somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চার দেয়ালের অন্তরালে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচিত্র-১ যার যা প্রাপ্য তাকে তা দেওয়া উচিৎ - কি বলেন?

১৩ ই মে, ২০১০ রাত ৯:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

০ আবুল খায়ের

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের যে কক্ষে রাখা হয়েছিল তা ছিল জরাজীর্ণ এবং এক কোণায় নির্জন এলাকায়। পাকিস্তানীরা তাকে তিলে তিলে মানসিক, শারীরিক ও বিভিন্ন কায়দায় নির্যাতন করে শেষ করে দেয়ার জন্যই কারাগারের প্রকোষ্ঠে রাখে। বঙ্গবন্ধুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার জন্য নিষ্ঠুর ও নির্মম নির্যাতন করতে কক্ষটি ব্যবহার করা হয়। বঙ্গবন্ধু কারাগারের যে কক্ষটিতে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছেন সে কক্ষটি নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। একবার কক্ষটি দেখলে সাধারণ মানুষও চোখের পানি ধরে রাখতে পারবে না। বর্তমানে সেই কক্ষটি বঙ্গবন্ধু কারা স্মৃতি জাদুঘর করা হয়েছে। এতে রক্ষিত আছে থালা, জগ, মগ, হাঁড়ি-পাতিল, চেয়ার-টেবিল ও কাঠের চৌকি। দেখলে সহজেই বোঝা যাবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানকে কিভাবে ও কি আচরণ এবং কি ধরনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। একজন রাজবন্দি হিসাবে তাকে বিন্দুমাত্র সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়নি। ইত্তেফাক প্রতিনিধি সরেজমিনে গত বুধবার কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতির জনকের স্মৃতি জাদুঘরটি দেখতে যান। বঙ্গবন্ধুর থাকার কক্ষ, ব্যবহৃত জিনিসপত্র, গোসলখানা ও রান্নার জায়গাসহ এলাকাটি ঘুরে দেখেন। এত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনেও বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তানের মনোবল ভাঙ্গেনি। মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে বাঙালি জাতিকে পরাধীন অর্থাৎ বর্বর পাকিস্তানের হাত থেকে রক্ষা করবেন ণ্ডএই মনোবল নিয়ে এত নির্যাতন ও নিপীড়ন সহ্য করেছেন। বাঙালি জাতিকে মুক্ত করেছেন। বঙ্গবন্ধু এ কারা স্মৃতি জাদুঘর বলে দিবে জাতির জনকের যৌবনের সিংহভাগ সময় স্ত্রী-সন্তান ও আপনজন ছেড়ে কি ত্যাগ করেছেন।

গত ৮ মে জাতির জনকের কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু কারা স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করেন। ঐ সময় প্রধানমন্ত্রী তার পিতার কক্ষে যান। তিনি কক্ষে বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত থালা, বাসন, প্লেট, এ্যালুমিনিয়ামের জগ ও মগ, বসার চেয়ার-টেবিল দেখেন। সবচেয়ে কষ্ট ও পীড়াদায়ক মহান নেতাকে জরাজীর্ণ কক্ষে থাকতে হয়েছে। এটা দেখে প্রধানমন্ত্রী চোখের পানি ছেড়ে দেন। গ্রামের রান্নার ঘরটিও এরচেয়ে উন্নত। প্রধানমন্ত্রী তার পিতার থাকার এই জরাজীর্ণ স্থানটি অতীতে আর কখনও দেখেননি বলে কর্তৃপক্ষ জানান। বঙ্গবন্ধুর মতো একজন নেতাকে এই ধরনের কক্ষে রাখা হয়েছে তা ভাবাই যায় না। ¯^য়ং প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করতে পারেননি। পারবে না এদেশের জনগণও। তবে এক নজর দেখলে ধিক্কার জানাবে দেশবাসী বর্বর পাকিস্তানিদের।

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আওয়ামী লীগ উপদেষ্টামÊলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। তখন থেকে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। ১৯৬৬ সালের ৮ মে তিনি গ্রেফতার হন। তখন জাতির জনককে এই কারাগারে রাখা হয়। ১৯৬৮ সালের ১৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে এই কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি হিসাবে বঙ্গবন্ধুকে ক্যান্টনমেন্টে আনা হয় বলে তোফায়েল আহমেদ জানান।

