পোড়া মরিচ, পাতলা রুটি আর হিন্দি সিরিয়াল...
০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:৪৬
নারী আন্দোলন, নারী আন্দোলন, নারীদের সমঅধিকার...
উফ!
মাথা শেষ!
এই সব কথাবার্তা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সভা-সমাবেশে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
একবার পত্রিকায় একটা ছবি ছাপা হয়েছিল- "নারী অধিকার নিয়ে আন্দোলনরত বেশ কয়েকজন মহিলা একটা রাস্তার পাশ দিয়ে মিছিল করে যাচ্ছেন, আর সেই রাস্তাতেই ফুটপাথের উপর এক মহিলা শুয়ে ঘুমাচ্ছে।" ফোটোগ্রাফার এমনই তীব্র খোঁটা দিয়েছিলেন যে তার প্রশংসা করা ছাড়া কোন উপায় ছিল না!
নারী আন্দোলন বেশ আগে থেকে চলে আসছে। এখনও চলছে। কিন্তু নারীরা কিসের জন্য আন্দোলন করছেন? তাঁরা সমঅধিকারের জন্য আন্দোলন করছেন।
খুব ভালো কথা। খুবই ভালো কথা। সমঅধিকার অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সমঅধিকার মানে কি এই যে তারা ইনকাম করে পুরুষ খাওয়াবেন বসে বসে? সমঅধিকার মানে কি শুধু চাকরি আর পড়াশুনা করতে পারা?
হ্যাঁ, নারীও চাকরি করবে, নারীও স্বাবলম্বী হবে। এটাও খুব ভালো কথা। এটাও ভালো কথা যে তারা নিজেরা ইনকাম করবেন। কিন্তু তাদের এই যে এত স্ট্রাগল করে পড়াশুনা, এই যে এত দাবী আদায় করে পড়াশুনা ও চাকরি করা, এই যে এতকিছু, এর ফলাফলটা কি?
ফলাফল এই যে তাঁরা পড়াশুনা করে চাকরি করছেন আর স্বামীর রান্নাঘরের ম্যানেজার হচ্ছেন।
এত পড়াশুনা, এত স্ট্রাগলের কি এই ফলাফল? এই কি তার শেষ? এই যদি তার শেষ হয়ে থাকে, তবে তা খুবই দুঃখজনক। তা খুবই দুঃখজনক।
মহীয়সী বেগম রোকেয়া নারী অধিকারের জন্য আন্দোলন করে গেছেন। তিনি যদি দেখতেন যে তাঁর সেই "দূর্বলভুজা নারী, যারা কিনা আগে সূঁচ ধরিবার সামর্থ্য লভিয়াই উনানে হাঁড়ি চড়াইবার সামর্থ্য লাভ করিতেন, তাহারাই এখন কলম ধরিবার সামর্থ্য লভিয়া স্বামীর রান্নাঘরের ম্যানেজার হইতেছেন।" - তবে তিনি খুবই দুঃখ পেতেন- আমি নিশ্চিত।
দেখুন, রিকশাচালকের বউ, যে কিনা অশিক্ষিত, সে প্রতিদিন সকালে চেষ্টা করে স্বামীর জন্য মরিচটা আরেকটু ভালো করে পুড়িয়ে দেবার, যাতে সে খাবার সময় বিরক্ত না হয়।
আবার, মধ্যবিত্তের ক্ষেত্রে, শিক্ষিত নারীরা, তারা প্রতিদিন সকালে যখন রুটি বানান, তাঁরা চেষ্টা করেন যেন রুটিটা আরেকটু পাতলা হয়, যেন রুটিটা দুইপাশেই সবদিকে সমান সেঁকা হয়।
আর উচ্চবিত্তের ক্ষেত্রে, শিক্ষিত নারীরা কাজের মেয়েটার হাতে রান্নার দায়িত্বটা ছেড়ে দিয়েই বসে যান টিভির সামনে, হিন্দি সিরিয়াল দেখেন আর তার ডায়ালগ মুখস্ত ও সেই অনুযায়ী সাজগোজ ও মেকআপ করার চেষ্টা করেন।
এই ঘটনাই ঘটছে। শিক্ষিত ও অশিতি উভয় ক্ষেত্রেই একই ব্যাপার ঘটছে। ধনী ও গরীব উভয় ক্ষেত্রেই । তারা স্বামীর রান্নাঘরের ম্যানেজার হচ্ছেন আর রান্নাটা কীভাবে আরেকটু ভালো হবে এবং কীভাবে 'কুসুম' কিংবা 'কাটুম' এর মত সাজগোজ করা যাবে, সেই চিন্তাই করছেন।
নারী আন্দোলন এর কি এই মানে? এই কি অর্থ যে নারীরা শিক্ষিত হবেন আর পেটভরা বিদ্যা নিয়ে রান্না করবেন কিংবা হিন্দি সিরিয়াল দেখবেন আর তার ডায়ালগ মুখস্থ করার পেছনে মেধা নষ্ট করবেন?
