আমার প্রিয় পোস্ট

আজি হতে শতবর্ষ পরে কে তুমি পড়িছো বসি আমার ব্লগখানি কৌতুহল ভরে

৭১ এর ঘটনা : এক ঝুড়ি কামরাঙা ,আল্লাহর কাছে আমার যত কৃতজ্ঞতা

০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৫:০৬

শেয়ারঃ
0 0 0

[আমার বাবার কাছ থেকে শোনা ছোট্ট এক টুকরো ঘটনা]

ঢাকা মেডিকেলের নতুন যে ব্যাচটির ক্লাশ শুরু হওয়ার কথা ৭১ এর শুরুতে , তার একজন আমার বাবা । বয়স তখনো ১৮ পার হতে বেশ কয়েকমাস বাকি । মার্চের শুরুর দিন গুলোতে বাবা ঢাকাতেই ছিলেন ।৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর মিটিংয়ে অংশ নেন । পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে পারে এমন আশংকায় ৭ মার্চের পরেই বাবা ঢাকা ছেড়ে দেশের বাড়ি চলে যান।

ঢাকা-আরিচা সড়কে তখন অনেকগুলো ব্রীজ ছিল না ,মাঝের নদীগুলো পাড়াপাড়ের একমাত্র উপায় ছিল নৌকা।যাবার পথে দেখেন হতে গিয়ে দেখেন অসংখ্য মানুষ ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে ।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এপ্রিল মাসে বাবা রাজশাহী চলে যান ভারত সীমান্তে অস্ত্রের ট্রেনিং নিতে। রাজশাহী থেকে পাবনা আসার পথে নাটোরের কাছাকাছি পাক আর্মির ৪/৫ জন যাত্রীবাহী বাস থেকে সবাইকে নামিয়ে সার্চ শুরু করে । ১৬ থেকে ২৫ বছর বয়েসীদের আলাদা একটা লাইনে দাড় করিয়ে বলা হয় , তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়া হবে ।বাস ড্রাইভারকে বলা হয় নারী শিশু সহ অন্যান্যদের নিয়ে চলে যেতে । বাবা ছিলেন লাইনে সবার পেছনে , বাসের পেছন দরজার কাছাকাছি ।লাইনে দাড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ার করা ছিল পাক আর্মির নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা । জীবনের আশা ছেড়ে দিয়ে বাবা তখন কালেমা পড়ছেন । এর মাঝে খেয়াল করেন লাইনের শুরুর দিকে পাক সৈন্যদের জটলা করে খুব মনযোগ দিয়ে কিছু একটা দেখতে । বাসে একজন বৃদ্ধ যাত্রী খাচায় ভরে কামরাঙা নিয়ে যাচ্ছিলেন । পাকিস্তানি গাধাগুলোর কাছে অচেনা এ ফলটিকে সন্দেহজনক মনে হয় । গ্রেনেডের সাথে আকৃতিতে সামান্য মিল থাকায় তারা দাবী করে এগুলো গ্রেনেড । বৃদ্ধ তখন ফল খেয়ে প্রমাণ করছেন এগুলো গ্রেনেড না , আর তাকে ঘিরে দাড়ানো গ্রেনেড বিস্ফোরণের ভয়ে তটস্থ ৪/৫ জন পাক সেনা ।
বাবা সহ লাইনে দাড়ানো আরও একজন সুযোগটা কাজে লাগাতে সক্ষম হন,কামরাঙাতে নিবদ্ধ সেনাদের দৃষ্টি এড়িয়ে পেছনের দরজার পা-দানিতে বসে পড়েন , শরীরটা ক্রল করে করে বাসের পাটাতনে টেনে তোলেন । এর সাথে সাথেই বাস ছেড়ে দেয় .......