কারাগার সূত্রে বলা হয়, একতলা বিশিষ্ট একটি কক্ষে বঙ্গবন্ধু থাকতেন। তা ছিল স্যাঁতসেঁতে, বৃষ্টি হলে পানি পড়তো। এই কক্ষটির পাশে গোসলখানা এবং তার পাশে রান্নাঘর। তাও জরাজীর্ণ ছিল। বঙ্গবন্ধু ময়না পাখি পুষতেন। সেই খাঁচাটি এখন সেখানে রয়েছে। ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ফ্যান, চেয়ার, টেবিল, থাকার চৌকি, পাখির খাঁচা, বসার ইজি চেয়ার, থালা-বাসন, জগ, মগ ও হাঁড়ি-পাতিল বঙ্গবন্ধুর থাকার কক্ষটিতে রক্ষিত আছে।

কারাগারে বঙ্গবন্ধুর এই কক্ষটি ¯^াধীনতার পর তেমন কোন রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। ময়লা-আবর্জনা, এলাকায় ছিল নোংরা পরিবেশ। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বেশি অবহেলিত ছিল এটা। পাশে রূপসা ও হাসনাহেনা ভবনে প্রায় ৮শ’ বন্দি থাকছে। তারা ভাবতে পারেনি জাতির জনক এই ছোট্ট একটি কক্ষে থেকেছেন এবং যৌবনে ঢুকে বার্ধক্য হয়ে বের হয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষ কক্ষটি সংস্কার করার পর এবং বঙ্গবন্ধুর কারা স্মৃতি জাদুঘর নামটি কক্ষের সামনে বড় অক্ষরে লেখার পর বন্দিরা বুঝতে পারছেন এখানে বঙ্গবন্ধু ছিলেন। ৮ মে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কারাগার স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করার পর বন্দিরা পুরাপুরি নিশ্চিত হলেন জাতির জনক সত্যিই এখানে ছিলেন।

অনেক বন্দি বলেন, আপনজন ছেড়ে জেলহাজতে দুঃখ-কষ্ট পাচ্ছিলাম। বঙ্গবন্ধুর থাকার কক্ষটি নিত্যদিন দেখতে পাচ্ছি। এটা আমাদের সৌভাগ্য এবং আপনজনের কথা ভুলে গেছি। বঙ্গবন্ধুর থাকার ছোট্ট কক্ষটির দিকে তাকিয়ে অনেক বন্দি চোখের পানি ধরে রাখতে পারে না। এই প্রতিনিধি বঙ্গবন্ধু কারা স্মৃতি জাদুঘর কক্ষ থেকে বের হয়ে দেখেন যে, রূপসা ভবনের নিচতলা থেকে তিনতলা পর্যন্ত জানালা দিয়ে বন্দিরা অসহায়ের মত তাকিয়ে আছে। তাদের অনেকের চোখে পানি পড়তে দেখা যায়। কেউ কেউ বলে উঠে, ভাই বঙ্গবন্ধুর এই কক্ষটির কথা ভাল করে লেখেন ও দেশবাসীকে জানান। রান্না করার সময় বঙ্গবন্ধু উপস্থিত থাকতেন। নিজেও কারারক্ষীকে সহায়তা করতেন। বাঙালি কারারক্ষীরা কিংবা কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধুকে ঐ সময় পিতার মতো শ্রদ্ধা করতেন। পাকিস্তানের কঠোর নিয়ন্ত্রণে বাঙালি কারারক্ষী ও কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধুর প্রতি লক্ষ্য রাখতেন। মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা থেকে বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করার জন্য বাঙালি কারারক্ষী ও কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেছেন বলে কারা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সূত্রে জানতে পান।

কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সেখানে সারাক্ষণ কারারক্ষী ডিউটিতে থাকে। প্রতিদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছিন্ন রাখা হয়।

আইজি (প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আশরাফুল ইসলাম খান বলেন, আগে তিনি ভারপ্রাপ্ত আইজি (প্রিজন) থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর সংস্কার করার উদ্যোগ নেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন। এই জাদুঘর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। এজন্য উঁচু প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
০ আবুল খায়ের

