আমার প্রিয় পোস্ট

"বাঙ্গালী জাতির গৌরবময় ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় সংস্কৃতির জন্য অপমানজনক কোনকিছু এই ব্লগে লেখা যাবে না। "শিহরণে সত্তায় তুমি, হে আমার জন্মভূমি"

সিয়েরালিওনের বিশেষ আদালত- রাজাকারদের বিচারেরর দিক নির্দেশনা

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:২৪

শেয়ারঃ
0 1 0

সিয়েরালিওনের বিশেষ আদালত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আলী হাসান, পিএসসি (ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং ওয়েবসাইট থেকে সঙ্কলিত)

২০০৮ সনের মার্চ মাসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত সিয়েরালিওনের বিশেষ আদালতে সাক্ষ্য দেবার এক বিরল অভিজ্ঞতা আমার হয়েছিল । আমরা ২০০০-২০০১ সনে যখন সিয়েরালিওনের শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত তখনই শুনতে পেতাম, ট্রুথ এ্যান্ড রিকনসিলেশন কমিশনের কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক ক্রিমিন্যাল কোর্টে এই দেশের নির্মম এবং রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে মদত দাতা ও প্রত্যক্ষভাবে জড়িতদের বিচারের বিষয়টি সম্পর্কে। কেন আমাকে ডাকা হলো এবং সেই বিচারিক কার্যক্রমে আমার অভিজ্ঞতার কথা লিখার আগে এই বিশেষ আদালত সম্বন্ধে জেনে নেয়া যাক।

সিয়েরালিওনের একযুগের অধীককাল স্থায়ী গৃহযুদ্ধ এই দেশের একটা নির্মমতম ইতিহাস। ১৯৬১ সনে দেশটি স্বাধীন হবার পর থেকেই মুল্যবান হীরার খনিই নিরীহ দেশবাসীর জন্য অভিশাপ হয়ে প্রকাশ পায়।

মুল্যবান খনিজ সম্পদ আহরনের লক্ষ্যে ঔপনিবেশিক প্রভুরা স্বাধীনতা দেবার পর থেকেই দেশটিতে দুর্বল শাসন ব্যবস্থা চালু রাখায় সচেষ্ট হবার কারনেই মুলত: জন্ম নেয় কুশাসন, হতে থাকে আর্থ-সামাজিক অবনতি। অর্থনৈতিক দৈন্যতা সেনাবাহিনীকে করে তোলে বিশৃংখল। এই সুযোগে সেনাবাহিনী থেকে বহিস্কৃত কর্পোরাল ফুদে শাংক দেশের বেকার যুবকদের নিয়ে গড়ে তুলে বিপ্লবী বাহিনী, রেভুলেশনারী ইউনাইটেড ফ্রন্ট সংক্ষেপে আরইউএফ।

কোমলপ্রাণ শিশুদের জোরপুর্বক ধরে নিয়ে তার বাহিনীতে শামিল করে। নেশায় আসক্ত অবস্থায় অবুঝ শিশুদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে তাদের দিয়ে চালায় হত্যাযজ্ঞ।

আর মেয়েদেরকে ব্যবহার করে অসামাজিক অপকর্মে এক কথায় যাকে বলা যায় চরম পর্যায়ের মানবাধিকার লংঘন। শুধু তাই নয়, তাদের বিকলাঙ্গ করতেও দ্বিধা করেনা।

ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়, কোন বিপ্লবীবাহিনী দেশের অভ্যন্তরে এককভাবে গড়ে উঠতে পারেনা কারণ তাদের প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, অস্ত্র এবং অন্যান্য সহায়তা।। সিয়েরালিওনের হীরক সম্পদে আকৃষ্ট হয়ে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হবার জন্য প্রতিবেশী দেশ লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট চার্লস টেইলর আরইউএফকে সবধরনের সহায়তা দিতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েন এবং তাঁরই মদতে ১৯৯১ সনে আর-ইউ-এফ আক্রমন করে বসে সীমান্তবর্তি অঞ্চলে, উদ্দেশ্য হীরক খনি দখলসহ সরকার উৎখাত। বিপ্লবীদেরকে বিশৃংখল সেনাবাহিনী দিয়ে দমন করা সম্ভব নয় বিবেচনায় সরকার গড়ে তোলে মিলিশিয়া বাহিনী, সিভিল ডিফেন্স ফোর্স সংক্ষেপে সিডিএফ। উদ্ভুত পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে সমাধা না করে সিয়েরালিওনের প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী হিংগা নরমান, সেনাবাহিনী এবং সিডিএফ দিয়ে আরইউএফকে প্রতিহত করার কৌশল বেছে নেন ফলে শুরু হয়ে যায় নির্মম এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ। এই ছোট্ট একটি দেশে ১০০,০০০ এর অধিক নিরীহ জনগণ নিহত হয়, বিপুল সংখ্যক বরণ করে পঙ্গুত্ব এবং ২০ লক্ষাধিক মানুষ দেশ ছেড়ে পার্শ্ববর্তী দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। তাই সিয়েরালিওনের জনগণই এই গৃহযুদ্ধে জড়িতদের বিচারের দাবি উত্থাপন করে যাতে ভবিষ্যতে দেশের শান্তি বিনষ্ট করার প্রয়াশ কেউ না পায়। যেহেতু চার্লস টেইলর আরইউএফ কে প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র সরবরাহে প্রত্যক্ষ্যভাবে জড়িত, সংগত কারণেই বিচারের বেলায় তাঁর নাম এসে যাওয়াটা স্বাভাবিক।

এই লক্ষ্যে সরকার ২০০০ সনের জুন মাসে আন্তর্জাতিক ক্রিমিন্যাল কোর্টে দেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সহায়তা চেয়ে জাতিসংঘে আবেদন করলে নিরাপত্তা পরিষদ নীতিগতভাবে সম্মত হয়ে ২০০০ সনের আগষ্ট মাসে রেজুলেশন ১৩১৫ জারি করে। এই রেজুলেশনের আওতায় সিয়েরালিওনে বিশেষ আদালত (Special Court of Sierra Leone) প্রতিষ্ঠিত করার বিষয়ে উক্ত দেশের সাথে সমঝোতার করার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে অনুরোধ করা হয়। যুদ্ধাপরাধীদের চিহ্নিতকরন, বিশেষ কারাগারসহ আদালতের অবকাঠামো নির্মানের দায়দায়িত্ব এবং এই লক্ষ্যে অর্থের যোগান, বিচারক, প্রসিকিউটর ও ডিফেন্স লিড কাউন্সিল নিয়োগ, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়ে সিয়েরালিওনের এ্যাটর্নি জেনারেল এবং জাতিসংঘের আইন বিভাগের মাঝে দীর্ঘ চার মাস অদ্ দেন দরবার চলে। ১৬ জানুয়ারী ২০০২ তারিখে এই আদালত প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সিয়েরালিওন সরকার ও জাতিসংঘের মাঝে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সময় বিবেচনায় আবেদনের পর হতে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর পর্যন্ত মোট ২ বছর ৬ মাস ব্যয় হয়। আদালতের অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব সিয়েরালিওনের উপর বর্তায় তবে জাতিসংঘের অনুরোধে আন্তর্জাতিক কমিউনিটি অবকাঠামো নির্মানের আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে আসে এবং বিচারিক কার্যক্রমের ব্যয়ভার জাতিসংঘ বহন করতে সম্মত হয়। সমস্ত প্রস্তুতি শেষ করে বিচারিক কার্যক্রম আরম্ভ হয় ২০০২ সনের জুলাই মাসে।

পাঠকের মনে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক কেন এই বিচার আন্তর্জাতিক ক্রিমিন্যাল কোর্ট হেইগ এ না হয়ে সিয়েরালিওনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে? স্বাক্ষ্য দানকারীর সংখ্যা বেশি হবার কারনেই মুলত সিয়েরালিওনের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সেই দেশেই আয়োজন করার স্দ্ধিান্ত নেয়া হয়। তবে যেহেতু চার্লস টেইলর পার্শ্ববর্তী দেশ লাইবেরিয়ার এবং সে দেশের প্রেসিডেন্ট, সংগত কারনে তাঁর বিচার হেইগে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এখন এই বিশেষ আদালতের সংগঠনের উপর আলোকপাত করা যাক। মোট ৩টি বিভাগ যেমন, রেজিস্ট্রি (কোর্ট ম্যানেজমেন্ট এবং ডিফেন্স), প্রসিকিউটর, চেম্বার (ট্রায়াল চেম্বার-১, ট্রায়াল চেম্বার-২ এবং আফিল চেম্বার) নিয়ে গঠিত সিয়েরালিওন বিশেষ আদালত। ডেপুটি রেজিট্ট্রার ব্যতিত সকলেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনের তবে প্রশাসনিক কাজের জন্য নিচু স্তরের কিছু কর্মকর্তা সিয়েরালিওন হতেই নিয়োগ দেয়া হয়।

