somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সিয়েরালিওনের বিশেষ আদালত- রাজাকারদের বিচারেরর দিক নির্দেশনা

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সিয়েরালিওনের বিশেষ আদালত
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আলী হাসান, পিএসসি
(ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং ওয়েবসাইট থেকে সঙ্কলিত)


২০০৮ সনের মার্চ মাসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত সিয়েরালিওনের বিশেষ আদালতে সাক্ষ্য দেবার এক বিরল অভিজ্ঞতা আমার হয়েছিল । আমরা ২০০০-২০০১ সনে যখন সিয়েরালিওনের শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত তখনই শুনতে পেতাম, ট্রুথ এ্যান্ড রিকনসিলেশন কমিশনের কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক ক্রিমিন্যাল কোর্টে এই দেশের নির্মম এবং রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে মদত দাতা ও প্রত্যক্ষভাবে জড়িতদের বিচারের বিষয়টি সম্পর্কে। কেন আমাকে ডাকা হলো এবং সেই বিচারিক কার্যক্রমে আমার অভিজ্ঞতার কথা লিখার আগে এই বিশেষ আদালত সম্বন্ধে জেনে নেয়া যাক।

সিয়েরালিওনের একযুগের অধীককাল স্থায়ী গৃহযুদ্ধ এই দেশের একটা নির্মমতম ইতিহাস। ১৯৬১ সনে দেশটি স্বাধীন হবার পর থেকেই মুল্যবান হীরার খনিই নিরীহ দেশবাসীর জন্য অভিশাপ হয়ে প্রকাশ পায়।

মুল্যবান খনিজ সম্পদ আহরনের লক্ষ্যে ঔপনিবেশিক প্রভুরা স্বাধীনতা দেবার পর থেকেই দেশটিতে দুর্বল শাসন ব্যবস্থা চালু রাখায় সচেষ্ট হবার কারনেই মুলত: জন্ম নেয় কুশাসন, হতে থাকে আর্থ-সামাজিক অবনতি। অর্থনৈতিক দৈন্যতা সেনাবাহিনীকে করে তোলে বিশৃংখল। এই সুযোগে সেনাবাহিনী থেকে বহিস্কৃত কর্পোরাল ফুদে শাংক দেশের বেকার যুবকদের নিয়ে গড়ে তুলে বিপ্লবী বাহিনী, রেভুলেশনারী ইউনাইটেড ফ্রন্ট সংক্ষেপে আরইউএফ।

কোমলপ্রাণ শিশুদের জোরপুর্বক ধরে নিয়ে তার বাহিনীতে শামিল করে। নেশায় আসক্ত অবস্থায় অবুঝ শিশুদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে তাদের দিয়ে চালায় হত্যাযজ্ঞ।

আর মেয়েদেরকে ব্যবহার করে অসামাজিক অপকর্মে এক কথায় যাকে বলা যায় চরম পর্যায়ের মানবাধিকার লংঘন। শুধু তাই নয়, তাদের বিকলাঙ্গ করতেও দ্বিধা করেনা।

ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়, কোন বিপ্লবীবাহিনী দেশের অভ্যন্তরে এককভাবে গড়ে উঠতে পারেনা কারণ তাদের প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, অস্ত্র এবং অন্যান্য সহায়তা।। সিয়েরালিওনের হীরক সম্পদে আকৃষ্ট হয়ে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হবার জন্য প্রতিবেশী দেশ লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট চার্লস টেইলর আরইউএফকে সবধরনের সহায়তা দিতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েন এবং তাঁরই মদতে ১৯৯১ সনে আর-ইউ-এফ আক্রমন করে বসে সীমান্তবর্তি অঞ্চলে, উদ্দেশ্য হীরক খনি দখলসহ সরকার উৎখাত। বিপ্লবীদেরকে বিশৃংখল সেনাবাহিনী দিয়ে দমন করা সম্ভব নয় বিবেচনায় সরকার গড়ে তোলে মিলিশিয়া বাহিনী, সিভিল ডিফেন্স ফোর্স সংক্ষেপে সিডিএফ। উদ্ভুত পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে সমাধা না করে সিয়েরালিওনের প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী হিংগা নরমান, সেনাবাহিনী এবং সিডিএফ দিয়ে আরইউএফকে প্রতিহত করার কৌশল বেছে নেন ফলে শুরু হয়ে যায় নির্মম এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ। এই ছোট্ট একটি দেশে ১০০,০০০ এর অধিক নিরীহ জনগণ নিহত হয়, বিপুল সংখ্যক বরণ করে পঙ্গুত্ব এবং ২০ লক্ষাধিক মানুষ দেশ ছেড়ে পার্শ্ববর্তী দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। তাই সিয়েরালিওনের জনগণই এই গৃহযুদ্ধে জড়িতদের বিচারের দাবি উত্থাপন করে যাতে ভবিষ্যতে দেশের শান্তি বিনষ্ট করার প্রয়াশ কেউ না পায়। যেহেতু চার্লস টেইলর আরইউএফ কে প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র সরবরাহে প্রত্যক্ষ্যভাবে জড়িত, সংগত কারণেই বিচারের বেলায় তাঁর নাম এসে যাওয়াটা স্বাভাবিক।

