somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... মিথ্যার ফাঁদে সরলতার সফর
মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২১, ১৯৯৩। আমাদের ক্লাস টেন ও শেষ। টেস্ট পরীক্ষা হয়ে গেছে। নতুন ফর্মেটে পরীার ফরম পূরণ হবে। এই ফরমের নাম ”ওএমআর”, গোল্লা পূরণ করে নাম লিখতে হয়। ভুল করার কোন সুযোগ নেই। তাই একটা ট্রেনিং কাসের দিন ধার্য করা হয়েছে এই ২১.১২.৯৩ মঙ্গলবারে। আমরা কাসের লিডার টাইপের জিনিস। আমাদের কি এসব ট্রেনিং কাসে যাওয়া সাজে! তার উপর এইদিন আমাদের এক বান্ধবীর জন্মদিন। কাজে কাজেই আমরা প্ল্যান করলাম স্কুলের নাম করে ঠিকই বের হওয়া হবে। কিন্তু যাওয়া হবে অন্য কোথাও অন্য কোনখানে।

আমাদের তখন ৬জনের গ্রুপ। তার মাঝে দুজন ভীষণ আপত্তি জানালো, তারা যেতে চায় না। ভুজুং ভাজুং দিয়ে ঐ দুজনকে আমরা রাজি করে ফেললাম। ঢাকা শহরে এত এত বছর থাকি আমরা, কেউ ম্মৃতিসৌধ দেখতে যাইনি। আমাদের অ্যাডভেঞ্চারের জায়গা ঠিক হলো সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ। কথা মতো মীরপুর এক নম্বর বাসস্ট্যান্ডে একে একে সবাই জড়ো হলাম। দুটা বেবী ট্যাক্সিতে ৩জন ৩জন করে উঠলাম। মনের ভেতর শংকা তো আছেই, এই প্রথম বাসায় বড় মাপের কোন মিথ্যা বলা সবার। তবু নিয়ম ভাঙ্গার খুশি আমাদের মনে আনন্দের বুদবুদ জড়ো করেই চলেছে।

এক সময় পৌঁছে গেলাম স্মৃতিসৌধ এলাকায়। না এখনো গেট খুলেনি। কি আর করা যাবে! আমরা আশপাশের এলাকায় হাঁটাহাঁটি শুরু করলাম। এক মহিলা মাটির চুলাতে রান্না করছে। আমরা জোর করে তার সাথে ছবি তুললাম। সবাই আমাদের ঘুরে ঘুরে দেখছে। ছ’টা ১৫ বছর বয়সী মেয়ে সাথে কোন অভিভাবক ছাড়া ঘুরছে ব্যাপারটা খুব একটা সহজে মেনে নেয়ার ব্যাপার তখন ছিল না। হাঁটতে হাঁটতে খুব পানির পিপাসা পেল। এক বাসায় কলিং বেল চাপলাম আমরা নির্ভয়ে। আমাদেরকে হাসতে হাসতেই সেই বাসা থেকে পানি খেতে দিল।

এবার সময় হলো স্মৃতিসৌধ তে প্রবেশের। দেখলাম। সামনের পানিতে যে ছায়া পড়ে স্মৃতিসৌধের তা বারবার ঘুরে ঘুরে দেখলাম, প্রথম যখন কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি হয়েছিলাম তখন সেই স্কুল থেকে আমি একবার এখানে এসেছিলাম আমার মনে পড়লো। আমি খুব আগ্রহ নিয়ে পানির রং দেখতে থাকলাম। কারণ আমার মনে হচ্ছিলো সেই শিশু বয়সে আমি এখানে সবুজ পানি দেখেছিলাম। আমাদের কাছে জায়গাটা খুব একটা ছোট মনে হলো না। কত রকমের ফুল! খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সব দেখলাম। নির্মাণ শৈলী নিয়ে আমাদের বিস্ময়ের শেষ নেই। টিভিতে যা দেখি খবরের আগে সেটা একটা মিনিয়েচার ছাড়া আর কিছুই না। অনেক দর্শনার্থী দেখলাম জুতা নিয়ে একদম উপরে উঠে যাচ্ছে। আমরা সেটা করলাম না, জুতা খুলেই উঠলাম। বেলা বাড়ার সাথে সাথে শান্তির পরিবেশটা কেমন মিইয়ে যেতে থাকলো। ২-৪টা ছবি উঠানোর পর আমরা গাছের ছায়ায় গিয়ে বসলাম। দুপুরে কোথায় খাওয়া যায় এ নিয়ে আলোচনা শুরু হলো। কাছেই পর্যটনের রেস্টুরেন্ট আছে। আমরা ঠিক করলাম সেখানেই লাঞ্চ সারব।

পর্যটনের রেস্টুরেন্ট যে এমন গলা কাটা এবং ভয়ংকর রান্নার হবে তা আমাদের জানা থাকার কোনই কারণ নেই। আমরা ধরা খেলাম। শুধু বাসায় ফেরার ভাড়াটুকু বাঁচিয়ে কোনমতে বিল দিয়ে আমরা সম্মান হাতে নিয়ে বের হলাম। ও মা, সাভারে কিসের যেন মেলা হচ্ছে...মনের ভয় মনে চেপে মেলা দেখলাম খানিকক্ষণ। তারপর আবার বেবীট্যাক্সি দুটাতে ৬জন।

প্রথম ট্যাক্সির পেছন পেছন দ্বিতীয় ট্যাক্সি। কিছুক্ষণ পরে দেখি পেছনের ট্যাক্সি আর আসছে না। আমরা থামলাম, বাকী বান্ধবীদের কি হয়েছে বুঝতে। ২০মিনিট পর সেই ট্যাক্সি এলো আমাদের কাছে। জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছিলো - ওদের পুলিশ আটকেছিলো কারণ আজকেই ৩টা মেয়ে কোথা থেকে যেন পালিয়েছে, ওরাও ট্যাক্সিতে ৩জন থাকাতে সন্দেহবশত ওদের আটকেছে। আমাদের ভয়ের ষোল এর উপর দুই আঠারো কলা পূর্ণ হবার উপক্রম।

আল্লাহ আল্লাহ করতে করতে মীরপুর এক নম্বর বাসস্ট্যান্ডে তো পৌঁছলাম। বাসায় সবার জন্য দারুণ সারপ্রইজ অপেক্ষা করছিলো সেটা কি আর আমরা জানি! এতবছরের স্কুল জীবনে যা হয়নি তাই ঘটেছে। স্কুল থেকে বাসায় সবার ফোন গিয়েছে। আমরা যে ফরম পূরণের অনুশীলন ক্লাসে যাইনি তা বাসায় জানাজানি হয়ে গিয়েছে এবং যারা অনুশীলন ক্লাসে অনুপস্থিত ছিল তাদেরকে ২২.১২.৯৩ তে ফরম পূরণ করতে দেয়া হবে না। অনুপস্থিত সবার ফরম পূরণ হবে ২৬.১২.৯৩ তে তাও হেড স্যার সফদার আলীর তত্ত্বাবধানে।

২১ তারিখ শুধু আমরা ৬জন নই, অনেক ছেলেও অনুপস্থিত ছিল। কারণ তখন সাফ গেমস চলছে এবং ২১ তারিখে মেয়েদের মীরপুরের সুইমিং পুলে প্রতিযোগীতা ছিল। সেই প্রতিযোগীতা বিনা টিকিটে দেখা যায়। আমাদের স্কুলের ছেলেরা বিনা টিকিটে সুইমিং কস্টিউম পরিহিতা নারীদের দেখতে দল বেঁধে গিয়েছিলো এবং ওরাও দল বেঁধে ধরা।

একদিনের একটা মিথ্যা বাসায় আমাদের সবার গ্রহণযোগ্যতা নামিয়ে আনলো একনিমিষেই। ২২,২৩,২৪,২৫ চারটা দিন আমাদের অপরাধবোধ না দিলো ঘুমাতে, খেতে, না পড়া লেখা করতে। ২৬ তারিখে স্মৃতিসৌধ মাথায় রেখে গেলাম ফরম ফিলাপে। ছেলেদের সারি করে পেটানো হচ্ছে। তারপরে আমাদের পালা। হঠাত আমরা সবাই থমকে গেলাম। কারণ পাপ্পু নামে আমাদের এক ক্লাস মেট ঢুকেছে রুমে এবং সে হেড স্যারের হাতে ধরা। আমাদের বোধবুদ্ধিহীন চেতনায় শুনতে পেলাম ”কিস্ কি এখন পশ্চাতদেশে খায় না কি?” সবাই হতভম্ব অবস্থা কাটিয়ে পাপ্পুর দিকে তাকালাম, সে পরে এসেছে একট জিন্স এবং সেই প্যান্টের পকেটের উপর লিখা ”কিস্ মি”। হেড স্যার হাত মুঠি করে পাপ্পুর সেই পকেটের উপর ঘুষি দিলেন এবং আবার বললেন এত শক্ত জায়গায় কিভাবে কিস্ করা যাবে!

হেড স্যারের পিটানো পর্ব এভাবেই শেষ হয়ে গেল। আমাদের কাছ পর্যন্ত বেত ঘুরে আর এলো না। আমরা এসএসসি পরীক্ষা দেবার যোগ্যতা অর্জন করলাম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29465102 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29465102 2011-10-13 11:08:03
ময়নামতি, কোটবাড়ি, বার্ডস - বন্ধুসনে, প্রথম ভ্রমণে কোথায় কোথায় গিয়েছি হঠাত লিখার সাধ জেগেছে, জীবনের চক্রাকার ঘূর্ণনের সাথে এক একটা সময়ের যোগসূত্র কেমন যেন লাগে। গ্রাম নিয়ে মানুষের কত কত আদিখ্যেতা দেখি। আমার কাছে গ্রাম কোন মোহনীয় কিছু লাগল না কোনকালেই। আমি কোনভাবেই গ্রামে যেতে চাইনি সেই ছোট সময় থেকেই। টয়লেটের ঝামেলা, গোসলের ঝামেলা, গ্রামের সমবয়সী বাচ্চাদের পাকা পাকা কথা, ক্ষেতের মধ্যে পা দিলেই বিষ্ঠা পাওয়া, কাদা, এগুলো আমাকে টানেনি কখনো। কিন্তু প্রকৃতি ভালোবাসি। দলেবলে, একা, পরিবারের সাথে, বন্ধুদের সাথে প্রকৃতির কাছে ছুটে গিয়েছি বারবার। অনেককিছু মনে পড়ে, আবার স্মৃতি থেকে হারিয়েও যাচ্ছে।
২০১১ সালে কোথাও যেতে পারিনি প্রকৃতির আরেক আশীর্বাদের ফসলকে সহি সালামতে পৃথিবীর আলো দেখানোর অভিপ্রায়ে। নিজেকে মনে পড়ে অনেক পথে, অনেক জায়গার মানস ছবিতে- তাই এই ”চক্বর" ...


------------------------------------------------------
ময়নামতি, কোটবাড়ি, বার্ডস - বন্ধুসনে, প্রথম ভ্রমণে

এত্ত ভোরে উঠতে হবে বুঝতে পারিনি। আজকে বুধবার। এখন সকাল সাড়ে চারটা। আমাকে যে কোনভাবেই ছ’টার মধ্যে স্কুলে পৌঁছাতে হবে। আব্বু এতবছরে কোনদিন স্কুলে দিয়ে আসেনি। এখন এই ক্লাস টেনে ১৯৯৩ সালে, আজকে যাবে আমার সাথে কারণ এত ভোরে বাস নাও পেতে পারি। আমার অবশ্য তেমন কষ্ট হচ্ছে না। আসলে সারারাত তেমন ঘুমাতেই পারিনি। এত বছর স্কুলে পড়েছি, এই প্রথম আমাদের স্কুল থেকে কোথাও বেড়াতে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা অনেক পরিকল্পনা করেছি। আমাদের বন্ধু লিমা একটা অটো ক্যামেরাও যোগাড় করেছে। আমরা ছবি তুলতে পারব। আজকে স্কুলের পিকনিক। সাড়ে ছটায় বাস ছাড়বে। সুতরাং যেভাবেই হোক ছ’টার মধ্যে স্কুল পৌঁছাতে হবে।

মেয়েরা আর ছেলেরা ক্লাস টেনের একই জায়গায় একই সাথে যেতে পারবে না। যদিও একই টাইমে বাস ছাড়বে। যাক্, আমি সময়মতো এসে পৌঁছেছি। বান্ধবীরা সবাই ঠিকঠাক এলো কি না এখন এটা দেখাই আমার বড় কাজ। আমাদের মনিপুর স্কুলের দুঃখ রাস্তা আর মাঠ না থাকা। মাঝে মাঝেই মনে হয় চীনের হোয়াংহো নদীর দুঃখ দূও হলেও মনিপুর স্কুলে দুঃখ বুঝি ঘুচবার নয়! একটা মানুষ আধ ইঞ্চি জায়গা ছাড়ে না, না রাস্তা চওড়া হয়, না আমাদের যাতায়াতের কোন সুরাহা হয়। পিকনিকের বাস স্কুল পর্যন্ত আসতে পারেনি। আমাদের সবাইকে হেঁটে মীরপুর দু নম্বর থানার সামনে যেতে হবে, সেখানে বাস রাখা আছে। স্যার ম্যাডামরা ব্যস্ত হয়ে ছোটাছুটি করছেন। আমাদেরকে গুণে গুণে বাসে উঠাচ্ছেন। বাসে উঠতে উঠতে কে যেন গেইটের কাছ থেকে চাপা গলায় বলে উঠলো - আজকের দিনেও স্কুল ড্রেস পরতে হবে, উফ্!

বাস ছাড়তে ছাড়তে সকাল সাড়ে আটটা। আমরা যে কয়জন ঘনিষ্ঠ সবাই একই বাসে উঠেছি। পোশাক নিয়ে আমাদের কোন মাথাব্যথা নেই। যেতে পারছি এই না কত! কত কাঠ খড় পোড়তে হয়েছে। তাও আবার ঢাকার বাইরে দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসা এ কি কম কথা! খুব ছোটবেলায় একবার কুমিল্লার ময়নামতি, কোটবাড়ি, বার্ডস এ গিয়েছিলাম, আমার স্মৃতিতে এখন সবই ঝাপসা।

শেষ পর্যন্ত বাস ছাড়লো...আমাদের বাসে দেখা যায় মাইকও আছে। কি মজা! এক বাস আরেক বাসকে অতিক্রম করলেই আমরা সবাই একসাথে হই হই করে উঠলাম। এর মধ্যে জমিয়ে “আন্তাকসারি” খেলা শুরু হয়ে গেছে। ঢাকা শহর আস্তে আস্তে পেছনে পড়ছে। আমাদের বাসের সবাই স্যারের কাছে নাশতা বিলি করার আব্দার জানালো। আজকে স্যাররাও একটু ভিন্ন মেজাজে আছেন, হাতে নম্বর দেয়া বেত নেই, দিনের শুরুতেই আমাকে বা আমার বান্ধবী শর্মিলাকে উত্তম মধ্যম দেননি।

সেই কোন ভোরে উঠেছি, অত ভোরে কি আর নাশতা খাওয়া যায়। সবাই কলা কেকই অনেক আগ্রহ নিয়ে খেলাম। এই যে, এই যে ঢাকার গেট শেষ হচ্ছে কাঁচপুর চলে এসেছি। ঐ যে ছেলেদের বাস, ওরা আগে যাবে বার্ডসে, আমরা থাকব তখন ময়নামতি-কোটবাড়ি। কি যে এক সিস্টেম একই স্কুলের মর্নিং শিফট আর ডে শিফট আমরা কিন্তু কেউ কাউকে এত বছরেও চিনি না। আর তো চেনার প্রশ্নও উঠে না। আসছে বছরে এসএসসি দিয়ে কে কোথায় চলে যাব কে জানে!

