স্কুলে কিছুদিন পড়ানোর সুবাদে অনেক বাচ্চাদেরকে এই প্রশ্নটা করতে হয়েছে। আমি অবাক হয়ে যাই বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই এর জবাবমিস ‘আমি একলা’। কখনো কখনো মা’দেরও জিজ্ঞেস করেছি।ওই জবাব আরও অদ্ভুত।জানি না নেপোলিয়নেরো এরকম মনে হোত কিনা।
প্রথমে বলি মা’'দের জবাবগুলোর কথা।বেশীরভাগ মা বলেছেন,’মিস,চাকরী করি।এটার সময়ই বড় একটা গ্যাপ পড়ে গিয়েছে।আর সম্ভব না।‘ অনেকের উত্তরঃ ‘বাব্বাহ,একটা নিয়েই জান শেষ... ... ‘। খুব কম সংখ্যক মা বলেছেন স্বাস্থ্যগত সমস্যার কথা।
এখন বলি কেন আমি বাচ্চাদেরকে এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছি।ক্লাসে কিছু বাচ্চা পেয়েছি একটু আলাদা স্বভাবের।মেধা ভালো,কিন্তু খাতা কলম নিয়ে খুব খুঁতখুঁত করে, ‘মিস ও না আমার কলম ধরে! মিস আমি আমার খাতা ওকে দিব না! আর বড় বাচ্চাদের মধ্যে দেখেছি অসম্ভব মেধাবী বাচ্চাটা,কিন্তু একটু অস্থির।প্রাণ খুলে হাসতে পারে না বা বেধে যায়।আর কথা বলার সময় খুব বেশী মনযোগ পেতে চায়,না পেলে খুব মাইন্ড করে ফেলে।এরকম বেশিরভাগেরই ভাইবোন একজন অথবা নাই।
আমার এই অবজারভেশন খুব স্বল্প সময়ের না।এজন্য একটু চিন্তায় পড়ে গেলাম।বসুনিয়া স্যারের একটাকথা খুব মনে পড়ে।আমরা সম্ভবত বুয়েটে উনার শেষতম ব্যাচ।একদিন ক্লাসে স্যার হাত তুলতে বলেছিলেন,কারা কারা বাবা মা’র একমাত্র সন্তান।এরপর বললেন,একসময় বাচ্চারা আমার বই এ শিখবে, মা’র বোনকে খালা বলে, বাবার ভাইকে চাচা বলে।সবশেষে স্যার বলেছিলেন, অন্তত ৪টা বাচ্চা থাকা উচিত।আমি জানি না স্যার এই সংখ্যাটা কোন গবেষণায় পেয়েছেন।তবু খুব বাস্তব মনে হয়েছিলো কথাগুলা।
আমার নিজের অস্থির দুরন্ততম কন্যাটিকে চোখের সামনে দেখে আমারও অনেক লোভ লাগে।মনে হয় ওকে বড় করি সঅব চেষ্টা দিয়ে।তারপর জিরাবো।কিন্তু যখন মনে পড়ে আমার বড় বোনের বিয়ের আগে আমাদের পাঁচ ভাইবোনের গমগমে বাসাটা,রাত জেগে চা বানিয়ে গল্প করা, আম্মুর আওয়াজ পেলে চায়ের মগ বালিশ দিয়ে ঢেকে ঘুমিয়ে যাওয়া,আব্বুর আনা দুইটাকার বেলুন দিয়ে খেলতে খেলতে গলা ভেঙ্গে ফেলা,বড় বোনের জামা ছোট করে পরা,ভাইবোনদের যৌথ গবেষণায় পাড়ার জুটিগুলাকে খুঁজে বের করা
আমরা,আজকালের শিক্ষিত মা’'রা স্বার্থপরের মত আমাদেরই বাচ্চাদের মনোজগতের একাকীত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছি না তো? নেপোলিয়ন ভদ্রলোক থাকলে উনাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম উনি কি এমন মা’-ই চেয়েছিলেন?
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ১২:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



