somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... মেঘের চিঠি - ২৪
শুভেচ্ছা নিও। কিছু কথা লিখার জন্য তোমাকে এই চিঠি লিখতে বসা। অবশ্য এখন লিখতে বসে মনে হচ্ছে, ঐ কারণটা বাদে আর সবই লিখি <img src=" style="border:0;" /> মাঝে মাঝে এমন উদ্ভত সব ইচ্ছে করে আমার। কিছু করার নেই <img src=" style="border:0;" />

মনটা খুব ভালো এই মূহুর্তে। ইচ্ছেদের অনুমতি দিয়ে দিয়েছি হেসেখেলে ডানা মেলে উড়ে বেড়াতে। আর তাইতো তারা এমন ছটফট করে বেড়াচ্ছে। এই আমার মুখের দুই গাল ধরে আলতো করে ঠেনে দিচ্ছে তো আর কেও ইচ্ছে মতোন হাসিয়ে আমার দাঁত কপাটি দেখিয়ে বেড়াচ্ছে। মহা মুশকিলে পড়েছি। কাজ থেকে ফিরতে ফিরতে হাসির ঝটকায় দাঁতসব এমন বেড়িয়ে আসছিল মনে হচ্ছিল শব্দে কোথাও এদের বন্দী করে না রাখলে এরপর আমার ট্রেনে চড়ায় দায় হবে।

কি, হাসছো? :-) জানো আজ অনলাইনে গ্রেড চেক করছিলাম। ঐ যে শেষ যে ক্লাসটা নিলাম, ওটার। আর সেই গ্রেড পাওয়ার পর থেকেই ইচ্ছেগুলো এমন হাস্য-কলরবে মেতে উঠেছে। কমাসের পরিশ্রমের সুফল এমন করে পেলে আর কি লাগে বলো। কিন্তু এখন লিখতে বসে ভেবে পাচ্ছিনা আমার অনুভূতি গুলোর এমন পেখম মেলে ধরার পেছনে শুধু ওটায় কারণ নাকি কল্পনায় ধরা দেওয়া কিছু দৃশ্য।

থেকে থেকে শুধু সেই দৃশ্যটায় চোখে ভাসছে। আমাকে যখন তোমার মামী একপাশে ডেকে নিয়ে গেলো, তোমার সাথে কথা বলার জন্য। ওনার পিছু পিছু আমি একটা রুমের দরজায় এসে দাঁড়ালাম। উনি দরজা খুললেন। দেখি তুমি রুমের ভেতর একটা চেয়ারের কাছে পেছন ফিরে দাঁড়ানো। আর আমি ঢুকতেই মামী, "তোমরা কথা বলো" বলে রুমের দরজা লাগিয়ে দিলেন। এর পরের দৃশ্যটার কথা আমি সহজে ভুলবো না। তুমি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ালে আর তোমাকে সেই রুমের হালকা আলোয় সেই ড্রেসে দেখে আমি সেখানেই স্তব্ধ। কয়েকটি মাত্র মূহুর্ত। কিন্তু কি মিষ্টি মিষ্টি :-)। এরপর তো দুজন বেডের দু-কোণায় বসে কথা হল অনেক। কি কথা হল সেটি না হয় দুজনের মাঝেই থাক। (পাঠকরা সাইডে যান <img src=" style="border:0;" />)

আরো কিছু দৃশ্য উকিঁ মারছে মনের কোণে। যখন সবার উপস্থিতিতে তোমার হাতের আঙ্গুল গলিয়ে আংটিটা ধীরে ধীরে পড়িয়ে দিলাম। তোমাকে প্রথম ছোঁয়ার সেই অনুভূতি। তখনকার তোমার সেই মুখটা। ছবি উঠানোর মূহুর্তে তোমার অন্তরঙ্গ সেই সান্নিধ্য। সব কিছু স্মৃতির রঙ্গিন মোড়কে বেঁধে সাথে করে নিয়ে এসেছি। মনে হচ্ছে যেন বাঁধন খুলে সেই রঙ্গিন স্মৃতিগুলো এখন মনের আকাশে খুশীর আতশবাজির ফোয়ারা ছিটাচ্ছে।

বাহ্‌বা কি সব লিখছি <img src=" style="border:0;" />। পরে নির্ঘাত আমাকে পস্তাতে হবে। হলে হবে কিন্তু এখনকার এই অনুভূতিগুলো তো মিথ্যে নয়। সে মূহুর্তগুলোও তো মিথ্যে নয়।

খাবার সেই মূহুর্তগুলো, দৃশ্যগুলোর কথা উল্লেখ না করলে চিত্রটা নেহাৎ অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে। বাহ্‌বা সে কি রাজকীয় আয়োজন। একেই বোধহয় বলে জামায় আদর <img src=" style="border:0;" />। আমার ধারণা তোমাদের ওখানে খেয়ে খেয়ে আমি ওজন নির্ঘাত ২ পাউন্ডস বাড়িয়েছি <img src=" style="border:0;" />। এমন করে এত্তগুলো লোকের ভালোবাষা বর্ষিত হয়েছে আমার মনে হচ্ছিল আমি নিজের আত্মীয় স্বজনদের মাঝে এসে পড়েছি। বিশ্বাস করবেনা, মনে এমন চিন্তাও এসেছে যে একটা বাড়ী কিনে তোমাদের পাশেই মুভ করি না কেন। ভাবছি তোমাকে এখন এই চিঠিখানা পাঠাবো কিনা, নইলে তুমি যে পড়ে সুযোগ বুঝে আমাকে ইমোশানাল ব্ল্যাকমেইল করবেনা তার কি গ্যারান্টি <img src=" style="border:0;" />

অনেক হাবিজাবি লিখলাম। কি যেন বলতে চেয়েছিলাম। আচ্ছা পরে মনে পড়লে জানাবো। <img src=" style="border:0;" />

এখন রাখছি, নতুন বছরের আগাম শুভেচ্ছা।

ভালো থেকো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29512659 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29512659 2011-12-30 09:16:04
খেলাঘর - না এমনি
: (স্টিয়ারিং হুইলের পেছনে বসে পথের দিকে দৃষ্টি রাখতে রাখতে) বাহ্‌! এমনি এমনি কেও হাসে নাকি?
- না ভাবছি, এই পর্যন্ত আসতে কত কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। এই এরেঞ্জন্ড ম্যারিজের কত যে নিয়ম কানুন! হাসছিলাম এই ভেবে যে, আগের জন্মে একবার বিয়ে করে সব নিয়ম কানুন বোধহয় শিখে আসা উচিত ছিল। বাহ্‌বা আপনাকে নিয়ে ঘুরতে যাব শুনে আপনার খালার মুখখানা যা হয়েছিল!
: হাহা
- উনারা বোধহয় কোনকালে শুনেননি, মেয়ের বাড়িতে এসে মেয়েকে নিয়ে ছেলে ঘুরতে যাবে, তাও আবার মেয়ে ড্রাইভ করে বেড়াবে!
: :-) কিছু মনে করবেন না, আসলে সব মেয়ের পরিবার বোধহয় এমন এক আধটু কনজারভেটিভ।
- আর্‌রে না। মনে করতে যাব কেন!
: আজকেই ফিরবেন?
- হুম সন্ধ্যার ফ্লাইটেই

(হাইওয়ে দিয়ে তর্পা গাড়ীটা নিয়ে যাচ্ছে মসৃণ গতিতে। থেকে থেকে তার দিকে ফিরে তাকাচ্ছি। একদম তর্পার মতো লাগছে তাকে। হাইওয়ের বাঁপাশে সাগরের বুকে রোদের আলো পড়ে চিকচিক করছে। তর্পার চোখেমুখেও এসে লাগছে সেই স্বর্ণালী রঙের আভা। গাড়ীর গ্লাস নামানো থাকায় বাতাস এসে তার চুলে ঢেউ খেলে যাচ্ছে।)

: ছুটি নিয়েছিলেন?
- হুম। আসলে আমার এইখানে আসবার কথা ছিল না। টেনেসী যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলাম আমার এক বন্ধুর সাথে। হঠাৎ করেই আমাকে বলা হল আপনাদের এইখানে আসতে। তাই আর কি করা। বন্ধুকে বললাম পারিবারিক কারণে বাইরে যাচ্ছি। সে অবশ্য ঠিকই আন্দাজ করে ফেলেছে কি "পারিবারিক কারণ"। হাহা।
: এহেম, আমিও না হয় শুনি সেই 'পারিবারিক' কারণ :-)

(উত্তরে শুধু হাসলাম। কিছু বললাম না। হাত বাড়িয়ে কোটের ভেতর আরেকবার যাচায় করে নিলাম ডায়মন্ডের রিং-এর অস্তিত্তটা। মনে পরে গেল মা-ছেলে মিলে পছন্দ করে রিংটা কিনতে যাওয়ার ইতিবৃত্তটা)

...

- তর্পা, গাড়ীটা কোথাও রাখা যায় না?
: শিওর, এই সামনেই দারুণ একটা স্পট আছে। সাগরটাকে বেশ ভালোভাবে দেখা যায়
- বেশ।

(একটু পর কাঙ্খিত জায়গায় পৌঁছে গাড়ী থেকে নেমে প্রাণভরে সাগরের ঘ্রাণ নিতে নিতে তাকে জিজ্ঞেস করলাম-)
- সাগর কেমন লাগে আপনার?
: ভীষণ ভালো!...

(তার "ভীষণ" বলার ধরণটা হঠাৎ এমন ভালো লাগলো মনে হল রিপিটে দিয়ে আবার শুনি। তর্পা বলে চলতে লাগলো...)

আমিতো সুযোগ পেলেই চলে আসি। পাথরের উপর বসে সাগরের পানিতে পা ডুবিয়ে বসে থাকি। ঢেউগুলো যখন একটু পরপর পা ছুঁইয়ে যায় কেমন একটা সুখানুভূতিতে ভরে যায় ভেতরটা। এখানকার ঢেউগুলো আমার ভক্ত জানেন। তর্পা বীচে পা দিয়েছে খবর পেলেই চলে আসে আমার পা-টা ছুঁইয়ে ছুঁইয়ে দেখতে। হিহি

- (তার বলার ধরণে হাসলাম) সাগর আমাকেও ভীষণ টানে। ঢেউগুলোর দিকে তাকিয়ে মনে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকি একমনে। ভাবনার লাগাম দিয় ছেড়ে। কত দূরদূর থেকে ঢেউগুলো ফেনার মুকুট মাথায় চাপিয়ে তর্জন গর্জন করতে করতে ছুটে আসে বালুর সৈকত জয় করবে বলে। কেও কেও সগৌরবে জয়ী হয়ে বিজয়ের ফেনীল হাসি নিয়ে ফিরে, আবার কেও কেও ব্যর্থ হয়ে পরক্ষণেই আগের চাইতে বিকট আরেকটা গর্জন করে আছড়ে পড়ে :-)।

সাগরের কণ্ঠ হতে কেড়ে নিয়ে কথা
সাধ যায় ব্যক্ত করি মানবভাষায়--
শান্ত করে দিই ওই চির ব্যাকুলতা,
সমুদ্রবায়ুর ওই চির হায় হায়।
সাধ যায় মোর গীতে দিবস রজনী
ধ্বনিতে পৃথিবী-ঘেরা সংগীতের ধ্বনি।

: ওয়াও! আপনার লেখা?!
- রবীন্দ্রনাথের :-)
: বাহ্‌! দারুণ তো! (বলতে বলতেই সে আলতো পায়ে হাঁটা ধরলো)

(আমিও হাঁটতে লাগলাম, পাশাপাশি দুজন, সন্তর্পনে। মনে কত নাম না জানা কৌতুহলী অনুভূতি থেকে থেকে উকিঁ মারছে। চোখ রাঙিয়ে ইশারায় তাদের কৌতুহল নিবারণ করছি)

- বলতে যাচ্ছিলাম, "তর্পা, তোমাকে একটা জিনিস দিতে চাইছিলাম"। তার আগে সেই বলে উঠলো-
: ইয়ে আপনাকে কিছু কথা বলার সাহস খুজছিলাম। এখন এইখানে এই সাগরের সামনে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে কথাগুলো এখন বলা যায়।

(বুকের ভেতর হঠাৎ অজানা শঙ্কায় ধরাস করে উঠলো)

- হুম, নিশ্চই বলুন
: ভাবছি কি ভাবে কথাটা বলি। হুম। প্লীজ কিছু মনে নিবেন না। আসলে আমি মনে মনে যাকে আমার..মানে আমার হাজবেন্ড কল্পনা করছিলাম সে আপনি নন।

আমার কোটের ভেতর রিং-এর বক্স ধরা হাতটা সেখানেই স্থির হয়ে গেল। বলার মত কথা খুজছিলাম। কিন্তু মনে হল তার উচ্চারিত শব্দগুলো যেন সেই বিশাল আকাশে তখনো ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। সাগরের তর্জন গর্জন চাপিয়ে শুধু একটা কথায় কানে ভাসছে, "আপনি নন"। আশার বালুতটে মনে মনে স্বপ্নের যে খেলাঘর সাজাচ্ছিলাম মনে হল এক নিমিষেই একটা শব্দের ঢেউ এসে সব ধুয়ে মুছে দিয়ে গেল।

কাল সারাটি রাত শুয়ে শুয়ে কল্পনা করেছি কিভাবে তার আঙ্গুলে আমার ছোট্ট এই সম্মতির চিহ্নখানা পড়িয়ে দিব। কল্পনায় ভেসেছে তার উজ্জ্বল দীপ্তিময় মুখখানা...সূর্যরশ্মির বিকিরিত আলো আংটিতে পড়ে কিভাবে তার মুখের ঔজ্জ্বল্য বাড়িয়েছে ঘুরে ফিরে শুধু সেই দৃশ্যটায় মনে পড়ছিল। একবারও মনে আসেনি প্রত্যাখ্যিত হওয়ার আশংকার কথা...

...

: এই আপনি কই হারালেন...কি ভাবছেন?
- উম, এহ্‌ ওহ্‌ না কিছু না। (আশেপাশে তাকিয়ে দেখি তখনো গাড়ীতে দুজন। বাইরে সূর্যদেব তখনো চোখে গগলস লাগিয়ে সমুদ্রদেবীর সাথে রসায়নে ব্যস্ত...একটা হাঁফ ছাড়লাম মনে মনে। মনে হল একটু আগে কল্পনায় ধরা দেয়া দৃশ্যগুলো যেন পেছনে ফেলে আসা পথের মতোই মিলিয়ে গিয়েছে)
: হাবিবের গান শুনেন?
- হুম শুনিতো মাঝে মাঝে

(সে একটা গান ছেড়ে দিল। বেশ ছন্দ আছে গানটায়। সুরগুলো, শব্দগুলো কেমন দোলা দিয়ে দিয়ে কোন একটা প্রণয় সম্ভাবনার আগমনী গান গেয়ে বেড়াচ্ছে যেন। দারুণ লাগছে)

: হঠাৎ এমন চুপচাপ হয়ে গেলেন যে?
- (হেসে বললাম) কই নাতো

হঠাৎ তার সেল ফোনটা বেজে উঠলো...সে নাম্বারটা দেখে হেসে বলে, "দিয়া"...মানে তার ছোট বোন...সে গাড়ীর গ্লাস তুলে দিয়ে স্পীকারেই কথা বলতে লাগলো-

: কি রে?
- তোমরা কই? কয়টা বাজে খেয়াল আছে? সবাই এদিকে ভেবে সারা...তোমরা কি সব কথা বিয়ের আগেই বলে ফেলবে নাকি?

আমার মুখ দিয়ে হাসি বেড়িয়ে গেল অজান্তে। তর্পা এইদিকে ফোনটা স্পীকার থেকে হাতে নিয়ে নিল...ওপাশ থেকে হাসির শব্দ...আর এই প্রান্তে, "আচ্ছা আচ্ছা হয়েছে, তোকে আর পন্ডিতি করতে হবে না...রাখছি", বলে রেখে মিষ্টি করে হাসতে লাগল, বললো "একেবারে বান্দর হয়েছে"

আমার মনের ভেতর তখন প্রজাপতি ডানা মেলে উড়ে বেড়াতে শুরু করেছে...হাবিব এর গানটা তখনো বাজছে...বলেই ফেললাম,

- তর্পা, গাড়ীটা কোথাও রাখা যায় না?
: (সে আমার দিকে চাইলো একবার। তারপর হেসে বললো) আচ্ছা :-)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29504997 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29504997 2011-12-18 03:41:34
মেঘের চিঠি - ২৩
আপনার চিঠি গুলোও যেন ঠিক সেই অদেখা, নাম না জানা পাখীর মতোই। থেকে থেকে এসে ডাক দিয়ে যায় মনের বাতায়নে। :-)

একটা গান শুনছি এখন -

বিরহ মধুর হল আজি মধুরাতে।
গভীর রাগিণী উঠে বাজি বেদনাতে॥

থেকে থেকে এমন এক একটা গান পেয়ে বসে, মাথা থেকে বের হতেই চাইনা। বিরহ মধুর! বুঝলাম না বিরহ মধুর কি করে হয়। অবশ্য যে রাগিণীর কথা কবি ঠাকুর লিখেছেন সেটি ওমন করে হৃদয়ের তন্ত্রীতে, পূর্ণিমারাতে বেজে উঠলে হয়তো মধুর শোনা যেতেও পারে। কি জানি!

আজ ছুটির দিন। অভ্যাসবশত আজও খুব ভোরে উঠেছি। জানালার পর্দা সরিয়ে সকালটাকে দেখছিলাম। ঊষার আকাশটাকে। নির্মেঘ, নীলাকাশটাকে। কেন জানি না এখানকার আকাশটা আমার ভীষণ প্রিয়। দিনের একেকটা সময় সে এমন হরেকরকম রুপ নিয়ে এসে হাজির হয়, মনে হয় যেন প্রকৃতিদেবী তার মনের মর্জিমাফিক সাজছে, আমার মতো তার অসংখ্য রূপভক্তকে চমকে দিবে বলে। হাহাহা। এই তার মনের আকাশে মেঘ করছে, এই সূর্য্যটার সাথে কপট রাগ করছে। এই গাছে গাছে, শাখা পল্লবে ঋতুর তুলি দিয়ে তার মনের মাধুরী মিশিয়ে আকঁছে, এই বৃষ্টি নূপুর পায়ে দিয়ে নাচছে ঝমঝম করে। কখনো কখনো পূর্ণিমা শশীর সাথে লুকোচুরি খেলছে মেঘের আড়ালে আড়ালে। হাসি পেয়ে যায় মাঝে মাঝে তার এইসব কান্ড দেখে :-)

...

একটা মুভি দেখছিলাম আপনাকে চিঠি লেখায় বিরতি দিয়ে। জাপানীজ এনিমেশন। দারুণ লাগলো! মনটা আজ কোন কারণে বেশ উৎফুল্ল। হয়তো আপনাকে লিখছি বলেই। হয়তো অনেকদিন পর এমন মন খুলে, মনের জানালা খুলে এমন করে প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছি বলে। বা হয়তো বিকেলে আজ যারা বাসায় আসবে তাদের কথা মনে করে। হুম অতিথি আসছে আজ বাসায়। আর তার জন্য আম্মু সকাল থেকেই যোগাড়-যন্ত করে একশেষ।

উম এমন ইয়ামী ইয়ামী সব খাবার রান্না করছে, তার মৌ মৌ সুগন্ধ এই নাকে এসে সুড়সুড়ি দিচ্ছে। :-) আর পারছিনা। পেটে মোচড় দিতে শুরু করেছে। দেখি কি জুটে। রাখছি এইখানেই

ভালো থাকবেন,

হাসি রইলো :-)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29489878 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29489878 2011-11-24 23:15:34
মেঘপঞ্জিকা - বেশ তো আছি
আমার নিজের বড় শঙ্কা গতবাঁধা, বৈচিত্র্যহীন, ছন্দহীন জীবনটাকে...তাই তো নতুন নতুন পথের খুঁজে বেড়িয়ে পড়েছি...কখনো কখনো খোঁজ পেয়েছি অমূল্য কিছু অভিজ্ঞতার...গলা ছেড়ে কীর্তন গাইবার উপকরণ...আবার কখনো কখনো হৃদয়টা ছিঁড়ে ফুঁড়ে নিংড়ে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন ক্ষত বিক্ষত করে গিয়েছে...প্রাণেশ্বরের কাছে মিনতি করেছি...আমাকে শক্তি দাও প্রভু...শক্তি দাও যেন ফেলে আসা পথের মতোই এই পথটাও পেরিয়ে যেতে পারি

নির্লিপ্ত থাকবার চেষ্টা করেছি...করে যাচ্ছি...কত কথা বলতে গিয়েও গলার কাছটায় দলা পাকিয়ে গিয়েছে...জীবনের কত মুখোশ পড়ছি নিত্য...মন ধরা দিতে চেয়েছে...হয়তো দিয়েছিও...কত প্রহর অপেক্ষায় কেটেছে একটা বার্তা পাওয়ার...একটু সঙ্গ পাওয়ার...কত ইচ্ছেকে অঙ্কুরেই গলা টিপে মেরেছি...ক্ষেদ আছে কি তার জন্য মনে...আছে নিশ্চই...মানুষ তো রক্ত মাংসের

আক্ষেপ আছে কি? আছে হয়তো...কিছু কথা কখনোই বলতে না পারার...বুঝাতে না পারার...অনুশোচনা? বোধ হয় না...এখন আমাকে বলবার সুযোগ না দিয়েই কেও নিজের ইচ্ছে মতোন ভেবে নিবে যদি আমার কি সাধ্য তাকে বাধা দেবার...

কতবার জানতে ইচ্ছে করেছে, "আমি? আমার কারণেই? কিন্তু কেন! এমন তো হওয়ার কথা ছিল না" কত ম্যাসেজ টাইপ করে আবার সেই ব্যাকস্পেস...

অভিমান? হুম...বাড়তে বাড়তে বুকের ভেতর পাহাড় জমে গেছে...

কিছু আমি করি নি গোপন।
যাহা আছে সব আছে
তোমার আখিঁর কাছে
প্রসারিত অবারিত মন।
দিয়েছি সমস্ত মোর করিতে ধারণা,
তাই মোরে বুঝিতে পার না?

