আলাদা করে বলার কিছু নাই। ইতিহাস কমবেশী সবাই জানেন।
আমাদের বর্তমান আর সাবেক প্রধানমন্ত্রী , দুজনেই ছিলেন সাধারন দুজন গৃহবধু।
আজ ষোল কোটি মানুষের অসহায় মুঠি খুঁজে ফেরে তাদের একটি কনিষ্ঠ আঙুল।
হাঁটতে না পারা শিশুর মতো, অসহায় নিরুপায় একটি বাচ্চার মতো এই জাতি পার হতে চায় তাদের সংঙ্কট।
সুড়ঙের পরপারে কতটুকু আলো খুঁজে পান এই অবোধ শিশু, আমি তা নিশ্চিত করে জানি না।
তবে-এটুকু জানি- যারা ছিলেন সাধারনের অধিক সাধারন দুজন মানুষ- তাদের মুখের দিকে ২৪ ঘন্টা তাকিয়ে থাকে আমার বাংলাদেশ।
স্বার্থকতা আর ব্যর্থতার উপখ্যান নিয়ে ই তৈরী হয় যে কোনো সিনেমা। বাংলার স্বাধীনতা উত্তর রাজনীতি আর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যদি কোনো সিনেমার বিষয়বস্তু হয়- তাহলে হয়তো সেখানে
যথার্থই থাকবে টক,ঝাল, মিষ্টিসহ সমস্ত রসদ। এই জাতির সংকটময় আর বিপজ্জনক চড়াই , উতরাই।
[
উপরের ছবিগুলো আমার কথার জ্বলন্ত সাক্ষী।
আর, অপরপক্ষে পারিবারিক বন্ধন আর পিতা মাতার সঙ্গে সন্তানের মধুর সম্পর্ক কতো আটপৌরে আর স্মৃতি-রোমন্থনকারী হতে পারে- তা ই এই ছবিতে প্রতীয়মান।
কোনো নির্দিষ্ট শাসনামলের রূপরেখা নিরুপন বা কারো স্বার্থকতা, ব্যর্থতার ইতিহাস বয়ান, আমার এই লেখাটির উপজীব্য নয় ।
কিছু মৌলিক প্রশ্ন আমার ভেতরে অনেক কাল ধরে আবর্তিত হচ্ছে।
আমি একটি ভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই।
অনেকে বলেন - স্বপ্ন দেখতে তারা ভয় পান ।
আমি বলি - ভয় কি ? মানুষ স্বপ্ন দেখে , তাই তো সত্যি হয় ।
ভীতু আর কাপুরুষের দল আবার বলে- ছেড়া কাঁথায় শুয়ে লক্ষ টাকার স্বপ্ন দেখা নিরর্থক।
আমি বলি- বাঙালি , আসলে নিজে থেকে ৩৪ বছরেও স্বপ্ন দেখতে শেখে নি।স্বপ্নের ফজিলত যদি তারা
জানতো , তাহলে- দেশটা তো কবেই পেয়ে যেতো আসল মুক্তি। অর্থনৈতিক মুক্তি।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বাঙালিকে প্রথম একটি স্বপ্ন দিলেন।
একটি জাতি রাষ্ট্র আর নিজস্ব ভূগোলের স্বপ্ন।
স্বপ্নটি দেখতে কোটি টাকার দরকার পড়ে নি।
আর ,
একই সাথে বলা প্রয়োজন-
হাজার কোটি টাকায় এরকম স্বপ্ন বাজারে কিনতে পাওয়া যায় না।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ছিলেন একজন মুহরীর সন্তান।
কোর্টের উকিলদের সহযোগী পর্যায়ের লোক।
আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন বাদাম বিক্রি করতেন।
পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন এই অবাক করা ইতিহাস।
বর্তমান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কেনিয়ার সন্তান, সর্বপ্রথম একজন লেখক এবং অত্যন্ত সু বক্তা, এবং সঙ্গে যেটা একান্ত উল্লেখযোগ্য সেটি হলো - তিনি স্বপ্ন দেখেন দৃঢ়তা নিয়ে এবং সেটা মানুষের ভেতর ছড়িয়ে দেন রঙধনুর সাত রঙে অসামান্য নৈপুন্যতায়।
আবিষ্কারের পূর্বে - উড়োজাহাজ ছিলো সাধারন মানুষের কাছে কল্পনার অতীত। রূপকথার গল্প আর গাজাখুরী কল্পনা।
টু ব্রাদার্স এটিকে স্বপ্ন থেকে বাস্তবে টেনে আনলেও ,
এই স্বপ্নটি কল্পনা থেকে টেনে স্বপ্রের ধাপে যিনি নিয়ে আসেন-তিনি একজন শিল্পী ।
লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি।তিনিই প্রথম আঁকেন এমন একটি ছবি- যা আকাশে উড়বে , মানুষকে নিয়ে।
বিজ্ঞানিদের কাজ বাস্তবায়ন করা।
আর , শিল্পী কবি নেতাদের কাজে হচ্ছে স্বপ্ন দেখানো বা দেখতে শেখানো।
আমি যদি বলি- ভবিষ্যতে এমন এক দিন আসবে- যখন মানুষ, পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলে যাবে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে।
আপনি বলবেন - অসম্ভব।
যেমন টেলিফোন, মোবাইল আবিষ্কারের পূর্বে কেউই তা বিশ্বাস যোগ্য মনে করে ধারন করতে পারে নি- সেরকম।
কারো উপর অবিশ্বাস স্থাপন করতে হলে মেধা ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে না। তাই- বিশ্বাস করা থেকে অবিশ্বাস করা অনেক সহজ।আমরা সবাই শক্তি ব্যবহারে উতসাহী । মেধা ব্যবহারে নয়।
ব্যাখ্যা করছি আমার কল্পনা শক্তির প্রয়োগ কীভাবে হতে পারে !
