লেখালেখির শুরুটা সেই ২০০৫ সালে। তখন ক্লাস নাইনে পড়ি আমি। ক্লাস এইটে থাকতে অনেক কম্পিউটার বিষয়ক পত্রিকা পড়তাম। খুব ভালো লাগতো। তখন মনে হতো, ইস আমিও যদি এরকম ভাবে লিখতে পারতাম!! একসময় শুরু করলাম লেখালেখি। প্রথমে কোনো পত্রিকাতেই আমার লেখা ছাপানো হয় নি। তারপরও দমে যাই নি আমি, চেষ্টা করতে থাকলাম, পাঠাতে থাকলাম লেখা। আমার সবচেয়ে প্রিয় পত্রিকা ছিল ‘কম্পিউটার টুমরো’। লেখা পাঠাতে পাঠাতে একদিন ছাপানো হয়ে গেল একটি লেখা ‘কম্পিউটার টুমরোতে’। লেখাটা ছাপানো হয়েছিল বক্স করে, এক্সক্লুসিভ ছিল কি না!! পত্রিকায় নিজের লেখাটা বিশেষ ভাবে ছাপানো হয়েছে দেখে যা ভালো লেগেছিল সেদিন! খুশিতে চোখে পানি চলে এসেছিল আমার, ছোট ছিলাম কিনা তাই!!!! একটুতেই অনেক খুশি!!!! তারপর থেকেই শুরু। কম্পিউটার টুমরো বন্ধ হয়ে গেল একসময়। লিখতে শুরু করলাম প্রথম আলো’র কম্পিউটার প্রতিদিন বিভাগটিতে। প্রথম আলোতে অনেকদিন লিখলাম, তারপর শুরু করলাম ‘টেকনোলজি টুডে’ পত্রিকায়। গেমিং বিভাগটির দায়িত্ব পেলাম। বিভাগটি দেখাশোনার সমস্ত দায়িত্ব নিয়ে লিখতে থাকলাম। পাঠকদের কাছ থেকে অনেক সাড়া পেতে থাকলাম। অনেক মেইল আসতো আমার কাছে। গেমের সমস্যা নিয়ে পাঠানো মেইলগুলোর সমাধান দিতে গিয়ে আমার দফা-রফা হবার যোগাড়। তারপরও খুব ভালো লাগতো। অনেক পাঠকের ধারণা ছিল আমি হয়তো অনেক বড় মাপের কেউ, কিন্তু যখন তারা জানতে পারলো আমি ইন্টারমিডিয়েট লেভেলে পড়ি মাত্র, তখন অনেকেই কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিল। এমন অনেক পাঠকও ছিল যারা প্রথমে আপনি দিয়ে শুরু করে পরে তুমি বলতে শুরু করেছিলেন, কারণ আমি তাদের চেয়ে বয়সে অনেক ছোটো ছিলাম কিনা! তারপর একসময় চিন্তা করলাম আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে একটা পত্রিকা বের করবো। বের করলাম একটি পত্রিকা, ‘ছায়াবৃত্ত’ নামক সে পত্রিকাটিতে প্রায় অনেক বিষয়ই অন্তর্ভূক্ত করেছিলাম আমরা। প্রচুর সাড়া পেলাম, অথচ পরবর্তীতে অর্থসংস্থানজনিত সমস্যা এবং সময়ের অভাবে পত্রিকাটি আর নিয়মিত করতে পারি নি। এবছরেই ‘সায়েন্স জোন’ নামে আরো একটি পত্রিকা বের করি আমরা। তবে এর বিষয়বস্তু ছিল শুধুমাত্র- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। সাড়া পেলাম এটাতেও, অনেক অনেক! আমি জীবনে কোনোদিন ফার্স্ট হইনি কোথাও, না পড়ালেখায়, না খেলাধুলায়। কম্পিউটারে একটু পারদর্শী দেখে এ বছরের বিজ্ঞান মেলায় একটা প্রোজেক্ট দিয়েছিলাম। কলেজের কম্পিউটার টিচার সেলিম স্যার আমার নামটা