তোমার পায়ের কাছেই লুঠিয়ে দিয়েছিলাম আমার সেই বহুদিনের সঞ্চিত নামের মালা। তার পরেও আমাকে বুঝতে তুমি পারোনা।

এ যে সখী, হৃদয়ের প্রেম,
সুখদুঃখবেদনার
আদি অন্ত নাহি যার--
চিরদৈন্য চিরপূর্ণ হেম।
নব নব ব্যাকুলতা জাগে দিবারাতে,
তাই আমি না পারি বুঝাতে।

নাই বা বুঝিলে তুমি মোরে।
চিরকাল চোখে চোখে
নূতন নূতনালোকে
পাঠ করো রাত্রি দিন ধরে।
বুঝা যায় আধো প্রেম, আধখানা মন--
সমস্ত কে বুঝেছে কখন?

...

মাস বছর পেরোতে পেরোতে কখন এক যুগ হয়ে গিয়েছে এই সুদূর প্রবাস জীবনে। কথা হচ্ছিল আমার এক বিবাহিত বন্ধুর সাথে, যার সাথে পরিচয়ের সাত বছর পেরোলো আজ। সে তার সংসারী জীবনের ছোটখাট নানা খুঁটিনাটি বর্ণনা করে বলছিল, সুখী থাকতে আসলে খুব বেশী কিছুর প্রয়োজন পড়ে না। দুজন দুজনকে বুঝলেই হল। একটু সমঝোতা, অপরের জন্য নিজেকে একটু একটু করে বদলে ফেলা। তার কাছে জানতে চাইছিলাম, সে নিজে কি বদলেছে। উত্তর মিললো, অনেক। অনেক বেশী বাস্তববাদী হয়েছে আগের চাইতে। সে বলছিল, একটা মানুষ চাইলেই বদলাতে পারে, কিন্তু তাকে ভেবে দেখতে হবে এই বদলানোর ফল কি হবে, আর না বদলালে কি হবে। পরিস্থিতিও হয়তো এই বদলানোটা ডিমান্ড করতে পারে।

তার মতে আমিও চেষ্টা করলে বদলাতে পারি। তাকে বলছিলাম এই তো বেশ আছি এখন। খাচ্ছি, দাচ্ছি, ঘুমাচ্ছি, কাজ করছি, পড়ছি, শুনছি, লিখছি, এই মন খারাপ হচ্ছে, ভালো হচ্ছে। দুঃখের প্রদীপ দিয়ে কল্পনার আকাশে নিত্যই ব্যাথার ফানুস জ্বালতে হচ্ছে না।

জীবন সায়াহ্নে হিসেবের খাতা খুলে বসলে প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির অংশটা খুব একটা অসম্পূর্ণ থাকবে না। তবে আর কিসের জন্য এই ছুটে চলা। আর কত পথ পাড়ি দিতে হবে। আর কত লাভ-ক্ষতির হিসেব লিখতে হবে এই খাতায়। বেলা শেষে এ জীবন-নদীতেই তো বিসর্জন দিতে হবে সব...তবে?

তাকে বলছিলাম, নিজেকে নিয়েই আমার যত চিন্তা...কখন সে কি চায়, কি করে, কোথায় ছুটতে চায়, এখনো যে বুঝে উঠতে পারিনি...অবশ্য আর কেই বা আছে আমার এই খেয়ালীপনা সইবার

হে প্রাণেশ্বর, তুমি ভাবছো আমার এই দ্বিধার অবসরে তুমি মুচকি হাসবে...উহুঁ সেটি হতে দিচ্ছিনা আমি...আমি পাড়ি দিব দুর্গম, নতুন নতুন পথ...দেখবো জীবনটাকে শেষ জীবনীশক্তি দিয়ে...দেখি আর কি কি আছে তোমার আমাকে দেখানোর...প্রতিকূল ঝড়ের সাথে লড়বো আমার সর্বশক্তি দিয়ে। ভাবছো আমাকে ঠেনে ধরবে...চেষ্টা করেই দেখো!

...

রাত নয়টা বেজে ছয় মিনিট

<img src=" style="border:0;" /> নিজের উপরের লেখাগুলো পড়ে আমার অভিব্যক্তি এখন এই রকমই। কি ভাবছিলাম আমি এইসব লিখবার সময়! রবিঠাকুরের কবিতার লাইন লেখা একটা ফতুয়া পড়ে আছি। কেমন একটা ভাব ভাব আসছে, আহেম <img src=" style="border:0;" /> কেমন হাসি পাচ্ছে লেখাগুলো পড়ে এখন। যাক আমার ভাবনাগুলোর সাথী হয়েই থাক না হয় শব্দগুলো এইখানে বন্দী হয়ে। একটা মজার ঘটনা ঘটেছে আজ। ইউনিতে আমি যখন এই লেখাটা লিখছিলাম, আমার সহপাঠী সেই চাইনীজ জিনিয়াস ছেলেটা কথায় কথায় হঠাৎ জানতে চাইলো আমি কি লিখছি। তাকে দেখালাম। সে জানতে চাইলো কি। বললাম বাংলা। সে বললো কখনো নামই শুনেনি। দেশের নাম বললাম তাও চিনলো না। পরে উইকিপিডিয়া থেকে যখন দেখিয়ে দিলাম বলে, ও চিনে। ইংলিশ নামে চিনছিল না কারণ তারা বাংলা, বাংলাদেশ এই শব্দগুলোর চাইনীজ ভার্সানে চিনে। "বাংলা" শব্দটা তাদের চাইনীজ ভাষায় দাঁড়ায় man dza la। মনে মনে বললাম, সেরেছে। পরে সে নিজেই উইকিপিডিয়ার চাইনীজ ভাষার একটা আর্টিকেল খুজে বের করে। একটা ছবি দেখিয়ে বলে, Do you know him? দেখে আমার চোয়াল আরেকটু হলেই ঝুলে পড়ে আর কি। রবিঠাকুরের ছবি! বললাম চিনবো না কেন! তার লেখা কবিতায় তো লিখেছি। বলে উপরের কবিতাটা দেখালাম তাকে। কথায় কথায় জানালো চাইনাতে সে হাইস্কুলে রবিঠাকুরের কবিতাগুলো পড়েছে। চাইনীজ ভাষায় অবশ্যই। মনে মনে অবাক হলাম অনেক। এরপর রবিঠাকুর নিয়ে অনেক কথা হল দুজনের মাঝে। তার ইচ্ছে কম্পিউটার সাইন্সের সব চাইতে বড় পুরস্কারটা সে জিতে। হেসে বললাম পাবে নিশ্চই একদিন <img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29487321 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29487321 2011-11-21 08:35:04
সূচনার শেষ অধ্যায় : কি কথা?
- এই যে আমি আর আপনি একা একটা রুমে। অন্য সময় হলে এমনটা সম্ভব হতো কিনা
: মানে?
- মানে এই ধরুন পারিবারিক ভাবে না এসে আমি যদি একা আসতাম। যদি আমাদের পূর্বপরিচয় থাকতো...
: ওহ্‌।
: আপনার কথা বলুন
- নতুন করে আর কি কিছু বলবার আছে। বায়োডাটা থেকে নিশ্চই সব জেনেছেন।
: ওটা পড়ে সব জানা হয় নাকি! এই যেমন আপনি কাজ আর পড়াশোনা ছাড়া আর কি কি করেন?
- ছুটির দিনের দুপুরে আয়েশ করে একটা ঘুম দিয়, সেটিকে যদি কিছু করা বলেন। হাহা। আমি কিন্তু আপনার সম্পর্কে কিছুই জানি না তেমন
: বলুন কি জানতে চান
- এই আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি? পড়ালেখাটা চালিয়ে যেতে চান?
: হুম, সেরকমই তো ইচ্ছে।
- পড়া শেষ করে চাকরী খুজবেন?
: তেমন সুযোগ হলে কেন নয়
- আচ্ছা
: কেন আপনার হবু স্ত্রীকে বুঝি চাকরী করতে দিবেন না?
- না না, সেরকম কিছু নয়, এমনিই জানতে চাইছিলাম
: আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনাটা শোনা যাক
- আমার? হুম। আমি আসলে তেমন করে কিছু ভাবিনি। আপাতত যদ্দুর ভাবছি সেটি হচ্ছে চাকরীর পাশাপাশি এই পার্টটাইমের মাস্টার্সটা শেষ করা আর ফাইনান্সিয়ালী একটু গুছিয়ে উঠা।
: আচ্ছা
- আপনাদের এই রুমটা কিন্তু বেশ! আপনার রুম?
: আমার ছোট ফুফির। অবশ্য আমারও
- ওহ্‌
- নীচে থেকে চলে এসে ভালো হয়েছে, কেমন অস্বস্তিকর লাগছিল
: বরঞ্চ বলুন, ওখানে সবার মাঝে পাত্রী দেখতে আপনার অসুবিধে হচ্ছিল। এইখানে নিরিবিলিতে এসে আপনি ভালো করে পরখ করে নিতে পারছেন
- হাহা। তা মন্দ বলেননি খুব একটা। তা একি কথা তো আমিও বলতে পারি, তর্পা।
: আমাকে আপনি সহিনী বলবেন প্লীজ। কাছের মানুষরা ছাড়া আমাকে তর্পা বলে ডাকুক আমার পছন্দ না।
- ওহ সরি।
: ইটস্‌ ওকে। ইয়ে মানে আপনাকে একটা কথা বলার ছিল
- জ্বী নিশ্চই বলুন।
: আমি আসলে এখন বিয়ে করতে চাইছি না
- আচ্ছা
: শুধুই আচ্ছা?
- নীচে আপনার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ অনেকটা সেই কথায় বলছিল। আপনার পেছন পেছন উপরে আসতে আসতে ভাবছিলাম কথাটা কখন বলেন। ইট্‌স ওকে সহিনী।
: আপনি প্লীজ কিছু মনে নিবেন না। আসলে বিয়ের জন্য মনে মনে একটা প্রস্তুতি লাগে। সে সময়টা আমি পাইনি। এরা আমাকে এক প্রকার জোর করেই আপনাদের সামনে যেতে বাধ্য করেছে।
- না আমি কিছুই মনে করিনি। বরঞ্চ আপনি এভাবে সামনাসামনি কথাটা বলে ফেলেছেন দেখে ভালো লাগলো। কেবল একটা প্রশ্ন ছিল মনে
: কি?
- আপনি কি এখনি বিয়ে করতে চাইছেন না নাকি আমাকে আপনার পছন্দ না
: পছন্দ অপছন্দের কথা আসছে কেন! আর তাছাড়া একবার দেখেই কাওকে পছন্দ হয় নাকি আপনিই বলুন।
- আপনার কি অন্য কেও আছে?
: অন্য কেও মানে?
- মানে আপনার পছন্দের কেও?
: না নেই।
- আচ্ছা
: আপনি কি ভাবছেন বলুন তো
- ভাবছি আপনি চাইছেন আমি এই বিয়েতে না বলি, কিন্তু...
: কিন্তু কি?
- কিন্তু আপনাকে যে আমার পছন্দ হয়েছে।

(নীরবতা)

ঠিক সে সময়টায় দরজা ঠেলে তাদের বাড়ীর এক লোক চা এর ট্রে হাতে রুমে ঢুকলো। সহিনী ট্রে-টা নামিয়ে রেখে এক কাপ চা বাড়িয়ে দিল আমার দিকে।

ঘরের পরিবেশটা হালকা করার জন্য চা এর কাপটা নিয়ে চুমুক দিতে দিতে উঠে রুমটা ঘুরে দেখতে লাগলাম। কেমন গুছানো, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। দেয়ালে বেশ কিছু ছবি ঝুলানো। একটা হাওয়াঘন্টা মৃদু শব্দে টুংটাং করে যাচ্ছে। যেন হাসছে সে মৃদু মৃদু আমাদের দিকে থাকিয়ে। জানালার পর্দা গলে সূর্য্যের আলো উকিঁ মেরে যাচ্ছে থেকে থেকে। যেন চেষ্টা করছে আমরা কি নিয়ে কথা বলছি সেটি দেখার। রুমের বাসিন্দাদের রুচি সম্পর্কে অনেক কিছুই বলে দিচ্ছে এই সাজানো গুছানো ঘরটা। এক পাশে বই এর তাক। বেশ অনেক পরিচিত অপরিচিত লেখকের ভীড়ের মাঝে একটা নাম দেখে চমকে উঠলাম। রক্ত করবী! কাপ ধরা হাতে ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলাম

- এসব আপনার বই?
: আমাদের দুজনের
- ওহ্‌
- আপনি রবি ঠাকুর পড়েন?
: হুম পড়ি তো মাঝে মাঝে
- (রক্ত করবীর বইটার দিকে ইঙ্গিত করে বললাম) রক্ত করবী পড়েছেন?
: পড়বো না কেন! নাটকও করেছি ওটার উপর
- আপনি নাটকও করেন? (আমার কন্ঠের আর্শ্চয্যিত ভাবটা গোপন রইলো না)
: তেমন কিছু না। ইউনির ফাংশানে মঞ্চস্থ হয়েছিল। আমি নন্দিনীর ভূমিকায় অভিনয় করেছি
- বাহ্‌! আপনাকে যত জানছি ততই মুগ্ধ হচ্ছি।
: (সে এড়িয়ে গিয়ে বললো) শুনলাম আপনি নাকি লেখালেখি করেন?
- লিখি নিজের জন্য। তবে সে ওমন আহামরি কিছু না। মাঝে মাঝে ভাবনার পাখীটাকে বাণী দিয়ে শব্দ দিয়ে বেঁধে উড়িয়ে দিয়। সে সেইসব নিয়ে উড়ে বেড়ায় মনের আকাশের এধার থেকে ওধার। তার সেই স্বাধীন, মুখর, চঞ্চল উড়ে বেড়ানোটায় আমাকে আনন্দ দেয়। সেই আনন্দটুকুন
পাওয়ার জন্যই লিখি।
: দারুণ বললেন তো!

মনে মনে খুশী হলাম তার ভালো লেগেছে জেনে। কেন জানি না, রবি ঠাকুর ভালো লাগে এমন কারো সান্যিধ্যে এলে অন্যরকম একটা ভালো লাগা কাজ করে। মনে মনে যেন কত অব্যক্ত কথা বলা হয়ে যায়। আগ্রহী হয়ে নন্দিনী সম্পর্কে আরও কথা পাড়বো ভাবছিলাম, পরক্ষণেই মনে হলো আমরা দুজন এই রুমে আছি বেশ অনেকক্ষণ যাবত। এইবার বিদায় নিতে হয়

- এইবার বোধহয় উঠতে হয়। আপনার সাথে কথা বলে বেশ লাগলো
: আমারো
- তাহলে আসি, সহি...
: (সে বাধা দিয়ে বললো) আপনি চাইলে আমাকে তর্পা বলে ডাকতে পারেন

(শুনে আমার চোখ দুটোর ঔজ্জ্বল্য বেড়ে গিয়ে থাকবে।)

: (সাথে সাথে বললো) এত খুশী হওয়ার কিছু নেই। এর মানে এই নয় যে আমি বিয়েতে হ্যাঁ বলছি
- (মৃদু হেসে বললাম) না ও তো বলছেন না
: (সে আমার দিকে না থাকিয়ে ধীরে ধীরে বললো) তা বলছিনা
- তার মানে এই দাঁড়াচ্ছে, আপনি আমাকে হ্যাঁ, না-র সীমানায় ঝুলিয়ে রাখছেন। বেশ। আচ্ছা আসি তর্পা।

(রুম থেকে বেড়োতে যাব হঠাৎ কি মনে করে ঘুরে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলাম)

- আপনার মেইল আইডিটা কি পেতে পারি?

(সে কি ভাবলো। একটু পর, দাঁড়ান বলে ভেতরে চলে গেলো কাগজ কলম আনতে। একটায় আমি আমারটা লিখে দিলাম আর অন্যটায় সে তারটা লিখে দিল। মুখের সামনে ধরে পড়তে লাগলো, বৃষ্টির_দিন...

: ...আপনার বৃষ্টি পছন্দ? আমারো (বলেই হাসলো)

আমি তারটা পড়তে লাগলাম। নন্দিনী...মনে মনে বললাম, নন্দিনী তো দেখি একে পেয়ে বসেছে...অবশ্য আমাকেও যে পাইনি সে কথা অস্বীকার করি কি করে। রক্ত মাংসের এই জীবন্ত নন্দিনী। এখন শুধু দেখার পালা তার বিপরীতে কিসের রুলটা পাই শেষ পর্যন্ত

- আচ্ছা থ্যাংকস্‌। আসি। আবার কথা হবে। হয়তো :-)
- (সেও হেসে বললো) হয়তো :-)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29479636 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29479636 2011-11-08 10:29:53
সেতারের সাথে পশ্চিমা সুরের সঞ্জীবন - আনন্দ শংকর - Ananda Shankar (1942 - 1999)

শুরুটা হয়েছিল সেদিন ফেইসবুকে সহব্লগার পারভীন রহমানের আপ্লোড করা একটা বাজনা শুনে। সেটি শোনাবার পর ঘেঁটে দেখতে যেয়ে আরো কিছু পছন্দের ট্র্যাক পেয়ে যায়। নীচে আমার ভালো লাগা কিছু ট্র্যাকের ভিডিও দিলাম।

Missing You



Romantic Rhino



The River



Dancing Peacocks!



Akbar's Jewels!



Snow Flower



Indrasabha!



Mamata (Affection)



আনন্দ শংকর, তার সেতারের বাজনা এবং ফিউশন নিয়ে আরো বিস্তারিত জানতে সহব্লগার গানচিলের এই পোষ্টটায় ঢুঁ মেরে দেখতে পারেন।

Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29479232 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29479232 2011-11-07 10:08:21
বহে যাওয়া সময়ের গল্প শুধু চোখের দৃষ্টিতেই উকিঁঝুকিঁ মেরে গিয়েছে
কখনো তোমার দিক থেকে, কখনো আমার
কিছু শব্দের আবরণ তার প্রয়োজন ছিল
যা জড়িয়ে সে চলে আসতো ঠোঁটে
স্বরের বাহুডোরে বাহুলগ্ন হয়ে ধ্বনিত হতো সে
কিন্তু এই যে কথাটি
সেটি শুধুই যে কিছু অনুভূতি...শুধুই অনুভূতি।

সৌরভের হাওয়ায় ভেসে বেড়ায় সে
এই সৌরভ যখন তার কন্ঠ হয়ে যায়
যার হদিস তোমার কাছেও আছে
আমার কাছেও
ধরণীর কাছেও নেই অপ্রকাশ্য
কি সে এমন গোপনীয়

...

বেদনার মেঘে যখন ছেয়ে ছেয়ে যায়
দুঃখের প্রহর যখন ঘনাতে থাকে
চোখের পাতা যখন সিক্ত হয়ে আসে
এই একাকী হৃদয় যখন ঘাবড়ে যায়
হৃদয়কে এই বলে বুঝায়
...মন তুই এমন কাঁদিস কেন
পৃথিবীজুড়ে তো এমনই হয়

কালোমেঘের এই যে ঘনঘটা
সময় যে সকলকেই তারটা বুঝিয়ে দেয়
কিছু কষ্ট আছে সবার কাহিনীতে
কিছু আলোর কিরণ আছে সবার ভাগে
চোখ তোর অকারণেই মলিন হচ্ছে
প্রতিটি ক্ষণ এক একটা নতুন অভিজ্ঞতা
কেন তুই কালক্ষেপণ করিস।
মন তুই এমন কেনই বা কাঁদিস।

...

বিগলিত নীলকান্তমণির মতো বহে যাওয়া এই সময়
নীল নীল নীরবতা
নেই কোথাও স্থল
নেই কোথাও আসমান
মুখরিত শাখাপ্রশাখা পত্রপল্লব এই বলে বলে যায়
যে শুধু তুমিই আছ এই চরাচরে
শুধু আমি, আমার শ্বাস, আর আমার হৃদস্পন্দন
এমন নিগূঢ়তা
এমন নিঃসঙ্গতা
আর আমি শুধু আমি
বিশ্বাস জন্মে গিয়েছে আমার আমিত্বে।

...

বেঁচে আছো তুমি যখন জানবে
আপন ব্যাকুলতাকে হৃদয়ে বইয়ে বেড়াচ্ছো
স্বপ্নের দ্যুতি চোখে নিয়ে বেড়াবে যখন
জানবে তুমি বেঁচে আছো
বহমান হাওয়ার মতো
মুক্ত হতে শিখো
সাগরের ঢেউ-এর মতো তুমি বইতে শিখো
প্রতিটা মুহূর্তকে নিজের করে নাও
প্রতিটা ক্ষণ এক একটা নতুন কাল
দেখবে যখন নিমিষ নেত্রে
বিস্ময়বিহ্বলিত দৃষ্টি নিয়ে যখন চলবে
জানবে বেঁচে আছো
আপন ব্যাকুলতাকে হৃদয়ে বইয়ে বেড়াচ্ছো যখন
জানবে বেঁচে আছো।

...

সহব্লগার শাফ্‌ক্বাতের জিন্দেগী-না-মিলেগি-দোবারা মুভিটার কবিতাগুলোর অনুবাদ পড়ছিলাম। মুভিটা আমার হৃদয় ছুঁইয়ে গিয়েছিল। এর কবিতাগুলোও। উনার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমিও একটা চেষ্টা করলাম। বেশ কিছু শব্দ উনার থেকেই ধার করা।

কবিতাগুলো হিন্দীতে শুনতে চাইলে নীচের ভিডিওটা দেখতে পারেন -

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29475326 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29475326 2011-10-30 22:37:36
মেঘপঞ্জিকা - মধ্যরাত
শুয়ে শুয়ে যখন গানটা শুনছিলাম একটা দৃশ্য ভাসছিল কল্পনায়। ইস্‌ চিত্রকর হতে পারলে কি কাজের কাজটায় না হত। মনের ভাবনাগুলোকে তুলির পরশ দিয়ে আকার দিতে পারতাম। শব্দে এখন সেই দৃশ্যকে বন্দী করি কেমন করে! দৃশ্যটা এই এখনো চোখে ভাসছে। রবি ঠাকুর বলছিলেন অনির্বচনীয়কে বর্ণনা করতে রুপকের আশ্রয় নিতে। চেষ্টা করে দেখি -



দেখছিলাম, একটা নির্জন পথের মাঝপথে দাঁড়ানো একজন। দাঁড়িয়ে কি যেন ভাবছে। পেছনে ফেলে আসা জনবিরামহীন পথ। সামনেও যদ্দুর চোখ যাচ্ছে সেই একি পথ। এই পথই তার চলার সঙ্গী। দিগন্তের কোন সীমানায় কি সে লক্ষ্য তার কিছুই জানা নেই। শুধু এইটুকু জানা আছে যে তাকে হাঁটতে হবে। হেঁটে দেখতে হবে দিগন্তের ওপারে কি অজানা ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে তার জন্য। কিন্তু মনটা তার থেকে থেকে ডানা মেলে উড়ে যাচ্ছে কোথায়! কোন সেই অপরিচিতার আকাশে ঘুরে ফিরছে চাতক পাখীর মতোন। দৃষ্টি তার কাকে খুজে ফিরছে এদিক হতে ওদিক। পথ চলতে চলতে পথিমধ্যে এক পান্থসখার সাথে আলাপ হয়েছিল। মনে হচ্ছিল ভালোয় হল আলাপ হয়ে। পথের বাকী সময়টা আলাপনেই কেটে যাবে। কিন্তু পথিমধ্যে কি হল, মাঝপথে এসে অপরিচিতা বিদায় নিয়ে তার পথে চলে গেল, আর এই পথিক তার পথে। সেই চিরচেনা পথের চলাটাকে একসময় বড্ড ক্লান্তিকর মনে হতে লাগলো। বড় বেশী দীর্ঘ মনে হতে থাকলো সময়গুলো। আজ পথের মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে, এই গানটা হঠাৎ সেই ফেলে আসা পথের পথিকের কথা মনে করিয়ে দিল। আর বুক চিরে বেড়িয়ে এল চাপা একটা দীর্ঘশ্বাস।

...

