somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইন্ডিয়া ট্যুর ৪- 'অপারেশন তাজমহল এন্ট্রেন্স'B-) - প্রস্তুতি পর্ব

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইন্ডিয়া ট্যুর ৩: যেদিন আগে রেডি হলাম, ইন্ডিয়া ট্যুর ২ : রমণীগণ.., ইন্ডিয়া ট্যুর - ১ : ভিনদেশে হিজড়ার খপ্পরে
কলকাতা থেকে রওয়ানা দিয়ে ২২ ঘন্টা ট্রেন জার্নি শেষে আমরা পৌঁছেছি আগ্রায়। মধ্যযুগের সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম নিদর্শন, ভারতবর্ষের অন্যতম পর্যটন-তীর্থ তাজমহলের আগ্রায়। ২০ হাজার শ্রমিকের ২২ বছরের পরিশ্রম (অথবা ২২ হাজার শ্রমিক, ২০ বছর সময়- ইতিহাসে একদমই কাঁচা আমি)- এর ফসল, শাহজাহান আর মমতাজমহলের অবিস্মরণীয় প্রেমের স্মারক আর মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে। অন্যরকম আনন্দ খেলা করে সবার মধ্যে। প্রেমিক প্রেমিকাদের চেহারায় নতুন এক আভা। যুগশ্রেষ্ঠ প্রেমের প্রতীকের সামনে হাতে হাত রেখে নতুন করে প্রেমের অঙ্গীকার করার অভিপ্রায় দুচোখেই পরিস্ফুট।
কিন্তু সেই তাজমহল দর্শন অত সহজ কম্ম নয়। আমরা বেড়াতে গেলাম আর দারোয়ান দরজা খুলে 'আসুন, আসুন' বলে অভ্যর্থনা জানাবে - ব্যাপারটি মোটেও তেমনটা নয়। 'ফেল কড়ি, মাখো তেল'-এর উত্তর আধুনিক সংস্করণের যুগ। নিজের দেশের লোকের জন্য প্রবেশমূল্য কম হলেও বিদেশীদের কড়ির বদলে কাড়ি কাড়ি টাকা/রূপী/ডলার খসাতে হয়। প্রবেশমূল্য এখানে রূপীতেই। টাকা বা ডলার আগেই ভাঙিয়ে নিতে হয়। দেশীরা বিশ রূপীতে ঢোকার সুযোগ পেলেও বিদেশীদের গুণতে হয় গুণে গুণে সাড়ে ৩৭ গুণ,৭৫০ রূপী। কোন এক সময় বাংলাদেশ ভারতবর্ষের অন্তর্ভুক্ত হলেও আমরা তো আর ১৯৪৭ সালের আগে তাজমহল দেখতে যাচ্ছি না। আমরা যাচ্ছি ২০০২ এ। ১৯৪৭ পূর্ব যুগে গেলে হয়তো আমরাও একই মূল্য গুণতাম।(এবং সেটা ২০ রূপীর চেয়ে অনেক কম-ই হতো।)
যা-ই হোক , আমরা তো আর অত রূপী খরচ করবো না। তাজমহলের সাথে জড়িত আবেগ হৃদয়কে যতই স্পর্শ করুক, ভাবাবেগে উদ্বেলিত করুক, আমাদের বেশীরভাগেরই হৃদয় অতোটা বড় নয় যে ৪-৫ শ সাল পুরনো একটা মসজিদ-মতো দালান দেখতে অতো রূপী ব্যয় করবো। দু'একজন হয়তো অন্য কোন উপায় না থাকলে তা-ই করতো। কিন্তু 'দশজনে করে যাহা তুমিও করিবে তাহা'
ফর্মূলায় বাকিরা ২০ রূপীতে গেলে তারাও ২০ রূপীতেই যাবে- নচেৎ নয়- এই রকমটাই স্থির হলো।
২০ রূপীতে যে আমাদের পক্ষেও যাওয়া সম্ভব- এই ব্রেকিং নিউজটা দিয়েছেন আমাদের গাইড ফাহিম ভাই। যে ট্যুরিজম কোম্পানী আমাদের সাথে ভ্রমণ- সংক্রান্ত চুক্তিতে আবব্ধ, যারা আমাদের ৭৫ জনকে হিন্দুস্তানের কতিপয় দর্শনীয় স্থান চাক্ষুষ করানোর গুরুভার নিজ স্কন্ধে নিয়েছে ( অবশ্যই টাকা পয়সার বিনিময়ে) , ফাহিম ভাই তার সর্বেসর্বা। তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে শুরু হলো আমাদের 'অপারেশন তাজমহল এন্ট্রেন্স'-এর প্রস্তুতি।