বাস এখন জোরেই ছুটছে। দাউদকান্দি আর মেঘনা, আগে কুমিল্লা যেতে এই দুটো ফেরি পড়তো। এখন মেঘনা ব্রীজ হয়ে গেছে। আমার গ্রামের বাড়ি ঐদিকে হওয়াতে আমি সবাইকে একটু আধটু জ্ঞান দিতে থাকলাম। তানির আনা ওয়াকম্যানে মিতালী মূখার্জী আর তপন চৌধুরীর গাওয়া যেটুকু সময় তুমি থাকো কাছে শুনতে শুনতে আমি গোলমালটা কি নিয়ে লাগলো সেটা মিস্ করলাম। কান থেকে হেডফোন নামানোর পর আসল ঘটনা বুঝলাম। জানালার পাশে বসা এক সহপাঠীর মুখমন্ডল রাস্তা দিয়ে যাওয়া এক রিকশা ভ্যানের চালক ইচ্ছে করে ছুঁয়ে দিয়ে হাসতে হাসতে চলে গেছে। আমাদের বাসটা ব্রীজে উঠবার আগে একটা লাইনে দাঁড়ানো, স্থির অবস্থায় - তার যারপরনাই সুযোগ ভ্যানচালক নিয়ে গেল। আমরা আমাদের ঐ ফ্রেন্ডকে হাসি তামাশায় ভুলাতে চেষ্টা করলাম। কারণ এই মুহূর্তে বাস থামিয়ে কিছু করার উপায় নেই। আর এগুলো এখন আমাদের গা সওয়া - নারী মানে সবার বিনোদনের উপকরণ আমরা এই বয়সেই এটা খুব ভালো বুঝে গেছি।

আমরা বারোটার সময় অবশেষে ময়নামতি পৌঁছালাম। লিমা এই ফাঁকে আমাদের গ্রুপটার ছবি তোলার কাজ আস্তে আস্তে এগিয়ে নিচ্ছে। আমরা অবশ্য ৬জনে চাঁদা তুলে এক্সট্রা ফিল্মও নিয়ে এসেছি। মাবরুকা, শর্মিলা, জেরীন, ঝুমা, আমি কাছাকাছি এসে দাঁড়াই। আমাদের এতবছরের স্কুল জীবনে প্রথম কোথাও একসাথে ছবি তোলা হচ্ছে, লিমাকেও বলি দাঁড়াতে। পুরোটা ঘুরে দেখবার আগেই, ময়নামতির ইতিহাস জানবার আগেই লুতফর রহমান স্যার, আতিক স্যার আমাদের সবাইকে তাড়া দেন, আবার লাইন এবার খাওয়া দেয়া হবে। টুসি কানের কাছে মুখ এনে বলে, ’দোস্ত এতবার ম্যাডামদের জিজ্ঞেস করলাম কোথায় ফ্রেশ হওয়া যায় কিছুই বলে না। এভাবে কি খাবার খাওয়া যাবে!’ কি বলব! সেই কাক উঠবার আগে বাথরুমে গিয়েছি এখন দুপুর সাড়ে বারোটা, সবার অবস্থা কমবেশি একই। এ ব্যাপারে স্যার ম্যাডামদের কোন উচ্চবাচ্য নেই।

আমাদের মূর্র্তিমান আতংক বড়আপা (অ্যাসিস্ট্যান্ট হেড মিস্ট্রেস) কেমন জানি বুলেটের গতিতে আমাদের খাবারের লাইনের দিকে ছুটে আসছেন। আমি আর শর্মিলা প্রমাদ গুণি। কারণ স্যার ম্যাডামদের ছোটাছুটি মানেই কারণে অকারণে একবার আমাদের দুজনের মার খাওয়া। না আল্লাহ মেহেরবান, খুব চাপা গলায় বললেও আমরা ঠিকই শুনি আতিক স্যার আর বড় আপার আলাপ, সামনের বাস থেকে একটা মেয়ে উধাও, তার ছেলে বন্ধু না কি পেছন পেছন মাইক্রো নিয়ে এসেছিলো, খাবার বিতরণের সুযোগে সেই মেয়ে হাওয়া। আমরা নিমেষেই বুঝে যাই এ সি সেকশনের কোন মেয়ের কাজ। আমাদের রীতিমতো আনন্দে দাঁত বের হয়ে যাওয়ার অবস্থা বড় আপার চেহারা দেখে। মনে মনে বলি, খুব ভালো হয়েছে, খুবই সুন্দর হয়েছে।

কি খেলাম কেন খেলাম কেউই তেমন বুঝলাম না, এখন কোটবাড়ি যেতে হবে। আমাদের এক রোল ফিল্ম শেষ। কিন্তু লিমা ফিল্ম খুলতে পারছে না। হুজুর স্যার বিজ্ঞের মতো এগিয়ে এলেন এবং কোন কিছু বুঝবার আগেই ক্যামেরার যেখানে ফিল্ম থাকে সেই ঢাকনা খুলে ফেললেন। আমাদের এতক্ষণ তোলা সব ছবি জ্বলে গেল নিমেষেই। স্যারের গুষ্টি উদ্ধার করতে করতে আমরা নুতন ফিল্ম লোড করলাম। মনটা আসলেই খারাপ হয়ে গেল। ব্যাটা মগা, যা জানিস না সেটা নিয়ে এই ভাব করার কোন দরকার ছিল! কোটবাড়ি নেমে দাঁড়ানোর আগেই আবার বাসে উঠে বসে পড়তে হলো। বার্ডস এ যাবে।

বার্ডস এ এসে আমাদের মন ভালো হয়ে গেল। ওমা, লিমা দেখি প্রায় কাঁদো কাঁদো-ধার করে আনা ক্যামেরার কাভার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, হুজুর স্যার কোটবাড়িতে পকেটে রেখেছিলেন পাঞ্জাবীর এখন আর দিতে পারছেন না। আহাম্মকটার দাঁড়ি টেনে ছিঁড়ে ফেলতে পারতাম! ’দোস্ত, স্টেডিয়াম থেকে কিনে আনব আমরা, মন খারাপ করিস না, আর ক্যামেরা কারও হাতে দিস না।’ এ বলে আমি লিমাকে সান্ত্বণা দিলাম। বার্ডসে প্রচুর গাছ। আমাদেরকে বরই খাবার অনুমতি দেয়া হলো। সবাই এতক্ষণে একটু ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসতে পারলাম। তাড়া কম বুঝলাম। এখানকার দারোয়ান আংকেল জানালেন একটু আগে আমাদের স্কুলের ছেলে সহপাঠীরা এ জায়গা থেকে গিয়েছে, তারা সুইমিং পুলেও নেমেছিলো, আমরা নামতে চাই কি না। আমরা আফসোসের হাসি দিয়ে বললাম আমরা তো আর কোন কাপড় আনিনি। এর মাঝে শর্মিলা বরই পাড়তে গিয়ে হাত কেটে ফেলেছে। ওর জন্য এটা তেমন কোন ব্যাপার না, ও আরেকহাতে পাতা দিয়ে আঙ্গুল চেপে দাঁড়িয়ে আরেক বান্ধবীর হাতে বরই খেয়ে যাচ্ছে কিছুই হয়নি এমন ভঙ্গীমা করে।

এবার ফেরার পালা। বিকেল হয়ে গেছে। শরীরের যাবতীয় অনুভূতি হারিয়ে গেছে। শুধু নির্দেশ পালন করছি। কিছুদূর যেতেই আমাদের বাসটার চাকা পাংচার। টায়ার চেঞ্জ হলো। স্কুলে গিয়ে নামলাম রাত ন’টায়। সবার গার্ডিয়ান এসে বসে আছে যার যার মেয়েকে বাসায় নিয়ে যাবার জন্যে। জীবনে প্রথমবারের মতো স্কুল থেকে বাসে বা রিকশায় না এসে আব্বুর সাথে বেবী ট্যাক্সিতে বাসায় ফিরলাম যখন তখন রাত পৌনে দশটা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29452809 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29452809 2011-09-22 11:22:52
নতুন ডিকশনারী যেদিন লিখিত হবে, কেউ আমাকে ভুলে যেও না (চিক্বুর সহ)... " style="border:0;" />
এইচএসসিতে সায়েন্সের স্টুডেন্টরা বাংলা ইংরেজি পড়ার টাইম পায় না। আমি কোনকিছু পড়ারই টাইম পাই না। সব বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহের সাথে ডাব্বা মেরে নিজের চেহারা প্রতিটি টিচারের কাছে পরিচিত করলাম। তারা মতিঝিল আইডিয়াল থেকে আসা স্ট্যান্ড করা নীলাকে যেমন চেনে তেমনি আমাকেও চেনে। আমার বন্ধুরা (যারা আমারই মতো) আমাকে নিয়ে রীতিমতো গর্বিত <img src=" style="border:0;" />
আমাদের বছর এইচএসসির ইংরেজি প্রশ্ন হলো একেবারে যাকে বলে মায়েরে...বাঘা বাঘা পোলাপান পরীক্ষা ড্রপ করার কথা ভাবছে, আমি বীরদর্পে পরীক্ষা দিলাম। কমন পড়লেও আমার কিছু না, না পড়লেও কিছু না। কারণ আমার তো মুখস্থ নাই কিছুই। বানায়ে লিখাই আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। যাক্‌, কানের পাশ দিয়ে গুলি যাবার মতো করে পাশ করলাম।
নিজের ইংরেজি নিয়ে খুব মন খারাপ করেছি যখন লন্ডন ইউনিভার্সিটির আন্ডারে আমাকে একবছর মনের দুঃখে কম্পিউটার স্টাডিজ পড়তে হয়েছে। সেটাও ঐ ইংরেজি নিয়েই কেমন কেমন করে যেন পাশ করলাম। অনার্স, মাস্টার্স, আবার মাস্টার্স উতরে এলাম অমন ইংরেজি নিয়েই।
চাকুরীতে ঢুকবার পরে আমার ইমিডিয়েট ইনচার্জ ছিল ইংলিশে পাশ করা ডিইউ থেকে। উনি আমাকে একদিন বললো ডেইলী স্টার বা অবজারভার পড়লে আমি অফিসিয়াল এসব গতবাঁধা জিনিস লিখা শিখে যাব। কার্যক্রম শুরু করলাম। ইনচার্জ চেঞ্জ হলেন। একসময় দেখলাম ম্যানেজার থেকে শুরু করে সবাই আমাকে দিয়ে সব করেসপনডেন্স করায়। এভাবে চলছে, সবাইকে শেখাতে চেষ্টা করি। কিন্তু কেউ সেটাকে ভালোভাবে নেয় কেউ আবার ম্যাডাম জ্ঞান ফলায় ভাব দেখায়ে তাচ্ছিল্য করে।
গত ২-৩ বছর সামান্য একটু সিনিয়র পজিশনে গিয়েছি। অনার্স মাস্টার্স শেষ করা ছেলে মেয়ে আমার সাথে কাজ করে, অনেকের ইন্টারভিউ নিতে হয়। খুব ভালো লেখাপড়া জানা ২-৩ জন পাই কিন্তু বাকীদের অবস্থা দেখে বেদনায় নীল হই আবার হাসিও পায়।
অফিসে এখন কেউ জ্যামে আটকালে বা আসতে দেরী হলে একটা এসএমএস দিয়ে রাখাই দস্তুর - আমার সাথে কমবেশি বারোজনের টিম এতদিন পর্যন্ত কাজ করছে। একজন ছাড়া বাকীরা আমাকে যেমন এসএমএস দেয় -
1. জ্যামে আটকানো - Madam, at frmgt, huge jam, some late happen Ma'm, big trfk, little late Gd mrng ma'm, in jatrabari, michhil, no whn ended 2. অসুস্থ - Apa, i m sick, direct connection.Nt come Frm last nite my belly is sick, 8 times it happened, very weak. 3. হঠাত গ্রামের বাড়ী যাওয়া - ma'm i m goes to Comilla. nt come today, 2moro.

পাশের কলিগের সাথে আরেক কলিগের কথা কাটাকাটি হয়েছে। দুজনকেই বকলাম কি বাচ্চাদের মতো কাজ কারবার করেন! যার দোষ বেশি সে আরেকজনকে এসএমএস দিয়েছে "don't take it personality"

সবচাইতে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে ইন্টারভিউ এর সময়। নাম বললো, কোন সাবজেক্টে জিজ্ঞেস করলাম, ম্যাথ .. কাগজ কলম দিলাম, "আপনি যদি ৪০০ তে ২৭০ পান তবে কত শতাংশ নম্বর পেয়েছেন?" পারলো না। বাইরে এসে বলেছে এক শুকনা মতো মহিলা স্যারদের সাথে বসা এমন ছাই দিয়ে ধরে প্রশ্ন করছে!

ছেলেটাকে দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল। যেমন লম্বা তেমন ইনোসেন্ট চেহারা, আমার বিদেশ থাকা ছোটভাইটার কথা মনে হলো। কোথা থেকে এলেন আপনি বাড়ী কোথায়? "রাজশাহী ম্যাডাম"। আমার স্যার এবং অন্যান্যরা মুচকি হাসছেন। কারণ ছেলেটার বিরাট রেফারেন্স। তাকে নিতেই হবে। কাগজ কলম এগিয়ে দিয়ে বললাম ইংরেজিতে লিখুন "আমি রাজশাহী থেকে এসেছি" , লিখলো
"I came in Razsahi"
তার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড দেখলাম ইকনোমিক্সে অনার্স, ইউনিভার্সিটির নাম আর নাই বা লিখলাম।

বাপরে এ তো আবার দেখি ইংলিশে পড়াশোনা, সেকেন্ড ক্লাস পাওয়া। আমি খুবই আশাবাদী হয়ে উঠলাম। ইন্টারভিউতে থকা আমরা সবাই আশাবাদী। আমার স্যার জিজ্ঞেসই করে ফেললেন "এ চাক্‌রী আপনি করবেন?"। সে করবে।
আমার কোর্টে বল। আমি বললাম আপনাকে একটা সহজ ট্রান্সলেশন দেই বলুন তো "আমার শরীর আজ কেমন কেমন করছে" ঝটপট উত্তর এলো "My body is doing how how today"

এরপর থেকে আমি আর কোন ইন্টারভিউ বোর্ডে থাকি না <img src=(" style="border:0;" />

***http://www.amrabondhu.com/meghkanya/2967 ইতিমধ্যে এখানে প্রকাশিত, যারা আগেই পড়েছেন তাদের জন্য সতর্কসংকেত <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29375085 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29375085 2011-05-04 17:06:01
ফেরানো গেল না কিছুতেই ও আমার দিকে মুখ ফেরালো, স্বাভাবিক প্রশ্নটাই ছুড়েঁ দিলো – তুমি এভাবে ঘামছো কেন?
বোকার মতো হেসে বললাম, “এখানে আজকে খুব গরম, না কি বলো? দাঁড়াও গাড়ির জানালার কাঁচ নামিয়ে দেই।”
কাঁচ নামানোর সুইচে হাত দিতে গিয়েই দেখলাম ও সিট বেল্ট বাধেঁনি, নিশ্চয়ই প্র্যাগন্যান্সির এমন অ্যাডভান্স স্টেজে বেচারার সামনের সিটে সিটবেল্ট বেঁধে অনেক সময় ধরে বসতে খুবই কষ্ট হবে!পরক্ষণেই মনে হলো ও সামনের সিটে, সিট বেল্ট ছাড়া বসাটা বিপদজনক তো বটেই, বিশেষ করে হাইওয়েতে।
সিটয়ারিংয়ে হাত রেখেই বললাম রাস্তা দেখতে দেখতে, “তারা, বেল্ট বেঁধে নে প্লীজ।”
এতক্ষণে প্রথমবার ওর নাম ধরে ডাকাতেই কি না, না কি ‘তুই’ বলাতে জানি না, ঝট করে তারা আমার দিকে তাকালো একদম স্থির দৃষ্টিতে এবং অবিচল কণ্ঠে বললো, ‘তোমাকে বিয়ে করার কথা বলবে আজ তুমি, তাই না?’
এত অসহায় কখনো লাগেনি এতটা বয়সে, আমার ঘাড় নিজের অজান্তেই কেমন শক্ত হয়ে গেল, কিছুতেই আমি রাস্তা থেকে চোখ সরাতে পারলাম না। যে কেউ আমাকে দেখলে ভাববে আমি রাস্তার মসৃণতা বা এর গড়নের উপর কোন গবেষণা করছি।
গত কয়েকমাসের খুটিঁনাটি সব স্মৃতি এক ঝলকে আমার মাথায় ঝাঁপ দিয়ে পড়তে থাকলো।
তারা একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছিলো যখন আমি হঠাৎ করে বললাম কেনসাস ইউনিভার্সিটিতে একবছরের জন্যে এমএস কোর্স করতে যাব। তারা আমার এই সিদ্ধান্তে একেবারে হতবাক হয়ে গিয়েছিলো, কারণ তখন আমরা এতবছরের সম্পর্কের পর মাত্র ভাবছি একসাথে থাকা শুরু করব, বিয়ে করব, তারার ইচ্ছেমতো ওর নিজের একটা বাচ্চা হবে। যদিও আমি লেসবিয়ান যুগল হিসেবে বাচ্চা নিয়ে বন্ধুবান্ধবের সামনে আর নাটক করতে চাইনি, বাচ্চা না নেয়ার ব্যাপারে আমার একধরনের একগুয়েঁমি ছিল। অন্য সবাই নিচ্ছে আর এটা এখন এখানে খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু আমি আমার স্বপ্নের এত কাছাকাছি এসে একেবারে উন্মাদ বলতে যা বুঝায় তাই হয়ে গেলাম। তারা নিজের মনকে পোষ মানানোর আগেই আমি “মাত্র তো এক বছর!” – এই একটা কথা বলে সত্যি সত্যি কেনসাস চলে এলাম। আমার চলে আসার সময় ওর ঐ নীরবতা, পাথরের চোখে চেয়ে থাকা...সব পেছনে ফেলে আমি উড়াল দিলাম।মনে মনে ভেবেছি এক বছর এমন আর কী! সবই ঠিক থাকবে। কিন্তু যখন ফিরলাম তখন আর কিছুই আগের মতো নেই।

যাবার পর থেকে তারা কোন যোগাযোগ করলো না, একদম চুপ। নিজের অপরাধী মনে নিজে দগ্ধ হতে হতে আট মাসের মাথায় যখন বুঝলাম তারা আমাকে সত্যি ছেড়ে যাচ্ছে তখন আমি আর পারলাম না। আমি আমার(!)তারার কাছে আবার উড়াল দিলাম।এসে দেখলাম তারা সাজিদের বেবী পেটে নিয়ে ঘুরছে, আর আমাকে সেই পাথর চক্ষুর দৃষ্টি দিয়ে নীরবতার চরম শাস্তি দিচ্ছে।
আজকে শিকাগোর পথে লং ড্রাইভে বেরিয়েছি গত দু’মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর। দিনের পর দিন আমি আমার অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করেছি সেইসাথে তারাকে বলেছি বারবার আমার বুকের গভীরে আজ কি শূন্যতা ওকে ছাড়া, সেই এমএস আমি ছুড়েঁ ফেলেছি মাঝপথে, শেষ করিনি, আমি আর কিছু চাই না, শুধু তারাকে আবার চাই। নিজের বোকামীর কথা যতভাবে পারা যায় স্বীকার করেছি। এখনো জানি না তারা আজ কি বলবে!

নিজের এতদিনের আবেগ, কান্না, অপরাধবোধ, তারার প্রতি ভালোবাসা সব কেমন যেন আমাকে বিবশ করে দিচ্ছে। এত ভয় অনেকদিন লাগেনি, ফাইনাল পরীক্ষার রেজাল্টের দিন যেমন লাগে আমার এখন তেমন লাগছে!

নিজের অবশিষ্ট সাহস এক করে তারার দিকে শেষ পর্যন্ত আমি তাকালাম......পৃথিবীর সব ভয় সেই দৃষ্টিতে জড়ো হওয়া, চোখ সামনের রাস্তার দিকে....শুধু দেখলাম রডে বোঝাই এক বিশাল ট্রাক আমাদের গাড়ির সামনেটা পুরো ঢেকে ফেলেছে, আমি কিছুতেই আমাদের গাড়ির সেই রডের উপর আছড়ে পড়া ঠেকাতে পারলাম না..........

