বুঝতে পেরেছিলাম যে পৃথিবী ভেঙে চুরমার হয়ে গেলেও, মা বুকের মাঝে আমাকে আগলে রাখবেন যাতে আমি একটুও ব্যাথা না পাই!? বুঝতাম হয়ত। তা না হলে মা কেন আমাকে কোল থেকে নামাতেই পারতেন না! আম্মু বাথরুমে যেতে চাইলেও আমাকে কোল থেকে নামানো যেতো না(অনেক খানি বড় হবার পরও)। কোল থেকে নামাতে গেলেই আমি পা দুটো ভাজ করে ঝুলে পড়তাম।
***********
আমার বড় তিন ভাই বোনের তো বিস্ময়েরই সীমা ছিলো না। হুট করে একটা পরীর ছানা আমাদের ঘরে কখন, কোথা থেকে, কিভাবে এলো!!!
আপু তো অবাক হয়ে ওর এতটুকুন আঙুল দিয়ে একবার আমার চোখের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দিতো, আরেকবার মুখের ভিতর!
আমি এসেই পৃথিবীর সব আদর আর ভালোবাসার মধ্যে ভাগ বসালাম।
************
ওমা! বলতেই ভুলে গেছি। রাতের বেলা আমার চোখে ঘুমই থাকত না। বাবা শোবার ঘরে হালকা নীল রঙের একটা ডীম লাইট লাগিয়েছিলেন। আমি চোখ বড় বড় করে বাতির দিকে তাকিয়ে থাকতাম। আর মামনির তো দুশ্চিন্তার শেষ নেই-বাবুসোনা ঘুমায় না কেনো!?
*************
ঠিক করা ছিলো, আমার জন্মের পর পরই আমাকে বড় খালাকে দিয়ে দেয়া হবে।( কি নিষ্ঠুরতা!) ওখানে নাকি আমি অনেক আদর আর সুখে বড় হতাম (মার কথা)
আমার জন্মের কয়েক দিন পর নানী পুটলা পাটলা নিয়ে ঢাকা থেকে আসলেন। আমাকে সাথে করে নিয়ে যাবার কথাই ছিলো। তারপর বাবার কি হলো কে জানে! আমাকে আর দিতে চাইলেন না, হয়ত মায়া লেগে গিয়েছিলো। (থ্যাংকস আব্বু)
আমি আমার এই ছোট্ট ভাঙাচুরা রাজ্যেই পৃথিবীর সব ভালবাসা আর সুখ দুহাত ভরে পেলাম! আমার নামই শুধু না, আমি বেড়েও উঠেছিলাম "little princess" হয়েই।

*********
আমি তোমারও প্রিন্সেস তাই না? তবে এইবার তুমি তোমার সময় মতো শুভেচ্ছা জানাও নি। তুমিও রাগ, এখন আমিও রাগ। রাগে রাগে দুনিয়া লাল।
বুড়ি হয়ে যাচ্ছি <img src=(" style="border:0;" />
*********

