somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তুলসীলিক্সে আইনস্টাইনের গোমর ফাঁক

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আইনস্টাইন বার্লিনে হিটলারের নাতসী কর্মকান্ডের কারণে খুব বিচলিত।স্ত্রী দিতীয়া এলসা তাকে পরামর্শ দিচ্ছেন বিভিন্ন ফোরামে একটু বুঝে শুনে বক্তৃতা দিতে। সময় ভালো যাচ্ছিল না চারপাশে। নাতসী যুবকেরা ইহুদীদের দেখলেই শাইসে বলে গালি দিচ্ছিল।এলসার যুক্তি বিজ্ঞানীর এতো রাজনীতিতে নাক গলানোর দরকার কী? থিওরী অব রিলেটিভিটি আইনস্টাইন এলসা আর হিটলার ছাড়া আর সবাইকে বোঝাতে পেরেছিলেন। বাংকারে আত্মহত্যার ব্রান্ম মুহূর্তে হিটলার আইনস্টাইনএর কথা ভেবেছেন। এতো অস্ত্র হাতে নিয়ে হিটলার পৃথিবী জয় করতে পারলেন না, আর কতগুলো থিওরী দিয়ে একটা লোক ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হবার উপক্রম। হিটলার জেনে যেতে পারেননি যে আইনস্টাইন প্রেসিডেন্ট হবার অফার ফিরিয়ে দিয়ে গবেষণায় ফিরে গিয়েছিলেন।

১৯৩২ সালের ডিসেম্বর। পদসদামারপ্লাতজে আইনস্টাইন বসে কফি খাচ্ছিলেন।মনে তীব্র বিবমিষা, সিটিজেনশীপ ক্যানসেল হবার আগের আশা ভঙ্গের দিন। এখন এমেরিকায় পালানো ছাড়া উপায় নেই। আইনস্টাইন এটাকে খুব অপমানজনক ভাবছেন।নাতসী ক্যাডাররা আউসলান্ডার বলে টন্টিং করে চলে গেল।স্টাইনের গবেষণা সহকারী ক্লওডিয়াকে দেখে জুপার ফ্রয়েন্ডেন ইস লিবে ডিস বলে শিস দিয়ে চলে গেল এক মাথা ন্যাড়া নরখাদক।

ক্যাফের বাইরে এক ইন্ডিয়ান উঁকি ঝুকি মারছে, সম্ভবত বার্লিনে নতুন। স্টাইন লোকটাকে ঈশারা করলেন।লোকটা চেয়ারে না বসে দাঁড়িয়ে রইলো।একটা চিঠি এগিয়ে দেয়, সেখানে লেখা, টু হুম ইট মে কনসার্ণ। দিস ম্যান ইজ হার্ড ওয়ার্কিং এন্ড অনেস্ট। প্লিজ হেল্প হিম টু হেল্প দ্য ডিসট্রেসড হিউম্যানিটি অব ইনডিয়া। হি হ্যাড বিন আপরুটেড ফ্রম হিস হাউজ বাই দ্য টাইর‌্যান্ট জমিনডার।দিস ইস আ ফাইনাল কল টু সেভ আ ডাইং ম্যান। রিগার্ডস, জীবনানন্দ দাস, লেকচারার, ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট বিএম কলেজ, বরিশাল,ইস্ট বেঙ্গল, ইন্ডিয়া।

ছিপছিপে গড়নের লোকটার চোখ দিয়ে আগুন বেরুচ্ছিল। ক্লওডিয়া ব্রোডশেন নিয়ে আসে কাউন্টার থেকে। তুলসী চক্ষু মুদিয়া উহা ভক্ষণ করে। হামবুর্গ থেকে অনেক শীতের কামড়,পুলিশের চোখ আর পোলিতজাইয়ের শেফার্ডদের তাড়া খেতে খেতে বার্লিনে পৌছেছে। তুলসী মনুর দেশের লোক। আইতে শাল জাইতে শাল দেয়া ছাড়া আর কিছুই পারেনা। মিষ্টান্নের দোকানে বসিয়া জমিদার বাড়ীর অন্দর মহলের গুমোর ফাঁক করিয়া দিতো সে, তার আগে ঝাড় বাতি পরিষ্কার করা আর জমিদার বাবুকে হুকা সাজাইয়া দেয়া,মাঝে মধ্যে চামর দোলানো, দাসী মহলে তুলসী রায় ছিলো হার্ট থ্রব। বড় রস করিয়া কথা বলিতে পারিতেন তিনি, তাহাতে রগড় থাকায় দাসীরা মিটমিটাইয়া হাসিত। তুলসী আড়ালে আবডালে উহাদের কদমা উপহার দিয়া জমিদারের শয়নপ্রক্রিয়ার খবর জানিত। প্রভাত লক্ষী মিষ্টান্ন ভান্ডারে গিয়ে নৌকা ডাকুদের সামনে মরিচ মসল্লা পরিবেশন করিয়া বাহবা কুড়াইতো। তুলসী এইভাবে তুলসী দাদা হইয়া ওঠে কীর্তনখোলার জলদস্যুদের।জমিদারের নায়েব তুলসীকে বারণ করিলেও তুলসী ডোন্ট কেয়ার, কিয়া হইবেয়ানে,আড্ডি উড্ডি বাঙ্গি সব গুড়া করি দেবে। হুইয়া থাকমুয়ানে আর চুলকাবানে।পরিণতি জমিদার বাড়ী থেকে গলাধাক্কা। তারপর ভেনিসের খালে ভেসে যাওয়া অর্ধমৃত শোষিত নিপীড়িত তুলসী।বরিশাল থেকে কলকাতা তারপর সুয়েজখাল হয়ে ডুকে পড়া সাদা কুষ্ঠ রঙ মানব মহাদেশে।

