somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... জিহাদের শেকড় অনুসন্ধানঃ একটি সরজমিন রোজনামচা
এইসব ধর্মান্ধ তরুণদের মধ্যে যারা নেহাত ধর্মব্যবসায়ীদের টাকার লোভে জিহাদ ব্যবসা প্যাকেজে যুক্ত, তাদের নিয়ে চিন্তা কম, টাকার জন্য এরা টেন্ডারবাজির জন্য দলবদল করে বা সহি কায়দায় ফেনসিডিল বিক্রী করে।কিন্ত যাদের আসলেই ব্রেন ওয়াশড হয়েছে, তাদের প্রশিক্ষণ একটি জীবনদর্শন।তারা ভুল বিপ্লবের আলেয়ায় হাতে গ্যাস বোমা নিয়ে ঘুরছে, মুক্তসমাজ গুঁড়িয়ে দিয়ে শরীয়া আইন প্রচলন করতে।এখন বুঝতে চেষ্টা করা যাক কিভাবে এই নিষ্পাপ তরুণদের মগজ ধোলাই হয়েছে।

ওয়াজিরিস্তানের জঙ্গী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গুলো নিসর্গের বেহেশতের স্যুটিং স্পটের মত। সেইখানে গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক আধুনিক জীবনের বিরুদ্ধে ব্রেণওয়াশ করার সময়, আফঘান বা পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী থেকেবহিষ্কৃত বা চাকরি ছেড়ে টাকার লোভে পালিয়ে যাওয়া মার্সিনারী যুদ্ধ প্রশিক্ষকরা আলোচনার আবেগীমুহূর্তে চরস ধোয়ায় আচ্ছন্ন করেন চারপাশ, তরুণদের ঝরণার ধারে নিয়ে গিয়ে বলেন, এই নহরের চেয়েও সুন্দর নহর পাবে জান্নাতুল ফেরদাউসে।তারপর সিডি চালিয়ে হলিউডের নায়িকা এঞ্জেলিনা জোলি বা বলিউডের বিপাশা বসুদের মতো পার্থিব হুর দেখিয়ে বলে, আরও সুন্দর তারা জান্নাত হুরেরা।

চিন্তা করুণ যে ছেলেটি মাত্র হাজার দুই-তিনেক ডলারের বিনিময়ে তার ছোটভাইবোনের রুটির বন্দোবস্ত করেছে,যাকে তার মায়ের আঁচল থেকে ছিঁড়ে কিনে আনা হয়েছে,জীবনের নিষ্ঠুর এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে আবার এক নতুন জীবনের(মৃত্যুপরবর্তী) আলোছায়ায় বুকে বোমার সাস্পেন্ডার পরে হেঁটে যায় বেহেশতের দিকে, তাকে ডাকতে থাকে ওয়াজিরিস্তানের চেয়ে সুন্দর নহর আর সিডির হুরদের চেয়ে সুন্দর সানিয়া মির্জারা।

এইরকম সংকল্পবদ্ধ তরুণরা ইনটেরোগেশন সেলে জিজ্ঞাসাবাদের সময় যে ঋজুতার পরিচয় দেয়, তাতে তাক লেগে যায় তদন্ত বা জিজ্ঞাসাবাদ কর্মকর্তাদের।ওরা পার্থিব চাওয়ার উর্ধে তখন বেহেশতের অপেক্ষা করছে, কারাগার থেকে আত্মা আগেই চলে গেছে বেহেশতের ইমিগ্রেশন রুমে।কারণ এদের মগজধোলাই হয়েছে মস্তিষ্কের রসায়ন (কেমিক্যাল ব্যালেন্স) ওলট পালট করে দিয়ে।

বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলো গরীব বাচ্চাদের একমাত্র গন্তব্য, মাদ্রাসা একটা প্রায় নিরুপায় বিকল্প। সব মাদ্রাসাই জঙ্গীপ্রশিক্ষণ কেন্দ্র তা বলার অবকাশ নেই, কিন্তু যেহেতু মাদ্রাসাকে ঘিরে সন্দেহের কারণ তৈরী হয়েছে, এই সংশয় কাটাতে গেলে শান্তিপ্রিয় মাদ্রাসার আলেমদের সহযোগিতা লাগবে, অন্তত বিজ্ঞান,ইংরেজী আর কম্পিউটার প্রশিক্ষণ আর শান্তির ইসলামের দর্শন দিয়ে জেহাদী যুদ্ধ ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক জঙ্গী ভাবনা প্রতিস্থাপিত করে।

শিক্ষামন্ত্রী আশা করছি এদিকে নজর দেবেন। ধর্মমন্ত্রী মসজিদের ইমামদের একইভাবে কাজে লাগাতে পারেন মসজিদের খোতবার সময় অন্তত দুইমিনিট ইসলামের শান্তি এবং জিহাদের সঠিক ব্যাখ্যাটা তুলে ধরার জন্য। আমার জানামতে সবচেয়ে কঠিন জিহাদ হচ্ছে নিজের মধ্যের খারাপের বিরুদ্ধে,অসত্যের বিরুদ্ধে নিজের প্রতিযুদ্ধ প্রতিনিয়ত। ইসলাম যদি ধর্ম হয়, তাহলে অতীতের মুসলমান খলিফা বাদশাহদের রাজনৈতিক জিহাদ অপব্যাখ্যার অনুসারী একবিংশের মুসলমানেরা হতে পারেনা।সেটা জিহাদ দেবতাদের পূজা, কাজেই শিরক।

বাংলাদেশের জিহাদ আঞ্চলিক বলে যারা উড়িয়ে দেন, তারা রমনার বটমূল,উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলা,একুশে অগাস্ট,সতের অগাস্ট ভুলে গেলেন সেই বুড়ির মত যার বৃষ্টিদিনেই কেবল ঘরের ছাদ সারানোর কথা মনে পড়ে।একি সঙ্গে তেষট্টি জেলায় বোমা হামলার সামরিক কৌশল হাফরেড জামায়েতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশের ধর্মান্ধ বাংলাভাইয়ের মাথা থেকে এসেছে, এটা যারা ভাবছেন তারা আরেকবার ভেবে দেখুন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সৎ দেশপ্রেমিকযুদ্ধকৌশলবিশেষজ্ঞ আমাকে ইমেইল করে জানালেন (স্কুলের বন্ধুতা সূত্রে), বাংলাদেশের জঙ্গীবাদ আঞ্চলিক,এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গীবাদের সম্পর্ক হয়তো তেমন নেই। ই-মেইল পড়ে অবাক হলাম।আমরা বন্ধুরা আসলে সরল নদী মানুষ। আমাদের শত্রুরা ধর্মান্ধ কালাশ্নিকভ হায়েনা মানুষ।

তবে উনার (নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কর্ণেল) কাছ থেকে একটা ভালো পরামর্শ এসেছে।সরকার চাইলে আনসার বাহিনীকে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আধুনিক ট্রেনিং দিয়ে প্রতিষেধক অপারেশনে নামাতে পারেন।এতে সামাজিক অপরাধও ভয় পাবে চুরি-ডাকাতি-খুনের আগে।জিহাদ মাথায় নিয়ে ঘুরছে যে অল্পবয়েসী তরুণেরা এদের রিকনসিলেয়েশন বা প্রশমন ক্যাম্প খুলে জীবনে ফেরাতে হবে।এত সংখ্যক তরুণকে অন্ধকারে রেখে আমরা সুশীলসমাজ আলো আমার আলো গাইলে তা ইউটোপিয়া শোনাবে।এই শেষের বাক্যটি বাতিঘর শাহরিয়ার কবিরেরও। কিছুদিন আগে করাচী বাংলাদেশ হাইকমিশনে উনার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। করাচীতে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার রুহুল আলম সিদ্দীকিও বাতিঘরের কথাগুলো মনদিয়ে শুনছিলেন।বাতিঘর ইংরেজিতে বললেন “লার্ণ টু বি ইনক্লুসিভ”।সবাইকে নিয়ে সুখে বাঁচতে শিখতে বললেন শাহরিয়ার কবির।

সিএনএন এর অনৈতিক হলুদ এমবেডেড (যুদ্ধ-ট্যাংকে-শায়িত)সাংবাদিকতার সঙ্গে মিলেমিশে দাড়িটুপির মেক আপ পরে যুদ্ধাপরাধী আর ধর্মব্যবসায়ী জিহাদ বিক্রেতারা যে ইসলামোফোবিয়া তৈরী করেছে বাংলাদেশে, গোটা গোলকে ,তা ভয়ংকর।আমরা এখন দাড়িটুপি দেখলেই জিহাদী ভাবি, বোরখা দেখলেই ভয় পাই বোমা না ফেন্সিডিল বহন করছে তাই ভেবে।যাদের মাখালানানীরা বোরখা পরেনি তারাও বোরখা পরছে বেহেশত এ বলিউডের নায়ক জন আব্রাহাম বাখলিউডের নায়ক ব্র্যাড পিটের মতো সুদর্শন পুরুষ হুরের পুরস্কার থাকবেনা জেনেও।কেন তা জানা দরকার,বোঝানো দরকার পর্দা বাইরে নেই মানুষের মনে এই পুরোনো কথাটি।কোন ধর্ম আফিম নেশায় বুঁদ এই সরলমতী কিশোর- কিশোরীরা সত্যিই জানা দরকার।

ধর্মান্ধ শিবির নারীরা আওয়ামীলীগে ঢুকছে যুদ্ধগোয়েন্দা মাতাহারির (২য় গোলকযুদ্ধের নারী গোয়েন্দা)মত অথচ এইসব বাঙ্গালী মেয়েদের অন্তত সূফিয়া কামাল বা প্রীতিলতা হবার কথা ছিলো। তাই ম্যাডাম খালেদা জিয়া যদি বুঝে উঠতে যুদ্ধাপরাধী আর জিহাদব্যবসায়ীদের সিসিফাসের বোঝাটা নিয়ে আর ভোট পাওয়া যাবেনা ,তাহলে তিনি জার্মানীর খ্রিস্টিয় গণতন্ত্রী নেত্রী আঙ্গেলা ম্যারকেলের খ্রীস্টিয়ান পার্টির মত ফাউন্ডেশন তৈরি করে বাংলাদেশের এই অন্ধকারের তরুণদের জন্য দেশজুড়ে ফাউন্ডেশন বানিয়ে তাদের জীবনে ফেরাতে পারেন।ছাত্রদলের দুর্বিনীত ছেলেদের ওখানে সংশোধনের চেষ্টা করতে পারেন। মনে রাখা দরকার আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে যে আগে তরুণ কর্মীদের তথ্যপ্রযুক্তি,ইংরেজী আর পেশাগত বা ভকেশনাল ট্রেনিং দিতে পারবেন, তত এগিয়ে যাবেন ভবিষ্যতের রাজনীতিতে।যদি স্যার শেখ হাসিনা এবং ম্যাডাম খালেদা জিয়া দলীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কিছু প্লাম্বার (কায়িক পরিশ্রমী) বানিয়েও পশ্চিমে পাঠাতে পারেন,ওদের যা উপার্জন হবে, পার্টি ওদের চাঁদায় সৎ উপার্জনে চলে যাবে।প্লাম্বার ফিরে মন্ত্রীও হতে পারেন,অতীতেও হয়েছে,আমরা শ্রমের মর্যাদার হরলাল পড়া জাতি (ইতিবাচক অর্থে)।

আর সমাজেও এই নানারকম কৃত্রিম বিভাজন থেকে বেরিয়ে আসার মনোভঙ্গী দরকার,শীর্ণ শরীরের কোটরাগত চোখের,ফুরফুরে দাড়ির হাত টিপে টিপে জিহাদের দাওয়াত যেমন বিরক্তিকর টিশার্ট-জিন্স পরে দাড়িটুপি দেখলেই তাকে নিয়ে ক্যারিকেচার করাটাও গ্রাম্যতা কুচুটে অর্থে।মুক্তিযুদ্ধ-বঙ্গবন্ধু ও ধর্মনিরপেক্ষতা প্রশ্নে একমত হয়ে ৭২এর সংবিধানএ ফিরে ফ্রেস স্টার্ট (মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নবায়ন) দিতে না পারলে বাংলাদেশকে হতভাগ্য রুয়ান্ডার মতোই খুনোখুনির ব্যবসা করে যেতে হবে পরের শতাব্দীতেও।সিএনএন তখন এমবেডেড জার্নালিজম করবে বাংলাদেশ নিয়ে” আ ল্যান্ড অফ পলিটিক্যাল ক্যানিবালস” বলে।আফঘানিস্তান-পাকিস্তানের সিএনএন পাচালী শুনলে দেখতে টের যায় বাংলাদেশ নিয়ে তাদের ২০১৪র এমবেডেড কাভারেজের পরিকল্পনা। ওয়ার কাভারেজ সেলস। উত্তেজনার ভোক্তা আমরা সবাই।

অনলাইন সুবিধার এই যুগে আমরা ২৪ঘন্টা দিবালোকের আলোয় সত্য দেখতে পাই। ফ্রিমেসেনদের (গোলক ব্যাংকিং ব্যবসা- ধর্মব্যবসা-রাজনীতি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকারী প্রাচীনতম পরিবার যাদের বংশলতিকার যুবরাজরা এখোনো সক্রিয়) ষড়যন্ত্র সূত্র বোঝা তরুণের সংখ্যা এখন অনেক। এখন ফ্রিমেসেন ভাবনা আঙ্গিক বদলে নতুন সিন্ডিকেট ভাবনা বিনির্মাণ করেছে।আমরা জানি কিভাবে কতিপয় ক্ষমতা ব্যবসায়ী ধর্মানুভূতির বিজ্ঞাপন চালাতে পশ্চিমা এবং আরব মিডিয়ায় খৃস্টীয় এবং মুসলিম জাতীয়তাবাদের বিষ জারিত করে চলেছে পয়সা খরচ করে, অস্ত্র বিক্রীর বাজার তৈরীর জন্য। ধর্মান্ধ বুশ এবং ধর্মান্ধ লাদেনের মত আকর্ষণীয় সিএনএন মিডিয়া মডেল এমনকি ফ্যাশন টিভির প্রতিশ্রুতিশীল মডেল নাওমী ক্যাম্পবেলও হতে পারেনি।



ইতালীয় চিন্তাবিদ নিক্কলো ম্যাকিয়াভেলীর (৩ মে ১৪৬৯ – ২১ জুন ১৫২৭ পর্যন্ত বেঁচে থাকা ডার্ক-বুদ্ধিজীবী)গোলক রাজনৈতিক ব্যবসার নির্দয় (তাঁর লেখা দ্য প্রিন্স) নীলনক্সা বাস্তবায়ন দেখে, আমরা সিএনএ-ফক্সটিভি মিডিয়া আসক্ত হয়ে আমাদের মনোভূমিতে জায়গা করে দিই ষড়যন্ত্র সূত্রগুলোকে। এরা আমাদের গ্রামের কুটিল (কালা ম্যাকিয়াভেলী চিন্তাবিদ) মাতবরদের মত (অনেকে জাতীয় সংসদেও আছে) চোরকে চুরি করতে বলে গৃহস্তকে ধর ধর বলে শঠতার সঙ্গে।যুদ্ধের রেসিপি তৈরীর এই ছায়া নর্তকরা কেউ খৃষ্টান-মুসলমান-ইহুদী-হিন্দু বা নাস্তিক নন। এরা ব্যবসায়ী, ব্যবসা এদের ধর্ম,এরা যখন রেড ওয়াইনে সিপ করে তখন আফঘানিস্তানের কান্দাহারের রক্তের রঙের সঙ্গে মেলায়, যখন চুরুট ধরায় তখন টুইন টাওয়ার ভেঙ্গে যায় বা লকারবিতে বিমান পুড়তে থাকে,যখন সুইটজারল্যান্ডের বরফ বেহেশত বা হল্যান্ডের টিউলিপ বাগান বা ত্রিপোলি্র রাজকীয় তাঁবু বা শরম আল শেখের অবকাশ প্রাসাদে টপ মডেলদের সঙ্গে রিরংসায় মেতে ওঠে শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যবসায়ীরা, ইরাকের বসরা শহরের নারীরা তখন ধর্ষিত হয় গণিমতের সামগ্রী হিসেবে।এদের ক্ষমতার ব্রাঞ্চে ন্যুইয়র্ক-বাগদাদ-কাবুল বার-বি-কিউ আয়োজনের স্যাডিজম পুরো গোলকের মানুষের জীবনচর্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় এক ক্যানিবাল প্রচেষ্টা।প্রোস্টেট জটিলতায় ক্ষুব্ধ কতিপয় বৃদ্ধ-জরদগব-জাঢ্য জুয়াড়ীর জুয়া বোর্ডে বুশ-ডিকচেনী-ব্লেয়ার-হাওয়ার্ড-লাদেন-সাদ্দাম-আহমেদিনেজাদ কার্ড।আর আমরা খুঁজে মরি আম-জাম-খেজুর স্ট্রবেরী জনতার কান নিয়েছে চিলে।।

ডেটলাইন; কাবুল (আপডেটকৃত) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29541195 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29541195 2012-02-14 15:23:02
আমার মুক্তি ক্লিকে ক্লিকে জয়তু সামহোয়্যারইনডটনেট জয়তু সামহোয়্যারইনব্লগডটনেট]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29533570 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29533570 2012-02-01 23:42:33 আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবানা; অডিও ভিজুয়াল ব্লগ আমরা বাংলাদেশ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29530080 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29530080 2012-01-27 02:51:45 নাউ স্টপ ইন্ডিয়া; একটি অডিও ভিজুয়াল ব্লগ ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29528608 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29528608 2012-01-24 21:06:17 জামায়াতের চোখে বাংলাদেশ নদী নয়, চৌবাচ্চা
সাম্প্রতিক নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও নরসিংদীর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় সমর্থিত কোনো প্রার্থীকে আমজনতা পছন্দ করেনি। তারা চেষ্টা করেছে অপেক্ষাকৃত সৎ প্রার্থীকে ভোট দিতে। চেষ্টা অনেকটা সফল হয়েছে। আসল ক্ষমতার মালিক আমজনতা, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই অচল সূত্রটি অন্তত সাম্প্রতিক তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সচল হয়েছে। কালো টাকা-পেশিশক্তি-দলীয় সমর্থন-ঢাকা থেকে যাওয়া রাজনীতিবিদদের শোডাউন_কোনো কিছুই কাজে আসেনি। ছোট ছোট শহরের চায়ের দোকানগুলো অ্যারিস্টটলের পাঠশালা হয়ে উঠেছে। আইভী-সাক্কু-কামরুজ্জামান কোনো দলীয় সমর্থন ছাড়াই বরং দলীয় অনেক বাধা-বিপত্তি ঠেলে গণতন্ত্রের বিজয় সূচিত করেছেন। গণতন্ত্রের সুফল সুদাসলে তুলে এনেছেন তিনটি ছোট শহরের আমজনতা।

খুব অবাক লেগেছে, বাংলাদেশ যখন সুগণতন্ত্র উদ্ধারের পথে প্রতিদিন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আবার কিছু ধর্মান্ধ সেনা কর্মকর্তা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমজনতার ভোটে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৎ ও গণতন্ত্রমনা সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্মকর্তা এই কালো চেষ্টা রুখে দিয়েছেন। অতীতের মতো ঢাকঢাক গুড়গুড় না করে আন্তবাহিনী জনসংযোগ দপ্তর সংবাদ সম্মেলন করে ধর্মান্ধ সেনা কর্মকর্তাদের এই জঙ্গিচেষ্টার খবর আমজনতাকে জানিয়ে দিয়েছে। কারণ পেশাদার এই সেনা কর্মকর্তারা জানেন আমজনতার শ্রমে ও ঘামে তাঁদের বেতন হয়। সুতরাং সেনাবাহিনীর ভেতরের কোনো দেশ বা আমজনতাবিরোধী খবর জানার অধিকার তো আমজনতার রয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গণতন্ত্র, আমজনতা আর বাংলাদেশের প্রতি শ্রদ্ধার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল তা তাদেরও শ্রদ্ধার পাত্র করেছে। একটি অশুভ চেষ্টা প্রতিহত করে সেনাবাহিনী আমজনতার খুব কাছে চলে এলো। এটা খুব জরুরি ছিল রাষ্ট্রিক ঐক্যের জন্য।

আমাদের এই রাষ্ট্রিক ঐক্যের পথে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বাধা ধর্মান্ধ গোষ্ঠী। সাম্প্রতিক সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টায় সেটা আরেকবার প্রমাণ হয়ে গেল। এই অভ্যুত্থানচেষ্টার হোতা পলাতক মেজর জিয়া একজন ধর্মান্ধ ব্যক্তি। সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কে মেজর জিয়া জিহাদের উসকানি দিয়েছেন। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহ্রীর মেজর জিয়ার ফেসবুকে ব্লগে ছেড়ে দেওয়া গুজব লিফলেট আকারে প্রকাশ করে আমজনতার মধ্যে বিতরণ করেছে।

বাংলাদেশের কয়েকটি টিভি-চ্যানেল ও অনলাইন পত্রিকা শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের সাক্ষাৎকার প্রচারের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ করে দেওয়ার পর সাদা দাড়ি-টুপি পরা ৮৯ বছর বয়সী বকধার্মিক লোকটি আমজনতার হৃদয় জয় করে নিয়েছেন_এ রকম একটি ইলিউশন তৈরি হয় যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থক শিবিরে। কিন্তু একাত্তরে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের দাগ যাঁর হাতে তাঁকে পরহেজগার নেকবান্দা ভাবার মতো নির্বোধের সংখ্যা হাতেগোনা। মেজর জিয়া সেই হাতেগোনা কয়েকজনের একজন।

তাই তিনি গোলাম আযমকে গ্রেপ্তারের আগেই সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে শরিয়াহ আইন প্রচলনের মনস্থির করেছিলেন। কিছু অনাবাসী ধর্মান্ধ টাকাওয়ালা বাংলাদেশি মেজর জিয়া অ্যান্ড গংকে কথিত অভ্যুত্থানের প্রণোদনা জুগিয়েছিলেন আরেক পঁচাত্তরের কালো বিপ্লবের হাতছানিতে।

গ্রিক চিন্তাবিদ হেরাক্লাইটাস বলেছেন, মানুষ একই স্রোতে দুইবার অবগাহন করতে পারে না। কিন্তু ধর্মান্ধ গোষ্ঠী বাংলাদেশকে হয়তো নদী না ভেবে চৌবাচ্চা ভাবে। চাইলেই যেন আবার পঁচাত্তরের স্রোতে আরেকবার গোসল করা যায়। এখানেই গণতন্ত্রমনা বুদ্ধিমান হেরাক্লাইটাসের সঙ্গে ধর্মান্ধ নির্বোধ মেজর জিয়ার মূল পার্থক্য।

দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী বাংলাদেশকে অন্ধকারের পথ থেকে আলোয় ফিরিয়ে এনেছে একটি ছোটখাটো কেমোথেরাপির মাধ্যমে। কিন্তু ধর্মান্ধতার যে ক্যান্সার তা তো রয়ে গেছে বাংলা মায়ের শরীরে। নরম ইসলামের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে ধর্ম ব্যবসার ও ধর্মান্ধ ক্যান্সারটির নাম জামায়াতে ইসলামী। ১৯৭১-এর আলবদর বহুদলীয় গণতন্ত্রের আলখাল্লা পরে জামায়াতে ইসলামী নামে ২০১১-এর ধর্মান্ধ মেজর জিয়ার মনে কট্টর ইসলামী বিপ্লবের জোশ জারিত করেছে।

এর আগে জামায়াতের রাজশাহীর এক পাতি নেতা 'পঁচাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠবে আরেকবার' এ ধরনের সদম্ভ উক্তির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এখন জেলহাজতে। বিএনপির রোডমার্চে এরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের এক দফা এক দাবি নিয়ে সক্রিয়। চট্টগ্রামের পলো গ্রাউন্ডে এরা রাষ্ট্রবিরোধী লিফলেটও বিতরণ করেছে। এর মানে ৪০ বছর বয়সী বাংলাদেশে প্রতিদিন এরা সক্রিয় গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। এর পেছনে রয়েছে বিপুল আর্থিক শক্তি। জামায়াতের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক মুনাফাই যেখানে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।

নব্বুইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মূল স্পিরিট ছিল বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং এর গুণগত মান অর্জনের পথটি দুর্গম অথচ আলোকসম্ভবা। কিন্তু জামায়াতের জঙ্গি তৎপরতা আল-কায়েদার মতোই বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে একটি প্রাত্যহিক হুমকির মধ্যে রেখেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা জেনেশুনে কেন এই কালসাপ পুষব? বাংলাদেশের আমজনতা কেন ভয়ে ভয়ে রাতে ঘুমাতে যাবে যে এই বুঝি সকালে উঠে রেডিওতে শুনবে আমি মেজর জিয়া বলছি, 'বাংলাদেশে শরিয়াহ বিপ্লব সফল হয়েছে।'

দেশের মানুষ এমনিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপে হাঁসফাঁস করছে, তার ওপর ধর্মান্ধ জঙ্গিদের উটকো ঝামেলা। এ থেকে আমরা মুক্তি চাই। জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সময় এসেছে। বাংলাদেশের শরীর থেকে জামায়াতের এই ক্যান্সার উৎপাটন করতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালে জামায়াত তার সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। বিএনপি তার রাজনৈতিক ফায়দার জন্য জামায়াতের ক্রীড়নক হয়ে কাজ করছে। কিন্তু এখন আর বিষয়টা কেবল রাজনৈতিক নয়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি জামায়াত বিষয়টা আওয়ামী লীগের দলীয়ভাবে মোকাবিলার নয়। বাংলাদেশের দলনিরপেক্ষ আমজনতার জীবন-মরণের লড়াই এই জামায়াত-ক্যান্সারের সঙ্গে। ক্ষমতাসীন সরকারকে বাংলাদেশের নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও গণতন্ত্রের সুস্থ বিকাশ অব্যাহত রাখতে এই জঙ্গি সংগঠনটিকে নির্মূল করতে হবে। দেশের মানুষ একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে যেতে চায় উদয়াস্ত পরিশ্রমের পরে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29528566 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29528566 2012-01-24 19:54:24
রাষ্ট্রকে হাজব্যান্ড না ভেবে বাবা ভাবুন কিন্তু অদ্য মানিকগঞ্জ সফরে আবার খালেদা ফোবিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ফিরে গেলেন কুতসার রাজনীতিতে। খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলাটি চলছে।এই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় নিশ্চয়ই আদালত দেবে।আদালতে বিচারাধীন মামলা নিয়ে রিপোর্ট-ফলো আপ করবে মিডিয়া।আমজনতা দেখবে সেটা। দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ হলে শাস্তিও হবে। কিন্তু এই নিয়ে একজন প্রধানমন্ত্রীর মুখের বাণী; ‘বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া এতিমের টাকা লুটপাট করেছেন। এতিমের নামে বিদেশ থেকে যে টাকা এসেছিল, সে টাকা দিয়ে নিজের নামে জমি কিনেছেন। এতিমের টাকা লুটপাট মেনে নেওয়া যায় না। তাদের বিচার হতেই হবে। কোনো আহ্লাদ চলবে না। বিচার না হলে এতিমরা মানবে না,’ শুনে মনে হলো এই খানেই বাংলাদেশ রাজনীতির সমস্যা, প্রত্যেক বক্তৃতায় খালেদাকে খোঁচানোর এই প্রবণতাই রাজনীতিকে সাঙ্ঘর্ষিক করে তুলে। আর আদালতে বিচারাধীন মামলা নিয়ে জনসভায় কথা বলাতো আদালত অবমাননা।

নিজের গুণগান করার মাঝে খালেদাকে নিয়ে টিকাটিপ্পনির হাসিনা সিনড্রোম সংক্রমিত হয় শেখ পরিবারের চাকরবাকরদের মধ্যে।নেত্রী যা বলবেন তা এক দার্শনিক ঢেঊ তোলে চাকরদের মনে।তখন তারা ছোট-খাট সেমিনার বা টিভি ঝাল শোতে গিয়ে খালেদার গুষ্টি উদ্ধার করে।
একি ঘটনা উল্টোদিকে। খালেদা রোডমার্চে হাসিনা ফোবিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসিনার কুতসা গাইলে বিএনপির চাকরবাকর ও জামায়াতে ছাগুদল তখন খালেদা সিনড্রোমে বিপুল বিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়ে।চলতে থাকে শেখ পরিবারের কাসুন্দি। এপ্রসঙ্গে রাজশাহীর একটি লোকবচন মনে আসে, এং উঁচি ব্যাং উঁচি খলসে বলে আমিও উঁচি।মানে এং ব্যাং কে উঁচুতে লাফাতে দেখে খলসে মাছেরো ঐ উঁচুতে লাফ দিতে ইচ্ছা জাগে।

শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া যদি বক্তৃতা দেবার সময় পারস্পরিক ফোবিয়া থেকে মুক্ত থাকতে পারেন তাহলে উনাদের বক্তৃতার যতসামান্য মূল্য টিকে যেতে পারে। কিন্তু ঐটিতো হবার নয়। মেক আপ বা ট্রুথ ব্রাশ করার সময় শুধু একবার নিজের দিকে তাকাতে হবে দুই নেত্রীকে।মাত্র কয়েকদিন আগে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রলীগ কর্মী জুবায়ের শত্রু ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে নিহত হবার পর শেখ হাসিনা কোন মুখে সন্ত্রাসবিরোধী বক্তব্য দেন, বলেন, ‘যারা দেশে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করতে চায়, দুর্নীতি লুটপাট করে, তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।’ শেখ হাসিনার টেবিলে আওয়ামী লীগের পঞ্চাশজন দুর্নীতিগ্রস্ত ও সন্ত্রাসী সাংসদের আমলনামা পড়ে আছে গত ছয়মাস যাবত।এবার হয়তো আরো পঞ্চাশজনের অপকর্মের পেনপিকচার জমা পড়বে মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে।সেগুলো নিশ্চয়ই উনি পড়েছেন।তারপর কোন মুখে এসব কথা বলেন তিনি।

নিজেকে না শুধরে খালেদা ফোবিয়ায় বিএনপির ছিদ্র খুঁজে কোন লাভ হবে কি?

