আমার প্রিয় পোস্ট

ডঃ ইউনূস, জেমসবন্ড অথবা কোকাকোলার বদলে কাপড়খোলা

২১ শে অক্টোবর, ২০০৬ সকাল ৯:১৭

শেয়ার করুন:                   Facebook

হলিউডে জেমসবন্ড নামে একটা দারুণ জনপ্রিয় মুভি সিরিজ আছে। জনপ্রিয়তার কারণে যার বহু সিক্যুয়েল হয়েছে। এ ছবিতে প্রায় সময় দেখা যায়, হলিউড[ অথবা আমেরিকার] আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে শত্রু বাহিনীর বিপরীতে জীবনবাজি রেখে বিশাল দুঃসাধ্য সব মিশন ইম্পসিবলে অংশ নেয়। এর পর নায়কের বিভিন্ন ক্যারিকেচার আর সাথে যতটুকু মশলা আমরা খাই তার চাইতে বেশী মশলা দেয়া হয়। প্রতিমুহুর্তে জেমসকে নিয়ন্ত্রণ করছে একটা ইন্টেলিজেন্ট দল। তারাও হলিউডি আদর্শে উদ্বুদ্ধ। জেমস ছাড়াও প্রায় আমেরিকান মুভিতে এ ধরণের অতিনায়কদের দেখা মেলে। আমেরিকার দানবীয় পতাকা হাতে তাদের সবার একটাই স্লোগান' সবার উপরে আমেরিকা সত্য তাহার উপরে নাই।
আর এই সব জেমস শত্রুপরে ডেস্ট্রয়ার, মিসাইল, নৌবহর ধ্বংশ করে শত্রুকে নিরস্ত্র করে। শুধু নিরস্ত্র করেই ান্ত হয়না তাদের কে একদম সাফ করে ছাড়ে। হয়তো এটাই তাদের অস্ত্র ব্যবসার ত্রে হয়ে যায়।
অনুরুপ ভাবে বাস্তবেও আমেরিকা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জেমসবন্ড তৈরী করে তাদের আগ্রাসনের পথ সুগম করে। তৈরী করে অস্ত্র বিক্রির ত্রে।
আলআজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাদ্দাম হোসেনকে খুজে বার করে এফ বি আই জেমসবন্ড হিসাবে তৈরী করে। আর ইরাকে প্রচুর অস্ত্র বিক্রি করে। দশ বছর ধরে ইরাক ইরান যুদ্ধ লাগিয়ে রাখে। অনুরুপ ভাবে আমেরিকার আরেকজন জেমসবন্ড হচ্ছে ওসামা বিন লাদেন। প্রাক্তন সোভিয়েতের বিরুদ্ধে তাকে এবং তার সৃষ্ট তালেবানদেরকে মিশনে পাঠায় আমেরিকা। ঠিক এরকম ভাবে লাতিন আমেরিকায়, নিকারাগুয়া, চিলি, কলম্বিয়া একটার পর একটা জেমসবন্ড তৈরী করে আমেরিকা। সমপ্রতি বাংলাদেশের ডঃইউনুস নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন, শান্তিতে। আমরা জানতাম তিনি অর্থনীতিবিদ। যদিও অর্থনীতিতেও নোবেল রয়েছে। আর কে না জানে শান্তির সাথে যুদ্ধেরই সম্পর্ক বেশী।
বহুদিন ধরে আমেরিকার মিয়াবিবিদের ঘুম নাই এই দেশটি নিয়া। এই দেশের গিনিপিগ মানুষ গুলো মাঝে মাঝে ভাষানিয়া বিদ্রোহ করে। মাঝে মাঝে স্বাধীনতার কথা কয়। আর একাত্তরে ভারত মহাসাগরে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েও এদের দমানো গেলনা। শেষ পর্যন্ত হেনরী কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ঘোষনা করলেন তলাবিহীন ঝুড়ির সাথে। তার মানে তিনি আমেরিকান মাফিয়াদের সতর্ক করে দিলেন তারা যেন এ যুদ্ধাহত দেশে বিনিয়োগ না করে। মাঝখানে ডঃ ইউনুসকে খুজে পায় আমেরিকা। তিনি প্রভুদের