somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রিয়-অপ্রিয়র অন্তরালে আমি

০৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লেখালেখির শুরুটা সেই ২০০৫ সালে। তখন ক্লাস নাইনে পড়ি আমি। ক্লাস এইটে থাকতে অনেক কম্পিউটার বিষয়ক পত্রিকা পড়তাম। খুব ভালো লাগতো। তখন মনে হতো, ইস আমিও যদি এরকম ভাবে লিখতে পারতাম!! একসময় শুরু করলাম লেখালেখি। প্রথমে কোনো পত্রিকাতেই আমার লেখা ছাপানো হয় নি। তারপরও দমে যাই নি আমি, চেষ্টা করতে থাকলাম, পাঠাতে থাকলাম লেখা। আমার সবচেয়ে প্রিয় পত্রিকা ছিল ‘কম্পিউটার টুমরো’। লেখা পাঠাতে পাঠাতে একদিন ছাপানো হয়ে গেল একটি লেখা ‘কম্পিউটার টুমরোতে’। লেখাটা ছাপানো হয়েছিল বক্স করে, এক্সক্লুসিভ ছিল কি না!! পত্রিকায় নিজের লেখাটা বিশেষ ভাবে ছাপানো হয়েছে দেখে যা ভালো লেগেছিল সেদিন! খুশিতে চোখে পানি চলে এসেছিল আমার, ছোট ছিলাম কিনা তাই!!!! একটুতেই অনেক খুশি!!!! তারপর থেকেই শুরু। কম্পিউটার টুমরো বন্ধ হয়ে গেল একসময়। লিখতে শুরু করলাম প্রথম আলো’র কম্পিউটার প্রতিদিন বিভাগটিতে। প্রথম আলোতে অনেকদিন লিখলাম, তারপর শুরু করলাম ‘টেকনোলজি টুডে’ পত্রিকায়। গেমিং বিভাগটির দায়িত্ব পেলাম। বিভাগটি দেখাশোনার সমস্ত দায়িত্ব নিয়ে লিখতে থাকলাম। পাঠকদের কাছ থেকে অনেক সাড়া পেতে থাকলাম। অনেক মেইল আসতো আমার কাছে। গেমের সমস্যা নিয়ে পাঠানো মেইলগুলোর সমাধান দিতে গিয়ে আমার দফা-রফা হবার যোগাড়। তারপরও খুব ভালো লাগতো। অনেক পাঠকের ধারণা ছিল আমি হয়তো অনেক বড় মাপের কেউ, কিন্তু যখন তারা জানতে পারলো আমি ইন্টারমিডিয়েট লেভেলে পড়ি মাত্র, তখন অনেকেই কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিল। এমন অনেক পাঠকও ছিল যারা প্রথমে আপনি দিয়ে শুরু করে পরে তুমি বলতে শুরু করেছিলেন, কারণ আমি তাদের চেয়ে বয়সে অনেক ছোটো ছিলাম কিনা! তারপর একসময় চিন্তা করলাম আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে একটা পত্রিকা বের করবো। বের করলাম একটি পত্রিকা, ‘ছায়াবৃত্ত’ নামক সে পত্রিকাটিতে প্রায় অনেক বিষয়ই অন্তর্ভূক্ত করেছিলাম আমরা। প্রচুর সাড়া পেলাম, অথচ পরবর্তীতে অর্থসংস্থানজনিত সমস্যা এবং সময়ের অভাবে পত্রিকাটি আর নিয়মিত করতে পারি নি। এবছরেই ‘সায়েন্স জোন’ নামে আরো একটি পত্রিকা বের করি আমরা। তবে এর বিষয়বস্তু ছিল শুধুমাত্র- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। সাড়া পেলাম এটাতেও, অনেক অনেক! আমি জীবনে কোনোদিন ফার্স্ট হইনি কোথাও, না পড়ালেখায়, না খেলাধুলায়। কম্পিউটারে একটু পারদর্শী দেখে এ বছরের বিজ্ঞান মেলায় একটা প্রোজেক্ট দিয়েছিলাম। কলেজের কম্পিউটার টিচার সেলিম স্যার আমার নামটা আগ্রহী হয়ে জমা দিয়ে দিয়েছিলেন। ভয়েস দ্বারা কিভাবে কম্পিউটারকে নিয়ন্ত্রন করা যায় সেটা দেখিয়েছিলাম আমি। আমার একজন ভাইয়া আছেন, তিনিও লেখালেখি করেন, কম্পিউটার জগতে লিখেন। তিনি প্রোজেক্টটিতে আমাকে সম্পূর্ণরূপে সহযোগিতা করেছিলেন। আমার সফলতার ৮০ ভাগই তার প্রাপ্য। আমি শুধুমাত্র একটু মাথা খাটিয়েছি, আর ব্যাপারটিকে ভালো ভাবে উপস্থাপন করেছিলাম মাত্র। আমি ভাবিনি বিজ্ঞান মেলায় ফার্স্ট হয়ে যাবো। যখন ফলাফল ঘোষণা হয়ে গেল তখন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না আমি, আমার চেয়ে কতো ভালো প্রোজেক্ট ছিল মেলায়! ফার্স্ট হওয়ার আনন্দ যে কি রকম হতে পারে এটা সেদিন বুঝতে পেরেছিলাম। স্যার খুশিতে আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। প্রচন্ড ভালো লেগেছিল সেদিন। বিজ্ঞান মেলায় পাওয়া সার্টিফিকেটটা আমার খুব প্রিয়। আমি সময় পেলেই সার্টিফিকেটটা একবার হলেও বের করে এক নজর দেখে নেই, খুব ভালো লাগে তো তাই! আমার বই পড়ার খুব সখ, বই কিনেছিলামও অনেক। একটা লাইব্রেরী দেবার খুব ইচ্ছে ছিল। অনেক প্রিয় বই আছে আমার। এই প্রিয় বইগুলো পড়ার ফাঁকে চুরি করে পড়ে ফেলি।