(মূল : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন্ধু অনুবাদ : আফসানা কিশোয়ার)
আমার বিশ্বাস ইংলিশটা পড়লে সবার আরো ভালো লাগবে। তাই সেই ভার্সন দিলাম

I looked at my side and saw her in a perplexed face with pressed lips, I was just wondering how to ask her hand for marriage, and how is she going to respond. A trickle of sweat dropped over my eyebrows. Just at that moment, she moved her face to me and said, ‘why are you sweating?’ I kind of nervously smiled and said, ‘oh, it’s kind of hot here, ain’t it? Let’s roll down the window of the car a bit’. While I was pressing the button, found that her seat-belt is not fastened, I found with such an advanced stage of pregnancy, it might be uncomfortable for her to sit for such a long time with the seat belt on. But she is in the front seat, and I felt really worried, coz it’s a rough highway. Putting my hands right over the steering, I looked sideways at her and said, ‘Tara, please fasten your belt’. She suddenly looked at me with her fixed eyes, and told me, ‘you are going to ask me to marry you today, aren’t you?’ I got really stiff in my shoulders, and couldn’t move my eyes from the road. I was looking at the road, so keenly, as if I am doing a research on the quality check of the highway itself! All pieces of last few months came rushing into my head. How she was shattered by my sudden desperate decision of going to University of Kansas, USA for the year long Ph.D, while we were in the middle of moving together and planning for marriage, and she about to make me crazy with her desire to have a baby of her own, and I, being too stubborn of not making a scene within our friends to get a baby being a lesbian couple…Though it had become quite a common thing surrounding us! So, in the middle of all these, when I got this tremendous dream opportunity of mine to complete my Doctorate in my dream university, she couldn’t gather herself to believe that I m leaving her for a year, to me it was “just 1 year”! And Tara said just nothing…she seemed to be, like stoned… And I flew! Thinking, everything will fall into places, when I return, but nothing did.

After 8 months of guilt-filled mind and complete silence from Tara, I became wild with the thought of her leaving me and I came back. Only finding Tara to be pregnant with Sajid’s kid and stoney eyes over me. And here we are, in a long drive towards Chicago together, after last 2 months of relentless persuasion of making her understand not only my unwavering deep rooted feelings for her but also my sincere-most regret of making such a stupid move at such a time! And I still don’t know, what will be her answer today.

And here I was, having a rush of emotions within my heart and the feeling of a nervous student before the result day!

Finally I gathered all my courage, looked at her……………………only to see the scariest look in her eyes towards the road ahead and the next thing I found was, a huge truck with steel rods stuck just ahead of my car and I had no way to stop smashing towards it…………………………………………………………………

ইতিমধ্যে http://www.amrabondhu.com/meghkanya/3025 এখানে প্রকাশিত। যারা পড়েছেন আর না পড়ান জন্য সতর্কসংকেত<img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29371850 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29371850 2011-04-29 16:40:55
আমার বিষবিদ্ধ হৃদয়ে বিষণ্নতার খড়গ নাচন.... জানি না এ বয়সে এসেও বিস্ময় জিনিসটা আমাকে মানায় কি না!
আমি এখনো অপাঙ্গে বিস্মিত হই।
আমার বিস্ময় দেখে আমার পরিচিতজনরা আমাকে সান্ত্বণার হাসিতে শান্ত রাখার প্রয়াস পান।

আমি একবুক বিসম্য় নিয়ে দেখি "সালাহউদ্দীন কাদের চৌধুরী মুক্তি পরিষদ" গঠিত হয়েছে। সেখানে মিডিয়া কাভারেজ আছে। তার মুক্তির জন্য না কি চট্টগ্রামে কি কি সব ও হয়েছে। এ মানুষের পেছনে মানুষ রাজনীতি করে? এ লোককে ও কেউ বাবা ডাকে?? বাংলাদেশের কোন নারী এর বউ, এর সাথে দাম্পত্য যাপন করে?এর ঔরসে মেয়ে সন্তান জন্মেছে? সেই মেয়ে এই লোককে "বাবা" বলে সম্বোধন করে?? এ আমার নাদান মনের এক শিশুতোষ বিস্ময় হয়তো!

সামুতে লেখালেখি শুরু করার পর দেখেছি মানুষ ধর্ম আর জামায়াত কে কিভাবে এক করে। এ নিয়েও আমার বিস্ময়ের শেষ নেই। নিজামী, গোলাম আযমদের সমর্থকদের আস্ফালন তো প্রতিদিন সহ্য করেছি, করছি। নিজামী, গোলাম আযম, মুজাহিদ, সাঈদী, বাচ্চু রাজাকার এদের ও পরিবার আছে??এদের নাতি নাতনি হয়?তাদের আদর করে?কেউ না কেউ এদের কাছে নিজের মেয়েকে বিয়ে দেয়...কোন নারী তার গর্ভে এদের সন্তান ধারণ করে?? আমি বিপন্ন বিস্ময়ে এসব ভাবি...তারপর মনে হয় পৃথিবীতে সব সম্ভব।

আমিনীর মতো লোক না কি মুফতি...নিজামী মাওলানা, সাঈদী আল্লামা...

আমাদের নতজানু সরকার ঘুম পাড়ানি গানের মতো গায় "কোরআন সুন্নাহ বিরোধী কিছু করা হবে না"....আমাদের নারী নেত্রীরা মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকে। আমরা হরতালে কোরআন হাতে নিয়ে নামার হুমকি দেই।
আমরা হিযবুত তাহরী করি, আল্লাহর দল করি...মায়ের জন্য কাঁদি...আমার যে মেয়েটা কাল মা হবে সে ধর্ষিত হলে তাকে জেনার জন্য শাস্তি দেই...তাকে তার অর্জিত সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার ক্ষমতা দেবার কথা সংবিধানে না কোন নীতিমালায় বলা হলে আমরা ইসলাম গেল বলে রব তুলি।
আমরা সেই ভারতবর্ষের অংশ যেখানে তেত্রিশ কোটি দেবদেবীর স্থান, মা দুর্গা থেকে শুরু করে কালির পূজা হয়, যে ভূখন্ডে প্রচলিত ইসলামের শেষ নবী এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন "মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের বেহেশত"-কিন্তু সেই ভূখন্ডেই আমরা ধর্মের নামে মা কে জীবন্ত চিতায় তুলতে ও দ্বিধা করি না।

এই পোস্ট দেয়ার সাথে সাথে যারা জীবনে পশ্চিম দিকে আছাড় খায়নি তারাও ঝাঁপিয়ে পড়বে, ব্লগের রেটিং বাড়বে।

খোদা নাখাস্তা আমি যদি কোন সাকাচৌ এর আত্মীয় হতাম, লজ্জায় কোনদিন বলতাম না। যদি এরকম লোকের মেয়ে হতাম পিতাকে হত্যা করতে আমার হাত কাঁপতো না, যদি হতাম স্ত্রী তার সন্তান আমি গর্ভে ধারণ করতাম না, যদি সাধারণ মানুষ হতাম তাকে রক্ষা করার জন্য পরিষদ গঠন করতাম না।
আমি একজন নিজামীর কেইসও লইয়ার হলে লড়তাম না।
আমার আজন্মলালিত ঘৃণা রাজাকারদের প্রতি, দেশের প্রতি ভালোবাসা, আমার জন্মের শুদ্ধতার কসম আমি বিষবিদ্ধ হৃদয়ে এসব বিস্ময় নিয়ে ধীরে ধীরে বিষণ্নই হতে থাকি।
কেউ ভাবলো না আমাদের কথা??
আমরা কি চাই, জানতে চাইলো না কেউ?শুধু আঘাত পাবো এ জন্যই হাজার বছর ধরে পুরুষের পুরুষরূপী নারীদের এভাবে জন্মের ধারা অব্যাহত রাখলাম আমার কষ্টচর্চিত গর্ভে??
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29356537 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29356537 2011-04-04 00:10:56
কবিতা বিষয়ক আমাদের আপ্তবাক্য উপন্যাস বা ছোটগল্পের পঠন পাঠক বিশেষে এক বা দু'রকম হতে পারে। একই কবিতার পাঠক ভেদে পাঠ যেমন ভিন্নতা পাবেই তেমনি পাল্টে যাবে অর্থ। তাই বলে কথায় কথায় মানুষ যখন বলে আমি কবিতা বুঝি না ভাই, কবিতা পড়ি না ভাই তখন সেইসব মানুষের প্রকৃত শিক্ষা নিয়ে আমার ভেতর সংশয় বাসা বাঁধে। প্রকৃত শিক্ষিত ব্যক্তি সত্যিকারার্থে সাহিত্যিক বিচারে যে পদ্য কবিতা হয়েছে তা পাঠের পর বুঝবেন না এ আমার কাছে এক গোলক ধাঁধাঁর জন্ম দেয়। খুব কাছ থেকে আমি মানুষের দিনযাপন দূরবীন চোখে দেখি। এরা কবে লিখাপড়া শেষ করেছে তার হিসেব করে। একটা মানুষ একটি মাস্টার্স ডিগ্রী হাসিল করলে কিভাবে তার পড়ালেখা সমাপ্ত হয় তা আমার বোধগম্য হয় না। যে যে পেশায় নিযুক্ত সেই পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট কোন বিষয়ও তারা তেমনভাবে ছুঁয়ে দেখে না। পত্রিকা মনোযোগ দিয়ে ক্বচিৎ পড়ে। খুব অল্পসংখ্যক মানুষ বই পড়ে। শেষ কবে একটি বই পড়েছে বলতে পারে না। গান বলতে হালে চালু হওয়া রেডিও গুলোর জগাখিচুড়ি প্লে লিস্ট। সবকিছু কেমন ভাসা ভাসা...দেখি ভাবি। আবার ভাবনা ছেড়ে দেই। নিশ্চয়ই সব মানুষ এমন হয়ে যায়নি সেটাও আমি জানি। কিন্তু গড়পড়তা গভীরতা বলতে তেমন কিছুই যেন কারো মাঝে নেই। কি অম্লানবদনে বলে ফেলে আমি কবিতা বুঝি না। কবিতা না বুঝলে আপনি আপনার ভাষা বুঝেন না, নিজের ভাষা না জানলে অন্য কোন দেশের ভাষাও আপনি ঠিকভাবে জানেন না। আপনার প্রাপ্ত শিক্ষাতে ঘাটতি রয়েছে বা আপনি ফাঁকিবাজি করে পড়াশোনা করে জাস্ট সার্টিফিকেট বগলদাবা করেছেন- যদি একথাগুলো বলি কেমন হয়??

"সমস্ত কিছুই ভাঙছে নদীতীর নির্জন কোমল কাঁচ, হীরের শরীর
ভেঙে যাচ্ছে মাটির কলস গাছ ভাঙছে
গাছের শরীরে কারো কুঠারের শব্দ শুনে আঁতকে উঠছে কান
এইভাবে বহুকিছু ভেঙে যাচ্ছে," (আবুল হাসান)

এই কবিতার চরণ ক'টির অর্থ আমার কাছে একরকম আপনার কাছে আরেকরকম হতে পারে। তাই বলে কি বলা সাজে 'কবিতা বুঝি না"??
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29345013 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29345013 2011-03-15 20:37:09
ধর্মের নামে নারী শোষণ-চলছে চলবে শুধু একটা বিস্ময় সবসময় মনে জাগে একটা খসড়া পাস হবার সাথে সাথে কিভাবে ইসলামী (!) ঐক্যেজাট নামক একটি সংগঠন হরতাল ডেকে ফেলতে পারে?
এরা কখনো যৌতুকের বিরুদ্ধে কথা বলে না, হেনার মতো শিশু ধর্ষিত হয়ে মারা গেলে এদের ইসলামী দিল কেঁপে উঠে না, দিনের পর দিন বাচ্চা বাচ্চা মেয়েরা যৌন হয়রানির শিকার হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিলে এরা সরকার প্রশাসন আইন শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীকে চাপের মুখে ফেলার জন্য হরতাল বা বিক্ষোভের আয়োজন করতে পারে না। কিন্তু নারীর জন্য ভালো উদ্যোগ গৃহীত হবার সম্ভাবনা দেখা দিলে এরা রাজপথে, আধুনিক শিক্ষানীতি চালু হলে এরা রাজপথে, ফতোয়া নিষিদ্ধ হলে এরা রাজপথে- এরা কি কারো গর্ভজাত মানুষ না কি কুকুর হাঁটতে হাঁটতে এদের রাস্তাতেই ফেলে দিয়ে গেছে?
বড় বিসম্য় জাগে। এধরনের মানুষ ও জন্মায়, এরা স্বাধীন দেশে রাজনীতি করার সুযোগ পায় ভেবে কেমন যেন এলোমেলো লাগে। মনে হয় ম্যাজিক দেখছি। কানের মাঝে কিছু শব্দ ব্যঞ্জনার সৃষ্টি করে- দুঃখ পাওয়ার কিছু নেই অমুকের, আমরা ক্ষমতায় এলে তমুকের হৃত সম্মান ফিরিয়ে দেব। পূর্ণিমার সম্মান কে ফিরিয়ে দেবে? যাকে ২০০১ এর নির্বাচনের পর গণধর্ষণ করা হয়েছিলো?
আমাদের কারো কোন সম্মান নেই। আমাদের অধিকার নেই। আমরা কতিপয় 'না মানুষ' সার্কাস দেখি। ইসলামী (!) ঐক্যজোট হরতাল ডেকে যায়। আমাদের চাঁছা ভ্রুর নীচে রঞ্জন রঞ্জিত অধরে এদের জন্য কোন তিরস্কার গর্জে উঠে না। কেবল তারা আমার দুষ্কর্মের দোসর বলে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29341732 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29341732 2011-03-10 13:28:39
টেকি সমস্যায় জর্জরিত প্রাণ আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদেশে বসবাসরত সুহৃদদের সাথে সহজে কথা বলা। এ কারণে অনলাইন থেকে nymgo নামে একটা নেট টু ফোনের ১০ ডলারের ক্রেডিট ও ক্রয় করি। কিন্তু মোবাইলে সেই সফটওয়্যার ডাউনলোড হলেও ইনস্টল হয না।
ইয়াহু মেসেঞ্জার দিয়ে শুধু মেসেজ আদানপ্রদান করা যায়। কল করা যায় না।
মেইল চেক করা আর মাঝে মাঝে ফেইসবুকে ঢুকা ছাড়া ঐ ফোন দিয়ে আমি আর কিছুই করতে পারছি না।
আমার মনটা খুব খারাপ।
আমি প্রযুক্তির জগতে এখন বৃদ্ধ একজন।
মোবাইলটা কিনেছি ২মাস। ২মাস চার্জ দিয়ে খালি তাকে সচল রেখেছি। ইচ্ছা করছে বিক্রি করে দিতে। কিন্তু কিভাবে করব বিক্রি!
সবাই কত কমদামী মোবাইল দিয়েও সব করছে!
আমি প্রযুক্তি সম্পর্কে অজ্ঞ থাকাতে ধরা খেয়ে বসে থাকি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29286896 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29286896 2010-12-10 11:59:52
ঢাকা আমার ঢাকা, তোমাকে এভাবে মৃত্যুর দিকে হাঁটতে দেখতে বড্ড কষ্ট হচ্ছে (শেষ কিস্তি) যে দেশের মানুষ সব খায়, মানুষের মাংস ছাড়া এখন পর্যন্ত
Click This Link
Click This Link