 

প্রকাশ করা হয়েছে: গৌরবের মুক্তিযুদ্ধ  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:০৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৫:১০
বিহংগ বলেছেন: রাখে আল্লাহ মারে কে?
আমার বুক কেঁপে ওঠছিলো।
২. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৫:১৪
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: বিহংগ , ছোটবেলায় প্রথম যেবার ঘটনাটা বুঝতে পেরেছিলাম , আমি কেদে ফেলেছিলাম ।এখনও কেপে উঠি , লাইনে আর যারা ছিলেন , তাদের কথাও জানতে ইচ্ছে করে মাঝে মাঝে ।
আপনাকে ধন্যবাদ
৩. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৫:১৪
ইরতেজা বলেছেন: মেহরাব শাহরিয়ার ভাই আমার ভাবতেই গা শিরশির করছে। পাকিস্তানি হানাদার রা মানুষ না পশু।
অত্যাচারকারী চিরকালই ভিতু। কামরাঙা ফলকেও গ্রেনেড মনে করে। চাচার এত বড় বিপদেও উপস্থিত বুদ্ধি দেখিয়েছেন।

এই রকম আরো কিছু স্মৃতিচারণ ব্লগ আগামীতে পাব আশা করি। অনেক অনেক ধন্যবাদ
৪. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৫:১৯
মিরাজ বলেছেন: ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য। কাপুরুষ পাক সেনারা এভাবেই নিরস্ত্র নিরপরাধ মানুষদের হত্যা ও নির্যাতন করেছে। এইসব ডরপুকেরা সামান্য চ্যালেন্জেই অধিকাংশ সময় লেজ তুলে পালিয়েছে।
৫. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৫:২৩
ফারহান দাউদ বলেছেন: কামরাঙারে গ্রেনেড? পাকিগুলা কি আজীবনই মাথামোটা ছিল? লাইনের বাকিদের কি হল মনে হয় কোনদিনই জানা যাবেনা।
৬. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৫:২৬
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: ইরতেজা ভাই , "পাকিস্তানি গাধাগুলো" লিখার সময় একবার ভেবেছিলাম "গাধা" শব্দটা বাদ দেবো নাকি ।কারণ ওদের এমন নির্বোধ আচরণই আমাকে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ হওয়ার সুযোগ এনে দিল।

কৃতজ্ঞতা আপনার কমেন্টের জন্য ।
৭. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৫:২৯
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: মিরাজ ভাই , কিছুক্ষণ আগে একটা ব্যাতিক্রমী পোস্ট দেখে মনে হলো প্রত্যেকেরই হয়তো শেয়ার করার মত ছোট কোন ঘটনা হলেও জানা আছে । তাই ভাবলাম সবার সাথে শেয়ার করি , আশা করি অন্য সবাইও সাড়া দেবেন
৮. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৫:৪২
ইরতেজা বলেছেন: মেহরাব শাহরিয়ার ভাই সঠিক বলেছেন।

একবার চিন্তা করুন।১ হাজার না ১ লাখ না ১০০০০০০০ মানুষ এভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ জ়ীবনের ঝুঁকি নিয়ে শরণার্থী হয়েছে।

খালি পা হেঁটে রোদ বৃষ্টির হেঁটে মিলের পর মাইল হেঁটে গিয়েছে। কখনও তাদের খালি পা পীচের আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছে।অনেকেই ছিল মহিলা, শিশু। ছিল গর্ভবতী মা। হাতে ছিল সামান্য পোটলা। সেখানে এক মুখ দুই মুখ চিঁড়া ভাজা খেয়ে দিনের পর দিন পার করেছে । রাজাকার আল বদর কুকুরের হানা থেকে বাঁচতে প্রতি পদক্ষেপ ছিল ভয়ার্ত। কি ভয়ঙ্কর।
৯. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৫:৪৮
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: ফারহান , পাকিরা মনে হয়ে কামরাঙা দেখে নাই জীবনেও ,এটাকে বাংলা গ্রেনেড মনে করেছিল(কিভাবে যে এটা ভেবেছিল , এই ব্যাখ্যা মনে হয় কোন বাংলাদেশী চেষ্টা করলেও দিতে পারবে না) , .......দাম্ভিক সেনাবাহিনীর চরম সাহসহীনতার পরিচয়
১০. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৬:১৭
সোনার বাংলা বলেছেন: ওহ্....!
বুকটা ধ্ক ধক করতে ছিলো।
১১. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৬:২৬
এস্কিমো বলেছেন: ভাল লাগলো।
এই রকমের লক্ষ লক্ষ ঘটনা দেশে ছড়িয়ে আছে।
ভুলে যাই কিভাবে?
ধন্যবাদ@মেহরাব
১৩. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৬:৩০
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: ইরতেজা ভাই , আসলেই তো । আপনার কথাগুলো একটু চুপ করে ভাবলাম । আমরা দেখিনি , তাই ভাবনাগুলো এত সহজে আসতে চায় না .......১ কোটি মানুষ হেটে চলছে কোন কোন না কোন সময়ে .....
১৫. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৬:৩৪
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: @সোনার বাংলা , ধন্যবাদ আপনাকে ।
ব্রাশ ফায়ার থেকে বেচে যাওয়া আরেকজনের কথা আব্বুর কাছে শুনেছিলাম , সম্ভবত আমাদের গ্রামের আশে পাশের ঘটনা, হঠাত দৌড় দিয়ে নদীতে ঝাপিয়ে প্রাণ বাচিয়েছিল, পায়ে গুলি লেগেছিল
১৬. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৬:৩৬
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ @এস্কিমো