**শুভ জন্মদিন আমাকেই আমি**]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29065618 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29065618 2009-12-26 00:54:46
আমি শুধু রাখালের ঘুমন্ত ফুলকন্যা হয়ে থাকবো *******************
আমার মাটির পুতুলটা দেখেছিস? গতবছরের বর্ষায় সে মরে গেলো। আমি তাকে কবর দিয়েছিলাম আমার শঙ্খ, নাকের নোলক, আর খোঁপার কাঁটার সাথে।
*******************
মেহেদির রঙ হাতে গতকাল আমার বিয়ের দিন ছিলো। বাসর রাতে আমি মেহেদি পাতা বিছিয়ে দিলাম আমার সারা বিছানায়। সারা রাত আমাকে পাহারা দিলো এক আরশোলা। আমার সাথে যার বিয়ে হয়েছিলো তার মুখ আমি ছুঁয়ে দিতে পারি নি কোনদিন। ছায়ার নিজস্ব কোন অবয়ব থাকে না। আমি এক শিমুলের গাছ শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলি "তোকে আমি পূজো করবো সারাটা জীবন"।
**********************
নন্দিনী ভেসে উঠেছিলো নিঝুম দীঘির পাড়ে। তাকে আমরা বলতাম অপয়া। তার কেশ বেয়ে বেয়ে উই পোকা উঠে যেতো। তার চোখের কাজলে পুরুষ লেপ্টে যেতো। নন্দিনী এক পুরুষকে তার নাকের নোলক দিয়েছিলো আর তার চুলের দুটো বেনী খুলে দিয়েছিলো। নন্দিনীকে আমরা অপয়া উপাধী দিয়ে শাস্তি দিলাম। নন্দিনী যেদিন মরে ভেসে উঠলো তার কোন কেশ ছিলো না। তার চোখেও সেদিন কোন কাজল ছিলো না-দীঘির জল তা মুছে নিয়েছিলো। আমি জানি, নন্দিনী সেদিন তার ভালোবাসাকে জলের গভীরে পুঁতে আসতে গিয়েছিলো।
*******************
আমাদের মাটির ঘরের কাঠের আলমারীর পাশে একটা জোনাক পোকাকে আমরা পুঁতে ফেলেছিলাম। আমাদের ঘর আলোময় হয়ে থাকার কথা ছিলো। গভীর রাতে সিলিং ফ্যানের ঘটাং ঘটাং শব্দের মাঝে আমি ডানা ঝাপটানোর শব্দ শুনি। আমরা সুখকে বন্দী করেও সুখী হই নি, কারন জোনাক পোকা আমাদের অভিশাপ দিয়েছে। আমাদের শরীর থেকে অভিশপ্ত হাড় দেখা যায়, তবুও আত্না থেকে জোনাকের ছায়া মুছে নি।
********************
আমি খালি পায়ে হাঁটতে পারি না। তবুও আমার ভীষন ইচ্ছে হিমুর হাত ধরে বহুদূর হেঁটে যেতে। মাঝে মাঝে হিমু কমলা রঙের সূর্যের মাঝে ডুব দিয়ে হারিয়ে যায় আমার কাছ থেকে। হিমু জানে না, আমি তাকে কতটা ভালোবাসি। আমি একদিন কমলা রঙের সূর্যটাকে গিলে ফেলবো। সেদিন হিমু শুধু আমার মাঝেই হারাবে।
**********************
আমি তোমাকে ঘৃণা করি, যেমন ঘৃনা করি ঈশ্বরকে। আমাকে একটা জোনাক দেয়ার কথা ছিলো তোমার। তুমি, ঈশ্বর, তোমরা কেউ কথা রাখ নি/(রাখো না)। আমি তোমাকে খুন করবো।
আকাশ আমার কানে কানে বলেছে, সে তার মেঘের ভাজে আমাকে লুকিয়ে রাখবে। আমার কোন শাস্তি হবে না।
********************
আত্নহত্যা মহা পাপ-তা আমি জানি। আমার শোবার ঘরের দেয়ালের প্রতিটি ইট জানে আমি সাহসী না। বাতাস, তুই আমাকে গলা টিপে মেরে ফেল। আমি মায়াপুরীর পরী হবো।
********************
আমি রাখালকে দেখেছিলাম কর্ণফুলীর নদীর পাশে। তার হাতে কোন বাঁশি ছিলো না, তবুও আমি পাগল হয়ে ঘরছাড়া হলাম। সেই নদীর বুকে আমি ফুল ফুটাতে চেয়েছিলাম। আজ আমি কর্ণফুলীর বুকে ঝাঁপ দিয়ে ফুল হয়ে যাবো। আমাকে কেউ আর খুঁজে পাবে না। আমি শুধু রাখালের ঘুমন্ত ফুলকন্যা হয়ে থাকবো।

উৎসর্গ: নির্ঝর নৈঃশব্দ্য- যার মুক্তগদ্যগুলো আমাকে অনেক টানে। যার লেখাগুলো ছিলো আমার এই হাবিজাবি লেখাটার অনুপ্রেরনা]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29057301 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29057301 2009-12-11 23:44:36
রাখাল, আমি তোকে নিয়ে পালিয়ে যেতে চাই এখানে বড্ড শীত!