রাজপথে আমার চলাচল সত্যিকারার্থে শুরু ১৯৮৭ সালে। বাসা থেকে অনেকদূরের স্কুলে ভর্তি হবার সুবাদে। আম্মা আব্বা যেদিন প্রথম সেই দূরের স্কুলে মানে মণিপুর স্কুলে যাচ্ছি সেদিন বলে দিয়েছিলেন রাস্তা পারাপারের নিয়ম কানুন। জেব্রা ক্রসিং দেখা। ডানে তাকানো, ফের বামে তাকানো। লাল সিগন্যাল পড়লে পার হওয়া, নিতান্ত রাস্তা পার হতে না পারলে কর্তব্যরত ট্রাফিককে বলা-আংকেল আমাকে একটু রাস্তাটা পার করে দেবেন?
টিভিতে চ্যানেল ছিল একটা, সেখানে এসব জনসচেতনতামূলক কথা তখন বলা হতো, জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হওয়া, সিগন্যাল মেনে চলা।
আমরা বড় হতে হতে অনেক জায়গায় ওভার ব্রীজ তৈরী হয়েছে, এখনো হচ্ছে।নিতান্ত অপারগ না হলে আজ পর্যন্ত যেখানে ওভার ব্রীজ আছে সেখানে নীচে দিয়ে রাস্তা পার হই না। কারওয়ান বাজারের সেই ভয়ংকর আন্ডার পাস বা গুলিস্তানের আন্ডার পাস ও আমি ব্যবহার করেছি। আমি হয়তো শাসন মানি না কিন্তু আইনের প্রতি বরাবর শ্রদ্ধাশীল ছিলাম আজো আছি।
এটা হয়তো আমার ঢাকা শহর নিয়ে লেখা শেষ কিস্তি- এখন যে কথাটা বলব তাতে আমার শুভানুধ্যায়ীরা আমাকে জানি অনেকভাবে সতর্ক করবেন। দিনকাল কত খারাপ সে নিয়েও বলবেন।তথাপি আমার ক্ষুদ্র সামর্থ্যে এর চাইতে ভালো আর কিছু মাথায় আসেনি।
আমি একটা গাড়ি নিয়ে অফিসে যাই। সেই গাড়ীতে যাত্রী বলতে দুজন এবং আমার ড্রাইভার। কখনো কখনো বাসার অন্য কেউ ক্বচিত আমাদের মতিঝিল টু উত্তরা যাত্রার সহযাত্রী হয়।
আমরা প্রতি সকালে বাসের জন্য অপেক্ষমাণ নারীদের ২-৩জনকে লিফট দেই। কখনো কেউ অনেক ধন্যবাদ দেয়। অনেকে টাকা সাধে। কেউবা ভয়ে প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু আমরা এ কাজটুকু করি। মানুষের যে ভয়ংকর কষ্ট প্রতিদিন রাস্তায় দেখি তা লাঘবের সাধ্য আমার নেই। আমি শুধু নিজের মনের কাছে দোষী হবার হাত থেকে বাঁচার জন্যে এ কাজটুকু করি।জানি যে কোনদিন যে কোন বিপদ ঘটতে পারে, তবু আমরা করি এ কাজটুকু।
পত্রিকান্তরে জানতে পেলাম ঢাকা শহরে সাড়ে ছ হাজার নতুন ট্যাক্সি ক্যাব নামানো হবে। ওগুলোর কি ডানা থাকবে? কেন সাড়ে ৬ হাজার পাবলিক ট্রান্সপোর্ট দেয়া হবে না? পাবলিক ট্রান্সপোর্ট থেকে তেমন করে দলীয় কর্মীদের পকেটে টাকা যাবে না সে কারণে?
যে কোন শুভ উদ্যোগের টুঁটি চেপে মেরে ফেলতে আমরা বেশ দক্ষ। আমরা জমি দখল জানি, নদী দখল জানি, খাল, মানুষ সব দখল জানি। শুধু জানি না দখল কিভাবে মুক্ত করা যায়। আমরা কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি করতে জানি। আমরা ভয়াবহভাবে ধুঁকতে থাকা ঢাকায় আবার নতুন করে চীনের তৈরী ব্যাটারী চালিত কিছু খেলনা ছেড়ে দিতে জানি। আমরা সাইকেল চলার জন্য লেন করতে জানি না। আমরা জানি না এমন ব্যবস্থা করতে যেন রামকৃষ্ণ মিশন লেনের বাচ্চাটাকে বসুন্ধরার নর্থসাউথে পড়তে আসতে না হয়।
আমাদের দুটা রুম হলে একটা ইউনিভার্সিটি হয়, সেসব থেকে ১০লাখের উপর টাকা দিয়ে আমাদের গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট হয় কিন্তু নিজের নাম লিখতে গেলেও আমার ভাবি বানানটা কি হবে। আমাদের সমান্তরালে অসমতার শিক্ষা ব্যবস্থা চলে - আমার দেশে দিল্লী পাবলিক স্কুলের শাখা হয়। আমার ঢাকা শহরের মুনি ঋষিরা অফিস টাইম চেঞ্জ করে জ্যাম কমানোর কথা ভাবেন। একবারো বলেন না যে যেখানে আছেন সেখানেই কাজের ব্যবস্থা করা যাবে। কাউকে খুলনা থেকে এসে ঢাকার কলেজে পড়তে হবে না।
আমাদের মুনি ঋষিরা বলেন না আমাদের মূল এবং একমাত্র সমস্যা আসলে জনসংখ্যার বেসুমার বেড়ে যাওয়া। জনসংখ্যা সম্পদে পরিণত করার দিন ও শেষ। কারণ এখন সবকিছুতে আমাদের আবার ইমপোর্ট করা ধর্মটা বেশ জোরালো কি না!তিন পুরুষ আগেও পুরো ব-দ্বীপ ছিল সনাতন ধর্মানুসারী, এখন তারা এমন ইসলাম পসন্দ হয়েছে যে বড্ড হাসি পায়। সংস্কৃতি মানুষের প্রথম পরিচয় ধর্ম নয় এটা বুঝেই না। তোমার বাঁচার জায়গা নেই। খাদ্য নেই। তোমার একজন অতিরিক্ত সন্তান অন্য আরো দশজনের জন্য বোঝা- তুমি অন্যের স্বার্থে হলেও ২টার বেশি বাচ্চা নিও না বলা যাবে না- কারণ এটা ধর্ম এর বিরুদ্ধে যায়। হায় মানুষ!
ঢাকার মৃত্যু এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ধর্ম এ মৃত্যু ঠেকাতে পারবে না। আমার দেশের পরিচালকরা তেল দিতে দিতে বঙ্গোপসাগরের নীচে থাকা তেল ও মনে হয় শেষ করে ফেলবেন কিন্তু যা করলে আমরা জনগণ তাদের ভালোবাসব তা তারা করবেন না। এয়ারপোর্টের নাম পরিবর্তন হবে এয়ারপোর্টের সেবার মান অপরিবর্তিত থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ মূর্তি তৈরী হবে – আমরা বলি অন্তত মুখমন্ডলটা স্ক্রু সিস্টেম করেন তা হলে আগামীতে শুধু মাথাটা নামিয়ে ফেললে খরচ কমবে।আরেকজনের মাথা বসিয়ে দিলেই হবে।
ঢাকা শহরে প্রতিদিন ট্রেন সিগন্যালের কারণে সর্বমোট ৭ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। আবক্ষ মূর্তি পরে বানান আপা, প্রতিটা রেল ক্রসিং এ ওভার পাস দেন। একটু বাচিঁ।ডুলাহাজরা সাফারী পার্কের নাম কেন বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক করতে হবে? বঙ্গবন্ধু কি সাফারী পার্কে থাকার স্বপ্ন দেখেছিলেন? এ মানুষটাকে আর কত নীচে নামাবে চাটুকাররা? কবে বুঝবেন আমাদের আপা? তার এসব নষ্ট লোকদের কবে লাথ্থি মেরে বের করবেন?
স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটিগুলোকে বাধ্য করেন নিজস্ব বাস ব্যবহার করতে।
ন্যূনতম কিছু মৌলিক অবকাঠামো ছাড়া প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির অনুমোদন দেয়া যাবে না।
সবার উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন নেই। ভোকেশনাল পড়াশোনা বাড়াতে হবে।
এই মুহূর্তে থেকে ফ্ল্যাট বানানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা দরকার।
ক্যান্টনমেন্ট এর নিরাপত্তার নামে যেসব রাস্তা জোরপূর্বক বন্ধ সেগুলো খুলে দিতে হবে। ক্যান্টনমেন্ট এর মাটির উপরের রাস্তা দিয়ে যেতে না দিলে মাটির নীচ দিয়ে যেতে দেন। এতবছর বয়সে দেখিনি ক্যান্টনমেন্ট এ ঢোকার সময় যে অহেতুক চেক করে সেই চেকিং এ কিছু আজ পর্যন্ত ধরা পড়েছে। জলপাইদের ফালতু সুবিধা দেয়া বন্ধ করতে হবে।কেন ওদের কে জমি দিতে হবে?জলপাইরা দেশটাকে আজ এ অবস্থায় এনেছে তাদের শুধু শুধু এত সুবিধা দিয়ে লাভ নেই। পুলিশ বাহিনীকে আধুনিকীকরণ এর কোন বিকল্প নেই। রাস্তায় যে ট্রাফিক দাঁড়ানো তাকে আট হাজার টাকা বেতন দিবেন আর জলপাইকে বাংলাদেশ লিখে দিবেন এসব বৈষম্য ভালো না।
মাটির নীচ হতে পানি উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। নৌপথ এবং রেলপথের সমন্বিত ব্যবহার পারে সড়ক পথের উপর চাপ কমাতে।
সড়ক পথে যান চলা মানে দলীয় পান্ডাদের পকেট ভারী হওয়া, ৫বছর আমি পরের ৫বছর তুমি করতে করতে ঢাকা একটা সিটি অব হররে পরিণত হয়েছে। কি করবেন সেইসব কথা আর শুনবার ধৈর্য্য নেই এখন ফলাফল দেখতে চাই।
আমার দেশে এখন ১৭কোটি লোক। ১০টাকা করে দিলেও ১৭০ কোটি টাকা। আমরা সবাই দিচ্ছি। সরকারের সব ট্যাক্স ঠিকমতো দেই, আমার কোন কালো টাকা নেই। আমি যাকাত দেই। আমি উতসে কর দেই। সবকিছুর বিনিময়ে আমি শুধু আমার পরিবার পরিজন নিয়ে একটু ভালো থাকতে চাই। তেমন মেডিক্যাল পাশ করা ডাক্তারের আমার প্রয়োজন নেই যে পেটে ব্যথা হলে এপেনডিক্স কেটে ফেলবে ১০হাজার টাকা অপারেশন চার্জ পাবে বলে। এসব তেলাপোকার বাচ্চার মতো আগাড়ে বাগাড়ে গড়ে উঠা স্কুল কলেজ হাসপাতাল ইউনিভার্সিটি এই মুহূর্তে বন্ধ করা হোক। অনেক শুনেছি স্বপ্নের কথা – a vision without a task is a dream, এ অবস্থার অবসান চাই।
ঢাকাকে বাঁচানো মানে এখন আসলে বাংলাদেশকে বাঁচানো, আমার দেশের প্রাণ ভোমরা তো রাজধানীতেই। স্যাটেলাইট শহর নয়, জলপাই আবাসন নয়, সাড়ে ছ হাজার ট্যাক্সি নয়, উড়াল সেতু, পাতাল রেল নয়, রাজউকের যত্রতত্র গড়ে তোলা মডেল টাউন নয়, ভূমিদস্যুদের অযাচিত আস্ফালন ও পরবর্তীতে দলীয় কোষাগারে জমা দেয়া উতকোচ নয়-ঢাকাকে বাঁচাতে বুকের গভীরে একটু ভালোবাসা দরকার।
আমাদের এ শহরে এখন সব পাওয়া যায় “ভালোবাসা” পাওয়া যায় না।
আপনার আমার বৃদ্ধ পিতামাতা যেমন জীবনের শেষ প্রান্তে সেবা চান, যে সেবা পেলে তাদের আয়ু বেড়ে যেতে পারে তেমনি ঢাকার এখন গভীর অসুখ মানুষের মাত্রাতিরিক্ত ভারে, তার বড্ড সেবা প্রয়োজন।
কে দেবে?
আমি দেব, ব্যর্থ হলে পরাজয় মেনে নিয়ে পালাবো। ধরবেন আমার হাতটা, আপনি ধরলেই ঢাকার “আমি” “আমরা” হয়ে যাব।
তবে তাই হোক, “ভালোবাসা”র গান গাই সাদা গোলাপের উপর রক্ত ঢালা নাইটিংগেল পাখিটির মতো – তবু আমাদের ঢাকা বাঁচুক।

(শেষ)

আফসানা কিশোয়ার

***ব্যক্তিগত ক্ষমা প্রার্থনা – একদম নিজের কথা লিখেছি, নিজের বিশ্বাসের কথা। অনেকের সাথে নাও মিলতে পারে। মনের গভীর থেকে বক্তব্য এসেছে কোন দল মত বিবেচনায় এ লিখা নয়। কেউ যদি কোন বক্তব্যে আহত হন, সে দায় একান্ত আমার।
রাস্তায় বসে থাকতে থাকতে বাসায় ফিরতে এত দেরী হয়ে যায় যে গুছিয়ে সময় নিয়ে কিছুই লিখা হলো না।
আমার এই এলোমেলো লিখা যারা পড়েছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই।
একটাই অনুরোধ আপনার মতামত জানান, আমরা কি করতে পারি তা নিয়ে সম্ভব হলে যার যার অবস্থান থেকে চলুন আগামীকালই কাজ শুরু করি।
আবারো ধন্যবাদ

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29264218 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29264218 2010-10-31 00:26:32
শলাকায় শলাকায় বিদ্যুৎ অনেকটা কাঁচের উপর পড়া ত্রিকোণরশ্মি যেন!
বহু মহড়ায় সাজিয়েছিলাম দুঃখের ইতিহাস,
তোমাকে জানাবো বলে- তোমার কাছে যেতেই,
পরস্পরের ফিসফাস্ শুনতে পারার নৈকট্যে আসতেই,
মুখের ভেতর সাজানো দাঁতেরা যখন শব্দ নিয়ে
পিয়ানোর মতো বাজবে বলে হা করেছে,
তখনই জানলাম তুমিও পাপকে জানো,
তোমারো আছে স্খলনের অস্থির আঁকিবুকি -
কচ্ছপের খোলে মাথা ঢুকিয়ে আমি
তোমার কনফেশনের লেজারাস হলাম তন্নিষ্ট মননে;
তবে সখী তাই হোক, শলাকায় শলাকায় বিদ্যুৎ
পুড়ে যাক পাপের অপরাপর দেয়াল,
লতানো স্বর্ণলতা হয়ে
তোমার বৃক্ষদেহে আমি স্থাপন করি স্পর্শের আশ্বাস;
একদিন তো আসবেই সময় শুদ্ধ আড্ডার,
আমাদের তীর্থ তো খবর রাখে না কাশী-গয়া-মক্বা-মদীনার।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29257692 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29257692 2010-10-19 13:10:23
আমার নখে জীবনের রং হাজার আলো জ্বলা সভা মালিন্যে ঢেকে যায় আত্মসঙ্গীর অনুপস্থিতিতে।
অকিঞ্চিৎ মোমের কাঁপা শিখাও লক্ষ টুনিবাল্বসম আলোকিত প্রান্তর
চোখের সামনে মেলে ধরে বিস্তৃত জল রাশির নাচন নিয়ে-
এর পেছনের সম্পর্কের সুতোটাকেই তবে প্রেম বলে!
ফাতনায় আটকানো মাছের মতো ঝুলে থাকি,
শিউরে, দিয়ে উঠি জলজ ঘাঁই, বেলীর মালা যেন জড়িয়ে আছে
পুরোটা অস্তিত্ব;
সে আছে না থাকার মাঝে,ঈশ্বরীর ভদ্রাসনে।
এখন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেই না "ভালোবাসা কারে কয়" বলে;
যাতনা ছাড়া আত্মার বাঁধন হয় না কি!
দু'মনের বিরহেই গড়ে ওঠে সংসার কিংবা সমাধি।
অগ্নিস্বাক্ষী নেই,নেই সই-সাবুদ
বুক ঠুকে নির্বিবাদে আবারো বলি -
তুমি ই আমার দূর্গতিনাশিনী অথবা স্রষ্টা মাবুদ।
হৃদয়ের কাঠ্‌গড়া ছাড়া কোন বিচারেরর ধার ধারি না;
ছায়া হয়ে ধরে আছো এই ছোট্ট প্রাণের কড়ে আঙুল,
আমার নখে ছড়ানো তোমার সুবাসে গেঁথে যাওয়া
'জীবনের রং' -
এ যাত্রা জীবন বিমুখ হাঁটা হলো না তো!
তুমি থাকো শরতের ঝকঝকে আকাশ হয়ে,
আধখানা চাঁদ-শিশু তারাদের প্রতিবেশী হয়ে,
অহর্নিশ মনের বসতভিটের ছাদ হয়ে।

আমি "আমরা" হবার হেমন্ত স্বপ্নে বিভোর হই
হয়তো বৃহৎ ভুলের মহাকাব্য লিখব বলেই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29256813 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29256813 2010-10-17 19:59:13
ঢাকা আমার ঢাকা, তোমাকে এভাবে মৃত্যুর দিকে হাঁটতে দেখতে বড্ড কষ্ট হচ্ছে (২য় কিস্তি) যে দেশের মানুষ সব খায়, মানুষের মাংস ছাড়া এখন পর্যন্ত