কৃতজ্ঞতা @ উম্মু আবদুল্লাহ
১৮. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৬:৫০
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: @সৌরভ ধন্যবাদ
ধন্যবাদ @ বিবণ
১৯. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৬:৫১
সুনাগরিক বলেছেন: ভাই, সত্যি বলতে কি আমার বুকটা কেঁপে উঠেছিল। আল্লাহর ইচ্ছা ছিল বলেই তিনি সামান্য কামরাঙার মাধ্যমেই ও যাত্রা কাউকে কাউকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন।
২০. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৬:৫৭
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: সুনাগরিক , আপনার সাথে সহমত...........
২১. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ সকাল ৭:৪৬
মাহমুদ রহমান বলেছেন: কি মর্মান্তিক! আমার নানার একটা কাহিনী আছে ঠিক এই ক্যাটাগরির। পকেটে মেওয়া ছিল, পাকবাহিনী মনে করেছিল বোমা। সে যাত্রায় তিনি যেভাবে বেঁচে যান তা ছিল সত্যিই বিষ্ময়কর!
২২. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ সকাল ৮:২২
এস্কিমো বলেছেন: আহা, কুমীরের কান্না দেখার সুযোগ করে দেবার জন্যে মেহরাবকে আবারো ধন্যবাদ।
২৩. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০:৩৩
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: মেওয়া বলতে ফল বুঝাচ্ছেন ? @ মাহমুদ রহমান
২৪. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৫৯
তানজিলা হক বলেছেন: আপনার লিখাটা পড়তে পড়তে আমার রিদপিন্ডের গতি বেরে যাচ্ছিল।
লাইনে আর যারা ছিলেন তাদের কথা অজানা থেকে যাবে আজিবন।
যুদ্ধের সময় আমার নানুদের মফস্বল শহরের বাড়িতে পাক বাহিনী আসল।সেখানে আম্মুরা কেউ থাকতনা।তাদের এক ইয়া লম্বা হিজরা কেয়ারটেকার থাকত।পকবাহীনির লোকদের সে ভিসন ঝাল কাচামরিচ খেতে দিল তারঅ আর কাচামরিচ চিনতনা।মঝার খাবার ভেবে একসাথে এতগুলো মুখে দিল।তারপরেত পরিমরি করে চিতকার দিতে থাকল।এই ফাকে কেয়ারটেকারটা পালিয়ে চলে আসল।
আর একটা ঘটনা বলি:
যুদ্ধের সময় একদিন পাকবাহিনী নানুদের কয়েক গ্রাম আগে এক বারিতে আসে।বাড়িতে ৩টা নতুন বউ ছিল।শ্বাশুরি তাদের চিলে কোঠাতে লুকিয়ে রাখল।যখন মিলিটারিরা ঘরে ঢুকল তখন শুধু বুড়িকে ছারা কাউকে পেলো না।তারা বুড়িকে বলল"বুরি একটা নাচ দেখাওত"বুড়ি নাচতে শুরু করল।বুড়ির নাচ দেখে বউরা হাসি চেপে রাখতে পারল না তারা হেসে দিল।তারপর পাক বাহীনি তাদের নিয়ে গেল।


