somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বন্ধু তুমি কই............

১১ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছেলবেলাটা কে খুব মিস করি মাঝে মাঝে। সেই নদীতীরে কত শত বছর যেন যাওয়া হয়নি। নদীতীরে আমার সেই খেলার সাথী, নামটি ছিল তুরান, সে নাকি উত্তরা থাকে, একটা বড় সড় চাকরীও করে। কত বছর হয়ে গেছে কোন যোগাযোগ নেই ওর সাথে। সেই যে বাবার বদলীর পর চলে গেলাম, তারপর যতবার গেছি দুজনেই ভিষণ লজ্জা পেতাম। অথচ আমাদের বয়স যখন মাত্র ৪ বছর তখন থেকে আমরা একসাথে থেকেছি। সারাটাদিন, স্রেফ রাতটাই নিজেদের বাসায় কাটাতাম। নদীপাড় ধরে হেঁটে যেতাম অনেক দূর। কচুরীপানার বেগুনী ফুল গুলো জড়ো করতাম, জামা কাপড় নদীর পাড়ে খুলে রেখে গোসল করতাম নদিতে। আমি কাঁকড়া ভয় পেতাম, তুরান দিব্যি হাত দিয়ে ধরতো কাঁকড়া গুলো। এক প্লেটে খেতাম দু'জন। আমার বয়স যখন মাত্র ৬-৭ বছর তখন আমরা অন্যত্র চলে যাই। তারপর হাইস্কুলে ভর্টই হয়ে বেড়াতে যাই ওদের ওখানে। তুরান আমি লজ্জায় কেউ কারও সামনে যাইনি। নারী পুরুষের পার্থক্যটা বোধ হয় বুঝতে শিখছিলাম তখন! শুনেছি সে পলিটেকনিক্যালে ভর্তি হয়েছিল। সেশনজট নেই বলে পাশ করে বেরিয়েও গেছে, চাকরী করছে একটা মাল্টিন্যাশনাল টেলিকম্যুনিকেশন কোম্পানিতে। আর আমি?!!!!!!!!!!!!!!!!!!

স্কুলে বন্ধু বলতে তেমন কেউ ছিলনা। মাহমুদা বয়সে সিনিয়র ছিল, কিন্তু অসম্ভব প্রিয় বন্ধু ছিল আমার। বিবাহিত ছিল। এখন একটা বাবু হয়েছে ওর, অনেকদিন
পর বাসে ওর সাথে দেখা হয়েছিল। ছেলে বাবু একটা। ভীষণ বয়স্ক লাগে যেন। কলেজেও একসাথে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু আবার কলেজ পাল্টে ভর্তি হলাম অন্য এক কলেজে। তারপর মাহমুদা যোগাযোগ রাখেনি, আমি চেষ্টা করেছিলাম হয়নি। কোথায় যেন সূরটা কেটে গিয়েছিল, আমি আর তাল মিলিয়ে উঠতে পারিনি। নুতন কলেজে হিমা ছিল অনেক প্রিয় বন্ধু আমার। কত সূখ দুঃখ যে একসাথে ভাগ করে নিয়েছি! কবিতাপাগল ছিলাম দু'জনেই। রোজ বিকেলে মেঠোপথে ধানক্ষেত মাড়িয়ে হাঁটতাম আমরা। অস্তগামী সূর্যের দিকে অপলক চেয়ে থাকতাম। আশেপাশের গ্রামীন মানুষগুলো অবাক হয়ে তাকাতো, আর হয়ত ভাবতো কি দেখে রোজ বিকেলে এরা! একদিন না জেনে ভয়ংকর একটা আঘাত করলো সে আমাকে। আমি ক্ষমা করতে পারিনি। হিমা এখন নাকি আজিমপুর থাকে, সে অনেক চেষ্টা করেছে যোগাযোগ করার, ভীষণ জিদ্দি আমি ক্ষমা করিনি! আর আমি!!!!.................

এর পর রিয়াদ আসল। সাথে মাসুম, শিমু,আলী সুমি, রুহি। উচ্ছল সেই দিন গুলো যে কোথায় গেল! বেড়িবাঁধে যেতাম দল বেঁধে। আমি ছিলাম সবার প্রিনসেস! একটু যদি "উহ" করেছি সব্বাই ছউটে আসতো কি হয়েছে কোথায় ব্যাথা পেলাম দেখার জন্য। মিরপুর স্টেডীয়াম বসে সন্ধ্যায় বাদাম খাওয়া আর তুমুল আড্ডা। রিয়াদকে সন্ধ্যায় হঠাৎ ফোন করে বলতাম "মন খারাপ"। অমনি দৌঁড়ে আসত। সুমিটা অনেক মোটা ছিল। মুটকি বললেই রেগে লাল হয়ে যেত। মুনা ছিল ফ্লার্ট করার ওস্তাদ। ছেলেগুলোকে এমন ঘোল খাওয়াত! একদিন সবাই মিলে বসে আছি বেড়ীবাঁধে, হঠাৎ রিয়াদ খেয়াল করলো একটা ছেলে বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছে, আমাকে চোখ ইশারা করে দেখাল। আমি তড়িৎ জিজ্ঞেস করলাম "কি আঙ্কেল আমারে চেহারাটা কি আপনার ছোট মেয়েটার মত?" অমনি সবাই সে কি হাসি। ছেলেটা লজ্জায় উঠে গেল। ইচ্ছে থাকলেও এতজনের বিরুদ্ধে একা সে কোন প্রতিবাদ করতে পারেনি!

রিয়াদ এখন ইটালী, অনেক দূরে। বন্ধু বলতে এখন শুধু মামুন। বন্ধু মানেই বন্ধু। বন্ধুত্বে সততার প্রয়োজনীয়তাটা খুব বেশি। বন্ধু তোদের খুব মিস করি আমি! খুব,খুব!
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০১১ ভোর ৪:০৩
২৩টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×