মাই হিরো
২৫ শে এপ্রিল, ২০০৭ রাত ২:০৩
সুখের সংজ্ঞা খুব সম্ভবত অপ্রবাসী এবং অঋণগ্রস্ত থাকতে পারা। অথচ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই দেখছি 'আই লাভ নিউইয়র্ক' লেখা টি-শার্ট পরে তরুণেরা ঢাকায় ঘুরাঘুরি করে প্রবাসী হবার স্বপ্ন মনে নিয়ে। টোফেল, জিআরই-র বই হাতে নিয়ে ফাস্টফুডের দোকানে এসপ্রেসো কফিতে চুমুক দিয়ে মার্কিন মুল্লুকে এডমিশনের নানান ইতিউতির গল্পই তখন মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। কথা বার্তায় ইংরেজীর বাড়তি মিশেলে অবিরাম লর্ড ক্লাইভের মত ভাঙা ভাঙা বাংলায় কথা বলতে শুরু করে তাহারা। তারপর একসময় তাদের স্বপ্ন সফল হয়। তারা মার্কিন মুল্লুকে পাড়ি জমায়।
কিছুদিন আগেও এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে বাংলাদেশের রাজস্বের একটা বড় অংশ আসছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ থেকে। বলাই বাহুল্য এই রেমিটেন্স জমা হচ্ছে অনগ্রসর অপেক্ষাকৃত কম লেখাপড়া জানা বাংলাদেশীদের শ্রম ও ঘামে অর্জিত বিদেশী মুদ্রা থেকে।
আজ এই প্রসঙ্গের অবতাড়না করা এই জন্য যে শিক্ষিত ইংরেজী জানা হোয়াইট কলার জব করা এলিট প্রবাসীরা বাংলাদেশ নিয়ে আদৌ চিন্তিত বলে মনে হয় না। অবশ্য যারা ব্যতিক্রমী মানুষ তারা নিজেদের এই জেনেরিক কমেন্টের বাইরে ধরে নেবেন বলে আশা করছি।
বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানের কিছু প্রবাসী শিক্ষিত তরুণ-তরুণীর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম দৈব চয়নে। ভারত ও পাকিস্তানের তরুণ-তরুণীরা আশ্চর্যজনকভাবে একই ধরণের কথা বলেছে। পশ্চিমা শিক্ষা নিয়ে ফিরে গিয়ে দেশে ঐ শিক্ষা তারা কাজে লাগাতে চায়। বাংলাদেশের অধিকাংশ তরুণ-তরুণীই বলেছে তারা বিদেশেই সেটল করবে।
অল্পশিক্ষিত প্রবাসী বাংলাদেশীরা বিদেশে সেটল করলেও তাদের মন পড়ে থাকে বাংলাদেশে। জমানো অর্থ দিয়ে বাংলাদেশে কিছু একটা করা যায় কিনা, এই ভাবনা তাদের তাড়িত করে সারাক্ষণ।
এর অর্থ বোধহয় এই দাঁড়াচ্ছে, বাংলাদেশের মাটি, জল, হাওয়া- যতটাই দেশপ্রেম জাগাতে পারে, আমাদের ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা ততটাই স্বার্থপর আত্মকেন্দ্রিক করে তোলে। এলিট প্রবাসীদের ঢাকার ধোঁয়া, ধুলো নিয়ে অহরহ কমপ্লেইন করতে শোনা যায়।
আর মজুর প্রবাসীর চোখের কোণায় জল চিকচিক করে অকস্মাৎ হবিগঞ্জ, নরসিংদী কিংবা বাউফলের দুরন্ত কৈশোরের স্মৃতি, বাপ মায়ের স্নেহের স্পর্শ কিংবা ডানকিনে মাছের ভর্তার কথা মনে পড়লে।
'দেশপ্রেম' বিষয়টা আসলে বোধহয় কোন স্কুলে শেখা যায় না। 'দেশপ্রেম' নিজেই একটা আলাদা স্কুল। জীবনানন্দ দাস যে বোধের কথা বলেছেন তা কেবল জীবনানন্দ পড়ে উহু আহা করলেই ভেতরে জন্ম নেয় না- একজন বাংলাদেশী ওয়েটার যখন সংগোপনে একটা ছোট পতাকা ঝুলিয়ে দেয় রেস্টুরেন্টের এক কোণায়, অথবা লালনের একটা গান বাজিয়ে বাংলাদেশী আত্মপরিচয় মেলে ধরে তারজন্য তাকে 'ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুল অফ থট' সম্পর্কে জানতে হয় না।
এসব ছোট ছোট দেশপ্রেমের উদ্ভাস আমার চোখে দেখা। যে কারণে 'মাই হিরো' কিংবা আমাদের নায়কেরা আমি বিশ্বাস করি এলিট এপার্টমেন্টে বসবাস করে না। তারা মাইনাস টেম্পারেচারে কাজ করে, বেসমেন্টের অল্প আলোয় একটু ডাল-ভাত রেঁধে খায়, ভাঙা সিডি প্লেয়ারে আব্দুল আলীমের গান শোনে। দুবাই বিমান বন্দরের লাউঞ্জে 'মাই হিরোদের' মোবাইল রিঙারে অবিরাম বাজতে থাকে 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি'।
আগামীকাল ২৫শে এপ্রিল হাজারদুয়ারীর তৃতীয় সংখ্যা আপ হচ্ছে। ব্লগের সকল ব্লগারদের আমন্ত্রন থাকলো হাজারদুয়ারী পরিব্রাজনের। সাথে থাকলো একটা প্রত্যাশা- আপনার দেখা প্রবাসী সফল মানুষদের গল্প লিখে পাঠান হাজারদুয়ারীর ঠিকানায়। হাজারদুয়ারীর আসছে সংখ্যা আমরা ভরে তুলবো মাই হিরোদের গল্পে গল্পে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, -০০০১ রাত ১২:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
আলভী বলেছেন:
ভাল লাগল। তবে শেষ প্যারার আগের প্যারাটা বেশি ভাল লাগছে।
শাহেনশাহ বলেছেন:
প্রবাসীদের নিয়ে একটু অন্যরকম লেখা যায়? না শুধু সফলতা নিয়েই?