সংঘটিত জঘন্যতম মানবতা বিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ, অন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লংঘন এবং সিয়েরালিওনের প্রচলিত আইন লংঘন এ জড়িতদের দায়দায়িত্ব পর্যালোচনা করে প্রসিকিউটর ২০০৩ সনে সর্বমোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ চিহ্নিত করে বিশেষ আদালতে অভিযোগ পেশ করেন। অভিযুক্তরা হোলেন লাইবেরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট চার্লস টেইলর, আরইউএফ চেয়ারম্যান ফুদে শাংক, সিডিএফ এর প্রধান প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী হিংগা নরমান এবং আরইউএফ ও সিডিএফ এর প্রথম স্তরের কর্মকর্তা। বিচার শুরুর বছরেই ফুদে শাংক, হিংগা নরমান শারীরিক অসুস্থতার কারনে মারা গেলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এবং ফুদে শাংক’র অন্যতম সহযোগী স্যাম বোকারিও ২০০৩ সনে লাইবেরিয়াতে মারা যায় ফলে এই অভিযোগও প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

২০০৮ সনের মাঝামাঝি সিয়েরালিওন বিশেষ আদালতের বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এরই মাঝে কিছু দোষীদের দন্ডাদেশ কার্যকর করা হয়েছে এবং অবশিষ্টদের ফলাফল ফেব্র“য়ারী ২০০৯ সনে দেয়া হবে। তবে চার্লস টেইলরের বিচার এখনও চলমান। প্রমাণিত যুদ্ধাপরাধীদের অপরাদের গুরুত্ব অনুযায়ী ৩ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত সাজার বিধান রাখা হয়েছে এবং কার্যকর করা হয়েছে। এখানে একটা বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, জাতিসংঘের সনদে মৃত্যুদন্ডের কোন বিধান নেই। গুরুতর অপরাধে যারা প্রমাণিত অপরাধী এবং বড় ধরনের সাজা প্রাপ্ত, আভ্যন্তরিন শান্তি শৃংখলার বিষয়টি বিবেচনায় এনে তাদের সাজার মেয়াদ ইউরোপিয় কোন তৃতীয় দেশে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সিয়েরালিওনের গৃহযুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ১৯৯৯ সনের জুলাই মাসে টোগো’র রাজধানি লোমে’ আরইউএফ এবং সরকারের মাঝে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং চুক্তির সনদ অনুযায়ী আরইউএফ এর সদস্যদের প্রতি অনুকম্পা প্রদর্শন এবং তাদের উপরের স্তরের সদস্যদের যোগ্যতার ভিত্তিতে মন্ত্রীত্বসহ জাতীয় গুরুত্বপুর্ন দায়িত্বে নিয়োগের বিধান রাখা হয়। কিন্তু চুক্তি বাস্তবায়নে সরকার পক্ষের গাফিলতি আর শান্তিরক্ষী বাহিনীর অপরিপক্ক আচরনের জন্য উভয় পক্ষের মাঝে দেখা দেয় অবিশ্বাস। ফুদে শাংক সরকারের বিরুদ্ধে এই ব্যাপারে অভিযোগ আনা মাত্র তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। একই সংগে শান্তিরক্ষী বাহিনী লোমে’ শান্তি চুক্তির প্রতি ভ্র“ক্ষেপ না করে আরইউএফ কে নিরস্ত্র করার চেষ্ঠা চালায় যা বুমেরাং হয়ে দাড়ায় এবং এক পর্যায়ে ২০০০ সনের মে মাসে তারা শান্তিরক্ষী বাহিনীর উপর আক্রমন করে বসে। পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি ঘটলে সিয়েরালিওনের জাতিসংঘ মিশনে পরিবর্তন এবং পরিবর্ধনের প্রয়োজন দেখা দেয়, ডাক পড়ে বাংলাদেশের। ২০০০ সনের ডিসেম্বর মাসে আমি এক ব্রিগেড সমান সংখ্যক সেনাদল নিয়ে হাজির হই সিয়েরালিওনে।। বাঙ্গালী শান্তিরক্ষীদের অভিজ্ঞতা, নিষ্ঠা ও কর্মতৎপরতার কারনে অতি অল্প সময়েই পরিস্থিতি আমাদের পরিপুর্ন নিয়ন্ত্রনে এসে যায় এবং আরইউএফ এর প্রথম শ্রেনীর অধিনায়করা লোমে’ শান্তি চুক্তির আলোকেই অস্ত্র সংবরণ করতে সম্মত হয়। আরইউএফ এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঈসা সেসে এবং তার সহযোগী মরিস কালন এর সার্বিক সহযোগীতায় বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে মাত্র চার মাসের ব্যবধানে আমরা তাদের অস্ত্র সংবরণ করাতে সক্ষম হই, সিয়েরালিওন ফিরে পায় তার কাক্সিক্ষত স্থায়ী শান্তি।

