তুমি যখন এই চিঠিটি পড়ছো আমি তখন তেপান্তরের মাঠ দিয়ে হেঁটে চলেছি...........দূরে বহু দূরে। তুমি ছুঁতে চাও আমায়, জানি। বুকে চেপে চীৎকার করে বলতে চাও "ভালবাসি"। পারবে না আর। তোমার ধরবার ছোঁবার অনেক উর্ধ্বে আমি। তোমার বিবস্ত্র কান্না আমি শুনতে পাচ্ছি। কেঁদনা। জীবনের বোঝা বইবার শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলাম আমি। প্রতিটা দিন আমার কাটে অশরিরী আরেক বীভৎস "আমার" সাথে! আমি হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। "এই ভাল হল" বলে মেনে নাও!
তুমি নেই বলে বড় ক্ষোভ ছিল আমার, তুমি থাকবেনা ভেবে এক নিদারুন ব্যাথা। চিত্তে আমার চিত্তাকার্ষক দুর্নিবার মোহ! তুমি ছাড়া সে ধুসর দূরাশা বৈ কিছুই নয়! তুমিহীনা আমি বাঁচি কেমন করে! ভাবনায় আমার দূর্ভাবনা ভর করেছে প্রেতাত্মার মত! তুমি জগৎ সংসারে হাঁটছ, খেলছ, ঘুরে বেড়াচ্ছ তোমার পাশে অন্য কেউ। সে বুঝি মানতে পারি আমি?! তুমি কেঁদনা। ভাগ্যই আমাদের আসল বিড়ম্বনা। ও বেটা বুঝলোই না, তুমি আর আমি কী চাই!!
আকাশে চেয়ে দেখ। আমি তারা হয়ে জ্বলবো। তুমি কেঁদনা। তাহলে ঝাপসা হয়ে যাব আমি। ঠিক বরাবর যেমন ঝাপসা ছিলাম তোমার কাছে! তুমি আমায় বোঝনি সে দোষ আমি দেইনে। স্রেফ বুঝেও তাকে নিজের বোধের ভেতর প্রতিষ্ঠীত হতে দাওনি। তার কারন আজকে চলে যাবার বেলায়ও আমি খুঁজে পাইনি। আমি বোধ করি সেই অতৃপ্তি নিয়েই চলে গেলাম।
এভাবে যদিবা বেঁচে থাকতাম, তবু সে মৃত্যুর চেয়ে কোন অংশে কম হতনা! তুমি আক্ষেপ করোনা। নিজেকে দোষীও ভেবনা। আমার অপয়া কপালে কোন কিছুই যেন সয় না! তোমায় সইবে এমন ভাগ্য আমার হবে না সেটাই স্বাভাবিক। তবু আমার এই পরম পাওয়াটুকু আমার হয়ে থাক, যেন তুমি একবার কাঁদ, আমার নিথর মুখে চেয়ে, একবার বল "ভালবাসি!
(লেখাটা গত সপ্তাহে লিখেছিলাম! দেয়া হয়নি, অসমাপ্ত ছিল বলে। আজও অসমাপ্ত থাকলো। এমন "শেষপত্র" যেন কেউ না লিখে সবাই দোয়া করবেন)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