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের যে কক্ষে রাখা হয়েছিল তা ছিল জরাজীর্ণ এবং এক কোণায় নির্জন এলাকায়। পাকিস্তানীরা তাকে তিলে তিলে মানসিক, শারীরিক ও বিভিন্ন কায়দায় নির্যাতন করে শেষ করে দেয়ার জন্যই কারাগারের প্রকোষ্ঠে রাখে। বঙ্গবন্ধুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার জন্য নিষ্ঠুর ও নির্মম নির্যাতন করতে কক্ষটি ব্যবহার করা হয়। বঙ্গবন্ধু কারাগারের যে কক্ষটিতে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছেন সে কক্ষটি নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। একবার কক্ষটি দেখলে সাধারণ মানুষও চোখের পানি ধরে রাখতে পারবে না। বর্তমানে সেই কক্ষটি বঙ্গবন্ধু কারা স্মৃতি জাদুঘর করা হয়েছে। এতে রক্ষিত আছে থালা, জগ, মগ, হাঁড়ি-পাতিল, চেয়ার-টেবিল ও কাঠের চৌকি। দেখলে সহজেই বোঝা যাবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানকে কিভাবে ও কি আচরণ এবং কি ধরনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। একজন রাজবন্দি হিসাবে তাকে বিন্দুমাত্র সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়নি। ইত্তেফাক প্রতিনিধি সরেজমিনে গত বুধবার কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতির জনকের স্মৃতি জাদুঘরটি দেখতে যান। বঙ্গবন্ধুর থাকার কক্ষ, ব্যবহৃত জিনিসপত্র, গোসলখানা ও রান্নার জায়গাসহ এলাকাটি ঘুরে দেখেন। এত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনেও বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তানের মনোবল ভাঙ্গেনি। মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে বাঙালি জাতিকে পরাধীন অর্থাৎ বর্বর পাকিস্তানের হাত থেকে রক্ষা করবেন ণ্ডএই মনোবল নিয়ে এত নির্যাতন ও নিপীড়ন সহ্য করেছেন। বাঙালি জাতিকে মুক্ত করেছেন। বঙ্গবন্ধু এ কারা স্মৃতি জাদুঘর বলে দিবে জাতির জনকের যৌবনের সিংহভাগ সময় স্ত্রী-সন্তান ও আপনজন ছেড়ে কি ত্যাগ করেছেন।

গত ৮ মে জাতির জনকের কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু কারা স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করেন। ঐ সময় প্রধানমন্ত্রী তার পিতার কক্ষে যান। তিনি কক্ষে বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত থালা, বাসন, প্লেট, এ্যালুমিনিয়ামের জগ ও মগ, বসার চেয়ার-টেবিল দেখেন। সবচেয়ে কষ্ট ও পীড়াদায়ক মহান নেতাকে জরাজীর্ণ কক্ষে থাকতে হয়েছে। এটা দেখে প্রধানমন্ত্রী চোখের পানি ছেড়ে দেন। গ্রামের রান্নার ঘরটিও এরচেয়ে উন্নত। প্রধানমন্ত্রী তার পিতার থাকার এই জরাজীর্ণ স্থানটি অতীতে আর কখনও দেখেননি বলে কর্তৃপক্ষ জানান। বঙ্গবন্ধুর মতো একজন নেতাকে এই ধরনের কক্ষে রাখা হয়েছে তা ভাবাই যায় না। ¯^য়ং প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করতে পারেননি। পারবে না এদেশের জনগণও। তবে এক নজর দেখলে ধিক্কার জানাবে দেশবাসী বর্বর পাকিস্তানিদের।

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আওয়ামী লীগ উপদেষ্টামÊলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। তখন থেকে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। ১৯৬৬ সালের ৮ মে তিনি গ্রেফতার হন। তখন জাতির জনককে এই কারাগারে রাখা হয়। ১৯৬৮ সালের ১৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে এই কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি হিসাবে বঙ্গবন্ধুকে ক্যান্টনমেন্টে আনা হয় বলে তোফায়েল আহমেদ জানান।

