অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, অখ্যাত জাবুলানি বিশ্বকাপ বল নিয়ে বিতর্কের অবসান আপাতত হচ্ছে না, বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে। বলটি এ পর্যন্ত যতজন গোলরক্ষক খেলতে গিয়ে স্পর্শ করেছেন, তাদের সবাই অস্বস্তি, ভীতি ও বিরক্তির অভিযোগ তুলেছেন। গোলরক্ষকদের অস্বস্তি, ভীতি ও বিরক্তির মাত্রা অনেকটা প্রকাশ পেল ফাওজি চাওচির চোখের পানির মধ্য দিয়ে। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক ফাওজি চাওচির হাত ফসকে জাবুলানি জালে ঢুকে পড়ে, আর সেই একমাত্র গোলে আলজেরিয়ার পরাজয় ঘটে স্লোভানিয়ার কাছে। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নেয়া স্লোভানিয়ান অধিনায়ক রবার্ট পিরেনের দুর্বল শটটি ধরেও ফেলেছিলেন ফাওজি, রাখতে পারলেন না, হাত ফসকে জালে ঢুকে যায়। হাত ফসকে যাওয়াটাই ফাওজিকে জাবুলানি সম্পর্কে প্রশ্নবিদ্ধ ও ভয়ার্ত করে তোলে। তার মন বার বারই বলে ওঠে, এমনটি হওয়ার তো কথা নয়! বিষয়টি ফাওজির মন এতটাই ভেঙে দেয় যে, তিনি কান্না সংবরণ করতে পারেন না। তিনি খেলা শেষে কোনো সাংবাদিকের কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে দলের বাসে ওঠেন। আলজেরিয়া দলের ভক্ত মোহাম্মদ দাহবি সে দৃশ্য সাংবাদিকদের দেখিয়ে বলেন, ‘আপনারা দেখতে পারছেন তিনি কাঁদছেন।’ তিনি এ কথাও বলেন, ‘এটা আলজেরিয়ার জন্য দুঃখজনক বটে; কিন্তু এটি তার দোষ নয়। যে কেউ ভুল করতেই পারে, তবে ওই বল দ্বারা যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
ওই বলটি হচ্ছে এডিডাস জাবুলানি, যা ইতিমধ্যেই বিতর্কের ঝড় তুলেছে। প্রস্তুতকারকরা দাবি করেছেন, এটি হচ্ছে এ পর্যন্ত তৈরি করা উপযুক্ত বল। কিন্তু মাঠে যারা খেলছেন, তাদের কেউ কেউ বলটি সম্পর্কে ভুতুড়ে কিছু কথা বলছেন।
তবে এসব ভুতুড়ে কথার জলজ্যান্ত প্রমাণ মিলল গত শনিবার রাতে ইংল্যান্ড ও অষ্ট্রেলিয়ার খেলার সময়। যখন ইংল্যান্ডের রবার্ট গ্রিনের শটটি অষ্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক ক্লিন্ট ডেম্পসের হাত ফসকে জালে ঢুকে পড়ে। ডেম্পসে এবং আলজেরিয়ার ফাওজি উভয়েই মনে করেন ওই বল ধরে ফেলা তাদের জন্য অসম্ভব ছিল না; কিন্তু বলটি নির্মাণে এমনই ত্রুটি রয়েছে যা পরিণামে দুঃখ এনে দিল। বলটির ত্রুটি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রসঙ্গে আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার মাজিদ বাওঘেরা বলেন, ‘আপনারা দেখতে পারেন বলটি যখন শূন্যে ওড়ে, তখন কি অস্বাভাবিক দেখায়। অর্থাৎ যখন বলটিতে লাথি মারা হয় তখন যতখানি ওঠা বা ওড়া দরকার তার চেয়ে অনেকগুণ বেশি উপরে বলটি উঠে যায়।’ স্লোভানিয়ার অধিনায়ক কোরেন বলেন, ‘প্রতিটি খেলোয়ার যদি সৎ হন, তারা প্রত্যেকেই বলবেন বলটিতে অদ্ভুত কিছু আছে। আমরা যেসব বল দিয়ে খেলে আসছি ও খেলে অভ্যস্ত, জাবুলানি সে রকম বল নয়।’
গ্রুপ ‘সি’র স্লোভানিয়াই একমাত্র দল যারা এ নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়েনি; কিন্তু যুক্তরাস্ট্র, ইংল্যান্ড ও অষ্ট্রেলিয়া দল তিনটিকে ওই বলটি নিয়ে হতবিহ্বল মুহূর্ত কাটাতে হয়েছে। বিশ্বকাপ খেলা শুরু হওয়ার আগে অবশ্য বলটি নিয়ে অভিযোগ ওঠে। কেউ কেউ লিখিত অভিযোগও করেন। কিন্তু নির্মাতা এডিডাস সেসব অভিযোগ ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেয়।
‘এই বল দিয়ে গত ডিসেম্বর মাস থেকেই বিভিন্ন খেলার মাঠে খেলা হয়, তখন তো কোনো অভিযোগ ওঠেনি’ ব্রিটিশ টেলিভিশন স্টেশনের স্কাই স্পোর্টস নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলটির ডেভেলপার এনডি হারল্যান্ড এ কথা বলেন।
তবে সন্দেহপ্রবণ দর্শক ও ৩২ জন গোলরক্ষকের কথার বিশ্বাসযোগ্যতা বিচার ও বিবেচনার অপেক্ষা রাখে।
---Mrogers
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১০ সকাল ৭:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



