somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সায়াহ্ন যখন হাতের মুঠোয় পর্ব ২

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Click This Link

হসপিটালে ঢুকে রুটিন চেকিং এর পর নিজের ডেস্কে এসে বসে নাবিল। ওর মাথা থেকে এখনও যায়নি সেই লাইনক'টি। কম্পিউটার অন করে বাকি লাইন গুলো পড়ার ইচ্ছে নিয়ে ব্রাউজার খুললো। মনের ভেতর গেঁথে রেখেছিল ওয়েবসাইটের এড্রেসটা। বাকীটুকু পড়ুন" এ ক্লিক করে ঢুকলো সে। বিমুগ্ধ নাবিল শুরু করলো পড়া ""আমার সে প্রার্থনা বিধাতার বেদী ছোঁয়না আমি জানি। তাই তুমি আসনা। কত সহস্র শতাব্দি আমি তোমার প্রতিক্ষায় আছি জানোনা তুমি?" আপন মনে নাবিল বলে ওঠে "জানি গো জানি"। লেখক/লেখিকা ছদ্ম নামে লিখে। অথচ নাবিল আপন মনেই তাকে নারী সাজিয়ে নেয়! আবার পড়া শুরু করে "প্রতিটি সকাল বেলায় আমি সন্ধ্যের অপেক্ষায় থাকি! সারাবেলা সারাঘরময় ছুটোছুটি হুলস্থুল বাঁধিয়ে কাজ করি, যাতে সন্ধ্যের আগে আমার সব কাজ শেষ হয়! কারন প্রতিটা দিন আমি নিশ্চিত প্রত্যাশায় থাকি তুমি আসবে!"

"আঁচল বিছায়ে আর কতকাল তোমার আসবার অপেক্ষায় আমি রাতকে দিন, আর দিন কে রাতের কোলে ঘুম পাড়াব? নিশাচর পাখিরা আমার সহচর হয়েছে অনেক আগেই। রোজ রাতে কোন এক দুঃখবিলাসী তার বেহালায় তোলে ঝড়ের সুর! আমি শুনি সে সুর। তার প্রত্যেকটা লয় আমার মুখস্থ। রোজ রাতে পাশের বাড়ির নব্য অতিথির কান্না শুনি আমি। ঘুম পাড়ানি গানে মা তাকে আবার শুইয়ে দেয়। আমি শুতে পারিনা, আমার ঘুম নেই!" এ পর্যন্ত পড়ে নাবিলে চির তৃষ্ণার্ত হৃদয় হাঁপিয়ে ওঠে। এমন করে সত্যিই কি কেউ কারও অপেক্ষায় থাকে? যদিবা থাকে তবে সেইজন না জানি কেমন! কেমন করে এই লেখক কে নাবিল খুঁজে পাবে তাই ভাবতে থাকে সে। ছদ্মনামটি দেখলো সে "কুঁড়ি"! নিশ্চয় মেয়েই হবে। নাবিল ভাবতে থাকে, ঐআঙ্কেলের বাসায় দেখেছিল লেখাটা প্রথম। ওখান থেকে কি কোন ক্লু পাওয়া যায়! একবার গেলে কি খুব অশিষ্ট কাজ হবে? না হয় বলবে যে, শরীরের কি অবস্থা তাই জানার জন্য গিয়েছে। এমন হাজার "সম্ভব" "অসম্ভবে"র দোলাচলে দুলতে থাকে নাবিলের মন। তারপর একসময় স্থির করেই ফেলে যাবে একবার!

আজকে হসপিটাল থেকে একটু জলদী বের হয় নাবিল। যাবে কি যাবেনা এমন মন নিয়ে অবশেষে পৌছেই গেল আশফাক সাহেবের বাসার সামনে। কলিং বেলে হাত রেখে ওর মনে হয় ফিরে গেলেই হয়। ততক্ষনে চাপ পড়ে গেছে বেলে। দরজা খুলে দেয় একটি মেয়ে। বয়স ২৩-২৪ হবে, চোখে চশমা। নাবিলকে দেখেই হকচকিয়ে যায় মেয়েটি। "
:আরে আপনি? আসুন আসুন।
:ইয়ে মানে, আমার বাসাটাও কাছেই তাই ভাবছিলাম আঙ্কেল কেমন আছেন একবার দেখে যাই।
:আব্বু এখন মোটামুটি ভালই আছেন। আপনি বসুন, আমি আব্বুকে ডাকছি।
আশফাকুর সাহেবকে ডাকতে হয়না, উনি নিজেই এসে হাজির হয়েছেন ততক্ষনে!
: আমার বাসা কাছেই। তাই ভাবলাম আপনাকে একবার চেকআপ করে যাই।
: বেশ করেছ বাবা।
নাবিল ওনাকে চেক আপ করে। আশফাকুর সাহেব জোর গলায় নির্দেশ দিয়ে যান রাতে খেয়ে যাবার জন্য। নিজে বসে গল্প করেন। মেয়েটি এসে চা নাস্তা দিয়ে যায়। আশফাক সাহেব পরিচয় করিয়ে দেন তার একমাত্র মেয়ে নিটোল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, শেষ বর্ষ। বয়স বাড়লে মানুষ সন্তানদের ছোট ছোট অর্জনগুলোও খুব রঙ মাখিয়েই অন্যের কাছে জাহির করেন। আশফাক সাহেবও তার ব্যতিক্রম নন। কথায় কথায় বলেই ফেলেন মেয়েটি তার বড্ড গুনি। লেখার হাত চমৎকার। তারপর যে সব পত্র- পত্রিকায় নিটোলের লেখা প্রকাশিত হয়েছে তাই দেখাতে থাকেন নাবিলকে। মাঝখানে ইন্টারনেটে কমিউনিটি ব্লগে লেখার ব্যাপারটি বাদ যায়নি।
নাবিলের অতি-উৎসাহি মন তার প্রশ্নের জবাব পেয়ে যায়। বুঝে ফেলে কুঁড়ি কে! নাবিলের মনে তখন বিনা বসন্তে বাহারি ফুলের কুঁড়িরা চোখ মেলতে শুরু করে। সেদিনকার মত খেয়ে বিদায় নেয় নাবিল। মন তার কি এক অসামান্য প্রাপ্তির সম্ভাবনায় উন্মাতাল হয়। মানবদেহ নিয়ে কাঁটা ছেড়া করা ডা.নাবিল আরমান আজ মানব মনের ব্যবচ্ছেদে রত হয়!

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৯:১৩
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×