কারাগার সূত্রে বলা হয়, একতলা বিশিষ্ট একটি কক্ষে বঙ্গবন্ধু থাকতেন। তা ছিল স্যাঁতসেঁতে, বৃষ্টি হলে পানি পড়তো। এই কক্ষটির পাশে গোসলখানা এবং তার পাশে রান্নাঘর। তাও জরাজীর্ণ ছিল। বঙ্গবন্ধু ময়না পাখি পুষতেন। সেই খাঁচাটি এখন সেখানে রয়েছে। ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ফ্যান, চেয়ার, টেবিল, থাকার চৌকি, পাখির খাঁচা, বসার ইজি চেয়ার, থালা-বাসন, জগ, মগ ও হাঁড়ি-পাতিল বঙ্গবন্ধুর থাকার কক্ষটিতে রক্ষিত আছে।

কারাগারে বঙ্গবন্ধুর এই কক্ষটি ¯^াধীনতার পর তেমন কোন রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। ময়লা-আবর্জনা, এলাকায় ছিল নোংরা পরিবেশ। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বেশি অবহেলিত ছিল এটা। পাশে রূপসা ও হাসনাহেনা ভবনে প্রায় ৮শ’ বন্দি থাকছে। তারা ভাবতে পারেনি জাতির জনক এই ছোট্ট একটি কক্ষে থেকেছেন এবং যৌবনে ঢুকে বার্ধক্য হয়ে বের হয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষ কক্ষটি সংস্কার করার পর এবং বঙ্গবন্ধুর কারা স্মৃতি জাদুঘর নামটি কক্ষের সামনে বড় অক্ষরে লেখার পর বন্দিরা বুঝতে পারছেন এখানে বঙ্গবন্ধু ছিলেন। ৮ মে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কারাগার স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করার পর বন্দিরা পুরাপুরি নিশ্চিত হলেন জাতির জনক সত্যিই এখানে ছিলেন।

অনেক বন্দি বলেন, আপনজন ছেড়ে জেলহাজতে দুঃখ-কষ্ট পাচ্ছিলাম। বঙ্গবন্ধুর থাকার কক্ষটি নিত্যদিন দেখতে পাচ্ছি। এটা আমাদের সৌভাগ্য এবং আপনজনের কথা ভুলে গেছি। বঙ্গবন্ধুর থাকার ছোট্ট কক্ষটির দিকে তাকিয়ে অনেক বন্দি চোখের পানি ধরে রাখতে পারে না। এই প্রতিনিধি বঙ্গবন্ধু কারা স্মৃতি জাদুঘর কক্ষ থেকে বের হয়ে দেখেন যে, রূপসা ভবনের নিচতলা থেকে তিনতলা পর্যন্ত জানালা দিয়ে বন্দিরা অসহায়ের মত তাকিয়ে আছে। তাদের অনেকের চোখে পানি পড়তে দেখা যায়। কেউ কেউ বলে উঠে, ভাই বঙ্গবন্ধুর এই কক্ষটির কথা ভাল করে লেখেন ও দেশবাসীকে জানান। রান্না করার সময় বঙ্গবন্ধু উপস্থিত থাকতেন। নিজেও কারারক্ষীকে সহায়তা করতেন। বাঙালি কারারক্ষীরা কিংবা কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধুকে ঐ সময় পিতার মতো শ্রদ্ধা করতেন। পাকিস্তানের কঠোর নিয়ন্ত্রণে বাঙালি কারারক্ষী ও কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধুর প্রতি লক্ষ্য রাখতেন। মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা থেকে বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করার জন্য বাঙালি কারারক্ষী ও কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেছেন বলে কারা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সূত্রে জানতে পান।

কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সেখানে সারাক্ষণ কারারক্ষী ডিউটিতে থাকে। প্রতিদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছিন্ন রাখা হয়।

আইজি (প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আশরাফুল ইসলাম খান বলেন, আগে তিনি ভারপ্রাপ্ত আইজি (প্রিজন) থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর সংস্কার করার উদ্যোগ নেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন। এই জাদুঘর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। এজন্য উঁচু প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×