এই লক্ষ্যে সরকার ২০০০ সনের জুন মাসে আন্তর্জাতিক ক্রিমিন্যাল কোর্টে দেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সহায়তা চেয়ে জাতিসংঘে আবেদন করলে নিরাপত্তা পরিষদ নীতিগতভাবে সম্মত হয়ে ২০০০ সনের আগষ্ট মাসে রেজুলেশন ১৩১৫ জারি করে। এই রেজুলেশনের আওতায় সিয়েরালিওনে বিশেষ আদালত (Special Court of Sierra Leone) প্রতিষ্ঠিত করার বিষয়ে উক্ত দেশের সাথে সমঝোতার করার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে অনুরোধ করা হয়। যুদ্ধাপরাধীদের চিহ্নিতকরন, বিশেষ কারাগারসহ আদালতের অবকাঠামো নির্মানের দায়দায়িত্ব এবং এই লক্ষ্যে অর্থের যোগান, বিচারক, প্রসিকিউটর ও ডিফেন্স লিড কাউন্সিল নিয়োগ, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়ে সিয়েরালিওনের এ্যাটর্নি জেনারেল এবং জাতিসংঘের আইন বিভাগের মাঝে দীর্ঘ চার মাস অদ্ দেন দরবার চলে। ১৬ জানুয়ারী ২০০২ তারিখে এই আদালত প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সিয়েরালিওন সরকার ও জাতিসংঘের মাঝে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সময় বিবেচনায় আবেদনের পর হতে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর পর্যন্ত মোট ২ বছর ৬ মাস ব্যয় হয়। আদালতের অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব সিয়েরালিওনের উপর বর্তায় তবে জাতিসংঘের অনুরোধে আন্তর্জাতিক কমিউনিটি অবকাঠামো নির্মানের আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে আসে এবং বিচারিক কার্যক্রমের ব্যয়ভার জাতিসংঘ বহন করতে সম্মত হয়। সমস্ত প্রস্তুতি শেষ করে বিচারিক কার্যক্রম আরম্ভ হয় ২০০২ সনের জুলাই মাসে।

পাঠকের মনে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক কেন এই বিচার আন্তর্জাতিক ক্রিমিন্যাল কোর্ট হেইগ এ না হয়ে সিয়েরালিওনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে? স্বাক্ষ্য দানকারীর সংখ্যা বেশি হবার কারনেই মুলত সিয়েরালিওনের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সেই দেশেই আয়োজন করার স্দ্ধিান্ত নেয়া হয়। তবে যেহেতু চার্লস টেইলর পার্শ্ববর্তী দেশ লাইবেরিয়ার এবং সে দেশের প্রেসিডেন্ট, সংগত কারনে তাঁর বিচার হেইগে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এখন এই বিশেষ আদালতের সংগঠনের উপর আলোকপাত করা যাক। মোট ৩টি বিভাগ যেমন, রেজিস্ট্রি (কোর্ট ম্যানেজমেন্ট এবং ডিফেন্স), প্রসিকিউটর, চেম্বার (ট্রায়াল চেম্বার-১, ট্রায়াল চেম্বার-২ এবং আফিল চেম্বার) নিয়ে গঠিত সিয়েরালিওন বিশেষ আদালত। ডেপুটি রেজিট্ট্রার ব্যতিত সকলেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনের তবে প্রশাসনিক কাজের জন্য নিচু স্তরের কিছু কর্মকর্তা সিয়েরালিওন হতেই নিয়োগ দেয়া হয়।