গানটা শুনতে চাইলে এইখানে ক্লিক করতে পারেন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29474848 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29474848 2011-10-30 11:01:27
মেঘপঞ্জিকা - চোখের জলের লাগল জোয়ার
"কখন যে আমার তরীর বাঁধন খুলে দিয়েছিলে তুমি আমি বুঝি নি। ভেবেছিলাম তোমার চোখের জলের জোয়ারে আমার চেনা কুল ছাড়িয়ে ভেসে চলেছি আমি। অনেকদিন তাকিয়ে ছিলাম তোমার মুখের দিকে। দেখলাম তোমার চোখে এক ফোঁটাও জল নেই। তাহলে কি জোয়ার লেগেছিল আমার চোখের জলে? আজ আমার দু চোখে আর কোন জল নেই চাঁদ। শুকনো চড়ায় আটকে গেছে আমার তরী। সেটাই ঠেলে নিয়ে চলেছিলাম এতদিন। আর পারছিনা। সেই দিশেহারা রাতের দেশে চললাম। সেখানেও তো আরেক চাঁদ আছে। দেখি তার চোখে এখনও জল আছে কিনা। আমার জন্য না হোক আর কারো জন্য।

আসি।"

ও চাঁদ, চোখের জলের লাগল জোয়ার দুখের পারাবারে,
হল কানায় কানায় কানাকানি এই পারে ওই পারে॥
আমার তরী ছিল চেনার কূলে, বাঁধন যে তার গেল খুলে;
তারে হাওয়ায় হাওয়ায় নিয়ে গেল কোন্‌ অচেনার ধারে॥
পথিক সবাই পেরিয়ে গেল ঘাটের কিনারাতে,
আমি সে কোন্‌ আকুল আলোয় দিশাহারা রাতে।
সেই পথ-হারানোর অধীর টানে অকূলে পথ আপনি টানে,
দিক ভোলাবার পাগল আমার হাসে অন্ধকারে॥



...

এই সিরিয়ালটা দেখার নেশায় পেয়ে বসেছে আমাকে এখন। সামনে পরীক্ষা অথচ পড়বার নাম গন্ধ নেই। এত দারুণ সব কাজ আর এমন সুন্দর সুন্দর সব গান। যখনই এটি দেখতে বসি ভাবি কত কম জানি রবিঠাকুর সম্পর্কে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29470166 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29470166 2011-10-21 09:32:12
মেঘ-বৃষ্টির আলাপন - ১৮
: বৃষ্টি
: হুম
: কাল কি হয়েছে জানো?
: জানি
: কি বলোতো দেখি
: তুমি বৃষ্টির মধ্যে ছাতা মাথায় করে আসছিলে, পথিমধ্যে কাঁদার মধ্যে ধপাস <img src=" style="border:0;" />
: কচু জান। জান কাল নাচের অনুষ্টান দেখা শেষে দরজা ঠেলে বেড়োতে যাব শুনি কে যেন আমার নাম ধরে ডাকছে। দু'দুবার। স্পষ্ট শুনেছি।
: তারপর?
: তারপর আর কি। আমি দরজা ধরা অবস্থায় মাথা ঘুরিয়ে দেখতে চাইলাম কে ডাকছে। কিন্তু পরিচিত কাওকে দেখতে পেলাম না।
: আচ্ছা! তারপর কেমন দেখলে নাচ?
: দেখলাম আর কই। চোখ দেখছিল দেওল পরিবারের নাচ আর মনে ভাসছিল কিছু দৃশ্য।
: কি দৃশ্য?
: শুনতে চাও? (মেঘ মাথা ঘুড়িয়ে প্রশ্ন করে)
: নাহ্‌ (দুষ্টমী করে হেসে বলে)
: (আশাহত হয়ে) আচ্ছা বেশ
: মন খারাপ হয়ে গেল? আচ্ছা বল
: সত্যিই শুনতে চাও?
: হু বললাম তো
: (উচ্ছ্বসিত হয়ে) তবে শোন -

...

দেখি শিশিরভেজা সকালে ঘাসের উপর পা ফেলে ফেলে মেঘ ভোরের হাওয়া গিলছে। গাছে গাছে পাখিরা গাইছে কিচিরমিচির করে। একটুপর মেঘ বুকভরে একটা শ্বাস ঠেনে নেয়। শিশিরবিন্দুগুলো দেখে মনে হচ্ছে যেন সূর্যরশ্মি গায়ে মেখে অলস ভঙ্গীতে ধীরে ধীরে আড়মোড়া ভাঙ্গছে।

মেঘ হঠাৎ শুনতে পায়, তার নাম ধরে কে যেন ডাকছে। কান পেতে মনে হল না আসলেই তো কেও তাকে ডাকছে -

: মেএএএঘ...মেঘ...এইদিকে
: (কাছে গিয়ে দেখে)বৃষ্টি!

এক জায়গায় ঘাসের উপর অনেকগুলো শিউলীফুল ঝরে পরে আছে। আর তার মধ্যিখানে দাঁড়ানো বৃষ্টি। মনোহারিণী বৃষ্টি...নাচের একটা ভঙ্গিমায় স্থির হয়ে আছে...একটু আগে দেখা শিশিরবিন্দুর মতো কোমল, স্নিগ্ধসুন্দর দেখাচ্ছে তাকে। শুভ্র একটা শাড়ি পরিহিতা...চারিদিকে ছড়ানো ছিটানো ফুলের অর্ঘ্যের মাঝে তাকে দেখাচ্ছে দেবীর মতোন

: তুমি এইখানে! এমন স্থির হয়ে আছো যে!
: আর্‌রে দেখছো না ফুল গুলো কেমন চারপাশে জড়ো হয়ে আমার রূপকীর্তন গাইছে, গাছে গাছে পাখীরা সেই কীর্তনে সুর দিচ্ছে। দেখছিলাম আর কি তাদের সভার মধ্যরাণী হয়ে দাঁড়াতে কেমন লাগে। হিহিহি

আচ্ছা এইদিকে আসো তো
: কেন?
: আহা আসোই না
: এই শিউলী ফুল গুলো দিয়ে আমাকে একটা মালা গেঁথে দাও তো
: আমি!
: তো আর কে?
: তারপর
: তারপর সেই মালা পড়ে আমি আমার প্রাণ-পুরুষের উদ্দেশে নেচে নেচে পুষ্পাঞ্জলী দিব
: ইস্‌। কষ্ট করে মালা গাঁথবো আমি আর পুষ্পাঞ্জলী পাবে আর এক জন
: হিহিহি। বেশী কথা বলো তুমি
: ( হাসি ) বৃষ্টি
: হুম
: তোমাকে কি বলেছি আজ তোমায় কেমন দেখাচ্ছে? মনে হচ্ছে ঠিক কবিতার মত। কবিতার শব্দের মতো তোমার অঙ্গের প্রতিটা বাঁকে ছন্দ খুঁজে পাচ্ছি যেন
: আচ্ছা হয়েছে...সে তোমার শুরুতে ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে থাকা দেখেই বুঝেছি। হিহি

(কয়েক মুহূর্ত মিষ্টি নীরবতা)

: তোমার জন্য যে স্বর্গের উদ্যান থেকে পারিজাত ফুল কুড়িয়ে নিয়ে এসেছি বৃষ্টি। মালা যদি গাঁথতেই হয় তবে আমি সেগুলো দিয়েই না হয় গাঁথতে বসি। সেই হবে মেঘের তড়ফ থেকে বৃষ্টির তরে নিবেদন।

...

: তারপর?
: তার আর পর নেই
: কেন নেই?
: কারণ শ্রীকান্ত বলে গিয়েছে তার আর পর থাকতে নেই।

যা কিছু গিয়েছে থেমে যাক থেমে যাক না ♩ ♪ ♫ ♬

: হুম
: আচ্ছা চলো এইবার উঠা যাক, সূর্যটাও অস্ত যেতে বসেছে।
: ঠিক আছে, চলো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29459160 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29459160 2011-10-03 02:29:08
শেষ আলিঙ্গন ধুক পুক করতে থাকা হৃদয়।
বাতাসে চুলের ঘ্রাণ,
থমকে যাওয়া সময়।

চারপাশে বিদায়ের করুণ সুর
বিমর্ষ, বেদনাহত একটি মুখ
অন্যটি অশ্রু টলমল
শেষবারের মতো হাতে হাত।
মৌন চাহনি।

চিনচিনে একটা ব্যথা
বিচ্ছিন্ন হওয়ার
শিরা থেকে শিরায়
হৃদয় হতে হৃদয়।

হঠাৎ হাত থেকে হাত ছেড়ে যাওয়া
থমকে থমকে ঘুরে দাঁড়ানো।
ধীর, ক্লান্ত পায়ে,
জীবন পথে পা বাড়ানো।
এক হৃদয় মেঘ
চোখের পাতা বৃষ্টি নিংড়ানো।

ফিরে ফিরে চাওয়া
পথ চলতে চলতে
বিদায়ের সেই ক্ষণ।
শেষ আলিঙ্গন!

...

সকালে কাজে যাওয়ার পথে দেখা একটা দৃশ্যের উপর ভিত্তি করে লেখা। লেখাটা লিখবার সময় ফাইরুজের নীচের গানটা শুনছিলাম। কন্ঠে এমন আবেগ আর কি প্রচন্ড রকমের ব্যাথা।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29455817 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29455817 2011-09-27 08:16:24
আটপৌরে কথন ৪
গ্রুফ স্ট্যাডি করবার জন্য আজ ইউনি যাচ্ছিলাম। হেঁটে সাবওয়ে যাবার পথে দেখি এক মা শপিং কার্ট ঠেলে আসছে আমার উল্টোদিক থেকে। পেছনে তার পিচ্চি গুটি গুটি পা ফেলে আসছে। হয়তো নতুন হাঁটা শিখছে। দেখলাম পিচ্চিও একটা শপিং কার্ট ঠেলছে। কিন্তু তারটা খেলনার। ভেতরে দেখলাম খাবারও আছে। নুডলসের প্যাকেট মনে হল। এমন মিষ্টি একটা দৃশ্য। পাশ দিয়ে যেই যাচ্ছে সবাই পিচ্চিটার দিকে ফিরে ফিরে তাকাচ্ছে।

ট্রেনের এক ঘন্টা সময় কাটানোর জন্য চোখ বুজে হেডফোনে গান শোনছিলাম। কিছু পরে চোখ খুলে দেখি সামনে স্ট্রলারে বাবা মায়ের সাথে আরেকটা পিচ্চি। এত এত কিউট। মায়ের হাত থেকে কলা খাচ্ছিল। স্ট্রলারটায় এমন যে পিচ্চি কলা খেতে খেতে রাজা বাদশাহদের মত করে পায়ের উপর পা তুলে দিল। এত আদুরে হয় এই পিচ্চিগুলো।

ইউনিতে যে জন্য গিয়েছিলাম তার সবটুকু অবশ্য ভালোয় ভালোয় হল। পড়া এবং একটা গ্রুফ এসাইনমেন্ট শেষ করা। যার সাথে বসে করছিলাম তার কথা কিছু বলি এইবার। সে চাইনীজ ছেলে বুঝার উপায় নেই কিন্তু এত জিনিয়াস। সে তার গ্যামিং কন্ট্রোলার প্রোগ্রামিং করে ম্যাকবুকের মাউস হিসেবে ব্যাবহার করে <img src=" style="border:0;" /> ভাবা যায়! গ্রাজুয়েট লেভেলের ক্লাস নিচ্ছে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট করাকালীন। তার স্বপ্ন ইমেজ প্রসেসিং নিয়ে কাজ করা। জিপিএ ৩.৯২, ৪ এ। তাও সে নাখোশ। সে বলছিল কিভাবে বায়োলজী ক্লাসে এক্সাম পদ্ধতি না বুঝার ফলে B+ পেল। আর আমি মনে মনে ভাবছিলাম ভাগ্যিস সে আমার জিপিএ জানে না। <img src=" style="border:0;" /> তার ইচ্ছে MIT তে মাষ্টার্স এর জন্য ভর্তি হয়ে Artificial Intelligence নিয়ে কাজ করা।

...

রবীন্দ্রসঙ্গীত পেজটায় একটা কমেন্ট দেখে মুখজুড়ে হাসি চলে এল, একজন লিখছে - "ohhh ...obviously this is a damn positive site of FB...go on ...gooooo" - এমন করে তাড়িফ শুনলে কার না ভালো লাগে। আমারও লাগে <img src=" style="border:0;" />

বাসায় ফিরে দেখি আম্মু পোলাও আর মুরগীর রোস্ট রেঁধেছে। ছোটভাই প্রথম চেষ্টাতেই ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়ে গিয়েছে বলেই বোধহয়। মাঝে মাঝে এমন মোঘলাই ভোজ দিনটাকে অন্যরকম একটা আমেজ দিয়ে মোড়ে দেয়। এই যেমন আজ আমার।

কোরিয়ান একটা মুভি দেখছিলাম কাল। নাম Fair Love। এমন ইন্টারেষ্টিং একটা বিষয় তুলে ধরেছে। একটা দৃশ্যের কথা বলি, এক ভাতিজা তার চাচাকে বলছে, সে একটা মেয়ের প্রেমে পড়েছে, যাকে সে কোনভাবেই বলতে পারছে না তার ভালোলাগার কথা। এক সময় কেমন করে যেন মেয়েটা ছেলেটার উপর দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে, তার জন্য খাবার নিয়ে আসতে থাকে। ছেলেটা তেমনি একটা অবসরে মেয়েটাকে তার মনের কথা বলে। তো ভাতিজা চাচাকে বলছিল, "যেই মুহূর্তে আমি মুখ দিয়ে কথাটা বের করলাম, ঠিক তখনি আমার মনে হচ্ছিল I didn't really mean it"। শুনেই এমন হাসি পেল। মুভিটার কন্সেপ্টটা অবশ্য বেশ লাগলো। কি করে দুটো মানুষ কাছাকাছি হতে হতেও কেমন করে শেষ পর্যন্ত মিলতে পারে না।

সহব্লগার এক ভায়ার কল্যাণে ফাইরুজের গানের সাথে পরিচয় হলাম কাল। নীচে দিলাম ঘাঁটতে ঘাঁটতে পাওয়া পছন্দের একটা গান।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29455240 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29455240 2011-09-26 09:16:30
তাহমিমা আনামের সাথে এক সন্ধ্যা

শুরুতেই তাহমিমা আনাম সম্পর্কে কিছু বলে নিই, তাহমিমা আনাম হচ্ছেন একজন লন্ডনভিত্তিক জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক যার প্রথম উপন্যাস "A Golden Age" কমনওয়েলথ রাইটার্স পুরষ্কার জিতে নেয়। তিনি হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Anthropology তে পিএইচডি লাভ করেন। উপন্যাস লেখালেখি ছাড়াও New York Times এবং Guardian পত্রিকার মতোন প্রভাবশালী পত্রিকাগুলোতেও তার প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। তাহমিমা আনামের আরেকটি পরিচয় হচ্ছে তিনি Daily Star পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনামের কন্যা।

তাহমিমা আনাম সম্প্রতি তার Trilogy-র দ্বিতীয় উপন্যাস "The Good Muslim"-বইটা সম্পর্কে আলোচনা করতে নিউইর্কের এশিয়া সোসাইটিতে এসেছিলেন যেখানে একজন শ্রোতাদর্শক হিসেবে অংশ নেওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।

গোড়াতেই বলে রাখছি উনার লেখা বই দুটোর একটাও এখনো আমার পুরোপুরি পড়া হয়ে উঠেনি। "A Golden Age" বইটা অনলাইন থেকে কিনেছিলাম একটা লাইব্রেরী থেকে। কিছুটা পড়ার পর আর পড়বার অবকাশ ঘটেনি। কিন্তু বিভিন্ন পত্রিকায় তার লেখা বেশ অনেকগুলো প্রবন্ধ পড়া হয়েছে আর অনলাইনে বেশ কিছু টকশোতে তার অংশগ্রহণ আর বক্তব্য শুনে এবং দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। তার কথা বলার ভঙ্গী, হাসিটা আর আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব মুগ্ধ করে ভীষণ। তাছাড়া আমি তার বাবা মাহফুজ আনামেরও একজন গুণমুগ্ধ প্রশংসক। টিভিতে কোন অনুষ্টানে উনাকে দেখলেই বসে পড়ি দেখতে। এমন গুছিয়ে সুন্দর করে কথা বলেন। মুগ্ধ হয়ে যেতে হয়। মেয়ে বোধহয় তার বাবার এই গুণটায় পেয়েছে। এমন বলিষ্ট ব্যক্তিত্ব বাপ মেয়ে দুজনের।

তাহমিমা আনাম সম্পর্কে আরো জানবার কৌতুহল থেকেই ফেইসবুকে আমি একটা ফ্যান পেইজ খুলি উনার নামে। কিছুদিন পর দেখি তাহমিমা আনাম ওফিসিয়াল নামে লেখক নিজেই আরেকটি পেইজ খুলে এবং দেখলাম আমার খোলা পেইজটাকে উনি উনার পেইজের লিঙ্কে ঢুঁকিয়ে রেখেছেন। তো উনি নিউইর্কে আসছেন জানতে পেরে উনাকে সামনাসামনি দেখবার অদম্য ইচ্ছেটা আর সংবরণ করতে পারলাম না। গেলাম অফিসের কাজ শেষ করে আর নিয়ে গেলাম সাথে করে A Golden Age বইটা।

তো সূচনা পর্ব শেষে শুরুতেই তিনি তার দ্বিতীয় উপন্যাস "The Good Muslim" থেকে দুইটা প্যারা পড়া শোনান আগত শ্রোতাদর্শকবৃন্দের জন্য। উপস্থিতদের মধ্যে বাঙ্গালী দেখলাম হাতে গোণা গুটি কয়েকজন মাত্র। বেশীর ভাগই সাদা আমেরিকান এবং অন্যান্য দেশী।

উনার প্রথম উপন্যাসটা ছিল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে। আর পরের উপন্যাসটা যুদ্ধের পরের সময়গুলো নিয়ে। যেখানে উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র, দুই ভাইবোন মায়া এবং সোহেল যুদ্ধের পর নিজেদের নিজেদের জীবনের পথ, আদর্শ, মতবাদ এইগুলো নিয়ে দ্বন্দে জড়িয়ে পরে। সোহেল ধর্মীয় গ্রন্থের মাঝে নিজের পথ খুজে পায় আর অন্যদিকে মায়া বেছে নেয় ভিন্ন পথ। সে চায় ডাক্তার হয়ে সাধারণ জনগণের উপকার করতে।

প্যারাদুটো পড়া শেষে তাহমিমা আনামের সাথে আলোচনায় সঞ্চালক হিসেবে যোগ দেন সামিনা কোরেশী, যিনি একজন পাকিস্থানী-আমেরিকান লেখক।

সামিনাঃ "এই বইগুলো লেখার পেছনে আপনি কি আপনার তথ্যানুসন্ধান প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছু বলবেন?"
তাহমিমা বলেন, শুরুর দিকে তিনি Anthropologist হতে চেয়েছিলেন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিনি বাংলাদেশে গিয়ে বেশ কবছর তথ্যানুসন্ধান করেন যুদ্ধের সময়কার ঘটনাগুলো জানবার জন্য। তিনি সম্মুখসমরের গোলাগুলির মুহূর্তগুলো্র চাইতে সে সময়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের নানা ঘটনাগুলো জানতে বেশী আগ্রহী ছিলেন। এইভাবে তিনি বেশ অনেক চমকপ্রদ কাহিনী সম্পর্কে জানতে পারেন। তার মতে সেই সময়টাতে প্রেমের বিয়ে অপেক্ষাকৃত বেশী হয়েছে কারণ তখন নারী পুরুষ তুলনামূলক কম বাধায় মেলামেশা করতে পেরেছে। এইসব ঘটনার বিবরণ দিয়ে তাহমিমা বলছিলেন তিনি সেই ঘটনাগুলো লিখবার একটা তাগিদ অনুভব করেন আর সেই থেকেই উপন্যাস লেখার সূত্রপাত।

সামিনা এরপর তৎকালীন পূর্বপাকিস্থানকে পাকিস্থানের "cultural capital" আখ্যা দিয়ে বলেন, তাহমিমাকে তার বাবা-মা পাকিস্থান সম্পর্কে কি ধারণা দিয়ে বড় করেছেন আর যুদ্ধের পরে তাহমিমার সেই ধারণা কেমন করে পাল্টেছে।
এই প্রশ্নের উত্তর তাহমিমা যেমন বলিষ্ট ভাবে দিলেন দেখে একধরণের গর্ববোধ হল। তিনি বলছিলেন, ম্যাপ দেখলে যে কেও দেখতে পাবে পশ্চিম পাকিস্থান থেকে পূর্ব পাকিস্থান এর দূরত্ব কতটুকু। তার উপর দুই দেশের ভাষা, সংস্কৃতি, আচার-আচরণ ভিন্ন। তিনি ভেবে পাননা এর পরেও কিভাবে পূর্বপাকিস্থানকে পাকিস্থানের "cultural capital" বলা যায়।

এই পর্যায়ে তাহমিমা সামিনাকে উল্টো প্রশ্ন করেন, পাকিস্থানে ছেলেমেয়েদের '৭১ এর যুদ্ধ সম্পর্কে সঠিক শিক্ষা দেওয়া হয় কিনা। উত্তরে সামিনা স্বীকার করে নেন, হয় না। তিনি বলেন হয়তো নিজেদের জাতির উপর অহংকার আর ছোট হয়ে যাওয়ার মানসিকতা থেকেই বোধহয় এমন।

