০ আবুল খায়ের
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের যে কক্ষে রাখা হয়েছিল তা ছিল জরাজীর্ণ এবং এক কোণায় নির্জন এলাকায়। পাকিস্তানীরা তাকে তিলে তিলে মানসিক, শারীরিক ও বিভিন্ন কায়দায় নির্যাতন করে শেষ করে দেয়ার জন্যই কারাগারের প্রকোষ্ঠে রাখে। বঙ্গবন্ধুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার জন্য নিষ্ঠুর ও নির্মম নির্যাতন করতে কক্ষটি ব্যবহার করা হয়। বঙ্গবন্ধু কারাগারের যে কক্ষটিতে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছেন সে কক্ষটি নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। একবার কক্ষটি দেখলে সাধারণ মানুষও চোখের পানি ধরে রাখতে পারবে না। বর্তমানে সেই কক্ষটি বঙ্গবন্ধু কারা স্মৃতি জাদুঘর করা হয়েছে। এতে রক্ষিত আছে থালা, জগ, মগ, হাঁড়ি-পাতিল, চেয়ার-টেবিল ও কাঠের চৌকি। দেখলে সহজেই বোঝা যাবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানকে কিভাবে ও কি আচরণ এবং কি ধরনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। একজন রাজবন্দি হিসাবে তাকে বিন্দুমাত্র সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়নি। ইত্তেফাক প্রতিনিধি সরেজমিনে গত বুধবার কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতির জনকের স্মৃতি জাদুঘরটি দেখতে যান। বঙ্গবন্ধুর থাকার কক্ষ, ব্যবহৃত জিনিসপত্র, গোসলখানা ও রান্নার জায়গাসহ এলাকাটি ঘুরে দেখেন। এত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনেও বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তানের মনোবল ভাঙ্গেনি। মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে বাঙালি জাতিকে পরাধীন অর্থাৎ বর্বর পাকিস্তানের হাত থেকে রক্ষা করবেন ণ্ডএই মনোবল নিয়ে এত নির্যাতন ও নিপীড়ন সহ্য করেছেন। বাঙালি জাতিকে মুক্ত করেছেন। বঙ্গবন্ধু এ কারা স্মৃতি জাদুঘর বলে দিবে জাতির জনকের যৌবনের সিংহভাগ সময় স্ত্রী-সন্তান ও আপনজন ছেড়ে কি ত্যাগ করেছেন।
গত ৮ মে জাতির জনকের কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু কারা স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করেন। ঐ সময় প্রধানমন্ত্রী তার পিতার কক্ষে যান। তিনি কক্ষে বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত থালা, বাসন, প্লেট, এ্যালুমিনিয়ামের জগ ও মগ, বসার চেয়ার-টেবিল দেখেন। সবচেয়ে কষ্ট ও পীড়াদায়ক মহান নেতাকে জরাজীর্ণ কক্ষে থাকতে হয়েছে। এটা দেখে প্রধানমন্ত্রী চোখের পানি ছেড়ে দেন। গ্রামের রান্নার ঘরটিও এরচেয়ে উন্নত। প্রধানমন্ত্রী তার পিতার থাকার এই জরাজীর্ণ স্থানটি অতীতে আর কখনও দেখেননি বলে কর্তৃপক্ষ জানান। বঙ্গবন্ধুর মতো একজন নেতাকে এই ধরনের কক্ষে রাখা হয়েছে তা ভাবাই যায় না। ¯^য়ং প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করতে পারেননি। পারবে না এদেশের জনগণও। তবে এক নজর দেখলে ধিক্কার জানাবে দেশবাসী বর্বর পাকিস্তানিদের।
বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আওয়ামী লীগ উপদেষ্টামÊলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। তখন থেকে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। ১৯৬৬ সালের ৮ মে তিনি গ্রেফতার হন। তখন জাতির জনককে এই কারাগারে রাখা হয়। ১৯৬৮ সালের ১৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে এই কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি হিসাবে বঙ্গবন্ধুকে ক্যান্টনমেন্টে আনা হয় বলে তোফায়েল আহমেদ জানান।