আর খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের মুখপাত্রী হয়ে পড়ায়, দুই সোনার ছেলে এবং তদীয় চাকরদের লালন পালন করে আমজনতার সামনে মুখ দেখানোর সুযোগ রাখেননি।তার মুখে হাসিনার দেশ চালানোর সমালোচনা শুনলে মনে হয়ে ঝাঁঝর সূচকে বলছে তোমার প্রশাসনে ছিদ্র।

তবে শেখ হাসিনা আর খালেদা জিয়ার নেই নেই করেও একটাগুণ আছে। বাংলা এবং ইংরেজি ভাষাটা পশ্চিমবঙ্গের মমতা ব্যানার্জীর চেয়ে ভালো বলে। সৃষ্টিকর্তা এই একটি জায়গায় পূবের এই বাংলা ভূখন্ডটিকে ইজ্জত ডুবার হাত থেকে বাঁচিয়েছেন। শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া ঠিক অপর্ণা সেন বা হেমা মালিনীর মতো তাদের গ্ল্যামার অক্ষুণ্ণ রেখেছেন। এর পেছনে আমজনতার অবদানই বেশী।কারণ ক্ষমতায় যেই থাকুন, মন্ত্রীর আরাম আয়েসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত অবিমৃষ্য আমজনতা নিশ্চিত করে রেখেছেন।

দেশ যখন অর্থনৈতিক হাহাকারে ধুঁকছে, শেখ হাসিনা তখন প্লেনে চড়ে সদলবলে ত্রিপুরা জয় করে এলেন কতো কোটি টাকা খরচ করে তা হিসাব নিরীক্ষণ বিভাগ জানে। অন্যদিকে খালেদা জিয়া সদলবলে চট্টগ্রামের পোলো গ্রাউণ্ড জয় করে এলেন কোটি কোটি টাকা খরচ করে।

আমার মনে হয়,বাংলাদেশকে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া যদি হাজব্যান্ড না ভেবে বাবা ভাবতেন তাহলে হয়তো আমরা বেঁচে যেতাম এই রাষ্ট্রিক অপব্যয় ও অপচয় থেকে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29524857 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29524857 2012-01-19 02:33:29
ব্লু ব্যান্ড কল ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29522954 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29522954 2012-01-15 20:48:38 সফল কামাল মজুমদার বনাম ব্যর্থ ড: কামাল হোসেন
সুতরাং আজকের রাষ্ট্রীয় দুর্ভাগ্য নিয়ে হাসিনা এবং খালেদার মৃত্যুকামনা করে যারা ফেসবুক স্টেটাস দিয়ে ছয় মাসের কারাদন্ড পাচ্ছেন তাদের প্রতি অনুরোধ আগে আত্মসমালোচনা করুন তারপর অন্যের সমালোচনা করতে যাবেন।বৃটিশ আমলের দাস মনোবৃত্তি নিয়ে আমরা আমজনতা শক্তের ভক্ত নরমের জম হয়ে রয়ে গেলাম। কামাল মজুমদারের মতো একজন রাজনৈতিক স্থলদস্যুর অঙ্গুলি হেলন ছাড়া এখন মণিপুর বিদ্যালয়ের একটি পাতাও নড়েনা।আমজনতা হতাশায়, বিপন্নতায় আবার তাহলে বিএনপির বাঁশের অপেক্ষমান, আবার রাজনৈতিক স্থলদস্যু তারেক রহমান।বাংলাদেশের আমজনতা দোয়া নিয়ে তারেক রহমানের অঙ্গুলি হেলনে ২০১৪ থেকে বাংলাদেশের সমস্ত পাতা নড়তে শুরু করবে।মিরপুরবাসীর দোয়া নিয়ে স্থলদস্যু খাম্বা মামুন কামাল মজুমদারকে বিপুল ভোটে পরাজিত করবে।একটি ভোট এবার দুহাজার টাকা।অন্তত চারটি ফেনসিডিলের বোতল সাবাড় করে একদল তারুণ্য দেশের সেরা মণিপুরের স্কুলটি কামাল মজুমদারের তালুক থেকে নিয়ে খাম্বা মামুনের তালুকে উপহার দেবে।

কারণ বাংলাদেশ সংবিধানের অন্যতম লেখক, বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল হোসেনকে মিরপুরের মানুষ নির্বাচনের জামানত বাজেয়াপ্ত করে সুনির্দিষ্ট করেছে আজকের মণিপুর স্কুলে সাংসদের চাঁদা আদায়ের সংস্কৃতি এবং এলাকার ভাগ্য।বেছে নিয়েছে ভ্যাম্পায়ার রাজনীতির কামাল মজুমদারকে। বাংলাদেশে দুর্নীতি সংস্কৃতির ব্যাপক সামাজিকীকরণে আমজনতার ভূমিকা মূখ্য।ভোটের আগে টাকা আর গুজবের লোভ সামলানোর মতো শিক্ষা যদি মিরপুরের শিক্ষিত পুরবাসীর না থাকে, বাংলাদেশের প্রত্যন্তের অবস্থা কী অনুমান করতে পারেন।

নির্বাচনী প্রতিবেদনে কালোটাকার ছড়াছড়ির আভাস থাকলেও আমাদের রিপোর্টাররা আজ পর্যন্ত নির্বাচনে টাকার খেলা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরীর প্রশিক্ষণ লাভ করেনি।নাসিক এবং কুসিক নির্বাচনের টাকার খেলা নিয়ে কোন স্পেসিফিক রিপোর্ট দেখেছেন? পুলিশ বা RAB নির্বাচনে মারামারি ঠেকাতে সফল, কিন্তু কালো টাকা বিতরণকারীদের ধরতে ব্যর্থ হয় তারা, দুএকজনকে ধরে,ফলো আপ হয়না। এটা নিশ্চয় তাদেরো প্রশিক্ষণের অভাবজনিত।দক্ষতা থাকলে ঐ ধৃত একজন আসামীকে ধরেই কালো টাকা কোন প্রার্থী বিলাচ্ছে তার পরিচয় জানা যায়।সিইসি তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে অবসরে যাচ্ছেন। কিন্তু তিনি নিশ্চয়ই উপলব্ধি করেছেন ২০০৮ এর নির্বাচন থেকে কুসিকে পর্যন্ত কালো টাকার ছড়াছড়ি হয়েছে, নির্বাচন কর্মকর্তারা ধরতে পারেননি। অবশ্যই দক্ষতার অভাব।

আর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আসলেই নির্বাচনের সময় নাশকতা ছাড়া আর কোন বিষয়ে কোন খোঁজ রাখে বলে মনে হয়না। নির্বাচনে কালোটাকার সংস্কৃতি আটকাতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও ব্যর্থ।যে কারণে কামাল মজুমদার ফুলের মালা গলায় নিয়ে ঘুরছে।কালো টাকার আছর ঠেকানোর মতো কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি।তাই রাজনীতি রয়ে গেল গড ফাদারের হারেমের দাসী হয়ে।

কামাল মজুমদার মিডিয়ার বিরুদ্ধে জিহাদে মণিপুরের নিষ্পাপ শিশুদের তার পক্ষে দাসবন্ধনে বাধ্য করেছেন। আবার সেই দাসপ্রথার কথা মনে পড়ে গেল। শিশুদের এলেক্স হেইলির রুটস গল্পের দাস কুন্তাকিন্তির মতো কামাল মজুমদারের দাঁড় করিয়ে রাখা বাংলাদেশ রাজনীতির অচলায়তনের অন্ধকার স্পষ্ট করে দিল। একজন নৃত্যশিল্পীকে ছাত্রলীগ নেতাদের সাম্প্রতিক ধর্ষণের ঘটনায় ঈশরদীতে বিএনপির ৯১-৯৬ শাসনামলে ছাত্রদলের নেতাদের একজন দরিদ্র কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারার ঘটনাটি মনে পড়ে গেল। সুতরাং আজকের ছাত্রলীগের তান্ডব দেখে ২০১৪ সালে আমজনতার দোয়া নিয়ে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে ছাত্রদলের যে তান্ডব শুরু হবে তা আঁচ করা যায়।

পত্রিকার মতামত জরীপে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তায় ধস, অতএব বিএনপির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি, এক জিয়া লোকান্তরে লক্ষ্য বাঁশ ঘরে ঘরের প্রস্তুতি (রেফারেন্স ০১-০৬ হাওয়াযুগ)। এই কালো-গণতান্ত্রিক ভাবনার প্রজনন ব্যবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়ে দাস থেকে দাসতর হয়ে পড়ছি আমরা।হাইব্রিড ব্যবসায়ী, তস্কর তরুণ নেতারা এখন টিভি মাইক্রোফোন দেখলে মনিকালিভনিস্কি হয়ে হঠে।তাদের পলিটিক্যাল লিপসার্ভিস শুনে আমরা ফেসবুকে লাইক দিই অথবা কামাল মজুমদার আর খাম্বামামুনের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে আমরা কতিপয় উপায়হীন ইন্টেলেকচুয়াল কীবোর্ডমৈথুন করি। এ এক ট্র্যাজিক স্টেলমেট, থমকে যাওয়া বাংলাদেশ সভ্যতার ঘড়ির কাঁটা। অকালপ্রয়াত কবি আবুল হাসান এই উদিত দুঃখের দেশ সম্পর্কে আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ফুল ফুটবে না, ফুটবে না, ফুল আর কখোনোই ফুটবে না।

সত্যিই কী তাই, আবুল হাসান কী তবে ত্রিকালদর্শী টিরেসিয়াস! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29518032 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29518032 2012-01-07 15:51:31
এবার ভারত ঠেকাও
রাজনৈতিক নেতারা যে কোন চুক্তি সই করার সময় ফটোসেশনে পোজ দেন।কিন্তু আসল কাজ আমলাদের করতে হয়। ইন্ডিয়ান ডিপ্লোম্যাট আর বাংলাদেশী ডিপ্লোম্যাটদের মেধা-প্রজ্ঞা ও ভাষাগত দক্ষতার লড়াই চলেছে চল্লিশ বছর ধরে।সেটা কূটনৈতিক দাবা খেলা।এইখানে আমাদের ক্রিকেটটিমের মত অফুরান মেধা অথচ বালকসুলভ আচরণে আমাদের ডিপ্লোম্যাট টিমটিকে বারবার হেরে যেতে হয় নেগোসিয়েশন টেবিলে।বাংলাদেশ-ভারত ডিপ্লোম্যাটদের ইন্টেলেকচুয়াল ও ভাষাগত দক্ষতার পার্থক্য বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট দলের পার্থক্যের মতোই।

তার ওপরে নতুনদিল্লীর আমলাদের সামনে আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের প্রগলভ মনোভাব সঙ্গের ডিপ্লোম্যাটটিকে সবচেয়ে বিপদে ফেলে।উদাহরণ দিই, পশ্চিমা ঢঙ্গের পলিটিক্যাল ডিপ্লোম্যাট গওহর রিজভী যখন ভারতের পররাষ্ট্র সচিবকে বাডি বানাচ্ছেন তখন দিল্লীর দক্ষিণএশীয় গ্রাম্য আমলা ভাবছে তাহলে আর পররাষ্ট্রসচিব মিজারুল কায়েসকে ফোন করে কী লাভ গওহরদাকেই ফোন করি।
মিজারুল থেকে যাচ্ছেন অন্ধকারে।

আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপুমণিদি যেখানে ইবনে বতুতা তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যস্ত দিদিমণির ট্রাভেল আইটিনারী টাইপ করতে আর টিকেট কিনতে।এই দীপুমণি দি খুব মেধাবী এবং দক্ষ কিন্তু সম্ভবত কূটনৈতিক দাবা খেলতে জানেন না।ফলে ভারত, বাংলাদেশের গওহরদা আর দীপুমণিদিকে দেখে ধারণা করেছে বাঙ্গালী সরল রয়ে গেছে।ঝাঁসির মমতারাণীর মতো কুটিল হতে পারেনি।

যে কোন অবাঙ্গালী ভারতীয় একজন বাংলাদেশীকে দেখে প্রথম দশমিনিট এসেস করতে চেষ্টা করে এর পড়ালেখা এবং বুদ্ধির দৌড় কতটা।ভারতীয় বাঙ্গালীদের দেখেও অবাঙ্গালীরা সেই একি কাজ করে।দিল্লী জানে কলকাতা ও ঢাকার বাঙ্গালীরা অসীম সৃজনশীল এবং আত্মার আত্মীয়।

তাই মমতার সিদ্ধান্তহীনতার সুযোগে কলকাতা-ঢাকার মানসিক ব্যবধান বাড়াতে দিল্লীর সাউথব্লকের আমলারাই খেলছে।ভারতের পররাষ্ট্র সচিব যে কোন প্রয়োজনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিবকেই ফোন করে।ভারত-পাকিস্তানের আমলারাই দুদেশের সম্পর্ক বৃদ্ধিতে কাজকরে।হিন্দী-উর্দু ভাষা এতো কাছাকাছি যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও আমলারা ইংরেজী কিছুক্ষণ বলে তারপর হিন্দী-উর্দুতে আলোচনা করে।আর ইদানীং ভেতরে ভেতরে ভারত পাকিস্তান সম্পর্ক বলা যায় বেশ ভালো।

যেহেতু ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের পারমাণবিক বোমা আছে তাই তারা একে অপরকে সমীহ করে চলে। ওদিকে ওয়াশিংটন ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক ভালো রাখতে চায়, ভারতকে সঙ্গে নিয়ে চীনকে টেনশনে রাখার জন্য আর পাকিস্তানকে তালিবানদের সঙ্গে সমঝোতা আলোচনায় ব্যবহার করার জন্য।বাংলাদেশ সেই অর্থে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। আছে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান।

ভারতের আমলারা আড্ডায় পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে হাসি তামাশা করে পাকিস্তানের আমলাদের সামনে।আর পাকিস্তানের আমলারা বালুচিস্তান নিয়ে হাসি ঠাট্টা করে।কিন্তু যে কোন কারণেই বাংলাদেশ নিয়ে উভয়ের বেশ মনোকষ্ট।কারণ বাংলাদেশ রেডিমেড গার্মেন্টস সেক্টরে ভারত-পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে,জাতিসঙ্ঘের শতাব্দীর লক্ষ্য অর্জনে ভারত-পাকিস্তানের আগে,বিনিয়োগ অভিলক্ষ্য হিসেবে আকর্ষণীয়।পর্যটনের সম্ভাবনা বাংলাদেশের অফুরান। ভারত-পাকিস্তানের আমলাদের কাছে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম,সুন্দরবন পরিচিত।গত চল্লিশ বছরে যতবার দিল্লী-ইসলামাবাদের আমলারা ঢাকা এসেছে একটা সুন্দর জায়গা অন্তত দেখে গেছে। ভারত এবং পাকিস্তানের আমলামহলে অমর্ত্যসেনের বাংলাদেশ,শ্রীলংকা,নেপাল,ভুটানের সামাজিক সূচকে এগিয়ে থাকার মূল্যায়ন শুনে মোটামুটি একটা স্তব্ধতা বিরাজ করছে।ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়িত হলে তথ্যপ্রযুক্তির আউটসোর্সিং বাণিজ্যে বাংলাদেশ ভারতের মনোপলি কেড়ে নেবে।

বাংলাদেশের ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাটদের এখন দক্ষতা ব্যবহারের সুযোগ দিতে হবে মুক্তভাবে।ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে ফোনালাপ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিবের হতে হবে।দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি মানুষ জীনগতভাবে এতো স্ট্যাটাস সচেতন যে কূটনৈতিক সম্পর্কেও দিল্লীর দাদাগিরি সামলাতে মনমোহন সিং ঠিক যতটুকু হাসেন,উনার সামনে শেখ হাসিনার ঠিক সে ততটুকু হাসা দরকার।বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীর ছবি গুলোতে দেখবেন দুজনের হাসির মাত্রা একি।

পেশাদার ডিপ্লোম্যাটদের এটা প্রশিক্ষণের অন্তর্ভুক্ত।বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ায় ওবামার হাসি অচল।তাই ভারতের সঙ্গে মেলামেশায় শেখ হাসিনা,গওহর রিজভী আর দীপুমণির হাসিই অনেকটা কাল হয়েছে।বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আবুল হোসেনের হাসি যেমন কাল হয়েছে।

ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ যে পানি বা বানিজ্য-সুবিধা পেয়েছে তা অবশ্য শেখ হাসিনার হাসি কূটনীতি সম্বল করে। খালেদা জিয়া কেবল গম্ভীরভাবে দিল্লীর কাছে চারটা চিঠি লিখেছেন।তারমানে আওয়ামী লীগ ঝুলাঝুলি করে অন্তত গঙ্গার পানি এনেছে, ছিটমহলের অবরুদ্ধ মানুষগুলোকে মুক্তি দিয়েছে।পরিবর্তে ট্রান্সশিপমেন্টের সুযোগ দিয়েছে। বিএনপির সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রীও হাসতে হাসতে দিল্লীকে চারটা চিঠি লিখেছেন।এখন টিপাইমুখবিরোধী আন্দোলনে কুম্ভিরাশ্রু বর্ষণ করছেন খালেদা জিয়া।আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভারতে গিয়ে হাসতে হাসতে তিস্তা-নদীর পানির দাবীটি তুলতে ভুলে গিয়েছিলেন। ঢাকা এয়ারপোর্টে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলে আবার হেসে বলছিলেন, মনে ছিলো না।

আসলে দলীয়করণের ফাঁদে পড়ে আমরা ঠিক লোকগুলোকে ভারতের সঙ্গে দূতিয়ালীতে ব্যবহার করতে পারিনি। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য,শাহরিয়ার কবির,সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত,শফিক রেহমান এসব লোকের কূটনৈতিক ট্যালেন্ট ব্যবহার করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।গওহর রিজভী মার্কিন লবিস্ট হিসেবে অবশ্যই ভালো।কিন্তু দিল্লীতে পশ্চিমা নিওলিবেরেল আচরণের কোন মূল্য নেই। চাণক্যপুরীতে কৌটিল্যের জয়জয়াকার।দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঙ্গে একটি দুইপক্ষীয় বৈঠকে ভারতীয় আমলারা তার যুক্তিতর্ক শুনে হা হয়ে গিয়েছিল।শাহরিয়ার কবিরের ভারতের বাঁধনির্মাণবিরোধী নেতাদের সঙ্গে এতো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক যে তথ্য উপাত্ত পেতে উনার যৌথজরীপের দরকার নাই।সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নিজেই একজন প্রজ্ঞাবান কৌটিল্য।আর বাংলাদেশের সবচেয়ে কুটিল লোক শফিক রেহমান ভারতীয় কুটিল জোঁকের মুখে নুনের মতো।

ওপরে ওপরে গওহর রিজভী আর দিপুমণি হাসতে থাকুন ভেতরে ভেতরে উল্লিখিত মেধাবী বাঙ্গালীদের ভারতের সঙ্গে দেনদরবারে ব্যবহার করা প্রয়োজন।কারণ ভারতের জলরাক্ষস হয়ে ওঠা ঠেকাতে পারমাণবিক বোমা বাংলাদেশের নেই, কিন্তু আমাদের মেধার বোমা আছে।নিজেদের মধ্যে আমরা বিভাজিত হতে পারি কিন্তু পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা মুক্তরাষ্ট্র হয়েছি, ভাতের অধিকার নিশ্চিত করেছি।এখন পানির অধিকার আদায়ের জন্য ভারতের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আরেক মুক্তিযুদ্ধ লড়তে হবে।এলড়াই অস্ত্রের নয়, ঐক্যের ও মেধার লড়াই।ষোলকোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে ঐক্যের হাতুড়ি দিয়ে টিপাইমুখ বাঁধ ভেঙ্গে দেয়া যায়।ভারতকে বুঝতে হবে সাতবোন রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদ ঠেকাতে বাংলাদেশের সাহায্য প্রয়োজন।আর সাহায্য একমুখী হয়না।পানি দিলে তবেই সাহায্য, একপেশে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বন্ধ না হলে নো ট্রানজিট।

পাকিস্তানের দখলদার সেনাবাহিনীর গণহত্যায় ৩০ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল, ভারতের সঙ্গে পানিযুদ্ধে মৃতের সংখ্যা ৩০ লাখ ছোঁবার আগেই এ যুদ্ধে জিততে হবে।৭১ এর সাদাকালো ছবিতে পাকিস্তানের গণহত্যার ছবি আমরা দেখি, ২০১১ এর রঙ্গীন ছবিতে আর্সেনিকে আক্রান্ত মানুষ ,বানভাসী মৃতদেহ, ক্ষরায় মরা কৃষক আর মঙ্গার মানুষের মুখ,সীমান্তে ঝুলে থাকা ফালানীর লাশ জলরাক্ষস ভারতের চল্লিশ বছর ধরে চলমান হেজিমোনি আর জলযুদ্ধের পরিণতি।এতো ৭১এর রাক্ষস পাকিস্তানের মতোই ভারতের সিসটেম্যাটিক নিধনযজ্ঞ,মানবাধিকার লঙ্ঘন।আমরাতো ৭১এর মতো অসহায় নই।বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কচলাকচলি কমিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভারতকে মানবাধিকার লঙ্ঘনে বাধা দেবে,নতুন দিল্লীর সঙ্গে কূটনীতিতে ঋজুতার পরিচয় দেবে এটাই আমজনতার প্রত্যাশা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29515465 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29515465 2012-01-03 16:39:07
দলীয় পরিচয় সম্পদ,পেশী ও স্ট্যাটাস অর্জনের কামসূত্র
শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সরকারী চাকুরীর অবসরের বয়েস পেরিয়ে গেলেও বঙ্গবন্ধু এবং জিয়ার আইকন সামনে রেখে ডিভাইড এন্ড রুলের বস্তাপচা ঔপনিবেশিক ফর্মূলা হাতে নিয়ে পালাকরে উপর্যুপরি বাংলাদেশ শাসন করে চলেছেন।

রাজনীতি ছিল সৎ দেশ সেবার মন্ত্র। শেরেবাংলা,সুহরোয়ার্দী, ভাসানী,বঙ্গবন্ধু,তাজউদ্দীনের সাদাকালো ছবি সম্ভবত বাংলাদেশে সৎ রাজনীতির শেষ চিহ্ন।তারপর বাংলাদেশের সরল জনপদগুলোর প্রান্তিক মানুষের ভোট কিনে নিতে এরশাদ,খালেদা জিয়া অতঃপর শেখ হাসিনা বণিকের মানদন্ডকে রাজদন্ডে পৌঁছে দিলেন।

রাজনীতি এখন পুরোপুরি ব্যবসায়ীদের সাইড ব্যবসা।ফেল কড়ি মাখো তেল,সংসদ মুজরার টিকেট বিক্রি করেন খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা।সেখানে একদল তরুণ ব্যবসায়ী সাংসদ হয়ে ছিপ ফেলে বসে থাকে। আর পঙ্গু ছাত্র-রাজনীতি থেকে আসা কয়েকজন সাংসদ খিস্তি খেউর করে।একদল লিলিপুটিয়ান মুজিব কোট পরে ইতিহাসের উপাত্ত না দিয়ে কেবল বিশেষণ দিয়ে জাতির জনকের স্তুতি করতে থাকে অদৃশ্য সাবানে হাত কচলাতে কচলাতে।অন্যদল ব্লেফুসকিডিয়ান সাফারী পরে বঙ্গবন্ধুর সুকৃতির পর্বতে ঢিল ছুঁড়তে থাকে।এই করে চোখের সামনে জাতির দুই দশক তিক্ত করে চলেছে বিএনপি এবং আওয়ামীলীগের অদক্ষ শাসন-শোষণ-ভাষণ।আমজনতা যেন শেখ হাসিনা আর খালেদা জিয়ার বাজনা থামলে বসবো কোথায় খেলার ইডিয়ট দর্শক।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এ খেলার শেষ কোথায়।খুব আশা করছি যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদন্ড দুবছরে কার্যকর হবে।কিন্তু তারপর?শেখ হাসিনা ইস্যুহীন আর খালেদা জিয়া টিস্যুহীন হয়ে পড়বেন।তখন মানুষ পরিষ্কারভাবে বুঝে যাবে আসলে রাষ্ট্র চালানোর ন্যুনতম সামর্থ্য ছাড়াই তারা শীর্ষ পর্যায়ে চাকরী করলেন।প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দুবার,বিরোধীমন্ত্রী হিসেবে দুবার সর্বোচ্চ বেতন-ভাতা নিয়েছেন এরা।

কৃষক-শ্রমিক-আমজনতা মুখে রক্ত তুলে পরিশ্রম করে অনাহারে-শীতের কামড়ে বিশীর্ণ হয়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানগুলো তৈরী করছেন।সেই পরিসংখ্যান দেখিয়ে শেখ হাসিনা অধ্যাপক ইউনুসের সঙ্গে নোবেল দৌড়ে নিমগ্ন।আর খালেদা হাসিনা প্রশাসনের ভুলত্রুটির পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাজনীতি ব্যবসার কিংবদন্তী তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে উদ্যত।দুটো পরিবারের খেয়ালখুশীর জলসাঘর আজকের বাংলাদেশ।

রাষ্ট্রপরিচালনায় প্রফেশনালিজমের কোন বিকল্প নেই।মন্ত্রীরা ম্যানেজার।তাদের ব্যবস্থাপনার দক্ষতার ওপর নির্ভর করে জনসেবার মান,বাজারদর,বিদ্যুত,চিকিতসা,শিক্ষা,যোগাযোগব্যবস্থা,
আইনশৃংখলা পরিস্থিতি।সিঙ্গাপুরের মন্ত্রীদের ব্যবস্থাপনা ভালো। কারণ প্রত্যেক মন্ত্রী তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে এক একজন বিশেষজ্ঞ।আর বাংলাদেশে কালোটাকা দিয়ে মন্ত্রীর পদ কিনে ব্যবসায়ীরা গণতন্ত্রের পিঠে সওয়ার হয়ে দুর্নীতির লাইসেন্স নিয়ে নেয়।দক্ষতাতো দূরের কথা মন্ত্রীদের দুর্নীতির কামড়ে বাংলাদেশ ধুঁকছে।

গত চল্লিশ বছরে আমরা জাতিগত সততার পরিচয় দিতে পারিনি।দুর্নীতির প্লেগে সমাজ ক্রমশ বিলীয়মান।সাফল্যের সূচক বাড়ী-গাড়ী-বিলাসিতায় আত্মাহুতি দিয়ে বাঙ্গালী আত্মপরিচয় আজ সংশয়াপন্ন।আপনি কি বিএনপি? নাকি আওয়ামী লীগ?এই দলীয় পরিচয় সম্পদ,পেশী ও স্ট্যাটাস অর্জনের কামসূত্র।এর বাইরের আমজনতা হচ্ছে শাসিত,বিড়ম্বিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার লিমন কিংবা কাদের অথবা মীরের সরাইয়ের দুর্ঘটনায় নিহত শিশু,কেবলার চরে নিহত তরুণ,সিলেটে বাসের আগুণে পোড়া বৃদ্ধ,কিংবা বুয়েটের মেধাবী নির্দলীয় ছাত্র যে ছাত্রলীগের ক্যাডারদের নির্যাতনে শিকার,অথবা বিএনপির সাম্প্রদায়িকতার আগুণে পোড়া হিন্দুপরিবার অথবা জঙ্গী বাংলাভাইদের নির্যাতনের শিকার বাগমারার অসহায় গ্রামবাসী।একি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ নাকি বিষাদসিন্ধু।

ব্লু ব্যান্ড কল লিলিপুটিয়ান আর ব্লেফুসকিডিয়ানদের ক্ষমতার বর্বর সংঘর্ষের মাঝখানে দাঁড়িয়ে অহিংস ঐক্যের ডাক দিয়েছে।

মাহী বলেছেন নীল রঙ আকাশ কিংবা সমুদ্রের উদারতার প্রতীক।এই মাহী বিএনপির এমপি থাকাকালে তার এলাকায় বিরোধী দলের নেত্রী শেখ হাসিনার জন্য তোরণ বানিয়েছিলেন।এই সুরাজনীতির চর্চা না হলে দলীয় সংকীর্ণতার অচলায়নে বসে আর কত রক্তের সাংগ্রাই খেলতে চান খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা?