হয়তো আগামী কয়েক দশকে মানুষের শরীর হবে - বদলযোগ্য ।
মানুষ তখন শরীর নির্ভর নয় , হবে মস্তিষ্ক নামের ইলেকট্রনিক চিপ নির্ভর।
প্রাণ হবে স্মৃতি আর জ্ঞানের সমষ্টি।সব জমা থাকবে সেই চিপ-এ।
যেভাবে কম্পিউটারের সব তথ্য থাকে হার্ড ডিস্ক -এ, সেরকম।
সেরকম শুরু হলে ইলেকট্রনিক যাত্রায় অভ্যস্থ্য হয়ে পড়বে আগামীর মানুষ।
এ পাশের শরীর থেকে খুলে নেয়া হবে চিপ।
সমস্ত ডাটা কয়েকমিনিটেই ট্রান্সফার হয়ে যাবে পৃথিবীর অন্য ভুগোলে।
তিন মিনিটেই পেরুনো যাবে ৫০ হাজার মাইল দূরত্ব।
ও পাশের এয়ারপোর্ট ( নামটা তখন আর বোধ হয় এয়ারপোর্ট থাকবে না , হতে পারে ফরেন বডি রিপ্রেসমেন্ট বা লিগাল ডাটা ট্রান্সফার পোর্ট।)
এক পোর্টে ছেড়ে যাবে পুরোনো শরীর , অন্য পোর্টে ঢুকবে গিয়ে নতুন শরীরে।
অনাগত সুদুর ভবিষ্যত আমার এই লেখাটির অভিষ্ট্য লক্ষ্য নয় ।
লক্ষ্য হচ্ছে- স্বপ্ন কী আর কাকে বলে ?
স্বপ্নের প্রকার দুই রকম।
১. ঘুমিয়ে যে স্বপ্ন মানুষ অনিচ্ছাতে দেখে।
২. জেগে,ভবিষ্যতের জন্য যে স্বপ্নের সৃষ্টি।( অভিষ্ট্য লক্ষ্য ।)
দ্বিতীয়টাই মূল।
একটি বড় ভবন বানাতে কি লাগে ? জানা আছে কী ?
যা যা লাগে-
১.প্রথমত- প্লানিং. ( কল্পনা)
২.দ্বিতীয়ত-জমি। ( স্বপ্ন)
৩.ইট , সুড়কি, রড,বাঁশ ইত্যাদি.. ( বাস্তবতা)
কল্পনাকে স্বপ্নের শক্ত জমিন দিলে তা বাস্তবতায় রুপ লাভ করবে সময়ের ব্যবধানে।
এগুলো এক- একটি ষ্টেজ।
একটির পর একটি পেরিয়ে তারপর একটি ভবন দাঁড় করাতে হয়।
কল্পনার সাথে নাকি বাস্তবের কোনো সম্পর্ক নাই- অনেকে বলেন।
কল্পনাটা হচ্ছে স্বপ্ন তৈরীর জন্য মূল চালিকা শক্তি।
আর স্বপ্নটাকে আপনি যখন অনেক ত্যাগ -তিতিক্ষা, পরিশ্রম, বুদ্ধি, ভালোবাসা নিয়ে ধরে থাকতে পারবেন , তখন স্বপ্নটি একটু একটু করে বাস্তবতায় রুপ নিতে থাকবে।
আরো সহজ একটি উদাহরন দিচ্ছি।
ডিমটা যখন মুরগীর পেটে আসে সেটা একটা কল্পনা।
মুরগী যখর ডিমটা পাড়ে- সেটা একটা নতুন মুরগী জন্ম গ্রহন করবার স্বপ্ন।
নির্দিষ্ট সময় একে ওম দিলে ডিম ফেটে যখন মুরগীর বাচ্চাটি চি চি করে বেরিয়ে আসে সেটা বাস্তবতা।
তাই বলা চলে - কল্পনা আর স্বপ্ন ছাড়া বাস্তবতার কোনো অস্তিত্ব নাই।
অন্যের স্বপ্ন নিয়ে তাই ঠাট্টা , বিদ্রপ নয়।
নতুন একটি শক্তিশালী , সফল জাতি গঠনের স্বার্থে হয়ে উঠুন একজন পজেটিভ মানুষ।
অন্যের স্বপ্নকে সম্মান করুন, সহযোগিতা করতে না পারলেও দয়া করে আঘাত করবেন না।
দেখবেন আপনার স্বপ্নটাও সত্যি হবার জন্য আপনার বদলে যাওয়ার ভেতর দিয়ে অনুকূল পরিবেশ তৈরী করেছে আমার সমাজ, ভুগোল, রাষ্ট্র।
আমি একজন তেজী , জোয়ান রিক্সাওয়ালাকে ইন্টারভিউ করেছিলাম।
সে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়েছে । ভীষন পরিশ্রমী । যখন কথা বলছিলাম-দরদর করে ঘাম পড়ছিলো।
- জমানো টাকা নাই ?