আগত শ্রোতাদর্শকবৃন্দের সাথে প্রশ্নোত্তর পর্বের এক পর্যায়ে একজন জানতে চান -
"আপনি বলছেন বাংলাদেশ একটা মডারেট রাষ্ট্র, কিন্তু তাও কেন মত প্রকাশের দায়ে কিছু লেখককে (তসলিমা নাসরিন) দেশ ছাড়তে হল নিরাপত্তার খাতিরে?" -
উত্তরে তাহমিমা বলেন একধরনের সেন্সরশীপের সংস্কৃতি যে আছে সেটি বলা বাহুল্য, অবশ্য শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভারত এবং চীনের মত দেশগুলোতেও এটি আছে। তিনি বলেন তসলিমার সাথে যা হয়েছে সেটি দুর্ভাগ্যজনক, তার মৌলিক অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রের এগিয়ে আসা উচিত ছিল। এও যোগ করেন, যারা তসলিমার সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারতো তাদের সাথেও অবশ্য সে নিজেকে একাত্মতা ঘোষণা করতে পারেননি।

"মেহেরজান" চলচিত্রে একজন বাংলাদেশীর সাথে পাকিস্থানী সৈন্যের প্রেম দেখিয়েছে বিদায় চলচিত্রটির প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়ার প্রসংগ ঠেনে একজন তাহমিমাকে প্রশ্ন করেন, এই সম্পর্কে তাহমিমার কোন বক্তব্য আছে কিনা। তাহমিমা বলেন, মুভিটা তিনি দেখেননি তাই মুভিটা সম্পর্কে কোন বক্তব্য করতে পারবেন না। কিন্তু যদ্দুর জেনেছেন তাতে তার ধারণা, মুভিটাতে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানকে খাটো করা আর যুদ্ধের ভয়াবহটাকে যথাযথভাবে তুলে আনেনি বলে সাধারণ জনগণের প্রতিবাদের মুখে ডিস্ট্রিবিয়ার হল থেকে মুভিটা তুলে নেয়। হয়তো রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও চাপ ছিল।

তাহমিমা তার সাক্ষাতকারের গোড়ার দিকে বলছিলেন তিনি লেখক হতে চাননি তার ক্যারিয়ারের শুরুতে। এই প্রসঙ্গটি তুলে ধরে একজন প্রশ্ন করছিলেন কি প্রেক্ষাপটে তিনি লেখালেখিকে নিজের পেশা হিসেবে নিলেন। এর উত্তরে তাহমিমা বলছিলেন প্রথমে তার লক্ষ্য ছিল শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেওয়া, পরে একটা রাইটিং ক্লাস করতে যেয়ে তার মনে হল হয়তো নিজের যোগ্যতা যাচায় করার জন্য নিজেকে তিনি এক বছর সময় দিয়ে দেখতে পারেন। এর ভেতর না হলে শিক্ষকতা পেশায় নামবেন। তখন কিছু মানুষের সাথে তার পরিচয় হয় আর তখন থেকে তার বিশ্বাস জন্মাতে থাকে যে, না সম্ভব লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নেয়া। আর সেই একবছরের মধ্যেই তিনি তার প্রকাশক পেয়ে যান।

তারেক মাসুদের মৃত্যুকে দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়ে সে সম্পর্কে কোন বক্তব্য আছে কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে প্রশ্নকারীকে এই প্রশ্ন করার জন্য অনেক ধন্যবাদ দিয়ে তাহমিমা বললেন, তারেক মাসুদ বাংলাদেশের আব্বাস কিয়ারোস্তামী হতে পারতো। দেশের জন্য অনেক বিরাট একটা ক্ষতি হয়ে গিয়েছে উনাকে হারিয়ে। এই প্রসঙ্গে তাহমিমা তারেক মাসুদের "The Clay Bird" (মাটির ময়না) মুভিটার কথা ঠেনে সবাইকে অনুরোধ করেন না দেখে থাকলে দেখবার জন্য। কিভাবে পরিচালক তার শৈশবের মাদ্রাসা-র অভিজ্ঞতা মুভিটাতে তুলে এনেছেন সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এও বলেন মুভিটাতে তাহমিমা নিজেও অংশ নিয়েছেন। তারেক মাসুদকে হারানো শুধু চলচিত্র অঙ্গনের জন্যই বিরাট ক্ষতি না জানিয়ে তাহমিমা বলেন, চলমান যুদ্ধাপরাধীদের অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহের কাজেও তারেক মাসুদ অগ্রনী ভূমিকা পালন করছিলেন।

সাক্ষাতকার পর্ব শেষে বইয়ে সই করিয়ে নেওয়ার জন্য আর সবার মতো আমিও লাইনে দাড়ালাম। যখন আমার পালা এল তখন এত কাছ থেকে উনাকে দেখে এমন নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম। বইটা কোনভাবে বাড়িয়ে দিয়ে থেমে থেমে বললাম, ফ্যানপেইজ খুলবার কথা। উনি কিছুটা চমকে গিয়ে বললেন, "was it you"..আমি উত্তরে হেসে হ্যাঁ বলাতে উনিও হাসলেন। হেসে বললেন "keep in touch"। তখন আমি ভেতরে ভেতরে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম, যাক বলে ফেলা গিয়েছে কথাটা। সেই তখন থেকেই ভাবছিলাম কেমন করে বলি, আর বললে প্রতিক্রিয়াটা কি হবে।

বেড়িয়ে আসতে আসতে এশিয়া সোসাইটির একজন অফিসার বলছিলেন, বাংলাদেশের উপর ভবিষ্যতে আরো কাজ করবার কথা। আরো শিল্পী, লেখককে আনবার কথা। মনে ভাবছিলাম যাক ভালোই হবে তাইলে। তারই অংশ হিসেবে আর কদিন পরেই প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা কে আমন্ত্রণ করেছে। মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সাথে বোধহয় একটা সাক্ষাতকারে অংশ নিবেন।



ইন্টারভিউটা পুরো দেখতে পারবেন নীচের লিঙ্কে গেলে। একঘন্টা থেকে একটু বেশী।

Click This Link ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29450872 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29450872 2011-09-19 03:13:29
হারিয়ে গিয়েছি... চাঁদের আলো পড়ে কপালের টিপ চমকে চমকে উঠুক, বেজে উঠুক হাতের চুড়ি আর হাতে থাকুক কারো হাত...."

এই লাইনগুলো পড়তে পড়তে হঠাৎ খেয়াল গেল কারো ভাবনার মাঝে টুপ করে ঢুকে যেতে পারলে কেমন হয়। হয়তো পাশের বাসার ছাদে জায়গা করে নিলাম। রেলিংয়ে দুহাতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে পূর্ণিমার সৌন্দর্য্য দেখতে দেখতে রাতের হাওয়া গেলা যাক না হয় -

(না হয় পাশের বাসার Moonlight Sonata-কে গুনগুন সুরে গান গাওয়ালাম)

: বাহ্‌ আপনি তো দারুণ গান করেন
(প্রথমে প্রশ্নবোধক দৃষ্টি, কিছুক্ষণ নীরবতা, আরও কিছুক্ষণ পর)
: আপনি?
: (মৃদু হেসে) আমি এইখানে নতুন এসেছি। গতকালকেই এলাম
: ওহ। তাই বলি আগে দেখিনি কেন।
: স্টেটসে ছিলাম। আমার ফুফু থাকে এইখানে
: ওহ আচ্ছা।
: অনেক সুন্দর না আজকের রাতটা?
: হুম
: ছাদে আসেন বুঝি নিয়মিত
: না ঠিক নিয়মিত না। যখন ইচ্ছে করে।
: কেমন লাগে?
: দারুণ! বিশেষ করে এই এমন কোন রাতে যখন আকাশে মেঘ থাকে না, বাতাসে মৌ মৌ করতে থাকে হাসনাহেনার সৌরভ, আর রাতের পৃথিবীর সাথে চলে চাঁদের অভিসার।
: বাহ্‌ দারুণ বলেছেন তো! কি গান গাইছিলেন একটু আগে
: ওহ সেইরকম কিছু না। এমনিই গুনগুন করছিলাম আরকি
: আমার তো বেশ মনে হল। গান করেন বুঝি?
: আরে না। ওরকম কিছু না
: আচ্ছা

অদ্ভুত! সত্যিই অদ্ভুত! লেখাটা থামিয়ে এসির স্পীডটা বাড়িয়ে দিতে গিয়ে জানালা দিয়ে চোখ পড়তে দেখি আজ সেইরকমই একটা রাত। পূর্ণিমা শশী যেন মৃদু মৃদু ছন্দে Moonlight Sonata-র সুরটা রাতের আকাশে ছড়িয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ইচ্ছে করছে রাতটাকে স্বপ্নসুতোয় দিয়ে বেঁধে পাঠিয়ে দিই সেই অপরিচিতার মনের আকাশে।

...

ভাত খাচ্ছিলাম। আয়েশ করে। এই আয়েশ শব্দটা আমার এত এত প্রিয়। ইচ্ছে করে আয়েশ করে আয়েশের গালটা ঠেনে বলি, "এমন মিষ্টি কেন তুমি" <img src=" style="border:0;" />.....আয়েশ করে রাজকীয় ভঙ্গিতে। হাহা না না রাজকীয় তোশকে কাত হয়ে শুয়ে আঙ্গুরের থোকা থেকে একটা একটা করে মুখে দিতে দিতে কর্তক নৃত্য দেখছিলাম না <img src=" style="border:0;" />...কল্পনায় যদিও দৃশ্যটা ছিল ওমন তবে বাস্তবে ইলিশের কাঁটা বাছতে বাছতে টিভিতে সুনিধি চৌহানের গানের অনুষ্টান দেখছিলাম। এর আগে দেখছিলাম একটা ভ্রমণের অনুষ্ঠান। প্যারিস দেখাচ্ছিল। আহ্‌ ইচ্ছে করছিল তখনি যদি চলে যেতে পারতাম। আসলেই এই সেদিন সিরিয়াসলী ভাবছিলাম ইউরোপ যাব বছরের শেষের দিকে। সম্ভাব্য ভ্রমণসঙ্গী একজনের সাথে আলাপও করছিলাম এই নিয়ে। সে যাক, তো খেতে খেতে হঠাৎ লেখার এমন একটা রাশ উঠে এল ভেতর ভেতর। ইচ্ছে করছিল তখনি খাওয়া থামিয়ে লিখে ফেলি শব্দগুলো। এমন যে আগে কখনো করিনি তা না, হয়তো খেতে বসেছি। মাঝখানে হাত ধুয়ে উঠে পরে শব্দগুলো মাথা থেকে বের করে পরে গরম করে খেয়েছি। একটা তৃপ্তি পাওয়া যায় এমন হঠাৎ হঠাৎ ধরা দেওয়া শব্দগুলোকে যদি ঠিকঠিক প্রকাশ করতে পারি তো। এইবার মনে হল থাক, আগে ইলিশের একটা গতি করা যাক পরে ভেবে দেখা যাবে।

হঠাৎ করে খুব প্রফুল্ল লাগছে। কারণ আছে অবশ্যই কিছু। তবে ঠিক বুঝতে পারছিনা সেগুলোই মুখ্য কিনা। প্রথম কারণ রবিঠাকুরের প্রায় ৬০টা পেইন্টিংস এর একটা প্রদর্শনী হচ্ছে কাল। সেই একি যায়গায় এই সেদিন যেখান থেকে ঘুরে এলাম। এর অনেকগুলো নাকি আগে কখনো প্রদর্শিত হয়নি। শিহরিত হচ্ছি খবরটা জানার পর থেকেই। আর তর সইছে না কখন সকাল হবে কখন ছুটে যেতে পারবো ছবিগুলোর কাছে। আর দ্বিতীয় কারণ, কদিন পরেই তাহমিমা আনাম আসছেন। তার সদ্য বের হওয়া বইটা সম্পর্কে আলোচনা করতে। তাহমিমা আনাম! যার জন্য ফেইসবুকে আমি ফ্যান পেইজ খুলে বসেছি সেই কোন কালে। যার উপর একসময় কঠিন ক্রাশ ছিল। সেই তাহমিমা আনামকে সামনাসামনি দেখতে পাবো! ওয়াও :-) :-)

বেশ অনেকদিন পরে লিখতে বসেছি। নিজের সাথে কিছু বোঝাপড়া করতে নিজের মাঝে ডুব মেরেছিলাম। ভাবছিলাম সুয়চ্চ কোন পাহাড় বা সাগরের কিনারায় দাঁড়িয়ে সমুদ্রের গর্জন শুনতে শুনতে বোঝাপড়ার কাজটা করলে মন্দ হয় না। যেই ভাবা সেই কাজ। চলে গেলাম এমন এক পাহাড়ের চূড়ায় যেখানে এই মহাদেশে পূব আকাশের রবির কিরণের প্রথম রশ্মিটা এসে পড়ে। বিস্ময়ে নির্বাক হয়ে গিয়েছিলাম সে সৌন্দর্যের সামনাসামনি যখন হয়েছিলাম। আমার স্বপ্নেও আমি এমন কোন দৃশ্যের কথা ভাবতে পারতাম না। সামনে নীচে যতদূর চোখ পড়ে মেঘের বিশালতা। তার ফাঁকে ফাঁকে দ্বীপ, সমুদ্র, আর বাকী পৃথিবী। প্রথমেই প্রাণেশ্বরকে মনে মনে প্রণতি জানিয়ে নিয়েছিলাম এমন একটা দৃশ্য চাক্ষুস করার জন্য আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে বলে। কত্তদিন, কত্ত কত্তদিন এমন একটা পাহাড়ের চূড়ার উঠে মেঘদেখবার জন্য ভেতরটা ছটপট করেছে সে একমাত্র আমিই জানি। কিছু পর যখন মেঘের হিমহিম ছোঁয়া শরীরে পরশ ভুলিয়ে দিয়ে গেল তখনো ঠিক বিশ্বাস হচ্ছিল না সত্যি সত্যিই আমি মেঘকে এমন করে আমার সমস্ত অন্ত:করণ দিয়ে অনুভব করছি...সেই মুহূর্তটাকে শুধু অনুভূতি দিয়েই পরখ করা যায়। পৃথিবীর কোন শব্দ নেই তার ঠিকঠিক বর্ণনা করে। এই এখন লিখতে বসে মনে হচ্ছে অনুভূতির সেই দুর্লভ মুহূর্তটা ফিরে ফিরে পাচ্ছি। আরেকটি মুহূর্তের কথা মনে পড়ছে। সাগরের তীরে বালুর উপর খালি পায়ে দাঁড়ানো আমি আর ঠান্ডা ঠান্ডা আটলান্টিকের জল যখন আমাকে একটু পর পর ছোঁয়ে ছোঁয়ে যাচ্ছিল। অসাধারণ সেই অনুভূতিটাও। মন মনে হচ্ছে বহুদিন পর স্নিগ্ধতার একটা ডুব মেরে উঠেছে প্রতিদিনকার কর্মব্যস্ততার মাঝ থেকে।

অর্ণবের "হারিয়ে গিয়েছি" গানটা শুনছি কদিন ধরে। বেশ লাগছে।

"...হারিয়ে যাওয়ার নিয়ম নেই এইখানে...হারিয়ে গিয়েছি এই তো জরুরী খবর..." ♩ ♪ ♫ ♬










]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29446091 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29446091 2011-09-11 05:22:19
Relaxing & Nature sounds
সেইরকম কিছু মুহূর্তের সঙ্গী হতে এই সব সুরগুলোর কোন বিকল্প নেই। আমার ভালোলাগা এইরকম কিছু সুর এইখানে অর্পণা করে গেলাম। আশা করছি এদের মাঝে কোন না কোন সুর আপনার সেইরকম কিছু মুহূর্তের সঙ্গী হবে।

ইউটিউবে খুজে পাওয়ার সুবিধের জন্য সুরগুলোর নামগুলো আমি একিই রাখছি।

The sound of rain w/o music



Sounds of Rain and Thunder on the River



Amazon Rainforest



The Best Relaxing Sounds Ever vol1 - The Ocean



Get to sleep FAST! SLEEP MUSIC



Sounds of the Rainforest



The Most Relaxing Music Ever! (Over 7 Million views) Slow down -by Paul Collier (11)



Try this! The Deepest most relaxing music and video ever - Air (15)



Sad Violin



Relaxing Music ( Instrumental Piano )



29 My Peaceful Place, deeply relaxing music by Paul Collier



28 So Beautiful. Deeply relaxing music by Paul Collier



Secret Garden - The Promise



36 Time for me, Feel good relaxation music by Paul Collier

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29439573 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29439573 2011-08-27 20:14:40
আটপৌরে কথন ৩
: নতুন কিছু উপমা চাই, যেটি হবে একেবারে সতেজ তরতাজা, ঠিক আজকের সকালটার মতোন।
: কেন "খুশী লাগছে" বললেই তো হয়!
: উহুঁ সব ক্ষেত্রে হয় না। কিছু কিছু কথা আছে যেগুলো রূপকে না বললে একেবারে পানসে মনে হয়। মনে হয় একেবারে সাধাসিধে। হঠাৎ মনে হচ্ছে যেন আমার শব্দের ভান্ডারে ঠান পড়েছে। :=(
: পুরাতন লেখাগুলো থেকে একটা ধার করলেই হয়
: সে কথা যে একেবারেই মাথায় আসেনি তা নয়। কিন্তু কেমন অস্বস্তি হচ্ছে ভেতরটায়। ভাবছিলাম কবি ঠাকুর অমন শয়ে শয়ে হাজারে হাজারে উপমার উদ্ভব করেছেন কোথা থেকে। তাও এক লেখায় উল্লেখ করা কোন উপমা উনাকে অন্য কোন লেখায় ব্যবহার করতে দেখিনি।
শেষের কবিতায় অমিতের বলা একটা লাইন মনে পড়ছে, "পূর্বের লেখা থেকে চুরি করে হয়ে পরে পূর্বের লেখার Receivers of stolen property" :=(

কাল রাতে পুরাতন লেখাগুলো গুছাতে যেয়ে নিজের একটা মন্তব্যে চোখ আটকে গিয়েছিল। ভাবছি সেটিকেই একটু ঘুরিয়ে লিখলে কেমন হয়। হবে যদি চুরি হয় তো। হাজার হোক নিজের লেখা তো। আমি তো আর কবি ঠাকুর নয় যে কথায় কথায় উপমার ফুলঝুড়ি ঝড়াবো।

...

চিঠিটা যেন শরতের মেঘের মত, মিষ্টি সকালের স্নিগ্ধ হাওয়ার মতো হয়ে এল। এত ভালো লাগছিল চিঠিটা পেয়ে। ইচ্ছে করছিল তখনি উত্তর লিখতে বসি। পরে মনে হল থাক। রয়ে সয়ে দিয়। চিঠি পাওয়ার আমেজটা আরো কিছুক্ষন না হয় নিলাম।

আর্শ্চয্যের বিষয় হচ্ছে এই সেদিনই আমি উনার কথা মনে ভাবছিলাম। কেমন অদ্ভুত লাগে এই কাকতালীয় ব্যাপারগুলো আমার কাছে। এদ্দিন কোন খবর নেই, হঠাৎ-ই বা কেন আমার উনার কথা মনে পড়বে আর কেনই বা তার ক-দিন বাদেই চিঠি পাবো। অবাক করার মতোন।

সবচে আনন্দ লাগে চিঠির ইতিতে নামটা দেখে, "রাধিকা"। দেখলেই মুখে হাসি চলে আসে। অমিত লাবণ্যকে যেমন বলে, "বেসরকারী নাম" এই নামটাও তেমনি।

যাক সে কথা। সকালে ঘুম থেকে উঠে আমার বরাবরি রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনা হয়। আজও শুনছিলাম একটা। চিঠিটা পড়তে পড়তে। অদিতি মহসিনের কন্ঠে। চিঠির প্রেরকের সাথে মনে হল গানের কথাগুলো বেশ যায়।

মরি লো মরি, আমায় বাঁশিতে ডেকেছে কে ।।
ভেবেছিলেম ঘরে রব, কোথাও যাব না–
ওই-যে বাহিরে বাজিল বাঁশি, বলো কী করি ।।
শুনেছি কোন্‌ কুঞ্জবনে যমুনাতীরে
সাঁঝের বেলা বাজে বাঁশি ধীর সমীরে–
ওগো তোরা জানিস যদি আমায় পথ বলে দে ।।
দেখি গে তার মুখের হাসি,
তারে ফুলের মালা পরিয়ে আসি,
তারে বলে আসি ‘তোমার বাঁশি
আমার প্রাণে বেজেছে’ ।।



...

আরেকটি আনন্দের সংবাদ যোগ করতে লেখাটা এডিট করতে হচ্ছে। "সৃজনে" আমার একটা লেখা প্রকাশিত হয়েছে। অনেক অনেক ধন্যবাদ সকাল ভায়া কে <img src=" style="border:0;" />। দারুণ ভালো লাগছে অত সব নামীদামী লেখকদের মাঝে নিজের নিকটা দেখে <img src=" style="border:0;" /> ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29438247 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29438247 2011-08-25 06:28:55
মেঘের চিঠি - ২২
আচ্ছা আজ তবে আসি :-)

...

ইউটিউবে বৃষ্টির সুরেলা আওয়াজ আর সাথে পিয়ানোর সুমধুর টুংটাং শুনতে শুনতে তোমার এই চিঠিখানা আবার পড়ছিলাম। বাইরেও বৃষ্টি পড়ছে বাজ সহ। ভিডিওর বৃষ্টি আর বাইরের বৃষ্টির ধ্বনিতে মিলে একাকার হয়ে গিয়েছে।

কি সুন্দর করে তোমার মনের ভাবনা গুলো লিখলে! কাশ, এমন করে যদি লিখতে পারতাম, ভাবনাগুলোকে এমন করে ডানা পড়িয়ে মনের আকাশে যদি চড়িয়ে বেড়াতে পারতাম।

বকুল ফুলের মালা! ওয়াও ধন্য ধন্যবাদ। অঞ্জলীভরে গ্রহন করে নিলাম। আর তোমার জন্য সেই ফিরতি মেঘে করে রওনা করে দিলাম এই হাসিটা :-) বৃষ্টি তার টিপ টুপ টাপ ছন্দে নাচতে নাচতে হাসিটা পৌছেঁ দিবে তোমার মনের আকাশে। ঐ ঠোঁটের কোণে। যতক্ষণ না সেই হাসিটার দেখা পাচ্ছো ততক্ষণ নীচের ভিডিওটা দেখতে পারো।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29435305 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29435305 2011-08-20 07:13:19
মেঘপঞ্জিকা - মেঘ হলে মন
ভালো একটা ঘুম দিয়ে উঠে এখন আয়েশ করে চা খেয়ে এমন ঝরঝরে, এত্ত হালকা লাগছে।

মেঘ হলে মন বিকেলবেলায় একলা যেতাম মেঘের বাড়ি

...