তুমি স্বচ্ছ চাদরে উষ্ণতা লুকিয়ে রাখো
আমার লেপের ভাজে ভাজে থাকে শীতল কোয়া
আমি একটি একটি করে লেপের সুতা খুলে দেই
তবুও তোমার চাদরে এত উষ্ণতা থাকে কি করে!
আমার বিছানায় তুষার জমে
এখানে বড্ড বেশি শীত
আমি তুষারের চাদর গায়ে এক ধবলহাঁস হই
********
আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিলো চাঁদ

আমাকে তোমার চোখ দুটি খোলে দিবে?
আমি তোমার চোখের মণি বুকে করে বয়ে বেড়াবো
আমি দুহাত ভরে ঘাসফুল গুঁজবো আমার চুলের বেনীতে
তুমি আর কক্ষনো দেখবে না আমার অপরূপ রূপ
শুধু আমি তোমার হাত দুটি ধরে
অসহ্য সুন্দরের আগুনে পুড়ে মরে যাবো।
*******************
রাখাল, আমি তোকে নিয়ে পালিয়ে যেতে চাই

আমার কোন কালেই কোন বাঁশি ছিলো না
আমার বুকের বোতাম ছিঁড়ে পাখি উড়তে চাইত না
মাঝে মাঝে শুধু বিষাদ সুরে মরা কান্না জুড়ে দিতো
তারপরও আমার সোনার পালঙ্কে কোন বাঁশি শীতঘুম দিতো না
তবুও আমি রাধাঁ সেজে ফুল হাতে
রাখাল, আমি তোকে নিয়ে পালিয়ে যেতে চাই।
*****************
তুই, ফড়িং কিংবা দীঘির টলমল জল

ফড়িং, তাকে মানায় শস্য ক্ষেতের ধানের শীষে উড়ো উড়ো
আর তোকে মানায় আমার বুকের মাঝে সরোবর।
**************
সাঁতার দিও দীঘির জলে, সাঁতার দিও মনে

আমার একটা লাল শাড়ি আছে
শাড়ির আচলে বাধাঁ আছে তোর দুটি চোখ
তুই আমার জন্য আলতা আনবি বলে
"মায়া দীঘির" জলে ডুব সাঁতার দিলি!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29049172 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29049172 2009-11-25 00:21:55
কপালে এক চন্দ্রবিন্দু টলমল টলমল স্বচ্ছ পানি....কিন্তু গাঢ় নীল
আকাশই বুঝি নেমে আসতো দিঘীর বুকে!
আমি আকাশ ছুঁয়ে যেতাম আমার বেগুনী হাতে
আজ সেই জায়গাটায় হলদে ঘাস জন্মায়
শুধু দিঘির বহমান পানি
আমার বুকের বাম পাশটায় চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
****

তোমার চোখে,
আমার চুল, চোখের পাপড়ি, আর নখ ছিলো গোলাপী রঙা
শুধু তুমি জানতে না আমার মনের রঙটা
****

এই তারাটা আমার বড্ড বেশি চেনা
আর কেউ চিনে না
তারাদের নাকি রকম-ফের নেই
সব তারাই এক!
শুধু আমি চিনি এই একটা তারা
আর কেউ না জানুক
শুধু আমি জানি-
তোমাকে তারা বানিয়ে আমি ঝুলিয়ে দিয়েছিলাম চাঁদের পাশে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29048054 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29048054 2009-11-22 22:05:08
তুমি, আমি আর এক ঝাঁক হতাশার পাখি তুমি এক প্রজাপতি...তোমার রঙিন ডানাদুটো চোখ এড়ায় না কারোরই।তবুও ডানা ভাঙা প্রজাপতির মত মাটিতে পড়ে লেপ্টে থাকো।
তোমার মাথার উপর স্বপ্নগুলো উড়তে থাকে তবুও তুমি হাত দিয়ে সেগুলো ছুঁয়ে দেখো না। কারন কিভাবে হাত বাড়িয়ে স্বপ্ন ছুঁতে হয় তা তুমি ভুলে যাও। এই রকম আনমনা/ভুলোমনা আমার মত তুমিও কি প্রায়ই হও? চারপাশে এত এত ঝলমলে রঙের মেলা তবুও কি আমার আকাশটার মত তোমার আকাশটাও কালো মেঘে ঢেকে যায়? মেঘের পরেও মেঘ তারপরও এক পশলা ভালোবাসার বৃষ্টি কেনো ঝরে না!---আমার মত তোমারও একি প্রশ্ন, তাই না?
বৃষ্টি শেষে তোমার আমার আকাশে রঙধনু অন্তত হেসে উঠতে পারতো।
তুমিও কি লড়াই করার শক্তি হারিয়ে ফেলেছো? নাকি জীবনের অর্থ খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত? আমিও সঠিক জানি না।
তবে আমার ভীষন ঘুম পায় আজকাল।
সারাবেলা বন্ধ জানালা...সারাবেলা বন্ধ দুচোখ...শুধু ঘুম ঘুম ঘুম-
কেউ আমাকে ঘুমপাড়ানিয়া গান শুনাতো যদি!
"ও গানওয়ালা, আরেকটা গান গাও। আমার কোথাও যাওয়ার নেই, কিচ্ছু করার নেই"