--আছে তো স্যার !
-- কতো ?
--এই ধরেন হাজার পনেরো।
- তাহলে তো তুমি, সহজেই সিএনজি চালানো শিখতে পারো।তারপরে প্রাইভেট কার। এরপর ট্রাক বা লরি।
-- না স্যার।
-না কেন ? ফাইভ পর্যন্ত পড়াশোনা করছো। ড্রাইভিং শিখতে ৫ হাজারের বেশী লাগবে না।
তাছাড়া তুমি পরিশ্রমী। আরো বেশী সম্মান আর টাকা পাইবা প্রাইভেট কার চালালে।
-- না স্যার , আল্লায় আমারে রিক্সাওয়ালা বানাইয়া পাঠাইছে-এই টাই ভালো।
বোঝো ঠ্যালা !!!
আমি মাঝে মাঝে ভাবি - আচ্ছা, একজন বাদাম বিক্রেতা, পরবর্তীতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন আর একজন রিক্সাওয়ালার মূল পার্থক্যটা ঠিক কোন জায়গায় ?
আমি আবিষ্কার করেছি।
মূল পার্থক্য হচ্ছে- রিক্সাওয়ালাটার ভেতরে কোনো স্বপ্ন নাই।
আব্রাহামের ভেতরে ছিলো।
তার স্বপ্ন ছিলো আর স্বপ্নে শক্তিও ছিলো।
স্বপ্নে যদি শক্তি থাকে-
মনের ভেতর ভক্তি থাকে
তাকে বাস্তবতায় রুপ দেয়া কঠিন কিছু নয়।
সময় হতো লাগবে, কিন্তু আসবে জয়।
স্বপ্ন ছাড়া হয় না সাহস
দুঃসাহসী যাত্রা-
স্বপ্ন দিয়েই ডিঙিয়ে যাও
স্বপ্ন দেখার মাত্রা।
স্বপ্ন সমান বড় তুমি
বড় তোমার বিশ্ব-
স্বপ্ন যদি হারিয়ে যায়
কে আর এতো নিঃশ্ব ?
আপনার স্বপ্নটি নিশ্চই গৃহবধু থেকে প্রধানমন্ত্রী হবার মতো বড় নয়।
আপনার স্থানটি নিশ্চই বাদামওয়ালার মতো সীমাবদ্ধ নয় ।
আপনার নিশ্চই বারাক ওবামা হবার কোনো ইচ্ছে নেই।
আপনাকে নিশ্চই আজাদ প্রোডাক্টের মালিকের মতো ফেরি করতে হয় নি ভিউকার্ড।
হাজার কোটি টাকাও আপাতত আপনার টার্গেট নয়।
অবস্থা ততটা করুন নয়।
আপনার স্বপ্নটি বাস্তবে আসবে বলে আপনার ভেতরে চিতকার করে কাঁদছে।
ভয় পাবেন না। এগিয়ে যান।
একে বাস্তবে টেনে আনতে যা যা প্রয়োজন সবই আপনার চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
খুঁজে নিন।
ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়।
উপায় আপনি খুঁজে পাবেন।
লেগে পড়ুন।
স্বপ্নটি পরিপূর্ন হলে আমাকে মিষ্টি খাওয়াতে ভুলবেন না।
হা হা হা।
জাষ্ট কিডিং !!
অল দ্য বেষ্ট।
উইশিং ইউর গ্রেট সাকসেস অফ লাইফ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০১০ রাত ১:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



