সেবার হঠাৎ করেই পত্রিকায় পাতা জুড়ে উত্তেজনা ছড়ায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নামের এলেবেলে দলটি । তাদের টাকার দাপটে সব খেলোয়াড় হারিয়ে অস্থি-চর্ম সার হয়ে উঠে আবাহনী । বেচারা মোহামেডানের চর্মটাও থাকে থাকে না , কঙ্কালের গায়ে উঠে সাদা-কালো জার্সি ।
বর্ষার সাথে সাথে ফুটবল মাঠে গড়ায় । ধানক্ষেত বানিয়ে ফেলা ঢাকা স্টেডিয়ামে ফেডারেশন কাপের চারা লাগানো হয় , তাতে ফাইনালে উঠে মুক্তিযোদ্ধা আর আবাহনী ।টিভি সেটের সামনে সেঁটে থাকি আমি , আর জাফরুল্লাহ শারাফাত , খোদাবক্স মৃধা আর শ্রদ্ধেয় হামিদ ভাইয়ের কমেন্ট্রি বোলচালে দেদারসে রাজা-উজির প্রাণ হারাতে থাকে ।
খেলার বেশ খানিকটা সময় পেরিয়ে যায়,স্লিপ কেটে দু'দলের খেলোয়াড়দের ধপাস করে সিরিয়াল পতন আর আপাদমস্তক কাদায় মাখামাখি ছাড়া খেলায় উত্তেজনার লেশমাত্র দেখি না । হঠাৎ কোথেকে একটা লব উড়ে আসে , গোলরক্ষকের সামনে একা বল পায়ে পেয়ে যান মুক্তিযোদ্ধার ফরোয়ার্ড ।গোল হওয়ার সম্ভাবনায় জাফরুল্লাহ তারস্বরে চিৎকার করে অনেক কিছু বলতে থাকেন ............ "আগুয়ান গোলরক্ষককককক , দেখা যাক মামুন তাকে ফাঁকি দিতে পারেন কিনা ।"
খানিকটা সামনে দৌড়ে ফাঁকা পোস্টে না মেরে মামুন জোয়ার্দার অদ্ভূতুরে সুন্দর নিশানায় আবাহনীর গোলরক্ষকের মুখের চাপা বরাবর বল ছুটিয়ে দেন । বলের আঘাতে থোতা মুখ ভোঁতা হয়ে যাওয়ার শোকে আবাহনীর খেলোয়াড়রা বেশ উত্তেজিত হয়ে উঠে । ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে খোদাবক্স আর জাফরুল্লাহ অনেক শব্দ উচ্চারণ করেন , কিন্তু আমার কানে বাজে কেবল একটি শব্দ "আগুয়ান, আগুয়ান" ।
একবার মনে হয় , গোলরক্ষকের নামই বুঝি আগুয়ান , পরক্ষণে ভাবি "গোলরক্ষক আগুয়ান" না হয়ে "আগুয়ান গোলরক্ষক" কেন বলা হল ? আবার ভাবি নরেণ মাঝি বা তফিজ মাস্টার যদি হতে পারে আগুয়ান গোলরক্ষক হতে দোষ কি ?
মুশকিল আসান হয় কিছুদিন পর । সেকালে রন্জন নামে কোন একদলে একজন স্ট্রাইকার ছিলেন , লীগে কোন একবার পরপর দু'টি ম্যাচে দুরন্ত কায়দায় রন্জন একজোড়া গোলও করে বসলেন। পত্রিকার পাতায় ছাপার হরফে সে কথা লেখা হয় , পাশাপাশি লেখা হয় আগুয়ান রন্জন কি করে এমনতর অসাধ্য সাধন করে বসলেন সে কাহিনী।চোখ বুঁজে রন্জনের গোলের দৃশ্য কল্পনা করি , রন্জনের পায়ে দিব্যদৃষ্টিতে বলের বদলে আগুনের গোলা দেখি ।
বুঝতে বাকি থাকে না , আগুনের গোলা সদৃশ ফুটবল পায়ে খেলোয়াড়গুলোকেই আগুয়ান বলা হয় ।
কিছুদিন বাদেই বিশ্বাসে চিড় ধরে । সেবার রেডিওতে খেলা শুনছি , জাফরুল্লাহর কমেন্ট্রির মাঝে ক্ষণে ক্ষণে জেগে উঠা আগুয়ান শব্দের ঝংকারে আমার স্নায়ু সাড়া দিয়ে উঠে। বল পায়ে স্ট্রাইকার যে আগুয়ান ,সেই আগুয়ান হয়েই ডিফেন্ডার এসে ট্যাকল করে , আবার একই আগুয়ান যখন গোলরক্ষক হয় , বল তার হাতে এসে জমা পড়ে ।
নিশ্চিত হই , আগুয়ান রামও না , রাবণও না , বলও না , বল পায়ে ছুটে চলা খেলোয়াড়ও না ।
আব্বুর দ্বারস্থ হয়ে শেষমেশ আগুয়ানের হয় সমাধা , সংকটের হয় সমাধি।
বিঃ দ্রঃ
আগুয়ান ---- অগ্রবর্তী, অগ্রগামী,অগ্রসর
তথ্যসূত্র : সংসদ বাঙ্গালা অভিধান, চতুর্থ সংস্করণ
অন্যান্য সংকট:
(সংকট-১ : ওরফে)
(সংকট-২: ক্যাজুয়াল)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