আগ্রহী হয়ে জমা দিয়ে দিয়েছিলেন। ভয়েস দ্বারা কিভাবে কম্পিউটারকে নিয়ন্ত্রন করা যায় সেটা দেখিয়েছিলাম আমি। আমার একজন ভাইয়া আছেন, তিনিও লেখালেখি করেন, কম্পিউটার জগতে লিখেন। তিনি প্রোজেক্টটিতে আমাকে সম্পূর্ণরূপে সহযোগিতা করেছিলেন। আমার সফলতার ৮০ ভাগই তার প্রাপ্য। আমি শুধুমাত্র একটু মাথা খাটিয়েছি, আর ব্যাপারটিকে ভালো ভাবে উপস্থাপন করেছিলাম মাত্র। আমি ভাবিনি বিজ্ঞান মেলায় ফার্স্ট হয়ে যাবো। যখন ফলাফল ঘোষণা হয়ে গেল তখন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না আমি, আমার চেয়ে কতো ভালো প্রোজেক্ট ছিল মেলায়! ফার্স্ট হওয়ার আনন্দ যে কি রকম হতে পারে এটা সেদিন বুঝতে পেরেছিলাম। স্যার খুশিতে আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। প্রচন্ড ভালো লেগেছিল সেদিন। বিজ্ঞান মেলায় পাওয়া সার্টিফিকেটটা আমার খুব প্রিয়। আমি সময় পেলেই সার্টিফিকেটটা একবার হলেও বের করে এক নজর দেখে নেই, খুব ভালো লাগে তো তাই! আমার বই পড়ার খুব সখ, বই কিনেছিলামও অনেক। একটা লাইব্রেরী দেবার খুব ইচ্ছে ছিল। অনেক প্রিয় বই আছে আমার। এই প্রিয় বইগুলো পড়ার ফাঁকে চুরি করে পড়ে ফেলি।
আজকে থেকে পত্রিকায় লেখালেখি ছেড়ে দিলাম। আমার সবচেয়ে প্রিয় কাজগুলোর একটা হচ্ছে এটা। অথচ আমি আর লিখবো না। বিজ্ঞান মেলা থেকে পাওয়া সার্টিফিকেটটা ছিড়ে ফেলবো আজ। আমার জীবনের ফার্স্ট হওয়ার গল্পটা মনে থাকবে, অথচ কোনো প্রমাণপত্র থাকবে না। সার্টিফিকেটটা হাতে নিয়ে এক নজর দেখা হবে না আর কখনোই। শখের বইগুলো দান করে দিব কোনো লাইব্রেরীতে। বইগুলোর আর কোনো দরকার নেই। আমি লাইব্রেরী দিব না। এতোসব প্রিয়র ভিরে একজন প্রিয় মানুষ আছে আমার। সবারই থাকে, তাই আমারও আছে। খুব কাছের মানুষ, খুব আপনজন। খুব ভালোবাসি তাকে। এই প্রিয় মানুষটা সেদিন আমাকে প্রচন্ড অপমান করেছে। আমি কিছু মনে করি নি, শুধু হেসে চলে এসেছি তার বাড়ি থেকে। এতো অপমান কেউ করেনি আমাকে কখনো! অপমান করেছে ভালোবাসি বলে, ভালোবাসাটা অপরাধ তাই! মানুষ তার প্রিয় জিনিসগুলোকে ভালোবাসে, আর ভালোবাসাটা অপরাধ। আমার আর অপরাধ করতে ইচ্ছে করে না। আজকে থেকে আমার সব প্রিয় জিনিসগুলোকে বিসর্জন দিলাম, বিসর্জন দিলাম সব থেকে প্রিয় মানুষটিকে, আর বিসর্জন দিলাম আমার প্রিয় ছোট ছোট স্বপ্নগুলোকে। লিখে রাখলাম ডায়রীর পাতায়ঃ
০৩-১১-২০০৮, আজকে থেকে আমার কোনো প্রিয় জিনিস থাকবে না। প্রিয় জিনিস ছাড়াও মানুষ বাঁচে, বেঁচে থাকতে পারে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