চল্লিশ বছর ধরে অতীত নিয়ে কচলাকচলি করে বাংলাদেশ সামনে এগোতে পারেনি।পেছনের দিকে তাকিয়ে হাঁটতে গিয়ে বারবার ম্যানহোলে পড়েছে রাষ্ট্রের উন্নয়ন।ষোলকোটি মানুষের জন্য সুশাসন বা সুসরকার উপহার দিতে গেলে প্রথমে সুরাজনীতির প্রচলন করতে হবে।আওয়ামী লীগ,বিএনপি,জামাত,জাতীয় পার্টির কাদা ও কুতসা ছোড়াছুড়ির কলতলা রাজনীতি দিয়ে এ ফিউচারিস্টিক গ্লোবাল ভিলেজে টিকে থাকা খুব বেশীদিন সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঋজু,আধুনিক, অসাম্প্রদায়িক ও আগামীমনস্ক তরুণ সমাজ দুই দলীয় টেণ্ডার রাজনীতির কাদাকুস্তিটি আর দেখতে চায়না।তারেকের হাওয়া বাঁশ,আবুল হোসেনের সাঁকো বাঁশ, বাংলাদেশ দুর্নীতির এই বাঁশ সংস্কৃতিতে ক্ষত-বিক্ষত।বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সৎ মানুষ দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতির হাঁটুপানির জলদস্যুর অত্যাচারে অতিষ্ট।এরা যেন সেই বৃটিশ-পাকিস্তানের বর্গীর মতো।জনসম্পদ লুন্ঠন করে ঝাঁঝরা করে দিচ্ছে বাংলাদেশের লালসবুজ বুক।

আশার কথা, বাংলাদেশের তরুণপ্রজন্ম রাজনীতি সচেতন।তরুণরা রাজনীতিকে ঘৃণা না করে দুর্নীতির কুষ্ঠে আক্রান্ত রাজনীতিবিদদের ঘৃণা করবে।বাঙ্গালীর রাজনৈতিক মানসপটে বঙ্গবন্ধু বা তাজউদ্দীনের সেই সৎ রাজনীতির সাদাকালো ছবিটি স্থায়ী আসন করে নেবে এরকম একটি আশা বুকে নিয়েই বাংলাদেশপ্রেমীরা সংঘবদ্ধ হয়েছে।নানামতের ও পথের প্রবীণ সৎ মানুষেরা টেলিভীষণের টকশোর প্যাচাল শুনে যখন সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত তখন বাংলাদেশ বাঁচাতে পারে বাংলাদেশপন্থী জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ তরুণ।যে সব তরুণের হাতে রাজনৈতিক বা ধর্মব্যবসার রক্তের দাগ নেই,যারা সৎ পিতার অন্নে লালিত হয়েছে,যারা রাজনৈতিক ক্যাডারদের চোখরাঙ্গানী দেখে ঘরে ফিরে রবীন্দ্রসংগীত শোনেন বা মৃত্যুপরবর্তী ভাবনায় জনারণ্যে একা থাকেন, দেশের মাটির ঋণ শোধের সুযোগ খোঁজেন,ব্লু ব্যান্ড কল তাদের দেশ ভাবনাগত সমানুভূতির প্লাটফর্ম।

ব্লু ব্যান্ড কলের গ্রুপ মেম্বরের সংখ্যা এরিমাঝে ২৭ হাজার পেরিয়েছে।ব্লু ব্যান্ড কলের দুরন্ত সহিসেরা ফেসবুকের ওয়ালে দেশ ও রাজনীতি নিয়ে কথা বলছে।সভ্যতার ভিত্তিই হচ্ছে সংলাপ।এই নিরন্তর সংলাপে চিন্তার সিনথেসিস এবং এন্টিথিসিস আশা জাগানিয়া।ব্লু ব্যান্ড কলের ভার্চুয়াল বিতর্কটি খুব জরুরী আমাদের বিকল্পভাবনাকে ঐক্যবদ্ধ করতে।বাঙ্গালী রেনেসাঁর দ্যুতি দেখতে চাই ব্লু ব্যান্ড কলের ভার্চুয়াল পার্লামেন্টে।সংশয়-গুজব-পরচর্চা-পরনিন্দা-কুসংস্কার এগুলো আমরা আর দেখতে চাইনা এই ভার্চুয়াল পার্লামেন্টে। কারণ লুইকানের ইটপাথরের অচল পার্লামেন্টের কাদা ব্লুব্যান্ডকল ভার্চুয়াল পার্লামেন্টে দেখতে চাইনা।দেখতে চাই দেশ গড়ার প্রত্যয় ও বিকল্প পরিকল্পনা।

মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ ও দুইলাখ নির্যাতিতা বীরাঙ্গনার কাছে বঙ্গবন্ধুর অঙ্গীকার সোনার বাংলা গড়ার কাজটি এবার একবিংশের তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের।একবিংশের তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে জলরাক্ষস ভারতের মানবাধিকার বিরোধী জলযুদ্ধের বিরুদ্ধে।ক্ষমতার ফেনসিডিলে আসক্ত দলীয় তরুণেরা জানেনা বাংলাদেশ ভেতরে বাইরে কতটা বিপর্যস্ত।পাকিস্তান এবং ভারতের গোয়েন্দারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সক্রিয়।একদিকে জঙ্গীবাদ অন্যদিকে জল আগ্রাসন।মাঝখানে ক্ষমতা দখলের দুই দলীয় রেসলিং।এ এক বিশৃংখল পরিস্থিতি।এই মুহূর্তে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নবায়ন খুব জরুরী।সেই নবায়ন একমাত্র সম্ভব বাংলাদেশ পন্থী, উদা্র, গণতন্ত্রমনা তারুণ্যের সুরাজনীতিতে অভিষেকের মাধ্যমে।

ব্লু ব্যান্ড কল সেই আমজনতামঞ্চ যেখানে সাফল্যের সংজ্ঞা সততা,মেধা আর যোগ্যতার মাপকাঠিতে নির্ধারিত।সমাজ-রাজনৈতিক আন্দোলনে ব্লু ব্যান্ড কল দুর্নীতির বিষে আক্রান্ত সমাজের নীলকন্ঠ চিতকার।এ হচ্ছে আত্মকেন্দ্রিকতার বিপরীতে সামাজিক সুবিচারের জন্য চিতকার।এহচ্ছে দলীয় সহিংসতার বিপরীতে আমজনতার অহিংস চেতনার দেয়াল,এহচ্ছে কতিপয়তন্ত্রের বিরুদ্ধে আমজনতাতন্ত্রের চূড়ান্ত লড়াই।

মধ্যবিত্ত জাগছে।টিপাইমুখের প্লাবন ঘরের জানালা দিয়ে ঢুকবার আগেই,আকন্ঠ লুণ্ঠনের ভ্যাম্পায়ার রাজনীতির কেউটে সাপ ঘরের জানালা বেয়ে ভেতরে ঢোকার আগেই মধ্যবিত্তকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।বিত্তহীন সমাজকে সঙ্গে নিয়ে দুর্নীতির বাস্তিল দুর্গের পতন ঘটাতে ২০১২ তারুণ্য এবার শান্তিপূর্ণভাবে পথে নামবে।চলুন এই শীতে একজন বিত্তহীন বন্ধুকে গরম কাপড় উপহার দিয়ে সামাজিক সুবিচারের গণমিছিলটি তৈরী করি।একটি অসাম্প্রদায়িক সৎ মানুষের গণমিছিল এইমুহূর্তে জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে।বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক।জয় বাংলা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29514334 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29514334 2012-01-01 20:32:19
দ্য বার্ণিং এগারসিন্দুর এক্সপ্রেস
স্থানীয় সরকার প্রশাসনে সুকৃতির জন্য দুবার গোল্ড মেডেল পেয়েছেন লোকমান।এই সরকার আওয়ামী লীগের লোকমানের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে আমরা আমজনতা কী রকম নিরাপদ আছি তার প্রমাণ পুড়ে যাওয়া এগারসিন্দুর। ঈদে ঘরমুখী আমজনতার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার।

আওয়ামী লীগের নেতা নিহত হলে জনগণের রক্ত পানি করে কেনা ট্রেন পুড়িয়ে ফেলতে হবে? এ কেমন রাজনৈতিক শিক্ষা। লোকমান দেশপ্রেমিক ছিলেন, কিন্তু তার মৃত্যুতে দিশেহারা লীগ কর্মীরা দেশদ্রোহীর মতো আচরণ করেছে আমজনতার জীবন ও সম্পদ বিপন্ন করে।

মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা এই হত্যাকান্ড চালিয়েছে। ফলে হত্যাকান্ডের হোতাদের খুঁজে বের করতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হবে।এই হত্যাকান্ডের কারণ জানা যায়নি। তবে দলীয় কোন্দলের জের হতে পারে এই হত্যাকান্ডের কারণ। নরসিংদীর ছাত্রলীগ ও লোকমানের আত্মীয়দের বয়ান থেকে এরকম একটি অনুমান করা যায়।আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক মন্ত্রী্র দিকে অভিযোগের আঙ্গুল উঠেছে দলীয় কর্মীদের মাঝ থেকেই। এত অল্প বয়েসে লোকমান জনপ্রিয় নেতা হয়ে উঠেছেন এতে আওয়ামী লীগের আদু ভাই রাজনীতিবিদদের চক্ষুশূল হতে পারেন তিনি। তদন্তের আগে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে পুলিশ গভীর রাতে বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকনকে তুলে নিয়ে গেছে। খোকন যেহেতু ঐ এলাকার বিরোধী দলীয় নেতা প্রাথমিক সন্দেহের তালিকায় তিনিও থাকতে পারেন। তবে খোকনের শত্রুতা স্থানীয় এক মন্ত্রী্র সঙ্গে থাকতে পারে। নরসিংদীর তরুণ মেয়রের সঙ্গে খোকনের শত্রুতার কোন কারণ থাকতে পারে কিনা পুলিশ নিশ্চয়ই খুঁজে বের করতে পারবে।

কিন্তু খোকনের মতো একজন সিনিয়র রাজনীতিবিদকে গভীর রাতে তুলে না নিয়ে গিয়ে সম্ভবত তাকে ডেকে পাঠালেই উনি পুলিশের সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। অন্যদিকে অভিযোগের আঙ্গুল একজন মন্ত্রীর দিকে থাকলেও তিনি এখনো অধরা। এইখানে বাংলাদেশ রাজনীতির প্রতিহিংসা পরায়ণতার মিথটি আরো পোক্ত হলো।

শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জে দেখেছেন কীভাবে শামীম ওসমান যুগের অবসান ঘটে আইভী এগিয়ে গেল। নিহত লোকমান ছিলেন আরেকজন আইভী। আমজনতার নেতা।সুতরাং আওয়ামী লীগের তরুণ আমজনতার নেতাদের শত্রু আওয়ামী লীগের গডফাদার আদু ভাইয়েরা এটা হাসিনা যত তাড়াতাড়ি বোঝেন তাতেই মঙ্গল।

খোকন ডাকসুর সাবেক জিএস ও সাবেক সাংসদ। তাকে অন্যায়ভাবে হয়রানি করা হলে বিএনপির জনপ্রিয়তা বাড়বে। শত্রুতার সবগুলো ফ্রন্ট ওপেন করে বাংলাদেশের কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ জেতা অসম্ভব।

বিএনপি যেভাবে বলে এসেছে দেশে গ্যাস-বিদ্যুত-পানি নেই আবার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। আওয়ামী লীগ লাগেনি, আমজনতাই এর উত্তর দিয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গ্যাস-বিদ্যুত-পানির কী সম্পর্ক। একিভাবে আওয়ামী লীগ যেকোন নাশকতার সঙ্গে যুদ্ধাপরাধী বিচারের যোগসূত্র খুঁজলে তা হালে পানি পাবে না। বিচার চলছে ট্রাইবুনালে, জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে লড়ছে র্যােব-পুলিশ। আওয়ামী লীগের কাজ দেশ চালানো, সেই কাজে মনোনিবেশ করা জরুরী। দেশের নানা জায়গায় চোরাগুপ্ত হামলা হচ্ছে। এই হামলাকারীদের খুঁজে বের করার কাজটি হোম মিনিস্ট্রি করতে ব্যর্থ হচ্ছে।অধিকাংশ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত হচ্ছে না।

বাংলাদেশের নির্বোধ রাজনীতির বলি লোকমান, এগারসিন্ধুর ট্রেন, বিপন্ন ট্রেন যাত্রীরা।

আর লোকমান হোসেন অজাতশত্রু এক দিনবদলের নেতা। তার অপরাধ তিনি সৎ ও জনপ্রিয়। তার মৃত্যুতে দলিত পরিচ্ছন্ন কর্মীরাও বিক্ষোভ করেছে যারা কোন দলের নয়। পুরো নরসিংদী জুড়ে ছড়িয়ে আছে নরসিংদীর এই সোনার ছেলের জনপ্রিয়তার চিহ্ন।মানুষের ভালোবাসাই তার শত্রু হলো।কারণ তার উত্থানে দিশেহারা রাজনীতির অচল মালেরা।

নরসিংদীর তরুণেরা ঠিকই বুঝতে পারছে সারাদেশে দুটো লড়াই চলছে। এক। জামাত-বিএনপির জঙ্গী লুটেরাদের বিরুদ্ধে লড়াই। দুই।আওয়ামী লীগের গডফাদারদের বিরুদ্ধে লড়াই। ছাত্রলীগের কর্মীদের ক্ষোভের আগুণের তাপ আমরা অনুভব করতে পারি। রাজনীতির গডফাদার লুটেরাদের গাড়ী-বাড়ী পুড়িয়ে দাও। কেন পোড়ালে এগারসিন্দুর এক্সপ্রেস। রাষ্ট্রের সম্পদ পোড়ানো মানে নিজেকে পোড়ানো।

প্রিয় সাহারা খাতুন ব্লেম গেমে সময় নষ্ট না করে, সত্যিকার অপরাধীকে খুঁজে বের করুন। সে খোকনই হোক আর ঐ আওয়ামী মন্ত্রীই হোক বা যেই হোক।

লোকমান হত্যার বিচার না হলে সোনার ছেলেরা দিন বদলে দিতে আর রাজনীতিতে আসবে না, রাজনীতি বন্দী থেকে যাবে গডফাদারের হারেমে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29477496 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29477496 2011-11-03 15:16:15
ভি ফর আইভী টেন্ডারবাজির সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের কয়টি পরিবার জড়িত?রাজনীতি ব্যবসার অন্নে যারা লালিত হচ্ছেন তারা দলীয় প্রার্থীদের ভোট দেবেন আমি নিশ্চিত। কিন্তু তাদের সংখ্যা খুব বেশী নয় সে আশা নিয়ে লিখছি।

নারায়ণগঞ্জের মেয়র পদে যে ছয়জন প্রার্থী লড়ছেন, তাদের বিতর্ক দেখলাম।বাংলাদেশ বেতার,টেলিভিশন আর বিডিনিউজটুয়েন্টিফোরডটকমের কল্যাণে নারায়ণগঞ্জের প্রত্যেকটি ভোটার এই ছয়জনকে দেখেছেন।

ধারণা করা যাচ্ছে এ লড়াই আইভী-তৈমুর শামীমের মধ্যে হতে যাচ্ছে। বিতর্কে আইভী বললেন, যে প্রতিশ্রুতি পালন করতে পারবেন শুধু সেরকম বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতিই তিনি দিতে চান। নারায়ণগঞ্জের মানুষ আইভীকে ৮বছর ব্যবস্থাপক হিসেবে দেখেছেন।তিনি সাদা মনের মানুষ এটা নারায়ণগঞ্জবাসী জানেন।

অন্যদিকে শামীম ওসমান বলিউড মানের পারফরমেন্স দেখিয়েছেন বিতর্কে। আমার মনে হয়েছে উনার যে গ্ল্যামার তা মন্ত্রী হবার মত। নারায়ণগঞ্জের সামান্য মেয়র পদটির জন্য তাকে ওভার কোয়ালিফায়েড মনে হয়েছে। তৈমুর খন্দকারও মন্ত্রী হবার মত লোক।বিতর্কে বড় বড় কথাগুলো এই দুজন হবু মন্ত্রী বলেছেন।আইভী ছোটখাট মানুষ বলেছেন কাজের কথা।

নারায়ণগঞ্জের ভোটাররা গ্ল্যামারাস শামীম, বিক্ষুব্ধ তৈমুরকে দেখে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন এদের ভবিষ্যত সরাসরি হাসিনা-খালেদার ভাগ্যের সঙ্গে জড়িত। এই দুই টপগানকে ভোট দেওয়া মানে ভোটগুলোকে অনিশ্চিত হাতে দেয়া। শামীমকে ভোট দিলে উনি দুবছরে অন্তত দেয়ালে আকাশী রঙ করে স্কাইসিটি বানিয়ে দেবেন। কিন্তু উনার হাসিনা আপা পরের নির্বাচনে হেরে গেলে শামীমকে আকাশপথে পিঙ্কসিটিতে চলে যেতে হবে।কারণ উনি টপগান। আবার তৈমুরকে ভোট দেওয়া মানে এই দুবছর খুব খারাপ কাটবে নারায়ণগঞ্জের,আর সামনে নির্বাচনে খালেদার জামায়াত-ঘনিষ্ঠতার কারণে ভরাডুবি হলে একি অবস্থা।

কিন্তু আইভীকে ভোট দেওয়া মানে মনে মনে দুই আপাই খুশী। কারণ নারীরা মনের গভীরে একজন নারীকেই বিজয়ী দেখতে চায়।এই মুহূর্তে নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি নারী ভোটার এরকমি ভাবছেন, কিন্তু বলছেন না, কারণ পুরুষ শাসিত ও রাজনৈতিক দল শাসিত সমাজে আইভীর প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানালে বিপদ হতে পারে।

নারায়ণগঞ্জের ডিজুস প্রজন্মের কাছে শামীমএর গ্ল্যামার আকর্ষণীয় মনে হয়েছে।কিন্তু মিডিয়ায় যেহেতু এদের এক্সপোজার আছে,শামীমের ইমেজ অন্তত নায়কের নয় তা তারা জানে।ইন্টারনেট প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা আইভীকে ভোট দেবে এটা আশা করা যায়।

কিন্তু দিনের পর দিন যারা একটা দলকে ভোট দিয়েছেন, তাদের অবস্থা গলায় ঘন্টা বাঁধা খরগোসের মত।অভ্যাসের দাস হয়ে পড়েছেন তারা। উনারা এইবার রুচি পাল্টাতে পারেন।নৌকা-ধানের শীষ মার্কার ভোট তো এটা নয়। এমনতো না শামীম হারলে হাসিনা গদিচ্যুত হবেন বা তৈমুর জিতলে খালেদা গদিনসীন হবেন।এই নির্বাচন বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনীতিতে আঘাত হানতে পারে আইভী জিতলে।কারণ হাসিনা বুঝবেন ভাল সাদা ইমেজের প্রার্থী ছাড়া জেতা কঠিন।খালেদা হাসিনা উভয়েই সামনে সংসদ নির্বাচনে আইভীর মত সহজ সরল ভালো মানুষদের টিকেট দেবেন।

এই নির্বাচনে যদি শামীম বা তৈমুর জিতে যান, তাহলে সামনে সংসদ নির্বাচনে টপগানরা টিকেট কিনবেন। নারায়ণগঞ্জের মানুষ যদি অন্ধের মত মার্কা খুঁজে, মানুষ না খুঁজে তাহলে গণতন্ত্র হেরে যাবে।ভবিষ্যতের সাংসদরা আইভীর মত আমজনতার মুখ হয়ে উঠবে যদি নারায়ণগঞ্জের মানুষ হাসিনা এবং খালেদাকে শোধরাতে আইভীকে ভোট দেন।

নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী শামীম, তৈমুর দুজনের বিরুদ্ধেই মামলা আছে, আইভীর ক্লিন ইমেজ।তাহলে আর সিদ্ধান্ত নিতে ভুল হবার কথা কী!

নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী সমর্থকদের বোঝা উচিত শামীম ওসমানের ইমেজ অন ক্যামেরা রেকর্ডকৃত। কবরী সারোয়ারের দিকে তেড়ে আসার যে ভঙ্গীটি সেটি না বদলানো পর্যন্ত উনার গ্রহণযোগ্যতা তৈরী হবেনা। সময় বদলেছে, সে কারণে উনি বিতর্ক অনুষ্ঠানে যে রকম ভদ্র আচরণ করেছেন এটা দুবছর নারায়ণগঞ্জের মানুষের সঙ্গে চর্চা করলে উনার গ্রহণযোগ্যতা ফিরে আসবে।

শামীম-তৈমুর-আইভীর মাঝ থেকে আইভীকে বেছে নিতে কাজে আসতে পারে বিএনপির ভোটদাতারা। তৈমুর একবিংশের নগরপিতা হবার জন্য প্রস্তুত নন। নারায়ণগঞ্জে বিএনপির এর চেয়ে ভালো প্রার্থী থাকা উচিত ছিল। চট্টগ্রামের বিএনপির মেয়র প্রার্থীর ক্লিন ইমেজের কারণে উনি জিতেছিলেন।

আওয়ামী লীগের ওপর বিরক্ত আমজনতার ভোট আইভীর পক্ষে যাবে বলেই মনে হচ্ছে।নারায়ণগঞ্জের মানুষ আইভীকে জেতাতে পারলে সারা দেশের মানুষ খুশী হবে। দেখবে সততার জয় হয়েছে।

আর ধর্ম ব্যবসায়ীরা বিএনপিতে ভোট না দিয়ে আইভীকে ভোট দেওয়া উচিত। আইভী হেরে গেলে মনে হবে গড এখন কালো টাকা এবং পেশীশক্তির পক্ষে কাজ করছেন।ধর্মের ওপর আস্থা চলে গেলে আর ব্যবসা হবে কিভাবে?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29473171 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29473171 2011-10-27 14:54:01
অপদার্থ মন্ত্রীদের বিদায় করুন
অভিজ্ঞ নেতাদের পাশ কাটিয়ে নতুন মুখের হাইব্রিড নেতাদের মন্ত্রী করে শেখ হাসিনা যে চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন বা এক্সপেরিমেন্ট করেছিলেন তা অনেকাংশে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিদিন সংবাদপত্রের পাতায় চোখ রাখলে তা অনুধাবন করা যায়।জনপ্রিয়তার ঢেউয়ে কলাগাছ শুধু সাংসদ হয়নি মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছে। কথায় এবং কাজে কলাগাছেরা নিজেদের কলাগাছ প্রমাণে সফল হয়েছে। সাধারণ মানুষ জীবন দিয়ে উপলব্ধি করছে শুধু মার্কা দেখে ভোট দিলে তার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়াটি কীরকম হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের আড়াই বছরের কর্মকান্ড পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় নেতা তৈরীতে দলটি কিভাবে ব্যর্থ হয়েছে।কথায় এবং কাজে কোন ক্ষেত্রেই এই নতুন নেতারা সফল হননি। বরং বেদনা এবং কৌতুক এই দুয়ের জোগান দিয়ে চলেছেন তারা জোরেশোরে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভোট কিনতে হয়।বঙ্গবন্ধু বা তাজউদ্দিনের মতো নেতাদের ভোট কিনতে হয়নি। কিন্তু জিয়াউর রহমান পলিটিকস ডিফিকাল্ট করে ফেলায় রাজনীতিতে কালোটাকা বড় জায়গা দখল করেছে। এরশাদ রাজনৈতিক দুর্বত্তায়নকে রীতিমত প্রাতিষ্ঠানিক চেহারা দিয়ে ফেলেছেন। আর যুদ্ধাপরাধীদের দল জামাত শিবির ধর্মীয় আবেগ আর টাকাপয়সা এই দুইকে পুজি করে ভোটের রাজনীতিকে আরো ডিফিকাল্ট করে ফেলেছে।

এর ফলে কোটি কোটি টাকা খরচ না করে ভোটে জেতা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান নিয়ে আলোচনায় রাজনৈতিক অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাটি না করতে চাইলেও যেহেতু সামরিক শাসকদের অপকর্মের ফলাফল আজো দৃশ্যমান; তাই জিয়া-এরশাদ-জামাতের রাজনৈতিক দুর্বত্তায়ন প্রসঙ্গটি উল্লেখ করতে হলো।রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের নিয়ে আসার ধারাটিও বিএনপি নেতা তারেক রহমানের হাতে প্রোথিত হয়েছে। এই বাস্তবতায় আওয়ামী লীগকেও ব্যবসায়ী হাইব্রিড নেতাদের নিয়ে ২০০৮ এর নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে হয়েছে।

কিন্তু ব্যবসায়ীদের অসুবিধা হলো তারা মুনাফা ছাড়া আর কোন কিছুতেই আগ্রহী নন। ফলে নির্বাচনে লগ্নি করা টাকা সুদে আসলে তুলে নিতে তারা ততপর হয়ে পড়েছেন।রাজনীতি এবং ব্যবসাকে গুলিয়ে ফেললে দেশের পরিণতি যা হবার কথা তাই হচ্ছে। ফলে একা শেখ হাসিনার পক্ষে চোরের খনিটিকে সামাল দেয়া বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিক একিরকম সমস্যায় পড়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।চোরের খনিতে একা হয়ে পড়ায়, পাকিস্তান ও মার্কিন মদতে মোশতাক এন্ড গংদের হাতে নিহত হন তিনি।তারপর বাংলাদেশ চলতে থাকে অদ্ভুত উটের পিঠে।

বর্তমান সরকারের ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার সুযোগে খালেদা জিয়া আশায় বুক বাঁধছেন।বলছেন জনগণ নাকি বিএনপির জন্য অপেক্ষা করছে। ২০০১-০৬ যে ধরনের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার নজির বিএনপি-জামাত তৈরী করেছে তাতে জনগণ যে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে না সেটা খালেদা জিয়াকে কে বোঝাবে।

এদিকে জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে এটা বুঝেও শেখ হাসিনা না বোঝার ভান করছেন। তানাহলে অনাহারী মানুষকে কম খাওয়ার উপদেশ দিয়েও বানিজ্যমন্ত্রী ফারুক এখনো পতাকা উড়িয়ে ঘুরছেন। নৌমন্ত্রী শাহজাহান, যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল কর্তব্যপালনে ব্যর্থ হয়েও এখনো মন্ত্রী। আর পুলিশের এত অপকীর্তি ধরা পড়ার পরেও সাহারা খাতুন আত্মতৃপ্তি নিয়ে বসে আছেন।গত মাসদুয়েকে যেসব ঘটনা ঘটেছে এরপরেও সংশ্লিষ্ট সেক্টরের মন্ত্রীরা কেন পদত্যাগ করেননি বা শেখ হাসিনা মন্ত্রীপরিষদের রদবদল করলেন না তা বোধগম্য নয়।

দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি,যোগাযোগ অব্যবস্থা,পুলিশী অপকর্ম, সাংসদদের সরকারী বরাদ্দ নয়ছয় মিলিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি ভয়াবহ। অথচ শেখ হাসিনা ব্যর্থ মন্ত্রীদের পারস্পরিক ব্লেমগেমের মাঝে বসে মাইক্রো ম্যানেজমেন্ট করছেন।যোগাযোগ মন্ত্রী বলছেন অর্থমন্ত্রী টাকা না দেয়ায় মহাসড়কগুলো মেরামত করা যায়নি। অর্থমন্ত্রী বলছেন টাকা দেয়া হয়েছে,যোগাযোগমন্ত্রীর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত।আর ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়ে বানিজ্যমন্ত্রী ডায়েটিং এর পরামর্শ দিচ্ছেন।সাহারা খাতুন পুলিশকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিচার বিভাগের আগ্রহে কিছু পুলিশী অপরাধের বিচার হচ্ছে।এখানে নির্বাহী বিভাগের কোন সাফল্য নেই।

রোজার মাসে আমজনতা দ্রব্যমূল্যের ঘোড়ার সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে বিপর্যস্ত। মহাসড়কগুলোর বেহাল দশার কারণে ঢাকার বাইরে ঈদ করতে যাওয়া প্রায় অসম্ভব।আর প্রতিদিন অপঘাতে মৃত্যুর খবর।এরপরেও যদি শেখ হাসিনা সজাগ না হোন, তার চারপাশে জুটে যাওয়া অপদার্থগুলোকে চিহ্নিত করে পত্রপাঠ বিদায় না করেন,তাহলে অবস্থা কী দাঁড়াবে সহজেই অনুমেয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29432135 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29432135 2011-08-14 23:08:19
আওয়ামী লীগে বিশুদ্ধি অভিযান জরুরী
জনমনে প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে, এর শেষ কোথায়?রাজনীতি আর গণতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য যদি হয় যেন তেন প্রকারেন ক্ষমতায় থাকা বা ক্ষমতায় যাওয়া,তাহলে এই গণতন্ত্রের সঙ্গে আমজনতার দেখা হয় কেবল নির্বাচনী বুথে। নিজের ক্ষমতা একবার আওয়ামী লীগের হাতে সোপর্দ করা একবার বিএনপির হাতে সোপর্দ করা, তারপর পাঁচ বছর মিডিয়ায় রাজনৈতিক রেটরিকের যাত্রাপালা দেখা।

রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য পাঁচ বছর রাজপথে কষ্ট-নির্যাতন-শুকিয়ে মরা,পাঁচবছর আরাম-আয়েসের একটি বন্দোবস্ত নব্বুইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে। কিন্তু আমজনতার কষ্ট নিরবচ্ছিন্ন ভাবেই চলছে। যে যায় লংকায়,সে হয় রাবণ। রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে যায় একি রকম।জিনিসপত্রের দাম জ্যামিতিক হারে বাড়ে,কর্মসংস্থান বাড়ে গাণিতিক হারে। প্রবৃদ্ধি নিয়ে সরকারী বনাম বেসরকারী অর্থনীতিবিদদের বচসা চলে। কিন্তু প্রবৃদ্ধির কোন সুফল জনমানুষের ভাগ্যে জুটে না।এমপি-মন্ত্রীদের সম্পদ বাড়ে,ক্ষমতা সন্নিহিত ব্যবসায়ীরাও দাও মারতে থাকে,আর জনমানুষ প্রান্তিক থেকে প্রান্তিকতর হতে থাকে।

বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় হয় প্রধান দুটি দলের একটিতে নাম লিখিয়ে ক্ষমতার হালুয়া রুটি সন্ধান অথবা সাক্ষী গোপাল হয়ে সারাজীবন কাটিয়ে দেয়া নাগরিক সমাজের অপশন। নিরপেক্ষদের অতীতে খালেদা বর্তমানে হাসিনা পাগল অথবা শিশুর মতো দুধভাত বলে গণ্য করেন।

ক্ষমতাসীন দল ক্ষমতায় টিকে থাকা আর একে দীর্ঘায়িত করার মিশনে এতো ব্যস্ত থাকে যে জনকল্যাণের বিষয়টি বক্তৃতা ছাড়া আর কোথাও ঠাঁই পায়না।রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের দেখা হয় থানায়,ভূমি অফিসে,সচিবালয়ে,হাসপাতালে। ভোগান্তি একি রকম, ঠাহর করার উপায় নেই ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ না বিএনপি। আমজনতার জমি কোন সাংসদের চোখে পড়ে গেলে ঠাহর করার উপায় নেই এটি কোন দলের সাংসদ।দলীয় ক্যাডারদের টেন্ডার সন্ত্রাসের চেহারা একি রকম।পাঁচ বছর বিএনপি, পাঁচ বছর আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রের ইজারা নিয়ে শাসন এবং শোষণের একি চরিত্র বজায় রাখে।সরকারী দল নিজেকে অপরিসীম ক্ষমতাধর ভেবে ধরাকে সরা জ্ঞান করে। আর বিরোধী দল হরতাল করে সমস্যায় জর্জরিত আমজনতার মরার ওপর খাঁড়ার ঘাঁ অব্যাহত রাখে।

কিংকর্তব্যবিমূঢ় আমজনতা জানেনা এই দুষ্টচক্র থেকে রক্ষার উপায় কী।সাম্প্রতিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সাংসদ মন্ত্রীদের মনোনীত প্রার্থীদের তারা ভোট দেয়নি।ফলে ২০০৮ এর ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যে জনসমর্থন পেয়েছিল আড়াই বছরে তা অর্ধেকে পৌঁছেছে। আওয়ামী লীগ প্লাস জাতীয় পার্টি বনাম বিএনপি প্লাস জামাত একটি সাম্যাবস্থা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিফলিত।সুতরাং আসছে আড়াই বছরে আওয়ামী লীগ তার মনোভঙ্গী না বদলালে ফলাফলের যেই লাউ সেই কদু ফিরে এসে আবার জঙ্গীবাদের পথে পা বাড়াবে বাংলাদেশ।

গত আড়াই বছরের আওয়ামী শাসনের বড় সাফল্য জঙ্গীবাদ মাথাচাড়া দিতে না পারা।জঙ্গীদের গ্রেণেড হামলা থেকে জনমানুষকে বাঁচিয়েছে মহাজোট সরকার।প্রাত্যহিক জীবনে হাজারো সমস্যায় জর্জরিত আমজনতা হয়তো অনুধাবন করতে পারেনা এটি কত বড় প্রাপ্তি।যেহেতু গ্রেণেড হামলা ছাড়া অন্যান্য সব ভোগান্তি উপস্থিত,আমজনতা আওয়ামী শাসনের কোন গুণগত তফাত চিহ্নিত করতে পারেনি।

এখন আওয়ামী লীগকে তার রুটিন কাজের বাইরে দুর্নীতির প্রতি জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে। সাংসদ-মন্ত্রীদের সম্পদ কিরকম বৃদ্ধি পেয়েছে তা নিরপেক্ষভাবে অনুধাবন করে নিজদলের দুর্নীতিবাজদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারলে আবার জনগণের আস্থার জায়গায় ফিরতে পারবে আওয়ামী লীগ। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-সাংসদদের একটি বড় অংশ পরাজিত হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে নির্বাচনে মনোনয়ন দেবার ব্যাপারেও আওয়ামী লীগকে সচেতন হতে হবে।

আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির সাংসদদের আচরণ বা কার্যকলাপে যদি গুণগত কোন পরিবর্তন দৃষ্টিগোচর না হয়, তাহলে কেনই বা আমজনতা তাদের পুননির্বাচিত করবে।সাংসদ বা মন্ত্রীর চাকরীটি পারফরমেন্স নির্ভর।এই অমোঘ সত্যিটি ক্ষমতায় বসে দেখতে না পাওয়ার একটি চল রয়েছে। কিন্তু এখন মিডিয়া যেহেতু সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে,কাজেই নিজামী যেরকম বাংলাভাই মিডিয়ার সৃষ্টি বলেছিলেন, তেমনি অরাজক পরিস্থিতির বয়ান মিডিয়ার সৃষ্টি ভেবে একি পথে পা বাড়ানো আওয়ামী লীগের জন্য আত্মঘাতী।

প্রচলিত আইনে তারেক রহমান বা কোকোর দুর্নীতির যেমন বিচার চলছে,একই ভাবে আওয়ামী লীগের অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজদের বিচার না চললে দিনবদল হবে না। আমজনতা সরকারের কাছে একটি নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গী প্রত্যাশা করে। কারণ সরকার গঠনের পর আর সেটি দলীয় থাকে না, জনগণের সরকার হয়ে পড়ে। একপেশেভাবে শুধু বিএনপির নেতাদের দুর্নীতির বিচার করলে ক্রমশঃ তারা জনগণের সহানুভূতি পেতে শুরু করবে। বিরোধী দলীয় হুইপের ওপর পুলিশি নির্যাতন ইতোমধ্যেই জনসহানুভূতি পেয়েছে।আওয়ামী লীগের উচিত হবে না এইভাবে জনসহানুভূতি পেয়ে ক্ষমতায় যেতে বিএনপিকে সাহায্য করা।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার সচেষ্ট হলে পুলিশ এবং বিচার ব্যবস্থা মানবাধিকারের পক্ষে কাজ করে। যেভাবে রুমানা মঞ্জুরের নির্যাতক সাইদ এবং ভিখারুন্নিসা স্কুলের শিশু নির্যাতক পরিমল ধর দ্রুত বিচারের অধীনে এসেছে, সাংসদ বদি বা নেতা শামীম ওসমান একিভাবে দ্রুত বিচারের অধীনে এলে সংবিধান নিয়ে ছেলেখেলা বা মিডিয়ায় লুজটক বাহাসের প্রয়োজন হবে না।মানুষ নিজের চোখে দেখতে চায় দিনবদল।আরো ভালোর প্রত্যাশা মুক্তিযুদ্ধের ও যোদ্ধার দল আওয়ামী লীগের কাছে তো থাকবেই। বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের শাসন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্যরকম পার্থক্য না থাকলে মানুষ আবার কেন তাদের ভোট দেবে? এই আত্মজিজ্ঞাসা খুব জরুরী।সমালোচকদের শত্রু ভেবে সবজায়গায় ষড়যন্ত্রের গন্ধ না শুনে, নো দাইসেলফ,নিজের দলটিকে জানুন।সাংসদ-মন্ত্রীদের এলাকার উন্নয়নে বাধ্য করুন। নইলে ক্ষমতায় গিয়ে এরশাদ যেমন দুর্নীতির মামলায় মুক্ত হয়েছেন,তারেক রহমানো একিভাবে ফুলের মালা গলায় দিয়ে দেশে ফিরবেন। সেটাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রকৃতির নিয়ম।এখনো সময় আছে আওয়ামী লীগে বিশুদ্ধি অভিযান চালানোর।যেসময় দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29409511 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29409511 2011-07-08 18:33:21
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির যাঁতাকল
সিইসি নিজেই জানেন নির্বাচন হচ্ছে জুয়াখেলা। এই জুয়ার বোর্ডে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি বিপুল অর্থ লগ্নি করে। ছোটখাট ভোট ব্যাংক থাকায় আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চেপে জাতীয় পার্টি আর বিএনপির ঘাড়ে চেপে জামায়াত জয়-পরাজয়ের সঙ্গী হয়।বলাবাহুল্য জুয়ার বোর্ডে অর্থলগ্নির ক্ষমতা আওয়ামী লীগ-বিএনপির পর কেবল জাতীয় পার্টি আর জামায়াতের আছে। বাকি সবাই ঢাল-তলোয়ারহীন নামমাত্র রাজনৈতিক দল।

নির্বাচনে ভোট বেচাকেনা এতোই সক্রিয় যে কোন নির্দলীয় একক প্রার্থীর পক্ষে ভোটে জিতে সংসদে আসা প্রায় অসম্ভব।নির্বাচন কমিশন তার সীমিত সামর্থ্য নিয়ে যতই চেষ্টা করুক না কেন, নির্বাচনে কালো টাকা আর পেশী শক্তি ঠেকানো তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।এমনকি ‘না’ ভোটের অপশন দিয়েও নির্বাচন কমিশন অযোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচনী জুয়ায় জিতে আসা ঠেকাতে পারেনি।

নির্বাচন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য নির্বাচন কমিশন ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম চালুর সাধু প্রস্তাব রেখেছেন। আওয়ামী লীগ নেত্রী যেহেতু এর প্রশংসা করেছেন, বিএনপি নেত্রী তাই বেঁকে বসেছেন।এটি যাঁতাকলের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এখানে বাকী দলগুলো কী মতামত রাখলো না রাখলো তা বিবেচনায় নেয়াও যেন সময়ের অপচয়।বিএনপির এই গোঁএর কারণে সিইসি ইভিএম চালু করতে পারবেন না তা এখনি বলে দেয়া যায়।

এতো গেল সিইসির যাঁতাকল ট্র্যাজেডী।এখন আসা যাক পুরো জাতি যে যাঁতাকলের মধ্যে পড়ে গেল সেই প্রসঙ্গে। ১৯৯৬ সালে কেয়ার টেকার সরকারের পক্ষে আওয়ামী লীগ যখন হরতাল করেছে বিএনপি তখন না বলেছিল। এখন ২০১১ সালে বিএনপি যখন কেয়ারটেকার সরকারের জন্য হরতাল করছে আওয়ামী লীগ তখন না বলছে।গত পনেরো বছরে হরতাল সংস্কৃতি একি জায়গায় রয়ে গেল।কারণ ঐ একটাই ক্ষমতার ডাইনোসর দৌড়।এই দৌড়টি এতোই জনপ্রিয় যে আগে ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক দলকে দূর থেকে চাঁদা দিয়ে নির্বাচনী জুয়া সচল রাখতো। আর এখন তারা নিজেরাই নির্বাচনের টিকেট কিনছে। রাজনীতির ব্যবসায়ীকরণের বিষয়টি এখন তুঙ্গে।আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি উভয়েই এখন টাকাওয়ালা লোকদের নমিনেশান দেয় যারা ভোট কিনতে পারবে।গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতারা তৃণমূলের কর্মীদের ভোটে জিতলেও নমিনেশান পাননি।কারণ তারা টাকাওয়ালা নন।এর পরিবর্তে নমিনেশান পেয়েছেন রাজনীতির অভিজ্ঞতাশূণ্য ব্যবসায়ীরা। আর বিএনপি ব্যবসায়ীদের সংসদে নিয়ে এসেছে ২০০১ সালেই।ফলে দৃশ্যত সংসদটি একটি জুয়ার আসরে পরিণত হয়েছে।ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী শাসনের প্রচ্ছায়া খুঁজে পাওয়া যায় শেয়ার বাজারে। শাসন যন্ত্রের সর্বত্র।

গত তিনটি সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে লক্ষ্য করা গেছে বিরোধী দল জয়ী হচ্ছে।বিশেষ করে মন্ত্রীরা ভোটে হারছেন।নির্বাচনে টাকা খরচ দুই দলই করছে। কিন্তু সরকারী দলের ব্যর্থতা যেহেতু ভোটারদের স্মৃতিতে জলজল করতে থাকে ফলে ফ্লোটিং ভোট চলে যাচ্ছে বিরোধীদলে।খুব অল্পসংখ্যক নেতাই নিজের এলাকার জনপ্রিয়তার মানদন্ডে টেকসই ভোট ব্যাংক তৈরী করতে সক্ষম হয়েছেন।

এই বড়দুই দলের যাঁতাকলে পড়ে থাকার জন্য আমজনতা নিজেও দায়ী। আমজনতার শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় নৌকা এবং ধানের শীষ পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছে।অশিক্ষা,দারিদ্র্য এবং গোল্ডফিস মেমোরী এই দুটি মার্কাকে কেবল স্মৃতিতে রাখতে পারে। ফলে গতবার ধানের শীষে ভোট দিয়ে হাওয়াভবনের বাঁশ খেয়েছি এবার তাই নৌকায় ভোট দেবো। এবার নৌকায় ভোট দিয়ে শাওনভবনের বাঁশ খাচ্ছি তাই সামনেবার ধানের শীষে ভোট দেবো।এই প্রবণতা ফলাফলে সুস্পষ্ট।‘না’ ভোটের অপশনটি বোঝার বা পড়ার ক্ষমতা প্রান্তিক ভোটারদের অনেকেরই নেই। আবার নৌকা বা ধানের শীষের মার্কার পেছনের প্রার্থীটি কে তা যাচাই করার মতো সচেতনতাও প্রান্তিক ভোটারদের মধ্যে অনুপস্থিত।ফলে কখনো যদি আওয়ামী লীগকে নৌকার পরিবর্তে কম্পিউটার বা বিএনপিকে ধানের শীষের পরিবর্তে খাম্বা মার্কায় ভোট করতে হয়,ফলাফলে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটবে। যেকোন উপনির্বাচনে এই পরীক্ষাটি করে দেখা যেতে পারে।

তাই ঢালাওভাবে বড় দুই দলের যাঁতাকলকে দোষ দিয়ে কোন লাভ নেই। আমজনতা যতদিন পর্যন্ত প্রার্থী দেখে ভোট দেওয়া না শিখবে, ততদিন পর্যন্ত সংসদ কিংবা শাসন ব্যবস্থার কোন পরিবর্তন হবে না।আবার রাজবংশের বা রাজতন্ত্রের প্রতি দলীয় আমজনতার ঝোঁক অনেকটা জীনগত।শেখ হাসিনা দলের হাল ধরার আগে পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি।বিএনপির ক্ষেত্রেও খালেদা জিয়া ছাড়া কোন ঐক্যবদ্ধতা তৈরী হয়নি। ফলে যিনি সভানেত্রী তিনিই প্রধানমন্ত্রী বা যিনি চেয়ারপারসন তিনিই বিরোধী দলীয় নেত্রী। ন্যুনতম পক্ষে সোনিয়া গান্ধীর মতো দূরে বসে থেকে মনমোহনকে দিয়ে সরকার পরিচালনা করতে বা মমতা ব্যানার্জীর মতো ভাঙ্গা গাড়িতে চড়ে ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলতে যতদিন আমরা না শিখবো; ততদিন পর্যন্ত এই যাঁতাকল থেকে মুক্তি নেই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29398166 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29398166 2011-06-17 18:17:47
ক্ষমতার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
বিগত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময় ইলেকশন এনজিনিয়ারিং এর জন্য কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন এবং সিভিল প্রশাসনকে দলীয় করণের চেষ্টায় পুরো পাঁচটা বছর নষ্ট করেছে হাওয়া ভবন।এমনকি জঙ্গীবাদের প্রসারের মাধ্যমে ভোটারদের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করতে চেষ্টা করেছে ক্ষমতাসীন তারেক-নিজামী প্রশাসন। ফলাফল সবাই দেখেছেন। নির্বাচনী পরীক্ষায় পাশ মার্কস জোটেনি তাদের। হাওয়া ভবন চেয়েছিল আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে। একুশে অগাস্ট গ্রেণেড হামলার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে হত্যার চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিয়েছিল বলে অভিযোগ আছে।ক্ষমতার চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের লোভে পড়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিএনপি।পায়ের নীচ থেকে মাটি সরে যায়।একনায়কতন্ত্রের ইউটোপিয়া বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোটিকে ধবংস করে ফেলে।দল হিসেবে বিএনপি এখনো দুর্বল।নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত নয় একেবারেই।বিরোধী দল হিসেবে কোন ভূমিকাই রাখতে না পেরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের এক অযৌক্তিক দাবী নিয়ে হাজির হয়।সেটিও ধোপে না টেকায় কী করা যায় কী করা উচিত ভাবতে ভাবতে কেয়ারটেকার সরকার ইস্যুটি তাদের হাতে ধরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সুপ্রীম কোর্টের কেয়ারটেকার সরকার সম্পর্কিত রায়ের প্রথম অংশটি মার্কার দিয়ে দাগিয়ে আবার ঐ ক্ষমতার চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের নেশায় মাতোয়ারা হয়ে পড়ে হাসিনা প্রশাসন।

ক্ষমতার আড়াই বছর না যেতেই নির্বাচনী পরীক্ষার ভয়ে এলোমেলো কথা বলতে থাকেন হাসিনা ও তদীয় অনুসারীরা।গত আড়াই বছরের সবচেয়ে বড় সাফল্য নোবেল বিজয়ী ইউনুসএর গ্রামীণ ব্যাংকের ভিটায় ঘুঘু চরানো, ইউনুসকে সুদখোর-রক্তচোষা প্রমাণ, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উত্থাপন, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামকে মূর্খ বলে গালি দেয়া, পাতাকুড়ানীর ছেলে লিমনকে সন্ত্রাসী প্রমাণ,সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের প্রবৃদ্ধি সংক্রান্ত পরিসংখ্যানকে টোটালি রাবিশ বলা আর নাগরিক সমাজ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এরকম প্যারানয়া থেকে উইচ-হান্টিং এর প্রস্তুতি।

আমাদের সনাতন রাজনীতিতে কান কথা এবং কানপড়া দেয়া সতত প্রচলিত। শেখ হাসিনার চারপাশে যে ‘চাটার দল’ মাছির মতো ভনভন করে তারা বাস্তবতা আড়াল করতে নাগরিক সমাজের এর ওর বিরুদ্ধে কানপড়া দিতেই আপা ফুঁসে ওঠেন।কন্সপিরেসির প্রচ্ছায়া দেখেন সর্বত্র।নাগরিক সমাজকে গালি দিয়ে বলেন ভোট পাবার মুরোদ নেই,ক্ষমতায় যাবার লোভ।ওদিকে চাটার দল এমপি হোস্টেলে আর সার্কিট হাউজের এসিতে শুয়ে বসে যে ভোট পাবার মুরোদ হারিয়ে ফেলছে সেদিকে খেয়াল নেই কারো।ইলেকশন এনজিনিয়ারিং এর ম্যাজিক ফ্যানটম ছাড়া আর কোন কিছুই নেই তাদের হাতে, জেলায় জেলায় মন্ত্রী-সাংসদদের মাঝে বিরোধ,ক্ষমতার টানাপোড়েন,প্রবল জনবিচ্ছিন্নতা এসব দেখবার কেউ নেই। বর্ষীয়ান নেতারা বিকেল বেলা ঘুম থেকে উঠে মিডিয়ায় বেফাঁস কথা বলে জনপ্রিয়তার পারদ নীচে নামাতে থাকেন। বাঘে ছুলে বাঘে ছাড়ে শেখ হাসিনা ছুলে ছাড়ে না এই ধরনের বস্তাপচা উক্তির রাজনীতি যে আর চলে না সেটা কে বোঝাবে বাবুদের।

ষড়যন্ত্র আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবশ্যই চলছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে, দেশে জঙ্গীবাদ ফিরিয়ে আনতে মৌলবাদী প্রতিক্রিয়াশীল চক্র সক্রিয়। ঘোলা পানিতে কুমির শিকার তাদের মজ্জাগত। কিন্তু আওয়ামী শাসন ব্যবস্থার সমালোচনা করলেই ঢালাওভাবে নাগরিক সমাজকে ষড়যন্ত্রকারী বলে গালি দিতে হবে এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি একনায়িকাতান্ত্রিক।

বঙ্গবন্ধু বা নেহেরুর মতো নেতারা সমালোচনা শোনার জন্য উন্মুখ থাকতেন।বড় মাপের নেতারা সমালোচনা থেকে শেখেন,কর্মপদ্ধতির সংশোধন করেন।কিন্তু শেখ হাসিনা শুধু প্রশংসা শুনতে চান।‘চাটার দল’ বঙ্গবন্ধু থেকে তাজউদ্দীনকে বিচ্ছিন্ন করেছিল, ইতিহাসের মহানায়ককে অরক্ষিত রেখেছিল ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে।বিপদের মুহূর্তে কেউ এগিয়ে আসেনি।‘চাটার দল’ দিব্বি বেঁচে আছে,বিকেল বেলা ঘুম থেকে উঠে মিডিয়ায় বাইট দেয়।

নাগরিক সমাজ নয় ঐ ‘চাটার দল’ এবং ‘চোরের খনি’ই আওয়ামী লীগের ঘরের বন্ধু বিভীষণ।তাই সামনে আড়াই বছর কান নিয়েছে চিলে তাই চিলের পিছে না দৌড়ে সমালোচনা শোনার, হজম করার এবং তা থেকে সংশোধনের সংস্কৃতি রপ্ত করুন।দিন বদলের জন্য দরকার মনোভঙ্গির বদল। সামন্ত রাজনীতির আলেয়ায় নিজেকে সর্বশক্তিমান ভাবলে কী হয় তারেক রহমান তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

ক্ষমতার প্রাণভ্রমর সংবিধানের হাতে নেই, র্যা বের হাতে নেই; আছে আমজনতার ভোটের বাক্সে।তাই এসি রুমের আয়েস ছেড়ে ক্ষমতার ডিলিরিয়ামে বুঁদ স্তাবক অনুসারীদের তিরিশ ডিগ্রী সেলসিয়াসের গ্রামীণ ধূলোপথে হাঁটতে বলুন।

আর নাগরিক সমাজতো লিখবেই,যতক্ষণ কলম কিংবা কীবোর্ড আছে।হিটলারই কী পেরেছিলেন লেখালেখি বন্ধ করতে।রাষ্ট্র ক্ষমতার চিরস্থায়ী বন্দোবস্তী নেই।কিন্তু লেখালেখির আর সমালোচনার ক্ষমতার চিরস্থায়ী বন্দোবস্তীতো আছেই। সুতরাং রাগবেন না। রাগলেই হেরে যাবেন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29394449 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29394449 2011-06-10 15:35:14
কোন পাগলের অধীনে নির্বাচন চান?
সুপ্রীম কোর্টের রায়ে অবশ্য পরামর্শ রাখা হয়েছে পরবর্তী দুটো নির্বাচন কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে হতে পারে, এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে সংসদ।বিএনপি সংসদে গিয়ে সুপ্রীম কোর্টের পরামর্শের প্রসংগটি তুলতে পারতো।সেটা না করে সেই হরতালের কাসুন্দিতে ফিরে গেল।আমজনতার ভোগান্তির আবার শুরু। রাজনৈতিক সংস্কৃতি্র এই পুনরাবৃত্তিতে আমরা ক্লান্ত।

কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থাটি উদ্ভট তা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।কাজেই সার্বভৌম নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনই গণতান্ত্রিক সুস্থতার লক্ষণ।কিন্তু আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি সেই সুস্থতার চর্চায় এখন পর্যন্ত প্রস্তুত নয়। দুটি দলের মধ্যে চরম আস্থাহীনতা গণতন্ত্রের নির্বাচনকালীন প্রসব বেদনায় একজন কেয়ার টেকার ধাত্রীমাতার প্রয়োজনটিকে টিকিয়ে রেখেছে। যে কারণে ইয়াজুদ্দীনের অধীনে নির্বাচনে যায়নি আওয়ামী লীগ, একি কারণে জিল্লুর রহমানের অধীনে নির্বাচনে যাবেনা বিএনপি।আওয়ামী লীগ ইয়াজুদ্দীন ঠেকাতে যেমন লগি বৈঠা নিয়ে নেমেছিল, বিএনপিও তেমনি কাস্তে হাতে রাজপথে নেমে যাবে বলাই বাহুল্য।এরকম সাংঘর্ষিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি এক এগারোর প্রেক্ষিত তৈরী করে।এক এগারোর অপমানজনক পরিস্থিতি থেকে যা শিক্ষণীয় ছিল মাত্র আড়াই বছরে দুই দলই তা ভুলে গেছে। রাজনীতিবিদদের চিন্তার ঐক্য তৈরী না হলে তৃতীয় শক্তির আবির্ভাব হয়, এক এগারোর পরে তা শিশু এবং পাগলেরাও বোঝে। শুধু বোঝেন না ক্ষমতার জন্য মরিয়া দুই নেত্রী।

শেখ হাসিনা ওয়েস্ট মিন্সটার পদ্ধতিতে যেতে চান ক্ষমতায়, খালেদা জিয়া চান কেয়ারটেকার বা পাগল পদ্ধতিতে।এই নিয়ে কচলাকচলির পরে শেখ হাসিনা সুপ্রীম কোর্টের পরামর্শ অনুযায়ী এযাত্রা কেয়ারটেকারে রাজী হলে খালেদা জিয়া তখন নিয়ে আসবেন সুপ্রীম কোর্টের আরেক পরামর্শ যেখানে সাবেক বিচারপতি নয় সংসদের কাছে গ্রহণযোগ্য অন্য কাউকে কেয়ারটেকার সরকারের প্রধান করতে বলা হয়েছে।এই দরকষাকষি সংসদে এবং মিডিয়ায় চলতে পারে। কিন্তু বিএনপির পছন্দ রাজপথ।আমজনতার ভোগান্তি তাদের বিবেচনার বিষয় নয়। তাদের লক্ষ্য ক্ষমতায় যাওয়া।

শেখ হাসিনা কেয়ারটেকার পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কটি এখনি কেন নিয়ে এলেন তা বোধগম্য হলোনা। বিএনপিতো শিশুদের মতো ইস্যু খুঁজছিল। এখন তা পেয়েও গেল।নির্বাচনের বছর খানেক আগে এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া যেতো। এখন আড়াই বছর ধরে চলবে দড়ি টানাটানি।অবশ্য এবিষয়ে যা সিদ্ধান্ত হবার তা একটি রাজনৈতিক সরকারের সময়ে হওয়াই ভালো।এক এগারোর পুনরাবৃত্তি আমজনতা চায়না।পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আগামী দুবছরের মধ্যেই করে ফেলা ভালো যাতে বিষয়টা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের মতো ঝুলে না থাকে।

নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন সবারই কাম্য। কিন্তু নির্বাচন পরিচালনায় সিভিল প্রশাসনের ভূমিকা থাকে। রাজনৈতিক সরকারের সময় সিভিল প্রশাসনের রাজনীতিকরণ বা দলীয়করণ ঘটে।সেকারণেই বিরোধীদল চাইছে কেয়ারটেকার সরকার।ভারতের নির্বাচন কমিশনের মতো সামর্থ্য অর্জন রাতারাতি সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান অনুশীলনের মধ্য দিয়ে ঋদ্ধ হয়।আমাদের নির্বাচন কমিশন কতটুকু সার্বভৌম সেটা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ওয়েস্ট মিন্সটার পদ্ধতিতে যাওয়া সম্ভব নয়।

গত তিনটি নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে সরকারে থেকে ক্ষমতায় যাওয়ার চেয়ে বিরোধী দলে থেকে ক্ষমতায় যাওয়া সহজ।ক্ষমতাসীন সরকারের পারফরমেন্সে অখুশী হয়ে ভাসমান ভোট বিরোধী দলে চলে যায়। তাই কথার খই না ফুটিয়ে কাজে মনোযোগ দেয়া জরুরী। আগামী নির্বাচন নিয়ে বচসায় সময় নষ্ট করার সময় নেই সরকারের।আদালতের রায়ে কেয়ারটেকার সরকার অবৈধ, কিন্তু রায়ের পরামর্শগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এতে অযথা সময় ও শক্তিক্ষয় হবে। জনমানুষের জীবন কুশলতা অর্জনে সাহায্য করতে না পারলে, আমজনতাকে খুশী করতে না পারলে শুয়ে বসে বিরোধীদল ক্ষমতায় চলে যাবে।সেটা ঠেকাতে গেলে দিন বদলের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা জরুরী।ভারতের কংগ্রেস যেটা পেরেছে। তৃণমূলের আমজনতাকে খুশী করেই ক্ষমতায় টিকে গেছে কংগ্রেস।মনমোহন সিং বা সোনিয়া গান্ধীর কাছ থেকে কিছুটা শেখারতো আছেই। সম্ভবত খানিকটা বিনয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29390261 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29390261 2011-06-02 16:31:12
লিমনের কাটা 'পা'টিকে ভয় পাবার কিছু নেই
র‌্যাবের মুখপাত্র বলেছেন দশটা ভালো কাজ করতে গিয়ে একটা ভুল হতে পারে। তবে আওয়ামী লীগ জেনারেল তারেকের বক্তব্যকে ওন করেছে।সুতরাং ‘সন্ত্রাসী বাবার সন্ত্রাসী ছেলে’ লিমনের পায়ে র‌্যাবের লুতফরের গুলি করাটা নয়টা ভালো কাজের মধ্যে পড়ে গেছে। এখন লিমনের পুরো পরিবার বিষ খেয়ে হারিকিরির আকুতি জানিয়েছে।কিন্তু বিষ এতো সস্তা নয়। তিনটা রিপোর্ট লিমনকে সন্ত্রাসী হিসেবে অভিযুক্ত করেছে। আর একটা রিপোর্ট এলেই র‌্যাবের ভালো কাজটি প্রমাণিত হবে। তখন পিঁপড়ের মতো পিষে মারা হবে এই ‘সন্ত্রাসী’ পরিবারটিকে।