Click This Link

মীরপুর থেকে আর যাই হোক যাতায়াত ব্যবস্থাটা যে কোন জায়গার চোস্ত ছিল। ভালো বলছি এ কারণে ডাইরেক্ট বাস ছিল সায়দাবাদ যাবার, গাবতলী, গুলিস্তান এসব জায়গায় যাওয়াও সহজ ছিল। রোকেয়া সরণী এরশাদের এক অবিস্মরণীয় দান।চীনের দুঃখ যেমন হোয়াংহো তেমনি মীরপুরবাসীর দুঃখ ছিল কল্যাণপুর ঘুরে যাওয়া। কল্যাণপুরে বাঁশের এক আড়ৎ, বাঙলা কলেজের ঐখানকার জমাট বাঁধা অন্ধকার কতজনের যে সর্বস্ব কেড়ে নিতে সহায়তা করেছে!৯৭ তে ইউনিভার্সিটিতে উঠতে উঠতে চালু হলো গেটলক সার্ভিস। ভাড়া একটু বেশি। কিন্ত ডাইরেক্ট সার্ভিস।
৮৭ তে যখন প্রথম দোতলা বাস দেখলাম বিআরটিসির তখন ক্লাস ফোরে পড়ি, মনিপুর স্কুলে যাই লোকাল বাসে করে। মনে পড়ে আমরা যে কয়েকজন একসাথে যেতাম তারা দোতলা বাস আসার পর আর কিছুতেই নর্মাল মিনিবাসে উঠতে চাইতাম না। একটু দেরী হলেও দোতলা বাসের জন্যে অপেক্ষা করতাম।
মীরপুরকে সবাই সে সময় ও সবচাইতে বড় ক্রাইম জোন হিসেবে দেখতো।
দিন যেতে যেতে ঘনবসতির মীরপুরে হরেকরকমের বাস নামলো। মার্কেট গড়ে উঠলো। আগে যে কোন কেনাকাটায় আমরা যেতাম নিউমার্কেট, পরে কম প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো মীরপুর থেকেই কেনা হতো।
জানি না মীরপুরবাসীর পল্লবীর হাবীব বুক হাউজের কথা মনে আছে কি না! প্রতি মাসে একবার ধর্না দিতাম, তিন গোযেন্দা, রহস্য পত্রিকা, কিশোর ক্লাসিক, ওয়েস্টার্ন,রোমান্টিক এসব বই এর জন্য। মীরপুর ছাড়ার আগেই বা তার অব্যবহিত পরেই জেনেছি চাঁদা না দেয়াতে সন্ত্রাসীরা হাবীব বুক হাউজের সেই আংকেলের চোখ তুলে নিয়েছে।
আমাদের মীরপুরের গর্ব ছিল জনি ড্যানি দু’ভাই। জাতীয় দলে ফুটবল খেলতো। ফীডব্যাকের মাকুসদ আমাদের পাশের লাইনের কোন মেয়েকে জানি বিয়ে করেছিলেন।
সব স্মৃতি একপাশে সরিয়ে এক সময় মীরপুর ছাড়লাম। ২০০৩ এ চলে এলাম ঢাকা শহরের আরেক প্রান্তে – এও আরেক উপশহর তার নাম মডেল টাউন উত্তরা।
প্রথম প্রথম গোপনে কাঁদতাম, অতটা বয়সেও; বাসার পাশেই রেললাইন, ট্রেনের আওয়াজে ঘুমানোই দায় ছিল প্রথম চার মাস। তবে উত্তরার সবুজ ছাওয়া নিরিবিলি পরিবেশ মন কেড়ে নিলো, পার্ক, সুন্দর সুন্দর দোতলা বাড়ি। খুব ঘুরতাম রিকশা দিয়ে। অফিস শেষে প্রায় প্রতিদিন হয় কোন কলিগ বা একা কখনো দল বেঁধে একএকদিন এক এক সেক্টর ঘুরতাম।
অফিস শেষে কখনো কখনো শাহবাগ চলে যেতাম বাসে করে আধ ঘণ্টা এক ঘণ্টার মধ্যে, আবার আড্ডা দিয়ে রাত ৯-১০টার মাঝে বাসায় চলে আসতাম। কোন ব্যাপার ছিল না এসব।
ছিলাম ব্যাংকের লোন সেকশনে কাজের কারণেই এ জমি সে জমি দেখতে যেতে হতো, ফ্ল্যাটের মূল্য যাচাই করতে হতো। তখনো কমার্শিয়াল প্লটের কাঠা ৪০-৫০ লাখ ধরতাম আমরা, আবাসিক এলাকার ১৫-২৫লাখ; অবস্থানের উপর নির্ভর করে। স্কয়ার ফিট ১৫০০টাকা করে সেদিনও ফ্ল্যাট বিক্রি হয়েছে।
এটা ২০১০ সাল। কত ডেভলপার! ৪৫০০-৬০০০ টাকা স্কয়ার ফিট। সুন্দর দোতলা বাড়ি থাকা মানে আপনি এখন গরীব। শুধু ফ্ল্যাট আর ফ্ল্যাট। আমাদের উত্তরাতে মোটর ছাড়া পানি উঠতো ট্যাংকিতে । এখন পানির লাইনের সাথে টানা মোটর লাগিয়েও পানি পাওয়া যায় না। কারেন্ট তেমন যেতই না। এখন বিদ্যুৎ থাকলে আমরা আনন্দে আটখানা থাকি, বাসার সদস্ররা একে অন্যকে বলি আজ যে কারেন্ট গেল না!
আটাশির সেই ভয়াবহ বন্যা, ২০০৪ এর ভয়ংকর জলাবদ্ধতাতেও আমাদের উত্তরার বাসায় কোন সমস্যা হয়নি। এখন একঘণ্টা বৃষ্টি হলে বাসার সামনে কোমর পানি জমে যায়। সব বড়লোকের বাস। কিন্তু মডেল টাউনে কোন সুয়ারেজ সিস্টেম নেই। সিটি কর্পোরেশনের অধীন এবং সেক্টরের মধ্যে যে এমন হতে পারে তা কোনদিন ও ভাবিনি।
আমাদের লোভ, আমাদের লোভ সব খেয়ে নিচ্ছে। প্রতিটা ড্রেন বন্ধ। কেউ পরিষ্কার করে না। যে বাসায় সবোর্চ্চ ১০জন থাকতো সেখানে এখন ফ্ল্যাটের কল্যাণে ২০০জন থাকে। এ এক চেইন।
জন্ম, বিবাহ, জীবিকা, চিকিৎসা, শিক্ষা, মৃত্যু সবকিছুর চাবিকাঠি ঢাকায় কেন্দ্রীভূত। আমাদের মিডিয়ার খবর ঢাকা কেন্দ্রিক। প্রশাসন তো ঢাকাকেই বাংলাদেশ জানে।হাজার হাজার বস্তি। মানুষ কাজের সন্ধানে আসছে।
জমির দাম প্লাটিনামের চাইতেও বেশি। মানুষ কিনছে। কোথা থেকে টাকা পায় আমি জানি না। ৭০ লাখ যখন শুনি ফ্ল্যাটের দাম আমার বুক ধড়ফড় করে। ৩১লাখ যখন শুনি গাড়ির মুল্য আমার শরীরে ঘাম দেখা দেয়। কি কাজ করলে এসব কেনা যায়!
আমাদের শাহ আলম, বাবুলরা না কি জিডিপি নামক বস্তুতে বিরাট অবদান রেখেছেন তাই তারা সব হা করে গিলে ফেলার অধিকার রাখেন।
এলোমেলো স্মৃতিতে আশুলিয়ার কথা মনে পড়ে। বর্ষায় দল বেধে নৌকায় ঘুরেছি। সেখানে এখন খুঁটি গাড়ানো – অমুক সিটির। বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে নৌকায় করে আলোকদি গ্রামে এসে আমরা কত মীরপুর ১২ নম্বরে উঠেছি। সেখানে এখন কোন পানির অস্তিত্ব নেই। এক সময় সদর ঘাট থেকে খুব ছোট নৌকায় করে ঘন্টা চুক্তিতে বুড়িগঙ্গায় ঘুরেছি। বুড়িগঙ্গার যে কালোকুষ্টি থকথকে চেহারা আমি গতবছর দেখেছি, সেটা কোন নদীর চেহারা হতে পারে না।
কোথাও কেউ কিছু বলার নেই। আমরা বেঁচে আছি ঈশ্বর বা আল্লাহর দয়ায়। পুরো শহর একটা সিটি অব হররে রূপান্তরিত হয়েছে। কেউ বলে না আজ থেকে আর ফ্ল্যাট বানানো নিষেধ করা হলো। কৃষি জমি অধিগ্রহণ করে কোন টাউন আর সরকার বা বেসরকারী কেউ বানাতে পারবে না। প্রতিদিন কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। ২-৪বছরের মাথায় খাবার ও থাকবে না। এখনো প্রতি লোকমা ভাতে-খাদ্যে আমরা বিষ খাচ্ছি। খাদ্য ফলানোর জমি ই তো থাকবে না। সিন্ধু সভ্যতার মতো, মায়া সভ্যতার মতো আমার ঢাক্বা, ঢাকা ও কালের গর্ভে আমাদের দেয়া ধাক্বায় পড়ে যাবার সামিল। আমি প্রতিক্ষণে ঢাকার কান্না শুনতে পাই। মনে হয় আমার খুব আপন কেউ কানের কাছে মুখ এনে বলছে “আমাকে মরতে দিও না”
যারা ডেভেলপার তারা বলবেন আমরা দায়ী না এককভাবে, পরিবহন ব্যবসায়ীরা বলবেন আমরা নই, প্রাইভেট কারের মালিকরা বলবে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট না থাকলে আমরা কি করব, বিভিন্ন কার্যোপলক্ষে যাদের ঢাকায় বসবাস তারা বলবে বাইরে কাজ কই, এসবের সুযোগ কই – সরকার বলবে আমরা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এত কোটি টাকার, এক বিলিয়ন ডলারের। ব্রিটিশ আমলে একবার এক পাট গুদামে আগুন লাগলে দারোয়ান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখে জানতে চায় এ মুহূর্তে তার করণীয় কি। দেড়মাস পরে চিঠির উত্তর আসে “আগুন নিভাইয়া ফেলা হোক জল দিয়া”।"
আমাদের সরকারী পরিকল্পনাগুলো বাস্তব হতে হতে বিভীষিকার সব কটি স্তর পার হয়ে আমরা নৈব্যক্তিকতার সবোর্চ্চ ধাপে উপনীত হব এ বিষয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই। যে দেশের মানুষ সব ইস্যুতে যানবাহন ভাংচুর ধ্বংস করা শিখেছে, যে দেশের মানুষ তার গণপ্রতিনিধিদের কাছ হতে পারস্পরিক দোষারোপ আর ক্ষমতার অপব্যবহার দেখেছে সে দেশের মানুষের কাছ হতে কোন শুভ-সুপ্রবৃত্তি আশা করতে আমার এখন কুণ্ঠা বোধ হয়।
আমি কি পলাতক হব? না কি ঢাকাকে বাঁচাতে আমার ক্ষুদ্র ক্ষমতা ব্যবহার করব?
নিজের সাথে চলা মানসিক দ্বন্দ্বে আমি খুব ক্লান্ত বোধ করি। আমার রক্তে বেড়ে ওঠা আজন্ম লালিত স্বপ্ন সাধ স্বাধীনতা, আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি, আমার বাংলায় লেখা প্রেমপত্র, আমার বছর বছর বাংলা বই, আমার বয়স্ক পিতামাতা, আমার পরিবারের নবীন সদস্যদের ভবিষ্যত, রাস্তায় বসে থেকে নষ্ট হওয়া আমার কর্মঘণ্টা, আমার নিরাপত্তাহীনতার শহর- সব মিলে মিশে আমাকে এক চরম আত্ম সংকটে ফেলে দিয়েছে।
এমন কি আরো অনেক মানুষের মনে হচ্ছে না? তারা কোথায়? তারা যদি একবার বলতেন আমি তাদের সাথে যে কোন কাজে নামতাম।
আমার কোন দল নেই, সংঘ নেই, আমি বড় একা – ওয়ান ম্যান আর্মি কিভাবে হয় আমি জানি না বিধায় একা একটা কাজই জানি সেটা হলো লিখা তাই করলাম।
সর্বগ্রাসী রাক্ষসদের পেট থেকে কিভাবে আমার ঢাকাকে বাঁচাবো তাই জানতেই এই লিখা।
(চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29256222 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29256222 2010-10-16 21:08:43
যে জীবন চাপ আর ছোট হয়ে যাওয়ার সমন্বয়ে বহমান “তুমি কেমন আছো?আমি ভালো আছি ইসাবেলা।"
প্রতিদিনের ছ’শ শব্দ ও আগে যেখানে ভাবপ্রকাশের জন্য
অপ্রতুল ছিল, সেগুলো এখন গুটোতে গুটোতে এভাবেই
ঘেরাটোপে বাঁধা পড়ে থাকে। ‘ভালোবাসা’ অক্ষর ক’টির চাইতে
হাস্যকর আমার আর কিছু মনে হয় না।
পুরো জীবনটা ভুল শব্দের জটপাকানো একটা খটোমটো প্রবন্ধ ছাড়া
বেশি কিছু নয়।
প্রতিটি মানবের ইতিহাস ভিন্ন, সেখানে যেসব অভিঘাত,
পারস্পরিক মনঃসংযোগের যে অভিলাষ
সে আদতে অপসৃয়মান জলছবির মতোই –
কেউ কি কারও হয়!
‘গদ্য-কবিতা’ বলে যেমন কিছু নেই, ইট কাঠের মিলিত
সংস্রবে যেমন ‘প্রকৃতি’ হয় না তেমনি ষাট শব্দে
তোমার কাছেও আমার পৌঁছানো হয় না, ইসাবেলা।
এত এত ঋণাত্মক শব্দগুচ্ছ তোমার কোন্ ভ্রু’টা
কুঁচকে তুলবে সেও আমি জানি না বিধায়
নতুন কোন অক্ষরমালা পাঠাই না আর।
মঙ্গল, অমঙ্গল কোনটাই প্রার্থনায় ধরা দেয় না,
স্মৃতির ঝাঁপিও করে দিয়েছি বন্ধ।
জড়ভরত মানুষের মতো আমি হাঁটি, চলি, খাই
জীবিকার ঘানি টানি-
ভালোবাসার রঙ ছাওয়া আকাশ আমি বাজি রেখেছি
পাক্বা জুয়াড়ির মতো সফেদ বরফের নীচে শুবো বলে;
কারও সহানুভূতির ‘ইশ্’ পাবার অভিপ্রায়ে নয়।
আকাঙ্ক্ষা তিরোহিত,
যোগাযোগের মাধ্যমগুলোও আজ গৌণ,
মনের পারদে প্রবল ঘূর্ণিপাক ঠেলে একটা কথাই জানলাম-
ভালোবাসা প্রাণঘাতী, মননের অনিষ্টকারী অনুভব ভিন্ন
কিছু নয়।
ইসাবেলা, এভাবেও বেঁচে থাকা যায়,
আমাদের হাহাকারগুলো জানি না বাঁধা পড়ে কি না
কোন পরিযায়ী পাখির ডানায়!


০২.১০.১০
রাত ২:১০
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29250589 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29250589 2010-10-06 22:49:09
ঢাকা আমার ঢাকা, তোমাকে এভাবে মৃত্যুর দিকে হাঁটতে দেখতে বড্ড কষ্ট হচ্ছে (১ম কিস্তি) যে দেশের মানুষ সব খায়, মানুষের মাংস ছাড়া এখন পর্যন্ত

স্বাধীন দেশের নাগরিক – এ নিয়ে আমার গর্বের শেষ ছিল না। আমার দেশকে কেউ ছোট করবে তা আমি কোনদিন কোন পরিস্থিতিতেই মেনে নেইনি। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। বাবা-মা যতটুকু পেরেছেন সুযোগ সুবিধা দিয়েছেন। ছোট বয়সে সেসব অপ্রাপ্তি নিয়ে আক্ষেপ থাকলে ও পরিণত বয়সে সেসব আর তেমন মনে নেই।
আমি ঢাকা শহরের জন্মসূত্রে একজন নাগরিক। যে এলাকায় আমার জন্ম সে এলাকায় সেই সময় ৭৮ এবং তার পরবর্তী বহুবছর মানুষ যেতে চাইতো না, মানুষ বলতো ওরেব্বাপস, মীরপুর! সে তো অনেকদূর! আমরা ছিলাম ঢাকার উপশহরের বাসিন্দা। আমাদের অনেক আত্মীয় স্বজন ঐ দূরত্বের কারণে আসতে চাইতো না।
বাবা ৬৫ সালে ঢাকায় এসেছিলেন কর্মের সন্ধানে। আর মা পড়া লেখার কারণে। আব্বু স্বায়ত্তশাসিত এক প্রতিষ্ঠানে চাকুরী পেলেন। আম্মু ৭০ সালে ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে এম.এ শেষ করলেন, তার আগেই অনার্স করেছেন সেই একই প্রতিষ্ঠান থেকে। সম্বন্ধ করে তাদের বিয়ে হলো ৭৩ এ। ৭৪ এ আব্বু মীরপুরে বাড়ি কিনে এলেন। সেই থেকে আমরা মীরপুরের অধিবাসী।
মীরপুর ১২ নং সেকশনের সি ব্লকে তখন রাস্তা ছিল না।বৃষ্টি হলে সে কি দুরবস্থা! পানির সাপ্লাই ও ছির সেরকম। পুরো ১নম্বর লাইনে শুধু আমাদের বাসায় টেলিফোন ছিল। সেই নাম্বার আমার আজো মনে পড়ে ৩৮২৪৮১. আব্বা কল্যাণ সমিতি করলেন। রাস্তা হলো। পানির লাইন এলো বাসায় বাসায়, এলো গ্যাস।এমন এক এলাকা যেখানে মুরগী পাললে সেটা পর্যন্ত চুরি হয়ে যায়। গাছের ফল তো হয় ই। তখন রোকেয়া সরণী ছিল না। কল্যাণপুর ঘুরে আমাদের যাতায়াত করতে হতো। আম্মুর অফিসের বাস আসতো, পাবলিক বাসেও বেচারীকে আসতে হতো। সেই ৬নম্বর বাস। ফুলবাড়ীয়া পর্যন্ত গিয়ে তারপর। আব্বুর অফিসের মাইক্রো আসতো। আব্বুর একটা ৫০সিসি হোন্ডা ছিল্। তা দিয়ে আমাদের সব রকমের সফর চলতো।
আমাদের বাসা ভর্তি, লাইন ভর্তি, এলাকা ভর্তি ছিল গাছে। এক লাইনে ৪৮বাসা। কেউ ভাড়াটিয়া রাখতো না, নিজেরাই ঐ ছোট ছোট বাড়ি গুলোতে থাকতো। আমরাও তাই। বৃষ্টি এলে ঘরে সাপ ও ঢুকেছে কখনো সখনো। আমাদের হুতাশ ছিল না। সারাদিন এখানে সেখানে খেলতাম। স্কুলে যেতাম। পড়তাম। ফল খেতাম। আম, পেয়ারা, আমড়া, জাম, বরই, সফেদা, শরীফা, তেঁতুল, কামরাঙ্গা,জামরুল। সকালে ফুল কুড়াতাম।
আমাদের লাল মাঠ ছিল সবার আকর্ষণ। লাল মাঠে যাওয়া মানে অনেক দূরে যাওয়া। ঐ পর্যন্ত সাইকেল চালানো মানে আজ অনেকখানি সাইকেল চালিয়েছি। সব স্কুলের ছেলে মেয়েদের (এমডিসি স্কুল ছাড়া) বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা লাল মাঠেই হতো।আমাদের ঐ এলাকায় হয়তো কিছু ছিল না, তবে অবারিত জায়গা ছিল। এভিনিউ লাইন ছিল। ছিল সিরামিক ইটের কারখানা। আমরা দেয়ালের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে ঢুকতাম ঐ কারখানায়। কালাপানি-কত মিথ্ ছিল কালাপানি নিয়ে, শিকল টেনে নিয়ে যাবে, পানিতে ডুবিয়ে মারবে। ভয় পেতাম, আবার শুনতাম। আলোকদি গ্রাম ছিল। মোল্লারা সেখানকার গণ্যমান্য ব্যক্তি।
ভাইয়ার অনেক বন্ধুরা সেইসব গ্রাম থেকে নৌকা করে আসতো। তাদের গ্রামে আমরা পূজো দেখতে যেতাম।
এরকম বস্তি ছিল না। হঠাৎ শুরু হলো বস্তি হওয়া। তারপর গার্মেন্টস। মানুষ বাসা ভাড়া দেয়া শুরু করলো। রাস্তায় বের হলে অন্যরকম দৃষ্টি মাঝে মাঝেই দেখা শুরু করলাম আমরা।আমাদের শান্ত, অল্প মানুষের বসবাসের জায়গা গুলো কেমন হয়ে যেতে লাগলো। অনেক মানুষকেই চিনি না। যারা অনেক ঘনিষ্ঠ ছিলাম তাদের মধ্যে যোগাযোগ কমতে থাকলো। বিকেলে হাঁটতে বের হওয়া একরকম বন্ধ হয়ে গেল। কারণ লাইনে মানুষ আর মানুষ।এভাবে করতে করতে ২০০৩ সালে আমরা চলেই এলাম প্রাণের মীরপুর ছেড়ে।আমার লাইনে গেলে আমি আর কিছুই চিনি না। ৮৮ এর বন্যাতেও আমাদের যে লাইনে পানি উঠেনি সে লাইনে এখন একটু বৃষ্টি হলেই খোলা ড্রেনের নোংরা পানি।অনেক উঁচু উঁচু বিল্ডিং কিন্তু এমন কেউ নেই যে রাস্তা সংস্কার করবে, ড্রেন খোলা অবস্থা থেকে ঢাকার ব্যবস্থা করবে। আব্বু বারো নম্বরের মসজিদ করে আসছে।ঐ পর্যন্তই। তারপর আর কেউ কিছু করেনি।
লাল মাঠ, আমাদের ঈদগাহ, আমাদের মীরপুর ১২ এবং পল্লবী এলাকার একমাত্র খেলার মাঠে কমিউনিটি সেন্টার হয়েছে, বিডিআর শপ হয়েছে।একটা নতুন খেলার জায়গা কেউ দেয়নি। আমাদের ছেলে মেয়েরা এখন আর খেলে না।
মীরপুর গেলে দোকান আর দোকান দেখি। আমাদের ৪নম্বর লাইনের মাথায় একটা জেনারেল স্টোর ছিল “সম্ভার”; সাইকেল নিয়ে ঐ দোকানে যেতাম পাউরুটি আর মাখন আনার জন্য। এত দোকান এত দোকান কিন্তু কোন রাস্তা নেই। একাকী কোন মেয়ে সাইকেল চালাবে সে তো মনে হয় এখন রূপকথার গল্প।
চোখের সামনে কত ফাস্টফুড কাবাব কাপড় এসবের দোকান হলো। মানুষ বাড়লো। গার্মেন্টস হলো। কর্মসংস্থান হলো। আমার শিয়াল ডাকা মীরপুর, আমার প্রথম প্রেমের মীরপুর, আমার ভয় জাগানিয়া মীরপুর, আমার মণিপুর স্কুলের মীরপুর,আমার বিআইবিএমের মীরপুর তার খোলামেলা ডানপিটে তরুণ, নির্ভিক তরুণীর চিকচিকে চেহারা হারিয়ে ইটের স্তূপ হয়ে গেল ২০০০ সাল পেরোতে পেরোতে।
ইনডোর স্টেডিয়াম, মীরপুর স্টেডিয়ামের কাছে এখন কি আর কোন মেয়ে আড্ডা দেয়? কেউ আছে যে এই যান সংকুল রাস্তায় ঘণ্টা ভাড়া করে রিকশা ঘোরে?
আমি মৃত মীরপুরের দিকে তাকাই। হায় আমার ২৪ বছরের দেখা মীরপুর, তোমাকে আমি এখন আর ভয়েও দেখতে যাই না। খেতাম হয়তো কুয়ার পানি, লাইন দিয়ে টিউবওয়েলের পানিও এনেছি, হাউজ থেকে মগ কেটে গোসল করেছি, বৃষ্টিতে ঘরের ভেতর পানি পড়েছে ফুটো চাল চুঁইয়ে…কিন্তু আমার মীরপুর এমন মৃত্যুপথযাত্রী ছিল না তো!