তুমি এখন আর স্বপ্ন বানাও না
এখন আমিও আর স্বপ্ন দেখি না
এখন আর তুমি বৃষ্টিতে ভিজ না
সব সময়কার মত বৃষ্টি জলে শুদ্ধ হতে আমি চাইনা অনেকদিন
তুমি সন্ধ্যা ঘনালে লালচে আকাশে মিলাও
আমি একটা দুটা তারা গুনে গুনে ক্লান্ত হই
আমি বারান্দার ঝুলন্ত দুলনায় দুলতে দুলতে
এক সময় ঘুমিয়ে পড়ি
তোমার গড়া স্বপ্নগুলো আমার চোখে হাত বুলায় না তখন
রাতের আঁধারে চুপি চুপি স্বপ্নগুলো ডানা মেলে না
উড়ে উড়ে আমার আকাশে রঙ ছড়ায় না।
কাকডাকা সকালে তুমি ব্যস্ত পায়ে হেঁটে হেঁটে যাও
একটু খানি আকাশ দেখার তোমার হয়না অবসর
আমি সেই আকাশের ছোট্ট প্রজাপতি হই না।
তবুও তুমি জানো, আমি জানি-আমাদের স্বপ্নগুলো এক
তোমার বুক পকেটে এক অচল স্বপ্ন ঘুমায়
আমার শাড়ির আচলে বাঁধা থাকে সেই একি ঘুমন্ত স্বপ্ন
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29047001 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29047001 2009-11-21 00:17:47
মেঘের বুকে আমার চিরচেনা জোনাক ঘুমায় ভুলে ধোঁয়া ধোঁয়া ধোঁয়া আবছা আবেশে
শত শত তারারা ঘিরে ঘিরে রাখে
তবুও আমি জানি সেখানে কি লুকানো থাকে
শত শত বছর আগে আমার বুকের ঘরে
সোনার আলোয় জোনাকি উড়ে যেতো
আজ সেখানে মরা কান্না জুড়ে দেয় শিয়াল
আমি জানি
আমি গোপন সেই কথা জানি
মেঘের বুকে আমার চিরচেনা জোনাক ঘুমায় ভুলে
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29043192 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29043192 2009-11-14 03:06:41
তুমি ঘুম ঘুম কুয়াশা বিশাল নীল আকাশ আমার ছোট্ট চোখে ধরা পড়ে না
তুমি চোখের মাঝে বৃথাই আকাশ খুঁজতে যেও না।

[হে রহস্যময়ী নারী, আমি সেদিন সমুদ্র ছুঁয়ে এসেছি
সেই সমুদ্র চিরচেনা....চিরচেনা মনে হয় এখন!]

তুমি আমার চোখে সমুদ্র খোঁজতে এসো না
পুরুষ, তুমি তলিয়ে যাবে
তলিয়ে যাবে অতল গভীরে
পুরুষ, তুমি আমার চোখ ছুঁয়ে দিতে এসো না
তুমি আমার বুক ছুঁয়ে যদিও দাও---তবুও বাঁধা নেই
আমার প্রতিটি ভারী নিঃশ্বাস প্রশ্বাস জানে, "তুমি ঘুম ঘুম কুয়াশা"।
ভোরের গাঢ় শুভ্র কুয়াশায় পথিক শুধু মিলিয়ে যায়
হারিয়ে যায়...
কুয়াশার চাদর গায়ে জড়িয়ে সে বাড়ি ফিরে আসে না
তুমি শুধুই অস্পষ্ট কুয়াশার কুন্ডলী
তোমার ধূসর অব্য়ব আমার চোখের মাঝে ভেসে উঠে না যখন তখন।
হে পুরুষ, তুমি আজ অভিশপ্ত
তুমি যেকোন এক নারী পাবে
তবুও তার ভালোবাসা বৃষ্টি হয়ে তোমাকে ভিজিয়ে যাবে না
রাতের আধাঁরে উগ্রসাজের নারীদের সবাই পায়
সেই নারীর শরীরে লেগে থাকে প্রতিটি পুরুষের একেক গন্ধ
তবুও তার চোখের জলে কেউ মুক্তা হয়ে ফুঁটে থাকে না।
হে পুরুষ,
না হয় বলি আজ তোমায় সুপুরুষ
তুমি আমার চোখ ছুঁয়ে দিও না
গভীর নীল সমুদ্র সেদিন আকাশ হয়ে ভেসে যাবে দূরে
তুমি শুধু ঘুম ঘুম কুয়াশাই
তুমি হিম হিম ধূসর কুয়াশার চাদর হয়েই থাকো।

