প্রসঙ্গ : হামারশিয়া বা হুব্রিস
ইতিহাসের সমস্ত সফল চরিত্রের পতন বা 'ফল' নির্ধারণ করে কোন একটি ভুল সিদ্ধান্ত বা তার চরিত্রের কোন একটি ভয়াবহ ত্রুটি। সেটাই হামারশিয়া বা হুব্রিস।
বাংলাদেশের চলতি ঘটনা প্রবাহে ফখরুদ্দীন সরকারের দৃষ্টান্তমূলক সাফল্য যখন দেশবাসীকে একটা স্বস্তি এবং আস্থার অনুভূতি দিতে শুরু করেছে ঠিক তখন 'দুই নেত্রীকে' নির্বাসনে রাখার ফর্মূলা বড় ধরণের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন থেকে বাংলাদেশকে বের করে নিয়ে আসার চেষ্টা ব্যাপক জনসমর্থন পেয়েছে। অনির্বাচিত সরকারের ভাগ্যে এতটা জনসমর্থন খুব কমই জুটে থাকে। দুর্ণীতির দুষ্ট চক্র থেকে বাংলাদেশকে সুশাসনের শিষ্ট চক্রে নিয়ে আসার সাহসী প্রত্যয় ফখরুদ্দীন সরকারকে অঘোষিত গণভোটে একধরণের ম্যাণ্ডেট দিয়েছে 'চেঞ্জ মেকার' হিসেবে। ৩৫ বছরের তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণে এ পলিটিক্যাল জনগোষ্ঠী জিম্মি হয়ে পড়েছিল রাজনৈতিক গডফাদারদের হাতে। রাজনীতি, গনতন্ত্র ইত্যাদি প্রান্তিক মানুষের জন্য গলার ফাঁস হয়ে গিয়েছিল যেন!
ঠিক সেসময় সেনা সমর্থিত ফখরুদ্দীন সরকারের আগমন অগণতান্ত্রিক পথে হলেও জনগণ তাদের প্রত্যাশা পূরণের প্রতীক বলে ধরে নিতে শুরু করেছিল এই সরকারকে। ড. ফখরুদ্দীন আহমেদ তাঁর প্রতিটি বক্তৃতায়, রাস্ট্রভাবনায় একজন 'দার্শনিক রাজার' স্পষ্ট ছাপ রেখেছেন। দুর্ণীতির অভিযোগে অপ্রতিরোধ্য ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাজনৈতিক নেতাদের জেলে পাঠিয়ে দিয়ে রূপকথার দৈত্যকে খাঁচায় বন্দী করার মতই ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছে এই সরকার।
এই সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ দেখে জনমানুষের মনে হচ্ছিল তারা যা চায়, যেভাবে চায় সেভাবেই সবকিছু করেছে তারা।
সুসরকার এবং সুশাসনের অধরা স্বপ্নের সাদ অল্প অল্প করে দিতে শুরু করেছে এই সরকার।
জঙ্গীদের ফাঁসি হয়ে যাবার পর হামলার আশংকা উপেক্ষা করে পয়লা বৈশাখে লাখ লাখ মানুষের ঢল এই সরকারের সুশাসনের প্রতি অকুণ্ঠ জনসমর্থন বলেই মনে হয়েছে আমার কাছে।
কিন্তু বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে সৌদী আরবে নির্বাসনে পাঠানোর দৃশ্যমান ও অদৃশ্য তোড়জোড় কোন যুক্তিতে বুঝতে পারলাম না।
আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরতে না দেবার জন্য যে সরকারী প্রেসনোট, হুলিয়া জারী ও তা স্থগিত করা- কেন বুঝলাম না।
এই সরকার এর আগে পর্যন্ত যা যা করেছে তা কেন করেছে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল। 'ইনটেনশন' ব্যাপারটা ইতিবাচক হলে সবাই কিভাবে যেন তা বুঝতে পারে। 'ইনটেনশন' ঘোলা হলে পরিস্থিতি ঘোলা হয়ে পড়ে।
দুর্ণীতিবাজ নেতাদের জেলে পাঠাতে দেখে কেউ প্রশ্ন তোলেনি। জঙ্গীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দেখে কেউ প্রশ্ন তোলেনি। কারণ এসবই জনপ্রিয় দাবীর বাস্তবায়ন। যে কোন সরকার ততক্ষণ পর্যন্তই জনপ্রিয় যতক্ষণ পর্যন্ত তার পদক্ষেপ জনদাবীর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