র‌্যাবের মুখপাত্র বলেছেন র‌্যাবের মহাপরিচালকের বক্তব্য একটি সংবাদ পত্র বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে। র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেছিলেন লিমন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী নয়। পত্রিকা লিখেছে লিমন সন্ত্রাসী নয়। যাই হোক দুর্ধর্ষ না হলেও র‌্যাবের গুলিতে লিমন পা হারিয়েছে। র‌্যাবের গুলিতে কুখ্যাত জঙ্গী বাংলাভাই প্রাণ হারায়নি। আইনী পথে তার ফাঁসি হয়েছে। লিমনের পা আইনী সুরক্ষা পায়নি। কারণ সে দুর্ধর্ষ নয়।

জেনারেল তারেক একটি পত্রিকার সম্পাদক লিমনকে ইস্যু বানানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন।ঐ সম্পাদকের বিরুদ্ধে জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।জেনারেল তারেক চাইলে তাকে গ্রেফতার করতে পারেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী চাইছেন না বলেই সেটা সম্ভব হচ্ছেনা।

তারেক নামটির প্রতি মিডিয়াভীতি গত বিএনপি-জামাত সরকার আমলে বহাল ছিল।আওয়ামী লীগের তারেক তার একটি প্রেস কনফারেন্সেই নতুন মিডিয়াভীতি মিশ্রিত সম্মান জাগ্রত করলেন।

তার মানে সম্পাদক বা সাংবাদিক হিসেবে জন্ম নিলে সারাজীবন নানারকম তারেকের ভয়ে জবুথবু হয়ে বাঁচতে হবে।আর বর্গাচাষী বা ফলদোকানীর ঘরে জন্মালে ‘সন্ত্রাসী’লিমন হয়ে পা হারিয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বিষ চাইতে হবে।জয় বাংলা বাংলার জয়।

একটি পত্রিকার সম্পাদকরাজ শক্তিশালী মানুষ। রাণীমাতা তাকে সহজে ঘাঁটাবেন না। কিন্তু লিমন যেহেতু বর্গাচাষীর বাচ্চা, তার পা কেটে ফেলা বা তার পরিবারকে পিঁপড়ের মতো পিষে ফেলতে র‌্যাবের একজন লুতফর বা ইনফরমার একজন মানিক সমাদ্দারের মতো দেশপ্রেমিকই যথেষ্ট।

সরকার কী ভয় পেয়েছে লিমন ইস্যুটিকে। ভেবেছে শুধু প্রথম আলোর রিপোর্টে আরব দুনিয়ার মতো আগুণ জলে উঠবে বাংলাদেশে। এটা প্যারানয়া।আড়াই বছর ক্ষমতায় থেকে দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেবার পর ফলদোকানের কর্মচারীর বাচ্চা ‘সন্ত্রাসী’ লিমনের কাটা পাটিকে ভয় পাবার কিছু নেই। লিমন যদি সত্যিই সন্ত্রাসী হয় জনগণ তা জানতে পারবে।কারণ সত্য অপ্রতিরোধ্য।আর লিমন যদি সন্ত্রাসী না হয়ে থাকে তাতে আপাতত কিছু হবে না। তবে এক সময় উলুখাগড়ার মায়েরা ব্যালট বাক্সে দুফোটা চোখের জল ফেলে আসবে। যে জলে আগুণ জলে।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29386947 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29386947 2011-05-27 15:03:10
হিটলার থেকে হিলারী
হিলারী ক্লিনটন এভাবে ধমকে কথা বলেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।ইংরেজিতে এই ধমকের স্পিড অনেক বেশী। শফিক রেহমানের অনুবাদে বাক্যগুলো এনালগ মন্থরতায় আক্রান্ত।২০০৮ ডিসেম্বর নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে হিলারী এরকম ব্রেকিং নিউজ দিলেন,অথচ তাতেও বিএনপির এমন কোন লাভ হয়নি।কারণ ২০০১ এর নির্বাচনটিও এরকম ছিল। ফলাফল আগেই ঠিক করা হয়েছিল।ফলাফলের ফ্যাক্স আগমনের গতিপ্রকৃতির দিকে মাস্টার কনট্রোল কক্ষে বসে আমি প্রত্যক্ষ করেছি। হিলারীর কথার সঙ্গে মিলিয়ে নিলে ২০০১ এর বিএনপি-জামাত ব্রুট মেজরিটির পিছে বুশ প্রশাসনের পঞ্চায়েতি চোখে পড়ে। বুশ-প্রশাসনের দুচারটে টিকটিকি হাওয়া ভবনে বসে লালন গীতি শুনেছেন। লালন গাতক নিজেই তথ্যটি জানিয়েছেন। শফিক রেহমানের হিলারীলিক্স কল্পকাহিনী থেকে দুটো খবর আমরা কনফার্ম করলাম।
২০০৮ এর উইন্টার অব ডিসকন্টেন্ট নির্বাচনের ফল পূর্ব নির্ধারিত ছিল।


ইউনুসের প্রতি কটাক্ষ করে হাসিনা ক্লিনটন পরিবারের রোষে পড়েছেন।

২০০৮ এর নির্বাচনে যা হয়েছে, ২০০১ এর নির্বাচনেও তাই হয়েছিল। ওয়াশিংটনের রক্ষণশীল রিপাবলিকানরা বিএনপিকে বেছে নিয়েছিল। ২০০৮এর ডেমোক্রাটরা ইউনুসকে বেছে নিতে ব্যর্থ হয়ে অগত্যা হাসিনাকে প্লাস ওয়ান দিয়েছে।হিলারীর টেলিফোনালাপে তিনি বলছেন, প্রধানমন্ত্রী, আপনি জানেন দিল্লিতে আমাদের বন্ধুদের নির্দেশে কীভাবে ফলাফল আগেই ঠিক করা হয়েছিল। তারা যেভাবে চেয়েছিল সেভাবেই আমরা চলেছিলাম। প্লিজ, আপনি এটাও ভুলে যাবেন না যে, জেনারেল মইন যিনি আপনাকে ক্ষমতায় এনেছিলেন তিনি এখন আমেরিকাতে আছেন এবং আপনি যতখানি কল্পনা করতে পারেন, তার চেয়েও বেশি এখন আমরা জানি।

২০০৮ এর নির্বাচনের আগের রাতে চারঘাট উপজেলার সারদা বাজারে দেখেছি, টাকা বিতরণের সময় হাতে নাতে ধৃত এক ইউপি চেয়ারম্যান রত্নকে পুলিশ মাস্টার কনট্রোল রুমে নিয়ে যাবার পর ছেড়ে দেয়া হয়।শাড়ীর ট্রাক ধরা পড়েছে, নির্বাচন কমিশন না দেখার ভান করেছে। এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন একমাত্র ফলাফল প্রচারের কর্তব্য পালন করেছে। নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে হিলারী জানাচ্ছেন, আপনি জানেন দিল্লিতে আমাদের বন্ধুদের নির্দেশে কীভাবে ফলাফল আগেই ঠিক করা হয়েছিল।

এই নির্বাচনের ফলাফলে মহাজোট ব্রুট মেজরিটি পেয়েছে। ব্যবসায়ী কলাগাছ প্রার্থীরা নূহের নৌকায় চড়ে সংসদে গণতন্ত্রের জওয়ানি শীর্ষক মুজরায় অংশ নিয়েছে।আমজনতার ভোটে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতো, কিন্তু কলাগাছ গুলো হেরে যেতো। সাম্প্রতিক পৌর নির্বাচনে চারঘাটে রাজনীতি নিরপেক্ষ মিস নার্গিস জিতে প্রমাণ করেছেন, ২০০৮ এর ডিসেম্বর নির্বাচনের ফলটি বানোয়াট ছিল।

২০০৮ এর ডিসেম্বর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তৃণ মূলের জনপ্রিয় নেতা রায়হান তৃণ মূলের ভোটে নির্বাচিত হলেও দলীয় নমিনেশান পাননি।বি এনপির জনপ্রিয় নেতা চাঁন ও দলের নমিনেশান পাননি।বাঘা চারঘাটে টাকা-শাড়ী-সোয়েটার-বিনোদনের অনুপান এর বিনিময়ে যে ভোট বানিজ্য হয়েছে, তা বাংলাদেশের ভঙ্গুর গণতন্ত্রের এক কমেডি। মিস নার্গিস চারঘাটের গণ জাগরণের প্রতীক।নার্গিস ২০০৮এর উইন্টার অফ ডিসকনটেন্টকে সামার অফ এওকেনিং এ রূপান্তর করেছেন।

২০০৮এর ডিসেম্বর প্রহসনের প্রতিশোধ নার্গিস নিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন নিজেই এখন ২০০৮ এর নির্বাচনে তাদের পারফরমেন্সের পুণমূল্যায়ন করলে বুঝতে পারবে থলের বেড়াল বেরিয়ে গ্যাছে। ২০০৮এর নির্বাচনে রাজশাহী-৬ আসনে সাংসদ পদে প্রতিযোগিতা করে আমি হেরেছি।প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আকুল আবেদন, আমার নির্বাচনী ব্যয়ের তিন হাজার ইউরো আমাকে ফেরত দিন। কারণ ফেয়ার প্লে গাউন্ড ছিল না।

টাকা বিতরণের সময় ধৃত শ্রীকৃষ্ণ ইউপি চেয়ারম্যান রত্নকে সারদা বাজারের হাজার হাজার মানুষ দেখেছে,কয়জন সাক্ষী চাই সিইসির।আপনি চাইলে বাঘা-চারঘাটের দশজন সাংবাদিক, জননেতা রায়হান-চান, সারদা বাজারের ফকির সন্যাসী, তথ্য প্রযুক্তি ও বিতর্ক আন্দোলনে সম্পৃক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আর ঋজু তারুণ্যকে জিজ্ঞেস করতে পারেন দৈবচয়নে। সাংবাদিক হিসেবে রেকর্ড করে পুরো প্রতিবেদন আপনার কাছে জমা দিতে পারি।
অথবা জয়ী প্রার্থীকে জিজ্ঞেস করুন। আমি নিশ্চিত উনি সত্যি কথাটি বলবেন। আমি উনাকে দুই দশকের বেশী সময় ধরে চিনি। উনি নিজেও জানেন সিইসির দাবীকৃত লেভেল প্লেইং গ্রাউন্ড ছিল না, নির্বাচন কমিশনের চারঘাটে কর্তব্যরত কর্মকর্তার কাছে ইউপি চেয়ারম্যান রত্নের খবরটি নেই। কারণ তথ্য সংগ্রহের প্রশিক্ষণ তিনি হয়তো সিইসির কাছে পাননি।

আমি আশা করবো ২০০৮ এর ডিসেম্বর থিয়েটারে আমার খরচ হয়ে যাওয়া তিনহাজার ইউরো পরম পূজনীয় সিইসি মহোদয় শিশু একাডেমীর ডিজি মহোদয়কে উপহার দেবেন, যাতে শিশু একাডেমী শিশুদের ইলেকট্রনিক ভোট দেবার কার্ণিভাল করে ভবিষ্যতের সফল গণতন্ত্রের সহযাত্রী হিসেবে শিশুদের গড়ে তুলতে পারে।
হিলারীর তথ্য মিথ্যা হতে পারেনা। তবে হিলারীর কন্ঠসর ভালো লাগেনি। স্টার প্লাস নাটকের রণরঙ্গিনী ননাসের মতো হিলারী ধামকি দিচ্ছেন হাসিনাকে। হাসিনা সেই অসহায় ম্যায় কুসুম। ইউনুসের পরিবর্তে অমর্ত্য সেন, বাংলা একাডেমী জানে নোবেলে নোবেল ক্ষয়।ঢাকা গ্রামে ইউনুসকে অপমান করে পৌরোহিত্যে অমর্ত্যকে কষ্ট দিতে নিয়ে আসার সাফল্যে স্টার প্লাসের যে কোন কুচুটে নাটকের চেয়ে জমে উঠেছে হাসিনা-ইউনুস মুখ দেখাদেখি বন্ধ ধারাবাহিক। হাসিনাকে যেখানে যুদ্ধাপরাধী-জঙ্গিবাদ-দুর্নীতি আর বিএনপির সঙ্গে লড়তে হচ্ছে, সেখানে নরওয়ের একটি টিভি রিপোর্টের শিহরণে গদগদ হয়ে ধর ইউনুস মার ইউনুস ঢাকা মব থিয়েটারের অংশ হয়ে নোবেল রেসে নেমে হাসিনা অযথা ইড-ইগো-সুপার ইগো দেখাচ্ছেন। একি ইগো দেখালেন হিলারী।ইন্দিরারো একি ইগোতে ভারতে শিখ মন্দির পুড়েছে।খালেদার ইগোর গল্প আজ আর না তুলি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29320739 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29320739 2011-02-05 15:19:11
দেশপ্রেম আর চেতনার ব্যবসা
পৃথিবীর আর কোন দেশে এরকম চেতনার কচকচানি চোখে পড়ে না। ভারতীয় উপমহাদেশে দেশপ্রেম আর চেতনার কচকচানি সবচেয়ে বেশী। ফলে অনুন্নয়নের জোয়ার বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানে।

পাকিস্তানে গোমূর্খ মোল্লাদের কচকচানি বোমা হামলার চেয়ে অরুচিকর। কাজের কোন কাজ নেই শুধু পান খাওয়া আর ভারতের বিরুদ্ধে উস্কানী দেয়া এই বর্বর মোল্লাদের একমাত্র কাজ। এর বিনিময়ে তারা রোটি কাপড়া মকান জোগাড় করে। পাঞ্জাবের গভর্ণর সালমান তাসির নিহত হবার পর মোল্লারা বিজয় উতসব করেছে।আরব নিউজ তার সম্পাদকীয়তে সালমান তাসিরের লিবেরেল ইসলামের পক্ষে জীবন দেয়াকে শুদ্ধ ইসলামের পক্ষে আত্মত্যাগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অথচ পাকিস্তানের অশিক্ষিত মোল্লাদের তড়পানি দেখলে মনে হয় যেন ইসলাম ধর্মের জন্ম আরবে নয় পাকিস্তানে হয়েছে।

পাকিস্তানে যেসব লোকের ৪৭ এর দেশভাগে এতটুকু আঁচ গায়ে লাগেনি তারাই ভারতের বিরুদ্ধে সোচ্চার।চেতনার ব্যবসা অপদার্থদের ভূষণ। তাই ৪৭ এর দেশ বিভাগের সুফল কুড়িয়েছে অপদার্থরা। কারণ হিন্দুদের স্মৃতিঘন বসতবাটি দখল করে দিব্বি পান চিবাচ্ছে ভারতবিরোধী মর্কটেরা।

ভারতেও বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের পুরোধারা কচকচানিতে যাননা। অথচ পাকিস্তান বিরোধিতা জিইয়ে রেখেছে তারাই যারা ভারতত্যাগী মুসলমানদের বাড়িঘর দখল করে দিব্বি বন্দে মাতরম জিকির তুলছে।

বাংলাদেশেও ৪৭ আর ৬৫ র পর যারা হিন্দুবাড়ী-মন্দির দখল করে রেখেছে তারাই ভারত বিরোধিতার জিকির তুলে দেশপ্রেমের ছেঁড়াকাথা গায়ে দিয়ে আগডুম বাগডুম করছে।

দক্ষিণ এশিয়ার শান্তির জন্য বাংলাদেশ-ভারত এবং ভারত-পাকিস্তান সুসম্পর্ক জরুরী। এই ক্ষেত্রে হাসিনা-মনমোহন, মনমোহন-গিলানী বন্ধুতার বাতাবরণ রয়েছে। ৪৭ সালের দেশ বিভাগে ক্ষতিগ্রস্তরা পুরোনো ভিটে মাটি শুধু একনজর দেখতে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ভিসার আবেদন করেন। কিন্তু দূতাবাস আর কন্সুলেটগুলোতে অপরিনামদর্শী কেরানীকূল র্যা ডক্লিফ বন্দনায় ভিসা প্রত্যাখান করে বিভাজনের বৃটিশ প্রচ্ছায়াটিকে লালন করে চলেছে। সার্ক সচিবালয়টিও অলস এক্কাদোক্কা খেলার কমেডি। ভাবতে অবাক লাগে আমাদের সমসাময়িক আপাত মেধাবী রাজদূতকূল দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তির বাতাবরণ তৈরিতে কোন ভুমিকাই রাখতে পারছে না।

কতিপয় সন্ত্রাসীর ভয়ে শান্তিকামী মানুষ ভিসা পাচ্ছে না। র্যাদডক্লিফের পেন্সিল এখন জিহাদি তরবারী আর শিবসেনার ত্রিশূল হয়ে গেছে। বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো অপেক্ষাকৃত আধুনিক। কিন্তু ভারতীয় ও পাকিস্তানী দূতাবাসগুলোতে দাদাগিরি আর প্যারানয়া দৃশ্যমান। যুগের হাওয়া না বুঝে র্যানডক্লিফের গুম্ফ হয়ে রয়ে গ্যাছে দূতাবাঁশের কেরানীকূল।

আর ঐ চেতনা ব্যবসায়ী, বিবৃতি লিখিয়ে মিডিওকারের দল অগ্নিতে ঘৃতাহুতি দিয়ে বিভাজন আর ঘৃণার দূর্গন্ধ লালন করে চোখে পড়তে,বিখ্যাত হতে এবং বৈচিত্রহীন জীবনে একটু কৃত্রিম উত্তেজনা পেতে।

বাংলাদেশ সরকার আইনী পথে যুদ্ধাপরাধী ৭১ এর বিচার করছে। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রেখে চলেছে। অন্যদিকে চেতনার হকাররা এই সরকার বিচার করতে পারবেনা আর এই সরকার ভারত তোষক ইত্যাদি বস্তাপচা কথা বার্তা বলে মুক্ত আগামীমনস্ক ভাবনার জগতটিতে দূষণ ঘটিয়ে চলেছে। ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ জাগরণের বার্তা দিতে অকর্মণ্য সমাজ আগুয়ান।

যুগ বদলেছে। এখন কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবার সময়।প্লায়োস্টোসিন যুগের বুদ্ধিবৃত্তিক সামর্থ্য নিয়ে আদার ব্যাপারীরা জাহাজের তলা ফুটো করার কাজটি জোরে শোরে চালাচ্ছে অপদার্থ হতবুদ্ধিজীবীর দল।এরা এখন হিন্দী সংস্কৃতির আগ্রাসন নিয়ে তড়পাচ্ছে। আকাশ সংস্কৃতির হাউই ওড়ানোর সময়ে লোকজনকে টিভিতে কোন চ্যানেল দেখতে হবে তাও নির্ধারণ করে দিতে চায় পাতাপুড়ানীর দল।কোন দেশে সৃজনশীলতার উন্মেষ বেশী ঘটেছে তা টিভি বা সিনেমার পর্দায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কারা পড়ালেখাটা মন দিয়ে করেছে তাও পরিষ্কার হয়ে যায় টিভি অনুষ্ঠানের বা ফিল্মের বা সংগীত বা অন্যান্য চারু ও কারু কলায়। খবরদার তারা বাংলা দেখবেন না বা স্টারপ্লাস দেখবেন না বললেই সবাই যেন সে কথা শুনবে। এযেন মামাবাড়ীর আবদার।

অতিপ্রতিক্রিয়াশীল নব্য শিক্ষিত দেশপ্রেমের টেন্ডার সন্ত্রাসীদের বয়ান শুনলে মনে হয় প্রতিদিন গোলক এগিয়ে যাচ্ছে, আর কতিপয় অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী তাদের আঁশটে জগতের দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারপাশে।
এই পিছিয়ে পড়া নির্বুদ্ধিজীবীদের দেখিবা মাত্র এড়িয়ে যাওয়া বাঞ্ছনীয়। কারণ পেশাগত জীবনে চরম ব্যর্থ এই ততোধিক গ্রাম্য পন্ডিতমন্য দের হতাশা ঘৃণা হিংস্রতা ছড়ানোর দূষণ থেকে তিরিশের নীচের অদমনীয় প্রজন্মকে দূরে রাখা দরকার। কারণ এই প্রজন্মটি গ্লোবাল সিটিজেন।এরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের তৈরী করছে একটি আলোক-সম্ভবা দক্ষিণ এশিয়া বিনির্মাণের প্রত্যয়ে।

আসছে ক্রিকেট কার্ণিভালে ঢাকা দেখিয়ে দেবে বাংলাদেশ অতিথি বতসল এক রঙ্গিন দেশ। এই ক্রিকেট আসর থেকে গোলক জেনে যাবে কত সুন্দর একটি দেশকে মিডিয়া রিয়ালিটি একটি দুর্নীতি আর দুর্যোগের দেশ বলে ডিফেম করে এসেছে।র্যা ডক্লিফের কালোযাদুর পেন্সিলের ভূত, আর ধর্মব্যবসায়ীদের বোমার ভয় দেখিয়ে দক্ষিণ এশিয়াকে ব্যর্থ প্রমাণের ছলচাতুরী আর নব্যশিক্ষিত ব্যর্থ ঘৃণা ব্যবসায়ীদের বিবৃতির চোঙ্গা গরমের সমস্ত জারিজুরি ফাঁস হয়ে যাচ্ছে।
এবার সামনের দিকে তাকাতে হবে। ক্রিকেটকে ঘিরে বন্ধুতার অমল উতসবে যোগ দেবার এখনি সময়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29316664 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29316664 2011-01-29 17:38:20
মওদুদ সাহেবের বাইট মানেই হিট
মওদুদ সাহেব পৌর নির্বাচনে আশাতীত ফল পেয়ে আবার মন্ত্রী হবার খোয়াব দেখছেন।মুহিত সাহেব সিভিল সার্ভেন্ট ছিলেন, মওদুদ সাহেব মেজর জেনারেল এবং সচিবদের সালাম পেতে অভ্যস্ত।টেস্ট ক্রিকেটে উনার চেয়ে ভালো ব্যাটসম্যান মেলা ভার। উনি হাইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটিতে পড়িয়েছেন। ইংরেজীতে বই লিখেছেন। উনি সামনেবার আওয়ামী লীগ থেকে ইলেকশন করলেও আমি বিপন্ন হবোনা।সাঁঝের মায়ায় হানা দিয়ে র‌্যাব ব্লুলেভেলের বোতলের বেশী কিছু পাবে না ব্যারিস্টার মওদুদের বিরুদ্ধে।বাংলাদেশ রাজনীতিতে মওদুদ স্যার একজন ড। ফস্টাস।লুসিফেরা তাকে অমরতার ব্ল্যাঙ্ক চেক দিয়েছে।

কিন্তু মওদুদ সাহেব যেটা বুঝতে পারছেন না, তা হলো মুহিত সাহেব নিপাট ভদ্রলোক।কার্ল মার্ক্সের দাস ক্যাপিটাল তার পড়া আছে। বেতনের বাইরে একটি পয়সাও খরচ করেননি তিনি সারাজীবনে।
দেশপ্রেম তার বাতিক নয়, দেশপ্রেম তার মজ্জাগত।এরকম অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ আর পাবেনা, উনি ব্যর্থ হলে।

মুহিত সাহেবের মত সোজা সাপটা মানুষকে ব্যর্থ করতে ব্যবসায়ী চোরেরা সংঘবদ্ধ, আর বাংলাদেশ মব রিউমার খেয়ে সুড়সুড়ি বোধ করে। মুহিত সাহেবের সারাজীবনের অর্জন শিম্পাঞ্জী ভোটাররা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেও অবাক হবার কিছু নেই।বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অধোগতির জন্য গুজবপ্রিয়,নিজের পায়ে কুড়াল মারা আমজনতাই দায়ী।রাষ্ট্রের অগ্রগতি কোন জেমসবন্ড কুইকি নয়।এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।কিন্তু শিম্পাঞ্জী রিপাবলিক্স মুহিত সাহেবের কাজের ছিদ্র খুঁজতে মওদুদ স্যারের টর্চ লাইট ভালু পাবে,কারণ রাজনৈতিক রেটরিক্স বা সুড়সুড়ি দিতে দেলোয়ার সাহেবের চেয়ে ব্যারিস্টার সাহেব বেশী পারঙ্গম।

টেকসই অর্থনীতি বা গণতন্ত্রের ভাবনা সুশীল,কুশীল,তপশীল সব সমাজেই হাস্য উদ্দীপক। কাজে ভুল পেলেই হা রে রে রে করে তেড়ে আসে কুলুমুলুর দল। আর অগ্নিতে ঘৃতাহুতি দেয় ডান্ডালিজম। মিডিয়া মানেই কাসুন্দি চর্চা কেয়ার অব কলতলা।কাজেই কাজ করার চেয়ে মওদুদীয় বয়ান বা গাস্ত অধিক টি আর পি পায়। হেড অব নিউজ খুশী হন।

আওয়ামী লীগের মন্ত্রী মেয়রেরাও কম যাননা। প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের ধমকে পাগলকে নৌকা নড়ানোর কথা মনে করিয়ে দেয়।এমনকি সচিবও আশকারা পেয়ে মিডিয়া এথিকস নিয়ে বক্তৃতা করেন।

এরমধ্যে সবচেয়ে আশার কথা নির্বাচন কমিশন ই-ভোটিং এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।সিইসি ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমাকে গত সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী ব্যয় এর হিসাব একদিন দেরীতে জমা দেয়ার বা পৌঁছানোর অভিযোগে জেল-জরিমানার মুখোমুখি করলেও পৌর নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সমাধান করার পথে উনি শ্রদ্ধার আসনটি জিতে নিয়েছেন আমার কাছে। রউফ সাহেবের কালাকানুন সরিয়ে সিইসি এখন অনেক আধুনিক।উনার দপ্তরে পিএস থেকে ডিএস সবাই হেসে কথা বলেন, প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় এর উতস পৃষ্ঠাটি স্ক্যান করে কুলুমুলুদের দিয়ে দেন এগ্রিকালচার বনাম কালচার অনলাইন কাসুন্দিতে মিরিচ মাসালা জোগাতে,পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনার কাজটিও সুষ্ঠুভাবে করেন তারা।

ফলে পৌর নির্বাচনের বাজে ফলাফল থেকে আওয়ামী লীগ মন্ত্রী-এমপিদের ব্যর্থতা চিহ্নিত করতে পারলে দলটি উপকৃত হয়। বিএনপিও বুঝতে পারে মওদুদীয় কচকচানি নয়, পৌরমেয়রদের কাজের ওপর নির্ভর করছে দলের ভবিষ্যত।

ছবিঃ মওদুদ স্যারের প্রথম আলোর হাসি

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29312240 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29312240 2011-01-22 16:57:32
আমাদের মা বনাম পোস্টমডার্ণ মাম্মি
নিজের মাকে সবাই ভালবাসে তাই নিজের মায়ের গুণগান আমি করবো না। আমার বন্ধুর মায়েদের কথা বলি। শৈশব স্মৃতি হাতড়ে আমার প্রত্যেক বন্ধু বান্ধবীর মাকে আমি দেবীর আসনে দেখতে পাই। মা ছিল মা-ই; আমার মা আর বন্ধুর মা সব মিলেমিশে একাকার। মায়ের পায়ের তলেই আমাদের বেহেশত বা হেভেন,আহারে জগত সংসার বিশশতকের মহা প্রয়ানে স্মরণযোগ্য মা আর খুঁজে পাবে না, এই বেদনায় ধরিত্রী আজ কারবালার প্রান্তর বা বিজ্ঞাপন ইলিউশনের কুরুক্ষেত্র।

আজকের পোস্ট মডার্ণ মায়েরা খুব ব্যস্ত। তাই বিজ্ঞাপন দেখে বড় হচ্ছে একবিংশের দেব শিশুরা। কথা শিখতে দেরী হচ্ছে, যা শিখছে তাও বাংলিশ কিচির মিচির। উত্তরাধুনিক মা বলছেন, বেঙ্গলি ইজ টাফ এন্ড হেকটিক, সবাইকে ব্র্যাডপিট অথবা এঞ্জেলিনা জোলির মত ইংরেজী বলতে হবে। ঢাকা ইজ আ বস্তি। সো ক্যানাডা এমিরিকায় গিয়ে ইংরেজী বলতে হবে। লেটস গো টু স্কলাসটিকা, মাস্টার মাইন্ড, আমাদের সমবয়েসী যারা ইংলিশ মিডিয়াম সিদ্দিকীজে পড়েছিল তারা এখন সব নাসায় রকেট চালাচ্ছে, মোস্ট সাকসেসফুল ড্রপ আউট অফ হার্ভার্ড বিল গেটসের চেয়েও সফল হয়েছে।সুতরাং বাদ দ্যাও খ্যাত ল্যাঙ্গুয়েজ বেঙ্গলি, লেটস লার্ণ আর্ণ এন্ড রক উইদ ইংলিশ।