এইরকম নারী সমাজই কি বেগম রোকেয়া চেয়েছিলেন? তিনি কি এই চেয়েছিলেন যে নারীরা পেটভরা বিদ্যা নিয়ে পাতলা রুটি তৈরী করবে? তিনি কি এই চেয়েছিলেন?
বেগম রোকেয়ার সফলতা তাহলে এই যে তিনি রান্নাঘরের ম্যানেজারদের পেটে বিদ্যা ঢুকিয়েছেন। এছাড়া তো আর সফলতা দেখছি না। বেগম রোকেয়া বলেছিলেন- "প্রয়োজনে আমরাই হইব লেডী-জজ, লেডি কেরানি......।"
তিনি সমাধানের পথ বাৎলে দিয়েছিলেন। কিন্তু আজকালকার নারীরা সে পথের কিছুটা অংশে হাঁটছেন। তাঁরা সম্পূর্ণ পথ হাঁটছেন না। ফলে লাভ বলতে এই হচ্ছে যে তাঁরা স্বামীর ঘরের শিক্ষিত ম্যানেজার হচ্ছেন আর কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বামীকে উপার্জনে সহায়তা করছেন। শিক্ষিত রাঁধুনিও যা রাঁধেন, অশিক্ষিত রাঁধুনিও তা-ই রাঁধেন। তাহলে নারীর এই শিক্ষা দিয়ে কী হবে? এর লাভ কি এই যে তাঁরা সন্তানকে " অ,আ,ক,খ" শেখাবেন? সে তো স্কুলের মাস্টাররাও পারেন। তাহলে এই ধরণের শিক্ষিত নারী দিয়ে কী হবে? কী লাভ?
কী লাভ হবে যদি তাঁরা শিক্ষিত হয়ে শুধু রাঁধুনি হন! আমরা এই নারী সমাজ চাই না। এমন শিক্ষিত রাঁধুনির কোন দরকার নাই। আমরা চাই, তাঁরাও আমাদের পাশাপশি সবক্ষেত্রে বিচরণ করবেন। তবেই বেগম রোকেয়ার আশা পূরণ হবে। তাঁরাও হবেন জজ-ম্যাজিস্ট্রেট, সাহিত্যিক, কবি.......। আমরা তাদের আমাদের পাশাপাশি সব ক্ষেত্রে সমানভাবে বিচরণকারী হিসেবে দেখতে চাই। আমরা তাঁদের শিক্ষিত রাঁধুনি হিসেবে রান্নাঘরের ম্যানেজার দেখতে চাই না।
এইরকম শিক্ষার কোন দরকার নাই।
এই শিক্ষা নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার নামে শুধুই চোখে ধুলো দেওয়া, আর কিছুই নয়।
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
বিরাট বড় .. পরে পড়ুমনে ..ঠিকাছে !!
মদনবাবু বলেছেন:
হঠাত নারী আন্দোলন ??
