সংবাদ
মঞ্চে আসছে WATER WAR জলযুদ্ধ
আগামী ৪ ও ৫ নভেম্বর ২০০৯ শিল্পকলার স্টুডিও থিয়েটার হলে কারিগরের দুই দিন ব্যাপি , WATER WAR জল যুদ্ধ উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
প্রায় এক বছর গবেষণা ও মহরা শেষে মঞ্চে আসছে কারিগরের দ্বিতীয় নাটক ,WATER WAR জল যুদ্ধ। পানি সমন্ধিয় বিভিন্ন নগ্ন রাজনিতী ও অপরাধ সংগঠিত হয়ে আসছে পৃথিবীর শুরুকাল থেকেই। পৃথিবীতে সর্বাধিক সভ্যতা যেমন গড়ে উঠেছে নদীর কিনারে তেমনি পানির জন্যই ঘটেছে অনেক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। মানব প্রজাতী জলকে পবিত্র জ্ঞান করে আসছে আদিকাল থেকেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন পানির জন্যই ঘটতে পারে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ।
আমাদের দেশ ও জাতী নদী নির্ভর বা বলা যায় এ জাতীর মানুষেরা নদীময়। এই বদ্বীপের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রত্যেকটি নদীর উৎস ও উৎপত্তির রয়েছে চমৎকার সব মিথ। এই উপমহাদেশেই প্রথম এবং অদ্যাবধি নদীকে মা বলে সম্বোধন করা হয়।
অপার প্রকৃতির এই গতিকে যখন বাঁধ দিয়ে আটকে দেয়া হয় তখন নদী পারের মানুষেরা হয়ে যায় নিঃস্ব ও নিসঙ্গ। ফারাক্কা বাধের প্রভাবে যেমন বাংলাদেশে অনেক নদীই মরেগেছে তেমনি মরেছে অনেক মানুষ। আর অসংখ্য মানুষ নিস্ব ও নিসঙ্গ হয়ে বেচে থাকার জন্য যুদ্ধ করে যাচ্ছে। শুধু ফারাক্কা নয় পৃথিবীর বিখ্যাত নদীগুলোতে বাাঁধ নির্মাণের ফলে গোটা পৃথিবীই আজ প্রাকৃতিক হুমকির সমুক্ষিন।
অপরদিকে কিছু অসাধু ব্যাবসায়ী নদী ভরাট করে শিল্প স্থাপনের ফলে নদী মরে যাচ্ছে। পানি ব্যাবসায়ীরা এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পানিকে বোতল বন্দি করছে আরও বেশী।
নদী নিয়ে এই উপমহাদেশের মানুষের কৌতুহল সীমাহীন। তাই নদীর জন্মের ইতিহাস যেমন নির্মিত হয়েছে তেমনি ঘাটে ঘাটে, পারে পারে নদী কে নিয়ে উৎপত্তি হয়ছে নানারকম লোক কাহিনী।
নদী ও জল নিয়ে মিথ, নদীপাড়ের মৃত ও নিসঙ্গ মানুষের কাহিনী নিয়ে গড়ে উঠেছে WATER WAR, জলযুদ্ধ নাটকের পটভূমি। নাটকটির কাহিনীতে শহীদে কারবালা পুথি অবলম্বনে কারবালা যুদ্ধের কাহিনীর সাথে সাথে উঠে এসেছে নদীপাড়ের বিভিন্ন সভ্যতা গড়ে উঠার ইতিহাস। চর দখলের কাহিনী সেই সাথে নদীতে বাঁধ নির্মানের ফলে নিস্ব ও নিসঙ্গ হয়ে পড়া কিছু মানুষের গল্প সহ গোটা পৃথিবীর জলবায়ু পবিবর্তনের ফলে মানুষের অভ্যাসগত ও সামাজিক বিকৃত বিবর্তনের এক নিদারুন পরিনতির বর্তমান । নাটকটির গতিই নদীর মতো । একটি মাত্র কাহিনী নয়, জীবন ও নদীর পাড়ে পাড়ে যেমন প্রতি মুহুর্তেই অনেক ঘটনা ঘটে যায় ঠিক তেমনি ১ ঘন্টা ৪০ মিনিটের এই নাটকের বাঁকে বাঁকে অনেক ঘটনা ও মুহুর্ত দৃশ্যায়ন করা হয় যা এখনকার মানুষের জীবন যাপনে প্রকাশিত অথবা অপ্রকাশিত। নদীরও হয়তবা ভাষা আছে। না হলে নদীকে নারী অথবা মানুষের জীবনের সাথে তুলনা করা হয় কেন? অথবা নদ ও নদীর প্রেম কাহিনী নিয়ে লোক কাহিনীই বা নির্মিত হলো কেন? WATER WAR জলযুদ্ধ নাটকে নদী কথা বলে। নদী পাড়ের মানুষের মুখ থেকে ছড়ানো গল্প ব্রষ্মপূত্র ও শীতলক্ষার প্রেম কাহিনীও উপস্থাপন করা হয়েছে উল্লেখিত নাটকটিতে।
নাটকটির নির্মান শৈলীতে উত্তরবঙ্গের পটালাটিয়ার উপস্থাপন ভঙ্গিকে অনুসরন করা হয়েছে।
নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন সরকার হায়দার। অভিনয় করছেন আসিফ মিল্টন ও সাত্তার হিরা, আবহ সঙ্গিত নির্মান করেছেন আবদার, সেট নির্মাণ করেছেন কচি এবং আলোক নির্মান করেছেন চন্দন ।
চলবে.......
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