(চলবে)



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29247824 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29247824 2010-10-01 00:45:02
নীরবতার নড়াইল
একে তাকে বলতে বলতে শেষ পর্যন্ত মানুষ হলাম সাকুল্যে চারজন। ঠিক হলো আমরা বৌদ্ধ পূর্ণিমার ছুটিটা কাজে লাগাবো। ঢাকা থেকে মোটামুটি ১৫০ কিলোমিটারের বেশি নড়াইলের যে জায়গায় আমরা যাব। গ্রামের ভেতর। আমাদের নেই নিজস্ব গাড়ি। কিভাবে যাওয়া হবে? রিসোর্টের হয়ে ঢাকা থেকে বুকিং যাতায়াত সবকিছুর ব্যবস্থা করে দেবার জন্যে অরুণিমার ঢাকাতেই নিজস্ব অফিস আছে। তারাই আমাদের তাদের ই মাইক্রো ঠিক করে দিলো। আট সিটের মাইক্রো। তাদের ঐ ছুটিতে আরো গেস্ট আছে। আমাদের আপত্তি না থাকলে সাথে তাদের আরো চারজন গেস্ট যাবে। এতে করে যাতায়াতের খরচটা আমাদের স্বাভাবিকভাবেই কমে যাবে। আমরা রাজি হয়ে গেলাম। ঠিক হলো সাতাশে মে সকাল সাতটায় মাইক্রো প্রথমে আমাদেরকে তুলবে। সে অনুযায়ী আমরা তৈরী হয়ে নিলাম।

এদিকে সাতটা বাজে সাড়ে সাতটা বাজে, আটটা বাজে মাইক্রো আর আসে না। ধুর, এই যাত্রা বোধহয় আর যাওয়া হলো না! সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আটটার একটু পরে মাইক্রো এসে হাজির হলো। শুরু হলো আমাদের যাত্রা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার উদ্দেশ্যে। এখান থেকে তাদের আরো দুজন গেস্ট উঠবেন। তাদের নিলাম। ওমা, সাথে একটা ফুটফুটে চার বছরের বাচ্চা। আমরা খুব খুশি হয়ে গেলাম। জার্নিতে বাচ্চা থাকলে অন্যরকম মজা হয়। বনানী থেকে আরেক যুগল। ইউনাইটেড হসপিটালের সামনে থেকে আমার বন্ধুকে তুলে যখন আসাদ গেট যাচ্ছি ঘড়ির কাঁটা তখন সাড়ে নয়টা ক্রস করেছে এবং পাল্লা দিয়ে গরম বাড়ছে। আসাদ গেট থেকে আমাদের সর্বশেষ সঙ্গী আমার বান্ধবী উঠলো। এবার মাইক্রো ফুল, আমাদের আসল যাত্রা শুরু।

আমার বন্ধু-বান্ধবী এবং আমার হাজব্যান্ড ও আমি পরস্পরের পরিচিত, বাকী চারজন আমাদের অপরিচিত। একটু পরেই দেখা গেল ঢাকা শহর আদতে খুব ছোট। আমার বান্ধবী টুশীর সাথে দুই যুগলের পুরুষদের পরিচয় আছে। বহু বছর পরে একজন আরেকজনের সাথে দেখা হওয়াতে মাইক্রোতে আমাদের আড্ডা বেশ জমে উঠলো। ড্রাইভার সাহেব আমাদের জানালেন আমরা মাওয়া ফেরী ঘাট হয়ে যাব। মাওয়া ফেরী ঘাট আমরা বেলা বারোটার মধ্যে পৌঁছে গেলাম। সেখানে ব্যাপক লাইন। গরম একদম চরমে। তবু মাইক্রোতে এসি থাকাতে কোনরকমে বাঁচোয়া। ফেরী ঘাটে পৌঁছে আমরা প্রথমে যেটাতে উঠতে গেলাম সেটাতে আমাদের নেয়ার মতো জায়গা আর নেই।

পুরো বাংলাদেশে পাবলিক টয়লেটের যে সমস্যা মাওয়া ফেরী ঘাটও তার ব্যতিক্রম নয়। আমাদের এখানে দুঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তী ফেরী আসার জন্যে। ফেরীতে দু প্রান্তে দুটা টয়লেট। একটার কাছে ধারে যাবার কোন জো নেই। দূর থেকে তার দুর্গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে আছে। আরেকটা তালা চাবি দেয়া। আমার করিৎকর্মা বন্ধু নিমেষে আমাকে বিদেশী বানিয়ে তালা খুলতে বাধ্য করলো ফেরী কর্তৃপক্ষকে। আমার দেশ না কি হল্যান্ড! আমি বিনা বাক্যব্যয়ে হল্যান্ডের বিদেশিনী হয়ে নিজেকে হালকা করে এলাম। প্যাঁচানো ইংলিশে যে তালা খুলে দিয়েছে তাকে ধন্যবাদও জানালাম।

অরুণিমা গলফ রিসোর্ট পৌঁছতে আমাদের বেলা চারটা বাজলো। সবুজ, একদম গ্রামের ভেতর দিয়ে সুন্দর রাস্তা চলে গেছে। হাতে সময় থাকলে আমরা বঙ্গবন্ধুর টুঙ্গিপাড়া দেখে আসতে পারতাম। কিন্তু বেলা অনেক হয়ে গেছে। মধুমতি নদী পেরুলাম আমরা রিসোর্টের প্রাইভেট ফেরীতে। তারপর ভ্যান গাড়ি। মাইক্রো জোয়ার এলে এপারে আসবে। কটেজে জাস্ট ব্যাগ রেখেই আমরা লাঞ্চের জন্যে ছুটলাম। উরিব্বাপস, খেলাম আমরা সেই রকম। এত্ত বড় বড় মাছ, মাছের ভর্তা, মুরগি, সব্জি, ডাল। সবই না কি তাদের নিজস্ব জমিতে ফলানো। খাওয়ার পরে আমের জুস্, জাম। আমে চারিদিক একেবারে আম্রময়। গাছে গাছে আম। খেয়ে আমরা ডাইনিং হলের সামনের লনে ঘাসের উপর শুয়ে পড়লাম। বিকেলটা হচ্ছে। আলো আস্তে আস্তে অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে। দুপুরের সেই খর চেহারা আর নেই।

একটু ঘুরতেই বুঝতে পারলাম এটা প্রথমে মাছ চাষের জন্যে করা হয়েছিলো। পরে দু পুকুরের মাঝের আইলে একেবারে এসি দিয়ে কটেজ করা এবং প্রচুর গাছ লাগানোতে জায়গাটার চেহারা বদলে গেছে। আছে গলফ খেলার ব্যবস্থা। আজকের দিনটা রেস্ট। আগামীদিন সব ঘুরে দেখব ভেবে আমরা কটেজের দিকে রওনা করলাম। গাছে গাছে প্রচুর আম, পেয়ারাও আছে।

দেখতে দেখতে সন্ধ্যা নেমে গেল। কটেজের বারান্দায় দাঁড়ালে সামনে পানি। আকাশে চাঁদ। পরের দিনই পূর্ণিমা। আমরা খুব খুশি হলাম রুমে টিভি নেই দেখে। রাতের খাবার খেয়ে আড্ডা দিতে দিতে হঠাৎ দেখি রাত তিনটা বেজে গেছে। চারিদিকে আমাদের চারজনের কথা, হাসি আর প্রবল ঝড়ো বাতাস ছাড়া আর কোনকিছুর কোন আওয়াজ নেই। শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি এবং ঝড়ো হাওয়া। কারেন্ট চলে গেল। ঘরের চালা ছুঁইয়ে শুরু হলো পানি পড়া। একদম পড়বি তো পড়্ বিছানার মাঝখানে। আমাদের আনন্দ আর দেখে কে! বৃষ্টিতে নেমে গেলাম। যেন নবধারা জলে স্নান। তারপর ভেজা বিছানাতেই গুটিশুটি মেরে ঘণ্টা খানেকের ঘুম। সকাল বেলা রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ ব্যাপক আক্ষেপ করলেন আমাদের অসুবিধার জন্য। আমরা তো মনে মনে বললাম আমাদের কোনই অসুবিধা হয়নি।

সকাল থেকে শুরু হলো আমাদের জায়গাটা দেখা। বড়শি ফেলে চাইলে মাছ ধরা যাবে। নদীতে ঘুরতে যাওয়া যাবে। আছে ইয়া বড় এক পদ্মপুকুর। গলফ মাঠের কথা আগেই বলেছি। আছে ঘোড়ার গাড়ি, চরকি। গাছের ফাঁকে ফাঁকে দোলনা। ওমা, পুকুর না বলে দীঘি বলি সেখানে আবার বোট হাউজও আছে। একটা দীঘি আরেকটা দীঘির সাথে কাঠ বাঁশের সেতু দিয়ে যুক্ত। শুনশান চারিদিক। মধুমতি একদিকে, আরেকদিকে নবগঙ্গা, চিত্রা ও না কি কাছেই। নদীদের বৃত্তান্ত শুনে আমরা যে যার মতো প্রকৃতির সাথে মিশে যাবার জন্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লাম।

দুপুরের খাবারে আমাদের প্রমাণ সাইজের মাছের মাথা খেতে দেয়া হলো। সন্ধ্যায় হবে বারবিকিউ। অনেক বোর্ডার কাছের মন্দির দেখবার জন্যে হোন্ডার পেছনে করে রওনা হয়েছেন। আমরা বিকেলে রিসোর্টের ফেরী করে নদী ভ্রমণে বেরোতেই আবার বৃষ্টি। মনের সুখে ভিজলাম আবার। বারবিকিউ করে,রাতের খাবার সেরে, সারারাত জোসনা দেখে একটুও না ঘুমিয়ে অদ্ভূত একটা সকাল হওয়া দেখতে দেখতে আমরা আবার ফিরে আসবার প্রস্তুতি নিতে থাকলাম, হয়তো একটু মন খারাপ করেই। তবে কেউ কাউকে সেটা বুঝতে দিলাম না।

পুরো নাম : Arunima Countryside & Golf Resort
স্থান : পানিপাড়া, নড়াগতি, নড়াইল
কাছাকাছি নদী : মধুমতি ও নবগঙ্গা
ঢাকা থেকে সড়কপথে দূরত্ব : ১৫০ কিলোমিটারের একটু বেশি বা কম
যেভাবে যাওয়া যাবে : রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে এবং বুকিং কনফার্ম করলে তারাই মাইক্রো ঠিক করে দেবেন অথবা Shabaz Tourism Ltd., Ph – ৯৮৯৬৯৪৫, ০১৭১১৪২২২০৩ যোগাযোগ করলে তারাও যানবাহনের সুব্যবস্থা করে দিবেন। মাওয়া ফেরী ঘাট থেকে চাইলে আপনি ফেরী না ধরে স্পিডবোটে করেও নদী পেরিয়ে যেতে পারেন। এ ব্যাপারে আগেই আলাপ করে নিতে হবে।

সম্ভাব্য খরচ : থাকা খাওয়া আসা যাওয়া, সব মিলিয়ে ২দিনে আমাদের মাথাপিছু চার হাজার টাকা মাত্র খরচ হয়েছে। আপনি যদি নিজের গাড়ি নিয়ে যেতে পারেন তাহলে খরচ আরো কমে যাবে।

যা যা করতে পারেন : বার্ড ওয়াচিং, রিভার ক্রুজ, ফিশিং, গলফ খেলা, টেবল টেনিস খেলা। এখানে একদিনের জন্যে পিকনিকও করতে পারেন। চাইলে অফিশিয়াল কনফারেন্স ও করতে পারেন অনায়াসেই।

যেখানে যেখানে যেতে পারেন : টুঙ্গিপাড়া, এস এম সুলতানের শিশুস্বর্গ, বিখ্যাত সেতার বাদক রবি শংকর ও নাট্যশিল্পী উদয় শংকরের বাড়ি, বড়দিয়া মন্দির। যদি বেশি সময় নিয়ে যান তাহলে সুন্দরবনের কাছাকাছি ও ঘুরে আসতে পারেন।










]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29244759 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29244759 2010-09-25 01:18:47
শুধু স্মৃতি, শুধু স্মৃতি জেগে রয়... শুনেছি যে মৃত্যুর পরও আছে এক জীবন
সে জীবনেও তোমার স্মৃতি ছড়াবে যে কিরণ
শুধু স্মৃতি, শুধু স্মৃতি জেগে রয়

হৃদয় ভাঙ্গার কাহিনী কেন বলো এমন হয়,
এত ভালোবাসা নিয়েও হয় না দু’জনের পরিণয়
মানুষের গড়া নিয়মের কাছে মনের ই পরাজয়
শুধু স্মৃতি, শুধু স্মৃতি জেগে রয়।

জানতে যদি চাও শেষ ইচ্ছা বলতে
নেই আর কোন ভয়,
দেখতে সাধ জাগে না আগামীদিনের সূর্যোদয়,
বুকে দহন, দহনে লীন এ জীবন
সে জীবনেও তোমার স্মৃতি ছড়ায় যে কিরণ
শুধু স্মৃতি, শুধু স্মৃতি জেগে রয়…
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29240283 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29240283 2010-09-16 00:06:01
বাঁচার সন্ধি
বাঁচার সন্ধি

আকাঙ্ক্ষার রুদ্রাক্ষ মগডালে ঝুলিয়ে
যেই বাড়িয়েছি সন্ন্যাসের পথে পা
জাপ্টে ধরেছে অজগর মন, দেহে তখন
শতেক টুনি বাল্বের ঝাঁ ঝাঁ।

সমাজ তাকে নাম দিয়েছে ‘বৈধতা’
পরিবার বলেছে ‘সঙ্গী’, বাঁচার অবলম্বন
হৃদয়ের ঘনীভবন, পূঞ্জীভূত উচাটনের মানচিত্র
দিয়ে হরেক চাপা, করি স্বাভাবিকতার উল্মফন

ধরা হলো না উলের কাঁটা, বুনলাম না সম্পর্কের জাল
ভালোবাসা বলো যারে সে তো নিজেরই প্রয়োজনে
নৌকা টানা, উড়িয়ে সুযোগমতো
‘জীবন’ নামক পাল।

সবশেষেও শান্তি খুঁজি,
আলো নিবে একটু একটু রোজই;
আশায় আশায় ভাবনা ঘরে
তোমার মনের সাথে এ মনটা মিলাই
রাত কি ভোরে;
নির্জন নিঃসঙ্গতায় এখন খুব কষ্টে থাকি,
তুমি জানো ঠিকই বোঝো
তোমায় আমি কেন ডাকি।

(১৪.০৮.১০)




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29233768 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29233768 2010-09-01 23:10:50
লিখতে পারি না... আমি আমার তাবত শুভাকাঙক্ষী, সমলোচক সবাইকে বলছি আমি যেভাবে সেভাবে লিখতে পারি না, কবিতা আমার কাছে ওহী নাজেল হওয়ার মতো করে আসে। গদ্য, পদ্য, ফিচার, ফরমায়েশি যে লেখাই লিখি আমি সেটার সাথে একাত্ম না হলে, কোলাহলমুক্ত জায়গায় না থাকলে মনোনিবেশ করে লিখতে পারি না।
রোজার দিনে অফিস থেকে তাড়াতাড়ি ফিরি, সকালে যাই যে আগে, ঘুম থেকে যে সোয়া এক ঘণ্টা আগে উঠতে হয় এবং রাস্তায় যে সেই সম সময় ই থাকতে হয়, অফিসের কাজ যে স্বল্প সময়ে পুরোটাই করে আসতে হয় সেটা আমি আপনজনদের বুঝাতে পারি না। ইফতারির পর, শরীরের কোষে কোষে ক্লান্তির যে বিষাদময় সুর ছড়িয়ে পড়ে, সে সময় ঈশ্বরের আহ্বান ও মামুলি হয়ে যায়, লেখা তো কোন ছার।
জীবনের কোন মানে নেই, সময়, অনেক বছরের সমষ্টি সব ই অর্থহীন। ঘুমের চাইতে ভালো কোন শান্তি এখন কোথাও নেই। অনেকের মতো হারাবো বলেই তো জন্ম, এপিটাফে লেখা হবে "তিনি একজন ভালো কেরানী ছিলেন", বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্যুট টাই পুরুষ আর সাজুগুজু নারীদের এই তো সত্যিকার পরিচয়। ব্যাংকার এন্ড ড্রাংকার কামস লেট। কিন্তু ড্রাংকার লেট এ ফিরে রাতে, অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমায়, ব্যাংকার কামস লেট, বাট রাইজেস আর্লি।

***এ লেখাটা আমার মতো হাড় ক্ষয়ে আক্রান্ত যারা রাতের পর রাত ব্যথায় ঘুমাতে পারেন না, তাদের জন্য।
>>> ঈশপের গল্পের মতো এ লেখার মেসেজ - কেরানী পেশাকে বেছে নেবেন না, হালের যন্ত্র কম্পিউটার আপনার সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ স্লো পয়জন করে ফেলবে।

