somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আল্লাহ আছেন..এটি কী একটি বিশ্বাস না সত্যি ? আবদুল্লাহ-আল-মাসুম

০৯ ই নভেম্বর, ২০১০ সকাল ৮:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জানি ফেসবুক ষ্ট্যাটাসে প্রশ্নটি পোষ্ট করলে হাজার হাজার মন্তব্যে ভরে উঠবে কমেন্ট বক্স।
দুই দলে ভাগ হয়ে যাবেন অশংগ্রহণ কারীরা।
বিশ্বাস আর সত্যির যে পার্থক্য থাকতে পারে..
তাই হয় তো জানেন না ৯৮ টি(জন নয়,টি) বাঙালি।
যদি লেখক আবদুল্লাহ-আল-মাসুম-এর প্রতি আপনার বিশ্বাস থাকে..তাহলে চলুন জেনে নেই
বিশ্বাস আর সত্যির আসল অবস্থান।

বিশ্বাস ছাড়া পৃথিবী কি এক মুহুর্ত চলবে ?
মনে হয় অ-সম্ভব।
মজার ব্যপার হচ্ছে বিশ্বাস আবার
কখনো কখনো চমতকার একটি
মরীচিকার নাম।
ফুসসসসসসসসসসস...রঙিণ আলোর নাচন শেষ
হলেই আবার ঘণ,গাঢ় অণ্ধকার।শেষ।
হায় রে বিশ্বাস !
বিশ্বাসে তাই বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে অনেক মানুষ


একটা মজার জোকস বলি..
স্ত্রী তার স্বামীকে জিজ্ঞেস করছে..
আচ্ছা বিশ্বাস আর সত্যি তো একই ..তাই না ?
স্বামী বললো..মোটেই না।
স্ত্রীর বিশ্বাস হচ্ছে..বিশ্বাস আর সত্যি একদম এক ব্যপার..আলাদা করার উপায় নাই।জমজ ভাইয়ের মতো্।
স্ত্রী বললেন..উদাহরন দিয়ে বুঝিয়ে দিতে পারবে বিশ্বাস আর সত্যি যে এক নয় ?
স্বামী হাসে..সামনের বাচ্চাটিকে দেখিয়ে বলে.. এই শিশুটি যে তোমার সন্তান..এটি একটি সত্যি ।
এই শিশুটি যে আমার সন্তান..সেটি বিশ্বাস।
স্ত্রী ক্ষেপে যায় ভয়ানক।
তুমি কি আমাকে সন্দেহ করো ?
স্বামী তাড়াতাড়ি বলে..মোটেই না।আমি জাষ্ট উদাহরন দিলাম।
রাগ পড়ে আসে স্ত্রীর।এবার ঘুরিয়ে প্রশ্নটা করে-বিম্বাস না সত্যি কোনটা বড়ো ?

স্বামী বেচারা বলেন..অনেক সময় বেঁচে থাকবার জন্য সত্যির চেয়ে বিশ্বাস বড়ো।সত্যি আঁধারে লুকিয়ে থাকলে ক্ষতি নাই।কিণ্তু বিশ্বাস টুটে গেলে কিছুই থাকে না আর