পাগলা বাবু বলেছেন:
''এখন থেকে রান্না ঘরে একটা জানালা কাটো ,বেশ বড় জানালা ।''
এখান থেকেই শুরু হবে আন্দোলন ।
পাগলা বাবু বলেছেন:
''এখন থেকে রান্না ঘরে একটা জানালা কাটো ,বেশ বড় জানালা । ফুসফুসে ধোওয়ার সাথে যাক কিছু বিশুদ্ধ বাতাস ।''
এখান থেকেই শুরু হবে আন্দোলন ।
নাজিম উদদীন বলেছেন:
একপেশে মতামত, মায়োপিক দৃষ্টিভঙ্গী, চশমা পাল্টান।শিক্ষিত নারী রান্না-বান্না করলেও তার শিক্ষার গুণ কমে যাচ্ছে না।
আপনি কি অশিক্ষিত রাধুঁনি চাচ্ছেন?
ধ্রুব বলেছেন:
জটিল ৫+
নূরে আলম বলেছেন:
নাজিম উদদীন, মাইয়োপিক চিন্তা হল কী করে বুঝলাম না। শিক্ষা হল এমন একটা জিনিস, যার চর্চা না থাকলে মানুষ ভুলে যেতে পারে সহজেই।বড় বড় সার্টিফিকেট নিয়ে যদি রান্নাবান্নাটাই চলতে থাকে, তবে সে একসময় যে শিক্ষিত ছিল, এই ধারণাই তার মাঝে আর থাকবে না। এ সবই চর্চার ব্যাপার।
নূরে আলম বলেছেন:
ধন্যবাদ, ধ্রুব।
স্বামীর ইচ্ছামত ব্যয় করতে হয়। এই ব্যাপারটার সলিউশান কী?
আরো একটা কথা, সন্তানদের অ আ ক খ শেখানোটা কিন্তু কোন তুচ্ছ কাজ না। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি কথাটা।
আর মা যদি বাবার মতই বাইরে থাকে তাহলে সন্তানদের কী হবে? আমরা আমাদের সন্তানদের কি ওয়েস্টার্নদের মত আনলাভড, ইগনোরড আর আনকেয়ারড ফর হিসেবে বড় করব?
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন:
৫
মাহবুবা আখতার বলেছেন:
এটা কিন্তু এত সহজে ব্যাখ্যা করার মত বিষয় না আসলে। সমস্যাটার সমাধান কি হতে পারে সেটা নিয়ে আমি বেশ ভেবেছি, কুল কিনারা করতে পারিনি।এত যে পড়াশুনা, এত যুদ্ধ... কেউ কেবলি ভালো বিয়ের জন্য করছে, কেউবা করছে চাকরি/টাকার জন্য। আমাদের গোটা সমাজটা বদলে যেত মেয়েরা এগিয়ে গেলে, সেটা কিন্তু হচ্ছে না।
মেধাবী মেধাবী মেয়েদের করুণ করুণ পরিণতি হতে দেখি প্রতিনিয়ত। রান্না করে, বাচ্চা সামলায়... এইসব।
কিন্তু সমস্যা আরো আছে, মেয়েরা এই কাজগুলো না করলে কারা করবে?
আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, চাকরিজীবী মায়ের সন্তানেরা অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত হয়।
তাহলে সমাধানটা কোথায়?
(লেখা বেশ ভালো হয়েছে।)
নূরে আলম বলেছেন:
মুনিয়া, এই ব্যাপারের একমাত্র সলিউন হল মানসিকতার পরিবর্তন করা। আমাদের পুরুষদের মানসিকতার পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। নইলে আপনি যে সমস্যার কথা বলছেন, তার সমাধান হবে না।না, সন্তানদের কখনোই আমরা ওয়েস্টার্নদের মত আনলাভড, আনকেয়ারড করে বড় করব না। সন্তানকে অবশ্যই সময় দিতে হবে। তবে একটা সময় আসে যখন মোটামুটি কম সময় দিলেও চলে। তখন কিন্তু একজন মা চাকরিতে জয়েন করতে পারেন। তবে আসল ব্যাপার হল মানসিকতার পরিবর্তন।
ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
নূরে আলম বলেছেন:
ধন্যবাদ, মাহবুবা আখতার।সমাধান?
