মূল লেখা: Jamaal al-Din M. Zarabozo-র]
..............পূর্বে প্রকাশিত লেখার ধারাবাহিকতায়:
বর্তমান সময়ে পবিত্র কুর’আনের একই ধরনের প্রভাব নেই কেন?
গ্রেট ব্রিটেনের চার কার্যকালের প্রধানমন্ত্রী, উইলিয়াম ইওয়ার্ট গ্ল্যাডস্টোন ইংলিশ পার্লামেন্টে দেওয়া তার ঐতিহাসিক বক্তৃতায় বলেছিলেন, “যতদিন পর্যন্ত এই কুর’আন রয়েছে, ইউরোপ কখনোই ইসলামী প্রাচ্যকে জয় করতে পারবে না।” একইভাবে আলজিরিয়া দখলের শতবর্ষ পূর্তি উপলে সেখানকার ফরাসী ঔপনিবেশিক গভর্ণর বলেছিলেন, “যদি আমরা তাদের উপর বিজয়ী হতে চাই তবে, তাদের মাঝ থেকে আরবী কুর’আন সরিয়ে ফেলা এবং তাদের জিহ্বা থেকে আরবী ভাষা সরিয়ে ফেলা এক অবশ্যকরণীয় কর্তব্য ।”
আসলে ইসলামের অনেক শত্রুরাই আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার অনুধাবন করেছে : “মুসলিমদের হাত থেকে শারীরিকভাবে পবিত্র কুর’আন ছিনিয়ে নেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। মুসলিম জীবনের কেন্দ্রবিন্দু থেকে কেবল কুর’আনকে সরিয়ে নিলেই হবে (অর্থাৎ মুসলিম জীবনের সকল কর্মকান্ড যে কেবল কুর’আনকে ঘিরেই আবর্তিত হয়, এই প্রক্রিয়ার অবসান ঘটাতে পারলেই ইসলামের শত্র“দের মুখ্য কার্য সমাধা হবে)”। মুসলিমদের জন্য এটা খুবই সম্ভাব্য যে, তাদের হাতে কুর’আন থাকবে, অথচ তারা তা থেকে লাভবান হতে পারবে না, - অথবা সেই পথনির্দেশনা এবং সেই রহমত লাভ করতে পারবে না - যা পবিত্র কুর’আনের কাছ থেকে স্বাভাবিকভাবেই লাভ করার কথা ছিল।
আজ যে পবিত্র কুর’আনের সেই কাঙ্খিত সুফল পরিলক্ষত হয় না, তার সাথে কুর’আনের বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃতির কোন সম্পর্ক নেই - কেননা মানবকুলকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে যাবার জন্য, তা সর্বকালের জন্যই সত্যিকার পথ-নির্দেশক হয়ে থাকবে। সমস্যার উৎস নিহিত রয়েছে আজকের বহু বিশ্বাসী যেভাবে কুর’আনের নিকটবর্তী হন, তার মাঝে। আজকের দুরবস্থার জন্য বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করা যেতে পারে। তবে সাধারণভাবে চারটি কারণ খুব প্রকটভাবে অনুভূত হয়, যে সম্বন্ধে আমরা সূচনার অধ্যায়ের আলোকপাত করেছি :
১) কিছু মুসলিম যেমন করে থাকেন - পবিত্র কুর’আনের অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক দিকগুলো অবজ্ঞা করে গৌণ দিকগুলোকে প্রাধান্য দেয়া।
২) উপরের এক নম্বর পয়েন্টের সাথে এটাও সম্পৃক্ত - বহু সংখ্যক মুসলিম পবিত্র কুর’আনের প্রাথমিক উদ্দেশ্য সনাক্ত করতে ও বুঝতে ব্যর্থ হন; সুতরাং তারা কুর’আন পড়েন, কিন্তু তাদের জন্য কুর’আন যা চায় - তা সেখান থেকে গ্রহণ করতে পারেন না।
৩) উপরন্তু, কিছু মুসলিম সঠিক দৃষ্টিভঙ্গী সহকারে কুর’আনের নিকটবর্তী হতে পারেন না, আর তাই ‘কুর’আন যা শিক্ষা দেয়’ এবং ‘সেই শিক্ষা কিভাবে মানবকুলকে প্রভাবিত করতে পারে’ - এই দুয়ের মাঝে অত্যাবশ্যকীয় যোগসূত্রটি তারা সনাক্ত করতে ব্যর্থ হন।
৪) উপরোল্লিখিত বাধাগুলো যখন অতিক্রম করা হয় তখনও, কিছু মুসলিম কুর’আনকে যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করেন না, আর তাই তারা যদিবা কুর’আন পড়েনও - তা থেকে সঠিক ও শুদ্ধ শিক্ষা লাভ করতে পারেন না।
আমাদের বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উপরোক্ত বিষয়গুলো রয়েছে। আমরা তাই পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে এক এক করে এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ্!
(চলবে......... ইনশা'আল্লাহ্!)
[এই পর্বের আগের লেখাগুলো রয়েছে এখানে:
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