সংঘটিত জঘন্যতম মানবতা বিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ, অন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লংঘন এবং সিয়েরালিওনের প্রচলিত আইন লংঘন এ জড়িতদের দায়দায়িত্ব পর্যালোচনা করে প্রসিকিউটর ২০০৩ সনে সর্বমোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ চিহ্নিত করে বিশেষ আদালতে অভিযোগ পেশ করেন। অভিযুক্তরা হোলেন লাইবেরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট চার্লস টেইলর, আরইউএফ চেয়ারম্যান ফুদে শাংক, সিডিএফ এর প্রধান প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী হিংগা নরমান এবং আরইউএফ ও সিডিএফ এর প্রথম স্তরের কর্মকর্তা। বিচার শুরুর বছরেই ফুদে শাংক, হিংগা নরমান শারীরিক অসুস্থতার কারনে মারা গেলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এবং ফুদে শাংক’র অন্যতম সহযোগী স্যাম বোকারিও ২০০৩ সনে লাইবেরিয়াতে মারা যায় ফলে এই অভিযোগও প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

২০০৮ সনের মাঝামাঝি সিয়েরালিওন বিশেষ আদালতের বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এরই মাঝে কিছু দোষীদের দন্ডাদেশ কার্যকর করা হয়েছে এবং অবশিষ্টদের ফলাফল ফেব্র“য়ারী ২০০৯ সনে দেয়া হবে। তবে চার্লস টেইলরের বিচার এখনও চলমান। প্রমাণিত যুদ্ধাপরাধীদের অপরাদের গুরুত্ব অনুযায়ী ৩ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত সাজার বিধান রাখা হয়েছে এবং কার্যকর করা হয়েছে। এখানে একটা বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, জাতিসংঘের সনদে মৃত্যুদন্ডের কোন বিধান নেই। গুরুতর অপরাধে যারা প্রমাণিত অপরাধী এবং বড় ধরনের সাজা প্রাপ্ত, আভ্যন্তরিন শান্তি শৃংখলার বিষয়টি বিবেচনায় এনে তাদের সাজার মেয়াদ ইউরোপিয় কোন তৃতীয় দেশে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সিয়েরালিওনের গৃহযুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ১৯৯৯ সনের জুলাই মাসে টোগো’র রাজধানি লোমে’ আরইউএফ এবং সরকারের মাঝে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং চুক্তির সনদ অনুযায়ী আরইউএফ এর সদস্যদের প্রতি অনুকম্পা প্রদর্শন এবং তাদের উপরের স্তরের সদস্যদের যোগ্যতার ভিত্তিতে মন্ত্রীত্বসহ জাতীয় গুরুত্বপুর্ন দায়িত্বে নিয়োগের বিধান রাখা হয়। কিন্তু চুক্তি বাস্তবায়নে সরকার পক্ষের গাফিলতি আর শান্তিরক্ষী বাহিনীর অপরিপক্ক আচরনের জন্য উভয় পক্ষের মাঝে দেখা দেয় অবিশ্বাস। ফুদে শাংক সরকারের বিরুদ্ধে এই ব্যাপারে অভিযোগ আনা মাত্র তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। একই সংগে শান্তিরক্ষী বাহিনী লোমে’ শান্তি চুক্তির প্রতি ভ্র“ক্ষেপ না করে আরইউএফ কে নিরস্ত্র করার চেষ্ঠা চালায় যা বুমেরাং হয়ে দাড়ায় এবং এক পর্যায়ে ২০০০ সনের মে মাসে তারা শান্তিরক্ষী বাহিনীর উপর আক্রমন করে বসে। পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি ঘটলে সিয়েরালিওনের জাতিসংঘ মিশনে পরিবর্তন এবং পরিবর্ধনের প্রয়োজন দেখা দেয়, ডাক পড়ে বাংলাদেশের। ২০০০ সনের ডিসেম্বর মাসে আমি এক ব্রিগেড সমান সংখ্যক সেনাদল নিয়ে হাজির হই সিয়েরালিওনে।। বাঙ্গালী শান্তিরক্ষীদের অভিজ্ঞতা, নিষ্ঠা ও কর্মতৎপরতার কারনে অতি অল্প সময়েই পরিস্থিতি আমাদের পরিপুর্ন নিয়ন্ত্রনে এসে যায় এবং আরইউএফ এর প্রথম শ্রেনীর অধিনায়করা লোমে’ শান্তি চুক্তির আলোকেই অস্ত্র সংবরণ করতে সম্মত হয়। আরইউএফ এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঈসা সেসে এবং তার সহযোগী মরিস কালন এর সার্বিক সহযোগীতায় বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে মাত্র চার মাসের ব্যবধানে আমরা তাদের অস্ত্র সংবরণ করাতে সক্ষম হই, সিয়েরালিওন ফিরে পায় তার কাক্সিক্ষত স্থায়ী শান্তি।