সমাধান হল, আমাদের পুরুষদেরও সহযোগী হতে হবে। অনেক পুরুষকেই দেখেছি, রান্নাবান্নার কাজে এতটুকু সহায়তা করতে বললেই বলেন- "আমি কি মেয়েলোক নাকি?"
কিংবা কোন পুরুষ যদি রান্নাসংক্রান্ত কাজ করেন, কিংবা ঘর ঝাড়ু-পোঁছ করেন, তাহলে অনেকে বলে ওঠেন- "শালা আস্ত মেয়েলোক!"
এই হল অবস্থা। প্রথমে প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন।
ধন্যবাদ।
নিধিরাম সর্দার বলেছেন:
আমি আপনাকে ভালা পাই নুরা আলাম ভাই
নূরে আলম বলেছেন:
নিধিরাম সর্দার, পোস্ট সংক্রান্ত কমেন্ট করলেন না?নাকি পোস্টের বিষয়বস্তুই বুঝতে পারেন নাই?
অবশ্য ঘিলু থাকলে তো বুঝবেন...
আপনার ছবিতে দেখা যাচ্ছে যে আপনি একটা খুলি।
খুলির ভিতরে তো আর ঘিলু থাকতে পারে না!
....
নূরে আলম বলেছেন:
ব্লগীয় প্রভাবশালী নিধিরাম...
নূরে আলম বলেছেন:
কিন্তু আসল ব্যাপার হল, নিজের পোস্ট নিজে নিজে টপ রেটেড বানালেও, বিষয়বস্তু না থাকলে ঐ বুদ্ধিহীন 'বিশেষ গোষ্ঠী' ব্লগার ছাড়া আর কেউ পড়বে না।
মদনবাবু বলেছেন:
নূরে আলম ভাইরে জিগাইসিলাম হঠাত নারী আন্দোলন ??
নূরে আলম বলেছেন:
মদনবাবু, আপনার প্রশ্নটা বুঝলাম না।
মদনবাবু বলেছেন:
জিগাইসিলাম হঠাত নারী আন্দোলন / জাগরণ নিয়া পুস্ট দিলেন যে ?
রাতুল" বলেছেন:
নারী আন্দোলননূরে ভায়ের দুই চোখের বিষ, এই নিয়ে আমরা কথা না বলি।
নূরে আলম বলেছেন:
মদনবাবু, মনে হল, তাই দিলাম। ব্যাস!
নূরে আলম বলেছেন:
রাতুল", কী লাভ আমার পিছে লেগে? আমি তো আর ব্লগ ছেড়েও দেব না, কিংবা তোমাদের 'চাপে' লেখার ধরণও চেঞ্জ করব না কিংবা মনোভাবও পরিবর্তন করব না। তাহলে কী লাভ হচ্ছে আমার পিছে লেগে?এ কী শুধুই মানিসক বিকৃতির পরিচয় দেয় না?
একটু চিন্তা করে দেখুন, সহজেই বুঝতে পারবেন।
ধন্যবাদ।
মদনবাবু বলেছেন:
আলম ভাই তাইলে আপ্নে দেখি সীরিয়াস না । হুদাই কিছু নীতিবাক্য পুস্টাইলেন ।
নূরে আলম বলেছেন:
মদনবাবু, এতে সিরিয়াস হওয়া না হওয়ার প্রশ্ন আসে না।আর আমি নীতিবাক্য 'পোস্টাইলে' আপনারই বা এত সমস্যা কেন?
না পড়লেই তো পারতেন!
শুধু শুধু আপনারা আমার লেখা পড়েন, আর বিরক্ত হয়েছেন বলেন। তাহলে আমার ব্লগে ঢোকেন কেন?
সাইফুর বলেছেন:
...খারাপ বলেন নাই..তবে আরো ..বিস্তারিত দরকার....
নূরে আলম বলেছেন:
সাইফুর, একদম ঠিক বলেছেন। আরও বিস্তারিত লেখা দরকার ছিল। কিন্তু তাড়াহুড়া করে লিখতে যেয়ে অনেক কিছুই বাদ পড়ে গেছে।ধন্যবাদ।
নরাধম বলেছেন:
৫.......নুরা ভাই ভালা?


