বিরাট আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচার প্রথম পদক্ষেপটি হলো নিজেকে ভারতীয় বানিয়ে ফেলা। সানি দেওলের মতো 'ম্যায় হু ইন্ডিয়ান' বলে চিৎকার করে দুনিয়াকে জানান দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তাজমহলের গেটে ঢোকার সময় দ্বাররক্ষী যদি সন্দেহবশত জিজ্ঞাসা করে , তবেই কেবল নিজেকে ভারতীয় বলে পরিচয় দিতে হবে। কিন্তু ঐ দ্বাররক্ষীরা এতই ভদ্র ও আহাম্মক যে, আমি বলব আমি ভারতীয় আর সঙ্গে সঙ্গে সেলাম ঠুকতে ঠুকতে বিশ রূপীর টিকিট হাতে নিয়ে ভেতরে ঢুকতে দেবে? - উহু ,মোটেই অতো সহজ না। দ্বাররক্ষী যখন নিবাস জানতে চাইবে, ভারতের কোন একটা এলাকার নাম বলতে হবে। যেমন, কলকাতা, মুম্বাই, দিল্লী, ব্যাঙ্গালুরু ইত্যাদি। অতো বড়ো এলাকা বললেও চলবে না । জানতে চাইবে, কলকাতার কোথায়, এমনকি রাস্তার নামও। বলতে হবে, মেদিনীপুর, বসাক লেন বা ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ইত্যাদি। বলতে হবে বাড়ির নম্বর। যে এলাকার নাম বলবো ঐ এলাকার পার্লামেন্ট মেম্বার, মূখ্যমন্ত্রীদের নাম জানতে হবে। ঐ এলাকার পূর্ব-পশ্চিম- উত্তর দক্ষিণের এলাকাগুলোর নাম জানতে হবে; জানতে হবে ঐ এলাকার বিখ্যাত কোন স্থাপনা বা ভবনের নাম। মোট কথা, ভারতের সরকারী ক্যাডার সার্ভিসের প্রিলি পরীক্ষার 'স্বদেশ' অংশের প্রশ্নোত্তরের জন্য তারা যেরকম পড়াশোনা করে, ঠিক সেরকম না হলেও এক রাতে আমাদের তার কাছাকাছি পর্যায়ের পড়াশোনা করতে হবে।
অবশ্য আমাদের বইপত্র পড়ার দরকার নেই। ফাহিম ভাই সংক্ষিপ্ত 'ভারতকোষ'। তার লব্ধ জ্ঞানের কিয়দংশ আমরা ধারণ করার চেষ্টা করি।
প্রশ্ন হলো, আমি কোন এলাকার বাসিন্দা হবো? দিল্লী, মুম্বাই বলে ধরা খাবো নাকি? হিন্দীর 'হ'-ও জানি না। এক-দুই শব্দ চলতে পারে, কিন্তু ঐসব এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় দিলে যতটুকু জানা দরকার তার ছিঁটেফোঁটাও জানি না। যারা জানে, তারা এই সব নামী দামী শহরজাত বলে নিজেদের পরিচয় দেয়ার অধিকার পেল, সেইসব শহরের সাধারণ জ্ঞানে নিজেদের সমৃদ্ধ করলো।
আমার মতো আকাট-মূর্খ, ক্ষেত শ্রেণীর লোকজনের শেষ ভরসা হলো কলকাতা। রাতের খাওয়া শেষে তাই কলকাতা সম্পর্কে কিছু প্রশ্নোত্তর কাগজে লিখে নিয়ে রুমে গেলাম। কঠিন পড়াশোনায় বসে গেলাম চার রুমমেটই। কতটুকু শিক্ষা হলো তা আবার একজন আরেকজনের কাছে পরীক্ষা দিলাম। আমাকে আবার বাংলাটা কিঞ্চিৎ ঘষামাজা করতে হলো। খেলুম গেলুম আর দাদা দিদি চর্চা 'করলুম' অনেকক্ষণ।
গভীর রাত পর্যন্ত চললো আমাদের ‌'সাধারণ জ্ঞান' শিক্ষা।

নাম পরিবর্তনঃ 'মারুফডি' থেকে ‌'মুনতাসীর মারুফ' ,
টুকরো টুকরো ভালবাসা - ৯

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:০৫
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×