অনন্তমৈথুন বলেছেন:
হাজারদুয়ারীর জন্য ধূসর কে একটা কবিতা দিছি সম্পাদক সাহেব।ছাপা হলে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাবো, এই আমি বলে দিলাম কারণ আমি মূলত কবি না।।
নজমুল আলবাব বলেছেন:
স্বপ্নগুলো কোন ফাঁকে যে সাত সমুদ্র পাড়ি দেয় বুঝিনা।
ছাগতাড়ুয়া বলেছেন:
আশরাফ, ফজলু, আস্ত এদের নিয়া লিখলে কি ছাপা হইব?
ত্রিভুজ বলেছেন:
লেখাটা সুন্দর হয়েছে.. তবে আপনার দৃষ্টভঙ্গির সাথে একমত নই। খুব বেশি নেগেটিভ ....
অমিত আহমেদ বলেছেন:
জোস্
কেমিকেল আলী বলেছেন:
ভাল লাগল পড়ে, সহমত @ আহমেদ
রবিনহুড বলেছেন:
লেখাটা পড়ে খুবই ভাল লাগল.....
হোসেইন বলেছেন:
ভালো লাগলো।
মাহবুব সুমন বলেছেন:
আপনার সাথে একমত, আমি লিখবো ।
অনুভূতি শূন্য কেউ একজন বলেছেন:
না, আসলেই স্কুলে শেখায় না । দেশপ্রেম নামের ওই জিনিষটা ।কীভাবে কীভাবে যেন ঢুকে যায় রক্তে ।
শিক্ষিত মানুষগুলো হয় সুবিধাবাদী - আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা সুবিধাবাদ জিনিষটা খুব ভালো শেখায় কি না !
রিদম বলেছেন:
দেশপ্রেম শিখানোর কিছু নাই ।
ধুসর গোধূলি বলেছেন:
"মাই হিরো"-দের নিয়ে সাজানো হবে হাজারদুয়ারীর পরের সংখ্যার পাতা। আপনাদের লেখা পাঠান, আপনাদের সাড়া পেলে মে মাসের ১৫ তারিখেই হাজারদুয়ারীর মে মাসের দুয়ার খোলা হতে পারে।
ধুসর গোধুলী বলেছেন:
দিনক্ষণতো এসে গেলো, বেলাতো বয়ে গেলো-এসেই বুঝি গেলো সে-ই মাহেন্দ্রক্ষণ!
সবাইকে আমন্ত্রন জানাই হাজারদুয়ারীর এই সংখ্যায় নিজের লেখাটা উজার করে দেবার জন্য। "মাই হিরো" দের সাথে কারো না কারো, কোন না কোন ভাবে অবশ্যই পরিচয় হয়েছে। জাতির এই বীর সন্তানদের জাতির প্রতি, দেশের প্রতি অবদানের স্বীকৃতি দেয়া কোন ভাবেই সহজ নয়। শুধু একটু প্রচেষ্টা তাদের প্রয়াসের প্রতি সম্মান দেখানোর।
এই সম্মান দেখানোর অংশীদারিত্বে অংশগ্রহণ করার জন্য কি দুবার ভাবতে হবে আমাদের!
গোপাল ভাঁড় বলেছেন:
১দমি ১মত নই..
বিপ্লব রহমান বলেছেন:
অনেক দেরীতে হলেও বলছি...খুব সুন্দর লেখা। ...ক্যারি অন...
ধুসর গোধূলি বলেছেন:
আহবান টাকে জীবিত করার সময় আবার এলো।পাবলিক কই সব, লেখা পাঠান কুইক। হাজারদুয়ারীতে উল্লেখ করার মতো কোন প্রবাসী বাঙালীর কাহিনী কি চোখে পড়েনি কারো, এতোটাই নির্লীপ্ত বুঝি আমরা!
সন্ধানী পথিক বলেছেন:
এটাই দেশের অনগ্রতির পথে বড় বাধা বোধ হয়।স্বার্থপরতা নিয়ে না হয় নাই বললাম কিন্তু দেশের প্রতি টান না থাকাটা আসলেই বেশ হতাশার!
তার উপর এই শিক্ষা-ব্যবস্থা, সাথে দেশের মানুষের সচেতনতার অভাব।
সব মিলিয়ে দেশ যে কোথায় যাচ্ছে তা আমাকে বেশ উদ্বিগ্ন করছে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