(এটা আসলে একদম ব্যক্তিগত লেখা -উপরের ভুং ভাং সব "ব্যক্তিগত আবহ" ব্যাপারটা বাক্যের কারসাজিতে চাপা দেবার জন্য)<img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29228563 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29228563 2010-08-24 00:00:16
প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত মাতৃত্বকালীন ছুটি ও একজন কর্মজীবি নারীর ভাবনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাতৃত্বকালীন ছুটিকে ছয় মাস করার প্রস্তাবনা দিয়েছেন সম্প্রতি। তিনি সেই সাথে প্যাটারনিটি লিভের কথাও বলেছেন। সদ্য প্রসূত সন্তানের সাথে মা-বাবা দু’জনের বন্ধন গড়ে তুলতে এবং সদ্য মা হওয়া নারীকে যেন স্বামী সর্বাঙ্গীন সহায়তা প্রদান করতে পারেন- সেদিক বিবেচনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ প্রস্তাব প্রশংসার দাবীদার নিঃসন্দেহে। সরকারী প্রতিষ্ঠানে এসব নিয়ম মেনে চলার জন্য হয়তো একটা প্রজ্ঞাপন জারি ই যথেষ্ট হবে। কিন্তু বেসরকারী প্রতিষ্ঠান যারা কোম্পানী আইনে কিংবা অন্যান্য আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠিত এবং যারা শ্রম আইন এবং সরকারী বিভিন্ন নীতিমালা মানতে বাধ্য নন তাদের কথা আমরা কেউই বলতে পারি না। বাংলাদেশের মতো জনবহুল একটি দেশে সন্তান জন্মদান অন্য যে কোন স্বাভাবিক কাজের মতোই ভাবা হয়। এসময় একজন নারীর কি ধরনের অনুকূল পরিবেশ দরকার তা জানা থাকা সত্ত্বেও অনেকেইে তা উপেক্ষা করতে যেমন পিছপা হন না তেমনি যিনি গর্ভবতী হয়েছেন তার প্রতি অবজ্ঞা, তাকে দিয়ে এখন আর আগের মতো কাজ করানো যাবে না এসব চিন্তায় তাকে হেয় করতে ও কসুর করেন না। ব্যতিক্রম সর্বত্রই আছে কিন্তু আমাদের কাছে চলমান ঘটনাগুলোই উদাহরন হিসেবে আসে প্রতি সময়।

কেউ লক্ষ্য করেছেন কি জানি না আমাদের মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে জন্মহার দিনে দিনে আশংকাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। একার রোজগারে বর্তমান বাজারে সৎভাবে চলা দুষ্কর হওয়াতে, নারীরা আগের চাইতে কিঞ্চিৎ বেশি সচেতনতা লাভ করাতে অনেক নারীই অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করছেন। সময়ের অভাবে হোক বা পরিবার পরিকল্পনার স্লোগনে উদ্বুদ্ধ হয়েই হোক মধ্যবিত্ত ২জনের বেশি সন্তান নিচ্ছে না। কাজে কাজেই মধ্যবিত্ত শ্রেণীর প্রতিনিধিত্বকারী ভবিষ্যত প্রজন্ম কমে যাচ্ছে, নিম্নবিত্ত শ্রেণীর মাঝে অধিক সন্তান গ্রহণের প্রবণতা একই রয়ে গেছে।

এই মধ্যবিত্ত শ্রেণীর একজন নারী কি তার চাকুরী বজায় রেখে পারিবারিক জীবন বয়ে সঠিক সময়ে মা হতে পারবেন? আসুন আমরা একটা তুলনামূলক ছক দেখি।

অফিস সময় ৯-৫ টা যখন (১)
ঘুম ভাঙ্গা সকাল ৬.৩০, অফিসের দূরত্ব বাসা থেকে ৩০ কি.মি, যাত্রা শুরু সকাল ৭.৪০-৪৫ এর মধ্যে
৫টার অফিস বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা ৬টা-৬.৩০, বাসায় সন্ধ্যা ৭.৩০-৮.১৫ এর মধ্যে পৌঁছনো যেত

অফিস সময় ১০-৬ টা যখন (২)
ঘুম ভাঙ্গা সকাল ৬.৩০, অফিসের দূরত্ব বাসা থেকে ৩০ কি.মি, যাত্রা শুরু সকাল ৭.৪৫-৮ এর মধ্যে
৬টার অফিস বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা ৭টা-৭.৩০, বাসায় রাত ৯-৯.৪৫ এর মধ্যে পৌঁছনো যায়

সময়ের হিসেবে লাভ/ক্ষতি
রাস্তায় (১) নম্বর অফিস টাইমে থাকতে হতো ১-১.১৫ ঘণ্টা, (২) নং অফিস টাইমে থাকতে হয় ২-২.১৫ ঘণ্টা
নিজেকে এবং পরিবারকে দেয়ার মতো সময় (১) নং টাইমে প্রায় ৪ ঘণ্টা থাকতো (২) নং এ থাকে ২-২.৪৫ ঘণ্টা

আমি এখানে বিবাহিত নারীর যে বাড়তি কাজ রান্না করা, বাচ্চার দেখাশোনা, পরিবারের অন্যদের খোঁজ নেয়া, নিজের এবং অন্যদের পরের দিনের পরিধেয় কাপড়, টিফিন, লাঞ্চ ঠিক করা এসব বাদ দিলাম।

এমন জীবন যাপন করে একজন সদ্য বিবাহিত নারী বা পুরুষ কি সন্তানের মুখ দেখতে পারবেন? সন্তান এলেও তাদের সুষ্ঠুভাবে সময় দিয়ে পারিবারিক বন্ধন নিশ্চিত করতে পারবেন?

জানি সরকারের সদিচ্ছা আছে, অন্তত একজন সরকার প্রধান তো আমাদের কথা ভেবেছেন। কিন্তু আনুসঙ্গিক অন্য বিষয়গুলোর উপর জোর না দিলে একটি সিদ্ধান্ত আমাদের খুব বেশি উপকৃত করতে পারবে না। ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সময় পুনঃবিবেচনা করুন। আমাদের রাস্তায় থাকার সময়টা সংক্ষিপ্ত করে দিন। ট্রেন সার্ভিস চালু করুন, বাস মালিক সমিতির হাতে জিম্মি হয়ে থেকে পিছিয়ে গেলে ভূমিদস্যুরা আজ যেমন ফ্রাঙ্কেনস্টাইন হয়ে উঠেছে তেমনই হবে পরিবহন খাতও। দয়া করে শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, সরকারী, বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিকেন্দ্রীকরণের ব্যবস্থা করুন।

দৈনন্দিন যাপনের এমন বেখাপ্পা অসম রুটিন নিয়ে (যেখানে ৫৭ বছর বয়স পর্যন্ত চাকুরী করলে এখনকার হারে জ্যাম অব্যাহত থাকলে জীবনের ৪ বছর রাস্তায় কাটাতে হবে) আর যাই হোক মা-বাবা স্বাভাবিক উপায়ে হওয়া হবে না। ৬মাসের ঐ ছুটিও আমাদের কাজে আসবে না।

তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আকুল আবেদন অফিস টাইমটা পূর্বের সময়ে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক, চাই কি গ্রীষ্মকালে সকাল ৮-৪ টাও করে দিতে পারেন। অনেকের সাথে কথা বলে জেনেছি তাদের এতে কোন আপত্তি নেই।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29202470 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29202470 2010-07-18 14:20:04
এ যুগের পথিকদের ক্ষুর, খুন, এসিড এর বিপরীতে ধূলোমাখা প্রেম “তোমার ঐ মনটাকে একটা ধূলোমাখা পথ করে দাও আমি পথিক হব, ভালোবাসার কিছু পদধ্বনি তোমাকে সারাবেলা শুনিয়ে যাব আমি পথিক হব”-এমন আহ্বান কি এখন আর জানানো যায়, সে যত বড় প্রেমাস্পদই হোক তার কাছে? এ সময়ে কেউ কি ভালোলাগার ভীরু চপল পায়ে “হতে পারে মনের মানুষ” এর কাছে আসে? স্মৃতিকাতর হয় তেমনভাবে পুরোনো কোন পথ দেখে যে পথে প্রিয় কারও সাথে একসময় ভ্রমণ করেছে; সময়ের চলমানতায় পথ আছে একই জা’গায় শুধু মানুষগুলো নেই! অবাক হই। শিউরে উঠি। তারপর ভাবি আমরা তো এমনটাই চেয়েছিলাম।
এসএমএস, এমএমএস, মেসেঞ্জার কতকিছুই না এসেছে! ডানা ভাঙ্গা পাখির মতো ঠায় তিন ঘণ্টা দেখা হবার স্থানে দাঁড়িয়ে থেকে অপেক্ষা, তারপর বিষণ্ন হাঁসের মতো থপথপ হেঁটে যাওয়া – ফিরে যেতে যেতে প্রিয়মুখ চকিতে চোখে পড়লে রাগ, ক্ষোভ, আনন্দ – সবের মিশ্রণে যে হাসি কান্না তেমন রসায়ন কি আজো হয়? আমি জানি না- এখনকার মানুষদের কাছে জানতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছা জাগে জানার অনুভবের কোন অতলে গেলে মানুষ তার প্রিয় মানুষের সাথে কাটানো একান্ত সময় মোবাইলে, গোপন ক্যামেরায় ধারণ করে, নিজেদের সম্পর্কের সময়টাকে গণসম্পদে পরিণত করে? একটা বই পড়তে চেয়েছিলো প্রিয়, বিশ্ব সংসার তোলপাড় করে এনেছে অপরপক্ষ। সেই প্রেম ও তো টেকেনি। তারা কেন এখনো বন্ধু আছে? আর এখন কেন প্রত্যাখ্যান ক্ষুরে , এসিডে, খুনে জর্জরিত হয়? মিডিয়া, সংস্কৃতি,বিনোদনের অভাব ইত্যাদি শব্দ ভেসে আসবে কারণ হিসেবে। সম্পর্ক মানেই যৌন চাহিদা নির্বাপণের উপকরণ? কি সহজ সমীকরণ!
কেউ কারো পথ হতে রাজী না, কেবল নিজের জন্যে চাই মসৃণ পথ।সহিষ্ণুতা ভরা শ্রদ্ধা- স্বামী স্ত্রীতে নেই, সেটা সন্তানে সংক্রমিত, নেই শিক্ষক- ছাত্র ছাত্রী সম্পর্কেও। খালি ভয়, আতংক। সম্মিলিত প্রচেষ্টাতে রুখে দেবার, সংগঠিত হবার আকাঙ্ক্ষা নেই।
হতাশ হই না। সব অনিয়মের শেষ কথা অনিবার্য ধ্বংস। তারপর তো আবার বিনির্মাণ। তারপর আবার রোমিও জুলিয়েট। ধুন্ধুমার প্রেম।হাপুস কাঁদা, জড়াজড়ি বেঁচে উঠা, মধ্যবয়সে স্মৃতিচারণা। প্রেম মা্নে ভালোবাসার মানুষের পথের পথিক হয়ে সব কাঁকর সরিয়ে দেয়া, সে আমার দেহের ছায়াতলে আসবে কি আসবে না সে প্রশ্নের মীমাংসা না করেই। প্রথম প্রেম, প্রথম চুম্বন- সব প্রথম সেরকম। সেখানে যারা ক্ষুর, খুন, এসিড আনে তাদের সমস্যা মনে নয়, টেস্টিক্যালস এ। খাসি করে বিচি দু’টো হাতে দিয়ে দিলেই আবার গান-ধূলো, পথিক, অনাবিল ভালোবাসাবাসি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29194052 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29194052 2010-07-07 00:00:55
ক্ষমা যদি চাইতে হয়, তবে তোমার কাছে, আমি অপারগ ক্রমাগত ক্লান্তির মাঝে আমি চাক্‌রী করি; মানুষের ছানাপোনায় উঠোন ভরে উঠে, শিশুর মুখের হাসিতে
দিনের ক্লেদ মুছে যায় হযতো বা, আমার উঠোন খালি পড়ে, আমি কেবল চাক্‌রী করি।
কেউ কেউ মুখ ঝামটা দিয়ে বলে- এ শহরে তুমি একাই কি এমন করছো?
উত্তর আলবাত 'না'। এখানকার মানুষগুলো মৃত, সৌহার্দ্য, সহানুভূতি এবং অনেকাংশে
সম্প্রীতিহীন। এদের মানুষ বলা যায় না। জেলখানার কয়েদীর মতো - জোছনা সরিয়ে,
অসংখ্য উটকো কাজ মাড়িয়ে যখন রাস্তায় নামি, তখন অ্যানাকোন্ডা গাড়ির সারি,
শরীরের কোষে কোষে ঘুম আর জং, মন সাজে না, রিপু বাজে না, দিনের অর্ধেকটা সময়
"না মানুষ" দের সাথে অতিবাহিত করার পর, আমিও তাদের একজন। হুতোশের পান্থপাদপ,
বুক পকেটে ঘুমন্ত কলম, বিধবা কাগজ, সব সটান নুয়ে পড়ে। অদৃশ্য জল মুছতে মুছতে,
অস্ফূট স্বরে গাই "ক্লান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভু", আত্মাকে বলি আর একটু ধৈর্য্য ধরো,
সব অনিয়ম সইলো বলে, এখনো তালশাঁসের মতো থাকা মনটা কবে যে
গ্রানাইট হবে! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29183772 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29183772 2010-06-24 00:24:22
যেই কোয়াল (কপাল), হেই মাথা, ঘুরি ঘুরি কোয়াল হাতা [যে কপাল সেই মাথা ঘুরে ঘুরে কপাল খুঁজো, লাভ নেই] দাবী, দাওয়া, চাহিদা ইত্যাদি ইত্যাদি শব্দ মাথার ভেতর জট পাকিয়ে ”না-অনুভবের” চাতালে আছড়ে ফেলে। তুচ্ছ, অতি মানবদেও কাছে যেসব জিনিস অতি তুচ্ছ সেই অনুভূতিগুলো পেয়ে বসে সারাক্ষণ। নিজের অজান্তে অভিযোগের ঝাঁপি খুলে পুরো পৃথিবীকে প্রতিপক্ষ ভেবে আক্রমণ শানাতে থাকি।

২০০৭ এর জানুয়ারির ১১ তারিখে তত্ত্বাবধায়ক সরকার + আর্মির ক্ষমতা অধিগ্রহণ, তার আগের ৫বছর বিএনপি জামায়াত এর অশৈলী-অসুর দাপানো দেখতে দেখতে মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়েছি কতবার!
অনেক স্বপ্ন নিয়ে ২০০৮ এর নির্বাচনে ভোট দিয়েছি, অন্তত ১০০ ভোট আয়ামী লীগের জন্যে চেয়ে এনেছি।
কি অসহনীয় বিদ্যুত বিভ্রাটে কেটেছে তারেক আমলে। আমাদের কষ্টকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারেক-মামুন খাম্বা বানিয়েছে, কিনেছে। অন্তরের গভীর থেকে যতটুকু অভিশাপ দেয়া যায়, দিয়েছি। এখন আমরা আবার ৫১হাজার খুঁটি কিনেছি। একটা পাওয়ারপ্ল্যান্ট তৈরী করার উদ্যোগ নেই। কোন অফিস, আদালত, নতুন ভবন দিনের আলো ব্যবহারের উপযোগী করে গড়ে তোলার আইনী বাধ্যবাধকতা নেই। চব্বিশ-পঁচিশ তলা এক এক অফিস, এক এক ফ্লোরে ২০০-৩০০ বাতি জ্বলে, দশ বিশটা এসি প্রতি ফ্লোরে। ভেন্টিলেশন নেই। সব বন্ধ। প্রজ্ঞাপন জারি করে হাফ হাতা শার্ট পরার বিধান, টাই না পরার স্যুট না পরার পরামর্শ। নারীরা কি করবে? নাঙ্গা থাকবে বিদ্যুত বাঁচাতে! যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ। শেষ পর্যন্ত ভারত থেকেই বিদ্যুত আনা, তাহলে পরিত্রাণ দিতে এত দেরী কেন?

পাঁচ সাতটা পাম্প ঘুরলেও গাড়ির গ্যাস পাওয়া যায় না। প্রেসার নেই অথবা পাওয়ার কাট্ । আমরা বাসায় গ্যাসের চুলায় বাচ্চার কাঁথা শুকাচ্ছি কিংবা কারখানায় ঘ্যাসের নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ চালু রাখতে আরেক এলাকার হেঁশেলই বন্ধ করে রাখাচ্ছি। বাসায় বাসায় সিলিন্ডার গ্যাস দেয়া যায় না? চালু করা যায় না প্রিপেইড মিটার?

প্রতিদিন ৩০, ৩০- ৬০ কিলো রাস্তা পাড়ি দিতে রাস্তায় ৬ ঘণ্টা। লেইন, স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল কতকিছু! গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দেয়া বন্ধ করা যাবে না। প্রতি সপ্তাহে, না প্রতিদিন যেন ২০০ গাড়ি নামছে রাস্তায়। কি অসহনীয়, অসহ্য অবস্থা! সারবিশ্বে মন্দার কারণে যেখানে গাড়ির ব্যবসা পড়তির দিকে সেখানে আমার দেশে রমরমা। যেদিকে তাকানো যাবে কেবল মানুষ। প্রাইভেট অর্গানাইজেশনগুলো স্টাফ বাস দেয় না। কি দুর্ভোগ মানুষের, আহ! পরিবহন খাতের ব্যবস্থাপনা হাত বদল হয় ক্ষমতা বদলের সাথে সাথে। আমরা জিম্মি। ৩৯ বছর স্বাধীনতার। ব্যবসায়ীদের (সড়ক পরিবহন) মন রাখতে রেলখাতের কোন উন্নতি করা হলো না। উড়াল সেতু, পাতাল রেল হবে কারণ এখানে টাকা খাওয়া যাবে। নরমাল ট্রেন দিলে আর কয়টাকা খাওয়া যাবে! নিজের মাথার চুল নিজের ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করে। কেন এসব ভাবি?

