মানুষের সাথে মানুষের যত রকমের লেনদেন তার সকলের মূলে আছে চুক্তি। ব্যাংকে একাউন্ট খোলা, ফার্ম খোলা, লোন নেয়া, কোনো ওয়াদা দেয়া/পাওয়া সবই চুক্তি। তাই চুক্তি আইন খুবই ব্যাপক। এর ব্যাখ্যার জন্য দরকার সুপ্রীম কোর্টের রায় যাকে বলে রুলিং। চুক্তি আইনকে একটা মৌলিক আইন বলা যায়। দেশে আর যে সব দেওয়ানী আইন প্রবর্তিত রয়েছে সেগুলোর অধিকাংশই চুক্তি আইনকে অনুসরণ করে প্রবর্তিত।
১৮৭২ সালে চুক্তি আইন পাশ হয়।
০১-সেপ্টেম্বর(৯)-১৮৭২ থেকে কার্যকর।
ব্যাংকের কাজের অনেক বিষয় চুক্তি আইন দ্বারা নির্ধারিত।
যেমন-
ব্যাংকে একাউন্ট খোলা,
ইনডেমনিটি নেয়া,
গ্যারান্টি নেয়া,
সেইফ ডিপোজিট, সেইফ কাষ্টডিতে দ্রব্য জিম্মা রাখা,
লিয়েন করা,
পণ্য মর্টগেজ/বন্ধকী রাখা,
বন্ধকী পণ্য বিক্রয় করা,
প্রতিনিধিত্বমূলক কাজ করা ইত্যাদি।
নগদ লেনদেনে চুক্তির প্রয়োজন নাই কিন্তু ভবিষ্যত লেনদেনের জন্য চুক্তির প্রয়োজন।
চুক্তি আইনের ২(জ) ধারা মোতাবেক, "আইন দ্বারা বলবৎযোগ্য সম্মতিকে চুক্তি বলে।"
সম্মতি বলতে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির ইচ্ছার ঐক্য প্রকাশ বুঝা যায়, যার দ্বারা তাদের মধ্যে আইনানুগ সম্পর্ক স্থাপিত হতে পারে বা ঊক্ত সম্পর্কে পরিবর্তন আসতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সম্মতি(এগ্রিমেন্ট) আইনানুগ বাধ্যবাধকতার সৃস্টি করে না। যেমন- নাবালক অথবা মানসিক অসুস্থ ব্যক্তির সম্মতি অথবা কোন পক্ষ ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে/ মিথ্যা বর্ণনার বশবর্তী হয়ে সম্মতি দিলে।
আর, চুক্তি হচ্ছে, যে সকল সম্মতি আইনানুগ ঊদ্দেশ্যে ও পণের বিনিময়ে চুক্তি করার যোগ্য পক্ষসমূহের অবাধ সম্মতিক্রমে সম্পাদিত হয়। বস্তুত: আইনানুগ সম্মতির নাম চুক্তি। অতএব, চুক্তি মাত্রই সম্মতি, কিন্তু সকল সম্মতিই চুক্তি নয়।
চুক্তির উপাদানঃ
(১) দুই বা ততোধিক পক্ষ থাকতে হবে।
(২) পক্ষসমুহের অবাধ ও আইনানুগ সম্মতিক্রমে সম্পাদিত হতে হবে।
(৩) এতে প্রস্তাব জ্ঞাপন ও গ্রহণ উভয়ই থাকতে হবে।
(৪) পক্ষসমূহের চুক্তি করার যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হবে অর্থাৎ পূর্ণ বয়স্ক, মানসিকভাবে সুস্থ, স্বাধীন এবং সংশ্লিষ্ট আইনের অধীন চুক্তি করার অযোগ্য নন এরূপ।
(৫) চুক্তির পণ ও ঊদ্দেশ্য আইনানুগ হবে।
(৬) বিক্রয় বা দানের ক্ষেত্রে সম্পত্তির মালিক হতে হবে।
চুক্তির পরিসমাপ্তিঃ
(১) চুক্তির পক্ষবৃন্দ একমত হয়ে চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটাতে পারে।
(২) চুক্তি সুসম্পন্ন করে
(৩) চুক্তির শর্তভংগ করে
(৪) এমন অবস্থার উদ্ভব হতে পারে যখন চুক্তি প্রতিপালন অসম্ভব হয়ে দাড়ায়, সে অবস্থায় চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটে। যেমন-- কোন পক্ষের মৃত্যু ঘটলে।
(৫) আইনের নির্দেশেও চুক্তির পরিসমাপ্তি হতে পারে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


