হযরত ইস্রাফীলের শিঙ্গায় ফুঁক এবং কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার নির্দশন বা আলামত:
কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সর্বপ্রথম নির্দশন বা আলামত হল- মানুষ তিন - চার বৎসর পর্যন্ত অলসতার মাঝে কাটিয়ে দেবে। দুনিয়ার প্রাচুর্য ব্যাপকহার বৃদ্ধি পাবে। ব্যাক্তিস্বার্থ মানুষের মাঝে চরম আকার ধারণ করবে। সম্পদের লোভে মানুষ বিভোর রবে বা অন্ধ হয়ে যাবে। এমন এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে মুহররম মাসের দশ তারিখে শুক্রবার মানুষ সকাল সকাল স্ব-স্ব কর্মস্থলে বের হয়ে পড়বে।
তখন - ১. হঠাৎ অতি ক্ষীণ স্বরে এক দীর্ঘ আওয়াজ মানুষের কানে ভেসে আসতে থাকবে। এ আওয়াজই হল হযরত ইস্রাফীলের শিঙ্গার আওয়াজ। বিশ্বের সব স্থান থেকে এ আওয়াজ একই ধরনের শোনা যাবে। সকল মানুষ হতচকিত হয়ে বুঝার চেষ্টা করবে এ আওয়াজ কিসের? কোথেকে আসছে এ আওয়াজ? মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ক্রমেই এ আওয়াজ বৃদ্ধি পেতে থাকবে। সময় যতই গড়াতে থাকবে আওয়াজ ততই তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে বজ্রের ন্যায় বিকট আকার ধারণ করবে। সকল মানুষের মাঝে চরম অস্থিরতা বিরাজ করতে থাকবে। আওয়াজ যখন তার বিকটতার ভয়াভহ ও চুড়ান্ত রূপ ধারণ করবে, তখন ভীত-সস্ত্রস্ত মানবজাতি একে একে মৃত্যুরকোলে ঢলে পড়বে। ভূ-পৃষ্ঠে ভূমিকম্প হবে,
২. ভূ-পৃষ্ঠে ভূমিকম্প শুরু হলে ঘরের মানুষ পাগলের মত ছুটে এসে খোলা মাঠে আশ্রয় নেবে। জঙ্গলের পশুপাখি ভীত-সস্ত্রস্ত হয়ে মানুষের দিকে ছুটে আসবে,
৩. ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থান ফেটে চৌচির হয়ে যাবে। আর সাগরের পানি উথলিয়ে উঠে উথাল পাথাল হয়ে আশেপাশে গড়িয়ে পড়বে। আগুন নিমজ্জ্বিত হয়ে যাবে। সুউচ্চ, সুদীর্ঘ, সুবিশাল, সুসৃঢ়, মজবুত পাহাড়গুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধূলিকণার মত বাতাসে উড়তে থাকবে। প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড় এবং ধূলাবালি উড়ার কারণে সমগ্র দুনিয়া লন্ডভন্ড হয়ে যাবে। এদিকে হযরত ইস্রাফীলের শিঙ্গার আওয়াজের তীব্রতায় ও প্রচন্ডতার এক পর্যায়ে আকাশ ভেঙ্গে খান খান হয়ে যাবে। তারকারাজি টুকরো টুকরো হয়ে খসে পড়বে। (সুরা যিলযাল, তাকভীর ও কারিয়া)
(সুত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, ২১-০৫-১০, জনাব মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