: Did you find what you looking for?

বই হাতে পে করতে গেলে সুন্দরী আমেরিকান তরুণীর প্রশ্ন। হেসে বললাম -

: I wasn't looking for anything actually
: So you just got lucky?

উত্তরে হাসলাম শুধু, কিছু বললাম না। পে হলে পরে ব্যাগে বই দুটো ঢুকাতে ঢুকাতে প্রশ্ন করলো -

: So are you doing anything with tagore?
: Actually i love tagore
: Oh nice! i've read some tagore as well
: he wrote so much that you can't finish reading everything in your life..i've been reading him for last 8 years
: wow

এইবারেও উত্তরে হাসলাম। এরপর বিদায় নিয়ে বই এর ব্যাগ হাতে বেড়িয়ে এলাম Asia Society-র মিউজিয়াম থেকে। গিয়েছিলাম একটা এক্সিভিশনে। পাকিস্তান থেকে সংগৃহীত বুদ্ধের কিছু মূর্তি এবং ভাস্কর্য নিয়ে প্রদর্শনী চলছে ওখানে। সেখান থেকে ফেরবার পথে ওদের স্টোরে ঢুঁ মারি। ঘুরতে ঘুরতেই Something Old, Something New: Rabindranath Tagore's 150th Birth Anniversary এবং The Essential Tagore বইদুটো চোখে পড়লো আর কন্টেন্ট দেখে লোভ সামলাতে না পেরে কিনেই ফেললাম। পরের বইটা অবশ্য খুজছিলাম মনে মনে বেশ কিছুদিন ধরে। তর সইছে না কবে বইদুটো পড়ে উঠবো আর নতুন কিছু তথ্য, ছবি পাবো।

আর একটা কয়েন কিনলাম। চাইনীজ কিছু কথা লেখা আর কিছু আকিঁবুকি। Feng Shui এর উপর একটা বই পড়তে যেয়ে দাগগুলো দেখেছিলাম কিন্তু মনে করতে পারছিনা কি বলে এদের। আশা করছি ভালো কিছু লেখা আছে ওখানে। কিছু দেশী স্টাইলের নজরকাড়া ঝুলানো ব্যাগ চোখে পড়লো। এত্ত সুন্দর আর কারুকাজ করা। এইখানে সাবওয়েতে অনেক আমেরিকান তরুণীকে দেখেছি এই ধরণের ব্যাগ কাঁধে নিতে। ইচ্ছে করছিল একটা কিনি। পরে মনে হল থাক, দেবার তো কেও নেই।

প্রদর্শনীর কথায় ফিরে আসি। ছবি তোলার অনুমতি নেই তাই ঠিক শব্দে বুঝাতে পারবোনা কি দেখে এলাম। গায়ের লোম খাড়া হয়ে যায় হাজার বছর আগেকার এইসব শিল্পকলা দেখলে। এমন অসাধারণ। পুরো প্রদর্শনীটা জুড়ে ছিল বুদ্ধের জীবন, তার ধ্যান এবং তার আশেপাশের মানুষগুলোকে ঘিড়ে। একটা ম্যাপ দেখলাম যেখানে আধুনিক ভারত, পাকিস্তান আর বাংলাদেশ আর তার পাশেই একি ভূগলিক অবস্থানে তখনকার সেই হাজার বছর আগেকার ম্যাপ। কুশান সাম্রাজ্য, উজ্জয়িনী, বিদিশা, মিথিলা। কালিদাসের মেঘদূতে যে যে জায়গাগুলোর উল্লেখ আছে সেইসব নাম দেখে শিহরিত হচ্ছিলাম। এইখানে দেওয়া ছবিদুটো ওদের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া যেগুলো আজ প্রদর্শনীতে দেখে এলাম। আরো জানতে নীচের লিঙ্কদুটোতে ক্লিক করতে পারেন। আর নীচে দিলাম সেই "মেঘ হলে মন" গানটাও <img src=" style="border:0;" /> চাইলে গানটা শুনতে শুনতে পোষ্টটা আবার পড়তে পারেন।



http://sites.asiasociety.org/gandhara/exhibit-sections/buddhas-and-bodhisattvas/

http://sites.asiasociety.org/gandhara/exhibit-sections/narratives-and-architectural-context/

...

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29431662 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29431662 2011-08-14 05:01:54
কথামালার গুচ্ছ গুচ্ছ মেঘ - ১২
জানি না কেন অমলের কথাগুলো পড়তে পড়তে আইয়ানের কথা মনে পড়ছিল। মনে হচ্ছিল বুকের মাঝখানটায় কোথাও একটা ছিদ্র হয়ে গিয়েছে। নইলে এত ব্যাথা করবে কেন!



একটা দৃশ্য ভাসছিল কল্পনায়। আমি কোন এক রেলগাড়ীর কামরায় দরজার কাছে বসে রয়েছি। রেলগাড়ী চলছে রাতের নীরবতা কেটে কেটে। কামরায় আমি ছাড়া আরেকটি মাত্র মানুষ। কিন্তু অন্ধকার তাকে আড়াল করে রেখেছে। সামান্য কিছু ব্যাবধান দুজনের মাঝে অথচ মনে হচ্ছে মাঝখানের সেই অন্ধকার পেড়িয়ে তার কাছে যেতে পারবো সেই শক্তি এখন আমার কোথায়। বাইরের দিকে তাকিয়ে দেখি রাতের আকাশটা তারায় তারায় ছেয়ে গিয়েছে। জোনাক পোকা উড়ে বেড়াচ্ছে থেকে থেকে ঝোপঝাড়ের ভেতর। হঠাৎ দেখি একটা ধূমকেতু, ছুটে যাচ্ছে আকাশের এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে। মুহূর্তে মনে হল আড়ালের মানুষটার দিকে চেয়ে উচ্ছ্বসিত কন্ঠে বলি, "দেখো, দেখো ধূমকেতু!"। পরে মন হল, থাক।



মনে হচ্ছিল আমিও সেই ধূমকেতুটার মতই। সে যেমন ছায়াপথের গোলকধারায় ছুটে বেড়াচ্ছে আমিও তেমনি এই জীবনের রেলগাড়িতে বসে চলেছি। বসে বসে অন্ধকার আগামীর দিকে আনমনে চেয়ে ভাবছি পরের স্টেশনটা নিয়ে যাবে কোন অজানা গন্তব্যে।

একটা সুমধুর সুর ভেসে আসছিল দূরে কোথাও থেকে। সুরটা কি এইটা? হতেও পারে।



ছবিসূত্রঃ ইন্টারনেট]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29429580 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29429580 2011-08-11 02:32:22
মেঘপঞ্জিকা - সিনেমাকথন ৩৫

একটা তীব্র ক্রোধ, আক্রোশ, ঘৃণা, ক্ষোভ আর অপমানে ছেয়ে আছে সমস্ত ভেতরটা। রাগে সমস্ত গা জ্বলে যাচ্ছে। সেই সাথে আবার একটা গর্ববোধও কাজ করছে। এই মিশ্র অনুভূতিগুলোয় হচ্ছে "গেরিলা" মুভিটা দেখে উঠার পর আমার নিজের প্রতিক্রিয়া।

একটা গান বাজছে এখন হেডফোনে। "জয় সত্যেরও জয়"। ছবিতে আলতাফ মাহমুদের মেয়ে গাইছিল গানটা। দৃশ্যগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠছে থেকে থেকে একটা একটা করে।



নির্বিচারে মানুষহত্যার দৃশ্যগুলো, নির্মম নির্যাতনের দৃশ্যগুলো, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লাশের দৃশ্য, গেরিলাদের সুকৌশলে অতর্কিত আক্রমণের, শরণার্থীদের অসহায় অবস্থার, বিলকিসের করুণ মুখ, আর শেষ দৃশ্যের তার সেই হাসিটা। ভেবে দেখলে "গেরিলার" সাফল্য এইখানেই। এই বাঙ্গালী চেতনাকে উদ্দীপ্ত করতে পারাটা। এই মুভির মানুষগুলোর সাথে নিজের অনুভূতি দিয়ে অনুভব করতে পারাটা।

এই কথা মানতেই হয়, গেরিলা মুভিটা মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক মুভিগুলোর জন্য একটা বড়সর মাইলফলক। এমন না যে এর আগে এমন গা শিউওরে উঠা দৃশ্যগুলো, সময়গুলো উঠে আসেনি। এসেছে কিন্তু গেরিলার মত এমন করে চামড়ার ভেতরের প্রাণটাকে এমন করে নাড়া দিয়ে যায় নি। এমন কিছু মুহূর্ত আছে ছবিটাতে যেখানে আমার মত অনেকেরও হয়তো হাত নিশপিশ করেছে রাজাকার, আলবদরদের মুখে একটা ঘুঁসি হাকিয়ে দিতে। কখনো কখনো হয়তো চোখদুটো আদ্র হয়ে উঠেছে। আবার হয়তোবা গর্বে বুকটা ফুলে উঠেছে যখন দেখি ঘরছাড়া বীর মুক্তিযুদ্ধারা নিজের জীবনটাকে নির্ভয়ে বিলিয়ে দিচ্ছে দেশের স্বাধীনতার জন্য, মুক্তির জন্য। জয়ের, আনন্দের স্বাদ পাই যখন দেখি তারা গেরিলা অপারশনে বিজয় ছিনিয়ে আনছে।

স্বাধীনতা বিরোধীদের এমন বাস্তব, সাহসিক উপস্থাপনা আমি এর আগে কোন মুভিতে দেখিনি। কচি খন্দকার তার দারুণ অভিনয় দিয়ে রাজাকারের ভূমিকা যথাযত ভাবে পালন করেছেন। মুভিটাতে একটা উর্দু সংলাপ শুনে আমার মাথায় যেন দপ করে আগুন জ্বলে উঠেছিল। যখন পাকিস্থানী অফিসাররূপী শতাব্দী ওয়াদুদ বলে, বেঈমানের দেশ এইটা, কেও না কেও তো খোকন কমান্ডারের খবর এনে দিবেই। মুভিটা কিছুক্ষণ পওসে দিয়ে রেখেছিলাম। রাগে, অপমানে শরীরটা জ্বলে যাচ্ছিল। মনে জাগছিল, এই সব স্বাধীনতা বিরোধীদের মন্ত্রীত্ব, বীর দর্পে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা রক্ষার দায়িত্ব পালনের কথাগুলো। কেমন করে পারি আমরা এই সব পা-ছাটা মানুষগুলোকে আমাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে। আমার ক্ষোভ, আক্রোশের হেতু এইখানেই।

ধর্মকে, ধর্মীয় বিশ্বাসকে কাজে লাগানো এইসব স্বার্থসিদ্ধির মানুষগুলোর চিত্রায়ন যখন মুভিতে দেখি, এবং যখন জানি যে বাস্তবের এই মানুষগুলো এখনো বহাল তবিয়তে আছে এবং এখনো সেই একি কাজগুলো করে যাচ্ছে তখন নিজেদের অসহায়ত্বের কথা ভেবে অপমান লাগে। ধর্মব্যাবসায়ী দের নিয়ে বঙ্কিম চন্দ্র চ্যাটার্জীর লেখা একটা আর্টিকেলের কথা মনে পড়ছিল। তিনি লিখছিলেন -

"আমরা এমন একজন ভূস্বামী কে জানি যিনি বাক্ষ্মণ এবং কড়া হিন্দু। শীতকালে বা গরমে তিনি খুব প্রত্যুষে উঠে গোসল সারতেন। তারপর কয়েক ঘন্টা ধরে কঠোর নিয়মকানুনের সাথে তার রোজকার প্রার্থনা চলতো। সামান্য ব্যাঘাতেও তার মনে হত যেন শরীরে হুল ফুটেছে। তিনি দিনে কেবল একবার নিরামিষ দিয়ে আহরাদি সারতেন এবং সেটি দুপুরে। এরপর তিনি তার জায়গাজমির নানা বিষয়াদি কাজ নিয়ে বসতেন। সেই সময়টাতে তার ধ্যান পুরোপুরি যেত কিভাবে তার প্রজাদের সর্বনাশ ঘটানো যায়, কেমন করে কোন গরীব বিধবাকে ঠকিয়ে তার সহায় সম্পত্তি হরণ করা যায়, তার অংশীদারদের কিভাবে ধোঁকা দেয়া যায়, মিথ্যা সাক্ষী দিইয়ে কিভাবে কোন সৎ লোককে জেলে পাঠানো যায়, বা কিভাবে নথীপত্র জাল করে মামলা জেতা যায়। এবং সবদিক দিয়েই তিনি তার এই সমস্ত কার্যাদিতে সফল হতেন। যদিও আমরা এও জানি যে তিনি তার ভগবানের প্রার্থনায় পুরোপুরি নিবেদিত এবং একজন নিখাদ ব্রাক্ষ্মণ। এমনকি তিনি যখন নথিপত্র জাল করতেন তখনও হরির নাম নিয়ে করতেন এই ভেবে যে এতে তার ধোঁকা দেওয়াটা ফলফস্রু হবে।"

উপরের কথাগুলো যেন ব্যঙ্গ করে বলছে যে দেখো প্রায় দেড়শো বছর পরেও এই সমস্ত ধর্মব্যাবসায়ীদের কার্যকলাপের কোন প্রতিবাদ আমরা করতে পারছিনা। কি নির্মম পরিহাস!

অভিনয়ের প্রসঙ্গে আসি। একটা কথা মনে আসছিল জয়া আহসানের অভিনয় দেখতে দেখতে। এমন অনেক চলচিত্র পুরষ্কার অনুষ্টানে মাঝে মধ্যে দেখা যায়, নতুন একটা ক্যাটাগরীতে এমন কিছু মুভিকে বা অভিনেতা অভিনেত্রীদের পুরষ্কৃত করতে যার মান অসাধারণের অনেক উচুঁতে। এমন কিছু চরিত্র বা মুভি যেগুলো মানুষ হয়তো জীবনে একবারই চিত্রায়িত বা নির্মাণ করতে পারে, যা বাধ্য করে নতুন কোন ক্যাটাগরী দিয়ে সেইসব মানুষগুলোকে তাদের কাজের জন্য সম্মান প্রদর্শনের। তেমন কিছু আমার মতে বিলক্ষণ করা যায় এই মুভিতে জয়া আহসানের অভিনয়ের জন্য। মনে ভাবছিলাম সেই পুরষ্কারের নামটা কি হতে পারে। "গেরিলা" নামটা মন্দ শোনায় না... প্রণতি জয়া আহসানকে, প্রণতি তার অভিনয় প্রতিভাকে।



লেখাটা বোধহয় বেশ বড় হয়ে যাচ্ছে। শেষ করার আগে মুভিটার ছোটখাট আর কিছু বিষয় নিয়ে কিছু বলি, যেগুলো আমার দৃষ্টি কেড়েছে। মুভিটার প্রথম ত্রিশ-চল্লিশ মিনিট দেখে আমি চরম হতাশ হয়েছিলাম। ভেবে পাচ্ছিলাম না কেন এই মুভিটা নিয়ে মানুষের এত উচ্ছ্বাস। এমন অসংলগ্ন, কাঁচা হাতের প্রদর্শনী। চূড়ান্তরকমের বাজে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক (যেটি অবশ্য পরের দিকে অনেক ভালো হয়েছিল)। গান নির্বাচন, এক জয় সত্যের জয় ছাড়া বাকী সব গানই আমার কাছে বেখাপ্পা, বেমানান ঠেকেছে। আর গানের কন্ঠগুলোও অনেক সাধারণ মানের। বাজে এডিটিং, ডাবিং এর সমস্যা, যুদ্ধের দৃশ্যগুলোর দুর্বল উপস্থাপনা, অতিরিক্ত নাটকীয়তা আর দুর্বল চিত্রনাট্য। যেগুলো ভুজবাজির মত পরের দিকে কেমন শিল্পিত হয়ে উঠেছিল। পরিচালকই ভালো উত্তর দিতে পারবেন কেন এমন পরিণতি হল শুরুর দিকে। এমন মুভিতো আর অহরহ করা যায়না। আরেকটু সময় নিয়ে কি প্রথম দিকের অংশগুলো ভালোভাবে করা যেতনা!

অবশ্য গুরত্বপূর্ণ হচ্ছে মুভিটা দেখে উঠে মনের ভেতর কি রেশ থেকে যাচ্ছে, মুভিটা ভাবতে বাধ্য করছে কিনা সেটার উপর, উপরে যার স্তুতি আমি ইতিমধ্যেই করেছি। তারপরেও আরো কিছু কীর্তন বোধহয় গাওয়া যায়। বেশ অনেক নতুন অভিনয় প্রতিভাকে পেলাম আমরা এই মুভির বদৌলতে, যার জন্য পরিচালক বাহ্‌বা পাবেন। খাসা সিনেমাটোগ্রাফী এবং দারুণ একটা মুক্তিযুদ্ধের গল্পকে মুভিতে উপস্থাপন করতে পারাটাও পরিচালকের আরেকটি সাফল্য।

মুভিটার IMDB রেটিং ৮/১০। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার মুহূর্তগুলোর একটা কাছাকাছি ধারণা পেতে নিঃদ্বিধায় মুভিটা দেখা যেতে পারে।

http://www.imdb.com/title/tt1907679/

ট্রেইলার



আমার যত সিনেমাকথন গুলো...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29427024 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29427024 2011-08-07 05:55:12
কথামালার গুচ্ছ গুচ্ছ মেঘ - ১১
একটা কান্ড হয়েছে ফেরবার পথে। আমার উলটো দিক থেকে একটা বাস আসছিল, আর সেটি আসতে আসতে এসে থামলো আমার একটু সামনে একটা স্টপে। বাসে থেকে নেমে এল এক মহিলা। তো নেমে সে যখন তার কাঁধে ঝুলানো ব্যাগ এ কাঁধ থেকে ও কাঁধে নিচ্ছিল তখন দূর থেকে দেখলাম কিছু একটা তার হাত থেকে মাটিতে পড়ে গেল। লক্ষ্য করলাম মহিলা বুঝতে পারেনি। আমি যখন কাছে আসলাম তখন দেখি বস্তুটা চাবি। নিশ্চই মহিলার বাসার চাবি। আমি নীচু হয়ে সেটি কুড়িয়ে নিলাম। সামনে দেখি মহিলা দাঁড়িয়ে পড়েছে। নিশ্চই বুঝেছে যে চাবি খোয়া গিয়েছে। সে তার জামা আর ব্যাগ হাতড়াচ্ছিল যখন তখন আমি তার পাশে গিয়ে চাবিটা তার দিকে বাড়িয়ে দিলাম। আহ্‌! তার সেই সময়কার প্রতিক্রিয়াটা যদি এই লেখার সাথে যোগ করে দিতে পারতাম। তার মুখ দেখে মনে হল এমন খুশী সে অনেকদিন হয়নি। হড়বড় করে সে যা বললো তাতে বুঝলাম, সে ভেবেছে চাবি বাসেই ফেলে এসেছে। আর আমাকে ধন্যবাদ দিতে থাকলো। আমি শুধু তার দিকে তাকিয়ে একটু হেসেই আবার হাঁটা ধরেছিলাম। যতদূর শুনতে পাচ্ছিলাম বুঝলাম মহিলা তখনো ধন্যবাদ দিয়েই যাচ্ছে :-)

এমন একটা ভালোলাগায় ছেয়ে গেল সমস্ত প্রাণ। বৃষ্টির ফোঁটাগুলোও তখন মনে হচ্ছিল যেন আমার সেই আনন্দের সাথে যোগ দিয়েছে আর নাচছে টিপ টুপ টাপ ছন্দে।

একটা গান শুনছিলাম। নীচে দিলাম সেটি। আমার প্রাণের গীত। রবীন্দ্রসঙ্গীত।

বাদল-মেঘে মাদল বাজে গুরুগুরু গগন-মাঝে॥
তারি গভীর রোলে আমার হৃদয় দোলে,
আপন সুরে আপনি ভোলে॥
কোথায় ছিল গহন প্রাণেগোপন ব্যথা গোপন গানে--
আজি সজল বায়ে শ্যামল বনের ছায়ে
ছড়িয়ে গেল সকলখানে গানে গানে॥

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29425257 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29425257 2011-08-04 06:29:53
মেঘের চিঠি - ২১ আগের চিঠিটা

বৃষ্টির দিন,

ভাবছেন এতদিন পর কেন এখানে লিখলাম! যাহ্‌! আমি তো জানিও না আপনি আমাকে চিনতে পেরেছেন কিনা।
না পারলে নাই। আমি এমনিতেই একজন হারিয়ে যাওয়া মানুষ। আচ্ছা যাই হোক, কেমন আছেন? নিশ্চই আপনার লেখার বাগানটায় এখন আরো বিশাল, আরো অজানা নতুন ফুলের গন্ধে ভরে গেছে যা আমি জানি না, তাই না? এখন তো মনে হচ্ছে আপনার লেখার প্রেমে পড়ে গিয়ে বার বার সেই লেখায় হারিয়ে যেতে চাওয়া এমন পাঠক আরো অনেক হয়েছে, এক সময় যেই প্রেমে আমি পড়েছিলাম। অনেক দিন পর আপনাকে চিঠি লিখছি কিন্তু কি যে বলতে চাইছি তাই বুঝতে পারছিনা

একটা কথা বলতে যেয়ে আরেকটা চিন্তা উপছে পড়ছে।

আসলে এরকম হয় তখনি যখন নিজের জীবনের উপর আর কোন নিজের দাবী থাকে না, নিজের জীবনটা গুছিয়ে রাখার আর কোন ইচ্ছা বাকি থাকে না।

আর তখনি এরকম হয়, যখন হঠাৎ করে অজানা কোন এক দখিন হাওয়া গায়ে লাগলে যদি ধুলোয় আটকে পড়া সময়গুলোর কথা মনে পড়ে। দমকা হাওয়ায় স্মৃতিরা তেড়ে আসে একসাথে আর তখনি মনে হয় কোন কথা আগে বললে অস্থিরতা একটু কমবে।

ঠিক যেমনটি আমার এখন হচ্ছে। আপনার দখিন হাওয়া গায়ে লেগে আমার স্মৃতিগুলো আমাকে অস্থির করে তোলছে। যেখানে রেখে গিয়েছিলাম সেখান থেকে শুরু করবো নাকি কত দিন চলে গেছে সেটার হিসেব করবো?