কারাগার সূত্রে বলা হয়, একতলা বিশিষ্ট একটি কক্ষে বঙ্গবন্ধু থাকতেন। তা ছিল স্যাঁতসেঁতে, বৃষ্টি হলে পানি পড়তো। এই কক্ষটির পাশে গোসলখানা এবং তার পাশে রান্নাঘর। তাও জরাজীর্ণ ছিল। বঙ্গবন্ধু ময়না পাখি পুষতেন। সেই খাঁচাটি এখন সেখানে রয়েছে। ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ফ্যান, চেয়ার, টেবিল, থাকার চৌকি, পাখির খাঁচা, বসার ইজি চেয়ার, থালা-বাসন, জগ, মগ ও হাঁড়ি-পাতিল বঙ্গবন্ধুর থাকার কক্ষটিতে রক্ষিত আছে।
কারাগারে বঙ্গবন্ধুর এই কক্ষটি ¯^াধীনতার পর তেমন কোন রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। ময়লা-আবর্জনা, এলাকায় ছিল নোংরা পরিবেশ। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বেশি অবহেলিত ছিল এটা। পাশে রূপসা ও হাসনাহেনা ভবনে প্রায় ৮শ’ বন্দি থাকছে। তারা ভাবতে পারেনি জাতির জনক এই ছোট্ট একটি কক্ষে থেকেছেন এবং যৌবনে ঢুকে বার্ধক্য হয়ে বের হয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষ কক্ষটি সংস্কার করার পর এবং বঙ্গবন্ধুর কারা স্মৃতি জাদুঘর নামটি কক্ষের সামনে বড় অক্ষরে লেখার পর বন্দিরা বুঝতে পারছেন এখানে বঙ্গবন্ধু ছিলেন। ৮ মে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কারাগার স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করার পর বন্দিরা পুরাপুরি নিশ্চিত হলেন জাতির জনক সত্যিই এখানে ছিলেন।
অনেক বন্দি বলেন, আপনজন ছেড়ে জেলহাজতে দুঃখ-কষ্ট পাচ্ছিলাম। বঙ্গবন্ধুর থাকার কক্ষটি নিত্যদিন দেখতে পাচ্ছি। এটা আমাদের সৌভাগ্য এবং আপনজনের কথা ভুলে গেছি। বঙ্গবন্ধুর থাকার ছোট্ট কক্ষটির দিকে তাকিয়ে অনেক বন্দি চোখের পানি ধরে রাখতে পারে না। এই প্রতিনিধি বঙ্গবন্ধু কারা স্মৃতি জাদুঘর কক্ষ থেকে বের হয়ে দেখেন যে, রূপসা ভবনের নিচতলা থেকে তিনতলা পর্যন্ত জানালা দিয়ে বন্দিরা অসহায়ের মত তাকিয়ে আছে। তাদের অনেকের চোখে পানি পড়তে দেখা যায়। কেউ কেউ বলে উঠে, ভাই বঙ্গবন্ধুর এই কক্ষটির কথা ভাল করে লেখেন ও দেশবাসীকে জানান। রান্না করার সময় বঙ্গবন্ধু উপস্থিত থাকতেন। নিজেও কারারক্ষীকে সহায়তা করতেন। বাঙালি কারারক্ষীরা কিংবা কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধুকে ঐ সময় পিতার মতো শ্রদ্ধা করতেন। পাকিস্তানের কঠোর নিয়ন্ত্রণে বাঙালি কারারক্ষী ও কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধুর প্রতি লক্ষ্য রাখতেন। মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা থেকে বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করার জন্য বাঙালি কারারক্ষী ও কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেছেন বলে কারা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সূত্রে জানতে পান।
কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সেখানে সারাক্ষণ কারারক্ষী ডিউটিতে থাকে। প্রতিদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছিন্ন রাখা হয়।
আইজি (প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আশরাফুল ইসলাম খান বলেন, আগে তিনি ভারপ্রাপ্ত আইজি (প্রিজন) থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর সংস্কার করার উদ্যোগ নেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন। এই জাদুঘর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। এজন্য উঁচু প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