*****************************************************
শুধু বেঁচে থাকুক আমার চোখ দুটি তোমার অভিশপ্ত হাত থেকে
বেঁচে থাকুক সুন্দরের অপেক্ষায়
তোমার ধূসর হাত সরিয়ে রেখো ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29042631 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29042631 2009-11-13 01:02:17
পুতুল বিয়ে
ঝুমকিমনির ভীষন মন খারাপ। হওয়াটাই স্বাভাবিক। তার পুতুল বউটার বিয়ে হচ্ছে না। কি করেই বা হবে?
ওদের বাসায় যেই মেয়েটা কাজ করে সে কিছু ময়লা কাপড় দিয়ে একটা পুতুল বউ বানিয়ে দিয়েছিলো ঝুমকিকে। কিন্তু পুতুলটার কোন সুন্দর শাড়িই নেই। মৌরির ভারী সুন্দর একটা পুতুল বউ আছে। কি সুন্দর রঙিন শাড়ি পড়ায় মৌরি বউটাকে! গত শুক্রবার বিকেল বেলা সোনিয়ার বর পুতুলটার সাথে মৌরির পুতুল বউটার বিয়ে হলো। বউটা কি সুন্দর একটা লাল বেনারসি শাড়ি পড়েছিলো!
ঝুমকির পুতুলটার কোন ভালো শাড়িই নেই যে পুতুলটার বিয়ে দেয়া যাবে। ঝুমকি ওর মার ঘরে গিয়ে ওয়াকিং ক্লোজেট খোঁজেও একটা শাড়ি পেলো না। ঝুমকির ভীষন মন খারাপ হয়। সুন্দর রঙিন শাড়ি না পেলে পুতুলটার বিয়ে দিবে কিভাবে!
আজ ঝুমকিদের বাসা ভর্তি মানুষ। দামী দামী পোষাক পড়ে, কাঁচের গ্লাস হাতে সবাই আনন্দে লুটিয়ে পড়ছে! ঝুমকিদের বাড়িতে যেই মেয়েটা কাজ করে সে বলেছে, "এইসব রঙিন পানি খেয়ে নাকি ওরা মজা পায়! আর এইসব রঙিন আনন্দ শুধু রঙিন মানুষদের জন্যই শুধু। সাদাকালো মানুষদের জন্য না।" কথাগুলোর মানে ঝুমকি বুঝে না।
হঠাৎ ঝুমকি অবাক হয়েই লক্ষ্য করলো বাসা ভর্তি এত এত মানুষের মধ্যে কেউই শাড়ি পড়ে নি। ঝুমকি অবশ্য তার মামনিকেও কোনদিন শাড়ি পড়তে দেখেনি।
কড়া সব পারফিউমের গন্ধে ঝুমকির বমি আসে। ঝুমকি মামনির ঘরে চলে যায়। ঘরের এক কোনে একটা আঁধ-খোলা সুটকেস দেখে ঝুমকি ওটার ভিতরে কি আছে দেখতে গেলো। ঝুমকি অবাক হয়ে দেখলো ওখানে একটা শাড়ি!!! ঝুমকি খুশিতে আত্নহারা হয়ে যায়। ঝুমকি ভাবে, এত্ত বড় শাড়িটা থেকে একটুখানি ওর পুতুলটার জন্য নিলে তেমন কিছুই হবে না বরং পুতুলটার বিয়ে হবে। ঝুমকি শাড়িটার আচল থেকে একটু খানি কেটে নিয়ে যায়।
{ঝুমকি জানে না, শাড়িটা ওর মার কত প্রিয়। ঝুমকি এও জানে না যে ঝুমকির মা শাড়ি পড়তে চায় অনেক। কিন্তু ঝুমকির বাবা অনেক আধুনিক। ঝুমকি জানে না, একদিন এই শাড়িটা পরে খুব করে সেজেছিলো ওর মা এক পড়ন্ত বিকেলে। কেউ দেখেনি সেই রূপ, শুধু একজন দেখেছিলো। সে জানে, ঝুমকির মা ছিলো এক নেফারতিতি! আজ ঝুমকি সেই শাড়িটা ছিঁড়ে ফেললো! আজ তাহলে প্রিয় কান্নার দিন}