এবার সত্যি সম্পর্কিত একটি সত্যি সত্যি ঘটনা বলি।
আমার এক প্রবাসী বন্ধু ....আমি জানতাম সুইডেন-এ সে খুব ভালো আছে।সেদিন ব্যাংকে গিয়েছি সেই ব্যাংকের চেয়ারম্যান সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে।
আমার খুব ইচ্ছা ..আমাদের ওয়ার্ল্ড টিভির চেয়ারম্যান হিসেবে একজন ব্যাংক-এর চেয়ারম্যান কে নেই।সেটা অন্য গল্প।আসলটা বলি।
ব্যাংক থেকে বেরিয়েছি।খুব তাড়াহুরো করছি।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যেতে হবে।আমাদের চ্যানেল-এর শেষ উনভেষ্টিগেশন করবে ডিজিএফআই।আর্মির গোয়েন্দা সংস্থা।তাদের রিপোর্ট স্ব-রাষ্ট্র মন্ত্রনালয়-এ পৌছলেই ..অনুমোদন -এর বাকি কাজ হয়ে যাবে।
আমি তাড়াহুরোর ভেতরে ভদ্র মহিলাকে চিনতে পারি নাই।হঠাত ভদ্রমহিলা আমাকে ব্যাংক-এর ভেতর জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলেন।পরে বিষয়টা পরিষ্কার জেনে..আমার দুচোখ ছলোছলো করে উঠলো।আমার বন্ধুটি একটি জাহাজ ডুবিতে মারা গেছেন।
আমার স্মৃতিতে আমার বন্ধু বেঁচে ছিলো।সুখে ছিলো। সেটিই ছিলো আমার কাছে সত্যি।মায়ের কাছে তথ্য পেয়ে আমার সত্যি পাল্টে গেল।সে এখন মৃত।
ছ' সাত মাস পরের ঘটনা।আমার বন্ধুটির মতো পুরো দেখতে একজন লোককে দেখলাম নেপালের পোখারাতে।বউ বাচ্চা সহ বেড়াতে এসেছে।অন্নপূর্না পাহাড়ের বরফের উপর রোদের আলতো চুমুতে কিভাবে জেগে ওঠে আশ্চর্য প্রকৃতি..তাই দেখতে এসেছে।আমি গিয়েছি ওয়ার্ল্ড টিভির জন্য একটা ট্রাভেল শো বানাতে।ওয়ালর্ড ট্যুর।আমি অনুষ্ঠান আর কী বানাবো ?বারবার ফিরে ফিরে দেখি ..
পুরা বন্ধুর মতো লাগে।কিন্তু তা কী করে হয় ?
যে চলে গেছে..হয়তো তার মতোই দেথতে.


মনে অনেক দ্বিধা নিয়ে উপস্থাপন করছি অন্নপূর্না রাইজের সৌন্দর্য।ক্যামেরার সামনে।ঐ লোকটি এস আমাকে বাচ্চা ছেলেদের মতো জড়িয়ে ধরলো।
আরে বন্ধু তুমি ?

আমি খুব আশ্চর্য হয়ে অদ্ভুত এক সত্যের মুখোমুখি হলাম।সে আসলেই আমার সেই বন্ধু।মরে নাই।তাকে বুকে জড়িয়ে থরে আমি আবার কাঁদলাম।আগেরটা ছিলো হারাবার ব্যথা ,,এবারের টা হারিয়ে পাবার মহা আনন্দ।জানলাম..সবাই জানতো সে মারা গেছে।প্রায় ছ'মাস সে একটা হসপিটালে স্মৃতি শক্তি হারিয়ে পড়েছিলো্।পুরা একদম হিন্দি ফিল্ম আর কী !মনকে শান্তনা দিলাম..ফিল্ম তো মানুষের জীবন থেকেই হয় ..না কি ?

আমি সেদিন থেকে জেনে গেছি সত্যের পরিচয়।আমি জেনে গেছি..আমি যাকে সত্য বলে জানি..তা সত্য না ও হতে পারে।আর তথ্য বাহিত বিশ্বাস ই আমাদের মস্তিষ্কে সত্য বলে গৃহীত হয়।তাহলে সত্যের আসল চেহারাটা কী রকম ?

সত্যে আসলে বহুরুপী।সত্যের আছে অনেকগুলো শ্রেনী বিভাগ।সত্য অনেক রকম।

অনেকে জানি খুব ক্ষেপে উঠছেন আমার উপর।কিন্তু..সত্যের গভীরে পৌছতে হলে..সত্যের সব রুপ আমাদের আলবত চেনা চাই।

একজনের চোখে একটি বালি কনা গিয়েছে।সে চিতকার করে কাঁদছে..তার চোখে নাকি একটা দশ ইঞ্চি ইট ঢুকেছে।চেষ্টা করেও কেউ বের করতে পারছে না।
শেষ পর্যন্ত একজন আঙুলের মাথায় তুলে আনলো
একটি ছোট্ট বালিকনা।
বললো..মিছা কতা কছ ক্যা ? ছোডো একটা বালু ডুকছে..আর কয় দশ ইঞ্চি ইট !

কেউ যদি তার ঐ ব্যথাটাকে মিথ্যা বলতে চায়।আমি দ্বিমত পোষন করি।
সেটিও একটি ট্রুথ।
তবে সেটি ইমোশনাল ট্রুথ মানে আবেগীয় সত্য।
মিথ্যা নয়।
আর সেটি যে একটি ছোট্ট বালিকনা
সেটি হচ্ছে প্র্যাকটিকাল ট্রুথ।

একটি লোক সারাজীবন সত জীবন যাপনে অভ্যস্থ্।সে যদি বিপদে পড়ে এক টুকরা রুটি চুরি করে..
তাহলে এই ঘটনার পর থেকে সে চোর..এটি একটি পার্টলি ট্রুথ বা আংশিক সত্য।