০ আবুল খায়ের
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের যে কক্ষে রাখা হয়েছিল তা ছিল জরাজীর্ণ এবং এক কোণায় নির্জন এলাকায়। পাকিস্তানীরা তাকে তিলে তিলে মানসিক, শারীরিক ও বিভিন্ন কায়দায় নির্যাতন করে শেষ করে দেয়ার জন্যই কারাগারের প্রকোষ্ঠে রাখে। বঙ্গবন্ধুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার জন্য নিষ্ঠুর ও নির্মম নির্যাতন করতে কক্ষটি ব্যবহার করা হয়। বঙ্গবন্ধু কারাগারের যে কক্ষটিতে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছেন সে কক্ষটি নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। একবার কক্ষটি দেখলে সাধারণ মানুষও চোখের পানি ধরে রাখতে পারবে না। বর্তমানে সেই কক্ষটি বঙ্গবন্ধু কারা স্মৃতি জাদুঘর করা হয়েছে। এতে রক্ষিত আছে থালা, জগ, মগ, হাঁড়ি-পাতিল, চেয়ার-টেবিল ও কাঠের চৌকি। দেখলে সহজেই বোঝা যাবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানকে কিভাবে ও কি আচরণ এবং কি ধরনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। একজন রাজবন্দি হিসাবে তাকে বিন্দুমাত্র সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়নি। ইত্তেফাক প্রতিনিধি সরেজমিনে গত বুধবার কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতির জনকের স্মৃতি জাদুঘরটি দেখতে যান। বঙ্গবন্ধুর থাকার কক্ষ, ব্যবহৃত জিনিসপত্র, গোসলখানা ও রান্নার জায়গাসহ এলাকাটি ঘুরে দেখেন। এত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনেও বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তানের মনোবল ভাঙ্গেনি। মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে বাঙালি জাতিকে পরাধীন অর্থাৎ বর্বর পাকিস্তানের হাত থেকে রক্ষা করবেন ণ্ডএই মনোবল নিয়ে এত নির্যাতন ও নিপীড়ন সহ্য করেছেন। বাঙালি জাতিকে মুক্ত করেছেন। বঙ্গবন্ধু এ কারা স্মৃতি জাদুঘর বলে দিবে জাতির জনকের যৌবনের সিংহভাগ সময় স্ত্রী-সন্তান ও আপনজন ছেড়ে কি ত্যাগ করেছেন।
গত ৮ মে জাতির জনকের কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু কারা স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করেন। ঐ সময় প্রধানমন্ত্রী তার পিতার কক্ষে যান। তিনি কক্ষে বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত থালা, বাসন, প্লেট, এ্যালুমিনিয়ামের জগ ও মগ, বসার চেয়ার-টেবিল দেখেন। সবচেয়ে কষ্ট ও পীড়াদায়ক মহান নেতাকে জরাজীর্ণ কক্ষে থাকতে হয়েছে। এটা দেখে প্রধানমন্ত্রী চোখের পানি ছেড়ে দেন। গ্রামের রান্নার ঘরটিও এরচেয়ে উন্নত। প্রধানমন্ত্রী তার পিতার থাকার এই জরাজীর্ণ স্থানটি অতীতে আর কখনও দেখেননি বলে কর্তৃপক্ষ জানান। বঙ্গবন্ধুর মতো একজন নেতাকে এই ধরনের কক্ষে রাখা হয়েছে তা ভাবাই যায় না। ¯^য়ং প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করতে পারেননি। পারবে না এদেশের জনগণও। তবে এক নজর দেখলে ধিক্কার জানাবে দেশবাসী বর্বর পাকিস্তানিদের।
বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আওয়ামী লীগ উপদেষ্টামÊলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। তখন থেকে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। ১৯৬৬ সালের ৮ মে তিনি গ্রেফতার হন। তখন জাতির জনককে এই কারাগারে রাখা হয়। ১৯৬৮ সালের ১৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে এই কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি হিসাবে বঙ্গবন্ধুকে ক্যান্টনমেন্টে আনা হয় বলে তোফায়েল আহমেদ জানান।