অনেকদিন পর, ঝুমকি তার প্রিয় পুতুল বউটার সাথে কথা বলছে।
ঝুমকি: "তুই মন খারাপ করিস না, কেমন? আমি একদিন ঠিক ঠিক তুর বিয়ে দিবো। তুর কত্ত সুন্দর একটা শাড়ি আছে, দেখিস ঐ শাড়ি একদিন পড়বি তুই। আমিও অনেক বড় যখন হয়ে যাবো, আমিও তখন শাড়ি পড়বো; মৌরির বউ পুতুলটার মত আমি একটা লাল বেনারসি কিনবো।"

পুতুলটার বিয়ে হয় নি। যদিও পুতুলটার ভারী সুন্দর একটা শাড়ি আছে এখন। রিনির বর পুতুলটার সাথে ঝুমকির বউ পুতুলটার বিয়ে হবার কথা ছিলো। কিন্তু ওরা সবাই চাইলো পুতুল বউ বিদেশী ম্যামদের মত একটা সাদা বিয়ের ড্রেস পড়বে।
http://www.youtube.com/watch?v=5wRkoGKQ8qQ
কিন্তু ঝুমকি যে পুতুলটাকে শাড়ি পড়িয়ে বউ বানাতে চায়!!


*************************
এই দুটা পুতুল আমার।
আর আমার কাছে কোন শাড়ির ছবি নেই <img src=" style="border:0;" /> এই জন্য আমার হলুদ ওড়নার ছবি দিতে হলো।
চুড়ির ছবিগুলো অপ্সরা আপুর <img src=" style="border:0;" /> ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29038981 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29038981 2009-11-07 00:45:25
আমার শরীর জুড়ে বৃষ্টি নামে মুক্তোর মত এক পশলা বৃষ্টির পর-
যে মাটি থেকে ভেজা একটা সুভাস ভেসে আসে
সেই ভেজা ভেজা নরম মাটি কখনো ছোঁয়েছো?
আমি ছুঁয়ে দেখেছি!
একদিন কলাপাতা ভেঙ্গে বৃষ্টি নেমেছিলো
একদিন আমার আসমানী ওড়না হয়েছিলো প্রজাপতি
বুকের উপর দুহাত জড়িয়ে আমি, মাটিতে মিশে যেতে চেয়েছিলাম।
কাঁদামাটি যেদিন আমার পাদুকা দুটো খেয়ে ফেললো-
নগ্নপায়ে আমার এতটুকুও লজ্জাবোধ হলো না!
শুধু চেয়েছিলাম, আমার বুকের উপর প্রজাপতিটা ফিরে আসুক
শুধু একবার ফিরে আসুক।
আমি বুকের উপর দুবাহু জড়িয়ে মুখ লুকিয়ে বসেছিলাম
আমি ভীষনভাবে চেয়েছিলাম মাটিতে মিশে যেতে
আমার উষ্ণতায় পায়ের তলায় জন্ম হয় একটি লজ্জাবতী গাছের
লজ্জাবতী গাছ জানতো-আমি মৃত্তিকা হয়েছিলাম
কলাপাতার বুকে যেই জলকনা জমেছিলো, তারাও জানতো সেই খবর
শুধু আমি জানতাম না
আমি আমার বুকের উপর প্রজাপতির দুটো ডানা জড়াতে চেয়েছিলাম।
তবে আমি আজ সে খবর জেনে গেছি
নগ্ন বুকের পরে লজ্জাবতী জন্মাতে পারে
আসমানী ওড়না প্রজাপতি হলেও আমি মৃত্তিকা হয়েছি
আমার নগ্ন শরীর জুড়ে আজ বৃষ্টি নামে
আমার বুকের জমিনে অজস্র ব্যাঙের ছাতা বিছিয়ে রাখে তার অস্তিত্ব
তবুও সেখানে বৃষ্টি শেষে লজ্জাবতী গাছের জন্ম হয়
কারন আজ আমি মৃত্তিকা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29035414 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29035414 2009-10-31 20:23:37
ছোট হয়ে আসে ডালিমরাঙা চুড়ি! বলেছিলে এক নদী দুঃখ হলে ভালোবাসবে এই আমাকে:

নদী একটা রুমালে ফুল তুলায় ব্যস্ত ছিলো অনেকটা দুপুর। সেই ফুলের উপর বেগুনী রঙের একটা প্রজাপতি চুপটি করে বসেছিলো। যখন নদী ভালবাসায় এক একটা সুচ তুলতো তখন তার কলাপাতা-রঙা চুড়ি রিনিঝিনি বাজত। সেই রিনিঝিনি সুর পাশের পাড়ার শ্রাবনের বুকে তুলপাড় সুরের ঝংকার তুলত। একটা একটা ফুলের পাঁপড়ি যখন নদী বুনে যেতো তখন এক একটা পাঁপড়ির মাঝে যেনো শ্রাবন হেসে যেত। কি অদ্ভুত মায়াকাড়া সেই হাসি! পড়ন্ত বিকেলে নদী আলতা মাখত পায়ে। নুপুরও বাজত পায়ে। তেমনি এক পড়ন্ত বিকেলে আলতা পায়ের সোনার মেয়ে রুমাল দিলো শ্রাবনের হাতে। সোনার মেয়ে জানতই না যে রুমাল দিলে ঝগড়া হয়!(কিংবা বলা চলে-সম্পর্ক টিকে না।)
রুমালের ডান কোনায় হালকা নীল সুতোয় লিখা ছিলো "ভুলো না আমায়"। শ্রাবন নদীকে এক গোছা ডালিম রাঙা চুড়ি পড়িয়ে দিলো। কিংবা বলা চলে, শ্রাবন "কথা দিলাম" নামক কোন অঙ্গীকার নদীর হাতে বেঁধে দিলো। দৃঢ় আশ্বাসের মতই কাচের চুড়িগুলো ছিলো স্বচ্ছ সুন্দর।

কেউ দেয়না মুঠোর ভিতর রোদের রুমাল:

অনেকটা দিন পর শ্রাবন ঢাকা গেলো....এক সময় আধুনিকও হলো। আধুনিক শ্রাবনরা ঘুমানো প্রজাপতির রুমাল রাখে না বুকপকেটে। শ্রাবন রুমাল থেকে প্রজাপতি উড়িয়ে দেয়। তবুও প্রজাপতি মুক্ত হয়না! জানালার মত ছোট্ট আকাশে প্রজাপতি বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারে না। এক সময় প্রজাপতি পিচঢালা পথের বুকে মরে লেপ্টে থাকে। শ্রাবন এক এক করে একটা একটা ফুলের পাঁপড়ি ঝরিয়ে দেয়। শ্রাবন জানে না, ফুলের পাঁপড়ি সেতো ঝরে না, একটু একটু করে শ্রাবনের হাসি মলিন হয়ে যায়...যতই রুমাল সাদা হতে থাকে...চিহ্নমুক্ত!...ততই শ্রাবনের অস্তিত্ব মুছে যেতে থাকে।