ইংলিশ মিডিয়ামে ইংলিশ পড়াচ্ছেন যারা তারা ঢাবির ইংলিশ ডিপার্টমেন্টের রদ্দি মাল। নইলে তাদের হাতে তৈরী এতো অগণিত অপদার্থ রিসেশনে ধরা খেয়ে ঢাকায় এসে হাসিনা মা-খালেদা আম্মির দরজায় ধর্ণা দেবেন কেন। এইখানে ড্যাড আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছিলেন। সেই কলাগাছ খেয়ে বড় হওয়া বার্গার হাতি বা হট ডগেরা এখন চেইঞ্জ চেইঞ্জ বলে মাতোয়ারা করছেন ঢাকা ওরফে ধাক্কার শহর।

আমাদের মায়েরা সব খ্যাত, ছেলে-মেয়ে-নাতি নাতকুরের জন্য চোখের পানি ফেলে অন্ধ হয়ে গেলেন, আর আজকের মাম্মিরা ছয় মাসের মেটার্নিটি লিভ পেয়ে ফেসবুকে ইউনাইটেড হসপিটালের পশ আতুড় ঘরের ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন করছেন, দ্যাট ওয়াজ দ্য বেস্ট মোমেন্টস অব মাই লাইফ। তারপর বাচ্চা মানুষ করার দায় নানুর ওরফে গ্র্যানির। দিদাকে ধারে কাছে ভিড়তে দেয়া যাবে না যদি বাংলা শিখে ফেলে, যদি বাপ-দাদার মত ইমোশনাল ফুল হয়। এমনকি অনেস্ট বা সৎ নানার লেজেন্ড নিয়ে এত বাড়াবাড়ির দরকার নাই, টুডেজ বেবি শুড বি আ বেবি মেড ফর ক্যাপিটালিজম।

এখন ভুরুঙ্গামারির সফল মফিজের বাচ্চা ঢাকার বইপুস্তক বর্জিত শোপিস যাদুঘর বা লিভিং রুমে বিজ্ঞাপন দেখে দেখে বাংলিশ শিখতে ব্যর্থ হলে বাচ্চার পরের ধনে পোদ্দারী খালা তাকে অটিস্টিক বলে চিহ্নিত করে। গোলকের বিশাল একটি বৃত্ত ফেসবুকের কল্যাণে তাকে পাগল বলে চিহ্নিত করে। আর ব্লগের তুলসীলিক্সের কইয়াদিমুরা সেই স্টোরী ব্রেক করে। অর্থাৎ দশ চক্রে ভগবান ভূত।

এরকম দুএকজন ডিফেমড বাচ্চাকে ঢাকার অসুস্থ কোলাহল থেকে সরিয়ে ব্যস্ত ঘড়ির কাঁটা থেমে যাওয়া ভুরুঙ্গামারীর সুস্থ কুঁড়ে ঘরে রাখার পর একবছরে যদি তাকে স্পষ্ট বাংলা-ইংরেজী আর ছবি আঁকা-গান বা বিতর্ক শিখিয়ে ফেলা যায় তখন পোদ্দারী খালা আর ব্লগের কইয়া দিমুরা কোথায় দাঁড়ান মানবাধিকার লংঘন ও কুতসা রচনার দায় এড়াতে।আইন কে নিজের হাতে তুলে নেবেন না, বাংলা ছবির রংধনু পুলিশ বৃষ্টি শেষে যখন বাণী চিরন্তণী নিয়ে হাজির, সুতরাং পোদ্দারী খালা বা তুলসী লিক্সের কইয়া দিমু ত্রয়কে আপাতত সুপারী দেয়া যাচ্ছেনা। তবে ধরিত্রী তাদের সুপারী দেবে, পোদ্দারী খালা কুতসার জননী নিজের সন্তানের কাছে প্রত্যাখাত হয়ে আজ একাকী, ব্লগের কইয়া দিমু রা বিদেশের চাকরী হারিয়ে ঢাকার ট্যাফিকে খাবি খাচ্ছে বা খাবে বা নুইয়র্কে ভিক্ষা করবে।

আর মাম্মি তখন অনেক দেরীতে হলেও বুঝবেন রবীন্দ্র সঙ্গীত বা লালন শুধু মাথা দুলানোর শোপিস নয়। খরগোস সমাজে কচ্ছপ ধর্ম প্রচারের পয়গম্বর ঐসব আলোর মানুষ। জননী জন্মভূমিশ্চ সর্গাদপী গরীয়সী না হতে পারলে ষোল আনাই মিছে, মাম্মি। প্লিজ ট্রাই টু রিড বিটুইন দ্য লাইন্স।


পুণশ্চঃ বাংলিশ ভাষায় পোস্ট রচনার দায় লেখকের নয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29307951 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29307951 2011-01-15 13:52:34
লস্ট ইয়েস, ডিফিটেড নো!
আমার পরিচিত বেশ কিছু মানুষকে ঢাকার আকাশ ঢাকা ব্যালকনীতে এমেরিকা-ক্যানাডা-অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হবার মরিয়া আকাংক্ষায় পায়চারী করতে দেখলাম। দেশে মন টিকছে না, বাচ্চাদের বিদেশে পড়াতে হবে।আমরা সরকারী ইস্কুলে পড়েছি। আমরা পরাজিত মেঘ দল দেশের বাইরে যে কোন ইউনিভার্সিটি বা কোচিং সেন্টারে পড়াই, ট্যাক্সি চালাই, কাঠ মিস্ত্রীর কাজ করি বা গিটার বাজিয়ে ভিক্ষা করি, এই সব কাজের শক্তি দিয়েছেন প্রাইমারী স্কুলের একজন পরাজিত মেঘ বা হাইস্কুলের একজন পরাজিত দার্শনিক।

রাজশাহী-ঈশরদীতে আমার স্কুলের বন্ধুরা যারা কচ্ছপ ছিলো, এখন তারা খরগোসদের চেয়ে সুখী। বাচ্চাকে স্কলাসটিকা বা মাস্টার মাইন্ডে পড়ানোর চ্যালেঞ্জ নেই। আমার দুএকজন বন্ধু অস্ট্রেলিয়ায় বা ক্যানাডায় ইমিগ্র্যান্ট হয়ে খাবি খাচ্ছে। ঢাকার সেরা কর্পোরেট ম্যানেজার হুট করে আমাদের মতো পিটজা অর্ডার সাপ্লাই করতে পারবে না। কারণ মিনারেল ওয়াটার ছাড়া ওরা কলের পানি খায়নি। সরকারী কলেজের অধ্যাপক ক্যানাডায় ২০ হাজার ইউরো খরচ করে গিয়ে এখন হঠাত করে নাইট গার্ড হতে পারেননা, কারণ তারা আমাদের মতো রাত জেগে হল্লা করেননি।

আমার কতটুকু পেলে চলে, কেন আমার গাড়ী লাগবে, ঢাকায় বাসে চড়তে অসুবিধা, কিংবা সিনজিতে চড়ে রাত বিরেতে ফিরলেই ক্ষতি কী? ক্যানাডা এমেরিকায় ইউরোপের মতো বাস ট্রাম ব্যবহারের সুযোগ নাই। গাড়ী কিনতে হবেই, সুশীল সমাজ সুখের পিছে ছুটে লাভ নেই। টরান্টো বা সিডনিতে সুখ নাই। অপ্রবাসী আর অঋণগ্রস্ত থাকাই সুখের আদি অকৃত্রিম সংগা। ঢাকায় সিএনজি বা ট্যাক্সিতে চড়লে বড় জোর মোবাইল ফোন ছিনতাই হবে, কিন্তু সুখের খোঁজে ক্যানাডা-এমেরিকা গেলে জীবনটাই ছিনতাই হবে।

সুশীল সমাজ আপনারা বরং ঢাকায় থাকুন, ছিনতাই কারী সন্ত্রাসী দের বিদেশ যেতে সাহায্য করুন। ওরা ২৪/৭ কুকুরের মত পরিশ্রম করে রাজার মতো রেমিট্যান্স পাঠাবে অভাজন আতিউর রহমানের ব্যাংকে। মুহিত সাহেব জানেন কিভাবে বাংলাদেশের মুদ্রা মান ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে ওপরে তুলে নিয়ে যেতে হয়। একটু ধৈর্য ধরুন। নাহিদ সাহেবকে শিক্ষার মান বাড়াতে দিন। সমাজে শিক্ষক-সাংবাদিকদের সততার অগ্নিপরীক্ষা চলছে। বাংলাদেশ সত্যের শক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাংলাদেশী তরুণ কাঠ মিস্ত্রী অস্টম শ্রেণী পাশ কাজের গুণে মস্কোতে ডাক পাচ্ছেন। কিন্তু আপনাদের লেখাপড়ার যে হাল আপনারা ঢাকার বাইরে কোথাও কথিত সাফল্য পাবেন না।সাফল্য পাবে ক্যাডার-টেন্ডার সন্ত্রাসীরা। ওরা গোটা গোলকের ডলার-ইউরো ছিনতাই করে নিয়ে আসবে। এরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির অনমনীয় যোদ্ধা। আর আপনাদের কথিত সাফল্যের তথ্য সংরহ করছে তিরিশের নীচের মুক্তিযোদ্ধারা।

সফল সুশীল সমাজ এবার একটু ট্র্যাফিক জ্যামে ভিক্ষার নিয়তিতে আটকে থাকা শিশুটির দিকে তাকান। জানি আপনাদের টকশোতে যাবার তাড়া, ভয়াবহ জ্যামে ডিজের বাংলিশ শিতকারে ফ্রয়েডীয় প্রশমন না করে ভিক্ষুক শিশুটির হাতে আপনার কালো টাকা তুলে দিন, সোয়েটার বিতরণ করুণ, কম্বল বিতরণ করুণ। ইমিগ্র্যান্ট হবার উদগ্র কামনায় বাংলাদেশের টাকা স্ট্যাচু অব লিবার্টিতে জমা দিয়ে ভিক্ষুকের পরিণতি বরণ করবেন না। বাংলাদেশের টাকা কোথাও যাবে না বরং কথিত সার্টিফিকেটহীন শ্রমিকদের দেখে শিখুন। উনারা আমাদের হিরো যারা রক্ত পানি করে ডলার-ইউরো নিয়ে আসবেন দেশে।

অভিবাসী হবার আত্মকেন্দ্রিকতা আপনাদের হিরো থেকে জিরো করে ফিরবে।আমি আপনাদের এসব বলার কে। আপনাদের দেয়ালে বছরের পর বছর মাথা খুঁটে আপনাদের দম্ভ টলানো গেলো না, ঢাকার গজদন্তের মিনার গুলো ধসে পড়বে ২০১২র মধ্যে। ঢাকা তখন হয়ে যাবে মৃত জোনাকির থমথমে চোখ। আমরা অশিক্ষিত, বাজে ইংরেজী উচ্চারণের গর্দভেরা তখন তিম্বাক্তুর বা ডারফুরের কুসুমকলি স্কুলে পড়িয়ে দিব্যি বেঁচে থাকবো, কাঠ বডি কুড়িল বাংলাদেশ বিমানে চড়ে মাকে দেখতে গ্রামে যাবো। ঢাকাতো আমাদের মতো গবেটদের জন্য নেহাত টার্মিনাল। আপনাদের ঢাকা আপনাদের থাকুক। আমরা মফিজেরা ছিলাম,আছি,থাকবো। এটিএন বাংলায় আপনাদের রেড কার্পেট শো দেখবো। আর লিখবো অ আ ক খ অনলাইন মিডিয়ায়। সুতরাং ভাববেন না গেম ইজ ওভার। এমনকি ওয়াক ওভারো নয়। লস্ট ইয়েস, ডিফিটেড নো!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29305779 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29305779 2011-01-11 17:19:09
সত্যে আস্থা রেখে আওয়ামী লীগের এবার অন্তত সভ্য আচরণ করা উচিত
মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে আওয়ামী লীগের ভূমিকা অবিসংবাদিত। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা, ৩০ লাখ শহীদ, শরণার্থী কিংবা ধর্ষিতা মায়েরা সবাই ছিলেন বাংলার আমজনতা। কাজেই মুক্তিযুদ্ধকে মনোপোলাইজের যে আওয়ামী আত্মভরিতা তা আউটডেটেড এবং সুইসাইডাল। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ছাড়া বাকি সব বাংলাদেশী বাংলাদেশ পন্থী এই সহজ সত্য আওয়ামী লীগ যত তাড়াতাড়ি বোঝে ততই বাংলাদেশের সভ্যতা যাত্রা দ্রুতগামী হয়।

গত বিএনপি জামাত প্রো-তালিবান শাসনের সময় জাতির জনককে ইতিহাস থেকে মুছে দেবার হীন প্রচেষ্টার সময় আওয়ামী লীগের কোন সাহায্য বা প্রণোদনা ছাড়াই বিবিসি শ্রোতাজরীপে বঙ্গবন্ধু হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালীর পালকটি জিতে নেন। এরপর জাতির জনকের মর্যাদার বিষয়ে আওয়ামী লীগের অতি স্পর্শ কাতরতা হাস্যকর। বঙ্গবন্ধু এমন এক নেতা, যত দিন যাবে বাংলাদেশ তার পর্বত প্রতিম কিংবদন্তীর সাক্ষী হতে থাকবে।

এখন পর্যন্ত তাঁর ব্যাপারে আমজনতার আক্ষেপ, উনি বাঙ্গালীর অর্থনৈতিক মুক্তির যুদ্ধটা জিতে দেবার সুযোগ পেলেন না। উনি বাঙ্গালীর মুক্তির প্রতীক এটা গোটা পৃথিবী জানে। বিটিভি বা আমার দেশ বা নয়া দিগন্ত বিএনপি জামাত আমলে বঙ্গবন্ধুকে আড়াল করার চেষ্টা করলে তাতে বাংলাভাষী গোলকের কিইবা এসে যা, কোটি কোটি বাঙ্গালীর বুকে যে নাম গর্বের অক্ষরে উতকীর্ণ তাকে প্রতিষ্ঠার জন্য কোন দলীয় ততপরতা প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়না। বরং বাঙ্গালী জাতিকে সভ্য জীবন নিশ্চিত করতে পারলে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর লিগ্যাসীর আরেকজন সফল নেত্রী হিসেবে সুচিহ্নিত হবেন। তাই বাংলাদেশটা আওয়ামী লীগের নয়, আমজনতার এই বাস্তব বোধোদয় এই মুহূর্তে খুব জরুরী হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশে প্রধান সংকট হচ্ছে ক্রেডিট গোজ টু হুম। কাজলরেখা গল্পের কাঁকন দাসীরাই ক্ষমতা কাঠামোতে। অন্যকে ক্রেডিট দেয়া বা ক্রেডিট শেয়ারের কোন মনোভাব আমাদের সংস্কৃতিতে অনুপস্থিত। আওয়ামী লীগ মনে করে বাংলাদেশের সব সাফল্য দেশ রত্ন ও তার আওয়ামীলীগের, বিএনপি মনে করে বাংলাদেশের সব সাফল্য আপোষহীন নেত্রী ও তার বিএনপি-জামাতের। আর ব্যর্থতার দায় তারা একে অন্যের ঘাড়ে ফেলে ৯১ থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটিদিন নষ্ট করেছে প্রতিহিংসায় আর লোভের চর দখলের বাকশিয়াল বনাম ধানশিয়াল ক্যানিবালিজমে। দেশের প্রতি বিন্দুমাত্র মায়া দয়া থাকলে কেউ কাজ ফেলে কামড়া কামড়িতে সময় নষ্ট করেনা।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডটি কোন স্থানীয় বিষয় নয়। কিউবা বা রুশবান্ধব মুজিব দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন পুঁজিবাদের জন্য মাথা ব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। আমরা বিগব্রাদারদের দেশীয় অনুচরদের কয়েকজনকে ফাঁসি দিয়ে জাতির জনক হত্যার বিচার পেয়েছি বলে আত্মতুষ্টি পাচ্ছি। এরপর অন্ধকার গ্রামে যেটা হয়, জাতির জনক হত্যার জন্য জিয়াউর রহমানকে দায়ী করছি কোন প্রমাণ ছাড়া। এহচ্ছে কাজ ফেলে ক্যাচালে সময় নষ্টের রেসিপি।

জিয়াউর রহমানের দায় যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের পুনর্বাসন। সেই সঙ্গে জাতির জনকের ব্যাপারে অনুশীলিত নীরবতা পালন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির এই ঐতিহাসিক সত্য গোপন, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও তালিবানপন্থী মনোভাবের কারণেই গত নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা ঐতিহাসিক সত্যকে জয়যুক্ত করেছে। আওয়ামী লীগের সত্যে আস্থা রেখে এবার অন্তত সভ্য আচরণ করা উচিত ছিল। আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশে আর কোন রাজনৈতিক দল থাকবেনা, সরকারের সমালোচনা করলেই তাকে দিগম্বর করতে হবে এই জিম্বাবুয়ে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিণতি যে কোন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের জানা প্রয়োজন। প্রথম আলোর মতিউর রহমান বা নোবেল বিজয়ী ইউনুসের বিরুদ্ধে গ্রাম্য কইয়াদিমু মিডিয়া ক্যাম্পেন চালিয়ে আমরা বুঝতে পারি জিয়া যেমন বঙ্গবন্ধুকে মিডিয়া ক্যু করে মুছে দিতে পারেননি, ইউনুস বা মতিকে মোছা ঐরকম অসম্ভব।

শীর্ষ নেতা-নেত্রীদের বয়স অনেক বেশী,কিন্তু আত্মকেন্দ্রিকতা ও বাস্তব বুদ্ধি শিশুদের মতো। বা বালিতে মুখ লুকানোর চেষ্টায় ব্যর্থ অস্ট্রিচের মতো।
যখন যে দল ক্ষমতায় বাংলাদেশের মালিক যেন তারা,বাকি সব চাকরস্য চাকর। এই নির্বোধ দলীয় মনোভাব ঢাকা গ্রামের প্রতিটি পঞ্চায়েতী বৃত্তে। নিজেকে সবচেয়ে বড় ভাবা রোগ মূর্খ বাঙ্গালীর, নকল করে পাশ করা লোকজন নিজের মনোপলি ধরে রাখার জন্য ভন্ড পীরদের মতো আচরণ করবে এ আর নতুন কি।

জাতির জনক হিসেবে শেখ মুজিব সব সমালোচনার উর্ধে। বাংলাদেশের কোন নাগরিকের বঙ্গবন্ধুকে অসম্মানের কোন কারণ নেই। কারণ পতাকা ভূগোল জিতে দিয়েছেন তিনি আর কতো চাই। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের সুফল ভোগকারীদের চোরের খনিতে বসে বঙ্গবন্ধু পেরে ওঠেননি লোভীদের নিয়ন্ত্রণ করতে। যিনি হয়তো পারতেন, সেই তাজুদ্দীনকেও একঘরে করে ছিল কতিপয় মূর্খ হাতা। যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশের প্রশাসন ভঙ্গুর হয়। কিন্তু আমজনতার ধৈর্য আদতেই কম। বাঙ্গালী এতো দ্রুত তার নেতার ওপর অনাস্থা এনে ফেলে যে মুজিবের মতো হীরা ফেলে নানারকম কাঁচ তুলে নেয়।

বাংলাদেশ প্রশাসনে জিয়া-এরশাদ ছিলেন মন্দের ভালো, আর তাদের মসনদে বসিয়েছে যখন বিগব্রাদাররা তখন জলপাই শাসনের ম্যাজিক দেখতে হবে,দরিদ্র দেশের মানুষের নিয়তি তো ওইরকমি। হাসিনা খালেদার সুকৃতি তারা বাংলাদেশকে জলপাই শাসন থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন। ৯১-৯৬ সময়ে বিএনপি বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরকে চাঙ্গা করেছে, ৯৬-০১ সময়ে আওয়ামীলীগ কৃষিতে বাম্পার ফলন ফলিয়েছে। ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশে কাজ ফেলে রাজনৈতিক কোন্দলে সময় নষ্টের সংস্কৃতি চালু হয়। আমৃত্যু দেশ চালানোর নির্বোধ আকাশ কুসুম কল্পনার পরিণতি ২১ অগাস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাপী জঙ্গীপশু মোতাতাজাকরণ। শেখ হাসিনা মিডিয়ার শক্তি দেখলেন। সারা দেশের মানুষ জেনে গেল বিএনপি-জামাতের ছায়া নৃত্যের খবর। ভোট কেন্দ্রে গিয়ে আওয়ামী লীগের গুণী নেতাদের পাশাপাশি কলাগাছদের আমজনতা ভোট দিল দেশ বাঁচাতে।

এর পর আওয়ামী লীগের আর বিএনপি-জামাত নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে প্রতিদিন এতো হিংস্র হয়ে ওঠার কারণ ছিল না। ২০০১-০৬ বিএনপির শাসনামলের আওয়ামী সংস্করণ ২০১৩র নির্বাচনে তিরিশটি আসন নিয়ে আসবে,এতো বাংলাদেশ গণতন্ত্রে প্রমাণিত সত্য।

ইতিহাসে নাতসী উত্তেজনার শীঘ্রপতন আমরা বার বার দেখেছি। তবুও আমাদের দম্ভের শেষ নেই। একটা দেশ চালাতে একটা প্রশাসন লাগে,একটা কারখানায় যেমন ম্যানেজার লাগে। কিন্তু বাংলাদেশ রাষ্ট্রটা হয়ে দাঁড়িয়েছে আদমজী জুট মিলের মতো। ম্যানেজারেরা ব্যস্ত দেশের মালিকানার লড়াইয়ে,এটি জব্বারের বলী খেলার চেয়েও জনপ্রিয়। কারখানার প্রতিটি চাকা যখন ঘরঘর করছে তখন ক্ষমতাসীন ম্যানেজারদের উচিত নিজের চরকায় তেল দেয়া। খালেদার সম্পদ, ইউনুসের নোবেল,মতিউর রহমানের প্রথম আলো এইসব চরকায় তেল দেয়ার জন্য আমজনতা আছে। আপনারা বরং নিজের চরকায় তেল দিন। দেখুনতো পতাকাটাকে অর্থবহ করে তোলা যায় কিনা। হাজার বছর ধরে শোষণের দোজখের কড়াই থেকে আমজনতা মুক্তি চায়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29289603 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29289603 2010-12-14 18:20:05
চৌদ্দ ডিসেম্বরের অপারেশন পে ব্যাক
ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্র শুনলে এখনো পাকিস্তানের টপ গানরা অনুভব করে এই প্রতিষ্ঠানের শক্তি, সাংবাদিকতা,চলচ্চিত্র,শিক্ষা এবং শিল্পকলা ও সংগীতে, সিভিল ও মিলিটারী সার্ভিস সবজায়গায় পূর্ব পাকিস্তানের শক্তির কাছে ৫২ র ভাষা আন্দোলনের পরপরই পশ্চিম পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবীরা সমীহের সঙ্গে পরাজয় মেনে নেন। পাকিস্তানের ডন পত্রিকাটি গড়ে ওঠে ঢাকা ইউনিভার্সিটির ইংরেজী সাহিত্যের কয়েকজনের হাতে। ঢাকার ইংরেজী পশ্চিম পাকিস্তানের ইংরেজী চর্চার রোলমডেল সেই ষাটের দশক থেকে।করাচী আই বিএর তুখোড় ছাত্ররা ঢাকার তাদের পশ্চিম পাকিস্তানী ক্লাসমেটরা এই মিথের প্রত্যক্ষ দর্শী। বলা প্রয়োজন যারা ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সুযোগ পেতনা,পাকিস্তান আমলে তারা করাচী ইউনিভার্সিটিতে পড়তো। এতে বোঝা যায় ৪৭ এর পর থেকেই বাঙ্গালী পুরোপুরি অপেক্ষাকৃত অশিক্ষিত বা দুর্বল শিক্ষিত লোকের শাসনে অবরুদ্ধ। পূর্ব বাংলার সত্যজিত রায় বা জীবনানন্দ কলকাতায় গিয়ে যে সুসংস্কৃতির শুভ সূচনা করেছেন আর জ্যোতি বসু বাম শাসনের কাস্ত্রো হয়েছেন সেটা কলকাতার বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে বাঙ্গাল ভালোবাসা এবং ঈর্ষা উভয়ি উদ্রেক করেছে।

বাঙ্গালীর মেধাকে ভয় পেয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকরা মার্কিন সমর্থন নিয়ে ১৪ ডিসেম্বর ইনটেল্লেকচুয়াল হলোকস্ট ঘটায়। পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকেরা বাংলা মেধার সঙ্গে পদে পদে পরাজিত হয়ে পাশবিক প্রতিহিংসায় ঢাকা ইউনিভার্সিটির দর্শনের অধ্যাপক জিসি দেব বা সাংবাদিক সিরাজুদ্দীনের মতো ডাকসাইটে সাংবাদিককে হত্যা করে। শহীদুল্লাহ কায়সার,জহির রায়হান সাহিত্য-চলচ্চিত্রের দুই প্রবাদ পুরুষকে সরিয়ে দেওয়াতে আজ আমরা সাহিত্য-চলচ্চিত্রে বনসাই হয়ে আছি। ৩৯ বছর ধরে যে মিডিওক্র্যাসি বাংলাদেশের সৃজনশীল অঙ্গণে বিরাজ করছে তা ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী গণহত্যার ডমিনো এফেক্ট, এবিষয়ে কিছু উজ্জ্বল ব্যতিক্রমী উদাহরণ এনে তাই সময় নষ্টের কারণ দেখছি না। পাকিস্তান চেয়েছিল বাংলাদেশের শিক্ষা এবং সৃজন শীলতাকে বন্ধ্যা করে দিতে।

বাংলাদেশের ডিসেম্বর উড়ালের দুই সুপারম্যান মুজিব-তাজের ছবি আর ইয়াহিয়া-ভুট্টোর ছবি পাশাপাশি দেখলে তাদের চেহারাতেই মেধা ও সাংস্কৃতিক মানের পার্থক্য স্পষ্ট।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের অভ্যুদয় ঘটে,পাকিস্তানে ভুট্টোকে ফাঁসিতে ঝোলাতে সেনাশাসক জিয়াউল হকের অভ্যুদয় ঘটে। ঢাকা জিয়া ইসলামাবাদের জিয়ার চেয়ে অনেক মেধাবী ও স্মার্ট ছিলেন অফিসার হিসেবে।

পশ্চিম পাকিস্তানের মেধা ও সংস্কৃতির হীনমন্যতা শান্তিপ্রবণ বাংলাদেশ বুদ্ধিনেতাদের ওপর তাদের এই আদিম হামলা ও মানবাধিকার লংঘনে মরিয়া করে তোলে।

শেখ মুজিবের ৭ই মার্চ ভাষণের যে ইন্টেলেকচুয়াল হাইট এবং অন্তর্শক্তি তা গান্ধী-জিন্নাহ বা নেহেরুর বক্তৃতায় খুঁজে পাইনি। মুজিবের ভাষণ তাজমহলের মতো মৌলিক। ভারত মুক্তির অন্য শীর্ষ নেতাদের ভাষণ ইট দিয়ে তৈরী তাজমহলের মতো সুন্দর অথচ অমৌলিক।

তাজউদ্দীন মুক্তিযুদ্ধকালীন কূটনীতিতে এমেরিকা,চীন, রাশিয়া সবাইকে হ্যান্ডেল করে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে কৌশলী বন্ধুতা বজায় রেখে মুক্তিযুদ্ধকে লক্ষ্যে নিয়ে গেছেন। ঢাকার মানুষকে কাজে বিরক্ত ঢাকার মানুষ ছাড়া কেউ করেনা। তাই ভাসানীর অভিমান আর মুশতাকের কূটচালের কাঁটা তাঁকে সরাতে হয়েছে সার্বক্ষণিক ভাবে।

মুক্তিযুদ্ধের পরে তাজউদ্দীনকে মুজিবের ব্যাটিং পার্টনারশীপ থেকে সরিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের অনুরূপ অশিক্ষিত ও নির্বোধ রাষ্ট্র কায়েম করা হয়। মুজিব বাঙ্গালীর মুক্তির পতাকা ভূগোল জিতে দেবার পর সময়-সুযোগ-বাতাবরণ পেলেন না বাঙ্গালীকে সভ্যতার পথে নিয়ে যেতে। রক্ষীবাহিনীর পান্ডারা তাজউদ্দীনকে একঘরে করার পর দেশ জুড়ে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মতো মুক্ত মানুষদের তাদের অশিক্ষিত নির্বোধ আদিম উতপীড়নের শিকার করলো। মুজিব একা হয়ে যাওয়ায় আর বিপর্যয় ঠেকাতে পারেননি সমাজ এবং রাষ্ট্রে। জীবন দিয়ে উপলব্ধি করলেন সৎ মানুষ মূলত একা। উনি যখন জীবনে প্রথম ফোন ঘুরাচ্ছেন তার নিরাপত্তার জন্য বাইরে একদল ইন্টারমিডিয়েট পাশ খুনী, সাহায্য চাচ্ছেন বিএ ফেলদের কাছে বা আরো দূরে ৭২ সালে পাশ করা বাকশালীদের কারো সাহস নেই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালীকে বাঁচাতে আসার। মৃত্যুর মুহূর্তে জিসি দেব বা শহীদুল্লাহ কায়সারের মতোই অসহায় ছিলেন ৭ই মার্চ কবিতার কবি মুজিব। যেমন অসহায় ছিলেন তাজউদ্দীন, হুমায়ুন কবির, হুমায়ুন আজাদ,গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী বা অধ্যাপক ইউনুস কিংবা সম্প্রতি লোকমানপুরে দলীয় ক্যাডারদের হাতে প্রাণ হারানো শিক্ষক মিজান।