২০০০ সনের মে মাসের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঈসা সেসে এবং তার সহযোগী মরিস কালনকে গ্রেফতার পুর্বক বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করানো হলে উভয়েই আমাকে তাদের ডিফেন্স উইটনেস হিসেবে পেতে আবেদন করে। তাদের আর্জি গ্রহন করে বিজ্ঞ আদালত ২০০৪ সনে বিশেষ দূত প্রেরন করে আমার সম্মতি গ্রহন করেন। এর পর শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পবের্র মাধ্যমে আমার স্বাক্ষ্য গ্রহনের পালা। ২০০৭ সনে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা সশরীরে ঢাকায় হাজির হয়ে বিচারিক খুটিনাটি বিষয় নিয়ে আমার সাথে আলাপ করে যান এবং ২০০৮ সন মার্চ মাসে আমি হাজির হই সিয়েরালিওনের বিশেষ আদালতে আমার ডিফেন্স টেস্টিমনি দেবার জন্য।

২.৮ মিলিয়ন আমেরিকান ডলার ব্যয় করে আধুনিক ডিটেনশন সেলসহ সম্পুর্ন আলাদা বিশেষ আদালত প্রস্তুত করা হয় যার চারিদিকে রয়েছে নিশ্চিদ্র ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা বলয়। আদালতে মোট দুটি বিচার কক্ষ রয়েছে যার সাজসজ্জা হেইগ এর আন্তর্জাতিক ক্রিমিন্যাল কোর্টের অনুরুপ। আদালতের কার্যক্রম (progress) সাংবাদিক ব্যতীত কাউকে দেখতে দেয়া হয়না তাও আবার বুলেট প্র“ফ স্ক্রিনের অপর পাশ থেকে। কার্যক্রম আমাদের আদালতের মতই তবে অত্যন্ত সুশৃংখল। স্বাক্ষী তাঁর বক্তব্য ধীর গতিতে উপস্থাপন করেন কারন এই বক্তব্য তাৎক্ষনিকভাবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ভাষায় অনুবাদিত হয়ে অন লাইন প্রচারিত যা অন্যান্য অনুরুপ ক্রিমিন্যাল কোর্ট থেকে একই সময়ে দেখা যায়।

২০০২ সন হতে ২০০৮ সন পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলেছে। এর মাঝে দ্বিতীয় নির্বাচিত সরকার আসলেও কোন প্রকার রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই বিচার তার নিজ গতিতে এগিয়ে চলেছে। অবসর সময়ে সিয়েরালিওনের সাধারন জনগনের সাথে আলাপচারিতার মাধ্যমে এই বিচার সম্পর্কে তাদের মতামত নেবার চেষ্ঠা করি। তাদের মতামত একটাই তাহলো, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ছিল দেশের স্থায়ী শান্তির পুর্বশর্ত। তাদের মতামতই সত্য কারন আমার দেখামতে সত্যিকারের শান্তি বিরাজ করছে এবং আভ্যন্তরিন শান্তি-শৃংখলা পরিস্থিতি ২০০০ সন অপেক্ষা অনেক ভালো। সার্বিক পর্যালোচনায় একটা বিষয় পরিস্কারভাবে ফুটে উঠে আর তা হলো, ট্রুথ এ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশনের যথাযথ কার্যক্রম এবং বিশেষ আদালতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দেশটিকে স্থায়ী শান্তির পথে পুন:স্থাপন করে গনতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সহায়ক ভুমিকা পালন করেছে।




*** লিখাটি এখনো কোথাও প্রকাশিত হয়নি। বয়োঃজ্যেষ্ঠ হাসান সাহেবের লিখাটি আমাদের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সহায়ক দিক নির্দেশনা হতে পারে ভেবে তাঁর কাছ থেকে অনুরোধ করে আমি লিখাটি আনি। তাঁর এই অভিজ্ঞতা বিনিময় আমাদেরকে আশাবাদী করে তুলবে












সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:২৭
৪০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×