কারাগার সূত্রে বলা হয়, একতলা বিশিষ্ট একটি কক্ষে বঙ্গবন্ধু থাকতেন। তা ছিল স্যাঁতসেঁতে, বৃষ্টি হলে পানি পড়তো। এই কক্ষটির পাশে গোসলখানা এবং তার পাশে রান্নাঘর। তাও জরাজীর্ণ ছিল। বঙ্গবন্ধু ময়না পাখি পুষতেন। সেই খাঁচাটি এখন সেখানে রয়েছে। ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ফ্যান, চেয়ার, টেবিল, থাকার চৌকি, পাখির খাঁচা, বসার ইজি চেয়ার, থালা-বাসন, জগ, মগ ও হাঁড়ি-পাতিল বঙ্গবন্ধুর থাকার কক্ষটিতে রক্ষিত আছে।
কারাগারে বঙ্গবন্ধুর এই কক্ষটি ¯^াধীনতার পর তেমন কোন রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। ময়লা-আবর্জনা, এলাকায় ছিল নোংরা পরিবেশ। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বেশি অবহেলিত ছিল এটা। পাশে রূপসা ও হাসনাহেনা ভবনে প্রায় ৮শ’ বন্দি থাকছে। তারা ভাবতে পারেনি জাতির জনক এই ছোট্ট একটি কক্ষে থেকেছেন এবং যৌবনে ঢুকে বার্ধক্য হয়ে বের হয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষ কক্ষটি সংস্কার করার পর এবং বঙ্গবন্ধুর কারা স্মৃতি জাদুঘর নামটি কক্ষের সামনে বড় অক্ষরে লেখার পর বন্দিরা বুঝতে পারছেন এখানে বঙ্গবন্ধু ছিলেন। ৮ মে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কারাগার স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করার পর বন্দিরা পুরাপুরি নিশ্চিত হলেন জাতির জনক সত্যিই এখানে ছিলেন।
অনেক বন্দি বলেন, আপনজন ছেড়ে জেলহাজতে দুঃখ-কষ্ট পাচ্ছিলাম। বঙ্গবন্ধুর থাকার কক্ষটি নিত্যদিন দেখতে পাচ্ছি। এটা আমাদের সৌভাগ্য এবং আপনজনের কথা ভুলে গেছি। বঙ্গবন্ধুর থাকার ছোট্ট কক্ষটির দিকে তাকিয়ে অনেক বন্দি চোখের পানি ধরে রাখতে পারে না। এই প্রতিনিধি বঙ্গবন্ধু কারা স্মৃতি জাদুঘর কক্ষ থেকে বের হয়ে দেখেন যে, রূপসা ভবনের নিচতলা থেকে তিনতলা পর্যন্ত জানালা দিয়ে বন্দিরা অসহায়ের মত তাকিয়ে আছে। তাদের অনেকের চোখে পানি পড়তে দেখা যায়। কেউ কেউ বলে উঠে, ভাই বঙ্গবন্ধুর এই কক্ষটির কথা ভাল করে লেখেন ও দেশবাসীকে জানান। রান্না করার সময় বঙ্গবন্ধু উপস্থিত থাকতেন। নিজেও কারারক্ষীকে সহায়তা করতেন। বাঙালি কারারক্ষীরা কিংবা কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধুকে ঐ সময় পিতার মতো শ্রদ্ধা করতেন। পাকিস্তানের কঠোর নিয়ন্ত্রণে বাঙালি কারারক্ষী ও কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধুর প্রতি লক্ষ্য রাখতেন। মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা থেকে বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করার জন্য বাঙালি কারারক্ষী ও কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেছেন বলে কারা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সূত্রে জানতে পান।
কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সেখানে সারাক্ষণ কারারক্ষী ডিউটিতে থাকে। প্রতিদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছিন্ন রাখা হয়।
আইজি (প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আশরাফুল ইসলাম খান বলেন, আগে তিনি ভারপ্রাপ্ত আইজি (প্রিজন) থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর সংস্কার করার উদ্যোগ নেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন। এই জাদুঘর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। এজন্য উঁচু প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

