পুরানো ফোনটায় মাঝে মাঝে একটা দুটা মিসকল আসলেই সে কলব্যাক করে। বোঝে সবই লেডিস ইউসার খোঁজায় ব্যাস্ত নতুন সিটিসেল গ্রাহক।
সন্ধার পর সব মাহবুব মোড়ের দোকানের আড্ডায় যায়। প্রতিদিনই একবার করে মোবাইল দুটো আলোচনায় আসে। শত প্রশ্নবানে জর্জরিত মাহবুব প্রতিবারই জরুরী ফোনের দোহাই দেয়। আসল কারন কাউকে বলে না।
কয়েক বছর আগে পাশের পাড়ার মিতার সাথে মাহবুবের একটা ক্ষনিক প্রেমের ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় মাহবুবের কাছে মোবাইল না থাকলেও ঠিকাদার দুলাভাইয়ের বদৌলতে মিতার একটা সিটিসেল মোবাইল ছিল। তাই প্রতিদিন মাহবুবের কলেজে যাওয়ার পয়সা বাসওয়ালার হাতে না পরে পরত ফোনের দোকানদার রফিকের পকেটে। শুধু যাতায়াত ভাড়া দিয়ে কি আর প্রেমের আলাপ পরিপূর্ন হয়? তাই বাসার বাজার আর ভারচুয়াল শিক্ষকের উপরও প্রেশার পরত।
এভাবে মাস দুয়েক আলাপনের পর মাহবুব একটা সাহসী কাজ করে ফেলল। বাসার আলমারী থেকে হাজার চারেক টাকা চুরি করে কিনে ফেলল একটা সিটিসেল প্যাকেজ। কিন্তু খরচ কমল না। কমবে কিভাবে? মিতা বলে দিয়েছে রাতে সবাই বাসায় থাকে। তাই রাতে কোন কল কিংবা মিসকল দেয়া চলবে না। দিনে মিতা মিসকল দিলে তবেই কল করা যাবে। তাই মাহবুব-মিতার প্রেম চলতে লাগল দিনের নেটয়ার্কে।
এভাবে কয়েকদিন চলার পর একরাতে মাহবুব নিজেকে উদাসী ভাবায় মিতার ফোনে একটা মিসকল দেয়ার পরিকল্পনা করল। কিন্তু রাত তিনটা পর্যন্ত মিতার মোবাইল বিজি থাকায় এই চেষ্টা সফল হল না। মাহবুব ভাবল নেটয়ার্ক প্রবলেম। এভাবে পর পর কয়েকদিন চলার পর মিতাকে ঘটনাটা খুলে বলতেই মিতা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছিল। মাহবুব কে প্রতারক, ফেইথলেস, চতুর অভিহীত করে ছয় মাসের প্রেমের ইতি টানল সেখানেই।
তবুও হাল ছাড়ে নি আমাদের মাহবুব। অপেক্ষায় থেকেছে একটা মিসকলের। কিছুদিন পরেই লোকাল সালমান খান হিসেবে পরিচিত অভি ভাইয়ের সাথে মিতার প্রেমের একটা গুন্জন শোনা গিয়েছিল। তখনও মাহবুব অপেক্ষায় থেকেছে। তার কয়েকমাস পরে এক ইন্জিনিয়ার পাত্রের সাথে বিয়ে হয় মিতার। ওরা চলে যায় ঢাকায়।
এর মাঝে আমাদের মাহবুব দুই বার অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার অভিজ্ঞতা অর্জন করে। সিটিসেলে সুবিধা কম থাকায় মাহবুব একটা নতুন মোবাইল কেনে। সবাই নতুন ফোনেই কল করে। তবু সে সিটিসেল টা সাথে রাখতে ভোলে না। মানুষের মন কোন কারন মানে না। যদি কখনও আসে মিতার মিসকল। তাই মাহবুব প্রতিদিন সযত্নে মোবাইল চার্জ দেয়। নিয়মিত ব্যালেন্স রিচার্জ করে । ঘুম থেকে উঠেই মিসকল হিস্টোরী চেক করে।
মাহবুব ভাবে, মিতা খুব অভিমানী। একবার যদি রেসপন্স না পায় তাহলে হয়তবা আর কোনদিনও কল করবে না। সে সবসময় থাকে জরুরী কলের আশায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