২৫. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:৩০
চতুরভূজ বলেছেন: মেহরাব,
আপনার এই পোষ্ট টি অনেক আগেই পড়ে রেট করেছি। কিন্তু কমেন্ট করিনি। আজ আবারও পড়লাম, ভিষন রকম সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন।
২৬. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:৩৩
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: তানজিলা , পাঠান আর শিখদের মোটা মাথা নিয়ে বহু বছর ধরে অনেক কথা চালু আছে ।অনেকে বলেন খুব সাহসী।কিন্তু সবার ঘটনায় তো বেকুবি ধরা পড়লো । পাকিস্তান আর্মিতে পাঠানরা সম্ভবত সংখ্যাগরিষ্ঠ , বেকুবির প্রমাণও তারা দিয়ে গেছে ।
আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করায় ধন্যবাদ
২৭. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:৩৪
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: চতুরভূজ আপু , কৃতজ্ঞতা আপনার কাছে ।
২৮. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:৩৭
চতুরভূজ বলেছেন: আমিও আপনার কাছে কৃতজ্ঞ এত সহজ সরল একটি লিখাকে অসাধারণ সুন্দর রুপে চমত্কার করে তুলে ধরার জন্য।
মেহরাব , কি করেন এবং কোথায় থাকেন, জানাতে অসুবিধা আছে কি?
২৯. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:৫০
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: চতুরভূজ আপু , আমি এখনও ছাত্র , কয়েকদিন পরেই অবশ্য হন্যে হয়ে চাকরি খুজবো , টেনশনে আছি একটু । ঢাকায় থাকি , পড়ি cse department , Buet এ
৩০. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:৫২
চতুরভূজ বলেছেন: বুয়েটের স্টুডেন্টদের চাকরি পেতে সমস্যা হবেনা।
আমিও ছাত্র।
৩১. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:০২
তানভীর বলেছেন: শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
৩২. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:২৩
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: তানভীর ভাই , আপনাকে ধন্যবাদ

চতুরভূজ, দোয়া করবেন
৩৩. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:৩৬
মাহমুদ রহমান বলেছেন: জ্বী ভাই, ফল বুঝিয়েছি।
৩৪. ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৭ রাত ২:৫২
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: @ মাহমুদ রহমান , আপনার নানা কি বেচে আছেন
এখনো ?
৩৫. ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৪:৩৭
রোদ্দূর মিছিল বলেছেন: দারুন শিহরিত হলাম ঘটানাটি পড়ে। এমন লেখা আরও চাই। আরও অনেক। ৫।
৩৬. ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১২:০১
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: @ রোদ্দূর মিছিল , আপনাকে ধন্যবাদ ।
এস্কিমো ভাই যেমনটা বলেছেন , এমন লক্ষটা ঘটনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে , প্রত্যাশা থাকবে আরও অনেকের কাছে এমন ঘটনাগুলো জানবো
৩৭. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:২৪
আইরিন সুলতানা বলেছেন: "বাসে একজন বৃদ্ধ যাত্রী খাচায় ভরে কামরাঙা নিয়ে যাচ্ছিলেন । পাকিস্তানি গাধাগুলোর কাছে অচেনা এ ফলটিকে সন্দেহজনক মনে হয় । গ্রেনেডের সাথে আকৃতিতে সামান্য মিল থাকায় তারা দাবী করে এগুলো গ্রেনেড । বৃদ্ধ তখন ফল খেয়ে প্রমাণ করছেন এগুলো গ্রেনেড না , আর তাকে ঘিরে দাড়ানো গ্রেনেড বিস্ফোরণের ভয়ে তটস্থ ৪/৫ জন পাক সেনা ।"