আজকে থেকে পত্রিকায় লেখালেখি ছেড়ে দিলাম। আমার সবচেয়ে প্রিয় কাজগুলোর একটা হচ্ছে এটা। অথচ আমি আর লিখবো না। বিজ্ঞান মেলা থেকে পাওয়া সার্টিফিকেটটা ছিড়ে ফেলবো আজ। আমার জীবনের ফার্স্ট হওয়ার গল্পটা মনে থাকবে, অথচ কোনো প্রমাণপত্র থাকবে না। সার্টিফিকেটটা হাতে নিয়ে এক নজর দেখা হবে না আর কখনোই। শখের বইগুলো দান করে দিব কোনো লাইব্রেরীতে। বইগুলোর আর কোনো দরকার নেই। আমি লাইব্রেরী দিব না। এতোসব প্রিয়র ভিরে একজন প্রিয় মানুষ আছে আমার। সবারই থাকে, তাই আমারও আছে। খুব কাছের মানুষ, খুব আপনজন। খুব ভালোবাসি তাকে। এই প্রিয় মানুষটা সেদিন আমাকে প্রচন্ড অপমান করেছে। আমি কিছু মনে করি নি, শুধু হেসে চলে এসেছি তার বাড়ি থেকে। এতো অপমান কেউ করেনি আমাকে কখনো! অপমান করেছে ভালোবাসি বলে, ভালোবাসাটা অপরাধ তাই! মানুষ তার প্রিয় জিনিসগুলোকে ভালোবাসে, আর ভালোবাসাটা অপরাধ। আমার আর অপরাধ করতে ইচ্ছে করে না। আজকে থেকে আমার সব প্রিয় জিনিসগুলোকে বিসর্জন দিলাম, বিসর্জন দিলাম সব থেকে প্রিয় মানুষটিকে, আর বিসর্জন দিলাম আমার প্রিয় ছোট ছোট স্বপ্নগুলোকে। লিখে রাখলাম ডায়রীর পাতায়ঃ
০৩-১১-২০০৮, আজকে থেকে আমার কোনো প্রিয় জিনিস থাকবে না। প্রিয় জিনিস ছাড়াও মানুষ বাঁচে, বেঁচে থাকতে পারে!


৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×