কোন ফল পঁচে না। কেমিক্যাল।

কোন নদীর পানি শোধনযোগ্য না । সেগুলোই আমরা খাই। ব্যবসায়ীদের ছাড় দিয়ে ফ্যাক্টরীগুলোতে ইটিপি করা আমরা বাধ্যতামূলক করি না।

পুরো ঢাকা অবরুদ্ধ জ্যামে। ক্যান্টনমেন্ট এর রাস্তা রেস্ট্রিকটেড, বারিধারার রাস্তা রেস্ট্রিকটেড। ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বিদ্যুত যায় না। ওরা কি আমাদের চাইতে কর বেশি দেয়?
কবে হবে ক্ষমতা, প্রশাসনেরর বিকেন্দ্রীকরণ? কবে ঢাকামুখী স্রোত, মানুষের ঢল কমবে কাজের খোঁজে? কবে ক্রসফায়ার থামবে? কবে কৃষকলীগের নেতার ছেলে কাউকে ধর্ষণ করবে না? কবে বিএনপি জামায়াত এথনিক ক্লিনসিং এর মতো পূর্ণিমাকে ধর্ষণ করবে না?বেনিয়ার হাতে আমাদের সব গেছে আমরা আর স্বপ্ন দেখি না। বন্ধুর ১৬বছরের সংসারে সব ডাকতি হতে দেখেছি, কিচ্ছু উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ্, বন্ধু গভীর বেদনা নিয়ে দেশ ছেড়েছে। নিজের গাড়িতে বসে, নিজের মোবাইলখানা তুলে দিয়েছি হিরোঞ্চি ছিনতাইকারীর হাতে বাধ্য হয়ে। তুলির নাচে আর রং ছোটে না। অর্থহীন স্বাধীনতার বুলি পৌঁছয় না ভেদ করে খুলি। রাতে ঘুমাতে চাই, দিনে কোন শয়তানের বাচ্চার বখাটেপনা না দেখে রাস্তায় চলতে চাই। মূর্খ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কলুষিত আমলা, কুলাঙ্গার ছাত্রলীগ যুবলীগ এদের মৃত্যু চাই। জামায়াতীদের মেরে তাদের গণকবর এর উপর হিসু করতে চাই। একটা আকাক্সক্ষাও কি পূর্ণ হবে যদি সুস্থভাবে বাঁচতে না পারি?

ভালোবাসাতে ও গ্রীষ্মের খান্ডবদাহন বৈরী আবহাওয়া আমদানী করে বসে থাকে। এবাসা ওবাসা সবই এক।

মানুষ, মানুষ আর মানুষ।

কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি - দে না ভাই তোদের শত কোটি প্রফিট থেকে এলাকাভিত্তিক ছোট ছোট পাওয়ার প্ল্যান্ট করে। দে না কোটি মানুষকে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করে। শীতে ২টা সোয়োটার দিয়ে আর প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দুর্যোগ শেষে টাকা দিয়ে দাঁত কেলায়ে ছবি দিবি পেপারে, টিভিতে। তোদের স্টাফদের স্টাফ বাস দে, দুপুরের খাবার দে। কোটি মানুষকে শুষে তোদের হাজার কোটি টাকা মুনাফা। কিছু পাবলিক বাস নামা। ট্রেনের ৫টা বগি কিনে দে। কিছুই দিবি না। কারণ এসবে নাম ফাটবে না। তোড়া ঘোড়ার ডিমের গলফ খেলার জন্য টাকা দিবি। গলফ খেলে জাতে উঠবি। উদভ্রান্তের মতো লাগে অব্যবস্থাপনা দেখতে দেখতে! কিভাবে পালানো যায় এসব ভাবনা থেকে?
মুক্তি খুঁজি অহরহ... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29153216 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29153216 2010-05-11 19:25:12
খাপখোলা উল্লাস তুমি হাত ছেড়ে দিলেই ফিরে যাব ব্যতিক্রম পথ হতে
বহুল ব্যবহৃত সরল সাপ্টা স্রোতে?
তুমি শূন্য করে গেলে ঘর, ভুলে যাব বারুদমন্ডিত স্পর্শ
অভ্যাসে বেয়ে যাব বরফে জন্তুর মতো -
অভিনয়ের উন্মাতাল ঝড়!
’মুখের ভেতর রঙীন বুদ্বুদ গাঢ় হয়ে উঠে,
চোখের কোণে নিঃসঙ্গতার ফানুস ঘূর্ণিঝড়’
সামনের সময়গুলো এমনই হবে,
নদীর বুকে বেড়ে যাবে অদখলী চর।
ভোরের কাগজে অপরাহ্ন অস্ত যেতে যেতে
আমিও সংসারী মরাখেকো হব,
আত্মায় সেঁটে যাওয়া কাফনে তর্জনী ছুঁইয়ে
জীবনের বিদ্রোহে হব হয়তো দ্রব!
তুমি উনুনে ঝলসানো শীতপাখি যদি না হও,
তুমি কেউটের নতজানু ফণাকে স’ও,
ঘটে যেতে পারে সেই মিরাকল বা দৈবাত;
যদি দাও, একবার দাও পুনঃবন্ধনের সংবাদ।
নিউজপ্রিন্ট বালিকা হয়ে সমজলাশয়ে,
খাপখোলা উল্লাস চাখব অবাক হয়ে।

(২৬.০২.১০)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29128551 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29128551 2010-04-03 23:27:11
ভাসমান ’উত্তম নারী’ শরীরে জড়ানো সফেদ পাঞ্জাবী নানাবিধ রঙে জর্জরিত
মেরুদন্ডে তবু বাসা বাঁধে না ভয়ের স্রোত
ভাসাই না দু’চোখে ব্যথার জলযান।
নিজের মনোভাবকে গুপ্তহত্যা করে
ফেলে দেই আঁধার টানেলের শেষভাগে,
শত্রুরা বরাবর জয় নিয়ে দৌঁড়েছে আগে
আমি দ্বিধান্বিত সত্য এবং সম্ভবের গোড়াপত্তনে
কখনোই ছিলাম না,
ঈষত ব্যথিত হয়ে লেন্সের চশমা মুছে শুধু
’একা আছি’, কতটুকু সত্য ধরি
অশুভের বিপরীতে!
এই ভেবে গহন নিদ্রার মাঝেও উঠি কেঁপে ।


কোনকিছুতে মন লাগে না। বেজায় ক্লান্ত থাকি। কবিতাটা জঘণ্য হয়েছে। ঠিকঠাক করতে মন চাচ্ছে না। "পান্থ বিহোস" কই?? এটাকে একটু এডিট মেরে দেন।
এমন একটা জায় গায় গিয়ে কয়েকটা দিন মনের মানুষ নিয়ে লুকিয়ে থাকতে পারতাম!
রোমকূপে, চোখের পাপড়িতে, ভ্রুতে শ্রান্তি আর শ্রান্তি। হাড়ের ভাজে ভাজে ন্যূব্জতার দামামা। আমাকে আমি ছাড়া কে ছুটি দিতে পারে?


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29119186 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29119186 2010-03-18 23:08:07
বিলম্বিত ভালোবাসা পত্র - ব্যক্তি অজ্ঞাত; অনুভবের গভীরতা প্রসূত
আমরা সময়ের গল্প শুনতে চাই, ভালোবাসাকে পৌঁছে দিতে চাই বর্তমান থেকে অতীতে কিংবা ভবিষ্যতের দূরত্বের দেউড়িতে। আমরা অপেক্ষাকে প্রতিবন্ধক মনে করে নিজের রুচি বদলের উসিলাও হয়তো খুঁজে নিতে চাই সন্তর্পণে। আমরা নিজেদের ছুঁতে না পেরে একে অন্যকে ইথারে ফিসফিস্ করে হয়তো বলবো, - ”তোমাকে ছুঁতে না পেরে/ আমি নিজ নিয়তির অন্তর্গত রোদনকে বোল্লাম, দ্যাখো/ আমি আর কাঁদতে পারবো না!” বেলা শেষে জানব কোনদিন পেরেছিলাম প্রতিযোগীতাহীন সহজিয়া এক সম্পর্ক রচনা করতে, যেখানে পেয়েছি শুধুই নিষ্কলুষ, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। নতুনের আহ্বানে তোমার ঋজু প্রস্থান ঘটবে তোমারই কাঙ্ক্ষিত ’প্রাইড’ সহকারে। ক্ষমতা নেই এতটুকু কোথাও আঁচড় কাটবার। যদি শুনতে পাও অর্থহীন কাগুজে বন্ধন প্রত্যাখ্যান করেছি কেঁপে উঠে আমাকে ত্যাগ দিও না। আমি হাইপেশিয়া না, নই অন্য অনেককিছু।

আমি তোমার, নিতান্তই তোমার বোকাসোকা সেই বাচ্চাটা যে বয়স্ক শরীরে আজো নিরেট শৈশব বয়ে বেড়ায়। আবেগে হাপুস করে কাঁদে। কিভাবে ভালোবাসলে ভালোবাসার মানুষ চলে যায় না, জানি না। হয়তো এই এক আয়ুতে আর জানাও হবে না- আমার মন মদিরা ভুলো না আমার প্রতিজ্ঞা আমাদেরই তরে - " যে তুমি আমাকে ফেলে নৈরাশ্যের কঙ্কালবাসরে/ চলে গেছ চোখের আড়ালে, শোনো, সকল সময়/ উতসবে কি দুর্বিপাকে কামনার উন্মাতাল ঝড়ে/ তোমার আসার পথে আমার উন্মুখ চক্ষুদ্বয়/ জ্বেলে রাখি। / তোমার নিভৃত প্রতীক্ষায় কী অধীর/ মৃত্যুর পরেও আমি রাখবো দু’চোখ খুলে স্থির।”

ছোটপাখি
১৪.০২.১০
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29098653 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29098653 2010-02-16 00:17:15
ওয়েব সাইট খুঁজিয়া যাহা পাইলাম:-( http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29095321 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29095321 2010-02-11 14:02:31 করোটিতে মৃত্যু : আমার ১১ তম বই " style="border:0;" />

১২১-১২২ নাম্বার স্টল।
কবিতার বই।
মূল্য ৬০ টাকা।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29093950 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29093950 2010-02-09 12:35:00
সবুজ বেষ্টনীর অপমৃত্যু ও 'মাথাই' নারীর খোঁজ সিডরে যখন বয়স্ক বৃক্ষেরা মৃত্যু বরণ করেছিলো
আমরা শোক করেছিলাম।
আহা, আমাদের প্রিয় গাছগুলো!
পত্রিকার খবরে নড়েচড়ে বসি -
চকমক হলিউডের ঝকঝকে তারকা রিচার্ড গেরে*
তার নিজের আঙ্গিনায় থাকা দেড়শ গাছ কেটে ফেলেছেন।
তিনিও শোক করেছেন পঞ্চাশ হাজার ডলার
আক্বেল সেলামি দিয়ে।
আমার এ বিষয়ে কথা বলতে ইচ্ছে করে
কিন্তু ফুরসত কই! সবুজ বৃক্ষরাজির মতো
আমার জীবন নয় তো!
সীতাকুন্ডে সংরক্ষিত সবুজ হত্যা হয়,
টেকনাফ, লাউয়াছড়া, সুন্দরবন, বান্দরবান
হত্যার এই মহোৎসব এড়াতে পারছে না।
সীতাকুন্ডের দু'হাজার গাছের সবুজ রক্তস্রোত আমাকে
বিচলিত করে না।
আমি তুলনামুলক বিদ্যায় পারদর্শী হয়ে উঠি -
কেউ জরিমানা দেয় হাজার মুঠি আর আমরা জায়গা খালি হয়েছে
এই আনন্দে গোঁফ মুচড়ে শিপ ইয়ার্ডের সম্ভাব্য বেনিয়াদের সাথে জুটি।
খুব বাড়ছে শিল্পায়ন, তার সাথে পাল্লা দিয়ে নদী ভাঙ্গা মানুষের দল
শূন্য পাড়ে বসে থাকে সোহাগী নারী প্রকৃতি বাঁচানোর আবেগ নিয়ে -
আমরা খুঁজে বেড়াই 'মাথাই'** নামক দুর্লভ উপল,
মেয়ে তুমি কি 'ওয়ানগারি মাথাই' হবে?

(১৬.১২.০৯)

* রিচার্ড গের 'প্রিটিওম্যান' খ্যাত হলিউড তারকা
** ওয়ানগারি মাথাই (http://nobelprizes.com/
WANGARI MAATHAI) ২০০৪ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্ত আফ্রিকান নারী। কেনিয়ার উজাড় হয়ে যাওয়া বনাঞ্চল বাঁচাতে তাঁর অবদান তাঁকে এনে দেয় নোবেল শান্তি পুরস্কার।











]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29080219 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29080219 2010-01-17 13:42:26
করোটিতে মৃত্যু , ৩৪ বছর
অশ্বক্ষুরের ক্ষীপ্রতায় মৃত্যু নেমে আসে
বলপয়েন্টের টানে লিখা হতে থাকে পূর্বাপর ঘটনা;
চলে ক্রাইম রিপোর্টারের বর্ণনা, জব্বর খবরের স্বাদ পেয়ে
মিডিয়া নেচে উঠে অকৃত্রিম উল্লাসে।

ব্রেকিং নিউজের প্রতি ধাপে লুকানো থাকে অশ্রুসম্ভার
মৃতের খুব কাছে মুখ নিলে জানা যায়
কে কতটা হারিয়েছে, কোন উপত্যকায়
বাঁধা আছে জীবনের তরে চির জাগরূক হাহাকার।

এইসব থেমে যাওয়া হৃতস্পন্দন অনেকে বলে
মানুষের চোখে আনেনি একটুও জল,
কেউ বলে সব ছিল সময়ের প্রয়োজনে
বিচারের পথ রুদ্ধ করতে কত দুর্জন করেছে কত না ছল!

৩৪বছর করোটিতে মৃত্যুনাদ নিয়ে এই যে পথচলা
সব সয়ে প্রতি প্রাণে ইতিহাসের কথা বলা
সে তো ছিল না সহজ কাজ- মাথার উপরে ঘূর্ণিত আজরাইল
পাশে শিকারী বাজ।

চৈত্র শ্রাবণ বন্দুকের নল, গ্রেনেড ইনডেমনিটি
পিতা কি দিয়েছেন কি দেননি তার খুঁটিনাটি
বুকে কারবালার কঙ্কালবাসর, তবু নয় প্রতিশোধ প্রতিহিংসার হুংকার
সব সরিয়ে নিয়মেই বিচার-আচার।

এখন শুধু জল ধুয়ে যাওয়া চোখের ভিটায় অপেক্ষার কুয়াশা প্রহর
করোটিতে মৃত্যু আজ ৩৪ বছর, স্বপ্ন ফাঁসীর দড়িতে দুলছে দেহ
খুনি তোর।

(১৬.১২.০৯)


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29061968 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29061968 2009-12-19 23:40:25
মৌলিক অধিকার বনাম বেনিয়া বীজের ব্যুহ
খাদ্য : আসুন সিন্ডিকেট গড়ে তুলি রাষ্ট্রীয় এবং আন্তর্জাতিক। কেউ উতপাদিত গম ফেলে দেবে সাগরে, আর কেউ অনুন্নত মহাদেশের তক্‌মা ( যা বেনিয়াদের দেয়া) এঁটে ভিক্ষা মাঙ্গবে দোরে দোরে। খাদ্য আর অধিকার নেই, সে মুনাফা গড়ার প্রথম হাতিয়ার, কার আছে সাধ্য ভাঙ্গে সেই ব্যুহ, যে বীজ বপন করা আদি বেনিয়ার!

বস্ত্র : আদম হাওয়ার যুগে গাছের বাকল করেছে লজ্জা নিবারণ, তার দাম ছিল না তেমন। শতেক ছেঁড়া শাড়ির ফাঁকে রোদ খেলা করে, আবার অনেকে এক কাপড় একবারই পরে। তুমি ভোক্তা আছে তোমার ভোগের অধিকার, আমরা মাপব পকেটে আছে কড়ি কার। তুমি শীতে মারা যেতে পারো, তাতে নড়বে না টনক কারো। অধিকার তার, টাকা আছে যার- মূল্য চুকাও পণ্য নাও - এ নিয়ম তো সে ব্যুহ যে বীজ বপন করা আদি বেনিয়ার।

বাসস্থান : ধরণীর বুকে ছোট একখানা বাসা, ক্রমিক নম্বর তিন, মৌলিক অধিকার জেনে নিন। শহরতলী ডেভেলপারদের পকেটে, ভূমি দখল সবচাইতে লাভজনক ব্যবসা, সবাই বলে অকপটে। সেখানে বসুন্ধরা যমুনা, ’এ’ দল ’বি’ দল সব এক, তুই ভাই ভূমিহীন, তোর ভাগ্য সারাজীবনই সেই ’উপেন’। ধরণীর বুকে বাসা, থাকুক না মনে মনে আশা; আশা নিয়ে বস্তিতে, রেলস্টেশনে, তীর ভাঙ্গা নদীর পাড়ে,প্লাস্টিকের ছাউনিতে ফুটপাত-সংসার, বেনিয়ারা হোমলেসদের নিয়ে করে যায় বাণিজ্য, স্রষ্টার সাধ্য কি ভাঙ্গে এই ব্যুহ?

শিক্ষা : এ যেন সবচাইতে মজা ’শিক্ষা’ - ছেলের মাথায় ছটাক মগজ, মেয়ের তারচাইতেও কম; বাড়িতে বাড়িতে ইউনিভার্সিটি, ছাত্রদের নিজের নাম লিখতে বললেও কলম ভেঙ্গে আলুর দম। শিক্ষা একেবারেই নয় মৌলিক অধিকার, এগুলো কারখানা বেনিয়াদের করণিক বানাবার।

ডাক্তার বনাম ’চিকিৎসা’ সে তো গলার ফাঁস, এ বিষয়ে বলতে গেলে পুরোটাই ব্যর্থতার ইতিহাস। সবটা বয়ান করলে হবে যে রাত কাবার, বিশ্বজুড়ে চলছে খেলা তোমার আমার দেহ নিয়ে, ব্যাংকভারী হরেক বেনিয়ার।

নিরাপত্তার সন্ধিবিচ্ছেদ নেই আমার জানা, আজ সাদ্দাম কাল লাদেন তো পরশু তালেবান, উন্নত বিশ্বের পরিচয়ে তারা বেশুমার অস্ত্র বানান।
সেগুলো বিকোতে দেশে দেশে যুদ্ধের দামামা নানা অজুহাতে তারা প্রতিদিন বাজান।

এমন আজব দুনিয়ায় মৌলিক অধিকারের গান গাওয়া ভাই একেবারেই বৃথা
যে কোন উপায়ে বাণিজ্য, এটাই আদতে আমাদের কোরআন গীতা।

(০৭.১২.০৯)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29057130 http://www.somewhereinblog.net/blog/meghkanyablog/29057130 2009-12-11 17:21:06