নেকনজরে আসেন দ্রুত। তিনি বুদ্ধিমান এবং শোষনকামি প্রোগ্রামার। তারা লুফে নিল তাকে। অতিদ্রুত প্রোগ্রাম তৈরী হয়ে যায়। হিলারির হাত বেয়ে আমেরিকান ডলার নেমে আসে বাংলার মাটিতে। মাঝখানে বাবুবিবি নিজেদের বিনিয়োগ ত্রে দেখতে এলেন। স্পেনের রাণী সুফিয়ারে পাঠালেন। ভালই প্রচার হলো। আর মাইক্রো ক্রেডিট ব্যবসা তারা ছড়িয়ে দিলেন পৃথিবীর আরো বহু নিঃশেষিত দেশে। গরিবের প্রতিবাদের ভাষা নাই। তাদের ভিটে মাটি গরু চাগল অন্তত পাওয়া যায়। যদিও এদেশে কিছু নাই তবুও গ্যাস আছে, গার্মেন্টস আছে। সস্তা শ্রমিক আছে। আর আমেরিকা বহু বছর যাবত যে চট্রগ্রাম বন্দরটি চেয়ে আসছে। হিলারী তার ' লিভিং হিস্ট্রিতে' ডঃ ইউনুসের জন্য এক দেড় পাতা খরচ করলেন। এবং তার জবান মতে তিনি মতা থাকা কালিনই নোবেল কমিঠিকে অনুরুধ জানিয়েছেন ডঃ ইউনুসকে নোবেল প্রাইজ দেয়ার জন্য। সম্ভবত এতদিন নোবেল কমিঠি ভেবে পায়নাই আসলে ডঃ ইউনুসকে কিসে নোবেল দেয়া যায়। আর আজ ডঃ ইউনূস নোবেল পেলেন। তার আগে মাইক্রো ক্রেডিটে জর্জরিত গোটা চলি্লশেক দেশ। চড়া সুদে আমরা ধনী হচ্ছি। গ্রামীণ ব্যংকের সুদে দরিদ্র মহিলারা টিভি, মোবাইল, গরু ছাগল কিনছে। কিন্তু সুদ দিতে গিয়ে সব বিক্রি করে শেষে জেলের ভয়ে ফেরার হচ্ছি। ওদিকে আমেরিকান ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ তৈরী করছে নিয়ত তাদের প্রোগ্রাম। জেমসবন্ডের জন্য। আওয়ামীলীগ আর বি এন পির কাজিয়ায় তার অস্থির কোন সময় কি ঘঠে এদেশে আল্লাহ মালুম। কিভাবে এদেশে শান্তি আনা যায়। ডঃ ইউনূস উন্মাদ হয়ে উঠেছেন। তিনি খানিক কাদছেন খানিক হাসছেন। বার্নাড শর দোহাই দিয়ে বলতে হয় যে পুরুস্কার হজম করতে জানেনা সে পুরুস্কারের যোগ্য নয়।
ইতিমধ্যে ডঃ ইউনূসের মুখে আমেরিকার ভাষা। তিনি কিসে নোবেল পেয়েছেন আর কি বলে বেড়াচ্ছেন সে ব্যপারে অবগত নন। তিনি বন্দর খুলে দিতে বলছেন। যেন সেখানে মার্কিন ঘাটি হতে পারে। এতে কি শান্তি তিনি কামনা করছেন তিনিই জানেন। আমরা পার। দু দিনে সম্ভব। আমি নিজেই রাজনৈতিক পার্টি গঠন করব। হা বল। সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে ইত্যাদি। সম্ভবত আমরা আমাদের ভাবী ত্রাতাকে পেয়ে গেছি। সাবাশ জেমস।
চারিদিকে জেমসের জয়জয়কার। তিনি আমাদের নাম দিকে দিকে উজ্জল করেছেন। তাও কম কি। দূনর্ীিত বারবার প্রথম হবার চেয়ে মাঝে মাঝে শান্তিতে নোবেল পাওয়া মন্দ নয়। রাস্তায় বেরুলেই ুদ্ররিনের গ্রাহক নারীদের মিছিল চোখে পড়ে। এত গ্রামীণ ব্যংকেরও জয়। গ্রামীণ ব্যংক আর ডঃ ইউনূসের কেউ কি খেয়াল করেছেন? মিছিলে অংশগ্রহণকারি এই সব ছেড়া বোর্কা পড়া হতদরিদ্র মানুষদের পায়ের চপ্পল কোথায়? নাকি বিজয় মিছিলে চপ্পল আনতে নাই। একেই কি বলে কোকাকোলার বদলে কাপড় খোলা?