ছোট হয়ে আসে ডালিমরাঙা চুড়ি!
অনেকটা বছর পরও নদী গ্রামের শান্ত, সহজ-সরল নদীই থেকে যায়-যেখানে পাল তোলা কোন নৌকা ভেসে বেড়ায় না। তবে এক সময় ডালিমরাঙা চুড়ি ছোট হতে থাকে (যদিও লোকে বলে, মানুষ শারীরিকভাবে বাড়তে থাকে)। চুড়িগুলো নদীর হাত কামড়ে ধরে থাকে....সেখানে রক্তক্ষরন হয়। নাহ! নদী আসলে রক্তাক্ত হয় না। শুধু ডালিম রাঙা চুড়ি আরো গাঢ় হয়ে সিঁধূর-রাঙা হয়। তবুও নদীর বুকে একটা স্বচ্ছ জলের দিঘী থাকে, সেখানে আর কেউ কোনদিন ডুব সাঁতার দেয়ার চেষ্টা করে না।
সেদিন থেকে কলাপাতা রাঙা চুড়ি আর রিনিঝিন সুর তুলে না।
****
অবশেষে:
সমুদ্র রাখে না জমা সব সাঁতারের দাগ!
http://www.youtube.com/watch?v=hMKUCnRW7lY
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29033643 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29033643 2009-10-28 21:44:54
জলের ভাজে মেঘের শরীর আমি নৌকা হয়ে ভেসে যাবো না তোমার বুকের মাঝ নদীতে
তুমি চাঁদ হয়ো না
জানালার কাঁচ গলে তুমি আমার ঘুমন্ত শরীরে
হাত বুলিয়ে যাও সঙ্গোপনে-তা আমি চাই না।
তুমি নীল আকাশ হয়ো না
জোনাক-দীঘির গায়ে বিষাদের জলছায়া পড়ুক-তা আমি চাই না।
তুমি পাতাই হয়ে যাও
আমার চোখের নোনা জল তোমার পাতার বাসন জড়িয়ে শুয়ে থাকবে
তুমি একটা পাতা হয়ে যাও...পাতা হয়ে যাও
আমি তোমাকে ঝরিয়ে দিবো, ভাসিয়ে দিবো
ভাসিয়ে দিবো জোনাক-দীঘির জলে
তুমি অতীত হয়ে ভেসে যাবে
তুমি ছোটবেলার ঝুনঝুনির মত হারিয়ে যাবে
ছোট সবুজ একটা কচু পাতা হয়ে যাও
সেখানে আমার অশ্রু বিন্দু মুক্তা হয়ে থাকবে
হয়ে যাও তুমি একটা পাতা.....]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29030837 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29030837 2009-10-23 23:50:14
তুমি আলতা পায়ের স্নিগ্ধ চাঁদকন্যা হওনা এই শহরের পার্কে, জাদুঘরে...
মিশে থাকে পিচঢালা রাস্তার বালুতে
কখনো সে তোমার বারান্দার ঝুলন্ত দোলনা হয়
তোমার চোখের কালো মনিটার মধ্যবিন্দুতে
চুপটি করে বসে থাকে
কোন এক মধ্যরাতে-
সে তোমার শোবারঘরে পায়চারী করে
তুমি তখন মেঘবালিকা!
গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন!
সে হয় তোমার বুকের উপর বিছিয়ে রাখা আসমানী ওড়না
সে তার শক্ত মুঠোয় তোমার হৃদয় খোলে নেয় বুকের মাঝ থেকে
তখন তুমি নারী!
সে তোমার মাঝ থেকে তোমাকে তুলে নেয়
খুনী তোমার রন্দ্রে রন্দ্রে ভেসে বেড়ায়
নারী তখনও তুমি ঘুমে
সে ধূসর হাতে তোমার চুলে বিলি কাটে
সে তোমার সিঁথিতে তীক্ষ্ম নখ দিয়ে আচঁড় কাটে
তখন তুমি সিদূঁর পড়া এক বধূ
নারী, তখনও তুমি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন
সে তোমার ঘুঙুর খোলে
কলাপাতা রঙা চুড়ি ভাঙে
সিদূঁর মুছে...
নারী তবুও তোমার ঘুম ভাঙে না
তোমার বুকে জড়ানো আসমানী ওড়না শুয়ে থাকে খয়েরী-কাঠের পালকিতে
খুনী, সে তোমার পা জড়িয়ে সারাটি রাত বসে থাকে
বসে থাকে একটি চুমোর জন্য।
তখন তুমি দেবী!
সেই খুনী সেতো জানে না কি করে দেবীর পায়ে আলতা মেখে
ঘুম ভাঙাতে হয়
নারী তুমি তখনও গভীর ঘুমে মগ্ন
নারী, তুমি আলতা পায়ের স্নিগ্ধ চাঁদকন্যা হওনা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29025385 http://www.somewhereinblog.net/blog/manushi/29025385 2009-10-13 23:49:25