আইন স্টাইন বুঝতে পারছিলেন না হের তুলসীকে কোন কাজে লাগাবেন। উনি দাস প্রথার ঘোর বিরোধী, সমকক্ষ মর্যাদায় তুলসীকে গবেষণা সহকারীর কাজ দিলেন। তুলসীর নেত্র অশ্রুসজল হইল। এইবার একটু ক্লউডিয়ার দিকে তাকিয়ে বিহবল হয়ে গেল, জমিদার গিন্নীর চাইতে দামকুড়া। পর জনমে হইয়ো রাধা।

তুলসী দাস গুটেন মগেন গুটেন টাগ দিয়ে তার বেশীর ভাগ কথোপকথন চালাইয়া লইবার ফাঁকে ফাঁকে ডাইরী লিখিতে শুরু করিল।আজ আইনস্টাইন বা তুলসী কেহই বাঁচিয়া নাই। আইনস্টাইনকে লইয়া যাহারা নাচিয়া নাচিয়া আকুল হন তাহাদের জন্য আজিকার ব্রেকিং নিউজ নারী আর মোহরের ফাঁদে আইনস্টাইন।

২৫ ডিসেম্বর ১৯৩২,বার্লিন

আজ বরফ পড়িতেছে। বরফ পড়িতে দেখিলে আইনস্টাইন খুশী হন।এলসার বাতের বেদনা বৃদ্ধি পায়। উনাকে হানিমানের ছবি অলা শিশির ওষুধ খাওয়াইয়া ঘুম পাড়াইয়া শ্রীকৃষ্ণ আইনস্টাইন তাহার তিন গোপিনীরে লইয়া কি যেন পদার্থ,আলো,শক্তি লইয়া গবেষণা করে। পদার্থ মাটির ঢিলা, আলো কুপ্পি বাত্তি জালাইলে পাওন যায় আর শক্তি পাওন যায় মহাদ্রাক্ষারিস্ট পান করিলে। ইহা লইয়া ব্ল্যাক বোর্ডে e=mcলিখিয়া উপরে দুই লিখিয়া দিবার মাহাত্ম্য কী। মোগো বাড়ি বরিশাল। কি দেখিলাম কি হেরিলাম, গেলাসে মদ ঢালিয়া ক্লওডিয়া,সিনথিয়া আর মারিয়ানের গেলাসের লগে ঠুক্কাঠুকি। ইনুর সঙ্গে কিনুদের কিসের সম্পর্ক, আমি বুজি। e মানে আইনস্টাইন দ্রাক্ষারস খাইয়া শক্তি অর্জন আর সমান সমান m মানে মারিয়ান দুইডা c মানে বুঝতে হইবে ক্লওডিয়া আর সিনথিয়া। ব্যাপার বুঝছেন নি। এই ব্যাডা বইশাইল্যা জমি দারের চাইতে খারাপ। ওই ব্যাডা বউরে গয়না দিয়া খুশী কইরা কলিকাতা হাড় কাটা গলিতে যাইতো, আর এই বেটা বউডারে ঘুম পাড়াইয়া ব্ল্যাক বোর্ডে চুরুট মুখে খস খস করিয়া লিখে, কি লেখে, কি করে কইলাম তো।

পুণশ্চঃ তুলশী রায়ের দৌহিত্র চুলকানি রায় উনার কালচার ফ্রম এগ্রিকালচার (২০১০, ক্যাচাল প্রকাশনী) গ্রন্থে তুলসী রায়ের চোখে আইনস্টাইনের দুইশো একুশ দিন নামক প্রতিবেদন লিখিয়াছেন। এই মারফত উনি উইকীলিক্সের নিকট হইতে যে রয়্যালটি পান তাতে তুলসীলিক্স নামের একটি ‘কইয়া দিমু’ মেটাব্লগ চালুর সিদ্ধান্ত নি্যাছেন। বিখ্যাত ব্যক্তিদের বেড রুমের কাহিনী ছবি ও পিডিএফ লিঙ্ক সহ আপলোড করিলে সেরা কুতসা শিল্পীকে কইয়া দিমু অল্টারনেটিভ নোবেল পদকে ভূষিত করা হইবেক। যোগাযোগঃ [email protected]

১০টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×