শাহরিয়ার কবির থেকে সেলিম রেজা নিউটন, রাষ্ট্র দল মত নির্বিশেষে অসাম্প্রদায়িক লিবেরেল মানুষদের কষ্ট দিয়েছে, প্রতিটি নির্বিরোধ ছাত্রকে দলীয় ক্যাডাররা জিজ্ঞেস করেছে তুই কি ছাত্র লীগ না ছাত্র দল। প্রতিটি নির্বিরোধ আমমানুষকে ফেনসিডিল মানিকেরা এসে জিজ্ঞেস করে তুই কী আওয়ামী লীগ না কি বি এনপি। বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজের এখন ত্রিশংকু অবস্থা, একদিকে আওয়ামী লীগ অন্যদিকে বিএনপি জামাত অন্যদিকে ঘরের বন্ধু বিভীষণ দলীয় সাংবাদিক-শিক্ষক-কবি-টিভি উপস্থাপক।

কিন্তু মুজিব-তাজের মৃত্যুর পর ডা। মিলন বা হুমায়ূন আজাদের মৃত্যুর দৃশ্য দেখে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ নিষ্ক্রিয়তা ফেলে পথে নেমেছে। পড়ে পড়ে মার খাবে সরদার ফজলুল করিম- পলান সরকারেরা আর প্রাডো হাঁকাবে দেলোয়ার-নতুন হানিফ, এর ওষুধ হিসেবে এই ১৪ ডিসেম্বরে শুরু হচ্ছে তথ্যমুক্তিযুদ্ধ। রাষ্ট্রের অপকর্মের ও দুর্নীতির তথ্য আসতে শুরু করবে অনলাইনে। বাংলা ব্লগ চর্চায় সত্য উন্মোচনের আগুণ রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণ জুলিয়ান এসাঞ্জের সত্যবিপ্লবের সূত্র ধরে বাংলাদেশের অনুন্নয়ন ও অনগ্রসরতার ছবি উন্মোচনের এক সুনামী এসেছে। বাংলাব্লগাররা উইকীলিক্সের সঙ্গে যুগপত নাগরিক ব্লগ সহ নানাব্লগে এর শুভসূচনা আগেই করেছে। শিক্ষিত মানুষকে উত্তরীয় পরিয়ে শাখামৃগদের শোবিজ শোবিজ খেলার গ্রাম্য যাত্রাটিকে যখন শাহরুখ রাণীর আলকাপের নৃত্য তাসের ঘরের মতো উড়িয়ে নিয়ে যায়, তখন অল্টারনেটিভ মিডিয়ার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরী হয়, কিভাবে ঢাকাকে দেলু-নতুন হানিফের শহর পরিচিতি থেকে আবার মুজিব তাজ বা জিসি দেবের শহরের পূর্ব পরিচয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। এটাই চৌদ্দ ডিসেম্বরের অপারেশন পে ব্যাক।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29288316 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29288316 2010-12-12 17:26:57
তোমাদের যা বলার ছিল বলছেনা তা বাংলাদেশ পাঠকদের শতকরা নব্বুই ভাগ দলনিরপেক্ষ সুস্থ মানুষ। এরা মেধা আর পরিশ্রমে ব্রেড এন্ড বাটার উপার্জন করেন। ফলে এদের রাজনৈতিক ভাবনা দেশপ্রেম ও সেক্যুলার বাঙ্গালী সংস্কৃতি সংক্রান্ত। ফেসবুকে বা সামহোয়ারইন বা ই-বাংলাদেশ ডট অর্গে, আমার ব্লগপোস্টে পাঠকদের পছন্দ-অপছন্দ-মন্তব্য পর্যবেক্ষণ করে অনলাইন পাঠক মনস্তত্ত বুঝতে চেষ্টা করেছি।

১৬ ডিসেম্বর সামনে রেখে আমি বিনয়ের সংগে শতকরা দশভাগ রাজনৈতিক গোত্রভুক্ত মৌলবাদী পাঠকদের অতিপ্রতিক্রিয়াশীলতার শেকড় খুঁজতে চেষ্টা করবো।

প্রথমেই বলে নেয়া প্রয়োজন, আওয়ামীলীগ মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনের প্রধান দল এবং এখন পর্যন্ত ধর্মনিরপেক্ষতা দলটির মননে সক্রিয়। ফলে বাংলাদেশের রাজনীতি সচেতন অথচ দলনিরপেক্ষ মানুষ এই দলটিতে আস্থা রাখে। কিন্তু এই দলটি মেধাবী তরুণদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে। শেখ হাসিনা বনাম ইউনুস বিতর্কে ৯০ভাগ পাঠক যখন সভ্যভাষায় মন্তব্য করছে, তখন বাকি ১০ভাগ পলিটিক্যাল ইন্টারেস্ট গ্রুপ,ভুল বাক্য-বানান ও জীনসঞ্জাত খিস্তি দিয়ে আত্মপরিচয় তুলে ধরছে। অধ্যাপক ইউনুস-শেখ হাসিনা-খালেদা জিয়া কেউই সমালোচনার উর্দ্ধে নন, এমনকি আমাদের বাবা-মাও সমালোচনার যোগ্য। আমি সমালোচনার ব্যাকরণ মেনে,পলিটিক্যালি কারেক্ট শব্দবন্ধ ব্যবহার করে গরীবের রক্তচুষলে ধরা খেতে হবে, উদ্ধৃতিটির সামগ্রিকতা তুলে ধরেছি একটি ব্লগ পোস্টে, ইউনুস-হাসিনা-খালেদা বা সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেণীর সবার ক্ষেত্রেই শেখ হাসিনার উদ্ধৃতি প্রযোজ্য সেটা তুলে ধরতে চেয়েছি।

কিন্তু বাংলাদেশের গণতন্ত্র যে গোত্রতন্ত্র বা কাল্টোক্র্যাসি এটা বুঝলাম যখন আওয়ামীলীগের এক ভার্চুয়াল সমর্থক এসে লেখার মানে না বুঝে,নিজের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে কোন সচেতনতা ছাড়াই বেশ কিছু খিস্তি ব্যবহার করে আমাকে শেখ হাসিনার শত্রু প্রতিপন্ন করতে চেষ্টা করলেন। উনি বারবার বলছেন এর সঙ্গে কোন আর্থিক সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা। লেখার সঙ্গে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাবার কারণ, এই দলীয় ক্যাডাররা মনে করে রাজনৈতিক সমর্থন ও সমালোচনা টাকা পয়সার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এখন যে সব ক্যাডার বাংলা ভাষায় লেখা কলামের মানে বুঝতে পারেনা, তাকে এটা বোঝানো কঠিন যে বাংলাদেশে আমি এবং আমার সমসাময়িক ও অনুজপ্রতিম প্রজন্মের অনেকেই পেশার ক্ষেত্রে আশানুরূপ সাফল্য পেয়ে মাসলোর হায়ারার্কি অফ নিড পূরণ করে কোন অন্যায় আর্থিক উপার্জন থেকে নিজেদের দূরে রাখতে প্রত্যয়ী। ফলে দেশ সম্পর্কে নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ লেখা আমাদের পক্ষে সহজ।

অবাক ব্যাপার ফেসবুকের নোটে যখন আওয়ামী ক্যাডারের খিস্তি চলছে, তখন বিএনপির এক সমর্থক ইবাংলাদেশে কালচার অফ কন্সপিরেসি এন্ড ভেনজিয়েন্স কলামটিকে আওয়ামী সমর্থকের লেখা বলে অভিযুক্ত করলেন। আওয়ামীলীগ সমর্থক লিখছেন খালেদার সমালোচনা কই? বিএনপি সমর্থক বলছেন হাসিনার সমালোচনা কই? অর্থাৎ এরা হাসিনা এবং খালেদা কাল্টের লোক দেশের চেয়ে নেত্রী ও দল বড় তাদের কাছে। আওয়ামী ক্যাডারের প্রশ্ন তুই কী বিএনপি? বিএনপি ক্যাডারের প্রশ্ন তুই কী আওয়ামী লীগ? অস্থি মজ্জায় যার দলীয় উপার্জনের ক্যালসিয়াম তাকে কি করে বোঝাবেন, আই এম আ সিটিজেন অব পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ। আমজনতার কাছে দেশ বড়। হালুয়ারুটি ভাগের ভিক্ষুক জীবন তাদের দরকার নাই। দুটো হাত আছে, পেটে বিদ্যা আছে, সততার ডালভাত খেয়ে আমরা গ্লোবাল ইকুইটির পক্ষে কাজ করি একেবারেই ব্যক্তিগত পর্যায়ে।

ভারত-পাকিস্তানের ব্লগে তাদের জাতির জনক গান্ধী ও জিন্নাহ সম্পর্কে বিজেপি বা পিপলস পার্টির ক্যাডার এসে কখনোই কোন বাজে কথা লেখার কথা ভাবতেই পারে না। এটা একটা কমনসেন্স। এটা বিএনপি জামাতের ক্যাডারদের বেশ কম প্রমাণিত হয়, যখন তারা ব্লগে এসে আমাদের জাতির জনক সম্পর্কে অসাংবিধানিক কথাবার্তা লিখে।

চট করে চোখ পাকিয়ে খিস্তি করার এই ইলান ভাইটাল টাকা পয়সার সঙ্গে জড়িত। কাজ দিয়ে,যুক্তি দিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক করার ক্ষমতা যাদের নেই,তাদের পার্টির ফোনে পাওয়া ঠিকাদারির বা অন্যান্য সুযোগ সুবিধার প্রতিদান খিস্তি করেই দিতে হয়। মাঝারী নেতার সামনে ব্লগের গালির প্রিন্ট আউট দেখিয়ে যদি নিজের অবস্থান ধরে রাখতে হয়,তাহলে বলাই বাহুল্য এধরণের অবস্থানকে খুব বেদনা দায়ক বলে উপলব্ধির সময় এসে গেছে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা থেকে ব্লগের হাতা পর্যন্ত যেটা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন যে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমের সুযোগ আজকের পৃথিবীতে কোথাও নেই। বিএনপি গত নির্বাচনে যে টোটাল ভোট পেয়েছে তা আওয়ামী লীগের পাওয়া টোটাল ভোটের খুব দূরে নেই। আসন সংখ্যা দেখে বিভ্রান্ত হওয়া অপরিণত আচরণ। আওয়ামী লীগের আসন জিততে সাহায্য করেছে নিরপেক্ষ ভোটাররা যারা আওয়ামী লীগ বা বিএনপি নয়। গত বিএনপি-জামাতের দুর্নীতি ও তালিবানিকরণএ ভয় পেয়ে তারা নৌকার জোয়ারে ভেসেছে। নির্বাচনী মেনিফেস্টোর বাজার দর, আইন-শৃংখলার রক্ষা কবচ,মানবাধিকার সব কিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চোখের বদলে চোখ যে আদিম খেলা আওয়ামীলীগের ভিলেজ পলিটিশিয়ানরা খেলছেন, গ্লোবাল ভিলেজ পলিটিক্সে সেটা সুসাইডাল। বাংলাদেশ বাঁচাতে আওয়ামী লীগের এখনি সচেতন হওয়া জরুরী। আজকের দিনে ভালো পারফরমেন্স ছাড়া চাকরী বা ক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন। উইকীলিক্স ইস্যুতে হিলারী ক্লিনটনের নাস্তানাবুদ অবস্থা দেখেও যদি হাসিনা সচেতন না হন, তাহলে ২০২১এর ডিজিটাল বাংলাদেশের পরিকল্পনা অবাস্তবায়িত রয়ে যাবে।

অন্যদিকে বিএনপির ক্যাডাররা ব্লগে এসে এমনভাবে কথা বলেন যেন ২০০১ থেকে ০৬ হাওয়াভবনদুর্নীতি,বাংলাভাই তালিবান হামলা,২১ অগাস্ট গ্রেণেড হামলা,দশ ট্রাক অস্ত্র উলফাদের পাঠানোর পথে ধরা পড়া এসব কিছুই ঘটেনি। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় বিএনপি সেই ৭৬ সালের ইসলামী প্রজাতন্ত্রে আটকে আছে, আওয়ামী লীগ যেমন আটকে আছে বাকশালে। কিন্তু ৭২-৭৬ এর চেয়ে বাংলাদেশে শিক্ষার হার বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। ফলে অচল পদ্য হয়ে যাচ্ছে দেলোয়ার-নতুন হানিফের অমৃত বচন। বাংলাদেশের বিকাশমান তারুণ্য গ্লোবালাইজেশনের অভিঘাতে আলোকিত, অন্যদিকে স্থানীয় রাজনীতিতে এখনো নোয়াখালী বা ফরিদপুর আঞ্চলিকতা। বাংলাদেশের রাজনীতি আওয়ামী এবং বিএনপি মৌলবাদের খাইয়া লামু,ছিইড়া ফালামু,মাইরা লামু গোত্রের কাল্ট ফ্যাসিবাদে অবরুদ্ধ।

বাঙ্গালীর ডিসেম্বর ঊড়ালের দুই সুপারম্যান বঙ্গবন্ধু তাজউদ্দীন বেঁচে নেই। তাদের ভিডিও ফুটেজে মেধা-প্রজ্ঞা-ক্ল্যারিটি আর আগামীমনস্কতা দেখে আজকের আওয়ামী লীগকে চেনা কঠিন হয়, কঠিন হয় কাল্টোক্র্যাসির আদিম বাংলাদেশকে মেনে নিতে যেখানে আদিম মন্ত্রী একজন মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করে গ্রাম্য পঞ্চায়েতীর বর্বরতা মিডিয়াজেনিক করে তোলে। বঙ্গবন্ধু-তাজউদ্দীন বা তিরিশ লাখ শহীদের যা বলার ছিলো, বলছেনা তা বাংলাদেশ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29287666 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29287666 2010-12-11 16:48:24
এসাঞ্জের মুক্তি চাই। জয়তু তথ্য মুক্তিযুদ্ধ।
গিভ মি আ ব্রেক, যে দেশের সিটি সেন্টারের ডিসকো থেকে ইউনিভার্সিটির ডর্মে একটা বিয়ার অফার করে চোখে চোখ পেতে কিছুক্ষণ গম্ভীর থেকে ঠোটের কোণায় দুষ্টু হাসির রেখা তুলে গিভ মি আ ফাইভ করলেই নেফারতিতি থেকে আফ্রোদিতি স্টুডিও এপার্টমেন্টের চাবি হাতে তুলে দিয়ে পাশে বসে গাড়ি চালায় আর গুণগুণ করে গান করে ভেঙ্গে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে,তারপর শ্যাম্পেন বোতল খুলে টেক মি টু নাইট এনিথিং ইজ পসিবল বলে সুশীল সম্মতিতে পাসওয়ার্ড দেয়, সেই দেশে এসাঞ্জের মতো ৩৯ বছর বয়েসী অস্ট্রেলীয় যুবক কোন বরফকুমারীকে হ্যাকিং করেছে,এটাতো একেবারেই সরাইলে শেকল তুলে দিয়ে হ্যাকড জরিমনের সঙ্গে জুলিয়ানের বিয়ের আগের পর্ব মনে হচ্ছে।

বর্তমান পর্বটি লিখেছেন হিলারী ক্লিনটন। মনিকা লিভনিসকি গল্পটিও সম্ভবত তারই লেখা। হিলারী ক্লিনটন ওয়ান ওয়ার্ল্ড অর্ডারের ছাত্রী, ক্লিনটনকেও কাজ করতে দেননি ঘ্যান ঘ্যান করে, এখন ওবামার পথে কাঁটা বিছিয়ে দেয়াই এই লৌহমানবীর প্রতিদিনের কাজ।হিলারী ক্লিনটন নিজের মেধাকে ওভারএস্টিমেট করেছিলেন। তিনি বুশের কাজটাই লুকিয়ে করতে গিয়ে মাকড়সার জালে জড়িয়ে গেলেন। উইকিলিক্স সেই জাল বিছিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সমস্ত মানবাধিকার লংঘন ও যুদ্ধাপরাধের তথ্য হিলারীর সিন্দুক থেকে চুরি করেছে।

হাসিনা-খালেদা-মনমোহন-জারদারির এবং দক্ষিণএশিয়ার রাজনীতি-ব্যবসার আদার ব্যাপারীদের যাদের কাছে টাইটানিকের ডুবে যাবার খবর আছে তারা নড়ে চড়ে বসেছেন। ব্যাপারটা কি। কি হচ্ছে,অফিসিয়াল সিক্রেসি এক্টের তেজারত তো উজাড় হয়ে যাচ্ছে। এটা শুধু হিলারীর সমস্যা নয়, হিলারী বা ওয়াশিংটনের ওয়ান ওয়ার্ল্ড অর্ডারের এজেন্টদের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার যেসব নেতা নেত্রীর চিঠি চালাচালি হয়েছে, সে সবি এসে যাবে ধীরে ধীরে, স্ট্যাচু অব লিবার্টীতে চিড় ধরেছে, মার্কিন দাদাগিরির সমস্ত গোপন তথ্য এখন স্ট্রবেরি-আম-খেজুর-জাম জনতার জিমেইল ইনবক্সে। কেউ কেউ ডাউনলোড করে পড়ছেন।

চেগুয়েভারাকে বলিভিয়ায় গোপন কারাগারে সি আই এ এজেন্ট গুলি করে মারার আগে চে বলেছিলেন, আমাকে মেরে ফেলতে পারো,কিন্তু আমার আইডিয়া, সাম্রাজ্যবাদের মুখোশ খুলে দেবার আইডিয়াকে কিভাবে হত্য করবে। সুষম বন্টনের মানবিক গোলক রচনার প্রধান শত্রু ওয়ান ওয়ার্ল্ড অর্ডারের ইলুমিনেত্তি সমাজ। যারা অর্থনীতির রোবোট দিয়ে সমাজকে শাসন করে।

বন শহরের রয়টার্স ফ্যামিলি পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী পরিবার। এরা গোলকের যে কোন রাষ্ট্রের চেয়ে ধনী। রয়টারের পাঁচ ছেলে গোটা ইউরোপের প্রধান ব্যাংক গুলোর ওপর মালিকানা প্রতিষ্ঠা করার পর এমেরিকা সহ গোটা পৃথিবীতে তাদের পুঁজি লগ্নি করে, আজ অব্দি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় একক মালিকানা। ফ্রি মেসেনারির অধরা দর্শনটি এসাঞ্জের জালে ছায়ানর্তকদের মুখোশ উন্মোচনের অপেক্ষায়। চে গুয়েভারা সেই আইডিয়ার কথা বলেছিলেন যা যুদ্ধবাজ শোষকদের মুখোশ উন্মোচন করবে।

ক্যানাডার এক নেতা এসেঞ্জকে হত্যা করার পরামর্শ মিডিয়ায় দিয়েছেন, এতো আরেক ওসামা বিন লাদেন। প্রকাশ্যে নরমুন্ডুর এলান দেয়ার পরেও ইন্টারপোল তাকে গ্রেফতার করেনি, এসেঞ্জের সুইডিশ ইভহ্যাকিং এর সরাইল ফাঁসাইয়া দিমু কেস নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করছে।

বাংলাদেশে যেমন মতিউর রহমান বা শফিক রেহমান বা মাহমুদুর রহমান বা ফরহাদ মাজহার বা অধ্যাপক ইউনুস এদের প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকান্ডে যদি কোন দুর্নীতি থাকে তা ধরতে না পেরে নানারকম কইয়া দিমু কেস দিয়ে পুলিশ ডনবৈঠক করছে আর এসেঞ্জের উইকীলিক্স জাহাজের খবর ভেবে আদার কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক নেতা,ব্যবসায়ী-সেনা-আমলা-এনজিও-ধর্ম ব্যবসায়ীর প্রতিটি তথ্য এখন তিরিশের নীচের সিটিজেন জার্নালিস্টরা সংগ্রহ করছেন। বাংলাভাষী অনেক জুলিয়ান এসাঞ্জ ওরফে জলিল আশরাফ আছে। এরা মোস্ট সাকসেসফুল ড্রপ আউটস অফ বাংলাদেশ এডুকেশন সিসটেম। এরা অফিসে চে গুয়েভারার টিশার্ট পরে বসদের ঘৃণাভাজন হয়। এরা ইনফরমেশন ফ্রিক। জীবনে কিছুই করতে পারার কথা না কিন্তু কোন একটা কাজ এরা এতো ভালো পারে যে বস না দেখার ভান করে সহ্য করে।এরা তথ্যের রবিন হুড। এদের চাহিদা খুব বেশী নয়। ভ্রমণ এদের প্রিয়। ইভদের ব্যাপারে আগ্রহ বেশ কম। ঢাকার জলিল আশ্রাফ প্যারিসের মুলানরুশের নায়িকার সঙ্গে চ্যাট করে, বাস্তবের শীলাদের সঙ্গে খুব ভদ্র ভাবে মেশে।

জুলিয়ান সম্পর্কে ওয়াশিংটনের তুখোড় প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিকিনীরা বলছেন, যে লোক লিভিং লেজেন্ড হয়ে গেছে তার আর ভয় কী? মিডিয়া আছে তার সাথে। নিউইয়র্কের তথ্য আবেদনময়ী টিভি হোস্ট্এরা অন দ্য স্ক্রিণ জুলিয়ানের সত্য শিকারের ব্যাগপ্যাকার মৃগয়াকে অভিনন্দন জানাচ্ছে, আর ঘষেটি বেগম স্ট্যাচু অব লিবার্টির ফাটল বাঁচাতে সরাইলের ধর্ষণ মামলা ফেঁদেছেন সুইডেনের কাপুরুষ আদালতে, সেখান থেকে তাকে পেন্টাগণে চা খেতে নিয়ে যাবার কাজটা ইন্টারপোল সি আই এর স্পেশাল এজেন্টদের হাতে দিয়ে দেবে। হিলারীর মুল্লুক, আমাদের কালো ছেলে ওবামা পদ্মলোচন ভাবছেন শান্তির নোবেল প্রাইজটা এসেঞ্জকে জেলখানায় একটা জয়েন্ট ফূঁকতে ফুঁকতে দিয়ে দেবেন।

কিন্তু এসেঞ্জতো বাংলাদেশের জলিল আশ্রাফ না যে তাকে এনকাউন্টারে মেরে দেবেন। এসাঞ্জ অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। সিডনীতে কেউ জিজ্ঞেস করেনি এসাঞ্জ আওয়ামী লীগ না বিএনপি, এসাঞ্জ অস্ট্রেলিয়ান, সুতরাং তার মানবাধিকার যাতে লংঘন না হয় সেদিকে নজর রেখে উইকীলিক্সে গোমর ফাঁক হবার জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছে অস্ট্রেলীয় সরকার। কূটনৈতিক সম্পর্কের ৩৬০ ডিগ্রী অবস্থান! একজন নাগরিক যার বিরুদ্ধে সামনে ইভ হ্যাকিং এর অভিযোগ পেছনে ওয়াশিংটনের অফিশিয়াল সিক্রেট এক্টস ও এসপিওনাজ রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা, অস্ট্রেলিয়ার প্রথম কাজ সে এসাঞ্জের মানবাধিকার নিশ্চিত করা। চে গুয়েভারার ইক্যুইটির আইডিয়া কেন জুলিয়ান এসাঞ্জের মাথায়, ইঙ্গ-মার্কিন-জার্মান ইলুমিনেত্তি সমাজ চের এই সাম্যের ভাইরাস নির্মূল করতে চায়।

কিন্তু এসাঞ্জের পক্ষে তৃতীয় গোলক যুদ্ধে চে গুয়েভারার হ্যাকাররা যুক্ত হয়েছে,তারা সুইডেন,সুইটজারল্যান্ডে এসাঞ্জের শত্রু প্রতিষ্ঠানের তথ্যশালা লুন্ঠন করেছে। এসাঞ্জ বার বার বলেছেন সত্য উন্মোচন কোন অপরাধ হতে পারেনা।এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসন বুঝতে চেষ্টা করছে টুইনটাওয়ার লাদেন হামলার চেয়ে এসাঞ্জের তথ্য হামলা বেশী ক্ষতি করে ফেললো কিনা। এসাঞ্জকে নিয়ে ঘষেটি ও তদীয় চাকরেরা যত লেবু কচলাবে, যত বেশী তেনা পেচাবে তত দ্রুততার সঙ্গে স্ট্যাচু অব লিবার্টি ধসে পড়বে। নোয়াম চমস্কি গ্রীণ টিতে চুমুক দিয়ে মৃদু হাসছেন।ম্যাকিয়াভেলীর প্রাসাদের কৌটার মধ্যে লুকিয়ে থাকা সাদা-কালো-বাদামী জনতার প্রাণভ্রমর উইকীলিক্স মুক্তি দিয়েছে। সরকারী আর কর্পোরেট মিডিয়ার শোষণের বিপরীতে উইকীলিক্সের এই সাফল্য; ইতিহাসের চাকাটাকে শঠতার ল্যাবিরিন্থ থেকে উদ্ধার করে সত্যের ড্রিম শাটলে বসিয়ে দিয়েছে। ফলে জগত জোড়া ভার্চুয়াল বন্ধুতার আশীর্বাদ উইকীলিক্স ও এসাঞ্জের সঙ্গে।

ভয় পেওনা এসাঞ্জ সক্রেটিসের চ্যালা, চে গুয়েভারার মৃত্যঞ্জয়ী স্কোয়াড,গান্ধী, কাস্ত্রো বা বঙ্গবন্ধুর চেলা,মার্টিন লুথার কিং বা ম্যান্ডেলার শিষ্যরা, কনফুসিয়াসের অনুসারীরা, গোলকের আটানব্বুই ভাগ সত্য-সুন্দর-মঙ্গল প্রিয় মানুষ তোমার সঙ্গে আছে। জয়তু তথ্য মুক্তিযুদ্ধ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29286494 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29286494 2010-12-09 18:05:28
গরীবের রক্ত চুষলে ধরা খেতে হবেঃ হাসিনা
উনি গতকাল ইউনুস সম্পর্কে যখন বললেন, গরীবের রক্ত চুষলে ধরা খেতে হবে, তখন তাকে ত্রিকাল দর্শী টিরেসিয়াস মনে হয়েছে। উনি এই কথাটা শুধু ইউনুস স্যার সম্পর্কে একথা বলেননি। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক বিপর্যয় দেখে উনি নিশ্চিত হয়েছেন হাওয়া ভবনের গরীবের রক্ত চোষার কারণে বিএনপি গত নির্বাচনে ধরা খেয়েছে। সুতরাং এটা একটা অটো সাজেশন। আওয়ামীলীগের মন্ত্রী-এমপি-ব্যবসায়ী-কর্মীদের গরীবের রক্তচোষার পরিমাত্রার ওপর ২০১৩ র নির্বাচনের ফল নির্ভর করছে। দুর্নীতিবাজ প্রতিটি মানুষের সামনে বাঁধিয়ে রাখার মতো বাণী চিরন্তনী। গরীবের রক্ত চুষলে ধরা খেতে হবে।

ইউনুস স্যার গোলকের সামাজিক ব্যবসায় সফল হবেন আমি নিশ্চিত। কারণ অর্থনীতি বুড়ো হয়ে গেছে। সাহিত্য আর বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখা সময়ের চেয়ে এগিয়ে। আর অর্থনীতির একশো দুশো বছর আগের পান্ডুলিপি শোষণ ছাড়া নতুন কিছু নিয়ে আসেনি। গ্রোথ উইদ ইকুইটি আর সোশ্যাল বিজনেস এছাড়া কোন দিকনির্দেশনা নেই। জিডিপি গ্রোথ দিয়ে গোলকের উন্নয়ন মাপার যে আউটডেটেট পদ্ধতি অর্থনীতির চিকিতসকরা প্রেসক্রাইব করেছেন তা বাংলাদেশে সম্পদের আকাশ পাতাল ব্যবধান তৈরী করেছে।

বসুন্ধরা-বেক্সিমকো-ট্রান্সকম পুঁজিপতির সঙ্গে তাদের খোলা মিডিয়ার সাবএডিটরের বিত্তের ব্যবধান, শেখ হাসিনার সঙ্গে তার এলাকার ভোটার অনাহারী ফাহমিদা খাতুনের অর্থনৈতিক সামর্থ্য (কমপক্ষে শাড়ীর সংখ্যা),খালেদা জিয়ার সঙ্গে বাস্তুহারা মারিনা বেগমের বিত্তের পার্থক্য (কমপক্ষে কসমেটিকসের মান কারণ শফিক রেহমান ফেয়ার এন্ড লাভলী হবার জন্য খালেদার কসমেটিকস আওয়ামী লীজের বাদামী মন্ত্রীরা চুরি করেছেন জানিয়ে ঘেউ ঘেউ করেছেন) আকাশ পাতাল। একিভাবে ইউনুস স্যারের অর্থনৈতিক সামর্থের সঙ্গে জোবরা গ্রামের গ্রামীণ ব্যংকের প্রথম সদস্যের কোন তুলনাই হয়না। আবেদ স্যারের মেয়েটির ক্রেডিট কার্ডের সামর্থ্যের সঙ্গে কাঁথা সেলাইয়ের মার রেশন কার্ডের পার্থক্য ভয়ংকর। গরীবের রক্ত না চুষলে এরকম গ্রোথ উইদাউট ইক্যুইটি সম্ভব হতো না। জয়তু উন্নয়নের রসট্রো মডেল।