বেটারা তো পুরাই হাঁদারাম..আর আসছিল আমাদের দেশ দখল করতে...ওদের ঘায়েল করার জন্য গ্রেনেডের বদলে কামরাঙা ছুঁড়ে মারলেই হতো আসলে..
৩৮. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৩৯
সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন: ৫

আমার বাবাকে হানাদাররা ধরে নিয়ে গিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করছেন খবর পেয়ে। বাবা কৌশলে ছাড়া পেয়েছিলেন। এর ওপর একটি পোস্ট দিবো কিছুদিন পর।

আপনি ভালো লিখেছেন
৩৯. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৪৫
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: "বেটারা তো পুরাই হাঁদারাম..আর আসছিল আমাদের দেশ দখল করতে...ওদের ঘায়েল করার জন্য গ্রেনেডের বদলে কামরাঙা ছুঁড়ে মারলেই হতো আসলে.." ...............আপনার এই কমেন্টে ৫
@ আইরিন সুলতানা
৪০. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:১১
মানবী বলেছেন: আপনার বাবা অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে ফিরেছেন জেনে ভালো লাগলো। চমৎকার লিখেছেন, ধন্যবাদ মেহরাব শাহরিয়ার। ৫

আমার পরিচিত একজনের ঘটনা শুনেছি.. লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ারের সময় উনি ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যান। জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে রক্তে মাখামাখি লাশের স্তুপের মাঝে আবিষ্কার করেন! কি ভয়াবহ সময় পার করেছেন আমাদের পূর্বপুরুষেরা দেশটিকে স্বাধীন করার জন্য!!!
৪১. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:৫৩
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: মানবী আপু , বাবার কাছে আরেকটা ঘটনা শুনেছিলাম । পাবনার সাতবাড়িয়াতে আরও একটি ব্রাশ ফায়ারের আগে আব্বুর পরিচিত একজন হঠাত লাইন ছেড়ে দৌড় দেন । পাক আর্মি গুলি ছোড়ে , কিন্তু আল্লাহ তার সহায় হন , একটি গুলি কেবল তার হাতে লাগে । সত্যিই কি ভয়াবহ সময় ছিল পার করে এসেছি আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধের নয়টি মাস ।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ
৪২. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:১৬
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: সারওয়ার ভাই , আপনাকে ধন্যবাদ ।
আপনার ঘটনা শোনার অপেক্ষায় থাকবো ।
৪৩. ০৯ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:২০
বিহংগ বলেছেন: মেহরাব ভাই, কেমন আছেন,
আপনার আব্বাকে সালাম দিবেন।
৪৪. ০৯ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:৫২
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: বিহংগ , কেমন আছেন আপনি ? আমি ভালো নেই , কারণ পরীক্ষা ...................
আপনার সালাম আব্বুকে পৌছে দিয়েছি
৪৬. ০৯ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:৫৮
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: @চতুরভূজ আপু ,
পরীক্ষা চলছে , কিন্তু পড়াশোনা করার কোন উতসাহ পাচ্ছি না , টেনশনও বাড়ছে না কেন যেন , কিন্তু হতাশা বাড়ছে এক্সপোনেনশিয়াল রেইট এ । ভালো নেই তাই , দোয়া করবেন
৪৭. ১০ ই নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:৪৩
সিহাব চৌধুরী বলেছেন: ভাল লাগল । ৫। এরকম লেখা আরও চাই ।
৪৯. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ২:১৫
রুবেল শাহ বলেছেন: কাজের চাপের কারনে ব্লগে তেমন আসা হয় না,
লেখাটা প্রিয়তে যোগ করলাম,
৫০. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১২:৫৪
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি @রুবেল শাহ
৫১. ১৪ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:৪৬
আরিফুল হোসেন তুহিন বলেছেন: মেহরাব ভাইএর AS USUAL ভাল পোস্ট।
৫২. ১৪ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:৪৭
আরিফুল হোসেন তুহিন বলেছেন: মেহরাব ভাই পরীক্ষা কেমন দিলেন ?
৫৩. ১৫ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:২৩
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: তুহিন , Thanks