হোল ট্রুথ বা সার্বিক সত্যটি হচ্ছে ..একজন ভালো মানুষ বিপদে পড়ে জীবন রক্ষার্থে চুরি করেছেন।

ধর্মের সমস্ত বিষয় আসয় কে পুঙ্খানুপুঙঙ্খ প্রমাণ করার সুযোগ নাই ..তাই ধর্মের বিষয়গুলো হবে..
রিলিজিয়াস ট্রুথ।

তাহলে সত্যের যে কটি রুপ আমরা পেলাম সেগুলো হলো-
১.ইমোশনাল ট্রুথ
২.প্র্যাকটিকাল ট্রুথ
৩.পার্টলি ট্রুথ
৪.হোল ট্রুথ
৫.রিলিজিয়াস ট্রুথ

আরেক প্রকার সত্য আছে..লিষ্টে দিলাম না।
সেটি হচ্ছে ডেন্জারাস ট্রুথ।এই প্রকাররে সত্য গুলো
সমাজের এবং পৃথিবীর মানুষকে চেপে যেতে হয়।
সব সত্যি ..
না বলা যায় ..না বলতে হয় !
এই প্রকারের সত্যিগুলো বলে দিলে চারিদিকে খুব প্যাচগোচ লেগে যায়।অধিকাংশ মানুষের জন্য নেমে আসে অশান্তির আগ্নেয়-হাওয়া।উদাহরন আমার কাছে আছে।দিতে চাই না।

আল্লাহ আছে..এটা কী বিশ্বাস না সত্য ?
এটা ছিলো একটি মৌলিক প্রশ্ন।
এর উত্তর হচ্ছে..
আমরা যখন কোনো কিছু গভীর ভাবে বিশ্বাস করি
তখন সেটি আমাদের কাছে..সত্যি ।
এটি একটি রিলিজিয়াস ট্রুথ।
প্রশ্ন উঠতে পারে..তাহলে আল্লাহর অস্তিত্ব একটি গভীর বিশ্বাস মাত্র ? সত্যি নয়?
হোল ট্রুথ তাহলে কী ?
আমাদেরকে জানতে দিন।
আমরা জানতে চাই।

হোল ট্রুথটা আপনাকে নিজে নিজে বের করে নিতে হবে। আমি একটা উদাহরন দিচ্ছি।
একটা পিপিলিকা একটা বড় কড়াইয়ে যদি হেটে বেড়ায়..
তাহলে তার সেটাকে সমতল মনে হওয়াই স্বাভাবিক।
কারন পুরো কড়াইটা সে একেবারে অনুভব করার মতো বৃহত নয়।
কিন্তু..কোনো মানুষ যদি পিপিলিকাটাকে পর্যবেক্ষন করে..তাহলে এটা বোঝা তার পক্ষে খুব স্বাভাবিক যে
কড়াইটা অর্ধ গোলাকার।

চিন্তা করে দেখুন..
আল্লাহ,ঈশ্বর,ভগবান,রহমান,গড..নাম তার যতই হোকনা কেন..
সেই সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে পর্যবেক্ষন করছেন।
আমরা মানুষেরা পিপিলীকার মতো
একটা গোলাকার
বস্তুর ভেতর কত না কান্ড ঘটাচ্ছি!

পুরোটা একসাথে দেখতে না পেলে কিভাবে সম্ভভ হোল
ট্রুথ অনুধাবন করা ?
আমাদের পক্ষে কি সম্ভব.পুরোটা একসাথে দেখা ?
আমরা যে বড় ক্ষুদ্র তার পক্ষে।

যদি তাকে পেতে হয়..
দুচোখ বন্ধ করে প্রেমের নয়ন খুলিয়া তাকে অনুধাবন করতে হয়।

আমি ব্যক্তিগত ভাবে প্র্যাকটিসিং গুড মুসলিম না হলেও ঈশ্বরে ,ভগবানে,আল্লায় আমার অগাধ প্রেম।
কারন..
ঈশ্বর..সে তো প্রেমেরই আরেক নাম।
--------------------------------------------------------------------



( পড়ুন একই লেখকের আরেকটি প্রবন্ধ-

যৌনতা,ধর্ম,সমাজ ও জীবন (১) / / আবদুল্লাহ-আল-মাসুম
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে নভেম্বর, ২০১০ রাত ৯:৪৬
৪০টি মন্তব্য ৩১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×