 

প্রকাশ করা হয়েছে:   বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ ভোর ৫:১৬

 

১. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৬ বিকাল ৩:৩৩
অতিথি বলেছেন: মশা ভাই আপনি কি হাসিনা বুবুকে গেম আউট করে দিলেন।
আপনি ইউনুসের বিরুদ্ধে কাকে দাড় করাতে চাচ্ছেন? গনতন্ত্র, আমেরিকা,ইউনুস সবাই একই সারির মুসলি্ল।
২. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৬ বিকাল ৩:৫০
মাশা বলেছেন: সেটাইতো কই কেক ভাই। ইনূস মনে হয়ে আরো ভালো গণতন্ত্র আরো ভাল আমেরিকা হইব। এমনিতে দুই জনের জ্বালায় জ্বলছি। তার ওপর আরেকজনের হাকডাক এরি মধ্যে শুরু হইসে। সে ভিন্ন কেহ নয়। তারে তো মোরা চিনিরে। ধন্যবাদ কেক ভাই। ক্ষিধে লাগসে।
৩. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৬ বিকাল ৩:৫৭
অতিথি বলেছেন: আগামিতে ভরাপেটে পোস্ট দিলে আরও ভালো হবে আশা করি। জানেনতো খালি পেটে গনতন্ত্র নিয়ে আলোচনা করা যায় না।
৪. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৬ বিকাল ৪:০০
মাশা বলেছেন: আমি সমাজতন্ত্রী কেক ভাই
৫. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৬ বিকাল ৪:০৩
অতিথি বলেছেন: আপনিতো অনেক বই পড়েন, ইন্টারনেটে বাংলা বই পড়ার কোন ওয়েবসাইট আছে নাকি। পুরনো দিনের বই।
৬. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৬ বিকাল ৪:১৫
মাশা বলেছেন: আমি ও খুজছি। আপনি যদি বাংলাদেশে থাকেন সে ক্ষেত্রে বই য়ের নাম বললে পাঠাতে পারি। যদি আমার সংগ্রহে থাকে। অনেক বই আমিও চেয়ে এনে পড়ি। আমার ই মেইল দেয়া আছি যদি যোগাযোগ করতে চান। আমি উঠছি। ধন্যবাদ কেকঅ
৭. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৬ রাত ৮:১৯
অতিথি বলেছেন: সব জান্তারে আমার মাশা আফা /ভাইজান
৮. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৬ রাত ১২:৩০
কনফুসিয়াস বলেছেন: লেখা ভাল লেগেছে, কিন্তু গোড়ায় একটু গলদ রয়ে গেল। জেমস বন্ড তো ব্রিটিশ এজেন্ট। মানে ইংল্যান্ডের। আমেরিকার নয়।
তবে বক্তব্য বুঝা গেছে, সমস্যা হয় নি। ধন্যবাদ।
৯. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৬ রাত ২:২১
অতিথি বলেছেন: 'আনন্দ কি আনন্দ
এসে গেছে কোকা-কোলা
দেনার দায়ে সবই গেছে
বাকী শুধু কাপড় খোলা '

কাপড় টা ও খুলুক , চামড়া টা ও ছিলে নেয়া শুরু করুক । মানুষের ঘুরে দাড়ানোর সময়টা তখনই আসবে ।

ধন্যবাদ মাশা ।
১০. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৬ সকাল ৮:২৪
মাশা বলেছেন: কনফু ধন্যবাদ আমিতো জানি জেমস বন্ড হলিউডে তৈরী হয়। হা হোক সে বৃটিশ গোয়েন্দা। আফটার অল বৃটিশ আর আমেরিকার বক্তব্যে কি কোনো দ্্বিমত আছে? তাদের উদ্দেশ্যউতো এক তাইনা।
১১. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৬ সকাল ৮:২৬
মাশা বলেছেন: হাসান ভাই দেখা নাইা ক্য। কেমন আছেন।
১২. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৬ সকাল ৯:১৭
অতিথি বলেছেন: মাশাপা মনে হয় কমার্শিয়াল ছবি কম দেখেন।ডঃ ইউনূস কোনোদিন জেমস বন্ডে অভিনয় করে নাই।
১৩. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৬ দুপুর ১২:০৮
মাশা বলেছেন: এই মনরোটা কে বাহে। মাথায় গন্ডোগোলটোল নাই তো।
১৪. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৬ দুপুর ১২:২১
অতিথি বলেছেন: গানের লাইন ভুল হয়েছে মোরশেদ ভাই। আরেকবার শুনেন।
১৫. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৬ দুপুর ১২:২২
অতিথি বলেছেন: আচ্ছা, মাশা তো কয়দিন আগে ইউনূসকে নিয়ে ভালোই লাফালাফি করেছিলেন। না কি ভুল বললাম?
১৭. ১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১৬
অতিথি বলেছেন: বস্তুত আপনার পোষ্টটির সত্যতা দেখার সময় আসছে মনে হয়।
১৮. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১:২১
অতিথি বলেছেন: মাশা আপনার পোষ্টটি আমার ব্লগে কপি করে ছাপিয়ে দিয়েছি। আপনার যদি আপত্তি থাকে আমাকে বলবেন।

 

মোট সময় লেগেছে ০.১৪১৬ সেকেন্ড

 

© somewhere in net ltd | terms of use | privacy policy
Life is given to man
to make him consider carefully...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