কাল পরীক্ষা , Cross country run এর উপর আছি , তোমাদের কেমন হচ্ছে ?
৫৪. ২৬ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৩
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: মাই গড!!! ... এ তো সিরিয়াস কাহিনী ... আপনার বাবাকে শ্রদ্ধা
২৬ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্য

৫৫. ২১ শে এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১০:৪০
(অ)গাণিতিক বলেছেন: তোমার বাবাকে শ্রদ্ধা।

গাধার বদলে কুকুর লেখা যায় অথবা হায়েনা অথবা শুকর।
২১ শে এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩২

লেখক বলেছেন: নির্বোধ বরাহ শাবক বললে মনে হয় ভালো হতো ।

ধন্যবাদ তোমাকে

৫৬. ২৭ শে মে, ২০০৮ সকাল ৮:৪৯
শফিউল আলম ইমন বলেছেন: পাকিরা আসলেই ভীতু ছিলো। সামান্য কামরাঙ্গা দেখেই ভয় পাইছে?
তোমার বাবাকে সালাম।
একাত্তরে কত যে ঘটনা ঘটেছে। কত কিছুই আমাদের অজানা।

২৭ শে মে, ২০০৮ সকাল ৯:৪৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ইমন

২৭ শে মে, ২০০৮ সকাল ৯:৪৫

লেখক বলেছেন: কৃতজ্ঞতা

৫৮. ১৯ শে আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৫:৫৩
সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন: আমার বাবার এমন কোন কাহিনী নেই !! :-(
ছোট ছিল , চৌদ্দ বা পনের ...... প্রত্যন্ত মেঘনা পারের গ্রামে , সেখানে পাক হানাদার মনে হয় যায় ই নাই !
১৯ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:৪৫

লেখক বলেছেন: আমার মা সেসময় অনেক ছোট , মুক্তিযুদ্ধের সময় শহর ছেড়ে গ্রামে মায়ের নানাবাড়িতে ছিলেন , সে গ্রামের পাশ দিয়ে আর্মির বহর গেছে , তবে গ্রামে ঢোকেনি ।

আব্বুদের গ্রামে মিলিটারি এসেছিল কয়েকবার ,পদ্মা পাড়ের নিশ্চিন্তপুর গ্রাম । গ্রামের লোকজন মিলিটারি আসার খবর পেয়ে ১০/১২ কি.মি দৌড়ে বিলের দিকে চলে যেত , এমন ঘটনা শুনেছিলাম ।

৫৯. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:২৯
সালাহউদ্দীন আহমদ বলেছেন: ৭১'এ আমরা ঢাকাতেই ছিলাম। আমাদের বাসায় অস্ত্রের সন্ধানে মিলিটারী এসেছিলো। আমি শুনেছিলান মিলিটারীরা মানুষ মেরে ফ্যালে। আমি আমার মাকে আম্মি বলতাম। তাকে জিজ্ঞেশ করেছিলাম - "আম্মি আমাদের কি মেরে ফেলবে?"

পড়ে আম্মি ঐ ঘটনা বলতেন আর বলতেন "ঐ ছোট বাচ্চার মুখে ও কথা শুনে কেমন লেগেছিলো তা কল্পনা করুন?"

খুব কঠিন একটা সময় গিয়েছে আমাদের দেশের সবার ওপর দিয়ে। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:১০

লেখক বলেছেন: আপনার ঘটনাগুলো শুনে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল । খুব খুশি হব , যদি আগুনঝরা সেসব দিন নিয়ে স্মৃতিগুলো লিখে ফেলেন।

৬০. ১১ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৮:১৮
সুবিদ্ বলেছেন: পাকিস্তানিদের মাথামোটা হবে না তো কাদের হবে......
১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৫

লেখক বলেছেন: নাহ , এই কৃতিত্বে ভাগ বসানোর দুঃসাহস আর কোন জাতির নেই

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৩৩৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
নেই তবু যা আছের মতো দেখায়
আমরা তাকে আকাশ বলে ডাকি,
সেই আকাশে যাহারা নাম লেখায়
তাদের ভাগ্যে অনিবার্য ফাঁকি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