হৃদয়হীন অর্থনীতির উপজাত আজকের ঢাকা শহরের গজদন্তের মিনার। বাংলাদেশে দুই শতাংশ হ্যাভস আর আটানব্বুই শতাংশ হাভ নটস অর্থনীতির রূপকার অর্থনীতিবিদ সাইফুর রহমানের সলিল সমাধির পরে এতোদিন গরীবের রক্তচুষে পার পেয়ে যাওয়া মানুষেরা ধরা খেতে শুরু করলেন। অধ্যাপক ইউনুসের কথিত ধরা খাওয়ার সমান্তরালে তার গবেষণা বান্ধবী হিলারী উইকীলিক্সের ফাঁদে ধরা খেলেন। খালেদা জিয়া আগেই ধরা খেয়েছেন তদীয় পুত্রের উন্নয়নের হাওয়া মডেল বাস্তবায়ন করতে গিয়ে। হাসিনা তদীয় পুত্রের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করে এখন প্রতিদিন আওয়ামী লীগের আদিম শাসন-অনাচার ধরা খাচ্ছে। তাই শেখ হাসিনার ইউনুস সম্পর্কে উক্তি একটি রিয়ালাইজেশন।বঙ্গবন্ধু যাদুঘরের জন্য ফান্ড ট্রান্সফার আমার চোখে বা ইউনুসের বিদেশী টাকার ফান্ড ট্রান্সফার প্রশাসক মুহিতের চোখে একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। এরসঙ্গে ইউনুসের ব্যক্তিগত সততার বা অসততার সংশ্লেষ নেই। বঙ্গবন্ধু যাদুঘরের উন্নয়ন কাজে শেখ হাসিনা যদি সেরকম কিছু করে থাকেন, আমি সেটাকে শ্রদ্ধা করি।ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইউনুস-শেখ হাসিনা দুজনেই সৎ। নরওয়ের সেরা সাংবাদিক বিবিসির কাছে বলেছেন ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইউনুসের অসততার কোন প্রমাণ তিনি পাননি। শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত অসততার কোন প্রমান আমার কাছে নেই।

কিন্তু বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগের নেতাদের গরীবের রক্ত চোষা বা ধরা খাওয়া কোন ব্যাপারেই শেখ হাসিনা কিছুই করতে পারেন নি, গত দুবছরেও পারেননি, ভবিষ্যতে পারলে খুব খুশী হবো।অধ্যাপক ইউনুস গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে গরীবের রক্ত চোষা বন্ধ করতে পারেন নি। কারণ সুগার-কেইন্স অর্থনীতি পড়ে যিনি বড় হয়েছেন, যার বান্ধরী ঘষেটি বেগম হিলারী তিনি গোবরা গ্রামের সূফিয়ার দুখ কিকরে বুঝবেন, আর যার বাবা সওদাগর ছিলেন।

ইউনুস নোবেল কমিটির বিবেচনার অর্থনীতির মানবিক তত্ত দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু যেসব দেশে সরকারী বিনিয়োগের সম্ভাবনা নাই, সেইখানে গ্রামীণ অর্থনীতিকে কিছুটা লিকুইডিটি ও সচলতা দিতে ইউনুসের কাবুলীতত্ত সক্ষম। এহচ্ছে চুঁইয়ে পড়া কাজের বিনিময়ে খাদ্য অর্থনৈতিক নাটকের বিকল্প।ফলে শান্তির আশার পদকটি তাকে দেয়া হলো। নোবেল পদক জীবিত মানুষ্ পান। যাতে এই সম্মানের শক্তিতে কিছু মানব কল্যাণ লোকটা করতে পারেন। কিভাবে ইউনুস মানব কল্যাণ করবেন যখন জাতির বুক গ্যালিভরের বুক হয়ে গেলো প্রথম আলোর উতসাহদাত্রী পোস্টারে।

ঢাকার সুশীল মধ্যবিত্ত অক্ষম সমাজ অশিক্ষিত রাজনৈতিক নেতাদের পায়গামা খোলা রাজনীতি আর হরতালে ক্লান্ত হয়ে ভাবলো এই আমাদের মাহাথির।কিন্তু রাজনীতিতে এখনো বাতাবী লেবুর ফুটবল প্রচলিত,দেশের চেয়ে ক্ষমতা বড়,সেখানে ইউনুস বেমানান। ঢাকার বিগ মাউথ সুশীল সমাজের স্তুতিতে ইউনুস মাহাথির হবার পথে পা বাড়িয়েছিলেন। তাতে ক্ষিপ্ত হলেন শেখ হাসিনা। তিনি তার পেশায় ইউনুস-মতিউর রহমান বা এরকম কোন শিক্ষিত বড় খেলোয়াড় ঢুকতে দিতে চাননা। নতুন হানিফ বনাম পুরোনো দেলোয়ার বাতাবী লেবু ফুটবল এক এগারোর ইনজেকশন দিয়ে বন্ধ করতে গিয়ে মাইনাস টু কমেডিতে বাংলাদেশ সময় নষ্ট করলো। আবার যেই লাউ সেই কদু। লর্ড ক্লাইভ আর জলপাই কমেডিতে কিছু গ্রেফতার বাণিজ্য শেষে শিম্পাঞ্জী রিপাবলিকের গোল্ড ফিস মামোরী ভোটাররা ৯৫-০১এর হাজারী শাসনের কথা তখন ভুলে গেছে। তারেকের হাওয়া ভবন আর বাংলাভাই কেলেংকারি সূত্র ধরে শিম্পাঞ্জীকুল আওয়ামীলীগের ব্যবসায়ী কলাগাছদের ভোট দিয়ে দিলো। কারণ বিএনপির প্রার্থীরা দুর্নীতির দায়ে জেল খেটে ফিরেছে, তার বিপরীতে আওয়ামীলীগের সিজারিয়ান অপারেশনে জন্ম নেয়া ঋণ খেলাপী, সে খবর আমজনতার অজানা।

২০০৮ সালের ডিসেম্বর নির্বাচনে রাজশাহী ছয় আসনের বিকল্প ধারার প্রার্থী হিসেবে আমার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। আমি বাঘা-চারঘাটের আমজনতার পছন্দের,কিন্তু আমার মার্কা তাদের শিক্ষণে নেই। ইউনিভার্সিটির বিতর্ক সংগঠন, সিভিল সার্ভিস, সাংবাদিকতার ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা, অর্থনৈতিক সততা, পলিসি মেকিং সক্ষমতা এসব কিছুই কাজে আসেনি। কারণ আমার নৌকা বা ধানের শীষ ছিলনা। আওয়ামী লীগের তৃণমূল যাকে নির্বাচন করবে, শেখ হাসিনা তাকে টিকেট দেবেন, এই সততার বয়ানে তুষ্ট হয়ে আমি আওয়ামী লীগের টিকেটের অযোগ্য ভেবে কোন লবি করলাম না। বদরুদ্দোজা চৌধুরীর চেয়ে এরশাদ বেশী ভোট আনতে সক্ষম তাই মহাজোটের টিকেট আমার ভাগ্যে জুটলো না।

পরে যখন দেখলাম আওয়ামী লীগ তৃণমূলের পাঁচ জন বাদ দিয়ে একজন লালমনিরহাটের ব্যবসায়ীকে রাজশাহী-৬ এ আওয়ামী লীগ নমিনেশান দিলো সেখানে গরীবের রক্তচোষার অশনি সংকেত দেখলাম। সুতরাং অন্তত জনগণের কাছে তথ্যপ্রযুক্তির খবর পৌঁছে দেয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ইলেকশনে নেমে গেলাম।কারণ তথ্যই গরীবের রক্তচোষা কমাতে পারে।টাকা নয় তথ্যই দারিদ্র দূরীকরণের শেষ অস্ত্র।

আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ী প্রার্থীর সামনে আমি ছিলাম ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার। গরীবের রক্ত চোষা নব্য আওয়ামী বণিকের মুখে লবণ দেয়ার ক্ষমতা আমার ছিল না, মানুষ তখন মার্কার জোয়ার আর শাড়ি-টাকা-লুঙ্গি-সোয়েটার-ফ্যাকটরীতে চাকরীর প্রলোভন আর ফেনসিডিল ডিলিরিয়ামে, এর সামনে কিসের তথ্য প্রযুক্তি।

আওয়ামী লীগের অর্থনীতিবিদেরা মহাজোট জিতলে বাজার দর সস্তা হবে এরকম একটি সাদাকালো-মূলা পোস্টার ঝুলিয়ে দিলো। আমজনতা ভাবলো শায়েস্তা খান মহাজোটের অর্থনীতিবিদ সম্ভবত। সুতরাং নানারকম ডিসেপশনের মধ্যে ফখরুদ্দীন-মঈন জেমস বন্ডেরা যখন হাসিনা-খালেদা দুজনকেই শত্রু বানিয়েছেন, তখন অপেক্ষাকৃত আগে গরীবের রক্ত চুষেছে, আমজনতা প্রায় বিস্মৃত এরকম আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাবার পক্ষে রায় দিলেন। সেই রায় নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী নাটকে রাং দে বাসন্তী করে রাজনীতিতে নবজাতকদের দিন বদলের গান জয়যুক্ত হলো। বিজয়ী প্রার্থী আমাকে ফোন করে জামানত বাজেয়াপ্তের অভিনন্দন জানালেন। গণতন্ত্রের সুধা পান করে ঢাকায় ফিরলাম।আমার বন্ধুবান্ধব কাউন্সেলিং করলো। এসব বাদ দে রাজনীতি করতে পয়সা লাগে। গান্ধি-মুজিব-জিন্নাহ-নেহেরু-তাজউদ্দীন কারো পয়সা লাগেনি। কিন্তু এখন টাকাই বাংলাদেশ রাজনীতির খোদা।

ইউনুস রাজনৈতিক দল তৈরির ঘোষণার পর হাসিনা সুদ খোর বলে টন্টিং করলেন, যেন উনার দলের নেতারা সব সততা খোর। আওয়ামী লীগ টন্টিং করে বাম বুদ্ধিজীবীদের বিএনপিতে ঠেলে দেয়। ইউনুস ওদিকে না গিয়ে নাকে খত দিলেন। সোশ্যাল বিজনেস সুত্র ধরে ওবামার গুরু হয়ে গেলেন। খেলোয়াড় তো খেলবেই। ঘরে বসে আঙ্গুল চোষা কাপুরুষ তিনি নন। হাসিনা ইউনুসকে সুদখোর বলে টণ্টিং করার পর আধুনিক রাজনীতির ভক্ত মাহমুদুর রহমান মান্নাও ইউনুস স্যারের ফোন ধরা বন্ধ করে দিলেন। মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর নিজের ছোট ভাই রাজনীতির চেয়ে সোশ্যাল বিজনেস গপ্পে বেশী আগ্রহ দেখালেন। ইউনুস দ্রুত জনারণ্যে একা হলেন। আমার বন্ধুরাও ভোটে হারার পর আমাকে এত একা করেনি।হয়তো নোবেল পাওয়ার সম্ভাবনা নাই বলে।

ইউনুস নাকে খত দিয়েছেন রাজনীতিতে উনি আসবেন না। এক এগারোর সেনা কর্মকর্তারা গণেশের মুর্তির মাথা খুঁজতে তার বাসায় সারারাত বসে ঢাকার মসনদে তাকে বসাতে রাজী করতে পারেনি। ফখরুদ্দীন সাহেব সে ভুলটা করেছেন। যে ভুল বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীরা করেন। পদের লোভ সামলাতে না পারা আমাদের জাতীয় রোগ। ইউনুসের চিন্তার জগত এখন গ্লোবাল। সামাজিক ব্যবসাই আগামীর ব্যবসা। বাঙ্গালীর ব্যবসায়ী বুদ্ধি এখন বাচাচ্ছে এমেরিকার অনুন্নত কাউন্টিগুলোকে। পুঁজিবাদের হোমিওপ্যাথির এই ডাক্তার গোলকের তাবত অর্থনীতির গুরুকে পিছে ফেলে দিয়েছে। নরওয়ের মিডিয়া সন্ত্রাস প্রতিহত করার ক্ষমতা ইউনুসের আছে। তবে ঢাকার বাতাবী লেবু ফুটবল মিডিয়া সন্ত্রাস তার ভক্তদের ভোগাবে। কিন্তু সামাজিক ব্যবসার জনক ইউনুসের মৃত্যু নেই।

ঢাকার মিডিয়ায় উনার অপমৃত্যুতেও হাসিনার কন্ঠে যে গরীব মানুষের রক্ত চুষলে ধরা খাওয়ার আশংকা ও রিয়ালাইজেশন প্রকাশ পেল, তা এই ডিসেম্বরের প্রাপ্তি। বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সততার লিগ্যাসী ধরে রাখাই এখন শেখ হাসিনার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ইউনুস গ্রামীণ ব্যাংকের রক্তচোষা নীতি সামাজিক ব্যবসায় শোধরানোর চেষ্টা আমৃত্যু করবেন। উনি কোলনের রেস্টুরেন্টে বসে এই অঙ্গীকার অন্তত পাঁচজন মানুষের সামনে করেছেন, রাজনীতিতে ব্যর্থ হয়ে আঙ্গেলা ম্যারকেলের আমন্ত্রণে সামাজিক ব্যবসা বোঝানোর সফরের সাইড লাইনে আমি স্যারেরএই অঙ্গীকারের সাক্ষী।
শেখ হাসিনাকেও বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সততার প্রমাণ আমৃত্যু নিজের জীবনে রাখতে হবে।গরীবের রক্ত চুষলে ধরা খেতে হয় এই সত্যকে রাজনীতিতে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার শেখ হাসিনা দেশবাসীর সামনে করেছেন। কোন রকম ভুল করার সুযোগ ইউনুস বা হাসিনার কারো নেই। ইউনুস এবং হাসিনার দীর্ঘজীবন প্রত্যাশা করছি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29284840 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29284840 2010-12-06 19:56:49
বিয়ার কোস্টারে বাংলায় লিখে দিলেন, ইউনুস
অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় ইউনুস স্যার এইম ইন লাইফ রচনা মুখস্ত করেননি, কুটির শিল্প ছিলো তার পছন্দের রচনা। ফিক্সিং দ্য এইম ইন লাইফ ইজ ভেরী ইমপরট্যান্ট। এ লাইফ উইদাউট এম ইজ লাইক আ শিপ উইদাউট আ রাডার। এইটা না জানার কারণে ইউনুস স্যার চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি থেকে ক্লাস নিয়ে ফিরে কাঁথা মুড়ি দিয়ে না ঘুমিয়ে জোবরা গ্রামে গিয়েছিলেন কোন কুক্ষণে আচরি।

ঘুম থেকে উঠে টিচার্স ক্লাবে গিয়ে কেরামবোর্ড খেলার পরিবর্তে লোক ঠকাতে জোবরা গ্রামে গিয়েছেন। সওদাগরের ছেলে বলেই কঠিন ব্যবসার পোকা মাথায় ছিল, কিন্তু অলস মধ্যবিত্তের মতো সহজ ব্যবসার বুদ্ধি ছিলো না।

টিচার্স ক্লাবে লাল নীল হলুদ প্যানেলের সঙ্গে কচলাকচলি করার বুদ্ধি উনার ছিলো না। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী স্যারের মতো সবচেয়ে যোগ্য শিক্ষক উপাচার্য হবার সুযোগ পাননি। সেইখানে ইউনুস স্যারের পক্ষে ভিসি হওয়া সম্ভব হতো না। তবে ইউনুস স্যারের যে ব্যবসায়ী বুদ্ধি তাতে আপাকে বা ম্যাডামকে ইমপ্রেস করে অর্থমন্ত্রী উনি হতে পারতেন। সেটা না করে উনি হিলারীকে ইমপ্রেস করেছেন।ফলে খেলাটা মাইক্রো থেকে ম্যাক্রো পলিটিক্সে চলে গেছে। এর কোন কিছু যদি উনি করতে না পারতেন তাহলে এখন উনি চট্টগ্রামে ইউনুস জুয়েলারীর মালিক হতেন। সেটা চট্টগ্রামের লোকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতো। সরকার সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরীকে বুদ্ধি দিয়ে বাগে আনতে বারবার ব্যর্থ হলেও ইউনুস স্যার উনার সুদের ব্যবসার ফাঁদে ফেলে সাকার বাংলোর ঝাড়বাতি খুলে নিতেন। অর্থাৎ ইউনুস স্যারকে আটকে রাখা কঠিন হতো যে কোন পেশায়।

অমর্ত্য সেন বিছানায় শুয়ে অর্থনীতির দর্শন চিন্তা করে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করে যখন নোবেল পুরস্কার পেলেন, বললেন প্রত্যেক বছরি লোকজন বলে এবার আপনি নোবেল পাচ্ছেন, পরে অন্যলোক পায়। যাক শেষ পর্যন্ত দিলো। এই ছিল তার প্রতিক্রিয়া। আর ইউনুস স্যার দৌড়ঝাঁপ করা লোক। এর আগে কয়েক বছর ইউনুস স্যারের এনজিও সতীর্থরা তার বিরুদ্ধে উড়ো ফ্যাক্স করে ইউনুস স্যারের প্রশংসা করেছে। ফলে নোবেল কমিটি রীতিমত পুলিশ ভেরিকিকেশন করে অবশেষ নোবেল দিয়েছে। অমর্ত্য সেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার মতো মানুষ কলকাতায় নেই। থাকলেও ফ্যাক্স করার লোক নেই। কলকাতার ফ্যাক্সের খরচ বাঁচানোর মিতব্যায়িতা অমর্ত্য স্যারকে দুদন্ড শান্তি দিয়েছে।

নোবেল বিজয়ী আবদুস সালামের মরণেও পাকিস্তানের ধর্ম ব্যবসায়ীরা তাকে নিষ্কৃতি দেয়নি, উনি জন্মগতভাবে আহমদীয়া সম্প্রদায়ের লোক হিসেবে উতসাহী সুন্নীরা তার কবরের এপিটাফ ভেঙ্গে রেখেছে। ভারতের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের গুরু ফৈয়াজখাঁর কবরটি ধুলোমলিন।তবে ভারতে শ্রদ্ধা জানানোর সংস্কৃতি অপেক্ষাকৃত বেশী সচল।

উল্লিখিত ঘটনাবলী থেকে প্রতীয়মান হয় দক্ষিণ এশিয়ার মাজার সংস্কৃতি রাজনৈতিক। এইখানে নোবেল বিজয়ীদের দেহ না রাখাই ভালো।আর কিছু যদি নাও পারে পায়জামা খুলে পড়া রাজনৈতিক সংস্কৃতি অন্তত কবরের এপিটাফ খুলে নেবে।

আর আমরা যারা গবেষণা করে ইউনুস স্যারকে শিকারের চেষ্টা করছি তাদের জেনে রাখা ভালো, লবি না করে আরেকটা নোবেল শান্তি পুরষ্কার না পেলে উনাকে ভুল প্রমাণ করা অসম্ভব।আমাকে গত দুদিন ধরে ইউনুস তোষণ করতে দেখে অবাক হবার কিছু নাই। উনি নোবেল বিজয়ের পর জার্মানীতে এসেছিলেন জার্মান চ্যাঞ্চেলর আঙ্গেলা মেয়ারকেলের আমন্ত্রণে।

উনার সমভিব্যহারে বার্লিনে আর কোলনে বাঙ্গালী রেস্টুরেন্টে ফ্রি লোডিং করেছি। বাঙ্গালীরা বাঙ্গালী আত্মীয়ের কাছে মাছ-ভাতের বিল নেয়না। ইউনুস স্যার তবুও ডয়চেভেলের ফারুক ভাইকে বলেছিলেন, এরা এতো খরচ করছে,এটা ভালো দেখায় না। ফারুক ভাই বিল দিতে চেষ্টা করলে বাঙ্গালী রেস্টুরেন্ট মালিক স্তম্ভিত হয়ে যান।যাই হোক এখন বুঝতে পারছি উনি নরওয়ের পয়সায় বিল দিতে চেয়েছিলেন।রেস্টুরেন্টে জার্মান খাদকরা ইউনুস স্যারকে দেখে দৌড়ে আসলো, কাগজ নাই বিয়ার কোস্টারে বাংলায় লিখে দিলেন, ইউনুস।স্যারকে নিয়ে বিদেশীদের আদিখ্যেতা দেখে খুব বাঙ্গু হিংসায় কয়লা হচ্ছিলাম। কেজানে বছর দশেক শুয়ে শুয়ে ট্র্যাশ ইংজিরি বই লিখে নোবাল কমিটির জুতা মুছেও ব্যর্থ হবার পর আমিই স্যারের এপিটাফ খুলে নেবো। কিন্তু এমেরিকায়,আফ্রিকায়,ইউরোপে ছোট খাটো মানুষের বিয়ার কোস্টারে যে ইউনুস নামটা থেকে যাবে সেইটার কী হবে?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29283553 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29283553 2010-12-04 18:40:47
তুলসীলিক্সে আইনস্টাইনের গোমর ফাঁক
১৯৩২ সালের ডিসেম্বর। পদসদামারপ্লাতজে আইনস্টাইন বসে কফি খাচ্ছিলেন।মনে তীব্র বিবমিষা, সিটিজেনশীপ ক্যানসেল হবার আগের আশা ভঙ্গের দিন। এখন এমেরিকায় পালানো ছাড়া উপায় নেই। আইনস্টাইন এটাকে খুব অপমানজনক ভাবছেন।নাতসী ক্যাডাররা আউসলান্ডার বলে টন্টিং করে চলে গেল।স্টাইনের গবেষণা সহকারী ক্লওডিয়াকে দেখে জুপার ফ্রয়েন্ডেন ইস লিবে ডিস বলে শিস দিয়ে চলে গেল এক মাথা ন্যাড়া নরখাদক।

ক্যাফের বাইরে এক ইন্ডিয়ান উঁকি ঝুকি মারছে, সম্ভবত বার্লিনে নতুন। স্টাইন লোকটাকে ঈশারা করলেন।লোকটা চেয়ারে না বসে দাঁড়িয়ে রইলো।একটা চিঠি এগিয়ে দেয়, সেখানে লেখা, টু হুম ইট মে কনসার্ণ। দিস ম্যান ইজ হার্ড ওয়ার্কিং এন্ড অনেস্ট। প্লিজ হেল্প হিম টু হেল্প দ্য ডিসট্রেসড হিউম্যানিটি অব ইনডিয়া। হি হ্যাড বিন আপরুটেড ফ্রম হিস হাউজ বাই দ্য টাইর‌্যান্ট জমিনডার।দিস ইস আ ফাইনাল কল টু সেভ আ ডাইং ম্যান। রিগার্ডস, জীবনানন্দ দাস, লেকচারার, ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট বিএম কলেজ, বরিশাল,ইস্ট বেঙ্গল, ইন্ডিয়া।

ছিপছিপে গড়নের লোকটার চোখ দিয়ে আগুন বেরুচ্ছিল। ক্লওডিয়া ব্রোডশেন নিয়ে আসে কাউন্টার থেকে। তুলসী চক্ষু মুদিয়া উহা ভক্ষণ করে। হামবুর্গ থেকে অনেক শীতের কামড়,পুলিশের চোখ আর পোলিতজাইয়ের শেফার্ডদের তাড়া খেতে খেতে বার্লিনে পৌছেছে। তুলসী মনুর দেশের লোক। আইতে শাল জাইতে শাল দেয়া ছাড়া আর কিছুই পারেনা। মিষ্টান্নের দোকানে বসিয়া জমিদার বাড়ীর অন্দর মহলের গুমোর ফাঁক করিয়া দিতো সে, তার আগে ঝাড় বাতি পরিষ্কার করা আর জমিদার বাবুকে হুকা সাজাইয়া দেয়া,মাঝে মধ্যে চামর দোলানো, দাসী মহলে তুলসী রায় ছিলো হার্ট থ্রব। বড় রস করিয়া কথা বলিতে পারিতেন তিনি, তাহাতে রগড় থাকায় দাসীরা মিটমিটাইয়া হাসিত। তুলসী আড়ালে আবডালে উহাদের কদমা উপহার দিয়া জমিদারের শয়নপ্রক্রিয়ার খবর জানিত। প্রভাত লক্ষী মিষ্টান্ন ভান্ডারে গিয়ে নৌকা ডাকুদের সামনে মরিচ মসল্লা পরিবেশন করিয়া বাহবা কুড়াইতো। তুলসী এইভাবে তুলসী দাদা হইয়া ওঠে কীর্তনখোলার জলদস্যুদের।জমিদারের নায়েব তুলসীকে বারণ করিলেও তুলসী ডোন্ট কেয়ার, কিয়া হইবেয়ানে,আড্ডি উড্ডি বাঙ্গি সব গুড়া করি দেবে। হুইয়া থাকমুয়ানে আর চুলকাবানে।পরিণতি জমিদার বাড়ী থেকে গলাধাক্কা। তারপর ভেনিসের খালে ভেসে যাওয়া অর্ধমৃত শোষিত নিপীড়িত তুলসী।বরিশাল থেকে কলকাতা তারপর সুয়েজখাল হয়ে ডুকে পড়া সাদা কুষ্ঠ রঙ মানব মহাদেশে।

আইন স্টাইন বুঝতে পারছিলেন না হের তুলসীকে কোন কাজে লাগাবেন। উনি দাস প্রথার ঘোর বিরোধী, সমকক্ষ মর্যাদায় তুলসীকে গবেষণা সহকারীর কাজ দিলেন। তুলসীর নেত্র অশ্রুসজল হইল। এইবার একটু ক্লউডিয়ার দিকে তাকিয়ে বিহবল হয়ে গেল, জমিদার গিন্নীর চাইতে দামকুড়া। পর জনমে হইয়ো রাধা।

তুলসী দাস গুটেন মগেন গুটেন টাগ দিয়ে তার বেশীর ভাগ কথোপকথন চালাইয়া লইবার ফাঁকে ফাঁকে ডাইরী লিখিতে শুরু করিল।আজ আইনস্টাইন বা তুলসী কেহই বাঁচিয়া নাই। আইনস্টাইনকে লইয়া যাহারা নাচিয়া নাচিয়া আকুল হন তাহাদের জন্য আজিকার ব্রেকিং নিউজ নারী আর মোহরের ফাঁদে আইনস্টাইন।

২৫ ডিসেম্বর ১৯৩২,বার্লিন

আজ বরফ পড়িতেছে। বরফ পড়িতে দেখিলে আইনস্টাইন খুশী হন।এলসার বাতের বেদনা বৃদ্ধি পায়। উনাকে হানিমানের ছবি অলা শিশির ওষুধ খাওয়াইয়া ঘুম পাড়াইয়া শ্রীকৃষ্ণ আইনস্টাইন তাহার তিন গোপিনীরে লইয়া কি যেন পদার্থ,আলো,শক্তি লইয়া গবেষণা করে। পদার্থ মাটির ঢিলা, আলো কুপ্পি বাত্তি জালাইলে পাওন যায় আর শক্তি পাওন যায় মহাদ্রাক্ষারিস্ট পান করিলে। ইহা লইয়া ব্ল্যাক বোর্ডে e=mcলিখিয়া উপরে দুই লিখিয়া দিবার মাহাত্ম্য কী। মোগো বাড়ি বরিশাল। কি দেখিলাম কি হেরিলাম, গেলাসে মদ ঢালিয়া ক্লওডিয়া,সিনথিয়া আর মারিয়ানের গেলাসের লগে ঠুক্কাঠুকি। ইনুর সঙ্গে কিনুদের কিসের সম্পর্ক, আমি বুজি। e মানে আইনস্টাইন দ্রাক্ষারস খাইয়া শক্তি অর্জন আর সমান সমান m মানে মারিয়ান দুইডা c মানে বুঝতে হইবে ক্লওডিয়া আর সিনথিয়া। ব্যাপার বুঝছেন নি। এই ব্যাডা বইশাইল্যা জমি দারের চাইতে খারাপ। ওই ব্যাডা বউরে গয়না দিয়া খুশী কইরা কলিকাতা হাড় কাটা গলিতে যাইতো, আর এই বেটা বউডারে ঘুম পাড়াইয়া ব্ল্যাক বোর্ডে চুরুট মুখে খস খস করিয়া লিখে, কি লেখে, কি করে কইলাম তো।

পুণশ্চঃ তুলশী রায়ের দৌহিত্র চুলকানি রায় উনার কালচার ফ্রম এগ্রিকালচার (২০১০, ক্যাচাল প্রকাশনী) গ্রন্থে তুলসী রায়ের চোখে আইনস্টাইনের দুইশো একুশ দিন নামক প্রতিবেদন লিখিয়াছেন। এই মারফত উনি উইকীলিক্সের নিকট হইতে যে রয়্যালটি পান তাতে তুলসীলিক্স নামের একটি ‘কইয়া দিমু’ মেটাব্লগ চালুর সিদ্ধান্ত নি্যাছেন। বিখ্যাত ব্যক্তিদের বেড রুমের কাহিনী ছবি ও পিডিএফ লিঙ্ক সহ আপলোড করিলে সেরা কুতসা শিল্পীকে কইয়া দিমু অল্টারনেটিভ নোবেল পদকে ভূষিত করা হইবেক। যোগাযোগঃ

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29282923 http://www.somewhereinblog.net/blog/maskwaithblog/29282923 2010-12-03 15:42:41