২০০০ সনের মে মাসের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঈসা সেসে এবং তার সহযোগী মরিস কালনকে গ্রেফতার পুর্বক বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করানো হলে উভয়েই আমাকে তাদের ডিফেন্স উইটনেস হিসেবে পেতে আবেদন করে। তাদের আর্জি গ্রহন করে বিজ্ঞ আদালত ২০০৪ সনে বিশেষ দূত প্রেরন করে আমার সম্মতি গ্রহন করেন। এর পর শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পবের্র মাধ্যমে আমার স্বাক্ষ্য গ্রহনের পালা। ২০০৭ সনে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা সশরীরে ঢাকায় হাজির হয়ে বিচারিক খুটিনাটি বিষয় নিয়ে আমার সাথে আলাপ করে যান এবং ২০০৮ সন মার্চ মাসে আমি হাজির হই সিয়েরালিওনের বিশেষ আদালতে আমার ডিফেন্স টেস্টিমনি দেবার জন্য।

২.৮ মিলিয়ন আমেরিকান ডলার ব্যয় করে আধুনিক ডিটেনশন সেলসহ সম্পুর্ন আলাদা বিশেষ আদালত প্রস্তুত করা হয় যার চারিদিকে রয়েছে নিশ্চিদ্র ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা বলয়। আদালতে মোট দুটি বিচার কক্ষ রয়েছে যার সাজসজ্জা হেইগ এর আন্তর্জাতিক ক্রিমিন্যাল কোর্টের অনুরুপ। আদালতের কার্যক্রম (progress) সাংবাদিক ব্যতীত কাউকে দেখতে দেয়া হয়না তাও আবার বুলেট প্র“ফ স্ক্রিনের অপর পাশ থেকে। কার্যক্রম আমাদের আদালতের মতই তবে অত্যন্ত সুশৃংখল। স্বাক্ষী তাঁর বক্তব্য ধীর গতিতে উপস্থাপন করেন কারন এই বক্তব্য তাৎক্ষনিকভাবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ভাষায় অনুবাদিত হয়ে অন লাইন প্রচারিত যা অন্যান্য অনুরুপ ক্রিমিন্যাল কোর্ট থেকে একই সময়ে দেখা যায়।

২০০২ সন হতে ২০০৮ সন পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলেছে। এর মাঝে দ্বিতীয় নির্বাচিত সরকার আসলেও কোন প্রকার রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই বিচার তার নিজ গতিতে এগিয়ে চলেছে। অবসর সময়ে সিয়েরালিওনের সাধারন জনগনের সাথে আলাপচারিতার মাধ্যমে এই বিচার সম্পর্কে তাদের মতামত নেবার চেষ্ঠা করি। তাদের মতামত একটাই তাহলো, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ছিল দেশের স্থায়ী শান্তির পুর্বশর্ত। তাদের মতামতই সত্য কারন আমার দেখামতে সত্যিকারের শান্তি বিরাজ করছে এবং আভ্যন্তরিন শান্তি-শৃংখলা পরিস্থিতি ২০০০ সন অপেক্ষা অনেক ভালো। সার্বিক পর্যালোচনায় একটা বিষয় পরিস্কারভাবে ফুটে উঠে আর তা হলো, ট্রুথ এ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশনের যথাযথ কার্যক্রম এবং বিশেষ আদালতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দেশটিকে স্থায়ী শান্তির পথে পুন:স্থাপন করে গনতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সহায়ক ভুমিকা পালন করেছে।




