ছেলবেলাটা কে খুব মিস করি মাঝে মাঝে। সেই নদীতীরে কত শত বছর যেন যাওয়া হয়নি। নদীতীরে আমার সেই খেলার সাথী, নামটি ছিল তুরান, সে নাকি উত্তরা থাকে, একটা বড় সড় চাকরীও করে। কত বছর হয়ে গেছে কোন যোগাযোগ নেই ওর সাথে। সেই যে বাবার বদলীর পর চলে গেলাম, তারপর যতবার গেছি দুজনেই ভিষণ লজ্জা পেতাম। অথচ আমাদের বয়স যখন মাত্র ৪ বছর তখন থেকে আমরা একসাথে থেকেছি। সারাটাদিন, স্রেফ রাতটাই নিজেদের বাসায় কাটাতাম। নদীপাড় ধরে হেঁটে যেতাম অনেক দূর। কচুরীপানার বেগুনী ফুল গুলো জড়ো করতাম, জামা কাপড় নদীর পাড়ে খুলে রেখে গোসল করতাম নদিতে। আমি কাঁকড়া ভয় পেতাম, তুরান দিব্যি হাত দিয়ে ধরতো কাঁকড়া গুলো। এক প্লেটে খেতাম দু'জন। আমার বয়স যখন মাত্র ৬-৭ বছর তখন আমরা অন্যত্র চলে যাই। তারপর হাইস্কুলে ভর্টই হয়ে বেড়াতে যাই ওদের ওখানে। তুরান আমি লজ্জায় কেউ কারও সামনে যাইনি। নারী পুরুষের পার্থক্যটা বোধ হয় বুঝতে শিখছিলাম তখন! শুনেছি সে পলিটেকনিক্যালে ভর্তি হয়েছিল। সেশনজট নেই বলে পাশ করে বেরিয়েও গেছে, চাকরী করছে একটা মাল্টিন্যাশনাল টেলিকম্যুনিকেশন কোম্পানিতে। আর আমি?!!!!!!!!!!!!!!!!!!
স্কুলে বন্ধু বলতে তেমন কেউ ছিলনা। মাহমুদা বয়সে সিনিয়র ছিল, কিন্তু অসম্ভব প্রিয় বন্ধু ছিল আমার। বিবাহিত ছিল। এখন একটা বাবু হয়েছে ওর, অনেকদিন
পর বাসে ওর সাথে দেখা হয়েছিল। ছেলে বাবু একটা। ভীষণ বয়স্ক লাগে যেন। কলেজেও একসাথে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু আবার কলেজ পাল্টে ভর্তি হলাম অন্য এক কলেজে। তারপর মাহমুদা যোগাযোগ রাখেনি, আমি চেষ্টা করেছিলাম হয়নি। কোথায় যেন সূরটা কেটে গিয়েছিল, আমি আর তাল মিলিয়ে উঠতে পারিনি। নুতন কলেজে হিমা ছিল অনেক প্রিয় বন্ধু আমার। কত সূখ দুঃখ যে একসাথে ভাগ করে নিয়েছি! কবিতাপাগল ছিলাম দু'জনেই। রোজ বিকেলে মেঠোপথে ধানক্ষেত মাড়িয়ে হাঁটতাম আমরা। অস্তগামী সূর্যের দিকে অপলক চেয়ে থাকতাম। আশেপাশের গ্রামীন মানুষগুলো অবাক হয়ে তাকাতো, আর হয়ত ভাবতো কি দেখে রোজ বিকেলে এরা! একদিন না জেনে ভয়ংকর একটা আঘাত করলো সে আমাকে। আমি ক্ষমা করতে পারিনি। হিমা এখন নাকি আজিমপুর থাকে, সে অনেক চেষ্টা করেছে যোগাযোগ করার, ভীষণ জিদ্দি আমি ক্ষমা করিনি! আর আমি!!!!.................
এর পর রিয়াদ আসল। সাথে মাসুম, শিমু,আলী সুমি, রুহি। উচ্ছল সেই দিন গুলো যে কোথায় গেল! বেড়িবাঁধে যেতাম দল বেঁধে। আমি ছিলাম সবার প্রিনসেস! একটু যদি "উহ" করেছি সব্বাই ছউটে আসতো কি হয়েছে কোথায় ব্যাথা পেলাম দেখার জন্য। মিরপুর স্টেডীয়াম বসে সন্ধ্যায় বাদাম খাওয়া আর তুমুল আড্ডা। রিয়াদকে সন্ধ্যায় হঠাৎ ফোন করে বলতাম "মন খারাপ"। অমনি দৌঁড়ে আসত। সুমিটা অনেক মোটা ছিল। মুটকি বললেই রেগে লাল হয়ে যেত। মুনা ছিল ফ্লার্ট করার ওস্তাদ। ছেলেগুলোকে এমন ঘোল খাওয়াত! একদিন সবাই মিলে বসে আছি বেড়ীবাঁধে, হঠাৎ রিয়াদ খেয়াল করলো একটা ছেলে বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছে, আমাকে চোখ ইশারা করে দেখাল। আমি তড়িৎ জিজ্ঞেস করলাম "কি আঙ্কেল আমারে চেহারাটা কি আপনার ছোট মেয়েটার মত?" অমনি সবাই সে কি হাসি। ছেলেটা লজ্জায় উঠে গেল। ইচ্ছে থাকলেও এতজনের বিরুদ্ধে একা সে কোন প্রতিবাদ করতে পারেনি!
রিয়াদ এখন ইটালী, অনেক দূরে। বন্ধু বলতে এখন শুধু মামুন। বন্ধু মানেই বন্ধু। বন্ধুত্বে সততার প্রয়োজনীয়তাটা খুব বেশি। বন্ধু তোদের খুব মিস করি আমি! খুব,খুব!
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০১১ ভোর ৪:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