ইতি
শশী

...

এই চিঠি খানার কোন উত্তর দেওয়া হয়নি...বুকের ভেতরটা কেমন করে মোচড় দিয়ে উঠে চিঠিটা যতবার পড়িতো। হয়তো এর উত্তর কখনো দেওয়া হবে না...

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29417657 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29417657 2011-07-22 07:08:47
মেঘপঞ্জিকা - শান্তির বারি রাত ১০টা বেজে ৫২ মিনিট

আজ অনেকদিন বাদে টুকরো একটা ক্ষণ লিখতে আবার মেঘপঞ্জিকা লিখতে বসলাম। লিখতে যেয়ে পুরোনো ক্ষণগুলো পড়ছিলাম। ভালো লাগে মাঝে মাঝে পুরোনো লেখাগুলো পড়তে। অতীতের সেই আমিকে দূর থেকে দেখে কেমন যেন লাগে কল্পনা করতে যে সেই জন আমিই ছিলাম। মুহূর্তগুলো হারিয়ে গিয়েছে সময়ের অতলে, কিন্তু শব্দগুলো পরে রয়েছে এইখানে। জিইয়ে রেখেছে সেই একেকটা ক্ষণগুলো।

ভালো লাগছিল না কিছু গত কটা দিন। একবার একটা স্বপ্ন দেখছিলাম। দেখি আমি একটা নদীতে কিছু একটা আঁকড়ে ধরে ভেসে থাকবার চেষ্টা করছি, কিন্তু নদীর ঢেউগুলো আমাকে ঠেনে নিয়ে যাচ্ছে দূরে, বহুদূরে। নিজেকে হারিয়ে ফেলছি আমি। এমনি একটা অনুভূতি গ্রাস করছিল আমাকে।

আজ অনেকদিন পর নামাজ পড়লাম। কতদিন পর সে আমার নিজেরও মনে নেই। শ'বে বরাতের রাত বলে হয়তো কাজটা সহজ হয়েছে। নিজেকে অদৃশ্য কোন শক্তির সামনে সমর্পণ করে একধরণের স্বস্তি পাচ্ছি মনে। মনে হচ্ছে আমি আবার প্রাণ-ভরে নিশ্বাস নিতে পারছি। এতদিন যেন এই নিশ্বাস নেওয়ার জন্যই প্রাণটা হাপিয়ে উঠছিল।

সব ছেড়েটুরে দিয়ে হারিয়ে যেতে মন চাইছে। দূরে বহুদূরে কোথাও।

একটা গান শুনছি কদিন থেকে। শ্রাবনী সেনের কন্ঠে "বরিষ ধরা-মাঝে শান্তির বারি"। শান্তি শান্তি একটা ভাব এনে দিচ্ছে মনে।

বরিষ ধরা-মাঝে শান্তির বারি ।
শুষ্ক হৃদয় লয়ে আছে দাঁড়াইয়ে
ঊর্ধমুখে নরনারী ।।
না থাকে অন্ধকার, না থাকে মোহপাপ,
না থাকে শোকপরিতাপ ।
হৃদয় বিমল হোক, প্রাণ সবল হোক,
বিঘ্ন দাও অপসারি ।।
কেন এ হিংসাদ্বেষ, কেন এ ছদ্মবেশ,
কেন এ মান-অভিমান ।
বিতর' বিতর' প্রেম পাষাণহৃদয়ে,
জয় জয় হোক তোমারি ।।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29413882 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29413882 2011-07-16 09:08:23
মেঘপঞ্জিকা - সিনেমাকথন ৩৪ - ২

(প্রথম পর্ব )

মোঘল-ই-আজম এমন একটা সিনেমা যেটার সমপর্যায়ের কিছু নির্মাণ করা আর কারো পক্ষে বোধহয় সম্ভবনা। মকবুল ফিদা হোসেন যথার্থই বলেছেন, “to create such a film, i think K. Ashif has to come back to this world..nobody else can create that

এমন মোঘল পরিসরের সিনেমা, যেটি বানাতে প্রায় ১০ বছর লেগেছিল আর খরচ হয়েছিল তখনকার দিনে (৬০ এর দশকে) প্রায় দেড়-কোটি রুপী। যা কিনা তখনকার দিনের গড়পড়তা বলিউডি মুভির চাইতে দশগুণ বেশী। K. Ashif এর স্বপ্ন, উদ্যম এবং তার এই সিনেমার প্রতি গভীর অনুরাগ-ই মুভিটা মোঘল-ই-আজম হয়ে উঠতে পেরেছিল। মুভিটা বানানোর সময় সেটের লোকেরা যারা তাকে পাগল ঠাওরেছিল মুভি রিলিজ হওয়ার পর তারাই তাকে বলতে লাগলো জিনিয়াস। একটা ঘটনার কথা বলা যায় K. Ashif-এর মুভিটার প্রতি অনুরক্তটা বুঝাতে। একটা দৃশ্য এমন ছিল যেখানে সম্রাট আকবরের দরবারের নবরত্নের একজন সুরসম্রাট তানসেন গাইবেন। তো K. Ashif সঙ্গীত পরিচালক নওশাদ সাহেব-এর কাছে জানতে চাইলেন তখনকার দিনের তানসেন কে। নওশাদ সাহেব বললেন, ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খান সাহেব। তো দুজনে মিলে গেলেন ওনার কাছে। খান সাহেব তো কিছুতেই রাজী হবেননা। বললেন, আমি সিনেমাতে গাই না, আপনারা ভুল জায়গায় এসেছেন। K. Ashif বললেন, না আপনাকেই গাইতে হবে। শেষে এমন একটা দাম হেঁকে বসলেন যেটি দিয়ে তিনি ভেবেছিলেন পরিচালককে নিরুৎসাহ করা যাবে। উনি বলে বসলেন ঐ একটা গানের জন্য তাঁকে ২৫,০০০ রুপী দিতে হবে (যখনকার দিনে কিনা লতা মঙ্গেশকার, মোহাম্মদ রাফী ইনারা নিত ২০০-৩০০ রুপী করে একেকটা গানের জন্য)। K. Ashif বললেন, “মাত্র! খান সাহেব আপনি তো অমূল্য”, বলেই ১০,০০০ রুপীর আগাম চেক লিখে দিলেন।

K. Ashif নিজের কল্পনাশক্তির গুণে হলেও আমার ধারণা মোঘলদের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছিলেন। এবং যার বহিঃপ্রকাশ আমার মতে অনেকটায় পর্দায় উঠে এসেছে। এমন একেকটা সেট, সংলাপ, ওহ সংলাপগুলো নিয়ে কি বলবো। মুভিটা দেখার এক পর্যায়ে থামিয়ে দিয়ে আমি গুগলে সার্চ করতে লেগে গিয়েছিলাম ডায়লগস গুলো পড়ার জন্য। এমন অসাধারণ। আর মুভিটার প্রতিটা খুঁটিনাটি এমন নিখুঁত করার দিকে পরিচালকের নজর ছিল যে এক কথায় অভূতপূর্ব। দিল্লী থেকে দর্জি আনিয়ে কস্টিউমস সেলায় করিয়েছেন, যার আবার এম্ব্রোড্রাইরী করার জন্য লোক লাগিয়েছেন Surat-Khambayat থেকে। হায়দারাবাদি স্বর্ণকারদের দিয়ে জুয়েলারীগুলো বানিয়েছিলেন। Kolhapuri-র শিল্পীরা বানিয়েছেন মুকুট, রাজস্থানী কামার-রা বানিয়েছেন অস্ত্র-শস্ত্র এবং আগ্রা থেকে ডিজাইন করে আনা পাদুকা। যুদ্ধের দৃশ্যগুলোর জন্য ব্যাবহার করেছেন ২০০০ উট, ৪০০০ ঘোড়া, ৮০০০ সৈন্য (যারা কিনা সত্যিকারের ইন্ডিয়ান আর্মি থেকে ধার করা)

মুভিটা যখন শেষের পর্যায়ে তখন হিন্দী মুভিতে রঙ্গিন মুভির প্রচলন শুরু হয়েছিল। K. Ashif তখন মুভিটার শেষের কয়েকটা রীল রঙ্গীন ফিল্মে শ্যুট করেন। রেজাল্ট দেখে উৎসাহিত হয়ে তিনি চাইছিলেন পুরো মুভিটায় আবার রঙ্গিন করে শ্যুট করতে। কিন্তু পরিচালক এবং ডিস্ট্রিভিউটাররা আর অপেক্ষা করতে রাজী না হওয়ায় ১৫% রঙ্গীন আর বাকীটা সাদাকালো এমন ভাবেই রিলিজ করেন। কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল পুরো ছবিটায় রঙ্গিন করে করার, যেটি পূরণ হয় ২০০৪ সালে K. Ashif-এর ছেলে আর পরিচালকের নাতির সহযোগীতায়। যদিও K. Ashif সেটি দেখে যেতে পারেননি।



কাহিনীর প্রসঙ্গে আসা যাক। গল্পের মূল বিষয়বস্তু সেলিম-আনারকলির প্রেমকাহিনী ঘিড়ে হলেও মোঘলদের জীবনযাত্রার অনেক দিকও উঠে এসেছে মুভিতে। মুভির শুরুর দৃশ্যটা এমন, সম্রাট আকবর (পৃথ্বীরাজ কাপুর) তপ্ত মরুভূমির বালুর উপর খালি পায়ে হাঁটছেন। মুখে তার ক্লান্তির ছাপ কিন্তু গন্তব্য স্পষ্ট। সেলিম চিশতীর মাজার। জানা যায়, বাস্তবিকই আকবর তার জমজ দুই সন্তানকে হারিয়ে আগ্রা থেকে খালি পায়ে হেটেই সেলিম চিশতীর মাজারে গিয়েছিলেন পুত্র সন্তানের মানত করার জন্য। প্রার্থনা পূরণ হওয়ায় ছেলের নাম রাখা হয় সেলিম (সেলিম চিশতীর নামানুসারে), যে কিনা পরে সম্রাট জাহাঙ্গীর হয়ে উঠেন।



খালি পায়ের দৃশ্যটা চিত্রায়ণ করার জন্য পরিচালক পৃথ্বীরাজ কাপুরকে খালি পায়ে মরুভূমির উপর দিয়ে যখন হেটে আসতে বলছিলেন তখন পৃথ্বীরাজ কাপুর বলছিলেন তার পক্ষে অমন গরম বালির উপর দিয়ে হাঁটা সম্ভব না। তখন পরিচালক নিজের পায়ের জুতা খুলে বলেন, যতক্ষন তিনি হাঁটতে পারবেন ততক্ষন যেন আকবর রুপী পৃথ্বীরাজ কাপুরও হাটেন।

বালক সেলিমের বেলেল্লাপনায় ক্রুদ্ধ হয়ে আকবর তাকে দূরে পাঠিয়ে দেন নিয়ম শৃঙ্খলায় বেড়ে উঠবার জন্য। ১৪ বছর পর যখন যুদ্ধজয়ী সেলিম প্রাসাদে প্রত্যাবর্তন করেন সেই দৃশ্যটা ক্যামেরায় বন্দী করার জন্য পরিচালক পথে চড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইলেক্ট্রিক পোল সব নির্মূল করে ফেলেন।



তো প্রাসাদে ফিরে আসা সেলিমকে খুশী করার জন্য বাহার প্রাসাদের
ভাস্করকে গিয়ে বললো এমন একটা ভাস্কর্য তৈরী করে দিতে যা দেখে রাজা বাদশাহ্‌দের হুশ উড়ে যাবে। কিন্তু ভাস্কর সময়মতো ভাস্কর্যটা তৈরী করতে না পেরে নাদিরাকে প্লাস্টার লাগিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন। সেলিম তীর মেরে সেই ভাস্কর্যের অবঘুন্ঠন উন্মোচন করেন। আকবর মূর্তিরুপী নাদিরাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে মন্তব্য করেন, যেন কোন হুরপরী নেমে এসেছে পৃথিবীতে। পরে আকবর, সেলিম আর বাকীরা যখন বিস্মিত হয়ে দেখলেন ভাস্কর্‍্য টা আসলে প্লাস্টার পড়া নাদিরা তখন আকবর অভিভূত হয়ে গেলেন নাদিরার সাহস দেখে। আকবর যখন জানতে চাইলেন তীর চলার সময় তার ভয় করেনি; নাদিরা উত্তর দেয়, “Kaniz dekhne chahtiti Afsanah haqiqat main kitna badaltien hain” নাদিরার সাহসিকতায়, রুপে মুগ্ধ হয়ে বাদশাহ আকবর তার নাম রাখেন “আনারকলি”।





এরপর সেলিমের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে এক আসরে আনারকলিকে আরো কাছ থেকে দেখে এবং তার নাচ উপভোগ করতে করতে সেলিম আনারকলির প্রেম পড়ে যান। আনারকলিও সেলিমের প্রেমে। বাস্তবিকই তখন দিলীপ কুমার আর মধুবালা পর্দার বাইরে প্রেম চলছিল। কিন্তু বেশীদিন ঠিকেনি সেই প্রেম। ছবির শ্যুটিং এর সময়কালেই তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। তো ছবিতে আকবর যখন জানতে পারলেন সেলিম আর আনারকলির প্রেমের কথা, তখন তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। বিশেষ করে আনরকলি যখন প্রাসাদের একজন নর্তকী মাত্র, তা সে যতই রুপসী হোক না কেন। নিজের বংশে বিশুদ্ধ রক্তের ব্যাপারে আকবর অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিলেন। আনারকলিকে ভারী শিকল পড়িয়ে প্রাসাদে বন্দী করে রাখেন (আদতেই মধুবালাকে পরিচালক সত্যিকারের ভারী শিকল পড়তে বাধ্য করেছিলেন তখন, যাতে বেদনার ছাপ চোখেমুখে ফোটে উঠে। পরিচালক অবশ্য এই কথাটা তখন জানতেন না যে মধুবালা তখন কঠিন কিডনীর অসুখে ভোগছিলেন, যার কারণে মুভিটা শেষ হওয়ার ক-বছরের মাথায় তার মৃত্যু হয়।)



আকবর আনারকলিকে এই বলে যে, যদি সে সেলিমকে বুঝাতে পারে যে তার প্রেম ক্ষমতার লোভে ছিল, তাইলে আনারকলিকে মুক্ত করে দিবে। আর সেই সময়-ই আকবরের আয়োজন করা এক আসরে আনারকলি নেচে গেয়ে বলে, “Jab Pyaar kiya tu darnaa kiya”। আহ্‌ কি সেই নাচ। নাচটার কোরিয়াগ্রাফী করেছিলেন পন্ডিত লাচ্চু মহারাজ যার বাপ চাচারা লক্ষ্ণৌর নবাব ওয়াজেদ আলীর দরবারের কর্তকের আসর জমিয়ে এসেছেন।



সেলিম আনারকলী কাওকে নিরুৎসাহ করতে পারছেনা দেখে আকবর ছল করে সেলিমকে যুদ্ধের দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়ে দেন দূরে আর আনারকলিকে বন্দী করে রাখেন। এই সময়ই আকবরের একটা সংলাপ খুব করে নাড়া নেয় –

আকবরঃ Selim tuje marne nehi denge, Aur hum Anarkali tuje jine nehi denge (সেলিম তোকে মরতে দিবে না, আর আমি আনারকলি তোকে বাঁচতে দিব না)



আকবর গোপনে আনারকলিকে মেরে ফেলবে এই খবর জানতে পেরে সেলিম আকবরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে বসেন এবং যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন আকবরের সাথে, যদিও শেষে সেলিম বন্দী হন। এরপর আকবর কি চাল ছেলেছিলেন আর সেলিম-আনারকলির প্রেমের কি পরিণতি হল সেটি জানতে আপনাকে মুভিটা দেখতে হবে যে :-)





অভিনয় নিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করা বৃথা হবে। দিলীপ কুমার, মধুবালা আর পৃথ্বিরাজ কাপুরের অভিনয় দক্ষতা বোধকরি শুধু মুগ্ধ হয়ে দেখায় যায়। কি একেকটা সংলাপ বলার স্টাইল। শুরুর দিকে আমার চোখে পড়ছিল দিলীপ কুমার আর পৃথ্বিরাজ কাপুরের শরীরের ভাষাও যেন রাজা বাদশাহদের আদলে কথা কইছে। সত্যি বলতে এমন করে এত নিষ্ঠার সাথে আর এতটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে আমি আর কাওকে এমন করে রাজা-বাদশাহ্‌দের রোল করতে দেখিনি। মুগ্ধ হয়ে যেতে হয়। আর মধুবালা তো মধুবালায়।

বন্দী অবস্থায় মধুবালার এই গানটা দেখা যেতে পারে। লতা মঙ্গেশকারের কন্ঠ আর মধুবালার অভিব্যক্তি একেবারে বুকের ভেতরটা নিংড়ে দেয়।

Muhabbat Ki Jhuthi Kahani Pe Roye Ba.di Chot Khai (javani Pe Roye - 2) Muhabbat Ki Jhuthi ... Na Socha Na Samajha, Na Dekha Na Bhala Teri Arazu Ne, Hame.n Mar Dala Tere Pyar Ki Meharabani Pe Roye, Roye Muhabbat Ki Jhuthi ... Khabar Kya Thi Ho.ntho.n Ko Sina Pa.dega Muhabbat Chhupa Ke Bhi, Jina Pa.dega Jiye To Magar Zindagani Pe Roye, Roye Muhabbat Ki Jhuthi ...



পরিশেষে বলতে হয়, বাস্তবের সেলিম-আনারকলির প্রেম-কাহিনী এবং পরিণতি নিয়ে যদিও ইতিহাসবিদদের মাঝে দ্বন্ধ আছে, কিন্তু পর্দার সেলিম-আনারকলির প্রেম এবং পরিণতি নিয়ে বোধহয় কারো মনে কোন সংশয় নেই।

অনলাইনে দেখুন এইখানে

IMDB-র রেটিং ১০ এ ৭.৮

http://www.imdb.com/title/tt0054098/

আমার যত সিনেমাকথন গুলো...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29413601 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29413601 2011-07-15 20:41:10
মেঘপঞ্জিকা - সিনেমাকথন ৩৪ - ১

মোঘলদের কাজ কারবার-ই আলাদা। তাদের মেজাজ-মর্জি, জীবনযাপন, বা বিলাস ব্যসন সবকিছুর ব্যাপ্তি এমন বিশাল পরিষদে যে মাথা ঘুরে যায়। বেশ কিছুদিন আগে মোঘল স্থাপত্যকলার কিছু ভিডিও দেখতে দেখতে মাথায় প্রশ্ন জাগছিল যে, মন্দির, মসজিদ, দুর্গ বা প্রাসাদ যাই তারা তৈরী করে গিয়েছে সবকিছুর মাঝে তাদের আভিজাত্য, গৌরবের এমন একটা ছাপ তারা রেখে গিয়েছে যে এদের পরিমাপের চিন্তা করা বা ওদের মতো কিছু বানানোর কথা হয়তো চিন্তায় করা যায় না। আমার এক আর্কিটেক্ট বন্ধুকে প্রশ্ন করেছিলাম যে, এই এখন বিজ্ঞান এত উন্নত, এত সব টেকনোলজী আমাদের হাতের কাছে তাও কেন এমন পরিমাপের কিছু আর এখনকার দিনে বানাতে দেখছিনা কাওকে। সে সদুত্তর দিতে পারেনি।

ধান ভানতে শীবের গীত গাইছি হয়তো। সিনেমাকথন লিখবার কথা ছিল, শিরোনাম যেহেতু তাই বলছে। আচ্ছা এখন ধান ভানা যাক :-)



মোঘল-ই-আজম। হুম এই মুভিটা দেখে উঠেই ওমন শীবের গীত ধরেছিলাম উপরে। শুরুটা হয়েছিল পুরোনো হিন্দী গান দেখতে যেয়ে হঠাৎ করে “Pyar Kiya To Darna Kya” গানটা্ দেখে। গানটা শুনেছি অনেকবার, কিন্তু এর ভিডিওটা কখনো দেখা হয়নি। সেই ভিডিও নাগাতার রিপিটে দিয়ে দিয়ে দেখতে যেয়ে এমন একটা ভালোলাগা তৈরী হয়ে গিয়েছিল। মধুবালার (আনারকলি) ওমন এক একটা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকবার মতোন অভিব্যক্তি আর পৃথ্বীরাজ কাপুরের (আকবর) সাপের মতো ক্রোধে ফোঁস ফোঁস করতে থাকা মুখ। কৌতুহল জাগিয়ে তুলছিল। আর মধুবালার নাচ, রুপ, লাবণ্য, মাধুর্যও কেমন একটা ঘোর লাগিয়ে দেয়। ঠিক করলাম মুভিটা দেখতে হবে। তবে দেখতে বসার আগে ভাবলাম আগে ঘেঁটে দেখা যাক বাকীরা কি বলে। উইকি থেকে প্রথমে জেনে নিলাম সেলিম-আনারকলির কাহিনী। এরপর মোঘল-ই-আজম সম্পর্কে। এরপর শুধু মধুবালা।



কৌতুহল আরো বেড়ে উঠছিল এদের সম্পর্কে পড়ে পড়ে। ইউটিউবে খুজতে যেয়ে পেয়ে গেলাম মুভিটার উপর ডকুমেন্টারী আর আরো রিলেটেড অনেক ভিডিও। অধুনা বলিউডের অনেক নামী দামী শিল্পী একে বলছে হিন্দী সিনেমার এনসাইক্লোপেডিয়া। মুভিটা সম্পর্কে এমন উচ্ছ্বাস অবশ্য আগেও শুনেছিলাম। একবার দেখতেও বসেছিলাম মনে আছে। কিন্তু সাদাকালো এবং উর্দু ভাষা ভালো না বুঝবার কারণে তখন আর দেখা হয়নি। সে যাক, যা বলছিলাম, ইউটিউবে মুভিটা খুজতে খুজতে একটা ভিডিওতে চোখ পড়লো শাহ্‌রুখ খানের উপর। মুঘল-ই-আজমের উপর একটা অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করছে। বলছে মুভিটার কালারাইজেশন করা হয়েছে (২০০৪ সালে) এবং সাথে এও বলছিল, K. Ashif (মুভির পরিচালক)-এর ছেলে Akhbar Ashif একটা উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। বরেণ্য চিত্রশিল্পী মকবুল ফিদা হোসেইনকে দিয়ে মুভিটার চরিত্রগুলো, দৃশ্যগুলো আঁকিয়ে নিয়ে মুভিটার ঐতিহ্যকে জিইয়ে রাখার একটা প্রচেষ্ঠা।