*** লিখাটি এখনো কোথাও প্রকাশিত হয়নি। বয়োঃজ্যেষ্ঠ হাসান সাহেবের লিখাটি আমাদের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সহায়ক দিক নির্দেশনা হতে পারে ভেবে তাঁর কাছ থেকে অনুরোধ করে আমি লিখাটি আনি। তাঁর এই অভিজ্ঞতা বিনিময় আমাদেরকে আশাবাদী করে তুলবে












 

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:২৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৩২
মেঘ বলেছেন: এটি একটি দীর্ঘ লিখা। আমার নেটের লাইনের স্পীডের কারণে হাসান সাহেবের যোগকৃত ছবিগুলো এ মুহূর্তে আপলোড করতে পারলাম না বলে আমি দুঃখিত।
২. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৩৯
এস্কিমো বলেছেন: মুল্যবান লেখা। শেয়ার করার জন্যে ধন্যবাদ।
৩. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৪৩
মেঘ বলেছেন: পড়বেন এই আশায় আগাম ধন্যবাদ:)
৪. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৫২
একরামুল হক শামীম বলেছেন: এই লেখাটি থেকে অনেক কিছু জানতে পারলাম।

ধন্যবাদ আপনাকে এবং হাসান সাহেবকে ।
৫. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৫৩
নাজনীন খলিল বলেছেন:
এখানে এই লেখাটি শেয়ার করায় তোমাকে অনেক ধন্যবাদ।

শুভকামনা রইল।
৬. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৫৫
একরামুল হক শামীম বলেছেন: পোস্টটা প্রিয়তে রাখলাম।
পরবর্তীতে কাজে লাগবে।
৭. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৫৬
মেঘ বলেছেন: হাসান স্যারকে ধন্যবাদ পৌঁছে দেব সবার পক্ষ থেকে।
৮. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৫৮
তামিম ইরফান বলেছেন: পড়ে যেটা বুঝলাম.......রাজাকারদের বিচারের জন্য বিশেষ আদালত আমাদের দেশেই বসানো যায়,আর রাজনৈতিক প্রভাব না খাটালে বিচার কাজ সুষ্ঠভাবে চলবে আশা করা যায়।শুধু দরকার সরকারের সদিচ্ছা।


আর একটা ব্যাপার বেশিরভাগ সময়ই দেখি এ সমস্ত ব্যাপারে শুনানির সময়( বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা) বিচারপতিদের বিব্রতবোধ করতে দেখা যায়।এইবার এরকমটা না হলেই হয়।


পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ আপু।
৯. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:০০
রূপকথার বিস্মৃত দানব বলেছেন: একটা জিনিস বুঝিনা, ওরা কি আদৌ বিচার পাবার অধিকার রাখে? আমি মনেকরি না।
১০. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:০৩
অমাবশ্যার চামচিকা বলেছেন: তাহলে কি শেষ পর্যন্ত সেইফ খেতাব ফিরে পেলেন!
আমি কয়েকদিন নেট এ ছিলাম না।
১১. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:১৩
মেঘ বলেছেন: না সে'ফ হই নাই, মঈন উ হইছি। বিচারের দরকার আমিও মনে করি না। স্রেফ টুকরা টুকরা করে কুত্তারে দিয়ে খাওয়ালেই হয়। কিন্তু বিচার বিচার খেলা একটু খেলতেই হবে। আমরা "সভ্য" না!!
১২. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:১৬
রূপকথার বিস্মৃত দানব বলেছেন: এমন সভ্যতার দরকার নেই আমার, নিজের একটা ছোট্ট দুনিয়া আছে, হেরে যাওয়া মানুষের কল্পদুনিয়া, সেটাতেই ভালো থাকি, সভ্যজগতে আসিনা তাই।
১৩. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২৩
মনজুরুল হক বলেছেন:

মেঘ। অফ টপিক এ একটা জিজ্ঞাসাঃ......................

অন লাইন ব্যাংকিং সুবিধা আছে এমন ব্যাংকে (যেমন ডাচ-বাংলা) ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কি ডেবিট করা যায়? অর্থাৎ একজন তার ক্রেডিট কার্ডথেকে টাকা দিতে চান (দেশের বাইরে থেকে)

পোস্টের জন্য আলাদা আর কি বলব? অসাধারণ।
১৫. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৫৪
জলপরী বলেছেন: এত্তবড় লিখা!! ছোট করতে পারিস নাই??

