somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুর'আন কিভাবে পড়বো ও বুঝবো - ১৬

২৩ শে নভেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মূল লেখা: Jamaal al-Din M. Zarabozo-র]

..............পূর্বে প্রকাশিত লেখার ধারাবাহিকতায়:



কুর’আন তিলাওয়াত না করা

এমন অনেক মুসলিমই আছেন, যারা কুর’আনে বিশ্বাস করেন এবং জীবনে সেটাকে প্রয়োগ করতে চেষ্টা করেন, অথচ, তারা নিয়মিত তিলাওয়াত করতে বসেন না। সালাত আদায় করার জন্য যেটুকু প্রয়োজন, সেটুকু হয়তো তারা মুখস্থ করে থাকবেন, কিন্তু তা ছাড়িয়ে পবিত্র কুর’আন সম্বন্ধে তাদের জ্ঞান আর বেশীদূর এগোয় না। দুঃখজনকভাবে, কুর’আন তিলাওয়াতের ব্যাপারে এই গা-ছাড়া ভাবটা বিরল নয়। বাস্তবে, সউদী আরবের ‘স্ট্যান্ডিং কমিটি অফ স্কলারলী রিসার্চ এন্ড রিলিজিয়াস রুলিংস’ এ সংক্রান্ত ব্যাপারে নিম্নলিখিত প্রশ্ন বা এর সদৃশ প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন - যা থেকে আমাদের শোচনীয় অবস্থাটা সহজেই আঁচ করা যায় :

-কুর’আন তিলাওয়াত সম্বন্ধে বিধান কি?
-এটা কি অবশ্যকরণীয় না কি পছন্দনীয় একটি কাজ?
-আমরা যখন এ সম্বন্ধে জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেছি, তখন কেউ কেউ আমাদের উত্তর দিয়েছেন যে, এটা অবশ্যকরণীয় নয়। (অন্য কথায়) কোন ব্যক্তি যদি কুর’আন তিলাওয়াত করেন তবে তাতে কোন ক্ষতি নেই, আর তিনি যদি কুর’আন তিলাওয়াত নাও করেন, তবে তার কোন গুনাহ হবে না। তাই যদি হয়ে থাকে তবে অনেকেই তা পরিত্যাগ করবে। তাহলে এটা পরিত্যাগ করার ব্যাপারে এবং তিলাওয়াত করার ব্যাপারে ফতোয়াটা আসলে কি?

আবদুল আজীজ বিন বায, আবদুর রাজ্জাক আল আফিফী, আবদুল্লাহ বিন গুদিয়ান এবং আবদুল্লাহ বিন ক্বাউদ এর সমন্বয়ে গঠিত কমিটির উত্তর ছিল নিম্নরূপ:

“কুর’আন তিলাওয়াত সম্বন্ধে আল্লাহ্ সাধারণভাবে যে আদেশ দিয়েছেন : 'ওহীর মাধ্যমে কিতাবের যেটুকু তোমাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে তা তিলাওয়াত কর' (সূরা আনকাবুত, ২৯:৪৫), 'তোমাদের প্রভুর কিতাবের যা তোমাদের কাছে নাযিল করা হয়েছে তা আবৃত্তি কর' (সূরা কাহফ, ১৮:২৭) এবং তাঁর রাসূল (সা.) সম্বন্ধে আল্লাহর বাণী, 'যারা আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করবে এবং কুর’আন তিলাওয়াত করবে, আমাকে তাদের মাঝে একজন হতে আদেশ করা হয়েছে' (আল নামল, ২৭:৯১-৯২) - এসবের সাথে সঙ্গতি রেখে একজন মুসলিমের উচিত, তার সামর্থ অনুযায়ী কুর’আন তিলাওয়াত অব্যাহত রাখা এবং যত ঘন ঘন সম্ভব তাতে আত্মনিয়োগ করা। আল্লাহর রাসূল (সা.) এ সম্বন্ধে আরো বলেছেন, 'কুর’আন তিলাওয়াত কর, কেননা পুনরুত্থান দিবসে তা তার সঙ্গীদের পক্ষে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে দাঁড়াবে' (সহীহ মুসলিম)। একজন মুসলিম যে সব বিবিধ উপায়ে কুর’আন থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে বলে ওলামারা চিহ্নিত করেছেন, তার যে কোনটির মাধ্যমেই কুর’আন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়াটা, সে সব সময় এড়িয়ে চলবে। [উত্তরের এই পর্যায়ে এসে তাঁরা পূর্বে উল্লিখিত সূরা আল ফুরক্বানের ৩০ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা ও ‘মাহজুর’ শব্দের অর্থ সংক্রান্ত বর্ণনা ইবনে কাসীরের তাফসীর থেকে তুলে দিয়েছেন]।”

এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই যে, যে ব্যক্তি কুর’আন পড়ে অথচ তা প্রয়োগ করে না, তার চেয়ে ঐ ব্যক্তি যে কুর’আনে বিশ্বাস করে এবং যখনই তাকে কুর’আনে কি আছে তা মনে করিয়ে দেওয়া হয়, তখনই সে তা প্রয়োগ করে, তার অবস্থাটা উন্নততর। আসলে তার অবস্থা, যে গোটা কুর’আন মুখস্থ করে রেখেছে অথচ তা প্রয়োগ করে না - তার চেয়েও ভাল। তথাপি, তার ঈমানের উপর এবং তার জীবনের উপর পবিত্র কুর’আনের যে বিশাল সুফল থাকতে পারতো, তা থেকে হয়তো সে বঞ্চিত হয়ে চলেছে। প্রতিনিয়ত কুর’আন তিলাওয়াত করে, এমনকি একই সূরাগুলি বার বার পড়েও কেউ হয়তো এমন জ্ঞান লাভ করবে -অথবা- তার অন্তর্চক্ষু এমনভাবে খুলে যাবে, যা হয়তো এমনি এমনি হতো না। সুতরাং, যারা কুর’আনে বিশ্বাস করেন এবং তা জীবনে প্রয়োগও করেন - অথচ, একটু সময় নিয়ে কুর’আন তিলাওয়াত করেন না, তারা সম্ভবত কুর’আনের বৃহত্তর সুফল লাভ করা থেকে নিজেদেরকে বঞ্চিত করছেন। এরকম ব্যক্তিদের কুর’আনের কাছে প্রত্যাবর্তন করা উচিত এবং তা সঠিকভাবে পড়া উচিত। তাদের উচিত নিজেদের উপর কুর’আনের পরিপূর্ণ প্রভাব পড়ার সুযোগ সৃষ্টি করা ও সেইসঙ্গে কুর’আনের পথ নির্দেশনাকে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ পরিমাণে লাভ করার চেষ্টা করা।

উপরন্তু, যিনি নিয়মিত কুর’আন অধ্যয়ন করেন না, তার জন্য কুর’আনের কোন কোন শিক্ষা ভুলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। অথবা এমনও হতে পারে যে, তিনি নিয়মিত ভাবে কুর’আনের যে সমস্ত শিক্ষা প্রয়োগ করেন, সেগুলো তার মনে থাকে - কিন্তু যেগুলো কদাচিৎ বা বিশেষ কোন উপলক্ষে প্রয়োগ করা হয়, সেগুলোকে তিনি ভুলে যান। রাসূল (সা.) বলেছেন : “কুর’আনের প্রতি মনোযোগী হও (এবং এর সম্বন্ধে তোমাদের মনকে তাজা রাখ), কেননা যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ তাঁর শপথ, (কারো স্মৃতি থেকে) এর হারিয়ে যাওয়া, বেঁধে রাখা একটা উট পালিয়ে যাওয়ার চেয়ে অধিকতর সম্ভাব্য।” (মুসলিম)। এই হাদীসের উপর ভিত্তি করে সালিহ্ আল ফাওযান, এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, একজন মুসলিমের উচিত মাসে অন্তত একবার গোটা কুর’আন তিলাওয়াত করা। আল্লাহ্ই সবচেয়ে ভাল জানেন!


(চলবে......... ইনশা'আল্লাহ্!)



[এই পর্বের আগের লেখাগুলো রয়েছে এখানে:

Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link ]
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×