লেখার ফাঁকে ফাঁকে দেয়া পেইন্টিংস গুলো সেই উদ্যোগের-ই কিছু অংশবিশেষ। মকবুল ফিদা হোসেনের আঁকা।



অবশেষে পেয়ে গেলাম রঙ্গিন মুভিটা। ভাষা কিছু বুঝলাম আর কিছু অনুভব করে নিলাম। মুভিটা সম্পর্কে কিছু বলার আগে একটা গান শোনে নেয়া যেতে পারে –

Teri Mehfil Mein Qismat



গানটা একটা ধারণা দেয়, আনারকলি-র (মধুবালা) প্রেম নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গী। গানটা গেয়েছে Lata Mangeshkar (আনারকলির কন্ঠ)এবং Shamshad Begum (বাহার এর কন্ঠ)। এইখানে বলে রাখি বাহার (নিগার সুলতানা) হচ্ছে প্রসাদের একজন হিংসুটে নর্তকী (উচুঁ স্তরের) যে কিনা সেলিমের রাণী হওয়ার স্বপ্ন দেখছিল।

গানটার কয়েকটা লাইন শেয়ার করছি। (আর কয়েকটা শব্দের তর্জমা করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা করছি। জানি কাওয়ালীটা যে বেধেছে সে আমার এই তর্জমা পড়লে আমাকে দৌড়ান দিবে তাও একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা আর কি)

Shamshad:

Bahaarein aaj paighaam-e-muhabbat le ke aai hai (বাহার আজ প্রেমের বার্তা নিয়ে এসেছে)
Badi muddat mein ummeedoon ki kaliyaan muskuraai hain… (অনেক দিনের পর আশার আলো আজ উকিঁঝুকিঁ মারছে)
Gham-e-dil se zaraa daaman bachaa kar hum bhi dekhenge… (কষ্ট হতে হৃদয় বাচিঁয়ে চলে আমিও না হয় দেখি)

Lata:

Agar dil gham se khaali ho to jeene ka mazaa kya hai (বেদনাহীন হৃদয় নিয়ে প্রানের বেঁচে থাকার মাধুর্য্য কই)
Na ho khoon-e-jigar to ashq peene ka mazaa kya hai…
Muhabbat mein zaraa aansoo bahaa kar hum bhi dekhenge… (ভালোবেসে চোখ ভাসিয়ে আমিও দেখি)
Teri mehfil mein qismat aazmaa kar hum bhi dekhenge (তোমার এই মাহফিলে ভাগ্যের নিবেদন করে আমিও না হয় দেখি)

Shamshad:

Muhabbat karne waaloon ka hai bas itnaa hi afsaana (প্রেম করনেওয়ালাদের স্রেফ এইটুকনই শখ)
Tadapna chupke chupke aah bharnaa ghut ke mar jaana… (লুকিয়ে চুপিয়ে কষ্ট, বেদনা, যাতনা সইয়ে যাওয়া)
Kisi din yeh tamaashaa muskuraa kar hum bhi dekhenge… (একদিন এই তামাশা আমিও দেখবো)
Teri mehfil mein qismat aazmaa kar hum bhi dekhenge

Lata:

Muhabbat hum ne maanaa zindagi barbaad karti hai (ভালোবাসা আমি বুঝি জীবন বরবাদ করে দেয়)
Yeh kya kam hai keh mar jaane peh duniya yaad karti hai… (কিন্তু এও বা কম কি মরণের পর দুনিয়া যদি মনে রাখে)
kisi ke ishq mein duniya lutaa kar hum bhi dekhenge… (এমন করে কারো প্রেমে দুনিয়া লুটিয়ে আমিও না হয় দেখি)

গানের কথাগুলো যদিও অনেকবার শোনার পর কিছুকিছু আঁচ করতে পেরেছিলাম। অবশ্য ভিডিও সহ দেখলে দৃশ্যগুলো এবং এদের একএকজনের অভিব্যক্তিও বুঝতে অনেকটা সাহায্য করে। গান শেষের দৃশ্যটাও চমকপ্রদ। যখন শাহজাদা সেলিম (দিলীপ কুমার) তার হাতে ধরা গোলাপের পাপড়িওয়ালা অংশটুকুন বাহারের হাতে দেয় আর আনারকলিকে দেয় কাঁটার অংশটুকুন।

শুধু এই গানটায় না, মুভিটার প্রতিটা গান, গানের কথাগুলো, সুর, কন্ঠ এমন হৃদয়ছোঁয়া যে খাসা, তোফা এমন আরো কয়েকটা স্তুতি, শব্দে ঘেঁথে কয়েকটা শব্দের মালা ছুঁড়ে দেওয়া ছাড়া আর কোন করণীয় খুজে পাচ্ছিনা।

(পরের পর্ব)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29413593 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29413593 2011-07-15 20:26:16
আমার কিছু ভালোলাগা মুহূর্ত
১। টিভি দেখতে বসে এমন কোন চ্যানেল ছেড়ে বসা যার ভাষা বুঝা দুষ্কর। স্প্যানিশ, কোরিয়ান, জাপানীজ বা এমনি কিছু। মজা লাগে আমার এমনটা করতে। চোখ থাকে টিভির পর্দায় আর মন চলে যায় কোথায়...

২। ফেইসবুকে প্রিয় কারো পোক বা ম্যাসেজ পেতে। বা প্রত্যাশিত কারো চ্যাটে নক্‌ করার শব্দটা। মিষ্টি মিষ্টি :-)

৩। ছুটির দিনের মেঘলা সকালে নিজের হাতে বানানো চায়ের কাপে আয়েশি চুমুক দিতে দিতে রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনা।

৪। ছুটির দিনে আরাম আরাম দিবা-নিদ্রা দেওয়া :-)

৫। উত্তম-সুচিত্রা বা ওপার বাংলার সাদাকালো, প্রিয় কোন অভিনেতা-অভিনেত্রীর বা ভীনদেশী কোন পরিচালকের ক্লাসিক মুভি দেখা। সেটি যে দেশেরই হোক না কেন।

৬। গোধূলীলগ্নে নদীর পাড়ে বসে হাওয়া গেলা।

৭। উদ্দেশ্যবিহীন ভাবে কোথাও হারিয়ে যাওয়া।

৮। ক্যামেরা দিয়ে জীবনের, প্রকৃতির ছবি উঠানো।

৯। কারাটে ক্লাসে বা জিমে কাটানো সময়গুলো, যখন টপ্‌টপ্‌ করে ঘাম ঝরে পড়ে। মনে হয় আহ্‌ শ্রম সার্থক :-)

১০। বন্ধুর দুঃসময়ে পাশে এসে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে।

১১। সারাদিনের ব্যাস্ততার পর রাতে টিভিতে প্রিয় নাচের অনুষ্ঠান দেখতে।

১২। মনের আকাশে চড়ে বেড়ানো ভাবনাগুলোকে শব্দ দিয়ে বন্দী করে যখন ব্লগে পেশ করি, আর সহব্লগার বন্ধুরা যখন পড়ে মন ভালো করা সব মন্তব্য করেন। মনে হয়, আহ্‌ আর কি চাই :-)

১৩। মা যখন আমার প্রিয় খাবারগুলো রান্না করেন আর পেটভরে খেয়ে যখন তৃপ্তির ঢেকুর বেড়োয়।

১৪। হঠাৎ পেয়ে যাওয়া কোন গান দিনরাত নাগাতর শুনা আর দিনকতক একি গান শুনেও শুরুর মতোন আনন্দ পেতে।

১৫। শব্দঢালি থেকে মন ভালো করা শব্দদের নিয়ে চিঠির মালা বুনতে এবং পেতে।

১৬। অভিমানিনীর মান ভাঙ্গাতে। ছেলেমানুষী ঝগড়া করতে এবং আবার সেটি মিটমাট করতে। :-)

১৭। নিজের করা নিয়ম ভাঙ্গতে

১৮। পছন্দের কারো মুখে হাসি ফোটাতে।

১৯। কিছুই না করতে

২০। হাসতে। কারণ এবং অকারণে।

২১। নিজেকে ট্রিট করতে, অবশ্যই দারুণ কিছু অর্জনের পর।

২২। নিজেকে নিজের সর্বান্তঃকরণে ছড়িয়ে দিয়ে আরাম আরাম আয়েশ আয়েশ মুহূর্ত কাটাতে। শুধুই নিজের সাথে।

২৩। দূরে বহুদূরে কোথাও গিয়ে কিছুদিনের জন্য প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে।

২৪। অফিসে জটিল কোন সমস্যার জট ছাড়াতে এবং অন্যকে ছাড়াতে সাহায্য করতে। একটা তৃপ্তি এবং গর্ববোধ হয় নিজের ইঞ্জিয়ারিং বিদ্যের উপর।

২৫। অবসরে পছন্দের কোন বিষয়ের উপর ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটাতে। অবশ্যই পড়ালেখা বিবর্জিত।

২৬। কোন কাজে, যার ফল অনেকেই পাবে, যখন কেও এগিয়ে আসে না তখন নিজে সেটি তুলে নিতে এবং ঠিকঠাক সম্পূর্ণ করতে।

২৭। ক'মাস কঠিন অধ্যাবসায়ের পর সেমিষ্টার শেষে যখন প্রত্যাশিত গ্রেড মিলে তো

২৮। যার কথা মন যখন ভাবছে, সেই সেই মুহূর্তগুলোতে প্রত্যাশিত সেই জনের sms বা ফোনকল পেতে।

২৯। কাজ থেকে ফেরার পথে ট্রেনে বসে আরামনিদ্রা দিতে।

৩০। রেসিপি ফলো করে করে রান্না করে আর সেই রান্না যখন হয় উপভোগ্য।

৩১। ম্যাসাজ নিতে

৩২। যে জিনিসটা খুজছি গুগল মামা সেটি সহজেই পাইয়ে দিলে।

৩৩। ব্লগে মন ভরে যাওয়া এবং তৃপ্তি পাওয়া কোন লেখায় মনের মত করে মন্তব্য দিতে।

৩৪। বাচ্চাদের সাথে দুষ্টুমি করতে এবং তাদের মুখে হাসি ফোটাতে।

৩৫। বাসায় দাওয়াত খেতে আসা মেহমানরা যখন খাওয়া সেরে আড্ডা দিতে বসেন আর সারাদিনের ব্যস্ততার পর মাও যখন একটু অবসর পান তাদের সাথে বসে গল্প করার, সেই ফাঁকে কিচেনে যেয়ে এঁটো প্লেট-পেয়ালা ধুয়ে রাখতে। আর মা যখন এসে বলেন, হয়েছে হয়েছে তোমার করা লাগবে না, সেই মুহূর্তটা।

৩৬। পছন্দের কারো সাথে সময় কাটাতে, তাকে খাওয়াতে এবং পছন্দসই কিছু কিনে দিতে।

৩৭। কল্পনার ঘুড়িকে মনের রোদেলা আকাশের এই প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটিয়ে বেড়াতে।

৩৮। ফেইসবুক ফ্যান প্যাজগুলোতে আমি যেই প্যাজগুলো দেখি, সেখানে কেও কোন কাজের জন্য এডমিনের তাড়িফ করলে।

৩৯। আমার সাইটের প্রশংসা শুনতে

৪০। রাতের খাওয়া সেরে ফ্রিজে রাখা রসগোল্লা দুই আঙ্গুলে ধরে টুপ করে মুখে পুড়ে দিতে।

৪১। নিজের পুরোনো লেখাগুলো পড়ে সেই লেখার সময়কার ভালোলাগা টুকু ফিরে ফিরে পেতে।

৪২। যখন বুকে জমে থাকা মন খারাপের মেঘগুলো কান্নার বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পড়ে।

৪৩। ছোট ভাইয়ের সাথে বসে ছেলেবেলাকার মতো আগ্রহ সহকারে প্রিয় কার্টুনগুলো দেখতে।

৪৪। শৈলী আপুটার কাছে থেকে "ভাইয়াআআআআ" ডাক শুনতে।

৪৫। ফিটফাট বাবুটা সেজে বাইরে বেড়োলে মানুষজন মুখ তুলে থাকালে, বিশেষ করে লবঙ্গলতিকা হয় যদি তো =P

৪৬। উঠিয়ে রাখা কোন জামাকাপড় অনেকদিন পর পড়তে যেয়ে জামার পকেট থেকে টাকা বেরোলে।

৪৭। নানান দেশ এবং জাতীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সরাসরি উপভোগ করতে।

৪৮। কারো উপর অভিমান করে থাকলে সেই জন জেনে বা না বুঝে ফুলানো মুখে রংধনু রঙ্গা একটা হাসি নিয়ে আসলে। যে হাসিতে আনন্দ তার সব রঙ নিয়ে ঝিকমিক করতে থাকে।

৪৯। পূর্ণিমা রাতে রুমের বাতি নিভিয়ে দিয়ে পর্দা সরিয়ে রাতের পৃথিবী আর শশীর মাঝে প্রেম দেখতে।

আপাতত এইটুকন-ই। পরে আরো মনে পড়লে যোগ করে দিব। কারো সাথে মিলে যাবে সে প্রত্যাশা করিনে। কিন্তু দৈবাৎ মিলে যায় যদি তবে সেটুকু জানবার আগ্রহ আছে বৈকি :-)।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29402586 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29402586 2011-06-26 05:03:25
কথামালার গুচ্ছ গুচ্ছ মেঘ - ১০
একটা স্প্যানিশ বাচ্চাকে স্ট্রলারে করে তার মা এসে বসেছিলেন আমার সামনের সীটে। বাচ্চাটা এমন গুল্লুস গাবলুস দেখতে যে ইচ্ছে করে গাল ঠেনে দিই। কিছুক্ষণ এদিক ওদিক করে বাচ্চাটা আমার দিকে তাকালো। আমি তার দিকে চেয়ে হাসলাম একটু। সে থাকিয়ে থাকলো আমার দিকে চোখ রেখে। একটা কথা মনে পড়ছিল...বাচ্চাদের সাথে staring competition এর কথা বলছিল একটা সাইটে, নির্মল আনন্দ পাওয়ার জন্য। তো আমি তার দিকে তাকিয়ে মৃদু মৃদু হাসছি আর সেও তাকিয়ে থাকতে থাকতে এক সময় ফিক ফিক করে হাসতে লাগলো। মায়ের পাশের সীটে এক ভদ্রমহিলা ম্যাগাজিন পড়ছিলেন। একসময় সেই মহিলাও দেখি যোগ দিয়েছেন বাচ্চাটাকে হাসানোর কাজে। ম্যাগাজিনের পাতা উল্টিয়ে উল্টিয়ে বাচ্চাটাকে দেখাচ্ছেন। পুরো ব্যাপারটার মাঝে এমন এক স্বর্গীয় উপলব্ধি ছিল যে মুহূর্তেই পরিবেশটা কেমন যেন সুন্দর হয়ে উঠলো। আমার নিশ্চিত মনে হয়, এই নিষ্পাপ দেবশিশু গুলো রয়েছে বলে পৃথিবীটা আজও বাসযোগ্য হয়ে আছে।

হেডফোনে গান বাজছে। তার ছন্দের সাথে মনে মনে সুরের ফানুস উড়াচ্ছি। পছন্দের গান বাজছে। মনটা আজ একটু বেশীই ভালো। কাল সারাদিন অমন ঝড়-বাদলের পর সূর্যিমামা আজ হাস্য-কল্লোলে মেতে উঠেছে। মনে হচ্ছে যেন পৃথিবীকে নিজের সূর্যরশ্মির ভাণ্ডার অবমুক্ত করে দিয়ে চোখে গগলস একটা লাগিয়ে মামা আজ আয়েশ করছে। কেমন ফুর্তি ফুর্তি উৎসব উৎসব ভাব চারদিকে...

হয়তো এই সব আমার মনেই...কে যেন বলছিলেন, আমরা যখন যেমন থাকি তেমনি করেই আমরা আমাদের চারপাশটাকে দেখি।

...

তখন হঠাৎ করে ট্রেন থেকে নেমে পড়াতে লেখা বন্ধ করতে হল। যে ট্রেনে উঠেছিলাম শুরুতে সেটি আমার গন্তব্যে যাবে না। অন্য ট্রেন ধরতে হল। সেই ট্রেন নিয়ে অনেক ঘুরপথ পেড়িয়ে তবেই গন্তব্যে পৌঁছেছি। অবশ্য তার আগে অন্য একটা জায়গায়ও উঠে পড়েছিলাম। সেই কথায় পড়ে আসছি। এখন বসে আছি একটা ফেরীতে। যাচ্ছি একটা আইল্যান্ডে। ফেরীতে উঠতে যাওয়ার পথিমধ্যে এক জায়গায় দেখি শ্যুটিং চলছে। আমি ক্যামেরাটা বের করতে করতে শ্যুটিং এর দিকে যাব ভাবছি এমন সময় দেখি আমার আশেপাশের মানুষজন চেঁচাতে শুরু করেছে। ব্যাপার কি। দেখি কালো একজন, মানুষজনের দিকে থাকিয়ে হাত নাড়ছে। আর্‌রে উইল স্মিথ! আমার পাশ দিয়ে হেঁটে গেল অথচ ছবি উঠাতে পারিনি :-(। তার পিছু নিব ভাবছি দেখি সিকিউরিটি মানুষজন আর সামনে যেতে দিবে না। কি আর করা, শব্দের ফ্রেমে না হয় এইখানেই বন্দী করে রাখি মুহূর্তটা। দূর থেকে একটা ছবি উঠিয়েছিলাম যদিও বা, কিন্তু তাকে বোঝা যাচ্ছে না। দেখে তো মন হল বুঝি ম্যান ইন ব্ল্যাক এর কোন সিকিউওল এর শ্যুটিং চলছে।

এইবার বলি তখন কোথায় উঠে পড়েছিলাম। উঠেছি হ্যালিকপ্টারে <img src=" style="border:0;" />। জ্বী না একটুও মজা করছিনা। সত্যি সত্যি। এই কাজটা করতে আমার দারুণ মজা লাগে। এই যে, হয়তো যাচ্ছি কোথাও বা করছি কিছু মাঝখানে অন্য কোথাও বা ভিন্ন কিছু করা। দারুণ এই নিয়ম ভাঙ্গার এক একটা মুহূর্তগুলো :-)। আর আমিতো চলেইছিলাম উদ্দেশ্যবিহীন ভাবে কোথাও হারিয়ে যেতে। ঠিকই যাচ্ছিলাম গন্তব্যের দিকে। মানে ফেরীতে উঠতে। যেতে যেতে দূর থেকে দেখি একটা লোক কজনের একটা গ্রুফকে বলছে হ্যালিকপ্টারে চড়ার কথা। আমি দূর থেকে তাদের দেখছিলাম আর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম তার হাতে ধরা ব্রাউচারটার দিকে। আমি আমার মত তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিলাম। ক-কদম যেয়ে দূর থেকে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কত ডলার। জানা ছিল হ্যালিপ্যাডটা পাশেই। এমনকি ঐ হ্যালিপ্যাডে যেয়ে চপারে চড়ার বাসনাও মনে পুষে রেখেছিলাম বেশ অনেকদিন থেকে। হাডসন নদীর উপড়েই হ্যালিপ্যাডটা। তো দামটা যুক্তিযুক্তি মনে হওয়ায় তাকে বললাম, যাওয়া যাক।

সিকিউরিটি চেক সেরে ছবি উঠিয়ে নিয়ে, গ্রাউন্ড ক্রু আমি একা দেখে আমাকে বসতে বললো একেবারে পাইলটের পাশের সীটেই। আমাদের সাথে পেছনের সীটে ছিল সুইডিশ এক ফ্যামিলি। সুইডিশ জানি কারণ পাইলট কথাচ্ছলে জানতে চাইছিল তারা কোত্থেকে এসেছে। আর তারা হ্যাডসেটে উত্তর দিয়েছিল। পাইলট মশায় আমাদের হেন তেন উপদেশ দিতে লাগলেন। আমার মনে তখন কোন ভাবোদয় হচ্ছিল না দেখে একটু অবাকই হচ্ছিলাম। উত্তেজিত হওয়ার কথা ছিল কিন্তু মন ভাবলেশহীন। যেন বলছে এ আর এমন কি। অভিভূত হওয়ার ক্ষমতা দিনে দিনে লোপ পাচ্ছে কিনা ভেবে একটু শঙ্কিতই হলাম। পরে মনে হল মন হয়তো আরো অভিনব কিছু খুঁজছে উত্তেজিত হওয়ার জন্য। হ্যালিকপ্টার আস্তে আস্তে উপড়ে উঠছিল আর আমিও ক্যামেরাটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম ছবি উঠানোর কাজে।

এত্তগুলো বছর যে শহরে কাটিয়েছি সেই শহরটাকে ভিন্ন আঙ্গিকে, নতুন রূপে দেখার এমন সুযোগ হয়তো বারে বারে আসবেনা। স্মরণীয় হয়ে থাকবে উপড়ে কাটানো মুহূর্তগুলো। ভাষায় বর্ণনা করার চাইতে উঠানো ছবিগুলোই হয়ে থাক সেই মূহুর্তগুলোর সাক্ষী হয়ে। সে যাক, এখন উপভোগ করি ফেরী ভ্রমণ। গান শুনতে শুনতে।



গভর্ণস আইল্যান্ডে নদীর পাড়ে একটা বেঞ্চিতে বসা এখন। বসে বসে মনের পালে হাওয়া লাগাচ্ছি...

"তোমার খোলা হাওয়া, লাগিয়ে পালে, তোমার খোলা হাওয়া...
টুকরো করে কাছি, ডুবতে রাজি আছি, আমি ডুবতে রাজি আছি॥"

ডুবতে রাজী কিনে বলতে পারছিনা তবে হাওয়াটা লাগছে মন্দ না। নদীর ঢেউ আইল্যান্ডের দেওয়ালে বাড়ি খেয়ে খেয়ে ফিরছে। গানবাজনার আওয়াজ পাচ্ছি আমার পেছনে। বোধহয় কনসার্ট হচ্ছে। উঠে দেখতে হয়...

...