মনজুর ভাই : আমিও একটা ব্যাংকে আছি। এধরনের সুবিধা কোন ব্যাংক মনে হয় না দিতে পারবে। সেই ভদ্রলোককে আপনার ব্যাংকের একাউন্ট নাম্বার দিয়ে, আপনার নাম লিখে "SWIFT" কোডটি আপনি যেখানে ব্যাংকিং করছেন সেটা দিয়ে দিন। ২দিনের মধ্যে টাকা চলে আসবে। এটা সবচাইতে কার্যকরী ও দ্রুত পদ্ধতি।
১৬. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:১৭
টি_মৃদুল বলেছেন: ভালো লিখা দোস্ত। হাসান সাহেবরে কই পাইলি??
১৭. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৫০
রাফা বলেছেন: ভালো লেখা , সময় নিয়ে পড়তে হবে।প্রিয়তে রাখলাম ,ধন্যবাদ।
১৮. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৫৬
মনজুরুল হক বলেছেন:

ধন্যবাদ জলপরী। আপনার পরামর্শ অনেক কাজে আসবে।
১৯. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:০৩
রাহা বলেছেন: ভালো লেখা, কাজে লাগবে...
২০. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:০৫
বিষাক্ত আলো বলেছেন: আপু আপনি বই লেখেন কী নামে?
২১. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:১৫
মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন রেজা নাদিম বলেছেন: নতুন একটি পোষ্ট দিলাম। একটু ঘুরে আসবেন নাকি?
২২. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:২২
নাজিম উদদীন বলেছেন: আফ্রিকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপদ্ধতি আমাদের দেশে কার্যকর করা যেতে পারে। গুড পোস্ট।

২৩. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:৩৯
মেঘ বলেছেন: বি. আ - আমার নাম আফসানা কিশোয়ার, আকিকা দেয়া নাম:) ডাক নাম লোচন। :)

নাজিম আমাদের আশা সফল হোক
২৪. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:০৫
ক-খ-গ বলেছেন:
অসাধারণ!
২৫. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৬
মেঘ বলেছেন: হাসান সাহবকে জানিয়ে দেব।
২৬. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৪
আইরিন সুলতানা বলেছেন: এ ধরণের বাস্তব অভিজ্ঞতাগুলো অবশ্যই সরকারী পর্যায় থেকে নজরে আনতে হবে পদ্ধতিগতভাবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এবং সম্পৃক্ত করতে হবে সেই সব ব্যক্তিবর্গদের যারা বিভিন্নভাবে এমন বিষয়ভিত্তিক কাজে জড়িত ছিলেন...

আইনি বিষয়ক পদ্ধতিতে এধরণের অভিজ্ঞতা নি:সন্দেহে কাজে দেবে ।

ধন্যবাদ মেঘ ।
২৭. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:১৩
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: লেখাটার জন্য অনেক ধন্যবাদ
২৮. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:১৪
মজনু মিয়া বলেছেন: এমন একটা লেখার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
২৯. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৩৯
লুকার বলেছেন: ওয়াও! হোয়াট এ পোস্ট!
৩০. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৫৮
মেঘ বলেছেন: আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
৩১. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৫০
মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেছেন: দারুন । প্রিয়তে রাখলাম ।
৩৩. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:০৪
সৈয়দ নাসের বলেছেন: চমৎকার লেখাটি পড়ে খুব ভালো লাগলো । শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ । ভালো থাকুন - মাঝে মাঝে আমার ব্লগে আসার আমন্ত্রন ।
৩৫. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:০৮
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: খুব ভাল লেখা। প্রিয়তে রাখলাম।
৩৬. ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:০১
রেজওয়ান শুভ বলেছেন: অাপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।
৩৭. ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৩৮
মেঘ বলেছেন: আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
একটা কথা বলতে চাই - জামাতের মুজাহিদ বলছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হলে দেশের ১কোটি মানুষকে মেরে ফেলতে হবে। এখানে দেখবেন সিয়েরালিওনে মাত্র ১৩জনের বিচার করা হয়েছে। পালের গোদাদের নিশ্চিহ্ন করতে পারলে বাকীরা এম্নিতেই শেষ হয়ে যাবে। জামাতীদের বলতে চাই আমার হিসাবে ঠিক ৩০জনের সাজা হলেই জামাত নিধন করতে আমরাই যথেষ্ট হব।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০০৬৯ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ভালোবাসা এত সহজ নয়, তা যদি অদৃশ্য কারো সাথে হয়.......
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