যেখানে অন্য দুর্ণীতিবাজ নেতাদের জেলে রেখে প্রচলিত আইনে বিচার করা হচ্ছে। সেখানে খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা হাইপোথিটিক্যালী ধরে নিচ্ছি দুর্ণীতি করেছেন। তাহলে তাদেরকেও প্রচলিত আইনে বিচার করা হোক।
'শেখ হাসিনা', 'খালেদা জিয়া' যদি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হন জনগণ তাদের নিশ্চই প্রত্যাখান করবে।
কিন্তু রাজনীতির মাঠে তাদের নামতে না দিয়ে কোন 'ওয়াকওভার' সম্ভব নয়।
'দার্শনিক রাজার' কিছু ইউটোপিয়া থাকে, যেটা বাস্তবায়ন প্রায় অসম্ভব।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এদেশের প্রতিটি মানুষ রাজনীতি ও গনতন্ত্র সচেতন। গ্রামের প্রতিটি চায়ের স্টল একেকটি এরিস্টোটলের পাঠশালা।
যেকারণে নব্বুই এর পর কোন দল পরপর দুবার ক্ষমতায় আসতে পারেনি। জনগণ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইয়াজউদ্দীন সরকার জোর করে একটা নির্বাচন যদি করেও ফেলতো তাহলে তা নাইজিরিয়ার নির্বাচনের মত অগ্রহণযোগ্য হতো। নব্বুই এর পর ভোট কারচুপি বা নির্বাচন প্রকৌশলের সুযোগ প্রায় চলে গেছে। কানসাট বা ফুলবাড়ীর জনবিদ্রোহ এরিমাঝে প্রমাণ করেছে সাধারণ মানুষের শক্তি।
গায়ের জোরে বাংলাদেশে ভাল কাজ করা সম্ভব। কারণ সাধারণ মানুষ ভাল কাজের সমর্থক। কিন্তু গায়ের জোরে কোন ভুল কাজ জনগণ সহ্য করে না। বাংলাদেশ এমন এক স্পর্শকাতর দেশ যেখানে চাঁদের টানে জোয়ার ভাটার মত জনমত বদলায়।
বাংলাদেশের জন্য পশ্চিমা 'ওয়াচ ডগ' প্রয়োজন হয় না। গ্রামাঞ্চলে যেভাবে মানুষ পালা করে রাতে গ্রাম পাহারা দেয়, প্লাবন আসার আগে বাঁধের ফাটল পাহারা দেয়, সেইভাবে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ বাংলাদেশ পাহারা দেয়।
রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করুণ, নির্বাচন কমিশনকে সার্বভৌম করে তুলুন। পুলিশ ও প্রশাসনকে শাসকের পরিবর্তে সেবক করে তুলুন কোন অসুবিধা নেই।
কিন্তু নির্বাসন দণ্ড খুব ব্যাকডেটেড শাস্তি-ব্যবস্থা। খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনার কোন অপরাধ থাকলে বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে তার বিচার করতে দিতে হবে। বিচারে অপরাধ প্রমাণিত হলে জনগণ তাদের নেতৃত্বকে প্রত্যাখান করবে।
খালেদা জিয়া-শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে আইনের শাসন উপহার দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। সুতরাং এই সরকার নিজেকে ব্যতিক্রমী প্রমাণ করতে গেলে দুই নেত্রীকে আইনের শাসনের স্বাদ দিতে হবে তাদের সুবিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করে।
একই সঙ্গে হাজারদুয়ারীর এপ্রিল সংখ্যায় প্রকাশিত
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।