ফিরে যাচ্ছি। ফেরীতে বসা। মনটা কেন যেন হঠাৎ কোথায় হারিয়ে গেল। আসার সময় আকাশে কোন মেঘ ছিল না এখন দেখি থোকা থোকা গুচ্ছ গুচ্ছ মেঘ। মেঘের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে একটা হাসি মেঘকে দিয়ে বললাম যেন পৌঁছে দেয়, যেখানে মেঘের প্রেয়সী রয়েছে, দূর সুদূরের সেই অলকাপুর, নাকি...:-)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29398993 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29398993 2011-06-19 07:09:13
তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা
: প্যাক প্যাক প্যাক
: মানে কি?
: প্যাক প্যাক প্যাক
: কথা বলতে জানো না তুমি?
: প্যাক প্যাক প্যাক
: ঢওওং
: হাহাহাহা
: দেখো কত মানুষজন আসছে আজ নদীর পাড়ে
: হুম অনেক, ইস্‌ যদি এরা খাবার ছুড়ে দিত আমাদের দিকে, কয়টা শামুক দিত, আহ্‌ কদ্দিন শামুক খায় না
: তোমার খালি খাবার চিন্তা
: তো আর কিসের চিন্তা করবো
: কেন আমার
: ইস্‌ সখ কত
: হুম অনেক সখ <img src=" style="border:0;" />

এই দেখো দেখো একটা বাচ্চা মেয়ে। অওও কি মিষ্টি!
: হুম, কিন্তু করছেটা কি
: মনে হয় পানি ঘাঁটবে
: দেখো সাবধান, আবার না পানি ছুড়ে মারে আমাদের দিকে
: না দিবে না মনে হয়, ঐ দেখো পেছনে তার বাবা, কিন্তু এ কি, এরা মাটি নিচ্ছে কেন পেয়ালায়...খাবে নাকি
: দুসস্‌, এরা মাটি খায় নাকি!
: কি করছে তবে
: মনে হয় মাটি দিয়ে পেয়ালা ধুচ্ছে, সাবানের বিকল্প।
: আরে তাই তো

আরো কিছুদূর যাওয়ার পর -

: আচ্ছা এই ছেলে-মেয়ে দুটোকে একটু আগে দেখে এলাম না, পেছনে
: হুম, পাথরের উপর বসা ছিল
: এখন হাঁটছে
: তাই তো দেখছি
: কি বলছে?
: আমি কি জানি
: আরেকটু কাছে যাওনা
: আমি কি মানুষের ভাষা বুঝবো
: বুঝবে বুঝবে, যাওতো
: বলছে, "ওই হাঁস দুটো দেখেছে"
: আমাদের কথা বলছে! ওয়াও...তো কি দেখলাম!
: ভুলে গেলে
: ওহ হ্যাঁ তাইতো তাইতো
: মিষ্টি মিষ্টি
: হু মিষ্টি মিষ্টি




...

হাঁসদের কথোপকথনের সাথে "তুমি সন্ধ্যার মেঘমালার" কি সম্পর্ক হয়তো এই প্রশ্ন উকিঁ দিচ্ছে। হয়তো সম্পর্ক নেই। আবার হয়তো আছে :-)। হাঁস দুটো যে কথাগুলো শুনে নি সেই দৃশ্যগুলো ছিল এমন -

হাটা শেষে ফেরার পথে, প্লাটফর্মে ছেলেটা আর মেয়েটা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল ট্রেনের জন্য। দুজনে কথা বলছে, হাসছে। হঠাৎ ছেলেটা মেয়েটার কানের কাছে মুখ নিয়ে আস্তে করে বললো, "তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা"। আর শুনেই মেয়েটা এক নিমিষে থামের আড়ালে। এর পরে যে দৃশ্যটা ছেলেটার মনে আছে, সেটি হচ্ছে, প্লার্টফর্মে ট্রেনের প্রবেশ, মেয়েটার পেছন ফিরে দাঁড়ানো আর চুল দিয়ে আড়াল করা মুখ। আর ছেলেটার মুখে তৃপ্তির হাসি।

এইটুকু শুনে হয়তো প্রশ্ন জাগছে -

: কেন কেন তৃপ্তির হাসি কেন?
: প্রথমত, কথাটা সে বলে ফেলতে পেরেছে। আর দ্বিতীয়ত কারণ মেয়েটা আর কিছু শুনতে রাজী হয়নি এর পর
: শুনতে চাইলে কি হত
: কি আর হত, বেসুরো গলায় তাকে পরের লাইনগুলো বলতে হত। ওগুলো বলতে হয়নি তাই :-)। আর লাইন সব মুখস্থও ছিল না যে
: যাহ্‌! মুখস্থ করে রাখা উচিত ছিল না?
: হুম, ছিল তো :-(
: কিন্তু আর সব ছেড়ে এই লাইনটায় কেন?
: কারণ এই গানের কথাগুলো তার অনেক পছন্দের। তাই। সে ভেবে রেখেছিল কখনো তেমন তেমন কারো সাথে পরিচয় হলে তাকে একদিন বলেই ফেলবে এই কথাটা।
: গানটা কি শুনা যায়?
: নিশ্চই যায়। তবে সুমনের কন্ঠে :-)

তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা, তুমি আমার সাধের সাধনা
মম শূন্য গগণ বিহারী,
আমি আপনমনের মাধুরী মিশায়ে, তোমারে করেছি রচনা।
তুমি আমারি তুমি আমারি মম অসীম গগণ বিহারী।

মম হৃদয় রক্তরাগে তব চরণ দিয়েছি রাঙিয়া
অয়ী সন্ধ্যাস্বপণ বিহারী
তব অধর একেছি সুধাবিষে মিশে মম সূখ দুখ ভাঙিয়া।
তুমি আমারি তুমি আমারি মম বিজনজীবন বিহারী।

মম মোহের স্বপন অন্জন
তব নয়নে দিয়েছি পরায়ে
অয়ী মুগ্ধ নয়ন বিহারী।

মম সঙ্গীত তব অঙ্গে অঙ্গে দিয়েছি জড়ায়ে জড়ায়ে
তুমি আমারি তুমি আমারি মম জীবন মরণ বিহারী।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29389879 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29389879 2011-06-01 23:18:58
মেঘ-বৃষ্টির আলাপন - ১৭ : হুম
: কাল কি বিশেষ কোন দিন ছিল?
: ছিল হয়তো ( হাসি )
: হয়তো কি! অবশ্যই ছিল। মাথার উপরে মেঘ-বৃষ্টি। আর মর্ত্যের বুকেও মেঘ-বৃষ্টি। পাশাপাশি।

একটা কথা বলা হয়নি তোমাকে কাল
: কি?
: তোমার হাত ছুঁতে ইচ্ছে করছিল খুব
: ( হাসি ) তো মানা করেছিল কে? <img src=" style="border:0;" />
: না কেও করেনি। কয়েকবার লক্ষ্য স্থির করেছিলাম ও। কিন্তু দেখি তুমি হাত বাইরে রাখার বদলে তোমার জ্যাকেটের ভেতর রাখতেই বেশী ব্যস্ত।
: <img src=" style="border:0;" />
: যদি বলতে বলা হয় কালকের দিনের বিশেষ বিশেষ মুহূর্তগুলো কি ছিল...কি মনে পড়বে তোমার?
: আগে তোমারটা শুনি। তোমার কি কি মনে পড়বে?
: প্রশ্নের উত্তর কখনো প্রশ্ন হয়না। <img src=" style="border:0;" /> আচ্ছা এবারের মত আমি আগে বলছি -

যদি কখনো দিনটার স্মৃতিচারণ করতে হয় তো এইভাবে মনে পড়বে, দিনটা মেঘলা ছিল, কখনো কখনো এক আধটা বৃষ্টির কণা ছুয়ে ছুয়ে যাচ্ছিল আমাকে। তোমাকেও হয়তো। আমি আসছিলাম কোন সূদুর থেকে। তুমি দাঁড়িয়ে কোন একটা পাহাড়ের চূড়ায়। চুলগুলো উড়ছিল তোমার বাতাসে। মেঘের রথে চড়ে এসে নামলাম আমি সেই পাহাড়ে, তুমি তাকিয়ে রয়েছিলে অন্যদিকে, কোন্‌ এক অনাগত ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে। আমি কাছে গিয়ে মৃদু স্বরে ডাকলাম, বৃষ্টি!

যেই তুমি ঘুরে তাকালে অমনি শোঁ শোঁ করে উঠলো যেন আশপাশের সব। হয়তো প্রকৃতি তার নিজের ভাষাতেই বলছিল, অবশেষে! অবশেষে মর্ত্যলোকের মেঘ-বৃষ্টি একজন আরেকজনের মুখোমুখি! মেঘ দাঁড়িয়ে বৃষ্টির সামনে! সেই মুহূর্তটি বৃষ্টি, সেই একটি মাত্র মুহূর্তে মনে হচ্ছিল আমাদের চারপাশে মহাকাল তার নিজের গতিতে বয়ে যাচ্ছে আর আমরা শুধু তাকিয়ে রয়েছি একজন আরেকজনের দিকে, নির্নিমেষ অপলক চাহনি। শব্দের ফ্রেমে বন্দী করতে বললে আমি প্রথমেই বন্দী করবো এই তোমাকে প্রথম দেখার মুহূর্তটি।

তারপর...হুম তারপর তো পাশাপাশি হেটে চলা, আর কত কত কথা, পাহাড় থেকে নামা হল, হাঁটা হল এক বিজন পথের পাশ দিয়ে, কত কত হেটেছো তুমি এই পথ দিয়ে। আমিও হেটেছিলাম এক কালে। সেই চিরচেনা পথের উপর দিয়ে আজ দুজনে পাশাপাশি। তুমি তোমার হাতে ধরা ছাতাটা নাচিয়ে নাচিয়ে হাঁটছিলে :-)। বৃষ্টি, মনে আছে কি তোমার সেই সময়ে বলা কথাগুলো?

তারপর তো একটা জায়গায় গিয়ে কিছু খাওয়া হল, তারপর আবার পাশাপাশি হেটে চলা। পথের ধারে একটা পার্কের বেঞ্চিতে গিয়ে বসলাম এক সময় দুজনে। তোমাকে এই এতক্ষণে ভালো করে দেখবার অবকাশ পেলাম যেন। দেখলাম চোখে কাজল দিয়েছো। কানে দুল। চুলে একটা হেয়ার ব্যান্ড। প্রজাপতি বসে আছে দেখলাম ওটার উপর। সুন্দর দেখাচ্ছিল তোমাকে। পরে বলেছিলাম তোমাকে হাসলে দারুণ দেখায়। আর যখন লাজে মুখ লুকোচ্ছিলে তখন তো আরো বেশী :-)

: মোটেও আমি মুখ লুকোয় নি!
: অবশ্যই লুকিয়েছো!
: কক্ষনো না!
: জ্বী হ্যাঁ <img src=" style="border:0;" />
: বলেছে!
: এই যে বললাম!

এরপর তো সময় হল ফিরে যাওয়ার। মেঘের রথে করে ফিরছিলাম যখন তখন বললাম, চলো রথে করে একসাথে ফেরা যাক। তুমি গাইগুই করে রাজী হলে শেষমেষ :-)। অবশ্য তুমিও যে মনে মনে এই চাইছিলে না সে কেমন করে বলি :-)

রথের উপর পরে হল অন্যরকম সব আলাপন :-) সব দ্বিধা জড়তা তখন বোধহয় একটু একটু করে কেটে যেতে শুরু করেছিল। মেলছিলাম একটু একটু করে দুজনে। শব্দের ফ্রেমে আরেকটি মুহূর্তকে বন্দী করে রাখতে চাই। সেই সেই মুহূর্তটি যখন আমি কি একটা বলাতে তুমি হঠাৎ করে হেসে দূরে সরে গেলে। তখন একটু বিব্রত হলেও পরে দৃশ্যটা কল্পনা করে মজা পাচ্ছিলাম :-)। বাকিটা পথ এরপর নানা কথায় কেটে গেল।

গন্তব্যে পৌঁছানোর পর একটা কিছু দিতে ইচ্ছে করছিল তোমাকে। এই দিনটাকে স্মরণীয় করে রাখবার জন্য। জানতে চাইলাম একটা ফুল দিলে নিবে কিনা। তুমি সম্মতিসূচক সাড়া দেওয়ার পর তুলে নিলাম একটা ফুল আর তোমার তরে নিবেদন করতেই তুমি হেসে গ্রহণ করে নিলে সেইটি।

: হুম, পছন্দ হয়েছে ফুলটা :-)
: বেশ বেশ :-)
: বৃষ্টি
: হুম
: এই আলাপনের নাম্বারটা খেয়াল করেছো?
: কেন?
: দেখোই না
: ওহ হ্যাঁ, তাইতো!
: জ্বী হ্যাঁ ( হাসি )

এইবার তোমার বিশেষ বিশেষ মুহূর্তগুলো শোনা যাক। আর কেও শুনবে না। শুধু আমি আর তুমি, একাকী, নিভৃতে...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29383460 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29383460 2011-05-19 06:19:48
মেঘবালিকা খেলতে যেতেম মেঘের দলে,
একদিন এক মেঘবালিকা, প্রশ্ন করলো কৌতুহলে-
"এই ছেলেটা নাম কি রে তোর??"
আমি বললেম, "ফুসমন্তর"
মেঘবালিকা রেগেই আগুন-
"মিথ্যে কথা, নাম কি ওমন হয় কখনো??"
আমি বললেম, "নিশ্চই হয়, আগে আমার গল্প শোন!!"
সে বললো, "শুনব না যা-"
"সেই তো রাণী, সেই তো রাজা-"
"সেই তো একি ডাল-তলোয়ার"
"সেই তো একি রাজার কুমার পক্ষীরাজে"
"শুনব না যা ওসব বাজে"
আমি বললেম, "উম্‌ তোমার জন্যে নতুন করে লিখব তবে!"
সে বললো, "সত্যি লিখবি??"
"বেশ! তাহলে মস্ত করে লিখতে হবে!"
"মনে থাকবে? লিখে কিন্তু আমায় দিবি"
আমি বললেম, "তোমার জন্য লিখতে পারি এক পৃথিবী"।

লিখতে লিখতে লেখা যখন সবে মাত্র দুচার পাতা
হঠাৎ তখন ভূত চাপলো আমার মাথায়
খুজতে খুজতে চলে গেলাম ছোটবেলার মেঘের মাঠে
গিয়ে দেখি চেনা মুখ তো একটিও নেই এই তল্লাটে।
একজনকে মনে হল ওরি মধ্যে অন্যরকম
এগিয়ে গিয়ে বললেম তাকে, "তুমি কি সেই??মেঘবালিকা তুমি কি সেই??"
সে বললো, "মনে তো নেই আমার ওসব মনে তো নেই"
আমি বললেম, "তুমি আমায় লেখার কথা বলেছিলে"
সে বললো, "সঙ্গে আছে? ভাসিয়ে দাও গাঙের ঝিলে-"
"আর হ্যাঁ শোন..এখন আমি মেঘ নই আর.."
"সবাই এখন বৃষ্টি বলে ডাকে আমায়.."।
বলেই হঠাৎ, এক পশলায়
চুল থেকে নখ আমায় পুরো ভিজিয়ে দিয়ে
অন্য অন্য বৃষ্টি বাদল সঙ্গে নিয়ে
মিলিয়ে গেলো খরস্রোতায়, মিলিয়ে গেল
দূরে কোথায়, দূরে, দূরে..
"বৃষ্টি বলে ডাকে আমায়..বৃষ্টি বলে ডাকে আমায়"
আপন মনে বলতে বলতে আমি কেবল বসেই রইলাম
ভিজে একশা কাপড় জামায়
গাছের তলায় বসেই রইলাম,
বৃষ্টি নাকি মেঘের জন্য??
এমন সময় অন্য একটি বৃষ্টি আমায় চিনতে পেরে বললো,
"তাতে মন খারাপের কি হয়েছে??"
"যাও ফিরে যাও, লেখো আবার"
"এখন পুরো বর্ষা চলছে"
"তাই আমরা সবাই এখন নানান দেশে ভীষণ ব্যস্ত"
"তুমি-ও যাও মন দাও গে তোমার কাজে"
"বর্ষা থেকে ফিরে আমরা নিজেই যাবো তোমার কাছে"।

এক পৃথিবী লিখবো আমি
এক পৃথিবী লিখবো বলে ঘর ছেড়ে সেই বেড়িয়ে গেলাম।
ঘর ছেড়ে সেই ঘর বাধলাম গহন বনে
সঙ্গী শুধু কাগজ কলম
একাই থাকবো, একাই দুটো ফুটিয়ে খাবো
দু এক মুঠো ধুলোবালি
যখন যারা আসবে মনে তাদের লিখবো, লিখেই যাবো
এক পৃথিবীর একশো রকম স্বপ্ন দেখার
সাধ্য থাকবে যেই রূপকথার
সেই রূপকথা
আমার একার।

ঘাড় গুঁজে দিন লিখতে লিখতে
ঘাড় গুঁজে রাত লিখতে লিখতে
মুছেছে দিন
মুছেছে রাত
যখন আমার লেখবার হাত অসাড় হলো
মনে পরলো সাল কি তারিখ
বছর কি মাস সেসব হিসেব আর ধরিনি।
লেখার দিকে তাকিয়ে দেখি
এক পৃথিবী লিখবো বলে একটা খাতাও শেষ করিনি।
সঙ্গে সঙ্গে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি এল, খাতার উপর
আজীবনের লেখার উপর
বৃষ্টি এল এই অরণ্যে।

বাইরে তখন গাছের নীচে নাচছে ময়ূর আনন্দিত
এ-গাছ ও-গাছ উড়ছে পাখি
বলছে পাখি, "এই অরণ্যে কবির জন্য আমরা থাকি"
বলছে ওরা, "কবির জন্য, আমরা কোথাও, আমরা কোথাও, আমরা কোথাও হার মানিনি"
কবি তখন কুটির থেকে
থাকিয়ে আছে অনেক দূরে
বনের 'পরে, মাঠের 'পরে, নদীর 'পরে
সেই যেখানে সারাজীবন বৃষ্টি পরে, বৃষ্টি পরে
সেই যেখানে কেও যায়নি
কেও যায়না কোনদিনি
আজ সে কবি দেখতে পাচ্ছে
সেই দেশে সেই ঝর্ণাতলায়
এদিক ওদিক ছুটে বেড়ায়
সোনায় মোড়া মেঘ হরিণী
কিশোর বেলার সেই হরিণী।

- "মেঘবালিকার জন্য রূপকথা" - জয় গোস্বামী

...

আবৃত্তি -



...

কি সুন্দর কবিতাটা! প্রথম যখন কয়েক লাইন পড়বার সুযোগ পেলাম এমন ভালো লেগেছিল। নেটে ঘেটে একটা আবৃত্তি খুঁজে পেলাম, উপরে যেটি দিলাম। সেখান থেকে শুনে শুনে টাইপ করেছি। হয়তো ভুলভাল হয়েছে অনেক।

মাহমুদুজ্জামান বাবুর 'মেঘবালিকা' গানটা শুনছিলাম এতক্ষণ। এখন শুনছি বাপ্পার "মেঘবালিকা এসো"। শুনতে শুনতে মেঘবালিকা চলে এলো :-)। সাথে নিয়ে নীলমেঘ -

নীলমেঘ, ও নীলমেঘ
কখন থেকে খুজছি তোমায়
বলো না তুমি কোথায় থাকো?
কোন আকাশে স্বপ্ন আকোঁ?
কোন আকাশটা রাঙ্গিয়ে এলে এই একটু আগে?

নীলমেঘ, ও নীলমেঘ
তুমি নাকি নীল আকাশে বৃষ্টি নামাও?
এ তল্লাটে এসো তো একটু হলে সময়!
কখন থেকে খুঁজছি তোমায়!
এই খুজে পাইতো এই হারায়!
একে শুধোয় তাকে শুধোয়
সবাই বলে, "এই একটু আগে ছিলো সেথায়!"
তুমি নাকি এসেছিলে বৃষ্টি সাথে নিয়ে!
চিহ্ন রেখে চলে গেছো সব ভিজিয়ে দিয়ে
আবার তোমার চিহ্ন ধরে খুঁজতে বেড়োই
মাঠে ঘাটে পথে পথে ঐ আকাশ পানে ছেয়ে
খুজতে খুজতে হারিয়ে ফেলি।
তুমি এখন কোন আকাশে?

নীলমেঘ, ও নীলমেঘ
সময় করে এসো আমার ঘরে
তোমায় আমি গল্প বলবো-রাজ্যের সব গল্প জমে আছে!
আমার চোখে যে বৃষ্টি বুনেছিলেম-সে গল্প বলবো তোমায়!
তার আকাশে যে স্বপ্ন একেঁছি সে গল্প বলবো তোমায়!
আর শুনবো তুমি কেমন করে ভিজিয়ে এলে ঐ পথ-ঘাট!
কেমন করে ডুবিয়ে এলে এক চিলতে ভালোবাসা!
শুনবো তুমি কেমন করে বৃষ্টি বানাও!
বলবে আমায় তোমার ঐ আকাশের গল্প?

আচ্ছা নীলমেঘ, ও নীলমেঘ
ঐ যে সবুজ পাহাড় যার বুকে আজো কলকল করছে ঝর্ণা জল
তার যে মেঘ ছিল-সেই রংধনু মেঘটা-সে এখন কেমন আছে বিজলীপ্রিয়ার সাথে?
আর ঐ কালো মেঘটা আমায় সেদিন যে চোখ রাঙ্গিয়ে চলে গেল
তার কি এখন রাগ পড়েছে?
আর ঐ বেগুনী মেঘটা, হলুদ মেঘ, আর ঐ সবুজ মেঘ

নীলমেঘ, ও নীলমেঘ
আমায় তুমি নিয়ে যাবে মেঘের রাজ্যে?
আমিও না হয় তোমায় নিজের হাতে মেঘ বুনে দেবো!
আর তুমি মনের সুখে বৃষ্টি নামাবে

নীলমেঘ, আমায় তুমি বৃষ্টি দিবে??

- মেঘবালিকা

...

এমন করে চাইবে যদি
সাধ্য কি আমার না বলি
এই যে দেখো নিয়ে এলাম
একখন্ড; বৃষ্টি মেঘ
শুধু তোমার জন্য।
মেঘের রাজ্যের দুয়ার অবারিত
নীলমেঘ সেখানে থাকুক না থাকুক
মেঘবালিকা, তুমি চলে এসো
ইচ্ছে তোমার হয় যখন তখন।
দোলনাটায় চড়লে হয়তো,
না হয় হেঁটে বেড়ালে মেঘের রাজ্যে
অন্য মেঘদের সাথে কথা বললে,
নীলমেঘ আসবে আবার যখন
মিলবে তার অবসর
ঝড়িয়ে বৃষ্টি দেশ হতে দেশান্তর।

- নীলমেঘ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29381140 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghdhut/29381140 2011-05-14 21:28:00