তোমার কাছেই শিখলাম সুন্দরের সংজ্ঞা। সুন্দরের পূজারী তুমি, তাই আমার কদর তোমার কাছে থাকবেনা সেই স্বাভাবিক! তোমার কাছে সুন্দর মানেই ৩৪-২৯-৩৪/৫'৪" দৈর্ঘ-প্রস্থ, সুন্দর মানেই দূধে-আলতায় গায়ের রং, পান পাতার মত মুখশ্রীতে বাঁশির মত নাক, আয়তনয়না টোল পড়া গাল! আমার ময়লা ধরা গায়ের রঙে তোমার পোষাবে কেন? জানো, কতবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়েঘুরে ফিরে, কখনও বা ফিরে ঘুরে দেখেছি, সুন্দর তো পড়ে মরুক তার বাতাসটুকুও গায়ে লাগেনি আমার! বিধাতা এমন অবিচারটা কেমন করে যে করলেন আমার সাথে সেই ভেবেই আমার চোখের নীচের কালি আরও গাঢ় হচ্ছে দিনকে দিন!
দাদির পানের ঝুড়ি থেকে পান পাতা নিয়ে মুখের ওপর ধরে দেখেছি। নাহ রঙে রুপে আমার মুখের ধারে কাছেও সে নেই! অবশেষে সুপারি আর চুন যোগ করে পানটা খেয়েই ফেলি। কমলার কোয়া ভেঙ্গে ঠোটের উপর নীচে নানান ঢঙ্গে উল্টে-পাল্টে দেখি। মেলেনা। দূধ আর আলতা মিলিয়ে দেখেছি। ছি! ছি! অমন রং আমি চাইনে! হলুদের রং আমার বড় প্রিয়। তাই হলুদ নিয়ে গায়ে পায়ে মাখি, মাঝে মাঝে দু-এক টুকরো খেয়েও ফেলি যদিবা তাতে কাজ হয়, এই ভেবে!
নাকে আমার দুটি ছিদ্র ঠিকই আছে, কিন্তু তাতে ফুঁ দিলে বাজনা বাজবে বলে মনে হয়না! তাই তোমার বাঁশির মত নাকের চাহিদাটাও আমাকে দিয়ে পূরণ হবার সম্ভাবনা নেই। এবার এসো চোখের কথায়। -৩.০০ পাওয়ারের চশমা দিয়ে চোখের আয়ত কিংবা বর্গক্ষেত্র কোনটাই বুঝিনা। জ্যামিতিতে আমি বরাবরই কাঁচা! কত বার গাল ফুলিয়ে, আঙুলের টোকা দিয়ে টোল পড়ানোর অপচেষ্টা করেছি, নাহ , মরা নদীতে কী আর জোয়ার আসে?
তোমার জন্য খাদ্যবস্তু, বাদ্য-বাজনা হতে কিংবা জ্যামিতি করতে আমার আপত্তি ছিলনা কিন্তু সৃষ্টিকর্তা আমায় সৃষ্টিকরার সময় হাতের কাছে বোধ হয় দুধ, আলতা, কমলার কোয়া অথবা স্কেল, কম্পাস বা গজ ফিতা নিতে ভুলে গিয়েছিলেন। তাঁর ভুলে আমায় না হয় শাস্তি নাই দিলে। আমার একটা মন আছে। মনের ভেতর ভীষণ শান্ত একটা নদী আছে। ভালবাসার নদী! নেবে তুমি?
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৫:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


